লরির চাপায় স্বামীর সামনেই প্রাণ হারিয়েছেন স্ত্রী

পড়ে আছে স্ত্রীর নিথর মরদেহ, রক্তমাখা ব্যাগ হাতে স্বামীর বিলাপ!

রক্তমাখা ব্যাগ হাতে স্বামী রবিউলের বিলাপ। পাশেই পরে আছে স্ত্রী ইভার নিথর দেহ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার নিশ্চিন্তপুরে অজ্ঞাত লরির চাপায় স্বামীর সামনেই প্রাণ হারিয়েছেন স্ত্রী ইভা (২০)।এসময় মোটরসাইকেল চালক স্বামী রবিউল আহত হয়েছেন। ১৫ নভেম্বর বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ইভা সেনানিবাস এলাকার ময়নামতি আকাবপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার নিশ্চিন্তপুরে উল্টো পথে আসা একটি মোটরসাইকেলকে অজ্ঞাত একটি লরি চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী ইভা মারা যান।

এছাড়া মোটরসাইকেল চালক স্বামী রবিউল আহত হন। তাদের ছোট একটি কন্যা সন্তান রয়েছে বলেও জানা যায়।

বড়লেখায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে নিসচার বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও সমাবেশ।

বড়লেখা প্রতিনিধিঃ “আইন মেনে সড়কে চলি, নিরাপদে ঘরে ফিরি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২২ উপলক্ষে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) বড়লেখা উপজেলা শাখার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১১ ঘটিকায় বড়লেখা পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক পদক্ষিন করে উপজেলা পরিষদ চত্তরে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে র‍্যালী শেষ হয়।

জাতীয় সামাজিক সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই নিসচা’র কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য ও বড়লেখা উপজেলা শাখার সভাপতি তাহমীদ ইশাদ রিপনের তত্বাবধানে এবং সাধারণ সম্পাদক আইনুল ইসলামের পরিচালনায় র‍্যালী ও সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ দাস নান্টু, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদ-উল ইসলাম প্রিন্স, ডিএসপি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, নিসচার উপদেষ্টা ইকবাল হোসাইন, পৃষ্টপোষক তপন চৌধুরী, মোহাম্মদ তারেক হাসনাত, সহ-সভাপতি মার্জানুল ইসলাম, আব্দুল আজিজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম শিরুল, নোমান উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার খালেদ আহমদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, প্রকাশনা সম্পাদক মারুফ হোসাইন সুমন, প্রচার সম্পাদক নূরে আলম মোহন, দুর্ঘটনা অনুসন্ধান বিষয়ক সম্পাদক রমা কান্ত দাস, দপ্তর সম্পাদক রাসেল আহমদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অপুজিত দাস, একতা রক্তদান সংস্থা’র উপদেষ্টা ব্যবসায়ী জমির উদ্দিন, পাবলিকেশন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসাইন, মানবসেবা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম শুভ।

এছাড়াও নিসচার কার্যনির্বাহী সদস্য সাব্বির আহমদ, হাফিজুর রহমান জিল্লুর, এনাম উদ্দিন, সাধারণ সদস্য গণেশ কর, অজিত রবি দাস, জুনেদ আহমদ, কবির আহমদ, আব্দুল হামিদ, মাহমুদ আলম তুহিন, সাইফুর রহমান মুন্নাসহ আরোও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, আজ ২২ শে অক্টোবর যার মৃত্যুর মাধ্যমে এদেশে নিরাপদ সড়ক চাই নামে সামাজিক আন্দোলনের সূচনা নিসচার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের সহধর্মিণী জাহানার কাঞ্চন। তিনি সড়কে প্রাণ বিসর্জন দিয়ে আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছেন যে, ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ নিছক নিয়তি নয়। এটা মানবসৃষ্ট একটি ব্যাধি। এই ব্যাধি থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্যই ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নামে একটি সামাজিক আন্দোলনের জন্ম হয়েছে। পরবর্তীতে সাড়া দেশের মানুষের প্রাণের দাবীতে পরিণত হয়েছে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’। তাই সর্বোস্তরের জনগণের দাবীকে আমলে নিয়ে, বাংলাদেশ সরকার, জাহানারা কাঞ্চনের মৃত্যু দিন- ২২ শে অক্টোবর’কে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ হিসেবে ঘোষনা দিয়েছে কয়েক বছর আগেই।

জাতীয় সামাজিক সংগঠন নিসচার কার্যক্রম কারো বিরুদ্ধে নয়, এটা সামাজিক সংগঠন। সমাজের সকলকে নিয়ে নিসচা আন্দোলন করে যাচ্ছে। সকলের সহযোগিতা নিয়েই বাংলাদেশকে সড়ক দুর্ঘটনামুক্ত রাখতে নিসচা কর্মীরা অঙ্গীকারবন্ধ। এসময় তাঁরা সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর বিধিমালা বাস্তবায়নের জোর দাবী জানান।

তারা আরোও বলেন, নিসচা বড়লেখা উপজেলা শাখা সড়ক দুর্ঘটনারোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক-মানবিক, স্বেচ্ছাসেবী, ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক অঙ্গণেও নিসচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, এদিকে বেলা ১২ ঘটিকায় উপজেলা প্রশাসন ও নিসচা বড়লেখা উপজেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের হলরুমে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর হোসাইনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং নিসচা বড়লেখা উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা সোয়েব আহমদ।

বড়লেখায় কোলের শিশুকে হত্যার অভিযোগে বাবা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় আল-আমিন নামে দুইমাস বয়সী শিশুপুত্রকে হত্যার অভিযোগে আব্দুল মতিন (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে তিনটার দিকে তাকে আটক করা হয়। তিনি উপজেলার পূর্ব-দোয়ালিয়া (রামকটার টিলা) গ্রামের নিমার আলীর ছেলে। পুলিশ নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

