বড়লেখায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে নিসচার বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও সমাবেশ।

বড়লেখা প্রতিনিধিঃ “আইন মেনে সড়কে চলি, নিরাপদে ঘরে ফিরি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২২ উপলক্ষে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) বড়লেখা উপজেলা শাখার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১১ ঘটিকায় বড়লেখা পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক পদক্ষিন করে উপজেলা পরিষদ চত্তরে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে র‍্যালী শেষ হয়।

জাতীয় সামাজিক সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই নিসচা’র কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য ও বড়লেখা উপজেলা শাখার সভাপতি তাহমীদ ইশাদ রিপনের তত্বাবধানে এবং সাধারণ সম্পাদক আইনুল ইসলামের পরিচালনায় র‍্যালী ও সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ দাস নান্টু, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদ-উল ইসলাম প্রিন্স, ডিএসপি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, নিসচার উপদেষ্টা ইকবাল হোসাইন, পৃষ্টপোষক তপন চৌধুরী, মোহাম্মদ তারেক হাসনাত, সহ-সভাপতি মার্জানুল ইসলাম, আব্দুল আজিজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম শিরুল, নোমান উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার খালেদ আহমদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, প্রকাশনা সম্পাদক মারুফ হোসাইন সুমন, প্রচার সম্পাদক নূরে আলম মোহন, দুর্ঘটনা অনুসন্ধান বিষয়ক সম্পাদক রমা কান্ত দাস, দপ্তর সম্পাদক রাসেল আহমদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অপুজিত দাস, একতা রক্তদান সংস্থা’র উপদেষ্টা ব্যবসায়ী জমির উদ্দিন, পাবলিকেশন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসাইন, মানবসেবা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম শুভ।

এছাড়াও নিসচার কার্যনির্বাহী সদস্য সাব্বির আহমদ, হাফিজুর রহমান জিল্লুর, এনাম উদ্দিন, সাধারণ সদস্য গণেশ কর, অজিত রবি দাস, জুনেদ আহমদ, কবির আহমদ, আব্দুল হামিদ, মাহমুদ আলম তুহিন, সাইফুর রহমান মুন্নাসহ আরোও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, আজ ২২ শে অক্টোবর যার মৃত্যুর মাধ্যমে এদেশে নিরাপদ সড়ক চাই নামে সামাজিক আন্দোলনের সূচনা নিসচার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের সহধর্মিণী জাহানার কাঞ্চন। তিনি সড়কে প্রাণ বিসর্জন দিয়ে আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছেন যে, ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ নিছক নিয়তি নয়। এটা মানবসৃষ্ট একটি ব্যাধি। এই ব্যাধি থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্যই ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নামে একটি সামাজিক আন্দোলনের জন্ম হয়েছে। পরবর্তীতে সাড়া দেশের মানুষের প্রাণের দাবীতে পরিণত হয়েছে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’। তাই সর্বোস্তরের জনগণের দাবীকে আমলে নিয়ে, বাংলাদেশ সরকার, জাহানারা কাঞ্চনের মৃত্যু দিন- ২২ শে অক্টোবর’কে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ হিসেবে ঘোষনা দিয়েছে কয়েক বছর আগেই।

জাতীয় সামাজিক সংগঠন নিসচার কার্যক্রম কারো বিরুদ্ধে নয়, এটা সামাজিক সংগঠন। সমাজের সকলকে নিয়ে নিসচা আন্দোলন করে যাচ্ছে। সকলের সহযোগিতা নিয়েই বাংলাদেশকে সড়ক দুর্ঘটনামুক্ত রাখতে নিসচা কর্মীরা অঙ্গীকারবন্ধ। এসময় তাঁরা সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর বিধিমালা বাস্তবায়নের জোর দাবী জানান।

তারা আরোও বলেন, নিসচা বড়লেখা উপজেলা শাখা সড়ক দুর্ঘটনারোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক-মানবিক, স্বেচ্ছাসেবী, ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক অঙ্গণেও নিসচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, এদিকে বেলা ১২ ঘটিকায় উপজেলা প্রশাসন ও নিসচা বড়লেখা উপজেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের হলরুমে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর হোসাইনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং নিসচা বড়লেখা উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা সোয়েব আহমদ।

বড়লেখা পৌর ইউনিট সেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমেইফতার বিতরণ


মোঃইবাদুর রহমান জাকির- বিশেষ প্রতিনিধিঃ

টিপ টিপ বৃষ্টি তার মাঝেও থেমে নেই সেচ্ছাসেবীর দল একঝাঁক তরুণ মেধাবী যুবকদের নিঃস্বার্থে মানবতার কাজ,মৌলভীবাজারের বড়লেখার সর্বপ্রথম রক্তদানকারীও সেচ্ছাসেবী সংগঠন মানব কল্যান ফাউন্ডেশন দক্ষিণ গ্রামতলা ইউনিটের সেচ্ছাসেবীদের আয়োজনে ইফতার বিতরন করা হয়।

মহামারী করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে সরকার অঘোষিত লকডাউনে পিছিয়ে পড়া দক্ষিণ গ্রামতলা পৌর ২নংওয়ার্ড ও আদিত্যের মহল ৩নং ইউনিয়নসহ পৌরসভার বেশ কয়েকটি সুবিধাবঞ্চিত অসহায় পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইফতার বিতরণ করা হয়।উল্লেখ্য বড়লেখা হিফজুল কোরআন একাডেমির এতিমখানায় ছাত্রদের সাথে নিয়ে (২১মে) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের স্থায়ীপরিষদের মহাসচিব কামাল হোসেন,সহঃসাংগঠনিক সম্পাদক, মাহমুদ হাসান জুয়েল, সদস্য রাসেল আহমদ, শামিম আহমদ,সুমন আহমদ,নজমুল আহমদ,পাবেল আহমদ,ইমন আহমদ,প্রমুখ

ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেন পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা প্রদান

