ইবাদুর রহমান জাকির বিশেষ প্রতিনিধিঃ আলহাজ্জ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর অর্থায়নে ১০ হাজার পরিবারে খাদ্য সহায়তার অংশ হিসেবে (৪মে) দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নে ৫৫০ পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। ,এতে মৌলভীবাজার ১ (বড়লেখা-জুড়ি) নির্বাচনী এলাকার বিগত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আলহাজ্জ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর এ নির্বাচনী এলাকায় ১০ হাজার পরিবারে খাদ্য সহায়তা কর্মসুচি এগিয়ে চলছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশ নায়ক তারেক রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে জনাব মিঠু এ কর্মসুচি তে অর্থায়ন করছেন এবং বাস্তবায়ন করছে সংশ্লিষ্ট ইউনিট বিএনপির কমিটি সমুহ আর সমন্বয় করছে নির্বাচনী এলাকার ২ উপজেলা ও এক পৌর কমিটি।দুপুরে দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নে এ খাদ্য সহায়তা কর্মসুচীর উদ্বোধন করেন বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক জনাব মুজিবুর রহমান খছরু। এসময় উপস্হিত ছিলেন বড়লেখা পৌর বিএনপির সভাপতি জনাব আনোয়ারুল ইসলাম,উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খান,উপজেলা প্রচার সম্পাদক ও দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস স্বপন,পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, যুব বিষয়ক সম্পাদক আলতাফ হুসেন,ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক আনিস আহমদ মেম্বার,বিএনপি নেতা শাহজাহান উদ্দিন, যুবদল সভাপতি কামাল উদ্দিন, সাধারন সম্পাদক হাদি হুসেন, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মুমিনুর রশিদ, যুগ্ন সম্পাদক নাসির হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোস্তাক তাপাদার কানন, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র নেতা নাদের আহমদ, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক কাওছার আহমদ,উপজেলা ছাত্রদল নেতা জুনেদ আহমদ সহ বিএনপি ও অঙ্গঁ- সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মী বৃন্দ।
আমাদের থেকে এবারের মহিমান্বিত রমজানুল মুবারকের প্রথম দশক বিদায় নিতে যাচ্ছে। রমজানের প্রথম দশ দিন রহমতের। আল্লাহ তায়ালা এ দশকে প্রত্যেকের উপর অবারিত রহমত বর্ষণ করতে থাকেন। যার ফলে মুসলমান নরনারীর মন-মনন উজ্জ্বল তারকারাজির ন্যায় ঝলমল হয়ে অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে মুক্ত হয়। মহান প্রভূর সান্যিধ্যের দিকে এগিয়ে যায় মানবাত্মা। রহমতের চাদরে আবৃত হয়ে নিজের জীবন যৌবনকে পূতপবিত্র করে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সহীহ হাদীসে প্রিয় নবী মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ ফরমান, রমজানের প্রথম দশক রহমতের, মধ্যখানের দশক মাগফিরাতের এবং শেষের দশক জাহান্নাম থেকে মুক্তির। যখন রমজান আসে জান্নাতের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয়। জাহান্নামের দরজা সমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। আর মরদুদ শয়তানদেরকে শিকলাবদ্ধ করে রাখা হয়। অপর বর্ননায় আসে আসমানের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয়। রমজান মুমিনের জন্য ঢাল স্বরূপ। শত্রুর মোকাবেলায় ঢাল যেভাবে গুলি, তীর ধনুক ইত্যাদির আক্রমণ ও অনিষ্ঠ হতে রক্ষা করে সিয়াম সাধনাও সেভাবে মুমিন মুসলমানকে অন্যায়, অবিচার, জুলুম, নির্যাতন ইত্যাদি পাপাচার থেকে রক্ষা করে। হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,” রোজা আমার