ড: এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীও শাহরিয়ার কবিরের টকশো

।। অধ্যাপক আব্দুল কাদির সালেহ ।।

গত ২০ ডিসেম্বর রাতে ডঃ মাওলানা এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী শাহরিয়ার কবিরের টকশোটি সরাসরি দেখতে পারিনি । একটু দেরীতে বাসায় ফিরে দেখেছি ।
ধন্যবাদ ও অভিনন্দন ড: আব্বাসী সাহেব । আল্লাহ আপনার ইলম ও হিকমাহর উপর বরকত দান করুন ।

দু জনের বক্তব্যে শাহরিয়ার কবীরকে দ্বিধাগ্রস্থ ও অপ্রস্তুত মনে হয়েছে । শাহরিয়ার বরাবরের মতোই কিছু বহু চর্চিত শব্দের মধ্যে ঘুরপাক খেয়েছেন এবং তাঁর বক্তব্যে সস্তা সেনসেসন তৈরীর জন্য বঙ্গবন্ধু , ৭১ মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের সংবিধান এবং সেক্যুলার রাষ্ট্রের ধারনা টেনে এনে তাঁর নিজের নিয়ন্ত্রন আনবার ব্যর্থ চেষ্ঠা করেছেন। মি: শাহরিয়ার আলেম উলামাদের নাম উচ্চারণ করতেও সব্যতা দেখায়নি।মামুনুল হকের বাবা আজিজুল হক, আহমদ শফি , মোল্লা এসব সম্বোধন তাচ্ছিল্য পূর্ণ ভাবে করেছেন । এটা তার চিরাচরিত চৈরিত্র বৈশিষ্ট এবং ড: আব্বাসীকে উত্তেজিত করার অপকৌশল ছিল মাত্র ।
আব্বাসী সাহেব তার এই অপকৌশলকে গোড়াতেই বুঝতে পেরেছেন এবং আগাগোড়াই ছিলেন শান্ত , প্রানবন্ত এবং বক্তব্যের মূল কেন্দ্রীয় পয়েন্টের উপর স্থির ও চলমান।

শাহরিয়ার কবির প্রসংগকে কেন্দ্রীয় আলোচনা থেকে সরিয়ে তুচ্ছ বিতর্ক তৈরীর চেষ্ঠা করেছেন কিন্তু আব্বাসী সাহেব বরাবরই তথ্যভিত্তিক এবং একাডেমিক আলোচনা করে অতি সুনিপূণভাবে ধর্ম নিরপেক্ষতার অসারতা এবং এটি যে ক্লাস অফ সিভিলাইজেসনের যুদ্ধে ইসলামের রাজনৈতিক উত্থানকে ঠেকাবার পুজিবাদী হাতিয়ার সেটি সাব্যস্ত করে স্পষ্ঠ বলে দিয়েছেন এটি একটি হাইপোথেটিক্যাল ধারনা , যার বাস্তবায়ন পৃথিবীতে একটিও নেই । তিনি বিপরীতে খেলাফত রাষ্ট্র ব্যবস্থার ব্যাপকতা ও অবশ্যম্ভাবিতা বেশ যুৎসইভাবে তুলে ধরেছেন ।

উল্লেখযোগ্যভাবে তিনি মি: শাহরিয়ার কবীরকে তার বঙ্গবন্ধুর দেয়া ধর্ম নিরপেক্ষতার মূলনীতিকে, যা প্রতিষ্ঠিত কোন সংজ্ঞায় মিলেনা বা পৃথিবীর কোন রাষ্ট্রেই নেই এর নাম পরিবর্তন করার প্রস্তাবটিও দারুন যৌক্তিক ভাবে উত্থাপন করেছেন । তিনি শাহরিয়ার কবীরকে বেশ ক’টি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বিম্বিষায় পাঠিয়ে দিয়ে কাদিয়ানী এবং খেলাফত ইস্যুতে তাকে বলেছেন ‘আপনি জানেন না’ । কবীর এই চ্যালেন্জ নিতে পারেন নি । মাওলানা মওদুদী,জামাত সাঈদী ইত্যাদি ইস্যুতেও তিনি কৌশলে শাহরিয়ার কবিরকে উঠে দাঁড়াতে দেন নি ।

পরিশেষে মি: শাহরিয়ার ইসলাম ও খেলাফত নিয়ে কাজ করা এবং এর প্রতিষ্ঠার দাবী উত্থাপনকে নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন ।
পুরো সময়ে শাহরিয়ারের অসহায়ত্ব দৃশ্যমান ছিল এবং শেষদিকে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে চলে যেতেও ইচ্ছা ব্যাক্ত করেছেন ।

আব্বাসী সাহেব শুরু থেকেই তাঁর বক্তব্যকে মূল পয়েন্টে কেন্দ্রীভূত রেখেছেন এবং ইসলাম এবং খেলাফত দুনিয়াতে আছে এবং অচিরেই আসবে বলে বক্তব্য সমাপ্ত করেছেন ।
আজকের এই টকশোটি স্মরনীয় হয়ে থাকবে ।

লেখক ঃ অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল কাদির সালেহ
আন্তর্জাতিক সম্পাদক, হেফাজতে ইসলাম ও যুগ্ম মহাসচিব খেলাফত মজলিস।

ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহবান-ডাঃ শফিকুর রহমান

ভাস্কর্য স্থাপনের ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান ৩ ডিসেম্বর ২০২০ এক বিবৃতি প্রদান করেছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি মুসলিম রাষ্ট্র। সাংবিধানিকভাবে এ দেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। দেশের ধর্মপপ্রাণ মানুষ যুগযুগ ধরে ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে নিজেদের জীবন পরিচালনার চেষ্টা করে আসছে। আমরা লক্ষ্য করছি, সাম্প্রতিককালে মূর্তি নির্মাণ নিয়ে ইসলামী আদর্শ ও শরীয়াহ বিরোধী এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের অবতারণা করা হয়েছে। কারো কারো পক্ষ থেকে ভাস্কর্য ও মূর্তি এক নয় বলে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, মূর্তি ও ভাস্কর্য একই। ভাস্কর্য ও মূর্তি নির্মাণ করা ইসলামে নিষিদ্ধ। কোনো প্রাণীর মূর্তি বা ভাস্কর্য তৈরি করা ইসলামে শিরক বলে গণ্য করা হয়েছে। যারা এটাকে শিল্প বলে যুক্তি দিচ্ছেন তারা যদি কুরআন হাদীস থেকে এর সপক্ষে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পেশ করতে পারেন তাহলে জনমনে কোনো প্রশ্ন থাকবেনা। এটা তাদের পক্ষে কিছুতেই সম্ভব হবেনা। কিছু লোক আল্লাহর ঘর বায়তুল্লাহকে ভাস্কর্য বলেছেন। নির্বোধ ব্যক্তিদের এটা বাড়াবাড়ি। কোনো কোনো ব্যক্তি ভাস্কর্যের পক্ষে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করতে গিয়ে অতীতের কিছু উদাহারণ টানেন। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে এটা সর্বাবস্থায় পরিত্যাজ্য এবং হারাম। অন্য ধর্মাবলম্বীগণ তাদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে উপাসনালয়ে কিংবা নিজ নিজ স্থাপনায় মূর্তি সংরক্ষণ করলে তাতে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু উন্মুক্ত স্থানে মূর্তি বা ভাস্কর্য স্থাপনের কোনো অনুমতি ইসলাম দেয়নি। কেউ কেউ মূর্তি ও ভাস্কর্য নির্মাণকে বৈধ করার এবং এ ব্যাপারে যুক্তি তুলে ধরার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন যা মুসলিম জাতির জন্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আমরা সুস্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো প্রাণীর মূর্তি নির্মাণ করা কবিরা গুনাহ ও হারাম। মূর্তি সংগ্রহ, মূর্তি নির্মাণ, এবং মূর্তির বেঁচাকেনা ইসলামে কঠিনভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘‘এবং তারা বলেছিল, তোমরা কখনো পরিত্যাগ করো না তোমাদের উপাস্যদেরকে এবং কখনো পরিত্যাগ করো না ওয়াদ্দ, সুওয়া, ইয়াগূছ, ইয়াঊক ও নাসরকে। অথচ তারা অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে” (সূরা নূহ আয়াত ২৩-২৪)।

এই আয়াতে উল্লিখিত মূর্তিগুলো সম্পর্কে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন, ‘এগুলো হচ্ছে নূহ (আ:) এর সম্প্রদায়ের কিছু পূণ্যবান লোকের নাম। তারা যখন মৃত্যুবরণ করেছে তখন শয়তান তাদের সম্পদায়কে এই কুমন্ত্রণা দিয়েছে যে, তাদের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলোতে মূর্তি স্থাপন করা হোক এবং তাদের নামে সেগুলোকে নামকরণ করা হোক। লোকেরা এমনই করল। ওই প্রজন্ম যদিও এই সব মূর্তির পুজা করেনি কিন্তু ধীরে ধীরে প্রকৃত বিষয় অস্পষ্ট হয়ে গেল এবং পরবর্তী প্রজন্ম তাদের পূজায় লিপ্ত হলো। (সহীহ বুখারী হাদীস নং: ৪৯২০)।

কুরআন হাদীসের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণ বা স্থাপনের কোনো অনুমতি ইসলাম দেয়নি। মূর্তি বা ভাস্কর্য এক নয় মর্মে যারা বিতর্ক সৃষ্টি করছেন তারা অত্যন্ত গর্হিত কাজ করছেন। আপামর জনগণের ঈমানী চেতনার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মধ্যেই কল্যাণ। আমরা ভাস্কর্যের নামে মূর্তি নির্মাণ করার মত ইসলাম বিরোধী এই কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহবান জানাচ্ছি”।

ভাস্কর্য নির্মাণ করে মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করার অধিকার কারো নেই-আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী

বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ’র মুহতারাম সভাপতি আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেন, দেশে ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে। নানাভাবে আলিম-উলামার প্রতি বিষোদগার করা হচ্ছে। যা মোটেই কাম্য নয়। এদেশ সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানের দেশ, মসজিদের দেশ। এখানে রাস্তার মোড়ে বা প্রতিষ্ঠানে কোনো ব্যক্তি বা প্রাণীর ভাস্কর্য তৈরি করে মুসলমানদের অনুভূতির মূলে আঘাত হানার অধিকার কারো নেই। কোনো ব্যক্তি বা প্রাণীর ভাস্কর্য তৈরি করা ইসলাম সমর্থন করে না। তাই এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে। বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। করোনা মহামারিতে বিশ্ব আজ অসহায়। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের আল্লাহর প্রতি মনোনিবেশ করতে হবে। আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও গযবের কারণ হয় এমন আচরণ ও সিদ্ধান্ত থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। দেশের পরিস্থিতি উত্তপ্তের পক্ষে আমরা নই। তবে ঈমান-আকীদার প্রশ্নে আমরা আপোসহীন। তাই ইসলাম বিরোধী কোনো কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্য আমরা সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী আজ বৃহস্পতিবার (০৩.১২.২০২০) বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ’র কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সংগঠনের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা একেএম মনোওর আলী’র পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এতে সংগঠনের কার্যকরী পরিষদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

হেফাজতে ইসলামের সম্মেলনে ১৫১ সদস্য কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

এম. এম আতিকুর রহমান ঃ

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সম্মেলন আজ ১৫ নভেম্বর দিনব্যাপী হাটহাজারী মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ব্যাপক আলাপ আলোচনা ও প্রস্তাবের মাধ্যমে সর্ব সম্মতিক্রমে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এতে আমীরে হেফাজত নির্বাচিত হন- মজলুম জননেতা শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ও মহাসচিব- জমিয়তের মহাসচিব শায়খুল হাদীস আল্লামা নুর হুসাইন কাসেমী।

উপদেষ্টামন্ডলীতে রয়েছেন বীর চট্টলার আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী, আমীরে মজলিস অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, জমিয়তে সভাপতি শায়েখ মাওলানা জিয়া উদ্দিন,
মুফতী রশীদুর রহমান ফারুক পীর সাহেব বরুণী প্রমুখ।

নায়েবে আমীর হিসেবে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আল্লামা ড. আহমদ আবদুল কাদের অন্যতম।

যুগ্ন মহাসচিবদের মধ্যে খতিবে বাঙাল মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, আল্লামা মামুনুল হক প্রমুখ অন্যতম।

সহকারী মহাসচিবদের মধ্যে খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর আল্লামা শাখাওয়াত হোসাইন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন প্রমুখ অন্যতম।

প্রচার সম্পাদক- আজিজুল হক ইসলামাবাদী, আইন বিষয়ক সম্পাদক- জমিয়তের অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহিনুর পাশা চৌধুরী,

আন্তর্জাতিক সম্পাদক- খেলাফত মজলিসের ইউরোপের পরিচালক সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল কাদের সালেহ।

অন্যান্য দায়িত্বশীল ও সদস্যরা সহ ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

পূর্ব মুড়িয়ায় উলামা মাশায়েখদের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল।

মোঃইবাদুর রহমান জাকিরঃ ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় মদদে মহানবী (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে ও ফরাসী পণ্য জাতীয়ভাবে বয়কটের ও রাষ্ট্রীয় প্রধান ফ্রান্স সরকারকে নিন্দা বাণী প্রদান এসব দাবীতে উলামা মাশায়েখ সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার পূর্ব মুড়িয়া ইউনিয়ন কতৃক আয়োজিত বাদ জুম্মা বিকাল ২টার সময় স্থানীয় সারপার বাজার বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

(১৩নভেম্বর) শুক্রবার বিকাল ৩ ঘটিকায় উলামা মাশায়েখ নেতাকর্মীদের এক বিক্ষোভ মিছিল বাজারের অলিগলি প্রদক্ষিণ করে। এর আগে বাদ জুম্মা পশ্চিম বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এ মানুয়েল মাক্রোঁর পুত্তলিকা দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন উলামা-মাশায়েখ নেতাকর্মীরা।

এতে মাওলানাঃ আব্দুল আহাদের সঞ্চালনায়,হাফিজ আশরাফ আহমদের কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মাওলানা আব্দুল গনীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন
মাওলানা আব্দুল মালিক কাসিমী শিক্ষক দারুস সুন্নাহ মুরাদগঞ্জ টাইটেল মাদ্রাসা,আরো বক্তব্য রাখেন সারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, মাওলানা ইসলাম উদ্দিন,সাবেক ইমাম নওয়াগ্রাম পাঞ্জেগানা মসজিদের হাঃমুহিবুর রহমান।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ আষ্টঘরী জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা শওকত আহমদ,বড়উধা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা হারুনুর রশীদ,আভঙ্গি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা রেজাউল করিম,বড়উধা পশ্চিম পাঞ্জেগানা মসজিদের ইমাম
মাওলানা আব্দুল জলিল, পূর্ব মুড়িয়া দাখিল মাদ্রারাসার শিক্ষক মাওঃদেলওয়ার হোসেন,সারপার দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওঃ আব্দুর রহমান তামেদ,পূর্ব মুড়িয়া ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাঃমোসাদ্দেক তাপাদার কাশেম,পূর্ব মুড়িয়া ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাহিদ চৌঃশাহিদ,৮নঃ ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল্লা আল সাঈদ চৌঃ (মুন্না) প্রমুখ।

মাওলানা কাসেমী তিনি বলেন বলেন, ফ্রান্সের সাথে বাংলাদেশের কুটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। পাশাপাশি সংসদে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে মাওঃরেজাউল করিম সভায় আগত সকলের কৃতজ্ঞতা জানান। ইসলামসহ সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রবীন আলেম মাওলানা আব্দুল গণীর মুনাজাতের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

বড়লেখা পাবলিকেশন সোসাইটির উদ্দোগে আল-কোরআন বিতরণ।

সামাজিক সংগঠন বড়লেখা পাবলিকেশন সোসাইটির উদ্যোগে এবং সংগঠনের প্রবাসী সদস্যবৃন্দের অর্থায়নে আজ (১০ নভেম্বর) দুপুর ২.০০ ঘটিকার সময় বড়লেখা উপজেলার লিচুবাগান নুরানী তালীমুল কোরআন ইসলামী একাডেমী এতিমখানা মাদ্রাসার হাফিজদের মধ্যে কোরআন শরীফ বিতরণ ও দুয়া মাহফীল অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসাইনের সঞ্চালনায় ও সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিরাজুল ইসলাম শিরুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। কোরআনে কারীম থেকে তেলাওয়াত করেন হাফিজ তাওসিফ ইমরান,
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক আব্দুল হালিম,সদস্য আক্তার হোসেন, মাওলানা কারী সাইফুর রহমান, হাফিজ মাওলানা ইব্রাহিম খলিল।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য পেশ করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক পাবলিকেশন সোসাইটির সম্মানিত প্রধান উপদেষ্টা জনাব আব্দুল আহাদ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বিশিষ্ঠ সমাজসেবক পাবলিকেশন সোসাইটির সম্মানিত উপদেষ্টা জনাব আব্দুল কুদ্দুস স্বপন।

সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ তুহেল ও সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আব্দুস সামাদ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অফিস সম্পাদক জনাব নিজাম উদ্দিন,জুবায়ের আহমেদ দিলশাদ,
মাওলানা আব্দুস সবুর সুমন হাফিজ তাওসিফ ইমরান জাহেদ আহমেদ আক্তার হোসেন আবু বক্কর মাহফুজুর রহমান সানি
এমরান হোসেন রায়হান হোসেন প্রমুখ।

সংগঠনের প্রতিষ্টাতা সৌদি প্রবাসী মাহতাব আল মামুন, আজকের অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ, সংগঠনের সকল প্রবাসী ও দাতা সদস্য এবং যারা অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন সকলের প্রশংসা করেন এবং সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্যঃ অনুষ্ঠান শেষে হাফিজ বাচ্ছাদের আপ্যায়ন করানো হয়।

রাসূল (সাঃ) কে নিয়ে ব্যাঙ্গচিত্র করায় দৌলতপুর ছাত্র সমাজের প্রতিবাদী মিছিল ও সমাবেশ


মোঃইবাদুর রহমান জাকির

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ৩ নং নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ছাত্র সমাজের উদ্দ্যোগে ফ্রান্স সরকারের রাষ্ট্রীয় মদদপৃষ্টে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) ছবি ব্যাঙ্গচিত্র প্রর্দশন ও অবমাননার প্রতিবাদে (২রা নভেম্বর) বাদ আছর দৌলতপুর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন করা হয়।