ডেক্স নিউজঃ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বুধবার ২ ঘটিকায় বাগবাড়ি ব্র্যাক অফিস সংলগ্ন মাঠে মানবিক সহায়তা সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে । কেবি অটো ব্রিকস লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেনের পক্ষ থেকে দিরাই পৌরসভার বাগবাড়ি ও আনোয়ারপুর গ্রামের অসহায় ও গরীব পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বুধবার দুপুরে বাগবাড়ি ব্র্যাক অফিস সংলগ্ন মাঠে মানবিক সহায়তা সামগ্রী বিতরণ কমসূচি উদ্ভোধন করেন দিরাই পৌরসভার মেয়র মোশারফ মিয়া, উপস্থিত ছিলেন দিরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যডভোকেট অভিরাম তালুকদার, বাগবাড়ী গ্রামের, কামরুজ্জামান,সফিক মিয়া সহ এলাকার সর্বস্থরের জনতা। পৌর মেয়র মোশাররফ মিয়া বলেন ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেনের মত সমাজের সবাই এগিয়ে আসলেই করোনা দুঃসময়ে মানুষ উপকৃত হবে, পৌরবাসীরপক্ষ থেকে যারাই পৌরএলাকায় ত্রান সহায়তা প্রদান করেছেন সবাইকে ধন্যবাদ ,উক্ত মানবিক সহায়তা প্রদানে ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেন (রেজু) পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কেবি অটো ব্রিকস লিমিটেড এর জেনারেল ম্যানেজার প্রবাস সরকার ও ছামাদ আলী, জয়নাল মিয়া। উল্লেখ্য যে ছায়েদ আলী মাহবুব তার প্রতিনিধির মাধ্যমে করোনার দুঃসময়ে ২ হজার পরিবারের পাশে দাড়ানো কাজ করে যাচ্ছে , তার মধ্যে শাল্লা উপজেলা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ এর দরগাহপুর মাদ্রাসায়, পাগলা , শীনাথপুর মৎসজীবী সমিতিসহ সিলেট আখালিয়া এলাকায় মানবিক সহায়তা সামগ্রী প্রদান করেছে। ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেন(রেজু) করোনা পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত এলাকার গরীব দুঃখিদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন,, মানুষ মানূষের পাশে থাকবে এটাই তার চাওয়া। এছাড়াও দিরাই-শাল্লার বিভিন্ন এলাকার বিত্তবানদের গরীব দুঃখিদের সেবায় যেমন করে এগিয়ে আসছেন তা অব্যাহত রাখার আহবান জানিয়েছেন তিনি।

পাকশাইলে,মানবতার ঘরের উদ্দোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ।

নিজস্ব সংবাদঃ আমার প্রতিবেশিদের সাথে আছে হয়তোবা রক্তের বন্ধন।
আমার পাশের গ্রামের ভাইটিওতো আমারই আপনজন।

পাকশাইল গ্রেট ভিশন এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান মানবতার ঘরের ২৯ তম দিনের কার্যক্রম সম্পন্ন। মানবতার ঘর থেকে ১৫ টি পরিবারকে ৯ম তম সেবা দেয়া হয়েছে এবং পার্শবর্তী গ্রাম পূর্ব মনারাই,রংপুর ও মনাদিতে ৫৫ টি পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।উক্ত বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রেট ভিশনের শুভাকাংখী বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী জনাব ফয়ছল আহমদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রেট ভিশনের উপদেষ্টা জনাব আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ সুমন,সংস্থার সভাপতি এইচ এম ফয়সল,সিনিয়র সহ সভাপতি জাহাংগির আলম,সেক্রেটারি শাহিদুর রহমান জুনেদ,সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল হক, সাধারণ সম্পাদক ইমন আহমদ,সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম,অর্থ সম্পাদক নাহিদ আহমদ,ক্রিড়া সম্পাদক কবির আহমদ,সহ ক্রিড়া সম্পাদক কামরুল আহমদ,সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মাহবুব আলম, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক সাইফুল হোসন,শিক্ষা সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহীর,সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইমরান আহমদ, সংস্থার সদস্য আব্দুল মালিক, আলী হোসেন, নাহিদ প্রমূখ।

আমরা আমাদের এ পথচলা অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর, আপনি থাকুন আমাদের পাশে।সে হোক অর্থ দিয়ে, মেধা দিয়ে কিংবা একটুখানি উৎসাহ দিয়ে। সকলের সহযোগীতা কে মহান আল্লাহ্‌ পাক কবুল করে এর উত্তম প্রতিদান দান করুন।

বড়লেখায় শ্রমিকদের মধ্যে (বিএনপি)র ত্রাণ বিতরণ


মোঃইবাদুর রহমান জাকির বিশেষ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার ১ নির্বাচনী এলাকায় বিগত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আলহাজ্জ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর করোনায় অভাবগ্রস্থ১০ হাজার পরিবারে খাদ্য সহায়তা প্রতি ইউনিয়নে বিতরণের অংশ হিসেবে মাহে রামাজানের শেষের দিকে, বুধবার(২০মে) বড়লেখায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল বড়লেখা উপজেলা শাখার তত্বাবধানে ২০০ পরিবারে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়।

বড়লেখা পৌর শহরে সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে দুপুর ২ ঘঠিকায় এ কর্মসুচির উদ্বোধন করেন বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাফিজ।এসময় উপস্হিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মুজিবুর রহমান খছরু,সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খান,উপজেলা শ্রমিকদল সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম ,শ্রমিক নেতা আব্দুল আহাদ,সলিম আহমদ,আলী হুসেন, বাবুল আহমদ,সীপার আহমদ ও ফয়সল আহমদ সহ বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মী।

উল্লেখ্য উপজেলা বি,এন,পি সভাপতি আব্দুল হাফিজ উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি বলেন জাতীয়তাবাদী পরিবার দেশের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে সর্বদা, সে সাথে বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রবাস থেকেও দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে শ্রমজীবী মানুষের কথা ভেবে, মৌলভী বাজার জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আলহাজ্জ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর অর্থায়নে শ্রমজীবী মানুষের জন্য আজকের এই ত্রাণ বিতরণ, আল্লাহ এই ত্রাণ গুলো কবুল করেন,আসুন আমরা নিজে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখি অন্যকে দুরত্ব বজায় রাখতে উৎসাহিত করি আর সবাই মহাবিপদ থেকে বাচার জন্য আল্লাহর সাহায্য চাই।

বিশ্বনাথে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবুল কালামের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