থানা পুলিশ, নিহত শিশুর মা লাবনী আক্তার ও মামা জাবেদ আহমদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মতিন (৩২) ঘরে স্ত্রী রেখে একাধিক বিয়ে করেছে। এর জের ধরে লাবনী আক্তার ও তার স্বামী আব্দুল মতিনের দাম্পত্য কলহ চলছিল। রোববার বিকেলে আব্দুল মতিন ও স্ত্রী লাবনী আক্তারের মধ্যে ঝগড়া-ঝাটি চলছিল। আব্দুল মতিন স্ত্রীকে মারধরের একপর্যায়ে ৭০ দিনের শিশুপুত্রের উপরও আঘাত পড়ে। সন্ধ্যায় শিশুপুত্রসহ লাবনীকে বাবার বাড়ির লোকজন তাদের বাড়িতে নিয়ে যান। সোমবার সকালে শিশুপুত্রের শরীর খারাপ করলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

বড়লেখায় যুবক খুনের ঘটনায় সাংবাদিক সহ ৯ জনের নামে মামলা। আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের পাকশাইল গ্রামের কামরুল হোসেন এনাম খুনের ঘটনায় সাংবাদিক সহ ৯ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২১ আগস্ট নিহত এনামের বাবা বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার ২ জন আসামীকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,
গত ২০ আগস্ট সকালে হাকালুকি হাওরের মালাম বিল থেকে পাকশাইল গ্রামের কামরুল হোসেন এনাম নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত কামরুল হোসেন এনাম পাকশাইল গ্রামের দিনমজুর সিরাজ উদ্দিনের পুত্র। সে ‘পাকশাইল গ্রেট ভিশন এসোসিয়েশন’ নামক স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠনের সহ সভাপতি ছিল। ১৯ আগস্ট রাতে কে বা কারা তাকে হত্যা করে লাশ পাকশাইল গ্রাম ঘেষা হাকালুকি হাওরের মালাম বিলে ফেলে রাখে। ২০ আগস্ট সকালে স্থানীয়রা বিলে লাশ দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে এনামের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। ময়না তদন্ত শেষে ঐইদিন রাত সাড়ে ৮ টায় এনামকে পাকশাইল গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার জানাযার নামাজে বর্ণি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন,উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন,ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জুবের আহমদ সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন।

স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা যায়,তরুণ একজন সমাজকর্মীর এমন নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সবাই এই হত্যাকান্ডের সুষ্ট বিচার দাবী করছেন। কিন্তু,কে বা কারা এনামকে হত্যা করেছে সে বিষয়ে কেউ সঠিক তথ্য দিতে পারছেন না।

তবে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার মতে,হাকালুকি হাওরের মালাম বিলের গাছ নিধনকারীদের শাস্তির দাবী সহ বিভিন্ন দাবীতে বেশ কিছুদিন থেকে খুবই সক্রিয় দেখা গেছে কামরুল হোসেন এনামকে। তার এসব ভূমিকার কারণে প্রভাবশালী একটি মহল ক্ষুব্ধ ছিল। সংক্ষুব্ধ এরকম কোনো পক্ষ হয়ত পরিকল্পিতভাবে এনামকে হত্যা করেছে। তবে স্থানীদের এ ধারণার সাথে ভিন্নমত পোষণ করেন নিহত এনামের বাবা সিরাজ উদ্দিন। তার অভিযোগের তীর ছেলের সহকর্মীদের দিকে।

সিরাজ উদ্দিনের মতে,তার ছেলে কামরুল হোসেন এনাম ছিল ‘পাকশাইল গ্রেট ভিশন এসোসিয়েশন’র সক্রিয় এবং সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব৷ সে ছিল প্রতিবাদী। সে সংস্থার সভাপতি,সহ সভাপতি,সেক্রেটারী এবং অর্থ সম্পাদকের অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করত। তাছাড়া আগামী কাউন্সিলে সে এসোসিয়েশনের সভাপতি পদে প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এসব কারণে সংস্থার কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যের সাথে কিছুদিন থেকে তার মনোমালিন্য চলছিল। এরই জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাই,সিরাজ উদ্দিন ২১ আগস্ট বড়লেখা থানায় গিয়ে এই সংস্থার ৯ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ মামলার অন্যতম ২ আসামী সাইফুল হোসেন পাভেল (২৬) এবং মাছুম আহমদ (২৪) কে ইতিমধ্যে আটক করেছে। আটক সাইফুল হোসেন পাভেল এসোসিয়েশনের অর্থ সম্পাদক এবং একই এলাকার মৃত আজির উদ্দিনের ছেলে। আর মাছুম আহমদ বর্ণি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি,পাকশাইল গ্রামের বাসিন্দা মোঃছফির উদ্দিনের ছেলে। মাছুমের বড় ভাই বড়লেখা প্রেসক্লাবের সদস্য জামিল আহমদ। তাকেও এ মামলায় আসামী করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রানুযায়ী,মামলার ৯ আসামী হলেন এসোসিয়েশনের সহ সভাপতি সাংবাদিক জামিল আহমদ,সভাপতি এইচ.এম ফয়সল,সিনিয়র সহ সভাপতি শাহীদুল হক,ইমন আহমদ,সেক্রেটারি জাহাঙ্গির আলম,মাছুম আহমদ,সাংগঠনিক সম্পাদক কবির আহমদ,অর্থ সম্পাদক সাইফুল হোসেন পাভেল ও প্রচার সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ। তাদের সকলের গ্রামের বাড়ী পাকশাইল এবং তারা নিহত কামরুল হোসেন এনামের সহকর্মী।