জন্য আর এর প্রতিদান আমি নিজে দান করব।” যারা ঈমান ও ইহতেসাবের সাথে (সওয়াবের আশায়) রমজানের রোজা এবং কিয়ামুল লাইল ( তারাবীহ) আদায় করবে, আল্লাহ তায়ালা তাদের সমুদয় গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। এদিকে চলমান বিশ্বের দিকে দিকে মুসলমানদের উপর নির্যাতন নিপীড়নের স্টীম রোলার চলছে। আর অপর দিকে দেশে দেশে ইসলামের বিজয় নিশান উড্ডীন হওয়ার সমূহ সম্ভাবনার পূর্বাভাস মুসলিম উম্মাহকে আশান্বিত করছে। রোজা ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক। নিজেকে সংযম ও সংশোধনের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এক অমলিন সুন্দর সমাজ বিনির্মানে সিয়াম সাধনা আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। গরিব দুঃখী অসহায় মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবের উপলব্ধি সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বর্তমান সময়ে করোনা ভাইরাস উপসর্গের মধ্যে লকডাউন এর ফলে আমাদেরকে কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। বিত্তবান হৃদয়বানরা যার যার অবস্থান থেকে সাধ্যমত সহায়তা করতে উদ্যোগী হওয়া এ সময়ে ঈমান ও মানবতার দাবি।
আশফাক জুনেদঃ দীর্ঘ এক বছর পর আমাদের নিকট পবিত্র রমজান এসে পৌঁছেছে।ত্যাগ ও সংযমনের মাস হচ্ছে রমজান।এই মাস যেমন আসে রহমতের বার্তা নিয়ে আবার তেমনি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য আসে চিন্তার কারণ হয়ে।
রমজানে বিশেষ করে আমাদের সিলেটে মেয়ের বাড়িতে ইফতারি পাঠানোর একটি প্রথা প্রচলিত রয়েছে ।এই মাসে মেয়ের শশুর বাড়িতে হরেক রকম খাবার দাবার পাঠাতে হয়। সেটা একবার নয় কয়েকবার। বহুকাল থেকে আমাদের সমাজের প্রচলিত প্রথা এটি।এর অন্যতা হলে মেয়েকে শশুর বাড়িতে খোঁটা পেতে হয়।
এই ইফতারি পাঠানো বিত্তবানদের জন্য সহজ হলেও অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।রমজান আসার সাথে সাথে কপালে চিন্তার বাঝ পড়ে এসব পরিবারের মাঝে।শশুর বাড়িতে মেয়ের মান-সম্মান রক্ষা করতে কষ্ট করে হলেও মেয়ের বাড়িতে হরেক রকম ইফতার সামগ্রী পাঠান এসব পরিবারের কর্তারা।
কিন্তু বিগতে বছর গুলোতে কষ্ট করে ইফতারি পাঠানো গেলেও এবার তা যে একেবারেই অসম্ভব ।সারাবিশ্বের ন্যায় করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে থমকে আছে বাংলাদেশেও।আর এই ভাইরাস ঠেকাতে দেশে চলছে সাধারণ ছুটি।ফলে অঘোষিত লকডাউন চলছে সারাদেশে।যার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দেশের সিংহভাগ মানুষ।ঘরে খাবার যোগাতে যেখানে রীতিমত যুদ্ধ করতে হচ্ছে সেখানে এই রমজানে মেয়ের বাড়িতে ইফতারি পাঠানো তাদের কাছে মরার উপর খাড়ার ঘা।কেমন করে মেয়ের বাড়িতে ইফতারি পাঠাবেন এমন চিন্তায় চিন্তিত তারা।এই কঠিন পরিস্থিতিতে দার দেনা করাও সম্ভব না।তাই দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সরকারি ভাবে এই ‘ইফতারি’ প্রচলন বন্ধ করা হোক।এতে করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার এই ‘ইফতারি’ পাঠানোর নামে হরেক জাতের খাদ্যসামগ্রী পাঠানো থেকে রেহাই পাবে এবং সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়া থেকেও রক্ষা পাবে।সরকারি ভাবে নিষেধ হলে মেয়ের বাড়ি থেকেও খোঁটা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।তাই এইদিকগুলা বিবেচনা করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করে অনতিবিলম্বে এই ইফতারির প্রচলন বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।
