পরগনাহী দৌলপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষের মৃত্যুতে ভিন্ন মহলের শোক

বড়লেখা উপজেলার পরগনাহী দৌলতপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও তারাদরম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা লুৎফুর রহমান (৫৫) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শনিবার দুপুরে সিলেটের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহী—রাজিউন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে, ১ মেয়ে, মা, ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে যান।

শনিবার বিকেলে সাড়ে ৫.৩০মিনিটের সময় উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের ভূগা মোকাম সংলগ্ন মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে গ্রামের সার্বজনিন গোরস্থানে তার লাশ দাফন সম্পন্ন হয়।

বড়লেখার বিশিষ্ট আলেম-এ দ্বীন অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা লুৎফুর রহমানের মৃত্যুতে তার রুহের মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও পরগনাহী দৌলতপুর সিনিয়র আলীম মাদ্রাসার গভর্ণিংবডির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এমাদুল ইসলাম, উত্তর শাহবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আহমেদ জুবায়ের লিটন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আকবর আলী,ইটাউরী (মহিলা)আলিম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওঃআব্দুল আহাদ, সুজাউল ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক উপাধক্ষ মাওঃআ,ক,ম আব্দুল আজিজ,পরগনাহী দৌলতপুর আলিম মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওঃআব্দুল গফ্ফার,উত্তর শাহবাজপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওঃমোঃসাইফুল্লাহ,বড়লেখা মোহাম্মদীয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওঃআব্দুল্লাহ,সুজাউল ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওঃবদরুল ইসলাম, সাংবাদিক কাজী রমিজ উদ্দিন ও সাংবাদিক মোঃইবাদুর রহমান জাকির প্রমূখ।

হাফেজ মাওলানা লুৎফুর রহমান ১৯৯৫ সালে আরবি প্রভাষক হিসেবে পরগনাহী দৌলতপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা যোগদান করেন। ২০১৯ সালে তিনি এ মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ পদে আসিন হন।

করোনার ঈদেও গান শোনাবেন ড. মাহফুজুর রহমান

বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমানের আরেকটি পরিচয়, তিনি গায়ক। গানের প্রতি তার দুর্বলতা সবার জানা। গেল ২০১৬ সালের কোরবানি ঈদে গায়ক হিসেবে হাজির হয়ে হৈ চৈ ফেলে দেন সারাদেশে।

হাট, ঘাট, মাঠ, সর্বত্রই ছিলো মাহফুজুর রহমানকে নিয়ে আলোচনা। ১০টি গান নিয়ে তার একক সংগীতানুষ্ঠানটি সেই ঈদের সবেচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হিসেবে স্থান দখল করে নেয়।

সেই শুরু, এখনো গান করছেন মাহফুজুর রহমান। তার বেসুরো গায়কী নিয়ে অনেক সমালোচনা ও বিতর্ক চললেও দমে যাননি তিনি। গান করে চলেছেন নিয়মিতভাবেই।

গেলো কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারের রোজা ঈদেও গানের অনুষ্ঠান নিয়ে হাজির হচ্ছেন ড. মাহফুজুর রহমান। এটিএন বাংলা সূত্রে জানা গেছে, মৌলিক কিছু গান দিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের অনুষ্ঠানটি।

ইতিমধ্যে গানের রেকর্ডিং হয়ে গেছে। এবারের অনুষ্টানের শিরোনাম দেয়া হয়েছে ‘হিমেল হাওয়া ছুঁয়ে যায় আমায়’। এটি এটিএন বাংলায় প্রচার হবে ঈদের পরদিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে।

করোনার প্রভাবে ঘরবন্দী হয়ে কাটবে এবারের ঈদ। একঘেয়েমির এই সময়ে ড. মাহফুজুর রহমানের গানের অনুষ্ঠান ভিন্ন মাত্রার আনন্দ যোগ করবে বলে প্রত্যাশা চ্যানেলটির।

বড়লেখায় জেলা পরিষদের ত্রাণ বিতরণ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় করোনা প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন পেশার কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় পরিবারের মধ্যে উপহার হিসেবে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদের (বড়লেখায়) সংরক্ষিত ১নং ওয়ার্ড সদস্য জোবেদা ইকবালের তত্ত্বাবধানে বড়লেখা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিছরাবাজার এলাকায় দেড় শতাধিক দরিদ্র পরিবারের মধ্যে এই খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়।

উপহার সামগ্রীর প্রত্যেক প্যাকেটে ছিল চাল, ডাল,তেল, আলু ও সেমাই।

শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ১১টায় উপজেলার বিছরাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দরিদ্রদের মাঝে এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ।

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের সংরক্ষিত ১নং ওয়ার্ড সদস্য জোবেদা ইকবালের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বড়লেখা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক ইকবাল হোসেন স্বপনের’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজাম্মেল হোসেন,বিশিষ্ট মুরব্বী আব্দুস শহিদ ময়না, বিশিষ্ট সমাজ সেবক সিরাজ উদ্দিন,ইফতেখার হোসেন রিপন,কয়েছ আহমদ প্রমুখ

অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকজনকে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে করোনা প্রতিরোধক দিক-নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

বিশ্বনাথে সাংবাদিক নির্যাতন – বিএমএসএফের প্রতিবাদ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি ঃ সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার এক মাদকসেবীর হামলায় গুরুত্বর আহত হয়েছেন দৈনিক কালের কন্ঠের বিশ্বনাথ প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাব কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী শিপন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার জুম্মার নামাযের পর নিজ বাড়ী থেকে পার্শ্ববর্তী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাবার পথে হামলার শিকার হন তিনি। এসময় তার সাথে থাকা নগদ টাকা, মোবাইলসেট লুটে নেয় হামলাকারী দিলোয়ার হোসেন দিলা, উপজেলার কারিকোনা গ্রামের মৃত জবান আলীর ছেলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় থানা পুলিশ। এর আগেই পালিয়ে যায় হামলাকারী দিলা।
হামলা ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রূত গ্রেফতারের দাবি করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃমোছন আলী, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান,সাংগঠনিক সম্পাদক কবি এস পি সেবু,সহ সাধারন সম্পাদক,আজিজুর রহমান,আব্দুল বাছিত,সহ সভাপতি মকসুদ খান,আলতাব হুসেন,প্রমুখ।
হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তার সুস্থ্যতার জন্য বিএমএসএফ’র পক্ষ থেকে দোয়া চেয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ কামনা করেন।

শ্রমিক ইউনিয়নের টাকার হিসাব চাইতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন ট্রাকচালক

নিউজ ডেস্কঃ শ্রমিক ইউনিয়নের টাকার হিসাব চাইতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন ট্রাকচালক
চালক-শ্রমিকদের সাথে রাজশাহীর জেলা ট্রাক, ট্যাংক লরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের হিসাব চাইতে গিয়েছিলেন সোহরাব আলী (৩৫)।

শ্রমিকদের কল্যাণে রাস্তা থেকে তোলা টাকার হিসেব পেলেন না এই ট্রাকচালক। করোনার দুর্যোগকালে পেলেন না নূন্যতম সহায়তাও। শ্রমিকদের মারামারির ভেতরে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শুক্রবার বিকেলে নগরীর ঘোড়ামারা এলাকায় জেলা ট্রাক, ট্যাংক লরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে এ-ই ঘটনা ঘটে। সকাল থেকেই সেখানে বিক্ষোভ করছিলেন চালকরা। মৃত ট্রাকচালক সোহরাব আলী নগরীর খোজাপুরের বাসিন্দা।

শ্রমিকদের ভাষ্য, তাদের সংগঠনের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৬০০ জন। সম্প্রতি তাদের ইউনিয়নের সভাপতি ফরিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আক্কাস আলী কিছু শ্রমিককে ডেকে ৮ কেজি করে চাল ও ২ কেজি করে আলু দিচ্ছিলেন। শ্রমিকদের কেউ কেউ বেকায়দায় পড়ে নিয়েছেন। কিন্তু বেশিরভাগই সেই চাল-আলু প্রত্যাখান করে তাদের টাকার হিসাব চেয়েছেন। সেদিন ১১ মে হিসাব দেয়া হবে বলে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক জানান। কথামতো তারা সেদিন ইউনিয়ন কার্যালয়ে যান। কিন্তু হিসাব না দিয়ে আবারও ১৫ মে দিন দেয়া হয়। কথামতো তারা এ দিনও এসেছেন। কিন্তু তাদের জানানো হয়েছে হিসাব প্রস্তুত করা হয়নি। তাই তারা অবস্থান নিয়েছেন।


সাজ্জাদ আলী নামের এক শ্রমিক বলেন, বর্তমান কমিটির মেয়াদ তিন বছর। গত ১৭ এপ্রিল কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাই কমিটির কাছে হিসাব প্রস্তুত থাকার কথা। কিন্তু টাকা নয়ছয় হয়েছে বলে হিসাব প্রস্তুত নেই বলে মনে করেন তিনি।

সাজ্জাদ ধারণা করেন, তিন বছরে এই কমিটির কাছে অন্তত ১৫ কোটি টাকা গেছে শ্রমিকদের উন্নয়নের নামে। কিন্তু এখন তাদের দিন চলছে না। তারা টাকার হিসাব চাওয়ায় বর্তমান কমিটির কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

সাজ্জাদ বলেন, হাতাহাতির মধ্যে পড়েছিলেন ট্রাকচালক সোহরাব আলী। তিনি রোজাও রেখেছিলেন। এ রকম পরিস্থিতিতে তার রক্তচাপ বেড়ে যায়। অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মাথায় পানি দেয়া হয়। এরপর তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। তখন চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর শ্রমিকরা একটি পিকআপে করে তার লাশ ইউনিয়নের কার্যালয়ের সামনে আনা হয়।

বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর বোয়ালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, টাকার হিসাব চাইতে এসে এক শ্রমিক মারা গেছেন। তার লাশ ইউনিয়নের কার্যালয়ের সামনে আছে। শ্রমিকরা উত্তেজিত। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে। মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। সুত্রঃ জাগো নিউজ

রোহিঙ্গা করোনায় আক্রান্ত, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় স্থানীয়রা

নিউজ ডেস্কঃ কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ের লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একজন করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন রোহিঙ্গা নেতারাও। উখিয়া নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনার সংক্রমণ হওয়া মানে এটি আমাদের জন্য ভয়ের বিষয়। কারণ, ক্যাম্পে অসংখ্য মানুষ কাজ করছেন। স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি অনেক সংস্থায় মানুষ চাকরি করেন। চাকরির সুবাধে ক্যাম্পের আসা-যাওয়া করেন তারা। ফলে খুব দ্রুতই স্থানীয়দের মধ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে।’

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবে ১৮৬ জনের মধ্যে ১২ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাদের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা। প্রথমে দু’জন আক্রান্তের কথা বলা হলেও পরে জানা যায় একজন রোহিঙ্গা, অপরজন স্থানীয়। ওই রোহিঙ্গা লম্বাশিয়া ১নং (পশ্চিম) রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকেন। অপরজন কুতুপালং বাজারের পাশে অবস্থিত ঘুমধুম ইউনিয়নের কচুবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পরিচয় গোপন করে রোহিঙ্গা সেজে স্থানীয় এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

রোহিঙ্গার করোনা আক্রান্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারণ ওই অঞ্চলের স্থানীয়দের একমাত্র বাজার কুতুপালং। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘেঁষা কুতুপালং বাজার আগে সপ্তাহে দুদিন বসতো। রোহিঙ্গারা আসার পর সেখানে প্রতিদিন কেনাবেচা হয়। লকডাউন থাকার পরও বাজারে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের জনসমাগম চোখে পড়ার মতো। এছাড়া দেশি-বিদেশি হাজারো এনজিও কর্মীর আনাগোনা রয়েছে বাজারে।

কুতুপালং বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা করোনার ঝুঁকিতে রয়েছি। যেকোনও সময় আমরা আক্রান্ত হতে পারি। কারণ, এরইমধ্যে দু’জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের একজনের বাড়ি কুতুপালং বাজারের পূর্ব পাশে। আরেকজন কুতুপালং বাজারের পশ্চিমে। আমরা মাঝখানে অবস্থান করছি। কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে ৩৫০ স্থানীয় বাংলাদেশি পরিবার বাস করছে। তারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে। তাই খুব দ্রুত আগের মতো লকডাউন কড়াকড়ি না করলে করোনা থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।’উখিয়ার কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কমিউনিটি নেতা ইউনুছ আরমান বলেন, ‘করোনা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশ মেনে সব কিছু করছি। পার্শ্ববর্তী লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনা রোগী শনাক্তের খবরে আমরা উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছি। এ কারণে আমাদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে এবং অন্যদের মাঝেও সচেতনতা বাড়াতে হবে’।

লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মোহাম্মদ আয়ুব মাঝি বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত রোহিঙ্গা নুরুল আলম ভয়ে প্রথমে বাসা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে শুক্রবার সকালে রোহিঙ্গা নেতাদের সহায়তায় তাকে এবং পুরো পরিবারটিকে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এসে নিয়ে গেছে।’

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা. আবু মোহাম্মদ তোহা বলেন, কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতাল থেকে নমুনা আসায় প্রথমে আমরা দু’জন রোহিঙ্গা বলেছিলাম। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক ব্যক্তি রোহিঙ্গা নন। ভালো চিকিৎসা পাওয়ার জন্য রোহিঙ্গা পরিচয় দিয়ে এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম কচুবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা তিনি। বর্তমানে তিনি নিজ বাড়িতেই আছেন। আক্রান্ত রোহিঙ্গাকে এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া বলেন, কক্সবাজারের করোনা শনাক্তকরণ ল্যাবে মোট ৩৩৬২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে জেলায় শনাক্ত হয়েছে ১৩২ জনের। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ১২ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাদের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা।

বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রায় এক হাজার ৯০০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার তৈরির কাজ চলছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০ শয্যার কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়াও করোনা আক্রান্তদের জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার পরিচালিত হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

হিলিতে সড়কের পাশে দীর্ঘক্ষণ পড়ে রইলো অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ

নিউজ ডেস্কঃ দিনাজপুরের হিলিতে করোনার উপসর্গ নিয়ে অজ্ঞাত (৪৮) এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় রাস্তায় পড়ে ছিল মরদেহ, করোনার ভয়ে তার কাছে কেউ যায়নি।

আজ শুক্রবার সকাল থেকে হিলি জয়পুরহাট সড়কের গোড়স্থান নামক সড়কের পার্শ্বে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। পরে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।

হাকিমপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বেলাল হোসেন বলেন, সংবাদ পেয়ে মরদেহ উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছি। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি ওই ব্যক্তি কান পরিষ্কার করার কাজ করতেন ও মাদকসেবী ছিলেন। করোনার কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাজ কর্ম না থাকায় স্থানীয়দের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে চলতেন। গোরস্থানের পার্শ্বে একটি দোকানের বারান্দায় রাত্রিযাপন করতেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, কিছুদিন ধরে এই ব্যক্তি শ্বাসকষ্টেও ভুগছিল। আজ সকালের কোন এক সময়ে তিনি মারা যান, তার নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে এই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে কিনা ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে তা নিশ্চিতের জন্য নমুনা সংগ্রহ করার পর তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়না তদন্ত শেষে মরদেহের কোন স্বজন না পাওয়া গেলে মরদেহ দাফনের জন্য ‘আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের’ কাছে হস্তান্তর করা হবে। সুত্রঃ বণিক বার্তা

মহামারীর প্রভাব বীমা নবায়নে সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ বিমান

কভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবে উড়োজাহাজ বহরের বীমা নবায়ন নিয়ে সংকটে পড়তে পারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সাধারণ বীমা করপোরেশনের সম্প্রতি ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠিত এক বোর্ড সভার আলোচনায় বিমানের এ সংকটের বিষয়টি উঠে আসে। সভার কার্যপত্র সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস নিজ বহরের উড়োজাহাজের ফ্লাইট পরিচালনায় বিদ্যমান বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির বিপরীতে বীমা কাভারেজ নিয়ে থাকে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সংস্থাটির বহরের উড়োজাহাজগুলো সরকারি সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হয়ে থাকে। প্রচলিত বীমা আইন অনুযায়ী, সরকারি সম্পদের বীমা সাধারণ বীমা করপোরেশনে করানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী বিদ্যমান বিভিন্ন ঝুঁকির বিপরীতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরের উড়োজাহাজগুলোর বীমা পলিসি সাধারণ বীমা করপোরেশন থেকে করানো হয়েছে।

সাধারণ বীমা করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, কভিড-১৯ মহামারীর কারণে বিশ্বের সব এয়ারলাইনসই কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে উড়োজাহাজ চলাচল শিল্প বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এ কারণে বিদ্যমান বীমাগুলোর নবায়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে অনেক বীমা প্রতিষ্ঠানই অনীহা প্রকাশ করবে। এছাড়া প্রিমিয়ামের পরিমাণও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া আগের লোকসানের কারণে কিছু পুনঃবীমাকারী প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে আন্ডাররাইটিং কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে এবং বেশির ভাগ পুনঃবীমাকারী প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ সক্ষমতাও কমিয়ে এনেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বীমা নবায়নে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, সে বিষয়ে ফেব্রুয়ারিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিদ্ধান্ত চেয়ে পাঠানো হয়। বিষয়টি বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন আছে।

করপোরেশনের বোর্ড সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে বর্তমান বছরের অর্থাৎ ২০২০-২১ সালে এয়ারলাইনসগুলোর বীমা বা পুনঃবীমা নবায়ন করতে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন সম্পন্ন করতে না পারলে বিমানের উড়োজাহাজ চলাচল বিঘ্ন হতে পারে। এ পরিস্থিতি বিবেচনা করে বর্তমান বছরের নবায়ন কার্যক্রম অর্থনৈতিক ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নবায়ন কমিটি লন্ডনে উপস্থিত থেকে পুনঃবীমা কার্যক্রমের ব্রোকার বা পুনঃবীমাকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন করাটাই যৌক্তিক হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা অনেক সময়সাপেক্ষ হবে এবং বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যথাযথ প্রিমিয়াম নির্ধারণ করাটাও কঠিন হবে।

বোর্ড সভায় এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অনুমতির বিষয়টি নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ বিষয়ে সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর দেশে টেন্ডারের মাধ্যমে এ কাজটি সম্পন্ন করা হয়। এ বছর চলমান করোনা পরিস্থিতিতে দেশে টেন্ডার করার পরিবেশ নেই। তাই লন্ডনে বিশ্বের শীর্ষ ১৫টি কোম্পানির মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করতে চাচ্ছি।

সূত্রমতে, ১৯৭৩ সাল থেকে সাধারণ বীমা করপোরেশন লন্ডনের লয়েডস মার্কেটভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পুনঃবীমা ব্রোকার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ বহরের মূল্যের ওপর পুনঃবীমা কাভারেজ নিয়ে আসছে। অর্থ মন্ত্রণালয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং সাধারণ বীমা করপোরেশনের প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত টিম লন্ডনের লয়েডস মার্কেটে গিয়ে এ পুনঃবীমার কাজ সম্পন্ন করে। সাধারণ বীমা করপোরেশন পর্ষদের অনুমোদিত টপ রেটেড ব্রোকারদের কাছে উড়োজাহাজের প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয় এবং তাদের উপস্থিতিতে এ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত অবহিত করা হয়। সুত্রঃ বণিক বার্তা

পরকিয়া প্রেম,অত:পর ছেলে খুন।



মামুন ছেলের স্কুলে দাড়িয়ে আছে ছেলের জন্য। আজকে তার ছেলে মাহবুবের পরিক্ষার ফলাফল জানাবে। ছেলেটার জন্যই এসেছে। অনেক ছেলেমেয়ের বাবা মা এসেছে।আর তাদের সন্তানদের নিয়ে প্রশংসা করছে। এক মহিলা অন্য মহিলাকে বলছে “দেখবেন আমার ছেলেই প্রথম হবে”মামুন এইসব কথা
শুনছে আর দাড়িয়ে আছে।ছেলের জন্য তারও চিন্তা হচ্ছে।কারন শেষের কয়েকটি পরিক্ষার সময়ে ছেলে অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল। কেমন ফলাফল হবে জানে না। কিছুক্ষণ পরে মাহবুব আসলো। মনটা ভারি ভারি। মুখেও তেমন হাসি নেই। মনে হয় ফলাফল ভাল হয় নি। অনেকে ছেলের জন্য টিউশানির ব্যাবস্থা করেছে। কিন্তু মামুন সেটা পারে নি।কাছে আসার পরে মামুন জিজ্ঞেস করলো
-কি হয়েছে বাবা? মন খারাপ কেন?
-বাবা আমি ক্লাসের মধ্যে প্রথম হয়েছি।
-কি!! আরে এতে মন খারাপ করে আছ কেন?
-দেখলাম তুমি কেমন করো।তুমি খুশি হয়েছ?
-হ্যা বাবা।অনেক খুশি হয়েছি। বলো তুমি আজকে কি চাও? আজকে দিবো।
-সত্যি দিবে? তোমার কাছে অত টাকা হবে?
-অবশ্যই হবে।
-তাহলে আমার জন্য আইসক্রিম আনবে।
-শুধু আইসক্রিম?
-আইসক্রিম হলেই হবে।
ছেলেকে স্কুলে রেখে মামুন অফিসে চলে গেল। আজ তার অনেক বেশি খুশি লাগছে। আজ মামুনের ছোট বেলার কথা মনে পরছে। ছোট বেলায় যখন মামুন তার বাবাকে গিয়ে বলেছিল
-বাবা আমি ফার্স্ট হয়েছি।
-সেটা কি বাবা?
-আমি সবার চেয়ে ভাল নাম্বার পেয়েছি।
-বাবারে। তোর এই কাজের জন্য আমার।অনেক খুশি লাগছে। আমি তোকে ডাক্তার বানাবো। মামুনের বাবা সেদিন ছেলেকে ডাক্তার বানানোর সপ্ন দেখেছিল। কিন্তু মাঠে কাজ করে সেই সপ্ন পুরন করতে পারে নি।
মামুনের ইচ্ছা তার ছেলেকে ডাক্তার বানাবে। সে শত চেষ্টা।করে হলেও সপ্ন নামের সোনার হরিনকে ধরার চেষ্টা করবে।যেই হরিনকে মামুন ধরতে পারে নি।


মাহবুব বাড়িতে এসে দেখে কাদের আংকেল এসেছে।মাহবুব কাদের আংকেলকে বলল
-আংকেল। আমি এবারো ফার্স্ট হয়েছি।
-তাই! তাহলে তো তোমাকে একটা গিফট দিতে হবে?
-কি গিফট দিবেন?
-তোমার প্রিয় জিনিস আইসক্রিম। এই নাও ৫০ টাকা। ওই দুরের ওই দোকান থেকে আইসক্রিম কিনে খাবে।
-আচ্ছা।
-কিনে ওখান থেকেই খেয়ে আসবে। কারন বাড়িতে আনতে নষ্ট হয়ে যাবে।. খুশি মনে মাহবুব টাকা
নিয়ে চলে গেল আইসক্রিম কিনতে।
মাহবুব অন্যের কাছ থেকে টাকা অথবা কোন গিফট নেয় না। কিন্তু কাদের আংকেল কিছু দিলে তার মা
নিতে বলেছে। কাদের আংকেল তাদের কাছের মানুষ।
.
দোকানে গিয়ে মাহবুব দেখলো সবগুলো দোকান বন্ধ। এই দুপুরবেলা দোকান বন্ধ থাকে।টাকাটা আংকেল কে ফেরত দেওয়া দরকার। তাই বাড়িতে চলে যাওয়াই ভাল।
.

মামুন সাহেব অনেক বলার পরে আজকের দিনে ছুটি নিতে পেরেছে। আজকে তার ছেলেকে নিয়ে ঘুরবে।
দুপুরবেলা গাড়ি না পাওয়ায় হেটেই বাজারে চলে যাচ্ছে মামুন। যত তারাতারি সম্ভব বাসায় যেতে হবে। যখন ছেলেকে আইসক্রিম দিবে আর তার প্রিয় মাছ নিয়ে যাবে। তখন তার ছেলে অনেক খুশি হবে। যেই খুশিটা
দেখার জন্য মামুনের মনটা মানছে না।বাজারে গিয়ে মাহবুবের প্রিয় মাছ আরো তার প্রিয় খাবারগুলো
কিনলো।ব্যাগ হাতে রিক্সায় চড়ে বাড়ির দিকে রওনা হল।সে জানে ছেলে তার জন্য অপেক্ষা করছে।
.

মাহবুব বাড়িতে এসে আংকেল কে খুজে পেল না। মনে হয় চলে গেছে। টাকাটা জানালা দিয়ে ভেতরে রেখে দিয়ে তার মত খেলতে চলে যাবে। মাহবুব দরজা বন্ধ
পেয়ে জানালা দিয়ে টাকা রাখার জন্য হাত বাড়ালো।
জানালায় তাকাতে মাহবুব দেখলো তার মা শুয়ে আছে। কিন্তু এভাবে শুয়ে আছে কেন? আর কাদের
আংকেল পাশে শুয়ে আছে কেন?আর তাদের এইরকম হয়ে থাকার কারন কি? জিজ্ঞেস করা দরকার। তাই মাহবুব আংকেলকে ডাক দিলো।
.

মামুন পথে আসার সময়ে অনেক কিছুই ভেবেছে। ছেলের কথা ভেবেছে।বাড়িতে এসে মাহবুব কে ডেকে না পাওয়ার পরে ঘরে ঢুকলো। ঘরে ঢুকে মাহবুব
ছেলেকে দেখলো। কিন্তু ছেলের মুখের হাসি দেখলো না। ছেলেটা ঘুমিয়ে আছে।মামুনের ফার্স্ট হওয়া ছেলে আজ ঘুমিয়ে আছে।মামুনের সপ্নটা সপ্নই থেকে গেল।সপ্ন নামের সোনার হরিনের দেখা মামুন পেল না। শুধু কাঁদতে কাঁদতে বলল “কি অন্যায় করেছিলাম আমি? যে আজকে আমার সপ্ন দেখা ছেলেকে লাশ দেখতে হল”
.
মামুনের স্ত্রি রান্না।ঘর থেকে মাছ কাটার বটি নিয়ে এসেছে। কিছু একটা কাটার জন্য। আজকেও মামুনের স্ত্রি বটি দিয়ে কাটলো। তবে মাছ না কেটে আজকে ছেলের গলা কাটলো। মাছের চেয়ে বেশি রক্ত বেড়িয়ে মেঝেতে ছড়িয়ে গেল। অনেক বোঝানোর পরেও যখন ছেলে শুনলো না। বলল “আমি বাবাকে বলবো সব”।
তাই কাদেরের বুদ্ধিতে ছেলের গলায় বটি চালাতে হল। পরে ছেলেকে হত্যা করার অপরাধ বুঝলো। কিন্তু পরকিয়া প্রেমের কারনে পরে বুঝেও কোন লাভ হলো
না।
কালেক্টেড

“যাদের কষ্টের উপার্জনে ভালো আছি আমরা, তাঁদের অবদান কখনো ভুলা যাবেনা”

দারিদ্র ও ক্ষুধা মুক্ত সুখী সমৃদ্ধ আদর্শবান পাকশাইল গ্রাম গড়তে যেসব মহান ব্যক্তিবর্গ সুদূর প্রবাস থেকে সাহায্য সহযোগিতা ও নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে অন্যতম যুক্তরাজ্য প্রবাসী জনাব মিসবাউল হক রুপন ভাই, কুয়েত প্রবাসী জনাব আব্দুর রহমান এবাদ চাচা, যুক্তরাজ্য প্রবাসী জনাব নাজমুল হক সেলিম ভাই, ফ্রান্স প্রবাসী জনাব আব্দুল বাসিত ভাই, যুক্তরাজ্য প্রবাসী জনাব শামিম উদ্দিন ভাই, যুক্তরাজ্য প্রবাসী জনাব শিহাব উদ্দিন ভাই, পর্তুগাল প্রবাসী জনাব ইমদাদুল হক নানু ভাই, পর্তুগাল প্রবাসী জনাব বদরুল ইসলাম ভাই, গ্রীস প্রবাসী জনাব আবু তাহের ভাই ও ইতালি প্রবাসী জনাব আব্দুল হালিম রাজু ভাই।

সত্যিই আপনাদের অবদান কখনো ভুলা যাবেনা। আপনাদের’কে ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। গ্রামের জন্য দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য আপনাদের ভালোবাসা দেখে সত্যি আমরা মুগ্ধ। অবশ্যই পাকশাইলের ইতিহাসে আপনাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যুগ-যুগান্তরে গ্রামের সেবায় আপনাদের’কে আইডল হিসেবে স্বরণ করবে। পাকশাইলবাসী আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ ও চির ঋণী।আমরা আপনাদের’কে নিয়ে ধন্য ও গর্বিত।

এলাকার সকল প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য বিনম্র শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর দোয়া রইল। সেলুট আপনাদের’কে। এলাকার সেবায় সব সময় সহযোগিতা হাত প্রসারিত করার জন্য। আশা করি এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবেন।

দোয়া করি মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়া’লা আপনাদের প্রবাস জীবন সুখী সুন্দর ও সফল করেন, সকল প্রকার বিপদ আপদ ও মুসিবত থেকে হেফাজতে ও আমানতে রাখেন। এই মহান কাজের বিনিময়ে দুনিয়া ও আখেরাতে এর সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন আমিন।

পরিশেষে সকল প্রবাসীদের পক্ষ থেকে একটি বার্তা ও দোয়া রইলঃ ভালো থেকো বাংলাদেশ, ভালো থেকো গ্রাম, ভালো থেকো প্রিয় পরিবার।

লেখকঃ জামিল আহমেদ, সাবেক ছাত্রনেতা।

ঈদের জামাত মসজিদে আদায় করার নির্দেশ


ডেক্স রিপোর্টঃকরোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবের কারণে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঈদের জামাত ঈদগাহে না করে মসজিদের করার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামায়াত করার কথা বলা হয়েছে নির্দেশনায়। এছাড়া নামাজ শেষে কোলাকুলি না করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ধর্মমন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামারা পবিত্র রমজানুল মোবারক মাসের গুরুত্ব বিবেচনা করে মসজিদে নামাজ আদায়ের শর্ত শিথিল করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর দাবি পেশ করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে ৭ মে কিছু নির্দেশনা পালনের শর্তে মসজিদে সুস্থ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে জামাতে নামাজের অনুমতি দেয়া হয়।

ইতিমধ্যে মন্ত্রপরিষদ বিভাগ থেকে উম্মুক্ত স্থানে বড় পরিসরে ঈদের জামাত পরিহারের নির্দেশনা প্রদান করে বর্তমানে বিদ্যমান বিধি-বিধান অনুযায়ী ঈদের জামাত আয়োজনসংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদান করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশাবলী মেনে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামায়াত আদায়ের জন্য অনুরোধ করা হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ইসলামি শরিয়তে ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত আদায়ের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সারা বিশ্বসহ আমাদের দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিজনিত ওজরের কারণে মুসল্লিদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনা করে এবছর ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের নামাজের জামায়াত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ করা হলো। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। তাছাড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিত করতে মসজিদে ওজুর স্থানে সাবান-হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।

মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। ঈদের নামাজের জামায়াতে আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাঁতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে। এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে। শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যেকোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মসজিদে জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামগণকে অনুরোধ করা যাচ্ছে এবং খতিব, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

উল্লিখিত নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত জিহাদুল ইসালামের স্বরনে ঈদ সামগ্রী বিতরন

মোঃইবাদুর রহমান জাকির বিশেষ প্রতিনিধিঃ বিশ্বব্যাপি মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে-গৃহবন্দি হতদরিদ্র পরিবারে আজ চরম বিপর্যয়! এহেন পরিস্থিতি মোকাবেলা সহ
আসন্ন ঈদুল ফিতর-কে সামনে রেখে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী গ্রামের জিহাদুল ইসালামের পরিবারের অর্থায়নে ও বিশ্বনাথ ইয়ুথ অরগানাইজেশান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিশ্বনাথের ৭০ টি মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও ঈদসামগ্রী বিতরন করা হয়। বিতরনকৃত অর্থ ও ঈদসামগ্রী বিশ্বনাথ ইয়ুথ অরগানাইজেশান এর স্বেচ্ছাসেবকরা বিশ্বনাথের নিহত জিহাদের গ্রামের বাড়ি অলংকারীর প্রতিটা গরীব ও মেহনতি মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে পৌছে দেন।
উক্ত ঈদ সামগ্রী বিতরনে উপস্থিত ছিলেন ইয়ুথ অরগানাইজেশেনর সদস্য বৃন্দ।

