মৌলভীবাজার বড়লেখার পকুয়া ইসলামী সমাজ কল্যান সংস্থার উদ্যোগে ঈদ উপলক্ষে ও ভয়াবহ করোনা দূূরারোগ্যে গরিব অসহায় পরিবারের মধ্যে ২য় বারের মতো ত্রাণ বিতরন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯মে) সকালে উপজেলার ৩নং নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের পকুয়া গ্রামে ৭০ টি পরিবারের মধ্যে ডাল, ভোজ্য তেল,আলু, চিনি, ময়দা, বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পকুয়া ইসলামি সমাজ কল্যান সংস্থার সভাপতি আব্দুল মতিন, সহ-সভাপতি হারুনুর রশীদ, সাধারন সম্পদক নাজিম উদ্দীন মাষ্টার , সহ সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আ ফ ম শামসুদ্দিন , সাংগঠনিক সম্পাদক মাওঃ মোঃ আব্দুন নূর, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক কবির আহমদ টিপু ও পাঠাগার সম্পাদক কামরুল হাসান সাজু এবং সদস্য আকবর হোসেন ও মিজানুর রহমান সহ সংস্থার সকল সদস্যবৃন্ধ।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের অর্জুনপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থা’র ব্যাবস্থাপনায় ও অর্জুনপুর গ্রামের প্রবাসীদের অর্থায়নে সোমবার(১৮মে)সকালে গরীব ধনী নির্বিশেষে অর্জুনপুর ও পুকুরিয়া গ্রামে ১৩০ পরিবারের মধ্যে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।এসময় উপস্থিত ছিলেন অর্জনপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতিঃ ইকবাল হোসেন, সিনিয়র সহ সভাপতিঃ ডাঃ জাকির হোসেন (রনী) সাধারণ সম্পাদকঃময়নুল ইসলামঃযুগ্ম সাধারণ সম্পাদকঃপারভেজ আহমদ সহ সাম্পাদক জুনেদ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদকঃহায়দার কামাল মাছুম,অর্থ সম্পাদক রাফসান আহমদ,প্রচার সম্পাদক মারজান আহমদ,উপদেষ্টা মাসুক আহমদ সহ এসময় সংস্থার গ্রামের দাতা সদস্যদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বলেন “আমরা আমাদের গ্রামের প্রবাসীদের কাছে বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ, উনাদের ভালোবাসা দেশের জন্য প্রবাসে থেকেও দেশের কথা না ভূলে গ্রামের মানুষের জন্য দানের হাত কে প্রসারিত করেছেন। দোয়াকরি আজীবন আমাদের সাথে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাবেন ইনশাআল্লাহ “
(কোভিড-১৯)করোনা ভাইরাসে যখন বিশ্বব্যাপি চরম হতাশা বিরাজ করছে,আমরা যখন লকডাউনে রয়েছে সারা দেশ, তথাপি গ্রামের অসহায় লোকজনের কথা বিবেচনা করে আমাদের সাধ্যমতো সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার পূর্ব মুড়িয়া আভঙ্গী গ্রামের কৃতি সন্তান মাছুম আহমদ(ইতালি প্রবাসী) ও আহমেদ ফয়েজ হানিফ(ফ্রান্স প্রবাসী) অর্থায়নে আভঙ্গী দুর্জয় জনকল্যাণ সংস্থার ব্যাবস্থাপনায় গ্রামের লোকের পাশে থাকার লক্ষ্য নিয়ে নূন্যতম সহযোগিতা হিসেবে কিছুটা হলেও গ্রামের মানুষের কাছে পৌছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঈদসামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে।এতে উপস্থিত ছিলেন,বীর মুক্তিযুদ্ধা: আব্দুর রহিম(বিলাল)বীর মুক্তিযুদ্ধা:মঈন উদ্দিন,আরও ছিলেন আভঙ্গী দুর্জয় জনকল্যাণ সংস্থার সদস্যবৃন্দ।দায়ত্বশীল আরো জানান,গ্রামের জনগনের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার অঙ্গীকার আমাদের অতীত,বর্তমান ও ভবিষ্যতে সকল ধরনের দূর্যোগ মোকাবেলায় খাদ্যও ত্রান সামগ্রীয় বিতরন কার্যক্রম অব্যাহত ছিলও আগামীতে থাকবে ইনশাআল্লাহ ।সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানান। পরিশেষে,সরকারের সকল বিধিবিধান মেনে চলার জন্য গ্রামের সকল জনগন’র প্রতিও আহবান জানান।
মৌলভীবাজার বড়লেখায় সমছ উদ্দিন (৩৪) নামে এক ব্যবসায়ীর জবাই করা লাশ উদ্ধার করেছে বড়লেখা থানার পুলিশ। রোববার (১৭) মে রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের পূর্ব মোহাম্মদনগর (বাজারিটিলা) এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।সমছ উদ্দিনের বাড়ি ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যগ্রামতলা এলাকায়। তিনি গ্রামের আমির উদ্দিনের ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সমছ উদ্দিন গত প্রায় ৮ মাস আগে দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের পূর্ব মোহাম্মদনগর (বাজারিটিলা) এলাকায় রহমানীয় চা বাগান সংলগ্ন বেশ কিছু জায়গা ক্রয় করেন। এই জায়গার কিছু অংশে দুটি মৎস্য খামার গড়ে তোলেন। দিনের পাশাপাশি তিনি প্রায়ই রাতে খামারে যাওয়া আসা করতেন। শনিবার (১৬ মে) রাতে বাড়ি থেকে খামারের উদ্দেশ্যে বের হন। রাতে আর ফেরেননি। রোববার (১৭ মে) সকালে পরিবারের লোকজন তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। বেশ কয়েকবার রিং হলেও রিসিভ হয়নি। এরপর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। দুপুরে পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে গিয়ে একটি বাড়ির সামনে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল দেখতে পান। কিন্তু তার কোনো সন্ধান পাননি। স্বজনরা তার খোঁজাখুঁজি অব্যাহত রাখেন। এক পর্যায়ে রাত সোয়া ১২টার দিকে মোহাম্মদনগর (বাজারিটিলা) এলাকায় খামারের অদূরে একটি পরিত্যক্ত ঘরে তার (সমছ উদ্দিনের) রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখতে পান। এরপর তারা বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত আড়াইটার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নিহত সমছ উদ্দিনের ২ মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে।সোমবার (১৮ মে) ভোরে এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যায়নি।খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাউসার দস্তগীর।বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক সোমবার (১৮ মে) ভোর রাতে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার তদন্ত চলছে। সুত্রঃ বড়লেখা এক্সপ্রেস
আজ (১৭মে) বিকেলে বড়লেখায় শিক্ষাবিদ হাজী ইছমাইল আলী ফাউন্ডেশন এর ব্যবস্থাপনায় তৃতীয় দফায় বড়লেখার কর্মহীন ও প্রয়োজনগ্রস্ত বেশ কিছু পরিবার ও আলেম ওলামার মধ্যে রমজানের ঈদ উপহার সামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। ফাউন্ডেশনের সভাপতি এম. এম. আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিস বড়লেখা উপজেলা সভাপতি কাজী মাওলানা এনামুল হক, প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদ এর সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জননেতা এমাদুল ইসলাম, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বড়লেখা সদর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ফয়সল আলম স্বপন, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফখরুল ইসলাম, সামাজিক সংগঠন আন নাজাত সভাপতি বিশিষ্ট ব্যাংকার মোঃ আব্দুর রউফ, ছাত্রনেতা সুলতান আহমদ প্রমুখ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামিলীগ এর সভাপতি ফাউন্ডেনের উপদেষ্টা অব্দুল মতিন কলা মিঞা, বিশিষ্ট মুরব্বি মাওঃ আব্দুল গফুর, ইটালী প্রবাসী জুবায়ের আহমদ, খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা মানসুর আহমদ, সাবেক ছাত্রনেতা হাবিবুর রহমান, মাওলানা মো: হিফজুর রহমান, মাওলানা আবুল হোসাইন, মাওলানা ফয়জুর রহমান, মোঃ নজরুল ইসলাম চৌধুরী, তরুণ সমাজ সেবক খালেদ আহমদ প্রমুখ। ফাউন্ডেশনের সহ. সেক্রেটারি হাসান বিন কারিম এর পরিচালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মো: আবু সাঈদ ফরহাদ, প্রচার সম্পাদক আফাজ উদ্দিন, সদস্য নাহিদ আহমদ, মো: নাজমুল ইসলাম সোহাগ, মোঃ আব্দুস সলাম, মো: সাইদুল ইসলাম, সুহেল আহমদ প্রমুখ।
চলমান সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে করোনা ভাইরাস (Covid-19) নামক মহামারি থেকে দেশ বিদেশের সকলের হেফাজত ও মুক্তির জন্য বিশেষ দোআ পরিচালনা করেন কাজী মাওলানা এনামুল হক। শেষে সবাইকে নিয়ে ইফতারের মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি হয়।বড়লেখায় হাজী ইসমাইল আলী ফাউন্ডেশনের রমজানের ঈদ উপহার ও নগদ অর্থসহায়তা প্রদান
আজ বিকেলে বড়লেখায় শিক্ষাবিদ হাজী ইছমাইল আলী ফাউন্ডেশন এর ব্যবস্থাপনায় তৃতীয় দফায় বড়লেখার কর্মহীন ও প্রয়োজনগ্রস্ত বেশ কিছু পরিবার ও আলেম ওলামার মধ্যে রমজানের ঈদ উপহার সামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। ফাউন্ডেশনের সভাপতি এম. এম. আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিস বড়লেখা উপজেলা সভাপতি কাজী মাওলানা এনামুল হক, প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদ এর সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জননেতা এমাদুল ইসলাম, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বড়লেখা সদর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ফয়সল আলম স্বপন, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফখরুল ইসলাম, সামাজিক সংগঠন আন নাজাত সভাপতি বিশিষ্ট ব্যাংকার মোঃ আব্দুর রউফ, ছাত্রনেতা সুলতান আহমদ প্রমুখ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামিলীগ এর সভাপতি ফাউন্ডেনের উপদেষ্টা অব্দুল মতিন কলা মিঞা, বিশিষ্ট মুরব্বি মাওঃ আব্দুল গফুর, ইটালী প্রবাসী জুবায়ের আহমদ, খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা মানসুর আহমদ, সাবেক ছাত্রনেতা হাবিবুর রহমান, মাওলানা মো: হিফজুর রহমান, মাওলানা আবুল হোসাইন, মাওলানা ফয়জুর রহমান, মোঃ নজরুল ইসলাম চৌধুরী, তরুণ সমাজ সেবক খালেদ আহমদ প্রমুখ। ফাউন্ডেশনের সহ. সেক্রেটারি হাসান বিন কারিম এর পরিচালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মো: আবু সাঈদ ফরহাদ, প্রচার সম্পাদক আফাজ উদ্দিন, সদস্য নাহিদ আহমদ, মো: নাজমুল ইসলাম সোহাগ, মোঃ আব্দুস সলাম, মো: সাইদুল ইসলাম, সুহেল আহমদ প্রমুখ।
চলমান সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে করোনা ভাইরাস (Covid-19) নামক মহামারি থেকে দেশ বিদেশের সকলের হেফাজত ও মুক্তির জন্য বিশেষ দোআ পরিচালনা করেন কাজী মাওলানা এনামুল হক। শেষে সবাইকে নিয়ে ইফতারের মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি হয়।
মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসে থমকে গেছে সারাদেশ। সারা বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে জ্যামিতিক হারে দেশব্যাপী বাড়ছে আক্রান্তের হার। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে করোনা মোকাবেলায় আর্ত মানবতার সেবায় অনেকেই ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভূমিকা সারাদেশব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হয়। করোনার প্রাদুর্ভাব দিন দিন যেমন বাড়ছে, তেমন ছাত্রলীগের ব্যতিক্রমী কার্যক্রম নানাভাবে খবরের শিরোনাম হচ্ছে।
এবার অসহায়,দুস্হ,রিকশাওয়ালা, টমটম ওয়ালা, সবজি ব্যবসায়ী ও খেটে খাওয়ামানুষদের মাঝে ২০০ প্যাকেট ইফতার বিতরণ করলো জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগ।
গতরাতেও তিনি নিজের ইমামতিতে নিজ গ্রাম ভূগায় তারাবিহ এর সালাত আদায় করেছিলেন।বাড়িতে এসে ঘুমিয়ে পড়েন।সেহরির সময় শারীরিকভাবে অসুস্থতা অনুভব করেন।রোজা রাখার উদ্দেশ্য সেহরি খেয়ে ফযরের নামাজ আদায় করলেন।
মুহুর্তেই শরীর খারাপ লাগছিলো।ছোট ভাই মাওলানা ইমদাদুর রহমানকে ডাকলেন।রুমের মধ্যে টাকা রাখা আছে সেগুলো থেকে উনার কাফনের কাপড় কেনার জন্য।এবং উনার বাবা এবং বড় স্ত্রীর কাছে দাফন করার জন্য বললেন।
এবং বড় ছেলে হাফিজ আরিফুর রহমানকে ডেকে পাশে বসালেন।কিভাবে জানাজার নামাজে ইমামতি করতে হবে, কি দোয়া পড়তে হবে শিখিয়ে দিলেন।মাদ্রাসার গচ্ছিত হিসাব-নিকাশ নোট করে বড় ছেলে আরিফ কে বুঝিয়ে দিলেন।পরে মাদ্রাসা গভর্নিং বডির জনৈক সদস্যকে ফোন দিলেন উনি রিসিব করেননি!
প্রিয় শিক্ষক হয়তো বুঝতেই পেরেছিলেন তাঁর হাতে সময় আর বেশি নেই।তাই আরিফকে বললেন হিসাবটা বুঝিয়ে দিও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিকে।তারপর আরিফকে বললেন তুমি বাবার কাছে বসে সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করো।
বার বার বলছিলেন আমাকে ডাক্তারে নিতে হবেনা।মাটিতে শুয়াতে বললেন।অতঃপর কিছুক্ষণ কালেমা পড়লেন।তারপর দুই ঠোঁট নড়তেছিলো যেনো কোরআন তেলাওয়াত করতে করতেই মা’বুদের ডাকে সাড়া দিলেন।চোখ বন্দ করে ফেললেন।
কে জানে এই চোখ আর কখনো খুলবেনা! ছোট ভাই মাইক্রোতে করে চলে গেলেন ইবনে সিনা হাসপাতালে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করলেন!
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি পরগনাহী দৌলতপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং তারাদরম জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়ীত্ব পালন করেন।সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় ওয়াজ করেছেন তিনি বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে।
মৃত্যুর সময় তিনি দুই ছেলে, এক মেয়ে এবং হাজারও ছাত্রছাত্রী রেখে মৃত্যুবরণ করেন।মহান আল্লাহ যেনো তাঁর বান্দাহকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন।
বিশেষ প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের মুক্তারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের নামকরণ করা হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম করোনা যোদ্ধা শহীদ ডা: মঈন উদ্দিন এর নামে। ১৬ মে সকাল ১১ টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের নামকরণের ফলক উন্মোচনসহ ভবনের উদ্বোধন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দিনাজপুর ৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যডভোকেট মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অত্র বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুশফিকুর রহমান বাবুল। এসময় উপস্থিত ছিলেন ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মঞ্জু রায় চৌধুরী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাম্মৎ হাসিনা ভূঁইয়া, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আবু তাহের মন্ডল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ এনামুল হক, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক আহবায়ক এসকে মোহাম্মদ আলী দুলাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল আলিম, মুক্তারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃইব্রাহিম আলী প্রমুখ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি দৈনিক ইত্তেফাক সংবাদদাতা ও দৈনিক দেশ মা পত্রিকার সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক প্রভাষক অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, ফুলবাড়ী প্রেসক্লাব এর সদস্য মাইটিভি প্রতিনিধি মোঃফিজারুল ইসলাম ভুট্টু, ফুলবাড়ী প্রেসক্লাব এর সদস্য দৈনিক নবরাজ প্রতিনিধি মোঃআল আমিন বিন আমজাদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুশফিকুর রহমান বাবুল বলেন করোনা যোদ্ধা ডা:মঈন উদ্দিন কে জাতি চিরদিন স্মরন রাখবে, তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইলো, তার স্মরনেই আজকে আমরা এই ভবনের নামকরণ করেছি যাতে করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তার কথা মনে রাখে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে দেশের প্রথম করোনা যোদ্ধা শহীদ ডা:মঈন উদ্দিনের রূহের মাগফেরাত কামনা করে দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মা”আমেনা বালিকা কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, সাংবাদিক মাওলানা মোঃ আল আমিন বিন আমজাদ।
বড়লেখা উপজেলার পরগনাহী দৌলতপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও তারাদরম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা লুৎফুর রহমান (৫৫) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শনিবার দুপুরে সিলেটের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহী—রাজিউন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে, ১ মেয়ে, মা, ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে যান।
শনিবার বিকেলে সাড়ে ৫.৩০মিনিটের সময় উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের ভূগা মোকাম সংলগ্ন মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে গ্রামের সার্বজনিন গোরস্থানে তার লাশ দাফন সম্পন্ন হয়।
বড়লেখার বিশিষ্ট আলেম-এ দ্বীন অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা লুৎফুর রহমানের মৃত্যুতে তার রুহের মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও পরগনাহী দৌলতপুর সিনিয়র আলীম মাদ্রাসার গভর্ণিংবডির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এমাদুল ইসলাম, উত্তর শাহবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আহমেদ জুবায়ের লিটন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আকবর আলী,ইটাউরী (মহিলা)আলিম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওঃআব্দুল আহাদ, সুজাউল ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক উপাধক্ষ মাওঃআ,ক,ম আব্দুল আজিজ,পরগনাহী দৌলতপুর আলিম মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওঃআব্দুল গফ্ফার,উত্তর শাহবাজপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওঃমোঃসাইফুল্লাহ,বড়লেখা মোহাম্মদীয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওঃআব্দুল্লাহ,সুজাউল ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওঃবদরুল ইসলাম, সাংবাদিক কাজী রমিজ উদ্দিন ও সাংবাদিক মোঃইবাদুর রহমান জাকির প্রমূখ।
হাফেজ মাওলানা লুৎফুর রহমান ১৯৯৫ সালে আরবি প্রভাষক হিসেবে পরগনাহী দৌলতপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা যোগদান করেন। ২০১৯ সালে তিনি এ মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ পদে আসিন হন।
বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমানের আরেকটি পরিচয়, তিনি গায়ক। গানের প্রতি তার দুর্বলতা সবার জানা। গেল ২০১৬ সালের কোরবানি ঈদে গায়ক হিসেবে হাজির হয়ে হৈ চৈ ফেলে দেন সারাদেশে।
হাট, ঘাট, মাঠ, সর্বত্রই ছিলো মাহফুজুর রহমানকে নিয়ে আলোচনা। ১০টি গান নিয়ে তার একক সংগীতানুষ্ঠানটি সেই ঈদের সবেচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হিসেবে স্থান দখল করে নেয়।
সেই শুরু, এখনো গান করছেন মাহফুজুর রহমান। তার বেসুরো গায়কী নিয়ে অনেক সমালোচনা ও বিতর্ক চললেও দমে যাননি তিনি। গান করে চলেছেন নিয়মিতভাবেই।
গেলো কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারের রোজা ঈদেও গানের অনুষ্ঠান নিয়ে হাজির হচ্ছেন ড. মাহফুজুর রহমান। এটিএন বাংলা সূত্রে জানা গেছে, মৌলিক কিছু গান দিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের অনুষ্ঠানটি।
ইতিমধ্যে গানের রেকর্ডিং হয়ে গেছে। এবারের অনুষ্টানের শিরোনাম দেয়া হয়েছে ‘হিমেল হাওয়া ছুঁয়ে যায় আমায়’। এটি এটিএন বাংলায় প্রচার হবে ঈদের পরদিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে।
করোনার প্রভাবে ঘরবন্দী হয়ে কাটবে এবারের ঈদ। একঘেয়েমির এই সময়ে ড. মাহফুজুর রহমানের গানের অনুষ্ঠান ভিন্ন মাত্রার আনন্দ যোগ করবে বলে প্রত্যাশা চ্যানেলটির।
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় করোনা প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন পেশার কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় পরিবারের মধ্যে উপহার হিসেবে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদের (বড়লেখায়) সংরক্ষিত ১নং ওয়ার্ড সদস্য জোবেদা ইকবালের তত্ত্বাবধানে বড়লেখা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিছরাবাজার এলাকায় দেড় শতাধিক দরিদ্র পরিবারের মধ্যে এই খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়।
উপহার সামগ্রীর প্রত্যেক প্যাকেটে ছিল চাল, ডাল,তেল, আলু ও সেমাই।
শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ১১টায় উপজেলার বিছরাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দরিদ্রদের মাঝে এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ।
মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের সংরক্ষিত ১নং ওয়ার্ড সদস্য জোবেদা ইকবালের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বড়লেখা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক ইকবাল হোসেন স্বপনের’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজাম্মেল হোসেন,বিশিষ্ট মুরব্বী আব্দুস শহিদ ময়না, বিশিষ্ট সমাজ সেবক সিরাজ উদ্দিন,ইফতেখার হোসেন রিপন,কয়েছ আহমদ প্রমুখ
অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকজনকে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে করোনা প্রতিরোধক দিক-নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি ঃ সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার এক মাদকসেবীর হামলায় গুরুত্বর আহত হয়েছেন দৈনিক কালের কন্ঠের বিশ্বনাথ প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাব কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী শিপন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার জুম্মার নামাযের পর নিজ বাড়ী থেকে পার্শ্ববর্তী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাবার পথে হামলার শিকার হন তিনি। এসময় তার সাথে থাকা নগদ টাকা, মোবাইলসেট লুটে নেয় হামলাকারী দিলোয়ার হোসেন দিলা, উপজেলার কারিকোনা গ্রামের মৃত জবান আলীর ছেলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় থানা পুলিশ। এর আগেই পালিয়ে যায় হামলাকারী দিলা। হামলা ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রূত গ্রেফতারের দাবি করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃমোছন আলী, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান,সাংগঠনিক সম্পাদক কবি এস পি সেবু,সহ সাধারন সম্পাদক,আজিজুর রহমান,আব্দুল বাছিত,সহ সভাপতি মকসুদ খান,আলতাব হুসেন,প্রমুখ। হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তার সুস্থ্যতার জন্য বিএমএসএফ’র পক্ষ থেকে দোয়া চেয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ কামনা করেন।
নিউজ ডেস্কঃ শ্রমিক ইউনিয়নের টাকার হিসাব চাইতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন ট্রাকচালক চালক-শ্রমিকদের সাথে রাজশাহীর জেলা ট্রাক, ট্যাংক লরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের হিসাব চাইতে গিয়েছিলেন সোহরাব আলী (৩৫)।
শ্রমিকদের কল্যাণে রাস্তা থেকে তোলা টাকার হিসেব পেলেন না এই ট্রাকচালক। করোনার দুর্যোগকালে পেলেন না নূন্যতম সহায়তাও। শ্রমিকদের মারামারির ভেতরে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শুক্রবার বিকেলে নগরীর ঘোড়ামারা এলাকায় জেলা ট্রাক, ট্যাংক লরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে এ-ই ঘটনা ঘটে। সকাল থেকেই সেখানে বিক্ষোভ করছিলেন চালকরা। মৃত ট্রাকচালক সোহরাব আলী নগরীর খোজাপুরের বাসিন্দা।
শ্রমিকদের ভাষ্য, তাদের সংগঠনের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৬০০ জন। সম্প্রতি তাদের ইউনিয়নের সভাপতি ফরিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আক্কাস আলী কিছু শ্রমিককে ডেকে ৮ কেজি করে চাল ও ২ কেজি করে আলু দিচ্ছিলেন। শ্রমিকদের কেউ কেউ বেকায়দায় পড়ে নিয়েছেন। কিন্তু বেশিরভাগই সেই চাল-আলু প্রত্যাখান করে তাদের টাকার হিসাব চেয়েছেন। সেদিন ১১ মে হিসাব দেয়া হবে বলে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক জানান। কথামতো তারা সেদিন ইউনিয়ন কার্যালয়ে যান। কিন্তু হিসাব না দিয়ে আবারও ১৫ মে দিন দেয়া হয়। কথামতো তারা এ দিনও এসেছেন। কিন্তু তাদের জানানো হয়েছে হিসাব প্রস্তুত করা হয়নি। তাই তারা অবস্থান নিয়েছেন।
সাজ্জাদ আলী নামের এক শ্রমিক বলেন, বর্তমান কমিটির মেয়াদ তিন বছর। গত ১৭ এপ্রিল কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাই কমিটির কাছে হিসাব প্রস্তুত থাকার কথা। কিন্তু টাকা নয়ছয় হয়েছে বলে হিসাব প্রস্তুত নেই বলে মনে করেন তিনি।
সাজ্জাদ ধারণা করেন, তিন বছরে এই কমিটির কাছে অন্তত ১৫ কোটি টাকা গেছে শ্রমিকদের উন্নয়নের নামে। কিন্তু এখন তাদের দিন চলছে না। তারা টাকার হিসাব চাওয়ায় বর্তমান কমিটির কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
সাজ্জাদ বলেন, হাতাহাতির মধ্যে পড়েছিলেন ট্রাকচালক সোহরাব আলী। তিনি রোজাও রেখেছিলেন। এ রকম পরিস্থিতিতে তার রক্তচাপ বেড়ে যায়। অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মাথায় পানি দেয়া হয়। এরপর তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। তখন চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর শ্রমিকরা একটি পিকআপে করে তার লাশ ইউনিয়নের কার্যালয়ের সামনে আনা হয়।
বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর বোয়ালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, টাকার হিসাব চাইতে এসে এক শ্রমিক মারা গেছেন। তার লাশ ইউনিয়নের কার্যালয়ের সামনে আছে। শ্রমিকরা উত্তেজিত। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে। মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। সুত্রঃ জাগো নিউজ
নিউজ ডেস্কঃ কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ের লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একজন করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন রোহিঙ্গা নেতারাও। উখিয়া নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনার সংক্রমণ হওয়া মানে এটি আমাদের জন্য ভয়ের বিষয়। কারণ, ক্যাম্পে অসংখ্য মানুষ কাজ করছেন। স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি অনেক সংস্থায় মানুষ চাকরি করেন। চাকরির সুবাধে ক্যাম্পের আসা-যাওয়া করেন তারা। ফলে খুব দ্রুতই স্থানীয়দের মধ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে।’
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবে ১৮৬ জনের মধ্যে ১২ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাদের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা। প্রথমে দু’জন আক্রান্তের কথা বলা হলেও পরে জানা যায় একজন রোহিঙ্গা, অপরজন স্থানীয়। ওই রোহিঙ্গা লম্বাশিয়া ১নং (পশ্চিম) রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকেন। অপরজন কুতুপালং বাজারের পাশে অবস্থিত ঘুমধুম ইউনিয়নের কচুবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পরিচয় গোপন করে রোহিঙ্গা সেজে স্থানীয় এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
রোহিঙ্গার করোনা আক্রান্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারণ ওই অঞ্চলের স্থানীয়দের একমাত্র বাজার কুতুপালং। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘেঁষা কুতুপালং বাজার আগে সপ্তাহে দুদিন বসতো। রোহিঙ্গারা আসার পর সেখানে প্রতিদিন কেনাবেচা হয়। লকডাউন থাকার পরও বাজারে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের জনসমাগম চোখে পড়ার মতো। এছাড়া দেশি-বিদেশি হাজারো এনজিও কর্মীর আনাগোনা রয়েছে বাজারে।
কুতুপালং বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা করোনার ঝুঁকিতে রয়েছি। যেকোনও সময় আমরা আক্রান্ত হতে পারি। কারণ, এরইমধ্যে দু’জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের একজনের বাড়ি কুতুপালং বাজারের পূর্ব পাশে। আরেকজন কুতুপালং বাজারের পশ্চিমে। আমরা মাঝখানে অবস্থান করছি। কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে ৩৫০ স্থানীয় বাংলাদেশি পরিবার বাস করছে। তারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে। তাই খুব দ্রুত আগের মতো লকডাউন কড়াকড়ি না করলে করোনা থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।’উখিয়ার কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কমিউনিটি নেতা ইউনুছ আরমান বলেন, ‘করোনা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশ মেনে সব কিছু করছি। পার্শ্ববর্তী লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনা রোগী শনাক্তের খবরে আমরা উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছি। এ কারণে আমাদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে এবং অন্যদের মাঝেও সচেতনতা বাড়াতে হবে’।
লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মোহাম্মদ আয়ুব মাঝি বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত রোহিঙ্গা নুরুল আলম ভয়ে প্রথমে বাসা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে শুক্রবার সকালে রোহিঙ্গা নেতাদের সহায়তায় তাকে এবং পুরো পরিবারটিকে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এসে নিয়ে গেছে।’
কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা. আবু মোহাম্মদ তোহা বলেন, কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতাল থেকে নমুনা আসায় প্রথমে আমরা দু’জন রোহিঙ্গা বলেছিলাম। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক ব্যক্তি রোহিঙ্গা নন। ভালো চিকিৎসা পাওয়ার জন্য রোহিঙ্গা পরিচয় দিয়ে এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম কচুবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা তিনি। বর্তমানে তিনি নিজ বাড়িতেই আছেন। আক্রান্ত রোহিঙ্গাকে এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া বলেন, কক্সবাজারের করোনা শনাক্তকরণ ল্যাবে মোট ৩৩৬২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে জেলায় শনাক্ত হয়েছে ১৩২ জনের। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ১২ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাদের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা।
বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রায় এক হাজার ৯০০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার তৈরির কাজ চলছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০ শয্যার কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়াও করোনা আক্রান্তদের জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার পরিচালিত হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
নিউজ ডেস্কঃ দিনাজপুরের হিলিতে করোনার উপসর্গ নিয়ে অজ্ঞাত (৪৮) এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় রাস্তায় পড়ে ছিল মরদেহ, করোনার ভয়ে তার কাছে কেউ যায়নি।
আজ শুক্রবার সকাল থেকে হিলি জয়পুরহাট সড়কের গোড়স্থান নামক সড়কের পার্শ্বে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। পরে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।
হাকিমপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বেলাল হোসেন বলেন, সংবাদ পেয়ে মরদেহ উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছি। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি ওই ব্যক্তি কান পরিষ্কার করার কাজ করতেন ও মাদকসেবী ছিলেন। করোনার কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাজ কর্ম না থাকায় স্থানীয়দের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে চলতেন। গোরস্থানের পার্শ্বে একটি দোকানের বারান্দায় রাত্রিযাপন করতেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, কিছুদিন ধরে এই ব্যক্তি শ্বাসকষ্টেও ভুগছিল। আজ সকালের কোন এক সময়ে তিনি মারা যান, তার নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে এই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে কিনা ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে তা নিশ্চিতের জন্য নমুনা সংগ্রহ করার পর তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়না তদন্ত শেষে মরদেহের কোন স্বজন না পাওয়া গেলে মরদেহ দাফনের জন্য ‘আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের’ কাছে হস্তান্তর করা হবে। সুত্রঃ বণিক বার্তা
কভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবে উড়োজাহাজ বহরের বীমা নবায়ন নিয়ে সংকটে পড়তে পারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সাধারণ বীমা করপোরেশনের সম্প্রতি ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠিত এক বোর্ড সভার আলোচনায় বিমানের এ সংকটের বিষয়টি উঠে আসে। সভার কার্যপত্র সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস নিজ বহরের উড়োজাহাজের ফ্লাইট পরিচালনায় বিদ্যমান বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির বিপরীতে বীমা কাভারেজ নিয়ে থাকে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সংস্থাটির বহরের উড়োজাহাজগুলো সরকারি সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হয়ে থাকে। প্রচলিত বীমা আইন অনুযায়ী, সরকারি সম্পদের বীমা সাধারণ বীমা করপোরেশনে করানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী বিদ্যমান বিভিন্ন ঝুঁকির বিপরীতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরের উড়োজাহাজগুলোর বীমা পলিসি সাধারণ বীমা করপোরেশন থেকে করানো হয়েছে।
সাধারণ বীমা করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, কভিড-১৯ মহামারীর কারণে বিশ্বের সব এয়ারলাইনসই কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে উড়োজাহাজ চলাচল শিল্প বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এ কারণে বিদ্যমান বীমাগুলোর নবায়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে অনেক বীমা প্রতিষ্ঠানই অনীহা প্রকাশ করবে। এছাড়া প্রিমিয়ামের পরিমাণও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া আগের লোকসানের কারণে কিছু পুনঃবীমাকারী প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে আন্ডাররাইটিং কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে এবং বেশির ভাগ পুনঃবীমাকারী প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ সক্ষমতাও কমিয়ে এনেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বীমা নবায়নে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, সে বিষয়ে ফেব্রুয়ারিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিদ্ধান্ত চেয়ে পাঠানো হয়। বিষয়টি বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন আছে।
করপোরেশনের বোর্ড সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে বর্তমান বছরের অর্থাৎ ২০২০-২১ সালে এয়ারলাইনসগুলোর বীমা বা পুনঃবীমা নবায়ন করতে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন সম্পন্ন করতে না পারলে বিমানের উড়োজাহাজ চলাচল বিঘ্ন হতে পারে। এ পরিস্থিতি বিবেচনা করে বর্তমান বছরের নবায়ন কার্যক্রম অর্থনৈতিক ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নবায়ন কমিটি লন্ডনে উপস্থিত থেকে পুনঃবীমা কার্যক্রমের ব্রোকার বা পুনঃবীমাকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন করাটাই যৌক্তিক হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা অনেক সময়সাপেক্ষ হবে এবং বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যথাযথ প্রিমিয়াম নির্ধারণ করাটাও কঠিন হবে।
বোর্ড সভায় এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অনুমতির বিষয়টি নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এ বিষয়ে সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর দেশে টেন্ডারের মাধ্যমে এ কাজটি সম্পন্ন করা হয়। এ বছর চলমান করোনা পরিস্থিতিতে দেশে টেন্ডার করার পরিবেশ নেই। তাই লন্ডনে বিশ্বের শীর্ষ ১৫টি কোম্পানির মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করতে চাচ্ছি।
সূত্রমতে, ১৯৭৩ সাল থেকে সাধারণ বীমা করপোরেশন লন্ডনের লয়েডস মার্কেটভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পুনঃবীমা ব্রোকার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ বহরের মূল্যের ওপর পুনঃবীমা কাভারেজ নিয়ে আসছে। অর্থ মন্ত্রণালয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং সাধারণ বীমা করপোরেশনের প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত টিম লন্ডনের লয়েডস মার্কেটে গিয়ে এ পুনঃবীমার কাজ সম্পন্ন করে। সাধারণ বীমা করপোরেশন পর্ষদের অনুমোদিত টপ রেটেড ব্রোকারদের কাছে উড়োজাহাজের প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয় এবং তাদের উপস্থিতিতে এ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত অবহিত করা হয়। সুত্রঃ বণিক বার্তা
১ মামুন ছেলের স্কুলে দাড়িয়ে আছে ছেলের জন্য। আজকে তার ছেলে মাহবুবের পরিক্ষার ফলাফল জানাবে। ছেলেটার জন্যই এসেছে। অনেক ছেলেমেয়ের বাবা মা এসেছে।আর তাদের সন্তানদের নিয়ে প্রশংসা করছে। এক মহিলা অন্য মহিলাকে বলছে “দেখবেন আমার ছেলেই প্রথম হবে”মামুন এইসব কথা শুনছে আর দাড়িয়ে আছে।ছেলের জন্য তারও চিন্তা হচ্ছে।কারন শেষের কয়েকটি পরিক্ষার সময়ে ছেলে অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল। কেমন ফলাফল হবে জানে না। কিছুক্ষণ পরে মাহবুব আসলো। মনটা ভারি ভারি। মুখেও তেমন হাসি নেই। মনে হয় ফলাফল ভাল হয় নি। অনেকে ছেলের জন্য টিউশানির ব্যাবস্থা করেছে। কিন্তু মামুন সেটা পারে নি।কাছে আসার পরে মামুন জিজ্ঞেস করলো -কি হয়েছে বাবা? মন খারাপ কেন? -বাবা আমি ক্লাসের মধ্যে প্রথম হয়েছি। -কি!! আরে এতে মন খারাপ করে আছ কেন? -দেখলাম তুমি কেমন করো।তুমি খুশি হয়েছ? -হ্যা বাবা।অনেক খুশি হয়েছি। বলো তুমি আজকে কি চাও? আজকে দিবো। -সত্যি দিবে? তোমার কাছে অত টাকা হবে? -অবশ্যই হবে। -তাহলে আমার জন্য আইসক্রিম আনবে। -শুধু আইসক্রিম? -আইসক্রিম হলেই হবে। ছেলেকে স্কুলে রেখে মামুন অফিসে চলে গেল। আজ তার অনেক বেশি খুশি লাগছে। আজ মামুনের ছোট বেলার কথা মনে পরছে। ছোট বেলায় যখন মামুন তার বাবাকে গিয়ে বলেছিল -বাবা আমি ফার্স্ট হয়েছি। -সেটা কি বাবা? -আমি সবার চেয়ে ভাল নাম্বার পেয়েছি। -বাবারে। তোর এই কাজের জন্য আমার।অনেক খুশি লাগছে। আমি তোকে ডাক্তার বানাবো। মামুনের বাবা সেদিন ছেলেকে ডাক্তার বানানোর সপ্ন দেখেছিল। কিন্তু মাঠে কাজ করে সেই সপ্ন পুরন করতে পারে নি। মামুনের ইচ্ছা তার ছেলেকে ডাক্তার বানাবে। সে শত চেষ্টা।করে হলেও সপ্ন নামের সোনার হরিনকে ধরার চেষ্টা করবে।যেই হরিনকে মামুন ধরতে পারে নি।
২ মাহবুব বাড়িতে এসে দেখে কাদের আংকেল এসেছে।মাহবুব কাদের আংকেলকে বলল -আংকেল। আমি এবারো ফার্স্ট হয়েছি। -তাই! তাহলে তো তোমাকে একটা গিফট দিতে হবে? -কি গিফট দিবেন? -তোমার প্রিয় জিনিস আইসক্রিম। এই নাও ৫০ টাকা। ওই দুরের ওই দোকান থেকে আইসক্রিম কিনে খাবে। -আচ্ছা। -কিনে ওখান থেকেই খেয়ে আসবে। কারন বাড়িতে আনতে নষ্ট হয়ে যাবে।. খুশি মনে মাহবুব টাকা নিয়ে চলে গেল আইসক্রিম কিনতে। মাহবুব অন্যের কাছ থেকে টাকা অথবা কোন গিফট নেয় না। কিন্তু কাদের আংকেল কিছু দিলে তার মা নিতে বলেছে। কাদের আংকেল তাদের কাছের মানুষ। . দোকানে গিয়ে মাহবুব দেখলো সবগুলো দোকান বন্ধ। এই দুপুরবেলা দোকান বন্ধ থাকে।টাকাটা আংকেল কে ফেরত দেওয়া দরকার। তাই বাড়িতে চলে যাওয়াই ভাল। . ৩ মামুন সাহেব অনেক বলার পরে আজকের দিনে ছুটি নিতে পেরেছে। আজকে তার ছেলেকে নিয়ে ঘুরবে। দুপুরবেলা গাড়ি না পাওয়ায় হেটেই বাজারে চলে যাচ্ছে মামুন। যত তারাতারি সম্ভব বাসায় যেতে হবে। যখন ছেলেকে আইসক্রিম দিবে আর তার প্রিয় মাছ নিয়ে যাবে। তখন তার ছেলে অনেক খুশি হবে। যেই খুশিটা দেখার জন্য মামুনের মনটা মানছে না।বাজারে গিয়ে মাহবুবের প্রিয় মাছ আরো তার প্রিয় খাবারগুলো কিনলো।ব্যাগ হাতে রিক্সায় চড়ে বাড়ির দিকে রওনা হল।সে জানে ছেলে তার জন্য অপেক্ষা করছে। . ৪ মাহবুব বাড়িতে এসে আংকেল কে খুজে পেল না। মনে হয় চলে গেছে। টাকাটা জানালা দিয়ে ভেতরে রেখে দিয়ে তার মত খেলতে চলে যাবে। মাহবুব দরজা বন্ধ পেয়ে জানালা দিয়ে টাকা রাখার জন্য হাত বাড়ালো। জানালায় তাকাতে মাহবুব দেখলো তার মা শুয়ে আছে। কিন্তু এভাবে শুয়ে আছে কেন? আর কাদের আংকেল পাশে শুয়ে আছে কেন?আর তাদের এইরকম হয়ে থাকার কারন কি? জিজ্ঞেস করা দরকার। তাই মাহবুব আংকেলকে ডাক দিলো। . ৫ মামুন পথে আসার সময়ে অনেক কিছুই ভেবেছে। ছেলের কথা ভেবেছে।বাড়িতে এসে মাহবুব কে ডেকে না পাওয়ার পরে ঘরে ঢুকলো। ঘরে ঢুকে মাহবুব ছেলেকে দেখলো। কিন্তু ছেলের মুখের হাসি দেখলো না। ছেলেটা ঘুমিয়ে আছে।মামুনের ফার্স্ট হওয়া ছেলে আজ ঘুমিয়ে আছে।মামুনের সপ্নটা সপ্নই থেকে গেল।সপ্ন নামের সোনার হরিনের দেখা মামুন পেল না। শুধু কাঁদতে কাঁদতে বলল “কি অন্যায় করেছিলাম আমি? যে আজকে আমার সপ্ন দেখা ছেলেকে লাশ দেখতে হল” . মামুনের স্ত্রি রান্না।ঘর থেকে মাছ কাটার বটি নিয়ে এসেছে। কিছু একটা কাটার জন্য। আজকেও মামুনের স্ত্রি বটি দিয়ে কাটলো। তবে মাছ না কেটে আজকে ছেলের গলা কাটলো। মাছের চেয়ে বেশি রক্ত বেড়িয়ে মেঝেতে ছড়িয়ে গেল। অনেক বোঝানোর পরেও যখন ছেলে শুনলো না। বলল “আমি বাবাকে বলবো সব”। তাই কাদেরের বুদ্ধিতে ছেলের গলায় বটি চালাতে হল। পরে ছেলেকে হত্যা করার অপরাধ বুঝলো। কিন্তু পরকিয়া প্রেমের কারনে পরে বুঝেও কোন লাভ হলো না। কালেক্টেড
দারিদ্র ও ক্ষুধা মুক্ত সুখী সমৃদ্ধ আদর্শবান পাকশাইল গ্রাম গড়তে যেসব মহান ব্যক্তিবর্গ সুদূর প্রবাস থেকে সাহায্য সহযোগিতা ও নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে অন্যতম যুক্তরাজ্য প্রবাসী জনাব মিসবাউল হক রুপন ভাই, কুয়েত প্রবাসী জনাব আব্দুর রহমান এবাদ চাচা, যুক্তরাজ্য প্রবাসী জনাব নাজমুল হক সেলিম ভাই, ফ্রান্স প্রবাসী জনাব আব্দুল বাসিত ভাই, যুক্তরাজ্য প্রবাসী জনাব শামিম উদ্দিন ভাই, যুক্তরাজ্য প্রবাসী জনাব শিহাব উদ্দিন ভাই, পর্তুগাল প্রবাসী জনাব ইমদাদুল হক নানু ভাই, পর্তুগাল প্রবাসী জনাব বদরুল ইসলাম ভাই, গ্রীস প্রবাসী জনাব আবু তাহের ভাই ও ইতালি প্রবাসী জনাব আব্দুল হালিম রাজু ভাই।
সত্যিই আপনাদের অবদান কখনো ভুলা যাবেনা। আপনাদের’কে ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। গ্রামের জন্য দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য আপনাদের ভালোবাসা দেখে সত্যি আমরা মুগ্ধ। অবশ্যই পাকশাইলের ইতিহাসে আপনাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যুগ-যুগান্তরে গ্রামের সেবায় আপনাদের’কে আইডল হিসেবে স্বরণ করবে। পাকশাইলবাসী আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ ও চির ঋণী।আমরা আপনাদের’কে নিয়ে ধন্য ও গর্বিত।
এলাকার সকল প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য বিনম্র শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর দোয়া রইল। সেলুট আপনাদের’কে। এলাকার সেবায় সব সময় সহযোগিতা হাত প্রসারিত করার জন্য। আশা করি এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবেন।
দোয়া করি মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়া’লা আপনাদের প্রবাস জীবন সুখী সুন্দর ও সফল করেন, সকল প্রকার বিপদ আপদ ও মুসিবত থেকে হেফাজতে ও আমানতে রাখেন। এই মহান কাজের বিনিময়ে দুনিয়া ও আখেরাতে এর সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন আমিন।
পরিশেষে সকল প্রবাসীদের পক্ষ থেকে একটি বার্তা ও দোয়া রইলঃ ভালো থেকো বাংলাদেশ, ভালো থেকো গ্রাম, ভালো থেকো প্রিয় পরিবার।
ডেক্স রিপোর্টঃকরোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবের কারণে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঈদের জামাত ঈদগাহে না করে মসজিদের করার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামায়াত করার কথা বলা হয়েছে নির্দেশনায়। এছাড়া নামাজ শেষে কোলাকুলি না করতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ধর্মমন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামারা পবিত্র রমজানুল মোবারক মাসের গুরুত্ব বিবেচনা করে মসজিদে নামাজ আদায়ের শর্ত শিথিল করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর দাবি পেশ করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে ৭ মে কিছু নির্দেশনা পালনের শর্তে মসজিদে সুস্থ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে জামাতে নামাজের অনুমতি দেয়া হয়।
ইতিমধ্যে মন্ত্রপরিষদ বিভাগ থেকে উম্মুক্ত স্থানে বড় পরিসরে ঈদের জামাত পরিহারের নির্দেশনা প্রদান করে বর্তমানে বিদ্যমান বিধি-বিধান অনুযায়ী ঈদের জামাত আয়োজনসংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদান করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশাবলী মেনে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামায়াত আদায়ের জন্য অনুরোধ করা হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ইসলামি শরিয়তে ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত আদায়ের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সারা বিশ্বসহ আমাদের দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিজনিত ওজরের কারণে মুসল্লিদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনা করে এবছর ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের নামাজের জামায়াত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ করা হলো। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। তাছাড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিত করতে মসজিদে ওজুর স্থানে সাবান-হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।
মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। ঈদের নামাজের জামায়াতে আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।
ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাঁতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে। এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে। শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যেকোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মসজিদে জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামগণকে অনুরোধ করা যাচ্ছে এবং খতিব, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।
উল্লিখিত নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