সার্বিক বিষয় জানতে যোগাযোগ করা হলে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গির হোসেন সরদার জানান,নিহতের পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ২ জন আসামীকে আটক করা হয়েছে। হত্যা রহস্য উদঘাটনের স্বার্থে গ্রেফতারকৃত দু’জনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। অন্যান্য আসামীদেরকেও গ্রেফতারের অভিযান চলছে। কাউকে ছাড় নয়,দোষীদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

এদিকে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত প্রকৃত দোষীদেরকে আড়াল করতেই নিহত এনামের সহকর্মীদের নামে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ আসামীদের স্বজনদের। তাদের দাবী,পুলিশ সুষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এনামের হত্যাকান্ডে জড়িতদের বের করুক। সঠিক তদন্ত ছাড়া মামলার উপর ভিত্তি করে নিরীহ-নিরপরাধ যুবকদেরকে গ্রেফতার,হয়রানী করলে প্রকৃত হত্যাকারীরা আড়ালে থেকে যেতে পারে।

৫ জনকে অভিযুক্ত করে ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর হত্যা মামলার চার্জশীট দাখিল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সাংবাদিক সহ ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে সিলেট পলিটেকনিক কলেজ ছাত্রলীগ কর্মী,বড়লেখা উপজেলার বর্ণী ইউনিয়নের আহমদপুর গ্রামের সাইফুর হত্যা মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশীট) দাখিল করেছে পুলিশ। আজ (২৭ জুলাই) সকালে মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আলোচিত এ মামলার চার্জশীট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আতাউর রহমান।

আদালত এবং পুলিশ সূত্র জানায়,বড়লেখা প্রেসক্লাবের সদস্য,বর্ণি ইউনিয়নের পাকশাইল গ্রামের মোঃ ছফির উদ্দিনের ছেলে জামিল আহমদ,আহমদপুর গ্রামের আনছার আলীর ছেলে বাবলু হোসেন,জবলু হোসেন,কামাল হোসেন, এবং একই গ্রামের মৃত মস্তাব আলীর ছেলে জয়নাল উদ্দিন’কে চার্জশীটে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত ৫ জনের মধ্যে জামিল ছাড়া বাকী ৪ জন বর্তমানে কারাগারে আছেন।

উল্লেখ্য,গত বছরের ৩১ জুলাই বর্ণি ইউনিয়নের আহমদপুর গ্রামের আব্দুল আহাদের ছেলে,সিলেট পলিটেকনিক কলেজের ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। বিকাল ৪ টার দিকে নিজ বাড়ির কক্ষ থেকে পুলিশ তার নিথর দেহ উদ্ধার করেছিল। লাশ পাঠানো হয় মর্গে। ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সাইফুরকে দাফন করা হয়। রহস্যজনক এ মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে পুলিশকে অপেক্ষা করতে হয় প্রায় ৩ মাস। ২০২০ সালের ২৬ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পৌঁছায় বড়লেখা পুলিশের হাতে। প্রতিবেদনে সাইফুরকে শ্বাসরোধে হত্যা করার বিষয়টি বলা হয়। তখন নিহত সাইফুর রহমানের ছোট ভাই এমদাদুর রহমান বাদী হয়ে আসামী অজ্ঞাতনামা রেখে একটি মামলা দায়ের করেন। ঐ দিন সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে আহমদপুর গ্রামের আনছার আলীর ৩ ছেলে বাবলু,জবলু এবং কামাল হোসেনকে আটক করে। গ্রেফতারকৃত এই ৩ জনের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারী জয়নাল উদ্দিন নামে আরেক সন্দেহভাজন আসামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আজ কারাগারে থাকা ৪ জনের সাথে একই ইউনিয়নের বাসিন্দা সাংবাদিক জামিলকে যুক্ত করে আলোচিত এ মামলার চার্জশীট দিল পুলিশ।

হাকালুকি হাওরের মালাম বিলে গাছ নিধনকারীদের শাস্তির দাবীতে মানবন্ধন

জাকির আহমদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ গাছ নিধনকারী দূর্ণীতিবাজদের কবল থেকে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ জলাভূমি হাকালুকি হাওরকে রক্ষার দাবীতে বড়লেখায় মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৬ জুন সন্ধায় উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের ফকির বাজারে ‘পাকশাইল গ্রেট ভিশন এসোসিয়েশন’ নামে একটি সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে এ মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি এইচ.এম ফয়সলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন এসোসিয়েশনের সহ সভাপতি কামরুল হোসেন এনাম,শাহীদুল হক,সাংবাদিক জামিল আহমদ, ইমন আহমদ ও শাহিদুর রহমান জুনেদ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এসোসিয়েশনের সহ সাধারণ সম্পাদক নাহিদ হোসেন,সাইদুল ইসলাম,হাফিজুর রহমান,সাংগঠনিক সম্পাদক কবির আহমদ,সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবজল হোসেন,সাজু আহমদ,অর্থ সম্পাদক সাইফুল হোসেন পাভেল,সহ অর্থ সম্পাদক কামরুল হোসেন,অফিস সম্পাদক কবির আহমদ,প্রচার সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ,ক্রীড়া সম্পাদক কবির আহমদ(দক্ষিণ) প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন,হাকালুকি এশিয়ার একটি বৃহৎ জলাভূমি। এই হাওরের পরিবেশ রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু,দুঃখজনক হলেও সত্য,সরকারী দলের অনেক নেতারা এখন এই ঐতিহ্যবাহী হাওরের পরিবেশ বিনষ্টের সাথে জড়িয়ে গেছেন। গাছ নিধন,অতিথি পাখি ও মাছ শিকার সহ নানা অসদুপায়ে তারা হাওর থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন। এর ফলে হাওরের জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়ছে। আর এর মূল প্রভাব পড়ছে বর্ণি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে। কারণ,হাওরের পরিবেশের সাথে পাকশাইল সহ ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের মানুষের স্বার্থ জড়িত। এই হাওরকে পরিবেশ বিনষ্টকারী দূর্ণীতিবাজদের হাত থেকে বাঁচানো মানে বর্ণি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষকে বাঁচানো। বক্তারা এসময় পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান।