ইসলামী ব্যাংক কাঁঠালতলী থেকে মধ্য আয়ের গ্রাহকদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

ফয়সাল মাহমুদঃ করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। এ অবস্থায় আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মহাসংকটে পড়েছেন নিম্ন মধ্য আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। দীর্ঘ এই লকডাউনে নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষও নেমে যাচ্ছেন হতদরিদ্রের কাতারে। ঘরে খাবার নেই অথচ কাউকে বলতেও পারছেন না। বাইরে গিয়ে হাত পাততে পারছেন না। নেই আয়ের কোনো উৎস। দেশের এই ক্রান্তিকালে সরকারের ত্রাণ তৎপরতার পাশাপাশি সারা দেশের দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি। থেমে নেই মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক কাঁঠালতলী আউটলেট শাখা।

বৃহস্পতিবার (১৪মে) প্রথমবারের মতো পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর কে সামনে রেখে নিম্ন মধ্য আয়ের ব্যাংক গ্রাহকদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী উপহার হিসেবে বিতরণ করা হয়।

উপহার হিসেবে ১০ কেজি চাল, ২ লিটার সয়াবিন তেল, ২ কেজি পেঁয়াজ, ২ কেজি ছোলা, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি লবন ও ২ প্যাকেট সেমাই দেওয়া হয়।

ব্যাংক ইনচার্জ জুবায়ের আহমদ শিমুল বলেন, আমাদের ব্যাংকের খুব অসহায় গ্রাহকদের মধ্যে এই উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। কাঁঠালতলী ইসলামী আউটলেট শাখা সবসময় অসহায় গ্রাহকদের পাশে ছিলো এবং আগামীতেও থাকবে। এই ত্রাণ সামগ্রী এখন স্বল্প পরিসরে প্রদান করা হয়েছে যা আরও বড় আকারে প্রদান অব্যাহত থাকবে।

উপহার সামগ্রী প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন, ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলিম উদ্দিন সহ ব্যাংক কর্মকর্তাবৃন্দ।

এতেক্বাফের ফজিলত

আর মাগফিরাতের দশম ও শেষ দিন। একে একে আমাদের থেকে রহমত ও মাগফিরাতের দশক অতিবাহিত হয়ে আমরা রমজানের শেষ দশক অর্থাৎ নাজাতের দশকের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছে গেছি। আর শেষ দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো এতেকাফ করা। রাসুল (সা.) প্রতি বছর রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন। হযরত আয়েশা রা. বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) রমজান মাসের শেষ দশকে মসজিদে এতেকাফ করতেন। তার মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এ আমল অব্যাহত রেখেছেন। তার ইন্তেকালের পর তার স্ত্রীরা এতেকাফ করেছেন’ (সহিহ বুখারি,১৯২২)

এতেকাফ শব্দটি আরবি ‘আকফ’ শব্দ থেকে নির্গত। এর অর্থ হচ্ছে অবস্থান করা, স্থির থাকা, কোনো স্থানে আটকে থাকা বা আবদ্ধ হয়ে পড়া। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় রমজান মাসের শেষ দশক বা অন্য কোনো দিন দুনিয়াবি সব কাজকর্ম ও পরিবার-পরিজন থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহকে রাজি-খুশি করার নিয়তে পুরুষের জন্য মসজিদে ও নারীদের ঘরে নামাজের নির্দিষ্ট স্থানে ইবাদত করার উদ্দেশ্যে অবস্থান করা ও স্থির থাকাকে এতেকাফ বলে। রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করা সুন্নতে মোয়াক্কাদায়ে কেফায়া। অর্থাৎ এলাকার কিছুসংখ্যক মানুষ আদায় করলেই সকলের পক্ষ থেকে সুন্নতে কেফায়া আদায় হয়ে যাবে। তবে কেউই আদায় না করলে সকলেই গুনাহগার হবে। এতেকাফ করার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর রহমত, ক্ষমা ও নৈকট্য লাভ করতে পারে। হযরত আতা খোরাসানী রহ. বলেন, এতেকাফকারীর দৃষ্টান্ত ওই ব্যক্তির মতো, যে আল্লাহর দরবারে পড়ে থাকে আর এ কথা বলতে থাকে, হে আল্লাহ! যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি আমাকে ক্ষমা না করবেন আমি এখান থেকে নড়ব না (বাদায়েউস সানায়ে-২ এতেকাফের একটি বৈশিষ্ট্য হলোÑ যতক্ষণ মানুষ এতেকাফ অবস্থায় থাকে তার চলাফেরা, কথাবার্তা, পানাহার, ঘুম, প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। আর এতেকাফ সুন্নত হওয়ার হেকমত হলো এটাই যে, এতেকাফ ছাড়া লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও মর্যাদা লাভের নিশ্চিত কোনো পদ্ধতি নেই।

এতেকাফের ফজিলত : এতেকাফের দ্বারা জাহান্নাম দূরে চলে যায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এক দিন এতেকাফ করবে আল্লাহ তায়ালা তার ও জাহান্নামের মাঝে তিন পরিখা পরিমাণ দূরত্ব সৃষ্টি করবেন; যার দূরত্ব দুই দিগন্তের দূরত্বের থেকে বেশি দূরত্ব হবে। (কানযুল উম্মাল, হাদিস নং-২৪০১৯)

এতেকাফকারী দুই হজ ও দুই ওমরার সাওয়াব পাবেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানে দশ দিন এতেকাফ করবে তার আমল দুই হজ ও দুই ওমরার সমতুল্য ( কানযুল উম্মাল, হাদিস নং-২৪০০৬)।

এতেকাফকারী লাইলাতুল কদরের মর্যাদা লাভ করতে পারবেন। কেননা রমজানের শেষ দশকের রাতগুলোর যেকোনো একটিতে লাইলাতুল কদর রয়েছে। আর লাইলাতুল কদরের ইবাদত হাজার মাস তথা তিরাশি বছর চার মাস ইবাদত করার চেয়েও উত্তম। সুতরাং যে ব্যক্তি শেষ দশকে এতেকাফ করবে তার প্রতিটি মুহূর্ত যেহেতু ইবাদত হিসেবে গণ্য হচ্ছে ফলে সে লাইলাতুল কদর পেয়ে যাচ্ছেন, এ রাতের সুমহান মর্যাদা লাভ করতে পারছেন। রাসুল (সা.) লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির আশা নিয়েই এতেকাফ করতেন। তিনি প্রথম দশকেও এতেকাফ করেছেন, মধ্য দশকেও করেছেন, এরপর শেষ দশকে করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম দশকে এতেকাফ করেছি, লাইলাতুল কদর তালাশ করেছি, এরপর মধ্য দশকে এতেকাফ করেছি, এরপর আমাকে তা দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, তা শেষ দশকে। অতএব তোমাদের মধ্যে যার এতেকাফ করা পছন্দ হয় সে যেন এতেকাফ করে। এরপর সাহাবায়ে কেরাম তার সঙ্গে এতেকাফ করলেন। তিনি আরো বলেন, আমি তা বিজোড় রাতে পেয়েছি (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৮২৮)।

অতএব আমরা যারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে চাই, আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চাই, লাইলাতুল কদরের সুমহান মর্যাদা লাভ করতে চাই, সর্বোপরি জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে চাই, তাদের জন্য উচিত হলো, রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করা
তেকাফ করা সুন্নতে মোয়াক্কাদায়ে কেফায়া।
লেখক
মোঃইবাদুর রহমান জাকির
এম এ(এল,এল,বি)
অধ্যয়নরত
সিলেট ল কলেজ।

ইসলামী আন্দোলনের পুরোধা,অধ্যাপক ড.আহমদ আবদুল কাদের এক “জীবন্ত কিংবদন্তি”

এম.এম আতিকুর রহমানঃ বাংলাদেশ তথা বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা
অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের এক জীবন্ত কিংবদন্তি।বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, রাজনীতিবিদ, লেখক, গবেষক, সংগঠক, সমাজসেবক অধ্যাপক ড.আহমদ আবদুল কাদের ১৯৫৫ সালে হবিগঞ্জ জিলার অন্তর্গত মাধবপুর উপজেলার আলা-দাউদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বি এস এস (সম্মান) ও এম এস এস এবং ঢাকা সিটি ‘ল’ কলেজ থেকে এল এল বি ডিগ্রী লাভ করেন। অতপর তিনি বিশিষ্ট আলেমদের তত্ত্বাবধানে ইসলামী বিভিন্ন শাস্ত্র বিষয়ক উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। পেশাগতভাবে তিনি ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং চার কন্যা ও এক পুত্রের জনক।

এ মহা মনিষী ছাত্র জীবন থেকেই লেখালেখির সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও জার্নালে
তিনি লিখে থাকেন। এ পর্যন্ত ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন-সংগঠন, অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, মুসলিম উম্মাহ, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সভ্যতা-সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয়ে ৩৫ টির অধিক বই লিখেছেন। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ১.সােনালী পথ ২. দারিদ্র সমস্যা সমাধানে ইসলাম ৩, সভ্যতা সংকট দিগদর্শন ৪. মুক্তি শান্তি প্রগতি ৫. সত্য সুন্দর বিপ্লব তারুণ্য ৬. পতনের বেলাভূমিতে বস্তুবাদী সভ্যতা ৭, খেলাফতঃ মূলনীতি ও বৈশিষ্ট্য ৮, মুসলিম ঐক্য ও সংহতি ৯, সেবা দারিদ্র বিমােচন ইসলাম ১০, মৌলবাদ ১১ মহানবী (সাঃ)-এর জীবনাদর্শ ও আজকের প্রেক্ষিত ১২. জিহাদ কি ও কেন ১৩. ইসলামী আন্দোলন ১৪. ইসলামী আন্দোলন ও জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই ১৫. ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অপরিহার্য কেন? ১৬. ইসলামী বিপ্লব ১৭. ইসলামী বিপ্লব ও পথ ও পদ্ধতি ১৮, ইসলামী বিপ্লবের লক্ষ্যে গণআন্দোলন ১৯. ইসলামী আন্দোলন ও উলামা সমাজ ২০. আদর্শ কর্মী ২১. আদর্শ সংগঠন ২২ ঈমানের পথ রক্তে রাঙা ইত্যাদি।
এছাড়াও তার শতাধিক নিবন্ধ ও দশটির অধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি ছাত্র জীবন থেকেই ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ছাত্র জীবন থেকে এপর্যন্ত বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি কম্বাইন্ড ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি (১৯৮২), এ সময়ে ছাত্র শিবির ভেঙে দুটি হয়। পরবর্তীতে ইসলামী যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি (১৯৮৩-১৯৮৯), ১৯৮৪ সালে হযরত হাফেজ্জী হুজুরের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম উদ্যোক্তা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, ১৯৮৭ সালে বৃহত্তর ইসলামী আন্দোলনের প্রয়াসে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
১৯৮৯ সালের ৮ডিসেম্বর তদানীন্তন খেলাফত আন্দোলন ও যুব শিবির একিভূত হয়ে মুফাছছিরে কুরআন আল্লামা আব্দুল গফফার রহ.কে আমীর ও ভাষা সৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খানকে মহাসচিব এবং শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক (রহ.) কে অভিভাবক পরিষদের চেয়ারম্যান করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস গঠন করেন। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন (১৯৮৯-১৯৯৬)। চার দলীয় জোটের আন্দোলনের লিয়াজো কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। সে সময় তিনি ইসলামী ঐক্যজোটের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেন (২০০১)। তিনি ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর (১৯৯৬-২০০৪) ছিলেন। ২০০৫ থেকে খেলাফত মজলিসের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ও বতর্মানে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সিনিয়র দায়িত্বশীল, সমমনা ইসলামী দলসমূহের মুখ‍্পাত্র ও সমন্বয়কারী এবং ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি ইসলাম, মুসলিম উম্মাহ ও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। লেখালেখি, গবেষণা, আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি তিনি সমাজকল্যাণমূলক কাজের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে জড়িত। তিনি নুসরা নামক একটি জাতীয় ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। উক্ত সংস্থা পল্লী দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, কৃষি ইত্যাদি ক্ষেত্রে তৎপর।

তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও সেমিনারে অংশগ্রহণ এবং সে সব সেমিনার ও সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে নিবন্ধ পেশ করেন। আন্তর্জাতিক সেমিনার ও সম্মেলনে পেশকৃত নিবন্ধগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:

  1. The role of waqf in poverty alleviation,
    2.The rural development in Bangladesh,
  2. The poverty alleviation in Bangladesh, 4.Fundamentalism is the muslim world,
    5.Labor Rights in Islam, 6.The Chirstian missionary activities in Bangladesh, 7.public administration is Nahjul balagha, 8.Secularism in the muslim world,
    9.From nation state to ummah state etc……

তিনি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, ইরান, পাকিস্তান, ভারত, আরব আমিরাত ও নেপালসহ বেশ কয়েকটি দেশ সফর করেছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মেলন সেমিনারে অতিথি হিসেবে বক্তব্য ও প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ইসলামী অঙ্গনে দু’চারজন বিজ্ঞ ও বিরল সম্মানের অধিকারী মনীষীদের অন্যতম। যার প্রতিটি কথা হয় গ্রন্থীত, জীবনের প্রতিটি দিক একেকটি ইতিহাস, প্রতিটি বক্তৃতা প্রেরণার সংকলিত রচিত পুস্তক হয় চিরন্তন সাহিত্য, চিন্তার প্রতিটি ক্ষণ হয়ে ওঠে দিব্যদৃষ্টির বার্তা, উপলব্ধি ও মূল্যয়ণ হয় ইতিহাসের আক্ষরিক পথ নির্দেশক।

অধ্যাপক ডঃ আহমদ আবদুল কাদের মুসলিম উম্মাহ’র সম্পদ। ইসলামী আন্দোলনের জীবন্ত কিংবদন্তি, আমাদের অহংকার।

আমাদের এই প্রিয় রাহবারকে নেক হায়াত ও সুস্থতার সাথে ইসলামী সমাজ বিনির্মানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষমতা দিন কায়মনোবাক্যে এই শুভকামনা মাওলায়ে কারীম এ-র দরবারে।

লেখক ; এম.এম আতিকুর রহমান
সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
০১১৭১৫৭১৮৮৩৩

টাকা না দেয়ায় দেনাদারকে জড়িয়ে ধরলেন করোনা রোগী

নিউজ ডেস্কঃ কক্সবাজারে পাওনা টাকা চেয়ে না পাওয়ায় করোনা ছড়িয়ে দিতে দেনাদারকে জড়িয়ে ধরেছেন করোনায় আক্রান্ত এক রোগী। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা সদরের লিংক রোড এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।গত তিনদিন আগে সদরের বাংলাবাজারে করোনা শনাক্ত হয়ে লকডাউনে থাকা জাহাঙ্গীর আলম নামে ওই ব্যক্তি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।

সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউপির চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান, করোনা আক্রান্ত যুবক জাহাঙ্গীর লিংক রোড এলাকার সালামতের নামে একজনের থেকে কিছু টাকা পেতেন। জাহাঙ্গীর লকডাউন ভেঙে পাওনা টাকা নিতে সালামতকে খুঁজতে যান। এ সময় দেনাদার সালামত টাকা দিতে কয়েকদিন সময় চান। সালামতের থেকে পাওনা টাকা আদায়ের কৌশল হিসেবে জাহাঙ্গীর উত্তেজিত হয়ে সালামতকে জড়িয়ে ধরে বলেন, করোনায় আমিও মরব-তুইও মর। বিষয়টি নিয়ে সালামতসহ স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তিনি আরো জানান, খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। দেনাদার সালামতকে দ্রুত সাবান ও জীবাণুনাশক দিয়ে গোসল করার ব্যবস্থা করানো হয়।

স্থানীয়রা জানান, লকডাউন অমান্য করে করোনা রোগী গত দুইদিন ধরে মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তায় বের হচ্ছেন। এ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে
কক্সবাজার সদর ইউএনও মাহমুদ উল্লাহ মারুফ জানান, তিনি খবর পেয়েছেন। লিংক রোড স্টেশনে করোনা রোগী জাহাঙ্গীর লকডাউন অমান্য করে লোকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করেছেন। তাকে রামু আইসোলেশন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সুত্রঃসুরমানিউজ

বিয়ানীবাজারে মানবতার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো পুলিশ


ইবাদুর রহমান জাকির, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মঙ্গলবার রাতে আকস্মিকভাবে সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌরশহরে দক্ষিণবাজারের একটি বিপনী বিতানের সামনে জটলা সৃষ্টি হয়েছে দেখা গেলো। কাছে গিয়ে দেখা যায় মাটিতে শুয়ে আছেন আধমরা এক ব্যক্তি। তাকে দেখে সেনাবাহিনীর বড়লেখাগামী একটি চলন্ত গাড়ি থামে। তখনই লোকজনের জটলা বেঁধে যায়। হুড়োহুড়ি শুরু হয় সর্বত্র। গণমাধ্যমকর্মী, ছাত্রনেতাসহ অনেকেই ভিড় করেন সেখানে। কিন্তু ভয়-আতঙ্কে কেই কাছে ভিড়ছেনা ওই পড়ে থাকা লোকটির।

একপর্যায়ে পুলিশকে ফোন দেন গণমাধ্যমকর্মী মাসুম আহমদ। পুলিশের একটি টহলদল সেখানে পৌছায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছার পর সাহস করে অনেকে এগিয়ে আসে। এরপর বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের এসআই হাবীব উল্লাহ ওই আধমরা লোককে ডেকে পানি পান করান। একটি এ্যম্বুলেন্স ডেকে বিয়ানীবাজার হাসপাতালে নিয়ে যান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাস্তায় পড়ে থাকা আধমরা ওই ব্যক্তি মানসিক রোগী। তার শরীরেও নানা ক্ষত বিক্ষত। হয়তো শারীরিক অসূস্থতাজনিত কারণে তিনি সেখানে পড়ে যান। তবে পুলিশের তাৎক্ষণিক মানবতায় সবাই বাহবা দেন। উপস্থিত লোজনরা বলাবলি শুরু করেন, পুলিশ এখন বদলে গেছে। তারা এখন অতি মানবিক।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অবণী শংকর কর বলেন, খবর পেয়ে দ্রত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। পরে একজন মানুষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এসআই হাবীব উল্লাহ। তার দাবী, করোনাসহ সকল দূর্যোগে পুলিশ দেখিয়ে দিয়েছে জাতির দু:সময়ে কতটা মানবিক হওয়া যায় প্রমান করে পুলিশ জনগনের বন্ধু।

বড়লেখায়; যুবশক্তি সমাজ কল্যাণ পরিষদের ইফতার বিতরণ


মোঃইবাদুর রহমান জাকির (বিশেষ প্রতিবেদক) মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সামাজিক সংগঠনও স্বেচ্ছাসেবী সংঘটন যুবশক্তি সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে
মঙ্গলবার (১২ মে)পর্তুগাল প্রবাসী আবুল হাসানের অর্থায়নে বড়লেখা পৌর:শহরে অবস্থানরত দেঢ় শতাধিক সু্বিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল রোজাদার নারী পুরুষদের মাঝে ইফতার বিতরণী অনুষ্টিত হয়।

এতে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বড়লেখা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল হাফিজ ললন,যুবশক্তি সমাজকল্যাণ পরিষদের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান কাউন্সিলর জেহীন সিদ্দিকী,স্থায়ী কমিটির সদস্য জাহিদ হাসান জাবেদ,আবুল হাসনাত শরফ ও বাকের আহমদ।

এ ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন যুবশক্তি সমাজকল্যাণ পরিষদের কার্যকরি কমিটির সভাপতি তাহমীদ ইশাদ রিপন,সিনি:সহ:সভাপতি আমিনুল বাবলু,সহ:সভাপতি জামিল আহমদ,সাদিকুর রহমান সাহেদ,সাধারণ সম্পাদক আইনুল ইসলাম,যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমদ,অর্থ সম্পাদক নূরে আলম মোহন ও সহ:প্রচার সম্পাদক আরিফ আহমদ।

উপস্থিত অতিথিবৃন্দ আর্তমানবতার সেবায় যুবশক্তি সমাজকল্যাণ পরিষদের আগামীর মানবিক কার্যক্রমকে আরো বেশী করে সমাজের সু্বিধাবঞ্চিত ছিন্নমূলদের কাছে পৌছে দিতে যুবশক্তি সমাজকল্যাণ পরিষদের সদস্যবৃন্দের প্রতি আহবান জানান এবং পর্তুগাল প্রবাসী আবুল হাসানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি আবুল হাসানের মত ভিত্তবান যেন সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহবান জানান”

বড়লেখায় নাসির উদ্দীন মিঠুর সৌজন্যে দক্ষিণভাগে বিএনপি’র ত্রান বিতরণ


মোঃইবাদুর রহমান জাকির (বিশেষ প্রতিনিধি) বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার পক্ষে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সহ সভাপতি, বিগত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী আলহাজ্জ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর সৌজন্যে জুড়ী -বড়লেখার-করোনায় অভাব গ্রস্থদের মধ্যে খাদ্য সহায়তা কর্মসুচির অংশ হিসেবে দশ হাজার পরিবারকে পর্যায়ক্রমে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হবে।এরই অংশ হিসাবে আজ মঙ্গলবার বড়লেখার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুশ শহীদ খান।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ পরিবারে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়।
এসময় উপস্হিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম,জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আলহাজ্জ্ব আব্দুল মুকিত লুলু, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক ডা. আইনুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়জুর রহমান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল আহমদ,ইউনিয়ন বিএনপি নেতা হাফিজ খলিলুর রহমান শাহীন, জেলা যুবদলের সহ সাধারন সম্পাদক ইকবাল হুসেন,উপজেলা যুবদল নেতা আমিনুল ইসলাম মেম্বার,উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি এবি সিদ্দিকী দুলাল,সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সাইফুর রহমান, সিনিয়র ছাত্রদল নেতা নাদের আহমদ প্রমুখ।

করোনা ভাইরাসঃ বাংলাদেশে মোট সুস্থ হয়েছেন২ হাজার ৯০২ জন রোগী


ডেক্স রিপোর্টঃ

বিশ্বব্যাপী নতুন করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। ইতোমধ্যে ২ লাখ ৮৭ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে ৪৪ লাখেরও বেশি। এ ছাড়া, সুস্থও হয়েছেন ১৯ লাখ ২৭ হাজারেরও বেশি মানুষ।

মঙ্গলবার ওয়ার্ল্ডোমিটার এর ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য ও বিভিন্ন দেশের সরকারি হিসাব অনুযায়ী জানা যায়। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৬ জন এবং মারা গেছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩৬ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ২৭ হাজার ৫৬৮ জন।

করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ লাখ ৪৭ হাজার ৮৮১ জন এবং মারা গেছেন ৮০ হাজার ৬৮২ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৩২ হাজার ৭৩৩ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রয়েছে ইউরোপের দেশ স্পেনে। সেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৪৩৬ জন এবং মারা গেছেন ২৬ হাজার ৭৪৪ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৯ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের পর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন যুক্তরাজ্যে। দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার ১৪১ জন মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ২৪ হাজার ৩৩২ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ১৫ জন।

এ ছাড়া, ইতালিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ১৯ হাজার ৮১৪ জন, মারা গেছেন ৩০ হাজার ৭৩৯ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৫৮৭ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৭ জন, মারা গেছেন ২৬ হাজার ৬৪৬ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৫৬ হাজার ৮৩৫ জন। জার্মানিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৭৬ জন, মারা গেছেন ৭ হাজার ৬৬১ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬১৭ জন।মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ২৮৬ জন, মারা গেছেন ৬ হাজার ৬৮৫ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৮৭ হাজার ৪২২ জন। তুরস্কে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৭১ জন, মারা গেছেন ৩ হাজার ৮৪১ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৯৫ হাজার ৭৮০ জন। ভাইরাসটির সংক্রমণস্থল চীনে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৪ হাজার ১১ জন, মারা গেছেন ৪ হাজার ৬৩৭ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৭৯ হাজার ১৯৮ জন।

নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে রাশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে। রাশিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ২১ হাজার ৩৪৪ জন, মারা গেছেন ২ হাজার ৯ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৩৯ হাজার ৮০১ জন। ব্রাজিলে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৯৪ জন, মারা গেছেন ১১ হাজার ৬৫৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৬৭ হাজার ৩৮৪ জন।

উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১৫ হাজার ৬৯১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। মারা গেছেন ২৩৯ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৯০২ জন।

বড়লেখায়ঃবোবারতলে জামায়াতে ইসলামীর খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

মোঃইবাদুর রহমান জাকির বিশেষ প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে রবিবার(১০মে)সকাল ১১ঘটিকায় ৫নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের পাহাড়ি দূর্গম এলাকা বোবারতলে করোনা প্রাদুর্ভাবে গৃহবদ্ধ কর্মহীন অসহায় শতাধিক পরিবারের মধ্য মাহে রমজানের উপহার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এমাদুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফয়সল আহমদ,উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওঃ মুজাহিদুল ইসলাম, ইউনিয়ন সেক্রেটারি হাফিজ মাওঃ আব্দুস সবুর,ছাত্রনেতা আশরাফুল ইসলাম,আব্দুল লতিফ সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বড়লেখার উত্তর শাহবাজপুরে নাসির উদ্দিন মিঠুর ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত

নাহিদ আহমেদঃ করোনা ভাইরাসে অভাবগ্রস্থ ১০ হাজার পরিবারে খাদ্য সহায়তার অংশ হিসেবে আজ বড়লেখার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নে বিগত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী মৌলভী বাজার জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আলহাজ্জ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর সৌজন্যে ও বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে ৭০০ পরিবারে খাদ্য সহায়তা বিতরন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার এ কর্মসুচির উদ্বোধন করেন বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মুজিবুর রহমান খছরু।
এসময় উপস্হিত ছিলেন বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খান,সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি মঈন উদ্দিন,ইউনিয়ন সভাপতি জামাল উদ্দিন জমির,সাবেক সভাপতি আলহাজ্জ্ব মুছব্বির আলী, সাধারন সম্পাদক মখলিছুর রহমান,ইউনিয়ন বিএনপির উপদেষ্টা আলহাজ্জ্ব লুৎফুর রহমান লুতই, আলহাজ্জ্ব আজিজুর রহমান ময়না,সহ সভাপতি তফজ্জুল ইসলাম,আনোয়ার হুসেন মেম্বার,আব্দুস শহীদ সানুর মেম্বার।ইউনিয়ন বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম,ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাক তাপাদার কানন, ক্রিড়া সম্পাদক আব্দুল হাছিব,যুবদল নেতা বাহার উদ্দিন, জামিল আহমদ,আব্দুস শুক্কুর,উপজেলা ছাত্রদল নেতা নাদের আহমদ,উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক কাওছার আহমদ,উপজেলা ছাত্রদল নেতা জুনেদ আহমদ, কে আই সবুজ, শাহীন আহমদ,আতিকুর রহমান,তারেক মুন্না, মাজহারুল ইসলাম,মুর্শেদ আহমদ,বিলাল আহমদ, শাকিল আহমদ প্রমুখ।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খান ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি নেতাদের নিয়ে ইউনিয়নের ৯ ওয়ার্ডে নির্ধারিত পরিবারের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন।

সামাজিক মাধ্যমে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে মন্তব্য করা যাবে না

এখন থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য সংবলিত কোনও পোস্ট দেওয়া ও লাইক-শেয়ার করতে পারবেন না। ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৭ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, কেউ নির্দেশনা না মানলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও এর সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ‘সরকারি প্রতিষ্ঠান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ প্রণয়ন করেছে। এ নির্দেশিকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং কর্মচারীদের করণীয়-বর্জনীয় নির্ধারণ করা এবং এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

জারি করা নির্দেশনার আলোকে সরকারের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর আওতাধীন অধিদফতর/পরিদফতর/সংস্থার কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কতগুলো বিষয় অনুসরণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, অন্য কোনও রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য সংবলিত কোনও পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনও পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

পরিপত্রে বলা হয়, জাতীয় ঐক্য ও চেতনার পরিপন্থী কোনও তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনও সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন বা ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির পরিপন্থী কোনও তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে এমন কোনও পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনও সার্ভিস/পেশাকে হেয় প্রতিপন্ন করে কোনও পোস্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। লিঙ্গবৈষম্য বা এ সংক্রান্ত বিতর্কমূলক কোনও তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।

জনমনে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনও বিষয়ে লেখা, অডিও বা ভিডিও ইত্যাদি প্রকাশ বা শেয়ার করা যাবে না। এতে ভিত্তিহীন, অসত্য ও অশ্লীল তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকারও কথা বলা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোনও ‘কন্টেন্ট’ বা ‘ফ্রেন্ড’ সিলেকশনে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন এবং অপ্রয়োজনীয় ট্যাগ, রেফারেন্স বা শেয়ার করা পরিহার করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার বা নিজ অ্যাকাউন্টে ক্ষতিকারক কন্টেন্টের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন এবং সেজন্য প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে শ্রমিক অসন্তোষ

নিউজ ডেস্কঃ নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) কারণে প্রকৌশলী-শ্রমিক, কাঁচামাল ও নির্মাণসামগ্রী সংকটের মধ্যেও চলমান রয়েছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ। সম্প্রতি মজুরি নিয়ে এ প্রকল্পে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত বুধবার রাতে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে ‘বিক্ষুব্ধ’ শ্রমিকদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অন্তত সাতজন শ্রমিক।

মুন্সীগঞ্জের মাওয়ার সীতারামপুরে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে কাজের গতি স্বাভাবিক রাখার কথা বলে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের বাংলাদেশী শ্রমিকদের ‘ওভারটাইম’ করিয়ে নিচ্ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চীনের সিআরইসি। ওভারটাইম করার জন্য কর্মীদের বাড়তি ৩০০ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, ওভারটাইমের টাকা দেয়া নিয়ে ঠিকাদারের লোকজন টালবাহানা শুরু করে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শ্রমিকরা। তারা বিক্ষোভ করার চেষ্টা করেন। এ সময় বিক্ষোভ থামাতে শ্রমিকদের ওপর গুলি চালায় নিরাপত্তাকর্মীরা। এতে অন্তত সাতজন শ্রমিককে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার মধ্যরাতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস নোটে জানানো হয়, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে শ্রমিক-নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রিভেন্ট সিকিউরিটি কোম্পানি লিমিটেড (পিএসই) নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে আসছিল। মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে কিছুটা গন্ডগোল দেখা দিলে পিএসইর কর্মী ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন বলে ওই প্রেসনোটে জানানো হয়।

শ্রমিকদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় গতকাল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছেন পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক গোলাম ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। তিনি জানান, আমরা যতদূর জানতে পেরেছি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মরত কিছু শ্রমিকের মধ্যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি থেকে এ ঘটনা। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে তারা কাজ শুরু করে দিয়েছেন। শুক্রবারের মধ্যেই তারা প্রতিবেদন জমা দেবেন।

সম্প্রতি শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পেও। দেশে করোনাভাইরাস ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখা কিংবা প্রকল্পটি লকডাউনের দাবি তোলেন শ্রমিকরা। এ দাবিতে গত ৯ ও ১০ এপ্রিল আংশিকভাবে কাজও বন্ধ রাখেন কর্মরত বাংলাদেশী শ্রমিকরা। তাদের দাবি ছিল, লকডাউনের সময় শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন দিতে হবে এবং কোনো কর্মীকে ছাঁটাই করা যাবে না। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ মোতায়েন করে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের দাবি আমলে না নিয়ে এখনো চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে নির্মাণকাজ।

ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুতে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বাগেরহাটের রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পেও। প্রকল্পটিতে চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন প্রায় ১ হাজার ৮০০ ভারতীয় শ্রমিক। তাদের অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা প্রকল্প এলাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। স্বজনদের সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগ করতে পারছেন না। এমনকি ঠিকমতো খাবারও পাচ্ছেন না। এসব অভিযোগে গত ৪ মে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেন ভারতীয় শ্রমিকরা। এর মধ্যে কয়েকশ শ্রমিক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা যেকোনো মূল্যে ভারতে ফিরতে চান বলে জানান।