মোঃমোছন আলী বিশেষ প্রতিনিধি :: বিশ্বব্যাপি মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে-গৃহবন্দি হতদরিদ্র পরিবারে আজ চরম বিপর্যয়! এহেন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সিলেটের বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের জানাইয়া গ্রামের
যুক্তরাজ্যের ওল্ডহাম বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম শাহ এর উদ্যোগে এবং করম আলী শাহ (রাঃ) ফাউন্ডেশন ও পরিবারের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বিতরণকৃত খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল তেল, ময়দা, আলু, আটা, লাচ্ছি ও নারিকেল।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন শাহ ফজর আলী, শাহ আমির উদ্দিন, আক্তার হোসেন রানা,শাহ লিলু মিয়া, শাহ ফয়সল আহমদ, শাহ সায়েদ আহমদ, ওয়াসিম আহমদ, শাহ নিজাম উদ্দিন, আজিজুল ইসলাম, রুকেল মিয়া, ফরিদ উদ্দিন, শাহ ফাহিম, শাহ ছালাম, শাহ সামি ও শাহ লায়েক আহমদ প্রমুখ।

বিশ্বনাথে করোনা প্রভাবে সাময়িক অসুবিধাগ্রস্ত আলেমদের মধ্যে নগদ অর্থ প্রদান

আনহার বিন সাইদ,বিশ্বনাথঃ ” করোনা ” মহামারিতে যখন সারা বিশ্ব্য বিপর্যস্ত ঠিক সেই মুহুর্তে লন্ডনে অবস্থানরত বিশ্বনাথের কিছু ভাইদের অর্থায়নে ” ওলামা হেল্পিং ফাউন্ডেশন বিশ্বনাথ এর; উদ্দোগে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের; প্রায় ২০ জন অসচ্ছল আলেম পরিবারের মধ্য নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

অত্র ফান্ডশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান (সাংবাদিক ) মাওলানা আনহার বিন সাইদ, বাইছ চেয়ারম্যান মাওলানা হারুনুর রশিদ (ইমাম বরুনী জামে মসজিদ) । সেক্রেটারি; মাওলানা আব্দুল কাদির(বরুনী),
কোষাদক্ষ ( দশঘর ইউনিয়ন তাবলিগ জামাতের জিম্মাদার)মোঃশফিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মৌলবী কামাল উদ্দীন, প্রমুখ।

ওলামা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান (সাংবাদিক) মাওলানা,আনহার বিন সাইদ; এক বিবৃতিতে বলেন ” করোনা ” মহামারিতে সারা ওয়াল্ডে এক ভয়াবহ অবস্থা বিরাজকরছে।
প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের অবস্থা দিন দিন নাজুক হচ্ছে। যার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (কওমী মাদ্রাসা) বন্ধ থাকায় শিক্ষকরা আর্থিকভাবে নানান সমষ্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
এদিকে (সামনে) পবিত্র ঈদুল ফিতর আসন্ন, তাই তারা; যাতে তাদের পরিবারকে নিয়ে হাসিমুখে আসন্ন ঈদকে উদযাপন করতে পারেন সে দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা এই উদ্দোগ গ্রহণ করেছি।

আলহামদুলিল্লাহ!
আমাদের অনেকেই তাওফিক অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আল্লাহ তাদের সবাইকে সকল ধরনের বিপদ আপদ থেকে হেফাজত করুন।

চলমান প্রেক্ষাপটে করোনা’রভয়াবহতা! স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অপরিহার্য

এম আতিকুর রহমানঃ একে একে দেশের ৬৪ টি জেলা অতিক্রম করে করোনা ভাইরাস এখন উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আমরা যেনো পৌঁছে দিয়েছি অভিজাত এই ভাইরাসটিকে।

সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ সহ একে একে ফেঞ্চুগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমায় ও করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। গোলাপগঞ্জে এক করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসে একই পরিবারের ১৩ জন করোনা আক্রান্ত হন!
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা জুড়ী সহ প্রতিটি উপজেলায় একাধিক সনাক্ত ও আক্রান্ত হয়ে কঠিন পরিস্থিতির দিকে ধাবমান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৮ মে, ২০২০ পর্যন্ত সিলেট অঞ্চলে মোট করোনায় আক্রান্ত (শনাক্তকৃত) ৪৩৩ জন (সিলেট জেলায়-১৬৬ জন, হবিগঞ্জে-১৩২ জন, সুনামগঞ্জে-৭৫ জন ও মৌলভীবাজারে-৬১ জন)।

সারা দেশে যখন এক বা দুই ডিজিটের করোনা রোগী শনাক্ত হতো, তখন সাধারণের মাঝে যে সাবধানতা/সচেতনতা পরিলক্ষিত হতো, বর্তমানে সহস্রাধিক শনাক্ত হলেও সচেতনতা অনেকগুণ কমে গেছে।
উপরন্তু, যানজট আর জমায়েত এবং ঈদ শপিং দেখে মনে হবে; এ দেশ থেকে করোনা কত আগে বিদায় নিয়েছে।

আসুন, সরকার নির্দেশিত সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। সচেতন হই অন্যান্যদের সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করি। নিজে সুস্থ থাকি। পরিবার-পরিজন সমাজ ও দেশকে নিরাপদ রাখি। করোনা নামক মহামারী থেকে আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুক, সুস্থ রাখুন।
বরকতময় এ সময়ে আমরা কায়মনোবাক্যে দয়াময় এ-র দরবারে বেশি বেশি ফরিয়াদ করি। তিনি যেনো আমাদের সকলকে এবং দেশকে রক্ষা করেন।