এতে কাওছার আহমেদের পরিচালনায়, প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মাওঃআব্দুস সবুর,আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুফাস্সির পরিষদ বোর্ড মৌলভীবাজার জেলা শাখার সদস্য মাওঃ কমর উদ্দিন (বাদশা),দৌলতপুর জামে মসজিদের ইমাম মাওঃআইনুল ইসলাম,পকুয়া মসজিদের মুয়াজ্জিন সাইফুর রহমান,এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ছাত্রনেতা আব্দুল মুহিত মুর্শেদ,শিক্ষক সামসোদ্দুহা মঞ্জু,তানভীর আহমেদ,তায়েফ আহমেদ,শাহীন আহমেদ, ছাত্রনেতা আলিউর রহমান,ছাত্রনেতা আসাদুর রহমান,ছাত্রনেতা অলিউর রহমান বাবু,মাসুম আহমেদ,ফাহাদ আহমদ নাহিদ,আবুল হাসনাত,ওয়াহিদুর রহমান, মাহফুজুর রহমান,কামরুল ইসলাম,মারুফ আহমেদ,রাফায়াত আহনাফ,সহ রাসূল সাঃ প্রেমি তাওহীদি জনতা,যুবসমাজ ও ছাত্রসমাজ অংশ গ্রহন করে।

বড়লেখায় তালামিযের ঈদে মিলাদুন নবী সাঃ উপলক্ষে র‌্যালী ও মিলাদ মাহফিল।


মোঃইবাদুর রহমান জাকির

বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা শাখার উদ্যোগে ১২ই রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাঃ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এবং মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

(৩০অক্টোবর) বড়লেখা সদর ইউনিয়ন মিলনায়তনে বিকেলে উক্ত অনুষ্ঠানে উপজেলা তালামীযের সভাপতি নুরুল ইসলাম বাবলু এর সভাপতিত্বে উপজেলা তালামীযের সাধারণ সম্পাদক রুবেল আহমদ এর পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা আল ইসলাহ এর সহ-সভাপতি মাওলানা ছালেহ আহমদ জুয়েল। প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া কেন্দ্রীয় পরিষদের সম্মানিত সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্রনেতা মুজতবা হাসান চৌধুরী নোমান, প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন উপজেলা আল ইসলাহ এর সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহমান, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা আল ইসলাহ এর যুগ্ন সম্পাদক মাষ্টার নাজিম উদ্দিন।

এছাড়া আরো উপস্হিত ছিলেন আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া কেন্দ্রীয় পরিষদের সাবেক সদস্য মাহমুদুল হাসান, উপজেলা আল ইসলাহ এর সাধারন সম্পাদক মাওলানা কাজী আব্দুল মুমিত, সাংগঠনিক সম্পাদক মাষ্টার শামছুল ইসলাম, লতিফিয়া ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদের সভাপতি মাওলানা কুতুবুল আলম, উপজেলা আল ইসলাহ এর সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহেদ আহমদ জুয়েল, লতিফিয়া কারী সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আমানুর রহমান, উপজেলা তালামীযের সহ-সভাপতি রুহুল আমিন রুহেল, সহ-সাধারণ সম্পাদক রেদওয়ান হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হাকিম জীবন, পৌর তালামীযের সভাপতি হাবিবুর রহমান সহ উপজেলা আল ইসলাহ, তালামীয ও লতিফিয়া কারী সোসাইটির নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ইউনিয়ন শাখার কর্মীবৃন্দ।

১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে শোভাযাত্রা বড়লেখা বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ৬নং সদর ইউনিয়নে এসে মিলাদ ও দোয়ার মাধ্যমে শেষ হয়।

বড়লেখায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমামের আহব্বানে তাওহীদি জনতা ভিক্ষোভ।


মোঃইবাদুর রহমান জাকিরঃ

ফ্রান্সে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এ-র অবমাননাকর চিত্র প্রদর্শনীর প্রতিবাদে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সর্ব স্তরের মুসলিম তৌহিদী জনতার উদ্যোগে (৩০ অক্টোবর) বাদ জুমা একযুগে বড়লেখা সদরে,কাঠালতলীতে,বাদ আছর অফিস বাজারে,বাদ মাগরিব,শাহবাজপুর বাজারে, বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বড়লেখা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ক্বারী মনোহর আলীর আহবানে সর্বস্তরের তাওহীদি জনতা অংশ গ্রহন করে।

এতে বক্তারা বলেন ফ্রান্সে কাফের মুশরিকরা মুসলমানদের প্রাণাধিক প্রিয় রাসুলুল্লাহ সাঃ এ-র ব্যাঙ চিত্র প্রদর্শনী করে অবমাননা করছে। এ অবস্থায় নবী প্রেমিক মুসলমানরা প্রতিবাদ প্রতিরোধে না করে নিরব থাকতে পারে না। তাঁরা অবিলম্বে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ফ্রান্সের পন্য বর্জন এবং দূতাবাস সহ কুটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য সরকার ও জনসাধারণকে আহবান জানান। হাজার হাজার তৌহিদী জনতার এ মিছিল উপজেলার ভিন্ন বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সমাবেশে মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

রাসূল সা. এর অবমাননার প্রতিবাদে বড়লেখায় জমিয়তের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ।


এম. এম আতিকুর রহমান ঃ

ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় মদদে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শন এবং মুসলমানদের উপর হামলা ও নিপীড়নের প্রতিবাদে; জমিয়ত, যুব জমিয়ত ও ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা শাখার উদ্যোগে আজ ২৮ অক্টোবর বাদ আসর এক
বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বড়লেখা কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বড়লেখা বাজারের মূল সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত “বিক্ষোভ সমাবেশে” সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জমিয়তের সভাপতি মাওঃ শায়েখ রমিজ উদ্দীন।

উপজেলা ছাত্র জমিয়তের আহবায়ক মাওঃ আবিদুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা জমিয়তের সহ-সভাপতি মাওঃ শায়েখ মুখলিসুর রহমান, সহ-সভাপতি মাওঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, বড়লেখা উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব, বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট এম.এম আতিকুর রহমান, বড়লেখা উপজেলা জমিয়তের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা বদরুল ইসলাম, সাহিত্য সম্পাদক মাওঃ হাফিয সাদিক আহমদ, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ’র প্রাক্তন সহ-সাধারণ সম্পাদক হাফিয মাওঃ তায়্যিবুর রহমান, বড়লেখা উপজেলা জমিয়তের অর্থ সম্পাদক হাফিয মাওঃ ইব্রাহীম খলিল, বড়লেখা উপজেলা যুব জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওঃ সাইফুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওঃ মাহবুবুর রহমান, যুবনেতা মাওঃ শাহাব উদ্দীন, মাওঃ জাকারিয়া আল আরশাদ, বড়লেখা উপজেলা ছাত্র জমিয়তের যুগ্ম আহবায়ক মাওঃ ওলিউর রহমান শামিম, যুগ্ম সদস্য সচিব হাফিয ফাহিম আহমদ প্রমুখ।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বড়লেখা উপজেলা যুব জমিয়তের প্রচার সম্পাদক মাওঃ মুজাহিদুল ইসলাম, তালিমপুর ইউপি যুব জমিয়তের সভাপতি মাওঃ আছাদুর রহমান, ছাত্রনেতা মাওঃ ফরহাদ আহমদ, মাওঃ ছাব্বির আহমদ, হাফিয জুনাইদ আল হাবিব, গোলাম রব্বানী মাসুম, হাফিয আব্দুল আজিজ এমরান, হাফিয হুসাইন আহমদ, গোলাম কিবরিয়া, মাহমুদুর রহমান প্রমুখ।
পরিশেষে সভাপতির আলোচনা ও মুনাজাতের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

নিজের আপত্তিকর প্রকাশ করায় এরদোগানের মামলা


আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ

নিজের আপত্তিকর ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশ করায় ফরাসী সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন শার্লি হেবদোর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। বুধবার তিনি ম্যাগাজিনটির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন।

এরদোগানের আইনজীবী জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে ঘৃণ্য কার্টুনের অভিযোগ এনে ম্যাগাজিনটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন এরদোগান।

তুর্কি সংবাদমাধ্যম ইয়েনি শাফাক জানিয়েছে, আঙ্কারার প্রসিকিউটরের কাছে এ অভিযোগটি জমা পড়েছে। আইনজীবী হুসেই আদিন জানিয়েছেন, ম্যাগাজিন কর্তৃপক্ষ ও কার্টুনিস্টের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

এর আগে এদিন দেশের প্রেসিডেন্টকে অপমান করায় আঙ্কারার প্রসিকিউটরও শার্লি হেবদোর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তুরস্কের আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

তুর্কি কর্মকর্তারা বলছেন, পত্রিকাটি সাংস্কৃতিক বর্ণবাদ ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়ার জন্য এটি ‘ঘৃণ্য প্রচেষ্টা’।

রয়টার্স জানিয়েছে, এরদোগানকে নিয়ে যে ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, তার কভারে দেখা গেছে, এরদোগান একটি সাদা টি-শার্ট পরে বসে আছেন। হাতে একটি ক্যানের ভেতর পানীয় জাতীয় দ্রব্য রাখা এবং পাশে দাঁড়িয়ে আছে ইসলামিক হিজাব পড়া এক নারী।

এর আগে ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশ করায় ফ্রান্স ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। চলতি মাসেই ফ্রান্সের এক শিক্ষক ক্লাস রুমে ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশ করার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। পরে ওই শিক্ষককে এক মুসলিম তরুণের হাতে প্রাণ দিতে হয়।

যদিও তরুণটি হামলার পরেই পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশের ঘটনায় ওই শিক্ষকের প্রতি সম্মান জানাতে গিয়ে ইসলাম ও বিশ্বনবীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো।

তুর্কি যোগাযোগ অধিদফতর বলছে, আমাদের জনগণের সন্দেহ নেই যে প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাঙ্গচিত্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব আইনগত ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ফ্রান্সে ধর্মীয় অবমাননার প্রতিবাদে বড়লেখায় ছাত্র মজলিশের বিক্ষোভ মিছিল


মোঃইবাদুর রহমান জাকির

ফ্রান্স সরকার কর্তৃক মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রদর্শন ও ধর্মীয় অবমাননার প্রতিবাদে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ছাত্র মজলিস….

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস বড়লেখা উপজেলা উত্তর সভাপতি মুহাম্মদ কামরুল হাসান এর সভাপতিত্বে ও দক্ষিন শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল নোমান এর পরিচালনায় মিছিল পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রাক্তন সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি ও খেলাফত মজলিস বড়লেখা উপজেলা সভাপতি কাজী মাওলানা এনামুল হক।

প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল খালিক।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ছাত্র মজলিস মৌলভীবাজার জেলা শাখার প্রাক্তন সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক এম এম আতিকুর রহমান, প্রাক্তন জেলা সভাপতি মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রাক্তন সভাপতি খসরুল আলম, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সহ সভাপতি মাওলানা শফিকুল ইসলাম, ছাত্র মজলিস জেলা বায়তুলমাল ও প্রকাশনা সম্পাদক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফখরুল ইসলাম, ফয়সল আলম স্বপন।

উপস্থিত ছিলেন ছাত্র মজলিস মৌলভীবাজার জেলা শাখার প্রাক্তন সেক্রেটারি মুহাম্মদ এনামুল হক, জেলা অফিস ও প্রচার সম্পাদক আনিসুল ইসলাম, উপজেলা উত্তর শাখার সেক্রেটারি আশরাফ হোসেন, মেহেদি হাসান, আব্দুল মুকিত, সেলিম উদ্দিন, জাহেদ আহমদ প্রমুখ।

মিছিলটি পৌর শহরের শড়ক প্রদক্ষিন করে বড়লেখা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে এসে প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

আন্জুমানে হেফাজতে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন মুফতি ফারুক আমীর, অধ্যাপক সবুর মহাসচিব।


এম. এম আতিকুর রহমান ঃ

আণ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার বার্ষিক অধিবেশন আজ ২২ অক্টোবর দুপুর ১২টা থেকে বরুণার মসজিদে ক্বাদিমে অনুষ্ঠিত হয়।

ওলিকুল শিরোমনী আল্লামা মুফতী রশীদুর রহমান ফারুক পীর সাহেব বরুণী’র সভাপতিত্বে দুই অধিবেশনে শুরা সদস্যরা বিস্তারিত আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে মুফতি রশীদুর রহমান ফারুক বর্ণভীকে আমীর ও বড়লেখার কৃতি সন্তান অধ্যাপক মাওলানা আবদুস সবুরকে মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়েছে।

নায়েবে আমীররা হলেন মাওলানা সাইদুর রহমান বর্ণভী, মাওলানা ওলিউর রহমান বর্ণভী, আল্লামা আব্দুল বারী ধর্মপুরী, মাওলানা আবদাল হোসেন খান, মাওলানা নুরে আলম হামিদী, মাওলানা বদরুল আলম হামিদী, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা শাহ নজরুল ইসলাম, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা হলেন শায়েখ মাওলানা মুজাদ্দিদ আলী, মাওলানা মুজিবুর রহমান মুজাহিদ, মুফতি শফিকুর রহমান সিলেট, মাওলানা জাবের আহমদ হবিগঞ্জি, মাওলানা হেলাল আহমদ হেতিমগঞ্জি, মাওলানা লুৎফুর রহমান জাকারিয়া কমলগঞ্জি। অর্থ সম্পাদক মুফতি হিফজুর রহমান ফুয়াদ, প্রচার সম্পাদক মাওলানা জিয়া উদ্দিন ইউসুফ প্রমুখ। এছাড়াও আমীরে আন্জুমান ও মহাসচিব অন্যান্য সম্পাদকীয় ও সদস্যবৃন্দ নিযুক্ত করবেন মর্মে শুরা অধিবেশনে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বড়লেখায় আওয়ামীলীগের তিন নেতার স্বরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত।


মোঃইবাদুর রহমান জাকির বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নিমার আলী, ফৈয়াজ আলী ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার উদ্দিন স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৌরসভা মিলনায়তনে বড়লেখা পৌর পরিষদ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে। দোয়া ও মিলাদ মাহফিল উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী। পৌরসভার কাউন্সিলর রেহান পারভেজ রিপনের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর,নিমার আলীর ভাতিজা উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিন, ফৈয়াজ আলীর ভাতিজা আতাউর রহমান প্রমুখ। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মনোয়ার হোসেন মাহমুদী। এ সময় উপজেলা আওয়ামীলীগ ও যুবলীগ নেতৃবৃন্দ, পৌরসভার কাউন্সিলর ও নাগরিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সীমিত আকারে ওমরাহ হজ চালু করার সিদ্ধান্ত।

নিউজ ডেস্কঃ শীঘ্রই সৌদি আরবে সীমিত পরিসরে ওমরাহ হজ চালু করে দেয়া হবে। শুধুমাত্র সৌদি আরবে অবস্থানরত স্থানীয়দের ওমরাহ হজ পালনের সুযোগ দেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি সরকার।

১৫ সেপ্টেম্বর থেকে প্রথম দফায় সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হয়েছে অভ্যান্তরীন মন্ত্রণালয়, এবং সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক ভ্রমনের সকল প্রকার নিষেধাজ্ঞা আগামী ১ জানুয়ারি, ২০২১ থেকে সম্পূর্ণ তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নয়ন এর উপর ভিত্তি করে সৌদি আরবে ওমরাহ হজ পুনরায় চালু করার জন্য একটি পরিকল্পনা নেয়া হবে এবং ওমরাহ হজ আবার চালু করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয় এর একটি বিশ্বস্ত সূত্র।

তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় সকল স্বাস্থ্যবিধি ও শর্ত এবং নিয়মাবলী মেনে সৌদি আরবে অবস্থানরত স্থানীয়রা ওমরাহ হজ করার সুযোগ পাবেন। হজের বিধিগুলো পালন করবার পূর্বে প্রত্যেক হাজিকে সাথে করে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট বহন করতে হবে। সৌদি আরবে অবস্থানরত স্থানীয় সৌদি নাগরিক এবং প্রবাসী, সকলেই অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষে ওমরাহ হজ পালন করতে পারবেন।

ওমরাহ হজে স্থানীয়দের কি কি নিয়ম পালন করতে হবে সেগুলোর সাথে ওমরাহ হজ চালুর তারিখও ঘোষণা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের হজ এবং ওমরাহ মন্ত্রণালয়।

এছাড়াও একটি সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রণালয় এর পক্ষ থেকে একটি মোবাইল এপ লঞ্চ করা হবে, যাতে ওমরাহ হাজিদের প্রত্যেকের হজের বিধি ও আচার পালনের সময় নির্দিষ্ট করা হবে এবং জানিয়ে দেয়া হবে। এছাড়াও শর্তসাপেক্ষে প্রত্যেক হাজিকে হজ এর পারমিট প্রদান করা হবে, এবং পারমিট পাওয়া সাপেক্ষেই নির্ধারিত সময়ে হাজিরা নিজ নিজ হজ এর আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে পারবেন।

বড়লেখায় মন্ত্রীর সুস্থতা কামনায় ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদের দোয়া মাহফিল

এম. এম আতিকুর রহমান ঃ
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদের উদ্যোগে বড়লেখা-জুড়ীর সংসদ সদস্য পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আলহাজ্ব শাহাব উদ্দিন এর আশু সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান আজ ১৯ আগস্ট বড়লেখা পৌরসভার হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা সভাপতি বড়লেখা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা রুহুল আমিন এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব নগর জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফিজ মাওলানা মনোয়ার হোসেন মাহমুদীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ,

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মোঃ কামরান চৌধুরী, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল আহাদ, বড়লেখা হিফজুল কুরআন মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা খলিলুর রহমান, বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক এম. এম আতিকুর রহমান, সুড়িকান্দি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও মসজিদের ইমাম মাওলানা ওলিউর রহমান, পরিষদের সহ সভাপতি হাফিজ মাওলানা একরাম আলী, সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসান হাদী, পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ মাওলানা তৌয়বুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মুখলিসুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা বদরুল ইসলাম, মাওলানা মুতাহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