ঘটনাটি সম্পর্কে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক রেজাউল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় শ্রমিকদের মধ্যে একধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। তাই বাড়িতে যাওয়ার দাবিতে কিছু শ্রমিক বাইরে বের হয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন। আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।

ভারতীয় শ্রমিকরা যখন নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন, তখন বাংলাদেশী শ্রমিকদের মধ্যে ‘কাজের টাকা না পাওয়া’র অভিযোগে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। টাকা পাওয়ার জন্য প্রকল্পের দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের ঘুষ চাওয়ারও অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা। ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় চুক্তিতে কাজ করা একাধিক বাংলাদেশী শ্রমিককে প্রকল্প এলাকা থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগও উঠেছে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে। সুত্রঃ বণিক বার্তা

সাগরে ভাসা আরও ২৮০ রোহিঙ্গা ঠাঁই পেল ভাসানচরে

ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্কঃ বাংলাদেশ আর একজন রোহিঙ্গাকেও নেবে না-ঢাকার এমন শক্ত অবস্থানের মধ্যেই সাগরে ভাসা অবস্থান থেকে উদ্ধার হওয়া শ’পাঁচেক রোহিঙ্গার মধ্যে উদ্ধার হওয়া ২৮০ রোহিঙ্গার ঠাঁই হলো নোয়াখালীর ভাসানচরে। এ নিয়ে দিন-পাঁচেকের মাথায় মোট ৩০৯ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে আশ্রয় পেল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জৈষ্ঠ্য কর্মকর্তা ঢাকা টাইমসকে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘খুব অপ্রস্তুত অবস্থায় বাংলাদেশকে এদের ঠাঁই দিতে হলো। অনেকটা বলতে পারেন, জোর করেই এদের এখানে পাঠানো হয়েছে। আর ২৯ রোহিঙ্গার সঙ্গে ভাসানচরে পাঠানো হয়েছে।’

এর আগে গত ২ মে দালালচক্রের সহায়তায় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করার সময় রোহিঙ্গাদের এই দলটিকে স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করে কোস্টগার্ড। মিয়ানমার থেকে সেই ২৯ রোহিঙ্গারা করোনা ছড়াতে পারে সন্দেহে ভাসানচরে পাঠানো হয়। এর মধ্যদিয়ে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হয়।

করোনাভাইরাসকে পুঁজি করে মানবপাচারকারীরা শ’পাঁচেক রোহিঙ্গাকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর চেষ্টায় সপ্তাহ-তিনেক আগে ট্রলারে করে সাগর পাড়ি দেয়। কিন্তু মালয়েশিয়ায় প্রবেশে ব্যর্থ হয়ে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা সাগরে ভাসতে থাকে। পরে অবশ্য তাদের আন্দামান ও বঙ্গোপসাগরে তীরগুলো থেকে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। এরই মধ্যে বিভিন্ন জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দেশগুলো রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে বাংলাদেশকে নানান স্তরে চাপ দিতে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ সাফ জানিয়ে দেয়, ঢাকার পক্ষে আর একজন রোহিঙ্গাকেও জায়গা দেয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশের এমন বক্তব্যের মধ্যে নড়েচড়ে বসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ (ইইউ) আরও তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। তারা প্রথমবারের মতো সাগরে ভাসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য আন্দামান ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি অনুরোধ জানান।

রাখাইনে বসবাসকারী রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাঙালি আখ্যা দিয়ে জাতিগত নির্মূলের অভিযোগ আছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের হত্যা-ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াও থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। তাদের ফিরিয়ে নিতে চুক্তি করেও নানা টালবাহানা করছে মিয়ানমার। এর মধ্যে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা এসেছে ২০১৭ সালের আগস্টে নতুন করে সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের দমন-পীড়ন শুরুর পর। এর আগে থেকে বিভিন্ন সময়ে আশ্রয় নিয়ে আছে আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা।

সুত্রঃ ঢাকাটাইমস

পাকশাইল গ্রেটভিশন এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে গ্রামের কবস্থানে চারা রোপণ।

“গাছে গাছে সবুজ দেশ, গড়বো সোনার বাংলাদেশ”

এই স্লোগানকে সামনে রেখে আজ ০৭/০৫/২০ ইং রোজ বৃহস্পতিবার বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী পাকশাইল গ্রামের সামাজিক সেবামূলক সংস্থা পাকশাইল গ্রেট ভিশন এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে, নতুন মাটি ভরাট করা এলাকার একমাত্র বৃহত্তম কবর স্থানে আকাশি, বেলজিয়াম ও বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২০০ টি গাছের চারা রোপণ করার লক্ষ্যে আনয়ন করা হয়েছে। আজ প্রায় ১১০ টি চারা লাগানোর মাধ্যমে এই মহৎ কাজের শুভ উদ্ভোধন হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন পাকশাইল গ্রামের সম্মানিত মেম্বার জনাব আব্দুল মতিন কদর, গ্রেট ভিশনের সম্মানিত উপদেষ্টা জনাব আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ সুমন, জনাব ফয়ছল আহমদ, পাকশাইল মোকাম কমিটির সেক্রেটারি জনাব আব্দুল কুদ্দুস।গ্রেট ভিশনের সেক্রেটারি শাহিদুর রহমান জুনেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র সহ-সেক্রেটারি সাহিদুল হক, সহ সেক্রেটারি ইমন আহমদ, অর্থ সম্পাদক নাহিদ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক কবির আহমদ, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক কামরুল আহমদ ও মাহবুবুল আলম, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক সাইফুল হোসেন পাবেল, শ্রমিক কল্যাণ সম্পাদক ফয়ছল আহমদ টিপু, রাহেদ আহমদ, এমাদ, জুনেদ, মারুফ, কিবরিয়া প্রমুখ।

উল্লেখ্য গত ১৫ দিন থেকে গ্রেট ভিশনের পরিচালনায় মানবতার ঘর নামে একটি দোকান থেকে এলাকার অসহায়, হত দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য, সবজি ও মাছ দিয়ে আসছে।

সিলেটে ‘ফুল’ হাতে বাড়ি ফিরলেন সুস্থ হওয়া ৫ করোনা রোগী

নিউজ ডেস্কঃ ‘ডাক্তার, নার্সরা দাঁড়িয়ে আছেন ফটকে। সবার মুখে হাসি। দিচ্ছেন হাততালি। নতুন জীবনে স্বাগত জানালেন তাদের। হাতে তুলে দিলেন গোলাপ ফুল। এমন দৃশ্য দেখে চোখে জল চলে আসে সুস্থ হওয়া রোগিদের। কেঁদে ফেলেন তারা।’ গতকাল বুধবার সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের এমন দৃশ্যের অবতারনা ঘটে। দু:খের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে খুশির ঝিলিক।

দীর্ঘ ১৫ দিনের চিকিৎসা গ্রহন শেষে সুস্থ হওয়ার পর বাইরে বের হয়ে শুকরিয়া আদায় করেন রোগিরা। তারা বলেন- হাসপাতালের পরিবেশ তেমন ভালো না হলেও ডাক্তারদের আচরন ও সহযোগিতায় তারা খুব খুশি। যেন নিজের বাড়িতেই ছিলাম। সবার আচরন পজেটিভ হওয়ার কারনে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়েছেন বলে জানান রোগিরা।

সিলেটের জৈন্তাপুরের সরুপদ গ্রামের জামাল উদ্দিন। পেশায় ট্রাকের হেল্পার। বস’র সঙ্গে নারায়নগঞ্জ গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। এরপর নিজ বাড়ি থেকে চিকিৎসকরা তাকে ধরে নিয়ে আসেন। ভর্তি করেন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। সেখানে ভর্তি হওয়ার পর প্রথমে তিনি কিছুটা ভড়কে যান। পরে ডাক্তার ও নার্সদের ভালো আচরন তাকে আশাবাদী করে তোলে। জামাল জানান, ‘হাসপাতালে আসার পর প্রথমে ভেঙ্গে পড়েছিলাম। এরপর ধীরে ধীরে সবার সহযোগিতায় সুস্থ হয়ে উঠেছি।’ তিনি বলেন- ডাক্তার ও নার্সরা অসম্ভব যতœ করেছেন। তাদের আন্তরিকতা কখনোই ভুলবো না।’ একই ভাবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন গোয়াইনঘাটের বীরকুড়ি গ্রামের খয়রুল আমীন। তিনি ঢাকার মিরপুরের হোটেল শ্রমিক ছিলেন। লকডাউনের আগেই বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর তিনি আক্রান্ত হন করোনা ভাইরাসে। খয়রুল গতকাল হাসিমুখে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তিনি জানান, ডাক্তারদের সেবা ভালো। তাদের মানসিক শক্তিই আমাদের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। জামাল ও খয়রুলের মতো ৫ জন সুস্থ হওয়া করোনা আক্রান্ত রোগিকে গতকাল বিদায় দেওয়া হয়েছে হাসপাতাল থেকে। তারা সবাই পুরুষ। বয়স ২০ থেকে ৪৫ মধ্যে। বাড়ি ফেরার সময় জানালেন- দ্বিতীয় জীবন পেলাম। আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন।’ শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মহাপাত্র জানিয়েছেন- ‘বুধবার দুপুরে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা পাঁচজন রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। যাদের ডিসচার্জ করে দেওয়া হয়েছে এদের করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের পর থেকে তাদের কোনো শারীরিক সমস্যা ছিল না। তারা সুস্থই ছিলেন। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে সকল প্রটোকল আছে, সে অনুযায়ী আমরা তাদের রিলিজ করে দিয়েছি।’ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ১৯ জন করোনা পজিটিভ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এদের মধ্যে ৫ জন পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠে বাড়ি ফিরে গেলেন। তাদের পরপর দুটি টেস্ট নেগেটিভ এসেছে। তারা সবাই পুরুষ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. ইউনুছুর রহমান, উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল ও হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সুশান্ত কুমার মহাপাত্র। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ব্রিগেডিয়ার ইউনূসুর রহমান জানিয়েছেন- ফ্রন্টের লাইনের যুদ্ধা ডাক্তার নার্সদের আন্তরিক সেবার কারনে আজ ৫ রোগি বাড়ি ফিরলেন। এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে। তিনি এ জন্য ডাক্তার সহ চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন- রোগির সেবা করতে আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই। সীমিত সুযোগেও সেবা চলমান কষ্টকর। এরপরও সবাই আন্তরিক ভাবেই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এর প্রমান আজ ৫ জন রোগি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন। এদিকে সিলেট বিভাগে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৫৭ জন। যাদের মধ্যে চিকিৎসক, নার্স থেকে শুরু করে প্রশাসনের বহু কর্মকর্তাও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকও রয়েছেন। বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে হবিগঞ্জ জেলায়। এ জেলায় এখন পর্যন্ত ৮০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ৩ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন। এছাড়া বিভাগের অন্য তিন জেলা সিলেট ৩৯ জন, সুনামগঞ্জে ৩৫ জন ও মৌলভীবাজারে ২৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসে সিলেট বিভাগে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ৪৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। যার মধ্যে ১১ জন চিকিৎসক, সেবিকা (নার্স) ১১ জন ও হাসপাতালের স্টাফ রয়েছেন ২২ জন। এর আগে কেবল সুনামগঞ্জের এক নারী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সুত্রঃ মানবজমিন

করোনার কারণে বিদ্যুৎ বিভাগের অনেক প্রকল্প যুক্ত হবে আগামী অর্থবছরে

নিউজ ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিদ্যুৎ বিভাগের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে অনেক প্রকল্পের কাজ আটকে গেছে। চলতি অর্থবছরে এসব প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা থাকায় আগামী অর্থবছরের সঙ্গে যুক্ত করার চিন্তা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাওয়ারসেলের মহাপরিচালক মোহম্মদ হোসেইন বলেন, ‘এডিপির কাজ অর্থবছরের শুরুর দিকে কম থাকে, যত দিন যায় গতি বাড়ে। শেষের দিকে এসে কাজ অনেক দ্রুত আগায়। এবার মার্চ মাসে সব বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে অনেক প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ করা যায়নি। সেগুলো আগামীতে কীভাবে করা হবে, আমরা তা নতুন করে ভাবছি।’ তিনি জানান, এ পর্যন্ত মোট প্রকল্পের অগ্রগতি ৬০ ভাগ। জুনের মধ্যে আরও ২০ ভাগ বাড়তে পারে। ফলে সব মিলিয়ে ৮০ ভাগ কাজ শেষ হবে বলে আশা করেন তিনি। মোহম্মদ হোসেইন বলেন, ‘বাকি কাজ যদি শেষ করা না যায়, তাহলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আগামী অর্থবছরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ আটকে থাকবে না।’

প্রসঙ্গত, দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এ কারণে বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে অনেক প্রকল্পের কাজ থমকে আছে।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) এবার বিদ্যুৎ বিভাগের মোট প্রকল্প রয়েছে ৯৮টি। এরমধ্যে সঞ্চালন এবং বিতরণ কোম্পানির অধীনে থাকা ২১টি প্রকল্পের মধ্যে ১১টিতে কোনও কাজ হয়নি।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সম্প্রতি প্রকল্প পর্যালোচনা বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো বাছাই করে দ্রুত কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি ওই বৈঠকে বলেছেন, ‘কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি সেগুলো বাছাই করে প্রতিবেদন দিতে হবে। মন্ত্রণালয় সেগুলো বাস্তবায়নের দিকে নজর দেবে।’

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র বলছে, কাজ শুরু না হওয়া প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু করতে আরও বিলম্ব হবে। চলতি অর্থবছরের বাকি আর মাত্র দুই মাস। সঙ্গত কারণে এই প্রকল্পগুলোর কাজ চলতি অর্থবছরে শুরু হবে বলে মনে হচ্ছে না। কোনও প্রকল্পের কাজ শুরুর জন্য সংশ্লিষ্টদের পূর্ব প্রস্তুতি নিতে হয়। এরপর বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে অর্থ বিভাগ থেকে টাকা ছাড় করাতে হয়। সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে যাচাই-বাছাই করে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু কাজ না হলে এই অর্থ ফেরত যায়। পরবর্তী অর্থবছরে আবারও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। প্রতিমন্ত্রীর সেদিনের বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কাজ শুরু করতে না পারা ১১টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে. ইনস্টিটিউশনাল স্ট্রেনদেনিং অব পিজিসিবি, ভারতের সূর্যমণি নগর থেকে কুমিল্লা উত্তরে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কুমিল্লা উত্তরে ৫০০ মেগাওয়াট এইচভিডিসি ব্যাক টু ব্যাক স্টেশন নির্মাণ, আশুগঞ্জ ১৩২ কেভি পুরাতন এআইএস উপকেন্দ্রকে ১৩২ কেভি নতুন জেআইএস উপকেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা, বড়পুকুরিয়া- বগুড়া-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি লাইন প্রকল্প, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ, ভারতের ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানি করার লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রহনপুর থেকে মনাকষা সীমান্ত পর্যন্ত ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, ঢাকা ও পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্রিড সঞ্চালন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় সমন্বিত সক্ষমতা উন্নয়ন প্রকল্প, মোল্লারহাট ১০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও ভূমি উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির রিসোর্স অ্যাসেসমেন্ট ও পাইলটিং বিষয়ক কারিগরি সহায়তা প্রকল্প, নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড এলাকার পাঁচ লাখ স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন প্রকল্প, প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শক দফতরের ডিজিটালাইজেশন প্রকল্প।

জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ভারতের সূর্যমণি নগর থেকে কুমিল্লা উত্তরে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কুমিল্লা উত্তরে ৫০০ মেগাওয়াট এইচভিডিসি ব্যাক টু ব্যাক স্টেশন নির্মাণ— এই প্রকল্পটি আর হচ্ছে না। এইচভিডিসি সাবস্টেশনের মূল্য অনেক বেশি, এ কারণে বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছে। এর বাইরে অন্য সব প্রকল্পই বাস্তবায়ন করতে হবে।’ সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

মধ্যরা‌তে ক‌রোনা রোগীকে বাসা থেকে বের করে দিলেন বাড়িওয়ালা ও প্রতিবেশীরা

নিউজ ডেস্কঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় এক করোনা রোগীকে বাসা থেকে মারধর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাড়ির মালিকসহ এলাকার কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বুধবার (৬ মে) রাত সাড়ে এগারটার দিকে উপজেলার রূপসী বাগবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী তরুণ রূপসী বাগবাড়ি এলাকার নূর হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তিনি সিটি গ্রুপে চাকরি করেন।
ভুক্তভোগীর মামা সিরাজুল ইসলাম জানান, জ্বর, সর্দি দেখা দিলে তার ভাগ্নে গত ৩ মে উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগে নমুনা দিয়ে আসে। বুধবার রিপোর্টে তার করোনা পজিটিভ আসে। চিকিৎসকের পরামর্শে সে বাসাতেই ছিল। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বাড়ির মালিকসহ এলাকার কিছু লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে এসে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বিষয়টি সে চিকিৎসককে জানায়। পরে ওই ডাক্তার বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে ওই বাড়িতে রেখে আসে। বাড়িওয়ালাকে সতর্ক করে দেয়।
রূপগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগম জানান, মারধরের বিষয় ঘটেনি তবে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আমি বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাস্থলে ডাক্তার এবং পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমি নিজেও ওই ছেলের সঙ্গে কথা বলেছি। এটা কেউ করতে পারে না। যারা এই কাজটি করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সে আমাদের পরামর্শে বাসায় ছিল। এত রাতে একজন মানুষকে এভাবে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়াটা অমানবিক। ওই ছেলে ওই বাড়িতেই থাকবে। তাকে যদি সেখান থেকে হাসপাতাল বা অন্য কোথাও নিতে হয় সেটি আমরা নেবো। তাছাড়া এভাবে একজন করোনা রোগীকে বের করে দেওয়া মানে অন্যকে সংক্রমিত করা।
রূপগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, রোগীকে ওই বাসা‌তেই রেখে এসেছি। সকালে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই রোগীর সঙ্গে আর কোনও ঝামেলা করা হলে বাড়িওয়ালাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ত্রাণ নিতে গিয়ে ধর্ষিত হচ্ছে শিশুরা, জরিপের তথ্য

নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে চলমান অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও থেমে নেই নারী ও শিশু নির্যাতন। এমনকি মহামারীর এই সময়ে ত্রাণ নিতে যাওয়া শিশুদের ধর্ষণ করার মতো গুরুতর ঘটনার তথ্যও উঠেছে এসেছে একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপে।

মোবাইল ফোনে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ এর করা একটি জরিপে এসেছে, গেল এপ্রিল মাসে দেশের ২৭ জেলায় চার হাজার ২৪৯ জন নারী ও ৪৫৬ জন শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছে।

বুধবার এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে জরিপের তথ্য উপস্থাপন করে জানানো হয়, এদের মধ্যে এক হাজার ৬৭২ জন নারী এবং ৪২৪ জন শিশু প্রথমবারের মতো নির্যাতনের শিকার হয়েছে। শিশুদের মধ্যে ৯২ ভাগই তাদের বাবা-মা ও আত্মীয়দের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে।

সংস্থার দুইটি প্রকল্পের কর্মএলাকার ২৪টি সহযোগী সংগঠন ২৭টি জেলার ৫৮ উপজেলার ৬০২টি গ্রাম ও চারটি সিটি কর্পোরেশনের ১৭ হাজার ২০৩ জন নারী ও শিশুদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ করে।

ব্রিফিংয়ে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, “জরিপের তথ্য অনুযায়ী স্বামীর দ্বারা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮৪৮ জন নারী, মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দুই হাজার আটজন, যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮৫ জন এবং অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক হাজার ৩০৮ জন নারী। এর বাইরে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন চারজন নারী, হত্যা করা হয়েছে একজনকে এবং যৌন হয়রানি করা হয়েছে ২০ জন নারীকে।

“উত্তরদাতা চার হাজার ২৫৯ শিশুর মধ্যে ৪২৪ জন শিশু পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছে। এর বাইরে বাল্যবিয়ে হয়েছে ৩৩টি এবং অন্যান্য সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪২টি। চারজন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ১৬ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়, অপহৃত হয়েছে দুইজন, যৌন হয়রানির শিকার ১০ জন এবং রিলিফ নেয়ার সময় ১০ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়।”

করোনাভাইরাসের এই সঙ্কটের মধ্যে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে পারিবারিক এবং অন্যান্য সহিংসতা প্রতিরোধ, সহায়তা দিতেই জরিপটি চালানো হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

জরিপের বিষয়ে শাহীন আনাম বলেন, “লকডাউনের কারণে ইনডেপথ জরিপ করা সম্ভব হয়নি। সেজন্য আমরা টেলিফোনে করেছি। আমরা লকডাউনে পারিবারিক নির্যাতনের অবস্থা ও কি ধরণের নির্যাতন হচ্ছে তা জানতে চেয়েছি। তাদের কি ধরণের সাপোর্ট দেওয়া যায় সেটিও জানতে চেয়েছি।”

সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুরা যেন ফোন করে দ্রুত সহযোগিতা পায় সেজন্য সরকারি হেল্প লাইনগুলো আরও কার্যকর রাখার সুপারিশ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সহিংসতার কারণে ঘর ছাড়তে বাধ্য হওয়া নারীদের সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় পাওয়ার ব্যবস্থা করা ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

এছাড়া মহামারী পরিস্থিতিতেও নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চালু রাখতে ‘ভার্চুয়াল কোর্ট অর্ডিন্যান্স’ দ্রুত রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়।

ব্রিফিং সঞ্চালনা করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সিনিয়র মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর শাহানা হুদা। সুত্রঃ বিডিনিউজ

লুডুখেলা নিয়ে বিরোধ, বন্ধুর ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

ছবি প্রতিকি

নিউজ ডেস্কঃ বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে মানিক (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার পৌর-বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মানিক উপজেলার পৌর-এলাকার পশ্চিমপাড়ার চা বিক্রেতা আবেদ আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরেই গাবতলীর বিভিন্ন স্থানে বাজি (জুয়া) ধরে লুডু খেলা চলছিল। বুধবার সন্ধ্যায় পৌর-এলাকার পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা নাহিদের সঙ্গে বাজিতে লুডু খেলছিলেন নিহত মানিক। খেলার খেলতেই বাজির টাকা নিয়ে দু’জনের মধ্য কোন্দল শুরু হয়। এরই একপর্যায়ে মানিককে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান নাহিদ।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত মানিককে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে গাবতলী সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বাংলানিউজকে জানান, বুধবার ইফতারের পূর্ব-মুহুর্তে লুডু খেলায় বাজির টাকা নিয়ে বিবাদের জেরে ছুরিকাঘাতে মানিক খুন হন। এ ঘটনায় নিহত মানিকের বন্ধু নাহিদকে আটকের চেষ্টা চলছে। সুত্রঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশী শ্রমিকদের পাঠিয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন দেশ

স্থিতিশীল শ্রমবাজার নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক

নিউজ ডেস্কঃ নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে হুমকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের বাজার। বাংলাদেশের শ্রমবাজার হিসেবে পরিচিত সব দেশ বাংলাদেশের শ্রমিকদের ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে। এরই মধ্যে গত সপ্তাহে সাড়ে তিন হাজারের বেশি প্রবাসী ফিরেছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে আরো ২৯ হাজার শ্রমিককে ফেরত পাঠানো হবে। মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে এক ভিডিও বার্তায় এ তথ্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

গতকাল ঢাকায় প্রবাসী কর্মীদের ফেরত আনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পঞ্চম আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সভাপতিত্বেও ওই বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।

বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের জানান, নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারীর পটভূমিতে প্রায় ২৯ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফিরবেন। ওই কর্মীরা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। তাদের বেশির ভাগই সেখানে বিভিন্ন অপরাধ করে কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন। নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের ক্ষমা করে নিজ নিজ দেশে পাঠাচ্ছে। আবার অনেকে ওই দেশগুলোয় অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন। তারাও সাধারণ ক্ষমার আওতায় দেশে ফিরছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশী যারা বিদেশে থেকে ফিরতে চান, তাদের সবাইকে ফিরিয়ে আনা হবে। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৩ হাজার ৬৯৫ জন বাংলাদেশী ফিরেছেন। তাদের বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া। করোনাভাইরাসের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সরকারগুলো তাদের ক্ষমা করে দিয়েছে এবং তাদের প্রথম দিকে পাঠাচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আরো অনেকে আসবেন। আমাদের ধারণামতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে ২৮ হাজার ৮৪৯ জন প্রবাসী আমাদের দেশে আসতে পারেন। আমরা কীভাবে ব্যবস্থা করছি, সেগুলো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করেছি। বিদেশে গিয়ে করোনাভাইরাসের কারণে আটকে পড়েছেন এমন বাংলাদেশীদের ভারত, জাপান, চীন, সিঙ্গাপুর থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত কয়েক দিনে ২ হাজার ৮৫৩ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য থেকে আরো ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

প্রবাসী কর্মীদের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কুয়েত সরকার অবৈধদের ক্ষমা ঘোষণা করেছে। যারা সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়ে নাম নিবন্ধন করেছেন তাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। কুয়েতে প্রায় সাড়ে চার হাজার বাংলাদেশী বিভিন্ন ক্যাম্পে আছেন। শোনা যাচ্ছে, ক্যাম্পে ঠিকমতো খাবারদাবার দেয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মিশনকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কুয়েত সরকার যখনই চাইবে আমরা তাদের নিয়ে আসব। কুয়েত সরকার ১৯০ জনের তালিকা পাঠিয়েছিল। আমরা সম্মতি দিয়েছি। ১৪৪ জন ফিরেছেন। এয়ারলাইনস চালু হলে যখনই ফ্লাইট সিডিউল দেবে, তখনই সবাইকে আমরা নিয়ে আসব।

মন্ত্রী জানান, মালদ্বীপ থেকে আজ ৪০০ জন ফিরবেন। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ১ হাজার ৫০০ জনকে পাঠাবে। অবশ্যই আমরা তাদের গ্রহণ করব। মালদ্বীপে প্রবাসীদের যাতে সমস্যা না হয়, সেজন্য খাবার দিয়েছি। আগামীতে আরো দেব।’

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইউএইতে যথেষ্ট প্রবাসী বাংলাদেশী আটকে আছেন। ইউএই সরকার সবাইকে বলছে নিয়ে আসতে। শুধু আমরা আনছি না, পাকিস্তান ও ভারত আনছে। ভারতের প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার কর্মীকে ইউএই থেকে ফেরত নেয়ার কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামীতে সবচেয়ে বেশি ফিরবে কুয়েত থেকে। সৌদি আরব কতজনকে পাঠাবে সে বিষয়ে সংখ্যা এখনো দেয়নি। তবে ৪ হাজার ২৬২ জনের আসার সম্ভাবনা আছে। জর্ডান থেকে কর্মী ফেরত আসার সম্ভাবনা আছে। ওমান থেকে এক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী ফিরতে পারেন। লেবাননে অনেকে বেশ ঝামেলায় আছেন। ইরাকে বড়সংখ্যক লোকের চাকরি চলে গেছে। তাদের কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়, তা আমরা ভাবছি। সুত্রঃ বণিক বার্তা

সিলেটের হলি গেইট হোটেলে ‘করোনাযোদ্ধা’দের আবাসনের ব্যবস্থা করা হলো

ছবি প্রতিকি

নিউজ ডেস্কঃ সিলেটে করোনা (কোভিড-১৯) চিকিৎসায় জড়িত চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য হোটেল নিশ্চিত হয়েছে। হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে আজ বুধবার ‘জেন্টলম্যান অ্যাগ্রিমেন্ট’ করেছে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, নগরীর দরগাহ গেইটস্থ হোটেল হলি গেইটে সিলেটের ‘করোনাযোদ্ধা’দের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের সিভিল সার্জন ড. প্রেমানন্দ মন্ডল ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়।

ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘হোটেল হলি গেইটের সাথে জেন্টলম্যান অ্যাগ্রিমেন্ট হয়ে গেছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। যতোদিন প্রয়োজন ততোদিন হোটেলের সাথে চুক্তি থাকবে।’

তিনি জানান, গেল কয়েকদিন ধরে করোনা চিকিৎসার সাথে জড়িতদের নগরীর কাজলশাহ এলাকার সিটি হোটেলে রাখা হচ্ছিল। আজ বুধবার থেকে চিকিৎসক ও নার্সরা হোটেল গলি গেইটে ওঠতে শুরু করবেন।

তবে হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে মাসিক ভিত্তিতে নাকি কিভাবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা খোলাসা করতে চাননি হিমাংশু লাল রায়।

শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের সহ-স্বাস্থ্যকর্মীদের সিলেট শহরতলির খাদিমনগরস্থ বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বিআরডিটিআই) রেস্ট হাউজে রাখার কথা থাকলেও সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে এ হাসপাতালের সবাই ডিউটি শেষে হোটেল হলি গেইটেই উঠবেন।

চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী সবার আবাসন, খাবার ও যাতায়াতের ব্যয় সরকারই বহন করবে।

জানা গেছে, সিলেটে করোনাক্রান্ত রোগীদের যারা চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন, তাদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। চিকিৎসক, নার্সরা করোনাক্রান্ত রোগীদের সেবা দিয়ে নিজেদের বাসায় যেতে চান না। কারণ, এতে তাদের পরিবারের সদস্য আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা থাকে।

এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসক, নার্সসহ চিকিৎসাসেবার সাথে জড়িত অন্যান্যদের জন্য পৃথক আবাসনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয় করোনা প্রতিরোধ বিষয়ক সিলেট বিভাগীয় কমিটি। এ কমিটির উদ্যোগে সিলেটে খোঁজা হয় হোটেল। কিন্তু নানা অজুহাতে কোনো হোটেলই চিকিৎসক বা নার্সদের রাখতে রাজি হয়নি। শেষপর্যন্ত হোটেল হলি গেইট কর্তৃপক্ষ চিকিৎসক-নার্সদের রাখতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এ হোটেলের চেয়ারম্যান ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এ টি এম শোয়েব।

পবিত্র রমজানে সপরিবারে ইসলাম গ্রহণ।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এক হিন্দু পরিবারের সবাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার নোটারি পাবলিকের কার্যালয়, চুয়াডাঙ্গা থেকে এফিডেভিটের মাধ্যমে স্বপরিবারে নাম ও ধর্ম পরিবর্তন করেন তারা। এরপর জীবননগর সাব. রেজিস্ট্রার অফিসের মুহুরি মাওলানা আব্দুল ওয়াজেদের কাছে কলেমা পড়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন ওই পরিবারের সদস্যরা।

ধর্মান্তরিত হওয়াই নিমাই দাসের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ইব্রাহিম খলিল, স্ত্রী আরতীর নাম আয়েশা খাতুন, বড় ছেলে শ্রী আনন্দ দাসের নাম হাসান আলী, মেয়ে শ্রীমতি শিল্পী দাসের নাম সুমাইয়া আক্তার ও এক বছর বয়সের ছোট ছেলেটি শ্রী কৃষ্ণ দাসের নাম রাখা হয় হুসাইন আলী। এখন থেকে তারা ইসলামের সকল নিয়ম-কানুন পালন করবেন বলে জানিয়েছেন।
এমনকি রোজা রাখার জন্যও তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তারা নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন।

নওমুসলিম ইব্রাহিম খলিল বলেন, ইসলাম ধর্মের ওপর আমার অনেক আগে থেকে টান রয়েছে। এরপর থেকে ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন ধরণের বই পুস্তক পড়ে ধর্মের প্রতিপালন দেখে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আরো আগ্রহ সৃষ্টি হয়। যে কারণে পৃথিবীতে ইসলাম ধর্ম একমাত্র সঠিক ধর্ম মেনে আমি স্বপরিবারে স্বেচ্ছায় হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম পালনের সিদ্ধান্ত নিই। আমার স্ত্রী ও মেয়ে দুজনেই পর্দা পছন্দ করে। সবার আন্তরিক সহযোগিতায় আল্লাহর রহমতে নিরাপদে ও ভালো আছি। ইসলাম ধর্ম, নামাজ, রোজা পালনের জন্য মেম্বর সাহেবসহ প্রতিবেশিরা সহযোগিতা করেছেন।