বড়লেখায় মাংসের দোকানে অভিযান,লাইসেন্স ও মূল্য তালিকা না থাকায় জরিমানা।

ফয়সাল মাহমুদ, বড়লেখাঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় লাইসেন্স ও মূল্য তালিকা না থাকায় দুই মাংসের দোকানকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস বিক্রি, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়ন এবং লাইসেন্স না থাকা সহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সোমবার (৩০ নভেম্বর) সকালে উপজেলার রতুলী বাজারের মাংসের দোকানে এই অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত লায়লা নীরা।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২টি পৃথক মামলায় ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়। এসময় লাইসেন্স না থাকায় ও মাংস মূল্য তালিকা না টাঙানোর অপরাধে শাহজালাল মাংসের দোকানকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা একই সঙ্গে মূল্য তালিকা না টাঙানোর অপরাধে মামু ভাগ্না মাংসের দোকানকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করে বড়লেখা থানা পুলিশ।

বড়লেখায় সজারু হত্যার অপরাধে ৯ শিকারিকে জেল-জরিমানা।

মোঃইবাদুর রহমান জাকির

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিলুপ্তপ্রায় সজারু হত্যার অপরাধে ৯ শিকারিকে জেল-জরিমানা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (১৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাধবকুণ্ড ইকোপার্কের বাজারিছড়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম আল ইমরান এই আদালত পরিচালনা করেন।

আদালতের অভিযানে সহায়তা করেন বনবিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস ও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হযরত আলী প্রমুখ।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক এলাকায় সজারু শিকারের অপরাধে ৯ জনকে আটক করে বনবিভাগ। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম আল ইমরান ঘটনাস্থলে যান। সেখানে আটককৃতরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে অপরাধ স্বীকার করে। এরপর আদালত সজারু হত্যায় সরাসরি জড়িত থাকায় বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন ২০১২ অনুসারে বিওসি কেছরিগুল এলাকার সুবল ভূমিজ (২৫) ও জগ রবিচন্দ্রকে (২৫) এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। রাতেই তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

এছাড়া হত্যায় সহায়তা করার অপরাধে উকিল সাঁওতাল (৩৫), বুধু সাঁওতাল (২৬), ওমেশ সাঁওতাল (৩০), রমেশ সাঁওতাল (৩২), কার্তিক সাঁওতাল (৩৫), রাম সাঁওতাল (৩০) ও কৃষ্ণ সাঁওতালকে (৩৫) ১০ হাজার টাকা করে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত।

এদিকে দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের বিওসি কেছরিগুল এলাকায় টিলা কাটার অপরাধে ফখরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালককে নির্দেশ প্রদান করেন আদালাত।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম আল ইমরান জেল, জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘টিলা ও বন্য প্রাণী আমাদের প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এগুলো রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়াতে মা কে পুড়িয়ে হত্যা।

নিউজ ডেস্কঃ গত রোববার রাতে মায়ের কাছে মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার বায়না ধরে ছেলে আবু হানিফ। কিন্তু মা তাতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুব্ধ হয় সে। রাতে ঘুমন্ত মায়ের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় আবু হানিফ। গতকাল শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হনুফা বেগম। এ ঘটনায় হনুফা বেগমের ভাই দুলাল মিয়া বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

এ ব্যাপারে শেরপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, হনুফা বেগমের তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে আবু হানিফ বড়। সে কিছুদিন ধরে মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার কথা বলছিল মা হনুফা বেগমকে। তিনি রাজি না হওয়ায় গতকাল শুক্রবার রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় আবু হানিফ। দগ্ধ হনুফা বেগমকে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল এবং পরে ময়মনসিংসহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার হনুফা মারা যান।

বড়লেখায় চোরাইকৃত কম্পিউটার- মুঠোফোনসহ ৫ চোর আটক।


বিশেষ প্রতিনিধিঃ

বড়লেখায় চোরাই কম্পিউটার- মুঠোফোনসহ ৫ চোর আটক করে পুলিশ।
রাতের আঁধারে একটি দোকানের তালা ভেঙে একটি কম্পিউটার, পাঁচটি মুঠোফোন ও নগদ কিছু টাকা নিয়ে গিয়েছিল চোরেরা। দোকান চুরির ঘটনায় দোকান মালিক দারস্থ হন পুলিশের। দোকান মালিকের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েই চোরদের গ্রেফতারে নামে পুলিশ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে এক চোরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর একে একে আরও চার চোর ধরা পড়ে পুলিশের জালে। তাদের দেওয়া তথ্যে উদ্ধার করা হয়েছে কম্পিউটার ও পাঁচটি মুঠোফোন।

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দোকানের তালা ভেঙে চুরি করে নিয়ে যাওয়া কম্পিউটার ও মুঠোফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত পাঁচ চোরকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে তাদের উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন-উপজেলার ৭নং তালিমপুর ইউনিয়নের তালিমপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে হালিমুর রশীদ হালিম (২০),৬নং বড়লেখা সদর ইউনিয়নের গঙ্গারজল গ্রামের শফিক উদ্দিনের ছেলে জহির আহমদ (২১), একই এলাকার আব্দুল খালিকের ছেলে সুজন আহমদ (২২), জফরপুর গ্রামের মৃত মনির আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪০) ও ৩নং নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের চান্দগ্রামের মৃত মখদ্দছ আলীর ছেলে সাইদুল ইসলাম (২২)।