বড়লেখায় হাজী ইসমাইল আলী ফাউন্ডেশনের উপহার ও নগদ অর্থসহায়তা প্রদান

আজ (১৭মে) বিকেলে বড়লেখায় শিক্ষাবিদ হাজী ইছমাইল আলী ফাউন্ডেশন এর ব্যবস্থাপনায় তৃতীয় দফায় বড়লেখার কর্মহীন ও প্রয়োজনগ্রস্ত বেশ কিছু পরিবার ও আলেম ওলামার মধ্যে রমজানের ঈদ উপহার সামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। ফাউন্ডেশনের সভাপতি এম. এম. আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিস বড়লেখা উপজেলা সভাপতি কাজী মাওলানা এনামুল হক, প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদ এর সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জননেতা এমাদুল ইসলাম, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বড়লেখা সদর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ফয়সল আলম স্বপন, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফখরুল ইসলাম, সামাজিক সংগঠন আন নাজাত সভাপতি বিশিষ্ট ব্যাংকার মোঃ আব্দুর রউফ, ছাত্রনেতা সুলতান আহমদ প্রমুখ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামিলীগ এর সভাপতি ফাউন্ডেনের উপদেষ্টা অব্দুল মতিন কলা মিঞা, বিশিষ্ট মুরব্বি মাওঃ আব্দুল গফুর, ইটালী প্রবাসী জুবায়ের আহমদ, খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা মানসুর আহমদ, সাবেক ছাত্রনেতা হাবিবুর রহমান, মাওলানা মো: হিফজুর রহমান, মাওলানা আবুল হোসাইন, মাওলানা ফয়জুর রহমান, মোঃ নজরুল ইসলাম চৌধুরী, তরুণ সমাজ সেবক খালেদ আহমদ প্রমুখ।
ফাউন্ডেশনের সহ. সেক্রেটারি হাসান বিন কারিম এর পরিচালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মো: আবু সাঈদ ফরহাদ, প্রচার সম্পাদক আফাজ উদ্দিন, সদস্য নাহিদ আহমদ, মো: নাজমুল ইসলাম সোহাগ, মোঃ আব্দুস সলাম, মো: সাইদুল ইসলাম, সুহেল আহমদ প্রমুখ।

চলমান সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে করোনা ভাইরাস (Covid-19) নামক মহামারি থেকে দেশ বিদেশের সকলের হেফাজত ও মুক্তির জন্য বিশেষ দোআ পরিচালনা করেন কাজী মাওলানা এনামুল হক। শেষে সবাইকে নিয়ে ইফতারের মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি হয়।বড়লেখায় হাজী ইসমাইল আলী ফাউন্ডেশনের
রমজানের ঈদ উপহার ও নগদ অর্থসহায়তা প্রদান

আজ বিকেলে বড়লেখায় শিক্ষাবিদ হাজী ইছমাইল আলী ফাউন্ডেশন এর ব্যবস্থাপনায় তৃতীয় দফায় বড়লেখার কর্মহীন ও প্রয়োজনগ্রস্ত বেশ কিছু পরিবার ও আলেম ওলামার মধ্যে রমজানের ঈদ উপহার সামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। ফাউন্ডেশনের সভাপতি এম. এম. আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিস বড়লেখা উপজেলা সভাপতি কাজী মাওলানা এনামুল হক, প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদ এর সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জননেতা এমাদুল ইসলাম, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বড়লেখা সদর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ফয়সল আলম স্বপন, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফখরুল ইসলাম, সামাজিক সংগঠন আন নাজাত সভাপতি বিশিষ্ট ব্যাংকার মোঃ আব্দুর রউফ, ছাত্রনেতা সুলতান আহমদ প্রমুখ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামিলীগ এর সভাপতি ফাউন্ডেনের উপদেষ্টা অব্দুল মতিন কলা মিঞা, বিশিষ্ট মুরব্বি মাওঃ আব্দুল গফুর, ইটালী প্রবাসী জুবায়ের আহমদ, খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা মানসুর আহমদ, সাবেক ছাত্রনেতা হাবিবুর রহমান, মাওলানা মো: হিফজুর রহমান, মাওলানা আবুল হোসাইন, মাওলানা ফয়জুর রহমান, মোঃ নজরুল ইসলাম চৌধুরী, তরুণ সমাজ সেবক খালেদ আহমদ প্রমুখ।
ফাউন্ডেশনের সহ. সেক্রেটারি হাসান বিন কারিম এর পরিচালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মো: আবু সাঈদ ফরহাদ, প্রচার সম্পাদক আফাজ উদ্দিন, সদস্য নাহিদ আহমদ, মো: নাজমুল ইসলাম সোহাগ, মোঃ আব্দুস সলাম, মো: সাইদুল ইসলাম, সুহেল আহমদ প্রমুখ।

চলমান সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে করোনা ভাইরাস (Covid-19) নামক মহামারি থেকে দেশ বিদেশের সকলের হেফাজত ও মুক্তির জন্য বিশেষ দোআ পরিচালনা করেন কাজী মাওলানা এনামুল হক। শেষে সবাইকে নিয়ে ইফতারের মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি হয়।

জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে ইফতার বিতরণ

নিউজ ডেস্কঃ

মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসে থমকে গেছে সারাদেশ। সারা বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে জ্যামিতিক হারে দেশব্যাপী বাড়ছে আক্রান্তের হার। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে করোনা মোকাবেলায় আর্ত মানবতার সেবায় অনেকেই ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভূমিকা সারাদেশব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হয়। করোনার প্রাদুর্ভাব দিন দিন যেমন বাড়ছে, তেমন ছাত্রলীগের ব্যতিক্রমী কার্যক্রম নানাভাবে খবরের শিরোনাম হচ্ছে।

এবার অসহায়,দুস্হ,রিকশাওয়ালা, টমটম ওয়ালা, সবজি ব্যবসায়ী ও খেটে খাওয়ামানুষদের মাঝে ২০০ প্যাকেট ইফতার বিতরণ করলো জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগ।

বর্নীতে রমজান ফুড ও ঈদ সামগ্রী উপহার

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার বর্ণি প্রবাসী জন কল্যাণ পরিষদের উদ্দ্যোগে
বিশ্ব মহামারী করোনা ভাইরাসের সংকটময়
মুহূর্তে,শনিবার(১৬মে)২২ রামাদ্বানে
১নং বর্ণী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের
মধ্যবিত্ত, শ্রমজীবী, অসহায় ও হত-দরিদ্র
মানুষদের জন্য উপহারস্বরূপ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য রমজান ফুড ও ঈদ সামগ্রীয় উপহার ১২০টি পরিবারের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়।এতে বর্ণি প্রবাসী জন কল্যাণ পরিষদের সদস্যবৃন্দের দ্বায়িতরত ব্যাক্তিগন রাতে বাড়ি বাড়ি নিয়ে পৌছেদেন।