বড়লেখা ডেস্কঃ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও বিভাগীয় প্রধান ডা. এম এ আজাদ সজলের মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশায় পুলিশ। তারা এখনও এই ঘটনার ক্লু খুঁজছে। এদিকে মঙ্গলবার রাতে তার ছোটভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রাসেল।
মামলার বাদী ডা. আজাদের ছোট ভাই ডা. শাহারিয়ার উচ্ছাস জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের ইমামবাড়ি কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার বিকালে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রাসেল বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৯ জনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। তাদের মঙ্গলবার থেকে বুধবার ১২টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনও হাতে আসেনি। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য জানা সম্ভব হবে। বিষয়টিকে আমরা অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছি।’
প্রসঙ্গত ডা. এম এ আজাদ সজলের পরিবার ঢাকার কেরানীগঞ্জে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তিনি একা বরিশাল নগরীর কালিবাড়ি রোডের মমতা স্পেশালাইজড হাসপাতালের সপ্তম তলার একটি কক্ষে থাকতেন। মঙ্গলবার সেহেরির সময় ঢাকা থেকে তার স্ত্রী মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানায়। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে তার কক্ষের দরজা ভেঙেও সেখানে পাওয়া যায়নি। পরে ১০ তলা হাসপাতালের সব জায়গাতে খুঁজে লিফটের নিচের কুঠুরিতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
আমাদের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলা অন্তর্গত বড়লেখা ২নং দাসের বাজার ইউনিয়নের সুড়িকান্দি (রসগ্রামের) ঐতিহ্যবাহী বাড়ি।
জন্মের ৩বছর পর্যন্ত শিশুকাল কেটেছিল সেই বাড়িতে পরবর্তীতে সেখান থেকে বড়লেখা পৌর:শহরে আমার বাবা ও চাচাগন জায়গা কিনে বাড়ি বানিয়ে এসেছেন। সেখানে আজও অনাবদ্য বসবাস করে আসছি।
আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য বড়লেখা ইসলামিয়া বিল্ডিং ও টঙ্গীওয়ালা বাড়ির স্বনামটি আজও গোটা বড়লেখায় বিসৃত। বড়লেখা হাজিগঞ্জ বাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত প্রচীনতম ইসলামিয়া বিল্ডিংটিও আমার দাদাদের তৈরিকৃত নিজস্ব সম্পওির উপর দাড়িয়ে আছে। উওরসূরী তথা ভূমির মালিকানা হিসাবে বর্তমানে বাবা ও আমাদের চাচাগন (বাবার চাছাতো ভাইগন & যৌত মালিকানাধীন) সেগুলোর দেখাশুনার কাজ করছেন। এছাড়াও রয়েছে আরো বেশ কিছু ভূমির সওাধিকারী।
দ্বিতীয়ত,আমাদের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলা অন্তর্গত বড়লেখা ২নং (ইউনিয়ন) দাশের বাজার সুড়িকান্দি (রসগ্রামের) ঐতিহ্যবাহী বাড়ি। আমাদের গ্রামের বাড়িটি টঙ্গীওয়ালা বাড়ী বা হাতিওয়ালা বাড়ী বলে পরিচিতিটি বেশ বিসৃত।
তৎকালীন সময়ে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যাদূরীকরণে আমাদের বাড়িটি বিচারালয় কেন্দ্র হিসাবে পরিচালিত হত।
আমাদের দাদার ৫ভাই ও তিন বোনদের মধ্যে আমার দাদা ছিলেন সর্ব প্রধান। মুলত দাদার দ্বিতীয় ভাই মস্তকিম আলী (মম্তই মিয়া) যার কর্মের গুণে আমাদের পরিবারটি ঐতিহ্যগত দিকে আজও অনেকটা এগিয়ে রয়েছে।
এছাড়া উনার বাকী ভাইগন পারিবারিক ব্যবসা,মহালদারের ব্যবসা,হাতি ব্যবসা,কৃষি সহ বিভিন্ন কর্মসংস্থানের জড়িত ছিলেন। নিজ বাড়িতেও হরিণ পালন ও মহীষ পালনে দেখাশুনা করতেন।
মস্তকিম আলী (মস্তই মিয়া) ছিলেন একদিকে ন্যায় বিচারক এবং অন্যদিকে ছিলেন একজন স্বনামধন্য হাতি ব্যবসায়ী। তৎকালীন ভারতের (বর্তমান) আসাম রাজ্যের অন্তর্গত করিমগঞ্জে তিনি হাতি ব্যবসাতে নিজেকে আত্ননিবেশ করেন।