লেখনী-বক্তৃতা ও কাজের মাধ্যমে সত্যের দিকে দাওয়াত।

।। এম. এম আতিকুর রহমান ।।

এক. লেখনী-বক্তৃতার মাধ্যমে দাওয়াত
লেখনী ও বক্তৃতার মাধ্যমে দাওয়াতের একটির সম্পর্ক যবানের সঙ্গে, আরেকটির সম্পর্ক কলমের সঙ্গে। সুতরাং দাওয়াতের কাজ যে প্রকারেই করা হোক না কেন, দা’ঈর ভাষা, সাহিত্যের মানে উত্তীর্ণ হওয়া জরুরি। প্রথমে তাঁর মাতৃভাষা ও তাঁর সমাজের পরিভাষা সম্পর্কে তাঁকে প্রাজ্ঞ হতে হবে; চাই তাঁর মাতৃভাষা যাই হোক না কেন। কারণ, সে যদি নিজের এলাকার মানুষকে মাতৃভাষায় সত্যের দীনের দাওয়াত দেয়, তাহলে তা বেশি কার্যকর হবে।

পক্ষান্তরে কোনো ভিন্নভাষী যদি ভিন্ন ভাষায় দাওয়াতের কাজ করে, তাহলে তা এতটা কার্যকর ও প্রভাবসম্পন্ন হবে না। যেমন ধরুন, আমি যদি ‘চাতরাল’ গিয়ে আমার ভাষায় ওয়াজ করি, তাহলে আস্থা ও মুহাব্বতের কারণে হয়তো-বা মানুষ আমার ওয়াজ শুনবে এবং আমার প্রতি তারা ভক্তি-শ্রদ্ধাও প্রদর্শন করবে, কিন্তু তাতে ওই রকম প্রভাব পড়বে না, যা ওই ভাষাভাষী একজনের ওয়াজে হবে। তাই প্রত্যেক দা’ঈর কর্তব্য হলো, তার মাতৃভাষা ও সাহিত্যে পাণ্ডিত্য অর্জন করা।

দাওয়াতের আরেকটি প্রকার হলো লেখা। একজন দা’ঈর লেখা খুব পরিষ্কার ও সুন্দর হওয়া চাই এবং নিয়ম-নীতি অনুযায়ী হওয়া চাই। লেখার সাহিত্যমানও উচ্চাঙ্গের হওয়া চাই। দা’ঈর লেখা যদি অসুন্দর ও অশুদ্ধ হয়, তাহলে প্রথমেই পাঠক তাতে বিরক্ত হবে। সে ভাববে, যার লেখাই বিশুদ্ধ নয়, সে আবার আমাকে কী শেখাবে! তাই লেখা সুন্দর করাও দা’ঈর অনেক বড় গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

আজকাল সর্বসাধারণের কাছে সংবাদ পৌঁছানোর কাজকে শক্তিশালী গণমাধ্যম দিয়ে সম্পাদন করা হয়। তাই দা’ঈর জন্য এ বিষয়টিও জানা থাকা জরুরি।

গণমাধ্যমও দুই ধরনের :
এক. টেক্সট বা লৈখিক মিডিয়া, তথা পত্র-পত্রিকা, ওয়েবসাইট ইত্যাদি।

দুই. অডিও-ভিডিও মিডিয়া, তথা রেডিও, টেলিভিশন, ইউটিউব ইত্যাদি।

লৈখিক মিডিয়ায় দাওয়াতের কাজ করতে হলে লেখায় সাহিত্যমান থাকা জরুরি। অডিও-ভিডিও মিডিয়ায় কাজ করতে হলে যবানের ভাষা ও আলোচনা সাহিত্যমানে উত্তীর্ণ হওয়া জরুরি।
লৈখিক মিডিয়ার সম্পর্ক কলমের সঙ্গে, আর অডিও-ভিডিও মিডিয়ার সম্পর্ক যবানের সঙ্গে। এ জন্য উভয় ক্ষেত্রেই দা’ঈর পাণ্ডিত্য থাকা জরুরি।

দুই. কাজের মাধ্যমে দাওয়াত
দাওয়াতের দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো- নিজের জীবনে ইসলামী বিধিবিধান পালনের বাস্তব নমুনা পেশ করা। সত্য সুন্দর ও মজলুম মানুষের পক্ষে দাড়াতে নিজের আমল আখলাক, চাল চলন উন্নত হওয়া চাই। এটি দাওয়াতের সবচেয়ে কার্যকর ও গতিশীল মাধ্যম। এজন্য নিজের সংশোধন ও প্রস্তুতির নিমিত্তে প্রয়োজন তাজকিয়ায়ে নফসের উন্নয়ন।
আমার যে আমলের মাধ্যমে আমি অন্যের কাছে দাওয়াত পেশ করবো, তা দুরস্ত করার জন্য প্রয়োজন মুসলিহ ও মুরব্বী; প্রয়োজন এমন কিছু মানুষের সোহবত ও সাহচর্য, যাঁরা নিজেরা আত্মশুদ্ধি অর্জন করেছেন।

আল্লাহ্‌র নীতি এটাই যে, যেমনিভাবে শারীরিক রোগীর চিকিৎসা একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারই করতে পারেন, ঠিক তেমনি আত্মার বাতেনী রোগ-ব্যাধির চিকিৎসাও একজন রূহানী ডাক্তার ছাড়া সম্ভব নয়।

(চলবে)

মূল-মুফতি মুহাম্মাদ রফী উসমানী
(সাম্প্রতিক বিবেচনায় কিছু পরিবর্তিত)

রাংজিয়ল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল শায়খ সালেহ নাজিব আল- আইয়ুবির অন্যরকম ঈদ পুনর্মিলনীর

এম. এম আতিকুর রহমান ঃ

আজ প্রায় পাঁচটা মাস, প্রতিদিন ওঁরা একজন না একজনের ফোন আসছেই। হুজুর মাদ্রাসা কবে খুলবে? আমরা কবে আসবো? বাড়িতে আর ভাল্লাগেনা।

আশার প্রহর গুনা শেষ হচ্ছে না। আজ আট আগস্ট মাদ্রাসা সমুহ খোলার কথা, কিন্তু দুই দিন আগে যখন শুনলাম যে না আট আগস্ট মাদ্রাসা খুলছে না, তখন অপেক্ষার পালা শেষ করে এঁদেরকে শান্তনা দিলাম, কিন্তু না! ওরা বলছে আমরা আট আগস্ট চলে আসবো হুজুর!

রাত কিংবা দিন, যাদের নিয়ে আমি সাজিয়েছি আমার জীবন সাধনার অমর ভালোবাসা প্রিয় রাংজিয়ল জামেয়া, এদের প্রতি আমার ও অনেকটা হৃদয়ের ব্যাকুলতা অবশ্যই রয়েছে ।

জামেয়ার নাঈবে মুহতামিম হযরত মাওঃ আব্দুল মজিদ বললেন, এঁদেরকে সামাল দেয়া যাচ্ছে না। বললাম আমি আসছি।

সকাল দশটার দিকে রওয়ানা হলাম, একে একে বিচ্ছিন্ন ভাবে এদেরকে দেখে গেলাম, সর্বশেষ মাওঃ আব্দুল মজিদ এঁর বাড়িতে একত্রিত হলো ওঁরা প্রায় পঞ্চাশ জন।

মাওলানাকে বললাম এঁদের জন্য খাবার তৈরি করুন বিল আমি এসে পরিশোধ করবো, সাথে নিয়ে গেলাম রাজমহলের মিষ্টি,নিমকি, জিলাপি আর দই।

মাওলানার সাথে আমাকে তাঁরা রিসিভ করলো, প্রতিটি বাচ্ছার মুখে আনন্দ আর হাসি। একে একে সালাম মুসাফাহা করলাম। সালাতুল এশার পর মাওলানা আব্দুল মজিদ এঁর উঠানে এদের অভিভাবক সহ ঈদ আনন্দে শরিক হলাম আমি।

আশার আগে আধা ঘন্টার মত আলোচনা রাখলাম, পনেরো মিনিটের মতো দোয়া হলো।

দোয়া শেষে এঁদের একটাই দাবি হুজুর শিক্ষা বোর্ড মাদ্রাসা খোলার ঘোষণা কবে দিচ্ছে?

ওদের নিয়ে রাতের খাবার খেলাম, বাড়িতে ফিরলাম আর ফজরের আযান শুনছিলাম মুয়াজ্জিনের কন্ঠে।

আমি যখন চলে আসবো, একে একে বিদায় নিচ্ছি আর বলছি খুব শিগগিরই মাদ্রাসা খুলবে, তোমরা চিন্তা কর না, তখন ছেলে গুলো তাদের অভিভাবকদের সামনে হাউমাউকরেকাঁদছে , আমি না দেখার বাহানা করে গাড়িতে বসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম, লুকিং গ্লাসে তাকিয়ে দেখলাম এঁরা দাড়িয়ে চেয়ে আছে আমার পথ পানে , অনেকে কান্না ঝরা চোখ মুছছে। তাঁদের ভালোবাসায় আসে ব্যাকুলতা।

পাঁচ দিন ‘তাকবিরে তাশরিক’ পড়ার বিধান

এম. এম আতিকুর রহমান…

‘তাকবিরে তাশরিক’ হলো মহান আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের স্বীকৃতি ও প্রশংসা ঘোষণা করা। প্রত্যেক হিজরি বছরের জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজরের নামাজ থেকে ১৩ তারিখ আসরের নামাজ পর্যন্ত ২৩ ওয়াক্ত নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক এক বার পড়া ওয়াজিব।
প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ, মুকিম-মুসাফির, গ্রামবাসী-শহরবাসী, জামাআতে বা একাকি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর প্রত্যেকের ওপর একবার করে তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা ওয়াজিব। তাকবিরে তাশরিক হলো- اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَاَللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ উচ্চারণ : ‘আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, ওয়ালিল্লাহিল হামদ্। ’অর্থ হলো : “আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; আল্লাহ মহান, আল্লাহ ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই; সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ মহান।” সে হিসেবে এ বছরের আগামী ৩১ জুলাই শুক্রবার ২০২০ (৯ জিলহজ) ফজর থেকে ০৪ আগস্ট মঙ্গলবার ২০২০ (১৩ জিলহজ) আসরের নামাজ পর্যন্ত ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর ‘তাকবিরে তাশরিক’ পড়তে হবে। এ তাকবির প্রত্যেক ওয়াক্তে ১ বার পড়া ওয়াজিব। আর ৩ বার পড়া মোস্তাহাব। বিষয়টি খেয়াল করে যথাযথভাবে পালন করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য জরুরী।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তথা মুসলিম উম্মাহকে উক্ত ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পাঠ করে আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসা ও নৈকট্য লাভের তৌফিক আতা ফরমান। আল্লাহুম্মা আমিন।

লেখকঃ এম. এম আতিকুর রহমান
ফাজিল -জামেয়া মাদানিয়া কাজিরবাজার, সিলেট।
কামিল, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা।

সমাজে যাদের উপর কোরবানী ওয়াজিব

কারো জন্য কোরবানী ওয়াজিব হওয়া কিংবা সুন্নত হওয়ার জন্য কোরবানীকারী কে ধনী হওয়া শর্ত। অর্থাৎ তার নিজের খরচ পাতি ও সে যাদের খরচ চালায় তাদের খরচপাতির অতিরিক্ত তার কাছে কোরবানী করার অর্থ থাকা। অতএব, কোন মুসলমানের যদি মাসিক বেতন বা আয় থাকে এবং এ বেতন দিয়ে তার খরচ চলে যায়, এর অতিরিক্ত তার কাছে কোরবানীর পশু কেনার অর্থ থাকে তাহলে সে ব্যক্তি কর্তৃক কোরবানী দেয়ার শরয়ীহ বিধান রয়েছে।

কোরবানী করার জন্য ধনী হওয়া শর্ত মর্মে দলিল হচ্ছে নবী (সাঃ) বাণী: “যে ব্যক্তির সামর্থ্য আছে অথচ সে কোরবানী করেনি সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়”[সুনানে ইবনে মাজাহ (৩১২৩), আলবানী ‘সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ’ গ্রন্থে হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন] এখানে সামর্থ্য দ্বারা উদ্দেশ্য ধনী হওয়া।

প্রতিটি পরিবারের পক্ষ থেকে কোরবানী দেয়ার বিধান রয়েছে। দলিল হচ্ছে- নবী (সাঃ) বাণী: “প্রতিটি পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতি বছর একটি কোরবানী দেয়া ওয়াজিব”[মুসনাদে আহমাদ (২০২০৭)] ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে বলেন: হাদিসটির সনদ মজবুত। আলবানী ‘সহিহ সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে (২৭৮৮) হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন]

এ বিধানের ক্ষেত্রে পুরুষ বা নারীর কোন ভেদ নেই। অতএব, কোন নারী যদি একাকী বসবাস করেন কিংবা তাঁর সন্তানদেরকে নিয়ে থাকেন তাহলে তাদেরকে কোরবানী করতে হবে।

প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী—যে ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের ভেতরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে; তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।
অর্থ-কড়ি, টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, গহনা-অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকির অতিরিক্ত জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সব আসবাবপত্র কোরবানির নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।
আর নেসাব হল স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি, রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি। আর টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে নিসাব হলো- এগুলোর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া (টাকার অংকে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা)।
আর সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্তু মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায়, তাহলেও কোরবানি করা ওয়াজিব। (আলমুহিতুল বুরহানী: ৮/৪৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ১৭/৪০৫)

আল-মাওসুআ আল-ফিকহিয়্যা গ্রন্থে (৫/৮১) এসেছে-

“কোরবানী ওয়াজিব হওয়া কিংবা সুন্নত হওয়ার জন্য পুরুষ হওয়া শর্ত নয়। কোরবানী পুরুষদের উপর যেমন ওয়াজিব হয় তেমনি নারীদের উপরও ওয়াজিব হয়। কারণ ওয়াজিব হওয়ার দলিলগুলো নর-নারী সবাইকে সমানভাবে শামিল করে।”(সংক্ষেপিত ও সমাপ্ত)

লেখক
ক্বাজী রমিজ উদ্দিন
নিকাহ রেজিস্টার
৪নং উত্তর শাহবাজপুর ইউঃপিঃ
বড়লেখা মৌলভীবাজার।

হজ্ব হবে,২০ শতাংশ মুসল্লি নিয়ে হজ্বের পরিকল্পনা সৌদির

নিউজ ডেস্কঃ এ বছর করোনা হজ পুরোপুরি বাতিল না করে বরং সীমিত মুসল্লিকে অনুমতি দেয়ার পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষের সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবছর অন্তত ২৫ লাখ হজযাত্রী হজ করতে সৌদি যান। হজ ও বছরব্যাপী ওমরাহ থেকে সৌদি সরকারের বছরে আয় হয় অন্তত ১২০০ কোটি মার্কিন ডলার।
গত মার্চে বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের আপাতত হজের পরিকল্পনা বাদ দেয়ার পরমর্শ দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয় ওমরাহ পালন।

সম্প্রতি সৌদি আরবের হজ সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিযেছে, দেশটির কর্তৃপক্ষ এখন ‘প্রতীকী সংখ্যায়’ মুসল্লিদের হজের অনুমতি দেয়ার চিন্তা করছে।
সেক্ষেত্রে প্রত্যেক দেশের জন্য নির্ধারিত কোটার মাত্র ২০ শতাংশ মুসল্লিকে হজ করতে সৌদি প্রবেশের অনুমতি দেয়া হতে পারে। তবে বয়স্কদের জন্য এ সুযোগ থাকবে না। এছাড়া সবাইকেই অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

তবে এখনও সৌদির কিছু কর্মকর্তা করোনা ঝুঁকির কারণে এবারের হজ বাতিলের জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

বড়লেখায় ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদ গঠন

এম.এম আতিকুর রহমান ; বড়লেখা থেকে ঃ
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় আজ ১০ জুন বুধবার, বড়লেখা হিফযুল কুরআন মাদ্রাসা
প্রাঙ্গণে বড়লেখা উপজেলার মসজিদ সমূহের খতিব ও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কল্যাণার্থে এবং জনসেবার উদ্দেশ্যে গঠণ করা হয় ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদ বড়লেখা।

আহবায়ক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত “পরামর্শ সভায়” সভাপতিত্ব করেন- পরিষদের আহবায়ক এবং বড়লেখা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সম্মানিত খতিব মুফতি মাওলানা রুহুল আমীন।
পরিষদের সদস্য সচিব এবং ইয়াকুবনগর জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাও. মুনাওয়ার হুসাইন মাহমুদীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আলোচনা পেশ করেন- বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনগন। পরে সকলের সম্মতিক্রমে, তিন বছর মেয়াদি ৩১ সদস্য বিশিষ্ট “কার্যকরী কমিটি” ঘোষণা করা হয়।
কমিটির দায়িত্বশীলগণ হলেনঃ
সভাপতিঃ মুফতি রুহুল আমীন বড়লেখা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। সহ-সভাপতিঃ মাও. ফয়জুল বারী কাঁঠালতলী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। সহ-সভাপতিঃ মুফতি আব্দুল বাসিত সুজানগর বড়বাড়ী জামে মসজিদ। সহ-সভাপতিঃ মাও. একরাম আলী চুকারপুঞ্জী জামে মসজিদ। সহ-সভাপতিঃ মাও. আব্দুল হান্নান পশ্চিম পাখিয়ালা টিলা জামে মসজিদ। সহ- সভাপতিঃ মাও. ফারুক আহমদ গাজিটেকা নাজিরের চক জামে মসজিদ।
সাধারণ সম্পাদকঃ হাফিয মাও. মুনাওয়ার হুসাইন মাহমুদী ইয়াকুবনগর জামে মসজিদ।
যুগ্ম সম্পাদকঃ মাও. বদরুল ইসলাম পাতন জামে মসজিদ।
সহ-সাধারণ সম্পাদকঃ হাফিজ মাও. সাদিক আহমদ এফ.আর মুহিউসসুন্নাহ কমপ্লেক্স জামে মসজিদ। সহ-সাধারণ সম্পাদকঃ হাফিয মাও. আবুল হাসান হাদী কাঁঠালতলী জামে মসজিদ সাংগঠনিক সম্পাদকঃ হাফিয মাও. তায়্যিবুর রহমান চানপুর বায়তুল মামুর জামে মসজিদ, শাহবাজপুর। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকঃ মাও. আতাউর রহমান মোহাম্মদনগর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকঃ মাও. আব্দুল হাফিজ কাঁঠালতলী উত্তর জামে মসজিদ। অর্থ সম্পাদকঃ মাও. মুখলিসুর রহমান পানিধার মারকায মসজিদ। প্রচার সম্পাদকঃ হাফিয মাও. ইয়াহইয়া আহমদ বড়লেখা থানা জামে মসজিদ। সহ-প্রচার সম্পাদকঃ মাও. শিহাব উদ্দীন পশ্চিম বানিকোনা জামে মসজিদ। সহ-প্রচার সম্পাদকঃ মাও. মাহবুবুর রহমান সর্দার পাড়া জামে মসজিদ। সাহিত্য সম্পাদকঃ হাফিয মাও. রশিদ আহমদ বারইগ্রাম জামে মসজিদ।প্রকাশনা সম্পাদকঃ মুফতি মছিহুর রহমান শিমুলিয়া জামে মসজিদ। সমাজকল্যাণ সম্পাদকঃ মাও. এনাম উদ্দীন গৌরনগর মাদ্রাসা জামে মসজিদ। অফিস সম্পাদকঃ মাও. লায়েছ আহমদ বড়লেখা হাজিগঞ্জ বাজার জামে মসজিদ।