এতেক্বাফের ফজিলত

আর মাগফিরাতের দশম ও শেষ দিন। একে একে আমাদের থেকে রহমত ও মাগফিরাতের দশক অতিবাহিত হয়ে আমরা রমজানের শেষ দশক অর্থাৎ নাজাতের দশকের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছে গেছি। আর শেষ দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো এতেকাফ করা। রাসুল (সা.) প্রতি বছর রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন। হযরত আয়েশা রা. বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) রমজান মাসের শেষ দশকে মসজিদে এতেকাফ করতেন। তার মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এ আমল অব্যাহত রেখেছেন। তার ইন্তেকালের পর তার স্ত্রীরা এতেকাফ করেছেন’ (সহিহ বুখারি,১৯২২)

এতেকাফ শব্দটি আরবি ‘আকফ’ শব্দ থেকে নির্গত। এর অর্থ হচ্ছে অবস্থান করা, স্থির থাকা, কোনো স্থানে আটকে থাকা বা আবদ্ধ হয়ে পড়া। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় রমজান মাসের শেষ দশক বা অন্য কোনো দিন দুনিয়াবি সব কাজকর্ম ও পরিবার-পরিজন থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহকে রাজি-খুশি করার নিয়তে পুরুষের জন্য মসজিদে ও নারীদের ঘরে নামাজের নির্দিষ্ট স্থানে ইবাদত করার উদ্দেশ্যে অবস্থান করা ও স্থির থাকাকে এতেকাফ বলে। রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করা সুন্নতে মোয়াক্কাদায়ে কেফায়া। অর্থাৎ এলাকার কিছুসংখ্যক মানুষ আদায় করলেই সকলের পক্ষ থেকে সুন্নতে কেফায়া আদায় হয়ে যাবে। তবে কেউই আদায় না করলে সকলেই গুনাহগার হবে। এতেকাফ করার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর রহমত, ক্ষমা ও নৈকট্য লাভ করতে পারে। হযরত আতা খোরাসানী রহ. বলেন, এতেকাফকারীর দৃষ্টান্ত ওই ব্যক্তির মতো, যে আল্লাহর দরবারে পড়ে থাকে আর এ কথা বলতে থাকে, হে আল্লাহ! যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি আমাকে ক্ষমা না করবেন আমি এখান থেকে নড়ব না (বাদায়েউস সানায়ে-২ এতেকাফের একটি বৈশিষ্ট্য হলোÑ যতক্ষণ মানুষ এতেকাফ অবস্থায় থাকে তার চলাফেরা, কথাবার্তা, পানাহার, ঘুম, প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। আর এতেকাফ সুন্নত হওয়ার হেকমত হলো এটাই যে, এতেকাফ ছাড়া লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও মর্যাদা লাভের নিশ্চিত কোনো পদ্ধতি নেই।

এতেকাফের ফজিলত : এতেকাফের দ্বারা জাহান্নাম দূরে চলে যায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এক দিন এতেকাফ করবে আল্লাহ তায়ালা তার ও জাহান্নামের মাঝে তিন পরিখা পরিমাণ দূরত্ব সৃষ্টি করবেন; যার দূরত্ব দুই দিগন্তের দূরত্বের থেকে বেশি দূরত্ব হবে। (কানযুল উম্মাল, হাদিস নং-২৪০১৯)

এতেকাফকারী দুই হজ ও দুই ওমরার সাওয়াব পাবেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানে দশ দিন এতেকাফ করবে তার আমল দুই হজ ও দুই ওমরার সমতুল্য ( কানযুল উম্মাল, হাদিস নং-২৪০০৬)।

এতেকাফকারী লাইলাতুল কদরের মর্যাদা লাভ করতে পারবেন। কেননা রমজানের শেষ দশকের রাতগুলোর যেকোনো একটিতে লাইলাতুল কদর রয়েছে। আর লাইলাতুল কদরের ইবাদত হাজার মাস তথা তিরাশি বছর চার মাস ইবাদত করার চেয়েও উত্তম। সুতরাং যে ব্যক্তি শেষ দশকে এতেকাফ করবে তার প্রতিটি মুহূর্ত যেহেতু ইবাদত হিসেবে গণ্য হচ্ছে ফলে সে লাইলাতুল কদর পেয়ে যাচ্ছেন, এ রাতের সুমহান মর্যাদা লাভ করতে পারছেন। রাসুল (সা.) লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির আশা নিয়েই এতেকাফ করতেন। তিনি প্রথম দশকেও এতেকাফ করেছেন, মধ্য দশকেও করেছেন, এরপর শেষ দশকে করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম দশকে এতেকাফ করেছি, লাইলাতুল কদর তালাশ করেছি, এরপর মধ্য দশকে এতেকাফ করেছি, এরপর আমাকে তা দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, তা শেষ দশকে। অতএব তোমাদের মধ্যে যার এতেকাফ করা পছন্দ হয় সে যেন এতেকাফ করে। এরপর সাহাবায়ে কেরাম তার সঙ্গে এতেকাফ করলেন। তিনি আরো বলেন, আমি তা বিজোড় রাতে পেয়েছি (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৮২৮)।

অতএব আমরা যারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে চাই, আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চাই, লাইলাতুল কদরের সুমহান মর্যাদা লাভ করতে চাই, সর্বোপরি জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে চাই, তাদের জন্য উচিত হলো, রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করা
তেকাফ করা সুন্নতে মোয়াক্কাদায়ে কেফায়া।
লেখক
মোঃইবাদুর রহমান জাকির
এম এ(এল,এল,বি)
অধ্যয়নরত
সিলেট ল কলেজ।

বড়লেখায়; যুবশক্তি সমাজ কল্যাণ পরিষদের ইফতার বিতরণ


মোঃইবাদুর রহমান জাকির (বিশেষ প্রতিবেদক) মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সামাজিক সংগঠনও স্বেচ্ছাসেবী সংঘটন যুবশক্তি সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে
মঙ্গলবার (১২ মে)পর্তুগাল প্রবাসী আবুল হাসানের অর্থায়নে বড়লেখা পৌর:শহরে অবস্থানরত দেঢ় শতাধিক সু্বিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল রোজাদার নারী পুরুষদের মাঝে ইফতার বিতরণী অনুষ্টিত হয়।