পুলিশ ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার দিবাগত রাতে বড়লেখা ডিগ্রি কলেজ এলাকার উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদের মার্কেটের ব্যবসায়ী আশীষ চন্দ্র নাথের অন্নপূর্ণা এন্ড আঁখি ফটোস্ট্যাট ও কম্পিউটারের দোকানে চোর হানা দেয়। চোরেরা দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশে করে একটি ডেক্সটপ কম্পিউটার, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাঁচটি মুঠোফোন ও ক্যাশবক্স ভেঙে নগদ ৪ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে যায়। পরদিন ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ভোরে স্থানীয়রা দোকান মালিক আশীষ চন্দ্র নাথকে জানান তার দোকানের শার্টার খোলা। পরে তিনি দোকানে এসে দেখেন তার দোকানের তালা ভাঙা ও শার্টার খোলা। ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন দোকানের একটি ডেক্সটপ কম্পিউটার, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাঁচটি মুঠোফোন ও ক্যাশবক্স থাকা নগদ টাকা ৪ হাজার ৮০০ টাকা নেই। এই ঘটনায় তিনি ওইদিনই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি তদন্তে নামে পুলিশ। এরপরই গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বড়লেখা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার দাস ও সহকারি পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) কামাল হোসেন গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চুরির সঙ্গে জড়িত হালিমুর রশীদ হালিমকে গ্রেফতার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একে একে জহির আহমদ, সুজন আহমদ ও শফিকুল ইসলাম গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যমতে চুরি হওয়া কম্পিউটার ও মুঠোফোন চান্দগ্রাম বাজারের আরিয়ান টেলিকম থেকে উদ্ধার এবং দোকান মালিক সাইদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

বড়লেখা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার দাস শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দোকান মালিকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি তদন্তে নেমে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হালিমকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একে একে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার চুরির কথা স্বীকার করে হালিমুর রশীদ হালিম ও জহির আহমদ আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বড়লেখায় হরিণের বিরল চামড়া উদ্ধার

এম. এম আতিকুর রহমান ঃ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, মৌলভীবাজারের কাছে গোপন সূত্রে খবর ছিল বড়লেখা পৌরসভার একটি বাড়িতে হরিণের চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বড়লেখা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শামীম আল ইমরানের নেতৃত্বে আজ ২৩ আগস্ট বিকেলে বন বিভাগ ও বড়লেখা থানা পুলিশের সহায়তায় এক অভিযান চালিয়ে দুইটি মায়া হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সুত্র জানায়, এ ব্যাপারে বন বিভাগ থেকে নিয়মিত মামলা দায়েরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

জুড়ীতে মন্দিরে চুরি পাঁচ আসামি গ্রেফতার

এম. এম আতিকুর রহমান ঃ

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কুচাই চা বাগানের শ্রী দূর্গা মন্দিরে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে জুড়ী থানা পুলিশ গ্রেফতার করে আজ ২৩শে আগষ্ট আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

জুড়ী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ শে আগষ্ট রাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দূর্গামন্দিরের তালা ভেঙে উপাসনালয়ের বেশ কিছু মালামাল চুরি হয়। ঘটনার পরদিন মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি জগজীবন নায়েক একটি অভিযোগ দায়ের করিলে গোপন সংবাদ পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে পাঁচ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃতরা হলো পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের রবাই মিয়ার পুত্র কামরুল ইসলাম (২৭) উত্তর জামকান্দি গ্রামের মৃত ইয়াছিন আলীর পুত্র শিপন আহমদ (২২) একই গ্রামের মৃত আং সাত্তারের পুত্র সোহেল মিয়া (২২) পূর্ব গোয়ালবাড়ী গ্রামের লাল মিয়ার পুত্র আং জলিল (৩০) এবং গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের রুপাছড়া গ্রামের আং হান্নানের পুত্র জসিম উদ্দিন (৩০)।
জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ সন্ঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামীদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আসামী সোহেল আহমদ এর বসতবাড়ি উত্তর জামকান্দি থেকে চোরাইকৃত কাসার কিছু মালামাল এবং তালা কাটার সাঁড়াশি জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীগণ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত মন্দিরের চুরির ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আসামীদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বড়লেখার আহবাব চৌধুরী ১০০ ইয়াবাসহ ঢাকায় আটক

এম. এম আতিকুর রহমান

মৌলভীবাজারের বড়লেখা ‌পৌর শহরের মহুবন্দ‌ গ্রামের মৃত সরোয়ারুল আলম চৌধুরীর পুত্র আহবাব চৌধুরীকে ঢাকায় ১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করেও পারেনি ভদ্র পরিবারের পরিচিত আহবাব চৌধুরী।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ ইয়াবাসহ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার মামলা নম্বর- ৯৫ তাং ২৩/০৭/২০০০। সে বড়লেখার মৃত সারোয়ার আলমের পুত্র আহারুল আলম হিসেবে তার নাম লিপিবদ্ধ করায় বলে জানা গেছে।

রবিবার যাত্রাবাড়ী থানা থেকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার আহারুল আলম ওরফে আহবাবুল আলম সম্পর্কে জানতে বড়লেখা থানায় অনুসন্ধানপত্র পাঠানো হলে মূল তথ্য বেরিয়ে আসে।