মাওলানা আব্দুল ওয়াজেদ জানান, নওমুসলিম ইব্রাহিম খলিল ব্যক্তিগত জীবনে ভালো একজন মানুষ হিসেবেই পরিচিত। তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ইচ্ছার বিষয়ে স্থানীয় মুসলিমদের ও মেম্বরের কাছে জানালে সকলেই তাকে সাহায্য করেন। বিষয়টি জানার পর যতটুকু সম্ভব তাদের পাশে থাকতে চেষ্টা করেছি। এফিডেভিটের পর তারা স্থানীয় মেম্বর ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সামনে সপরিবারে কালিমা ত্বায়্যীবা ও কালীমা শাহাদত পাঠ করেন। আল্লাহ তাদের পরিবারকে কবুল করুক।

সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের মেম্বার আরজান হোসেন বলেন, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশের পর থেকে তিনি তাদেরকে সহযোগিতা করে আসছেন। প্রায় এক মাস আগে তার কাছে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ইচ্ছার কথা জানান। এলাকার মানুষ তাদের নিরাপদ বসবাসের ব্যাপারে সচেতন। সবার সহযোগিতামূলক মনোভাব রয়েছে।

ছুটি বেড়েছে, রোগী বেড়েছে, সড়কে গাড়িও বেড়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান সাধারণ ছুটি ১১ দিন বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে খুলেছে গার্মেন্টস, খুলবে মার্কেট, শপিংমল। ছুটির বাইরে জরুরি সেবার দফতরগুলো। এর মধ্যে মঙ্গলবার দেশে রেকর্ডসংখ্যক ৭৮৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু রাজধানীর সড়কের চিত্র বদলে যাচ্ছে। অন্যান্য দিনের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা এদিন বেড়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান সাধারণ ছুটি ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে খুলেছে গার্মেন্টস, খুলবে মার্কেট, শপিংমলও। কিন্তু সব খোলার আগেই রাজধানীর সড়কের চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। বাড়ছে যানবাহনের চাপ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা এ তথ্য জানিয়েছেন। একাধিক স্থান ঘুরে যানবাহনের সংখ্যা বেশিই দেখা গেছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে দোকান ও শপিংমল আগামী ১০ মে থেকে খুলবে। তবে এক্ষেত্রে আন্তঃজেলা ও আন্তঃউপজেলা যোগাযোগ/চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। হাট-বাজার, ব্যবসা কেন্দ্র, দোকানপাট ও শপিংমল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। সোমবার (৪ মে) সরকার নির্দেশনা দেয়।

গতকালের ওই নির্দেশনার পরই বিভিন্ন স্থালে খুলতে শুরু করেছে বিপণি-বিতান, বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। চাপও বেড়েছে সড়কে। যদিও দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, যা মঙ্গলবার রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর কল্যাণপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট, তেজগাঁও, মহাখালী, যাত্রাবাড়ী ও গুলশান এলাকায় দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের তুলনায় সড়কে গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে। কোথাও কোথাও আবার সিগন্যালের কারণে কিছুক্ষণের জন্য থমকে যাচ্ছে সড়ক।

ডিএমপির ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের তেজগাঁও এলাকার সহকারী কমিশনার কাজী মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, কিছু অফিস চলছে। গার্মেন্টস খুলেছে। তেজগাঁও এলাকায় তাই অন্য দিনের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা বেশিই।

ট্রাফিক উত্তরের মহাখালী এলাকার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) দেলওয়ার হোসেন বলেন, সকাল থেকেই আজ হঠাৎ যানবাহনের চাপ বেশি। বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়ি মাইক্রো, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টসের লোগো লাগানো গাড়ির সংখ্যা বেশি। সবারই কাজ। অনেকেরই এই অজুহাত। যদিও আমরা ফাঁকা রাজধানীতে হঠাৎ গাড়ির চাপ বাড়লেও নজর বেশি দিচ্ছি যেন দুর্ঘটনা না ঘটে।

ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের রমনা জোনের এডিসি মেহেদি হাসান জাগো নিউজকে বলেন, গতকালের তুলনায় যানবাহন সড়কে একটু বেশিই দেখা যাচ্ছে। আমরা চেক করছি। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাতে কেউ সড়কে আসতে না পারেন সেজন্য চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

কুমিল্লায় ২ শিশুসহ করোনা জয়ী ৭ জনকে চিকিৎসকদের শুভেচ্ছা

নিউজ ডেস্কঃ কুমিল্লার বুড়িচংয়ে করোনা জয়ী দুই শিশুসহ সাত জনকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। নিয়ম মাফিক কোয়ারেন্টিন পালন ও সঠিকভাবে ওষুধ সেবনে সাত জন করোনা মুক্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৫ মে) বুড়িচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মীর হোসেন মিঠু এ তথ্য জানান।

সুস্থরা হলেন—জিয়াপুর গ্রামের দুই শিশু মোহাম্মদ সুদাইব, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং তাদের ফুপু নার্গিস আক্তার। শিশু দু’টির দাদি ঢাকায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সুস্থ হওয়া অন্যরা হলেন—বুড়িচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মনির হোসেন, গাড়ি চালক সাগর, বালিখাড়া গ্রামের মা সাথী আক্তার ও ছেলে মাহতাব।

ডা. মীর হোসেন মিঠু বলেন, ‘বুড়িচংয়ে আট জন আক্রান্তের মধ্যে সাত জন সুস্থ হয়েছেন। সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। সবাই ঘরে থাকলে, নিয়ম মেনে চললে আক্রান্তের হার কমে যাবে। আক্রান্তরা নিয়ম মেনে চললে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’

কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ছুরিকাহত সোনালী ব্যাংকের ২ কর্মকর্তা

নিউজ ডেস্কঃ বগুড়ায় সোনালী ব্যাংকের নন্দীগ্রাম শাখার দুই কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত করে ভল্টের চাবিসহ ব্যাগ, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শাজাহানপুর থানার জোড়া এলাকায় বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে তারা হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের নন্দীগ্রাম শাখার লেনদেন প্রায় আধা ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়।

হামলার শিকার কর্মকর্তারা হলেন সোনালী ব্যাংকের নন্দীগ্রাম শাখার ম্যানেজার মতিউর রহমান (৫০) ও সিনিয়র অফিসার আতাউর রহমান (৪৫)। তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মতিউর রহমান ও আতাউর রহমান বগুড়া শহরের নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে তাদের কর্মস্থল নন্দীগ্রাম যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে সকাল ১০টার দিকে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে জোড়া নামক স্থানে দুর্বৃত্তরা পথরোধ করে তাদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে ভল্টের চাবি, টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, ছুরিকাহত দুজন ব্যাংক কর্মকর্তার অবস্থা উন্নতির দিকে। ঘটনার পর পরই দুর্বৃত্তদের ধরতে পুলিশি অভিযান শুরু করেছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।

বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মতিউর রহমান জানান, দুর্বৃত্তরা হঠাৎ করেই পথ রোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলা করে এবং আমাদের কাছ থেকে প্রায় ১০ হাজার টাকা, ভল্টের চাবিসহ ব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। সুত্রঃ বণিক বার্তা

ছাতকে নতুন ৩ জন সহ মোট ৫জন করোনা পজেটিভ সনাক্ত

ছাতক প্রতিনিধিঃ ছাতকে আরো ৩ জন করোনা পজেটিভ রোগী সনাক্ত হয়েছে। ওই ৩ জন নিয়ে এখানে করোনা পজেটিভ রোগী ৫ জনে এসে দাঁড়ালো। মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী নমুনা সংগ্রহের প্রায় দেড় শ’ জনের মধ্যে করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে ৫ জন। নতুন সনাক্ত ৩ জনের মধ্যে ২জন উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও অপর জন ছাতক শহরের শ্যামপড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এর আগে যে ২ জন করোনা পজেটিভ সনাক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে ১ জন ছাতক শহরের মন্ডলীভোগ-ছোরাবনগর এলাকার বাসিন্দা ও অপরজন শ্যামপাড়া এলাকার একটি কারখানার শ্রমিক। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডাঃ রাজীব চক্রবর্ত্তী নতুন ৩ জন করোনা পজেটিভ রোগী সনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৮৬ জন করোনা, আক্রান্ত ১মৃত


ডেক্স রিপোর্টঃ দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৮৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।এ নিয়ে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দশ হাজার ৯২৯। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ১ জন। এ নিয়ে দেশে মোট মারা গেছেন ১৮৩ জন।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে করোনার সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।এর আগে সোমবার দেশে ৬৮৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয় ও ৫ জনের মৃত্যু হয়।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ৪ এপ্রিল সারাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৬১ জন। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ৪ মে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার ১৪৩ জনে। একমাসে করোনা রোগী বেড়েছে ১০ হাজার ৭৩ জন। এছাড়া ৪ এপ্রিল দেশে শনাক্ত হয়েছিলো ৯ জন করোনা রোগী। ৪ মে শনাক্ত হয় ৬৮৮ জন।

গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা শুরু করে। ৮ মার্চ দেশে প্রথম রোগী শনাক্ত হয়।

উত্তর পকুয়া যুবসমাজের উদ্দোগে ২য় দফায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ


ইবাদুর রহমান জাকির, বিশেষ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ৩নং নিজ বাহাদুর পুর ইউনিয়নের উত্তরপকুয়া যুব সমাজের উদ্দ্যোগে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিক ও দিনমজুর অসহায়-সুবিধা বনঞ্চিতদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার(৫মে)দুপুরে উত্তর পকুয়া ও দৌলতপুর গ্রামের কর্মহীন শতাধিক শ্রমিকদের মাঝে যুবসমাজ ও প্রবাসীদের অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।এসময় উপস্থিত ছিলেন উত্তর পকুয়া যুবসমাজের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দীন পংকি তিনি বলেন, করোনা হলো মহামারী আল্লাহর গজব এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকারি নির্দেশনা মানতে গিয়ে যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছে তাঁদের পাঁশে দাঁড়িয়েছে উত্তর পকুয়া যুব সমাজ খাদ্য সামগ্রীয় সহায়তা নিয়ে,আমি তাদের কে ধন্যবাদ জানাই। কর্মহীন যে সকল মানুষ কাজ না পেয়ে সহায় হয়ে পড়েছে তাদের জন্য আমাদের সকলের নৈতিক দ্বায়িত্ব হলো সহযোগীতার হাত কে অবমুক্ত করা ।
এছাড়া উত্তর পকুয়া যুবসমাজের সভাপতি হারুনুর রশীদ বলেন আমরা গ্রামের প্রবাসীদের সাহায্যের মাধ্যমে দ্বিতীয় বারের মতো দুস্থ ও কর্মহীনদের বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিচ্ছি এ জন্য মহান মাবুদের শুকরিয়া আদায় করছি। যুবসমাজের সেক্রেটারি মাওঃমোঃ আব্দুন নুর বলেন কর্মহীন মানুষের মাঝে আমরা জন প্রতি ১০ কেজি চাল,২ কেজি আলু,২লিটার তেল,২ কেজি পিয়াজ,২ কেজি ময়দা,২কেজি চিনি, খাদ্য সামগ্রী মাসের মধ্যে দুইবার বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছি এতে যুবসমাজ ও প্রবাসীদের অবদান অতুলনীয়।খাদ্য সামগ্রী বিতরণে আরও উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্স প্রবাসী খয়রুল ইসলাম, আজাদ আহমদ ও সাংবাদিক সাদেক প্রমুখ ।

সাঈদীর মুক্তি চেয়ে ফেসবুক পোস্ট দেওয়ায় শিক্ষক গ্রেফতার

গ্রেফতারের প্রতীকী ছবি

নিউজ ডেস্কঃ মানবতাবিরোধী অপরাধেয়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তি চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তেরশ্রী কালী নারায়ণ (কে এন) ইনস্টিটিউশনের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সোলায়মান ইসলাম (৪০) ফেসবুক পোস্ট দিলে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।

ঘিওর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আশরাফুল আলম বলেন, গ্রেফতারকৃত শিক্ষক ঘিওর উপজেলার তেরশ্রী কে. এন ইনস্টিটিউশনের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবেক কর্মরত রয়েছে। তার বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের আবুডাঙ্গা গ্রামে।

শনিবার (২ মে) রাতে তিনি তার ফেসবুকে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তি চেয়ে স্ট্যাটাস দেন। রবিবার রাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। ওসি আশরাফুল আলম বলেন তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

মৌলভীবাজারে এক বছরে সূর্যমুখীর চাষ বেড়েছে ৫ গুণ

নীল আকাশের নিচে হলুদ সূর্যমুখী ফুলের ছড়াছড়ি। চোখ জুড়ানো এমন দৃশ্যের দেখা মিলবে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায়। বিশেষ করে সদর উপজেলার আজমেরু ও হাকালুকি হাওড়পাড়ে। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লাভজনক হওয়ায় জেলায় এ তেলবীজের চাষ দিন দিন বাড়ছে। এমনকি এক বছরে বেড়েছে পাঁচ গুণ। মূলত পতিত জমিতে বিকল্প ফসল হিসেবে কৃষকরা সূর্যমুখী চাষ করছেন। তাদের উৎসাহ দিতে সরকারিভাবে প্রণোদনাও দেয়া হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে মৌলভীবাজারে প্রায় ১৫০ একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে জেলায় এ তেলবীজ চাষ হয়েছিল মাত্র ৩০ একরে। সে হিসাবে এবার চাষ বেড়েছে পাঁচ গুণ। জেলার চাষীরা মূলত হাইসান-৩৩ ও হাইসান-৩৬ হাইব্রিড জাতের সূর্যমুখীর চাষ করেছেন।

সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু এলাকায় ২৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন সৈয়দ হুমায়েদ আলী শাহিন ও এসএম উমেদ আলী। সৈয়দ হুমায়েদ আলী শাহিন বলেন, আমন ধান তোলার পর এ জমিগুলো পতিত থাকত। গত মৌসুম থেকে এসব জমিতে সূর্যমুখী চাষ করছি। নতুন ফসল অনেক মানুষ দেখতে আসছে এবং উৎসাহী হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, কোলেস্টেরলমুক্ত স্বাস্থ্যকর ভোজ্যতেলের অন্যতম উৎস সূর্যমুখীর বীজ। এ তেল অনেক ভালো। আমরা নিজেদের প্রয়োজনীয় তেলবীজ রেখে অতিরিক্ত বীজ বাজারে বিক্রি দিই।

এসএম উমেদ আলী বলেন, গত বছর আমরা ১৭ বিঘা জমিতে চাষ করেছিলাম। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষের উপযোগী হওয়ায় এবার চাষ আরো আট বিঘা জমি বাড়িয়েছি।

এদিকে চলতি মৌসুমে কুলাউড়া ও জুড়ি উপজেলার হাকালুকি হাওড়পাড় এলাকার ৪০ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে সরকারিভাবে সূর্যমুখীর বীজ দেয়া হয়েছে। প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন এ কৃষকরা।

কুলাউড়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, হাওড়াঞ্চলের জমিতে সাধারণত বোরো ধানের চাষই বেশি হয়। কিন্তু অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢলে প্রায় প্রতি বছর ফসল নষ্ট হয়ে যায়। ফলে হাওড়পাড়ের কৃষকরা বিকল্প শস্য চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এবার সরকারিভাবে প্রণোদনা পেয়ে তাদের কেউ কেউ সূর্যমুখীর চাষ শুরু করেছেন।

শাহজাহান আলী নামে এক কৃষক জানান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উৎসাহে এবার সূর্যমুখী চাষ করেছি। বীজ রোপণ থেকে শুরু করে ফুল ফোটা ও পুনরায় বীজ সংগ্রহ পর্যন্ত ১১০ থেকে ১২০ দিন সময় লাগে। তবে বীজ সংগ্রহের পর কী করবেন সেটা নিয়ে চিন্তিত তিনি। কারণ বীজ থেকে তেল তৈরির কোনো যন্ত্র তার নেই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী লুত্ফুল বারী বলেন, এবার সূর্যমুখীর ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি একর জমি থেকে প্রায় ৮০০ কেজি বীজ পাওয়া যাবে বলে আশা করি। আড়াই কেজি বীজ থেকে মিলবে এক লিটার তেল। সে হিসাবে প্রতি একর জমি থেকে মিলবে প্রায় ৩২০ লিটার তেল। প্রতি লিটার তেল ১৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। এছাড়া তেল সংগ্রহের পর খৈলও বিক্রি করা যায়। আর প্রতি কেজি বীজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দামে বিক্রি করা যাবে। কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্যে বীজ বিক্রয় করতে পারেন, সে ব্যাপারে আমরা সহযোগিতা করব।

তিনি বলেন, আসলে আমরা ভোজ্যতেলের জন্য সয়াবিনের ওপর নির্ভরশীল। সেখান থেকে বেরিয়ে সরিষা ও সূর্যমুখীর উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য আমরা কর্মসূচি নিয়েছি। আগামী মৌসুমে মৌলভীবাজারে সূর্যমুখীর চাষ আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে। সুত্রঃ বণিক বার্তা

জুড়িতে আরো একজন করোনা সনাক্ত

জুড়ি প্রতিনিধিঃমৌলভীবাজারের জুড়ি থেকে করোনাভাইরাসের সংগৃহিত নমুনার ফলাফলে নতুন আরও একজন কোভিড-১৯ আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। সোমবার (৪ মে) রাত এগারোটায় তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) সমরজিৎ সিংহ।

তিনি বলেন, শনাক্ত ব্যক্তির বাড়ী উপজেলার জাংগিরাই এলাকায়। বাড়ী লকডাউনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমরা সেখানে যাচ্ছি প্রশাসন সহ।

১০ মে থেকে সীমিত পরিসরে খুলছে দোকানপাট-শপিংমল

ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিস্তার ঠেকাতে সরকারি-বেসরকারি অফিসে ছুটির মেয়াদ ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হলেও সীমিত পরিসরে খুলছে হাটবাজার, ব্যবসাকেন্দ্র, দোকানপাট শপিং মলগুলো। ঈদকে সামনে রেখে শর্তসাপেক্ষে আগামী ১০ মে থেকে এগুলোসহ অন্যান্য কার্যাবলি সীমিত আকারে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে এগুলো সকাল ১০টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।

আর আসন্ন ঈদের সময় জনগণকে নিজ নিজ স্থানে থাকতে হবে এবং আন্তজেলা, উপজেলা বা বাড়িতে যাওয়ার ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
এর আগে গত ২৬ এপ্রিল থেকে তৈরি পোশাক কারখানা সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন হাটবাজার, দোকানপাট খোলার সুযোগ দেওয়ার মধ্যে দিয়ে লকডাউন (অবরুদ্ধ) পরিস্থিতি শিথিল হয়ে গেল।

আজ সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশে দোকানপাট খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, হাটবাজার, ব্যবসা কেন্দ্র, দোকানপাট ও শপিংমলগুলো ১০ মে থেকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল চারটার মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। প্রতিটি শপিংমলের প্রবেশের ক্ষেত্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত সতর্কতা গ্রহণ করতে হবে।
এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকাল আনোয়ারুল ইসলাম আজ প্রথম আলোকে বলেন, এই সময় বলা হলেও নিজ নিজ এলাকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন তাঁদের সুবিধামতো নির্দেশনা দিতে পারবে। অর্থাৎ প্রয়োজন হলে তার আগেও বন্ধ রাখার কথা বলতে পারে।
গত ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে ছুটি ও লকডাউন পরিস্থিতি চলছে। এই সময়ে ছয় দফায় ছুটি বাড়ানো হলো। করোনাভাইরাসের কারণে প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হয়েছিল। এরপর ছুটি বাড়িয়ে তা ১১ এপ্রিল করা হয়। ছুটি তৃতীয় দফা বাড়িয়ে করা হয় ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর চতুর্থ দফায় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়। আর পঞ্চম দফায় ছুটি ৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এখন আবার বাড়ল।

আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর অর্থায়নে ৫৫০ পরিবারের মধ্যে খাদ্য বিতরণ


ইবাদুর রহমান জাকির বিশেষ প্রতিনিধিঃ আলহাজ্জ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর অর্থায়নে ১০ হাজার পরিবারে খাদ্য সহায়তার অংশ হিসেবে (৪মে) দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নে ৫৫০ পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। ,এতে মৌলভীবাজার ১ (বড়লেখা-জুড়ি) নির্বাচনী এলাকার বিগত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আলহাজ্জ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর এ নির্বাচনী এলাকায় ১০ হাজার পরিবারে খাদ্য সহায়তা কর্মসুচি এগিয়ে চলছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশ নায়ক তারেক রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে জনাব মিঠু এ কর্মসুচি তে অর্থায়ন করছেন এবং বাস্তবায়ন করছে সংশ্লিষ্ট ইউনিট বিএনপির কমিটি সমুহ আর সমন্বয় করছে নির্বাচনী এলাকার ২ উপজেলা ও এক পৌর কমিটি।দুপুরে দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নে এ খাদ্য সহায়তা কর্মসুচীর উদ্বোধন করেন বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক জনাব মুজিবুর রহমান খছরু।
এসময় উপস্হিত ছিলেন বড়লেখা পৌর বিএনপির সভাপতি জনাব আনোয়ারুল ইসলাম,উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খান,উপজেলা প্রচার সম্পাদক ও দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস স্বপন,পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, যুব বিষয়ক সম্পাদক আলতাফ হুসেন,ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক আনিস আহমদ মেম্বার,বিএনপি নেতা শাহজাহান উদ্দিন, যুবদল সভাপতি কামাল উদ্দিন, সাধারন সম্পাদক হাদি হুসেন, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মুমিনুর রশিদ, যুগ্ন সম্পাদক নাসির হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোস্তাক তাপাদার কানন, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র নেতা নাদের আহমদ, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক কাওছার আহমদ,উপজেলা ছাত্রদল নেতা জুনেদ আহমদ সহ বিএনপি ও অঙ্গঁ- সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মী বৃন্দ।

মহিমান্বিত রমজানঃ আমাদের করনীয়-আলেয়া খানম

আমাদের থেকে এবারের মহিমান্বিত রমজানুল মুবারকের প্রথম দশক বিদায় নিতে যাচ্ছে। রমজানের প্রথম দশ দিন রহমতের। আল্লাহ তায়ালা এ দশকে প্রত্যেকের উপর অবারিত রহমত বর্ষণ করতে থাকেন। যার ফলে মুসলমান নরনারীর মন-মনন উজ্জ্বল তারকারাজির ন্যায় ঝলমল হয়ে অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে মুক্ত হয়। মহান প্রভূর সান্যিধ্যের দিকে এগিয়ে যায় মানবাত্মা। রহমতের চাদরে আবৃত হয়ে নিজের জীবন যৌবনকে পূতপবিত্র করে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
সহীহ হাদীসে প্রিয় নবী মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ ফরমান, রমজানের প্রথম দশক রহমতের, মধ্যখানের দশক মাগফিরাতের এবং শেষের দশক জাহান্নাম থেকে মুক্তির।
যখন রমজান আসে জান্নাতের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয়। জাহান্নামের দরজা সমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। আর মরদুদ শয়তানদেরকে শিকলাবদ্ধ করে রাখা হয়। অপর বর্ননায় আসে আসমানের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয়।
রমজান মুমিনের জন্য ঢাল স্বরূপ। শত্রুর মোকাবেলায় ঢাল যেভাবে গুলি, তীর ধনুক ইত্যাদির আক্রমণ ও অনিষ্ঠ হতে রক্ষা করে সিয়াম সাধনাও সেভাবে মুমিন মুসলমানকে অন্যায়, অবিচার, জুলুম, নির্যাতন ইত্যাদি পাপাচার থেকে রক্ষা করে।
হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,” রোজা আমার জন্য আর এর প্রতিদান আমি নিজে দান করব।”
যারা ঈমান ও ইহতেসাবের সাথে (সওয়াবের আশায়) রমজানের রোজা এবং কিয়ামুল লাইল ( তারাবীহ) আদায় করবে, আল্লাহ তায়ালা তাদের সমুদয় গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।
এদিকে চলমান বিশ্বের দিকে দিকে মুসলমানদের উপর নির্যাতন নিপীড়নের স্টীম রোলার চলছে। আর অপর দিকে দেশে দেশে ইসলামের বিজয় নিশান উড্ডীন হওয়ার সমূহ সম্ভাবনার পূর্বাভাস মুসলিম উম্মাহকে আশান্বিত করছে।
রোজা ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক। নিজেকে সংযম ও সংশোধনের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এক অমলিন সুন্দর সমাজ বিনির্মানে সিয়াম সাধনা আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। গরিব দুঃখী অসহায় মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবের উপলব্ধি সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বর্তমান সময়ে করোনা ভাইরাস উপসর্গের মধ্যে লকডাউন এর ফলে আমাদেরকে কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। বিত্তবান হৃদয়বানরা যার যার অবস্থান থেকে সাধ্যমত সহায়তা করতে উদ্যোগী হওয়া এ সময়ে ঈমান ও মানবতার দাবি।

লেখিকা;
এম.এ মাস্টার্স, এমসি কলেজে, সিলেট।

থাপ্পড়ের বদলা নিতে বাড়িওয়ালার শিশুপুত্রকে হত্যা

গাজীপুর থাপ্পড়ের প্রতিশোধ নিতে বাড়ির মালিকের শিশুপুত্রকে অপহরণ করে হত্যা করেছে ভাড়াটিয়া। ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য অপহরণকারী পরিচয়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণও দাবি করা হয়েছিল। শনিবার রাতে টাকা দেয়ার ফাঁদ পেতে মূলহোতা সাগর হোসেনকে আটক করে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহানগরীর কোনাবাড়ী থানার পারিজাত আমতলা এলাকার একটি গেঞ্জির ঝুট গোডাউন থেকে শিশুটির লাশ মরদেহ উদ্ধার করে র‌্যাব ১।

নিহত শিশু আলিফ হোসেন (৫) কোনাবাড়ি থানার পারিজাত এলাকার বাসিন্দা ফরহাদ হোসেনের ছেলে। আটক সাগর হোসেন (১৯) নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার পদিপাড়া গ্রামের রফিক উল্লাহর ছেলে।
র‌্যাব ১ এর গাজীপুর ক্যাম্পের কমান্ডার (লে. কমান্ডার) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, শিশু আলিফ হোসেন গত ২৯ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিখোঁজ হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে শিশুর দাদা রাহামুদ্দিনের মোবাইলে ফোন করে আলিফ হোসেনকে অপহরণ করে অজ্ঞান অবস্থায় করে রাখা হয়েছে জানিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করে অপহরণবারীরা। মুক্তিপণের টাকা না দিলে শিশুটিকে হত্যার হুমকি দেয়। এরপর অপহরণকারীরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়।

শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে অন্য একটি মোবাইল নম্বর থেকে আবারও ফোন দিয়ে আলিফের পরিবারের কাছে মুক্তিপণের টাকা দাবি করেন অপহরণকারীরা। শিশুটির বাবা টাকা নিয়ে অপহরণকারীদের কধামত বিভিন্ন জায়গায় যান। কিন্তু সামনাসামনি না হয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। একপর্যায়েয় আলিফ হোসেনের বাবা ঘটনাটি র‌্যাবকে জানায়। পরে র‌্যাব ১ সদস্যরা শনিবার রাতে টাকা দেওয়ার জন্য ফাঁদ পেতে সাগরকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ফরহাদ হোসেনের বাড়ির তিনতলার একটি গোডাউন থেকে শনিবার রাতে আলিফ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের কাছে সাগর স্বীকার করছে, তিন বন্ধু মিলে তারা ফরহাদ হোসেনের বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্লাটে ভাড়া থেকে গার্মেন্টে চাকরি করত। বাড়ির ছাদে উঠে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা এবং উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করায় এক সপ্তাহ আগে বাসার মালিক শিশুটির বাবা সাগরের রুমমেট জুয়েল আহমেদ ওরফে সবুজকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দেয়। ওই থাপ্পড়ের প্রতিশোধ এবং দ্রুত অনেক টাকার মালিক হওয়ার স্বপ্নে বাড়ির মালিকের প্রতি ক্ষোভ থেকে প্রতিশোধ নিতে সাগর ও সবুজ মিলে শিশু আলিফকে হত্যা এবং অপহরণের নাটক সাজিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন আলিফকে ডেকে ঘরে নিয়ে আসে এবং খেলার ছলে বাসার ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে সবুজ গলা টিপে ধরে এবং সাগর মুখ চেপে ধরে শ্বাস রোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে লাশ একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর করে বাসার পাশের রুমে ঝুটের গুদামের ভেতর রেখে দেয়। ওই রাতে বানায় থেকে পরদিন সকালে স্বাভাবিকভাবে বাসা থেকে বের হয়ে ঢাকায় চলে যায় এবং আসামিরা বিভিন্ন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ভিকটিমের বাবার মোবাইল ফোনে কল করে অপহরণের কথা জানায় এবং মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। সবুজ পলাতক রয়েছে। সুত্রঃ কালের কন্ঠ

পীরগাছায় উপসর্গ ছাড়াই দুইজনের করোনা শনাক্ত

রংপুরের পীরগাছায় উপসর্গ ছাড়াই দুই জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.সানোয়ার। তিনি জানান, আক্রান্তদের একজন পুরুষ ও অন্যজন নারী। দু’জনের তেমন কোনো উপসর্গ ছিল না।

আক্রান্তদের মধ্যে পীরগাছা থানায় কর্মরত এক উপ-পরিদর্শক(এসআই) ও ১৫ বছর বয়সী কিশোরী রয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ডা. সানোয়ার জানান, সরকারের গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণার পর থেকে বাইরে থেকে মানুষের আসার সুযোগ ছিল কম। তাছাড়া এর আগে এ উপজেলায় কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। আক্রান্ত ওই কিশোরী বাড়িতে ছিলেন। তার বাড়িতে পরিবারের লোকজন ছাড়া অন্য কেউ যাতায়াত করেননি। উপ-পরিদর্শকও এক বছর ধরে এই থানায় কর্মরত। কীভাবে এই দুই জনের শরীরে কোভিড-১৯ পজেটিভ আসলো সেটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, কেননা কারোরই তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় নাই।

জানাগেছে সতর্কতার অংশ হিসেবে ২ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মীরসহ ১০১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এদের মধ্যে উপ-পরিদর্শক ও কিশোরীর শরীরে করোনাভাইরাস পজেটিভ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চত করা হয়।

সুত্রঃ ইত্তেফাক

পীরগাছায় উপসর্গ ছাড়াই দুইজনের করোনা শনাক্ত

রংপুরের পীরগাছায় উপসর্গ ছাড়াই দুই জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.সানোয়ার। তিনি জানান, আক্রান্তদের একজন পুরুষ ও অন্যজন নারী। দু’জনের তেমন কোনো উপসর্গ ছিল না।

আক্রান্তদের মধ্যে পীরগাছা থানায় কর্মরত এক উপ-পরিদর্শক(এসআই) ও ১৫ বছর বয়সী কিশোরী রয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ডা. সানোয়ার জানান, সরকারের গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণার পর থেকে বাইরে থেকে মানুষের আসার সুযোগ ছিল কম। তাছাড়া এর আগে এ উপজেলায় কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। আক্রান্ত ওই কিশোরী বাড়িতে ছিলেন। তার বাড়িতে পরিবারের লোকজন ছাড়া অন্য কেউ যাতায়াত করেননি। উপ-পরিদর্শকও এক বছর ধরে এই থানায় কর্মরত। কীভাবে এই দুই জনের শরীরে কোভিড-১৯ পজেটিভ আসলো সেটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, কেননা কারোরই তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় নাই।

জানাগেছে সতর্কতার অংশ হিসেবে ২ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মীরসহ ১০১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এদের মধ্যে উপ-পরিদর্শক ও কিশোরীর শরীরে করোনাভাইরাস পজেটিভ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চত করা হয়।

সুত্রঃ ইত্তেফাক

সংক্রমণ ঝুঁকিতে সিলেট, লকডাউনেও বাজার-ব্যাংকে জটলা

নিউজ ডেস্কঃ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে মানুষকে সুরক্ষায় লকডাউন ঘোষণা করে সিলেটে জেলা প্রশাসন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বেরোতে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। যানবাহন চলাচলেও রয়েছে বাধা নিষেধ। কিন্তু এ অবস্থায় জেলার ব্যাংক পাড়া লোকে লোকারণ্য।

কেবল ব্যাংক নয়। নগরের কাঁচা বাজার ও সবজি মার্কেটেও মানুষের ভিড় দেখা গেছে। করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষায় শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার কথা থাকলেও এর প্রতিফলন হচ্ছে না ব্যাংক পাড়া ও হাট-বাজারে।