লোকমুখে শুনা যেত যে হাকিম নড়েন কিন্ত মস্তকিম আলী মস্তই মিয়ার সিদ্ধান্ত (পরিবর্তন) নড়ে না। যত বড়ই সমস্যা হোকনা কেন মস্তকিম আলী (মস্তই মিয়া) তা অতি সহজে বিচারিক কাজ সম্পন্য করতে পারতেন।
বড়লেখা উপজেলা সহ অন্যান্য এলাকায় যারা প্রবীণ লোক রয়েছেন তারা মস্তকিম আলীকে (মস্তই মিয়াকে) চেনেননা বলে এমন লোক পাওয়া অত্যন্ত দুষ্কর।
আমাদের পরিবারের (তৎকালীন যৌথ পরিবারে) মোট ৯টি বড় হাতি ছিলো। তার মধ্যে সবছেয়ে বড় (পুরুষ) হাতিটি ছিলো বাংলাদেশের বৃহৎ কয়েকটি হাতির মধ্যে একটি।
আমার দাদী এবং বাবার মুখ থেকে শুনা সম্ভবত ১৯৭১ কিংবা এর কিছুদিন পর স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বৃহৎ আকারের হাতিটি দেখে মুগ্ধ হয়ে তৎকালীন সময়ে সে হাতিটিকে হাজার খানেক টাকা দিয়ে পুরুষ্কৃত করেছিলেন।
যেটি আমাদের দাদাগনের নিজস্ব সম্পওির উপর নির্মিত হয়ে এখনো রয়ে গেছে। উওরসূরী তথা ভূমির মালিকানা হিসাবে বর্তমানে বাবা ও আমাদের চাচাগন (বাবার চাছাতো ভাইগন & যৌত মালিকানাধীন) সেগুলোর দেখাশুনার কাজ করছেন। এছাড়াও রয়েছে আরো বেশ কিছু ভূমির সওাধিকারী।
আবার অনেকে আমাদের বাড়ি ও পারিবারিক পরিচয় দিয়ে অনেক জায়গাতে আত্নীয়তার বন্ধনেও আবদ্ধ হয়েছেন (এমন অসংখ্য নজীরও রয়েছে)
কালের অবর্তমানে হয়তো অনেকগুলো হারিয়ে গেছে,হারিয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী টঙ্গীওয়ালা বাড়িতে বিচারিক কাজের সেই ধ্বনি উচ্চাষিত কন্ঠসূর,হারিয়ে গেছে হাতির গলায় ঘন্টি পরিয়ে কল কল শব্দ পেরিয়ে বাড়িতে আসার সেই সৃতিময় মুহুর্তটি,হারিয়ে গেছে আরও কত কি,ফ্যাকাশ দরেছে ঐতিহ্যবাহী ইসলামিয়া বিল্ডিয়ের সৌন্দর্যরুপী ভবনের রংধনুতে,কিন্ত হারিয়ে যায়নি পরিবারের অতীত ঐতিহ্যগাতা হারানো দিনের সফল পরিক্রমা।
বড়লেখা উপজেলার বাহীরে কিংবা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্থানে আলাপচারিতা ও পরিচয়ের সুবাদে যখন যানতে পারি আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের স্মৃতি বিজড়িত এমন নন্দনময়ী বৈনাঢ্য ইতিহাস সত্যি নিজেকে অনেক ধন্য মনে হয়।
সত্যি কথা বলতে গেলে আজও অনেক স্থানে লোকমুখে যতটুকু আমাদের বাড়ীর পরিচিতি এবং দাদাগনকে লোকজন যতটুকু চেনেন ততটুকু আমাদের বাপ-চাচাগনকেও লোকজন চেনেননা।
একসময়ের প্রাণচাঞ্চল্য বাড়িটি কালের বিবর্তনে নিস্তব্ধতার ছোয়া লেগেই আছে। দাদার পাচঁ ভাইদের সন্তান-সাতন্তীগন (নাতি-নাতনী) সকলেই দেশ বিদেশে স্থায়ী বসবাস সহ শহরাঞ্চলে চলে গিয়ে বাড়িটি অনেকটাই লোক-লোকারণ্যহীন।
জহির আলীর পাচঁ সন্তান ও তিন মেয়ে ছিলেন যথাক্রমে (আমার দাদাগন)
১।মরহুম ইব্রাহীম আলী। ২।মরহুম মস্তকিম আলী (মস্তই মিয়া) ৩।মরহুম মন্তজির আলী। ৪।মরহুম মুছব্বির আলী এবং ৫।মরহুম সফিকুর রহমান (চঞ্চল) বাকী দাদীদের নাম (দাদার বোনদের) স্বরুণ করতে পারছিনা।
আমি যতটুকু জানি আমার দাদার বাবার নাম ছিলো জহির আলী মিয়া এবং জহির আলী মিয়ার বাবার নাম ছিলো ইলিম আলী। জহীর আলীগন দুইভাই ছিলেন। জহির আলী ও রাশীদ আলী।
বেচেঁ থাকুক পারিবারিক ঐতিহ্য……… বেচেঁ থাকুক কালজয়ী ইতিহাস হয়ে আমাদের জীবন তরে….যুগের পর যুগ দরে…….প্রজন্মের ইতিহাস হয়ে।
আহলান সাহলান সু-স্বাগতম পবিত্র মাহে রমজানুল মোবারক। শুরু হওয়া রমজান মাস হলো ইবাদতের বসন্তকাল। এ মাসে প্রতিটি মুমিন হৃদয়ে বয়ে আনে জান্নাতি সুবাস। এ মাসে মহান প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালা প্রতি মুহূর্তে দিনে-রাতে মুমিনদের উপর অবারিত রহমতের বারিধারা বর্ষণ করেন। ইবাদতপাগল মুমিনদের জন্য মাগফিরাত ও জান্নাতের সকল আয়োজন প্রস্তুত রেখেছেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা।