থানা পুলিশ সহ বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, অনেক দিন থেকে মাদকাসক্ত আহবাব চৌধুরী কখনো সাবেক সেনাপ্রধানের আত্মীয়, কখনো র‌্যাবের সোর্স পরিচয় দিয়ে আবার কখনো কথিত সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বড়লেখার জনপ্রতিনিধিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কিংবা নির্বাচনী প্রতিপক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ফেইসবুকে বিভিন্ন মিথ্যা লেখা প্রচার করে আসছিল। কারো কোনো অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন স্থানে লাইভ ভিডিও করে এবং ভিডিওর ভয় দেখিয়ে ট্রাক্টর চালক, অটো রিক্সা চালক এমনকি ফুটপাতে সবজি বিক্রি করতে বসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তার কাজ। প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি করা ইত্যাদি পাপাচারই তার পেশায় পরিনত হয়ে যায়। ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতেন না। সম্প্রতি বড়লেখা থানায় ঐ আহবাব চৌধুরীর বিরুদ্ধে পৌর মেয়র আবুল ইমাম মোঃ কামরান চৌধুরী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলাও দায়ের করেন।

ইয়াবাসহ যাত্রাবাড়ী থানায় আহবাব গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চত করে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক জানান, ঢাকা থেকে ২৬ জুলাই তার সম্পর্কে জানতে অনুসন্ধানপত্র এসেছে। বড়লেখায় সে আহবাব চৌধুরী নামে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা আছে। এ মামলায়ও তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে।

সচেতন মহল মনে করেন, ভালো পরিবারের কিছু ছেলেরাও ভদ্র ভেসে ইদানিং দুষ্কৃতকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছে। অভিভাবকদের কঠোর নজরদারি ও সচেতনতা বৃদ্ধিই তা প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

বড়লেখায় ৬০ পিছ ইয়াবাসহ বাবলুকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ।

এম. এম আতিকুর রহমান ;

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ৬০ পিস ইয়াবাসহ বাবলু মিয়া (৫৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ।
গতরাত ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাতকরাকান্দি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বাবলু মিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেছরিগুল গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে। 

বড়লেখা থানা পুলিশ সূত্রে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ রোববার দুপুরে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৬০ পিস ইয়াবাসহ বাবলুকে আটক করা হয়েছে। রাতেই তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। আজকেই তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বড়লেখায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একজন খুন

এম. এম আতিকুর রহমান ঃ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় জমি ক্রয় সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদ (৩৫) মারা গেছেন। গতরাতে (২৩ জুলাই) সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আহাদ বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের সুজাউল (হরিনগর) গ্রামের শফিক উদ্দিনের ছেলে। আর অভিযুক্ত মাতাব উদ্দিন একই এলাকার চন্ডিনগর (হরিনগর) গ্রামের মৃত রজব আলীর ছেলে।  

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল আহাদ ও তার স্বজনরা উপজেলার চন্ডিনগর (হরিনগর) গ্রামের মৃত রজব আলীর পুত্র মাতাব উদ্দিন ও তার সৎ ভাইদের কাছ থেকে সম্প্রতি কিছু জমি ক্রয়ের জন্য বায়নাপত্র করেন। জমি রেজিষ্ট্রির আগে নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেকের বেশি টাকাও মাতাব উদ্দিনদের দেওয়া হয়। রেজিষ্ট্রি করার সময় অবশিষ্ট টাকা দেওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে জমির কাগজপত্র সংক্রান্ত জটিলতা ও করোনাভাইরাসের কারণে জমি রেজিস্ট্রি হয়নি। এ অবস্থায় প্রায় দুই মাস আগে জমিতে চাষ করতে গেলে মাতাব উদ্দিনরা বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠক হলেও তা নিষ্পত্তি হয়নি। জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার চাওয়ায় আহাদের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন মাতাব উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে আব্দুল আহাদ স্থানীয় অফিসবাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এরই মধ্যে মাতাব উদ্দিন আহাদের পথ রোধ করে দাঁড়ান। একপর্যায়ে মাতাব উদ্দিন দা দিয়ে আহাদের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন সেখান থেকে তাঁকে (আহাদ) ‍উদ্ধার করে প্রথমে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টায় তিনি মারা যান। 

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক আজ (২৪ জুলাই) বিকেলে বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়ভাবে জেনেছি। নিহতের পরিবার এখনও মামলা দেননি। অভিযুক্ত ব্যক্তি আমাদের নজরদারিতে আছে। তাঁকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বড়লেখা থানা ডিউটি অফিসারের মোবাইলে আজ রাত ৮ টায় কথা বললে আসামি গ্রেফতার বা মামলার বিষয়ে তিনি এখনো কিছু জানেন না বলে এ প্রতিবেদককে জানান।

বড়লেখায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একজন খুন

এম. এম আতিকুর রহমান ঃ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় জমি ক্রয় সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদ (৩৫) মারা গেছেন। গতরাতে (২৩ জুলাই) সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আহাদ বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের সুজাউল (হরিনগর) গ্রামের শফিক উদ্দিনের ছেলে। আর অভিযুক্ত মাতাব উদ্দিন একই এলাকার চন্ডিনগর (হরিনগর) গ্রামের মৃত রজব আলীর ছেলে।  