মোঃইবাদুর রহমান জাকির বিশেষ প্রতিনিধিঃ বিশ্বব্যাপি মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে-গৃহবন্দি হতদরিদ্র পরিবারে আজ চরম বিপর্যয়! এহেন পরিস্থিতি মোকাবেলা সহ আসন্ন ঈদুল ফিতর-কে সামনে রেখে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী গ্রামের জিহাদুল ইসালামের পরিবারের অর্থায়নে ও বিশ্বনাথ ইয়ুথ অরগানাইজেশান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিশ্বনাথের ৭০ টি মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও ঈদসামগ্রী বিতরন করা হয়। বিতরনকৃত অর্থ ও ঈদসামগ্রী বিশ্বনাথ ইয়ুথ অরগানাইজেশান এর স্বেচ্ছাসেবকরা বিশ্বনাথের নিহত জিহাদের গ্রামের বাড়ি অলংকারীর প্রতিটা গরীব ও মেহনতি মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে পৌছে দেন। উক্ত ঈদ সামগ্রী বিতরনে উপস্থিত ছিলেন ইয়ুথ অরগানাইজেশেনর সদস্য বৃন্দ।
ফয়সাল মাহমুদঃ করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। এ অবস্থায় আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মহাসংকটে পড়েছেন নিম্ন মধ্য আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। দীর্ঘ এই লকডাউনে নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষও নেমে যাচ্ছেন হতদরিদ্রের কাতারে। ঘরে খাবার নেই অথচ কাউকে বলতেও পারছেন না। বাইরে গিয়ে হাত পাততে পারছেন না। নেই আয়ের কোনো উৎস। দেশের এই ক্রান্তিকালে সরকারের ত্রাণ তৎপরতার পাশাপাশি সারা দেশের দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি। থেমে নেই মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক কাঁঠালতলী আউটলেট শাখা।
বৃহস্পতিবার (১৪মে) প্রথমবারের মতো পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর কে সামনে রেখে নিম্ন মধ্য আয়ের ব্যাংক গ্রাহকদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী উপহার হিসেবে বিতরণ করা হয়।
উপহার হিসেবে ১০ কেজি চাল, ২ লিটার সয়াবিন তেল, ২ কেজি পেঁয়াজ, ২ কেজি ছোলা, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি লবন ও ২ প্যাকেট সেমাই দেওয়া হয়।
ব্যাংক ইনচার্জ জুবায়ের আহমদ শিমুল বলেন, আমাদের ব্যাংকের খুব অসহায় গ্রাহকদের মধ্যে এই উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। কাঁঠালতলী ইসলামী আউটলেট শাখা সবসময় অসহায় গ্রাহকদের পাশে ছিলো এবং আগামীতেও থাকবে। এই ত্রাণ সামগ্রী এখন স্বল্প পরিসরে প্রদান করা হয়েছে যা আরও বড় আকারে প্রদান অব্যাহত থাকবে।
উপহার সামগ্রী প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন, ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলিম উদ্দিন সহ ব্যাংক কর্মকর্তাবৃন্দ।
আর মাগফিরাতের দশম ও শেষ দিন। একে একে আমাদের থেকে রহমত ও মাগফিরাতের দশক অতিবাহিত হয়ে আমরা রমজানের শেষ দশক অর্থাৎ নাজাতের দশকের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছে গেছি। আর শেষ দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো এতেকাফ করা। রাসুল (সা.) প্রতি বছর রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন। হযরত আয়েশা রা. বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) রমজান মাসের শেষ দশকে মসজিদে এতেকাফ করতেন। তার মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এ আমল অব্যাহত রেখেছেন। তার ইন্তেকালের পর তার স্ত্রীরা এতেকাফ করেছেন’ (সহিহ বুখারি,১৯২২)
এতেকাফ শব্দটি আরবি ‘আকফ’ শব্দ থেকে নির্গত। এর অর্থ হচ্ছে অবস্থান করা, স্থির থাকা, কোনো স্থানে আটকে থাকা বা আবদ্ধ হয়ে পড়া। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় রমজান মাসের শেষ দশক বা অন্য কোনো দিন দুনিয়াবি সব কাজকর্ম ও পরিবার-পরিজন থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহকে রাজি-খুশি করার নিয়তে পুরুষের জন্য মসজিদে ও নারীদের ঘরে নামাজের নির্দিষ্ট স্থানে ইবাদত করার উদ্দেশ্যে অবস্থান করা ও স্থির থাকাকে এতেকাফ বলে। রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করা সুন্নতে মোয়াক্কাদায়ে কেফায়া। অর্থাৎ এলাকার কিছুসংখ্যক মানুষ আদায় করলেই সকলের পক্ষ থেকে সুন্নতে কেফায়া আদায় হয়ে যাবে। তবে কেউই আদায় না করলে সকলেই গুনাহগার হবে। এতেকাফ করার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর রহমত, ক্ষমা ও নৈকট্য লাভ করতে পারে। হযরত আতা খোরাসানী রহ. বলেন, এতেকাফকারীর দৃষ্টান্ত ওই ব্যক্তির মতো, যে আল্লাহর দরবারে পড়ে থাকে আর এ কথা বলতে থাকে, হে আল্লাহ! যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি আমাকে ক্ষমা না করবেন আমি এখান থেকে নড়ব না (বাদায়েউস সানায়ে-২ এতেকাফের একটি বৈশিষ্ট্য হলোÑ যতক্ষণ মানুষ এতেকাফ অবস্থায় থাকে তার চলাফেরা, কথাবার্তা, পানাহার, ঘুম, প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। আর এতেকাফ সুন্নত হওয়ার হেকমত হলো এটাই যে, এতেকাফ ছাড়া লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও মর্যাদা লাভের নিশ্চিত কোনো পদ্ধতি নেই।
এতেকাফের ফজিলত : এতেকাফের দ্বারা জাহান্নাম দূরে চলে যায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এক দিন এতেকাফ করবে আল্লাহ তায়ালা তার ও জাহান্নামের মাঝে তিন পরিখা পরিমাণ দূরত্ব সৃষ্টি করবেন; যার দূরত্ব দুই দিগন্তের দূরত্বের থেকে বেশি দূরত্ব হবে। (কানযুল উম্মাল, হাদিস নং-২৪০১৯)
এতেকাফকারী দুই হজ ও দুই ওমরার সাওয়াব পাবেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানে দশ দিন এতেকাফ করবে তার আমল দুই হজ ও দুই ওমরার সমতুল্য ( কানযুল উম্মাল, হাদিস নং-২৪০০৬)।
এতেকাফকারী লাইলাতুল কদরের মর্যাদা লাভ করতে পারবেন। কেননা রমজানের শেষ দশকের রাতগুলোর যেকোনো একটিতে লাইলাতুল কদর রয়েছে। আর লাইলাতুল কদরের ইবাদত হাজার মাস তথা তিরাশি বছর চার মাস ইবাদত করার চেয়েও উত্তম। সুতরাং যে ব্যক্তি শেষ দশকে এতেকাফ করবে তার প্রতিটি মুহূর্ত যেহেতু ইবাদত হিসেবে গণ্য হচ্ছে ফলে সে লাইলাতুল কদর পেয়ে যাচ্ছেন, এ রাতের সুমহান মর্যাদা লাভ করতে পারছেন। রাসুল (সা.) লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির আশা নিয়েই এতেকাফ করতেন। তিনি প্রথম দশকেও এতেকাফ করেছেন, মধ্য দশকেও করেছেন, এরপর শেষ দশকে করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম দশকে এতেকাফ করেছি, লাইলাতুল কদর তালাশ করেছি, এরপর মধ্য দশকে এতেকাফ করেছি, এরপর আমাকে তা দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, তা শেষ দশকে। অতএব তোমাদের মধ্যে যার এতেকাফ করা পছন্দ হয় সে যেন এতেকাফ করে। এরপর সাহাবায়ে কেরাম তার সঙ্গে এতেকাফ করলেন। তিনি আরো বলেন, আমি তা বিজোড় রাতে পেয়েছি (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৮২৮)।
অতএব আমরা যারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে চাই, আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চাই, লাইলাতুল কদরের সুমহান মর্যাদা লাভ করতে চাই, সর্বোপরি জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে চাই, তাদের জন্য উচিত হলো, রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করা তেকাফ করা সুন্নতে মোয়াক্কাদায়ে কেফায়া। লেখক মোঃইবাদুর রহমান জাকির এম এ(এল,এল,বি) অধ্যয়নরত সিলেট ল কলেজ।
এম.এম আতিকুর রহমানঃ বাংলাদেশ তথা বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের এক জীবন্ত কিংবদন্তি।বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, রাজনীতিবিদ, লেখক, গবেষক, সংগঠক, সমাজসেবক অধ্যাপক ড.আহমদ আবদুল কাদের ১৯৫৫ সালে হবিগঞ্জ জিলার অন্তর্গত মাধবপুর উপজেলার আলা-দাউদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বি এস এস (সম্মান) ও এম এস এস এবং ঢাকা সিটি ‘ল’ কলেজ থেকে এল এল বি ডিগ্রী লাভ করেন। অতপর তিনি বিশিষ্ট আলেমদের তত্ত্বাবধানে ইসলামী বিভিন্ন শাস্ত্র বিষয়ক উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। পেশাগতভাবে তিনি ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং চার কন্যা ও এক পুত্রের জনক।
এ মহা মনিষী ছাত্র জীবন থেকেই লেখালেখির সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও জার্নালে তিনি লিখে থাকেন। এ পর্যন্ত ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন-সংগঠন, অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, মুসলিম উম্মাহ, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সভ্যতা-সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয়ে ৩৫ টির অধিক বই লিখেছেন। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ১.সােনালী পথ ২. দারিদ্র সমস্যা সমাধানে ইসলাম ৩, সভ্যতা সংকট দিগদর্শন ৪. মুক্তি শান্তি প্রগতি ৫. সত্য সুন্দর বিপ্লব তারুণ্য ৬. পতনের বেলাভূমিতে বস্তুবাদী সভ্যতা ৭, খেলাফতঃ মূলনীতি ও বৈশিষ্ট্য ৮, মুসলিম ঐক্য ও সংহতি ৯, সেবা দারিদ্র বিমােচন ইসলাম ১০, মৌলবাদ ১১ মহানবী (সাঃ)-এর জীবনাদর্শ ও আজকের প্রেক্ষিত ১২. জিহাদ কি ও কেন ১৩. ইসলামী আন্দোলন ১৪. ইসলামী আন্দোলন ও জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই ১৫. ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অপরিহার্য কেন? ১৬. ইসলামী বিপ্লব ১৭. ইসলামী বিপ্লব ও পথ ও পদ্ধতি ১৮, ইসলামী বিপ্লবের লক্ষ্যে গণআন্দোলন ১৯. ইসলামী আন্দোলন ও উলামা সমাজ ২০. আদর্শ কর্মী ২১. আদর্শ সংগঠন ২২ ঈমানের পথ রক্তে রাঙা ইত্যাদি। এছাড়াও তার শতাধিক নিবন্ধ ও দশটির অধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি ছাত্র জীবন থেকেই ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ছাত্র জীবন থেকে এপর্যন্ত বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি কম্বাইন্ড ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি (১৯৮২), এ সময়ে ছাত্র শিবির ভেঙে দুটি হয়। পরবর্তীতে ইসলামী যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি (১৯৮৩-১৯৮৯), ১৯৮৪ সালে হযরত হাফেজ্জী হুজুরের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম উদ্যোক্তা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, ১৯৮৭ সালে বৃহত্তর ইসলামী আন্দোলনের প্রয়াসে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ১৯৮৯ সালের ৮ডিসেম্বর তদানীন্তন খেলাফত আন্দোলন ও যুব শিবির একিভূত হয়ে মুফাছছিরে কুরআন আল্লামা আব্দুল গফফার রহ.কে আমীর ও ভাষা সৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খানকে মহাসচিব এবং শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক (রহ.) কে অভিভাবক পরিষদের চেয়ারম্যান করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস গঠন করেন। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন (১৯৮৯-১৯৯৬)। চার দলীয় জোটের আন্দোলনের লিয়াজো কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। সে সময় তিনি ইসলামী ঐক্যজোটের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেন (২০০১)। তিনি ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর (১৯৯৬-২০০৪) ছিলেন। ২০০৫ থেকে খেলাফত মজলিসের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ও বতর্মানে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সিনিয়র দায়িত্বশীল, সমমনা ইসলামী দলসমূহের মুখ্পাত্র ও সমন্বয়কারী এবং ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি ইসলাম, মুসলিম উম্মাহ ও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। লেখালেখি, গবেষণা, আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি তিনি সমাজকল্যাণমূলক কাজের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে জড়িত। তিনি নুসরা নামক একটি জাতীয় ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। উক্ত সংস্থা পল্লী দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, কৃষি ইত্যাদি ক্ষেত্রে তৎপর।
তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও সেমিনারে অংশগ্রহণ এবং সে সব সেমিনার ও সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে নিবন্ধ পেশ করেন। আন্তর্জাতিক সেমিনার ও সম্মেলনে পেশকৃত নিবন্ধগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
The role of waqf in poverty alleviation, 2.The rural development in Bangladesh,
The poverty alleviation in Bangladesh, 4.Fundamentalism is the muslim world, 5.Labor Rights in Islam, 6.The Chirstian missionary activities in Bangladesh, 7.public administration is Nahjul balagha, 8.Secularism in the muslim world, 9.From nation state to ummah state etc……
তিনি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, ইরান, পাকিস্তান, ভারত, আরব আমিরাত ও নেপালসহ বেশ কয়েকটি দেশ সফর করেছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মেলন সেমিনারে অতিথি হিসেবে বক্তব্য ও প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ইসলামী অঙ্গনে দু’চারজন বিজ্ঞ ও বিরল সম্মানের অধিকারী মনীষীদের অন্যতম। যার প্রতিটি কথা হয় গ্রন্থীত, জীবনের প্রতিটি দিক একেকটি ইতিহাস, প্রতিটি বক্তৃতা প্রেরণার সংকলিত রচিত পুস্তক হয় চিরন্তন সাহিত্য, চিন্তার প্রতিটি ক্ষণ হয়ে ওঠে দিব্যদৃষ্টির বার্তা, উপলব্ধি ও মূল্যয়ণ হয় ইতিহাসের আক্ষরিক পথ নির্দেশক।
অধ্যাপক ডঃ আহমদ আবদুল কাদের মুসলিম উম্মাহ’র সম্পদ। ইসলামী আন্দোলনের জীবন্ত কিংবদন্তি, আমাদের অহংকার।
আমাদের এই প্রিয় রাহবারকে নেক হায়াত ও সুস্থতার সাথে ইসলামী সমাজ বিনির্মানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষমতা দিন কায়মনোবাক্যে এই শুভকামনা মাওলায়ে কারীম এ-র দরবারে।
লেখক ; এম.এম আতিকুর রহমান সাংবাদিক ও কলামিস্ট। ০১১৭১৫৭১৮৮৩৩
নিউজ ডেস্কঃ কক্সবাজারে পাওনা টাকা চেয়ে না পাওয়ায় করোনা ছড়িয়ে দিতে দেনাদারকে জড়িয়ে ধরেছেন করোনায় আক্রান্ত এক রোগী। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা সদরের লিংক রোড এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।গত তিনদিন আগে সদরের বাংলাবাজারে করোনা শনাক্ত হয়ে লকডাউনে থাকা জাহাঙ্গীর আলম নামে ওই ব্যক্তি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।
সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউপির চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান, করোনা আক্রান্ত যুবক জাহাঙ্গীর লিংক রোড এলাকার সালামতের নামে একজনের থেকে কিছু টাকা পেতেন। জাহাঙ্গীর লকডাউন ভেঙে পাওনা টাকা নিতে সালামতকে খুঁজতে যান। এ সময় দেনাদার সালামত টাকা দিতে কয়েকদিন সময় চান। সালামতের থেকে পাওনা টাকা আদায়ের কৌশল হিসেবে জাহাঙ্গীর উত্তেজিত হয়ে সালামতকে জড়িয়ে ধরে বলেন, করোনায় আমিও মরব-তুইও মর। বিষয়টি নিয়ে সালামতসহ স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি আরো জানান, খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। দেনাদার সালামতকে দ্রুত সাবান ও জীবাণুনাশক দিয়ে গোসল করার ব্যবস্থা করানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, লকডাউন অমান্য করে করোনা রোগী গত দুইদিন ধরে মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তায় বের হচ্ছেন। এ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে কক্সবাজার সদর ইউএনও মাহমুদ উল্লাহ মারুফ জানান, তিনি খবর পেয়েছেন। লিংক রোড স্টেশনে করোনা রোগী জাহাঙ্গীর লকডাউন অমান্য করে লোকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করেছেন। তাকে রামু আইসোলেশন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সুত্রঃসুরমানিউজ
মঙ্গলবার রাতে আকস্মিকভাবে সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌরশহরে দক্ষিণবাজারের একটি বিপনী বিতানের সামনে জটলা সৃষ্টি হয়েছে দেখা গেলো। কাছে গিয়ে দেখা যায় মাটিতে শুয়ে আছেন আধমরা এক ব্যক্তি। তাকে দেখে সেনাবাহিনীর বড়লেখাগামী একটি চলন্ত গাড়ি থামে। তখনই লোকজনের জটলা বেঁধে যায়। হুড়োহুড়ি শুরু হয় সর্বত্র। গণমাধ্যমকর্মী, ছাত্রনেতাসহ অনেকেই ভিড় করেন সেখানে। কিন্তু ভয়-আতঙ্কে কেই কাছে ভিড়ছেনা ওই পড়ে থাকা লোকটির।
একপর্যায়ে পুলিশকে ফোন দেন গণমাধ্যমকর্মী মাসুম আহমদ। পুলিশের একটি টহলদল সেখানে পৌছায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছার পর সাহস করে অনেকে এগিয়ে আসে। এরপর বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের এসআই হাবীব উল্লাহ ওই আধমরা লোককে ডেকে পানি পান করান। একটি এ্যম্বুলেন্স ডেকে বিয়ানীবাজার হাসপাতালে নিয়ে যান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাস্তায় পড়ে থাকা আধমরা ওই ব্যক্তি মানসিক রোগী। তার শরীরেও নানা ক্ষত বিক্ষত। হয়তো শারীরিক অসূস্থতাজনিত কারণে তিনি সেখানে পড়ে যান। তবে পুলিশের তাৎক্ষণিক মানবতায় সবাই বাহবা দেন। উপস্থিত লোজনরা বলাবলি শুরু করেন, পুলিশ এখন বদলে গেছে। তারা এখন অতি মানবিক।
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অবণী শংকর কর বলেন, খবর পেয়ে দ্রত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। পরে একজন মানুষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এসআই হাবীব উল্লাহ। তার দাবী, করোনাসহ সকল দূর্যোগে পুলিশ দেখিয়ে দিয়েছে জাতির দু:সময়ে কতটা মানবিক হওয়া যায় প্রমান করে পুলিশ জনগনের বন্ধু।
মোঃইবাদুর রহমান জাকির (বিশেষ প্রতিবেদক) মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সামাজিক সংগঠনও স্বেচ্ছাসেবী সংঘটন যুবশক্তি সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে মঙ্গলবার (১২ মে)পর্তুগাল প্রবাসী আবুল হাসানের অর্থায়নে বড়লেখা পৌর:শহরে অবস্থানরত দেঢ় শতাধিক সু্বিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল রোজাদার নারী পুরুষদের মাঝে ইফতার বিতরণী অনুষ্টিত হয়।
এতে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বড়লেখা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল হাফিজ ললন,যুবশক্তি সমাজকল্যাণ পরিষদের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান কাউন্সিলর জেহীন সিদ্দিকী,স্থায়ী কমিটির সদস্য জাহিদ হাসান জাবেদ,আবুল হাসনাত শরফ ও বাকের আহমদ।
এ ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন যুবশক্তি সমাজকল্যাণ পরিষদের কার্যকরি কমিটির সভাপতি তাহমীদ ইশাদ রিপন,সিনি:সহ:সভাপতি আমিনুল বাবলু,সহ:সভাপতি জামিল আহমদ,সাদিকুর রহমান সাহেদ,সাধারণ সম্পাদক আইনুল ইসলাম,যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমদ,অর্থ সম্পাদক নূরে আলম মোহন ও সহ:প্রচার সম্পাদক আরিফ আহমদ।
উপস্থিত অতিথিবৃন্দ আর্তমানবতার সেবায় যুবশক্তি সমাজকল্যাণ পরিষদের আগামীর মানবিক কার্যক্রমকে আরো বেশী করে সমাজের সু্বিধাবঞ্চিত ছিন্নমূলদের কাছে পৌছে দিতে যুবশক্তি সমাজকল্যাণ পরিষদের সদস্যবৃন্দের প্রতি আহবান জানান এবং পর্তুগাল প্রবাসী আবুল হাসানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি আবুল হাসানের মত ভিত্তবান যেন সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহবান জানান”
মোঃইবাদুর রহমান জাকির (বিশেষপ্রতিনিধি) বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার পক্ষে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সহ সভাপতি, বিগত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী আলহাজ্জ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর সৌজন্যে জুড়ী -বড়লেখার-করোনায় অভাব গ্রস্থদের মধ্যে খাদ্য সহায়তা কর্মসুচির অংশ হিসেবে দশ হাজার পরিবারকে পর্যায়ক্রমে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হবে।এরই অংশ হিসাবে আজ মঙ্গলবার বড়লেখার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুশ শহীদ খান।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ পরিবারে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়। এসময় উপস্হিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম,জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আলহাজ্জ্ব আব্দুল মুকিত লুলু, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক ডা. আইনুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়জুর রহমান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল আহমদ,ইউনিয়ন বিএনপি নেতা হাফিজ খলিলুর রহমান শাহীন, জেলা যুবদলের সহ সাধারন সম্পাদক ইকবাল হুসেন,উপজেলা যুবদল নেতা আমিনুল ইসলাম মেম্বার,উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি এবি সিদ্দিকী দুলাল,সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সাইফুর রহমান, সিনিয়র ছাত্রদল নেতা নাদের আহমদ প্রমুখ।
বিশ্বব্যাপী নতুন করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। ইতোমধ্যে ২ লাখ ৮৭ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে ৪৪ লাখেরও বেশি। এ ছাড়া, সুস্থও হয়েছেন ১৯ লাখ ২৭ হাজারেরও বেশি মানুষ।
মঙ্গলবার ওয়ার্ল্ডোমিটার এর ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য ও বিভিন্ন দেশের সরকারি হিসাব অনুযায়ী জানা যায়। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৬ জন এবং মারা গেছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩৬ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ২৭ হাজার ৫৬৮ জন।
করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ লাখ ৪৭ হাজার ৮৮১ জন এবং মারা গেছেন ৮০ হাজার ৬৮২ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৩২ হাজার ৭৩৩ জন।
যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রয়েছে ইউরোপের দেশ স্পেনে। সেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৪৩৬ জন এবং মারা গেছেন ২৬ হাজার ৭৪৪ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৯ জন।
যুক্তরাষ্ট্রের পর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন যুক্তরাজ্যে। দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার ১৪১ জন মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ২৪ হাজার ৩৩২ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ১৫ জন।
এ ছাড়া, ইতালিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ১৯ হাজার ৮১৪ জন, মারা গেছেন ৩০ হাজার ৭৩৯ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৫৮৭ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৭ জন, মারা গেছেন ২৬ হাজার ৬৪৬ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৫৬ হাজার ৮৩৫ জন। জার্মানিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৭৬ জন, মারা গেছেন ৭ হাজার ৬৬১ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬১৭ জন।মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ২৮৬ জন, মারা গেছেন ৬ হাজার ৬৮৫ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৮৭ হাজার ৪২২ জন। তুরস্কে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৭১ জন, মারা গেছেন ৩ হাজার ৮৪১ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৯৫ হাজার ৭৮০ জন। ভাইরাসটির সংক্রমণস্থল চীনে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৪ হাজার ১১ জন, মারা গেছেন ৪ হাজার ৬৩৭ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৭৯ হাজার ১৯৮ জন।
নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে রাশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে। রাশিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ২১ হাজার ৩৪৪ জন, মারা গেছেন ২ হাজার ৯ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৩৯ হাজার ৮০১ জন। ব্রাজিলে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৯৪ জন, মারা গেছেন ১১ হাজার ৬৫৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৬৭ হাজার ৩৮৪ জন।
উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১৫ হাজার ৬৯১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। মারা গেছেন ২৩৯ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৯০২ জন।
মোঃইবাদুর রহমান জাকির বিশেষ প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে রবিবার(১০মে)সকাল ১১ঘটিকায় ৫নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের পাহাড়ি দূর্গম এলাকা বোবারতলে করোনা প্রাদুর্ভাবে গৃহবদ্ধ কর্মহীন অসহায় শতাধিক পরিবারের মধ্য মাহে রমজানের উপহার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এমাদুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফয়সল আহমদ,উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওঃ মুজাহিদুল ইসলাম, ইউনিয়ন সেক্রেটারি হাফিজ মাওঃ আব্দুস সবুর,ছাত্রনেতা আশরাফুল ইসলাম,আব্দুল লতিফ সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নাহিদ আহমেদঃ করোনা ভাইরাসে অভাবগ্রস্থ ১০ হাজার পরিবারে খাদ্য সহায়তার অংশ হিসেবে আজ বড়লেখার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নে বিগত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী মৌলভী বাজার জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আলহাজ্জ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর সৌজন্যে ও বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে ৭০০ পরিবারে খাদ্য সহায়তা বিতরন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার এ কর্মসুচির উদ্বোধন করেন বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মুজিবুর রহমান খছরু। এসময় উপস্হিত ছিলেন বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খান,সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি মঈন উদ্দিন,ইউনিয়ন সভাপতি জামাল উদ্দিন জমির,সাবেক সভাপতি আলহাজ্জ্ব মুছব্বির আলী, সাধারন সম্পাদক মখলিছুর রহমান,ইউনিয়ন বিএনপির উপদেষ্টা আলহাজ্জ্ব লুৎফুর রহমান লুতই, আলহাজ্জ্ব আজিজুর রহমান ময়না,সহ সভাপতি তফজ্জুল ইসলাম,আনোয়ার হুসেন মেম্বার,আব্দুস শহীদ সানুর মেম্বার।ইউনিয়ন বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম,ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাক তাপাদার কানন, ক্রিড়া সম্পাদক আব্দুল হাছিব,যুবদল নেতা বাহার উদ্দিন, জামিল আহমদ,আব্দুস শুক্কুর,উপজেলা ছাত্রদল নেতা নাদের আহমদ,উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক কাওছার আহমদ,উপজেলা ছাত্রদল নেতা জুনেদ আহমদ, কে আই সবুজ, শাহীন আহমদ,আতিকুর রহমান,তারেক মুন্না, মাজহারুল ইসলাম,মুর্শেদ আহমদ,বিলাল আহমদ, শাকিল আহমদ প্রমুখ। উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খান ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি নেতাদের নিয়ে ইউনিয়নের ৯ ওয়ার্ডে নির্ধারিত পরিবারের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন।
এখন থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য সংবলিত কোনও পোস্ট দেওয়া ও লাইক-শেয়ার করতে পারবেন না। ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৭ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, কেউ নির্দেশনা না মানলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও এর সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ‘সরকারি প্রতিষ্ঠান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ প্রণয়ন করেছে। এ নির্দেশিকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং কর্মচারীদের করণীয়-বর্জনীয় নির্ধারণ করা এবং এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
জারি করা নির্দেশনার আলোকে সরকারের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর আওতাধীন অধিদফতর/পরিদফতর/সংস্থার কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কতগুলো বিষয় অনুসরণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়, অন্য কোনও রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য সংবলিত কোনও পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনও পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
পরিপত্রে বলা হয়, জাতীয় ঐক্য ও চেতনার পরিপন্থী কোনও তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনও সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন বা ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির পরিপন্থী কোনও তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে এমন কোনও পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনও সার্ভিস/পেশাকে হেয় প্রতিপন্ন করে কোনও পোস্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। লিঙ্গবৈষম্য বা এ সংক্রান্ত বিতর্কমূলক কোনও তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।
জনমনে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনও বিষয়ে লেখা, অডিও বা ভিডিও ইত্যাদি প্রকাশ বা শেয়ার করা যাবে না। এতে ভিত্তিহীন, অসত্য ও অশ্লীল তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকারও কথা বলা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোনও ‘কন্টেন্ট’ বা ‘ফ্রেন্ড’ সিলেকশনে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন এবং অপ্রয়োজনীয় ট্যাগ, রেফারেন্স বা শেয়ার করা পরিহার করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার বা নিজ অ্যাকাউন্টে ক্ষতিকারক কন্টেন্টের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন এবং সেজন্য প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
নিউজ ডেস্কঃ নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) কারণে প্রকৌশলী-শ্রমিক, কাঁচামাল ও নির্মাণসামগ্রী সংকটের মধ্যেও চলমান রয়েছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ। সম্প্রতি মজুরি নিয়ে এ প্রকল্পে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত বুধবার রাতে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে ‘বিক্ষুব্ধ’ শ্রমিকদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অন্তত সাতজন শ্রমিক।
মুন্সীগঞ্জের মাওয়ার সীতারামপুরে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে কাজের গতি স্বাভাবিক রাখার কথা বলে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের বাংলাদেশী শ্রমিকদের ‘ওভারটাইম’ করিয়ে নিচ্ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চীনের সিআরইসি। ওভারটাইম করার জন্য কর্মীদের বাড়তি ৩০০ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, ওভারটাইমের টাকা দেয়া নিয়ে ঠিকাদারের লোকজন টালবাহানা শুরু করে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শ্রমিকরা। তারা বিক্ষোভ করার চেষ্টা করেন। এ সময় বিক্ষোভ থামাতে শ্রমিকদের ওপর গুলি চালায় নিরাপত্তাকর্মীরা। এতে অন্তত সাতজন শ্রমিককে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার মধ্যরাতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস নোটে জানানো হয়, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে শ্রমিক-নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রিভেন্ট সিকিউরিটি কোম্পানি লিমিটেড (পিএসই) নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে আসছিল। মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে কিছুটা গন্ডগোল দেখা দিলে পিএসইর কর্মী ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন বলে ওই প্রেসনোটে জানানো হয়।
শ্রমিকদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় গতকাল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছেন পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক গোলাম ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। তিনি জানান, আমরা যতদূর জানতে পেরেছি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মরত কিছু শ্রমিকের মধ্যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি থেকে এ ঘটনা। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে তারা কাজ শুরু করে দিয়েছেন। শুক্রবারের মধ্যেই তারা প্রতিবেদন জমা দেবেন।
সম্প্রতি শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পেও। দেশে করোনাভাইরাস ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখা কিংবা প্রকল্পটি লকডাউনের দাবি তোলেন শ্রমিকরা। এ দাবিতে গত ৯ ও ১০ এপ্রিল আংশিকভাবে কাজও বন্ধ রাখেন কর্মরত বাংলাদেশী শ্রমিকরা। তাদের দাবি ছিল, লকডাউনের সময় শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন দিতে হবে এবং কোনো কর্মীকে ছাঁটাই করা যাবে না। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ মোতায়েন করে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের দাবি আমলে না নিয়ে এখনো চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে নির্মাণকাজ।
ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুতে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বাগেরহাটের রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পেও। প্রকল্পটিতে চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন প্রায় ১ হাজার ৮০০ ভারতীয় শ্রমিক। তাদের অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা প্রকল্প এলাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। স্বজনদের সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগ করতে পারছেন না। এমনকি ঠিকমতো খাবারও পাচ্ছেন না। এসব অভিযোগে গত ৪ মে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেন ভারতীয় শ্রমিকরা। এর মধ্যে কয়েকশ শ্রমিক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা যেকোনো মূল্যে ভারতে ফিরতে চান বলে জানান।
ঘটনাটি সম্পর্কে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক রেজাউল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় শ্রমিকদের মধ্যে একধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। তাই বাড়িতে যাওয়ার দাবিতে কিছু শ্রমিক বাইরে বের হয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন। আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।
ভারতীয় শ্রমিকরা যখন নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন, তখন বাংলাদেশী শ্রমিকদের মধ্যে ‘কাজের টাকা না পাওয়া’র অভিযোগে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। টাকা পাওয়ার জন্য প্রকল্পের দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের ঘুষ চাওয়ারও অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা। ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় চুক্তিতে কাজ করা একাধিক বাংলাদেশী শ্রমিককে প্রকল্প এলাকা থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগও উঠেছে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে। সুত্রঃ বণিক বার্তা
নিউজ ডেস্কঃ বাংলাদেশ আর একজন রোহিঙ্গাকেও নেবে না-ঢাকার এমন শক্ত অবস্থানের মধ্যেই সাগরে ভাসা অবস্থান থেকে উদ্ধার হওয়া শ’পাঁচেক রোহিঙ্গার মধ্যে উদ্ধার হওয়া ২৮০ রোহিঙ্গার ঠাঁই হলো নোয়াখালীর ভাসানচরে। এ নিয়ে দিন-পাঁচেকের মাথায় মোট ৩০৯ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে আশ্রয় পেল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জৈষ্ঠ্য কর্মকর্তা ঢাকা টাইমসকে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘খুব অপ্রস্তুত অবস্থায় বাংলাদেশকে এদের ঠাঁই দিতে হলো। অনেকটা বলতে পারেন, জোর করেই এদের এখানে পাঠানো হয়েছে। আর ২৯ রোহিঙ্গার সঙ্গে ভাসানচরে পাঠানো হয়েছে।’
এর আগে গত ২ মে দালালচক্রের সহায়তায় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করার সময় রোহিঙ্গাদের এই দলটিকে স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করে কোস্টগার্ড। মিয়ানমার থেকে সেই ২৯ রোহিঙ্গারা করোনা ছড়াতে পারে সন্দেহে ভাসানচরে পাঠানো হয়। এর মধ্যদিয়ে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হয়।
করোনাভাইরাসকে পুঁজি করে মানবপাচারকারীরা শ’পাঁচেক রোহিঙ্গাকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর চেষ্টায় সপ্তাহ-তিনেক আগে ট্রলারে করে সাগর পাড়ি দেয়। কিন্তু মালয়েশিয়ায় প্রবেশে ব্যর্থ হয়ে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা সাগরে ভাসতে থাকে। পরে অবশ্য তাদের আন্দামান ও বঙ্গোপসাগরে তীরগুলো থেকে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। এরই মধ্যে বিভিন্ন জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দেশগুলো রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে বাংলাদেশকে নানান স্তরে চাপ দিতে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ সাফ জানিয়ে দেয়, ঢাকার পক্ষে আর একজন রোহিঙ্গাকেও জায়গা দেয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশের এমন বক্তব্যের মধ্যে নড়েচড়ে বসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ (ইইউ) আরও তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। তারা প্রথমবারের মতো সাগরে ভাসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য আন্দামান ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি অনুরোধ জানান।
রাখাইনে বসবাসকারী রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাঙালি আখ্যা দিয়ে জাতিগত নির্মূলের অভিযোগ আছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের হত্যা-ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াও থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। তাদের ফিরিয়ে নিতে চুক্তি করেও নানা টালবাহানা করছে মিয়ানমার। এর মধ্যে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা এসেছে ২০১৭ সালের আগস্টে নতুন করে সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের দমন-পীড়ন শুরুর পর। এর আগে থেকে বিভিন্ন সময়ে আশ্রয় নিয়ে আছে আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা।
এই স্লোগানকে সামনে রেখে আজ ০৭/০৫/২০ ইং রোজ বৃহস্পতিবার বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী পাকশাইল গ্রামের সামাজিক সেবামূলক সংস্থা পাকশাইল গ্রেট ভিশন এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে, নতুন মাটি ভরাট করা এলাকার একমাত্র বৃহত্তম কবর স্থানে আকাশি, বেলজিয়াম ও বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২০০ টি গাছের চারা রোপণ করার লক্ষ্যে আনয়ন করা হয়েছে। আজ প্রায় ১১০ টি চারা লাগানোর মাধ্যমে এই মহৎ কাজের শুভ উদ্ভোধন হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন পাকশাইল গ্রামের সম্মানিত মেম্বার জনাব আব্দুল মতিন কদর, গ্রেট ভিশনের সম্মানিত উপদেষ্টা জনাব আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ সুমন, জনাব ফয়ছল আহমদ, পাকশাইল মোকাম কমিটির সেক্রেটারি জনাব আব্দুল কুদ্দুস।গ্রেট ভিশনের সেক্রেটারি শাহিদুর রহমান জুনেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র সহ-সেক্রেটারি সাহিদুল হক, সহ সেক্রেটারি ইমন আহমদ, অর্থ সম্পাদক নাহিদ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক কবির আহমদ, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক কামরুল আহমদ ও মাহবুবুল আলম, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক সাইফুল হোসেন পাবেল, শ্রমিক কল্যাণ সম্পাদক ফয়ছল আহমদ টিপু, রাহেদ আহমদ, এমাদ, জুনেদ, মারুফ, কিবরিয়া প্রমুখ।
উল্লেখ্য গত ১৫ দিন থেকে গ্রেট ভিশনের পরিচালনায় মানবতার ঘর নামে একটি দোকান থেকে এলাকার অসহায়, হত দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য, সবজি ও মাছ দিয়ে আসছে।
আক্রান্ত হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময়ের পর অবশেষে করোনা ভাইরাস থেকে সম্পূর্ণ সু্স্থ হয়ে ওঠেছেন পাওলো দিবালা।
আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের সাম্প্রতিক দুই টেস্টের ফলাফল কোভিড-১৯ নেগেটিভ এসেছে। বুধবার (০৬ এপ্রিল) এমনটাই জানিয়েছে তার ক্লাব জুভেন্টাস।
ইতালিয়ান সিরি’আ চ্যাম্পিয়ন তুরিনের বুড়িরা জানায়, ২৬ বছর বয়সী তারকা করোনা থেকে সম্পূর্ণ হয়ে ওঠেছেন এবং তার আর দীর্ঘদিন হোম আইসোলেসনে থাকতে হবে না।
একইদিনে নিজের সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন দিবালা। জুভ ফরোয়ার্ড তার অফিসিয়াল ইন্সটাগ্রামে নিজের হাস্যোজ্জ্বল এক ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমার মুখই সবকিছু বলে দিচ্ছে। অবশেষে কোভিড-১৯ থেকে আরোগ্য লাভ করলাম।’
শুরুতেই ডিফেন্ডার ড্যানিয়েল রুদিগার ও মিডফিল্ডার ব্লেইস মাতুইদির করোনা পজিটিভ পাওয়া যায় জুভেন্টাস শিবিরে। এরপর ২১ মার্চ দিবালা এবং তার বান্ধবীও এই মরণঘাতি রোগে আক্রান্ত হোন। সুত্রঃবাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
নিউজ ডেস্কঃ ‘ডাক্তার, নার্সরা দাঁড়িয়ে আছেন ফটকে। সবার মুখে হাসি। দিচ্ছেন হাততালি। নতুন জীবনে স্বাগত জানালেন তাদের। হাতে তুলে দিলেন গোলাপ ফুল। এমন দৃশ্য দেখে চোখে জল চলে আসে সুস্থ হওয়া রোগিদের। কেঁদে ফেলেন তারা।’ গতকাল বুধবার সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের এমন দৃশ্যের অবতারনা ঘটে। দু:খের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে খুশির ঝিলিক।
দীর্ঘ ১৫ দিনের চিকিৎসা গ্রহন শেষে সুস্থ হওয়ার পর বাইরে বের হয়ে শুকরিয়া আদায় করেন রোগিরা। তারা বলেন- হাসপাতালের পরিবেশ তেমন ভালো না হলেও ডাক্তারদের আচরন ও সহযোগিতায় তারা খুব খুশি। যেন নিজের বাড়িতেই ছিলাম। সবার আচরন পজেটিভ হওয়ার কারনে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়েছেন বলে জানান রোগিরা।
সিলেটের জৈন্তাপুরের সরুপদ গ্রামের জামাল উদ্দিন। পেশায় ট্রাকের হেল্পার। বস’র সঙ্গে নারায়নগঞ্জ গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। এরপর নিজ বাড়ি থেকে চিকিৎসকরা তাকে ধরে নিয়ে আসেন। ভর্তি করেন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। সেখানে ভর্তি হওয়ার পর প্রথমে তিনি কিছুটা ভড়কে যান। পরে ডাক্তার ও নার্সদের ভালো আচরন তাকে আশাবাদী করে তোলে। জামাল জানান, ‘হাসপাতালে আসার পর প্রথমে ভেঙ্গে পড়েছিলাম। এরপর ধীরে ধীরে সবার সহযোগিতায় সুস্থ হয়ে উঠেছি।’ তিনি বলেন- ডাক্তার ও নার্সরা অসম্ভব যতœ করেছেন। তাদের আন্তরিকতা কখনোই ভুলবো না।’ একই ভাবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন গোয়াইনঘাটের বীরকুড়ি গ্রামের খয়রুল আমীন। তিনি ঢাকার মিরপুরের হোটেল শ্রমিক ছিলেন। লকডাউনের আগেই বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর তিনি আক্রান্ত হন করোনা ভাইরাসে। খয়রুল গতকাল হাসিমুখে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তিনি জানান, ডাক্তারদের সেবা ভালো। তাদের মানসিক শক্তিই আমাদের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। জামাল ও খয়রুলের মতো ৫ জন সুস্থ হওয়া করোনা আক্রান্ত রোগিকে গতকাল বিদায় দেওয়া হয়েছে হাসপাতাল থেকে। তারা সবাই পুরুষ। বয়স ২০ থেকে ৪৫ মধ্যে। বাড়ি ফেরার সময় জানালেন- দ্বিতীয় জীবন পেলাম। আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন।’ শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মহাপাত্র জানিয়েছেন- ‘বুধবার দুপুরে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা পাঁচজন রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। যাদের ডিসচার্জ করে দেওয়া হয়েছে এদের করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের পর থেকে তাদের কোনো শারীরিক সমস্যা ছিল না। তারা সুস্থই ছিলেন। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে সকল প্রটোকল আছে, সে অনুযায়ী আমরা তাদের রিলিজ করে দিয়েছি।’ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ১৯ জন করোনা পজিটিভ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এদের মধ্যে ৫ জন পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠে বাড়ি ফিরে গেলেন। তাদের পরপর দুটি টেস্ট নেগেটিভ এসেছে। তারা সবাই পুরুষ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. ইউনুছুর রহমান, উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল ও হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সুশান্ত কুমার মহাপাত্র। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ব্রিগেডিয়ার ইউনূসুর রহমান জানিয়েছেন- ফ্রন্টের লাইনের যুদ্ধা ডাক্তার নার্সদের আন্তরিক সেবার কারনে আজ ৫ রোগি বাড়ি ফিরলেন। এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে। তিনি এ জন্য ডাক্তার সহ চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন- রোগির সেবা করতে আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই। সীমিত সুযোগেও সেবা চলমান কষ্টকর। এরপরও সবাই আন্তরিক ভাবেই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এর প্রমান আজ ৫ জন রোগি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন। এদিকে সিলেট বিভাগে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৫৭ জন। যাদের মধ্যে চিকিৎসক, নার্স থেকে শুরু করে প্রশাসনের বহু কর্মকর্তাও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকও রয়েছেন। বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে হবিগঞ্জ জেলায়। এ জেলায় এখন পর্যন্ত ৮০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ৩ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন। এছাড়া বিভাগের অন্য তিন জেলা সিলেট ৩৯ জন, সুনামগঞ্জে ৩৫ জন ও মৌলভীবাজারে ২৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসে সিলেট বিভাগে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ৪৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। যার মধ্যে ১১ জন চিকিৎসক, সেবিকা (নার্স) ১১ জন ও হাসপাতালের স্টাফ রয়েছেন ২২ জন। এর আগে কেবল সুনামগঞ্জের এক নারী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সুত্রঃ মানবজমিন
নিউজ ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিদ্যুৎ বিভাগের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে অনেক প্রকল্পের কাজ আটকে গেছে। চলতি অর্থবছরে এসব প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা থাকায় আগামী অর্থবছরের সঙ্গে যুক্ত করার চিন্তা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাওয়ারসেলের মহাপরিচালক মোহম্মদ হোসেইন বলেন, ‘এডিপির কাজ অর্থবছরের শুরুর দিকে কম থাকে, যত দিন যায় গতি বাড়ে। শেষের দিকে এসে কাজ অনেক দ্রুত আগায়। এবার মার্চ মাসে সব বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে অনেক প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ করা যায়নি। সেগুলো আগামীতে কীভাবে করা হবে, আমরা তা নতুন করে ভাবছি।’ তিনি জানান, এ পর্যন্ত মোট প্রকল্পের অগ্রগতি ৬০ ভাগ। জুনের মধ্যে আরও ২০ ভাগ বাড়তে পারে। ফলে সব মিলিয়ে ৮০ ভাগ কাজ শেষ হবে বলে আশা করেন তিনি। মোহম্মদ হোসেইন বলেন, ‘বাকি কাজ যদি শেষ করা না যায়, তাহলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আগামী অর্থবছরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ আটকে থাকবে না।’