এতে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বড়লেখা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল হাফিজ ললন,যুবশক্তি সমাজকল্যাণ পরিষদের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান কাউন্সিলর জেহীন সিদ্দিকী,স্থায়ী কমিটির সদস্য জাহিদ হাসান জাবেদ,আবুল হাসনাত শরফ ও বাকের আহমদ।

এ ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন যুবশক্তি সমাজকল্যাণ পরিষদের কার্যকরি কমিটির সভাপতি তাহমীদ ইশাদ রিপন,সিনি:সহ:সভাপতি আমিনুল বাবলু,সহ:সভাপতি জামিল আহমদ,সাদিকুর রহমান সাহেদ,সাধারণ সম্পাদক আইনুল ইসলাম,যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমদ,অর্থ সম্পাদক নূরে আলম মোহন ও সহ:প্রচার সম্পাদক আরিফ আহমদ।

উপস্থিত অতিথিবৃন্দ আর্তমানবতার সেবায় যুবশক্তি সমাজকল্যাণ পরিষদের আগামীর মানবিক কার্যক্রমকে আরো বেশী করে সমাজের সু্বিধাবঞ্চিত ছিন্নমূলদের কাছে পৌছে দিতে যুবশক্তি সমাজকল্যাণ পরিষদের সদস্যবৃন্দের প্রতি আহবান জানান এবং পর্তুগাল প্রবাসী আবুল হাসানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি আবুল হাসানের মত ভিত্তবান যেন সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহবান জানান”

মহিমান্বিত রমজানঃ আমাদের করনীয়-আলেয়া খানম

আমাদের থেকে এবারের মহিমান্বিত রমজানুল মুবারকের প্রথম দশক বিদায় নিতে যাচ্ছে। রমজানের প্রথম দশ দিন রহমতের। আল্লাহ তায়ালা এ দশকে প্রত্যেকের উপর অবারিত রহমত বর্ষণ করতে থাকেন। যার ফলে মুসলমান নরনারীর মন-মনন উজ্জ্বল তারকারাজির ন্যায় ঝলমল হয়ে অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে মুক্ত হয়। মহান প্রভূর সান্যিধ্যের দিকে এগিয়ে যায় মানবাত্মা। রহমতের চাদরে আবৃত হয়ে নিজের জীবন যৌবনকে পূতপবিত্র করে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
সহীহ হাদীসে প্রিয় নবী মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ ফরমান, রমজানের প্রথম দশক রহমতের, মধ্যখানের দশক মাগফিরাতের এবং শেষের দশক জাহান্নাম থেকে মুক্তির।
যখন রমজান আসে জান্নাতের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয়। জাহান্নামের দরজা সমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। আর মরদুদ শয়তানদেরকে শিকলাবদ্ধ করে রাখা হয়। অপর বর্ননায় আসে আসমানের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয়।
রমজান মুমিনের জন্য ঢাল স্বরূপ। শত্রুর মোকাবেলায় ঢাল যেভাবে গুলি, তীর ধনুক ইত্যাদির আক্রমণ ও অনিষ্ঠ হতে রক্ষা করে সিয়াম সাধনাও সেভাবে মুমিন মুসলমানকে অন্যায়, অবিচার, জুলুম, নির্যাতন ইত্যাদি পাপাচার থেকে রক্ষা করে।
হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,” রোজা আমার জন্য আর এর প্রতিদান আমি নিজে দান করব।”
যারা ঈমান ও ইহতেসাবের সাথে (সওয়াবের আশায়) রমজানের রোজা এবং কিয়ামুল লাইল ( তারাবীহ) আদায় করবে, আল্লাহ তায়ালা তাদের সমুদয় গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।
এদিকে চলমান বিশ্বের দিকে দিকে মুসলমানদের উপর নির্যাতন নিপীড়নের স্টীম রোলার চলছে। আর অপর দিকে দেশে দেশে ইসলামের বিজয় নিশান উড্ডীন হওয়ার সমূহ সম্ভাবনার পূর্বাভাস মুসলিম উম্মাহকে আশান্বিত করছে।
রোজা ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক। নিজেকে সংযম ও সংশোধনের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এক অমলিন সুন্দর সমাজ বিনির্মানে সিয়াম সাধনা আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। গরিব দুঃখী অসহায় মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবের উপলব্ধি সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বর্তমান সময়ে করোনা ভাইরাস উপসর্গের মধ্যে লকডাউন এর ফলে আমাদেরকে কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। বিত্তবান হৃদয়বানরা যার যার অবস্থান থেকে সাধ্যমত সহায়তা করতে উদ্যোগী হওয়া এ সময়ে ঈমান ও মানবতার দাবি।

লেখিকা;
এম.এ মাস্টার্স, এমসি কলেজে, সিলেট।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে প্রজ্ঞাপন জারি করে ইফতারি প্রথা বন্ধ করা হোক


আশফাক জুনেদঃ দীর্ঘ এক বছর পর আমাদের নিকট পবিত্র রমজান এসে পৌঁছেছে।ত্যাগ ও সংযমনের মাস হচ্ছে রমজান।এই মাস যেমন আসে রহমতের বার্তা নিয়ে আবার তেমনি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য আসে চিন্তার কারণ হয়ে।

রমজানে বিশেষ করে আমাদের সিলেটে মেয়ের বাড়িতে ইফতারি পাঠানোর একটি প্রথা প্রচলিত রয়েছে ।এই মাসে মেয়ের শশুর বাড়িতে হরেক রকম খাবার দাবার পাঠাতে হয়। সেটা একবার নয় কয়েকবার। বহুকাল থেকে আমাদের সমাজের প্রচলিত প্রথা এটি।এর অন্যতা হলে মেয়েকে শশুর বাড়িতে খোঁটা পেতে হয়।

এই ইফতারি পাঠানো বিত্তবানদের জন্য সহজ হলেও অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।রমজান আসার সাথে সাথে কপালে চিন্তার বাঝ পড়ে এসব পরিবারের মাঝে।শশুর বাড়িতে মেয়ের মান-সম্মান রক্ষা করতে কষ্ট করে হলেও মেয়ের বাড়িতে হরেক রকম ইফতার সামগ্রী পাঠান এসব পরিবারের কর্তারা।