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল আহাদ ও তার স্বজনরা উপজেলার চন্ডিনগর (হরিনগর) গ্রামের মৃত রজব আলীর পুত্র মাতাব উদ্দিন ও তার সৎ ভাইদের কাছ থেকে সম্প্রতি কিছু জমি ক্রয়ের জন্য বায়নাপত্র করেন। জমি রেজিষ্ট্রির আগে নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেকের বেশি টাকাও মাতাব উদ্দিনদের দেওয়া হয়। রেজিষ্ট্রি করার সময় অবশিষ্ট টাকা দেওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে জমির কাগজপত্র সংক্রান্ত জটিলতা ও করোনাভাইরাসের কারণে জমি রেজিস্ট্রি হয়নি। এ অবস্থায় প্রায় দুই মাস আগে জমিতে চাষ করতে গেলে মাতাব উদ্দিনরা বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠক হলেও তা নিষ্পত্তি হয়নি। জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার চাওয়ায় আহাদের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন মাতাব উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে আব্দুল আহাদ স্থানীয় অফিসবাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এরই মধ্যে মাতাব উদ্দিন আহাদের পথ রোধ করে দাঁড়ান। একপর্যায়ে মাতাব উদ্দিন দা দিয়ে আহাদের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন সেখান থেকে তাঁকে (আহাদ) ‍উদ্ধার করে প্রথমে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টায় তিনি মারা যান। 

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক আজ (২৪ জুলাই) বিকেলে বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়ভাবে জেনেছি। নিহতের পরিবার এখনও মামলা দেননি। অভিযুক্ত ব্যক্তি আমাদের নজরদারিতে আছে। তাঁকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বড়লেখা থানা ডিউটি অফিসারের মোবাইলে আজ রাত ৮ টায় কথা বললে আসামি গ্রেফতার বা মামলার বিষয়ে তিনি এখনো কিছু জানেন না বলে এ প্রতিবেদককে জানান।

সৌদি আরবে সিম জালিয়াতি চক্রের ১০ জন বাংলাদেশী গ্রেফতার!

প্রবাস ডেস্কঃ সৌদি আরবের রিয়াদে ১০ জন বাংলাদেশী নাগরিক ও ১ জন ভারতীয় নাগরিক সহ মোট ১১ জন সিম জালিয়াতি চক্রের সদস্যকে গ্রেফতার করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২০ জুন, শনিবারে এই গ্রেফতারের ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, অনেকদিন ধরেই সিমকার্ড জালিয়াতি করে আসছিলো এই চক্রটি। তারা অন্য মানুষের আইডি দিয়ে সিমকার্ড ভেরিফাই করে তারপর সেগুলো বিভিন্ন অসাধু উপায়ে সাধারন মানুষজনের কাছে বিক্রি করতো। সাধারন মানুষজন নিজের তথ্য ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে সিমকার্ড কেনার পর তাদের এই তথ্য কপি করে আরো অসংখ্য সিম তার নামে ভেরিফাই করা হতো। এসকল সিমকার্ড দিয়ে কোন অসাধু কার্যকলাপ করা হলে সেক্ষেত্রে অপরাধীকে সিম দিয়ে খুজে বের করার উপায় থাকতো না।

পূর্ববর্তী অসংখ্য অভিযোগের পড়ে তদন্ত করে রিয়াদে এই চক্রের কাজের স্থানে অভিযান চালিয়ে চক্রের ১১ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশী নাগরিক, এবং ১ জন ভারতীয় নাগরিক।

অভিযান চালানোর পড়ে অভিযান স্থল থেকে বিপুল পরিমান সৌদি নাগরিকদের আইডি কার্ড ছবি ও কপি, বেশকিছু প্রবাসীদের ইকামার ছবি, এবং নকল প্রায় ১৬ হাজার সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।

বড়লেখায় প্রতারণা মামলায় ফয়সল আহমদ গ্রেফতার


মোঃইবাদুর রহমান জাকির বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রতারণা মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা সেক্রেটারী মোঃ ফয়সল আহমদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাত দেড়টার দিকে থানার এসআই রাকিব মোহাম্মদের নেতৃত্বে পৌরশহরের (বালুচর) পাখিয়ালা বাসা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে সোমবার (৮ জুন) আদালতের মাধ্যমে পুলিশ তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্রিকফিল্ড ব্যবসায়ী মোয়াদ আহমেদ এর পৌনে ২ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে গত ২২ জানুয়ারি হাবিবুর রহমান হাবিবকে ১ নম্বর ও জামায়াত নেতা ফয়সল আহমদকে ২ নম্বর আসামি করে থানায় প্রতারণা মামলা করেন।এ মামলার প্রধান আসামি হাবিবুর রহমান হাবিব গত ১৭ মার্চ জামিন নিতে গেলে বিজ্ঞ আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ মামলার ২নং আসামি উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারী ফয়সল আহমদ দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর গ্রেফতার হোন

বর্ণিতে ৩২ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার,ছাত্রলীগ সভাপতির চাচা আটক।

জামিল আহমদ, স্টাফ রিপোর্টারঃ- বর্ণি ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতির চাচার দোকান থেকে সরকারি ৩২ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন চন্দ্র দাসের চাচা প্রদীপ চন্দ্র দাস (৪৭) কে আটক করেছে পুলিশ।গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের ফকির বাজারে এই চাল উদ্ধারের ঘটনাটি ঘটে। ছাত্রলীগ সভাপতি সুমনের পিতা ও আটক প্রদীপ চন্দ্র দাসের ভাই সুবোধ চন্দ্র দাস বর্ণি ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড মেম্বার।

কুলাউড়া-বড়লেখা-জুড়ি সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাওসার দস্তগির চাল উদ্ধার ও আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সূত্রে বড়লেখা ফুড ইন্সপেক্টরের কাছে খবর আসে। তিনি আমাদের জানালে তাৎক্ষনিক উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩২ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়। এসময় প্রদীপ চন্দ্র দাসকে আটক করা হয়।

এদিকে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান চাল উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি গুদামের ৩২ বস্তা চাল উদ্ধার করেছি। এগুলো ভিজিডি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল। ঐই ব্যবসায়ী বলেছেন, এগুলো উপকারভোগীদের কাছ থেকে কিনেছেন। কিন্তু এটা কেনাও অন্যায়। এইগুলো কেউ বিক্রি করতে পারেন না। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হবে। তিনি আরো বলেন করোনাকালীন সময়েও এই রকমের চাল চুরি যাহা নিতান্তই দুঃখজনক।