প্রসঙ্গত, দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এ কারণে বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে অনেক প্রকল্পের কাজ থমকে আছে।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) এবার বিদ্যুৎ বিভাগের মোট প্রকল্প রয়েছে ৯৮টি। এরমধ্যে সঞ্চালন এবং বিতরণ কোম্পানির অধীনে থাকা ২১টি প্রকল্পের মধ্যে ১১টিতে কোনও কাজ হয়নি।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সম্প্রতি প্রকল্প পর্যালোচনা বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো বাছাই করে দ্রুত কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি ওই বৈঠকে বলেছেন, ‘কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি সেগুলো বাছাই করে প্রতিবেদন দিতে হবে। মন্ত্রণালয় সেগুলো বাস্তবায়নের দিকে নজর দেবে।’
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র বলছে, কাজ শুরু না হওয়া প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু করতে আরও বিলম্ব হবে। চলতি অর্থবছরের বাকি আর মাত্র দুই মাস। সঙ্গত কারণে এই প্রকল্পগুলোর কাজ চলতি অর্থবছরে শুরু হবে বলে মনে হচ্ছে না। কোনও প্রকল্পের কাজ শুরুর জন্য সংশ্লিষ্টদের পূর্ব প্রস্তুতি নিতে হয়। এরপর বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে অর্থ বিভাগ থেকে টাকা ছাড় করাতে হয়। সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে যাচাই-বাছাই করে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু কাজ না হলে এই অর্থ ফেরত যায়। পরবর্তী অর্থবছরে আবারও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। প্রতিমন্ত্রীর সেদিনের বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কাজ শুরু করতে না পারা ১১টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে. ইনস্টিটিউশনাল স্ট্রেনদেনিং অব পিজিসিবি, ভারতের সূর্যমণি নগর থেকে কুমিল্লা উত্তরে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কুমিল্লা উত্তরে ৫০০ মেগাওয়াট এইচভিডিসি ব্যাক টু ব্যাক স্টেশন নির্মাণ, আশুগঞ্জ ১৩২ কেভি পুরাতন এআইএস উপকেন্দ্রকে ১৩২ কেভি নতুন জেআইএস উপকেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা, বড়পুকুরিয়া- বগুড়া-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি লাইন প্রকল্প, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ, ভারতের ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানি করার লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রহনপুর থেকে মনাকষা সীমান্ত পর্যন্ত ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, ঢাকা ও পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্রিড সঞ্চালন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় সমন্বিত সক্ষমতা উন্নয়ন প্রকল্প, মোল্লারহাট ১০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও ভূমি উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির রিসোর্স অ্যাসেসমেন্ট ও পাইলটিং বিষয়ক কারিগরি সহায়তা প্রকল্প, নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড এলাকার পাঁচ লাখ স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন প্রকল্প, প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শক দফতরের ডিজিটালাইজেশন প্রকল্প।
জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ভারতের সূর্যমণি নগর থেকে কুমিল্লা উত্তরে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কুমিল্লা উত্তরে ৫০০ মেগাওয়াট এইচভিডিসি ব্যাক টু ব্যাক স্টেশন নির্মাণ— এই প্রকল্পটি আর হচ্ছে না। এইচভিডিসি সাবস্টেশনের মূল্য অনেক বেশি, এ কারণে বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছে। এর বাইরে অন্য সব প্রকল্পই বাস্তবায়ন করতে হবে।’ সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
নিউজ ডেস্কঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় এক করোনা রোগীকে বাসা থেকে মারধর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাড়ির মালিকসহ এলাকার কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বুধবার (৬ মে) রাত সাড়ে এগারটার দিকে উপজেলার রূপসী বাগবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী তরুণ রূপসী বাগবাড়ি এলাকার নূর হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তিনি সিটি গ্রুপে চাকরি করেন। ভুক্তভোগীর মামা সিরাজুল ইসলাম জানান, জ্বর, সর্দি দেখা দিলে তার ভাগ্নে গত ৩ মে উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগে নমুনা দিয়ে আসে। বুধবার রিপোর্টে তার করোনা পজিটিভ আসে। চিকিৎসকের পরামর্শে সে বাসাতেই ছিল। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বাড়ির মালিকসহ এলাকার কিছু লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে এসে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বিষয়টি সে চিকিৎসককে জানায়। পরে ওই ডাক্তার বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে ওই বাড়িতে রেখে আসে। বাড়িওয়ালাকে সতর্ক করে দেয়। রূপগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগম জানান, মারধরের বিষয় ঘটেনি তবে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আমি বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাস্থলে ডাক্তার এবং পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমি নিজেও ওই ছেলের সঙ্গে কথা বলেছি। এটা কেউ করতে পারে না। যারা এই কাজটি করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সে আমাদের পরামর্শে বাসায় ছিল। এত রাতে একজন মানুষকে এভাবে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়াটা অমানবিক। ওই ছেলে ওই বাড়িতেই থাকবে। তাকে যদি সেখান থেকে হাসপাতাল বা অন্য কোথাও নিতে হয় সেটি আমরা নেবো। তাছাড়া এভাবে একজন করোনা রোগীকে বের করে দেওয়া মানে অন্যকে সংক্রমিত করা। রূপগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, রোগীকে ওই বাসাতেই রেখে এসেছি। সকালে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই রোগীর সঙ্গে আর কোনও ঝামেলা করা হলে বাড়িওয়ালাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে চলমান অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও থেমে নেই নারী ও শিশু নির্যাতন। এমনকি মহামারীর এই সময়ে ত্রাণ নিতে যাওয়া শিশুদের ধর্ষণ করার মতো গুরুতর ঘটনার তথ্যও উঠেছে এসেছে একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপে।
মোবাইল ফোনে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ এর করা একটি জরিপে এসেছে, গেল এপ্রিল মাসে দেশের ২৭ জেলায় চার হাজার ২৪৯ জন নারী ও ৪৫৬ জন শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছে।
বুধবার এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে জরিপের তথ্য উপস্থাপন করে জানানো হয়, এদের মধ্যে এক হাজার ৬৭২ জন নারী এবং ৪২৪ জন শিশু প্রথমবারের মতো নির্যাতনের শিকার হয়েছে। শিশুদের মধ্যে ৯২ ভাগই তাদের বাবা-মা ও আত্মীয়দের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে।
সংস্থার দুইটি প্রকল্পের কর্মএলাকার ২৪টি সহযোগী সংগঠন ২৭টি জেলার ৫৮ উপজেলার ৬০২টি গ্রাম ও চারটি সিটি কর্পোরেশনের ১৭ হাজার ২০৩ জন নারী ও শিশুদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ করে।
ব্রিফিংয়ে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, “জরিপের তথ্য অনুযায়ী স্বামীর দ্বারা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮৪৮ জন নারী, মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দুই হাজার আটজন, যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮৫ জন এবং অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক হাজার ৩০৮ জন নারী। এর বাইরে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন চারজন নারী, হত্যা করা হয়েছে একজনকে এবং যৌন হয়রানি করা হয়েছে ২০ জন নারীকে।
“উত্তরদাতা চার হাজার ২৫৯ শিশুর মধ্যে ৪২৪ জন শিশু পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছে। এর বাইরে বাল্যবিয়ে হয়েছে ৩৩টি এবং অন্যান্য সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪২টি। চারজন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ১৬ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়, অপহৃত হয়েছে দুইজন, যৌন হয়রানির শিকার ১০ জন এবং রিলিফ নেয়ার সময় ১০ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়।”
করোনাভাইরাসের এই সঙ্কটের মধ্যে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে পারিবারিক এবং অন্যান্য সহিংসতা প্রতিরোধ, সহায়তা দিতেই জরিপটি চালানো হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
জরিপের বিষয়ে শাহীন আনাম বলেন, “লকডাউনের কারণে ইনডেপথ জরিপ করা সম্ভব হয়নি। সেজন্য আমরা টেলিফোনে করেছি। আমরা লকডাউনে পারিবারিক নির্যাতনের অবস্থা ও কি ধরণের নির্যাতন হচ্ছে তা জানতে চেয়েছি। তাদের কি ধরণের সাপোর্ট দেওয়া যায় সেটিও জানতে চেয়েছি।”
সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুরা যেন ফোন করে দ্রুত সহযোগিতা পায় সেজন্য সরকারি হেল্প লাইনগুলো আরও কার্যকর রাখার সুপারিশ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সহিংসতার কারণে ঘর ছাড়তে বাধ্য হওয়া নারীদের সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় পাওয়ার ব্যবস্থা করা ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
এছাড়া মহামারী পরিস্থিতিতেও নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চালু রাখতে ‘ভার্চুয়াল কোর্ট অর্ডিন্যান্স’ দ্রুত রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়।
ব্রিফিং সঞ্চালনা করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সিনিয়র মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর শাহানা হুদা। সুত্রঃ বিডিনিউজ
নিউজ ডেস্কঃ বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে মানিক (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার পৌর-বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মানিক উপজেলার পৌর-এলাকার পশ্চিমপাড়ার চা বিক্রেতা আবেদ আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরেই গাবতলীর বিভিন্ন স্থানে বাজি (জুয়া) ধরে লুডু খেলা চলছিল। বুধবার সন্ধ্যায় পৌর-এলাকার পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা নাহিদের সঙ্গে বাজিতে লুডু খেলছিলেন নিহত মানিক। খেলার খেলতেই বাজির টাকা নিয়ে দু’জনের মধ্য কোন্দল শুরু হয়। এরই একপর্যায়ে মানিককে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান নাহিদ।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত মানিককে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে গাবতলী সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বাংলানিউজকে জানান, বুধবার ইফতারের পূর্ব-মুহুর্তে লুডু খেলায় বাজির টাকা নিয়ে বিবাদের জেরে ছুরিকাঘাতে মানিক খুন হন। এ ঘটনায় নিহত মানিকের বন্ধু নাহিদকে আটকের চেষ্টা চলছে। সুত্রঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
নিউজ ডেস্কঃ নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে হুমকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের বাজার। বাংলাদেশের শ্রমবাজার হিসেবে পরিচিত সব দেশ বাংলাদেশের শ্রমিকদের ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে। এরই মধ্যে গত সপ্তাহে সাড়ে তিন হাজারের বেশি প্রবাসী ফিরেছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে আরো ২৯ হাজার শ্রমিককে ফেরত পাঠানো হবে। মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে এক ভিডিও বার্তায় এ তথ্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
গতকাল ঢাকায় প্রবাসী কর্মীদের ফেরত আনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পঞ্চম আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সভাপতিত্বেও ওই বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।
বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের জানান, নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারীর পটভূমিতে প্রায় ২৯ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফিরবেন। ওই কর্মীরা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। তাদের বেশির ভাগই সেখানে বিভিন্ন অপরাধ করে কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন। নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের ক্ষমা করে নিজ নিজ দেশে পাঠাচ্ছে। আবার অনেকে ওই দেশগুলোয় অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন। তারাও সাধারণ ক্ষমার আওতায় দেশে ফিরছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশী যারা বিদেশে থেকে ফিরতে চান, তাদের সবাইকে ফিরিয়ে আনা হবে। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৩ হাজার ৬৯৫ জন বাংলাদেশী ফিরেছেন। তাদের বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া। করোনাভাইরাসের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সরকারগুলো তাদের ক্ষমা করে দিয়েছে এবং তাদের প্রথম দিকে পাঠাচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আরো অনেকে আসবেন। আমাদের ধারণামতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে ২৮ হাজার ৮৪৯ জন প্রবাসী আমাদের দেশে আসতে পারেন। আমরা কীভাবে ব্যবস্থা করছি, সেগুলো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করেছি। বিদেশে গিয়ে করোনাভাইরাসের কারণে আটকে পড়েছেন এমন বাংলাদেশীদের ভারত, জাপান, চীন, সিঙ্গাপুর থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত কয়েক দিনে ২ হাজার ৮৫৩ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য থেকে আরো ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
প্রবাসী কর্মীদের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কুয়েত সরকার অবৈধদের ক্ষমা ঘোষণা করেছে। যারা সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়ে নাম নিবন্ধন করেছেন তাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। কুয়েতে প্রায় সাড়ে চার হাজার বাংলাদেশী বিভিন্ন ক্যাম্পে আছেন। শোনা যাচ্ছে, ক্যাম্পে ঠিকমতো খাবারদাবার দেয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মিশনকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কুয়েত সরকার যখনই চাইবে আমরা তাদের নিয়ে আসব। কুয়েত সরকার ১৯০ জনের তালিকা পাঠিয়েছিল। আমরা সম্মতি দিয়েছি। ১৪৪ জন ফিরেছেন। এয়ারলাইনস চালু হলে যখনই ফ্লাইট সিডিউল দেবে, তখনই সবাইকে আমরা নিয়ে আসব।
মন্ত্রী জানান, মালদ্বীপ থেকে আজ ৪০০ জন ফিরবেন। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ১ হাজার ৫০০ জনকে পাঠাবে। অবশ্যই আমরা তাদের গ্রহণ করব। মালদ্বীপে প্রবাসীদের যাতে সমস্যা না হয়, সেজন্য খাবার দিয়েছি। আগামীতে আরো দেব।’
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইউএইতে যথেষ্ট প্রবাসী বাংলাদেশী আটকে আছেন। ইউএই সরকার সবাইকে বলছে নিয়ে আসতে। শুধু আমরা আনছি না, পাকিস্তান ও ভারত আনছে। ভারতের প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার কর্মীকে ইউএই থেকে ফেরত নেয়ার কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামীতে সবচেয়ে বেশি ফিরবে কুয়েত থেকে। সৌদি আরব কতজনকে পাঠাবে সে বিষয়ে সংখ্যা এখনো দেয়নি। তবে ৪ হাজার ২৬২ জনের আসার সম্ভাবনা আছে। জর্ডান থেকে কর্মী ফেরত আসার সম্ভাবনা আছে। ওমান থেকে এক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী ফিরতে পারেন। লেবাননে অনেকে বেশ ঝামেলায় আছেন। ইরাকে বড়সংখ্যক লোকের চাকরি চলে গেছে। তাদের কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়, তা আমরা ভাবছি। সুত্রঃ বণিক বার্তা
নিউজ ডেস্কঃ সিলেটে করোনা (কোভিড-১৯) চিকিৎসায় জড়িত চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য হোটেল নিশ্চিত হয়েছে। হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে আজ বুধবার ‘জেন্টলম্যান অ্যাগ্রিমেন্ট’ করেছে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, নগরীর দরগাহ গেইটস্থ হোটেল হলি গেইটে সিলেটের ‘করোনাযোদ্ধা’দের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের সিভিল সার্জন ড. প্রেমানন্দ মন্ডল ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়।
ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘হোটেল হলি গেইটের সাথে জেন্টলম্যান অ্যাগ্রিমেন্ট হয়ে গেছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। যতোদিন প্রয়োজন ততোদিন হোটেলের সাথে চুক্তি থাকবে।’
তিনি জানান, গেল কয়েকদিন ধরে করোনা চিকিৎসার সাথে জড়িতদের নগরীর কাজলশাহ এলাকার সিটি হোটেলে রাখা হচ্ছিল। আজ বুধবার থেকে চিকিৎসক ও নার্সরা হোটেল গলি গেইটে ওঠতে শুরু করবেন।
তবে হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে মাসিক ভিত্তিতে নাকি কিভাবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা খোলাসা করতে চাননি হিমাংশু লাল রায়।
শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের সহ-স্বাস্থ্যকর্মীদের সিলেট শহরতলির খাদিমনগরস্থ বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বিআরডিটিআই) রেস্ট হাউজে রাখার কথা থাকলেও সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে এ হাসপাতালের সবাই ডিউটি শেষে হোটেল হলি গেইটেই উঠবেন।
জানা গেছে, সিলেটে করোনাক্রান্ত রোগীদের যারা চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন, তাদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। চিকিৎসক, নার্সরা করোনাক্রান্ত রোগীদের সেবা দিয়ে নিজেদের বাসায় যেতে চান না। কারণ, এতে তাদের পরিবারের সদস্য আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা থাকে।
এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসক, নার্সসহ চিকিৎসাসেবার সাথে জড়িত অন্যান্যদের জন্য পৃথক আবাসনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয় করোনা প্রতিরোধ বিষয়ক সিলেট বিভাগীয় কমিটি। এ কমিটির উদ্যোগে সিলেটে খোঁজা হয় হোটেল। কিন্তু নানা অজুহাতে কোনো হোটেলই চিকিৎসক বা নার্সদের রাখতে রাজি হয়নি। শেষপর্যন্ত হোটেল হলি গেইট কর্তৃপক্ষ চিকিৎসক-নার্সদের রাখতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এ হোটেলের চেয়ারম্যান ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এ টি এম শোয়েব।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এক হিন্দু পরিবারের সবাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার নোটারি পাবলিকের কার্যালয়, চুয়াডাঙ্গা থেকে এফিডেভিটের মাধ্যমে স্বপরিবারে নাম ও ধর্ম পরিবর্তন করেন তারা। এরপর জীবননগর সাব. রেজিস্ট্রার অফিসের মুহুরি মাওলানা আব্দুল ওয়াজেদের কাছে কলেমা পড়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন ওই পরিবারের সদস্যরা।
ধর্মান্তরিত হওয়াই নিমাই দাসের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ইব্রাহিম খলিল, স্ত্রী আরতীর নাম আয়েশা খাতুন, বড় ছেলে শ্রী আনন্দ দাসের নাম হাসান আলী, মেয়ে শ্রীমতি শিল্পী দাসের নাম সুমাইয়া আক্তার ও এক বছর বয়সের ছোট ছেলেটি শ্রী কৃষ্ণ দাসের নাম রাখা হয় হুসাইন আলী। এখন থেকে তারা ইসলামের সকল নিয়ম-কানুন পালন করবেন বলে জানিয়েছেন। এমনকি রোজা রাখার জন্যও তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তারা নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন।
নওমুসলিম ইব্রাহিম খলিল বলেন, ইসলাম ধর্মের ওপর আমার অনেক আগে থেকে টান রয়েছে। এরপর থেকে ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন ধরণের বই পুস্তক পড়ে ধর্মের প্রতিপালন দেখে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আরো আগ্রহ সৃষ্টি হয়। যে কারণে পৃথিবীতে ইসলাম ধর্ম একমাত্র সঠিক ধর্ম মেনে আমি স্বপরিবারে স্বেচ্ছায় হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম পালনের সিদ্ধান্ত নিই। আমার স্ত্রী ও মেয়ে দুজনেই পর্দা পছন্দ করে। সবার আন্তরিক সহযোগিতায় আল্লাহর রহমতে নিরাপদে ও ভালো আছি। ইসলাম ধর্ম, নামাজ, রোজা পালনের জন্য মেম্বর সাহেবসহ প্রতিবেশিরা সহযোগিতা করেছেন।
মাওলানা আব্দুল ওয়াজেদ জানান, নওমুসলিম ইব্রাহিম খলিল ব্যক্তিগত জীবনে ভালো একজন মানুষ হিসেবেই পরিচিত। তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ইচ্ছার বিষয়ে স্থানীয় মুসলিমদের ও মেম্বরের কাছে জানালে সকলেই তাকে সাহায্য করেন। বিষয়টি জানার পর যতটুকু সম্ভব তাদের পাশে থাকতে চেষ্টা করেছি। এফিডেভিটের পর তারা স্থানীয় মেম্বর ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সামনে সপরিবারে কালিমা ত্বায়্যীবা ও কালীমা শাহাদত পাঠ করেন। আল্লাহ তাদের পরিবারকে কবুল করুক।
সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের মেম্বার আরজান হোসেন বলেন, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশের পর থেকে তিনি তাদেরকে সহযোগিতা করে আসছেন। প্রায় এক মাস আগে তার কাছে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ইচ্ছার কথা জানান। এলাকার মানুষ তাদের নিরাপদ বসবাসের ব্যাপারে সচেতন। সবার সহযোগিতামূলক মনোভাব রয়েছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান সাধারণ ছুটি ১১ দিন বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে খুলেছে গার্মেন্টস, খুলবে মার্কেট, শপিংমল। ছুটির বাইরে জরুরি সেবার দফতরগুলো। এর মধ্যে মঙ্গলবার দেশে রেকর্ডসংখ্যক ৭৮৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু রাজধানীর সড়কের চিত্র বদলে যাচ্ছে। অন্যান্য দিনের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা এদিন বেড়েছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান সাধারণ ছুটি ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে খুলেছে গার্মেন্টস, খুলবে মার্কেট, শপিংমলও। কিন্তু সব খোলার আগেই রাজধানীর সড়কের চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। বাড়ছে যানবাহনের চাপ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা এ তথ্য জানিয়েছেন। একাধিক স্থান ঘুরে যানবাহনের সংখ্যা বেশিই দেখা গেছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে দোকান ও শপিংমল আগামী ১০ মে থেকে খুলবে। তবে এক্ষেত্রে আন্তঃজেলা ও আন্তঃউপজেলা যোগাযোগ/চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। হাট-বাজার, ব্যবসা কেন্দ্র, দোকানপাট ও শপিংমল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। সোমবার (৪ মে) সরকার নির্দেশনা দেয়।
গতকালের ওই নির্দেশনার পরই বিভিন্ন স্থালে খুলতে শুরু করেছে বিপণি-বিতান, বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। চাপও বেড়েছে সড়কে। যদিও দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, যা মঙ্গলবার রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর কল্যাণপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট, তেজগাঁও, মহাখালী, যাত্রাবাড়ী ও গুলশান এলাকায় দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের তুলনায় সড়কে গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে। কোথাও কোথাও আবার সিগন্যালের কারণে কিছুক্ষণের জন্য থমকে যাচ্ছে সড়ক।
ডিএমপির ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের তেজগাঁও এলাকার সহকারী কমিশনার কাজী মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, কিছু অফিস চলছে। গার্মেন্টস খুলেছে। তেজগাঁও এলাকায় তাই অন্য দিনের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা বেশিই।
ট্রাফিক উত্তরের মহাখালী এলাকার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) দেলওয়ার হোসেন বলেন, সকাল থেকেই আজ হঠাৎ যানবাহনের চাপ বেশি। বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়ি মাইক্রো, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টসের লোগো লাগানো গাড়ির সংখ্যা বেশি। সবারই কাজ। অনেকেরই এই অজুহাত। যদিও আমরা ফাঁকা রাজধানীতে হঠাৎ গাড়ির চাপ বাড়লেও নজর বেশি দিচ্ছি যেন দুর্ঘটনা না ঘটে।
ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের রমনা জোনের এডিসি মেহেদি হাসান জাগো নিউজকে বলেন, গতকালের তুলনায় যানবাহন সড়কে একটু বেশিই দেখা যাচ্ছে। আমরা চেক করছি। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাতে কেউ সড়কে আসতে না পারেন সেজন্য চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
নিউজ ডেস্কঃ কুমিল্লার বুড়িচংয়ে করোনা জয়ী দুই শিশুসহ সাত জনকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। নিয়ম মাফিক কোয়ারেন্টিন পালন ও সঠিকভাবে ওষুধ সেবনে সাত জন করোনা মুক্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৫ মে) বুড়িচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মীর হোসেন মিঠু এ তথ্য জানান।
সুস্থরা হলেন—জিয়াপুর গ্রামের দুই শিশু মোহাম্মদ সুদাইব, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং তাদের ফুপু নার্গিস আক্তার। শিশু দু’টির দাদি ঢাকায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সুস্থ হওয়া অন্যরা হলেন—বুড়িচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মনির হোসেন, গাড়ি চালক সাগর, বালিখাড়া গ্রামের মা সাথী আক্তার ও ছেলে মাহতাব।
ডা. মীর হোসেন মিঠু বলেন, ‘বুড়িচংয়ে আট জন আক্রান্তের মধ্যে সাত জন সুস্থ হয়েছেন। সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। সবাই ঘরে থাকলে, নিয়ম মেনে চললে আক্রান্তের হার কমে যাবে। আক্রান্তরা নিয়ম মেনে চললে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’
নিউজ ডেস্ক : মৌলভীবাজার জেলার আরো ৮জনের ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মীর করোনা রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪জনে। মঙ্গলবার রাতে মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা তওহীদ আহমদ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিলেট ওসমানী ল্যাবে পরীক্ষায় এই রিপোর্ট আসে। মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ৮জন ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মীর করোনা পজেটিভ এসেছে। সিভিল সার্জন সূত্র জানা গেছে, মৌলভীবাজার জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে ১৮০৫জন ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে ১২জন আছেন। করোনা আক্রান্তে মৃত্যু বরণ কারী ২জন।
নিউজ ডেস্কঃ বগুড়ায় সোনালী ব্যাংকের নন্দীগ্রাম শাখার দুই কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত করে ভল্টের চাবিসহ ব্যাগ, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শাজাহানপুর থানার জোড়া এলাকায় বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে তারা হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের নন্দীগ্রাম শাখার লেনদেন প্রায় আধা ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়।
হামলার শিকার কর্মকর্তারা হলেন সোনালী ব্যাংকের নন্দীগ্রাম শাখার ম্যানেজার মতিউর রহমান (৫০) ও সিনিয়র অফিসার আতাউর রহমান (৪৫)। তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মতিউর রহমান ও আতাউর রহমান বগুড়া শহরের নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে তাদের কর্মস্থল নন্দীগ্রাম যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে সকাল ১০টার দিকে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে জোড়া নামক স্থানে দুর্বৃত্তরা পথরোধ করে তাদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে ভল্টের চাবি, টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, ছুরিকাহত দুজন ব্যাংক কর্মকর্তার অবস্থা উন্নতির দিকে। ঘটনার পর পরই দুর্বৃত্তদের ধরতে পুলিশি অভিযান শুরু করেছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।
বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মতিউর রহমান জানান, দুর্বৃত্তরা হঠাৎ করেই পথ রোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলা করে এবং আমাদের কাছ থেকে প্রায় ১০ হাজার টাকা, ভল্টের চাবিসহ ব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। সুত্রঃ বণিক বার্তা
ছাতক প্রতিনিধিঃ ছাতকে আরো ৩ জন করোনা পজেটিভ রোগী সনাক্ত হয়েছে। ওই ৩ জন নিয়ে এখানে করোনা পজেটিভ রোগী ৫ জনে এসে দাঁড়ালো। মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী নমুনা সংগ্রহের প্রায় দেড় শ’ জনের মধ্যে করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে ৫ জন। নতুন সনাক্ত ৩ জনের মধ্যে ২জন উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও অপর জন ছাতক শহরের শ্যামপড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এর আগে যে ২ জন করোনা পজেটিভ সনাক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে ১ জন ছাতক শহরের মন্ডলীভোগ-ছোরাবনগর এলাকার বাসিন্দা ও অপরজন শ্যামপাড়া এলাকার একটি কারখানার শ্রমিক। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডাঃ রাজীব চক্রবর্ত্তী নতুন ৩ জন করোনা পজেটিভ রোগী সনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অান্তর্জাতিক ডেক্সঃ মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে এবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের লাকেম্বায় উচ্চস্বরে আজান প্রচারের অনুমতি দিয়েছে সে দেশের সরকার।
সাধারণত অস্ট্রেলিয়ায় মসজিদের ভেতরে ছোট করে আজান দেয়া হয়। বড় মসজিদ এবং ঈদের নামাজের সময় ছোট মাইক্রোফোন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু করোনার কারণে এই প্রথম উচ্চস্বরে অস্ট্রেলিয়ায় আজানের অনুমতি মিলল।
পবিত্র রমজানের শেষ দিন পর্যন্ত লাকেম্বায় লাউডস্পিকারে করে মাগরিবের আজান প্রচার করা যাবে। মসজিদটির পরিচালনাকারী অ্যাসোসিয়েশনের (এলএমএ) নির্বাহী পরিচালক আহমদ মালাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার লেবানীয় মুসলিম কমিউনিটির প্রচেষ্টায় এই বিরল কাজ সাধ্য হয়েছে। বৈশ্বিক মহামারীতে আজান প্রচার করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রথমবার যখন আজান দেয়া হলও, পুরো মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে সৃষ্টি হয় এক আবেগ-ঘন পরিবেশ।
এর আগে কানাডার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মসজিদের মাইক থেকে আজান প্রচার করার অনুমতি দেয়া হয়। কানাডার কয়েকটি শহরে পবিত্র রমজান মাসের জন্য এই অনুমতি দেয়া হয়
ডেক্স রিপোর্টঃ দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৮৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।এ নিয়ে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দশ হাজার ৯২৯। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ১ জন। এ নিয়ে দেশে মোট মারা গেছেন ১৮৩ জন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে করোনার সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।এর আগে সোমবার দেশে ৬৮৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয় ও ৫ জনের মৃত্যু হয়।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ৪ এপ্রিল সারাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৬১ জন। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ৪ মে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার ১৪৩ জনে। একমাসে করোনা রোগী বেড়েছে ১০ হাজার ৭৩ জন। এছাড়া ৪ এপ্রিল দেশে শনাক্ত হয়েছিলো ৯ জন করোনা রোগী। ৪ মে শনাক্ত হয় ৬৮৮ জন।
গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা শুরু করে। ৮ মার্চ দেশে প্রথম রোগী শনাক্ত হয়।
ইবাদুর রহমান জাকির, বিশেষ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ৩নং নিজ বাহাদুর পুর ইউনিয়নের উত্তরপকুয়া যুব সমাজের উদ্দ্যোগে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিক ও দিনমজুর অসহায়-সুবিধা বনঞ্চিতদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার(৫মে)দুপুরে উত্তর পকুয়া ও দৌলতপুর গ্রামের কর্মহীন শতাধিক শ্রমিকদের মাঝে যুবসমাজ ও প্রবাসীদের অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।এসময় উপস্থিত ছিলেন উত্তর পকুয়া যুবসমাজের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দীন পংকি তিনি বলেন, করোনা হলো মহামারী আল্লাহর গজব এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকারি নির্দেশনা মানতে গিয়ে যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছে তাঁদের পাঁশে দাঁড়িয়েছে উত্তর পকুয়া যুব সমাজ খাদ্য সামগ্রীয় সহায়তা নিয়ে,আমি তাদের কে ধন্যবাদ জানাই। কর্মহীন যে সকল মানুষ কাজ না পেয়ে সহায় হয়ে পড়েছে তাদের জন্য আমাদের সকলের নৈতিক দ্বায়িত্ব হলো সহযোগীতার হাত কে অবমুক্ত করা । এছাড়া উত্তর পকুয়া যুবসমাজের সভাপতি হারুনুর রশীদ বলেন আমরা গ্রামের প্রবাসীদের সাহায্যের মাধ্যমে দ্বিতীয় বারের মতো দুস্থ ও কর্মহীনদের বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিচ্ছি এ জন্য মহান মাবুদের শুকরিয়া আদায় করছি। যুবসমাজের সেক্রেটারি মাওঃমোঃ আব্দুন নুর বলেন কর্মহীন মানুষের মাঝে আমরা জন প্রতি ১০ কেজি চাল,২ কেজি আলু,২লিটার তেল,২ কেজি পিয়াজ,২ কেজি ময়দা,২কেজি চিনি, খাদ্য সামগ্রী মাসের মধ্যে দুইবার বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছি এতে যুবসমাজ ও প্রবাসীদের অবদান অতুলনীয়।খাদ্য সামগ্রী বিতরণে আরও উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্স প্রবাসী খয়রুল ইসলাম, আজাদ আহমদ ও সাংবাদিক সাদেক প্রমুখ ।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লের ১৬ চিকিৎসকের করোনাভাই’রাস শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত হওয়া সকলেই মেডিকেল কলেজের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষানবিস (ইন্টার্ন) চিকিৎসক। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে তাদের শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
এ ব্যাপারে ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. ময়নুল হক ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল ধরের সাথে যোগাযোগ করে তাদের পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালটির একাধিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, সোমবার রাতে ১৬ শিক্ষানবিস চিকিৎসক শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই চিকিৎসকদের ফেসবুক গ্রুপে এ ব্যাপারে আলোচনা শুরু হয়।
ওই গ্রুপে ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. ময়নুল হক লিখেন- ‘৫৩তম ব্যাচ, তোমাদের আবার পরীক্ষা করা হবে। ভ’য়ের কোনো কারণ নাই। ইনশাল্লাহ নেগেটিভ হবে। আম’রা তোমাদের সাথেই আছি- অধ্যক্ষ সিওমেক।’
এই গ্রুপে ওসমানী মেডিকেল কলেজের সাবেক এক শিক্ষার্থী, যিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে কর্ম’রত রয়েছেন, তিনি সোমবার রাতে লিখেন- ‘সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৫৩তম ব্যাচের (ইন্টার্ন চিকিৎসক) ১৬ জনের করোনা পজেটিভ আসছে আজকে। আশাকরি উর্ধতন ক’র্তাব্যক্তিরা অ’তি দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।’
এরআগে গত ২৩ এপ্রিল এই হাসপাতা’লের এক শিক্ষানবিস চিকিৎসক করোনা আ’ক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন। তিনিও হাসপাতা’লের ইন্টার্ন হোস্টেলেই রয়েছেন। ওই চিকিৎসক শনাক্ত হওয়ার পর ওসমানীর ৭৮জন শিক্ষানবিস চিকিৎসককে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। এই কোয়ারেন্টিনে থাকা ৭৮ জনের মধ্য থেকেই সোমবার ১৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়।
আর গত ৫ এপ্রিল ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈনউদ্দিন করোনাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হন। তিনিই করোনা শনাক্ত হওয়া সিলেটের প্রথম রোগী। গত ১৫ এপ্রিল ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মা’রা যান। সুত্রঃ-সিলেটটুডে
নিউজ ডেস্কঃ মানবতাবিরোধী অপরাধেয়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তি চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তেরশ্রী কালী নারায়ণ (কে এন) ইনস্টিটিউশনের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সোলায়মান ইসলাম (৪০) ফেসবুক পোস্ট দিলে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।
ঘিওর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আশরাফুল আলম বলেন, গ্রেফতারকৃত শিক্ষক ঘিওর উপজেলার তেরশ্রী কে. এন ইনস্টিটিউশনের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবেক কর্মরত রয়েছে। তার বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের আবুডাঙ্গা গ্রামে।
শনিবার (২ মে) রাতে তিনি তার ফেসবুকে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তি চেয়ে স্ট্যাটাস দেন। রবিবার রাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। ওসি আশরাফুল আলম বলেন তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
মৃত্যুর অপেক্ষা অনাহারে অথবা করোনায় করোনাভাইরাস যখন প্রথমবারের মতো দেশে পৌঁছে যায় তখন লাতিন আমেরিকার দেশ হাইতি কর্তৃপক্ষ এবং দেশটির মানবিক বিশেষজ্ঞরা আতঙ্কিত হয়ে যান। তাদের এই আশঙ্কার নেপথ্যে দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। কিন্তু সেই আশঙ্কাকেও ছাপিয়ে যায় মহামারির অর্থনৈতিক পরিণতি; যা দেশের দরিদ্রদের জন্য করোনার চেয়েও ভয়াবহ প্রাণঘাতী রূপে হাজির হয়েছে।
শনিবার পর্যন্ত মাত্র আটজনের মৃত্যু নিয়ে কোভিড-১৯ মহামারি দেশটিতে এখনও প্রকোপ শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটিতে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নিয়ম অনেকের কাছে অসাধ্য বিলাসিতার মতো; যেখানে অসংখ্য মানুষ অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতের ওপর নির্ভর করে দিনে এনে দিনেই খেয়ে বেঁচে থাকেন।
করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধের প্রচেষ্টা হিসাবে লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে দারিদ্রপীড়িত দেশ হাইতির ক্ষমতাসীন সরকার আগামী ১১ মে থেকে জনসম্মুখে মাস্ক পরা প্রত্যেকের জন্য বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছে।
মাস্ক দূরের বিষয়, অনেক হাইতিয়ান এখন প্রশ্ন তুলেছেন : আজ না খেয়ে মরবো নাকি কাল করোনায়?
পেশনভিল শহরের পোর্ট-অ-প্রিন্সের পূর্বদিকের পাহাড়ি এলাকায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম সপ্তাহে তিনদিন সীমাবদ্ধ রাখার বিধি-নিষেধ চালুর বিরুদ্ধে রাস্তায় প্রতিবাদ করেছেন ব্যবসায়ীরা। এই এলাকার একটি টাউন হলকে কেন্দ্র করে এই নির্দেশনা জারি করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়েছে।
গত ১৯ মার্চ করোনা রোগী পাওয়া গেছে বলে ঘোষণা দেয়ার পর দেশটিতে আতঙ্কিত হয়ে লোকজনের কেনাকাটা বেড়ে যায়। এখন অনেকেই সাধ্যের বাইরে গিয়েও বেশি পরিমাণে কেনাকাটা করছেন। এর ফলে দেশটিতে পণ্য-সামগ্রীর দাম আকাশচুম্বী। গত বছরের এই সময়ে চালের দাম যা ছিল; বর্তমানে তা দেশটির কিছু কিছু বাজারে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।
গত মার্চ থেকেই দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি শুরু হয়েছে। করোনা মহামারির আতঙ্কে আমেরিকার এই দেশটিতে দেড় বছর আগে যে মন্দা দেখা দিয়েছিল; সেটি ফেরার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনলাইনে বার্ষিক অর্থনৈতিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে হাইতির প্রধানমন্ত্রী জোসেফ জুথে বলেছেন, ক্রমবর্ধমান সঙ্কটের কারণে আমাদের অর্থনীতি প্রায় চার শতাংশ সঙ্কুচিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হাইতির অর্থনীতিবিদ এতজার এমিলি বলছেন, দেশের নাগরিকদের অর্ধেকই কৃষি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট; যদিও মোট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কৃষি খাতের অবদান মাত্র ২১ শতাংশ।
দরিদ্র শ্রমিক, যারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খামারের মালিক তাদের আয় চলতি মৌসুমে কমে গেছে। তাদের জন্য পরবর্তী মৌসুমের ফসল চাষের প্রস্তুতিগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়েছে। খরার কারণে ইতোমধ্যে কিছু কিছু অঞ্চলে মারাত্মক সমস্যা তৈরি হয়েছে।
করোনাভাইরাস মহামারি বিশ্ব অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেয়ার অনেক আগে থেকেই জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়ে আসছে যে, চলতি বছরে প্রায় ৪০ শতাংশ হাইতিয়ানের জরুরি মানবিক ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।
এতসংখ্যক মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার বিষয়টি একটি দেশকে দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর ইঙ্গিত বলে সতর্ক করে দেয় জাতিসংঘ। সংস্থাটি জানায়, মার্চের শুরুতেই হাইতির প্রায় ৩০ লাখ মানুষ মারাত্মক খাদ্য অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন।
প্রবাসী হাইতিয়ানরা প্রত্যেক বছর কোটি কোটি ডলার পাঠিয়ে দেশকে গভীর দারিদ্র থেকে রক্ষা করে আসছেন। বিদেশে থাকা দেশটির নাগরিকরা প্রত্যেক বছর ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেন; যা দেশটির মোট জিডিপির প্রায় এক তৃতীয়াংশ।
দেশটির অর্থনীতিবিদ কেসনার ফ্যারেল বলেন, হাইতিয়ানরা খাবার, শিক্ষা এমনকি শেষকৃত্যের জন্যও রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করেন। দেশটির অধিকাংশ প্রবাসীই বসবাস করেন যুক্তরাষ্ট্রে; বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির এই দেশটিতে করোনার ভয়াবহ প্রকোপে বেকারত্ব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, সঙ্কটে পড়েছেন হাইতিয়ানরাও।
হাইতির অর্থ মন্ত্রণালয় এক পূর্বাভাষে বলেছে, আগামী মাসে দেশের রেমিট্যান্সের পরিমাণ এক চতুর্থাংশ হ্রাস পেতে পারে।
ফ্যারেল বলেন, আমরা বলতে চাই, আমেরিকানরা যখন ফ্লুতে ভোগেন, হাইতি তখন নিউমোনিয়ায় ভোগে। যুক্তরাষ্ট্রে যদি লাখ লাখ প্রবাসী চাকরি হারান তাহলে আমাদের দেশে নিশ্চিতভাবে চরম দারিদ্র নেমে আসবে।
নীল আকাশের নিচে হলুদ সূর্যমুখী ফুলের ছড়াছড়ি। চোখ জুড়ানো এমন দৃশ্যের দেখা মিলবে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায়। বিশেষ করে সদর উপজেলার আজমেরু ও হাকালুকি হাওড়পাড়ে। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লাভজনক হওয়ায় জেলায় এ তেলবীজের চাষ দিন দিন বাড়ছে। এমনকি এক বছরে বেড়েছে পাঁচ গুণ। মূলত পতিত জমিতে বিকল্প ফসল হিসেবে কৃষকরা সূর্যমুখী চাষ করছেন। তাদের উৎসাহ দিতে সরকারিভাবে প্রণোদনাও দেয়া হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে মৌলভীবাজারে প্রায় ১৫০ একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে জেলায় এ তেলবীজ চাষ হয়েছিল মাত্র ৩০ একরে। সে হিসাবে এবার চাষ বেড়েছে পাঁচ গুণ। জেলার চাষীরা মূলত হাইসান-৩৩ ও হাইসান-৩৬ হাইব্রিড জাতের সূর্যমুখীর চাষ করেছেন।
সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু এলাকায় ২৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন সৈয়দ হুমায়েদ আলী শাহিন ও এসএম উমেদ আলী। সৈয়দ হুমায়েদ আলী শাহিন বলেন, আমন ধান তোলার পর এ জমিগুলো পতিত থাকত। গত মৌসুম থেকে এসব জমিতে সূর্যমুখী চাষ করছি। নতুন ফসল অনেক মানুষ দেখতে আসছে এবং উৎসাহী হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, কোলেস্টেরলমুক্ত স্বাস্থ্যকর ভোজ্যতেলের অন্যতম উৎস সূর্যমুখীর বীজ। এ তেল অনেক ভালো। আমরা নিজেদের প্রয়োজনীয় তেলবীজ রেখে অতিরিক্ত বীজ বাজারে বিক্রি দিই।
এসএম উমেদ আলী বলেন, গত বছর আমরা ১৭ বিঘা জমিতে চাষ করেছিলাম। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষের উপযোগী হওয়ায় এবার চাষ আরো আট বিঘা জমি বাড়িয়েছি।
এদিকে চলতি মৌসুমে কুলাউড়া ও জুড়ি উপজেলার হাকালুকি হাওড়পাড় এলাকার ৪০ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে সরকারিভাবে সূর্যমুখীর বীজ দেয়া হয়েছে। প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন এ কৃষকরা।
কুলাউড়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, হাওড়াঞ্চলের জমিতে সাধারণত বোরো ধানের চাষই বেশি হয়। কিন্তু অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢলে প্রায় প্রতি বছর ফসল নষ্ট হয়ে যায়। ফলে হাওড়পাড়ের কৃষকরা বিকল্প শস্য চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এবার সরকারিভাবে প্রণোদনা পেয়ে তাদের কেউ কেউ সূর্যমুখীর চাষ শুরু করেছেন।
শাহজাহান আলী নামে এক কৃষক জানান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উৎসাহে এবার সূর্যমুখী চাষ করেছি। বীজ রোপণ থেকে শুরু করে ফুল ফোটা ও পুনরায় বীজ সংগ্রহ পর্যন্ত ১১০ থেকে ১২০ দিন সময় লাগে। তবে বীজ সংগ্রহের পর কী করবেন সেটা নিয়ে চিন্তিত তিনি। কারণ বীজ থেকে তেল তৈরির কোনো যন্ত্র তার নেই।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী লুত্ফুল বারী বলেন, এবার সূর্যমুখীর ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি একর জমি থেকে প্রায় ৮০০ কেজি বীজ পাওয়া যাবে বলে আশা করি। আড়াই কেজি বীজ থেকে মিলবে এক লিটার তেল। সে হিসাবে প্রতি একর জমি থেকে মিলবে প্রায় ৩২০ লিটার তেল। প্রতি লিটার তেল ১৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। এছাড়া তেল সংগ্রহের পর খৈলও বিক্রি করা যায়। আর প্রতি কেজি বীজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দামে বিক্রি করা যাবে। কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্যে বীজ বিক্রয় করতে পারেন, সে ব্যাপারে আমরা সহযোগিতা করব।
তিনি বলেন, আসলে আমরা ভোজ্যতেলের জন্য সয়াবিনের ওপর নির্ভরশীল। সেখান থেকে বেরিয়ে সরিষা ও সূর্যমুখীর উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য আমরা কর্মসূচি নিয়েছি। আগামী মৌসুমে মৌলভীবাজারে সূর্যমুখীর চাষ আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে। সুত্রঃ বণিক বার্তা