রমজান শব্দটি আরবি ‘রমজুন’ শব্দ থেকে উৎগত হয়েছে। শাব্দিক অর্থ হচ্ছে, জ্বালিয়ে দেওয়া, ভষ্মীভুত হওয়া ইত্যাদি। যেহেতু রোজা পালনের মাধ্যমে মানুষের মনের ক্রোধ, কু-প্রবৃত্তি, হিংসা-বিদ্বেষ সব কিছু ভষ্মীভুত হয়ে যায়, তাই রোজার এ সিয়াম সাধনার মাসকে রমজান মাস বলা হয়।
হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে রমজান মাসব্যাপী রোজা রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। পরিভাষায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খানাপিনা ও জৈন কামনা বাসনাসহ বৈধ জৈবিক চাহিদাও পূরণ থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম সাধনা বা রোজা। আল্লাহ তায়ালা কোন মাসকে অন্য মাসের উপর, কোন দিবসকে অন্য দিবসের উপর শ্রেষ্টত্ব দান করেছেন। এরকমই পবিত্র রমজানুল মোবারক হলো শ্রেষ্ঠ মাসের অন্যতম একটি মাস। এর প্রতি মুহূর্তে ইবাদত পাগল মুমিনদের উপর বর্ষিত হয় রহমতের বারিধারা। এজন্যই বহুগুন আমলের সওয়াব বেড়ে যায়। হাদিসে প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এরশাদ ফরমান, রমজানে আসমানের বরকতের দরজা খুলে যায়, জান্নাতের সব দুয়ার খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দুয়ার বন্ধ করে দেয়া হয়। মরদুদ শয়তান শৃঙ্খলিত হয়। আল্লাহর বান্দদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মহান মুক্তি বার্তা নিয়ে ধাবমান হয় রমজান। এতে রয়েছে শবে কদরের রজনী, যা হাজারো মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এসব নানাবিধ মর্যাদা বৈশিষ্ট্যের অপূর্ব সমাহার মাহে রমজান। তাই তো রমজান মাসকে ইবাদতের বসন্তকাল বলা হয়ে থাকে। ইবাদত, তাকওয়া ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উর্বর সময়। এ উর্বর সময়ে বান্দা যথাযথভাবে নিষ্ঠার সাথে কাজে লাগাতে পারলে একটুখানি সাধনা, ক্ষুদ্র পরিশীলন এবং অনুশীলন এ-র মাধ্যমে প্রশান্তির বারিধারায় সিক্ত হয়ে হাসিল করতে পারেন আল্লাহ তায়ালা’র মহাসন্তুষ্টি। তথা দুনিয়ায় কল্যাণ ও আখেরাতে মহামুক্তি।
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম একটি স্তম্ভ। রোজার বিধান ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা কুরআন কারিমে ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে করে তোমরা মুত্তাকি হতে পার’।
হযরত কা’ব ইবনে উজরা (রা.) হতে বর্নিত, তিনি বলেন- একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে বললেন, তোমরা মিম্বরের নিকট সমবেত হও। আমরা সকলেই তথায় উপস্থিত হলাম। যখন তিনি মিম্বরের প্রথম সিড়িঁতে পা রাখলেন,তখন বললেন, আমীন, যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখলেন বললেন, আমীন, যখন তিনি তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখলেন বললেন, আমীন। হযরত কা’ব ইবনে উজরা (রা.) বলেন, যখন তিনি (মিম্বর থেকে) অবতরণ করলেন, আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আজ (মিম্বরে উঠার সময়) আমরা আপনাকে এমন কিছু কথা বলতে শুনেছি, যা ইতিপূর্বে কখনো শুনিনি। উত্তরে তিনি বললেন, জিবরাইল (আ.) আমার নিকট আগমন করেছিলেন, যখন আমি প্রথম সিড়িঁতে পা রাখলাম, তখন তিনি বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে রমজান মাস পেল, তবুও তার গুনাহ মাফ করাতে পারলো না। আমি বললাম, আমীন। যখন দ্বিতীয় সিড়িঁতে পা রাখলাম তখন বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যার নিকট আপনার নাম উচ্চারিত হলো অথচ সে আপনার প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করলো না। আমি বললাম আমীন। যখন তৃতীয় সিড়িঁতে পা রাখলাম, তখন বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে তার পিতা-মাতা উভয়কে অথবা একজনকে পেল আর তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল না। অর্থাৎ তাদের খেদমতের মাধ্যমে নিজেকে জান্নাতী করতে পারলো না। আমি বললাম, আমীন।