সদস্যরা হলেন হাফিয হুসাইন আহমদ, মাও. আব্দুল মতিন, মাও. নজরুল ইসলাম নয়ন, মাও. মাহতাব উদ্দীন, মাও. আব্দুল, মাও. আতাউর রহমান, মাও. জুনেদ আহমদ, সাইফুর রহমান, মাও. জামিল আহমদ, মাও. মুঈনুল ইসলাম প্রমুখ।
এছাড়া বড়লেখা উপজেলার সকল মসজিদের খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিনদেরকে সাধারণ সদস্য ঘোষণা করা হয়।
পরিশেষে, দেশ-জাতীর কল্যান কামনা করে এবং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য সভাপতির মুনাজাতের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

সন্তানের কাঁধে পিতার লাশ বড় বোঝা-এই বোঝা বয়ে বেড়াতে হয় শেষ অব্দি।

ছাইদুল মাহবুব, বড়লেখাঃ জন্মিলেই মরিতে হয় এটাই রূঢ় বাস্তবতা। এমনই এক রূঢ় বাস্তবতার শিকার মাওলানা হাফিজ লুৎফুর রহমান (রহ.) এর সন্তানেরা! পৃথিবীর আলো বাতাস বুঝে ওঠার আগেই হারাতে হয় মমতাময়ী মা’কে।মা হারানোর যন্ত্রণা ভুলতে না ভুলতেই হারাতে হলো প্রিয়তম পিতা’কে।

পিতামাতার এই শূন্যতা মুছে দেবে কে? কার হাত ধরেইবা স্কুলে যাবে তারা? তবুও এই শোক কে শক্তিতে পরিণত করে লড়তে হবে তাদেরকে।এই আলো হাওয়া জলের জীবন ছেড়ে একদিন তাদেরকে পা রাখতে হবে চাঁদের মাটিতে।বাবার স্বপ্নরা বৃথা যেতে পারেনা।হুজুরের জীবনের অন্তিম মুহুর্তে কোরআন থেকে যে কটি নসিহত করে গেছেন ছেলে মেয়েদের উদ্দেশ্যে তার মধ্যে একটি হচ্ছে তার কথার চেয়ে আর কার কথা উত্তম হতে পারে?
যে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকে,নেক আমল করে আর ঘোষণা করে আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত।

অতএব,নেক আমল করার পাশাপাশি আল্লাহর পথে- দাওয়াতের ময়দানে কাজ করার জন্য উপদেশ দিয়ে গেছেন।অপচয় না করার কথা বলতে গিয়ে বলেছেন অপচয়কারী শয়তানের ভাই।এমনই গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু নসিহত করে গেছেন হুজুর।তাঁর ছেলে মেয়েরা সফলতার শীর্ষে যেতে পাশে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই।তাদের জীবন থেকে যে ভালোবাসার জায়গা গুলো হারিয়ে গেছে চিরতরে সে জায়গা গুলো কখনো ফিরে পাবার নয়।তবুও আমরা কি পারিনা তাদেরকে ভালোবেসে বুকে জড়িয়ে নিতে।

পৃথিবীর সব পিতা’রাই চায় তাঁর সন্তান যেনো সফলতার শীর্ষে পোঁছাক।কিন্তু সফলতার গল্প দেখে ক’জন পিতা’ই মরতে পারেন? হুজুরের রুহানি সন্তানরা আসুন হুজুরের অসমাপ্ত কাজ তাঁর সন্তানদেরকে সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে স্নেহ,মমতায়, ভালোবসে পাশে দাঁড়াই।

ঈদের জামাত মসজিদে আদায় করার নির্দেশ


ডেক্স রিপোর্টঃকরোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবের কারণে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঈদের জামাত ঈদগাহে না করে মসজিদের করার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামায়াত করার কথা বলা হয়েছে নির্দেশনায়। এছাড়া নামাজ শেষে কোলাকুলি না করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ধর্মমন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামারা পবিত্র রমজানুল মোবারক মাসের গুরুত্ব বিবেচনা করে মসজিদে নামাজ আদায়ের শর্ত শিথিল করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর দাবি পেশ করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে ৭ মে কিছু নির্দেশনা পালনের শর্তে মসজিদে সুস্থ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে জামাতে নামাজের অনুমতি দেয়া হয়।

ইতিমধ্যে মন্ত্রপরিষদ বিভাগ থেকে উম্মুক্ত স্থানে বড় পরিসরে ঈদের জামাত পরিহারের নির্দেশনা প্রদান করে বর্তমানে বিদ্যমান বিধি-বিধান অনুযায়ী ঈদের জামাত আয়োজনসংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদান করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশাবলী মেনে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামায়াত আদায়ের জন্য অনুরোধ করা হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ইসলামি শরিয়তে ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত আদায়ের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সারা বিশ্বসহ আমাদের দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিজনিত ওজরের কারণে মুসল্লিদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনা করে এবছর ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের নামাজের জামায়াত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ করা হলো। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। তাছাড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিত করতে মসজিদে ওজুর স্থানে সাবান-হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।

মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। ঈদের নামাজের জামায়াতে আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাঁতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে। এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে। শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যেকোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মসজিদে জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামগণকে অনুরোধ করা যাচ্ছে এবং খতিব, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

উল্লিখিত নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

এতেক্বাফের ফজিলত

আর মাগফিরাতের দশম ও শেষ দিন। একে একে আমাদের থেকে রহমত ও মাগফিরাতের দশক অতিবাহিত হয়ে আমরা রমজানের শেষ দশক অর্থাৎ নাজাতের দশকের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছে গেছি। আর শেষ দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো এতেকাফ করা। রাসুল (সা.) প্রতি বছর রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন। হযরত আয়েশা রা. বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) রমজান মাসের শেষ দশকে মসজিদে এতেকাফ করতেন। তার মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এ আমল অব্যাহত রেখেছেন। তার ইন্তেকালের পর তার স্ত্রীরা এতেকাফ করেছেন’ (সহিহ বুখারি,১৯২২)

এতেকাফ শব্দটি আরবি ‘আকফ’ শব্দ থেকে নির্গত। এর অর্থ হচ্ছে অবস্থান করা, স্থির থাকা, কোনো স্থানে আটকে থাকা বা আবদ্ধ হয়ে পড়া। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় রমজান মাসের শেষ দশক বা অন্য কোনো দিন দুনিয়াবি সব কাজকর্ম ও পরিবার-পরিজন থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহকে রাজি-খুশি করার নিয়তে পুরুষের জন্য মসজিদে ও নারীদের ঘরে নামাজের নির্দিষ্ট স্থানে ইবাদত করার উদ্দেশ্যে অবস্থান করা ও স্থির থাকাকে এতেকাফ বলে। রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করা সুন্নতে মোয়াক্কাদায়ে কেফায়া। অর্থাৎ এলাকার কিছুসংখ্যক মানুষ আদায় করলেই সকলের পক্ষ থেকে সুন্নতে কেফায়া আদায় হয়ে যাবে। তবে কেউই আদায় না করলে সকলেই গুনাহগার হবে। এতেকাফ করার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর রহমত, ক্ষমা ও নৈকট্য লাভ করতে পারে। হযরত আতা খোরাসানী রহ. বলেন, এতেকাফকারীর দৃষ্টান্ত ওই ব্যক্তির মতো, যে আল্লাহর দরবারে পড়ে থাকে আর এ কথা বলতে থাকে, হে আল্লাহ! যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি আমাকে ক্ষমা না করবেন আমি এখান থেকে নড়ব না (বাদায়েউস সানায়ে-২ এতেকাফের একটি বৈশিষ্ট্য হলোÑ যতক্ষণ মানুষ এতেকাফ অবস্থায় থাকে তার চলাফেরা, কথাবার্তা, পানাহার, ঘুম, প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। আর এতেকাফ সুন্নত হওয়ার হেকমত হলো এটাই যে, এতেকাফ ছাড়া লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও মর্যাদা লাভের নিশ্চিত কোনো পদ্ধতি নেই।

এতেকাফের ফজিলত : এতেকাফের দ্বারা জাহান্নাম দূরে চলে যায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এক দিন এতেকাফ করবে আল্লাহ তায়ালা তার ও জাহান্নামের মাঝে তিন পরিখা পরিমাণ দূরত্ব সৃষ্টি করবেন; যার দূরত্ব দুই দিগন্তের দূরত্বের থেকে বেশি দূরত্ব হবে। (কানযুল উম্মাল, হাদিস নং-২৪০১৯)

এতেকাফকারী দুই হজ ও দুই ওমরার সাওয়াব পাবেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানে দশ দিন এতেকাফ করবে তার আমল দুই হজ ও দুই ওমরার সমতুল্য ( কানযুল উম্মাল, হাদিস নং-২৪০০৬)।

এতেকাফকারী লাইলাতুল কদরের মর্যাদা লাভ করতে পারবেন। কেননা রমজানের শেষ দশকের রাতগুলোর যেকোনো একটিতে লাইলাতুল কদর রয়েছে। আর লাইলাতুল কদরের ইবাদত হাজার মাস তথা তিরাশি বছর চার মাস ইবাদত করার চেয়েও উত্তম। সুতরাং যে ব্যক্তি শেষ দশকে এতেকাফ করবে তার প্রতিটি মুহূর্ত যেহেতু ইবাদত হিসেবে গণ্য হচ্ছে ফলে সে লাইলাতুল কদর পেয়ে যাচ্ছেন, এ রাতের সুমহান মর্যাদা লাভ করতে পারছেন। রাসুল (সা.) লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির আশা নিয়েই এতেকাফ করতেন। তিনি প্রথম দশকেও এতেকাফ করেছেন, মধ্য দশকেও করেছেন, এরপর শেষ দশকে করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম দশকে এতেকাফ করেছি, লাইলাতুল কদর তালাশ করেছি, এরপর মধ্য দশকে এতেকাফ করেছি, এরপর আমাকে তা দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, তা শেষ দশকে। অতএব তোমাদের মধ্যে যার এতেকাফ করা পছন্দ হয় সে যেন এতেকাফ করে। এরপর সাহাবায়ে কেরাম তার সঙ্গে এতেকাফ করলেন। তিনি আরো বলেন, আমি তা বিজোড় রাতে পেয়েছি (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৮২৮)।

অতএব আমরা যারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে চাই, আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চাই, লাইলাতুল কদরের সুমহান মর্যাদা লাভ করতে চাই, সর্বোপরি জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে চাই, তাদের জন্য উচিত হলো, রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করা
তেকাফ করা সুন্নতে মোয়াক্কাদায়ে কেফায়া।
লেখক
মোঃইবাদুর রহমান জাকির
এম এ(এল,এল,বি)
অধ্যয়নরত
সিলেট ল কলেজ।

ইসলামী আন্দোলনের পুরোধা,অধ্যাপক ড.আহমদ আবদুল কাদের এক “জীবন্ত কিংবদন্তি”

এম.এম আতিকুর রহমানঃ বাংলাদেশ তথা বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা
অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের এক জীবন্ত কিংবদন্তি।বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, রাজনীতিবিদ, লেখক, গবেষক, সংগঠক, সমাজসেবক অধ্যাপক ড.আহমদ আবদুল কাদের ১৯৫৫ সালে হবিগঞ্জ জিলার অন্তর্গত মাধবপুর উপজেলার আলা-দাউদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বি এস এস (সম্মান) ও এম এস এস এবং ঢাকা সিটি ‘ল’ কলেজ থেকে এল এল বি ডিগ্রী লাভ করেন। অতপর তিনি বিশিষ্ট আলেমদের তত্ত্বাবধানে ইসলামী বিভিন্ন শাস্ত্র বিষয়ক উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। পেশাগতভাবে তিনি ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং চার কন্যা ও এক পুত্রের জনক।

এ মহা মনিষী ছাত্র জীবন থেকেই লেখালেখির সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও জার্নালে
তিনি লিখে থাকেন। এ পর্যন্ত ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন-সংগঠন, অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, মুসলিম উম্মাহ, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সভ্যতা-সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয়ে ৩৫ টির অধিক বই লিখেছেন। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ১.সােনালী পথ ২. দারিদ্র সমস্যা সমাধানে ইসলাম ৩, সভ্যতা সংকট দিগদর্শন ৪. মুক্তি শান্তি প্রগতি ৫. সত্য সুন্দর বিপ্লব তারুণ্য ৬. পতনের বেলাভূমিতে বস্তুবাদী সভ্যতা ৭, খেলাফতঃ মূলনীতি ও বৈশিষ্ট্য ৮, মুসলিম ঐক্য ও সংহতি ৯, সেবা দারিদ্র বিমােচন ইসলাম ১০, মৌলবাদ ১১ মহানবী (সাঃ)-এর জীবনাদর্শ ও আজকের প্রেক্ষিত ১২. জিহাদ কি ও কেন ১৩. ইসলামী আন্দোলন ১৪. ইসলামী আন্দোলন ও জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই ১৫. ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অপরিহার্য কেন? ১৬. ইসলামী বিপ্লব ১৭. ইসলামী বিপ্লব ও পথ ও পদ্ধতি ১৮, ইসলামী বিপ্লবের লক্ষ্যে গণআন্দোলন ১৯. ইসলামী আন্দোলন ও উলামা সমাজ ২০. আদর্শ কর্মী ২১. আদর্শ সংগঠন ২২ ঈমানের পথ রক্তে রাঙা ইত্যাদি।
এছাড়াও তার শতাধিক নিবন্ধ ও দশটির অধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি ছাত্র জীবন থেকেই ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ছাত্র জীবন থেকে এপর্যন্ত বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি কম্বাইন্ড ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি (১৯৮২), এ সময়ে ছাত্র শিবির ভেঙে দুটি হয়। পরবর্তীতে ইসলামী যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি (১৯৮৩-১৯৮৯), ১৯৮৪ সালে হযরত হাফেজ্জী হুজুরের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম উদ্যোক্তা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, ১৯৮৭ সালে বৃহত্তর ইসলামী আন্দোলনের প্রয়াসে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
১৯৮৯ সালের ৮ডিসেম্বর তদানীন্তন খেলাফত আন্দোলন ও যুব শিবির একিভূত হয়ে মুফাছছিরে কুরআন আল্লামা আব্দুল গফফার রহ.কে আমীর ও ভাষা সৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খানকে মহাসচিব এবং শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক (রহ.) কে অভিভাবক পরিষদের চেয়ারম্যান করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস গঠন করেন। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন (১৯৮৯-১৯৯৬)। চার দলীয় জোটের আন্দোলনের লিয়াজো কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। সে সময় তিনি ইসলামী ঐক্যজোটের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেন (২০০১)। তিনি ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর (১৯৯৬-২০০৪) ছিলেন। ২০০৫ থেকে খেলাফত মজলিসের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ও বতর্মানে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সিনিয়র দায়িত্বশীল, সমমনা ইসলামী দলসমূহের মুখ‍্পাত্র ও সমন্বয়কারী এবং ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি ইসলাম, মুসলিম উম্মাহ ও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। লেখালেখি, গবেষণা, আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি তিনি সমাজকল্যাণমূলক কাজের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে জড়িত। তিনি নুসরা নামক একটি জাতীয় ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। উক্ত সংস্থা পল্লী দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, কৃষি ইত্যাদি ক্ষেত্রে তৎপর।

তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও সেমিনারে অংশগ্রহণ এবং সে সব সেমিনার ও সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে নিবন্ধ পেশ করেন। আন্তর্জাতিক সেমিনার ও সম্মেলনে পেশকৃত নিবন্ধগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:

  1. The role of waqf in poverty alleviation,
    2.The rural development in Bangladesh,
  2. The poverty alleviation in Bangladesh, 4.Fundamentalism is the muslim world,
    5.Labor Rights in Islam, 6.The Chirstian missionary activities in Bangladesh, 7.public administration is Nahjul balagha, 8.Secularism in the muslim world,
    9.From nation state to ummah state etc……

তিনি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, ইরান, পাকিস্তান, ভারত, আরব আমিরাত ও নেপালসহ বেশ কয়েকটি দেশ সফর করেছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মেলন সেমিনারে অতিথি হিসেবে বক্তব্য ও প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ইসলামী অঙ্গনে দু’চারজন বিজ্ঞ ও বিরল সম্মানের অধিকারী মনীষীদের অন্যতম। যার প্রতিটি কথা হয় গ্রন্থীত, জীবনের প্রতিটি দিক একেকটি ইতিহাস, প্রতিটি বক্তৃতা প্রেরণার সংকলিত রচিত পুস্তক হয় চিরন্তন সাহিত্য, চিন্তার প্রতিটি ক্ষণ হয়ে ওঠে দিব্যদৃষ্টির বার্তা, উপলব্ধি ও মূল্যয়ণ হয় ইতিহাসের আক্ষরিক পথ নির্দেশক।

অধ্যাপক ডঃ আহমদ আবদুল কাদের মুসলিম উম্মাহ’র সম্পদ। ইসলামী আন্দোলনের জীবন্ত কিংবদন্তি, আমাদের অহংকার।

আমাদের এই প্রিয় রাহবারকে নেক হায়াত ও সুস্থতার সাথে ইসলামী সমাজ বিনির্মানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষমতা দিন কায়মনোবাক্যে এই শুভকামনা মাওলায়ে কারীম এ-র দরবারে।

লেখক ; এম.এম আতিকুর রহমান
সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
০১১৭১৫৭১৮৮৩৩

বড়লেখায়; যুবশক্তি সমাজ কল্যাণ পরিষদের ইফতার বিতরণ


মোঃইবাদুর রহমান জাকির (বিশেষ প্রতিবেদক) মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সামাজিক সংগঠনও স্বেচ্ছাসেবী সংঘটন যুবশক্তি সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে
মঙ্গলবার (১২ মে)পর্তুগাল প্রবাসী আবুল হাসানের অর্থায়নে বড়লেখা পৌর:শহরে অবস্থানরত দেঢ় শতাধিক সু্বিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল রোজাদার নারী পুরুষদের মাঝে ইফতার বিতরণী অনুষ্টিত হয়।