জুড়ি প্রতিনিধিঃমৌলভীবাজারের জুড়ি থেকে করোনাভাইরাসের সংগৃহিত নমুনার ফলাফলে নতুন আরও একজন কোভিড-১৯ আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। সোমবার (৪ মে) রাত এগারোটায় তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) সমরজিৎ সিংহ।
তিনি বলেন, শনাক্ত ব্যক্তির বাড়ী উপজেলার জাংগিরাই এলাকায়। বাড়ী লকডাউনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমরা সেখানে যাচ্ছি প্রশাসন সহ।
নিউজ ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিস্তার ঠেকাতে সরকারি-বেসরকারি অফিসে ছুটির মেয়াদ ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হলেও সীমিত পরিসরে খুলছে হাটবাজার, ব্যবসাকেন্দ্র, দোকানপাট শপিং মলগুলো। ঈদকে সামনে রেখে শর্তসাপেক্ষে আগামী ১০ মে থেকে এগুলোসহ অন্যান্য কার্যাবলি সীমিত আকারে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে এগুলো সকাল ১০টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।
আর আসন্ন ঈদের সময় জনগণকে নিজ নিজ স্থানে থাকতে হবে এবং আন্তজেলা, উপজেলা বা বাড়িতে যাওয়ার ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে হবে। এর আগে গত ২৬ এপ্রিল থেকে তৈরি পোশাক কারখানা সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন হাটবাজার, দোকানপাট খোলার সুযোগ দেওয়ার মধ্যে দিয়ে লকডাউন (অবরুদ্ধ) পরিস্থিতি শিথিল হয়ে গেল।
আজ সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশে দোকানপাট খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, হাটবাজার, ব্যবসা কেন্দ্র, দোকানপাট ও শপিংমলগুলো ১০ মে থেকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল চারটার মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। প্রতিটি শপিংমলের প্রবেশের ক্ষেত্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত সতর্কতা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকাল আনোয়ারুল ইসলাম আজ প্রথম আলোকে বলেন, এই সময় বলা হলেও নিজ নিজ এলাকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন তাঁদের সুবিধামতো নির্দেশনা দিতে পারবে। অর্থাৎ প্রয়োজন হলে তার আগেও বন্ধ রাখার কথা বলতে পারে। গত ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে ছুটি ও লকডাউন পরিস্থিতি চলছে। এই সময়ে ছয় দফায় ছুটি বাড়ানো হলো। করোনাভাইরাসের কারণে প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হয়েছিল। এরপর ছুটি বাড়িয়ে তা ১১ এপ্রিল করা হয়। ছুটি তৃতীয় দফা বাড়িয়ে করা হয় ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর চতুর্থ দফায় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়। আর পঞ্চম দফায় ছুটি ৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এখন আবার বাড়ল।
করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর বিস্তার রোধকল্পে সরকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সাধারণ ছুটি আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বর্ধিত করায় দেশব্যাপী চলমান গণপরিবহন বন্ধের সিদ্ধান্ত আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মো. আবু নাছের এক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় এক তথ্য জানানো হয়।
তবে জরুরি পরিষেবা যেমন-বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের কার্যক্রম (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর), পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাকসেবা ও সংশ্লিষ্ট কাজ, খাদ্যদ্রব্য, সড়ক ও নৌপথে সকলপ্রকার পণ্য, রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল, ঔষধ, ঔষধশিল্প, চিকিৎসা সেবা ও চিকিৎসা বিষয়ক সামগ্রী পরিবহন, শিশুখাদ্য, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া, ত্রাণবাহী পরিবহন, কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য, সার ও কীটনাশক, পশুখাদ্য, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ খাতের উৎপাদিত পণ্য, দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য এবং জীবনধারণের মৌলিক পণ্য উৎপাদন ও পরিবহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
পণ্যবাহি যানবাহনে যাত্রী পরিবহণ করা যাবে না।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ আজ এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
ইবাদুর রহমান জাকির বিশেষ প্রতিনিধিঃ আলহাজ্জ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর অর্থায়নে ১০ হাজার পরিবারে খাদ্য সহায়তার অংশ হিসেবে (৪মে) দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নে ৫৫০ পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। ,এতে মৌলভীবাজার ১ (বড়লেখা-জুড়ি) নির্বাচনী এলাকার বিগত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আলহাজ্জ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর এ নির্বাচনী এলাকায় ১০ হাজার পরিবারে খাদ্য সহায়তা কর্মসুচি এগিয়ে চলছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশ নায়ক তারেক রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে জনাব মিঠু এ কর্মসুচি তে অর্থায়ন করছেন এবং বাস্তবায়ন করছে সংশ্লিষ্ট ইউনিট বিএনপির কমিটি সমুহ আর সমন্বয় করছে নির্বাচনী এলাকার ২ উপজেলা ও এক পৌর কমিটি।দুপুরে দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নে এ খাদ্য সহায়তা কর্মসুচীর উদ্বোধন করেন বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক জনাব মুজিবুর রহমান খছরু। এসময় উপস্হিত ছিলেন বড়লেখা পৌর বিএনপির সভাপতি জনাব আনোয়ারুল ইসলাম,উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খান,উপজেলা প্রচার সম্পাদক ও দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস স্বপন,পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, যুব বিষয়ক সম্পাদক আলতাফ হুসেন,ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক আনিস আহমদ মেম্বার,বিএনপি নেতা শাহজাহান উদ্দিন, যুবদল সভাপতি কামাল উদ্দিন, সাধারন সম্পাদক হাদি হুসেন, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মুমিনুর রশিদ, যুগ্ন সম্পাদক নাসির হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোস্তাক তাপাদার কানন, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র নেতা নাদের আহমদ, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক কাওছার আহমদ,উপজেলা ছাত্রদল নেতা জুনেদ আহমদ সহ বিএনপি ও অঙ্গঁ- সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মী বৃন্দ।
আমাদের থেকে এবারের মহিমান্বিত রমজানুল মুবারকের প্রথম দশক বিদায় নিতে যাচ্ছে। রমজানের প্রথম দশ দিন রহমতের। আল্লাহ তায়ালা এ দশকে প্রত্যেকের উপর অবারিত রহমত বর্ষণ করতে থাকেন। যার ফলে মুসলমান নরনারীর মন-মনন উজ্জ্বল তারকারাজির ন্যায় ঝলমল হয়ে অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে মুক্ত হয়। মহান প্রভূর সান্যিধ্যের দিকে এগিয়ে যায় মানবাত্মা। রহমতের চাদরে আবৃত হয়ে নিজের জীবন যৌবনকে পূতপবিত্র করে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সহীহ হাদীসে প্রিয় নবী মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ ফরমান, রমজানের প্রথম দশক রহমতের, মধ্যখানের দশক মাগফিরাতের এবং শেষের দশক জাহান্নাম থেকে মুক্তির। যখন রমজান আসে জান্নাতের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয়। জাহান্নামের দরজা সমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। আর মরদুদ শয়তানদেরকে শিকলাবদ্ধ করে রাখা হয়। অপর বর্ননায় আসে আসমানের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয়। রমজান মুমিনের জন্য ঢাল স্বরূপ। শত্রুর মোকাবেলায় ঢাল যেভাবে গুলি, তীর ধনুক ইত্যাদির আক্রমণ ও অনিষ্ঠ হতে রক্ষা করে সিয়াম সাধনাও সেভাবে মুমিন মুসলমানকে অন্যায়, অবিচার, জুলুম, নির্যাতন ইত্যাদি পাপাচার থেকে রক্ষা করে। হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,” রোজা আমার জন্য আর এর প্রতিদান আমি নিজে দান করব।” যারা ঈমান ও ইহতেসাবের সাথে (সওয়াবের আশায়) রমজানের রোজা এবং কিয়ামুল লাইল ( তারাবীহ) আদায় করবে, আল্লাহ তায়ালা তাদের সমুদয় গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। এদিকে চলমান বিশ্বের দিকে দিকে মুসলমানদের উপর নির্যাতন নিপীড়নের স্টীম রোলার চলছে। আর অপর দিকে দেশে দেশে ইসলামের বিজয় নিশান উড্ডীন হওয়ার সমূহ সম্ভাবনার পূর্বাভাস মুসলিম উম্মাহকে আশান্বিত করছে। রোজা ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক। নিজেকে সংযম ও সংশোধনের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এক অমলিন সুন্দর সমাজ বিনির্মানে সিয়াম সাধনা আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। গরিব দুঃখী অসহায় মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবের উপলব্ধি সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বর্তমান সময়ে করোনা ভাইরাস উপসর্গের মধ্যে লকডাউন এর ফলে আমাদেরকে কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। বিত্তবান হৃদয়বানরা যার যার অবস্থান থেকে সাধ্যমত সহায়তা করতে উদ্যোগী হওয়া এ সময়ে ঈমান ও মানবতার দাবি।
গাজীপুর থাপ্পড়ের প্রতিশোধ নিতে বাড়ির মালিকের শিশুপুত্রকে অপহরণ করে হত্যা করেছে ভাড়াটিয়া। ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য অপহরণকারী পরিচয়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণও দাবি করা হয়েছিল। শনিবার রাতে টাকা দেয়ার ফাঁদ পেতে মূলহোতা সাগর হোসেনকে আটক করে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহানগরীর কোনাবাড়ী থানার পারিজাত আমতলা এলাকার একটি গেঞ্জির ঝুট গোডাউন থেকে শিশুটির লাশ মরদেহ উদ্ধার করে র্যাব ১।
নিহত শিশু আলিফ হোসেন (৫) কোনাবাড়ি থানার পারিজাত এলাকার বাসিন্দা ফরহাদ হোসেনের ছেলে। আটক সাগর হোসেন (১৯) নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার পদিপাড়া গ্রামের রফিক উল্লাহর ছেলে। র্যাব ১ এর গাজীপুর ক্যাম্পের কমান্ডার (লে. কমান্ডার) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, শিশু আলিফ হোসেন গত ২৯ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিখোঁজ হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে শিশুর দাদা রাহামুদ্দিনের মোবাইলে ফোন করে আলিফ হোসেনকে অপহরণ করে অজ্ঞান অবস্থায় করে রাখা হয়েছে জানিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করে অপহরণবারীরা। মুক্তিপণের টাকা না দিলে শিশুটিকে হত্যার হুমকি দেয়। এরপর অপহরণকারীরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়।
শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে অন্য একটি মোবাইল নম্বর থেকে আবারও ফোন দিয়ে আলিফের পরিবারের কাছে মুক্তিপণের টাকা দাবি করেন অপহরণকারীরা। শিশুটির বাবা টাকা নিয়ে অপহরণকারীদের কধামত বিভিন্ন জায়গায় যান। কিন্তু সামনাসামনি না হয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। একপর্যায়েয় আলিফ হোসেনের বাবা ঘটনাটি র্যাবকে জানায়। পরে র্যাব ১ সদস্যরা শনিবার রাতে টাকা দেওয়ার জন্য ফাঁদ পেতে সাগরকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ফরহাদ হোসেনের বাড়ির তিনতলার একটি গোডাউন থেকে শনিবার রাতে আলিফ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র্যাবের কাছে সাগর স্বীকার করছে, তিন বন্ধু মিলে তারা ফরহাদ হোসেনের বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্লাটে ভাড়া থেকে গার্মেন্টে চাকরি করত। বাড়ির ছাদে উঠে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা এবং উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করায় এক সপ্তাহ আগে বাসার মালিক শিশুটির বাবা সাগরের রুমমেট জুয়েল আহমেদ ওরফে সবুজকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দেয়। ওই থাপ্পড়ের প্রতিশোধ এবং দ্রুত অনেক টাকার মালিক হওয়ার স্বপ্নে বাড়ির মালিকের প্রতি ক্ষোভ থেকে প্রতিশোধ নিতে সাগর ও সবুজ মিলে শিশু আলিফকে হত্যা এবং অপহরণের নাটক সাজিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন আলিফকে ডেকে ঘরে নিয়ে আসে এবং খেলার ছলে বাসার ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে সবুজ গলা টিপে ধরে এবং সাগর মুখ চেপে ধরে শ্বাস রোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে লাশ একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর করে বাসার পাশের রুমে ঝুটের গুদামের ভেতর রেখে দেয়। ওই রাতে বানায় থেকে পরদিন সকালে স্বাভাবিকভাবে বাসা থেকে বের হয়ে ঢাকায় চলে যায় এবং আসামিরা বিভিন্ন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ভিকটিমের বাবার মোবাইল ফোনে কল করে অপহরণের কথা জানায় এবং মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। সবুজ পলাতক রয়েছে। সুত্রঃ কালের কন্ঠ
রংপুরের পীরগাছায় উপসর্গ ছাড়াই দুই জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.সানোয়ার। তিনি জানান, আক্রান্তদের একজন পুরুষ ও অন্যজন নারী। দু’জনের তেমন কোনো উপসর্গ ছিল না।
আক্রান্তদের মধ্যে পীরগাছা থানায় কর্মরত এক উপ-পরিদর্শক(এসআই) ও ১৫ বছর বয়সী কিশোরী রয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ডা. সানোয়ার জানান, সরকারের গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণার পর থেকে বাইরে থেকে মানুষের আসার সুযোগ ছিল কম। তাছাড়া এর আগে এ উপজেলায় কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। আক্রান্ত ওই কিশোরী বাড়িতে ছিলেন। তার বাড়িতে পরিবারের লোকজন ছাড়া অন্য কেউ যাতায়াত করেননি। উপ-পরিদর্শকও এক বছর ধরে এই থানায় কর্মরত। কীভাবে এই দুই জনের শরীরে কোভিড-১৯ পজেটিভ আসলো সেটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, কেননা কারোরই তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় নাই।
জানাগেছে সতর্কতার অংশ হিসেবে ২ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মীরসহ ১০১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এদের মধ্যে উপ-পরিদর্শক ও কিশোরীর শরীরে করোনাভাইরাস পজেটিভ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চত করা হয়।
রংপুরের পীরগাছায় উপসর্গ ছাড়াই দুই জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.সানোয়ার। তিনি জানান, আক্রান্তদের একজন পুরুষ ও অন্যজন নারী। দু’জনের তেমন কোনো উপসর্গ ছিল না।
আক্রান্তদের মধ্যে পীরগাছা থানায় কর্মরত এক উপ-পরিদর্শক(এসআই) ও ১৫ বছর বয়সী কিশোরী রয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ডা. সানোয়ার জানান, সরকারের গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণার পর থেকে বাইরে থেকে মানুষের আসার সুযোগ ছিল কম। তাছাড়া এর আগে এ উপজেলায় কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। আক্রান্ত ওই কিশোরী বাড়িতে ছিলেন। তার বাড়িতে পরিবারের লোকজন ছাড়া অন্য কেউ যাতায়াত করেননি। উপ-পরিদর্শকও এক বছর ধরে এই থানায় কর্মরত। কীভাবে এই দুই জনের শরীরে কোভিড-১৯ পজেটিভ আসলো সেটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, কেননা কারোরই তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় নাই।
জানাগেছে সতর্কতার অংশ হিসেবে ২ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মীরসহ ১০১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এদের মধ্যে উপ-পরিদর্শক ও কিশোরীর শরীরে করোনাভাইরাস পজেটিভ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চত করা হয়।
করোনা ভাইরাসের কারণে কাঁপছে বিশ্ব। এমন পরিস্থিতিতে বন্ধ রয়েছে বিশ্বের প্রায় সব দেশের কল-কারখানা। কাজ না থাকায় ঘরেই বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন বাংলাদেশের রেমিটেন্স যোদ্ধারা। ফলে এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম খাত রেমিট্যান্সের ওপর। করোনা সঙ্কটের কারণে এবার উল্লেখযোগ্য হারে রেমিট্যান্স কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, এপ্রিল মাসে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ১০৮ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। গত বছরের এপ্রিলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৪৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সে হিসেবে গত বছরের একই মাসের চেয়ে এপ্রিলে রেমিট্যান্স আহরণ প্রায় সাড়ে ২৪ শতাংশ কমেছে।
আগের মাস মার্চে রেমিট্যান্স আসে ১২৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে রেমিট্যান্স কমেছে ১৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। এদিকে ফেব্রুয়ারি, মার্চ এবং সর্বশেষ এপ্রিলে রেমিট্যান্স কমলেও অর্থবছরের দশমাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের দশ মাসে (জুলাই- এপ্রিল) রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে এক হাজার ৩৩০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। আলোচ্য সময়ে রেমিট্যান্স ১৫৭ কোটি ডলার বেড়েছে।
নাহিদ আহমদ : কাতারে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে প্রায় তিন হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি আক্রান্ত হয়েছেন। এত বেশি বাংলাদেশি আক্রান্ত হাওযায় আতঙ্ক বিরাজ করছে কমিউনিটিতে। ২৫ লাখ জনসংখ্যার ছোট দেশটিতে ৪ বাংলাদেশিসহ মারা গেছেন ১২ জন। আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ।
কাতার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের ১৮ ভাগই প্রবাসী বাংলাদেশি। সংখ্যার হিসাবে প্রায় ৩ হাজার। এ অবস্থায় আতঙ্কিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। রয়েছে খাদ্য সংঙ্কটও। করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকা প্রবাসীদের কেউ কেউ চাকরিও হারিয়েছেন। এসব প্রবাসীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রবাসী বিভিন্ন সংগঠন।
নিউজ ডেস্কঃ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে মানুষকে সুরক্ষায় লকডাউন ঘোষণা করে সিলেটে জেলা প্রশাসন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বেরোতে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। যানবাহন চলাচলেও রয়েছে বাধা নিষেধ। কিন্তু এ অবস্থায় জেলার ব্যাংক পাড়া লোকে লোকারণ্য।
কেবল ব্যাংক নয়। নগরের কাঁচা বাজার ও সবজি মার্কেটেও মানুষের ভিড় দেখা গেছে। করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষায় শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার কথা থাকলেও এর প্রতিফলন হচ্ছে না ব্যাংক পাড়া ও হাট-বাজারে।
রোববার (০৩ এপ্রিল) সিলেটের সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংকে মানুষের ভিড় লক্ষ্যণীয় ছিল। এছাড়া সওদা কিনতে সড়কের পাশের বাজারগুলো ছিল যেন লোকে লোকারণ্য।
এদিন ব্যাংক খোলার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন গ্রাহকরা। কথা বলে জানা গেছে, অনেকে ব্যাংক খোলার নির্ধারিত সময় সকাল ১০টার আগেই লাইনে এসে দাঁড়ান।
ব্যাংকের মানুষের জটলাসরেজমিনে দেখা যায়, নগরের বারুতখানা ডাচ বাংলা ব্যাংকে গ্রাহকদের উপচেপড়া ভিড়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে গ্রাহকরা সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা উত্তোলনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। একই অবস্থা ছিল নগরের তালতলা ইসলামী ব্যাংকে। গ্রাহকরা ফুটপাতে লাইনে অপেক্ষমাণ থাকতে দেখা গেছে। আর নগরের জিন্দাবাজার সোনালী ব্যাংকের করপোরেট শাখায় প্রতিটি সেবা শাখায় রীতিমত লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। গ্রাহকদের ভিড় সামলাতে সংশ্লিষ্টদের হিমশিম খেতে হয়।
এছাড়া নগরের লালদিঘীর পাড় ও কালিঘাট এলাকায় নিত্যপণ্য কিনতে ছিল সহস্রাধিক মানুষের আনাগোনা। শারীরিক দূরত্ব মানা দূরে থাক, অধিকাংশ লোকজন নিজেদের সুরক্ষায় মুখে মাস্কও ব্যবহার করেননি। ফলে মানুষকে শারীরিক দূরত্ব মানাতে প্রশাসনও যেন অপারগ হয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, সিলেটে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এরপরও শারীরিক দূরত্ব না মানা বা ঘরে না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। ব্যাংক বা হাট-বাজার বলেন, এদের মধ্যে কেউ একজন আক্রান্ত হলে আরও ১০ জন সংক্রমিত হবেন। এভাবে চলতে থাকলে করোনা মোকাবিলার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে। সুত্রঃবাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আশফাক জুনেদঃ দীর্ঘ এক বছর পর আমাদের নিকট পবিত্র রমজান এসে পৌঁছেছে।ত্যাগ ও সংযমনের মাস হচ্ছে রমজান।এই মাস যেমন আসে রহমতের বার্তা নিয়ে আবার তেমনি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য আসে চিন্তার কারণ হয়ে।
রমজানে বিশেষ করে আমাদের সিলেটে মেয়ের বাড়িতে ইফতারি পাঠানোর একটি প্রথা প্রচলিত রয়েছে ।এই মাসে মেয়ের শশুর বাড়িতে হরেক রকম খাবার দাবার পাঠাতে হয়। সেটা একবার নয় কয়েকবার। বহুকাল থেকে আমাদের সমাজের প্রচলিত প্রথা এটি।এর অন্যতা হলে মেয়েকে শশুর বাড়িতে খোঁটা পেতে হয়।
এই ইফতারি পাঠানো বিত্তবানদের জন্য সহজ হলেও অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।রমজান আসার সাথে সাথে কপালে চিন্তার বাঝ পড়ে এসব পরিবারের মাঝে।শশুর বাড়িতে মেয়ের মান-সম্মান রক্ষা করতে কষ্ট করে হলেও মেয়ের বাড়িতে হরেক রকম ইফতার সামগ্রী পাঠান এসব পরিবারের কর্তারা।
কিন্তু বিগতে বছর গুলোতে কষ্ট করে ইফতারি পাঠানো গেলেও এবার তা যে একেবারেই অসম্ভব ।সারাবিশ্বের ন্যায় করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে থমকে আছে বাংলাদেশেও।আর এই ভাইরাস ঠেকাতে দেশে চলছে সাধারণ ছুটি।ফলে অঘোষিত লকডাউন চলছে সারাদেশে।যার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দেশের সিংহভাগ মানুষ।ঘরে খাবার যোগাতে যেখানে রীতিমত যুদ্ধ করতে হচ্ছে সেখানে এই রমজানে মেয়ের বাড়িতে ইফতারি পাঠানো তাদের কাছে মরার উপর খাড়ার ঘা।কেমন করে মেয়ের বাড়িতে ইফতারি পাঠাবেন এমন চিন্তায় চিন্তিত তারা।এই কঠিন পরিস্থিতিতে দার দেনা করাও সম্ভব না।তাই দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সরকারি ভাবে এই ‘ইফতারি’ প্রচলন বন্ধ করা হোক।এতে করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার এই ‘ইফতারি’ পাঠানোর নামে হরেক জাতের খাদ্যসামগ্রী পাঠানো থেকে রেহাই পাবে এবং সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়া থেকেও রক্ষা পাবে।সরকারি ভাবে নিষেধ হলে মেয়ের বাড়ি থেকেও খোঁটা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।তাই এইদিকগুলা বিবেচনা করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করে অনতিবিলম্বে এই ইফতারির প্রচলন বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।
কক্সবাজারের ইনানীতে কাঁঠালের ভেতরে ইয়াবা পাচারকালে দুই রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদস্যরা। শনিবার (২ মে) সন্ধ্যা সাতটার দিকে উখিয়ার ইনানীর মাদারবনিয়া চেপটখালী এলাকায় থেকে ৬ হাজার পিস ইয়াবা তাদের আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড চট্টগ্রাম পূর্ব জোনের স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অভিনব পদ্ধতিতে কাঁঠালের ভেতরে ইয়াবা বহন করে ঢাকায় পাচার করছে, এমন খবরে কোস্ট গার্ডের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এসময় দুই রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কাঁঠালের ভেতরে থেকে ৬ হাজার পিস ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়। আটকদের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দিয়ে উখিয়া থানায় সোর্পদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ডের এই কর্মকর্তা। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
নিউজ ডেস্কঃ মুগদা জেনারেল হাসপাতাল থেকে শনিবার (২ মে) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ৯ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তাদের করতালি দিয়ে ব্যতিক্রমী বিদায় জানান হাসপাতালটির চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মকর্তারা। সুস্থ হওয়া রোগীরা চলে যাওয়ার পর দুজন করোনা আক্রান্ত রোগী সাংবাদিকদের দেখে হাসপাতাল থেকে নিচে নেমে আসেন। অভিযোগ করেন, কেউ মারা গেলে দুই তিন ঘণ্টায়ও লাশ সরানো হয় না বেড থেকে। রোগীদেরও অবহেলা করা হয় বলে অভিযোগ তাদের। যদিও হাসপাতালটির চিকিৎসকরা বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ্ধতি অনুসরণ করে মৃতদেহ সরানো হয়। অন্যদিকে করোনার চিকিৎসা প্রসঙ্গে ধারণা না থাকায় কোনও কোনও রোগী অভিযোগ করছেন। শনিবার বেলা সোয়া ১২টার দিক থেকেই মুগদা জেনারেল হাসপাতালের গেটের সামনে জড়ো হন চিকিৎসকরা। তারা প্রস্তুতি নেন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা রোগীদের স্বাগত জানাতে। একটু ভিন্নভাবে বিদায় জানাতে। গেটের সামনে আসেন হাসপাতালটির অধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক শাহ গোলাম নবী, করোনার ফোকাল পারসন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্য চিকিৎসকরা। সে সময়ই হাসপাতালের ওপর থেকে সাংবাদিকদের উদ্দেশে চিৎকার করতে থাকেন দু-তিনজন। তারা বলতে থাকেন, ‘তাদের ঠিক মতো চিকিৎসা হচ্ছে না, অবহেলা করা হচ্ছে।’ ৯ জন তখন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আনন্দিত হয়ে। অন্যদিকে তাদের চলে যাওয়ার পর দুজন ওপর থেকে নিচে নেমে আসেন। সাংবাদিকদের সামনে নানান অভিযোগ তুলে ধরেন।
অভিযোগকারীদের মধ্যে একজন আহসানুল্লাহ ফরিদ। তিনি বলেন, ‘গত মঙ্গলবার আমার পাশের বেডে একজন মারা যান রাত ৯টার দিকে। আমরা অনেক চিৎকার-চেঁচামেচি করলাম, নার্সদের জানালাম একজন মারা গেছেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুজন আসলেন, তারা মরদেহ দূর থেকে দেখে চলে গেলেন। এরপর আর কোনও খবর নেই কারও। রাত বাড়ছে কেউ আসছে না। আমার বেডের পাশে লাশ পড়ে আছেন, বোঝেন আমার মানসিক অবস্থা কী হতে পারে। আমি যে খাবো, সেটাও পারছি না। লাশ পাশে রেখে কী খাওয়া সম্ভব। পরে রাত আড়াইটার দিকে লাশ সরানো হলো। এরপর আমি খেলাম।’ আহসানুল্লাহ ফরিদ বলেন, ‘কেউ মারা গেলে এমন ঘটনা ঘটে, তিন-চার ঘণ্টায়ও কেউ কেউ লাশ সরাতে আসেন না। শুক্রবার দিবাগত রাতে আমার পাশের ওয়ার্ডে একজন মারা যান। শনিবার সকাল ৯টার দিকে টয়লেটে যাওয়ার সময় দেখি সেখানে করিডোরে ট্রলিতে লাশ। সেই লাশ এখনও সরানো হয়নি। প্রতিবার টয়লেটে যাওয়ার সময় সবাইকে এই লাশের পাশ দিয়েই যেতে হচ্ছে।’ এই প্রতিবেদন লেখার সময় শনিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মরদেহটি সৎকারের কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন আহসানুল্লাহ ফরিদ। অবহেলার অভিযোগ করে আহসানুল্লাহ ফরিদ বলেন, ‘চিকিৎসক, নার্সরা ওয়ার্ডের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলেন। পিপিই, মাস্ক পড়ার পরও তারা ভেতরে আসেন না। অথচ তারা তো ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে আরেকটু কাছে এসে আমাদের কথা শুনতে পারেন। দূর থেকে কী বলেন, না বলেন কিছুই পরিষ্কার বোঝা যায় না। তারাও আমাদের কথা ঠিক মতো বোঝেন কি না সন্দেহ আছে। নার্সরা ওষুধ রোগীদের দিকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে চলে যান। কারও অক্সিজেনের দরকার হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডেকেও কাউকে পাওয়া যায় না। অথচ এখানে সবারই মৃত্যু হচ্ছে শ্বাসকষ্টে। সময় মতো অক্সিজেনে দেওয়া গেলে অনেককে হয়তো বাঁচানো যেতো।’
এদিকে হাসপাতালের গেটে শামসুন্নাহার নামের এক নারী আহাজারি করতে থাকেন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে। তিনি বলেন, ‘আমার ঠাণ্ডা লেগেছিল, আবার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। আমার মনের সন্দেহ হওয়ায় পরীক্ষায় করেছি। পরের দিন আমাকে মেসেজ দিয়ে জানিয়েছে আমার করোনা হয়েছে। প্রথম পুলিশ আমাকে ফোন দিয়েছে। তারা (পুলিশ) বলল, আপনি ডাক্তারের নাম্বার দিচ্ছি, তাদের ফোন দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে আমি ফোন দিলাম সকাল ৯টার দিকে, যে ফোন ধরলো সে বললো আপনি ১১টার দিকে ফোন দিয়ে আসেন। আমি ১১টার দিকে ফোন দিলাম। তখন যে ফোন দিলাম, তখন বলল অন্য হাসপাতালে যান।’ শামসুন্নাহার বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। একটা রুমের মধ্যে ৫ জন মানুষ থাকি। আমি, আমার ছেলে, তার স্ত্রী আর এক নাতি ও নাতনি। নাতীর বয়স ৫ বছর আর নাতনীর বয়স আড়াই বছর। আমরা ৫টা মানুষ যদি একটা বাসায় থাকি তাহলে কী হবে। যেহেতু করোনা ছোঁয়াচে রোগ। আমার স্বামী বেঁচে নেই। আমি তো কিছু চিনি না। আমি মুগদা হাসপাতাল চিনি, অন্য এলাকা তো না। চিনি এখন আমি কী করবো?’ পরবর্তীতে শনিবার বিকালে সেই নারীর সঙ্গে টেলিফোনে যোগযোগ করা হলে তিনি জানান, ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করে অনেক অনুরোধ করেন তিনি। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শামসুন্নাহার বলেন, আমি ভর্তি হতে পেরেছি, কিন্তু এখানে অনেক ময়লা, পরিষ্কার করার কেউ নাই। আমি নিজে ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করেছি। কোভিড ১৯ ডেডিকেটেড ডক্টর ফোরামের সভাপতি ও হাসপাতালটির চিকিৎসক অধ্যাপক মনিলাল আইচ লিটু বলেন, ‘রোগীদের মধ্যে অনেকে প্রত্যাশা করেন তাদের গায়ে হাত দিয়ে, খুব কাছে গিয়ে ডাক্তাররা চিকিৎসা করবেন। কিন্তু করোনার মতো ছোঁয়াচে রোগের চিকিৎসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিদিষ্ট পদ্ধতি আছে, সেগুলো মেনেই চিকিৎসা করতে হয়। করোনার কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা নেই। করোনা আক্রান্তদের ৮০ শতাংশের কোনও চিকিৎসা লাগে না। এখানে সাপোর্টিং চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেকেন্ডারি ইনফেকশন যাতে না হয় সেজন্য অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। কখনও কখনও নিওমোনিয়া বেশি হলে অক্সিজেন, আইসিইউ সাপোর্ট লাগে, সেগুলো দেওয়া হয়। করোনার জন্য তো কোনও ওষুধ নেই, যেটি দিলে ভালো হয়ে যাবে। রোগীর যে লক্ষণ প্রকাশ পায় সে অনুযায়ী আমরা চিকিৎসা দিয়ে থাকি।’ মরদেহ সরানোর প্রসঙ্গে অধ্যাপক মনিলাল আইচ লিটু বলেন, ‘কেউ মারা গেলে আমাদেরকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ম মেনেই ডিসপোজাল করতে হয়। সৎকারের জন্যও নির্ধারিত নিয়ম আছে, সেগুলো অনুসরণ করতে হয়। নিদিষ্ট সময়, পদ্ধতি মেনেই সকল ব্যবস্থা করতে হয়। তবে আমরা দেখবো, যাতে ওয়ার্ডে অন্য রোগীদের পাশে যেন লাশ পড়ে না থাকে সেটির ব্যবস্থা করতে।’ অধ্যাপক মনিলাল আইচ লিটু বলেন, ‘শুরু দিকে যোগাযোগে কিছুটা সমস্যা ছিল। রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসকদের যোগাযোগের সমস্যা দূর করতে আমরা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ইন্টারকম টেলিফোন বসিয়েছি।যোগাযোগ আরও সহজ করতে আগামীতে রোগীদের ভর্তির সময় ইন্টারকমের নম্বরসহ বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে, যাতে এ নিয়ে সমস্যা না হয়। করোনার এই হাসপাতালগুলো কিন্তু বিশেষায়িত হাসপাতাল, এখানে কিন্তু ডাক্তার বারবার রোগীর কাছে যান না। ডাক্তাররা রাউন্ড দেন, দেখেন কোন রোগীর কী সমস্যা। সেই অনুপাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’ হাসপাতালটির অধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক শাহ গোলাম নবী বলেন, ‘শুক্রবার আমাদের হাসপাতাল থেকে ১১জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আজ ( শনিবার) মোট ৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। চিকিৎসা ঠিক মতো না হলে তো তারা সুস্থ হতেন না। আমাদের চেষ্টার কোনও কমতি নেই। হাসপাতালে এখন ভর্তি আছেন ২৮৯জন। আমাদের সিট খালি না থাকলে তো নতুন করে কাউকে ভর্তি করা সম্ভব না। সেজন্য আমরা অন্য হাসপাতালে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেই।’ সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
অর্থনৈতিক ভিত্তি এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিচারে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে অর্থ বাণিজ্যের সাময়িকী ইকোনমিস্ট, যেখানে করোনাভাইরাস সঙ্কটে সবচেয়ে কম ঝুঁকিতে থাকা দশ দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের নাম।
বিশ্বের ৬৬টি দেশের এই তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে নবম স্থানে, যা চীন ও ভারতের চেয়েও ভালো। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কেবল বাংলাদেশের নামই তুলনামূলক নিরাপদে থাকা দেশের তালিকার শীর্ষ দশে এসেছে।
চীন থেকে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মহামারী যে বড় ধরনের অর্থনৈতিক দুর্যোগ সৃষ্টি করতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে কারও সন্দেহ নেই।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা বন্ধ থাকায় তিন দশকের মধ্যে এবারই প্রথম বছরের শুরুর তিন মাসে অর্থনীতি সঙ্কুচিত হওয়ার তথ্য দিয়েছে চীন সরকার।
ইউরোপ ও আমেরিকায় মহামারীর প্রকোপ শুরু হয়েছে পরে। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের অনেক দেশেই এখনও লকডাউন ওঠেনি। তাদের ক্ষতির তথ্যও সুনির্দিষ্টভাবে আসতে শুরু করেনি।
কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকাসহ শতাধিক দেশ ইতোমধ্যে আইএমএফ এর সহায়তা চেয়েছে। মিশরের মত কোনো কোনো দেশ আগের ঋণ শুধতে না পেরে বেইল আউট চেয়েছে।
ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সের বরাত দিয়ে ইকোনমিস্ট জানিয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উদীমান অর্থনীতির দেশগুলোর বন্ড ও শেয়ার বাজার থেকে গত চার মাসে ১০০ বিলিয়ন ডালেরের বেশি তুলে নিয়েছে। তুলে নেওয়া অর্থের এই অংক ২০০৮ সালের বিশ্ব মন্দার সময়ের তিনগুণ।
ইকোনমিস্ট লিখেছে, কোভিড-১৯ উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে অন্তত তিনভাবে। লকডাউনের কারণে মানুষ ঘরে থাকতে বাধ্য হওয়ায় উৎপাদনও বন্ধ থাকছে। বিশ্বজুড়ে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় রপ্তানি আয় কমে যাচ্ছে। আর বিশ্বের বড় একটি অংশ বেকায়দায় থাকায় বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহেও টান পড়ছে।
এই মহামারী যদি জুলাইয়ের আগেও থিতিয়ে আসে, তারপরও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জিডিপি এবার আইএমএফের গত অক্টোবরের পূর্বাভাস থেকে ৬.৬ শতাংশ কম হবে বলে মনে করছে ইকোনমিস্ট।
সঙ্কট মোকাবেলা করতে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর অন্তত আড়াই ট্রিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হতে পারে বলে ইকোনমিস্টের ধারণা। আর এই টাকা তাদের সংগ্রহ করতে হবে বিদেশ থেকে, অথবা নিজেদের রিজার্ভ ভেঙে চলতে হবে।
ইকোনমিস্ট লিখেছে, করোনাভাইরাসের মহামারীর অভিঘাতে কোন দেশ অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে এবং কোন দেশ তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায় আছে, তা বুঝতে এই তালিকা করেছে তারা। উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর শক্তি আর দুর্বলতার জায়গা বিচার করতে গিয়ে চারটি সূচক ইকোনমিস্ট বিবেচনায় নিয়েছে। এগুলো হলো- জিডিপির শতাংশ হিসেবে সরকারের ঋণ, বিদেশি ঋণ, ঋণের সুদ এবং রিজার্ভ।
করোনাভাইরাস সঙ্কটে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ অবস্থায় থাকা শীর্ষ দশ হল- বতসোয়ানা, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, পেরু, রাশিয়া, ফিলিপিন্স, থাইল্যান্ড, সৌদি আরব, বাংলাদেশ ও চীন।
আর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দশ দেশ হল- ভেনেজুয়েলা, লেবানন, জাম্বিয়া, বাহরাইন, অ্যাঙ্গোলা, শ্রীলঙ্কা, তিউনিশিয়া, মঙ্গোলিয়া, ওমান ও আর্জেন্টিনা।
ইকোনমিস্টের বিচারে ঝুঁকির বিবেচনায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ
৬৬ দেশের এই তালিকায় ভারত ১৮, পাকিস্তান ৪৩ এবং শ্রীলঙ্কা ৬১তম অবস্থানে রয়েছে। সুত্রঃ বিডিনিউজ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে মৌলভীবাজারের১(বড়লেখা-জুড়ি) আসনে নির্বাচনী এলাকার ২৬০০ দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার তার নির্বাচনী এলাকা বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার অসহায় মানুষের বাড়িতে বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। যার মধ্যে চাল, ডাল ও আলু রয়েছে। বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ার উদ্দিন এবং ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব কবিরুজ্জামান চৌধুরীসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের সমন্বয় করেন।
খাদ্যসামগ্রী বিতরণ উপলক্ষে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বিত্তবানদের উদ্দেশ্যে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ও পবিত্র রমজান মাস একই সাথে চলমান থাকায় অসহায় মানুষকে বেশি করে সাহায্য করতে হবে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এটাই সুযোগ। সরকারের পাশাপাশি নিজ নিজ ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রামের গরীব মানুষকে সাধ্যমতো সহায়তা প্রদানের জন্য মন্ত্রী স্থানীয় বিত্তশালীদের প্রতি আহ্বান জানান।
সবাইকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় অতি জরুরি প্রয়োজনে বাইরে গেলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করতে হবে।
ইতিপূর্বে পরিবেশ মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার ৩০০০ এর অধিক অসহায় ও কর্মহীন পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
নিউজ ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের থাবায় বিপর্যস্ত গোটা দুনিয়া। এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দেশে দেশে চলছে লকডাউন-কারফিউ। মুখ থুবড়ে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। ঘরবন্দী হওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে মানুষ। উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়বে। ঝুঁকিতে পড়বে নারী ও মেয়েশিশুর প্রজননস্বাস্থ্য। এছাড়াও এ লকডাউন ছয় মাস অব্যাহত থাকলে ৭০ লাখ অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে ‘ইমপ্যাক্ট অব দ্য কোভিড ১৯ পেনডেমিক অন ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যান্ড এনডিং জেন্ডার বেজড ভায়োলেন্স ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন অ্যান্ড চাইল্ড ম্যারেজ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিড-১৯ এর কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ১১৪টি দেশে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ এবং অনিরাপদ গর্ভপাতের হার বাড়বে। ধারণা করা হচ্ছে, করোনাভাইরাস বিস্তার ঠেকাতে বিভিন্ন দেশের বিদ্যমান লকডাউন ছয় মাস অব্যাহত থাকলে বিশ্বে অতিরিক্ত ৭০ লাখ অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ এবং অতিরিক্ত ৩ কোটি ১০ লাখ সহিংসতার ঘটনা ঘটবে।
ইউএনএফপিএ বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশে পরিবার পরিকল্পনার চাহিদা পূরণে বাধা, স্বাস্থ্যকর্মীদের সংকট বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যথাযথ সেবাদানে বিঘ্ন ঘটতে পারে। অন্যদিকে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে সেবা নিতে যাওয়া নারীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। ইউএনএফপিএর হেলথ সিস্টেম স্পেশালিস্ট দেওয়ান মো. ইমদাদুল হক বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ প্রজননক্ষম (১৫-৪৯ বছর) জনসংখ্যা। এই জনসংখ্যার মধ্যে গর্ভধারণ করে ১৫ শতাংশ। এদের মধ্যে গর্ভকালীন জটিলতায় অস্ত্রোপচারে সন্তান জন্ম দিতে হয় ৫ থেকে ১৫ শতাংশকে। তবে দেশের এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে গর্ভকালীন, প্রসবকালীন এবং প্রসব পরবর্তী সেবা নেয়ার হার কমবে। মায়েরা সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে চাইছেন না। আবার যে নারী কোভিড-১৯ আক্রান্ত, তাকে সেবা দেয়া নিয়েও জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
করোনাভাইরাসের বিস্তারের ফলে বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো তেমন কোনো গবেষণা হয়নি। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর এলাকায় গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনে ধর্ষণ, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও অপহরণের ২৮টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি ধর্ষণের, আটটি যৌতুকের জন্য নির্যাতন, পাঁচটি অপহরণ ও ছয়টি যৌন নিপীড়নের মামলা।
ব্র্যাকের নারী নির্যাতন প্রতিরোধ উদ্যোগের পরিচালক নবনীতা চৌধুরী বলেন, ‘এই সময়ে বিশেষভাবে নারীর অবস্থা বুঝতে যে জরিপ চালিয়েছি সেখানে দেখেছি, মাস্ক এমনকি সাবানের ব্যবহারেও নারী সমান অধিকার পাচ্ছেন না। ৭০ শতাংশ পুরুষ যেখানে মাস্ক ব্যবহার করছেন, নারীর ক্ষেত্রে তা ৩৫ শতাংশ। অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছে, তাই মেয়ের ওপর বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার চাপ বেড়েছে।’ ব্র্যাকের জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩২ শতাংশ বলেছেন, এই সময়ে পরিবারে এবং পাড়ায় নারীর প্রতি সহিংসতা আরও বেড়েছে।
ইউএনএফপিএর প্রতিবেদনে বলা হয়, বাল্যবিবাহ বন্ধের পরিকল্পিত চেষ্টা বিঘ্নিত হবে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের উপপরিচালক সাবিরা নূপুর জানান, করোনাভাইরাসের বিস্তার থামলে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেখা যাবে মেয়ে শিশুদের স্কুলে উপস্থিতি ছেলে শিশুদের চেয়ে কমে গেছে। এরপর যেকোনো উপায়েই হোক মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। ওয়ার্ল্ড ভিশনের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ২১টি বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটেছে।
অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ, গর্ভপাত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের পরিচালক চিকিৎসক মোহাম্মদ শরীফ বলেন, এখন স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দেয়ার যে কার্যক্রম, তা কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে। মানুষ অলস সময় কাটাচ্ছে বলে নারীদের গর্ভধারণের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। সুত্রঃ জাগো নিউজ
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিঃ পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বৃহত্তর ঘুঙ্গাদিয়ার প্রবাসীদের অর্থায়নে প্রায় সাড়ে চারশ পরিবারের মধ্যে ছয় লক্ষাধিক টাকার খাদ্য সামগ্রী পূর্ব ঘুঙ্গাদিয়া, পশ্চিম ঘুঙ্গাদিয়া, মালিগ্রাম ও নয়াগাঁও এর নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে চাউল, ডাল, সয়াবিন তেল, পিয়াজ, আলু, চানা, ময়দা, তরল দুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছিল।
শুক্রবার জুময়া’র নামাজ শেষে খাদ্য সামগ্রী বিতরন অনুষ্ঠিত হয়। সেচ্ছাসেবকরা ট্রাকে করে এসব খাদ্য সামগ্রী বাড়ি বাড়ি পৌছে দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা হুমায়ুন কবির, বিয়ানীবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউদ্দিন, আওয়ামীলীগ নেতা কামরুল হক, ঘুঙ্গাদিয়া সর্ব-মঙ্গলা যুব সমিতির সাধারণ সম্পাদক সামছ উদ্দিন, সাবেক ফুটবলার হারুণ আহমদ, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা কাওছার আহমদ, ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শুক্কুর, সমাজসেবী আব্দুল জলিল, কয়েছ আহমদ, আব্দুল বাছিত, ছবুর আহমদ, আবদুল্লাহ, লিটন আহমদ, আব্দুল হক, আবু তাহের সাজু, জাহেদ আহমদ, সাহেদ আহমদ প্রমুখ।
আমাদের সমাজে রয়েছে এমন কিছু কুসংস্কার যা একটা মেয়ের বাবাকে তিল তিল করে মৃত্যু পথযাত্রীর দিকে ঠেনে নেয়। আমরা একটি নোংরা সংস্কৃতির সমাজে বসবাস করছি ও বুকে ধারন করে লালন করছি, যে সমাজে আমরা মুখে বলি যৌতুক একটি অপরাধ, কিন্তু যৌতুকের চেয়ে বেশি অর্থ অপচয় করতে হচ্ছে একটা মেয়ের বাবাকে।বিয়ের সময় ৩/৪ লক্ষ্য টাকার ফার্নিচার ১ লক্ষ্য টাকার মত রুমের আসবাব পত্র।
বিয়ের খানা খরচ ২ লক্ষাধিক, বিয়ের পর মেয়ের শশুর বাড়ির চৌদ্দ গোষ্টিকে দাওয়াত খাওয়ানোর সঙ্গে ১৪ গৌষ্টির জন্য কাপড় দেয়া।বিয়ের সময় ৩/৪ লক্ষ্য টাকার ফার্নিচার ১ লক্ষ্য টাকার মত রুমের আসবাব পত্র।
এমন কতোই না কুসংস্কার আমাদের সমাজে চলমান। এরই মধ্যে ইফতারি নামের এক কুপ্রথা অন্যতম।
“শ্বশুরবাড়ীর ইফতারি সামাজিক বন্ধন নয়, বরং সামাজিকতার নামে একটা মেয়ের বাবার উপর এক নীরব অভিচার”যুগ যুগ ধরে আমাদের সমাজে প্রচলিত হয়ে আসছে শ্বশুর বাড়ীর ইফতারি নামক এক সামাজিক নীরব অভিচার। শুধুমাত্র অভিচারই নয় একটা প্রচলিত কুসংস্কারও বটে। তারই ধারাবাহিকতায় যুগ যুগ ধরে এই নীরব অভিচারের বলি হয়ে আসছে একটা মেয়ের বাবা বা তার পরিবার।
একমাত্র ভুক্তভোগী পরিবার জানে এই কুসংস্কারের বলি হয়ে তারা কতটা জর্জরিত। জন্মের পর থেকে একটা মেয়ে পরিপূর্ণভাবে তার পরিবারের উপর নির্ভরশীল। বিয়ের আগ পর্যন্ত তার যাবতীয় খরচ তার পরিবারই বহন করে তাকে। ১৮ / ২০ টা বছর ভরণ পোষণ করে কোনরূপ প্রতিদান না নিয়েই একজন বাবা তার মেয়েকে পাত্রস্থ করে।
সেই বিয়েতে মেয়ের বাবাকে/অভিভাবক কে জামাই বাড়ির কত রকম আবদার নীরবে সহ্য করে মিটাতে হয়। আর শুধুই কি এখানে শেষ একটা মেয়ের বিহাহ সম্পন্নের পর আরো কত যুগ যে কতরকমের আবদার মেটাতে হয়, তার কোন সীমারেখা নেই।
বিয়ের সময় ছেলে পক্ষ কে ধুমধাম করে খাওয়াতে হবে তা জেনো বাধ্যতামূলক। সাথে ভালো ফার্নিচার ও দিতে হবে। ফার্নিচার বলতে রান্নাঘরের থালাবাসন থেকে শুরু করে সোফা,ফ্রিজ, আলমারি, পালং,চেয়ার-টেবিল,ড্রেসিং টেবিল, বেড আরও অনেক কিছু।এক কথায়, একটা ঘর সাজানোর জন্য যা যা লাগে সেই সব কিছু যেন ছেলের বিয়েতেই শশুর বাড়ি থেকে মূলধন হিসেবে নিতে চায়। আর এটা আমরা বিন্দু মাত্র লজ্জিত হয়ে চাইনা,বরং মনে করি এটা আমাদের অধিকারের মধ্যে পড়ে।
আর তাই বিয়ে করে শশুরের কাঁধে চড়ে সভ্যতার নব যাত্রা শুরু করতে চায়। সাধ্য অনুযায়ী বরপক্ষের এসব আবদার মিটিয়ে দিয়েই বিয়ে হয়ে যায়।তাহলে কি বিয়ে হয়ে গেলেই মেয়েপক্ষ স্বস্তির নিঃস্বাস নিতে পারছে?মোটেই নাহ!