রোববার (০৩ এপ্রিল) সিলেটের সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংকে মানুষের ভিড় লক্ষ্যণীয় ছিল। এছাড়া সওদা কিনতে সড়কের পাশের বাজারগুলো ছিল যেন লোকে লোকারণ্য।

এদিন ব্যাংক খোলার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন গ্রাহকরা। কথা বলে জানা গেছে, অনেকে ব্যাংক খোলার নির্ধারিত সময় সকাল ১০টার আগেই লাইনে এসে দাঁড়ান।

ব্যাংকের মানুষের জটলাসরেজমিনে দেখা যায়, নগরের বারুতখানা ডাচ বাংলা ব্যাংকে গ্রাহকদের উপচেপড়া ভিড়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে গ্রাহকরা সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা উত্তোলনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। একই অবস্থা ছিল নগরের তালতলা ইসলামী ব্যাংকে। গ্রাহকরা ফুটপাতে লাইনে অপেক্ষমাণ থাকতে দেখা গেছে। আর নগরের জিন্দাবাজার সোনালী ব্যাংকের করপোরেট শাখায় প্রতিটি সেবা শাখায় রীতিমত লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। গ্রাহকদের ভিড় সামলাতে সংশ্লিষ্টদের হিমশিম খেতে হয়।

এছাড়া নগরের লালদিঘীর পাড় ও কালিঘাট এলাকায় নিত্যপণ্য কিনতে ছিল সহস্রাধিক মানুষের আনাগোনা। শারীরিক দূরত্ব মানা দূরে থাক, অধিকাংশ লোকজন নিজেদের সুরক্ষায় মুখে মাস্কও ব্যবহার করেননি। ফলে মানুষকে শারীরিক দূরত্ব মানাতে প্রশাসনও যেন অপারগ হয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, সিলেটে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এরপরও শারীরিক দূরত্ব না মানা বা ঘরে না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। ব্যাংক বা হাট-বাজার বলেন, এদের মধ্যে কেউ একজন আক্রান্ত হলে আরও ১০ জন সংক্রমিত হবেন। এভাবে চলতে থাকলে করোনা মোকাবিলার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে। সুত্রঃবাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

এই কঠিন পরিস্থিতিতে প্রজ্ঞাপন জারি করে ইফতারি প্রথা বন্ধ করা হোক


আশফাক জুনেদঃ দীর্ঘ এক বছর পর আমাদের নিকট পবিত্র রমজান এসে পৌঁছেছে।ত্যাগ ও সংযমনের মাস হচ্ছে রমজান।এই মাস যেমন আসে রহমতের বার্তা নিয়ে আবার তেমনি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য আসে চিন্তার কারণ হয়ে।

রমজানে বিশেষ করে আমাদের সিলেটে মেয়ের বাড়িতে ইফতারি পাঠানোর একটি প্রথা প্রচলিত রয়েছে ।এই মাসে মেয়ের শশুর বাড়িতে হরেক রকম খাবার দাবার পাঠাতে হয়। সেটা একবার নয় কয়েকবার। বহুকাল থেকে আমাদের সমাজের প্রচলিত প্রথা এটি।এর অন্যতা হলে মেয়েকে শশুর বাড়িতে খোঁটা পেতে হয়।

এই ইফতারি পাঠানো বিত্তবানদের জন্য সহজ হলেও অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।রমজান আসার সাথে সাথে কপালে চিন্তার বাঝ পড়ে এসব পরিবারের মাঝে।শশুর বাড়িতে মেয়ের মান-সম্মান রক্ষা করতে কষ্ট করে হলেও মেয়ের বাড়িতে হরেক রকম ইফতার সামগ্রী পাঠান এসব পরিবারের কর্তারা।

কিন্তু বিগতে বছর গুলোতে কষ্ট করে ইফতারি পাঠানো গেলেও এবার তা যে একেবারেই অসম্ভব ।সারাবিশ্বের ন্যায় করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে থমকে আছে বাংলাদেশেও।আর এই ভাইরাস ঠেকাতে দেশে চলছে সাধারণ ছুটি।ফলে অঘোষিত লকডাউন চলছে সারাদেশে।যার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দেশের সিংহভাগ মানুষ।ঘরে খাবার যোগাতে যেখানে রীতিমত যুদ্ধ করতে হচ্ছে সেখানে এই রমজানে মেয়ের বাড়িতে ইফতারি পাঠানো তাদের কাছে মরার উপর খাড়ার ঘা।কেমন করে মেয়ের বাড়িতে ইফতারি পাঠাবেন এমন চিন্তায় চিন্তিত তারা।এই কঠিন পরিস্থিতিতে দার দেনা করাও সম্ভব না।তাই দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সরকারি ভাবে এই ‘ইফতারি’ প্রচলন বন্ধ করা হোক।এতে করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার এই ‘ইফতারি’ পাঠানোর নামে হরেক জাতের খাদ্যসামগ্রী পাঠানো থেকে রেহাই পাবে এবং সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়া থেকেও রক্ষা পাবে।সরকারি ভাবে নিষেধ হলে মেয়ের বাড়ি থেকেও খোঁটা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।তাই এইদিকগুলা বিবেচনা করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করে অনতিবিলম্বে এই ইফতারির প্রচলন বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।

ঢাকাফেরৎ ব্যক্তিকে ‘কোয়ারেন্টিনের’ ভয় দেখিয়ে এসআইয়ের চাঁদা দাবি!

ছবি প্রতিকি

অসুস্থতার কথা বলে ছুটি নিয়ে পাশের থানায় গিয়ে এমন ঘটনা ঘটান তিনি

নিউজ ডেস্কঃ ঢাকাফেরৎ এক ব্যক্তিকে “হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার” ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির অপরাধে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক মিয়াকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, অসুস্থতাজনিত (মেডিকেল) ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ছেড়ে পার্শ্ববর্তী তাড়াশ থানায় গিয়ে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগীর স্ত্রী উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন। ওসি বিষয়টি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান।

অবশেষে বুধবার (২৯ এপ্রিল) “দায়িত্ব অবহেলার” কারণ দেখিয়ে এসআই মানিককে উল্লাপাড়া থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উল্লাপাড়ার ওসি দীপক কুমার।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী আবুজল প্রামাণিক তাড়াশ উপজেলার তালোম শিবপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্বল্প আয়ের এই ব্যক্তি ঢাকায় থাকেন। গত মার্চে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি গ্রামের বাড়িতে এসে আটকা পড়েন। জীবিকার তাগিদে প্রায় এক মাস যাবৎ তিনি স্থানীয়ভাবে মাস্কের ব্যবসা শুরু করেন। গত ২৩ এপ্রিল তাকে “হোম কোয়ারেন্টিনে” রাখা হবে এমন হুমকি টাকা দাবি করেন অভিযুক্ত এসআই মানিক।

ওসি দীপক বলেন, “পুলিশ সুপার কার্যালয়ের এক আদেশ অনুযায়ী বুধবার রাতে মানিককে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। আদেশপত্রে চাঁদা দাবির বিষয়টি না থাকলেও দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।”

চিকিৎসাজনিত ছুটিতে পার্শ্ববর্তী থানায় গিয়ে এসআইয়ের চাঁদা দাবির ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক বলে মন্তব্য করেন ওসি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত এসআই মানিক মিয়ার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কল করে ঢাকা ট্রিবিউন। সাংবাদিক পরিচয় শুনে তাৎক্ষণিক তিনি সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।

প্রসঙ্গত, এর আগেও দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির অপরাধে মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে উল্লাপাড়ায় থানার সিনিয়র সহকর্মীরা দু’টি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বলেন, “বিষয়টি বিব্রতকর। তারপরেও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” সুত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন

ইন্টারনেট থেকে শিখে করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করছেন ছাতকের তরুণ চিকিৎসক

ছাতকে ঘুরে ঘুরে নমুনা সংগ্রহ করছেন ডা. তোফায়েল ও তার সহযোগীরা। ছবিঃ ঢাকা ট্রিবিউন

নিউজ ডেস্কঃ ছাতকে ঘুরে ঘুরে নমুনা সংগ্রহ করছেন ডা. তোফায়েল ও তার সহযোগীরা। তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের কখনোই রোগকে ভয় পাওয়া উচিত নয়। সব কিছু জেনে-বুঝে শুনে চিকিৎসা পেশায় এসেছি

গত ২৩ দিনে ৫২ জন সন্দেহভাজন কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস সৃষ্ট মহামারি) রোগীর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তোফায়েল আহমদ সনি। ইন্টারনেটে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব থেকে নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি শিখেছেন তিনি। আর দেশের এমন ক্রান্তিলগ্নে সেই স্বীয় অর্জিত বিদ্যাকে কাজে লাগিয়েছেন তিনি।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুতে নমুনা সংগ্রহ করতে ভয় পেতেন অনেক স্বাস্থ্যকর্মী। উপরন্তু ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব টেকনিশিয়ান বয়স্ক ও ডায়বেটিকস রোগী। তাই কর্মস্থলের এলাকার মানুষকে সেবা দিতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে সন্দেহভাজনদের নুমনা সংগ্রহ করছেন ডা. তোফায়েল আহমেদ।

মুঠোফোনে তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “মেডিকেল কলেজে ইন্টার্নশিপ করার সময় ইউটিউব থেকে নমুনা পরীক্ষার বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা লাভ করি। পরে চীনে কোভিড-১৯ মহামারি দেখা দিলে সেখানকার প্রশিক্ষিত প্যাথলজিস্টরা কীভাবে নমুনা সংগ্রহ করেন ইন্টারনেট ঘেঁটে তা জানার চেষ্টা করি। টানা ১০ দিন চীনের প্যাথলজিস্টদের নমুনা সংগ্রহের ভিডিও দেখে বেশ পরিষ্কার ধারণা পাই। ইন্টার্নিশিপের বিদ্যা ও ইন্টারনেটের ভিডিও দেখে বেশ ভালভাবেই বিষয়টি রপ্ত করি। সেগুলোকে পুঁজি করেই নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করি। শুরুর দিনে ছাতক সদরের বাগবাড়ি আবাসিক এলাকা থেকে এক ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করি।”

এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন স্বাস্থ্যকর্মী স্বপন কুমার রায়।

গত ২৫ তারিখে ডা, তোফায়েল ও তার দল ছাতকের আকিজ প্লাস্টিক কোম্পানির কোভিড-১৯ রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন।

প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাতকে আসা ব্যক্তিদের তালিকা থেকে প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করা হয়। এক্ষেত্রে চারটি বিষয় প্রধান্য দেওয়া হয়- প্রথমত: উপসর্গ (সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট) থাকলে, দ্বিতীয়ত: ১৪ দিনের মধ্যে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাত হলে, তৃতীয়ত: করোনাভাইরাসের রেডজোন এলাকা থেকে এলে এবং চতুর্থত: হাসপাতালে কাজ অথবা নিয়মিত যাতায়াত আছে এমন কারও সংস্পর্শে এলে।

এছাড়া ঢাকা, নরসিংদী, ময়নসিংহ, চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও সাভারফেরৎ সন্দেহভাজনদের শরীর থেকেও নমুনা সংগ্রহ করেন তারা।

এলাকায় ঘুরে ঘুরে এভাবে নমুনা সংগ্রহের কথা শুনে স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও বন্ধুরা সবাই না করেছে।

কিন্তু সাহসী এই চিকিৎসক বলেন, “আমার কাছে বিষয়টি দেশের জন্য যুদ্ধে যাওয়ার মতো।”

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া চিকিৎসক মঈন উদ্দিনের দাফন কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেওয়া একমাত্র চিকিৎসকও ডা. তোফায়েল।

তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চল থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক প্রতিকুলতার মোকাবেলা করতে হয়। নমুনা পরীক্ষার সময় সন্দেহভাজনরা সহযোগিতা না করতে চাইলে অনেক বুঝিয়ে-শুনিয়ে রাজি করতে হয়। শুরুতে তাদের বোঝানোর কাজটি করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তারপরেও অনেকে নমুনা দিতে চান না। সেক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ কথা বলে আস্থা অর্জন করে কাজ করতে হয়।

একজনের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে তিনজন স্বাস্থ্যকর্মীর প্রয়োজন। একজন সংগ্রহ করেন, একজন তাকে সহায়তা করেন এবং আরেকজন তথ্য লিখেন।

ডা. তোফায়েলের নেতৃত্বে ছাতকে তিনটি টিম নমুনা সংগ্রহের কাজ করছে। প্রতিটি টিমে ৭ থেকে ৮ জন করে লোক থাকেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিকে ছাতকের স্বাস্থ্যকর্মীদের এ বিষয়ে তেমন কোনো প্রশিক্ষণ ছিলো না। এই সঙ্কটের মুখে তোফায়েল সরাসরি মাঠে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলে পরিবারের সবাই নিষেধ করেন। তবে মা তাকে অভয় দেন। মায়ের উৎসাহে তিনি দ্ব্যর্থহীন চিত্তে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

ডা. তোফায়েল জানান, নিজে আক্রান্ত না হলে ছাতকে কাজ করে যাবেন তিনি।

“একজন চিকিৎসকের কখনোই রোগকে ভয় পাওয়া উচিত নয়। সব কিছু জেনে-বুঝে শুনে চিকিৎসা পেশায় এসেছি।”

তার এমন অকুতোভয় উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা।

ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজীব চক্রবর্তী বলেন, চিকিৎসকরা সাধারণত সরাসরি নমুনা সংগ্রহের কাজটি করেন না। তাদের কাজ বিষয়টির সার্বিক তত্ত্বাবধান করা। কিন্তু ডা. তোফায়েল আহমদ সনি স্বেচ্ছায় কাজটি করছেন। তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক।

তরুণ এই চিকিৎসকের প্রশংসা করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. গোলাম কবির জানান, “সব ভয়ভীতি ও দ্বিধা কাটিয়ে তিনি যেভাবে একাই নমুনা সংগ্রহের কাজ করে যাচ্ছেন, তা প্রশংসনীয়। তিনি ছাড়াও অনেকেই এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাদেরকেও আমরা ধন্যবাদ জানাই। আশা করি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠবো।”

সুনামগঞ্জ ৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বলেন, “ডাক্তার তোফায়েল আহমদ সনি একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক। মহামারির সময় তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যে অন্যন্য ভুমিকা পালন করছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।”

২ এপ্রিল থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ডা. তোফায়েল সংগ্রহ করেছেন ৫২ জনের নমুনা। সুত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন

সাভারে গণপরিবহন চালুসহ তিন দফা দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্কঃ
শ্রমিকদের কল্যাণের নামে বিভিন্ন শ্রমিক-মালিক সমিতির ব্যানারে চাঁদা আদায় বন্ধ, অবিলম্বে গণপরিবহন চালু ও ত্রাণ সহায়তার দাবিতে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের থানা রোড এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন গণপরিহন শ্রমিকরা।এ সময় শ্রমিকরা সড়কে বসে তিন দফা দাবি আদায়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে পুলিশ ও পরিবহন মালিকপক্ষের আশ্বাসে প্রায় এক ঘণ্টা সড়কে অবস্থানের পর সরে যান পরিবহন শ্রমিকরা।পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যে সবচেয়ে অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। প্রায় এক মাস কর্মহীন অবস্থায় থাকলেও তাদের কোনো ত্রাণ কিংবা সহায়তা প্রদান করেনি কেউ। এতে পরিবার নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা ও হতাশা নিয়ে দিন পার করছেন। তারা শ্রমিকদের কল্যাণের নামে বিভিন্ন শ্রমিক-মালিক সমিতির ব্যানারে চাঁদা আদায় বন্ধ, অবিলম্বে গণপরিবহন চালু ও ত্রাণ সহায়তার দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।সাভার পরিবহনের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, গণপরিবহন চালুসহ তিন দফা দাবিতে সড়কে অবস্থানরত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার পর তারা সড়ক ছেড়ে দেয়।সাভার মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাদের মোল্লা জানান, করোনা সংকটের মাঝে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকরা কোনো সাহায্য না পেয়ে সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের থানা স্ট্যান্ড এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে শ্রমিকদের সহযোগিতার জন্য পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা সড়ক থেকে চলে যান। সুত্রঃ জাগো নিউজ

রাতে দুই সন্তান নিয়ে ঘুমালেন মা, সকালে ধানক্ষেতে মিলল লাশ

নিউজ ডেস্কঃ রাতে দুই সন্তান নিয়ে ঘুমালেন মা, সকালে ধানক্ষেতে মিলল লাশ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় সালমা বেগম (৩০) নামে দুই সন্তানের জননীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধানক্ষেতে নগ্ন অবস্থায় পড়ে ছিল তার লাশ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর সাড় ১২টার দিকে বগুড়া-নাটোর সড়কের উপজেলার জোড়া বটতলা কানাইপুকুর ব্রিজের পূর্বপাশে আশেকপুর মধ্যপাড়ার ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সালমা বেগম উপজেলার আশেকপুর মধ্যপাড়ার রাজমিস্ত্রি ছাইদুজ্জামানের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানায়, সালমা বেগমকে ‘গণধর্ষণের’ পর শ্বাসরাধে হত্যা করে ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

সালমা বেগমের মা ছাহেরা বেগম জানান, সালমাকে গাবতলী উপজেলার তন্বী গ্রামের সোহেল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেন। তাদের সংসারে জান্নাতি (৯) ও আল আমিন (৬) নামে দুটি সন্তান রয়েছে। সংসারে ঝগড়া হওয়ায় ছয় মাস পরে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয় সালমার। বিয়ের পর থেকেই সালমা বাবার বাড়িতে থাকতেন। সালমা স্থানীয় ব্যাগ তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। মাঝেমধ্যে জামাই সোহেল রাস্তায় সালমাকে বিরক্ত করতেন। এমনি ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে হত্যার হুমকি দিতেন।


সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন সালমা। ভোররাতে সাহরি খেতে মা ছাহেরা ওঠে দেখেন সালমা ঘরে নেই। তখন থেকেই সালমাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সকালে বাড়ির অদূরে ধানক্ষেতে সালমার লাশ পড়ে আছে বলে শুনতে পান মা ছাহেরা।

সালমার শিশুকন্যা জান্নাতি জানায়, গভীর রাতে ঘরের বেড়ায় কারা যেন ধাক্কাধাক্কি করেছিল। শব্দ শুনে বের হন মা। এরপর আর ঘরে আসেননি মা।

শাজাহানপুর থানা পুলিশের ওসি আজিম উদ্দীন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার আগে কিছু বলা যাবে না।

এদিকে, এ ঘটনার খবর পেয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার ও গোয়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কেন্দ্রীয় কারাগারের ১০ কারারক্ষী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার;ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্কঃ আক্রান্ত কারারক্ষীরা হাসপাতালে ডিউটি করার সময় সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে

ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ১০ জন কারারক্ষী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) এ তথ্য নিশ্চিত করেন কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী।

তিনি বলেন, “কারাগারের পাশে ২০০-২৫০ জন কারারক্ষী থাকেন। এদের মধ্যে ১০ জন কারারক্ষী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।”

ইকবাল কবির চৌধুরী বলেন, “কারারক্ষীদের হাসপাতালে ডিউটি থাকে। সেখান থেকে তারা সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন।”

জেল সুপার আরও বলেন, “আক্রান্তদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।” সুত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন

ফেসবুকেই মিলছে অভাবী মানুষের খোঁজ, ত্রাণ পৌঁছে যাচ্ছে বাসায়

নিউজ ডেস্কঃ করোনায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে ‘লকডাউন’ ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ থাকায় অর্থাভাবে পড়েছেন অনেক মানুষই। বিশেষ এ সময়ে খাদ্য সংকট নিন্মবিত্ত ছাড়িয়ে মধ্যবিত্তকেও ছুঁয়েছে। এ অবস্থায় দরিদ্রদের অনেকেই সরকারি ত্রাণ সুবিধা পেলেও লজ্জায় নিজেদের কথা জানাতে পারে না মধ্যবিত্ত। তাই দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত উভয় শ্রেনীর জন্যই ত্রাণ সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে এসেছে ‌‌‘রিলিফ ইন রেসপন্স টু কভিড-১৯’।

এ কার্যক্রমের উদ্যোক্তা ব্যাংকার শামীম আহমেদ বলেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা দুইভাবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছি।ঢাকা সিটির মধ্যে যারা আছেন তাদের কাছে সরাসরি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছি।আর ঢাকার বাইরে যারা আছেন তাদের কাছে টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছি। আমরা এ পর্যন্ত ৫০ পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছি, ১৫০ পরিবারকে খাদ্যপণ্য দিয়েছি এবং ২৫ পরিবারের মাঝে সবজি বিতরণ করেছি।’
তিনি জানান, ইফতারিসহ খাবার প্যাকেটও তারা বিতরণ করছেন। নিম্নআয়, দিনমুজুর, রিক্সাচালক, এটিএম বুথ সিকিউরিটি গার্ডরা আমাদের এই খাদ্য বিতরণ কর্মসূচীতে অর্ন্তভুক্ত আছে। জানান, কিছু বন্ধু, সহকর্মী, প্রবাসী  ও সংগঠন পাশে রয়েছেন। যারা আর্থিকভাবে ও শ্রম দিয়ে সহযোগিতা করছেন। যেমন – করোনা মোকাবেলায় আমরা বাংলাদেশ, বিদ্যানন্দ। বন্ধুদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে সহযোগিতা করছেন মোহাম্মদ ফারুক ও মোজাক্কের।

তিনি বলেন, ‘ত্রাণের সহযোগিতায় বেশিরভাগ অনুরোধ এসেছে ফেসবুক বন্ধুদের কাছ থেকে এবং আমাদের পেইজ থেকে।’ ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকার মিরপুরে এক পরিবারে বাবা-মা তাদের নিজের দুই কন্যা সন্তানকে ফেলে অন্যত্র চলে গেছে।অর্থের অভাবে মা তার বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে পারছে না। মধ্যবিত্ত পরিবার খাদ্য সংকটে পড়েছে।কারো কাছে হাত পেতে কিছু চাইতেও পারছেনা।’

শামীম আহমেদ জানান, অসহায় বিধবা অথবা মধ্যবিত্ত পরিবারের কেউ খাদ্য সংকটে পড়ে থাকলে যোগাযোগ করতে। তাহলে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হবে। তার ইমেইল- helphandsbd@gmail.com। ফোন_নাম্বার-০১৭১৩৩২৯৪৪৭। সুত্রঃ কালের কন্ঠ

চলাচলের জন্য প্রস্তুত ট্রেন, অপেক্ষা নির্দেশের

যেকোনও মুহূর্তে যাত্রী পারাপারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২৫ মার্চ থেকেই যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে সম্প্রতি সময়ে লকডাউন বিষয়ে সরকারের শৈথিল্য মনোভাব থাকায় ট্রেনকেও প্রস্তুত রেখেছে সংস্থাটি। সরকারের উচ্চমহলের নির্দেশনা পেলেই যে কোনও মুহূর্তে যাত্রী আনা-নেওয়ার জন্য চালু করে দেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, গত ২৫ মার্চের পর মালবাহী ট্রেন ছাড়া পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। তবে ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত স্টেশন মাস্টার, ট্রেন চালক-গার্ডসহ মাঠ পর্যায়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী সংশ্লিষ্ট হেডকোয়ার্টার এবং স্টেশনে রয়েছেন। ট্রেনগুলোও প্রতিদিন রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। এরইমধ্যে লাগেজ ভ্যান ট্রেন চালানোর নির্দেশনা পাওয়া গেছে। সরকারের নির্দেশনা পাওয়া গেলে যাত্রীবাহী ট্রেনও পরিচালনা করা হবে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে যদি ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত হয় তাহলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সব নির্দেশনা মেনেই পরিচালনা করা হবে।

জানতে চাইলে রেলওয়ে মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের কোনও সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তবে আমরা প্রস্তুত। সবগুলো ট্রেন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সরকার যখনই সিদ্ধান্ত দেবে আমরা তখনই ট্রেন চালাতে পারবো। আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।

রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ২৫ মার্চ থেকেই যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু আমরা মালবাহী ট্রেন পরিচালনা করে আসছি। আমরা ট্রেন চালাতে সব সময়ই প্রস্তুত। আল লাগেজ ভ্যান ট্রেন চালানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়া গেছে। লাগেজ ভ্যান, বিভিন্ন যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে একটি করে ‘লাগেজ ভ্যান’ কোচ চালানো হত। এখন আমরা পুরো একটি ট্রেনই শুধু মাত্র লাগেজ ভ্যান দিয়ে চালাব।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে, আগামী ১/২ দিনের মধ্যেই লাগেজ ভ্যান ট্রেন চালানো হবে। তরমুজ থেকে শুরু করে সব ধরনের সবজি-ফলমূল, কাঁচামাল বহন করা হবে এ ট্রেনে।

রেলপথ সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন জানান, করোনার সময়ে ট্রেন পরিচালনা করতে হলে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে এজন্য আমরা বেশ কয়েকবার বৈঠক করেছি। যদি দূরপাল্লার ট্রেন পরিচালনা করতে হয় তাহলে নির্ধারিত দূরত্ব রেখে যাতে যাত্রী বসানো হবে। এ জন্য এক একটি কোচে থাকা আসন সংখ্যার বিপরীতে অর্ধেক কিংবা তার বেশি সিট খালি রেখে টিকিট বিক্রি করবো। সে ক্ষেত্রে যাত্রীদেরও সর্বোচ্চ সর্তক হতে হবে। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

করোনায় প্রথম পুলিশযোদ্ধা কুমিল্লার বুড়িচংয়ের সন্তান না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

ডেস্ক রিপোর্টঃ করোনা মোকাবেলায় মাঠ পর্যায়ের প্রধান সম্মুখ যোদ্ধা বাংলাদেশ পুলিশের এক গর্বিত সদস্য কনস্টেবল মোঃ জসিম উদ্দিন (৪০) করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

চলমান করোনাযুদ্ধে দেশের সম্মানিত জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে মোঃ জসিম উদ্দিনের মৃত্যুতে বাংলাদেশ পুলিশ গভীরভাবে শোকাহত। একই সাথে দেশমাতৃকার সেবায় তাঁর এমন আত্মত্যাগে বাংলাদেশ পুলিশ গর্বিত। তাঁকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ।

করোনাযুদ্ধে আত্মউৎসর্গকারী মোঃ জসিম উদ্দিন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ারী বিভাগের একটি পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। করোনাকালে অর্পিত দায়িত্ব পালনকালে হঠাৎ করে জ্বরে আক্রান্ত হ‌লে গত ২৫ এপ্রিল ২০২০ খ্রিঃ তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর-এ করোনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এরপর থেকেই তিনি কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন।

কিন্তু গতকাল ২৮ এপ্রিল ২০২০ খ্রিঃ মঙ্গলবার রাতে কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় হঠাৎ করেই বে‌শি অসুস্থ হয়ে পড়‌লে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক রাত ১০টায় জসিম উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। আজ ২৯ এপ্রিল ২০২০ খ্রিঃ সকালে আইইডিসিআর থেকে জানানো হয়, মোঃ জসিম উদ্দিন করোনা পজেটিভ ছিলেন অর্থাৎ তিনি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছিলেন।

বাংলাদেশ পুলিশের ব্যবস্থাপনায় মোঃ জসিম উদ্দিনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় পাঠানো হবে। সেখানেই ধর্মীয়রীতি মেনে তাঁকে দাফন করা হবে। তিনি স্ত্রীসহ দুই মেয়ে এক ছেলেসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। করোনা যুদ্ধে আত্মোউৎসর্গকারী কনস্টেবল মোঃ জসিম উদ্দিনের পরিবারের পাশে সর্বোতভাবে থাকবে বাংলাদেশ পুলিশ।”

লিফটের নিচে চিকিৎসকের লাশ: ক্লু খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ

ফাইল ছবি

বড়লেখা ডেস্কঃ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও বিভাগীয় প্রধান ডা. এম এ আজাদ সজলের মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশায় পুলিশ। তারা এখনও এই ঘটনার ক্লু খুঁজছে। এদিকে মঙ্গলবার রাতে তার ছোটভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের ‍আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রাসেল।

মামলার বাদী ডা. আজাদের ছোট ভাই ডা. শাহারিয়ার উচ্ছাস জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের ইমামবাড়ি কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার বিকালে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রাসেল বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৯ জনকে থানায় নিয়ে ‍আসা হয়েছিল। ‍তাদের মঙ্গলবার থেকে বুধবার ১২টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনও হাতে ‍আসেনি। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য জানা সম্ভব হবে। বিষয়টিকে আমরা অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত ডা. এম এ আজাদ সজলের পরিবার ঢাকার কেরানীগঞ্জে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তিনি একা বরিশাল নগরীর কালিবাড়ি রোডের মমতা স্পেশালাইজড হাসপাতালের সপ্তম তলার একটি কক্ষে থাকতেন। মঙ্গলবার সেহেরির সময় ঢাকা থেকে তার স্ত্রী মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানায়। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে তার কক্ষের দরজা ভেঙেও সেখানে পাওয়া যায়নি। পরে ১০ তলা হাসপাতালের সব জায়গাতে খুঁজে লিফটের নিচের কুঠুরিতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

কোয়ারেন্টিন নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১

নীলফামারীর ডোমারে প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংর্ঘষে সুমন ইসলাম (১৮) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার গোমনাতি ইউনিয়নের উত্তর গোমনাতি এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। মধ্যরাতে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমনের মৃত্যু হয়। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে ডোমার থানার ওসি মো. মোস্তাফিজার রহমান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সুমন ওই এলাকার হারুন-অর রশীদের ছেলে। উপজেলার গোমনাতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ জানান, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশে ঢাকা থেকে আসা চার জনকে উত্তর গোমনাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। ওইদিন বিকালে কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিরা টয়লেটে যাওয়ার জন্য স্কুল ঘরের বাইরে এলে মালেক নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে। সেটি দেখে ফেলে রাকিব ইসলাম (২০)। সে মালেককে বলে, তুই কোয়ারেন্টিনে থাকা লোকদের কাছে গেছিস। তুই আমাদের এলাকায় আসতে পারবি না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এসময় সুমন তাদের ঝগড়া করতে নিষেধ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই গ্রামের ক্যাম্পপাড়া এলাকার সুলতান উদ্দিনের ছেলে রাকিব (২০) একটি গাছের ডাল দিয়ে সুমনের ঘাড়ে আঘাত করে। এতে সুমন মাটিতে পড়ে যায়।’

তিনি জানান, এলাকাবাসী সুমনকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ডোমার থানার ওসি মো. মোস্তাফিজার রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হবে। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

করোনায় ভাইরাসের পজিটিভ রিপোর্ট নিয়ে কর্মস্থলে যোগদান।

ছবিঃ প্রতিকি

বড়লেখা ডেস্কঃ ঢাকা ফেরত পিরোজপুর সদর উপজেলার এক গার্মেন্ট কর্মীর নমুনা পরীক্ষায় জানা গেছে তিনি করোনা পজিটিভ। কিন্তু রিপোর্ট আসার আগেই তিনি ঢাকার আশুলিয়ায় তার কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পিরোজপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিশির রঞ্জন অধিকারী এ তথ্য জানিয়েছেন।

ডা. শিশির রঞ্জন অধিকারী বলেন, ‘সিকদার মল্লিক ইউনিয়নের চালিতাখালী গ্রামের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি ঢাকার আশুলিয়া থেকে গ্রামের বাড়িতে আসার পর গত ২৩ এপ্রিল নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে তার করোনাভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর আমরা তার বাড়িতে গিয়ে জানতে পারি তিনি ২৫ এপ্রিল কর্মস্থল আশুলিয়ায় চলে গেছেন।’

পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বশির আহমেদ জানান, সোমবার রাতেই করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির আশুলিয়ার পোশাক কারখানার কর্তৃপক্ষ এবং সেখানকার থানাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া তার গ্রামের বাড়িতে থাকা পরিবারের অন্য সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

ঢেউপাশী হুজুর শায়খুল হাদিস আব্দুল মুমীতের ইন্তেকাল : দেশ বিদেশে শোকের ছায়া

এম.এম আতিকুর রহমানঃ মৌলভীবাজারের রত্ন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা শায়খুল হাদীস আল্লামা আব্দুল মুমীত ঢেউপাশী মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টায় সিলেট মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি দীর্ঘদিন থেকে নানা রোগে দুর্বল ছিলেন। তাঁর ইন্তেকালে বৃহত্তর সিলেটসহ দেশ বিদেশের আলেমসমাজের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। আলেম, উলামা-মাশায়েখ এবং দ্বীনদার বুদ্ধিজিবীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