এতে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বড়লেখা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল হাফিজ ললন,যুবশক্তি সমাজকল্যাণ পরিষদের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান কাউন্সিলর জেহীন সিদ্দিকী,স্থায়ী কমিটির সদস্য জাহিদ হাসান জাবেদ,আবুল হাসনাত শরফ ও বাকের আহমদ।

এ ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন যুবশক্তি সমাজকল্যাণ পরিষদের কার্যকরি কমিটির সভাপতি তাহমীদ ইশাদ রিপন,সিনি:সহ:সভাপতি আমিনুল বাবলু,সহ:সভাপতি জামিল আহমদ,সাদিকুর রহমান সাহেদ,সাধারণ সম্পাদক আইনুল ইসলাম,যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমদ,অর্থ সম্পাদক নূরে আলম মোহন ও সহ:প্রচার সম্পাদক আরিফ আহমদ।

উপস্থিত অতিথিবৃন্দ আর্তমানবতার সেবায় যুবশক্তি সমাজকল্যাণ পরিষদের আগামীর মানবিক কার্যক্রমকে আরো বেশী করে সমাজের সু্বিধাবঞ্চিত ছিন্নমূলদের কাছে পৌছে দিতে যুবশক্তি সমাজকল্যাণ পরিষদের সদস্যবৃন্দের প্রতি আহবান জানান এবং পর্তুগাল প্রবাসী আবুল হাসানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি আবুল হাসানের মত ভিত্তবান যেন সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহবান জানান”

পবিত্র রমজানে সপরিবারে ইসলাম গ্রহণ।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এক হিন্দু পরিবারের সবাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার নোটারি পাবলিকের কার্যালয়, চুয়াডাঙ্গা থেকে এফিডেভিটের মাধ্যমে স্বপরিবারে নাম ও ধর্ম পরিবর্তন করেন তারা। এরপর জীবননগর সাব. রেজিস্ট্রার অফিসের মুহুরি মাওলানা আব্দুল ওয়াজেদের কাছে কলেমা পড়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন ওই পরিবারের সদস্যরা।

ধর্মান্তরিত হওয়াই নিমাই দাসের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ইব্রাহিম খলিল, স্ত্রী আরতীর নাম আয়েশা খাতুন, বড় ছেলে শ্রী আনন্দ দাসের নাম হাসান আলী, মেয়ে শ্রীমতি শিল্পী দাসের নাম সুমাইয়া আক্তার ও এক বছর বয়সের ছোট ছেলেটি শ্রী কৃষ্ণ দাসের নাম রাখা হয় হুসাইন আলী। এখন থেকে তারা ইসলামের সকল নিয়ম-কানুন পালন করবেন বলে জানিয়েছেন।
এমনকি রোজা রাখার জন্যও তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তারা নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন।

নওমুসলিম ইব্রাহিম খলিল বলেন, ইসলাম ধর্মের ওপর আমার অনেক আগে থেকে টান রয়েছে। এরপর থেকে ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন ধরণের বই পুস্তক পড়ে ধর্মের প্রতিপালন দেখে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আরো আগ্রহ সৃষ্টি হয়। যে কারণে পৃথিবীতে ইসলাম ধর্ম একমাত্র সঠিক ধর্ম মেনে আমি স্বপরিবারে স্বেচ্ছায় হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম পালনের সিদ্ধান্ত নিই। আমার স্ত্রী ও মেয়ে দুজনেই পর্দা পছন্দ করে। সবার আন্তরিক সহযোগিতায় আল্লাহর রহমতে নিরাপদে ও ভালো আছি। ইসলাম ধর্ম, নামাজ, রোজা পালনের জন্য মেম্বর সাহেবসহ প্রতিবেশিরা সহযোগিতা করেছেন।

মাওলানা আব্দুল ওয়াজেদ জানান, নওমুসলিম ইব্রাহিম খলিল ব্যক্তিগত জীবনে ভালো একজন মানুষ হিসেবেই পরিচিত। তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ইচ্ছার বিষয়ে স্থানীয় মুসলিমদের ও মেম্বরের কাছে জানালে সকলেই তাকে সাহায্য করেন। বিষয়টি জানার পর যতটুকু সম্ভব তাদের পাশে থাকতে চেষ্টা করেছি। এফিডেভিটের পর তারা স্থানীয় মেম্বর ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সামনে সপরিবারে কালিমা ত্বায়্যীবা ও কালীমা শাহাদত পাঠ করেন। আল্লাহ তাদের পরিবারকে কবুল করুক।

সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের মেম্বার আরজান হোসেন বলেন, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশের পর থেকে তিনি তাদেরকে সহযোগিতা করে আসছেন। প্রায় এক মাস আগে তার কাছে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ইচ্ছার কথা জানান। এলাকার মানুষ তাদের নিরাপদ বসবাসের ব্যাপারে সচেতন। সবার সহযোগিতামূলক মনোভাব রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের উচ্চস্বরে আজানের অনুমতি


অান্তর্জাতিক ডেক্সঃ মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে এবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের লাকেম্বায় উচ্চস্বরে আজান প্রচারের অনুমতি দিয়েছে সে দেশের সরকার। 

সাধারণত অস্ট্রেলিয়ায় মসজিদের ভেতরে ছোট করে আজান দেয়া হয়। বড় মসজিদ এবং ঈদের নামাজের সময় ছোট মাইক্রোফোন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু করোনার কারণে এই প্রথম উচ্চস্বরে অস্ট্রেলিয়ায় আজানের অনুমতি মিলল।

পবিত্র রমজানের শেষ দিন পর্যন্ত লাকেম্বায় লাউডস্পিকারে করে মাগরিবের আজান প্রচার করা যাবে। মসজিদটির পরিচালনাকারী অ্যাসোসিয়েশনের (এলএমএ) নির্বাহী পরিচালক আহমদ মালাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার লেবানীয় মুসলিম কমিউনিটির প্রচেষ্টায় এই বিরল কাজ সাধ্য হয়েছে।  বৈশ্বিক মহামারীতে আজান প্রচার করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রথমবার যখন আজান দেয়া হলও, পুরো মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে সৃষ্টি হয় এক আবেগ-ঘন পরিবেশ।

এর আগে কানাডার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মসজিদের মাইক থেকে আজান প্রচার করার অনুমতি দেয়া হয়। কানাডার কয়েকটি শহরে পবিত্র রমজান মাসের জন্য এই অনুমতি দেয়া হয়

মহিমান্বিত রমজানঃ আমাদের করনীয়-আলেয়া খানম

আমাদের থেকে এবারের মহিমান্বিত রমজানুল মুবারকের প্রথম দশক বিদায় নিতে যাচ্ছে। রমজানের প্রথম দশ দিন রহমতের। আল্লাহ তায়ালা এ দশকে প্রত্যেকের উপর অবারিত রহমত বর্ষণ করতে থাকেন। যার ফলে মুসলমান নরনারীর মন-মনন উজ্জ্বল তারকারাজির ন্যায় ঝলমল হয়ে অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে মুক্ত হয়। মহান প্রভূর সান্যিধ্যের দিকে এগিয়ে যায় মানবাত্মা। রহমতের চাদরে আবৃত হয়ে নিজের জীবন যৌবনকে পূতপবিত্র করে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
সহীহ হাদীসে প্রিয় নবী মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ ফরমান, রমজানের প্রথম দশক রহমতের, মধ্যখানের দশক মাগফিরাতের এবং শেষের দশক জাহান্নাম থেকে মুক্তির।
যখন রমজান আসে জান্নাতের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয়। জাহান্নামের দরজা সমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। আর মরদুদ শয়তানদেরকে শিকলাবদ্ধ করে রাখা হয়। অপর বর্ননায় আসে আসমানের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয়।
রমজান মুমিনের জন্য ঢাল স্বরূপ। শত্রুর মোকাবেলায় ঢাল যেভাবে গুলি, তীর ধনুক ইত্যাদির আক্রমণ ও অনিষ্ঠ হতে রক্ষা করে সিয়াম সাধনাও সেভাবে মুমিন মুসলমানকে অন্যায়, অবিচার, জুলুম, নির্যাতন ইত্যাদি পাপাচার থেকে রক্ষা করে।
হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,” রোজা আমার জন্য আর এর প্রতিদান আমি নিজে দান করব।”
যারা ঈমান ও ইহতেসাবের সাথে (সওয়াবের আশায়) রমজানের রোজা এবং কিয়ামুল লাইল ( তারাবীহ) আদায় করবে, আল্লাহ তায়ালা তাদের সমুদয় গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।
এদিকে চলমান বিশ্বের দিকে দিকে মুসলমানদের উপর নির্যাতন নিপীড়নের স্টীম রোলার চলছে। আর অপর দিকে দেশে দেশে ইসলামের বিজয় নিশান উড্ডীন হওয়ার সমূহ সম্ভাবনার পূর্বাভাস মুসলিম উম্মাহকে আশান্বিত করছে।
রোজা ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক। নিজেকে সংযম ও সংশোধনের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এক অমলিন সুন্দর সমাজ বিনির্মানে সিয়াম সাধনা আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। গরিব দুঃখী অসহায় মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবের উপলব্ধি সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বর্তমান সময়ে করোনা ভাইরাস উপসর্গের মধ্যে লকডাউন এর ফলে আমাদেরকে কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। বিত্তবান হৃদয়বানরা যার যার অবস্থান থেকে সাধ্যমত সহায়তা করতে উদ্যোগী হওয়া এ সময়ে ঈমান ও মানবতার দাবি।

লেখিকা;
এম.এ মাস্টার্স, এমসি কলেজে, সিলেট।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে প্রজ্ঞাপন জারি করে ইফতারি প্রথা বন্ধ করা হোক


আশফাক জুনেদঃ দীর্ঘ এক বছর পর আমাদের নিকট পবিত্র রমজান এসে পৌঁছেছে।ত্যাগ ও সংযমনের মাস হচ্ছে রমজান।এই মাস যেমন আসে রহমতের বার্তা নিয়ে আবার তেমনি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য আসে চিন্তার কারণ হয়ে।

রমজানে বিশেষ করে আমাদের সিলেটে মেয়ের বাড়িতে ইফতারি পাঠানোর একটি প্রথা প্রচলিত রয়েছে ।এই মাসে মেয়ের শশুর বাড়িতে হরেক রকম খাবার দাবার পাঠাতে হয়। সেটা একবার নয় কয়েকবার। বহুকাল থেকে আমাদের সমাজের প্রচলিত প্রথা এটি।এর অন্যতা হলে মেয়েকে শশুর বাড়িতে খোঁটা পেতে হয়।

এই ইফতারি পাঠানো বিত্তবানদের জন্য সহজ হলেও অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।রমজান আসার সাথে সাথে কপালে চিন্তার বাঝ পড়ে এসব পরিবারের মাঝে।শশুর বাড়িতে মেয়ের মান-সম্মান রক্ষা করতে কষ্ট করে হলেও মেয়ের বাড়িতে হরেক রকম ইফতার সামগ্রী পাঠান এসব পরিবারের কর্তারা।

কিন্তু বিগতে বছর গুলোতে কষ্ট করে ইফতারি পাঠানো গেলেও এবার তা যে একেবারেই অসম্ভব ।সারাবিশ্বের ন্যায় করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে থমকে আছে বাংলাদেশেও।আর এই ভাইরাস ঠেকাতে দেশে চলছে সাধারণ ছুটি।ফলে অঘোষিত লকডাউন চলছে সারাদেশে।যার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দেশের সিংহভাগ মানুষ।ঘরে খাবার যোগাতে যেখানে রীতিমত যুদ্ধ করতে হচ্ছে সেখানে এই রমজানে মেয়ের বাড়িতে ইফতারি পাঠানো তাদের কাছে মরার উপর খাড়ার ঘা।কেমন করে মেয়ের বাড়িতে ইফতারি পাঠাবেন এমন চিন্তায় চিন্তিত তারা।এই কঠিন পরিস্থিতিতে দার দেনা করাও সম্ভব না।তাই দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সরকারি ভাবে এই ‘ইফতারি’ প্রচলন বন্ধ করা হোক।এতে করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার এই ‘ইফতারি’ পাঠানোর নামে হরেক জাতের খাদ্যসামগ্রী পাঠানো থেকে রেহাই পাবে এবং সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়া থেকেও রক্ষা পাবে।সরকারি ভাবে নিষেধ হলে মেয়ের বাড়ি থেকেও খোঁটা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।তাই এইদিকগুলা বিবেচনা করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করে অনতিবিলম্বে এই ইফতারির প্রচলন বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।

তাহাজ্জুদ নামাজের শ্রেষ্ঠ সুযোগ রমাদান

তাহাজ্জুদ নামাজের শ্রেষ্ঠ সুযোগ রমাদান
রহমতের শ্রেষ্ঠ সময় তাহাজ্জুদের সময়, রমাদান মাস রহমতের শ্রেষ্ঠ মাস। বছরের বিশেষ রাতসমূহে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন। তাহাজ্জুদের সময়ে প্রতিটি রাতেই আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে এসে বান্দাদের ফরিয়াদ শোনেন। কোরআনুল করিমে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় হাবিব (সা.) কে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এবং রাত্রির কিছু অংশ তাহাজ্জুদ কায়েম করবে, ইহা তোমার এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থান-মাকামে মাহমুদে।’ (সুরা ১৭ ইসরা, আয়াত ৭৯)। ‘হে বস্ত্রাবৃত! রাতে দণ্ডায়মান হও কিছু অংশ বাদ দিয়ে; অর্ধরাত্রি অথবা তদপেক্ষা কিছু কম অথবা তদপেক্ষা বেশি এবং কোরআন আবৃত্তি করো সুবিন্যস্তভাবে ও স্পষ্টভাবে। আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি গুরুত্বপূর্ণ বাণী। নিশ্চয় ইবাদতের জন্য রাত্রিতে ওঠা প্রবৃত্তি দলনে সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল। নিশ্চয় দিবাভাগে রয়েছে তোমার দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা। তুমি নিজ পালনকর্তার নাম স্মরণ করো এবং একাগ্রচিত্তে তাতে নিমগ্ন হও।’ (সুরা ৭৩ মুজ্জাম্মিল, আয়াত: ১-৮)। ‘হে চাদরাবৃত! ওঠো, সতর্ক করো, আপন পালনকর্তার মাহাত্ম্য ঘোষণা করো, স্বীয় পোশাক পবিত্র করো এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকো। অন্যকে কিছু দান করে অধিক প্রতিদান আশা করবে না। আর তোমার পালনকর্তার উদ্দেশে ধৈর্য ধারণ করো।’ (সুরা ৭৪ মুদ্দাচ্ছির, আয়াত ১-৭)।

তাহাজ্জুদ সংকট উত্তরণের ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সেরা মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রাতেই তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন। তাই এটি সুন্নত, অতিরিক্ত হিসেবে নফল। নবীজি (সা.)–এর জন্য এটি অতিরিক্ত দায়িত্ব ছিল। পাঁচ ওয়াক্ত নির্ধারিত নফলের মধ্যে তাহাজ্জুদ সর্বোৎকৃষ্ট আমল। হজরত আলী (রা.) বলেছেন: ‘যাঁরাই ইবাদতে অধ্যাত্ম জগতে আল্লাহর নৈকট্য লাভে ঊর্ধ্বারোহণ করেছেন; তাঁরাই রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়েছেন।’ (দিওয়ানে আলী, নাহজুল বালাগা)। তাহাজ্জুদ হলো মোক্ষ লাভের মোক্ষম মাধ্যম। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ফরজ নামাজসমূহের পর উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদ। (মুসলিম, আলফিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৯৭, হাদিস ৪০৫)।

‘তাহাজ্জুদ অন্ধকারে পড়তে হয়’ ও ‘তাহাজ্জুদ পড়লে জিন আসে’ এবং ‘তাহাজ্জুদ শুরু করলে নিয়মিত আদায় করতে হয়’ এই ভয়ে অনেকে তাহাজ্জুদ পড়েন না। প্রকৃতপক্ষে এসব ভুল ধারণা। তবে কারও ঘুমের ব্যাঘাত যেন না হয় এবং প্রচার মানসিকতা যেন না থাকে, এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তাহাজ্জুদ নিয়মিত আদায় করতে পারলে তা অতি উত্তম। নফল ইবাদত বিশেষ উদ্দেশ্য বা প্রয়োজন ছাড়া প্রচার না করাই বাঞ্ছনীয়।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা সেই স্বামীর প্রতি রহম করেছেন, যে নিজে রাতে উঠে তাহাজ্জুদ পড়ে এবং তার স্ত্রীকে জাগায়। যদি সে উঠতে অস্বীকার করে, তবে তার মুখমণ্ডলে পানিছিটা দেয়। আল্লাহ তাআলা সেই স্ত্রীর প্রতি রহম করেছেন, যে নিজে রাতে উঠে তাহাজ্জুদ পড়ে এবং তার স্বামীকে জাগায়। যদি সে উঠতে অস্বীকার করে, তবে তার মুখমণ্ডলে পানিছিটা দেয়।’ (আবু দাউদ ও নাসায়ি, আলফিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৯৭, হাদিস ৪০৭)। এ ছাড়া যদি কেউ তাহাজ্জুদের জন্য ডাকার নির্দেশ বা অনুমতি দেন, তাঁকে তাহাজ্জুদের জন্য ডেকে তোলা যাবে; অন্যথা নয়।

সুন্নত ও নফল নামাজে কিরাত তিলাওয়াতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি নয়। নফল নামাজে রুকু, সিজদাসহ প্রতিটি রুকন বা পর্ব দীর্ঘ করা সুন্নত ও মোস্তাহাব। এ জন্য রুকু ও সিজদায় তাসবিহ অনেকবার পড়া যায় এবং অন্যান্য পর্বেও বেশি পরিমাণে বিভিন্ন দোয়া মাসুরা, যা কোরআন হাদিসে আছে, পাঠ করা যায়। একই রাকাতের একই সুরা বারবার এবং বিভিন্ন সুরা ও বিভিন্ন আয়াত পড়া যায়।