হযরত আবু হুরয়রা (রা.) বলেন, রমজান মাস লাভকারী ব্যক্তি যে উত্তমরূপে সিয়াম ও কিয়াম (রোজা, তারাবী ও অন্যান্য আমল) পালন করে, তার প্রথম পুরস্কার এই যে, সে গুনাহ থেকে ঐ দিনের মতো পবিত্র হয় যেদিন মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল।
হযরত সালমান ফারসী (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, মহানবী (সা:) শা’বান মাসের শেষ দিন আমাদেরকে সম্বোধন করে ইরশাদ করেন, ‘হে লোক সকল! তোমরা মনযোগ দিয়ে শোনে রাখ, তোমাদের সামনে এমন একটি মাস সমাগত। যে মাস মহা পবিত্র, রহমত-বরকত ও নাজাতে ভরপুর। এই মাসের রোজাকে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর ফরজ করেছেন। যে লোক এই মাসে আল্লাহর সন্তুষ ও তার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে রোজা রাখবে আল্লাহ তার পূর্ববর্তী সমস্ত গোনাহ মাফ করে দিবেন।
হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা রমজান মাসের প্রত্যেক দিবস ও রাত্রিতে অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। এবং প্রত্যেক মুমিন বান্দার একটি করে দুআ কবুল করেন।
রমজান আমাদেরকে আল্লাহর রহমত লাভের সুবর্ণ সুযোগ করে দিয়েছে। এই দশকে আমরা বেশি বেশি করে ইবাদত-বন্দেগী, কুরআন তেলাওয়াত, দান সদকা, তওবা, ইস্তেগফার ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে পবিত্র এই মাসের যথাযথ হক আদায় করে রোজা, তারাবিহ, তাহাজ্জুদ, তেলাওয়াত সহ অন্যান্য নফল ইবাদতে আত্মনিয়োগ করার তাওফিক দিন। নেফাকি বদচরিত্র- মিথ্যা, ওয়াদা খেলাপী, আমানতের খিয়ানত, অশ্লীলতা/অশ্লীল কথা বলা ইত্যাদি থেকে বিরত থেকে পরিপূর্ণ মুমিনের গুণাবলী অর্জন করার মাধ্যমে আগামীর সুন্দর একেক ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠনের তৌফিক দিন। কায়মনোবাক্যে মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট করি সেই মিনতি।
মোঃইবাদুর রহমান জাকির,সিনিয়র প্রতিবেদকঃ মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিন ভাগের কাশেমপুরে করোনা আক্রান্ত রুগী ধরা পড়ায় শনিবার রাত২টায় ঐ ব্যক্তির গ্রাম লকডাউন (অবরুদ্ধ) করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রত্নদ্বীপ বিশ্বাস শনিবার রাত দুইটায় এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তির বাড়ি কাশেমনগর। প্রশাসন তাঁর গ্রাম লকডাউন করেছে। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কেউ করোনা আক্রান্ত কিনা তা নিশ্চিত নমুনা সংগ্রহ করা হবে। তিনি এখন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি আছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান জানান, আক্রান্ত ব্যক্তির গ্রাম লকডাউন করা হয়েছে। এখন কেউ এই এলাকায় যেতে পারবেন না। আবার কেউ বের হতে পারবেন না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত ওই ব্যক্তি পুরুষ। তাঁর বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। তিনি গত ২০ এপ্রিল জ্বর-কাশিসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেলের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তাঁর করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। তিনি এখন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি আছেন। ওই ব্যক্তির বাড়ি উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের কাশেমনগর গ্রামে। তিনি সমনভাগ এলাকায় ছোলা ও পিয়াজু বিক্রি করতেন।