তাঁর ইন্তেকালে গভীর শোক এবং পরিবার পরিজনের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড.আহমদ আবদুল কাদির, মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি মাওলানা আহমদ বিলাল, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল খালিকসহ জেলা উপজেলা খেলাফত মজলিসের নেতৃবৃন্দ।

করোনা সংক্রণ থেকে সুরক্ষার এবং দেশে চলমান প্রেক্ষাপটে লকডাউন থাকার কারণে মরহুম ঢেউপাশী (রহঃ) এর পারিবার ও আলেমসমাজের সিদ্ধান্তে ভোর ৬ ঘটিকায় খুব সংক্ষিপ্তাকারে জানাযা ও দাফন উনার বাড়ীর পাশে অনুষ্টিত হবে।

ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেছেন। কাউকে হুজুরের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। অতএব জানাযায় অংশগ্রহণের চেষ্টা না করে যে যেখানে আছেন বেশি বেশি তেলাওয়াত, নফল নামাজ ইত্যাদি করে দোয়া করতে পারেন হুজুরের জন্য।

দেশে করোনা পরিস্থিতি না হলে হুজুরের জানাযায় লক্ষাধিক আলেম-উলামাসহ ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করতেন এ জানাজা স্বরণীয় হয়ে থাকত।

হুজুর বৃহত্তর সিলেট বিভাগ তথা দেশের প্রবীণ শীর্ষ আলেম এবং ঐতিহ্যবাহী বরুনা মাদ্রাসার বর্তমান শায়খুল হাদিস। আল্লামা ঢেউপাশী (রাহ.) ছিলেন প্রবীণ প্রচারবিমুখ আলেমে দ্বীন অন্যতম ওরাসাতুল আম্বিয়া। গহরপুর জামেয়া থেকে ফারিগ হয়ে মৌলভীবাজার জামেয়া দ্বীনিয়া প্রতিষ্ঠিত করতে অন্যতম পুরোধার ভুমিকা পালন করেন। দীর্ঘদিন সেখানে বুখারীর দারস প্রদানকালে অধমও তাঁর সান্নিধ্য লাভে ধন্য হই। সিলেটের জামেয়া মাদানিয়া কাজিরবাজার মাদরাসার ১২ বছরে হাদীসের খেদমত করে আমৃত্যু তিনি ঐতিহ্যবাহী বরুণা মাদরাসার প্রায় ১ যুগ শায়খুল হাদিসের আসনে অধিষ্ট ছিলেন। তিনি হাজারো ছাত্রছাত্রীর প্রিয় শিক্ষক হিসেবে সমাদৃত ও সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর হাতেগড়া অগণিত ছাত্রছাত্রী আজ দেশ বিদেশে বিভিন্ন আসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

ঢেউপাশী হুজুরের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করছেন মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় মানুষ গড়ার কারিগর ঢেউপাশির জীবন অবসানের মাধ্যমে ইলমে হাদিসের কানন থেকে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ঝরে পড়লো। হুজুরের ইন্তেকালে সিলেটবাসী একজন বরেণ্য ও নিভৃতচারী আলেমেদ্বীন হারালেন। তাঁর শুণ্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে ঢেউপাশির হুজুরের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাভিভূত পরিবার পরিজন মুহিব্বিনন, মুতায়াল্লিকিনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সকলকে সবরে জামিলের তৌফিক কামনা করেন।

আহ! একে একে সব আসাতিজায়ে কেরাম আমাদেরকে ইয়াতীম করে চলে যাচ্ছেন। যে বিচ্ছেদ সহ্য করা বড় কঠিন। আমার বোখারী শরীফের অন্যতম উস্তাদ শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক, আল্লমা আব্দুল্লা দরখাস্তি, আল্লামা ইসহাক, মাওলানা নেজাম উদ্দিন রাহিমাহুল্লাহ প্রমুখ কেউই আজ দুনিয়ায় নেই। আল্লাহ তায়ালা সকলের দরজা বুলন্দ করুন এবং সবাইকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম দান করুন।

আমার জীবনে যে ক’জন শফিক উস্তাদের সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল, আল্লামা আবদুল মুমিত ঢেউপাশি হুজুর তাদের অন্যতম। আজ তিনিও চলেগেলেন পরম প্রিয় মাওলার সান্নিধ্যে। এই মহামারি সময়ে হুজুরের জানাযায় শরীক হতে না পারা, শেষ বিদায় জানাবার সুযোগ না পাওয়ার বেদনা বড় পীড়াদায়ক। আল্লাহ তোমার এই মুখলিস বান্দাকে জান্নাতের উঁচু মাক্বাম দাও। আমাদের সকলকেই ধৈর্য ধরার তৌফিক দাও।

হুজুর প্রায় ৭০ বছর বয়সে স্ত্রী ৩ ছেলে ২ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন

আলোকিত ব্যক্তি ও সমাজ বিনির্মানে রমজানের ভুমিকা

এম.এম আতিকুর রহমান

পবিত্র ও মহিমান্বিত রমজান চলমান। রমজানুল মুবারক এর আসল উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন। তাকওয়া বা পরহেজগারিতা অবলম্বনের মূলে হলো গোনাহ থেকে বিরত থাকা। গোনাহ থেকে বেচে থাকার প্রচেষ্টাই কেবলমাত্র একজন ইমানদারকে প্রকৃত মুমিন মুসলমানরুপে গড়ে তুলতে পারে। এবং এ-র কোন বিকল্প নেই। পবিত্র কালিমায় বিশ্বাস করেই শুধু পরিপূর্ণ মুমিন মুসলমান হওয়া যায় না। এজন্য প্রচেষ্টার সাথে কিছু বিশেষ মুমিনের গুণাবলী অর্জন করতে হবে। সেই সাথে বর্জনীয় নেফাকি মুনাফেকি চরিত্র পরিহার করতে হয়। কুরআন নাজিলের মহিমান্বিত রমজানুল মুবারক এর মাসে তাই আমাদের সকলকেই তা অর্জনের প্রয়াস চালানো অব্যাহত রাখতে হবে। কুরআনের সুরা মু’য়মিনুনের প্রথম ১০ আয়াত সহ বিভিন্ন আয়াতে ও রাসুলুল্লাহ সাঃ এ-র বিভিন্ন হাদিসে মুমিনদের গুণাবলীর বর্ননা দেয়া হয়েছে। নেফাকি চরিত্র তথা মুনাফেকের আলামতের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। মুমিনের গুণাবলী অর্জন এবং মুনাফেকি আলামত বর্জন করা অপরিহার্য। তাহলেই আমরা দুনিয়ার শান্তি ও আখেরাতে মুক্তি অর্জন করতে পারি।
সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফের হাদিসে প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এরশাদ ফরমান মুনাফেকের আলামত ৩টি, অপর রেওয়ায়তে ৪টি। কথা বললে মিথ্যা বলা, ওয়াদা খেলাপী করা। আমানতের খিয়ানত করা এবং ঝগড়া বিবাদ হলে অশ্লীল ভাষায় কথা বলা। এসকল মৌলিক মন্দ কার্যকলাপগুলো পরিহার করে মুমিনদের গুণাবলী অর্জন করতে হবে। তাহলেই আমরা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নতি সাধন করতে পারি। শান্তিময় খেলাফত আলা মিন হাজিহিন নবুয়ত এ-র আদলে ইনসাফপূর্ণ একটি সমাজ প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো। সুতরাং কুরআন নাজিলের মহিমান্বিত মাসেই আমাদেরকে সংকল্পবদ্ধ হয়ে সুন্দর শান্তিময় সমাজ বিনির্মানে ধাবমান হতেই হবে।

প্রিয়ভাজন একজনের রেখাপাত করার মতো জ্ঞানীদের উক্তি এখানে প্রণিধানযোগ্য।

তিনটি জিনিসের উপর ভরসা করা ঠিক নয়। নদীর পাড়ের বাড়ি, ব্রেক ছাড়া গাড়ি, পর্দা ছাড়া নারী।
তিনটি জিনিস একবার আসে।মাতা-পিতা, সৌন্দর্য্য, যৌবন।
তিনটি জিনিস ফিরিয়ে আনা যায়না। বন্দুকের গুলি, কথা, রূহ।
তিনটি জিনিস মৃত্যুর পর উপকারে আসে। সু-সন্তান,
সদকা, ইলম।
তিনটি জিনিস সম্মান নষ্ট করে। চুরি, চোগলখুরী, মিথ্যা।
তিনটি জিনিস পেরেশানিতে রাখে। হিংসা, অভাব, সন্দেহ।
তিনটি জিনিসকে সর্বদা মনে রেখ। উপদেশ, উপকার, মৃত্যু।
তিনটি জিনিসকে আয়ত্বে রেখ। রাগ, জিহবা, অন্তর।
তিনটি জিনিস অভ্যাস কর।নামাজ, সত্য বলা, হালাল রিযিক।
তিনটি জিনিস থেকে দূরে থেকো। মিথ্যা, অহংকার, অভিশাপ।
তিনটি জিনিসের জন্য যুদ্ধ কর। দেশ, জাতি, সত্য।
তিনটি জিনিসকে চিন্তা করে ব্যবহার কর।কলম, কসম, কদম।

মহান আল্লাহ তায়ালা দয়া করে রমজানের উছিলায় বরকতময় দিবস গুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিন। আলোকিত ব্যক্তি ও সমাজ বিনির্মানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার তৌফিক দিন আমাদের সকলকে।
লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

বড়লেখায়ঃ পারিবারিক ঐতিহ্য ইসলামিয়া বিল্ডিং ও টঙ্গীওয়ালা বাড়ি।

আমাদের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলা অন্তর্গত বড়লেখা ২নং দাসের বাজার ইউনিয়নের সুড়িকান্দি (রসগ্রামের) ঐতিহ্যবাহী বাড়ি।

জন্মের ৩বছর পর্যন্ত শিশুকাল কেটেছিল সেই বাড়িতে পরবর্তীতে সেখান থেকে বড়লেখা পৌর:শহরে আমার বাবা ও চাচাগন জায়গা কিনে বাড়ি বানিয়ে এসেছেন। সেখানে আজও অনাবদ্য বসবাস করে আসছি।

আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য বড়লেখা ইসলামিয়া বিল্ডিং ও টঙ্গীওয়ালা বাড়ির স্বনামটি আজও গোটা বড়লেখায় বিসৃত। বড়লেখা হাজিগঞ্জ বাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত প্রচীনতম ইসলামিয়া বিল্ডিংটিও আমার দাদাদের তৈরিকৃত নিজস্ব সম্পওির উপর দাড়িয়ে আছে। উওরসূরী তথা ভূমির মালিকানা হিসাবে বর্তমানে বাবা ও আমাদের চাচাগন (বাবার চাছাতো ভাইগন & যৌত মালিকানাধীন) সেগুলোর দেখাশুনার কাজ করছেন। এছাড়াও রয়েছে আরো বেশ কিছু ভূমির সওাধিকারী।

দ্বিতীয়ত,আমাদের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলা অন্তর্গত বড়লেখা ২নং (ইউনিয়ন) দাশের বাজার সুড়িকান্দি (রসগ্রামের) ঐতিহ্যবাহী বাড়ি।
আমাদের গ্রামের বাড়িটি টঙ্গীওয়ালা বাড়ী বা হাতিওয়ালা বাড়ী বলে পরিচিতিটি বেশ বিসৃত।

তৎকালীন সময়ে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যাদূরীকরণে আমাদের বাড়িটি বিচারালয় কেন্দ্র হিসাবে পরিচালিত হত।

আমাদের দাদার ৫ভাই ও তিন বোনদের মধ্যে আমার দাদা ছিলেন সর্ব প্রধান। মুলত দাদার দ্বিতীয় ভাই মস্তকিম আলী (মম্তই মিয়া) যার কর্মের গুণে আমাদের পরিবারটি ঐতিহ্যগত দিকে আজও অনেকটা এগিয়ে রয়েছে।

এছাড়া উনার বাকী ভাইগন পারিবারিক ব্যবসা,মহালদারের ব্যবসা,হাতি ব্যবসা,কৃষি সহ বিভিন্ন কর্মসংস্থানের জড়িত ছিলেন। নিজ বাড়িতেও হরিণ পালন ও মহীষ পালনে দেখাশুনা করতেন।

মস্তকিম আলী (মস্তই মিয়া) ছিলেন একদিকে ন্যায় বিচারক এবং অন্যদিকে ছিলেন একজন স্বনামধন্য হাতি ব্যবসায়ী। তৎকালীন ভারতের (বর্তমান) আসাম রাজ্যের অন্তর্গত করিমগঞ্জে তিনি হাতি ব্যবসাতে নিজেকে আত্ননিবেশ করেন।

লোকমুখে শুনা যেত যে হাকিম নড়েন কিন্ত মস্তকিম আলী মস্তই মিয়ার সিদ্ধান্ত (পরিবর্তন) নড়ে না। যত বড়ই সমস্যা হোকনা কেন মস্তকিম আলী (মস্তই মিয়া) তা অতি সহজে বিচারিক কাজ সম্পন্য করতে পারতেন।

বড়লেখা উপজেলা সহ অন্যান্য এলাকায় যারা প্রবীণ লোক রয়েছেন তারা মস্তকিম আলীকে (মস্তই মিয়াকে) চেনেননা বলে এমন লোক পাওয়া অত্যন্ত দুষ্কর।

আমাদের পরিবারের (তৎকালীন যৌথ পরিবারে) মোট ৯টি বড় হাতি ছিলো। তার মধ্যে সবছেয়ে বড় (পুরুষ) হাতিটি ছিলো বাংলাদেশের বৃহৎ কয়েকটি হাতির মধ্যে একটি।

আমার দাদী এবং বাবার মুখ থেকে শুনা সম্ভবত ১৯৭১ কিংবা এর কিছুদিন পর স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বৃহৎ আকারের হাতিটি দেখে মুগ্ধ হয়ে তৎকালীন সময়ে সে হাতিটিকে হাজার খানেক টাকা দিয়ে পুরুষ্কৃত করেছিলেন।

যেটি আমাদের দাদাগনের নিজস্ব সম্পওির উপর নির্মিত হয়ে এখনো রয়ে গেছে। উওরসূরী তথা ভূমির মালিকানা হিসাবে বর্তমানে বাবা ও আমাদের চাচাগন (বাবার চাছাতো ভাইগন & যৌত মালিকানাধীন) সেগুলোর দেখাশুনার কাজ করছেন। এছাড়াও রয়েছে আরো বেশ কিছু ভূমির সওাধিকারী।

আবার অনেকে আমাদের বাড়ি ও পারিবারিক পরিচয় দিয়ে অনেক জায়গাতে আত্নীয়তার বন্ধনেও আবদ্ধ হয়েছেন (এমন অসংখ্য নজীরও রয়েছে)

কালের অবর্তমানে হয়তো অনেকগুলো হারিয়ে গেছে,হারিয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী টঙ্গীওয়ালা বাড়িতে বিচারিক কাজের সেই ধ্বনি উচ্চাষিত কন্ঠসূর,হারিয়ে গেছে হাতির গলায় ঘন্টি পরিয়ে কল কল শব্দ পেরিয়ে বাড়িতে আসার সেই সৃতিময় মুহুর্তটি,হারিয়ে গেছে আরও কত কি,ফ্যাকাশ দরেছে ঐতিহ্যবাহী ইসলামিয়া বিল্ডিয়ের সৌন্দর্যরুপী ভবনের রংধনুতে,কিন্ত হারিয়ে যায়নি পরিবারের অতীত ঐতিহ্যগাতা হারানো দিনের সফল পরিক্রমা।

বড়লেখা উপজেলার বাহীরে কিংবা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্থানে আলাপচারিতা ও পরিচয়ের সুবাদে যখন যানতে পারি আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের স্মৃতি বিজড়িত এমন নন্দনময়ী বৈনাঢ্য ইতিহাস সত্যি নিজেকে অনেক ধন্য মনে হয়।

সত্যি কথা বলতে গেলে আজও অনেক স্থানে লোকমুখে যতটুকু আমাদের বাড়ীর পরিচিতি এবং দাদাগনকে লোকজন যতটুকু চেনেন ততটুকু আমাদের বাপ-চাচাগনকেও লোকজন চেনেননা।

একসময়ের প্রাণচাঞ্চল্য বাড়িটি কালের বিবর্তনে নিস্তব্ধতার ছোয়া লেগেই আছে। দাদার পাচঁ ভাইদের সন্তান-সাতন্তীগন (নাতি-নাতনী) সকলেই দেশ বিদেশে স্থায়ী বসবাস সহ শহরাঞ্চলে চলে গিয়ে বাড়িটি অনেকটাই লোক-লোকারণ্যহীন।

জহির আলীর পাচঁ সন্তান ও তিন মেয়ে ছিলেন যথাক্রমে (আমার দাদাগন)

১।মরহুম ইব্রাহীম আলী।
২।মরহুম মস্তকিম আলী (মস্তই মিয়া)
৩।মরহুম মন্তজির আলী।
৪।মরহুম মুছব্বির আলী এবং ৫।মরহুম সফিকুর রহমান (চঞ্চল) বাকী দাদীদের নাম (দাদার বোনদের) স্বরুণ করতে পারছিনা।

আমি যতটুকু জানি আমার দাদার বাবার নাম ছিলো জহির আলী মিয়া এবং জহির আলী মিয়ার বাবার নাম ছিলো ইলিম আলী। জহীর আলীগন দুইভাই ছিলেন। জহির আলী ও রাশীদ আলী।

বেচেঁ থাকুক পারিবারিক ঐতিহ্য……… বেচেঁ থাকুক কালজয়ী ইতিহাস হয়ে আমাদের জীবন তরে….যুগের পর যুগ দরে…….প্রজন্মের ইতিহাস হয়ে।

নিজেদের পারিবারিক ঐতিহ্য নিয়ে লিখেছেন আমিনুল বাবলু

ফাইল ছবি

বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ব্যক্তি কক্সবাজারের জিন্নাত আলী আর নেই

বড়লেখা ডেস্কঃ বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ব্যক্তি কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া বড়বিল গ্রামের জিন্নাত আলী আর নেই। মস্তিস্কে টিউমার আক্রান্ত জিন্নাত গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আজ (২৮এপ্রিল) ভোরে ইন্তেকাল করেন। ইন্না…রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ২৪ বছর। তার পিতার নাম আমির হামজা।

জিন্নাত আলীর উচ্চতা ছিল ৮ ফুট ৮ ইঞ্চি। ওজন ছিল ১৩০ কেজি। তার এই উচ্চতা মোটেও স্বাভাবিক ছিল না। হরমোনজনিত সমস্যায় তিনি বিপাকে ছিলেন। ফলে অনেক দিন থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েও তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন।

জিন্নাত আলীর পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, জিন্নাত দেশের সবচেয়ে দীর্ঘকায় মানুষ। তার এই উচ্চতার জন্য পরিবারের লোকজন গর্বিত ছিলেন না। বরং তারা মনে করতেন, অভাব ও দারিদ্র্যের কারণে সুচিকিৎসার অভাবে উচ্চতা থামানো যায়নি।

জিন্নাত স্বাভাবিক মানুষের মত জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং সেভাবেই বড় হচ্ছিলেন। ১২ বছর বয়স পর্যন্ত তার গ্রথ স্বাভাবিক ছিল। ১২ বছর বয়সের পর থেকে তিনি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকেন।

জিন্নাতের প্রচুর খাবার প্রয়োজন হতো। প্রতিবেলায় এক কেজি চালের ভাত, আর প্রচুর পরিমাণে তরকারি লাগতো। পরিবার সেটা ঠিকমতো দিতে পারতো না। অতিরিক্ত উচ্চতার জন্য জিন্নাত আলী তেমন কোন কাজও করতে পারতেন না।

১লা মে থেকে দোকান খুলতে চায় বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি

ফাইল ছবি

বড়লেখা ডেস্কঃ আগামী পহেলা মে থেকে ক্ষুদ্র, খুচরা ও পাইকারি মার্কেটসহ সারাদেশের সব দোকান খুলতে চায় বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সোমবার এ প্রস্তাব দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে তারা। চিঠিতে বলা হয়, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে আগামী মাস থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব ধরণের দোকান খোলা রাখতে চায় তারা। প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক এলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও এফবিসিসিআই সভাপতিকেও এ চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, করোনা ভাইরাস মহামারি প্রতিরোধে গত ২৫ মার্চ থেকে বাংলাদেশের সব দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরকারি ছুটির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বন্ধ রাখা হয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা দোকানিদের পাওয়ার সুযোগ নেই। তাই তাদের আয়ের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে দোকান মালিক ও তাদের কর্মচারীরা অর্ধাহারে ও অনাহারে অতিকষ্টে দিনযাপন করছেন। তাদের এখন পথে বসার উপক্রম।

দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, পহেলা বৈশাখে মার্কেট ও দোকান বন্ধ থাকায় ৬ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকার পুঁজি নষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে রমজান ও ঈদে ২০ থেকে ২২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করা হয়। তা বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তা সত্ত্বেও বর্তমান করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পাইকারি, ক্ষুদ্র ও খুচরা মার্কেট ও দোকান বন্ধ রাখার মানসিক প্রস্তুতি ছিল তাদের। কিন্তু এফবিসিসিআই’র উদ্যোগে আলোচনা সভায় বিভিন্ন শিল্প খোলার সিদ্ধান্ত হয়। ইতিমধ্যে নরসিংদীর বাবুর হাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দোকান খোলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সমিতি।

এর আগে বাংলাদেশ দোকান মলিক সমিতি জানায়, এক দিন দোকান বন্ধ থাকার ক্ষতি ১ হাজার ৭৪ কোটি টাকা। তারা এ হিসাব করেছে একেকটি দোকানে গড়ে ২০ হাজার টাকা বিক্রি ধরে। আর লভ্যাংশ ধরা হয়েছে ১০ শতাংশ। গত ১ এপ্রিল এ হিসাব দেয় দোকান মালিক সমিতি। এ হিসাব দিয়ে কর্মচারীদের বেতন দিতে আড়াই হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের দাবি জানিয়েছে সমিতি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় তারা দোকান খোলার প্রস্তাব দিয়েছে।

বড়লেখায় বোরো ধান কেটে দিলেন স্কুল শিক্ষক ও শিক্ষার্থী

দৈনিক বড়লেখাঃ করোনা পরিস্থিতিতে চলছে ধানা কাটা শ্রমিক সংকট। এ অবস্থায় কৃষকের জমির বোরো ধান কেটে দিলেন বড়লেখা উপজেলার ১নং বর্নি ইউনিয়নের পাকশাইল আইডিয়াল হাইস্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এর ২১ এপ্রিল ২০২০ ইং তারিখের প্রেরিত পত্রের প্রেক্ষিতে (২৮এপ্রিল) মঙ্গলবার সকালে পাকশাইল আইডিয়াল হাইস্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী (পুরুষ) মিলে পাকশাইল গ্রামের দরিদ্র কৃষক মো. নুর উদ্দিন মিয়ার প্রায় ৩০ শতক জমির বোরো ধান কাটায় সহযোগিতা করেন।

প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ধান আহরণ কাজে নিযুক্ত ছিলেন- বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ রেহান উদ্দিন, মো. সোহরাব হোসাইন, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বিদ্যালয়ের দপ্তরি মো. ছইফ উদ্দিন।

বড়লেখার সুজানগর ইউনিয়ন পরিষদে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

নিজস্ব সংবাদঃ বর্তমান সময়ের করোনা মহামারি প্রেক্ষাপটে করণীয় এবং বর্জনীয় কি? এ নিয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ মিটিং করা হয় বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে।

সোমবারে (২৭এপ্রিল) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব নসিব আলী সাহেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারগণ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ,আগর এসোসিয়েশনের ব্যক্তিবর্গ, আজিমগঞ্জ বাজার কমিটি, সিএনজি কমিটি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ সহ অন্যান্যরা।

সভায় প্রাথমিকভাবে কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়:

(১) বাজারে লোকজনের সমাগম কমিয়ে আনা।
(২) একজনের বেশি মোটর সাইকেলে যাতায়াত না করা।
(৩) বিকেল ৫:৩০ এরপর পর বাজারের মধ্যে কোন লোক না থাকা ।
(৪)যেহেতু বর্তমানে রমজান মাস ইফতার নিয়ে আসা যাওয়ার একটা রীতি রেওয়াজ আছে তাই বর্তমান সময়ে বিবেচনা করে আমরা ইফতার দেওয়া এবং নেওয়া থেকে বিরত থাকব কোনো ভাবেই এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
(৫) বিভিন্ন সংযোগ সড়কগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হবে।
(৬) জনসচেতনা মূলক প্রচার চলমান থাকবে।
(৭)সিএনজি ড্রাইভার দের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একজন আরোহী নিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা যাবে অন্যথায় কোন সিএনজি রাস্তায় বের হতে পারবে না।
(৮) এলাকায় কোন বাহিরের লোক আসলে সাথে সাথে ইউনিয়ন পরিষদকে অবগত করা।
ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন,অন্যকে নিরাপদ থাকতে সাহায্য করুন,আসুন সবাই মিলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই একমাত্র আল্লাহই পারেন আমাদের এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে।

বড়লেখা’র ক্ষণজন্মা শিক্ষাবিদ সাবেক চেয়ারম্যান মুছব্বির আলীর আর নেই

এম.এম আতিকুর রহমানঃ
বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর (কাঠালতলী) ইউনিয়নের সাবেক চার চারবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও কাঠালতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক বড়খলা গ্রামের কৃতি সন্তান আমেরিকার স্হায়ী বাসিন্দা আলহাজ্ব মুছব্বির আলী আজ রাত প্রায় ৮ ঘটিকায় আমেরিকার একটি হাসপাতালে ইহকাল ত্যাগ করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।
মানুষ গড়ার কারিগর এ কৃতীমান বীর পুরুষ শিক্ষকতার পাশাপাশি সমাজ সেবায়ও অনবদ্য অবদান রেখে গেছেন। তিনি বিএনপির দক্ষ রাজনীতিবিদ হিসেবে ইউনিয়নের চার চার বারের সফল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে তিনি এলাকার উন্নয়ন অগ্রগতি এবং সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। অমায়িক ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন এ ক্ষণজন্মা শিক্ষাবিদ হাজার হাজার কৃতিত্বের অধিকারী ছাত্র -ছাত্রী তৈরী করেছেন। যারা আজ সমাজের বিভিন্ন শ্রেনীপেশায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
তাঁর ইন্তেকালে এলাকায় ও দেশ-বিদেশের হাজারো ভক্ত অনুরাগীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
আমরা কায়মনোবাক্যে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম কামনা করছি এবং পরিবার পরিজন সহ সকলকে সবরে জামিল প্রদানের মিনতি করছি।

বড়লেখায়ঃ সেচ্ছায় শ্রমদানে মেরামত করা হলো পূর্ব মাইজ পাড়ার রাস্তা


মোঃইবাদুর রহমান জাকিরঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পৌরসভার সীমা প্রাচীর সংলগ্ন ৬নং সদর ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামের ভিতর ভায়া(কেছরিগুল)পাঁচমিরের মাজার রোডে মানুষ চলাচলের রাস্তা অনুপযোগী হওয়ায় পুর্ব মাইজপাড়া গ্রামের মুরব্বিগনের নেতৃত্বে (২৭এপ্রিল)সোমবার সকালে দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন গ্রামের মুরব্বী সুনা মিয়া,আজন মিয়া,আব্দুস সত্তার,ফখরুল ইসালাম,মনাই মিয়া,আব্দুন নূর,রজব আলী। সেচ্ছায় শ্রমদানে রাস্তা মেরামতকরেন আব্দুল মজিদ, আব্দুল জলিল, আব্দুল মুহিত, আবুল হোসেন, ইমরান আহমেদ, খালেদ আহমদ, নুরুল ইসলাম, জাহিদুর রহমান, শাহজান আহমেদ, সিদ্দিকুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, শামিম আহমেদ ইমন, আহমেদ ফয়জুর রহমান, আরিফ আহমেদ, কাইয়ুম আহমেদ প্রমুখ।

বড়লেখায় আরো ১নারী করোনা আক্রান্ত।

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় এবার এক নারীর শরিরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দুই জন।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিঅার ল্যাবে ১৫৬ জনের নমুনা পরিক্ষা করা হয়। পরিক্ষায় বড়লেখার ১ জনের করোনা পজিটিভ আসে।

বড়লেখা উপজেলা সাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রত্নদ্বীপ বিশ্বাস আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন আক্রান্ত নারির বাসা বড়লেখা পৌর এলাকায়। তার বাসা লকডাউন করা হবে।

এর আগে শনিবার বড়লেখায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়।আক্রান্ত অই যুবকের বয়স অনুমান ৩৫ বছর। তিনি বর্তমানে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি রয়েছেন। তার বাড়ি বড়লেখা দক্ষিনভাগ ইউপির উত্তর কাশেম নগর গ্রামে। তিনি সমন ভাগ চা বাগানে চা,ছোলা ও পিয়াজ বিক্রি করতেন।

“মাহতাব আল মামুন”প্রবাসে থেকেও সবার ভালোবাসায় জড়িয়ে আছেন

মাহতাব আল মামুন


ইবাদুর রহমান জাকিরঃমৌলভীবাজারের বড়লেখার উপজেলার ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বিছরাবন্দ গ্রামের কৃতিসন্তান মাহতাব আল মামুন সৌদি আরব প্রবাসী। তিনি স্বদেশে এলাকার মানুষের মমতায় অসহায় দরিদ্রের কল্যাণে বড়লেখা উপজেলার মেধাবী তরুণদের সমন্বয়ে গঠন করেন এক‌টি ভিন্নধর্মী সাহিত্য ভিত্তিক সামাজিক সংগঠন “বড়লেখা পাবলিকেশন্স সোসাইটি”। এই সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল,মাদ্রাসা ও এতিমখানায় সাহায্য সহযোগিতা অব্যাহত।

উপজেলায় এই সংগঠনের মাধ্যমে কয়েকটি টিউবওয়েল সহ বিভিন্ন মাদ্রাসায় হিজাব সৌরবিদ্যুৎ , সিলিং ফ্যান বিতরণ সহ অসংখ্য ছাত্র/ছাত্রীদের পঠ্য পুস্তক বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

এ ছাড়া ও বর্তমান সমাজের তরুণ লেখক লেখিকাদের সমন্বয় সুন্দর সাহিত্য প্রকাশনায় বড়লেখা পাবলিকেশন সোসাইটি হতে প্রকাশনার বদ্ধপরিকর।

বিশ্বের মানুষ যখন করোনা প্রাদূর্ভাবে গৃহবন্দী এক দিকে অর্থনৈতিক মন্দা অপর দিকে চলছে করোনা আক্রান্তের সাড়ি সাড়ি। বৃদ্ধি পাচ্ছে মৃত্যুর মিছিল, সে সময়ে আজ স্বদেশের অসহায় নিম্নবৃত্ত মধ্যবৃত্তের কথা ভূলে যাননি বরং বড়লেখা পাবলিকেশন সোসাইটির প্রতিষ্টাতা চেয়ারম্যান মাহতাব আল মামুন অসংখ্য মানুষের মতো তিনিও সোসাইটির ব্যাবস্থাপনায় প্রবাসী প্রিয়জনদের আর্থিক সহযোগিতায় নিয়ে ইতিমধ্যে উপজেলার বেশ কিছু পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন।

উল্লেখ্য, বড়লেখাবাসীর কল্যাণে নাড়ির ঠাঁনে আরও তিনটি উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি যা একমাত্র তাহাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায়, মানুষের মূখে হাসি ফুঁটানো হবে। বড়লেখা পাবলিকেশন্স সোসাইটির ব্যাবস্থাপনায় আগামী ২৯এপ্রিল উপজেলার শতাধিক পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রীয় বিতরণ করা হবে, তাছাড়া আগামী ১মে তাঁহার নিজ গ্রামে খাদ্য ও ২৫রামাজান ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হবে ।

মাহতাব আল মামুনের বাল্যকাল থেকে সমাজের কিছু করার অভিপ্রায় ছিল তাঁর ধারাবাহিকতার আলোকে মানবসেবা ইবাদাত
মনে করে সর্বদাই মানুষের পাঁশে।
আসুন আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বড়লেখা পাবলিকেশন্স সোসাইটিসহ যে কোন সামাজিক সংগঠন কে সহযোগীতা করি “নিজে ঘরে থাকি অন্যকে ঘরে থাকতে উৎসাহিত করি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি দেশও জাতিকে করোনা প্রাদূর্ভাব মুক্তরাখি” পাশাপাশি সাহায্যের হাত নিয়ে মানুষের পাঁশে দাঁড়াই।