রমাদান মাসে যেহেতু ফরজ রোজা পালনের জন্য সহায়ক হিসেবে সাহ্‌রি খাওয়ার সুন্নত আদায়ের জন্য আমরা সবাই উঠি এবং সাহ্‌রির সময়ই হলো তাহাজ্জুদের সময়; সুতরাং রমাদানে তাহাজ্জুদ আদায় করা খুবই সহজ। তাহাজ্জুদ দুই রাকাত করে আট রাকাত, বারো রাকাত বা আরও কম বা বেশিও পড়া যায়। রমাদানের নফলের সওয়াব ফরজের সমান, ফরজের সওয়াব সত্তর গুণ।

রাতের দুই–তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর থেকে তথা রাত দুইটার পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত আরম্ভ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাহাজ্জুদের সময়। সাহ্‌রির সময় শেষ হলে তথা ফজরের ওয়াক্ত শুরু হলে তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত শেষ হয়।

মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির যুগ্ম মহাসচিব ও আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহকারী অধ্যাপক

আলোকিত ব্যক্তি ও সমাজ বিনির্মানে রমজানের ভুমিকা

এম.এম আতিকুর রহমান

পবিত্র ও মহিমান্বিত রমজান চলমান। রমজানুল মুবারক এর আসল উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন। তাকওয়া বা পরহেজগারিতা অবলম্বনের মূলে হলো গোনাহ থেকে বিরত থাকা। গোনাহ থেকে বেচে থাকার প্রচেষ্টাই কেবলমাত্র একজন ইমানদারকে প্রকৃত মুমিন মুসলমানরুপে গড়ে তুলতে পারে। এবং এ-র কোন বিকল্প নেই। পবিত্র কালিমায় বিশ্বাস করেই শুধু পরিপূর্ণ মুমিন মুসলমান হওয়া যায় না। এজন্য প্রচেষ্টার সাথে কিছু বিশেষ মুমিনের গুণাবলী অর্জন করতে হবে। সেই সাথে বর্জনীয় নেফাকি মুনাফেকি চরিত্র পরিহার করতে হয়। কুরআন নাজিলের মহিমান্বিত রমজানুল মুবারক এর মাসে তাই আমাদের সকলকেই তা অর্জনের প্রয়াস চালানো অব্যাহত রাখতে হবে। কুরআনের সুরা মু’য়মিনুনের প্রথম ১০ আয়াত সহ বিভিন্ন আয়াতে ও রাসুলুল্লাহ সাঃ এ-র বিভিন্ন হাদিসে মুমিনদের গুণাবলীর বর্ননা দেয়া হয়েছে। নেফাকি চরিত্র তথা মুনাফেকের আলামতের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। মুমিনের গুণাবলী অর্জন এবং মুনাফেকি আলামত বর্জন করা অপরিহার্য। তাহলেই আমরা দুনিয়ার শান্তি ও আখেরাতে মুক্তি অর্জন করতে পারি।
সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফের হাদিসে প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এরশাদ ফরমান মুনাফেকের আলামত ৩টি, অপর রেওয়ায়তে ৪টি। কথা বললে মিথ্যা বলা, ওয়াদা খেলাপী করা। আমানতের খিয়ানত করা এবং ঝগড়া বিবাদ হলে অশ্লীল ভাষায় কথা বলা। এসকল মৌলিক মন্দ কার্যকলাপগুলো পরিহার করে মুমিনদের গুণাবলী অর্জন করতে হবে। তাহলেই আমরা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নতি সাধন করতে পারি। শান্তিময় খেলাফত আলা মিন হাজিহিন নবুয়ত এ-র আদলে ইনসাফপূর্ণ একটি সমাজ প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো। সুতরাং কুরআন নাজিলের মহিমান্বিত মাসেই আমাদেরকে সংকল্পবদ্ধ হয়ে সুন্দর শান্তিময় সমাজ বিনির্মানে ধাবমান হতেই হবে।

প্রিয়ভাজন একজনের রেখাপাত করার মতো জ্ঞানীদের উক্তি এখানে প্রণিধানযোগ্য।

তিনটি জিনিসের উপর ভরসা করা ঠিক নয়। নদীর পাড়ের বাড়ি, ব্রেক ছাড়া গাড়ি, পর্দা ছাড়া নারী।
তিনটি জিনিস একবার আসে।মাতা-পিতা, সৌন্দর্য্য, যৌবন।
তিনটি জিনিস ফিরিয়ে আনা যায়না। বন্দুকের গুলি, কথা, রূহ।
তিনটি জিনিস মৃত্যুর পর উপকারে আসে। সু-সন্তান,
সদকা, ইলম।
তিনটি জিনিস সম্মান নষ্ট করে। চুরি, চোগলখুরী, মিথ্যা।
তিনটি জিনিস পেরেশানিতে রাখে। হিংসা, অভাব, সন্দেহ।
তিনটি জিনিসকে সর্বদা মনে রেখ। উপদেশ, উপকার, মৃত্যু।
তিনটি জিনিসকে আয়ত্বে রেখ। রাগ, জিহবা, অন্তর।
তিনটি জিনিস অভ্যাস কর।নামাজ, সত্য বলা, হালাল রিযিক।
তিনটি জিনিস থেকে দূরে থেকো। মিথ্যা, অহংকার, অভিশাপ।
তিনটি জিনিসের জন্য যুদ্ধ কর। দেশ, জাতি, সত্য।
তিনটি জিনিসকে চিন্তা করে ব্যবহার কর।কলম, কসম, কদম।

মহান আল্লাহ তায়ালা দয়া করে রমজানের উছিলায় বরকতময় দিবস গুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিন। আলোকিত ব্যক্তি ও সমাজ বিনির্মানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার তৌফিক দিন আমাদের সকলকে।
লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

মাহে রামাদান ইবাদতের বসন্তকালে,বয়ে চলুক জান্নাতি সুবাস-এম.এম আতিকুর রহমান

আহলান সাহলান সু-স্বাগতম পবিত্র মাহে রমজানুল মোবারক। শুরু হওয়া রমজান মাস হলো ইবাদতের বসন্তকাল। এ মাসে প্রতিটি মুমিন হৃদয়ে বয়ে আনে জান্নাতি সুবাস। এ মাসে মহান প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালা প্রতি মুহূর্তে দিনে-রাতে মুমিনদের উপর অবারিত রহমতের বারিধারা বর্ষণ করেন।
ইবাদতপাগল মুমিনদের জন্য মাগফিরাত ও জান্নাতের সকল আয়োজন প্রস্তুত রেখেছেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা।

রমজান শব্দটি আরবি ‘রমজুন’ শব্দ থেকে উৎগত হয়েছে। শাব্দিক অর্থ হচ্ছে, জ্বালিয়ে দেওয়া, ভষ্মীভুত হওয়া ইত্যাদি। যেহেতু রোজা পালনের মাধ্যমে মানুষের মনের ক্রোধ, কু-প্রবৃত্তি, হিংসা-বিদ্বেষ সব কিছু ভষ্মীভুত হয়ে যায়, তাই রোজার এ সিয়াম সাধনার মাসকে রমজান মাস বলা হয়।

হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে রমজান মাসব্যাপী রোজা রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। পরিভাষায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খানাপিনা ও জৈন কামনা বাসনাসহ বৈধ জৈবিক চাহিদাও পূরণ থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম সাধনা বা রোজা। আল্লাহ তায়ালা কোন মাসকে অন্য মাসের উপর, কোন দিবসকে অন্য দিবসের উপর শ্রেষ্টত্ব দান করেছেন। এরকমই পবিত্র রমজানুল মোবারক হলো শ্রেষ্ঠ মাসের অন্যতম একটি মাস। এর প্রতি মুহূর্তে ইবাদত পাগল মুমিনদের উপর বর্ষিত হয় রহমতের বারিধারা। এজন্যই বহুগুন আমলের সওয়াব বেড়ে যায়। হাদিসে প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এরশাদ ফরমান, রমজানে আসমানের বরকতের দরজা খুলে যায়, জান্নাতের সব দুয়ার খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দুয়ার বন্ধ করে দেয়া হয়। মরদুদ শয়তান শৃঙ্খলিত হয়।
আল্লাহর বান্দদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মহান মুক্তি বার্তা নিয়ে ধাবমান হয় রমজান। এতে রয়েছে শবে কদরের রজনী, যা হাজারো মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এসব নানাবিধ মর্যাদা বৈশিষ্ট্যের অপূর্ব সমাহার মাহে রমজান। তাই তো রমজান মাসকে ইবাদতের বসন্তকাল বলা হয়ে থাকে। ইবাদত, তাকওয়া ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উর্বর সময়। এ উর্বর সময়ে বান্দা যথাযথভাবে নিষ্ঠার সাথে কাজে লাগাতে পারলে একটুখানি সাধনা, ক্ষুদ্র পরিশীলন এবং অনুশীলন এ-র মাধ্যমে প্রশান্তির বারিধারায় সিক্ত হয়ে হাসিল করতে পারেন আল্লাহ তায়ালা’র মহাসন্তুষ্টি। তথা দুনিয়ায় কল্যাণ ও আখেরাতে মহামুক্তি।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম একটি স্তম্ভ। রোজার বিধান ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা কুরআন কারিমে ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে করে তোমরা মুত্তাকি হতে পার’।

হযরত কা’ব ইবনে উজরা (রা.) হতে বর্নিত, তিনি বলেন- একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে বললেন, তোমরা মিম্বরের নিকট সমবেত হও। আমরা সকলেই তথায় উপস্থিত হলাম। যখন তিনি মিম্বরের প্রথম সিড়িঁতে পা রাখলেন,তখন বললেন, আমীন, যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখলেন বললেন, আমীন, যখন তিনি তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখলেন বললেন, আমীন। হযরত কা’ব ইবনে উজরা (রা.) বলেন, যখন তিনি (মিম্বর থেকে) অবতরণ করলেন, আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আজ (মিম্বরে উঠার সময়) আমরা আপনাকে এমন কিছু কথা বলতে শুনেছি, যা ইতিপূর্বে কখনো শুনিনি। উত্তরে তিনি বললেন, জিবরাইল (আ.) আমার নিকট আগমন করেছিলেন, যখন আমি প্রথম সিড়িঁতে পা রাখলাম, তখন তিনি বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে রমজান মাস পেল, তবুও তার গুনাহ মাফ করাতে পারলো না। আমি বললাম, আমীন। যখন দ্বিতীয় সিড়িঁতে পা রাখলাম তখন বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যার নিকট আপনার নাম উচ্চারিত হলো অথচ সে আপনার প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করলো না। আমি বললাম আমীন। যখন তৃতীয় সিড়িঁতে পা রাখলাম, তখন বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে তার পিতা-মাতা উভয়কে অথবা একজনকে পেল আর তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল না। অর্থাৎ তাদের খেদমতের মাধ্যমে নিজেকে জান্নাতী করতে পারলো না। আমি বললাম, আমীন।

হযরত আবু হুরয়রা (রা.) বলেন, রমজান মাস লাভকারী ব্যক্তি যে উত্তমরূপে সিয়াম ও কিয়াম (রোজা, তারাবী ও অন্যান্য আমল) পালন করে, তার প্রথম পুরস্কার এই যে, সে গুনাহ থেকে ঐ দিনের মতো পবিত্র হয় যেদিন মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল।

হযরত সালমান ফারসী (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, মহানবী (সা:) শা’বান মাসের শেষ দিন আমাদেরকে সম্বোধন করে ইরশাদ করেন, ‘হে লোক সকল! তোমরা মনযোগ দিয়ে শোনে রাখ, তোমাদের সামনে এমন একটি মাস সমাগত। যে মাস মহা পবিত্র, রহমত-বরকত ও নাজাতে ভরপুর। এই মাসের রোজাকে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর ফরজ করেছেন। যে লোক এই মাসে আল্লাহর সন্তুষ ও তার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে রোজা রাখবে আল্লাহ তার পূর্ববর্তী সমস্ত গোনাহ মাফ করে দিবেন।

হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা রমজান মাসের প্রত্যেক দিবস ও রাত্রিতে অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। এবং প্রত্যেক মুমিন বান্দার একটি করে দুআ কবুল করেন।

রমজান আমাদেরকে আল্লাহর রহমত লাভের সুবর্ণ সুযোগ করে দিয়েছে। এই দশকে আমরা বেশি বেশি করে ইবাদত-বন্দেগী, কুরআন তেলাওয়াত, দান সদকা, তওবা, ইস্তেগফার ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে পবিত্র এই মাসের যথাযথ হক আদায় করে রোজা, তারাবিহ, তাহাজ্জুদ, তেলাওয়াত সহ অন্যান্য নফল ইবাদতে আত্মনিয়োগ করার তাওফিক দিন।
নেফাকি বদচরিত্র- মিথ্যা, ওয়াদা খেলাপী, আমানতের খিয়ানত, অশ্লীলতা/অশ্লীল কথা বলা ইত্যাদি থেকে বিরত থেকে পরিপূর্ণ মুমিনের গুণাবলী অর্জন করার মাধ্যমে আগামীর সুন্দর একেক ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠনের তৌফিক দিন। কায়মনোবাক্যে মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট করি সেই মিনতি।

লেখক; সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে, অবশেষে বড়লেখায়ও আঘাত হেনেছে “করোনা”-মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

আচ্ছালামুআলাইকুম/আদাব,
প্রিয় সহকর্মি শিক্ষকবৃন্দ,

১.
সামনের দিনগুলো অধিকতর কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কেউ হতাশ হবেন না। ভেঙ্গে পড়বেন না। যথাযথ পথ- পদ্ধতি ও নিয়ম মেনে চলার প্রাণান্তকর চেষ্টা করবো আমরা। একে অন্যের খবর নেবো। পাশে থাকবো…

২.
আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে একটি ঘোষণা দিতে চাই যে, আপনারা লকডাউনে থাকাকালীন ছোট-বড় কোন সমস্যায় নিপতিত হলে দয়া করে একটু “নক” করবেন। যে কোন ধরণের “সার্ভিস” প্রদান করতে আমি/আমরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। ঔষধ, বাজার খরচ, খাদ্য সংকটসহ বিবিধ বিষয়ে অনায়াসে আমাদের সহায়তা নিতে পারেন।
মূল্য /বিনামূল্য/ ফ্রি সবধরণের ব্যবস্থা আমরা করতে যাচ্ছি। সদিচ্ছা থাকলে কোন কিছুই অসম্ভব নয়…

৩.
এসব কাজ বাস্তবায়ন করতে ৩ টি সংস্থা আমাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেছে-
ক.বড়লেখা ফ্রেন্ডস ক্লাব, ইউ. কে,
খ. বড়লেখা ব্লাড ডোনেট ক্লাব, বড়লেখা ও
গ. দূর্বার মুক্ত স্কাউট দল, বড়লেখা।

৪.
মহান সৃষ্টিকর্তা সকলের সহায় হোন। প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের জন্য নিরন্তর ভালোবাসা। শুভ কামনা।

লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, মোহাম্মদনগর স.প্রা.বি, বড়লেখা
মোবাইলঃ০১৭৩৪৪৬১৬৯১, ০১৭৮২৬৮৬৮২৬

করোনায় বদলে গেছে রমজানের ঐতিহ্য

‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙা ভইরা লইয়া যায়’। প্রতি বছর রমজান মাসে পুরান ঢাকার চকবাজারে ঢুকলেই শোনা যায় এমন হাঁকডাক। তবে এবার শোনা যাচ্ছে, রাস্তায় কোনও ইফতারের দোকান বসবে না। তাও আবার হ্যান্ড মাইক দিয়ে এমন মাইকিং করছে পুলিশ। করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে রমজান মাসের চিরচেনা চিত্রগুলো এবার বদলে গেছে। যা ছিল রমজানের ঐতিহ্য তা এখন স্মৃতি।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাংলাদেশে রোজা শুরু হয়েছে। তবে এদিনটি ছিল দেশে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার ৪৯তম দিন। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩০৯ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৪ হাজার ৯৯৮ জন। দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৪০ জন।

এ মহামারির বিস্তার রোধে সরকার ছুটি ঘোষণা ছাড়াও নানা রকম পদক্ষেপ নিয়েছে, মানুষের চলাচলে বিধি নিষেধ আরোপ করেছে। এর প্রভাব পড়ছে রমজানেও। প্রতিবছর চাঁদ দেখার ঘোষণা হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানের মসজিদে থেকে ঘোষণা আসতো, রমজানুল মোবারক, আর ঘোষণা করা হতো তারাবির নামাজের সময়। তবে এবার আজানের পর মুসল্লিদের বাসায় তারাবির নামাজ পড়তে বলেছেন মুয়াজ্জিনরা।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে মসজিদে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ২ জন হাফেজসহ সর্বোচ্চ ১২ জন এশা ও তারাবিহ’র নামাজে অংশ নিতে পারবেন। যদিও নিয়ম ভেঙে অনেকে মসজিদে তারাবির নামাজে শরিক হতে চেষ্টা করেন। তবে সতর্কভাবেই তাদের ফেরত দিয়েছে অধিকাংশ মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

শুধু তারাবির নামাজই নয়, সকল ক্ষেত্রেই পড়ছে করোনার প্রভাব। রোজা শুরু হলেও দুপুর ২টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ এবং যারা কাজের প্রয়োজনে বাইরে যাচ্ছেন তাদেরও সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ঘরে ঢোকা, একইসময়ে সুপার শপগুলো বন্ধ করে দেওয়ার নিয়মেও কোনও পরিবর্তন আসেনি। বরং আরও কঠোরভাবে রোজা উপলক্ষেও ফুটপাতে ইফতারের পসরা নিয়ে বসা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় আগেই এ ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনা দিয়েছিল। এর মূল কারণ, জনসমাগম এড়ানো এবং করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়িয়ে চলা। পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে সেই নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, দেশের কোথাও রাস্তায় বসতে পারবে না ইফতারের দোকান।

সরেজমিন দেখো গেছে, রাজধানীর কোথাও কোথাও ভ্রাম্যমাণ ইফতারের দোকান বসানোর চেষ্টা করেছেন দোকানিরা, তবে প্রথম রোজায় তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। পুরান ঢাকার চকবাজার হচ্ছে দেশের বৃহৎ ইফতারের বাজার। প্রতিবছর এখানে ইফতারের পসরা নিয়ে দোকানদাররা বসলেও এ বছরের চিত্র ছিল পুরোই উল্টা। এবছর কয়েকটি দোকান বসানোর চেষ্ট করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।