বরং বিয়ের প্রাথমিক ধাপ শেষ করে স্ব জ্ঞানে বাকি জীবন সিজন ভিত্তিক অভিচার মেয়ে পক্ষকে সহ্য করে যাওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। আর সেই বন্দোবস্ত অনুযায়ী আপনাকে চলতেই হবে। আপনার বিভিন্ন উপঢৌকন নির্ভর করবে আপনার মেয়ে সুখে থাকার অবস্থা। মেয়ের সুখের জন্য মেয়ের অভিভাবক রা দিনের পর দিন শশুর বাড়ির এইসব জুলুম নীরবে সহ্য করেই যায় আর যাচ্ছেই এখনকার ঐ আধুনিক সমাজেও।
ইফতারি, নাইওরী,আম কাঠালী বাবার/পরিবারের বুকে সভ্য সমাজে অসভ্যতার গুলা বারুত… আমরা আধুনিক আর সভ্যতার স্লোগান দিচ্ছি, তবে মেয়ের বাবার প্রতি এই অভিচার কেন? রমজান মাস আর সিজন ভিত্তিক নাইওরীর সময় হলে বাবার বা পরিবারের চিন্তা বাড়তেই থাকে। মেয়েকে/বোন কে কিভাবে ইফতারি দেবে, কিভাবে ইফতারি/আম কাঠালী দেবে? ভালো করে ইফতারি /আম কাঠালী না দিলে মেয়েকে শশুরবাড়ি আর আশপাশের কটুকথা আর কতপ্রকার অসামাজিক অত্যাচার নীরবে সহ্য করতে হবে। এক রমাযান মাসেই ২ বার ইফতারি আসা চাই। তাও আবার যেমন তেমন ইফতারি না।
আশপাশ যেভাবে জানে সেইভাবে আনত হবে। গর্ব করে যাতে আশপাশে বলতে পারা যায় এমন করে আনতে হবে। একটু কম হলেই মেয়ের কপালে বাকপন্ডিতার আঘাত আঘাত আর কালবৈশাখির ঝর অনিবার্য। এমন কি উদাহরণ দিয়ে বলতে থাকে, অমুকের ছেলের বউর ঘর ভর্তি ইফতারি এসেছে। সারাটা গ্রাম বিলিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমি আমার আত্নীয়কেই দিতে পারিনি। লজ্জায় আমি মুখ দেখাতেই পারছিনা। এরকম নানা কথা কোন কোন পরিবারে ছেলের বউকে শোনতে হয় প্রতিনিয়ত। কিন্তু কেন এই অসভ্যতা আর অবিচার? প্রশ্ন সচেতন মহলের। প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলেও তা পরিহার হচ্ছেনা এটাই সত্য।
এইসব ইফতারি কয়টা পরিবার স্বাচন্দে তার মেয়ের বাড়ি দিয়ে থাকে, হাতেগুনা কয়েক টা পরিবার পরে শুধুমাত্র মেয়ের/বোনের মুখ রক্ষার্থে সামাজিক এই কুপ্রথার ভার অনেক গুলা পরিবার অনাহাসে বয়ে যাচ্ছে। কোনরূপ আনন্দ ছাড়াই মেয়ে পক্ষকে যবাই হয়ে যাচ্ছে। সবচাইতে বেশী নির্মমতার স্বীকার সমাজের দারিদ্র্য ও মধ্যবিত্ত পরিবার গুলা। দারিদ্র্য পরিবার গুলা মেয়ের সুখের জন্য সুদে টাকা এনে হলেও মেয়ের বাড়ি ইফতারি দিতে হয়,বাধ্য। শশুর বাড়ী যখন ইফতারি খাওয়া আর বিতরণে ব্যস্ত,হয়তো সেই রাতে একটা মেয়ের বাবা চোখেরজলে বালিশ ভিজাচ্ছে।কিভাবে সে টাকা পরিশোধ করবে। সেই টাকার চিন্তা শেষ হতে না হতেই দেখা যায় আরেকটা আম-কাঠালী দেওয়ার সময় হয়ে গেছে। উফফফ, কি নির্মমতা! এতে অনেকেই গৃহহারা ও হচ্ছেন বলে দেখা যাচ্ছে সচরাচর। অনেকেই মেয়ের শ্বশুর বাড়ি ইফতারি দিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও ইতিহাস সাক্ষি দিচ্ছে৷ ব্যর্থ হয়ে কি আর ঘটনা এখানেই শেষ? মোটেও না! এই ব্যর্থতার প্রতিদান আত্মহত্যার মাধ্যমে দিতে হয়েছে কতশত তরুনীকে। সেদিন এমনই এক তরুনীর পরিবারের সাথে কথা হলো। আর মধ্যবিত্ত পরিবার তো নিজের সম্মান রক্ষার্থে নিজে এক মাস কষ্ট করে থাকবে।
তবুও মেয়ের বাড়ি ভালো করে ইফতারি দিতে হবে।না হলে কত লোক লজ্জায় তাদের আর তাদের মেয়ের কপালে থাকবে অজানা কতশত ঝড়। শুধু কি ইফতারি দিয়েই মেয়ে পক্ষ রেহাই পেয়ে যাচ্ছে।নাহ!। রমজান পরেই শুরু হয় সিজন ভিত্তিক বিভিন্ন নাইওরীর পালা। একটার পর একটা নাইওরী চলতেই আছে। আম কাঁঠাল নাইওরী,শীতকালীন পিঠা নাইওরী আরও অনেক কিছু। বিভিন্ন বিশেষ দিনে আরও কত কিছু ছেলের বাড়ি পাঠাতে হয়। হায় এ কেমন অভিচার? আপনি একটা মেয়েকে বিয়ে করেছেন নাকি আপনার ১৪গুষ্ঠীর খাওয়া দাওয়ার দায়িত্ব মেয়ের বাড়ির সাথে বন্দোবস্ত হয়েছে? সমাজের কিছু কিছু ভিত্তবান মানুষের বিলাসিতা বাকি হাজার টা পরিবারের সুখ জীবন থেকে কেড়ে নিচ্ছে। তাদের একেক টা বিলাসী কর্মকাণ্ড পরবর্তী হাজার পরিবারের নির্মমতার কারণ হচ্ছে। অনেকে বলে থাকেন এসব ইফতারি নাইওরী দিলে সামাজিক সম্পর্ক বাড়ে। পারস্পারিক মায়া মমতা বাড়ে। বাহ,এক পক্ষ সারা জীবন দিতেই আছে
সারা জীবন খেয়েই যাচ্ছেন। এতে সম্পর্ক বৃদ্বি হচ্ছেনা।বরং এই দেওয়ার অনন্তরলে লুকিয়ে থাকে হাজার হাজার অশ্রু আর মেয়ের জামাই বাড়ির প্রতি নীরব ঘৃণার জন্মাচ্ছে। যা মুখ ফুটে বলা হচ্ছেনা। আসুন, আপনার সিজন ভিত্তিক একদিনের নাইওরী আর ইফতারি খাওয়ার আনন্দ করে অন্য পরিবারের সারাটা মাস বছরের চিন্তার কারণ না হই। আপনি মেয়ে কে নিয়ে সুখে থাকুন,আর মেয়ের পরিবার কে এই সামাজিক অত্যাচার থেকে মুক্তি দিয়ে একটু শান্তিতে থাকতে দিন। একটা বাবার মেয়েকে নিজের মেয়ে ভাবুন।
একবার চিন্তা করুন অন্তত এই বাবার এসব দেওয়ার সামর্থ্য কি আছে? নাকি আমাদের সমাজের চলতি কুপ্রিথার স্বীকার হয়ে বাধ্য হয়ে দিচ্ছে। অনেকেই এটা আমাদের সভ্যতা বলেও মনে করেন। কিন্তু আসলেই আমাদের সমাজের এটা কোন সভ্যতা না। বরং এটা সভ্য সমাজের জন্য একপ্রকার অসভ্যতা। আর ইসলামেও এ ব্যাপারে কোন বাধ্যতামূলক কিছু বলা হয়নি বরং অধিকার সংরক্ষনের কথা বলেছে
আবূ শুরাইহ্ খুওয়াইলিদ ইবনে আমর্ খুযায়ী (রা)বলেন,নবী সাঃ বলেছেন,”হে আল্লাহ! আমি লোকদেরকে দুই শ্রেণীর দুর্বল মানুষের অধিকার সম্বন্ধে পাপাচারিতার ভীতিপ্রদর্শন করছি,১) এতিম ও২) নারী।”ইবনু মাজাহ,হাঃ৩৬৭৮ যে ইফতারি দিতেই হবে। সুতরাং আসুন এই ইফতারি নামক কুপ্রথা পরিহার করি। সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই ইফতারি নামক কুপ্রথার কারনে কোন বোন কটু কথা শুনবে। আর কোন বাবা নীরবে অত্যাচারিত না হবে।
লেখক মোঃআব্দুর রহমান সভাপতি মানব কল্যান ফাউন্ডেশন বড়লেখা মৌলভীবাজার ।
করোনাভাইরাসের কারণে যখন শ্রমিক সংকঠে ভোগছিল মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় হার্ভেস্টারর বোরো চাষীরা ঠিক তখনই দু’টি কম্বাইন হার্ভেস্টার (ধান কাটার যন্ত্র) উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার (১ মে) দুপুরে বন, পরিবেশ ও জলবায়ূ পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এমপি ঢাকা থেকে মুঠোফোনে কৃষকও জনতার সাথে কথা বলে হার্ভেস্টার ক্রেতাদের হাতে চাবি পৌঁছে দেন।
এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরুল হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ মোঈদ ফারুক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অসীম চন্দ্র বনিক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাস, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রনজিতা শর্মা, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ও বিআরডিবি’র চেয়ারম্যান এম এ সালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও অসীম চন্দ্র বনিক বলেন, ভিয়েতনামের তৈরি ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের এ কম্বাইন হার্ভেস্টার একেকজন কৃষক পেয়েছেন ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকায়। বাকী ১৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (৭০%) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভর্তুকী প্রদান করেন। ভর্তুকী মূল্যে উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের নিত্যানন্দ দাস ও বাছিরপুর গ্রামের মো. শাহাজাহান হার্ভেস্টার গুলো ক্রয় করেন।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব সোয়েব আহমেদ উনার নিজের ফেইজবুক আইডি তে এরকম একটি পোস্ট করেছেন যা রিতীমত ভাইরাল হয়েছে। দৈনিক বড়লেখার পাঠকের জন্য হুবহু তা তুলে ধরা হলোঃ-
জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার ১০ বছর হতে চলছে। বড়লেখা সদর ইউনিয়ন ও উপজেলা বাসীর পবিত্র ভোট ও অকৃত্রিম ভালোবাসায় সর্বোপরি আল্লাহতালার অশেষ কৃপায় তিনবার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ আপনারা করে দিয়েছেন। প্রতিদিনই জনগণের সুখ-দুঃখের সমস্যা নিয়ে একজন জনপ্রতিনিধির পথ চলা ,পাশা পাশি গ্রামীণ রাস্তা ঘাট, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়ন, গ্রাম্য সালিশ, বিচার গ্রাম আদালত পরিচালনা করা এবং সরকার প্রদত্ত সকল আদেশ নির্দেশ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় (বয়স্ক, বিধবা,প্রতিবন্ধী,মাতৃত্বকালীন ভাতা, ভিজিডি ভিজিএফ) সহ আরো অন্যান্য কাজ বাস্তবায়ন করা। জনপ্রতিনিধিদের অফিস টাইম বলতে কিছু নেই, সকাল থেকে শুরু করে রাতের ঘুমানোর আগ পর্যন্ত, জনগণের নানা সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকা। বর্তমানে এই করোনা পরিস্থিতির লকডাউন এর মাঝে যে বিষয়টি নিয়ে লিখব বলে মনের মাঝে তাহা হল, আজ দশ বছর যাবত প্রতিদিন ঘুম ভাঙ্গে সকালে জনগণের ডাকে, বা সকাল হলেই আর ঘুম হতো না , শুধু মনে হয় কেউ যেন ডাকছে। প্রতিদিনই সকালে দশ থেকে বিশ জন নানা বয়সী পুরুষ মহিলা ড্রইং রুমে ও বারান্দায় বসে থাকতেন। অনেকের অনেক রকমের আর্জি, কেউবা প্রতিবেশীর সাথে ঝগড়া, কারোর দাম্পত্য কলহ, কারোর নালিশ ও পুলিশি মামলা। এর মধ্যে অর্ধেকেরই আর্থিক সাহায্যের আবদার, মেয়ের বিয়ে, স্কুলের বেতন, হসপিটালে রোগী,ঔষধ কিনা, ঘরের চালা, চোখের ছানি এরকম নানা আবদার সাধ্যমত সবাইকে কম বেশি আর্থিক সাহায্য করতে হতো। মনে হতো অনেকেরই খুবই জরুরী আবার অনেকেরই অভ্যাস গত । কোনদিননিজের পকেটের টাকা না থাকলে ছেলে মেয়েদের জমানো টাকা হতে দিতে হতো। কারণ মনে হয় কেউ রিসস্কা সিএনজি বা পায়ে হেটে একটা আশা নিয়ে এসেছে। ১১টা নাগাদ অফিসে যাওয়ার পর সমান চিএ। সন্ধ্যা পরে ব্যক্তিগত অফিসে তাই। এইভাবে বারটি মাস রুটিনমাফিক চলত। বাজারে কোথায় দোকানে বসলে বা গাড়ি থামালে মানসিক রোগী (পাগল) ও ভিক্ষুকরা কাছে চলে আসতো। সাধ্যমত কিছুটা ওদের হাতে গুজে দিতাম। করোনা ভাইরাসের কারণে আজ ৩৬ দিন লকডাউনে রুটিন মাফিক জীবনের ছন্দপতন। সকালে আর মানুষের ডাকে ঘুম ভাঙ্গে না ,অফিসে নেই অভিযোগ করি ,গাড়ি থামলে নেই মানসিক রোগী, বা ভিক্ষুক। সেই অভাবগ্রস্ত পরিচিত মুখগুলো চোখের পর্দায় ভেসে ওঠে, ওদেরকে মনে মনে খুঁজি, মনে মনে ভাবি ,সকলের আবদার হয়তো পূর্ণ করতে পারিনি। হয়তো অনেক কে নিরাশ করেছি ।আজে এই লকডাউনের মাঝে তারা হয়তো, পুলিশের ভয়ে বা করোনার ভয়ে বা অনেক গ্রামে, অপরিচিত জনের আসা-যাওয়া নিষেধের কারনে তাদেরকে দেখতাছি না। ওরা কেমন আছে? অনেক বয়স্ক বুড়ি মা, বুড়ো বাবার ছল ছলানি দৃষ্টি চোখে ভাসে,সবাই কি সুস্থ আছে? তাহারা কি দুবেলা দুমুঠো ভাত খাচ্ছে?অনেক এজমা রোগী আসতেন শ্বাসের স্পে কিনতে ,তাহার স্পে কি এখনো আছে। জানিনা আবার কবে স্বাভাবিক হবে মানব জীবন ও প্রকৃতি। গরীব-ধনী মিলেমিশে থাকবো আমাদের সমাজে। একে অন্যের সাহায্য নিয়ে চলবে আমাদের জীবন। সবাই আমরা পরনির্ভরশীল। আমরা হয়তো আশা করি ব্যবসায় বেশি লাভ, চাকরিতে বেশি বেতন, প্রবাসী নিকট জনের বেশি অনুদান। দরিদ্র মানুষের আশা করে আমাদের মতো অনেকের কাছে ,তফাৎটা শুধু চাওয়ার কৌশল ,আর সবই তো এক। যাই হোক অনেক কিছু লিখলাম, প্রিয় বড়লেখা উপজেলা বাসী ,এই করোনা পরিস্থিতিতে আপনি আপনার প্রতিবেশী হতদরিদ্র অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান ,আল্লাহ আপনার পাশে দাঁড়াবেন ইনশাআল্লাহ। অনুরোধক্রমে, সোয়েব আহমদ চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ বড়লেখা মৌলিবাজার।
অসুস্থতার কথা বলে ছুটি নিয়ে পাশের থানায় গিয়ে এমন ঘটনা ঘটান তিনি
নিউজ ডেস্কঃ ঢাকাফেরৎ এক ব্যক্তিকে “হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার” ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির অপরাধে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক মিয়াকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, অসুস্থতাজনিত (মেডিকেল) ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ছেড়ে পার্শ্ববর্তী তাড়াশ থানায় গিয়ে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগীর স্ত্রী উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন। ওসি বিষয়টি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান।
অবশেষে বুধবার (২৯ এপ্রিল) “দায়িত্ব অবহেলার” কারণ দেখিয়ে এসআই মানিককে উল্লাপাড়া থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উল্লাপাড়ার ওসি দীপক কুমার।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী আবুজল প্রামাণিক তাড়াশ উপজেলার তালোম শিবপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্বল্প আয়ের এই ব্যক্তি ঢাকায় থাকেন। গত মার্চে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি গ্রামের বাড়িতে এসে আটকা পড়েন। জীবিকার তাগিদে প্রায় এক মাস যাবৎ তিনি স্থানীয়ভাবে মাস্কের ব্যবসা শুরু করেন। গত ২৩ এপ্রিল তাকে “হোম কোয়ারেন্টিনে” রাখা হবে এমন হুমকি টাকা দাবি করেন অভিযুক্ত এসআই মানিক।
ওসি দীপক বলেন, “পুলিশ সুপার কার্যালয়ের এক আদেশ অনুযায়ী বুধবার রাতে মানিককে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। আদেশপত্রে চাঁদা দাবির বিষয়টি না থাকলেও দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।”
চিকিৎসাজনিত ছুটিতে পার্শ্ববর্তী থানায় গিয়ে এসআইয়ের চাঁদা দাবির ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক বলে মন্তব্য করেন ওসি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত এসআই মানিক মিয়ার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কল করে ঢাকা ট্রিবিউন। সাংবাদিক পরিচয় শুনে তাৎক্ষণিক তিনি সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
প্রসঙ্গত, এর আগেও দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির অপরাধে মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে উল্লাপাড়ায় থানার সিনিয়র সহকর্মীরা দু’টি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন।
বিষয়টি সম্পর্কে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বলেন, “বিষয়টি বিব্রতকর। তারপরেও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” সুত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন
ছাতকে ঘুরে ঘুরে নমুনা সংগ্রহ করছেন ডা. তোফায়েল ও তার সহযোগীরা। ছবিঃ ঢাকা ট্রিবিউন
নিউজ ডেস্কঃ ছাতকে ঘুরে ঘুরে নমুনা সংগ্রহ করছেন ডা. তোফায়েল ও তার সহযোগীরা। তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের কখনোই রোগকে ভয় পাওয়া উচিত নয়। সব কিছু জেনে-বুঝে শুনে চিকিৎসা পেশায় এসেছি
গত ২৩ দিনে ৫২ জন সন্দেহভাজন কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস সৃষ্ট মহামারি) রোগীর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তোফায়েল আহমদ সনি। ইন্টারনেটে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব থেকে নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি শিখেছেন তিনি। আর দেশের এমন ক্রান্তিলগ্নে সেই স্বীয় অর্জিত বিদ্যাকে কাজে লাগিয়েছেন তিনি।
দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুতে নমুনা সংগ্রহ করতে ভয় পেতেন অনেক স্বাস্থ্যকর্মী। উপরন্তু ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব টেকনিশিয়ান বয়স্ক ও ডায়বেটিকস রোগী। তাই কর্মস্থলের এলাকার মানুষকে সেবা দিতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে সন্দেহভাজনদের নুমনা সংগ্রহ করছেন ডা. তোফায়েল আহমেদ।
মুঠোফোনে তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “মেডিকেল কলেজে ইন্টার্নশিপ করার সময় ইউটিউব থেকে নমুনা পরীক্ষার বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা লাভ করি। পরে চীনে কোভিড-১৯ মহামারি দেখা দিলে সেখানকার প্রশিক্ষিত প্যাথলজিস্টরা কীভাবে নমুনা সংগ্রহ করেন ইন্টারনেট ঘেঁটে তা জানার চেষ্টা করি। টানা ১০ দিন চীনের প্যাথলজিস্টদের নমুনা সংগ্রহের ভিডিও দেখে বেশ পরিষ্কার ধারণা পাই। ইন্টার্নিশিপের বিদ্যা ও ইন্টারনেটের ভিডিও দেখে বেশ ভালভাবেই বিষয়টি রপ্ত করি। সেগুলোকে পুঁজি করেই নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করি। শুরুর দিনে ছাতক সদরের বাগবাড়ি আবাসিক এলাকা থেকে এক ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করি।”
এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন স্বাস্থ্যকর্মী স্বপন কুমার রায়।
গত ২৫ তারিখে ডা, তোফায়েল ও তার দল ছাতকের আকিজ প্লাস্টিক কোম্পানির কোভিড-১৯ রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন।
প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাতকে আসা ব্যক্তিদের তালিকা থেকে প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করা হয়। এক্ষেত্রে চারটি বিষয় প্রধান্য দেওয়া হয়- প্রথমত: উপসর্গ (সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট) থাকলে, দ্বিতীয়ত: ১৪ দিনের মধ্যে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাত হলে, তৃতীয়ত: করোনাভাইরাসের রেডজোন এলাকা থেকে এলে এবং চতুর্থত: হাসপাতালে কাজ অথবা নিয়মিত যাতায়াত আছে এমন কারও সংস্পর্শে এলে।
এছাড়া ঢাকা, নরসিংদী, ময়নসিংহ, চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও সাভারফেরৎ সন্দেহভাজনদের শরীর থেকেও নমুনা সংগ্রহ করেন তারা।
এলাকায় ঘুরে ঘুরে এভাবে নমুনা সংগ্রহের কথা শুনে স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও বন্ধুরা সবাই না করেছে।
কিন্তু সাহসী এই চিকিৎসক বলেন, “আমার কাছে বিষয়টি দেশের জন্য যুদ্ধে যাওয়ার মতো।”
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া চিকিৎসক মঈন উদ্দিনের দাফন কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেওয়া একমাত্র চিকিৎসকও ডা. তোফায়েল।
তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চল থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক প্রতিকুলতার মোকাবেলা করতে হয়। নমুনা পরীক্ষার সময় সন্দেহভাজনরা সহযোগিতা না করতে চাইলে অনেক বুঝিয়ে-শুনিয়ে রাজি করতে হয়। শুরুতে তাদের বোঝানোর কাজটি করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তারপরেও অনেকে নমুনা দিতে চান না। সেক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ কথা বলে আস্থা অর্জন করে কাজ করতে হয়।
একজনের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে তিনজন স্বাস্থ্যকর্মীর প্রয়োজন। একজন সংগ্রহ করেন, একজন তাকে সহায়তা করেন এবং আরেকজন তথ্য লিখেন।
ডা. তোফায়েলের নেতৃত্বে ছাতকে তিনটি টিম নমুনা সংগ্রহের কাজ করছে। প্রতিটি টিমে ৭ থেকে ৮ জন করে লোক থাকেন।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিকে ছাতকের স্বাস্থ্যকর্মীদের এ বিষয়ে তেমন কোনো প্রশিক্ষণ ছিলো না। এই সঙ্কটের মুখে তোফায়েল সরাসরি মাঠে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলে পরিবারের সবাই নিষেধ করেন। তবে মা তাকে অভয় দেন। মায়ের উৎসাহে তিনি দ্ব্যর্থহীন চিত্তে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
ডা. তোফায়েল জানান, নিজে আক্রান্ত না হলে ছাতকে কাজ করে যাবেন তিনি।
“একজন চিকিৎসকের কখনোই রোগকে ভয় পাওয়া উচিত নয়। সব কিছু জেনে-বুঝে শুনে চিকিৎসা পেশায় এসেছি।”
তার এমন অকুতোভয় উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা।
ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজীব চক্রবর্তী বলেন, চিকিৎসকরা সাধারণত সরাসরি নমুনা সংগ্রহের কাজটি করেন না। তাদের কাজ বিষয়টির সার্বিক তত্ত্বাবধান করা। কিন্তু ডা. তোফায়েল আহমদ সনি স্বেচ্ছায় কাজটি করছেন। তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক।
তরুণ এই চিকিৎসকের প্রশংসা করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. গোলাম কবির জানান, “সব ভয়ভীতি ও দ্বিধা কাটিয়ে তিনি যেভাবে একাই নমুনা সংগ্রহের কাজ করে যাচ্ছেন, তা প্রশংসনীয়। তিনি ছাড়াও অনেকেই এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাদেরকেও আমরা ধন্যবাদ জানাই। আশা করি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠবো।”
সুনামগঞ্জ ৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বলেন, “ডাক্তার তোফায়েল আহমদ সনি একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক। মহামারির সময় তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যে অন্যন্য ভুমিকা পালন করছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।”
২ এপ্রিল থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ডা. তোফায়েল সংগ্রহ করেছেন ৫২ জনের নমুনা। সুত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন
নিউজ ডেস্কঃ প্রথমে ২৮ জনের করোনা পজিটিভ, পুনরায় পরীক্ষায় ২৭ জনেরই চুয়াডাঙ্গায় সাতজন চিকিৎসকসহ ২৮ জনের করোনাভাইরাস শনাক্তের তিনদিন পর পুনরায় পরীক্ষায় একজন ছাড়া বাকিদের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। আক্রান্ত একজনকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হবে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিভিল সার্জন জানান, গত ২৬ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গা থেকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের ল্যাবে ৫১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠায় স্বাস্থ্য বিভাগ। এরপর ২৮ এপ্রিল দুপুরে কুষ্টিয়া থেকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্টে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৭ চিকিৎসকসহ ১৯ জন এবং সদর উপজেলার দুইজন নার্সসহ ৯ জনের করোনা পজিটিভ দেখানো হয়। ওই দিন রাতেই ২৮ জনের করোনাভাইরাসের ফলাফল কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ অমীমাংসিত ঘোষণা করে এবং পুনরায় পরীক্ষার জন্য নমুনাগুলো আইইডিসিআরে পাঠায়। আইইডিসিআর থেকে বৃহস্পতিবার রাতে আসা রিপোর্টে বলা হয়- ২৮ জনের মধ্যে সদর উপজেলায় এক জনের করোনাভাইরাস পজিটিভ।
তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হবে। আলমডাঙ্গা উপজেলার সাতজন চিকিৎসকসহ অন্যদের কোনো সমস্যা নেই।
উল্লেখ্য, জেলায় এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ জন। এদের মধ্যে একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সুত্রঃ জাগো নিউজ
রুহুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে ওই গৃহবধূকে উত্যক্ত করে আসছিল
গাইবান্ধায় ধর্ষণ থেকে বাঁচতে রুহুল আমিন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির যৌনাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে দিয়েছেন এক গৃহবধূ। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ সন্যাসীর চর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
রুহুল আমিন ওই গ্রামের আওলাদ হোসেনের ছেলে। তাকে বৃহস্পতিবার সকালে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. আব্দুল কাদের জানান, বহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলের এই গ্রামের এক জেলের স্ত্রীকে রুহুল আমিন দীর্ঘদিন উত্ত্যক্ত করে আসছিল। ঘটনার দিন রাতে ওই জেলে নদীতে মাছ ধরতে গেলে রুহুল আমিন তার বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে কৌশলে তার শয়ন ঘরে ঢুকে ঘুমিয়ে থাকা গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ওই গৃহবধূ তার হাতের কাছে থাকা ধারালো ব্লেড দিয়ে রুহুল আমিনের যৌনাঙ্গ কেটে দেয়।
তিনি বলেন, “অবস্থা বেগতিক দেখে রুহুল ঘরের দরজা ভেঙ্গে দৌড়ে পালিয়ে যায়।”
এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমান বলেন, “রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে এর আগেও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছিল। পরে বিষয়টি স্থানীয় মাতাব্বররা মীমাংসা করে দিয়েছিলেন।”
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ জানান, রুহুল আমিন নামে পুরুষাঙ্গ কাটা এক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ফুলছড়ি থানার ওসি কাওছার আলী বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। এখন পর্যন্ত কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” সুত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন
‘আমি ছেলেকে মুদি দোকানে পাঠালাম। কিন্তু সে ফিরে এলো বউ নিয়ে’
নিউজ ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের প্রায় সব দেশের মতোই ভারতেও চলছে সার্বিক লকডাউন। এরইমধ্যে দেশটির ঘজিয়াবাদের এক নারী তার ছেলেকে বাজার করতে পাঠালে সে বউসহ বাড়ি ফিরেছে। বিষয়টি নিযে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন ওই নারী।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) উত্তর প্রদেশের শহরটিতে এমন ঘটনা ঘটে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
কান্নাভেজা চোখে ওই নারী বলেন, “আমি ছেলেকে মুদি দোকানে পাঠালাম। কিন্তু সে ফিরে এলো বউ নিয়ে। এমন বিয়ে মেনে নিতে রাজি নই আমি।”
এই বিয়ের বিষয়ে ওই নারীর ছেলে গুড্ডুর (২৬) ভাষ্য, “দুই মাস আগে হরিদ্বারের আর্য্য সমাজ মন্দিরে আমি সভিতাকে (নববধু) বিয়ে করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “তখন স্বাক্ষীর অভাবে আমরা ম্যারেজ সার্টিফিকেট পাইনি। সার্টিফিকেট আনতে আমি আবারও হরিদ্বারে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম কিন্তু লকডাউনের কারণ যাওয়া হয়নি। হরিদ্বার থেকে ফিরে সভিতা দিল্লির একটি ভাড়া বাড়িতে উঠেছিল। কিন্তু লকডাউনের কারণে ভাড়া বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ায় আজ আমি তাকে মায়ের বাড়িতে আনার সিদ্ধান্ত নিই।”
পারিবারিক কলহ এড়াতে ওই দম্পতিকে লকডাউন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আশ্রয় দেওয়ার জন্য সভিতার দিল্লির ভাড়া বাড়ির মালিককে অনুরোধ করেছে স্থানীয় পুলিশ। সুত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন
নিউজ ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র রমজান উপলক্ষে দেশের ৬ হাজার ৯৫৯টি কওমি মাদ্রাসাকে ৮ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রেস উইং জানায়, অনুদানের অর্থ ইতোমধ্যে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে মাদ্রাসাগুলোর কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অনুদানপ্রাপ্ত কওমি মাদ্রাসার মধ্যে রংপুর বিভাগে ৭০৩টি, রাজশাহী বিভাগে ৭০৪টি, খুলনা বিভাগে ১০১১টি, বরিশাল বিভাগে ৪০২টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৯৭টি, ঢাকা বিভাগে ১৭৮০টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪৮১টি এবং সিলেট বিভাগের ৪৮১টি মাদ্রাসা রয়েছে।
নিউজ ডেস্কঃ শ্রমিকদের কল্যাণের নামে বিভিন্ন শ্রমিক-মালিক সমিতির ব্যানারে চাঁদা আদায় বন্ধ, অবিলম্বে গণপরিবহন চালু ও ত্রাণ সহায়তার দাবিতে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের থানা রোড এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন গণপরিহন শ্রমিকরা।এ সময় শ্রমিকরা সড়কে বসে তিন দফা দাবি আদায়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে পুলিশ ও পরিবহন মালিকপক্ষের আশ্বাসে প্রায় এক ঘণ্টা সড়কে অবস্থানের পর সরে যান পরিবহন শ্রমিকরা।পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যে সবচেয়ে অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। প্রায় এক মাস কর্মহীন অবস্থায় থাকলেও তাদের কোনো ত্রাণ কিংবা সহায়তা প্রদান করেনি কেউ। এতে পরিবার নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা ও হতাশা নিয়ে দিন পার করছেন। তারা শ্রমিকদের কল্যাণের নামে বিভিন্ন শ্রমিক-মালিক সমিতির ব্যানারে চাঁদা আদায় বন্ধ, অবিলম্বে গণপরিবহন চালু ও ত্রাণ সহায়তার দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।সাভার পরিবহনের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, গণপরিবহন চালুসহ তিন দফা দাবিতে সড়কে অবস্থানরত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার পর তারা সড়ক ছেড়ে দেয়।সাভার মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাদের মোল্লা জানান, করোনা সংকটের মাঝে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকরা কোনো সাহায্য না পেয়ে সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের থানা স্ট্যান্ড এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে শ্রমিকদের সহযোগিতার জন্য পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা সড়ক থেকে চলে যান। সুত্রঃ জাগো নিউজ
নিউজ ডেস্কঃ রাতে দুই সন্তান নিয়ে ঘুমালেন মা, সকালে ধানক্ষেতে মিলল লাশ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় সালমা বেগম (৩০) নামে দুই সন্তানের জননীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধানক্ষেতে নগ্ন অবস্থায় পড়ে ছিল তার লাশ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর সাড় ১২টার দিকে বগুড়া-নাটোর সড়কের উপজেলার জোড়া বটতলা কানাইপুকুর ব্রিজের পূর্বপাশে আশেকপুর মধ্যপাড়ার ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সালমা বেগম উপজেলার আশেকপুর মধ্যপাড়ার রাজমিস্ত্রি ছাইদুজ্জামানের মেয়ে।
স্থানীয়রা জানায়, সালমা বেগমকে ‘গণধর্ষণের’ পর শ্বাসরাধে হত্যা করে ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
সালমা বেগমের মা ছাহেরা বেগম জানান, সালমাকে গাবতলী উপজেলার তন্বী গ্রামের সোহেল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেন। তাদের সংসারে জান্নাতি (৯) ও আল আমিন (৬) নামে দুটি সন্তান রয়েছে। সংসারে ঝগড়া হওয়ায় ছয় মাস পরে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয় সালমার। বিয়ের পর থেকেই সালমা বাবার বাড়িতে থাকতেন। সালমা স্থানীয় ব্যাগ তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। মাঝেমধ্যে জামাই সোহেল রাস্তায় সালমাকে বিরক্ত করতেন। এমনি ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে হত্যার হুমকি দিতেন।
সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন সালমা। ভোররাতে সাহরি খেতে মা ছাহেরা ওঠে দেখেন সালমা ঘরে নেই। তখন থেকেই সালমাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সকালে বাড়ির অদূরে ধানক্ষেতে সালমার লাশ পড়ে আছে বলে শুনতে পান মা ছাহেরা।
সালমার শিশুকন্যা জান্নাতি জানায়, গভীর রাতে ঘরের বেড়ায় কারা যেন ধাক্কাধাক্কি করেছিল। শব্দ শুনে বের হন মা। এরপর আর ঘরে আসেননি মা।
শাজাহানপুর থানা পুলিশের ওসি আজিম উদ্দীন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার আগে কিছু বলা যাবে না।
এদিকে, এ ঘটনার খবর পেয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার ও গোয়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিউজ ডেস্কঃ আক্রান্ত কারারক্ষীরা হাসপাতালে ডিউটি করার সময় সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে
ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ১০ জন কারারক্ষী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) এ তথ্য নিশ্চিত করেন কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী।
তিনি বলেন, “কারাগারের পাশে ২০০-২৫০ জন কারারক্ষী থাকেন। এদের মধ্যে ১০ জন কারারক্ষী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।”
ইকবাল কবির চৌধুরী বলেন, “কারারক্ষীদের হাসপাতালে ডিউটি থাকে। সেখান থেকে তারা সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন।”
জেল সুপার আরও বলেন, “আক্রান্তদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।” সুত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন
মাস্ক পরে ঘুরছিলেন নওগাঁর করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী। ছবিঃঢাকা ট্রিবিউন
তার বাড়ি ও শ্বশুড়বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে
নিউজ ডেস্কঃ নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী (৩৫) বাড়িতে না থেকে মাস্ক পরে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন রাস্তায়। প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে শহরের লিটল ব্রিজ এলাকা থেকে আটকের পর তাকে রাণীনগর উপজলোর বিলপালশায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ওই ব্যক্তি উপজেলার খাগড়া গ্রামের বাসিন্দা।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহুরুল হক বলেন, তিনি গাজীপুরে থাকতেন। কয়েকদিন আগে বাড়িতে ফিরলে গ্রামবাসীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য বিভাগ তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠায়। এরপর তাকে বাড়িতেই থাকার জন্য বলা হয়।
কিন্তু বুধবার সকাল ৯টার দিকে জেলার করোনাভাইরাস আক্রান্তদের পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন আক্রান্তদের খোঁজ-খবর নিতে শুরু করে। তখন তার অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া না গেলে বিষয়টি পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। প্রযুক্তির সহায়তায় নওগাঁ সদরে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়।
তার বাড়ি ও শ্বশুড়বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে বলেও জানান রাণীনগরের ওসি।
পুলিশ আরও জানায়, গতকাল মঙ্গলবার রাতে তার স্ত্রী একটি সন্তান প্রসব করেন। সদ্যজাত শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে নওগাঁ শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে তাকে ভর্তি করা হয়। স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে সেও ওই ক্লিনিকে যাওয়ায় সেটিকে লকডাউন করা হয়েছে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি সোহরাওয়ার্দি হোসেন বলেন, খবর পেয়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় থানার ওসি (তদন্ত) ফয়সাল বিন আহসানের নেতৃত্বে শহরের লিটল ব্রিজে তাকে আটক করে পুলিশ। এরপর পিপিই পরিয়ে তাকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং ওই ক্লিনিকটিকে লকডাউন করা হয়।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ওই ব্যক্তি ঢাকা ট্রিবিউনকে মুঠোফোনে বলেন, “আমি মাস্ক পরে বাইরে ঘুরছি যাতে কারও সমস্যা না হয়।”
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আ.ম. আখতারুজ্জামান আলাল বলেন, করোনাভাইরাস পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর দ্রুত পুলিশকে জানানো হয়। বর্তমানে ওই ব্যক্তিকে হোমকোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে এবং তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও তথ্য নেওয়া হচ্ছে। সুত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন
নিউজ ডেস্কঃ করোনায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে ‘লকডাউন’ ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ থাকায় অর্থাভাবে পড়েছেন অনেক মানুষই। বিশেষ এ সময়ে খাদ্য সংকট নিন্মবিত্ত ছাড়িয়ে মধ্যবিত্তকেও ছুঁয়েছে। এ অবস্থায় দরিদ্রদের অনেকেই সরকারি ত্রাণ সুবিধা পেলেও লজ্জায় নিজেদের কথা জানাতে পারে না মধ্যবিত্ত। তাই দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত উভয় শ্রেনীর জন্যই ত্রাণ সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে এসেছে ‘রিলিফ ইন রেসপন্স টু কভিড-১৯’।
এ কার্যক্রমের উদ্যোক্তা ব্যাংকার শামীম আহমেদ বলেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা দুইভাবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছি।ঢাকা সিটির মধ্যে যারা আছেন তাদের কাছে সরাসরি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছি।আর ঢাকার বাইরে যারা আছেন তাদের কাছে টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছি। আমরা এ পর্যন্ত ৫০ পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছি, ১৫০ পরিবারকে খাদ্যপণ্য দিয়েছি এবং ২৫ পরিবারের মাঝে সবজি বিতরণ করেছি।’ তিনি জানান, ইফতারিসহ খাবার প্যাকেটও তারা বিতরণ করছেন। নিম্নআয়, দিনমুজুর, রিক্সাচালক, এটিএম বুথ সিকিউরিটি গার্ডরা আমাদের এই খাদ্য বিতরণ কর্মসূচীতে অর্ন্তভুক্ত আছে। জানান, কিছু বন্ধু, সহকর্মী, প্রবাসী ও সংগঠন পাশে রয়েছেন। যারা আর্থিকভাবে ও শ্রম দিয়ে সহযোগিতা করছেন। যেমন – করোনা মোকাবেলায় আমরা বাংলাদেশ, বিদ্যানন্দ। বন্ধুদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে সহযোগিতা করছেন মোহাম্মদ ফারুক ও মোজাক্কের।
তিনি বলেন, ‘ত্রাণের সহযোগিতায় বেশিরভাগ অনুরোধ এসেছে ফেসবুক বন্ধুদের কাছ থেকে এবং আমাদের পেইজ থেকে।’ ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকার মিরপুরে এক পরিবারে বাবা-মা তাদের নিজের দুই কন্যা সন্তানকে ফেলে অন্যত্র চলে গেছে।অর্থের অভাবে মা তার বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে পারছে না। মধ্যবিত্ত পরিবার খাদ্য সংকটে পড়েছে।কারো কাছে হাত পেতে কিছু চাইতেও পারছেনা।’
শামীম আহমেদ জানান, অসহায় বিধবা অথবা মধ্যবিত্ত পরিবারের কেউ খাদ্য সংকটে পড়ে থাকলে যোগাযোগ করতে। তাহলে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হবে। তার ইমেইল- helphandsbd@gmail.com। ফোন_নাম্বার-০১৭১৩৩২৯৪৪৭। সুত্রঃ কালের কন্ঠ
তাহাজ্জুদ নামাজের শ্রেষ্ঠ সুযোগ রমাদান রহমতের শ্রেষ্ঠ সময় তাহাজ্জুদের সময়, রমাদান মাস রহমতের শ্রেষ্ঠ মাস। বছরের বিশেষ রাতসমূহে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন। তাহাজ্জুদের সময়ে প্রতিটি রাতেই আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে এসে বান্দাদের ফরিয়াদ শোনেন। কোরআনুল করিমে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় হাবিব (সা.) কে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এবং রাত্রির কিছু অংশ তাহাজ্জুদ কায়েম করবে, ইহা তোমার এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থান-মাকামে মাহমুদে।’ (সুরা ১৭ ইসরা, আয়াত ৭৯)। ‘হে বস্ত্রাবৃত! রাতে দণ্ডায়মান হও কিছু অংশ বাদ দিয়ে; অর্ধরাত্রি অথবা তদপেক্ষা কিছু কম অথবা তদপেক্ষা বেশি এবং কোরআন আবৃত্তি করো সুবিন্যস্তভাবে ও স্পষ্টভাবে। আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি গুরুত্বপূর্ণ বাণী। নিশ্চয় ইবাদতের জন্য রাত্রিতে ওঠা প্রবৃত্তি দলনে সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল। নিশ্চয় দিবাভাগে রয়েছে তোমার দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা। তুমি নিজ পালনকর্তার নাম স্মরণ করো এবং একাগ্রচিত্তে তাতে নিমগ্ন হও।’ (সুরা ৭৩ মুজ্জাম্মিল, আয়াত: ১-৮)। ‘হে চাদরাবৃত! ওঠো, সতর্ক করো, আপন পালনকর্তার মাহাত্ম্য ঘোষণা করো, স্বীয় পোশাক পবিত্র করো এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকো। অন্যকে কিছু দান করে অধিক প্রতিদান আশা করবে না। আর তোমার পালনকর্তার উদ্দেশে ধৈর্য ধারণ করো।’ (সুরা ৭৪ মুদ্দাচ্ছির, আয়াত ১-৭)।
তাহাজ্জুদ সংকট উত্তরণের ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সেরা মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রাতেই তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন। তাই এটি সুন্নত, অতিরিক্ত হিসেবে নফল। নবীজি (সা.)–এর জন্য এটি অতিরিক্ত দায়িত্ব ছিল। পাঁচ ওয়াক্ত নির্ধারিত নফলের মধ্যে তাহাজ্জুদ সর্বোৎকৃষ্ট আমল। হজরত আলী (রা.) বলেছেন: ‘যাঁরাই ইবাদতে অধ্যাত্ম জগতে আল্লাহর নৈকট্য লাভে ঊর্ধ্বারোহণ করেছেন; তাঁরাই রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়েছেন।’ (দিওয়ানে আলী, নাহজুল বালাগা)। তাহাজ্জুদ হলো মোক্ষ লাভের মোক্ষম মাধ্যম। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ফরজ নামাজসমূহের পর উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদ। (মুসলিম, আলফিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৯৭, হাদিস ৪০৫)।
‘তাহাজ্জুদ অন্ধকারে পড়তে হয়’ ও ‘তাহাজ্জুদ পড়লে জিন আসে’ এবং ‘তাহাজ্জুদ শুরু করলে নিয়মিত আদায় করতে হয়’ এই ভয়ে অনেকে তাহাজ্জুদ পড়েন না। প্রকৃতপক্ষে এসব ভুল ধারণা। তবে কারও ঘুমের ব্যাঘাত যেন না হয় এবং প্রচার মানসিকতা যেন না থাকে, এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তাহাজ্জুদ নিয়মিত আদায় করতে পারলে তা অতি উত্তম। নফল ইবাদত বিশেষ উদ্দেশ্য বা প্রয়োজন ছাড়া প্রচার না করাই বাঞ্ছনীয়।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা সেই স্বামীর প্রতি রহম করেছেন, যে নিজে রাতে উঠে তাহাজ্জুদ পড়ে এবং তার স্ত্রীকে জাগায়। যদি সে উঠতে অস্বীকার করে, তবে তার মুখমণ্ডলে পানিছিটা দেয়। আল্লাহ তাআলা সেই স্ত্রীর প্রতি রহম করেছেন, যে নিজে রাতে উঠে তাহাজ্জুদ পড়ে এবং তার স্বামীকে জাগায়। যদি সে উঠতে অস্বীকার করে, তবে তার মুখমণ্ডলে পানিছিটা দেয়।’ (আবু দাউদ ও নাসায়ি, আলফিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৯৭, হাদিস ৪০৭)। এ ছাড়া যদি কেউ তাহাজ্জুদের জন্য ডাকার নির্দেশ বা অনুমতি দেন, তাঁকে তাহাজ্জুদের জন্য ডেকে তোলা যাবে; অন্যথা নয়।
সুন্নত ও নফল নামাজে কিরাত তিলাওয়াতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি নয়। নফল নামাজে রুকু, সিজদাসহ প্রতিটি রুকন বা পর্ব দীর্ঘ করা সুন্নত ও মোস্তাহাব। এ জন্য রুকু ও সিজদায় তাসবিহ অনেকবার পড়া যায় এবং অন্যান্য পর্বেও বেশি পরিমাণে বিভিন্ন দোয়া মাসুরা, যা কোরআন হাদিসে আছে, পাঠ করা যায়। একই রাকাতের একই সুরা বারবার এবং বিভিন্ন সুরা ও বিভিন্ন আয়াত পড়া যায়।
রমাদান মাসে যেহেতু ফরজ রোজা পালনের জন্য সহায়ক হিসেবে সাহ্রি খাওয়ার সুন্নত আদায়ের জন্য আমরা সবাই উঠি এবং সাহ্রির সময়ই হলো তাহাজ্জুদের সময়; সুতরাং রমাদানে তাহাজ্জুদ আদায় করা খুবই সহজ। তাহাজ্জুদ দুই রাকাত করে আট রাকাত, বারো রাকাত বা আরও কম বা বেশিও পড়া যায়। রমাদানের নফলের সওয়াব ফরজের সমান, ফরজের সওয়াব সত্তর গুণ।
রাতের দুই–তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর থেকে তথা রাত দুইটার পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত আরম্ভ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাহাজ্জুদের সময়। সাহ্রির সময় শেষ হলে তথা ফজরের ওয়াক্ত শুরু হলে তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত শেষ হয়।
মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনীবাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির যুগ্ম মহাসচিব ও আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহকারী অধ্যাপক
যেকোনও মুহূর্তে যাত্রী পারাপারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২৫ মার্চ থেকেই যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে সম্প্রতি সময়ে লকডাউন বিষয়ে সরকারের শৈথিল্য মনোভাব থাকায় ট্রেনকেও প্রস্তুত রেখেছে সংস্থাটি। সরকারের উচ্চমহলের নির্দেশনা পেলেই যে কোনও মুহূর্তে যাত্রী আনা-নেওয়ার জন্য চালু করে দেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, গত ২৫ মার্চের পর মালবাহী ট্রেন ছাড়া পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। তবে ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত স্টেশন মাস্টার, ট্রেন চালক-গার্ডসহ মাঠ পর্যায়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী সংশ্লিষ্ট হেডকোয়ার্টার এবং স্টেশনে রয়েছেন। ট্রেনগুলোও প্রতিদিন রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। এরইমধ্যে লাগেজ ভ্যান ট্রেন চালানোর নির্দেশনা পাওয়া গেছে। সরকারের নির্দেশনা পাওয়া গেলে যাত্রীবাহী ট্রেনও পরিচালনা করা হবে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে যদি ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত হয় তাহলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সব নির্দেশনা মেনেই পরিচালনা করা হবে।
জানতে চাইলে রেলওয়ে মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের কোনও সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তবে আমরা প্রস্তুত। সবগুলো ট্রেন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সরকার যখনই সিদ্ধান্ত দেবে আমরা তখনই ট্রেন চালাতে পারবো। আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।
রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ২৫ মার্চ থেকেই যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু আমরা মালবাহী ট্রেন পরিচালনা করে আসছি। আমরা ট্রেন চালাতে সব সময়ই প্রস্তুত। আল লাগেজ ভ্যান ট্রেন চালানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়া গেছে। লাগেজ ভ্যান, বিভিন্ন যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে একটি করে ‘লাগেজ ভ্যান’ কোচ চালানো হত। এখন আমরা পুরো একটি ট্রেনই শুধু মাত্র লাগেজ ভ্যান দিয়ে চালাব।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে, আগামী ১/২ দিনের মধ্যেই লাগেজ ভ্যান ট্রেন চালানো হবে। তরমুজ থেকে শুরু করে সব ধরনের সবজি-ফলমূল, কাঁচামাল বহন করা হবে এ ট্রেনে।
রেলপথ সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন জানান, করোনার সময়ে ট্রেন পরিচালনা করতে হলে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে এজন্য আমরা বেশ কয়েকবার বৈঠক করেছি। যদি দূরপাল্লার ট্রেন পরিচালনা করতে হয় তাহলে নির্ধারিত দূরত্ব রেখে যাতে যাত্রী বসানো হবে। এ জন্য এক একটি কোচে থাকা আসন সংখ্যার বিপরীতে অর্ধেক কিংবা তার বেশি সিট খালি রেখে টিকিট বিক্রি করবো। সে ক্ষেত্রে যাত্রীদেরও সর্বোচ্চ সর্তক হতে হবে। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
মোঃইবাদুর রহমান জাকিরঃ করোনা পরিস্থিতিতে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার চা শ্রমিক ও বোরো ধান কাটা কৃষি শ্রমিকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহারস্বরূপ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রাণালয় হতে প্রাপ্ত বরাদ্ধ হতে করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলার ১৫’শ চা শ্রমিক ও ৩’শ কৃষি শ্রমিকদের মাঝে এগুলো বিতরণ করা হচ্ছে। প্রণোদনাভোগীদের প্রত্যেহ কে দেওয়া হচ্ছে ১০ কেজি করে চাল, ২ কেজি করে আলু ও ১টি করে সাবান।বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ৪নংউত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের ওহিদাবাদ ও পাল্লাথল চা বাগানে গিয়ে নিজ হাতে চা শ্রমিকদের মাঝে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ।
এর পূর্বে উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের সালদিঘা গ্রামে কৃষকের ক্ষেতে গিয়ে ধানকাটা শ্রমিকদের মাঝে এ ত্রাণ বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান।বড়লেখা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৫ টি চা বাগানে করোনা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫শ চা শ্রমিক ও বিভিন্ন ইউনিয়নের বোরো ধান কাটা ৩’শত কৃষি শ্রমিকদের মাঝে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রাণালয় হতে প্রাপ্ত বরাদ্ধ হতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারস্বরূপ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। প্রণোদনাভোগীদের প্রত্যেককে দেওয়া হচ্ছে ১০ কেজি করে চাল, ২ কেজি করে আলু ও ১টি করে সাবান। বুধবার উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের ৮ টি চা বাগানের ৮’শ চা শ্রমিকদের মাঝে ও সুজানগর ইউনিয়নে ১শ বোরো ধান কাটা কৃষি শ্রমিকদের মাঝে এসব খাদ্য সামগী বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও এর আগে গত ২০ এপ্রিল হাকালুকি হাওরে গিয়ে ১শ কৃষি শ্রমিকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত উপজেলার ১ হাজার উপকারভোগীদের মাঝে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকিগুলো দু’একদিনের মধ্যে বিতরণ সম্পন্ন হবে। বিতরণকালে সামাজিক দূরত্ব মানা হয়েছে।
এসময় বড়লেখা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ,ইউএনও মো. শামীম আল ইমরান,সরকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত লায়লা নুরী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. উবায়েদ উল্লাহ খান ছাড়াও সংশ্লিষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও ট্যাগ অফিসারগণ উপস্থিত ছিলেন।
সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে (পরীক্ষাগার) তিনদিনে ১৬৬টি কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হয়েছে। এই ১৬৬টি জনের কারোই করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়নি। সবার রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে। সিলেট করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়া এবং দেশে প্রতিদিনই মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির পর সিলেটের পরীক্ষার মান নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা একটি এ পর্যন্ত যে ১৬৬টি পরীক্ষা হয়েছে তার বেশিরভাগ সিম্পল বিভিন্ন উপজেলা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগ্রহ পদ্ধতি সঠিকভাবে হচ্ছে কি না সেটা বলা যাচ্ছে না। তবে ল্যাবে যে পরীক্ষা হচ্ছে সেটা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে উন্নতমানের পরীক্ষা হচ্ছে। গত ৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি ও ভাইরোলোজি বিভাগে স্থাপিত করোনা ভাইরাস পরীক্ষার বিশেষায়িত পলিমার্স চেইন রিঅ্যাকশান (পিসিআর) ল্যাবে কোভিড-১৯ পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথম দিন ৯৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হলে সবকটি পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসে।
দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার ২৪ জনের করোনা সনাক্ত পরীক্ষার রিপোর্টও নেগেটিভ আসে। তৃতীয়দিন আজ শুক্রবার ৪৮ জনের পরীক্ষা করা হলে তাদেরও রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। এদিকে গত রোববার সিলেটে প্রথম এক চিকিৎসকের শরীরে কোভিড-১৯ ধরা পড়ার পর ঐ চিকিৎসকের আশপাশে থাকা ১৬ জনের করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করা হয়। তাদের শরীরে করোনা ধরা পড়েনি। তাদের সবার করোনা টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। এই ১৬ জনের মধ্যে চিকিৎসকের পরিবারের সদস্য, গাড়ী চালক, চেম্বারে কাজে নিয়োজিত লোক ও একটি হাসপাতালে কর্মরত ব্যক্তি রয়েছেন। এ বিষয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক হিমাংশু লাল রায় জানান, ওসমানী হাসপাতালের ল্যাব অত্যন্ত উন্নত মানের এবং দক্ষ লোকজন এই পরীক্ষা কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে কারো মনে কোনো সন্দেহ আসার অবকাশ নাই।
ডেস্ক রিপোর্টঃ করোনা মোকাবেলায় মাঠ পর্যায়ের প্রধান সম্মুখ যোদ্ধা বাংলাদেশ পুলিশের এক গর্বিত সদস্য কনস্টেবল মোঃ জসিম উদ্দিন (৪০) করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
চলমান করোনাযুদ্ধে দেশের সম্মানিত জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে মোঃ জসিম উদ্দিনের মৃত্যুতে বাংলাদেশ পুলিশ গভীরভাবে শোকাহত। একই সাথে দেশমাতৃকার সেবায় তাঁর এমন আত্মত্যাগে বাংলাদেশ পুলিশ গর্বিত। তাঁকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ।
করোনাযুদ্ধে আত্মউৎসর্গকারী মোঃ জসিম উদ্দিন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ারী বিভাগের একটি পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। করোনাকালে অর্পিত দায়িত্ব পালনকালে হঠাৎ করে জ্বরে আক্রান্ত হলে গত ২৫ এপ্রিল ২০২০ খ্রিঃ তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর-এ করোনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এরপর থেকেই তিনি কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন।
কিন্তু গতকাল ২৮ এপ্রিল ২০২০ খ্রিঃ মঙ্গলবার রাতে কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় হঠাৎ করেই বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক রাত ১০টায় জসিম উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। আজ ২৯ এপ্রিল ২০২০ খ্রিঃ সকালে আইইডিসিআর থেকে জানানো হয়, মোঃ জসিম উদ্দিন করোনা পজেটিভ ছিলেন অর্থাৎ তিনি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছিলেন।
বাংলাদেশ পুলিশের ব্যবস্থাপনায় মোঃ জসিম উদ্দিনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় পাঠানো হবে। সেখানেই ধর্মীয়রীতি মেনে তাঁকে দাফন করা হবে। তিনি স্ত্রীসহ দুই মেয়ে এক ছেলেসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। করোনা যুদ্ধে আত্মোউৎসর্গকারী কনস্টেবল মোঃ জসিম উদ্দিনের পরিবারের পাশে সর্বোতভাবে থাকবে বাংলাদেশ পুলিশ।”
মোঃইবাদুর রহমান জাকিরঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সাহিত্য ভিত্তিক সামাজিক সংগঠন বড়লেখা পাবলিকেশন সোসাইটির উদ্যোগে (২৯এপ্রিল) বুধবার ৫ম রামাদ্বান বেলা ২ঘটিকার সময় খদিজা ম্যানশন এর (২য় তলায়) শতাধিক মধ্যবৃত্ত পরিবারের জন্য (চাল,ডাল,খেজুর,চানা,আলু)খাদ্য সামগ্রী প্যাকেটিং প্রস্তুত পূর্বক, সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায়, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মাহতাব আল মামুন ভিডিও কলের মাধ্যমে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন করোনা প্রাদুর্ভাবে পৃহবন্দিদের মধ্যে এই সংগঠন এ যাবত দুই বার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে। প্রবাসী দাতা সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পাশাপাশি সংগঠনের কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের শুকরিযা আদায় করেন, প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা আব্দুল আহাদ আরো উপস্থিত ছিলেন মাষ্টার জাকির হোসেন, বড়লেখা সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, প্রধান সমন্বয়ক খায়রুল ইসলাম “ সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রুবেল হোসেন “সহ সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ,সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ তুহেল, সহ সাংগঠনিক সৈয়দ আব্দুস সামাদ, প্রচার সম্পাদক আব্দুল হালিম, অর্থ সম্পাদক মিজানুর রহমান ও সদস্য হোসাইন আহমেদ। উল্লেখ্য অনুষ্টান শেষ করে প্রতি ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের হাতে খাদ্য উপহার সামগ্রীর প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়,ইউনিয়ন প্রতিনিধি রাত্রে বাড়ি বাড়ি নিয়ে পৌছে দেন।
এই সংকটময় মুহুর্তে জনগনের মুখে কিছুটা হাসি ফুটাতে পেরে পাবলিকেশন্স সোসাইটির কার্যকরিপরিষদ সদস্য দাতা সদস্য শুভাকাঙ্ক্ষী সকলে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
বড়লেখা ডেস্কঃ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও বিভাগীয় প্রধান ডা. এম এ আজাদ সজলের মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশায় পুলিশ। তারা এখনও এই ঘটনার ক্লু খুঁজছে। এদিকে মঙ্গলবার রাতে তার ছোটভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রাসেল।
মামলার বাদী ডা. আজাদের ছোট ভাই ডা. শাহারিয়ার উচ্ছাস জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের ইমামবাড়ি কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার বিকালে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রাসেল বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৯ জনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। তাদের মঙ্গলবার থেকে বুধবার ১২টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনও হাতে আসেনি। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য জানা সম্ভব হবে। বিষয়টিকে আমরা অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছি।’
প্রসঙ্গত ডা. এম এ আজাদ সজলের পরিবার ঢাকার কেরানীগঞ্জে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তিনি একা বরিশাল নগরীর কালিবাড়ি রোডের মমতা স্পেশালাইজড হাসপাতালের সপ্তম তলার একটি কক্ষে থাকতেন। মঙ্গলবার সেহেরির সময় ঢাকা থেকে তার স্ত্রী মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানায়। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে তার কক্ষের দরজা ভেঙেও সেখানে পাওয়া যায়নি। পরে ১০ তলা হাসপাতালের সব জায়গাতে খুঁজে লিফটের নিচের কুঠুরিতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
নীলফামারীর ডোমারে প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংর্ঘষে সুমন ইসলাম (১৮) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার গোমনাতি ইউনিয়নের উত্তর গোমনাতি এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। মধ্যরাতে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমনের মৃত্যু হয়। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে ডোমার থানার ওসি মো. মোস্তাফিজার রহমান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সুমন ওই এলাকার হারুন-অর রশীদের ছেলে। উপজেলার গোমনাতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ জানান, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশে ঢাকা থেকে আসা চার জনকে উত্তর গোমনাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। ওইদিন বিকালে কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিরা টয়লেটে যাওয়ার জন্য স্কুল ঘরের বাইরে এলে মালেক নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে। সেটি দেখে ফেলে রাকিব ইসলাম (২০)। সে মালেককে বলে, তুই কোয়ারেন্টিনে থাকা লোকদের কাছে গেছিস। তুই আমাদের এলাকায় আসতে পারবি না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এসময় সুমন তাদের ঝগড়া করতে নিষেধ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই গ্রামের ক্যাম্পপাড়া এলাকার সুলতান উদ্দিনের ছেলে রাকিব (২০) একটি গাছের ডাল দিয়ে সুমনের ঘাড়ে আঘাত করে। এতে সুমন মাটিতে পড়ে যায়।’
তিনি জানান, এলাকাবাসী সুমনকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ডোমার থানার ওসি মো. মোস্তাফিজার রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হবে। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
বড়লেখা ডেস্কঃ ঢাকা ফেরত পিরোজপুর সদর উপজেলার এক গার্মেন্ট কর্মীর নমুনা পরীক্ষায় জানা গেছে তিনি করোনা পজিটিভ। কিন্তু রিপোর্ট আসার আগেই তিনি ঢাকার আশুলিয়ায় তার কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পিরোজপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিশির রঞ্জন অধিকারী এ তথ্য জানিয়েছেন।
ডা. শিশির রঞ্জন অধিকারী বলেন, ‘সিকদার মল্লিক ইউনিয়নের চালিতাখালী গ্রামের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি ঢাকার আশুলিয়া থেকে গ্রামের বাড়িতে আসার পর গত ২৩ এপ্রিল নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে তার করোনাভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর আমরা তার বাড়িতে গিয়ে জানতে পারি তিনি ২৫ এপ্রিল কর্মস্থল আশুলিয়ায় চলে গেছেন।’
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বশির আহমেদ জানান, সোমবার রাতেই করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির আশুলিয়ার পোশাক কারখানার কর্তৃপক্ষ এবং সেখানকার থানাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া তার গ্রামের বাড়িতে থাকা পরিবারের অন্য সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
এম.এম আতিকুর রহমানঃ মৌলভীবাজারের রত্ন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা শায়খুল হাদীস আল্লামা আব্দুল মুমীত ঢেউপাশী মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টায় সিলেট মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি দীর্ঘদিন থেকে নানা রোগে দুর্বল ছিলেন। তাঁর ইন্তেকালে বৃহত্তর সিলেটসহ দেশ বিদেশের আলেমসমাজের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। আলেম, উলামা-মাশায়েখ এবং দ্বীনদার বুদ্ধিজিবীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
তাঁর ইন্তেকালে গভীর শোক এবং পরিবার পরিজনের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড.আহমদ আবদুল কাদির, মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি মাওলানা আহমদ বিলাল, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল খালিকসহ জেলা উপজেলা খেলাফত মজলিসের নেতৃবৃন্দ।
করোনা সংক্রণ থেকে সুরক্ষার এবং দেশে চলমান প্রেক্ষাপটে লকডাউন থাকার কারণে মরহুম ঢেউপাশী (রহঃ) এর পারিবার ও আলেমসমাজের সিদ্ধান্তে ভোর ৬ ঘটিকায় খুব সংক্ষিপ্তাকারে জানাযা ও দাফন উনার বাড়ীর পাশে অনুষ্টিত হবে।
ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেছেন। কাউকে হুজুরের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। অতএব জানাযায় অংশগ্রহণের চেষ্টা না করে যে যেখানে আছেন বেশি বেশি তেলাওয়াত, নফল নামাজ ইত্যাদি করে দোয়া করতে পারেন হুজুরের জন্য।
দেশে করোনা পরিস্থিতি না হলে হুজুরের জানাযায় লক্ষাধিক আলেম-উলামাসহ ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করতেন এ জানাজা স্বরণীয় হয়ে থাকত।
হুজুর বৃহত্তর সিলেট বিভাগ তথা দেশের প্রবীণ শীর্ষ আলেম এবং ঐতিহ্যবাহী বরুনা মাদ্রাসার বর্তমান শায়খুল হাদিস। আল্লামা ঢেউপাশী (রাহ.) ছিলেন প্রবীণ প্রচারবিমুখ আলেমে দ্বীন অন্যতম ওরাসাতুল আম্বিয়া। গহরপুর জামেয়া থেকে ফারিগ হয়ে মৌলভীবাজার জামেয়া দ্বীনিয়া প্রতিষ্ঠিত করতে অন্যতম পুরোধার ভুমিকা পালন করেন। দীর্ঘদিন সেখানে বুখারীর দারস প্রদানকালে অধমও তাঁর সান্নিধ্য লাভে ধন্য হই। সিলেটের জামেয়া মাদানিয়া কাজিরবাজার মাদরাসার ১২ বছরে হাদীসের খেদমত করে আমৃত্যু তিনি ঐতিহ্যবাহী বরুণা মাদরাসার প্রায় ১ যুগ শায়খুল হাদিসের আসনে অধিষ্ট ছিলেন। তিনি হাজারো ছাত্রছাত্রীর প্রিয় শিক্ষক হিসেবে সমাদৃত ও সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর হাতেগড়া অগণিত ছাত্রছাত্রী আজ দেশ বিদেশে বিভিন্ন আসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
ঢেউপাশী হুজুরের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করছেন মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় মানুষ গড়ার কারিগর ঢেউপাশির জীবন অবসানের মাধ্যমে ইলমে হাদিসের কানন থেকে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ঝরে পড়লো। হুজুরের ইন্তেকালে সিলেটবাসী একজন বরেণ্য ও নিভৃতচারী আলেমেদ্বীন হারালেন। তাঁর শুণ্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে ঢেউপাশির হুজুরের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাভিভূত পরিবার পরিজন মুহিব্বিনন, মুতায়াল্লিকিনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সকলকে সবরে জামিলের তৌফিক কামনা করেন।
আহ! একে একে সব আসাতিজায়ে কেরাম আমাদেরকে ইয়াতীম করে চলে যাচ্ছেন। যে বিচ্ছেদ সহ্য করা বড় কঠিন। আমার বোখারী শরীফের অন্যতম উস্তাদ শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক, আল্লমা আব্দুল্লা দরখাস্তি, আল্লামা ইসহাক, মাওলানা নেজাম উদ্দিন রাহিমাহুল্লাহ প্রমুখ কেউই আজ দুনিয়ায় নেই। আল্লাহ তায়ালা সকলের দরজা বুলন্দ করুন এবং সবাইকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম দান করুন।
আমার জীবনে যে ক’জন শফিক উস্তাদের সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল, আল্লামা আবদুল মুমিত ঢেউপাশি হুজুর তাদের অন্যতম। আজ তিনিও চলেগেলেন পরম প্রিয় মাওলার সান্নিধ্যে। এই মহামারি সময়ে হুজুরের জানাযায় শরীক হতে না পারা, শেষ বিদায় জানাবার সুযোগ না পাওয়ার বেদনা বড় পীড়াদায়ক। আল্লাহ তোমার এই মুখলিস বান্দাকে জান্নাতের উঁচু মাক্বাম দাও। আমাদের সকলকেই ধৈর্য ধরার তৌফিক দাও।
হুজুর প্রায় ৭০ বছর বয়সে স্ত্রী ৩ ছেলে ২ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন
পবিত্র ও মহিমান্বিত রমজান চলমান। রমজানুল মুবারক এর আসল উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন। তাকওয়া বা পরহেজগারিতা অবলম্বনের মূলে হলো গোনাহ থেকে বিরত থাকা। গোনাহ থেকে বেচে থাকার প্রচেষ্টাই কেবলমাত্র একজন ইমানদারকে প্রকৃত মুমিন মুসলমানরুপে গড়ে তুলতে পারে। এবং এ-র কোন বিকল্প নেই। পবিত্র কালিমায় বিশ্বাস করেই শুধু পরিপূর্ণ মুমিন মুসলমান হওয়া যায় না। এজন্য প্রচেষ্টার সাথে কিছু বিশেষ মুমিনের গুণাবলী অর্জন করতে হবে। সেই সাথে বর্জনীয় নেফাকি মুনাফেকি চরিত্র পরিহার করতে হয়। কুরআন নাজিলের মহিমান্বিত রমজানুল মুবারক এর মাসে তাই আমাদের সকলকেই তা অর্জনের প্রয়াস চালানো অব্যাহত রাখতে হবে। কুরআনের সুরা মু’য়মিনুনের প্রথম ১০ আয়াত সহ বিভিন্ন আয়াতে ও রাসুলুল্লাহ সাঃ এ-র বিভিন্ন হাদিসে মুমিনদের গুণাবলীর বর্ননা দেয়া হয়েছে। নেফাকি চরিত্র তথা মুনাফেকের আলামতের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। মুমিনের গুণাবলী অর্জন এবং মুনাফেকি আলামত বর্জন করা অপরিহার্য। তাহলেই আমরা দুনিয়ার শান্তি ও আখেরাতে মুক্তি অর্জন করতে পারি। সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফের হাদিসে প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এরশাদ ফরমান মুনাফেকের আলামত ৩টি, অপর রেওয়ায়তে ৪টি। কথা বললে মিথ্যা বলা, ওয়াদা খেলাপী করা। আমানতের খিয়ানত করা এবং ঝগড়া বিবাদ হলে অশ্লীল ভাষায় কথা বলা। এসকল মৌলিক মন্দ কার্যকলাপগুলো পরিহার করে মুমিনদের গুণাবলী অর্জন করতে হবে। তাহলেই আমরা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নতি সাধন করতে পারি। শান্তিময় খেলাফত আলা মিন হাজিহিন নবুয়ত এ-র আদলে ইনসাফপূর্ণ একটি সমাজ প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো। সুতরাং কুরআন নাজিলের মহিমান্বিত মাসেই আমাদেরকে সংকল্পবদ্ধ হয়ে সুন্দর শান্তিময় সমাজ বিনির্মানে ধাবমান হতেই হবে।
প্রিয়ভাজন একজনের রেখাপাত করার মতো জ্ঞানীদের উক্তি এখানে প্রণিধানযোগ্য।
তিনটি জিনিসের উপর ভরসা করা ঠিক নয়। নদীর পাড়ের বাড়ি, ব্রেক ছাড়া গাড়ি, পর্দা ছাড়া নারী। তিনটি জিনিস একবার আসে।মাতা-পিতা, সৌন্দর্য্য, যৌবন। তিনটি জিনিস ফিরিয়ে আনা যায়না। বন্দুকের গুলি, কথা, রূহ। তিনটি জিনিস মৃত্যুর পর উপকারে আসে। সু-সন্তান, সদকা, ইলম। তিনটি জিনিস সম্মান নষ্ট করে। চুরি, চোগলখুরী, মিথ্যা। তিনটি জিনিস পেরেশানিতে রাখে। হিংসা, অভাব, সন্দেহ। তিনটি জিনিসকে সর্বদা মনে রেখ। উপদেশ, উপকার, মৃত্যু। তিনটি জিনিসকে আয়ত্বে রেখ। রাগ, জিহবা, অন্তর। তিনটি জিনিস অভ্যাস কর।নামাজ, সত্য বলা, হালাল রিযিক। তিনটি জিনিস থেকে দূরে থেকো। মিথ্যা, অহংকার, অভিশাপ। তিনটি জিনিসের জন্য যুদ্ধ কর। দেশ, জাতি, সত্য। তিনটি জিনিসকে চিন্তা করে ব্যবহার কর।কলম, কসম, কদম।
মহান আল্লাহ তায়ালা দয়া করে রমজানের উছিলায় বরকতময় দিবস গুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিন। আলোকিত ব্যক্তি ও সমাজ বিনির্মানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার তৌফিক দিন আমাদের সকলকে। লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
আমাদের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলা অন্তর্গত বড়লেখা ২নং দাসের বাজার ইউনিয়নের সুড়িকান্দি (রসগ্রামের) ঐতিহ্যবাহী বাড়ি।
জন্মের ৩বছর পর্যন্ত শিশুকাল কেটেছিল সেই বাড়িতে পরবর্তীতে সেখান থেকে বড়লেখা পৌর:শহরে আমার বাবা ও চাচাগন জায়গা কিনে বাড়ি বানিয়ে এসেছেন। সেখানে আজও অনাবদ্য বসবাস করে আসছি।
আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য বড়লেখা ইসলামিয়া বিল্ডিং ও টঙ্গীওয়ালা বাড়ির স্বনামটি আজও গোটা বড়লেখায় বিসৃত। বড়লেখা হাজিগঞ্জ বাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত প্রচীনতম ইসলামিয়া বিল্ডিংটিও আমার দাদাদের তৈরিকৃত নিজস্ব সম্পওির উপর দাড়িয়ে আছে। উওরসূরী তথা ভূমির মালিকানা হিসাবে বর্তমানে বাবা ও আমাদের চাচাগন (বাবার চাছাতো ভাইগন & যৌত মালিকানাধীন) সেগুলোর দেখাশুনার কাজ করছেন। এছাড়াও রয়েছে আরো বেশ কিছু ভূমির সওাধিকারী।
দ্বিতীয়ত,আমাদের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলা অন্তর্গত বড়লেখা ২নং (ইউনিয়ন) দাশের বাজার সুড়িকান্দি (রসগ্রামের) ঐতিহ্যবাহী বাড়ি। আমাদের গ্রামের বাড়িটি টঙ্গীওয়ালা বাড়ী বা হাতিওয়ালা বাড়ী বলে পরিচিতিটি বেশ বিসৃত।
তৎকালীন সময়ে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যাদূরীকরণে আমাদের বাড়িটি বিচারালয় কেন্দ্র হিসাবে পরিচালিত হত।
আমাদের দাদার ৫ভাই ও তিন বোনদের মধ্যে আমার দাদা ছিলেন সর্ব প্রধান। মুলত দাদার দ্বিতীয় ভাই মস্তকিম আলী (মম্তই মিয়া) যার কর্মের গুণে আমাদের পরিবারটি ঐতিহ্যগত দিকে আজও অনেকটা এগিয়ে রয়েছে।
এছাড়া উনার বাকী ভাইগন পারিবারিক ব্যবসা,মহালদারের ব্যবসা,হাতি ব্যবসা,কৃষি সহ বিভিন্ন কর্মসংস্থানের জড়িত ছিলেন। নিজ বাড়িতেও হরিণ পালন ও মহীষ পালনে দেখাশুনা করতেন।
মস্তকিম আলী (মস্তই মিয়া) ছিলেন একদিকে ন্যায় বিচারক এবং অন্যদিকে ছিলেন একজন স্বনামধন্য হাতি ব্যবসায়ী। তৎকালীন ভারতের (বর্তমান) আসাম রাজ্যের অন্তর্গত করিমগঞ্জে তিনি হাতি ব্যবসাতে নিজেকে আত্ননিবেশ করেন।
লোকমুখে শুনা যেত যে হাকিম নড়েন কিন্ত মস্তকিম আলী মস্তই মিয়ার সিদ্ধান্ত (পরিবর্তন) নড়ে না। যত বড়ই সমস্যা হোকনা কেন মস্তকিম আলী (মস্তই মিয়া) তা অতি সহজে বিচারিক কাজ সম্পন্য করতে পারতেন।
বড়লেখা উপজেলা সহ অন্যান্য এলাকায় যারা প্রবীণ লোক রয়েছেন তারা মস্তকিম আলীকে (মস্তই মিয়াকে) চেনেননা বলে এমন লোক পাওয়া অত্যন্ত দুষ্কর।
আমাদের পরিবারের (তৎকালীন যৌথ পরিবারে) মোট ৯টি বড় হাতি ছিলো। তার মধ্যে সবছেয়ে বড় (পুরুষ) হাতিটি ছিলো বাংলাদেশের বৃহৎ কয়েকটি হাতির মধ্যে একটি।
আমার দাদী এবং বাবার মুখ থেকে শুনা সম্ভবত ১৯৭১ কিংবা এর কিছুদিন পর স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বৃহৎ আকারের হাতিটি দেখে মুগ্ধ হয়ে তৎকালীন সময়ে সে হাতিটিকে হাজার খানেক টাকা দিয়ে পুরুষ্কৃত করেছিলেন।
যেটি আমাদের দাদাগনের নিজস্ব সম্পওির উপর নির্মিত হয়ে এখনো রয়ে গেছে। উওরসূরী তথা ভূমির মালিকানা হিসাবে বর্তমানে বাবা ও আমাদের চাচাগন (বাবার চাছাতো ভাইগন & যৌত মালিকানাধীন) সেগুলোর দেখাশুনার কাজ করছেন। এছাড়াও রয়েছে আরো বেশ কিছু ভূমির সওাধিকারী।
আবার অনেকে আমাদের বাড়ি ও পারিবারিক পরিচয় দিয়ে অনেক জায়গাতে আত্নীয়তার বন্ধনেও আবদ্ধ হয়েছেন (এমন অসংখ্য নজীরও রয়েছে)
কালের অবর্তমানে হয়তো অনেকগুলো হারিয়ে গেছে,হারিয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী টঙ্গীওয়ালা বাড়িতে বিচারিক কাজের সেই ধ্বনি উচ্চাষিত কন্ঠসূর,হারিয়ে গেছে হাতির গলায় ঘন্টি পরিয়ে কল কল শব্দ পেরিয়ে বাড়িতে আসার সেই সৃতিময় মুহুর্তটি,হারিয়ে গেছে আরও কত কি,ফ্যাকাশ দরেছে ঐতিহ্যবাহী ইসলামিয়া বিল্ডিয়ের সৌন্দর্যরুপী ভবনের রংধনুতে,কিন্ত হারিয়ে যায়নি পরিবারের অতীত ঐতিহ্যগাতা হারানো দিনের সফল পরিক্রমা।
বড়লেখা উপজেলার বাহীরে কিংবা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্থানে আলাপচারিতা ও পরিচয়ের সুবাদে যখন যানতে পারি আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের স্মৃতি বিজড়িত এমন নন্দনময়ী বৈনাঢ্য ইতিহাস সত্যি নিজেকে অনেক ধন্য মনে হয়।
সত্যি কথা বলতে গেলে আজও অনেক স্থানে লোকমুখে যতটুকু আমাদের বাড়ীর পরিচিতি এবং দাদাগনকে লোকজন যতটুকু চেনেন ততটুকু আমাদের বাপ-চাচাগনকেও লোকজন চেনেননা।
একসময়ের প্রাণচাঞ্চল্য বাড়িটি কালের বিবর্তনে নিস্তব্ধতার ছোয়া লেগেই আছে। দাদার পাচঁ ভাইদের সন্তান-সাতন্তীগন (নাতি-নাতনী) সকলেই দেশ বিদেশে স্থায়ী বসবাস সহ শহরাঞ্চলে চলে গিয়ে বাড়িটি অনেকটাই লোক-লোকারণ্যহীন।
জহির আলীর পাচঁ সন্তান ও তিন মেয়ে ছিলেন যথাক্রমে (আমার দাদাগন)
১।মরহুম ইব্রাহীম আলী। ২।মরহুম মস্তকিম আলী (মস্তই মিয়া) ৩।মরহুম মন্তজির আলী। ৪।মরহুম মুছব্বির আলী এবং ৫।মরহুম সফিকুর রহমান (চঞ্চল) বাকী দাদীদের নাম (দাদার বোনদের) স্বরুণ করতে পারছিনা।
আমি যতটুকু জানি আমার দাদার বাবার নাম ছিলো জহির আলী মিয়া এবং জহির আলী মিয়ার বাবার নাম ছিলো ইলিম আলী। জহীর আলীগন দুইভাই ছিলেন। জহির আলী ও রাশীদ আলী।
বেচেঁ থাকুক পারিবারিক ঐতিহ্য……… বেচেঁ থাকুক কালজয়ী ইতিহাস হয়ে আমাদের জীবন তরে….যুগের পর যুগ দরে…….প্রজন্মের ইতিহাস হয়ে।
বড়লেখা ডেস্কঃ বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ব্যক্তি কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া বড়বিল গ্রামের জিন্নাত আলী আর নেই। মস্তিস্কে টিউমার আক্রান্ত জিন্নাত গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আজ (২৮এপ্রিল) ভোরে ইন্তেকাল করেন। ইন্না…রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ২৪ বছর। তার পিতার নাম আমির হামজা।
জিন্নাত আলীর উচ্চতা ছিল ৮ ফুট ৮ ইঞ্চি। ওজন ছিল ১৩০ কেজি। তার এই উচ্চতা মোটেও স্বাভাবিক ছিল না। হরমোনজনিত সমস্যায় তিনি বিপাকে ছিলেন। ফলে অনেক দিন থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েও তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন।
জিন্নাত আলীর পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, জিন্নাত দেশের সবচেয়ে দীর্ঘকায় মানুষ। তার এই উচ্চতার জন্য পরিবারের লোকজন গর্বিত ছিলেন না। বরং তারা মনে করতেন, অভাব ও দারিদ্র্যের কারণে সুচিকিৎসার অভাবে উচ্চতা থামানো যায়নি।
জিন্নাত স্বাভাবিক মানুষের মত জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং সেভাবেই বড় হচ্ছিলেন। ১২ বছর বয়স পর্যন্ত তার গ্রথ স্বাভাবিক ছিল। ১২ বছর বয়সের পর থেকে তিনি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকেন।
জিন্নাতের প্রচুর খাবার প্রয়োজন হতো। প্রতিবেলায় এক কেজি চালের ভাত, আর প্রচুর পরিমাণে তরকারি লাগতো। পরিবার সেটা ঠিকমতো দিতে পারতো না। অতিরিক্ত উচ্চতার জন্য জিন্নাত আলী তেমন কোন কাজও করতে পারতেন না।
বড়লেখা ডেস্কঃ আগামী পহেলা মে থেকে ক্ষুদ্র, খুচরা ও পাইকারি মার্কেটসহ সারাদেশের সব দোকান খুলতে চায় বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সোমবার এ প্রস্তাব দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে তারা। চিঠিতে বলা হয়, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে আগামী মাস থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব ধরণের দোকান খোলা রাখতে চায় তারা। প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক এলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও এফবিসিসিআই সভাপতিকেও এ চিঠি দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, করোনা ভাইরাস মহামারি প্রতিরোধে গত ২৫ মার্চ থেকে বাংলাদেশের সব দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরকারি ছুটির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বন্ধ রাখা হয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা দোকানিদের পাওয়ার সুযোগ নেই। তাই তাদের আয়ের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে দোকান মালিক ও তাদের কর্মচারীরা অর্ধাহারে ও অনাহারে অতিকষ্টে দিনযাপন করছেন। তাদের এখন পথে বসার উপক্রম।
দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, পহেলা বৈশাখে মার্কেট ও দোকান বন্ধ থাকায় ৬ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকার পুঁজি নষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে রমজান ও ঈদে ২০ থেকে ২২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করা হয়। তা বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তা সত্ত্বেও বর্তমান করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পাইকারি, ক্ষুদ্র ও খুচরা মার্কেট ও দোকান বন্ধ রাখার মানসিক প্রস্তুতি ছিল তাদের। কিন্তু এফবিসিসিআই’র উদ্যোগে আলোচনা সভায় বিভিন্ন শিল্প খোলার সিদ্ধান্ত হয়। ইতিমধ্যে নরসিংদীর বাবুর হাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দোকান খোলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সমিতি।
এর আগে বাংলাদেশ দোকান মলিক সমিতি জানায়, এক দিন দোকান বন্ধ থাকার ক্ষতি ১ হাজার ৭৪ কোটি টাকা। তারা এ হিসাব করেছে একেকটি দোকানে গড়ে ২০ হাজার টাকা বিক্রি ধরে। আর লভ্যাংশ ধরা হয়েছে ১০ শতাংশ। গত ১ এপ্রিল এ হিসাব দেয় দোকান মালিক সমিতি। এ হিসাব দিয়ে কর্মচারীদের বেতন দিতে আড়াই হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের দাবি জানিয়েছে সমিতি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় তারা দোকান খোলার প্রস্তাব দিয়েছে।
দৈনিক বড়লেখাঃ করোনা পরিস্থিতিতে চলছে ধানা কাটা শ্রমিক সংকট। এ অবস্থায় কৃষকের জমির বোরো ধান কেটে দিলেন বড়লেখা উপজেলার ১নং বর্নি ইউনিয়নের পাকশাইল আইডিয়াল হাইস্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এর ২১ এপ্রিল ২০২০ ইং তারিখের প্রেরিত পত্রের প্রেক্ষিতে (২৮এপ্রিল) মঙ্গলবার সকালে পাকশাইল আইডিয়াল হাইস্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী (পুরুষ) মিলে পাকশাইল গ্রামের দরিদ্র কৃষক মো. নুর উদ্দিন মিয়ার প্রায় ৩০ শতক জমির বোরো ধান কাটায় সহযোগিতা করেন।
প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ধান আহরণ কাজে নিযুক্ত ছিলেন- বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ রেহান উদ্দিন, মো. সোহরাব হোসাইন, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বিদ্যালয়ের দপ্তরি মো. ছইফ উদ্দিন।
বড়লেখা ডেস্কঃ বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের বিপর্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশও আক্রান্তের সংখ্যা দিনদিন বেড়ে চলছে। করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশে চলছে অঘোষিত লকডাউন। এমন পরিস্তিতিতে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর বাজার এলাকায় আব্দুল কাদির ও আব্দুল কাইয়ুম কমপ্লেক্স মার্কেটে থাকা ৮টি দোকান ঘর ভাড়াটিয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ওসমানী নগর উপজেলার সাবেক ফুটবলার, বর্তমান যুক্তরাজ্য প্রবাসী মফজ্জিল আলী (চমক)। তিনি চলতি এপ্রিল মাসের ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীদেরকে।
তার মামাতো ভাই সাংবাদিক বদরুল ইসলাম মহসিনের ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা জানালে তিনি ভাড়া মওকুফ করার ঘোষণা দেন।
মফজ্জিল আলী (চমক) বলেন, করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করার কারণে দেশের সবকিছুই স্থগিত হয়ে গেছে। কর্মজীবী মানুষ কর্মস্থলে যেতে পারছে না। তাই আমি এদেশের একজন ক্ষুদ্র নাগরিক হিসেবে প্রবাসে বসবাস করেও জানতে পারলাম করোনা মহামারিতে অসহায় দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ রয়েছেন বিপদগ্রস্ত। এই পরিস্থিতিতে গত কিছুদিন পূর্বে দেড় শতাধিক পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করি। এই পরিস্থিতিতে আমরা একে অন্যের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ববোধ থেকে আমি ও আমার পরিবারের মালিকাদিন মার্কেটে থাকা ৮টি দোকান ঘরের সব ভাড়াটিয়ার এপ্রিল মাসের ভাড়া মওকুফ করে দিলাম।
দৈনিক বড়লেখা ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আগামী ৭ মে পর্যন্ত দেশের বিমানবন্দরগুলো দিয়ে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের বিমান চলাচলে নতুন করে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে চীনের ফ্লাইটগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। এছাড়া কার্গো, ত্রাণ-সাহায্য, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি অবতরণ ও স্পেশাল ফ্লাইট পরিচালনার কার্যক্রম চালু থাকবে। সোমবার বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এ নিয়ে চতুর্থ দফা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বৃদ্ধি করল বাংলাদেশ বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
বেবিচকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞা ৭ মে পর্যন্ত বাড়ানো হলো। এ নিষেধাজ্ঞা আগের মতোই বাহরাইন, ভুটান, হংকং, ভারত, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সউদূ আরব, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাজ্যসহ (ইউকে) মোট ১৬টি দেশের সঙ্গে বিদ্যমান বিমান চলাচল রুটের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। একইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞা আগামী ৭ মে ২০২০ পর্যন্ত বাড়ানো হলো।
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়ন এর খশির আবিদুল্লাহপুর গ্রামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফেরত যুবক সহ মোট ২ জনের করোনা ভাইরাস সন্দেহে নমুনা সংগ্রহ করেছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা সাস্থ কমপ্লেক্সের দায়ীত্বশীল চিকিৎসকরা।
বিয়ানীবাজার উপজেলা সাস্থ কমপ্লেক্স এর আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আবু ইসহাক আযাদ এর নেতৃত্বাধীন বিশেষ টীম নমুনা সংগ্রহ করেন।
নিজস্ব সংবাদঃ বর্তমান সময়ের করোনা মহামারি প্রেক্ষাপটে করণীয় এবং বর্জনীয় কি? এ নিয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ মিটিং করা হয় বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে।
সোমবারে (২৭এপ্রিল) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব নসিব আলী সাহেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারগণ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ,আগর এসোসিয়েশনের ব্যক্তিবর্গ, আজিমগঞ্জ বাজার কমিটি, সিএনজি কমিটি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ সহ অন্যান্যরা।
সভায় প্রাথমিকভাবে কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়:
(১) বাজারে লোকজনের সমাগম কমিয়ে আনা। (২) একজনের বেশি মোটর সাইকেলে যাতায়াত না করা। (৩) বিকেল ৫:৩০ এরপর পর বাজারের মধ্যে কোন লোক না থাকা । (৪)যেহেতু বর্তমানে রমজান মাস ইফতার নিয়ে আসা যাওয়ার একটা রীতি রেওয়াজ আছে তাই বর্তমান সময়ে বিবেচনা করে আমরা ইফতার দেওয়া এবং নেওয়া থেকে বিরত থাকব কোনো ভাবেই এটি গ্রহণযোগ্য নয়। (৫) বিভিন্ন সংযোগ সড়কগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হবে। (৬) জনসচেতনা মূলক প্রচার চলমান থাকবে। (৭)সিএনজি ড্রাইভার দের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একজন আরোহী নিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা যাবে অন্যথায় কোন সিএনজি রাস্তায় বের হতে পারবে না। (৮) এলাকায় কোন বাহিরের লোক আসলে সাথে সাথে ইউনিয়ন পরিষদকে অবগত করা। ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন,অন্যকে নিরাপদ থাকতে সাহায্য করুন,আসুন সবাই মিলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই একমাত্র আল্লাহই পারেন আমাদের এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে।
মেয়েটিকে পাওয়া গেছে সিলেটের জকিগঞ্জে! ১২/১৩ বছরের একটি মেয়ে নাম বলতেছে নুসরাত বাবার নাম জসিম, বাড়ি বিয়ানীবাজার এর চাইতে বেশি কিছু বলতে পারছে না। যদি কেহ এই মেয়েটিকে চিনে থাকেন থাকেন তাহলে নিচে দেওয়া নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। মেয়েকে তার ঠিকানায় পৌঁছে দিতে সকলে পোস্ট শেয়ার দিয়ে সহযোগিতা করুণ। যোগাযোগ :- সুমন আহমদ চৌধুরী সদস্য ৯ নং ওয়ার্ড ১ নং বারহাল ইউনিয়ন ফোন নং ০১৭১২৮১৫৯০৩ জনসার্থে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি।
দেশে বর্তমান পরিস্থিতিতে যে ভয়াবহ নামটি সবার পরিচিত সেটি হল করোনা(কোভিড-১৯) ভাইরাস যার থাবায় বাদ পড়েনি বাংলাদেশের মানুষও। ইতিমধ্যে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে ভয়াবহ এ ভাইরাসটি। এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে ইতিমধ্যে বের হয়নি কোন প্রতিশোধকও। তাই বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা , সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, বাড়ির বাইরে বের না হওয়া এই ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায় হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
তাই সরকার দেশে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু স্থানে পুরো শহর ও এলাকা লকডাউন ঘোষণা করেছে। দিন দিন বেড়েই চলেছে এই ভাইরাসের সংক্রমণ। এরই প্রেক্ষিতে পুরো দেশে চলছে অঘোষিত লকডাউন। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রদের দাম প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পেয়েই যাচ্ছে। পড়তে হচ্ছে খাদ্যসংকটে। তাই করোনার এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে সংসারে ব্যয় বহন করছেন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম। আমরা নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছি। কখনো কি ভেবে দেখেছেন নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন ইমাম,মুয়াজ্জিন ও খাদেম। আমরা সবাই জানি একজন ইমাম,মুয়াজ্জিন ও খাদেমের বেতন কত? এদের বুক ফাটে কি মুখ ফুটে না। আমাদের সমাজে অনেক নিম্নবিত্ত আছে যারা অন্যের কাছে সাহায্য চাইতে পারে। কিন্তু ইমাম মুয়াজ্জিনরা কারও কাছে সাহায্য চাইতে পারেনা না। সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত চাকরিজীবীদের প্রতি বছর বেতন বৃদ্ধি পায়। কিন্ত এদের বেতন যা আছে তাই থেকে যায়। এদের ও সংসার, পরিবার পরিজন আছে।
আসুন ইমাম মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের প্রতি আমরা একটু সুদৃষ্টি দেই। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে এদের পাশে দাঁড়াই।
ইতিমধ্যে আমার সাথে অনেকেই যোগাযোগ করেছেন কিন্তু ইচ্ছা থাকা সত্বেও যে আমার সাধ্য নেই। মনের গহীনে জমানো কস্ট নিয়ে চলছি প্রতিনিয়ত। জানিনা তাদের’কে একটু হলেও সহযোগীতা করতে পারবো কি না।
আসুন নিজ নিজ এলাকার সম্মানিত ইমাম মুয়াজ্জিন ও খাদেম’দের পাশে দাঁড়াই।
ঢাকার সাভারে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক ব্যক্তি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ভুয়া ঠিকানা দেওয়ায় তাঁকে খুঁজে পায়নি পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে পুলিশ তাঁর পিছু নিয়েছে।
সাভার থানার পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ২১ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এদের মধ্যে সেলিম হোসেন (৩২) নামের এক ব্যক্তি ছিলেন। জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত এই ব্যক্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নমুনা দেন। তাঁর বাড়ি পৌর এলাকার চাঁপাইন মহল্লায় বলে জানিয়েছিলেন। পরীক্ষায় ওই ব্যক্তির শরীরে করোনার অস্তিত্ব মেলে। অন্যদের শরীরে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার কর্মকর্তা সায়েমুল হুদা বলেন, সেলিম হোসেনের পরীক্ষার প্রতিবেদন করোনা ‘পজিটিভ’ এসেছে। তাই হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য সোমবার তাঁর দেওয়া ঠিকানায় স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজনকে পাঠিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ওই ঠিকানায় গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মূলত তিনি ভুয়া ঠিকানা দিয়েছেন। এর পর থেকে স্বাস্থ্যকর্মীরা ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। সায়েমুল হুদা বলেন, সোমবার পর্যন্ত সাভারের ১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সেলিম হোসেনের শারীরিক অবস্থা সবচেয়ে জটিল। তাঁকে আইসোলেশনে না নেওয়া গেলে তাঁর মাধ্যমে অনেকের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ বলেন, সেলিমের খোঁজে তাঁরাও চাঁপাইন এলাকায় গিয়েছিলেন। কিন্তু সেলিম বা তাঁর পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। তিনি নমুনা দেওয়ার সময় ভুয়া তথ্য দিয়েছিলেন। তবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁকে আটকের চেষ্টা চলছে।
নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রভাবে গত মার্চ থেকে পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব রুটের ফ্লাইট। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং থেকে আসা রাজস্ব আয়ও বন্ধ। এ অবস্থায় ব্যয় সংকোচনে চুক্তিভিত্তিক দেশী-বিদেশী ১৭ জন বৈমানিককে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্রে জানা গেছে, চুক্তিভিত্তিক বিমানে থাকা ওই বৈমানিকদের মধ্যে আটজন ছিলেন বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর উড়োজাহাজের। এছাড়া ছয়জন বোয়িং ৭৩৭ ও তিনজন ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ উড়োজাহাজের বৈমানিক ছিলেন।
এদিকে বহরে থাকা বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজগুলোর জন্য যেসব বিদেশী বৈমানিককে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, তাদের আগেই বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠিয়েছিল বিমান।
এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রশাসন বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে জানান, বিমানে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক সব বৈমানিককেই বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফ্লাইট অপারেশন শুরু হলে তারা আবার যোগ দেবেন। গত সপ্তাহে সব বৈমানিককে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্তে প্রতি মাসে কমপক্ষে দেড় কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বিমানের।
এদিকে ফ্লাইট কার্যক্রম না চললেও নিজেদের দৈনন্দিন কার্যক্রম সচল রাখতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ চেয়ে আবেদন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে এ ঋণের আবেদন করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ। মূলত চলতি মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) হিসেবে এ অর্থ ঋণ চেয়ে তারা আবেদন করেছে।
প্রসঙ্গত, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল বন্ধের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত ১৬টি দেশ হচ্ছে বাহরাইন, ভুটান, হংকং, ভারত, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলংকা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্য। এসব দেশ থেকে কোনো ফ্লাইট বাংলাদেশে অবতরণ করতে পারবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও এসব দেশে কোনো ফ্লাইট যেতে পারবে না। আর এসব আন্তর্জাতিক রুটের অধিকাংশেই ফ্লাইট রয়েছে বিমানের। সুত্রঃ বণিক বার্তা
এম.এম আতিকুর রহমানঃ বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর (কাঠালতলী) ইউনিয়নের সাবেক চার চারবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও কাঠালতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক বড়খলা গ্রামের কৃতি সন্তান আমেরিকার স্হায়ী বাসিন্দা আলহাজ্ব মুছব্বির আলী আজ রাত প্রায় ৮ ঘটিকায় আমেরিকার একটি হাসপাতালে ইহকাল ত্যাগ করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মানুষ গড়ার কারিগর এ কৃতীমান বীর পুরুষ শিক্ষকতার পাশাপাশি সমাজ সেবায়ও অনবদ্য অবদান রেখে গেছেন। তিনি বিএনপির দক্ষ রাজনীতিবিদ হিসেবে ইউনিয়নের চার চার বারের সফল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে তিনি এলাকার উন্নয়ন অগ্রগতি এবং সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। অমায়িক ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন এ ক্ষণজন্মা শিক্ষাবিদ হাজার হাজার কৃতিত্বের অধিকারী ছাত্র -ছাত্রী তৈরী করেছেন। যারা আজ সমাজের বিভিন্ন শ্রেনীপেশায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। তাঁর ইন্তেকালে এলাকায় ও দেশ-বিদেশের হাজারো ভক্ত অনুরাগীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। আমরা কায়মনোবাক্যে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম কামনা করছি এবং পরিবার পরিজন সহ সকলকে সবরে জামিল প্রদানের মিনতি করছি।
অনলাইন ডেক্সঃ রাজনৈতিক দল গঠনের লক্ষ্যে গঠিত প্লাটফর্ম জন আকাঙ্ক্ষার প্রধান সমন্বয়ক ও জামায়াত দলছুট নেতা মজিবুর রহমান বলেছেন, করোনা সংকট নতুন করে বুঝিয়ে দিয়েছে যে এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় কতটা ব্যর্থ। বুঝিয়ে দিয়েছে এই রাষ্ট্র নতুন করে গড়ার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু, যেটাকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রের আলোকে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র বিনির্মাণের লড়াই বলছি।’
(২৭এপ্রিল)সোমবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জন আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনলাইন ভিডিও সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক মজিবুর রহমান এ কথা বলেন। এ সময় তিনি আগামী ২ মে জন আকাঙ্ক্ষার নতুন রাজনৈতিক দলের নাম ও কমিটি প্রকাশ করা হবে বলে ঘোষণা দেন।
জন আকাঙক্ষার সূত্র জানায়, তাদের নতুন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য নাম আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবিপি)।
জন আকাঙ্ক্ষার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে মজিবুর রহমান বলেন, আগামী ২ মে বেলা ১১টায় বিজয় নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন রাজনৈতিক দলের নাম, কর্মসূচি এবং আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে। মজিবুর গত এক বছরের কার্যক্রমের বর্ণনা দিয়ে বলেন, এই সময়ে দেশে–বিদেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের সঙ্গে তাঁরা মতবিনিময় করেছেন। বুঝার চেষ্টা করেছেন কীভাবে সম্ভব বাংলাদেশে নতুন রাজনীতি বিনির্মাণের। তিনি দেশবাসীকে এই লড়ায়ে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।
সাবেক সচিব এ এফ এম সোলাইমান চৌধূরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জন আকাঙক্ষার কেন্দ্রীয় সংগঠক মেজর (অব.) আবদুল ওহাব মিনার, আইনজীবী তাজুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, যুবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া প্রমুখ।
সোলাইমান চৌধুরী বলেন, ‘সীমিত সময় এবং সীমিত সম্পদ দিয়ে গত এক বছরে জন আকাঙ্ক্ষা যা অর্জন করেছে, তা অভাবনীয়। এটি আমাদের পথচলার পাথেয় হবে।’
জন আকাঙক্ষার সূত্র জানায়, তাদের নতুন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য নাম হবে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবিপি)। সাবেক সচিব এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও আইনজীবী তাজুল ইসলামকে সদস্যসচিব করে ১১০ জনের আহ্বায়ক কমিটি করা হবে। কমিটিতে দলের মুখপাত্র হিসেবে থাকবেন জন আকাঙক্ষার সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা মুজিবুর রহমান।
বিছানাতেই হড়হড় করে বমি করে ফেলল গনেশ। চোলাই টা আজ বেশী টানা হয়ে গেছে। সাথের ফুলুরি টাও শালা ঠান্ডা ছিল, অম্বল হয়ে গেছে নির্ঘাত। ..শালা ঢ্যামনা, দিলি তো শালা বিছানা ভাসিয়ে? সকাল থেকে গিলে বসে আছিস নাকি বে? চুল্লুখোর শালা। সন্ধে সন্ধে দিল শালা সব একশা করে।ধুপ দিলাম এই সবে, দিল হারামী টা বারোটা বাজিয়ে…. বকবক করেই চলেছে বিজলী। গনেশ জানে এখন কিছু বলতে গেলেই আরও খিস্তি খাবে। তাই কাচুমাচু হয়ে চুপ করে রইল। ..এই শালা,শুয়োরের বাচ্চা, বসে আছিস কি? ওঠ। নাম খাট থেকে। তোর বাপ এসে সব পরিস্কার করে দেবে নাকি রে গান্ডু…. তড়িঘড়ি খাট থেকে নেমে এল গনেশ। বাথরুমে যেতে হবে একবার, বলতে সাহস হলনা।চুপচাপ নিজেই চলে গেল।ভালো করে মুখ হাত ধুতে ধুতে ভাবল, কিছু টাকা এক্সট্রা দিয়ে দেব বিজলী কে। আজ টোটো চালিয়ে নেহাত মন্দ রোজগার হয়নি।
..এই শালা,আর বমি করলে কেলিয়ে বৃন্দাবন দেখিয়ে দেব। ..না না আর হবেনা। বিজলী এইটুকু সময়ের মধ্যেই সুন্দর করে চাদর পাল্টে,সব ধুয়ে,বেশ কটা ধুপ জ্বালিয়ে দিয়েছে।
আধখন্টা পর…. ..নে নে…এবার ফোট। অন্য খদ্দের আসবে। গনেশ পকেট থেকে পাঁচটা একশ টাকার নোট বের করল। ..এই নে। ..পাঁচটা কেন বে? আজ কি এমন মধু পেলি বাবা যে একশ বেশি? ..ওসব না। তোর ঘর নোংরা করলাম। আর আজ রোজগার ভালোই হয়েছে রে।এক বিয়েবাড়ির ভাড়া ছিল….. ..আজ কিছুই লাগবেনা।ফিরি। ..ফ্রি? কি? ..হ্যাঁ, ফিরি। কানের মাথা খেয়েছিস নাকি? ..কিন্তু কেন?এরকম তো কোনদিন….. ..আজ, কাল দুদিন ফিরি করে দিয়েছি আমরা। এই পুরো মহল্লা। ওই যে, রেপ হয়েছে না কোথায়, তাই। হাসি চাপতে গিয়েও পারলনা গনেশ। ..তার জন্য তোরা ফ্রি কেন করলি? প্রতিবাদ? তা মোমবাতি নিয়েও নামবি নাকি? ভুখ হড়তাল করবি? ..না। ওসব শালা পতিবাদ টতিবাদ না। এত ক্ষিদে নিয়ে ঘুরছিস তো তোরা…আট বছরের বাচ্ছাটাও বেশ সুড়সুড়ি দিল তোদের..এতই কামড় তোদের। তাই আর কি।এই দুদিন তোদের মতো ব্যাটাছেলেদের জন্য আমরা ফিরি। কত ক্ষিদে তোদের মিটিয়ে যা মাগনায়।বাচ্ছাগুলোকে ছাড়ান দে, এই দুদিন না হয়…..