সৈয়দ উদ্দীন খানের মৃত্যুতে সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর শোক প্রকাশ

ফাইল ছবি


ইবাদুর রহমান জাকিরঃসিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা পশ্চিমপারের সৈয়দ উদ্দীন খান (৮৫) রবিবার ভোর রাতে লন্ডনের নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না…রাজিউন)। তিনি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শিল্পপতি সামসুূদ্দীন খান ও এবি মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক শিল্পপতি মোসলেহ উদ্দীন খানের বড়ভাই।

তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভোগছিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী, ৪পুত্র, ২ কন্যা, ৩ ভাই ও ৪ বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

শোকবার্তা : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এক শোক বার্তায় বর্ষিয়ান আওয়ামী লীগ নেতা, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শিল্পপতি সামসুূদ্দীন খান ও এবি মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক শিল্পপতি মোসলেহ উদ্দীন খানের বড়ভাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।তিনি মরহুমের আম্তার প্রতি শান্তি কামনা ও শোকসপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

পৃথক বার্তায় শোক প্রকাশ করেছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল, পৌর মেয়র মোঃ আব্দুস শুকুর।

মাহে রামাদান ইবাদতের বসন্তকালে,বয়ে চলুক জান্নাতি সুবাস-এম.এম আতিকুর রহমান

আহলান সাহলান সু-স্বাগতম পবিত্র মাহে রমজানুল মোবারক। শুরু হওয়া রমজান মাস হলো ইবাদতের বসন্তকাল। এ মাসে প্রতিটি মুমিন হৃদয়ে বয়ে আনে জান্নাতি সুবাস। এ মাসে মহান প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালা প্রতি মুহূর্তে দিনে-রাতে মুমিনদের উপর অবারিত রহমতের বারিধারা বর্ষণ করেন।
ইবাদতপাগল মুমিনদের জন্য মাগফিরাত ও জান্নাতের সকল আয়োজন প্রস্তুত রেখেছেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা।

রমজান শব্দটি আরবি ‘রমজুন’ শব্দ থেকে উৎগত হয়েছে। শাব্দিক অর্থ হচ্ছে, জ্বালিয়ে দেওয়া, ভষ্মীভুত হওয়া ইত্যাদি। যেহেতু রোজা পালনের মাধ্যমে মানুষের মনের ক্রোধ, কু-প্রবৃত্তি, হিংসা-বিদ্বেষ সব কিছু ভষ্মীভুত হয়ে যায়, তাই রোজার এ সিয়াম সাধনার মাসকে রমজান মাস বলা হয়।

হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে রমজান মাসব্যাপী রোজা রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। পরিভাষায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খানাপিনা ও জৈন কামনা বাসনাসহ বৈধ জৈবিক চাহিদাও পূরণ থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম সাধনা বা রোজা। আল্লাহ তায়ালা কোন মাসকে অন্য মাসের উপর, কোন দিবসকে অন্য দিবসের উপর শ্রেষ্টত্ব দান করেছেন। এরকমই পবিত্র রমজানুল মোবারক হলো শ্রেষ্ঠ মাসের অন্যতম একটি মাস। এর প্রতি মুহূর্তে ইবাদত পাগল মুমিনদের উপর বর্ষিত হয় রহমতের বারিধারা। এজন্যই বহুগুন আমলের সওয়াব বেড়ে যায়। হাদিসে প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এরশাদ ফরমান, রমজানে আসমানের বরকতের দরজা খুলে যায়, জান্নাতের সব দুয়ার খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দুয়ার বন্ধ করে দেয়া হয়। মরদুদ শয়তান শৃঙ্খলিত হয়।
আল্লাহর বান্দদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মহান মুক্তি বার্তা নিয়ে ধাবমান হয় রমজান। এতে রয়েছে শবে কদরের রজনী, যা হাজারো মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এসব নানাবিধ মর্যাদা বৈশিষ্ট্যের অপূর্ব সমাহার মাহে রমজান। তাই তো রমজান মাসকে ইবাদতের বসন্তকাল বলা হয়ে থাকে। ইবাদত, তাকওয়া ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উর্বর সময়। এ উর্বর সময়ে বান্দা যথাযথভাবে নিষ্ঠার সাথে কাজে লাগাতে পারলে একটুখানি সাধনা, ক্ষুদ্র পরিশীলন এবং অনুশীলন এ-র মাধ্যমে প্রশান্তির বারিধারায় সিক্ত হয়ে হাসিল করতে পারেন আল্লাহ তায়ালা’র মহাসন্তুষ্টি। তথা দুনিয়ায় কল্যাণ ও আখেরাতে মহামুক্তি।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম একটি স্তম্ভ। রোজার বিধান ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা কুরআন কারিমে ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে করে তোমরা মুত্তাকি হতে পার’।

হযরত কা’ব ইবনে উজরা (রা.) হতে বর্নিত, তিনি বলেন- একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে বললেন, তোমরা মিম্বরের নিকট সমবেত হও। আমরা সকলেই তথায় উপস্থিত হলাম। যখন তিনি মিম্বরের প্রথম সিড়িঁতে পা রাখলেন,তখন বললেন, আমীন, যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখলেন বললেন, আমীন, যখন তিনি তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখলেন বললেন, আমীন। হযরত কা’ব ইবনে উজরা (রা.) বলেন, যখন তিনি (মিম্বর থেকে) অবতরণ করলেন, আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আজ (মিম্বরে উঠার সময়) আমরা আপনাকে এমন কিছু কথা বলতে শুনেছি, যা ইতিপূর্বে কখনো শুনিনি। উত্তরে তিনি বললেন, জিবরাইল (আ.) আমার নিকট আগমন করেছিলেন, যখন আমি প্রথম সিড়িঁতে পা রাখলাম, তখন তিনি বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে রমজান মাস পেল, তবুও তার গুনাহ মাফ করাতে পারলো না। আমি বললাম, আমীন। যখন দ্বিতীয় সিড়িঁতে পা রাখলাম তখন বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যার নিকট আপনার নাম উচ্চারিত হলো অথচ সে আপনার প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করলো না। আমি বললাম আমীন। যখন তৃতীয় সিড়িঁতে পা রাখলাম, তখন বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে তার পিতা-মাতা উভয়কে অথবা একজনকে পেল আর তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল না। অর্থাৎ তাদের খেদমতের মাধ্যমে নিজেকে জান্নাতী করতে পারলো না। আমি বললাম, আমীন।

হযরত আবু হুরয়রা (রা.) বলেন, রমজান মাস লাভকারী ব্যক্তি যে উত্তমরূপে সিয়াম ও কিয়াম (রোজা, তারাবী ও অন্যান্য আমল) পালন করে, তার প্রথম পুরস্কার এই যে, সে গুনাহ থেকে ঐ দিনের মতো পবিত্র হয় যেদিন মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল।

হযরত সালমান ফারসী (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, মহানবী (সা:) শা’বান মাসের শেষ দিন আমাদেরকে সম্বোধন করে ইরশাদ করেন, ‘হে লোক সকল! তোমরা মনযোগ দিয়ে শোনে রাখ, তোমাদের সামনে এমন একটি মাস সমাগত। যে মাস মহা পবিত্র, রহমত-বরকত ও নাজাতে ভরপুর। এই মাসের রোজাকে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর ফরজ করেছেন। যে লোক এই মাসে আল্লাহর সন্তুষ ও তার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে রোজা রাখবে আল্লাহ তার পূর্ববর্তী সমস্ত গোনাহ মাফ করে দিবেন।

হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা রমজান মাসের প্রত্যেক দিবস ও রাত্রিতে অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। এবং প্রত্যেক মুমিন বান্দার একটি করে দুআ কবুল করেন।

রমজান আমাদেরকে আল্লাহর রহমত লাভের সুবর্ণ সুযোগ করে দিয়েছে। এই দশকে আমরা বেশি বেশি করে ইবাদত-বন্দেগী, কুরআন তেলাওয়াত, দান সদকা, তওবা, ইস্তেগফার ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে পবিত্র এই মাসের যথাযথ হক আদায় করে রোজা, তারাবিহ, তাহাজ্জুদ, তেলাওয়াত সহ অন্যান্য নফল ইবাদতে আত্মনিয়োগ করার তাওফিক দিন।
নেফাকি বদচরিত্র- মিথ্যা, ওয়াদা খেলাপী, আমানতের খিয়ানত, অশ্লীলতা/অশ্লীল কথা বলা ইত্যাদি থেকে বিরত থেকে পরিপূর্ণ মুমিনের গুণাবলী অর্জন করার মাধ্যমে আগামীর সুন্দর একেক ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠনের তৌফিক দিন। কায়মনোবাক্যে মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট করি সেই মিনতি।

লেখক; সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

বড়লেখার দাসের বাজারে “বিএনপি নেতা শরিফুল হক সাজুর” অর্থায়নে ফ্রি সবজি বিতরণ


নাহিদ আহমদ বড়লেখাঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় করোনা ভাইরাসের কারনে অঘোষিত লকডাউনে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। এতে অনেক গরিব দরিদ্র পরিবার খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও কাতার বিএনপির সাধারন সম্পাদক জনাব শরিফুল হক সাজু। সাজুর নিজ অর্থায়নে ২ নং দাসের বাজার ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ টি পরিবারের মাঝে ফ্রি সবজি বিতরন করা হয়।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) দাসের বাজার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই সবজি বিতরন শুরু হয়। সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত চলে সবজি বিতরন। ৫০০ টি পরিবারের মধ্যে আলু, টমেটো, শসা, পাতা কবি, মরিচ, লাল শাক, ঢেড়শ বিতরন করা হয়।

উক্ত সবজি বিতরন উদ্বোধন করেন ২নং দাসের বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব কমর উদ্দিন সাহেব।
এছাড়াও দাসের বাজার ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, সেচ্ছাসেবক দল অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্তিত ছিলেন।

বড়লেখায় করোনা রুগী শনাক্ত, পুরো গ্রাম লক ডাউন

উপজেলা প্রশাসন


মোঃইবাদুর রহমান জাকির,সিনিয়র প্রতিবেদকঃ মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিন ভাগের কাশেমপুরে করোনা আক্রান্ত রুগী ধরা পড়ায় শনিবার রাত২টায় ঐ ব্যক্তির গ্রাম লকডাউন (অবরুদ্ধ) করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রত্নদ্বীপ বিশ্বাস শনিবার রাত দুইটায় এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তির বাড়ি কাশেমনগর। প্রশাসন তাঁর গ্রাম লকডাউন করেছে।  ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কেউ করোনা আক্রান্ত কিনা তা নিশ্চিত নমুনা সংগ্রহ করা হবে। তিনি এখন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি আছেন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান জানান, আক্রান্ত ব্যক্তির গ্রাম লকডাউন করা হয়েছে। এখন কেউ এই এলাকায় যেতে পারবেন না। আবার কেউ বের হতে পারবেন না। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত ওই ব্যক্তি পুরুষ। তাঁর বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। তিনি  গত ২০ এপ্রিল  জ্বর-কাশিসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেলের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তাঁর করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে।  তিনি এখন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি আছেন। ওই ব্যক্তির বাড়ি উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের কাশেমনগর গ্রামে।  তিনি সমনভাগ এলাকায় ছোলা ও পিয়াজু বিক্রি করতেন।

সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে, অবশেষে বড়লেখায়ও আঘাত হেনেছে “করোনা”-মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

আচ্ছালামুআলাইকুম/আদাব,
প্রিয় সহকর্মি শিক্ষকবৃন্দ,

১.
সামনের দিনগুলো অধিকতর কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কেউ হতাশ হবেন না। ভেঙ্গে পড়বেন না। যথাযথ পথ- পদ্ধতি ও নিয়ম মেনে চলার প্রাণান্তকর চেষ্টা করবো আমরা। একে অন্যের খবর নেবো। পাশে থাকবো…

২.
আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে একটি ঘোষণা দিতে চাই যে, আপনারা লকডাউনে থাকাকালীন ছোট-বড় কোন সমস্যায় নিপতিত হলে দয়া করে একটু “নক” করবেন। যে কোন ধরণের “সার্ভিস” প্রদান করতে আমি/আমরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। ঔষধ, বাজার খরচ, খাদ্য সংকটসহ বিবিধ বিষয়ে অনায়াসে আমাদের সহায়তা নিতে পারেন।
মূল্য /বিনামূল্য/ ফ্রি সবধরণের ব্যবস্থা আমরা করতে যাচ্ছি। সদিচ্ছা থাকলে কোন কিছুই অসম্ভব নয়…

৩.
এসব কাজ বাস্তবায়ন করতে ৩ টি সংস্থা আমাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেছে-
ক.বড়লেখা ফ্রেন্ডস ক্লাব, ইউ. কে,
খ. বড়লেখা ব্লাড ডোনেট ক্লাব, বড়লেখা ও
গ. দূর্বার মুক্ত স্কাউট দল, বড়লেখা।

৪.
মহান সৃষ্টিকর্তা সকলের সহায় হোন। প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের জন্য নিরন্তর ভালোবাসা। শুভ কামনা।

লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, মোহাম্মদনগর স.প্রা.বি, বড়লেখা
মোবাইলঃ০১৭৩৪৪৬১৬৯১, ০১৭৮২৬৮৬৮২৬

তারাদরমে চালু হলো ফ্রি সবজি বাজার’


ইবাদুর রহমান জাকিরঃ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ৫নং দক্ষিন শাহবাজপুর ইউনিয়নের তারাদরম গ্রামের যুবকদের উদ্যোগে করোন প্রাদুর্ভাবে আটকে পড়া এলাকার নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনীর মানুষের কষ্ট লাগবের কথা চিন্তা করে, এই মাহে রামজান মাসে প্রতি সাপ্তাহে একদিন এলাকায় ফ্রি সবজি( আলু, ডাল, টমেটো, ডিম, ছুলা(চানা), কাচা মরিচ, মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদি থাকবে)ও ইফতার সামগ্রী বিতরনের আয়োজন শুরু করে শনিবার(২৫এপ্রিল)সকালে।

মহতি এই কার্যক্রমে এলাকার এক শ্রেণী যুবকের স্বর্তঃস্ফুত অংশগ্রহনে শুরু হয়। এলাকার দেশী ও প্রবাসী কিছু ভাইদের আর্থিক সহযোগিতায় ফ্রি সবজি ও ইফতার সামগ্রী বিতরনী শুরু হয়। এ অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন জসিম উদ্দিন, আশরাফুর রহমান, মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম, রুহেল আলিম,মাহমুদুল হাসান, আব্দুল কাইয়ুম, রুবেল আহমদ, গৌছ উদ্দিন,আফজালুর রহমান,রুবেল হোসাইন, নিজাম উদ্দিন, আমির হোসেন, মোহাম্মদ দিলু, কাশেম উদ্দিন, কাওছার আহমদ, আবুল হাশিম, আব্দুল আলিম, শরীফ উদ্দিন, আতিকুর রহমান নজমুল প্রমুখ।

করোনায় বদলে গেছে রমজানের ঐতিহ্য

‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙা ভইরা লইয়া যায়’। প্রতি বছর রমজান মাসে পুরান ঢাকার চকবাজারে ঢুকলেই শোনা যায় এমন হাঁকডাক। তবে এবার শোনা যাচ্ছে, রাস্তায় কোনও ইফতারের দোকান বসবে না। তাও আবার হ্যান্ড মাইক দিয়ে এমন মাইকিং করছে পুলিশ। করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে রমজান মাসের চিরচেনা চিত্রগুলো এবার বদলে গেছে। যা ছিল রমজানের ঐতিহ্য তা এখন স্মৃতি।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাংলাদেশে রোজা শুরু হয়েছে। তবে এদিনটি ছিল দেশে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার ৪৯তম দিন। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩০৯ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৪ হাজার ৯৯৮ জন। দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৪০ জন।

এ মহামারির বিস্তার রোধে সরকার ছুটি ঘোষণা ছাড়াও নানা রকম পদক্ষেপ নিয়েছে, মানুষের চলাচলে বিধি নিষেধ আরোপ করেছে। এর প্রভাব পড়ছে রমজানেও। প্রতিবছর চাঁদ দেখার ঘোষণা হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানের মসজিদে থেকে ঘোষণা আসতো, রমজানুল মোবারক, আর ঘোষণা করা হতো তারাবির নামাজের সময়। তবে এবার আজানের পর মুসল্লিদের বাসায় তারাবির নামাজ পড়তে বলেছেন মুয়াজ্জিনরা।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে মসজিদে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ২ জন হাফেজসহ সর্বোচ্চ ১২ জন এশা ও তারাবিহ’র নামাজে অংশ নিতে পারবেন। যদিও নিয়ম ভেঙে অনেকে মসজিদে তারাবির নামাজে শরিক হতে চেষ্টা করেন। তবে সতর্কভাবেই তাদের ফেরত দিয়েছে অধিকাংশ মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

শুধু তারাবির নামাজই নয়, সকল ক্ষেত্রেই পড়ছে করোনার প্রভাব। রোজা শুরু হলেও দুপুর ২টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ এবং যারা কাজের প্রয়োজনে বাইরে যাচ্ছেন তাদেরও সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ঘরে ঢোকা, একইসময়ে সুপার শপগুলো বন্ধ করে দেওয়ার নিয়মেও কোনও পরিবর্তন আসেনি। বরং আরও কঠোরভাবে রোজা উপলক্ষেও ফুটপাতে ইফতারের পসরা নিয়ে বসা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় আগেই এ ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনা দিয়েছিল। এর মূল কারণ, জনসমাগম এড়ানো এবং করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়িয়ে চলা। পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে সেই নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, দেশের কোথাও রাস্তায় বসতে পারবে না ইফতারের দোকান।

সরেজমিন দেখো গেছে, রাজধানীর কোথাও কোথাও ভ্রাম্যমাণ ইফতারের দোকান বসানোর চেষ্টা করেছেন দোকানিরা, তবে প্রথম রোজায় তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। পুরান ঢাকার চকবাজার হচ্ছে দেশের বৃহৎ ইফতারের বাজার। প্রতিবছর এখানে ইফতারের পসরা নিয়ে দোকানদাররা বসলেও এ বছরের চিত্র ছিল পুরোই উল্টা। এবছর কয়েকটি দোকান বসানোর চেষ্ট করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।

বন্ধুরা মিলে প্রতি বছর চকবাজারে ইফতার করতে যেতেন আসাদুজ্জামান। মিরপুরের এ বাসিন্দা বলেন, চকবাজারে যাওয়া দূরে থাক এখন ঘর থেকেই বের হই না জরুরি প্রয়োজন না হলে। এবার হয়তো এভাবেই রমজান মাসটা পার হয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে তা কখনও কল্পনাও করতে পারিনি।

ইফতারের মুহূর্তে অন্য বছরগুলোতে যানজটে কারণে অনেকেই অফিস থেকে বাড়ি ফিরে ইফতারে করতে বেগ পেতেন। এবার রাস্তায় কোনও গাড়ি নেই, নেই কোনও মানুষ। ছুটি থাকায় বেশিরভাগ মানুষ পরিবারের সঙ্গে ইফতার করার সুযোগ পেয়েছেন।

রাজধানীর একটি কলেজের শিক্ষার্থী শান্তা শাফিহ। তিনি বলেন, রোজার মাসে একটা উৎসব উৎসব ভাব থাকে। এখন হয়ত ঘরে সবার সঙ্গে ইফতার করছি, কিন্তু উৎসবের সেই আমেজ নেই। একটা আতঙ্ক। এখন একটাই চাওয়া, এই মহামারি থেকে যেন দ্রুত মুক্তি মিলে।

প্রকৃতই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সারাদেশে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত ২২ মার্চ রাজধানীর মিরপুরের উত্তর টোলারবাগে এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পরদিন সেই এলাকা লকডাউন করে দেওয়া হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত সেই এলাকা লকডাউন রয়েছে।

উত্তর টোলারবাগের প্রথম যে ব্যাক্তি মারা যান তিনি উত্তর টোলারবাগের দারুল আমান নামের একটি ভবনের বসবাস করতেন। সেই ভবনের বাসিন্দা মো. সুজন বলেন, আমরা তো ঘর থেকেই বের হই না। বাজার করা ছিল, সেটা দিয়েই চলছে। তবে আর কিছুদিন পর সেটিও শেষ হয়ে যাবে। এলাকার মসজিদগুলোও বন্ধ। এমন পরিস্থিতি আমার জীবনে প্রথম।

টোলারবাগে অনেক বাসায় সংসদ সদস্য মো. আসলামুল হকের পক্ষ থেকে ইফতার সামগ্রী উপহার হিসেবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান সেই এলাকার বাসিন্দারা। আবার অভিযোগও আছে বাড়ির মালিক নিজেই সব ইফতার সামগ্রী রেখে দিয়েছেন, ভবনের অন্যদের দেননি। টোলারবাগের ১২/৬ বি,১ ভবনের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, তাদের বাড়িতে সংসদ সদস্যর পাঠানো ইফতার উপহার হিসেবে এলেও বাড়িওয়ালা তা নিজেই রেখে দিয়েছেন। কোনও ভাড়াটিয়াকে দেননি।

প্রতিবছর সারা দেশে ইফতারকে কেন্দ্র করে নানা রকম আয়োজন হয়ে থাকে। রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও হয়ে থাকে ইফতার মাহফিল। কয়েক হাজার মানুষের জন্য প্রতি বছর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইফতারে আয়োজন করতো ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। প্রথম রোজার দিন সেই মসজিদ একেবারেই জনশূন্য।

তবে ভিন্ন চিত্রও আছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও অনেকেই দাঁড়িয়েছেন অসহায় মানুষের পাশে। অনেকে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন ইফতার সামগ্রী। গাজীপুর সদর উপজেলার নয়নপুর গ্রামে ইকবাল সিদ্দিকী কলেজ ও কচি কাঁচা একাডেমির গেইটের পাশে বিকেল থেকেই রাখা হয়েছে ১০০ প্যাকেট খিচুড়ি, সিদ্ধ ডিম ও ২টি করে খেজুর। সামাজিক দূরত্ব মেনে এলাকার গরিব মানুষ এখান থেকেই পেয়েছেন ইফতার।

ইকবাল সিদ্দিকী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, এটা আমার একক উদ্যোগ নয়, সম্মিলিত উদ্যোগ। সত্যিই মানুষ অনেক কষ্টে আছে, তাদের পাশে থাকার চেষ্টা আমরা করছি।

দেশজুড়েই আছে এমন ছোট বড় অসংখ্য উদ্যোগ। এসবের মধ্য দিয়ে জন সমাগম এড়িয়ে ও সামাজিক দূরত্ব মেনে দেশবাসী এবার পার করবে রমজান মাস। আর প্রত্যেকের প্রার্থনায় থাকবে এই মহাবিপদ থেকে উদ্ধারে পরম করুণাময়ের কাছে সাহায্য প্রার্থনা। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

আমি আপনাদের লোক,তাই ক্ষুদ্র অবস্হান থেকে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা-তাজ উদ্দিন

খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছেন তাজ উদ্দিন


নিজস্ব সংবাদঃ
মহামারী করোনাভাইরাসের ফলে গৃহবন্ধি, কর্মহীন, আর্থিক ও খাদ্য সংকটে পড়া মধ্যবিত্ত লোকদের সহযোগিতা করার লক্ষে নিজের দায়বদ্ধতা থেকে পাশে দাড়িয়েছেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন।
তিনি ব্যাক্তিগত উদ্দোগে নিজস্ব তহবিল থেকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষের ঘরে ঘরে গাড়িতে করে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। বড়লেখার মানুষের দোয়ারে দোয়ারে ঘুরে খুজ খবর নিচ্ছেন। সাধ্যমত সবাইকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। সেজন্য সাধারণ জনগণও খুশি।

আজ (২২এপ্রিল) বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য বিতরণ শেষে তাজ উদ্দিন বলেন আমি আপনাদের লোক,তাই ক্ষুদ্র অবস্হান থেকে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টায়। এবং সকল বিত্তবান লোক যেনো সাময়িক অসুবিধাগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাড়ায় সেই আহব্বানও করে আসছেন।

বিভীষিকাময় বর্ণনা : ‘বিছানার কাছেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাশ পড়ে ছিল’

শাহাদাত হোসেন বেসরকারি চ্যানেল যমুনা টেলিভিশনের একজন সিনিয়র রিপোর্টার। গত মাসের একদম শেষের দিকে একটু জ্বর উঠেছিল। খুব সামান্যই তাপমাত্রা ছিল। এরপর একটি প্যারাসিটামল খাওয়ার পর এক রাতেই জ্বর সেরে গিয়েছিল। এরপর তিনি পেশাগত দায়িত্বও পালন করেছেন।

কিন্তু বাড়িতে তার শ্বশুর কয়েকদিনের মধ্যে ব্যাপক জ্বর ও মাথাব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার পর ভাবলেন নিজেও একটু পরীক্ষা করিয়ে নেবেন। দেখা গেল তার কোনো উপসর্গ না থাকলেও তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর তার শ্বশুরসহ পুরো পরিবারের সবাই আক্রান্ত হয়েছেন। শাহাদাত হোসেন বলছেন, হাসপাতালে ভর্তির পর তার মনে হয়েছে জীবনে এতটা অসহায় কোনো দিন বোধ করেননি।

‘ওয়ার্ডে লাশ পরেছিল ২৪ ঘণ্টা’
তিনি বলছেন, করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ এটি জানার পর শুরুতে তিনি খুব আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিলেন। কী করবেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না।

সহকর্মীদের সহায়তায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার ভাষায়, “হাসপাতালে চরম প্রতিকূলতার মধ্যে নয় দিন পার করেছি আমরা। ওখানে মনে হয়েছি রোগীরা একেবারে অভিভাবকহীন। আমি খুবই অসহায় বোধ করেছি।”

“দেখতাম চোখের সামনে রোগীরা মারা যাচ্ছে। লাশ ওয়ার্ডেই পরে থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, তিনি বলেন।

” যেহেতু নির্দিষ্ট ব্যক্তি লাশ দাফন করেন হয়ত তাদের সংখ্যা কম কিন্তু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, সেকারণে হয়তবা। কিন্তু এতে একজন অসুস্থ রোগী যে এমনিতেই ভয়ে আছে তার মনের অবস্থা কী হয়?” তিনি বলেন।

তিনি হাসপাতালে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলছিলেন, ২৪ ঘণ্টায় একজন চিকিৎসক আসতেন। অনেক দূর থেকে কথা বলে চলে যেতেন।

নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে একটি মানুষকেও পাওয়া যায় না। এরকমও হয়েছে যে নার্স আসেনি বলে একবার সকালের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়া হয়নি। চিকিৎসক দিনে একবারও আসেনি সেটিও হয়েছে।

তিনি বলছেন, “কিন্তু একজন চিকিৎসকের কথায় আমার ভরসা পাওয়ার কথা। তার কথায় আমার মনোবল বেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখানে মানসিক সাপোর্ট দেয়ার কেউ ছিল না।”

অন্যান্য সুবিধাদির বর্ণনা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, তিনি যে ওয়ার্ডে ছিলেন সেখানে এক শ’র মতো রোগী ছিল। এতজন রোগীর জন্য মাত্র তিনটি টয়লেট, তিনটি গোসলখানা।

শাহাদাত হোসেন একপর্যায়ে রোগী বাড়তে শুরু করার পর চিকিৎসকদের অনুরোধ করে তার শ্বশুরসহ বাড়ি চলে আসেন।

আর একটি হাসপাতালের চিত্র

দেশে সবচেয়ে প্রথম যে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সাংবাদিক শনাক্ত হয়েছিলেন সেটি ছিল ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের। সেখানে ভিডিওগ্রাফার হিসেবে কর্মরত আশিকুর রহমান রাজু আক্রান্তদের একজন।

তিনি বলছেন, শনাক্ত হওয়ার পর যখন কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে যান শুরুতেই ঘাবড়ে গিয়েছিলেন কারণ সবাই পিপিই পরে অনেক দূরে দাড়িয়ে আছেন।

তিনি তার প্রথম অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, তাকে একজন ওয়ার্ড বয় একটা পলিথিন ব্যাগে বিছানার চাদর, বালিশ, বালিশের কাভার, টয়লেট টিস্যু আর একটা সাবান দেয়।

”এগুলো দিয়ে ওয়ার্ড বয় কেচিগেট তালা মেরে চলে গেল। নিজের বিছানাও নিজে গুছিয়ে নিতে হলো,” তিনি জানান।

তিনি বলছিলেন, প্রথম দিন তার জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে কেউ আসেনি। চিকিৎসকদের ফোন করে তিনি সেটি জানানোর পর সাড়ে চারটার দিকে তার জন্য একটি বক্সে করে খাবার এসেছিল। কোনো প্লেট দেয়া হতো না। সেখানে পানি গরম করা থেকে শুরু করে সবকিছুই নিজেকে করে নিতে হয়েছে।

এমনকি জ্বর হলে যে মাথায় পানি দিতে হয়, ওই সময়ও সহায়তা দেয়ার কেউ ছিল না। একটা বালতি, মগ কিছুই ছিল না, এসব অভিযোগ তিনি করেছেন।

“খাবার রেখে যাওয়া হতো কেঁচি গেটের বাইরে। তারপর হ্যান্ডমাইকে সেটা জানানো হতো,” তিনি বলেন।

”অসুস্থ লোকদের গিয়ে সেই খাবার নিয়ে আসতে হতো। ওয়ার্ডে একজন নতুন বয়স্ক রোগী এসেছিলেন। তিনি এই তথ্যটা জানতেন না। তিনি এক রাত ও পরের সকাল না খেয়ে ছিলেন,” রহমান বলেন।

আশিকুর রহমান বলছিলেন, জ্বর নিয়ে যে কয় দিন বাসায় ছিলেন তার মনোবল চাঙ্গা ছিল। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সাথে সাথেই সেটি হারাতে শুরু করেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি, যারা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছেন তারা ও তাদের পরিবার এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবায় নিয়জিত ব্যক্তিরা সামাজিকভাবে ব্যাপক হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন এমন বেশকিছু অভিযোগ উঠেছে।

একসময় কুষ্ঠ আক্রান্ত রোগীদের যেভাবে সমাজ পরিত্যাগ করতো যেন সেরকম এক ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে তাদের যেতে হচ্ছে। তার একটি বর্ণনা পাওয়া গেল এই দুই সংবাদকর্মীর ভাষায়।

অন্য আরো বেশ কয়েকজন সেরে ওঠা ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা হলেও সামাজিক সমস্যার ভয়ে তারা কথা বলতে রাজি হননি।

আশিকুর রহমান রাজু বলছেন, যেসময় ভয়াবহ শরীর ব্যথা, জ্বর, মাথাব্যথা ও কাশি শুরু হয় সেই সময় তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কিনা এমন সন্দেহ হলে আইইডিসিআরে যোগাযোগ করেন। তার শরীর থেকে যখন স্বাস্থ্যকর্মীরা নমুনা সংগ্রহ করতে আসেন তখন এলাকার লোকজন ও বাড়িওয়ালার চরম ক্ষোভের মুখে পরেন তিনি।

“কেন আমি ওদের ডাকলাম, এইটা তারা বলছে। যেন আমি ওনাদের ডেকে কোন অন্যায় করছি,” তিনি বলেন।

”ওরা কেন আসছে, সেজন্য বাড়িওয়ালা আমার দরজা পিটাইতেছিল। এলাকার লোকজন এসে বাড়িওয়ালাকে ধরেছে।

”আমি তাদের বুঝিয়ে বললাম যে সাবধানতা হিসেবে চেকআপের জন্য আসছে। পরীক্ষা হলে আপনাদের জন্যই ভালো হবে, রহমান বলেন।

এরপর যেদিন করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার খবর পেলেন ওই দিন তিনি অ্যাম্বুলেন্স বাড়ির কাছে আনতে সাহস করেননি। অসুস্থ অবস্থায় হেঁটে গিয়ে দূর থেকে অ্যাম্বুলেন্স উঠেছিলেন।

সেরে ওঠার পর যেদিন গ্রামের বাড়িতে গেছেন চেনা পরিচিত লোকেরাও তার খবর নেননি।

“আমি আসতেছি এটা দেখেই বাড়ির কাছে পুরো রাস্তা খালি হয়ে গেল। আমি যেন ভিন গ্রহের কেউ এরকম মনে হচ্ছিল,” তিনি বলেন।