বন্ধুরা মিলে প্রতি বছর চকবাজারে ইফতার করতে যেতেন আসাদুজ্জামান। মিরপুরের এ বাসিন্দা বলেন, চকবাজারে যাওয়া দূরে থাক এখন ঘর থেকেই বের হই না জরুরি প্রয়োজন না হলে। এবার হয়তো এভাবেই রমজান মাসটা পার হয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে তা কখনও কল্পনাও করতে পারিনি।

ইফতারের মুহূর্তে অন্য বছরগুলোতে যানজটে কারণে অনেকেই অফিস থেকে বাড়ি ফিরে ইফতারে করতে বেগ পেতেন। এবার রাস্তায় কোনও গাড়ি নেই, নেই কোনও মানুষ। ছুটি থাকায় বেশিরভাগ মানুষ পরিবারের সঙ্গে ইফতার করার সুযোগ পেয়েছেন।

রাজধানীর একটি কলেজের শিক্ষার্থী শান্তা শাফিহ। তিনি বলেন, রোজার মাসে একটা উৎসব উৎসব ভাব থাকে। এখন হয়ত ঘরে সবার সঙ্গে ইফতার করছি, কিন্তু উৎসবের সেই আমেজ নেই। একটা আতঙ্ক। এখন একটাই চাওয়া, এই মহামারি থেকে যেন দ্রুত মুক্তি মিলে।

প্রকৃতই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সারাদেশে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত ২২ মার্চ রাজধানীর মিরপুরের উত্তর টোলারবাগে এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পরদিন সেই এলাকা লকডাউন করে দেওয়া হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত সেই এলাকা লকডাউন রয়েছে।

উত্তর টোলারবাগের প্রথম যে ব্যাক্তি মারা যান তিনি উত্তর টোলারবাগের দারুল আমান নামের একটি ভবনের বসবাস করতেন। সেই ভবনের বাসিন্দা মো. সুজন বলেন, আমরা তো ঘর থেকেই বের হই না। বাজার করা ছিল, সেটা দিয়েই চলছে। তবে আর কিছুদিন পর সেটিও শেষ হয়ে যাবে। এলাকার মসজিদগুলোও বন্ধ। এমন পরিস্থিতি আমার জীবনে প্রথম।

টোলারবাগে অনেক বাসায় সংসদ সদস্য মো. আসলামুল হকের পক্ষ থেকে ইফতার সামগ্রী উপহার হিসেবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান সেই এলাকার বাসিন্দারা। আবার অভিযোগও আছে বাড়ির মালিক নিজেই সব ইফতার সামগ্রী রেখে দিয়েছেন, ভবনের অন্যদের দেননি। টোলারবাগের ১২/৬ বি,১ ভবনের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, তাদের বাড়িতে সংসদ সদস্যর পাঠানো ইফতার উপহার হিসেবে এলেও বাড়িওয়ালা তা নিজেই রেখে দিয়েছেন। কোনও ভাড়াটিয়াকে দেননি।

প্রতিবছর সারা দেশে ইফতারকে কেন্দ্র করে নানা রকম আয়োজন হয়ে থাকে। রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও হয়ে থাকে ইফতার মাহফিল। কয়েক হাজার মানুষের জন্য প্রতি বছর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইফতারে আয়োজন করতো ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। প্রথম রোজার দিন সেই মসজিদ একেবারেই জনশূন্য।

তবে ভিন্ন চিত্রও আছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও অনেকেই দাঁড়িয়েছেন অসহায় মানুষের পাশে। অনেকে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন ইফতার সামগ্রী। গাজীপুর সদর উপজেলার নয়নপুর গ্রামে ইকবাল সিদ্দিকী কলেজ ও কচি কাঁচা একাডেমির গেইটের পাশে বিকেল থেকেই রাখা হয়েছে ১০০ প্যাকেট খিচুড়ি, সিদ্ধ ডিম ও ২টি করে খেজুর। সামাজিক দূরত্ব মেনে এলাকার গরিব মানুষ এখান থেকেই পেয়েছেন ইফতার।

ইকবাল সিদ্দিকী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, এটা আমার একক উদ্যোগ নয়, সম্মিলিত উদ্যোগ। সত্যিই মানুষ অনেক কষ্টে আছে, তাদের পাশে থাকার চেষ্টা আমরা করছি।

দেশজুড়েই আছে এমন ছোট বড় অসংখ্য উদ্যোগ। এসবের মধ্য দিয়ে জন সমাগম এড়িয়ে ও সামাজিক দূরত্ব মেনে দেশবাসী এবার পার করবে রমজান মাস। আর প্রত্যেকের প্রার্থনায় থাকবে এই মহাবিপদ থেকে উদ্ধারে পরম করুণাময়ের কাছে সাহায্য প্রার্থনা। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

আমি আপনাদের লোক,তাই ক্ষুদ্র অবস্হান থেকে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা-তাজ উদ্দিন

খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছেন তাজ উদ্দিন


নিজস্ব সংবাদঃ
মহামারী করোনাভাইরাসের ফলে গৃহবন্ধি, কর্মহীন, আর্থিক ও খাদ্য সংকটে পড়া মধ্যবিত্ত লোকদের সহযোগিতা করার লক্ষে নিজের দায়বদ্ধতা থেকে পাশে দাড়িয়েছেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন।
তিনি ব্যাক্তিগত উদ্দোগে নিজস্ব তহবিল থেকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষের ঘরে ঘরে গাড়িতে করে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। বড়লেখার মানুষের দোয়ারে দোয়ারে ঘুরে খুজ খবর নিচ্ছেন। সাধ্যমত সবাইকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। সেজন্য সাধারণ জনগণও খুশি।

আজ (২২এপ্রিল) বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য বিতরণ শেষে তাজ উদ্দিন বলেন আমি আপনাদের লোক,তাই ক্ষুদ্র অবস্হান থেকে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টায়। এবং সকল বিত্তবান লোক যেনো সাময়িক অসুবিধাগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাড়ায় সেই আহব্বানও করে আসছেন।

বিভীষিকাময় বর্ণনা : ‘বিছানার কাছেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাশ পড়ে ছিল’

শাহাদাত হোসেন বেসরকারি চ্যানেল যমুনা টেলিভিশনের একজন সিনিয়র রিপোর্টার। গত মাসের একদম শেষের দিকে একটু জ্বর উঠেছিল। খুব সামান্যই তাপমাত্রা ছিল। এরপর একটি প্যারাসিটামল খাওয়ার পর এক রাতেই জ্বর সেরে গিয়েছিল। এরপর তিনি পেশাগত দায়িত্বও পালন করেছেন।

কিন্তু বাড়িতে তার শ্বশুর কয়েকদিনের মধ্যে ব্যাপক জ্বর ও মাথাব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার পর ভাবলেন নিজেও একটু পরীক্ষা করিয়ে নেবেন। দেখা গেল তার কোনো উপসর্গ না থাকলেও তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর তার শ্বশুরসহ পুরো পরিবারের সবাই আক্রান্ত হয়েছেন। শাহাদাত হোসেন বলছেন, হাসপাতালে ভর্তির পর তার মনে হয়েছে জীবনে এতটা অসহায় কোনো দিন বোধ করেননি।

‘ওয়ার্ডে লাশ পরেছিল ২৪ ঘণ্টা’
তিনি বলছেন, করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ এটি জানার পর শুরুতে তিনি খুব আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিলেন। কী করবেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না।

সহকর্মীদের সহায়তায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার ভাষায়, “হাসপাতালে চরম প্রতিকূলতার মধ্যে নয় দিন পার করেছি আমরা। ওখানে মনে হয়েছি রোগীরা একেবারে অভিভাবকহীন। আমি খুবই অসহায় বোধ করেছি।”

“দেখতাম চোখের সামনে রোগীরা মারা যাচ্ছে। লাশ ওয়ার্ডেই পরে থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, তিনি বলেন।

” যেহেতু নির্দিষ্ট ব্যক্তি লাশ দাফন করেন হয়ত তাদের সংখ্যা কম কিন্তু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, সেকারণে হয়তবা। কিন্তু এতে একজন অসুস্থ রোগী যে এমনিতেই ভয়ে আছে তার মনের অবস্থা কী হয়?” তিনি বলেন।

তিনি হাসপাতালে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলছিলেন, ২৪ ঘণ্টায় একজন চিকিৎসক আসতেন। অনেক দূর থেকে কথা বলে চলে যেতেন।

নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে একটি মানুষকেও পাওয়া যায় না। এরকমও হয়েছে যে নার্স আসেনি বলে একবার সকালের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়া হয়নি। চিকিৎসক দিনে একবারও আসেনি সেটিও হয়েছে।

তিনি বলছেন, “কিন্তু একজন চিকিৎসকের কথায় আমার ভরসা পাওয়ার কথা। তার কথায় আমার মনোবল বেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখানে মানসিক সাপোর্ট দেয়ার কেউ ছিল না।”

অন্যান্য সুবিধাদির বর্ণনা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, তিনি যে ওয়ার্ডে ছিলেন সেখানে এক শ’র মতো রোগী ছিল। এতজন রোগীর জন্য মাত্র তিনটি টয়লেট, তিনটি গোসলখানা।

শাহাদাত হোসেন একপর্যায়ে রোগী বাড়তে শুরু করার পর চিকিৎসকদের অনুরোধ করে তার শ্বশুরসহ বাড়ি চলে আসেন।

আর একটি হাসপাতালের চিত্র

দেশে সবচেয়ে প্রথম যে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সাংবাদিক শনাক্ত হয়েছিলেন সেটি ছিল ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের। সেখানে ভিডিওগ্রাফার হিসেবে কর্মরত আশিকুর রহমান রাজু আক্রান্তদের একজন।

তিনি বলছেন, শনাক্ত হওয়ার পর যখন কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে যান শুরুতেই ঘাবড়ে গিয়েছিলেন কারণ সবাই পিপিই পরে অনেক দূরে দাড়িয়ে আছেন।

তিনি তার প্রথম অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, তাকে একজন ওয়ার্ড বয় একটা পলিথিন ব্যাগে বিছানার চাদর, বালিশ, বালিশের কাভার, টয়লেট টিস্যু আর একটা সাবান দেয়।

”এগুলো দিয়ে ওয়ার্ড বয় কেচিগেট তালা মেরে চলে গেল। নিজের বিছানাও নিজে গুছিয়ে নিতে হলো,” তিনি জানান।

তিনি বলছিলেন, প্রথম দিন তার জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে কেউ আসেনি। চিকিৎসকদের ফোন করে তিনি সেটি জানানোর পর সাড়ে চারটার দিকে তার জন্য একটি বক্সে করে খাবার এসেছিল। কোনো প্লেট দেয়া হতো না। সেখানে পানি গরম করা থেকে শুরু করে সবকিছুই নিজেকে করে নিতে হয়েছে।

এমনকি জ্বর হলে যে মাথায় পানি দিতে হয়, ওই সময়ও সহায়তা দেয়ার কেউ ছিল না। একটা বালতি, মগ কিছুই ছিল না, এসব অভিযোগ তিনি করেছেন।

“খাবার রেখে যাওয়া হতো কেঁচি গেটের বাইরে। তারপর হ্যান্ডমাইকে সেটা জানানো হতো,” তিনি বলেন।

”অসুস্থ লোকদের গিয়ে সেই খাবার নিয়ে আসতে হতো। ওয়ার্ডে একজন নতুন বয়স্ক রোগী এসেছিলেন। তিনি এই তথ্যটা জানতেন না। তিনি এক রাত ও পরের সকাল না খেয়ে ছিলেন,” রহমান বলেন।

আশিকুর রহমান বলছিলেন, জ্বর নিয়ে যে কয় দিন বাসায় ছিলেন তার মনোবল চাঙ্গা ছিল। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সাথে সাথেই সেটি হারাতে শুরু করেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি, যারা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছেন তারা ও তাদের পরিবার এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবায় নিয়জিত ব্যক্তিরা সামাজিকভাবে ব্যাপক হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন এমন বেশকিছু অভিযোগ উঠেছে।

একসময় কুষ্ঠ আক্রান্ত রোগীদের যেভাবে সমাজ পরিত্যাগ করতো যেন সেরকম এক ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে তাদের যেতে হচ্ছে। তার একটি বর্ণনা পাওয়া গেল এই দুই সংবাদকর্মীর ভাষায়।

অন্য আরো বেশ কয়েকজন সেরে ওঠা ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা হলেও সামাজিক সমস্যার ভয়ে তারা কথা বলতে রাজি হননি।

আশিকুর রহমান রাজু বলছেন, যেসময় ভয়াবহ শরীর ব্যথা, জ্বর, মাথাব্যথা ও কাশি শুরু হয় সেই সময় তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কিনা এমন সন্দেহ হলে আইইডিসিআরে যোগাযোগ করেন। তার শরীর থেকে যখন স্বাস্থ্যকর্মীরা নমুনা সংগ্রহ করতে আসেন তখন এলাকার লোকজন ও বাড়িওয়ালার চরম ক্ষোভের মুখে পরেন তিনি।

“কেন আমি ওদের ডাকলাম, এইটা তারা বলছে। যেন আমি ওনাদের ডেকে কোন অন্যায় করছি,” তিনি বলেন।

”ওরা কেন আসছে, সেজন্য বাড়িওয়ালা আমার দরজা পিটাইতেছিল। এলাকার লোকজন এসে বাড়িওয়ালাকে ধরেছে।

”আমি তাদের বুঝিয়ে বললাম যে সাবধানতা হিসেবে চেকআপের জন্য আসছে। পরীক্ষা হলে আপনাদের জন্যই ভালো হবে, রহমান বলেন।

এরপর যেদিন করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার খবর পেলেন ওই দিন তিনি অ্যাম্বুলেন্স বাড়ির কাছে আনতে সাহস করেননি। অসুস্থ অবস্থায় হেঁটে গিয়ে দূর থেকে অ্যাম্বুলেন্স উঠেছিলেন।

সেরে ওঠার পর যেদিন গ্রামের বাড়িতে গেছেন চেনা পরিচিত লোকেরাও তার খবর নেননি।

“আমি আসতেছি এটা দেখেই বাড়ির কাছে পুরো রাস্তা খালি হয়ে গেল। আমি যেন ভিন গ্রহের কেউ এরকম মনে হচ্ছিল,” তিনি বলেন।

শাহাদাত হোসেন বলছেন, তার ফ্ল্যাটের লোকজনের কাছ থেকে চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন তিনি ও তার পরিবার। রীতিমতো একঘরে করে ফেলার অবস্থা।

“মনে হয় যেন অসুস্থ হয়ে আমি বড় কোন পাপ করে ফেলেছি,” তিনি বলেন।

”হাসপাতালে আমার সাথে ছিলেন তাদের একজনকে দেখেছি অসহায়ত্বের কারণে কাঁদছেন। করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে জানার পর তার পরিবারকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার হুমকি পেয়েছেন,” বলেন হোসেন।

‘আপনি হাসপাতালের দায়িত্ব নেবেন?’
হাসপাতাল সম্পর্কে যে অভিযোগ করছিলেন সেরে ওঠা এই দু’জন সেনিয়ে কথা বলেছি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদের সাথে।

তিনি বলছেন, “বাইরে থেকে কেউ বুঝবে না যে আমরা কিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।”

চিকিৎসকদের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, দেশে এ পর্যন্ত ১৩০ জন চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। একজন মারাও গেছেন।

“চিকিৎসকেরা কাছে না গেলে তারা আক্রান্ত হলেন কিভাবে?” তিনি প্রশ্ন করেন।

”এখানে সবমিলিয়ে ৬০০ জন স্বাস্থ্যকর্মী। যারা সংসার, ছেলে-মেয়ে রেখে দিনের পর দিন দূরে থাকছেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।

”তাদের আমরা এন-৯৫ মাস্ক দিতে পারিনি। যিনি চিকিৎসা করবেন তিনি যদি আক্রান্ত হন তাহলে আপনি হাসপাতালের দায়িত্ব নেবেন?” ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ বলেন।

‘এটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’
করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষা করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন উপায় হচ্ছে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা। স্বাস্থ্যকর্মীরা সেটাই করছেন বলে তিনি বলছেন।

হাসপাতালে মরদেহ ওয়ার্ড ফেলে রাখা অভিযোগ তিনি ‘অস্বাভাবিক’ বলে বর্ননা করেন।

”দিনে দু’বার অন্তত ডাক্তারদের রাউন্ড হয়। তিনি কি কাউকে তথ্যটা দিয়েছিলেন?” তিনি প্রশ্ন করেন।

” অসুস্থ অবস্থায় মানুষজন অনেক আবেগপ্রবণ থাকে। করোনাভাইরাসকে হয়ত তারা অন্য রোগের সাথে তুলনা করেছেন। কিন্তু বিষয়টাতো তা নয়,” ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ বলেন।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যে অভিজ্ঞতা তাদের হচ্ছে সেটিকে তিনি যুদ্ধের সাথে তুলনা করে বলেন যে, সারা বিশ্ব এটি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।

”যেসব দেশে সক্ষম স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে তারাও ভেঙে পরছে। এটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ,” তিনি বলেন।

কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র : বিবিসি

নিউইয়র্কে’র ১৪বছরের এক বাংলাদেশী কিশোরীর হৃদয়বিদারক আকুতি।

আমি যুথি। আমার বয়স ১৪। আমার একটা ছোট ভাই আছে ওর নাম তমাল বয়স ১২। আমাদের জন্ম নিউইয়র্কে। আমার আব্বু আম্মু দুজনেই চাকরি করেন। এখানে আমাদের চারজনের সংসার।অনেক পরিচিত জনও আছেন এখানে। আব্বু আম্মু দুজনেই বাংলাদেশী।আত্মীয় স্বজন দাদা দাদী নানা নানি সবাই দেশেই থাকেন। আমরা এখানে একটা স্কুলে পড়াশোনা করি।আমাদের খুব সুখের একটা সংসার। তবে কিছুদিন হলো আমরা স্কুলে যাচ্ছি না।কারণ চারিদিকে করোনার আতঙ্ক আর শহরটা লকডাউন। লক ডাউন কী আমি আসলে এত কিছু বুঝি না। তবে আমরা সবাই এখন বাসায় থাকি এখন এটা আমাদের জন্য খুব আনন্দদায়ক।এভাবে হেসে খেলে ১৫ দিন চলে গেল। পড়াশোনার চাপ নেই। সারদিন খেলা আর আম্মুর কাছে যা খেতে চাই তাই ই আম্মু বানিয়ে দিচ্ছে। খুব আনন্দে কাটছে দিনগুলো। মাঝে মাঝে আম্মু সতর্কতার সাথে থাকার জন্য সবাইকে বার বার হাত ধুতে বলছে আর আমরা ধুয়ে নিচ্ছি। আব্বু বাইরে গেলে মাস্ক গ্লাভস পড়ে যাচ্ছে আবার আসার পর গোসল করে নিচ্ছে। এভাবে নানা সাবধানতার মধ্যে একটু ভয়ে তবে সুখেই কাটছে দিনগুলো।