কিন্তু বিগতে বছর গুলোতে কষ্ট করে ইফতারি পাঠানো গেলেও এবার তা যে একেবারেই অসম্ভব ।সারাবিশ্বের ন্যায় করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে থমকে আছে বাংলাদেশেও।আর এই ভাইরাস ঠেকাতে দেশে চলছে সাধারণ ছুটি।ফলে অঘোষিত লকডাউন চলছে সারাদেশে।যার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দেশের সিংহভাগ মানুষ।ঘরে খাবার যোগাতে যেখানে রীতিমত যুদ্ধ করতে হচ্ছে সেখানে এই রমজানে মেয়ের বাড়িতে ইফতারি পাঠানো তাদের কাছে মরার উপর খাড়ার ঘা।কেমন করে মেয়ের বাড়িতে ইফতারি পাঠাবেন এমন চিন্তায় চিন্তিত তারা।এই কঠিন পরিস্থিতিতে দার দেনা করাও সম্ভব না।তাই দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সরকারি ভাবে এই ‘ইফতারি’ প্রচলন বন্ধ করা হোক।এতে করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার এই ‘ইফতারি’ পাঠানোর নামে হরেক জাতের খাদ্যসামগ্রী পাঠানো থেকে রেহাই পাবে এবং সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়া থেকেও রক্ষা পাবে।সরকারি ভাবে নিষেধ হলে মেয়ের বাড়ি থেকেও খোঁটা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।তাই এইদিকগুলা বিবেচনা করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করে অনতিবিলম্বে এই ইফতারির প্রচলন বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।

বড়লেখায়ঃ সেচ্ছায় শ্রমদানে মেরামত করা হলো পূর্ব মাইজ পাড়ার রাস্তা


মোঃইবাদুর রহমান জাকিরঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পৌরসভার সীমা প্রাচীর সংলগ্ন ৬নং সদর ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামের ভিতর ভায়া(কেছরিগুল)পাঁচমিরের মাজার রোডে মানুষ চলাচলের রাস্তা অনুপযোগী হওয়ায় পুর্ব মাইজপাড়া গ্রামের মুরব্বিগনের নেতৃত্বে (২৭এপ্রিল)সোমবার সকালে দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন গ্রামের মুরব্বী সুনা মিয়া,আজন মিয়া,আব্দুস সত্তার,ফখরুল ইসালাম,মনাই মিয়া,আব্দুন নূর,রজব আলী। সেচ্ছায় শ্রমদানে রাস্তা মেরামতকরেন আব্দুল মজিদ, আব্দুল জলিল, আব্দুল মুহিত, আবুল হোসেন, ইমরান আহমেদ, খালেদ আহমদ, নুরুল ইসলাম, জাহিদুর রহমান, শাহজান আহমেদ, সিদ্দিকুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, শামিম আহমেদ ইমন, আহমেদ ফয়জুর রহমান, আরিফ আহমেদ, কাইয়ুম আহমেদ প্রমুখ।

বড়লেখায় করোনা রুগী শনাক্ত, পুরো গ্রাম লক ডাউন

উপজেলা প্রশাসন


মোঃইবাদুর রহমান জাকির,সিনিয়র প্রতিবেদকঃ মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিন ভাগের কাশেমপুরে করোনা আক্রান্ত রুগী ধরা পড়ায় শনিবার রাত২টায় ঐ ব্যক্তির গ্রাম লকডাউন (অবরুদ্ধ) করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রত্নদ্বীপ বিশ্বাস শনিবার রাত দুইটায় এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তির বাড়ি কাশেমনগর। প্রশাসন তাঁর গ্রাম লকডাউন করেছে।  ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কেউ করোনা আক্রান্ত কিনা তা নিশ্চিত নমুনা সংগ্রহ করা হবে। তিনি এখন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি আছেন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান জানান, আক্রান্ত ব্যক্তির গ্রাম লকডাউন করা হয়েছে। এখন কেউ এই এলাকায় যেতে পারবেন না। আবার কেউ বের হতে পারবেন না। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত ওই ব্যক্তি পুরুষ। তাঁর বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। তিনি  গত ২০ এপ্রিল  জ্বর-কাশিসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেলের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তাঁর করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে।  তিনি এখন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি আছেন। ওই ব্যক্তির বাড়ি উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের কাশেমনগর গ্রামে।  তিনি সমনভাগ এলাকায় ছোলা ও পিয়াজু বিক্রি করতেন।

করোনায় বদলে গেছে রমজানের ঐতিহ্য

‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙা ভইরা লইয়া যায়’। প্রতি বছর রমজান মাসে পুরান ঢাকার চকবাজারে ঢুকলেই শোনা যায় এমন হাঁকডাক। তবে এবার শোনা যাচ্ছে, রাস্তায় কোনও ইফতারের দোকান বসবে না। তাও আবার হ্যান্ড মাইক দিয়ে এমন মাইকিং করছে পুলিশ। করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে রমজান মাসের চিরচেনা চিত্রগুলো এবার বদলে গেছে। যা ছিল রমজানের ঐতিহ্য তা এখন স্মৃতি।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাংলাদেশে রোজা শুরু হয়েছে। তবে এদিনটি ছিল দেশে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার ৪৯তম দিন। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩০৯ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৪ হাজার ৯৯৮ জন। দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৪০ জন।

এ মহামারির বিস্তার রোধে সরকার ছুটি ঘোষণা ছাড়াও নানা রকম পদক্ষেপ নিয়েছে, মানুষের চলাচলে বিধি নিষেধ আরোপ করেছে। এর প্রভাব পড়ছে রমজানেও। প্রতিবছর চাঁদ দেখার ঘোষণা হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানের মসজিদে থেকে ঘোষণা আসতো, রমজানুল মোবারক, আর ঘোষণা করা হতো তারাবির নামাজের সময়। তবে এবার আজানের পর মুসল্লিদের বাসায় তারাবির নামাজ পড়তে বলেছেন মুয়াজ্জিনরা।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে মসজিদে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ২ জন হাফেজসহ সর্বোচ্চ ১২ জন এশা ও তারাবিহ’র নামাজে অংশ নিতে পারবেন। যদিও নিয়ম ভেঙে অনেকে মসজিদে তারাবির নামাজে শরিক হতে চেষ্টা করেন। তবে সতর্কভাবেই তাদের ফেরত দিয়েছে অধিকাংশ মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