শাহাদাত হোসেন বলছেন, তার ফ্ল্যাটের লোকজনের কাছ থেকে চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন তিনি ও তার পরিবার। রীতিমতো একঘরে করে ফেলার অবস্থা।

“মনে হয় যেন অসুস্থ হয়ে আমি বড় কোন পাপ করে ফেলেছি,” তিনি বলেন।

”হাসপাতালে আমার সাথে ছিলেন তাদের একজনকে দেখেছি অসহায়ত্বের কারণে কাঁদছেন। করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে জানার পর তার পরিবারকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার হুমকি পেয়েছেন,” বলেন হোসেন।

‘আপনি হাসপাতালের দায়িত্ব নেবেন?’
হাসপাতাল সম্পর্কে যে অভিযোগ করছিলেন সেরে ওঠা এই দু’জন সেনিয়ে কথা বলেছি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদের সাথে।

তিনি বলছেন, “বাইরে থেকে কেউ বুঝবে না যে আমরা কিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।”

চিকিৎসকদের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, দেশে এ পর্যন্ত ১৩০ জন চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। একজন মারাও গেছেন।

“চিকিৎসকেরা কাছে না গেলে তারা আক্রান্ত হলেন কিভাবে?” তিনি প্রশ্ন করেন।

”এখানে সবমিলিয়ে ৬০০ জন স্বাস্থ্যকর্মী। যারা সংসার, ছেলে-মেয়ে রেখে দিনের পর দিন দূরে থাকছেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।

”তাদের আমরা এন-৯৫ মাস্ক দিতে পারিনি। যিনি চিকিৎসা করবেন তিনি যদি আক্রান্ত হন তাহলে আপনি হাসপাতালের দায়িত্ব নেবেন?” ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ বলেন।

‘এটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’
করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষা করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন উপায় হচ্ছে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা। স্বাস্থ্যকর্মীরা সেটাই করছেন বলে তিনি বলছেন।

হাসপাতালে মরদেহ ওয়ার্ড ফেলে রাখা অভিযোগ তিনি ‘অস্বাভাবিক’ বলে বর্ননা করেন।

”দিনে দু’বার অন্তত ডাক্তারদের রাউন্ড হয়। তিনি কি কাউকে তথ্যটা দিয়েছিলেন?” তিনি প্রশ্ন করেন।

” অসুস্থ অবস্থায় মানুষজন অনেক আবেগপ্রবণ থাকে। করোনাভাইরাসকে হয়ত তারা অন্য রোগের সাথে তুলনা করেছেন। কিন্তু বিষয়টাতো তা নয়,” ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ বলেন।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যে অভিজ্ঞতা তাদের হচ্ছে সেটিকে তিনি যুদ্ধের সাথে তুলনা করে বলেন যে, সারা বিশ্ব এটি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।

”যেসব দেশে সক্ষম স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে তারাও ভেঙে পরছে। এটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ,” তিনি বলেন।

কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র : বিবিসি

নিউইয়র্কে’র ১৪বছরের এক বাংলাদেশী কিশোরীর হৃদয়বিদারক আকুতি।

আমি যুথি। আমার বয়স ১৪। আমার একটা ছোট ভাই আছে ওর নাম তমাল বয়স ১২। আমাদের জন্ম নিউইয়র্কে। আমার আব্বু আম্মু দুজনেই চাকরি করেন। এখানে আমাদের চারজনের সংসার।অনেক পরিচিত জনও আছেন এখানে। আব্বু আম্মু দুজনেই বাংলাদেশী।আত্মীয় স্বজন দাদা দাদী নানা নানি সবাই দেশেই থাকেন। আমরা এখানে একটা স্কুলে পড়াশোনা করি।আমাদের খুব সুখের একটা সংসার। তবে কিছুদিন হলো আমরা স্কুলে যাচ্ছি না।কারণ চারিদিকে করোনার আতঙ্ক আর শহরটা লকডাউন। লক ডাউন কী আমি আসলে এত কিছু বুঝি না। তবে আমরা সবাই এখন বাসায় থাকি এখন এটা আমাদের জন্য খুব আনন্দদায়ক।এভাবে হেসে খেলে ১৫ দিন চলে গেল। পড়াশোনার চাপ নেই। সারদিন খেলা আর আম্মুর কাছে যা খেতে চাই তাই ই আম্মু বানিয়ে দিচ্ছে। খুব আনন্দে কাটছে দিনগুলো। মাঝে মাঝে আম্মু সতর্কতার সাথে থাকার জন্য সবাইকে বার বার হাত ধুতে বলছে আর আমরা ধুয়ে নিচ্ছি। আব্বু বাইরে গেলে মাস্ক গ্লাভস পড়ে যাচ্ছে আবার আসার পর গোসল করে নিচ্ছে। এভাবে নানা সাবধানতার মধ্যে একটু ভয়ে তবে সুখেই কাটছে দিনগুলো।

গত দুদিন ধরে আম্মুর একটু ঠান্ডা লেগেছে। হাঁচি-কাশি সাথে একটু জ্বর ও আছে। এই নিয়েই আম্মু সব কাজকর্ম করে যাচ্ছে। আব্বু বলছে ভয়ের কিছু নেই এত সাবধানে থাকছি আমরা তোমার মনেহয় সাধারণ ফ্লু।প্যারসিটামল খাও ঠিক হয়ে যাবে। আম্মু প্যারাসিটামল খেল।একটু ভালো বোধ করছিল সে।কিন্তু পরের দিন তার জ্বর আরও বেড়ে গেল। আব্বু ফোনে একজন ডাক্তারের সাথে কথা বললো। ডাক্তার শুনে হসপিটালে নিয়ে যেতে বললো। সেখানে নাকি টেস্ট করবে।

আব্বু আম্মুকে নিয়ে এলমহাস্ট হসপিটালে গেল।আমরা দুই ভাই বোন বাসায়। যাওয়ার সময় আব্বু বললো, সাবধানে থেক, কোনরকম দুষ্টুমি করবে না।আর কিচেনের কাছে যাবে না। খাবার টেবিলে রাখা আছে। আমাদের আসতে দেরি হলে তোমরা খেয়ে নিও।এই বলে আব্বু বের আম্মুকে নিয়ে বের হলো দুপুর বারোটার দিকে। এরপর বিকেল হয়ে যায় তারা আসে না। দুটার দিকে আব্বু ফোন দিয়ছিল।বললো, তোমরা খেয়েছো?
আমি বললাম হ্যা।
আচ্ছা তোমরা দুষ্টুমি কোর না, টিভি দেখ।তোমার আম্মুকে হসপিটালে ভর্তি করেছি তার টেস্টের রিপোর্ট এখনো আসেনি।আগামীকাল দিবে। আজ আমাকে এখানে তোমাদের আম্মুর কাছে থাকতে হবে। তোমরা খাবার প্লেট ধুয়ে গুছিয়ে রাখ।আর রাতে নিজেরা খেয়ে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আমাকে কল দিও।
আমি বললাম, আব্বু আমরা একা একা থাকব?
আমাদের খুব ভয় লাগবে তো।
আব্বু বললো,ভয়ের কিছু নেই মামুনি।এখন বড় হয়েছ না।তমালকে নিয়ে একটু খেলা কোরো।ওকেও বুঝিয়ে রেখো।বুঝতে পারছো না তোমাদের আম্মু অসুস্থ। এখন একটু শক্ত হতে হবে মা।ভয় পেলে চলবে?
ঠিক আছে আব্বু, আমরা থাকতে পারব। তুমি আম্মুকে ট্রিটমেন্ট দিয়ে সুস্থ করে নিয়ে আসো।

এই প্রথম মনে হলো আমি আসলেই অনেক বড়ো হয়ে গেছি।আমারও অনেক দায়িত্ব কর্তব্য আছে। আমার দায়িত্ব হলো আমার ছোট ভাইকে সামলে রাখা। সে যেন কষ্ট না পায় সেদিকে খেয়াল রাখা। এছাড়া বাসাটা গুছিয়ে রাখতে বলেছে আব্বু। আমরা ভাই বোন মিলে গুছিয়ে ফেললাম। ভাই কে বললাম আজ আমরা দুজন এক বিছানায় ঘুমাবো মজা হবে না?
ভাই বললো,আম্মু আব্বুকে ছাড়া কিভাবে থাকব আপু?যদি ভুত আসে।
আমি আছি না।ভুত আসবে না। বুঝতে পারছো না আম্মু অসুস্থ। সুস্থ হলেই চলে আসবে।

রাতে বাবাকে ভিডিও কল দিলাম।
আব্বু বললো, এইতো গুড, ঘুমিয়ে গেলেই দেখবে সকাল হয়ে গেছে। আগামীকাল রিপোর্ট পেলেই আমরা পেলেই আমরা চলে আসবো। তবে তোমার আম্মুর জ্বর একটু বেড়েছে।
আচ্ছা আব্বু গুড নাইট।

পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কৌটাতে বিস্কুট ছিল দুই ভাই বোন তাই খেলাম।কিছুক্ষণ পরে ম্যাকডোনাল্ড থেকে আমাদের নাস্তা আার লাঞ্চ দিয়ে গেল। আব্বু নাকি অর্ডার করেছে।আমরা খুব মজা করে খেলাম।

দুপুরে আব্বু বললো, মা যুথি তুমি তো এখন বড় হয়েছ। বুঝতে পার।তোমাকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে মা।তোমার ভাইকে আরও কিছু দিন দেখে রাখতে হবে।তোমার আম্মু আমি দুজনেই করোনায় আক্রান্ত। তোমার আম্মুর জ্বর বেড়েছে একটু শ্বাস কষ্ট ও হচ্ছে। তোমাদের কয়েক দিন একা একা থাকতে হবে পারবে না মা।
আমি খুব ভয় পেয়ে গেলাম। চোখ থেকে পানি পড়তে লাগলো। বললাম, পারবো আব্বু তুমি কোন চিন্তা করো না।

নিউইয়র্কে আমাদের কোন আত্মীয় নেই। পরিচিত যারা আছে তারাও কেউ আসছে না। আমরা একারাই এভাবে থাকতে লাগলাম। পরের দিন আব্বু ফোনে বললো যুথি বেশি করে নামাজ পড়ো আল্লাহর কাছে দোয়া কর তোমাদের আম্মুকে ICUতে রাখা হয়েছে। এই বলে আব্বু কেঁদে ফেললেন। আমি ও চোখের পানি আর রাখতে পারিনি সাথে তমালও কান্না করতে লাগলো।
আমি বললাম তুমি কেমন আছ আব্বু।
আমি ভালো আছি মা।তোমার আম্মুর জন্য বেশি বেশি দোয়া কর।
এরপর আমরা প্রতিদিন নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকি।

দুদিন পরে একজন নার্স এসে আমাদের কাছে একঘন্টা থেকে গেল। আমাদের অনেক ভালো ভালো কথা বলে অনেক কিছু বুঝিয়ে গেছে। আমরা ছোট বলে হসপিটাল থেকে দেখতে এসেছে। নার্স বলেছে আম্মু সাত তলায় আর আব্বু আটতলায় আছে। কারো সাথে দেখা হচ্ছে না।

এভাবে আটদিন চলে গেল। আমরা একাএকা থাকছি।উবার ইটস অথবা ম্যাকডোনাল্ডের খাবার খাচ্ছি। এখন আর এসব খাবার খেতে ভালো লাগছে না। তবুও খাচ্ছি। দুই তিন দিন পর পর নার্স এসে দেখে যাচ্ছে। আটতম দিনে সোস্যাল মিডিয়া থেকে আমাদের নিতে এসেছিল আমরা যাইনি।আব্বু ফোনে তাদের বুঝিয়ে বললে তারা চলে যায়।

আজ নবম দিন। আব্বু বলেছে সে এখন ভালো আছে আজ বাসায় আসবে। রাতে আব্বু বাসায় আসে।তমাল দৌড়ে আব্বুকে ধরতে গেলে আব্বু দূরে সরে গেল। বললো সে এখন কয়েক দিন আলাদা থাকবে আমরা তাকে ধরতে পারব না।

আব্বুকে ধরতে না পারলেও আমরা খুব খুশি। কারণ আব্বু আমাদের কাছে আছে। আব্বুকে আম্মুর কথা জিজ্ঞেস করলাম।আব্বু আশার কথা শুনালো।

বললো,মা,তোমার আম্মু ও হয়তো ফিরে আসবেন। তার অবস্থা ও আগের থেকে ভালো। সাতদিন পর গতকাল তার অক্সিজেন খুলেছে। আমার সাথে একবার একমিনিট কথা হয়েছে। হয়তো দুই তিন দিন পর সেও ফিরে আসবে। আল্লাহ তোমাদের দোয়া কবুল করেছে মামনী। আমরা সবাই আবার আগের মতই ভালো থাকবো।
🇧🇩🇺🇸

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ত্রাণ দেওয়া নিয়ে সমালোচনার জবাব।

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী জনকল্যানমুলক একটি দ্বীনি সংগঠনের নাম।১৯৪১ সালের জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত একটি ইসলামী সমাজ বিনিমার্ণ তথা কল্যানমুখী রাস্ট্র কায়েমের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।একটি আদর্শিক ও দায়িত্বশীল সংগঠন হওয়ায় দেশের ও দেশের মানুষের যে কোন দুর্যোগ ও সংকটপুর্ণ মুহুর্তে অতীতেও ঐতিহাসিক ভুমিকা পালন করেছে এবং বর্তমান সময়েও করে যাচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ।শুধুমাত্র সংকট বা দুর্যোগকালীন নয় বরং নিয়মিতভাবেই প্রতি মাসে জামায়াত ইসলামি তাদের সাংগঠনিক আয়ের ১০% সমাজকল্যামুলক কাজে ব্যায় করে। আমরা গভীর ভাবে লক্ষ্য করছি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মানুষের মধ্যে যখন ব্যাপক ভীতি সঞ্চার তৈরি হয়েছে,তেমনি শারীরিক ও আর্থিক ভাবেও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুক্ষিন হয়েছে এবং হচ্ছে।চরম আর্থিক সংকটের কারনে অনেক মানুষ যেমন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে, আবার খাদ্যের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে।এমতাবস্থায় অতীতের ন্যায় এবারো এই দুর্যোগ ও সংকটপুর্ণ মুহুর্তে সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামিও তাদের নিজেস্ব সামর্থের সবটুকু ঢেলে দিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থাসহ ক্ষুদার্ত মানুষের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌচ্ছে দেওয়ার কর্মসুচি পালন করে যাচ্ছে।”প্রচারনা নয় আল্লাহর সন্তুষ্ঠিই মুল লক্ষ্য ” শ্লোগানকে সামনে রেখে এই কর্মসুচিগুলো পালন করে যাচ্ছে।কিন্তু কতিপয় সমালোচনাকারী বন্ধু এবং কিছু শুভাকাঙ্খিও জামায়াত ইসলামীর এই কাজগুলোর প্রচারনা না থাকায় বলে বেড়াচ্ছেন জামায়াত ইসলামী ও ছাত্রশিবির দেশের এই দুঃসময়ে ঘরে ঢুকে শুধু নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত আছে।তাই সাংগঠনিক নয় বরং নিজের দায়িত্বেই বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী দেশের এই ক্রান্তিকালে দেশের মানুষের জন্য নিজেদের সামর্থের সবটুকু উজার করে দিয়ে কি কি করছে তার একটা সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরছি।বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সারাদেশে ৮৯ টি সাংগঠনিক মহানগরি ও জেলা শাখায় কাজ করে।তারমধ্যে একটি শাখা
জামায়াত ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিন ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত মানুষের সাহায্যে যাযা করেছে-

*খাদ্যসামগ্রী বিতরন করেছে-১১,৮৩৯ টি পরিবারে

*এককালিন সহযোগিতা করেছে- ৬০৯ টি পরিবারে

*চিকিৎসা সহায়তা করেছে-কয়েক হাজার জনকে

*মাস্ক বিতরন করেছে-৩৫,৮৬৭ জনের মাঝে

*সাবান ও হ্যান্ড ওয়াস বিতরন-২০,৯০৯ জনের মাঝে

*হ্যান্ড সেনিটাইজার বিতরন-৩৪১ টি পরিবারে

*ব্লিচিং পাউডার বিতরন-১৩ হাজার পরিবারে

*স্প্রে মেশিন বিতরন-১৩৪৩ টি পরিবারে

*পিপিই পোশাক বিতরন-১৫০ জনের মাঝে

*হ্যান্ড গ্লাবস বিতরন-২৯ হাজার পিচ

*হাত ধোয়ার জন্য পানির ব্যবস্থা করেছে-৫৬ টি স্পটে

*মসজিদ জীবানুমুক্তকরন কর্মসুচি-১৮৫ টি

*স্বাস্থ্য সচেতনতায় লিফলেট বিলি-২ লক্ষ

*সংগঠনের ডাক্তারদের মাধ্যমে ফোনে চিকিৎসা দিয়েছে লক্ষাধিক মানুষকে।

★ এসব কাজগুলো এখনো চলমান।

★ এসব কার্যক্রমের জন্য ইতিমধ্যেই খরচ করেছে-৬৫,০১০৩২(পয়ষট্রি লক্ষ এক হাজার বত্রিশ) টাকা।যার পুরটাই নিজেদের জনশক্তি ও শুভাকাঙ্খিদের দেওয়া টাকা।

★ একটা সাংগঠনিক শাখার কাজ যদি এটা হয়। তাহলে সারাদেশের ৮৯ টি সাংগঠনিক শাখার কাজ মোট কত হতে পারে একটু ভাবুন তো!

★ এছাড়াও মহিলা জামায়াত,বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও ইসলামী ছাত্রীসংস্থাও আলাদা ভাবে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরনের কাজ করছে।

অন্যান্য সামাজিক ও রাস্ট্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ন্যায় প্রচারনা না থাকায় জামায়াত ইসলামীর কাজগুলো অনেকের চোখে পড়েনা। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের এই কাজগুলো শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্ঠির জন্য কবুল করুন এবং এই মহামারী থেকে দেশ,জাতি ও মুসলিম উম্মাহকে হেফাজত করুন ও মুক্ত করুন।

-লেখক: মুহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন,
সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও সহকারী সেক্রেটারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিন।

বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের নাতি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক

দৈনিক বড়লেখা ডেস্কঃ
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিব উল্যাহ পলাশ বিশ্বাস বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের নাতি। মুজিব উল্যাহ ওরফে পলাশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। এরপর এ কমিটি স্থগিত করা হলে প্রভাবশালীদের চাপে তা পুনরায় বহাল রাখা হয়। একই পরিবারের এক নারীও সরকারি চাকরিজীবী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) মাজেদ গ্রেফতার হয়েছেন গতকাল রাতে। কিন্তু তার আগে থেকেই ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খুনি মাজেদের নাতি মুজিব উল্যাহ পলাশ মিয়া।

এলাকায় খবর নিয়ে জানা যায়, যে কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুজিব উল্যাহ পলাশ মিয়া, সেই কমিটি একবার স্থগিত করা করা হয়েছিল। পরে একটি প্রভাবশালী মহলের চাপে সেই কমিটি আবার বহাল করা হয়। খুনি মাজেদ গ্রেফতারের খবরে বোরহানউদ্দিনের চায়ের কাপে ফের ঝড়, এবার সেই প্রভাবশালী মহলের স্বরূপ উন্মোচন করা হোক, যারা দীর্ঘদিন বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের পরিবারকে ভয়ঙ্কর রকমের পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছেন।

এলাকায় এখন এটাও বলাবলি হচ্ছে, খুনি মাজেদের পরিবারের এক নারী সদস্যকে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের চাকরিও পাইয়ে দেয়া হয়েছিল। পরে এলাকার মানুষের আপত্তির মুখে ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিব উল্যাহ পলাশ বিশ্বাস খুনি মাজেদের নাতি কিনা জানতে চাইলে ভোলা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াজ মাহমুদ প্রথমে জানেন না বলে দাবি করেন। তারপর বলেন, ‘এ কমিটি আমরা দেইনি। আমরা কিছু করতে পারি না’।


দ্বিতীয়বার তাকে কল দিলে তিনি বলেন, ‘মুজিব উল্যাহ পলাশ খুনি মাজেদের নাতি না। কোটা লাগাইন্না নাতি হতে পারে’। এরপর তিনি প্রতিবেদককে ধমক দিয়ে বলেন, ‘আমরা কমিটি দিছি আমরা জানি না। আপনি কী জানেন?’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা দুপুরে এ তথ্য পেয়েছি। এটি খুবই দুঃখজনক। আমাদের সময় কমিটির আগে সে নেতা হওয়ায় আমরা বিস্তারিত জানি না। এখন খবর নেয়া হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে কে কে জড়িত তা আমরা খুঁজে বের করব। তাদের শাস্তির আওতায় আনব’।

সুত্রঃজাগো নিউজ

যেভাবে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবেন

যেহেতু করোনাভাইরাসের এখনও কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। তাই সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশের চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা সংক্রমণ এড়াতে এবং শরীরকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুত রাখার জন্য দিয়েছেন বিশেষ পরামর্শ:

নিউজটি শেয়ার করুন।

অপেক্ষাকৃত কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তির শরীরে যে কোনো ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। কিন্তু কিছু বিষয় মেনে চললে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রস্তুত রাখা সম্ভব।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সঙ্কটকালে সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশের চিকিৎসকরাও পরামর্শ দিচ্ছেন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরের ভেতর অ্যান্টিবডি তৈরি করার। এতে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ড. মুজিবুর রহমান বলেন, যেহেতু করোনাভাইরাসের এখনও কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি, তাই সচেতন থাকার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাসসহ যে কোনো ভাইরাস প্রতিরোধে সেসব খাবারই বেশি খাওয়া উচিৎ যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের পুষ্টিবিদ ড. তাসনুভা মিম বলেন, শরীরের প্রতি যত্নশীল এবং স্বাস্থ্যবান ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও দ্রুত সেরে উঠতে পারবেন।

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অনুসরণ করতে পারেন এসব পরামর্শ-

তাজা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া

সংক্রমণ এড়াতে পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিকর, সুষম ও তাজা খাবার খাওয়ার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্সের শিক্ষক ড. মো. আমিনুল হক ভুইয়া বলেন, “ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার ওপর আমাদের জোর দিতে হবে। প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি, ফল, শস্যদানা, শিম জাতীয় সবজি, বাদাম, বীজ, মরিচ, অলিভ অয়েলের পাশাপাশি তেলযুক্ত মাছ, পনির ও পূর্ণ ননীযুক্ত দই খাওয়া যেতে পারে। ”

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ভিটামিন ‘সি’

ভিটামিন ‘সি’ শরীরে কোলাজেন তৈরি ও ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষ, টিস্যু ও জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

তাই প্রতিদিনই কমলালেবু, আঙুর, স্ট্রবেরি, সবুজ মরিচ, ব্রকোলি জাতীয় ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল বা সবজি খাওয়া প্রয়োজন।

আর দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার অনেক খাবারেই ভিটামিন ‘সি’ থাকায় আলাদা করে এটি গ্রহণের প্রয়োজন হয় না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

শরীরকে জীবাণুর বিরুদ্ধে শক্তিশালী করে তোলে যেসব খাবার

আমাদের পেটের ভেতরে থাকে লক্ষ-কোটি ব্যাক্টেরিয়া, ফাঞ্জাইসহ বিভিন্ন জীবাণু যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অর্গানিক বা সরাসরি উদ্ভিদ থেকে পাওয়া খাবার এদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে শরীরকে সহায়তা করে।

শতমূলী, রসুন, পেঁয়াজ এমনই কিছু খাদ্যদ্রব্যের নাম। এছাড়া, ফার্মেন্টেড ফুড যেমন- দই বা এ জাতীয় খাবারও এক্ষেত্রে শরীরকে সহায়তা করে।

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার শরীরে থাকা ছোট ছোট জীবাণু, অণুজীবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য শরীরকে প্রস্তুত রাখে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব নিউট্রিশ অ্যান্ড ফুড সায়েন্সের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম বলেন, “ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার শরীরে অ্যান্টিবডির ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি, ভিটামিন সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার পারে যে কোনো রোগকে প্রতিরোধের জন্য শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে।”

ব্রিটিশ নিউট্রিশন ফাউন্ডেশনের মতে, এমন কিছু খাবার হলো- ওট, মশুর, মটরশুঁটি, ব্রকোলি, গাজর, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার।

প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা

রোগ প্রতিরোধে পানির একটি বড় ভূমিকা হলো এটি শরীরে “লিম্ফ” উৎপন্ন হতে সহায়তা করে, যা শ্বেত রক্তকণিকাসহ রোগ প্রতিরোধী অন্যান্য কোষগুলোকে ধারণ করে।

তাই প্রচুর পরিমাণে পানি পান করলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তবে আমাদের উচিৎ কফিজাতীয় পানীয় পরিহার করে চলা, কারণ এটি কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি করতে পারে।

এছাড়াও, আমাদের উচিৎ প্রচুর পরিমাণে পানিসমৃদ্ধ ফলমূল যেমন- শসা, তরমুজ খাওয়া উচিৎ।

বয়স্কদের জন্য পরামর্শ

বয়স্ক মানুষরা করোনাভাইরাস সংক্রমণে অনেক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বিশেষজ্ঞরা তাদেরকে বেশি করে ভিটামিন জাতীয় খাবারের পাশাপাশি সম্পূরক খাবার (সাপলিমেন্ট) গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।

এক্ষেত্রে, রঙিন ফল ও শাক-সবজি খাওয়া যেতে পারে।

বর্ণিতে ৩২ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার,ছাত্রলীগ সভাপতির চাচা আটক।

জামিল আহমদ, স্টাফ রিপোর্টারঃ- বর্ণি ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতির চাচার দোকান থেকে সরকারি ৩২ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন চন্দ্র দাসের চাচা প্রদীপ চন্দ্র দাস (৪৭) কে আটক করেছে পুলিশ।গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের ফকির বাজারে এই চাল উদ্ধারের ঘটনাটি ঘটে। ছাত্রলীগ সভাপতি সুমনের পিতা ও আটক প্রদীপ চন্দ্র দাসের ভাই সুবোধ চন্দ্র দাস বর্ণি ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড মেম্বার।

কুলাউড়া-বড়লেখা-জুড়ি সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাওসার দস্তগির চাল উদ্ধার ও আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সূত্রে বড়লেখা ফুড ইন্সপেক্টরের কাছে খবর আসে। তিনি আমাদের জানালে তাৎক্ষনিক উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩২ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়। এসময় প্রদীপ চন্দ্র দাসকে আটক করা হয়।

এদিকে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান চাল উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি গুদামের ৩২ বস্তা চাল উদ্ধার করেছি। এগুলো ভিজিডি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল। ঐই ব্যবসায়ী বলেছেন, এগুলো উপকারভোগীদের কাছ থেকে কিনেছেন। কিন্তু এটা কেনাও অন্যায়। এইগুলো কেউ বিক্রি করতে পারেন না। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হবে। তিনি আরো বলেন করোনাকালীন সময়েও এই রকমের চাল চুরি যাহা নিতান্তই দুঃখজনক।

দুর্নীতি’র সংবাদ প্রচার করায় জামিল হোসেনের উপর হামলা,বড়লেখা প্রেসক্লাবের নিন্দা

জাকির আহমদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
হাকালুকি হাওরের দখল বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশের জেরে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘মৌলভীবাজার প্রতিদিন’র বড়লেখা উপজেলা প্রতিনিধি ও বড়লেখা প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক জামিল আহমদের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাতে উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক জামিল একই ইউনিয়নের পাকশাইল গ্রামের মোঃছফির উদ্দিনের ছেলে। সে মৌলভীবাজার প্রতিদিন ছাড়াও মৌলভীবাজার সমাচার নামক পত্রিকাতেও বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে।

জানা যায়,গত ১৩ মার্চ হাকালুকি হাওরে সংখ্যালঘু ও নিরীহ লোকদের জমি দখল নিয়ে মৌলভীবাজার প্রতিদিনে ‘হাকালুকি হাওরে ক্ষনতাসীনদের দখল বাণিজ্য’ শিরোনামে অনুসন্ধানী একটি প্রতিবেদন লিখেছিলেন জামিল। এ সংবাদ প্রকাশের পর পরই সরকারী দলের নেতাকর্মীরা মোবাইল ফোনে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। তিনি হুমকির প্রতিকারে ১৩ মার্চ সন্ধায় বড়লেখা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) দায়ের করেন। বড়লেখা থানায় সাংবাদিক জামিলের দায়ের করা সে জিডি’র নাম্বার ২৯১। জিডি দায়েরের ২ দিন না পেরুতেই তার উপর ন্যাক্ষারজনক হামলা ঘটনা ঘটলো।

জানা যায়,১৫ মার্চ রাত ১০ টার দিকে সাংবাদিক জামিল আহমদ স্থানীয় ফকির বাজার থেকে তার গ্রামের বাড়ি পাকশাইল ফিরছিলেন। এসময় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন মুখোশধারী সন্ত্রাসী জামিলের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তার চিৎকার শুনে পথচারী ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় সাংবাদিক জামিলকে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

এদিকে প্রেসক্লাবের তরুণ সদস্য,সাংবাদিক জামিল আহমদের উপর ন্যাক্ষারজনক হামলার নিন্দা জানিয়েছে বড়লেখা উপজেলা প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাবের সভাপতি অসিত রঞ্জন দাস এবং সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র দাস হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন,’সত্য ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ লিখে সমাজকে আলোকিত করাই সাংবাদিকদের কাজ। অন্যায়-অপকর্ম তুলে ধরার কারণে সাংবাদিক জামিল আহমদকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তার উপর হামলাকারীদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখী করতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের গ্রেফতার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান এই দুই সাংবাদিক নেতা।

দুর্নীতি’র সংবাদ প্রচার করায় জামিল হোসেনের উপর হামলা,বড়লেখা প্রেসক্লাবের নিন্দা

জাকির আহমদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
হাকালুকি হাওরের দখল বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশের জেরে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘মৌলভীবাজার প্রতিদিন’র বড়লেখা উপজেলা প্রতিনিধি ও বড়লেখা প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক জামিল আহমদের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাতে উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক জামিল একই ইউনিয়নের পাকশাইল গ্রামের মোঃছফির উদ্দিনের ছেলে। সে মৌলভীবাজার প্রতিদিন ছাড়াও মৌলভীবাজার সমাচার নামক পত্রিকাতেও বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে।

জানা যায়,গত ১৩ মার্চ হাকালুকি হাওরে সংখ্যালঘু ও নিরীহ লোকদের জমি দখল নিয়ে মৌলভীবাজার প্রতিদিনে ‘হাকালুকি হাওরে ক্ষনতাসীনদের দখল বাণিজ্য’ শিরোনামে অনুসন্ধানী একটি প্রতিবেদন লিখেছিলেন জামিল। এ সংবাদ প্রকাশের পর পরই সরকারী দলের নেতাকর্মীরা মোবাইল ফোনে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। তিনি হুমকির প্রতিকারে ১৩ মার্চ সন্ধায় বড়লেখা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) দায়ের করেন। বড়লেখা থানায় সাংবাদিক জামিলের দায়ের করা সে জিডি’র নাম্বার ২৯১। জিডি দায়েরের ২ দিন না পেরুতেই তার উপর ন্যাক্ষারজনক হামলা ঘটনা ঘটলো।

জানা যায়,১৫ মার্চ রাত ১০ টার দিকে সাংবাদিক জামিল আহমদ স্থানীয় ফকির বাজার থেকে তার গ্রামের বাড়ি পাকশাইল ফিরছিলেন। এসময় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন মুখোশধারী সন্ত্রাসী জামিলের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তার চিৎকার শুনে পথচারী ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় সাংবাদিক জামিলকে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

এদিকে প্রেসক্লাবের তরুণ সদস্য,সাংবাদিক জামিল আহমদের উপর ন্যাক্ষারজনক হামলার নিন্দা জানিয়েছে বড়লেখা উপজেলা প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাবের সভাপতি অসিত রঞ্জন দাস এবং সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র দাস হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন,’সত্য ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ লিখে সমাজকে আলোকিত করাই সাংবাদিকদের কাজ। অন্যায়-অপকর্ম তুলে ধরার কারণে সাংবাদিক জামিল আহমদকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তার উপর হামলাকারীদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখী করতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের গ্রেফতার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান এই দুই সাংবাদিক নেতা।