গত দুদিন ধরে আম্মুর একটু ঠান্ডা লেগেছে। হাঁচি-কাশি সাথে একটু জ্বর ও আছে। এই নিয়েই আম্মু সব কাজকর্ম করে যাচ্ছে। আব্বু বলছে ভয়ের কিছু নেই এত সাবধানে থাকছি আমরা তোমার মনেহয় সাধারণ ফ্লু।প্যারসিটামল খাও ঠিক হয়ে যাবে। আম্মু প্যারাসিটামল খেল।একটু ভালো বোধ করছিল সে।কিন্তু পরের দিন তার জ্বর আরও বেড়ে গেল। আব্বু ফোনে একজন ডাক্তারের সাথে কথা বললো। ডাক্তার শুনে হসপিটালে নিয়ে যেতে বললো। সেখানে নাকি টেস্ট করবে।

আব্বু আম্মুকে নিয়ে এলমহাস্ট হসপিটালে গেল।আমরা দুই ভাই বোন বাসায়। যাওয়ার সময় আব্বু বললো, সাবধানে থেক, কোনরকম দুষ্টুমি করবে না।আর কিচেনের কাছে যাবে না। খাবার টেবিলে রাখা আছে। আমাদের আসতে দেরি হলে তোমরা খেয়ে নিও।এই বলে আব্বু বের আম্মুকে নিয়ে বের হলো দুপুর বারোটার দিকে। এরপর বিকেল হয়ে যায় তারা আসে না। দুটার দিকে আব্বু ফোন দিয়ছিল।বললো, তোমরা খেয়েছো?
আমি বললাম হ্যা।
আচ্ছা তোমরা দুষ্টুমি কোর না, টিভি দেখ।তোমার আম্মুকে হসপিটালে ভর্তি করেছি তার টেস্টের রিপোর্ট এখনো আসেনি।আগামীকাল দিবে। আজ আমাকে এখানে তোমাদের আম্মুর কাছে থাকতে হবে। তোমরা খাবার প্লেট ধুয়ে গুছিয়ে রাখ।আর রাতে নিজেরা খেয়ে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আমাকে কল দিও।
আমি বললাম, আব্বু আমরা একা একা থাকব?
আমাদের খুব ভয় লাগবে তো।
আব্বু বললো,ভয়ের কিছু নেই মামুনি।এখন বড় হয়েছ না।তমালকে নিয়ে একটু খেলা কোরো।ওকেও বুঝিয়ে রেখো।বুঝতে পারছো না তোমাদের আম্মু অসুস্থ। এখন একটু শক্ত হতে হবে মা।ভয় পেলে চলবে?
ঠিক আছে আব্বু, আমরা থাকতে পারব। তুমি আম্মুকে ট্রিটমেন্ট দিয়ে সুস্থ করে নিয়ে আসো।

এই প্রথম মনে হলো আমি আসলেই অনেক বড়ো হয়ে গেছি।আমারও অনেক দায়িত্ব কর্তব্য আছে। আমার দায়িত্ব হলো আমার ছোট ভাইকে সামলে রাখা। সে যেন কষ্ট না পায় সেদিকে খেয়াল রাখা। এছাড়া বাসাটা গুছিয়ে রাখতে বলেছে আব্বু। আমরা ভাই বোন মিলে গুছিয়ে ফেললাম। ভাই কে বললাম আজ আমরা দুজন এক বিছানায় ঘুমাবো মজা হবে না?
ভাই বললো,আম্মু আব্বুকে ছাড়া কিভাবে থাকব আপু?যদি ভুত আসে।
আমি আছি না।ভুত আসবে না। বুঝতে পারছো না আম্মু অসুস্থ। সুস্থ হলেই চলে আসবে।

রাতে বাবাকে ভিডিও কল দিলাম।
আব্বু বললো, এইতো গুড, ঘুমিয়ে গেলেই দেখবে সকাল হয়ে গেছে। আগামীকাল রিপোর্ট পেলেই আমরা পেলেই আমরা চলে আসবো। তবে তোমার আম্মুর জ্বর একটু বেড়েছে।
আচ্ছা আব্বু গুড নাইট।

পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কৌটাতে বিস্কুট ছিল দুই ভাই বোন তাই খেলাম।কিছুক্ষণ পরে ম্যাকডোনাল্ড থেকে আমাদের নাস্তা আার লাঞ্চ দিয়ে গেল। আব্বু নাকি অর্ডার করেছে।আমরা খুব মজা করে খেলাম।

দুপুরে আব্বু বললো, মা যুথি তুমি তো এখন বড় হয়েছ। বুঝতে পার।তোমাকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে মা।তোমার ভাইকে আরও কিছু দিন দেখে রাখতে হবে।তোমার আম্মু আমি দুজনেই করোনায় আক্রান্ত। তোমার আম্মুর জ্বর বেড়েছে একটু শ্বাস কষ্ট ও হচ্ছে। তোমাদের কয়েক দিন একা একা থাকতে হবে পারবে না মা।
আমি খুব ভয় পেয়ে গেলাম। চোখ থেকে পানি পড়তে লাগলো। বললাম, পারবো আব্বু তুমি কোন চিন্তা করো না।

নিউইয়র্কে আমাদের কোন আত্মীয় নেই। পরিচিত যারা আছে তারাও কেউ আসছে না। আমরা একারাই এভাবে থাকতে লাগলাম। পরের দিন আব্বু ফোনে বললো যুথি বেশি করে নামাজ পড়ো আল্লাহর কাছে দোয়া কর তোমাদের আম্মুকে ICUতে রাখা হয়েছে। এই বলে আব্বু কেঁদে ফেললেন। আমি ও চোখের পানি আর রাখতে পারিনি সাথে তমালও কান্না করতে লাগলো।
আমি বললাম তুমি কেমন আছ আব্বু।
আমি ভালো আছি মা।তোমার আম্মুর জন্য বেশি বেশি দোয়া কর।
এরপর আমরা প্রতিদিন নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকি।

দুদিন পরে একজন নার্স এসে আমাদের কাছে একঘন্টা থেকে গেল। আমাদের অনেক ভালো ভালো কথা বলে অনেক কিছু বুঝিয়ে গেছে। আমরা ছোট বলে হসপিটাল থেকে দেখতে এসেছে। নার্স বলেছে আম্মু সাত তলায় আর আব্বু আটতলায় আছে। কারো সাথে দেখা হচ্ছে না।

এভাবে আটদিন চলে গেল। আমরা একাএকা থাকছি।উবার ইটস অথবা ম্যাকডোনাল্ডের খাবার খাচ্ছি। এখন আর এসব খাবার খেতে ভালো লাগছে না। তবুও খাচ্ছি। দুই তিন দিন পর পর নার্স এসে দেখে যাচ্ছে। আটতম দিনে সোস্যাল মিডিয়া থেকে আমাদের নিতে এসেছিল আমরা যাইনি।আব্বু ফোনে তাদের বুঝিয়ে বললে তারা চলে যায়।

আজ নবম দিন। আব্বু বলেছে সে এখন ভালো আছে আজ বাসায় আসবে। রাতে আব্বু বাসায় আসে।তমাল দৌড়ে আব্বুকে ধরতে গেলে আব্বু দূরে সরে গেল। বললো সে এখন কয়েক দিন আলাদা থাকবে আমরা তাকে ধরতে পারব না।

আব্বুকে ধরতে না পারলেও আমরা খুব খুশি। কারণ আব্বু আমাদের কাছে আছে। আব্বুকে আম্মুর কথা জিজ্ঞেস করলাম।আব্বু আশার কথা শুনালো।

বললো,মা,তোমার আম্মু ও হয়তো ফিরে আসবেন। তার অবস্থা ও আগের থেকে ভালো। সাতদিন পর গতকাল তার অক্সিজেন খুলেছে। আমার সাথে একবার একমিনিট কথা হয়েছে। হয়তো দুই তিন দিন পর সেও ফিরে আসবে। আল্লাহ তোমাদের দোয়া কবুল করেছে মামনী। আমরা সবাই আবার আগের মতই ভালো থাকবো।
🇧🇩🇺🇸

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ত্রাণ দেওয়া নিয়ে সমালোচনার জবাব।

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী জনকল্যানমুলক একটি দ্বীনি সংগঠনের নাম।১৯৪১ সালের জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত একটি ইসলামী সমাজ বিনিমার্ণ তথা কল্যানমুখী রাস্ট্র কায়েমের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।একটি আদর্শিক ও দায়িত্বশীল সংগঠন হওয়ায় দেশের ও দেশের মানুষের যে কোন দুর্যোগ ও সংকটপুর্ণ মুহুর্তে অতীতেও ঐতিহাসিক ভুমিকা পালন করেছে এবং বর্তমান সময়েও করে যাচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ।শুধুমাত্র সংকট বা দুর্যোগকালীন নয় বরং নিয়মিতভাবেই প্রতি মাসে জামায়াত ইসলামি তাদের সাংগঠনিক আয়ের ১০% সমাজকল্যামুলক কাজে ব্যায় করে। আমরা গভীর ভাবে লক্ষ্য করছি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মানুষের মধ্যে যখন ব্যাপক ভীতি সঞ্চার তৈরি হয়েছে,তেমনি শারীরিক ও আর্থিক ভাবেও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুক্ষিন হয়েছে এবং হচ্ছে।চরম আর্থিক সংকটের কারনে অনেক মানুষ যেমন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে, আবার খাদ্যের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে।এমতাবস্থায় অতীতের ন্যায় এবারো এই দুর্যোগ ও সংকটপুর্ণ মুহুর্তে সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামিও তাদের নিজেস্ব সামর্থের সবটুকু ঢেলে দিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থাসহ ক্ষুদার্ত মানুষের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌচ্ছে দেওয়ার কর্মসুচি পালন করে যাচ্ছে।”প্রচারনা নয় আল্লাহর সন্তুষ্ঠিই মুল লক্ষ্য ” শ্লোগানকে সামনে রেখে এই কর্মসুচিগুলো পালন করে যাচ্ছে।কিন্তু কতিপয় সমালোচনাকারী বন্ধু এবং কিছু শুভাকাঙ্খিও জামায়াত ইসলামীর এই কাজগুলোর প্রচারনা না থাকায় বলে বেড়াচ্ছেন জামায়াত ইসলামী ও ছাত্রশিবির দেশের এই দুঃসময়ে ঘরে ঢুকে শুধু নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত আছে।তাই সাংগঠনিক নয় বরং নিজের দায়িত্বেই বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী দেশের এই ক্রান্তিকালে দেশের মানুষের জন্য নিজেদের সামর্থের সবটুকু উজার করে দিয়ে কি কি করছে তার একটা সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরছি।বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সারাদেশে ৮৯ টি সাংগঠনিক মহানগরি ও জেলা শাখায় কাজ করে।তারমধ্যে একটি শাখা
জামায়াত ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিন ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত মানুষের সাহায্যে যাযা করেছে-

*খাদ্যসামগ্রী বিতরন করেছে-১১,৮৩৯ টি পরিবারে

*এককালিন সহযোগিতা করেছে- ৬০৯ টি পরিবারে

*চিকিৎসা সহায়তা করেছে-কয়েক হাজার জনকে

*মাস্ক বিতরন করেছে-৩৫,৮৬৭ জনের মাঝে

*সাবান ও হ্যান্ড ওয়াস বিতরন-২০,৯০৯ জনের মাঝে

*হ্যান্ড সেনিটাইজার বিতরন-৩৪১ টি পরিবারে

*ব্লিচিং পাউডার বিতরন-১৩ হাজার পরিবারে

*স্প্রে মেশিন বিতরন-১৩৪৩ টি পরিবারে

*পিপিই পোশাক বিতরন-১৫০ জনের মাঝে

*হ্যান্ড গ্লাবস বিতরন-২৯ হাজার পিচ

*হাত ধোয়ার জন্য পানির ব্যবস্থা করেছে-৫৬ টি স্পটে

*মসজিদ জীবানুমুক্তকরন কর্মসুচি-১৮৫ টি

*স্বাস্থ্য সচেতনতায় লিফলেট বিলি-২ লক্ষ

*সংগঠনের ডাক্তারদের মাধ্যমে ফোনে চিকিৎসা দিয়েছে লক্ষাধিক মানুষকে।

★ এসব কাজগুলো এখনো চলমান।

★ এসব কার্যক্রমের জন্য ইতিমধ্যেই খরচ করেছে-৬৫,০১০৩২(পয়ষট্রি লক্ষ এক হাজার বত্রিশ) টাকা।যার পুরটাই নিজেদের জনশক্তি ও শুভাকাঙ্খিদের দেওয়া টাকা।

★ একটা সাংগঠনিক শাখার কাজ যদি এটা হয়। তাহলে সারাদেশের ৮৯ টি সাংগঠনিক শাখার কাজ মোট কত হতে পারে একটু ভাবুন তো!

★ এছাড়াও মহিলা জামায়াত,বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও ইসলামী ছাত্রীসংস্থাও আলাদা ভাবে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরনের কাজ করছে।

অন্যান্য সামাজিক ও রাস্ট্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ন্যায় প্রচারনা না থাকায় জামায়াত ইসলামীর কাজগুলো অনেকের চোখে পড়েনা। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের এই কাজগুলো শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্ঠির জন্য কবুল করুন এবং এই মহামারী থেকে দেশ,জাতি ও মুসলিম উম্মাহকে হেফাজত করুন ও মুক্ত করুন।

-লেখক: মুহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন,
সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও সহকারী সেক্রেটারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিন।

যেভাবে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবেন

যেহেতু করোনাভাইরাসের এখনও কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। তাই সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশের চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা সংক্রমণ এড়াতে এবং শরীরকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুত রাখার জন্য দিয়েছেন বিশেষ পরামর্শ:

নিউজটি শেয়ার করুন।

অপেক্ষাকৃত কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তির শরীরে যে কোনো ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। কিন্তু কিছু বিষয় মেনে চললে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রস্তুত রাখা সম্ভব।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সঙ্কটকালে সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশের চিকিৎসকরাও পরামর্শ দিচ্ছেন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরের ভেতর অ্যান্টিবডি তৈরি করার। এতে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ড. মুজিবুর রহমান বলেন, যেহেতু করোনাভাইরাসের এখনও কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি, তাই সচেতন থাকার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাসসহ যে কোনো ভাইরাস প্রতিরোধে সেসব খাবারই বেশি খাওয়া উচিৎ যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের পুষ্টিবিদ ড. তাসনুভা মিম বলেন, শরীরের প্রতি যত্নশীল এবং স্বাস্থ্যবান ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও দ্রুত সেরে উঠতে পারবেন।

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অনুসরণ করতে পারেন এসব পরামর্শ-

তাজা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া

সংক্রমণ এড়াতে পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিকর, সুষম ও তাজা খাবার খাওয়ার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্সের শিক্ষক ড. মো. আমিনুল হক ভুইয়া বলেন, “ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার ওপর আমাদের জোর দিতে হবে। প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি, ফল, শস্যদানা, শিম জাতীয় সবজি, বাদাম, বীজ, মরিচ, অলিভ অয়েলের পাশাপাশি তেলযুক্ত মাছ, পনির ও পূর্ণ ননীযুক্ত দই খাওয়া যেতে পারে। ”

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ভিটামিন ‘সি’

ভিটামিন ‘সি’ শরীরে কোলাজেন তৈরি ও ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষ, টিস্যু ও জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

তাই প্রতিদিনই কমলালেবু, আঙুর, স্ট্রবেরি, সবুজ মরিচ, ব্রকোলি জাতীয় ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল বা সবজি খাওয়া প্রয়োজন।

আর দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার অনেক খাবারেই ভিটামিন ‘সি’ থাকায় আলাদা করে এটি গ্রহণের প্রয়োজন হয় না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

শরীরকে জীবাণুর বিরুদ্ধে শক্তিশালী করে তোলে যেসব খাবার

আমাদের পেটের ভেতরে থাকে লক্ষ-কোটি ব্যাক্টেরিয়া, ফাঞ্জাইসহ বিভিন্ন জীবাণু যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অর্গানিক বা সরাসরি উদ্ভিদ থেকে পাওয়া খাবার এদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে শরীরকে সহায়তা করে।

শতমূলী, রসুন, পেঁয়াজ এমনই কিছু খাদ্যদ্রব্যের নাম। এছাড়া, ফার্মেন্টেড ফুড যেমন- দই বা এ জাতীয় খাবারও এক্ষেত্রে শরীরকে সহায়তা করে।

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার শরীরে থাকা ছোট ছোট জীবাণু, অণুজীবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য শরীরকে প্রস্তুত রাখে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব নিউট্রিশ অ্যান্ড ফুড সায়েন্সের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম বলেন, “ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার শরীরে অ্যান্টিবডির ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি, ভিটামিন সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার পারে যে কোনো রোগকে প্রতিরোধের জন্য শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে।”

ব্রিটিশ নিউট্রিশন ফাউন্ডেশনের মতে, এমন কিছু খাবার হলো- ওট, মশুর, মটরশুঁটি, ব্রকোলি, গাজর, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার।

প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা

রোগ প্রতিরোধে পানির একটি বড় ভূমিকা হলো এটি শরীরে “লিম্ফ” উৎপন্ন হতে সহায়তা করে, যা শ্বেত রক্তকণিকাসহ রোগ প্রতিরোধী অন্যান্য কোষগুলোকে ধারণ করে।

তাই প্রচুর পরিমাণে পানি পান করলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তবে আমাদের উচিৎ কফিজাতীয় পানীয় পরিহার করে চলা, কারণ এটি কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি করতে পারে।

এছাড়াও, আমাদের উচিৎ প্রচুর পরিমাণে পানিসমৃদ্ধ ফলমূল যেমন- শসা, তরমুজ খাওয়া উচিৎ।

বয়স্কদের জন্য পরামর্শ

বয়স্ক মানুষরা করোনাভাইরাস সংক্রমণে অনেক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বিশেষজ্ঞরা তাদেরকে বেশি করে ভিটামিন জাতীয় খাবারের পাশাপাশি সম্পূরক খাবার (সাপলিমেন্ট) গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।

এক্ষেত্রে, রঙিন ফল ও শাক-সবজি খাওয়া যেতে পারে।