কথা নেই গনেশের মুখে।ব্যাটাছেলে হয়ে জন্মে,এই প্রথম লজ্জা করছে। নির্বিকার বিজলি….. ..নে নে।অনেক ভড়ং হল।ফোট এবার।পরের মালকে আসতে দে……
বেশ্যাপট্টি থেকে বেড়িয়ে গনেশের মনে হল, এরকম ভাবে সবাই যদি ভাবতে পারত। ওই বেশ্যাগুলোর জন্য একজনও যদি রেহাই পায়….. কপালে দুহাত ঠেকিয়ে প্রণাম করল গনেশ।কার উদ্দেশ্যে? জানেনা।।
ইবাদুর রহমান জাকির বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত সব পেশার মানুষ। পেশাগত দায়িত্ব পালনে অনেকেই আতঙ্কিত। বিশেষ করে প্রশাসন এই কঠিন পরিস্থিতিতে, মৌলভীবাজার বঙ্গবন্ধু মানব কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পারসোনাল প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট-)পিপিইসহ হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হ্যান্ড গ্লাভস প্রদান করা হয়, এগুলো গ্রহণ করেন মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোঃ ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার)।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ২ টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রদান করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাউর রহমান, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আকবর আলী, মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিবুল হাসান রাজিব,সভাপতি বঙ্গবন্ধু মানব কল্যাণ সংস্থার মিজানুর রহমান, উজ্জ্বল আহমদ সভাপতি হামরকোনা বয়েস ক্লাব, লিলু মিয়া,কালাম মিয়া, তারেক আহমেদ, কাওসার আহমেদ,হাসান আহমেদ সহপ্রমুখ। এবিষয়ে বঙ্গবন্ধু মানবকল্যাণ সংস্থা সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন- করোনার মধ্যে আমাদের দেশের সবচেয়ে বেশি ঝুকির মধ্যে কাজ করছে পুলিশ, এইদিক বিবেচনা করে বঙ্গবন্ধু মানবকল্যান সংস্থার প্রধান উপাদেষ্টা সাইফুর রহমান ভাইর পক্ষ থেকে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সদস্যদের কিছু পিপিই প্রদান করা হয়।
মোঃইবাদুর রহমান জাকিরঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পৌরসভার সীমা প্রাচীর সংলগ্ন ৬নং সদর ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামের ভিতর ভায়া(কেছরিগুল)পাঁচমিরের মাজার রোডে মানুষ চলাচলের রাস্তা অনুপযোগী হওয়ায় পুর্ব মাইজপাড়া গ্রামের মুরব্বিগনের নেতৃত্বে (২৭এপ্রিল)সোমবার সকালে দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করা হয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হবার পর থেকে অনেক চিন্তিত। জানিনা আল্লাহ আমাদের কেমন রাখবেন। যে সকল শিক্ষকরা একাডেমি বা কোচিং কিংবা প্রাইভেট পড়িয়ে সংস্যারের খরচ যোগান। তারা আজ আমার মত অসহায়। আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ভালো উদ্দেশ্য। কিন্তু আমাদের মতন হাজার শিক্ষক, হাজার বেকার,হাজার প্রাইভেট কোম্পানি আছে, হাজারো কর্মি বিমা তে কাজ করে পরিবারের বরন পোষন করে আসছেন।।। আজ সবাই আমার মতন অসহায়। আল্লাহ সাহায্য কর। কোন পত্রিকা আমাদের টিউশনি টিচার দের নিয়ে নিউজ করতেছেন না আর করবেন না। কারন আমরা মধ্যবিত্ত। এটাই আমাদের অভিশাপ। আজ কারো কাছে হাত পাততে পারতেছিনা।সম্মানের ভয়ে। জানিনা আল্লাহ কপালে কি রেখেছেন। হয়তো দু এক মাস চলতে পারবো কিন্তু সরকার ৫ মাসের বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমাদের কি হবে । সরকারী তো অনেক কিছু অনেকেই পাচ্ছে। কিন্তু সরকারের কোন দোষ নেই। উনি উনার সাধ্য মতন ট্রাই করতেছেন। কিন্তু চাউল চুর ডাল চুর ওরা মেরে দিচ্ছে।এই জন্য প্রধানমন্ত্রীর উচিৎ ছিলো। সবার NID কে ব্যাংক নাম্বার বানিয়ে টাকা জনে জনে দিয়ে দিতে না হয় সবাইকে পস্তাতে হবে। দেশে চুরি ডাকাতি, ইত্যাদি বেড়ে গেছে। এর কারন একটাই ছিল। কেউ খিদার জালা সহয্য করতে পারেনা।এটাই সত্য,কিন্তু আমরা খিদার জ্বালা সহ্য করে তাকতে হয়। কারণ আমরা সবাই মধ্যবিত্ত আল্লাহ আমাদের হেল্প করেন।
লেখাটি একজন প্রাইভেট শিক্ষক আমাদের ফেইজবুক পেইজে ইনবক্স করেছেন ।
হবিগঞ্জে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হওয়ার পরপরই হবিগঞ্জের সদর হাসপাতাল লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে প্রশাসন। রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত ৯ টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্বাবধায়ক আশরাফ উদ্দিন।এর আগে শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক একজন, নার্স দুইজন, চালক দুইজন, প্যাথোলজি বিভাগের দুইজন, ব্রাদার দুইজন এবং দুইজন আয়া ও ঝাড়ুদার, জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ ২০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানায় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।এরপর রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাব থেকে জেলায় আরও দুজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়।লকউনের পর হবিগঞ্জের সদর হাসপাতালের প্রধান ফটকে পুলিশের অবস্থান করছে।এর আগে গত ১১ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জে আসা এক ব্যক্তির নমুনায় করোনা পজেটিভ আসে। তিনিই হবিগঞ্জের প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন। এরপর ২০ এপ্রিল এক চিকিৎসক ও এক নার্সসহ ১০ জন, ২১ এপ্রিল একজন নার্সসহ দুইজন, ২২ এপ্রিল পাঁচজন, ২৩ এপ্রিল স্বাস্থ্যকর্মীসহ তিনজন, ২৪ এপ্রিল চিকিৎসকসহ পাঁচজন এবং ২৫ এপ্রিল সর্বশেষ চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও তিন ম্যাজিস্ট্রেটসহ আরও ২২ জনের করোনা পজেটিভ এসেছে।সিভিল সার্জন ডা. একেএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত মোট নমুনা প্রেরণ করা হয়েছে ১২২৩ টি। এরমধ্যে রিপোর্ট এসেছে ৭৭৪ টির, পজিটিভ ৪৭ টি ও নেগেটিভ ৭২৭ টি। এরমধ্যে শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) রাত ১২টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে পরীক্ষা করার পর চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে সব চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। এর আগে দুই নার্স ও এক চিকিৎসক আক্রান্ত হলে গত ২১ এপ্রিল বন্ধ ঘোষণা করা হয় লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
ডেক্স রিপোর্টঃকরোনা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন ফসল উঠছে। এরপর ফসল লাগাতে হবে। আস্তে আস্তে আমাদের সবকিছু উন্মুক্ত করতে হবে। সবাই নিজেকে সুরক্ষিত রেখে কাজ করবেন। সেটাই আমরা অনুরোধ করব।
তিনি বলেন, স্কুলসহ আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একটাও খুলবে না। অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল-কলেজ সবকিছু বন্ধ থাকবে। দেখা যাক করোনাভাইরাস কী হয়। যখন এটা থামবে তখন আমরা খুলব।
শেখ হাসিনা বলেন, যারা করোনা রোগীদের দেখাশোনা করছেন তাদের প্রণোদনা দিয়েছি। যদি কেউ অসুস্থ হন তাদের বিনা পয়সায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। তাছাড়া আমরা পাঁচ লাখ থেকে ৫৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেব। এভাবে বিভিন্ন সহযোগিতার আশ্বাস আমরা দিয়েছি এবং সেটা করে যাচ্ছি।
এর আগে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিডিও কনফারেন্স শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় করছেন তিনি।
ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ বাহিনী, সিভিল সার্জন, নার্স, রাজনৈতিক ব্যক্তি, সেনাসদস্য, মসজিদের ইমাম, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি ও ত্রাণ বিতরণ নিয়ে মতবিনিময় করছেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে চার দফা পৃথক ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, বরিশাল এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ৪৮টি জেলার সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সংকট উত্তরণে বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজেরও ঘোষণা দিয়ছেন।
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় এবার এক নারীর শরিরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দুই জন।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিঅার ল্যাবে ১৫৬ জনের নমুনা পরিক্ষা করা হয়। পরিক্ষায় বড়লেখার ১ জনের করোনা পজিটিভ আসে।
বড়লেখা উপজেলা সাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রত্নদ্বীপ বিশ্বাস আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন আক্রান্ত নারির বাসা বড়লেখা পৌর এলাকায়। তার বাসা লকডাউন করা হবে।
এর আগে শনিবার বড়লেখায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়।আক্রান্ত অই যুবকের বয়স অনুমান ৩৫ বছর। তিনি বর্তমানে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি রয়েছেন। তার বাড়ি বড়লেখা দক্ষিনভাগ ইউপির উত্তর কাশেম নগর গ্রামে। তিনি সমন ভাগ চা বাগানে চা,ছোলা ও পিয়াজ বিক্রি করতেন।
ইবাদুর রহমান জাকিরঃমৌলভীবাজারের বড়লেখার উপজেলার ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বিছরাবন্দ গ্রামের কৃতিসন্তান মাহতাব আল মামুন সৌদি আরব প্রবাসী। তিনি স্বদেশে এলাকার মানুষের মমতায় অসহায় দরিদ্রের কল্যাণে বড়লেখা উপজেলার মেধাবী তরুণদের সমন্বয়ে গঠন করেন একটি ভিন্নধর্মী সাহিত্য ভিত্তিক সামাজিক সংগঠন “বড়লেখা পাবলিকেশন্স সোসাইটি”। এই সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল,মাদ্রাসা ও এতিমখানায় সাহায্য সহযোগিতা অব্যাহত।
উপজেলায় এই সংগঠনের মাধ্যমে কয়েকটি টিউবওয়েল সহ বিভিন্ন মাদ্রাসায় হিজাব সৌরবিদ্যুৎ , সিলিং ফ্যান বিতরণ সহ অসংখ্য ছাত্র/ছাত্রীদের পঠ্য পুস্তক বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।
এ ছাড়া ও বর্তমান সমাজের তরুণ লেখক লেখিকাদের সমন্বয় সুন্দর সাহিত্য প্রকাশনায় বড়লেখা পাবলিকেশন সোসাইটি হতে প্রকাশনার বদ্ধপরিকর।
বিশ্বের মানুষ যখন করোনা প্রাদূর্ভাবে গৃহবন্দী এক দিকে অর্থনৈতিক মন্দা অপর দিকে চলছে করোনা আক্রান্তের সাড়ি সাড়ি। বৃদ্ধি পাচ্ছে মৃত্যুর মিছিল, সে সময়ে আজ স্বদেশের অসহায় নিম্নবৃত্ত মধ্যবৃত্তের কথা ভূলে যাননি বরং বড়লেখা পাবলিকেশন সোসাইটির প্রতিষ্টাতা চেয়ারম্যান মাহতাব আল মামুন অসংখ্য মানুষের মতো তিনিও সোসাইটির ব্যাবস্থাপনায় প্রবাসী প্রিয়জনদের আর্থিক সহযোগিতায় নিয়ে ইতিমধ্যে উপজেলার বেশ কিছু পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন।
উল্লেখ্য, বড়লেখাবাসীর কল্যাণে নাড়ির ঠাঁনে আরও তিনটি উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি যা একমাত্র তাহাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায়, মানুষের মূখে হাসি ফুঁটানো হবে। বড়লেখা পাবলিকেশন্স সোসাইটির ব্যাবস্থাপনায় আগামী ২৯এপ্রিল উপজেলার শতাধিক পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রীয় বিতরণ করা হবে, তাছাড়া আগামী ১মে তাঁহার নিজ গ্রামে খাদ্য ও ২৫রামাজান ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হবে ।
মাহতাব আল মামুনের বাল্যকাল থেকে সমাজের কিছু করার অভিপ্রায় ছিল তাঁর ধারাবাহিকতার আলোকে মানবসেবা ইবাদাত মনে করে সর্বদাই মানুষের পাঁশে। আসুন আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বড়লেখা পাবলিকেশন্স সোসাইটিসহ যে কোন সামাজিক সংগঠন কে সহযোগীতা করি “নিজে ঘরে থাকি অন্যকে ঘরে থাকতে উৎসাহিত করি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি দেশও জাতিকে করোনা প্রাদূর্ভাব মুক্তরাখি” পাশাপাশি সাহায্যের হাত নিয়ে মানুষের পাঁশে দাঁড়াই।
মোঃইবাদুর রহমান জাকির মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা’র ৫নং দক্ষিন শাহবাজপুর ইউনিয়নের গ্রামের বিত্তবানদের ও প্রবাসীদের অর্থায়ণে এবং তারাদরম ফ্রেন্ডস সার্কেল ব্যাবস্থাপনায় করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে রবিবার (২৬এপ্রিল) বিকাল ৩ঘটিকার সময় ১৫০ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ঘরে ঘরে চাল,ডাল,আলু,তৈল উপহার স্বরুপ খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেন।
বৈশ্বিক করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অঘোষিত লকডাউনে থাকা জনসাধারণ অতি কস্টে দিনরাত পার করছেন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক,সামাজিক ও যুব সংঘটনগুলোর পাশাপাশি সাধ্যানুযায়ী এগিয়ে এসেছেন তারাদরম ফ্রেন্ডস সার্কেল গ্রুপ ও প্রবাসী’সহ স্ব-স্ব এলাকার বিত্তবান’রা।
খাদ্য সামগ্রী বন্টন কালে উপস্থিত ছিলেন ফ্রেন্ডস সার্কেল গ্রুপ এর পরিচালক মু. খাইরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক ছাত্রনেতা গৌছ উদ্দিন শুভ, সহকারী পরিচালক ও সমাজকর্মী রুবেল আহমেদ, তারাদরম ফ্রেন্ডস সার্কেল গ্রুপ এর সিঃ সদস্য তাহের আহমেদ, মন্জুর আহমেদ, শরিফ উদ্দিন, সদস্য দেলোয়ার হোসেন দিলু, জাহেদ আহমেদ, ফাহিম আহমদ,রুবেল হোসেন, আতিকুর রহমান নাজমু, নিজাম উদ্দিন, কাউছার আহমদ, ফারুক আহমদ, জুবের আহমেদ, আব্দুল্লাহ, মারজান সহ প্রমুখ।
এ ব্যাপারে তারাদরম ফ্রেন্ডস সার্কেল গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ খায়রুল জানান, দেশ বিদেশে থাকা আমাদের এলাকার জনসাধারণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বলেই আমরা ক্ষুদ্র এই সহায়তা বর্তমান সময়ে দিন মজুর, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের মাঝে উপহার স্বরুপ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করতে পেরেছি। আগামীতেও আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো।
তারাদরম ফ্রেন্ডস সার্কেল গ্রুপের সহকারী পরিচালক ছাত্রনেতা গৌছ উদ্দিন শুভ জানান, দেশ-বিদেশের সকলের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে আমরা এই উদ্যোগটি শুরু করেছি, আসলে আমরা এই সময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি বলে নিজেদের গর্বিত মনে করছি, সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য, সবাই সহযোগিতা করেছে বলেই আমরা পেরেছি, আমি সত্যি আপ্লুত, আমাদের মতো ক্ষুদ্র মানুষের ডাকে সবাই যে রকম এগিয়ে এসেছেন আমি ব্যাক্তিগত ভাবে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
করোনা ঝুঁকির মধ্যেই চালু হলো বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানা। ইতোমধ্যে এসব কারখানায় শ্রমিকরাও ফিরে এসেছেন।
রবিবার সকাল থেকে গাজীপুর ও ঢাকায় কারখানায় শ্রমিকদের ফিরতে দেখা যায়। এসব কারখানায় দূরদূরান্ত থেকে শ্রমিকরা আসেন।
লকডাউন পরিস্থিতিতে যেসব শ্রমিক সংশ্লিষ্ট কারখানার আশপাশে অবস্থান করছেন তাদেরকে দিয়েই কারখানা চালুর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো, তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ করছেন শ্রমিকরা।
গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিকল্প উপায়ে দূর-দূরান্ত থেকে গাজীপুর ও ঢাকায় বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করছেন শ্রমিকরা।
পুলিশ জানায়, নতুন করে আবারও কারখানা খুলতে শুরু করেছে। রাত থেকেই বিভিন্ন উপায়ে দূর থেকে আসতে থাকেন শ্রমিকরা।
এদিকে ঢাকায় ও গাজীপুরে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। রাজধানীর মালিবাগে সকালে আবুল হোটেলের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা।
‘তাহসিন ফ্যাশনস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা উজ্জ্বল বলেন, আমাদের দুই মাসের বেতন দেয়নি কারখানা মালিক। একবার ১৫ এপ্রিল তারিখ দিয়েছিল বেতন দেওয়ার জন্য, কিন্তু দেয়নি। পরে ২৬ এপ্রিল তারিখ দেয়। এখন কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
হাতিরঝিল থানার ওসি আব্দুর রশিদ জানান, পুলিশ গিয়ে বুঝিয়ে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি বিজিএমইএকে জানানো হয়েছে।
অপরদিকে সালনা-শিমুলতলী আঞ্চলিক সড়ক এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে দেখা যায় শ্রমিকদের।
গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, তারা মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন, যাতে শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কারখানা খোলার ক্ষেত্রে কী ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, তা নিয়ে পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ একটি গাইডলাইন তৈরি করেছে।
ঐ গাইডলাইন অনুযায়ী, দূরবর্তী এলাকা কিংবা ঢাকার বাইরে চলে যাওয়া শ্রমিকদের বাদ দিয়ে আপাতত কারখানার কাছাকাছি থাকা শ্রমিকদের দিয়ে উত্পাদনকাজ চালানো হবে।
বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক কারখানা খোলার বিষয়টি অবহিত করে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
ঐ চিঠিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশ ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালু করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের সদস্যভুক্ত কারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে খোলা হচ্ছে। সুত্রঃ ইত্তেফাক।
ঘরে খাবার নেই, চক্ষুলজ্জায় হাতও পাততে পারছেন না৷ অন্যদিকে ভাড়া পরিশোধের জন্য বাড়ি মালিকের চাপ, জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মধ্যবিত্তদের৷ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরতদের অনেকে বেতন পাচ্ছেন না৷ সঞ্চিত অর্থ শেষের পথে, আছেন চাকুরি হারানোর শঙ্কায়৷ সরকারের কোন প্রণোদনার মধ্যেও নেই তারা৷ ফলে চলমান লকডাউনের মধ্যে মহাসংকটে পড়েছেন বাংলাদেশে ‘গৃহবন্দি’ কয়েক কোটি মধ্যবিত্ত৷ অর্থনীতিবিদরা মনে করেন এইসব পরিবারের অনেকেই এখন নিম্নবিত্তের স্তরে নেমে আসছেন৷
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের চার কোটি পরিবার আছে৷ এর মধ্যে নিম্নবিত্ত ২০ ভাগ আর উচ্চবিত্ত ২০ ভাগ৷ মাঝের যে ৬০ ভাগ এরা নিম্ন, মধ্য ও উচ্চ মধ্যবিত্ত৷ এই সংখ্যা আড়াই কোটি পরিবার হবে৷ এর মধ্যে সরকারি চাকুরিজীবী, মাল্টিন্যাশনাল ও বড় কোম্পানিতে কাজ করা কিছু মানুষ বাদে অন্যরা সবাই সংকটে আছেন৷ এদের মধ্যে বড় একটা অংশ চাকুরি ঝুঁকিতে আছেন৷ অনেকেরই বেতন হয়নি, অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে৷ ফলে তারা বেতন তো পাননি, উল্টো চাকুরি ঝুঁকিতে আছেন৷ এই মানুষগুলো সরকারি কোন কর্মসূচির মধ্যেও নেই৷ তবে সরকার এসএমই ঋণ দিয়ে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্তদের বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছে৷ তবে এই সংখ্যাও খুব বেশি না৷ বিপুল জনগোষ্ঠী এখনও সহায়তার বাইরে৷’’
অনেকের ঘরে খাবার নেই আবু জাফর মিরপুরের কাজীপাড়ায় স্যানিটারি সামগ্রী বিক্রি করেন৷ তার দোকানে দুইজন কর্মচারি৷ ২৫ মার্চ দোকান বন্ধের আগে হাতে যে টাকা ছিল তা দিয়ে কর্মচারিদের মার্চ মাসের বেতন দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন৷ সামান্য টাকা রেখেছিল নিজের পরিবারের খরচ মেটাতে৷ যা এরিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে৷ রোজগারের জন্য দোকান খুলতে পারছেন না৷ ডয়চে ভেলের সঙ্গে আলাপকালে জাফর বলেন, ‘‘আমি কোনভাবেই কর্মচারিদের এপ্রিল মাসের বেতন দিতে পারব না৷ নিজেই খাওয়ার জন্য এক আত্মীয়ের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার করেছি৷ এখনও বাড়ি ভাড়া দিতে পারিনি৷ মালিক চাপ দিচ্ছে৷ চার সদস্যের পরিবার নিয়ে খুবই সংকটে আছি৷ এই অবস্থা আর ১৫ দিন থাকলে আমাকে পথেই নামতে হবে৷’’
আফরোজা আক্তার দর্জির কাজ করেন৷ তার স্বামী একটি দোকানের কর্মচারি৷ তিন মেয়ে নিয়ে কোনোমতে সংসার চলে তাদের৷ করোনায় স্বামী-স্ত্রীর কোনো কাজ না থাকায় তীব্র খাবার সংকটে পড়েছেন এই দম্পতি৷ ডয়চে ভেলেকে আফরোজা বলেন, নিরুপায় হয়ে তিনি স্থানীয় থানার ওসিকে ফোন দিয়েছিলেন৷ ওসি অপারগতা প্রকাশ করেন৷ পরে ওই এলাকার কাউন্সিলর কিছু সাহায্য দেওয়ার আশ্বাস দিলেও চারদিনেও কিছু পাননি৷ পরে একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তাদের কিছু সাহায্য দিয়েছে৷
তবে মধ্যবিত্তদের অনেকেই চক্ষুলজ্জায় মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে পারছেন না৷ নিজেদের পরিস্থিতি বাইরের কাউকে তারা জানাতেও পারছেন না৷ সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে মধ্যবিত্ত
এমন পরিস্থিতিতে কিভাবে চলছেন দেশের কয়েক কোটি মধ্যবিত্ত? পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘‘মধ্যবিত্তের কিছু সঞ্চয় থাকে৷ গেল এক মাসের লকডাউনে তারা সেই সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে৷ এভাবে আরেকমাস চললে তাদের সেই সঞ্চয়ও শেষ হয়ে যাবে৷ তখন কি পরিস্থিতি দাঁড়াবে? বিপুল সংখ্যক মধ্যবিত্ত এই পরিস্থিতিতে নিম্নবিত্তে পরিণত হবেন৷ সবচেয়ে বড় সংকট হবে যখন সবকিছু স্বাভাবিক হবে তখন তো বিপুল সংখ্যক মানুষ চাকুরি হারাবেন৷ উন্নত দেশে তো বেকার ভাতা দেওয়া হয়৷ এখানে সেই ব্যবস্থা নেই৷ তাহলে এই মধ্যবিত্ত বেকার শ্রেণী কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? সরকারের যে প্রনোদনা সেখানেও কিছু মধ্যবিত্তের কোন অবস্থান নেই৷ আবার আমাদের যে ব্যবস্থা সেখানে সরকার চাইলেও মধ্যবিত্তকে কিছু করতে পারে না৷ আসলেই বাংলাদেশে মধ্যবিত্তরা ভয়াবহ সংকটে আছেন৷’’
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘‘এই কারণেই আমরা নগদ প্রনদোনার কথা বলেছিলাম৷ আমাদের দেশে ছয় কোটি ১০ লাখ শ্রমিক আছেন৷ এর মধ্যে এক কোটি শ্রমিক দিন এনে দিন খায়৷ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কর্মসংস্থান যারা করেন তাদের সংখ্যা দুই কোটি ২০ লাখ৷ আমরা সরকারকে বলেছি, একটি পরিবারে চারজন আছেন এমন একটি পরিবারকে মাসে আট হাজার টাকা হিসেবে দুই মাসের ১৬ হাজার টাকা দিতে৷ তাতে সরকারের ২৭ হাজার কোটি টাকা লাগবে, যা জিডিপির এক শতাংশ৷ এভাবেই এই ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের সহায়তা করা যেতে পারে৷’’
চাকুরি হারানোর শঙ্কায় অনেকে
মোহাম্মদপুরে থাকেন আমিনুল ইসলাম ও ফাতেমা আক্তার দম্পত্তি৷ একটি ‘ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ কোম্পানিতে চাকুরি করেন আমিনুল৷ তার স্ত্রী ফাতেমা একটি বেসরকারি স্কুলে চাকুরি এবং টিউশন করে সংসার চালান৷ কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে তিনি বেতন পাচ্ছেন না৷ আমিনুল অর্ধেক বেতন পেয়েছেন৷ কোনোমতে চলছে সংসার, কিন্তু এখনো বাসাভাড়া মেটাতে পারেননি৷
আমিনুল জানান, সামনের মাসে বেতন দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে তার চাকুরিদাতা প্রতিষ্ঠান৷ এমনকি চাকুরি থাকবে কি না তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা৷ চলতি এপ্রিল মাসে বেতন না পেলে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই পরিবারটির৷ তাদের মতো অনেকেই আছেন চাকরি হারানোর এমন আতঙ্কে৷ মধ্যবিত্তদের পাশে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মধ্যবিত্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে অনেক বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন৷ বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার জসিম উদ্দিন খান ও প্রেস ইনস্টিটিউটের সহকারি প্রশিক্ষক বারেক কায়সারসহ আরো কয়েকজন মিলে গড়ে তুলেছেন ‘সঙ্গে আছি’ নামে একটি সংগঠন৷ এই সংগঠনের উদ্যোগে শনিবার পর্যন্ত পাঁচ হাজার পরিবারের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে৷ এর মধ্যে দুই হাজার মধ্যবিত্ত পরিবার৷ তারা মূলত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষকে চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দিচ্ছেন৷ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বারেক কায়সার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সবচেয়ে কষ্টে আছে মধ্যবিত্ত৷ তারা হাত পাততে পারে না, আবার ঘরে খাবার নেই৷’’ ফলে তাদের কাছে যারা ফোন করছেন তাদের বাসায় গিয়ে এগুলো পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে৷ তাদের সংগঠনকে যারা সহায়তা দিচ্ছেন বা যারা তাদের কাছ থেকে সহায়তা নিচ্ছেন তাদের কারো নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না৷
এমন আরেকটি সংগঠন ‘সহমর্মিতা ফাউন্ডেশন’৷ যাদেরকে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে, তাদের ছবি তো দূরের কথা, পরিচয়ও প্রকাশ করা হচ্ছে না৷ সহমর্মিতা ফাউন্ডেশনের পরিচালক পারভেজ হাসান বলেন, ‘‘একজন মধ্যবিত্ত কোন অবস্থাতেও তার খারাপ অবস্থার কথা কাউকে জানতে দিতে রাজি হয় না৷ কারণ তাদের ক্ষুধার ভয়ের থেকে চক্ষুলজ্জার ভয় বেশি থাকে৷ তাদের হেল্পলাইনে কেউ ফোন করলে তাদের গোপনে গিয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে৷’’ সুত্রঃ ডিডাব্লিউ’
করোনাভাইরাসের সূত্রপাত নিয়ে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান চীন প্রত্যাখান করেছে।
ব্রিটেনে চীনের একজন শীর্ষ কূটনীতিক চেন ওয়েন বিবিসিকে বলেছেন এই দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং এটা করা হলে এই মহামারি মোকাবেলায় চীন যেভাবে কাজ করছে তা ব্যাহত হবে।
কোভিড নাইনটিনের উৎস এবং প্রথমদিকে কীভাবে তা ছড়িয়েছে সে সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে তা এই রোগ মোকাবেলায় সহায়তা করবে।
গত বছর উহান শহরে একটা বন্যপ্রাণী বিক্রির বাজার থেকে এই ভাইরাসের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়।
ইতোমধ্যে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের একটি রিপোর্টে অভিযোগ আনা হয়েছে চীন এই সঙ্কট সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছিল।
ওই রিপোর্টে বলা হয়, রাশিয়া এবং কিছুটা কম করে হলেও চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও তার প্রতিবেশি দেশগুলোকে লক্ষ্য করে “ষড়যন্ত্র তত্ত্ব” ছড়ায়।
আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় চীনের ভূমিকা নিয়ে বারবার চীনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। আমেরিকায় মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ এই ভাইরাসের বিস্তার বন্ধে চীন যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি এমন অভিযোগে চীনা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করছে।
তবে উহানের এক গবেষণাগারে এই ভাইরাস তৈরি করা হয়েছিল এমন জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
চীনের আপত্তি কোথায়? এই মহামারির প্রায় শুরুর সময় থেকে আহ্বান জানানো হয় যে, আন্তর্জাতিক তদন্তকারীদের চীনে যেতে দেয়া হোক যাতে তারা তদন্ত করে দেখতে পারে কোথা থেকে এই ভাইরাস ছড়ালো।
গত বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন আগামী সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদের বার্ষিক বৈঠকে তিনি এই তদন্তের জন্য চাপ দেবেন। এই পরিষদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জন্য নীতি নির্ধারক। অস্ট্রেলিয়া এই পরিষদের নির্বাহী বোর্ডের সদস্য।
এই বৈঠকে বর্তমান মহামারি থেকে “শিক্ষা নিয়ে” আগামীতে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবেলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবার কথা রয়েছে।
তবে মিস চেন বিবিসিকে বলেছেন তার দেশ আন্তর্জাতিক তদন্তের বিষয়ে মত দেবে না।
“নিরপেক্ষ তদন্তের প্রস্তাব রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত,” তিনি বলেছেন।
“আমরা এই মুহূর্তে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ছি। এই ভাইরাস দমন করার জন্য আমরা পুরোমাত্রায় মনোযোগ দিচ্ছি। এখন তদন্তের কথাবার্তা কেন উঠছে? এই তদন্ত শুধু আমাদের লড়াইয়ে ব্যাঘাত ঘটাবে তাই নয়। আমাদের সম্পদও অন্য খাতে ব্যবহার করতে হবে।”
“এই উদ্যোগ রাজনৈতিক বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। এতে কেউ রাজি হবে না। এই তদন্ত কারো কোন কাজে আসবে না।”
মিস চেন বলেন এই ভাইরাসের উৎস নিয়ে অনেক গুজব ছড়িয়েছে। এধরনের বিভ্রন্তিমূলক তথ্য বিপদজনক বলে তিনি দাবি করেন এবং বলেন এটা একটা ”রাজনৈতিক ভাইরাস এবং করোনাভাইরাসের মত একইরকম বিপদজনক”। তার থেকেও বেশি বিপদজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন। সুত্রঃ বিবিসি ।
ইবাদুর রহমান জাকিরঃসিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা পশ্চিমপারের সৈয়দ উদ্দীন খান (৮৫) রবিবার ভোর রাতে লন্ডনের নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না…রাজিউন)। তিনি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শিল্পপতি সামসুূদ্দীন খান ও এবি মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক শিল্পপতি মোসলেহ উদ্দীন খানের বড়ভাই।
তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভোগছিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী, ৪পুত্র, ২ কন্যা, ৩ ভাই ও ৪ বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শোকবার্তা : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এক শোক বার্তায় বর্ষিয়ান আওয়ামী লীগ নেতা, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শিল্পপতি সামসুূদ্দীন খান ও এবি মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক শিল্পপতি মোসলেহ উদ্দীন খানের বড়ভাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।তিনি মরহুমের আম্তার প্রতি শান্তি কামনা ও শোকসপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
পৃথক বার্তায় শোক প্রকাশ করেছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল, পৌর মেয়র মোঃ আব্দুস শুকুর।
আহলান সাহলান সু-স্বাগতম পবিত্র মাহে রমজানুল মোবারক। শুরু হওয়া রমজান মাস হলো ইবাদতের বসন্তকাল। এ মাসে প্রতিটি মুমিন হৃদয়ে বয়ে আনে জান্নাতি সুবাস। এ মাসে মহান প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালা প্রতি মুহূর্তে দিনে-রাতে মুমিনদের উপর অবারিত রহমতের বারিধারা বর্ষণ করেন। ইবাদতপাগল মুমিনদের জন্য মাগফিরাত ও জান্নাতের সকল আয়োজন প্রস্তুত রেখেছেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা।
রমজান শব্দটি আরবি ‘রমজুন’ শব্দ থেকে উৎগত হয়েছে। শাব্দিক অর্থ হচ্ছে, জ্বালিয়ে দেওয়া, ভষ্মীভুত হওয়া ইত্যাদি। যেহেতু রোজা পালনের মাধ্যমে মানুষের মনের ক্রোধ, কু-প্রবৃত্তি, হিংসা-বিদ্বেষ সব কিছু ভষ্মীভুত হয়ে যায়, তাই রোজার এ সিয়াম সাধনার মাসকে রমজান মাস বলা হয়।
হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে রমজান মাসব্যাপী রোজা রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। পরিভাষায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খানাপিনা ও জৈন কামনা বাসনাসহ বৈধ জৈবিক চাহিদাও পূরণ থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম সাধনা বা রোজা। আল্লাহ তায়ালা কোন মাসকে অন্য মাসের উপর, কোন দিবসকে অন্য দিবসের উপর শ্রেষ্টত্ব দান করেছেন। এরকমই পবিত্র রমজানুল মোবারক হলো শ্রেষ্ঠ মাসের অন্যতম একটি মাস। এর প্রতি মুহূর্তে ইবাদত পাগল মুমিনদের উপর বর্ষিত হয় রহমতের বারিধারা। এজন্যই বহুগুন আমলের সওয়াব বেড়ে যায়। হাদিসে প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এরশাদ ফরমান, রমজানে আসমানের বরকতের দরজা খুলে যায়, জান্নাতের সব দুয়ার খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দুয়ার বন্ধ করে দেয়া হয়। মরদুদ শয়তান শৃঙ্খলিত হয়। আল্লাহর বান্দদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মহান মুক্তি বার্তা নিয়ে ধাবমান হয় রমজান। এতে রয়েছে শবে কদরের রজনী, যা হাজারো মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এসব নানাবিধ মর্যাদা বৈশিষ্ট্যের অপূর্ব সমাহার মাহে রমজান। তাই তো রমজান মাসকে ইবাদতের বসন্তকাল বলা হয়ে থাকে। ইবাদত, তাকওয়া ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উর্বর সময়। এ উর্বর সময়ে বান্দা যথাযথভাবে নিষ্ঠার সাথে কাজে লাগাতে পারলে একটুখানি সাধনা, ক্ষুদ্র পরিশীলন এবং অনুশীলন এ-র মাধ্যমে প্রশান্তির বারিধারায় সিক্ত হয়ে হাসিল করতে পারেন আল্লাহ তায়ালা’র মহাসন্তুষ্টি। তথা দুনিয়ায় কল্যাণ ও আখেরাতে মহামুক্তি।
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম একটি স্তম্ভ। রোজার বিধান ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা কুরআন কারিমে ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে করে তোমরা মুত্তাকি হতে পার’।
হযরত কা’ব ইবনে উজরা (রা.) হতে বর্নিত, তিনি বলেন- একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে বললেন, তোমরা মিম্বরের নিকট সমবেত হও। আমরা সকলেই তথায় উপস্থিত হলাম। যখন তিনি মিম্বরের প্রথম সিড়িঁতে পা রাখলেন,তখন বললেন, আমীন, যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখলেন বললেন, আমীন, যখন তিনি তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখলেন বললেন, আমীন। হযরত কা’ব ইবনে উজরা (রা.) বলেন, যখন তিনি (মিম্বর থেকে) অবতরণ করলেন, আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আজ (মিম্বরে উঠার সময়) আমরা আপনাকে এমন কিছু কথা বলতে শুনেছি, যা ইতিপূর্বে কখনো শুনিনি। উত্তরে তিনি বললেন, জিবরাইল (আ.) আমার নিকট আগমন করেছিলেন, যখন আমি প্রথম সিড়িঁতে পা রাখলাম, তখন তিনি বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে রমজান মাস পেল, তবুও তার গুনাহ মাফ করাতে পারলো না। আমি বললাম, আমীন। যখন দ্বিতীয় সিড়িঁতে পা রাখলাম তখন বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যার নিকট আপনার নাম উচ্চারিত হলো অথচ সে আপনার প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করলো না। আমি বললাম আমীন। যখন তৃতীয় সিড়িঁতে পা রাখলাম, তখন বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে তার পিতা-মাতা উভয়কে অথবা একজনকে পেল আর তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল না। অর্থাৎ তাদের খেদমতের মাধ্যমে নিজেকে জান্নাতী করতে পারলো না। আমি বললাম, আমীন।
হযরত আবু হুরয়রা (রা.) বলেন, রমজান মাস লাভকারী ব্যক্তি যে উত্তমরূপে সিয়াম ও কিয়াম (রোজা, তারাবী ও অন্যান্য আমল) পালন করে, তার প্রথম পুরস্কার এই যে, সে গুনাহ থেকে ঐ দিনের মতো পবিত্র হয় যেদিন মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল।
হযরত সালমান ফারসী (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, মহানবী (সা:) শা’বান মাসের শেষ দিন আমাদেরকে সম্বোধন করে ইরশাদ করেন, ‘হে লোক সকল! তোমরা মনযোগ দিয়ে শোনে রাখ, তোমাদের সামনে এমন একটি মাস সমাগত। যে মাস মহা পবিত্র, রহমত-বরকত ও নাজাতে ভরপুর। এই মাসের রোজাকে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর ফরজ করেছেন। যে লোক এই মাসে আল্লাহর সন্তুষ ও তার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে রোজা রাখবে আল্লাহ তার পূর্ববর্তী সমস্ত গোনাহ মাফ করে দিবেন।
হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা রমজান মাসের প্রত্যেক দিবস ও রাত্রিতে অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। এবং প্রত্যেক মুমিন বান্দার একটি করে দুআ কবুল করেন।
রমজান আমাদেরকে আল্লাহর রহমত লাভের সুবর্ণ সুযোগ করে দিয়েছে। এই দশকে আমরা বেশি বেশি করে ইবাদত-বন্দেগী, কুরআন তেলাওয়াত, দান সদকা, তওবা, ইস্তেগফার ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে পবিত্র এই মাসের যথাযথ হক আদায় করে রোজা, তারাবিহ, তাহাজ্জুদ, তেলাওয়াত সহ অন্যান্য নফল ইবাদতে আত্মনিয়োগ করার তাওফিক দিন। নেফাকি বদচরিত্র- মিথ্যা, ওয়াদা খেলাপী, আমানতের খিয়ানত, অশ্লীলতা/অশ্লীল কথা বলা ইত্যাদি থেকে বিরত থেকে পরিপূর্ণ মুমিনের গুণাবলী অর্জন করার মাধ্যমে আগামীর সুন্দর একেক ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠনের তৌফিক দিন। কায়মনোবাক্যে মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট করি সেই মিনতি।
নাহিদ আহমদ বড়লেখাঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় করোনা ভাইরাসের কারনে অঘোষিত লকডাউনে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। এতে অনেক গরিব দরিদ্র পরিবার খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও কাতার বিএনপির সাধারন সম্পাদক জনাব শরিফুল হক সাজু। সাজুর নিজ অর্থায়নে ২ নং দাসের বাজার ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ টি পরিবারের মাঝে ফ্রি সবজি বিতরন করা হয়।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) দাসের বাজার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই সবজি বিতরন শুরু হয়। সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত চলে সবজি বিতরন। ৫০০ টি পরিবারের মধ্যে আলু, টমেটো, শসা, পাতা কবি, মরিচ, লাল শাক, ঢেড়শ বিতরন করা হয়।
উক্ত সবজি বিতরন উদ্বোধন করেন ২নং দাসের বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব কমর উদ্দিন সাহেব। এছাড়াও দাসের বাজার ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, সেচ্ছাসেবক দল অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্তিত ছিলেন।
মোঃইবাদুর রহমান জাকির,সিনিয়র প্রতিবেদকঃ মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিন ভাগের কাশেমপুরে করোনা আক্রান্ত রুগী ধরা পড়ায় শনিবার রাত২টায় ঐ ব্যক্তির গ্রাম লকডাউন (অবরুদ্ধ) করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রত্নদ্বীপ বিশ্বাস শনিবার রাত দুইটায় এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তির বাড়ি কাশেমনগর। প্রশাসন তাঁর গ্রাম লকডাউন করেছে। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কেউ করোনা আক্রান্ত কিনা তা নিশ্চিত নমুনা সংগ্রহ করা হবে। তিনি এখন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি আছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান জানান, আক্রান্ত ব্যক্তির গ্রাম লকডাউন করা হয়েছে। এখন কেউ এই এলাকায় যেতে পারবেন না। আবার কেউ বের হতে পারবেন না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত ওই ব্যক্তি পুরুষ। তাঁর বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। তিনি গত ২০ এপ্রিল জ্বর-কাশিসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেলের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তাঁর করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। তিনি এখন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি আছেন। ওই ব্যক্তির বাড়ি উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের কাশেমনগর গ্রামে। তিনি সমনভাগ এলাকায় ছোলা ও পিয়াজু বিক্রি করতেন।
১. সামনের দিনগুলো অধিকতর কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কেউ হতাশ হবেন না। ভেঙ্গে পড়বেন না। যথাযথ পথ- পদ্ধতি ও নিয়ম মেনে চলার প্রাণান্তকর চেষ্টা করবো আমরা। একে অন্যের খবর নেবো। পাশে থাকবো…
২. আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে একটি ঘোষণা দিতে চাই যে, আপনারা লকডাউনে থাকাকালীন ছোট-বড় কোন সমস্যায় নিপতিত হলে দয়া করে একটু “নক” করবেন। যে কোন ধরণের “সার্ভিস” প্রদান করতে আমি/আমরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। ঔষধ, বাজার খরচ, খাদ্য সংকটসহ বিবিধ বিষয়ে অনায়াসে আমাদের সহায়তা নিতে পারেন। মূল্য /বিনামূল্য/ ফ্রি সবধরণের ব্যবস্থা আমরা করতে যাচ্ছি। সদিচ্ছা থাকলে কোন কিছুই অসম্ভব নয়…
৩. এসব কাজ বাস্তবায়ন করতে ৩ টি সংস্থা আমাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেছে- ক.বড়লেখা ফ্রেন্ডস ক্লাব, ইউ. কে, খ. বড়লেখা ব্লাড ডোনেট ক্লাব, বড়লেখা ও গ. দূর্বার মুক্ত স্কাউট দল, বড়লেখা।
৪. মহান সৃষ্টিকর্তা সকলের সহায় হোন। প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের জন্য নিরন্তর ভালোবাসা। শুভ কামনা।
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, মোহাম্মদনগর স.প্রা.বি, বড়লেখা মোবাইলঃ০১৭৩৪৪৬১৬৯১, ০১৭৮২৬৮৬৮২৬
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ৫নং দক্ষিন শাহবাজপুর ইউনিয়নের তারাদরম গ্রামের যুবকদের উদ্যোগে করোন প্রাদুর্ভাবে আটকে পড়া এলাকার নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনীর মানুষের কষ্ট লাগবের কথা চিন্তা করে, এই মাহে রামজান মাসে প্রতি সাপ্তাহে একদিন এলাকায় ফ্রি সবজি( আলু, ডাল, টমেটো, ডিম, ছুলা(চানা), কাচা মরিচ, মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদি থাকবে)ও ইফতার সামগ্রী বিতরনের আয়োজন শুরু করে শনিবার(২৫এপ্রিল)সকালে।
মহতি এই কার্যক্রমে এলাকার এক শ্রেণী যুবকের স্বর্তঃস্ফুত অংশগ্রহনে শুরু হয়। এলাকার দেশী ও প্রবাসী কিছু ভাইদের আর্থিক সহযোগিতায় ফ্রি সবজি ও ইফতার সামগ্রী বিতরনী শুরু হয়। এ অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন জসিম উদ্দিন, আশরাফুর রহমান, মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম, রুহেল আলিম,মাহমুদুল হাসান, আব্দুল কাইয়ুম, রুবেল আহমদ, গৌছ উদ্দিন,আফজালুর রহমান,রুবেল হোসাইন, নিজাম উদ্দিন, আমির হোসেন, মোহাম্মদ দিলু, কাশেম উদ্দিন, কাওছার আহমদ, আবুল হাশিম, আব্দুল আলিম, শরীফ উদ্দিন, আতিকুর রহমান নজমুল প্রমুখ।
শুরু হয়েছে সংযমের মাস রমজান। সিয়াম সাধনায় নিয়োজিত হয়ে সারাবেলা খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকার সময়। কিন্তু এ বছর ফরিদা বেগমের বাসায় রমজান এসেছে বেশ আগেই। করোনাভাইরাসের প্রকোপে আর ১০টি নিম্নবিত্ত পরিবারের মতোই তার পরিবারেরও জুটছে না দুমুঠো খাবার।
ফরিদা শুনেছিলেন শনিবার ত্রাণ মিলবে। সে আশায় বুক বেঁধে রাজধানীর খিলগাঁও থেকে ছুটেছিলেন বংশালে। চড়া রোদ্দুরের মধ্যে বংশালে পৌঁছানোর পর মেলে মাত্র আধা কেজি চাল।
পরিবারের মুখে একমুঠো ভাত তুলে দিতে সেই চাল নিয়েই আবার ছুটবেন বাসার দিকে। কিন্তু বেঁচে থাকার অদম্য মনোবলের সঙ্গে যেন তাল মিলিয়ে উঠতে পারেনি তার শরীর। অভুক্ত পেটে, আসন্ন বিপদের শঙ্কায় আর প্রচণ্ড রোদের তাপে সংজ্ঞা হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পাশেই পড়ে ছিল দিনভর সংগ্রামের পর যোগাড় করা সেই আধা কেজি চাল। সুত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন
‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙা ভইরা লইয়া যায়’। প্রতি বছর রমজান মাসে পুরান ঢাকার চকবাজারে ঢুকলেই শোনা যায় এমন হাঁকডাক। তবে এবার শোনা যাচ্ছে, রাস্তায় কোনও ইফতারের দোকান বসবে না। তাও আবার হ্যান্ড মাইক দিয়ে এমন মাইকিং করছে পুলিশ। করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে রমজান মাসের চিরচেনা চিত্রগুলো এবার বদলে গেছে। যা ছিল রমজানের ঐতিহ্য তা এখন স্মৃতি।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাংলাদেশে রোজা শুরু হয়েছে। তবে এদিনটি ছিল দেশে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার ৪৯তম দিন। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩০৯ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৪ হাজার ৯৯৮ জন। দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৪০ জন।
এ মহামারির বিস্তার রোধে সরকার ছুটি ঘোষণা ছাড়াও নানা রকম পদক্ষেপ নিয়েছে, মানুষের চলাচলে বিধি নিষেধ আরোপ করেছে। এর প্রভাব পড়ছে রমজানেও। প্রতিবছর চাঁদ দেখার ঘোষণা হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানের মসজিদে থেকে ঘোষণা আসতো, রমজানুল মোবারক, আর ঘোষণা করা হতো তারাবির নামাজের সময়। তবে এবার আজানের পর মুসল্লিদের বাসায় তারাবির নামাজ পড়তে বলেছেন মুয়াজ্জিনরা।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে মসজিদে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ২ জন হাফেজসহ সর্বোচ্চ ১২ জন এশা ও তারাবিহ’র নামাজে অংশ নিতে পারবেন। যদিও নিয়ম ভেঙে অনেকে মসজিদে তারাবির নামাজে শরিক হতে চেষ্টা করেন। তবে সতর্কভাবেই তাদের ফেরত দিয়েছে অধিকাংশ মসজিদ কর্তৃপক্ষ।
শুধু তারাবির নামাজই নয়, সকল ক্ষেত্রেই পড়ছে করোনার প্রভাব। রোজা শুরু হলেও দুপুর ২টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ এবং যারা কাজের প্রয়োজনে বাইরে যাচ্ছেন তাদেরও সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ঘরে ঢোকা, একইসময়ে সুপার শপগুলো বন্ধ করে দেওয়ার নিয়মেও কোনও পরিবর্তন আসেনি। বরং আরও কঠোরভাবে রোজা উপলক্ষেও ফুটপাতে ইফতারের পসরা নিয়ে বসা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় আগেই এ ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনা দিয়েছিল। এর মূল কারণ, জনসমাগম এড়ানো এবং করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়িয়ে চলা। পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে সেই নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, দেশের কোথাও রাস্তায় বসতে পারবে না ইফতারের দোকান।
সরেজমিন দেখো গেছে, রাজধানীর কোথাও কোথাও ভ্রাম্যমাণ ইফতারের দোকান বসানোর চেষ্টা করেছেন দোকানিরা, তবে প্রথম রোজায় তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। পুরান ঢাকার চকবাজার হচ্ছে দেশের বৃহৎ ইফতারের বাজার। প্রতিবছর এখানে ইফতারের পসরা নিয়ে দোকানদাররা বসলেও এ বছরের চিত্র ছিল পুরোই উল্টা। এবছর কয়েকটি দোকান বসানোর চেষ্ট করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
বন্ধুরা মিলে প্রতি বছর চকবাজারে ইফতার করতে যেতেন আসাদুজ্জামান। মিরপুরের এ বাসিন্দা বলেন, চকবাজারে যাওয়া দূরে থাক এখন ঘর থেকেই বের হই না জরুরি প্রয়োজন না হলে। এবার হয়তো এভাবেই রমজান মাসটা পার হয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে তা কখনও কল্পনাও করতে পারিনি।
ইফতারের মুহূর্তে অন্য বছরগুলোতে যানজটে কারণে অনেকেই অফিস থেকে বাড়ি ফিরে ইফতারে করতে বেগ পেতেন। এবার রাস্তায় কোনও গাড়ি নেই, নেই কোনও মানুষ। ছুটি থাকায় বেশিরভাগ মানুষ পরিবারের সঙ্গে ইফতার করার সুযোগ পেয়েছেন।
রাজধানীর একটি কলেজের শিক্ষার্থী শান্তা শাফিহ। তিনি বলেন, রোজার মাসে একটা উৎসব উৎসব ভাব থাকে। এখন হয়ত ঘরে সবার সঙ্গে ইফতার করছি, কিন্তু উৎসবের সেই আমেজ নেই। একটা আতঙ্ক। এখন একটাই চাওয়া, এই মহামারি থেকে যেন দ্রুত মুক্তি মিলে।
প্রকৃতই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সারাদেশে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত ২২ মার্চ রাজধানীর মিরপুরের উত্তর টোলারবাগে এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পরদিন সেই এলাকা লকডাউন করে দেওয়া হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত সেই এলাকা লকডাউন রয়েছে।
উত্তর টোলারবাগের প্রথম যে ব্যাক্তি মারা যান তিনি উত্তর টোলারবাগের দারুল আমান নামের একটি ভবনের বসবাস করতেন। সেই ভবনের বাসিন্দা মো. সুজন বলেন, আমরা তো ঘর থেকেই বের হই না। বাজার করা ছিল, সেটা দিয়েই চলছে। তবে আর কিছুদিন পর সেটিও শেষ হয়ে যাবে। এলাকার মসজিদগুলোও বন্ধ। এমন পরিস্থিতি আমার জীবনে প্রথম।
টোলারবাগে অনেক বাসায় সংসদ সদস্য মো. আসলামুল হকের পক্ষ থেকে ইফতার সামগ্রী উপহার হিসেবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান সেই এলাকার বাসিন্দারা। আবার অভিযোগও আছে বাড়ির মালিক নিজেই সব ইফতার সামগ্রী রেখে দিয়েছেন, ভবনের অন্যদের দেননি। টোলারবাগের ১২/৬ বি,১ ভবনের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, তাদের বাড়িতে সংসদ সদস্যর পাঠানো ইফতার উপহার হিসেবে এলেও বাড়িওয়ালা তা নিজেই রেখে দিয়েছেন। কোনও ভাড়াটিয়াকে দেননি।
প্রতিবছর সারা দেশে ইফতারকে কেন্দ্র করে নানা রকম আয়োজন হয়ে থাকে। রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও হয়ে থাকে ইফতার মাহফিল। কয়েক হাজার মানুষের জন্য প্রতি বছর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইফতারে আয়োজন করতো ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। প্রথম রোজার দিন সেই মসজিদ একেবারেই জনশূন্য।
তবে ভিন্ন চিত্রও আছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও অনেকেই দাঁড়িয়েছেন অসহায় মানুষের পাশে। অনেকে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন ইফতার সামগ্রী। গাজীপুর সদর উপজেলার নয়নপুর গ্রামে ইকবাল সিদ্দিকী কলেজ ও কচি কাঁচা একাডেমির গেইটের পাশে বিকেল থেকেই রাখা হয়েছে ১০০ প্যাকেট খিচুড়ি, সিদ্ধ ডিম ও ২টি করে খেজুর। সামাজিক দূরত্ব মেনে এলাকার গরিব মানুষ এখান থেকেই পেয়েছেন ইফতার।
ইকবাল সিদ্দিকী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, এটা আমার একক উদ্যোগ নয়, সম্মিলিত উদ্যোগ। সত্যিই মানুষ অনেক কষ্টে আছে, তাদের পাশে থাকার চেষ্টা আমরা করছি।
দেশজুড়েই আছে এমন ছোট বড় অসংখ্য উদ্যোগ। এসবের মধ্য দিয়ে জন সমাগম এড়িয়ে ও সামাজিক দূরত্ব মেনে দেশবাসী এবার পার করবে রমজান মাস। আর প্রত্যেকের প্রার্থনায় থাকবে এই মহাবিপদ থেকে উদ্ধারে পরম করুণাময়ের কাছে সাহায্য প্রার্থনা। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রোজা রেখেও একাধিক কৃষকের ধান কেটে দিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শনিবার দুপুরে ও বিকালে গফরগাঁও ইউনিয়নের গফরগাঁও গ্রামের কৃষক মোস্তফা মিয়ার ৪২ শতাংশ এবং একই গ্রামের বিধাব বিউটি বেগমের ২১ শতাংশ জমির ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
গফরগাঁও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম মন্ডলের নেতৃত্বে দুই গ্রুপে ৩০-৩৫ জন নেতাকর্মী ধান কাটা ও কৃষকের বাড়িতে ধান পৌঁছে দেয়ার কাজে অংশ নেন। এ সময় উপজেলা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সাধারণ সম্পাদক শরিফুল মন্ডল বলেন, করোনায় মানুষের সব ধরনের সমস্যায় পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় এমপি ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলের নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনা মোতাবেক আমরা কৃষকের ধান কাটতে পেরে খুশি।
রাঙ্গুনিয়ায় দরিদ্র কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলে দিচ্ছেন কৃষকলীগের নেতাকর্মীরা। ছবি : ইত্তেফাক
নিউজ ডেস্কঃ করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে অঘোষিত লকডাউনের কারণে বিপাকে পরা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দরিদ্র কৃষকদের ধান কেটে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন উপজেলা কৃষক লীগের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ রাঙ্গুনিয়ার দরিদ্র কৃষকদের ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিতে নির্দেশনা দেন উপজেলা কৃষকলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগকে।
শুক্রবার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের সোনারগাঁও এলাকার সাদেকের পাড়ার পূর্ববিলে কৃষক আবুল কালাম আবুর ধান কেটে দিয়ে ঘরে পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষকলীগের ধান কেটে কৃষকের ঘরে পৌঁছানোর এই কর্মসূচিতে অংশ নেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আরজু সিকদার, উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আয়ুব রানা, যুগ্ম সম্পাদক আমির হোসেন আমু, পৌরসভা কৃষকলীগের সভাপতি এনামুল হক, দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি মেম্বার বদিউল আলম আজিজ, ওমর ফারুখ, আরমান চৌধুরীসহ অন্তত ৫০ জন কৃষকলীগের নেতাকর্মীরা।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ। বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে সারাদেশে। চট্টগ্রামের শস্য ভাণ্ডারখ্যাত গুমাই বিল রাঙ্গুনিয়ায়। বিভিন্ন এলাকার মতো রাঙ্গুনিয়ায়ও ধান কাটার শ্রমিক সংকট দেখা যাওয়ায় রাঙ্গুনিয়া থেকে নির্বাচিত সাংসদ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এর নির্দেশে কৃষক লীগের নেতাকর্মীরা কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছেন। পাশাপাশি কাটা ধান ঘরে তোলার ব্যবস্থাও করছেন তারা। কৃষকলীগের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
কৃষক আবুল কালাম আবু জানান, আমি দুই কানি জমিতে বোরা ধানের চাষ করেছি, ধানও পেকেছে। দেশের সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে বাজারে শ্রমিক না পেয়ে যখন আমার কপালে ভাঁজ পড়ে তখন কৃষকলীগের ভাইয়েরা এসে আমার জমির ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়ে গেলেন। এই সময়ে তারা কৃষকের পাশে এসে দাঁড়ানোয় রাঙ্গুনিয়ার অনেক দরিদ্র কৃষকের চিন্তামুক্ত হবে বলে তিনি জানান।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার বলেন, চট্টগ্রামের শস্য ভাণ্ডার গুমাই বিলসহ রাঙ্গুনিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরা ধান পেকেছে। প্রতিবছরের ন্যায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এবার ধান কাটা শ্রমিকরা আসতে পারছে না। কৃষকের এই সঙ্কটে তথ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন দরিদ্র কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিতে। রাঙ্গুনিয়ার যেসমস্ত দরিদ্র কৃষক শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে বিপাকে পড়বে তারা যোগাযোগ করলেই কৃষকলীগের টিম পৌঁছে যাবে বলে তিনি জানান।
নিউজ ডেস্কঃরাজধানীর স্বামীবাগে ইসকন মন্দির লকডাউন করা হয়েছে। মন্দিরের পুরোহিত, সেবায়েতসহ ৩৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে তাদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আজ শনিবার সকাল থেকে মন্দিরটি লকডাউন করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার শাহ্ ইফতেখারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মন্দিরে এই ৩৬ জনই অবস্থান করছিলেন। এর মধ্যে কয়েকজনের সর্দি কাশি হলে সবার পরীক্ষা করায় মন্দির কর্তৃপক্ষ। প্রথম পরীক্ষায় সবারই করোনা পজিটিভ এসেছে। আগামী সোমবার দ্বিতীয় পরীক্ষা করানো হবে।
পুলিশের এই উপকমিশনার জানান, একজন সহকারী উপপরিদর্শক মন্দিরের নিরাপত্তার তত্ত্বাবধানে ছিলেন। নমুনা পরীক্ষা তারও করোনা পজেটিভ এসেছে। গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজু মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ইসকন কর্তৃপক্ষ বহু আগেই মন্দিরে বাইরের কারও প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছিল। যারা ছিলেন তারা সব সময় ভেতরেই অবস্থান করতেন। সুত্রঃপ্রথম আলো
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক তরুণ (২৪) আজ শনিবার ভোরে ঘরের জানালা ভেঙে পালিয়ে গেছেন। পুলিশ তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। তবে বিকেল চারটা পর্যন্ত তাঁর কোনো হদিস মেলেনি।
মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাজমুল আলম বলেন, ২১ এপ্রিল ঢাকায় বেকারিতে কাজ করা মুরাদনগরের ওই তরুণের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে জানা যায়, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। পরের দিন শুক্রবার দুপুরে ওই তরুণের বাড়ি লকডাউন করা হয়। তাঁকে বাড়িতেই আইসোলেশনে রাখা হয়। তাঁর কোনো উপসর্গ নেই। বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিয়ে তিনি ভালো হয়ে যেতেন। আজ জানা গেল, জানালা ভেঙে পালিয়েছেন ওই তরুণ। এখন তাঁর সংস্পর্শে আসা যে কারও সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি আছে। তিনি যেখানে যাবেন, সেখানেই এই ভাইরাস ছড়াবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিষেক দাশ বলেন, ওই তরুণকে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশকে জানানো হয়েছে। মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মনজুর আলম বলেন, পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। সুত্রঃ প্রথম আলো
নিউজ ডেস্কঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে করোনার পর এবার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত একজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ওই তরুণ (৩৫) শহরের কলেজ সড়কের বাসিন্দা।
শনিবার, ২৫ এপ্রিল প্রচণ্ড জ্বর ও শরীরের ব্যথা নিয়ে ওই তরুণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যান। চিকিৎসকের পরামর্শে শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু টেস্ট করান। এতে রিপোর্ট পজেটিভ আসে। করোনার পাশাপাশি ১৬ ঘণ্টার ব্যবধানে ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত আট দশ দিন ধরে তিনি তীব্র জ্বরে ভুগছেন। সঙ্গে শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা রয়েছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত তরুণ আমাদের পর্যবেক্ষণ রয়েছেন। তাকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন।’ এদিকে করোনার পর একই দিনে ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। নয়ন আল রসিদ নামের একজন লিখেন ‘আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।’
আব্দুল্লাহ নামের একজন লিখেন, ‘আমাদের প্রাণের শ্রীমঙ্গলে আর বুঝি শেষ রক্ষা হলো না।’ কেউ কেউ পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত মশক নিধন কার্যক্রম হাতে নেওয়ার অনুরোধ করেন। কেউবা আবার ব্যঙ্গ করে লিখেন ‘পৌরসভা হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছে।’
উল্লেখ্য, শ্রীমঙ্গলে শুক্রবার রাতে একজন কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। সুত্রঃ কালের কন্ঠ
ইবাদুর রহমান জাকিরঃ মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থানার অফিস ইনচার্জ (ওসি) ইয়াছিনুল হক সেচ্ছায় ৮ম বারের মতো রক্তদান করলেন। শনিবার (২৫এপ্রিল) প্রথম রামজানের রোজা রেখে তারাবির নামাজ আদায় করে মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে একজন রক্তশূন্য মহিলা কে ৮ম বারের মতো রক্তদান করলেন । জানা যায় বড়লেখা উপজেলার বেসরকারী সিটি ক্লিনিক হাসপাতালে রক্তশূন্যতা রোগী রক্তের জন্য আর্তনাদ করছিলেন। তাঁহা জেনে ওসি নিজে রক্তদান করলেন।এবং তিনি বিগত দিনে বড়লেখা সর্বপ্রথম রক্তাদানকারী সেচ্ছাসেবী সংগঠন মানব কল্যান ফাউন্ডেশনের ডাকে সাড়া দিয়ে ৭ম বারের মতো রক্তদান করেছিলেন। ইয়াছিনুল হক বড়লেখাবাসীর জনপ্রিয় মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি করোনা প্রাদুর্ভাব কে উপেক্ষা করে দিন রাত পরিশ্রমের মাধ্যমে বড়লেখার জনগণের করোনা মোকাবেলায় মানুষকে গৃহবন্দি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার চেস্টা অব্যাহত রাখছেন। পাশাপাশি লক ডাউনে অসহায়ের গৃহে খাবার পৌছে দিচ্ছেন।
সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার পূর্ব মুড়িয়ায় পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে শেয়ার এন্ড কেয়ার এইড ইউকে’র অর্থায়নে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মুড়িয়ার সন্তান ইমাম আব্দুল মালিক আল মহসিনের উদ্যোগে এবং পূর্ব মুড়িয়া সোস্যাল অর্গানাইজেশনের ব্যাবস্থপনায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ১০টি গ্রামের শতাধিক পরিবারের মধ্যে এ বিতরণ (চাল, ডাল, পিঁয়াজ, রসুন, আলু, তৈল) ইত্যাদি পণ্য করা হয়।
উপহার সামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন মুড়িয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আব্দুল কুদ্দুছ, সারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাওঃ ইসলাম উদ্দিন, সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী কমিউনিটি নেতা মো. আব্দুল আলিম, বিয়ানীবাজার মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড নেতা নজরুল ইসলাম, আজিম উদ্দিন এবং পূর্ব মুড়িয়া সোস্যাল অর্গানাইজেশন ও আভঙ্গী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সদস্যবৃন্দ।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন সারা বিশ্ব যখন লক ডাউন কর্মহীন মানুষ গৃহবন্দী লাশ মিছিল বাড়ছে বিশ্বব্যাপী করোনা আক্রান্তের সাড়ী দীর্ঘ হচ্ছে নিম্নও মধ্য আয়ের গৃহে পৌছে দিলো কেয়ার এইড ইউকে সংগঠন মাহে রামাজনের খাদ্য উপহার পূর্ব মুড়িয়া সোস্যাল অর্গানাইজেশন ব্যাবস্থাপনায়। প্রতি বছরের ন্যায় শেয়ার এন্ড কেয়ার এইড ইউকে সংগঠনের মাধ্যমে মুড়িয়া ইউনিয়নের কৃতি সন্তান ইমাম আব্দুল মালিক আল মহসিন অসহায়-দুস্তদের মাঝে তার সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।
শেয়ার এন্ড কেয়ার এইড ইউকে’র ফাউন্ডার ইমাম আব্দুল মালিক আল মহসিন ভিডিও কলের মাধ্যমে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আপনাদের সহযোগিতায় এখন সামগ্রী দিতে পেরে আমি আল্লাহ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। ইন্শাআল্লাহ আগামীতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যারা বিভিন্নভাবে এ সংগঠনের কাজে সহযোগিতা প্রদান করছেন, আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
নিউজ ডেস্কঃ করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে নমুনা পরীক্ষা শুরু করেছে সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট। আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রাপ্ত নমুনা পরীক্ষার কাজ শুরু করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অত্যাধুনিক ল্যাব সুবিধা সমৃদ্ধ এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। ধামরাই ও পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রাপ্ত ১৯টি নমুনা পরীক্ষার কাজ শুরু করা হয়েছে এ প্রতিষ্ঠানে।
রিয়েল টাইম পিসিআর প্রযুক্তিসমৃদ্ধ দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই বিএসএল-২ (বায়োসেইফটি লেভেল-২) ল্যাবে জৈব নিরাপত্তার সব ধরনের সুবিধা রয়েছে। প্রতিদিন ৩০০টি নমুনা পরীক্ষা করার সক্ষমতা রয়েছে এই ল্যাবের।
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে সাভার ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো থেকে প্রাপ্ত নমুনা পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ২০ এপ্রিল চিঠির মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালককে অনুরোধ জানায়। পিসিআর কিট ও অন্যান্য লজিস্টিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সরবরাহ করবে বলেও এই চিঠিতে জানানো হয়।
এর আগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের উদ্যোগে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের ল্যাবকে নির্বাচন করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অনুরোধ জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত নমুনা সংগ্রহ, গবেষণাগারে পাঠানো ও শনাক্তকরণ এবং ডাটা এন্ট্রি ও ডকুমেন্ট তৈরিসহ নমুনা শনাক্তকরণের সার্বিক কাজের জন্য ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ও কর্মচারীদের সমন্বয়ে ১৪ সদস্যের একটি টিম এবং এ সংক্রান্ত পুরো কার্যক্রম সমন্বয়, তত্ত্বাবধান ও সহায়তা দেয়ার জন্য ৬ সদস্যের একটি মনিটরিং টিম গঠন করেছে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট।
এ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের সামগ্রিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি করোনাভাইরাস নির্ণয়ে প্রস্তুত এবং চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সুত্রঃ বণিক বার্তা
নিউজ ডেস্কঃ পুলিশের যে সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের প্রায় সবাই ‘মাঠ পর্যায়ের’৷ অধিকাংশই ব্যারাকের মেসে থাকেন৷ পুলিশ বিভাগে এখন সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছেন তারা৷ পুলিশ সদর দপ্তর বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সারাদেশে ২১৮ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কথা জানায়৷ আর কোয়ারিন্টিনে আছে ৬৫২ জন৷
রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মনোয়ার হাসনাত শুক্রবার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সারাদেশে আক্রান্ত আরো বেড়েছে৷ এখন ঢাকায়ই আক্রান্ত ২১৮ জন, যারা রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে আছেন৷ বৃহস্পতিবার এখানে ছিল ১৮৮ জন৷ বাকিরা দেশের অন্য এলাকায় চিকিৎসাধীন৷’’
তিনি বলেন, ‘‘পুলিশের যারা সরাসরি মাঠে দায়িত্ব পালন করেন, তাদের মানুষের সংস্পর্শে আসতে হয়৷ তাই তারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন৷ তারা ব্যারাকের মেসে থাকেন৷ সেখানে তো সামাজিক দূরত্ব রাখা কঠিন৷ এটা একটা বড় সমস্যা৷’’
কোথায় এবং কারা বেশি আক্রান্ত পুলিশে যারা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের দুই তৃতীয়াংশের বেশি ঢাকা মেট্রোপলিটন (ডিএমপি) এলাকার৷ এরপরই গাজীপুরের অবস্থান৷ আক্রান্তের দিক দিয়ে তারপরে রয়েছে গোপালগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ৷ আর আক্রান্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার ডিএমপি’র একজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনারও (এডিসি) আছেন৷ বাকিরা কনেস্টবল, সহকারি সাব-ইন্সপেক্টর ও সাব-ইন্সপেক্টর পর্যায়ের৷ পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন ‘‘ফিল্ড লেভেলে দায়িত্ব পালন আক্রান্ত হওয়ার একটি বড় কারণ৷ যারা ফিল্ড লেভেলে কাজ করেন তাদের বড় একটি অংশ পুলিশ মেসে থাকেন৷ সেখানে থাকার যে ব্যবস্থা তাতে সামাজিক দূরত্ব মানা সম্ভব হয় না৷ তাদের খাবার মান নিয়েও প্রশ্ন আছে৷আর পুলিশকে তো এখন চেকপোস্ট, লকডাউন, আসামি ধরা, করোনার লাশ দাফন, রোগীকে হাসপাতালে পাঠানো, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা- সব দায়িত্বই পালন করতে হয়৷ ফলে তাদের করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি অনেক বেশি৷’’
ডা. মনোয়ার হাসনাত বলেন, ‘‘রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে যারা আছেন তাদের মধ্যে সংকটাপন্ন কেউ নেই৷ এরই মধ্যে চারজন সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেছেন৷ হাসপাতালটি আড়াইশ’ বেডের৷ পুলিশের আরো কয়েকটি স্থাপনায় সেন্টার করা হচ্ছে৷ এখানে আইসিইউ সুবিধা আছে৷ ১৭টি ভেন্টিলেটার আছে৷ প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন৷ এর বাইরে দুটি হাসপাতালের সাথেও আমরা চুক্তি করছি৷’’
ডিএমপিতে যে কারণে বেশি
ডিএমপিতে কেন বেশি আক্রান্ত জানতে চাইলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘‘অন্যসব বিষয় বাদ দিলেও বাংলাদেশ পুলিশের মোট ফোর্স দুই লাখ ১০ হাজার৷ এরমধ্যে ডিএমপিতে আছে ৩৪ হাজার৷ ঢাকা সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা৷ ঢাকায় করোনা আক্রান্তও সবচেয়ে বেশি৷ আর সেই বিবেচনায় সারাদেশের মধ্যে ঢাকায়ই করোনায় আক্রান্ত পুলিশ বেশি৷’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা চাইলেই তো ব্যারাকের মেস থেকে সব পুলিশ সদস্যকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে পারবো না৷ তাই এখন চেষ্টা করছি যতদূর সম্ভব এর মধ্যে তাদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে৷ একটি অংশকে পুলিশের অন্য স্থাপনায়ও সরিয়ে নিচ্ছি৷ ব্যারাকের বেডগুলোর দূরত্ব বাড়াচ্ছি৷ ডাইনিং টেবিলে পাশাপাশি বসার ব্যবস্থা বাতিল করে দুই প্রান্তে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷’’ আর ডা. মনোয়ার বলেন, ‘‘আমরা প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারিন্টিনের ব্যবস্থা করছি৷ যাদের প্রয়োজন. তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসছি৷’’
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এরইমধ্যে পুলিশ সদস্যদের জন্য বেশ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে৷ যারা আক্রান্ত তাদেরসহ পুরো ফোর্সের মনোবল চাঙ্গা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ তাদের ভিটামিন সি ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ ডিএমপির উপ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, ‘‘পুলিশ সদস্যদের জন্য মাস্ক, হ্যান্ড গ্লোভস দেয়া হয়েছে৷ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পিপিই দেয়া হয়েছে৷ আর তাদের ব্যারাকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সামাজিক দূরত্বের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ তাদের ওয়াশ রুম উন্নত করা হয়েছে৷ গরম পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে৷’’
তিনি আরো জানান, ‘‘যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের সুচিকিৎসার পাশাপাশি মনোবল চাঙ্গা রাখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে৷ তাদের পরিবারের সাথেও নিয়মিত যোগাযোগ এবং আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ হাসপাতালে ওয়াইফাই সংযোগ ও বই দিয়েছি আমরা৷ আর আমাদের সিনিয়র অফিসাররা তাদের নিয়মিত খোঁজ খবর নিচ্ছেন৷’’
পুলিশ সদর দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত আয়োজন রাখা হয়েছে৷ পুলিশের আইজি বেনজীর আহমেদ ব্যক্তিগতভাবে তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন৷ আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের খোঁজখবরও নয়া হচ্ছে নিয়মিত৷
এদিকে বিভাগীয় পর্যায়েও পুলিশের জন্য করোনা সেন্টার খোলা হচ্ছে৷ এছাড়া দাগী আসামি না হলে পুলিশকে আসামি ধরায় নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বলে পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন৷
ইবাদুর রহমান জাকিরঃ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে গৃহবন্দি নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে রমজান মাসের খাদ্যসামগ্রি উপহারস্বরূপ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর ও কলেজ ছাত্রলীগ। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া শ্রমজীবি ও নিম্নআয়ের মানুষ।শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে পৌর ও কলেজ ছাত্রলীগের যৌথ উদ্যোগে পৌরসভার সকল ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিম্নআয়ের ১৫০টি পরিবারের প্রত্যেককে খাদ্যসামগ্রি বিতরণ করা হয়।খাদ্যসামগ্রির মধ্যে ছিলো ৫ কেজি চাল, ৩ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল ও ১ কেজি ছোলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রি পৌঁছে দেন পৌর ও কলেজ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। রমজান উপহারসামগ্রি পৌঁছানোর সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক নাহিদ হোসেন রিমন, কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তওহিদুল ইসলাম ফরহাদ ও পৌর ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলী হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহেদ মালিক, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবের হোসেন (জয়), পৌর ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ মান্না, সাহান আহমদ। এছাড়াও কলেজ ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুল হাসান, সহ-সভাপতি শোভন দত্ত, সহ-সভাপতি মুহিবুর রহমান সজীব, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমদ মুহতাছিম মাহদী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৌরভ দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শিপু দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক সিদ্দিকী প্রমুখ।
আশফাক জুনেদ,বড়লেখাঃ করো’নার প্রভাবে কর্মহীন মধ্যবিত্ত সীমিত আয়ের মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিতে এক মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজে’লার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আলহাজ্ব বদরুল ইস’লাম।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের দুটি নাম্বার (01756365867 / 01715931256) দিয়ে তিনি ঘোষনা দিয়েছেন উপজে’লার দক্ষিণ ভাগ ও সুজানগর ইউনিয়নের যে কোন নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত মানুষ খাদ্য সহায়তায় তার দেওয়া নাম্বারে যোগাযোগ করলে তিনি নিরবে তাদের ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেবেন।
জানা যায়, করো’নার প্রভাবে বড়লেখায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের অসংখ্য মানুষ। ‘দিন আনে দিন খায়’ এমন মানুষদের জন্য এরই মধ্যে সরকারি খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে নিম্ন মধ্যবিত্ত যারা জনসম্মুখে দাঁড়িয়ে ত্রাণ নিতে সংকোচবোধ করেন তাদের পরিবারগুলো পড়েছিল চরম সংকটে। ঘরে খাবার নেই, মানুষের সামনে হাত পাততে পারেন না- দুর্ভোগ জটিল হচ্ছিল ক্রমশই। এ অবস্থায় মধ্যবিত্ত সীমিত আয়ের মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিতে ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ নেন আলহাজ্ব বদরুল ইস’লাম।জনসম্মুখে দাঁড়িয়ে যারা ত্রাণ নিতে সংকোচবোধ করেন এমন কর্মহীনদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিতেই তার এই অ’ভিনব উদ্যোগ।ইতিমধ্যে আলহাজ্ব বদরুল ইস’লামের ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ সাড়া ফেলেছে ভুক্তভোগীদের মধ্যে
এ বিষয়ে আলহাজ্ব বদরুল ইস’লাম বলেন,দেশের এই ক্রান্তিকালে মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষেরা অনেক ক’ষ্টে দিনযাপন করছে।তারা না পারছে ত্রানের লাইনে দাঁড়াতে না পারছে কারো কাছে সাহায্য চাইতে। তাই তাদের এই ক’ষ্ট লাগবে আমি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।যে কোন মধ্যবিত্ত পরিবার আমা’র দেওয়া নাম্বারে যোগাযোগ করলে তার পরিচয় গো’পন রেখে আমি তার কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিবো।
উল্যেখ্য ইতিমধ্যে আলহাজ্ব বদরুল ইস’লাম উপজে’লার দক্ষিন ভাগ ইউনিয়ন ও সুজানগর ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার ৬ শ হতদরিদ্র পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেছেন।
নিউজ ডেস্কঃ লালমনিরহাটের বুড়িমারী সীমান্ত দিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নাগরিককে ‘পুশ ইন’ করার জেরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ছোঁড়া রাবার বুলেটে বিজিবির এক সদস্যসহ কয়েকজন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিজিবির সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভুল স্বীকার’ করেছে বলে জানিয়েছে রংপুর-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর এ জেড মুজাহিদ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও আশ্বাস দিয়েছেন বিএসএফের কর্মকর্তারা।
আজ শুক্রবার দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এই বৈঠক চলে। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর জিরো পয়েন্ট সীমান্তে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিজিবি কর্মকর্তা এ জেড মুজাহিদ জানান, বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন রংপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আলীমুল হক চৌধুরী ও বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন জলপাইগুঁড়ি সেক্টর বিএসএফের ডিআইজি মহেন্দ্রা কুমার সাহারান। এসময় রংপুর ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোজাম্মেল হক ও ভারতীয় কোচবিহার-১৪৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাহিত্য মুখার্জিসহ উভয়পক্ষের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জানতে চাইলে সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আলীমুল হক চৌধুরী বলেন, শুক্রবার প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে ভুলস্বীকার করে বৃহস্পতিবারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছে।
এছাড়াও লালমনিরহাট সীমান্তসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় নাগরিক পুশইনের বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে ব্যাপারেও ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে। সুত্রঃ বণিক বার্তা
নিউজ ডেস্কঃ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপীয় প্রধান মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, গোটা বিশ্বের করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর অর্ধেকই ইউরোপে ঘটছে৷ কেয়ার হোমেই অর্ধেকের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন৷ যেখানে যত বেশি পরীক্ষা হচ্ছে, সেখানেই করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা বেশি ধরা পড়ছে৷ সেই অর্থে ইউরোপে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেশি করে চোখে পড়ার মতো৷ সংক্রমণ ও মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে ব্যাপক আকারে বিশ্লেষণও করা হচ্ছে৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপ দপ্তর এমন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে যে, ইউরোপে করোনা সংক্রমণের ফলে মৃত্যুর প্রায় অর্ধেক ঘটনা কেয়ার হোমে ঘটেছে৷
বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপ দপ্তরের প্রধান ড. হান্স ক্লুগে সংবাদ মাধ্যমের সামনে বলেন, এ এক অভাবনীয় ট্র্যাজেডি৷ বৃদ্ধাশ্রমের পরিষেবার মান অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত নিম্ন মানের হওয়ায় মারাত্মক চিত্র উঠে আসছে৷ ক্লুগে আরো বলেন, এমন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রায়ই অত্যন্ত কম বেতনের বিনিময়ে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হয়৷ তাঁদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি৷ ড. ক্লুগে মনে করিয়ে দেন, এখনো পর্যন্ত গোটা বিশ্বে করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনার প্রায় অর্ধেকই ইউরোপে ঘটেছে৷ ইউরোপের কিছু দেশে পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি সত্ত্বেও মহামারি মোটেই শেষ হয়নি৷ বিশেষ করে পূর্বে রাশিয়া, তুরস্ক ও ইউক্রেনে সংক্রমণ বেড়ে চলেছে৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বেলারুশ, তুর্কমেনিস্তান ও তাজিকিস্তানে বিশেষজ্ঞদের দল পাঠাচ্ছে৷ শুধু স্বাস্থ সংকট নয়, ইউরোপের অর্থনৈতিক সংকট নিয়েও দুশ্চিন্তা বেড়ে চলেছে৷ লকডাউন ও অন্যান্য পদক্ষেপের ফলে গোটা মহাদেশে অকল্পনীয় মন্দার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ ব্যবসা-বাণিজ্য যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা কাটিয়ে তোলা কঠিন হবে বলে একাধিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে৷ বেরেনবার্গ ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ফ্লোরিয়ান হেনসে সংবাদ সংস্থা এপি-কে বলেন, কোভিড-১৯-এর প্রসার রুখতে পদক্ষেপের জের ধরে গোটা ইউরোপ জুড়ে অর্থনীতি বিকল করে দিয়েছে৷ লকডাউনের মেয়াদ আরো বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না৷ বিশেষ করে পরিষেবা ক্ষেত্র মারত্মক ক্ষতির মুখ দেখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন৷ এমন প্রেক্ষাপটে চরম বেকারত্বের আশঙ্কা মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে৷ বিপর্যস্ত অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ইউরোপীয় ও জাতীয় স্তরে অনুদান, আর্থিক সহায়তা, ভরতুকি ও ঋণের মতো নানা রকম উদ্যোগের ফলে কার্যক্ষেত্রে কতটা সুফল পাওয়া যাবে, এখনই তার পূ্র্বাভাষ পাওয়া যাচ্ছে না৷ আরো বেশিকাল ধরে সংকট চলতে থাকলে তার পরিণাম সম্পর্কেও কোনো ধারণা করা যাচ্ছে না৷ সুত্রঃ এসবি/এসিবি (এপি, এএফপি)
নিউজ ডেস্কঃ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, যিনি আওয়ামী লীগের কড়া সমালোচক, কোনসময় আমাদের দলকে ভোটও দেননি, তিনি যদি প্রকৃতপক্ষে অভাবি হন প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নতুন পঞ্চাশ লাখ রেশন কার্ডে তার নাম অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার গত কয়েক বছর ধরে পঞ্চাশ লাখ পরিবারের মধ্যে মাসে ৩০ কেজি করে ১০ টাকা দরে চাল দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী নতুন ভাবে যে পঞ্চাশ লাখ রেশন কার্ড করা হবে সেগুলো প্রকৃতপক্ষে যাদের প্রয়োজন তাদের মধ্য থেকেই করতে হবে। এই কার্ডটি করার ক্ষেত্রে আমাদেরকে একটু সতর্ক হতে হবে। এ ধরণের কার্ড করার সময় কোন দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা যাবে না। যার প্রয়োজন তাকেই অন্তর্ভূক্ত করতে হবে দলমত নির্বিশেষে। এটি প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, সুতরাং সেভাবেই তালিকা করতে হবে। কারণ একজন মানুষও অভাবে থাকুক সরকার সেটা চাই না।
শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি ও সকল ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে কোভিট-১৯ সংক্রমণে উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণসহ নানা বিষয়ে আয়োজিত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। এরপর তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গেও এসব বিষয়ে মতবিনিময় সভা করেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল মোনাফ সিকদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদারের সঞ্চালনায় সভায় রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মেয়র মো. শাহজাহান সিকদার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, পৌরসভা আওযামী লীগ সভাপতি মো. আসলাম খাঁন, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার, চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হারুন, দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও দলীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের দল যেহেতু সরকারি দল, সেহেতু আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। সরকারি দল হিসেবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা শুরু থেকেই পালন করছে। আজকে একটি মাস দেশের সবকিছু বন্ধ। তারপরও আল্লাহর রহমত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে এখনও পর্যন্ত একজন মানুষও না খেয়ে মৃত্যু বরণ করেনি। সুতরাং কেউ যেন না খেয়ে থাকে সেদিকে আমাদের দৃষ্টিপাত করতে হবে। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে কিছু মানুষ এখন নতুনভাবে সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে। শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের প্রতিদিন ইনকাম ছিল, এখন কিন্তু ইনকাম নাই। আবার সবাই কিন্তু ত্রাণ চাইতে পারে না, নিজেদের সমস্যার কথা মুখ ফুটে বলছেন না। আমাদেরকে খেয়াল করে নিজেদের বিবেচনায় যারা চাইতে পারে না তাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবার যারা ভালো মতো চাইতে পারে দেখা যাচ্ছে সে সবার কাছ থেকে নিচ্ছে। এইটা যাতে না হয় পুরো বিষয়টার মধ্যে একটা সমন্বয় হওয়া প্রয়োজন।
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় বিভিন্নভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারের ত্রাণ গুলো সরকারি চ্যানেলে আসে এবং সেগুলো ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। আমাদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান এনএনকে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে যেসব গ্রাম গুলোতে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে সেগুলো আমরা চেষ্ঠা করছি আপনারা যাদেরকে দিচ্ছেন তাদের বাদ দিয়ে অন্যদের তালিকায় আনার জন্য। আমাদের দলের অনেক সামর্থবান নেতৃবৃন্দরাও ত্রাণ দিচ্ছেন। সমাজে যারা অবস্থাসম্পন্ন এবং দয়ালু তারাও ত্রাণ দিচ্ছে। পুরো ত্রাণ কার্যক্রমের মধ্যে একটা সমন্বয় করতে হবে।
কারো সর্দি কাশি হলেই তাকে করোনা রোগী সন্দেহ করা সঠিক নয় জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সর্দি-কাশিতো আমাদের সবসময়ই হয়ে থাকে। প্রত্যেক মানুষেরই হয়। এখন সামাজিকভাবে হেও করার জন্য দেখা যাচ্ছে কারো সর্দি-কাশি হলো তার সাথে কারো বিরোধ আছে তার সম্পর্কে করোনা রোগী এ ধরণের বিরূপ কথা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এসব ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকেও সকলের খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় এখনো পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ বা অন্যান্য জায়গা থেকে সেভাবে লোকজনও এখানে আসেনি। এরপরও এসব নিয়ে একটু সতর্ক থাকতে হবে। যাতে করে এখানে একজন করোনা রোগী শনাক্ত হলে তখন মানুষের মধ্যে বিরাট আতঙ্ক তৈরি হবে।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় কৃষক লীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ ইতিমধ্যে দরিদ্র কৃষকের ধান কেটে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে আজ শুক্রবার থেকে তারা এই কার্যক্রম শুরু করবে। প্রত্যেক ইউনিয়ন ভিত্তিক তারা ইতিমধ্যে টিম গঠন করেছে। প্রত্যেক ইউনিয়নের যেখানে প্রয়োজন সেখানে তারা ধান কেটে দেয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। এসব কাজ আমাদের করতে হবে।
এরপর তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের সাথে কোভিট-১৯ মোকাবেলায় প্রস্তুতি ও ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় সভা করেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান, পৌরসভার মেয়র শাহজাহান সিকদার, ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল মোনাফ সিকদার, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, থানার ওসি সাইফুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চাকমা উপস্থিত ছিলেন। ইত্তেফাক/ইউবি
নিউজ ডেস্কঃ করোনা সংকটে এপ্রিল থেকে মোবাইল ব্যাংকিং-এ বেতন পাবেন শ্রমিকরা। এজন্য নতুন করে অ্যাকাউন্ট খুলছেন তারা। যদিও সময় মতো শতভাগ বেতন পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন শ্রমিক নেতারা। এদিকে যারা অ্যাকাউন্ট নম্বর জমা দেবেন শুধু তারাই এই বিশেষ তহবিলের বেতন পাবেন- এমন কড়া হুঁশিয়ারি শিল্প মালিকদের। করোনার কারণে বন্ধ কারখানার উৎপাদন। তবুও শ্রমিকরা কারখানা যাচ্ছেন তাদের নতুন খোলা মোবাইল অ্যাকাউন্ট জমা দিতে। অনেকে আবার যোগাযোগ করছেন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে।
এক শ্রমিক বলেন, মালিক বলছে মোবাইল অ্যাকাউন্ট খুলতে। এটা নিয়ে ঘুরতেছি।
ব্যাংকে হিসাব জমা দেয়ার শেষ তারিখে বাড়ানো হয়েছে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত নতুন করে হিসাব খুলেছেন প্রায় ২০ লাখ শ্রমিক। অনেকে জমা দিয়েছেন আগের করা অ্যাকাউন্ট নম্বর। এরই মধ্যে মার্চের বেতন প্রায় শতভাগ সরাসরি পরিশোধ করা হলেও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বেতন পাওয়া নিয়ে সংশয়ে অনেকে। বাংলাদেশ বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সালাউদ্দিন স্বপন বলেন, শতভাগ বেতন পাওয়ার বিষয়ে শঙ্কিত। মার্চ মাসের বেতনইতো এখনও অনেক কারখানায় দেয়া হয়নি।
শ্রমিকের হিসাব নম্বর, বেতন বাবদ টাকার পরিমাণ ও তা যাচাই বাছাই করার জন্য জমা দিতে হবে ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের তথ্য-উপাত্ত। এরপর ব্যাংকগুলো ছাড় করবে সরকার ঘোষিত বিশেষ এই তহবিলের টাকা।
এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ সহযোগী হওয়ার আহ্বান শিল্প মালিকদের। তবে, যে শ্রমিক ব্যাংক হিসাব জমা দেবেন না তারা এই সুবিধায় বেতন পাবেন না বলেও হুঁশিয়ারি মালিকদের। বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নাসির বলেন, ২ শতাংশ সুদে তারা কাজটা করছে। টাকা দেবে সরকার। কিন্তু যদি কোনো কারখানা পরিশোধে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে সে ঝুঁকি কে নেবে? এ ধরনের জায়গায় অনেক ব্যাংক অপারগতা প্রকাশ করার মত বিষয় আছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আশ্বাস, সরকার ঘোষিত ৫ হাজার কোটি টাকার এই তহবিল থেকে মালিকদের দাবি মতো ঠিক সময়েই শ্রমিকের হাতে পৌঁছাবে এপ্রিল, মে ও জুন মাসের বেতন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ সার্কুলার অনুযায়ী, শ্রমিকের অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া বেতনের অর্থ ক্যাশ আউট করতে মোট খরচ পড়বে ৮ টাকা। যার ৪ টাকা কাটা হবে শ্রমিকের অ্যাকাউন্ট থেকে আর বাকি ৪ টাকা কাটা হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে।
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া আব্দুল জব্বার (৪০) এর দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কওমি মাদ্রাসার সেচ্ছাসেবী টিমের মাধ্যমে জানাযা ও দাফন সম্পন্ন হয় গত রাত ১.২১ মিনিটে।
আব্দুল জব্বারের জানাযার নামাজে ইমামতি করেন কওমি মাদ্রাসার স্বেচ্ছাসেবী টিমের সদস্য মাওলানা মাসুম আহমদ তার নেতৃত্বে জানাযা শেষে দাফন কার্য পরিচালনা করেন কওমি মাদ্রাসার স্বেচ্ছাসেবী টিমে সদস্য মাওলানা তায়েফ আহমদ, মাওঃ হাসান আহমদ, উসমান আহমদ মাওঃ নাইম আহমদ।
এসময় উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বড়লেখা উপজেলা ইউএনও শামীম আল ইমরান, থানা অফিসার ইনচার্জ ইয়াসিনুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রত্নদ্বীপ বিশ্বাস।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই ব্যক্তি উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউপির গাংকুল গ্রামের মৃত আজমল আলীর ছেলে। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার স্যাম্পলের রিপোর্ট এখনো আসেনি, আসলে জানা যাবে তিনি করোনা পজিটিভ কি না।
জানা গেছে, আব্দুল জব্বার কিছুদিন থেকে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। গত দুদিন আগে তাঁর জ্বর ও উঠে। বৃহস্পতিবার সকালে জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট ও বুকব্যাথা বেড়ে গেলে স্বজনরা তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখান থেকে তাঁকে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সন্ধ্যার দিকে তিনি শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে মারা যান। রাতে দাফনকাজ শেষে তাহার বাড়ি লকডাউন করে দেয় প্রশাসন।
এবাদুর রহমান জাকিরঃ বিয়ানীবাজার উপজেলায় প্রথম এক যুবকের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা শনাক্ত যুবক (৩০) পৌরশহরের একটি জুয়েলারি দোকানে কাজ করেন। তিনি সম্প্রতি টাঙ্গাইল থেকে ফিরেছেন বলে জানা গেছে।
আক্রান্ত যুবকের বসবাস পৌর এলাকার নয়াগ্রামে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, করোনা শনাক্ত হওয়া ওই যুবককে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসোলেশনে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে মেডিকেল টিম তাঁর বাড়িতেই অবস্থান করছে। একই সাথে তাঁর বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। এর আগে গত ২১ এপ্রিল তার নমুনা সংগ্রহ করে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন।
এর পর বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে স্থাপিত বিশেষায়িত ল্যাবে টেস্টে তার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। ওইদিন ওসমানী মেডিকেলের করোনা পরীক্ষাগারে ১৪৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৬ জনের করোনা পজিটিভ আসে। এরমধ্যে সিলেটের ৫, সুনামগঞ্জের ৮ ও হবিগঞ্জের ৩ জন রয়েছেন। তবে আগের দিন মৌলভীবাজারের দুজন করোনা শনাক্ত হলেও বৃহস্পতিবার ওই জেলার কারো করোনা পজিটিভ ধরা পড়েনি।
এদিকে বৃহস্পতিবারের ১৬ জন মিলে সিলেট বিভাগে এপর্যন্ত ৪৯ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। তবে সিলেট জেলার প্রথম করোনা আক্রান্ত ডা. মঈন উদ্দিন গত ১৫ এপ্রিল মারা গেছেন।