দুর্নীতি’র সংবাদ প্রচার করায় জামিল হোসেনের উপর হামলা,বড়লেখা প্রেসক্লাবের নিন্দা

জাকির আহমদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
হাকালুকি হাওরের দখল বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশের জেরে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘মৌলভীবাজার প্রতিদিন’র বড়লেখা উপজেলা প্রতিনিধি ও বড়লেখা প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক জামিল আহমদের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাতে উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক জামিল একই ইউনিয়নের পাকশাইল গ্রামের মোঃছফির উদ্দিনের ছেলে। সে মৌলভীবাজার প্রতিদিন ছাড়াও মৌলভীবাজার সমাচার নামক পত্রিকাতেও বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে।

জানা যায়,গত ১৩ মার্চ হাকালুকি হাওরে সংখ্যালঘু ও নিরীহ লোকদের জমি দখল নিয়ে মৌলভীবাজার প্রতিদিনে ‘হাকালুকি হাওরে ক্ষনতাসীনদের দখল বাণিজ্য’ শিরোনামে অনুসন্ধানী একটি প্রতিবেদন লিখেছিলেন জামিল। এ সংবাদ প্রকাশের পর পরই সরকারী দলের নেতাকর্মীরা মোবাইল ফোনে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। তিনি হুমকির প্রতিকারে ১৩ মার্চ সন্ধায় বড়লেখা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) দায়ের করেন। বড়লেখা থানায় সাংবাদিক জামিলের দায়ের করা সে জিডি’র নাম্বার ২৯১। জিডি দায়েরের ২ দিন না পেরুতেই তার উপর ন্যাক্ষারজনক হামলা ঘটনা ঘটলো।

জানা যায়,১৫ মার্চ রাত ১০ টার দিকে সাংবাদিক জামিল আহমদ স্থানীয় ফকির বাজার থেকে তার গ্রামের বাড়ি পাকশাইল ফিরছিলেন। এসময় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন মুখোশধারী সন্ত্রাসী জামিলের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তার চিৎকার শুনে পথচারী ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় সাংবাদিক জামিলকে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

এদিকে প্রেসক্লাবের তরুণ সদস্য,সাংবাদিক জামিল আহমদের উপর ন্যাক্ষারজনক হামলার নিন্দা জানিয়েছে বড়লেখা উপজেলা প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাবের সভাপতি অসিত রঞ্জন দাস এবং সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র দাস হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন,’সত্য ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ লিখে সমাজকে আলোকিত করাই সাংবাদিকদের কাজ। অন্যায়-অপকর্ম তুলে ধরার কারণে সাংবাদিক জামিল আহমদকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তার উপর হামলাকারীদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখী করতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের গ্রেফতার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান এই দুই সাংবাদিক নেতা।

দুর্নীতি’র সংবাদ প্রচার করায় জামিল হোসেনের উপর হামলা,বড়লেখা প্রেসক্লাবের নিন্দা

জাকির আহমদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
হাকালুকি হাওরের দখল বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশের জেরে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘মৌলভীবাজার প্রতিদিন’র বড়লেখা উপজেলা প্রতিনিধি ও বড়লেখা প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক জামিল আহমদের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাতে উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক জামিল একই ইউনিয়নের পাকশাইল গ্রামের মোঃছফির উদ্দিনের ছেলে। সে মৌলভীবাজার প্রতিদিন ছাড়াও মৌলভীবাজার সমাচার নামক পত্রিকাতেও বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে।

জানা যায়,গত ১৩ মার্চ হাকালুকি হাওরে সংখ্যালঘু ও নিরীহ লোকদের জমি দখল নিয়ে মৌলভীবাজার প্রতিদিনে ‘হাকালুকি হাওরে ক্ষনতাসীনদের দখল বাণিজ্য’ শিরোনামে অনুসন্ধানী একটি প্রতিবেদন লিখেছিলেন জামিল। এ সংবাদ প্রকাশের পর পরই সরকারী দলের নেতাকর্মীরা মোবাইল ফোনে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। তিনি হুমকির প্রতিকারে ১৩ মার্চ সন্ধায় বড়লেখা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) দায়ের করেন। বড়লেখা থানায় সাংবাদিক জামিলের দায়ের করা সে জিডি’র নাম্বার ২৯১। জিডি দায়েরের ২ দিন না পেরুতেই তার উপর ন্যাক্ষারজনক হামলা ঘটনা ঘটলো।

জানা যায়,১৫ মার্চ রাত ১০ টার দিকে সাংবাদিক জামিল আহমদ স্থানীয় ফকির বাজার থেকে তার গ্রামের বাড়ি পাকশাইল ফিরছিলেন। এসময় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন মুখোশধারী সন্ত্রাসী জামিলের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তার চিৎকার শুনে পথচারী ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় সাংবাদিক জামিলকে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

এদিকে প্রেসক্লাবের তরুণ সদস্য,সাংবাদিক জামিল আহমদের উপর ন্যাক্ষারজনক হামলার নিন্দা জানিয়েছে বড়লেখা উপজেলা প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাবের সভাপতি অসিত রঞ্জন দাস এবং সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র দাস হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন,’সত্য ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ লিখে সমাজকে আলোকিত করাই সাংবাদিকদের কাজ। অন্যায়-অপকর্ম তুলে ধরার কারণে সাংবাদিক জামিল আহমদকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তার উপর হামলাকারীদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখী করতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের গ্রেফতার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান এই দুই সাংবাদিক নেতা।