শুধু তারাবির নামাজই নয়, সকল ক্ষেত্রেই পড়ছে করোনার প্রভাব। রোজা শুরু হলেও দুপুর ২টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ এবং যারা কাজের প্রয়োজনে বাইরে যাচ্ছেন তাদেরও সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ঘরে ঢোকা, একইসময়ে সুপার শপগুলো বন্ধ করে দেওয়ার নিয়মেও কোনও পরিবর্তন আসেনি। বরং আরও কঠোরভাবে রোজা উপলক্ষেও ফুটপাতে ইফতারের পসরা নিয়ে বসা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় আগেই এ ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনা দিয়েছিল। এর মূল কারণ, জনসমাগম এড়ানো এবং করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়িয়ে চলা। পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে সেই নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, দেশের কোথাও রাস্তায় বসতে পারবে না ইফতারের দোকান।

সরেজমিন দেখো গেছে, রাজধানীর কোথাও কোথাও ভ্রাম্যমাণ ইফতারের দোকান বসানোর চেষ্টা করেছেন দোকানিরা, তবে প্রথম রোজায় তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। পুরান ঢাকার চকবাজার হচ্ছে দেশের বৃহৎ ইফতারের বাজার। প্রতিবছর এখানে ইফতারের পসরা নিয়ে দোকানদাররা বসলেও এ বছরের চিত্র ছিল পুরোই উল্টা। এবছর কয়েকটি দোকান বসানোর চেষ্ট করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।

বন্ধুরা মিলে প্রতি বছর চকবাজারে ইফতার করতে যেতেন আসাদুজ্জামান। মিরপুরের এ বাসিন্দা বলেন, চকবাজারে যাওয়া দূরে থাক এখন ঘর থেকেই বের হই না জরুরি প্রয়োজন না হলে। এবার হয়তো এভাবেই রমজান মাসটা পার হয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে তা কখনও কল্পনাও করতে পারিনি।

ইফতারের মুহূর্তে অন্য বছরগুলোতে যানজটে কারণে অনেকেই অফিস থেকে বাড়ি ফিরে ইফতারে করতে বেগ পেতেন। এবার রাস্তায় কোনও গাড়ি নেই, নেই কোনও মানুষ। ছুটি থাকায় বেশিরভাগ মানুষ পরিবারের সঙ্গে ইফতার করার সুযোগ পেয়েছেন।

রাজধানীর একটি কলেজের শিক্ষার্থী শান্তা শাফিহ। তিনি বলেন, রোজার মাসে একটা উৎসব উৎসব ভাব থাকে। এখন হয়ত ঘরে সবার সঙ্গে ইফতার করছি, কিন্তু উৎসবের সেই আমেজ নেই। একটা আতঙ্ক। এখন একটাই চাওয়া, এই মহামারি থেকে যেন দ্রুত মুক্তি মিলে।

প্রকৃতই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সারাদেশে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত ২২ মার্চ রাজধানীর মিরপুরের উত্তর টোলারবাগে এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পরদিন সেই এলাকা লকডাউন করে দেওয়া হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত সেই এলাকা লকডাউন রয়েছে।

উত্তর টোলারবাগের প্রথম যে ব্যাক্তি মারা যান তিনি উত্তর টোলারবাগের দারুল আমান নামের একটি ভবনের বসবাস করতেন। সেই ভবনের বাসিন্দা মো. সুজন বলেন, আমরা তো ঘর থেকেই বের হই না। বাজার করা ছিল, সেটা দিয়েই চলছে। তবে আর কিছুদিন পর সেটিও শেষ হয়ে যাবে। এলাকার মসজিদগুলোও বন্ধ। এমন পরিস্থিতি আমার জীবনে প্রথম।

টোলারবাগে অনেক বাসায় সংসদ সদস্য মো. আসলামুল হকের পক্ষ থেকে ইফতার সামগ্রী উপহার হিসেবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান সেই এলাকার বাসিন্দারা। আবার অভিযোগও আছে বাড়ির মালিক নিজেই সব ইফতার সামগ্রী রেখে দিয়েছেন, ভবনের অন্যদের দেননি। টোলারবাগের ১২/৬ বি,১ ভবনের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, তাদের বাড়িতে সংসদ সদস্যর পাঠানো ইফতার উপহার হিসেবে এলেও বাড়িওয়ালা তা নিজেই রেখে দিয়েছেন। কোনও ভাড়াটিয়াকে দেননি।

প্রতিবছর সারা দেশে ইফতারকে কেন্দ্র করে নানা রকম আয়োজন হয়ে থাকে। রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও হয়ে থাকে ইফতার মাহফিল। কয়েক হাজার মানুষের জন্য প্রতি বছর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইফতারে আয়োজন করতো ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। প্রথম রোজার দিন সেই মসজিদ একেবারেই জনশূন্য।

তবে ভিন্ন চিত্রও আছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও অনেকেই দাঁড়িয়েছেন অসহায় মানুষের পাশে। অনেকে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন ইফতার সামগ্রী। গাজীপুর সদর উপজেলার নয়নপুর গ্রামে ইকবাল সিদ্দিকী কলেজ ও কচি কাঁচা একাডেমির গেইটের পাশে বিকেল থেকেই রাখা হয়েছে ১০০ প্যাকেট খিচুড়ি, সিদ্ধ ডিম ও ২টি করে খেজুর। সামাজিক দূরত্ব মেনে এলাকার গরিব মানুষ এখান থেকেই পেয়েছেন ইফতার।

ইকবাল সিদ্দিকী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, এটা আমার একক উদ্যোগ নয়, সম্মিলিত উদ্যোগ। সত্যিই মানুষ অনেক কষ্টে আছে, তাদের পাশে থাকার চেষ্টা আমরা করছি।

দেশজুড়েই আছে এমন ছোট বড় অসংখ্য উদ্যোগ। এসবের মধ্য দিয়ে জন সমাগম এড়িয়ে ও সামাজিক দূরত্ব মেনে দেশবাসী এবার পার করবে রমজান মাস। আর প্রত্যেকের প্রার্থনায় থাকবে এই মহাবিপদ থেকে উদ্ধারে পরম করুণাময়ের কাছে সাহায্য প্রার্থনা। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন