বড়লেখায় কোলের শিশুকে হত্যার অভিযোগে বাবা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় আল-আমিন নামে দুইমাস বয়সী শিশুপুত্রকে হত্যার অভিযোগে আব্দুল মতিন (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে তিনটার দিকে তাকে আটক করা হয়। তিনি উপজেলার পূর্ব-দোয়ালিয়া (রামকটার টিলা) গ্রামের নিমার আলীর ছেলে। পুলিশ নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

থানা পুলিশ, নিহত শিশুর মা লাবনী আক্তার ও মামা জাবেদ আহমদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মতিন (৩২) ঘরে স্ত্রী রেখে একাধিক বিয়ে করেছে। এর জের ধরে লাবনী আক্তার ও তার স্বামী আব্দুল মতিনের দাম্পত্য কলহ চলছিল। রোববার বিকেলে আব্দুল মতিন ও স্ত্রী লাবনী আক্তারের মধ্যে ঝগড়া-ঝাটি চলছিল। আব্দুল মতিন স্ত্রীকে মারধরের একপর্যায়ে ৭০ দিনের শিশুপুত্রের উপরও আঘাত পড়ে। সন্ধ্যায় শিশুপুত্রসহ লাবনীকে বাবার বাড়ির লোকজন তাদের বাড়িতে নিয়ে যান। সোমবার সকালে শিশুপুত্রের শরীর খারাপ করলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

বড়লেখায় যুবক খুনের ঘটনায় সাংবাদিক সহ ৯ জনের নামে মামলা। আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের পাকশাইল গ্রামের কামরুল হোসেন এনাম খুনের ঘটনায় সাংবাদিক সহ ৯ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২১ আগস্ট নিহত এনামের বাবা বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার ২ জন আসামীকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,
গত ২০ আগস্ট সকালে হাকালুকি হাওরের মালাম বিল থেকে পাকশাইল গ্রামের কামরুল হোসেন এনাম নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত কামরুল হোসেন এনাম পাকশাইল গ্রামের দিনমজুর সিরাজ উদ্দিনের পুত্র। সে ‘পাকশাইল গ্রেট ভিশন এসোসিয়েশন’ নামক স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠনের সহ সভাপতি ছিল। ১৯ আগস্ট রাতে কে বা কারা তাকে হত্যা করে লাশ পাকশাইল গ্রাম ঘেষা হাকালুকি হাওরের মালাম বিলে ফেলে রাখে। ২০ আগস্ট সকালে স্থানীয়রা বিলে লাশ দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে এনামের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। ময়না তদন্ত শেষে ঐইদিন রাত সাড়ে ৮ টায় এনামকে পাকশাইল গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার জানাযার নামাজে বর্ণি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন,উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন,ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জুবের আহমদ সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন।

স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা যায়,তরুণ একজন সমাজকর্মীর এমন নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সবাই এই হত্যাকান্ডের সুষ্ট বিচার দাবী করছেন। কিন্তু,কে বা কারা এনামকে হত্যা করেছে সে বিষয়ে কেউ সঠিক তথ্য দিতে পারছেন না।

তবে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার মতে,হাকালুকি হাওরের মালাম বিলের গাছ নিধনকারীদের শাস্তির দাবী সহ বিভিন্ন দাবীতে বেশ কিছুদিন থেকে খুবই সক্রিয় দেখা গেছে কামরুল হোসেন এনামকে। তার এসব ভূমিকার কারণে প্রভাবশালী একটি মহল ক্ষুব্ধ ছিল। সংক্ষুব্ধ এরকম কোনো পক্ষ হয়ত পরিকল্পিতভাবে এনামকে হত্যা করেছে। তবে স্থানীদের এ ধারণার সাথে ভিন্নমত পোষণ করেন নিহত এনামের বাবা সিরাজ উদ্দিন। তার অভিযোগের তীর ছেলের সহকর্মীদের দিকে।

সিরাজ উদ্দিনের মতে,তার ছেলে কামরুল হোসেন এনাম ছিল ‘পাকশাইল গ্রেট ভিশন এসোসিয়েশন’র সক্রিয় এবং সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব৷ সে ছিল প্রতিবাদী। সে সংস্থার সভাপতি,সহ সভাপতি,সেক্রেটারী এবং অর্থ সম্পাদকের অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করত। তাছাড়া আগামী কাউন্সিলে সে এসোসিয়েশনের সভাপতি পদে প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এসব কারণে সংস্থার কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যের সাথে কিছুদিন থেকে তার মনোমালিন্য চলছিল। এরই জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাই,সিরাজ উদ্দিন ২১ আগস্ট বড়লেখা থানায় গিয়ে এই সংস্থার ৯ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ মামলার অন্যতম ২ আসামী সাইফুল হোসেন পাভেল (২৬) এবং মাছুম আহমদ (২৪) কে ইতিমধ্যে আটক করেছে। আটক সাইফুল হোসেন পাভেল এসোসিয়েশনের অর্থ সম্পাদক এবং একই এলাকার মৃত আজির উদ্দিনের ছেলে। আর মাছুম আহমদ বর্ণি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি,পাকশাইল গ্রামের বাসিন্দা মোঃছফির উদ্দিনের ছেলে। মাছুমের বড় ভাই বড়লেখা প্রেসক্লাবের সদস্য জামিল আহমদ। তাকেও এ মামলায় আসামী করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রানুযায়ী,মামলার ৯ আসামী হলেন এসোসিয়েশনের সহ সভাপতি সাংবাদিক জামিল আহমদ,সভাপতি এইচ.এম ফয়সল,সিনিয়র সহ সভাপতি শাহীদুল হক,ইমন আহমদ,সেক্রেটারি জাহাঙ্গির আলম,মাছুম আহমদ,সাংগঠনিক সম্পাদক কবির আহমদ,অর্থ সম্পাদক সাইফুল হোসেন পাভেল ও প্রচার সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ। তাদের সকলের গ্রামের বাড়ী পাকশাইল এবং তারা নিহত কামরুল হোসেন এনামের সহকর্মী।

সার্বিক বিষয় জানতে যোগাযোগ করা হলে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গির হোসেন সরদার জানান,নিহতের পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ২ জন আসামীকে আটক করা হয়েছে। হত্যা রহস্য উদঘাটনের স্বার্থে গ্রেফতারকৃত দু’জনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। অন্যান্য আসামীদেরকেও গ্রেফতারের অভিযান চলছে। কাউকে ছাড় নয়,দোষীদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

এদিকে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত প্রকৃত দোষীদেরকে আড়াল করতেই নিহত এনামের সহকর্মীদের নামে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ আসামীদের স্বজনদের। তাদের দাবী,পুলিশ সুষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এনামের হত্যাকান্ডে জড়িতদের বের করুক। সঠিক তদন্ত ছাড়া মামলার উপর ভিত্তি করে নিরীহ-নিরপরাধ যুবকদেরকে গ্রেফতার,হয়রানী করলে প্রকৃত হত্যাকারীরা আড়ালে থেকে যেতে পারে।

৫ জনকে অভিযুক্ত করে ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর হত্যা মামলার চার্জশীট দাখিল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সাংবাদিক সহ ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে সিলেট পলিটেকনিক কলেজ ছাত্রলীগ কর্মী,বড়লেখা উপজেলার বর্ণী ইউনিয়নের আহমদপুর গ্রামের সাইফুর হত্যা মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশীট) দাখিল করেছে পুলিশ। আজ (২৭ জুলাই) সকালে মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আলোচিত এ মামলার চার্জশীট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আতাউর রহমান।

আদালত এবং পুলিশ সূত্র জানায়,বড়লেখা প্রেসক্লাবের সদস্য,বর্ণি ইউনিয়নের পাকশাইল গ্রামের মোঃ ছফির উদ্দিনের ছেলে জামিল আহমদ,আহমদপুর গ্রামের আনছার আলীর ছেলে বাবলু হোসেন,জবলু হোসেন,কামাল হোসেন, এবং একই গ্রামের মৃত মস্তাব আলীর ছেলে জয়নাল উদ্দিন’কে চার্জশীটে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত ৫ জনের মধ্যে জামিল ছাড়া বাকী ৪ জন বর্তমানে কারাগারে আছেন।

উল্লেখ্য,গত বছরের ৩১ জুলাই বর্ণি ইউনিয়নের আহমদপুর গ্রামের আব্দুল আহাদের ছেলে,সিলেট পলিটেকনিক কলেজের ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। বিকাল ৪ টার দিকে নিজ বাড়ির কক্ষ থেকে পুলিশ তার নিথর দেহ উদ্ধার করেছিল। লাশ পাঠানো হয় মর্গে। ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সাইফুরকে দাফন করা হয়। রহস্যজনক এ মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে পুলিশকে অপেক্ষা করতে হয় প্রায় ৩ মাস। ২০২০ সালের ২৬ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পৌঁছায় বড়লেখা পুলিশের হাতে। প্রতিবেদনে সাইফুরকে শ্বাসরোধে হত্যা করার বিষয়টি বলা হয়। তখন নিহত সাইফুর রহমানের ছোট ভাই এমদাদুর রহমান বাদী হয়ে আসামী অজ্ঞাতনামা রেখে একটি মামলা দায়ের করেন। ঐ দিন সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে আহমদপুর গ্রামের আনছার আলীর ৩ ছেলে বাবলু,জবলু এবং কামাল হোসেনকে আটক করে। গ্রেফতারকৃত এই ৩ জনের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারী জয়নাল উদ্দিন নামে আরেক সন্দেহভাজন আসামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আজ কারাগারে থাকা ৪ জনের সাথে একই ইউনিয়নের বাসিন্দা সাংবাদিক জামিলকে যুক্ত করে আলোচিত এ মামলার চার্জশীট দিল পুলিশ।

হাকালুকি হাওরের মালাম বিলে গাছ নিধনকারীদের শাস্তির দাবীতে মানবন্ধন

জাকির আহমদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ গাছ নিধনকারী দূর্ণীতিবাজদের কবল থেকে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ জলাভূমি হাকালুকি হাওরকে রক্ষার দাবীতে বড়লেখায় মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৬ জুন সন্ধায় উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের ফকির বাজারে ‘পাকশাইল গ্রেট ভিশন এসোসিয়েশন’ নামে একটি সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে এ মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি এইচ.এম ফয়সলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন এসোসিয়েশনের সহ সভাপতি কামরুল হোসেন এনাম,শাহীদুল হক,সাংবাদিক জামিল আহমদ, ইমন আহমদ ও শাহিদুর রহমান জুনেদ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এসোসিয়েশনের সহ সাধারণ সম্পাদক নাহিদ হোসেন,সাইদুল ইসলাম,হাফিজুর রহমান,সাংগঠনিক সম্পাদক কবির আহমদ,সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবজল হোসেন,সাজু আহমদ,অর্থ সম্পাদক সাইফুল হোসেন পাভেল,সহ অর্থ সম্পাদক কামরুল হোসেন,অফিস সম্পাদক কবির আহমদ,প্রচার সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ,ক্রীড়া সম্পাদক কবির আহমদ(দক্ষিণ) প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন,হাকালুকি এশিয়ার একটি বৃহৎ জলাভূমি। এই হাওরের পরিবেশ রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু,দুঃখজনক হলেও সত্য,সরকারী দলের অনেক নেতারা এখন এই ঐতিহ্যবাহী হাওরের পরিবেশ বিনষ্টের সাথে জড়িয়ে গেছেন। গাছ নিধন,অতিথি পাখি ও মাছ শিকার সহ নানা অসদুপায়ে তারা হাওর থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন। এর ফলে হাওরের জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়ছে। আর এর মূল প্রভাব পড়ছে বর্ণি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে। কারণ,হাওরের পরিবেশের সাথে পাকশাইল সহ ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের মানুষের স্বার্থ জড়িত। এই হাওরকে পরিবেশ বিনষ্টকারী দূর্ণীতিবাজদের হাত থেকে বাঁচানো মানে বর্ণি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষকে বাঁচানো। বক্তারা এসময় পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান।

গলাব্যথার রোগীকে ‘ক্যান্সার’ আক্রান্ত বলে বড়লেখার চিকিৎসকের প্রতারণা!

মায়ের প্রচন্ড গলাব্যাথা। কোথায় মায়ের চিকিৎসা করাবেন এ নিয়ে চিন্তায় পড়েন যান বিয়ানীবাজার উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের রেজাউল করিম রাজু। বিভিন্ন মাধ্যমে বড়লেখা উপজেলার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সঞ্জয় কান্তি শীল সঞ্জুর নামডাক শুনে তার কাছে যান। হোমিও চিকিৎসক সঞ্জু তাৎক্ষণিক রোগীকে দেখে জানান ‘ক্যান্সার’ হয়েছে। তিনি তা ভালো করতে পারবেন।ঘটনাটি গত বছরের ২ ডিসেম্বর। এরপর কয়েক দফায় ‘ক্যান্সার’ ভালো করার নামে ওই নারীর ছেলের থেকে ওষুধ দিয়ে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু ভালো হওয়া তো দূরের কথা দিন দিন রোগীর অবস্থা অবনতির দিকে। বিষয়টি নিয়ে ওই হোমিও চিকিৎসকের কাছে কথা বলতে গিয়ে দুর্ব্যবহারের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী রেজাউল করিম রাজুর।এ অবস্থায় প্রতিকার চেয়ে গত ৩১ জানুয়ারি বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্নদীপ বিশ্বাসের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগি দেন রোগীর ছেলে রেজাউল করিম রাজু। গত বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্মদীপ বিশ্বাসের গঠিত তদন্তদল অভিযোগটির তদন্ত করছেন।জানা গেছে, উপজেলার পানিধার এলাকায় নিজ বাড়িতে ঝর্নাময়ী হোমিও হল নামক ফার্মেসিতে চেম্বার খুলে দীর্ঘদিন বিভিন্ন অসুখের চিকিৎসা করছেন সঞ্জয় কান্তি শীল সঞ্জু। নামের সাথে হোমিওপ্যাথির নানা ডিগ্রি সংযুক্ত থাকলেও ব্যবস্থাপত্রে তিনি হোমিও ছাড়াও অ্যালোপ্যাথির উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক, আয়ুর্বেদিক, কবিরাজিসহ সবধরনের ওষুধ লেখেন। ক্যান্সারসহ কঠিন অসুখ ভালো করার নানা ধরনের প্রচারপত্র বিলি করে তিনি সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকৃষ্ট করে চিকিৎসার নামে রোগীদের সাথে প্রতারণা করছেন বলে মানুষের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন মাধ্যমে হোমিও চিকিৎসক সঞ্জয় কান্তি শীল সঞ্জুর নামডাক শুনে পার্শ্ববর্তী বিয়ানীবাজার উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের রেজাউল করিম রাজু গত ২ ডিসেম্বর গলাব্যথায় আক্রান্ত অসুস্থ মা ছায়ারুন নেছাকে তার নিকট নিয়ে যান। সঞ্জু পরীক্ষা করে জানায়, ক্যান্সার হয়েছে এবং সে চিকিৎসা দিয়ে ভালো করতে পারবে। কয়েক দফা ওষুধ দিয়ে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তার ওষুধে ওই নারীর শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি ঘটতে থাকে। গত ২৬ জানুয়ারি রেজাউল করিম রেজা চিকিৎসকের চেম্বারে মায়ের শারীরিক অবস্থা জানাতে গেলে তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগালা করে চেম্বার থেকে বের করে দেয়।রেজাউল করিম রেজা জানান, বিভিন্ন জনের মাধ্যমে তার সুনাম শুনে অসুস্থ মাকে চিকিৎসা করতে নিয়ে যান। ক্যান্সার হয়েছে জানিয়ে চিকিৎসার নামে সে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তার ওষুধে মায়ের ক্রমশ অবনতি ঘটে। সর্বশেষ জানাতে গেলে মারাত্মক দুর্ব্যবহার করে চেম্বার থেকে বের করে দেয়। তার প্রতারণা ও অপচিকিৎসায় আমার মা এখন মৃত্যুমুখে। এখন বুঝতে পারছি তার চিকিৎসার সুনাম করা লোকগুলো তারই নিয়োজিত দালাল। অবশেষে তার অপচিকিৎসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।হোমিও চিকিৎসক সঞ্জয় কান্তি শীল সঞ্জু জানান, ওই রোগীর ছেলের সাথে ওষুধ কেনা নিয়ে একটু ঝামেলা হয়েছে। তিনি কোনো দুর্ব্যবহার করেননি।‘‘তবে ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা করানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বক্তব্য না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।’’বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বলেন, ‘অভিযোগটি তদন্তের জন্য হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. রামেন্দ্র সিংহকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। বুধবার সকালে কমিটি তদন্ত সম্পন্ন করেছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সুত্রঃ সিলেটটুডে

বড়লেখায় মাংসের দোকানে অভিযান,লাইসেন্স ও মূল্য তালিকা না থাকায় জরিমানা।

ফয়সাল মাহমুদ, বড়লেখাঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় লাইসেন্স ও মূল্য তালিকা না থাকায় দুই মাংসের দোকানকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস বিক্রি, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়ন এবং লাইসেন্স না থাকা সহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সোমবার (৩০ নভেম্বর) সকালে উপজেলার রতুলী বাজারের মাংসের দোকানে এই অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত লায়লা নীরা।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২টি পৃথক মামলায় ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়। এসময় লাইসেন্স না থাকায় ও মাংস মূল্য তালিকা না টাঙানোর অপরাধে শাহজালাল মাংসের দোকানকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা একই সঙ্গে মূল্য তালিকা না টাঙানোর অপরাধে মামু ভাগ্না মাংসের দোকানকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করে বড়লেখা থানা পুলিশ।

বড়লেখায় চতুর্থ দিনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ১৭টি মামলা।

মোঃইবাদুর রহমান জাকির

করোনার দ্বিতীয় ধাপ সামলাতে বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় টানা চতুর্থ দিনের মত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। মাস্ক ব্যবহার না করার কারণে ১৭ টি মামলায় ৫৫০০/ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।এসময় মাস্ক ও বিতরণ করাহয়।

বুধবার (২৫নভেম্বর) দুপুরে বড়লেখা পৌরশহরে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শামীম আল ইমরান।কোর্ট পরিচালনায় বড়লেখা থানা পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা করে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শামীম আল ইমরান বলেন, করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় দেশ ব্যায়াপী আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্বিতীয় ধাক্কা সামলাতে সরকারী নির্দেশনা রয়েছে বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলাফেরা করতে। তাই বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিন্তে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশক্রমে সারা জেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।এরই প্রেক্ষিতে বড়লেখা উপজেলায় আজ চতুর্থ দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসময় মাস্ক ব্যবহার না করার কারণে ১৭ টি মামলায় ৫৫০০/ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে আদায় করাহয়েছে। মানুষ জনকে আরো সচেতন করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ মাস্ক পরাতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বড়লেখায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা মাস্ক বিতরণ ও অর্থদণ্ড প্রদান।

মোঃইবাদুর রহমান জাকির

শীতকাল আগমনের শুরুতেই কোভিড ১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউ এর কারণে করােনা ভাইরাসে আক্রান্ত রােগী সংখ্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরােধে বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার ও অন্যান্য স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিতকল্পে মৌলভীবাজার জেলার জেলা প্রশাসক মহােদয়ের নির্দেশক্রমে (২২নভেম্বর) সারা জেলায় এক যােগে মােবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

বড়লেখা উপজেলায় আজ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বড়লেখা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মােঃ শামীম আল ইমরান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত লায়লা নীরার নেতৃত্বে দুইটি মােবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। দুটি মােবাইল কোর্টে ৩৮ টি মামলায় ৭৬০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

এসময় জনগণের মধ্যে মাস্কও বিতরণ করা হয়। বড়লেখা থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই প্রভাকর রায়ের নেতৃত্বাধীন বড়লেখা থানা পুলিশ মােবাইল কোর্ট কে সর্বাত্মক সহযােগিতা প্রদান করেন।

রায়হান হত্যায় অন্যান্যরাও জড়িত স্বীকার করল এস আই আকবর।

নিউজ ডেস্কঃ সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিহত রায়হান আহমদকে ‘খুনের’ দায় একা নিতে রাজি নন বরখাস্তকৃত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া। ৭ দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আকবর বলেন, যা ঘটেছে তাতে সবারই দোষ আছে। তিনি একা কিছু করেননি। সবাই মিলে করেছেন।

মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) আদালতের এপিপি সৈয়দ শামীম জানান, রায়হানকে হত্যাকাণ্ডের দায় আকবর একা নেননি। ‘আকবর বলেছেন, তিনি একা দায়ী নন। তিনিসহ এই মামলার আসামিরা সবাই মিলেই রায়হানকে পিটিয়ে আহত করেছেন। এরপর রায়হানকে হাসপাতালেও নিয়ে যান তারা। পরবর্তীতে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন।’

গত ১০ নভেম্বর সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে আকবরকে হাজির করা হয়। এসময় তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক আবুল কাশেম তা মঞ্জুর করেন।

গত ১১ অক্টোবর (১০ অক্টোবর দিবাগত) মধ্যরাতে রায়হানকে নগরীর কাষ্টঘর থেকে ধরে আনে বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ। ১১ অক্টোবর ভোরে ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, ফাঁড়িতে ধরে এনে রাতভর নির্যাতনের ফলে রায়হান মারা যান। ১২ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদি হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন।

মামলায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার উল্লেখ করেন, প্রতিদিনের মতো ১০ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে তার স্বামী রায়হান আহমদ নিজ কর্মস্থল নগরীর স্টেডিয়াম মার্কেটস্থ ডা. গোলাম কিবরিয়া ও ডা. শান্তা রাণীর চেম্বারে যান। পরদিন (১১ অক্টোবর) ভোর ৪টা ৩৩ মিনিটে ০১৭৮৩-৫৬১১১১ মোবাইল ফোন নম্বর থেকে শ্বাশুড়ি (রায়হানের মা সালমা বেগম)-এর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বর (০১৭৮৭৫৭০৯৪৯)-এ কল দিলে সেটি রিসিভ করেন রায়হানের চাচা হাবিবুল্লাহ।

এসময় রায়হান আর্তনাদ করে বলেন, তিনি বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আছেন। তাকে বাঁচাতে দ্রুত ১০ হাজার টাকা নিয়ে বন্দর ফাঁড়িতে যেতে বলেন রায়হান। এ কথা শুনে রায়হানের চাচা ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে রায়হান কোথায় জানতে চাইলে দায়ত্বিরত একজন পুলিশ বলেন, সে ঘুমিয়ে গেছে। আর যে পুলিশ রায়হানকে ধরে নিয়ে এসেছেন তিনিও চলে গেছেন। এসময় হাবিবুল্লাহকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফাঁড়িতে আসার কথা বলেন ওই পুলিশ সদস্য।
পুলিশের কথামতো হাববিুল্লাহ আবারও সকাল পৌনে ১০ টার দিকে ফাঁড়িতে গেলে দায়িত্বরত পুলিশ জানান, রায়হান অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সঙ্গে সঙ্গে রায়হানের চাচা ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে জরুরি বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, রায়হানকে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে তিনি মারা যান। এসময় হাবিবুল্লাহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনকে খবর দিলে তারা গিয়ে ওসমানীর মর্গে রায়হানের ক্ষত-বিক্ষত লাশ দেখতে পান।

১২ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে পুলিশ রায়হানের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। পরে বাদ এশা আখালিয়া জামে মসজিদের পার্শ্ববর্তী কবরস্থানে রায়হানের লাশ দাফন করা হয়।

এদিকে, ১২ অক্টোবর সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মো. আজবাহার আলী শেখের তত্ত্বাবধানে মহানগর পুলিশের তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে ফাঁড়িতে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়। ওই দিনই ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ১৩ অক্টোবর থেকে প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর পলাতক ছিলেন। তার পালানোতে সহায়তা ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ২১ অক্টোবর ফাঁড়ির আরেক এসআই হাসানকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

১৪ অক্টোবর মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। এর আগে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য রায়হানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আবেদন করেন মামলার (সাবেক) তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই আবদুল বাতেন। পরে ১৫ অক্টোবর পিবিআই সিলেটের আখালিয়া নবাবি মসজিদ কবরস্থান থেকে রায়হানের মরদেহ উত্তোলন কাজ শেষ করে। ময়না তদন্তের রিপোর্টে জানা যায় ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতেই রায়হানের মৃত্যু হয়।

তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইর টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরের কাস্টঘর, নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। সর্বোপরি মরদেহ কবর থেকে তোলার পর পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়।

নিহত রায়হানের মরদেহে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে। এসব আঘাতের ৯৭টি ফোলা আঘাত ও ১৪টি ছিল গুরুতর জখমের চিহ্ন। এসব আঘাত লাঠি দ্বারাই করা হয়েছে। অসংখ্য আঘাতের কারণে হাইপোভলিউমিক শক ও নিউরোজেনিক শকে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কর্মক্ষমতা হারানোর কারণে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে।

২০ অক্টোবর দুপুরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় ওই ফাঁড়ির কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে ও ২৩ অক্টোবর কনস্টেবল হারুনুর রশিদকে গ্রেফতারের পর পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। রোববার (২৫ অক্টোবর) কনস্টেবল টিটুকে ফের তিনদিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই।

পিবিআই এ ঘটনায় আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও হারুন উর রশিদকে দুই দফায় আটদিন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহীকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তবে তারা কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হননি।

এদিকে, ঘটনার ২৮ দিন পর সোমবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ ইউনিয়নের ডোনা সীমান্ত এলাকা থেকে এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেফতারের কথা জানায় পুলিশ। বিকেল ৫টা ৫৩ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তায় তাকে কানাইঘাট থেকে সিলেট পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। পরে সন্ধ্যায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। রাত পৌনে ৮টার দিকে তাকে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরদিন আকবর হোসেন ভূঁইয়ার সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. আবুল কাশেম এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বড়লেখায় সজারু হত্যার অপরাধে ৯ শিকারিকে জেল-জরিমানা।

মোঃইবাদুর রহমান জাকির

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিলুপ্তপ্রায় সজারু হত্যার অপরাধে ৯ শিকারিকে জেল-জরিমানা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (১৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাধবকুণ্ড ইকোপার্কের বাজারিছড়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম আল ইমরান এই আদালত পরিচালনা করেন।

আদালতের অভিযানে সহায়তা করেন বনবিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস ও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হযরত আলী প্রমুখ।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক এলাকায় সজারু শিকারের অপরাধে ৯ জনকে আটক করে বনবিভাগ। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম আল ইমরান ঘটনাস্থলে যান। সেখানে আটককৃতরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে অপরাধ স্বীকার করে। এরপর আদালত সজারু হত্যায় সরাসরি জড়িত থাকায় বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন ২০১২ অনুসারে বিওসি কেছরিগুল এলাকার সুবল ভূমিজ (২৫) ও জগ রবিচন্দ্রকে (২৫) এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। রাতেই তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

এছাড়া হত্যায় সহায়তা করার অপরাধে উকিল সাঁওতাল (৩৫), বুধু সাঁওতাল (২৬), ওমেশ সাঁওতাল (৩০), রমেশ সাঁওতাল (৩২), কার্তিক সাঁওতাল (৩৫), রাম সাঁওতাল (৩০) ও কৃষ্ণ সাঁওতালকে (৩৫) ১০ হাজার টাকা করে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত।

এদিকে দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের বিওসি কেছরিগুল এলাকায় টিলা কাটার অপরাধে ফখরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালককে নির্দেশ প্রদান করেন আদালাত।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম আল ইমরান জেল, জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘টিলা ও বন্য প্রাণী আমাদের প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এগুলো রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

বিয়ানী বাজারে চোলাইমদসহ গ্রেফতার১

মোঃইবাদুর রহমান জাকির

সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের অভিযানে ৫ লিটার দেশীয় চোলাইমদসহ একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামী বিয়ানীবাজার উপজেলার মাটিকাটা গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল গনি (৪৫)। বুধবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫ লিটার দেশীয় তেরী চোলাইমদসহ তাকে আটক করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৮ অক্টোবর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিয়ানীবাজার থানার এসআই নূর মিয়া ও এসআই শাহ আলম এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে বিয়ানীবাজার পৌরশহরে দক্ষিণবাজারে সালমা বোডিং এর পিছনে আব্দুল গণিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ৫ লিটার দেশীয় তৈরী চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিল্লোল রায় আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সিলেটের মাননীয় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় বিয়ানীবাজার মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা মদসহ একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত আসামীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করে জেল হাজতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। বিয়ানীবাজার যেকোন অপরাধ মুক্ত করতে থানা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

সাইফুর হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার শ্বাসরোধে নয় যাহা পরিকল্পিত হত্যা।

মোঃইবাদুর রহমান জাকিরঃ

মৌলভী বাজারের বড়লেখায় গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে গিয়ে সিলেট পলিটেকনিক কলেজের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার সাইফুর রহমানের (২৭) মৃত্যুর রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। শ্বাসরোধে হত্যার ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই সোমবার বিকেলে পুলিশ পরিকল্পিত হত্যায় জড়িত ৩ আসামীকে গ্রেফতার করেছে। এরা হচ্ছে উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের আহমদপুর গ্রামের আনসার আলীর ছেলে কামাল আহমেদ সাজু (২২), জবলু হোসেন (২৫) ও বাবুল হোসেন (২৭)। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ আসামীদের আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছে। আদালত আসামীদের কারাগারে পাঠিয়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলার আহমদপুর গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল আহাদ ছেলেসহ সিলেটে বসবাস করেন। সাইফুর রহমান (২৭) সিলেট পলিটেকনিক কলেজের মেধাবী ছাত্র ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে গত ৩০ জুলাই একাই তিনি বাড়িতে যান। রাতে শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সন্ধ্যায় পুলিশের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙ্গে ঘরের মেঝ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় সাইফুর রহমানের চাচা বলাই মিয়াসহ এলাকার অনেকে জোর দিয়ে বলেন তাকে বিষাক্ত সাপ কামড় দিয়েছে। তার পায়ের উরুতে সাপের কামড়ের মতো কিছু চিহ্নও পাওয়া যায়। তারা তাকে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপরও তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকও তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর নিহত সাইফুর রহমানের লাশের ময়না তদন্ত শেষে স্বজনদের নিকট লাশ হস্তান্তর করা হয়।

নিহত সাইফুর রহমানের ছোটভাই এমদাদুর রহমান জানান, ‘আমরা প্রথম থেকেই বলেছিলাম সাপের ছোবলে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়নি। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর সাপের কামড়ে মৃত্যুর নাটক সাজানো হয়। তখন অজ্ঞাত আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দিতে গেলে পুলিশ বলেছিল ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে পুলিশ মামলা নিবে। শ্বাসরোধে হত্যার রিপোর্ট আসার পরই পুলিশ ডেকে নিয়ে মামলা নিয়েছে। হত্যায় জড়িত ৩ আসামীকে তাৎক্ষণিক পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অন্যান্য আসামীদের দ্রæত গ্রেফতার ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাচ্ছি।’

থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার জানান, নিহতের চাচা ও পাশের ঘরের বাসিন্দারা তখন বিষধর সাপের কামড়ে সাইফুর রহমানের মৃত্যু হয় বলে দাবী করেন। ময়না তদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় ছিলেন। সোমবার ময়না তদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসে। এতে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই এমদাদুর রহমান থানায় হত্যা মামলা করেছেন। বিকেলেই অভিযান চালিয়ে ৩ আসামীকে গ্রেফতার করেন। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছেন। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ছেলে হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে আমরন অনশনে রায়হানের মা।


মোঃইবাদুর রহমান জাকির

ছেলে হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে আমরন অনশনে নেমেছেন সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদের মা সালমা বেগম। রবিবার সকাল ১১ টা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি বন্দরবাজার ফাঁড়ির সামনে অনশনে বসেন। অনশনস্থলে তারা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন ধরনের ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। অনশনরত রায়হানের পরিবারের সদস্যদের মাথায় এসময় কাফনের কাপড় (সাদা কাপড়) বাঁধা রয়েছে।

প্রসঙ্গত গত ১১ অক্টোবর সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে নগরীর নেহারিপাড়া মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান আহমদকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমানী মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহী। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান রায়হান। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর বন্দর বাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিন জনকে প্রত্যাহার করা হয়।

মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাশ ও হারুনুর রশিদকে গ্রেফতার করে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়াতে মা কে পুড়িয়ে হত্যা।

নিউজ ডেস্কঃ গত রোববার রাতে মায়ের কাছে মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার বায়না ধরে ছেলে আবু হানিফ। কিন্তু মা তাতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুব্ধ হয় সে। রাতে ঘুমন্ত মায়ের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় আবু হানিফ। গতকাল শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হনুফা বেগম। এ ঘটনায় হনুফা বেগমের ভাই দুলাল মিয়া বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

এ ব্যাপারে শেরপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, হনুফা বেগমের তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে আবু হানিফ বড়। সে কিছুদিন ধরে মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার কথা বলছিল মা হনুফা বেগমকে। তিনি রাজি না হওয়ায় গতকাল শুক্রবার রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় আবু হানিফ। দগ্ধ হনুফা বেগমকে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল এবং পরে ময়মনসিংসহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার হনুফা মারা যান।

বকেয়া বেতন ফিঃ জন্য চাপ,জলঢুপ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ।

মোঃইবাদুর রহমান জাকির বিশেষ প্রতিনিধিঃ

সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার জলঢুপ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বকেয়া বেতন, মূল্যায়ন পরীক্ষার ফি আদায় করতে শিক্ষার্থীদের চাপ ও ফি না দিলে পরীক্ষা খাতা জমা না রাখার হুমকী প্রদানের অভিযোগ উঠেছে।
(১৫অক্টোবর)স্পতিবার সকালে শিক্ষার্থীরা বেতন আদায় করলেও পরীক্ষা ফি মওকুফের জন্য প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের কাছে অনুরোধ জানান। জবাবে তিনি পরীক্ষা ফি না দিলে মূল্যায়ন পরীক্ষার উত্তরপত্র জমা নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এসময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ও পরে বিদ্যালয়ের সামনে বিয়ানীবাজার-বারইগ্রাম সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় সড়ক অবরোধ হয়ে পড়ে। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের দাবী মানার আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কয়েকদিন থেকে মূল্যায়ন পরীক্ষার উত্তরপত্র জমা নেওয়ার জন্য নিয়মিত আমাদের বিদ্যালয়ে আনা হচ্ছে। ওয়াসআপে শিক্ষকদের পাঠানো প্রশ্নপত্রের উত্তর আমাদের নিজস্ব কাগজে লিখে এনে জামা দিচ্ছি। তারপরও স্যাররা আমাদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে অতিরিক্ত পরীক্ষা ফি নিচ্ছেন। কেউ দিতে অপারগতা পূষণ করলেও খাতা জমা রাখা হচ্ছে না। আমরা এই বিষয়ের একটি সুষ্ঠু সমাধান চাই।

জহির আহমদ নামে এক অভিভাবক জানান, আমি একটা দোকানে চাকুরী করি। একমাত্র আমার উপার্জনে সংসার ও ছোট এক ভাইয়ের পড়া লেখার খরচ চলে। বর্তমান অবস্থায় খেয়ে পড়ে যেখানে বাঁচা দায় এমতাবস্থায় প্রায় ২ হাজার টাকা বেতন ও ফি বাবতে জমা দিতে হচ্ছে। ভাই জানিয়েছে ফি না দিলে নাকি পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে না তাই বাধ্য হয়ে দেনা করে ফি পরিশোধ করেছি।

জলঢুপ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিন জানান, মূল্যায়ন পরীক্ষার জন্য ফি নিচ্ছি। যারা পারবে তারা দেবে না পারলে নিচ্ছি না। তবে সড়ক অবরোধের বিষয়ে কিছু জানি না।প্রধান শিক্ষক অবরোধের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক অস্বীকার করলেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত লাউতা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সামছুল হক বলেন, ছাত্রদের হট্টগোলের খবর শুনে এসেছি। আসার পর শুনলাম চাপ দিয়ে বেতন ও পরীক্ষা ফি আদায়ের প্রতিবাদে ছাত্ররা আন্দোলন করছে। তবে শিক্ষকরা তাদের দাবী মানার আশ্বাসে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মৌলুদুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত বেতন নেওয়া বা মওকুপের বিষয়ে আমাদের কোন নির্দেশনা দেওয়া হয় নি। তবে বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে বেতন আদায়ের খবর পাচ্ছি। তবে বাধ্য করে কারো কাছ থেকে বেতন আদায় করা যাবে না বলে জানান তিনি। এখনও পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়ে কোন সিন্ধান্ত না হওয়ায় পরীক্ষা ফি আদায়ের কোন প্রশ্নেই আসে না।

রায়হান হত্যাঃ বিক্ষুব্ধ জনতা উত্তাল সিলেট প্রতিমধ্যে পুলিশি বাধা।


মোঃইবাদুর রহমান জাকিরঃ

পুলিশি নির্যাতনে’ যুবক আখলিয়ার রায়হান মৃত্যুর ৫ দিনেও উত্তাল ছিল সিলেট। একই দিন রাস্তা থেকে সাধারণ জনতাকে সরিয়ে দিতে গেলে উল্টো পুলিশকে ধাওয়া করে বিক্ষুব্ধ জনতা।

(১৫অক্টোবর) বৃহস্পতিবার বিকালে রায়হানের বাসার কাছে নেহারীপাড়ায় সিলেটে-সুনামগঞ্জ সড়কে জনতা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে।

একই সময়ে সুবিদবাজারে ও দুপুরে আম্বরখানা পয়েন্টে ও শহীদ মিনারে, সন্ধ্যায় কোর্ট পয়েন্টে পৃথক প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তরা অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেফতার ও ফাঁসি দাবি করে বলেন, পুলিশ হেফাজতে কারো মৃত্যু কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

এর আগে দুপুরে নিহত রায়হানের মা সালমা বেগমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট লোকজন রেজিস্ট্রি মাঠ থেকে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক এম, কাজী এমদাদুল ইসলামের নিকট রায়হান হত্যাকারীদের বিচার ও দোষীদের গ্রেফতার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

এদিকে বিকালে পাঠানটুলায় রাস্থা অবরোধ করলে পুলিশ তাদেরকে সরিয়ে দিতে গেলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পুলিশকে ধাওয়া করে।

অভিযোগ উঠেছে সিলেটে বন্দর বাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে মারা যান রায়হান।

নিহতের চাচা মো. হাবিবুল্লাহ জানান, ভোর রাত চারটার দিকে রায়হান একজন পুলিশ সদস্যের ফোন দিয়ে তার মায়ের মোবাইলে কল করে বলে, ‘আমারে বাঁচাও, ১০ হাজার টাকা লইয়া তাড়াতাড়ি ফাঁড়িতে আসেন। ’ এরপর পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন রায়হানকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে আটকে রাখা হয়েছে।

মো. হাবিবুল্লাহর দাবি, কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে পাশের ফাঁড়িতে রায়হানের সন্ধানে গেলে ডিউটিরত কনস্টেবল তাকে জানান- ‘সবাই ঘুমে। সকালে আসেন। এ সময় ১০ হাজার টাকা নিয়ে তাকে ফাঁড়িতে যেতে বলা হয়।

নিহতের চাচা বলেন, পরে ৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে ফাঁড়িতে গেলে পুলিশ বলে রায়হান অসুস্থ। ওসমানী মেডিকেলে যান। এরপর মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে এসে দেখেন রায়হানের লাশ। এই ঘটনায় নগরীতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

হাবিবুল্লাহ বলেন, রায়হানের পায়ের তলা ও হাঁটুর নিচসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার হাতের নখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। ফাঁড়ির ভেতর ‘পুলিশ নির্যাতন’ করে তাকে হত্যা করেছে বলেও অভিযোগ তার।

এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে রায়হানের শরীরে অতিরিক্ত আঘাতের কারণেই মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম। দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

ডা. শামসুল বলেন, রায়হানের শরীরে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। এসব কারণেই তার মৃত্যু হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা যাবে।

বড়লেখায় টিলা কাটার দায়ে এক লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় ও দুইজন আটক।

মোঃইবাদুর রহমান জাকির বিশেষ প্রতিনিধি:মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অবৈধভাবে টিলা কেটে মাটি পরিবহনের দায়ে দুইজন ট্রাক ও ট্রাক্টর চালককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। (১৫অক্টোবর)বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ৪নং উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের করমপুর গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত লায়লা নীরা।তারা হলেন ট্রাক চালক আব্দুল মুমিন ও ট্রাক্টর চালক তোফায়েল আহমদ। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের করমপুর গ্রামে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে প্রাকৃতিক টিলা কেটে মাটি বিক্রি করছিল। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত লায়লা নীরা পুলিশ নিয়ে সেখানে অভিযান চালান। এসময় টিলা কেটে মাটি পরিবহনের দায়ে ট্রাক চালক আব্দুল মুমিন ও ট্রাক্টর চালক তোফায়েল আহমদকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে শাহবাজপুর তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রতন কুমার হালদার প্রমুখ সহায়তা করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত লায়লা নীরা অবৈধভাবে টিলা কাটার অপরাধে দুইজন পরিবহণ চালককে জরিমানা আদায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিবেশ রক্ষার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শাহবাজপুর বেরেঙ্গাপুঞ্জিতে অভিযান চালিয়ে দুই মাদকসেবীকে আটক।


মোঃইবাদুর রহমান জাকির বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ৪নং উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ২ মাদকসেবীকে আটক করেছে শাহবাজপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। মঙ্গলবার ( ১৩ অক্টোবর) রাত পৌনে নয়টার দিকর ৪নং উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের বেরেঙ্গা পানপুঞ্জি এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের উভয়কে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছে, সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার পৌর শ্রীধরা গ্রামের মৃত মকবুল আলীর ছেলে রুহুল আমিন জিবুল(৩১) ও একই উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়িয়াবহর গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে মাসুম আহমদ(৩৪)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে , গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে শাহবাজপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের বেরেঙ্গা পানপুঞ্জি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন । অভিযানকালে মাদক সেবনরত অবস্থায় ২ জনকে আটক করে। এ সময় তাদের কাঁছ থেকে ৪’শ গ্রাম দেশীয় চোলাই মদ ও পাঁচ পুরিয়া গাঁজাসহ মাদকসেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের প্রত্যেককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম আল ইমরান।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম আল ইমরান বিষয়টি মঙ্গলবার রাতে ৯টায় নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃত ২ মাদক সেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং জব্দকৃত মাদক ধ্বংস করা হয়েছে।

” রক্ষকরা আজ বক্ষকের ভুমিকায় অবতীর্ণ “-এম. এম আতিকুর রহমান।।

জাতি হিসেবে আমরা লজ্জিত! সরকার কি তাদের বেতন দেয়না, তাহলে কেন এতো টাকার প্রয়োজন??

মাত্র ১০ হাজার টাকা ঘুষ না পেয়ে সিলেট পুলিশ ফাঁড়িতে রাতভর নির্যাতন করে রায়হান নামের যুবকটিকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ মৃতের পরিবারের। ভাবতেই চোখে জল আসে যে নিহত রায়হানের মাত্র ২ মাসের একটা শিশু সন্তান রয়েছে !
সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে চলছে আমজনতার বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ।

পবিত্র কুরআনের ফরমান ” তোমাদের কি হয়েছে? কেন তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ/ সংগ্রাম করছো না ! অথচ নির্যাতন পুরুষ নারী শিশু আবাল বৃদ্ধ বনিতা আর্তনাদ করে ফরিয়াদ করছে -হে আমাদের রব, জালিমদের অধ্যুষিত এ জনপদ থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করো এবং আমাদের জন্য অলী/পৃষ্ঠপোষক ও সাহায্যকারী পাঠাও “।
সহি হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাঃ এরশাদ ফরমান – “তোমরা মজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকো, কেননা মজলুম ব্যক্তি ও আল্লাহর মধ্যে পর্দা থাকে না”।
আমরা সত্য-সুন্দর ও মজলুমের পক্ষে। আল্লাহ তায়ালা জালিমের উপর মজলুমের বিজয় দান করুন।

লেখক ; এম. এম আতিকুর রহমান
সদস্য সচিব
বড়লেখা উপজেলা প্রেসক্লাব
মৌলভীবাজার।

বড়লেখার কালিকাবাড়ী চা বাগান থেকে ১৪ লিটার চোলাই মদসহ আটক২

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ১৪ লিটার চোলাই মদ ও মদ তৈরির বিভিন্ন উপকরণসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে শাহবাজপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। ২৯ সেপ্টম্বর মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি চা বাগান থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকৃতরা হলেন- উপজেলার ৪নংউত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি চা বাগানের বজ্রনাথ রবি দাসের পুত্র সন্তোস রবি দাস (৩৪) ও সায়পুর গ্রামের মনু মিয়ার পুত্র কাজল মিয়া (৫৫)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে উপ-পরিদর্শক (এসআই) রতন কুমার হাওলাদার ও সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) তাজুল ইসলামসহ একদল পুলিশ উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি চা বাগানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেন। এ সময় সন্তোস রবি দাসের বসত ঘর থেকে ১৪ লিটার চোলাই মদ এবং মদ তৈরির বিভিন্ন উপকরণ ও কাঁচামাল জব্দ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাজপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে ১৪ লিটার চোলাই মদ ও মদ তৈরির বিভিন্ন উপকরণসহ দু’জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত সন্তোস রবি দাস দীর্ঘদিন থেকে তাঁর বসত ঘরে মদ তৈরি করে আসছিলেন। সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবীরা মাদক সেবন করতে আসতেন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আটককৃতদের বুধবার আদালতে প্রেরণ করা হবে।

এমসি কলেজে তরুনী ধর্ষন মালার প্রধান আসামী সাইফুর ছাতকে গ্রেফতার

মোঃইবাদুর রহমান জাকির বিশেষ প্রতিনিধি:: সিলেট এমসি কলেজে স্বামীকে মারধর করে আটকে রেখে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে ছাতক থানা পুলিশ। আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ছাতক খেয়াঘাটসংলগ্ন এলাকা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ছাতক থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই হাবিবুর রহমান পিপিএম-এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো তিনজনকে আসামি করে গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর শাহপরান থানায় মামলা করেছিলেন ভুক্তভোগী তরুণীর স্বামী।
মামলার আসামিরা হলেন এম সাইফুর রহমান, মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক, অর্জুন লঙ্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান। এদের মধ্যে চারজন ওই কলেজের শিক্ষার্থী। আসামিরা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরই অভিযুক্তদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযানে নামে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে পুলিশ অভিযুক্ত সাইফুরের কক্ষ থেকে একটি পাইপগান, চারটি রামদা, একটি ছুরি ও দুটি লোহার পাইপও উদ্ধার করে।
জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বামী-স্ত্রী এমসি কলেজে বেড়াতে যান। এ সময় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ৫-৬ জন ছেলে জোরপূর্বক কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যায় দম্পতিকে। সেখানে একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে তাঁর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে তারা। খবর পেয়ে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করে শাহপরাণ থানা পুলিশ।

ন্যাক্কারজনক পাশবিক এই ঘটনায় আমি ক্ষুব্ধ ও ব্যাথিত-নাদেল।

সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে শুক্রবার রাতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক তরুণী। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের ৬ নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ছাত্রাবাসে ধর্ষণকান্ডে ক্ষোভে উত্তাল সিলেট। বিভিন্ন মহল থেকে ধর্ষকদের শাস্তির দাবি ওঠেছে।

ধর্ষণের সাথে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের শাস্তি দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। একইসঙ্গে এসব ছাত্রলীগ নেতাদের প্রশ্রয়দাতাদের চিহ্নিতেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার এ বিষয়ে নিজের ফেসবুক একাউন্ট থেকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে শফিউল আলম নাদেল লেখেন-

শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রবাসে লোমহর্ষক ধর্ষণের ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। ন্যাক্কারজনক পাশবিক এই ঘটনায় আমি ক্ষুব্ধ ও ব্যাথিত। খুব কষ্ট লাগছে যে, এম সি কলেজের পবিত্র ক্যাম্পাসে আমরা শিক্ষার্থী ছিলাম, সেই কলেজে এমন নির্মম জঘন্যতম অপরাধ সংগঠিত হলো।

যে ছাত্রলীগের মাধ্যমে আমরা সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখতাম সেই ছাত্রলীগের নাম এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছে। এমন নিষ্ঠুর, নৃশংসতা কোনো শুভবোধসম্পন্ন মানুষ মেনে নিতে পারে না। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। এমসি কলেজ বারবার কেনো অপরাধের জন্য শিরোনাম হচ্ছে। কারা এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাঙ্গনের আলোকিত ধারাকে কালিমা লেপন করছে তাও খোঁজা জরুরি। এমসি কলেজের ছাত্রাবাস পুড়িয়ে যারা উৎসব করেছিল তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে একই ছাত্রাবাসে এমন অপরাধ করার সাহস পেতো না এই দুর্বৃত্তরা। অভ্যন্তরিণ কোন্দলে যারা নিজের সহকর্মীদের যারা বিভিন্ন সময় খুন করেছে। তাদের শাস্তি হলে এই অপরাধীরা এমন বিকৃত চিন্তাও করতে পারতো না। কলংকজনক এ ঘটনায় আমি লজ্জিত, মর্মাহত। অপরাধীদের রাজনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে দেখার কোনো সুযোগ নেই। একটি বিষয় বোধগম্য হচ্ছে না, যেখানে কলেজের শ্রেণিকার্যক্রম বন্ধ। সেখানে গুটিকয়েক জনের জন্য ছাত্রাবাস খোলা থাকে কি করে? কলেজ প্রশাসন এর দায় এড়াতে পারেন না। ছাত্রাবাসে গৃহবধূ ধর্ষণের মতো বর্বরোচিত এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এসব নিকৃষ্ঠ অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষক ও প্রশ্রয়দানকারীদেরও খুঁজে বের করতে হবে। পূণ্যভূমি সিলেটের ললাটে এমন ঘৃণ্য কালিমা যারা লেপন করেছে তাদের প্রতি তীব্র ঘৃণা। এই পৈশাচিক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও দ্রুত শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি। জয় হোক সুন্দরের। জয় হোক মানবতার।

এমসি কলেজের সাবেক তিন ছাত্র সংসদের দায়িত্বশীলের বিবৃতি।

আমরা ধর্ষকদের কলেজ থেকে স্হায়ী বহিষ্কার ও দৃষ্টান্ত স্হাপনে ট্রাইবুন্যালের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিতের দাবী করছি ;-
সিলেট এমসি কলেজ ছাত্র সংসদের সর্বশেষ নির্বাচিত ভিপি আসাদুজ্জামান চৌধুরী পাপ্পু, জিএস ওমর মোহাম্মদ আশরাফ ইমন ও এজিএস মো. আব্দুস সহিদ খান ছাত্র সংসদের পক্ষে এক বিবৃতিতে কলেজ হুস্টেলে স্বামীকে নিয়ে বেড়াতে গিয়ে গনধর্ষনের স্বীকার হওয়ার ঘটনাকে শতবর্ষী এ কলেজের অর্জনের ইতিহাসের বিপরীতে সবচেয়ে কলঙ্কময় ঘটনা হিসাবে উল্লেখ করেছেন।বিবৃতিতে ছাত্র সংসদ কালবিলম্ব না করে কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়া স্টাপ কাউন্সিলের সভা করে কিংবা অধ্যক্ষ তাঁর নির্বাহী ক্ষমতাবলে মিডিয়া দ্বারা চিহ্নিত ধর্ষকদের কলেজ থেকে স্হায়ীভাবে বহিষ্কার করার দাবী জানাচ্ছে। ছাত্র সংসদ চিহ্নিত ধর্ষকদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী মহলের প্রতিও জোর দাবী জানাচ্ছে।ছাত্র সংসদ মনে করে ঐতিহ্যবাহী এ হুস্টেলে হঠাৎ করে এ ধরনের ঘঠনা ঘটতে পারে না, নিশ্চয় সংশ্লিষ্ট ব্লকের সুপার এবং হুস্টেলের ব্লকগুলোর সুপারদের নৈতিক ও শৃঙ্খলা রক্ষাজনিত ত্রুটি এর জন্য দায়ী, তাই তদন্তপূর্বক এই রহস্যও উদঘাঠন করা প্রয়োজন এবং তদন্তের স্বার্থে এবং নৈতিক প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট হুস্টেল সুপারের পদত্যাগ এবং ঘটনার ব্যাখা প্রদান প্রয়োজন। ছাত্র সংসদ আরো মনে করে এই বিশাল কলেজের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান এবং সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি মনিটরিং করা মাননীয় অধ্যক্ষের অন্যতম দায়িত্ব ;তাই সিলেটবাসী ও কলেজের সাবেক ও বর্তমান ছাত্র- ছাত্রী সৃষ্ট ঘটনায় স্যারের গৃহীত পদক্ষেপ সহ ব্যাখ্যা দাবী করছে।

বিজ্ঞপ্তি

গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবিতে এমসি কলেজ ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে জিম্মি করে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এমসি কলেজ ছাত্রশিবির।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সাড়ে ৫ টার দিকে নগরীর শিবগঞ্জ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এমসি কলেজ ছাত্রশিবির সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পূণ্যভূমি সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে জিম্মি করে স্ত্রীকে গণধর্ষণের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। এধরণের নৃশংস ও লোমহর্ষক ঘটনায় দেশবাসী আতঙ্কিত।

সমাবেশে তিনি বলেন, সরকারের প্রশ্রয়ে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা ধর্ষণের মত ঘৃণ্য কাজ নির্বিঘ্নে করে যাচ্ছে। দেশের স্কুল, কলেজও আজ ছাত্রলীগের হাতে নিরাপদ নয়। এসময় তিনি গৃহবধু গণধর্ষণে জড়িতদের অবিলম্বের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।

বিক্ষোভ মিছিলে এমসি কলেজ ছাত্রশিবির সেক্রেটারি শাহিন আহমদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিজ্ঞপ্তি

সিলেটের এমসি কলেজের হোস্টেল থেকে অস্ত্র উদ্ধার।


বিশেষ প্রতিনিধিঃ

সিলেট এমসি কলেজের হোস্টেলে এক তরুণীকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুরের রুম থেকে দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ বাদী হয়ে সাইফুরকে আসামি করে অস্ত্র আইনে এ মামলা দায়ের করে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহ পরাণ (রহ.) থানার ওসি শাহপরান আব্দুল কাইয়ুম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত ২ টার দিকে হোস্টেলে অভিযান চালিয়ে দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করে। অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি রামদা, দুটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে সিলেট এমসি কলেজের হোস্টেলে এক তরুণীকে গণধর্ষণ করেছে মহানগর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। অভিযুক্ত এসব কর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।

এদিকে তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ৬ জনকে আসামি করে এসএমপির শাহপরাণ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নির্যাতিত ওই তরুণীর স্বামী মাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামীরা হলো- এমসি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর, শাহ রনি, অর্জুন, মাহফুজ, রবিউল ও তারেক।

সিলেটে স্বামীকে বেধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ ও নির্যাতন করলো ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।


বিশেষ প্রতিনিধিঃ

সিলেট এমসি কলেজের হোস্টেলে এক তরুণীকে গণধর্ষণ করেছে মহানগর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে নগরীর টিলাগড়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত এসব কর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ধর্ষিত তরুণী তার স্বামীকে নিয়ে সিলেটের এমসি কলেজের ঘুরতে আসেন। ঘুরার এক পর্যায়ে রাত ৮ টার দিকে তরুণীর স্বামী সিগারেট খাওয়ার জন্য এমসি কলেজের গেইটের বাইরে বের হন। এসময় কয়েকজন যুবক তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যেতে চান। এতে তরুণীর স্বামী প্রতিবাদ করলে তাকে মারধোর শুরু করেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এক পর্যায়ে তরুণী ও তার স্বামীকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এমসি কলেজের হোস্টেলে নিয়ে যান। সেখানে স্বামীকে বেঁধে ছাত্রলীগের তিন-চারজন নেতাকর্মী তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

এসময় তাদের সাথে থাকা ৯০ টি মডেলের একটি কারও ছিনিয়ে নিয়ে যান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে কারটি তাদের জিম্মায় নেয়। এবং তরুণীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে প্রেরণ করে।

ঘটনার ব্যাপারে শ্রীকান্ত ছাত্রাবাসের হোস্টেল সুপার ও পলিটিক্যাল সায়েন্সের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর জীবন কৃষ্ণ আচার্য্য বলেন, ঘট৫না শোনার পরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ-র‌্যাব-৯ এর সদস্যরা উপস্থিত হয়েছিলেন। এরপর পুলিশ ধর্ষিত তরুণীর বক্তব্যে রেকর্ড করে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে প্রেরণ করে।

হোস্টেল বন্ধ হল অবস্থায় অভিযুক্তরা কিভাবে হোস্টেলে প্রবেশ করলো; এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে হোস্টেল বন্ধ থাকলে আনঅফিসিয়ালি কিছু ছাত্র হোস্টেলে রয়ে গেছে। যারা টিউশনি করে এমন ছাত্ররা থাকে। তবে অভিযুক্তরা আমাদের কলেজের ছাত্ররা কি-না সেটা কালকে যাচাই-বাছাই করে জানাতে পারবো। আর আমাদের পক্ষ থেকে কি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে এটিও শনিবার বলতে পারবো।’

এদিকে ঘটনার পরপর র‌্যাব-৯ সিলেটের এএসপি সামিউল আলম, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহা. সোহেল রেজা পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহা. সোহেল রেজা পিপিএম জানান- রাত ৯টার দিকে তিন-চারজন মিলে এমসি কলেজ গেট থেকে ওই তরুণীকে ধরে নিয়ে যায়। এসময় তার স্বামী বাঁধা দিলে তাকেও মারধর করে তারা। পরে তাকে বালুচরস্থ কলেজ হোস্টেলে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।

বড়লেখায় চোরাইকৃত কম্পিউটার- মুঠোফোনসহ ৫ চোর আটক।


বিশেষ প্রতিনিধিঃ

বড়লেখায় চোরাই কম্পিউটার- মুঠোফোনসহ ৫ চোর আটক করে পুলিশ।
রাতের আঁধারে একটি দোকানের তালা ভেঙে একটি কম্পিউটার, পাঁচটি মুঠোফোন ও নগদ কিছু টাকা নিয়ে গিয়েছিল চোরেরা। দোকান চুরির ঘটনায় দোকান মালিক দারস্থ হন পুলিশের। দোকান মালিকের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েই চোরদের গ্রেফতারে নামে পুলিশ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে এক চোরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর একে একে আরও চার চোর ধরা পড়ে পুলিশের জালে। তাদের দেওয়া তথ্যে উদ্ধার করা হয়েছে কম্পিউটার ও পাঁচটি মুঠোফোন।

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দোকানের তালা ভেঙে চুরি করে নিয়ে যাওয়া কম্পিউটার ও মুঠোফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত পাঁচ চোরকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে তাদের উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন-উপজেলার ৭নং তালিমপুর ইউনিয়নের তালিমপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে হালিমুর রশীদ হালিম (২০),৬নং বড়লেখা সদর ইউনিয়নের গঙ্গারজল গ্রামের শফিক উদ্দিনের ছেলে জহির আহমদ (২১), একই এলাকার আব্দুল খালিকের ছেলে সুজন আহমদ (২২), জফরপুর গ্রামের মৃত মনির আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪০) ও ৩নং নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের চান্দগ্রামের মৃত মখদ্দছ আলীর ছেলে সাইদুল ইসলাম (২২)।

পুলিশ ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার দিবাগত রাতে বড়লেখা ডিগ্রি কলেজ এলাকার উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদের মার্কেটের ব্যবসায়ী আশীষ চন্দ্র নাথের অন্নপূর্ণা এন্ড আঁখি ফটোস্ট্যাট ও কম্পিউটারের দোকানে চোর হানা দেয়। চোরেরা দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশে করে একটি ডেক্সটপ কম্পিউটার, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাঁচটি মুঠোফোন ও ক্যাশবক্স ভেঙে নগদ ৪ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে যায়। পরদিন ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ভোরে স্থানীয়রা দোকান মালিক আশীষ চন্দ্র নাথকে জানান তার দোকানের শার্টার খোলা। পরে তিনি দোকানে এসে দেখেন তার দোকানের তালা ভাঙা ও শার্টার খোলা। ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন দোকানের একটি ডেক্সটপ কম্পিউটার, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাঁচটি মুঠোফোন ও ক্যাশবক্স থাকা নগদ টাকা ৪ হাজার ৮০০ টাকা নেই। এই ঘটনায় তিনি ওইদিনই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি তদন্তে নামে পুলিশ। এরপরই গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বড়লেখা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার দাস ও সহকারি পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) কামাল হোসেন গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চুরির সঙ্গে জড়িত হালিমুর রশীদ হালিমকে গ্রেফতার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একে একে জহির আহমদ, সুজন আহমদ ও শফিকুল ইসলাম গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যমতে চুরি হওয়া কম্পিউটার ও মুঠোফোন চান্দগ্রাম বাজারের আরিয়ান টেলিকম থেকে উদ্ধার এবং দোকান মালিক সাইদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

বড়লেখা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার দাস শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দোকান মালিকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি তদন্তে নেমে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হালিমকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একে একে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার চুরির কথা স্বীকার করে হালিমুর রশীদ হালিম ও জহির আহমদ আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বড়লেখায় মোবাইল কোর্টে ৮টি দোকানে ২৩,০০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায়র


মোঃইবাদুর রহমান জাকির বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার,বড়লেখা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শামীম আল ইমরান ১৭সেপ্টেম্ভর বিকালে বড়লেখা পৌরসভার হাজীগঞ্জ বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বাজার মনিটরিং করেন। এসময় মূল্য তালিকা না টানানো, এবং টানানো মূল্য তালিকা অস্পষ্ট ও প্রকাশ্য স্থানে না রাখা, অধিক মূল্যে দ্রব্য বিক্রি করা ইত্যাদি কারণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আট টি মামলায় ২৩,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এস আই প্রভাকর রায়ের নেতৃত্বাধীন বড়লেখা থানা পুলিশ মোবাইল কোর্ট কে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করেন।

বড়লেখায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি।

এম. এম আতিকুর রহমান ঃ

মৌলভীবাজারের বড়লেখার কাঠালতলী ইউনিয়নের দক্ষিণ মুছেগুলের জুনাব আলীর বাড়িতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

আজ ৮ সেপ্টেম্বর ভোর ০৫-৩০ মিনিটের সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুরো ঘর জ্বলে ছারখার হয়ে যায়। এতে ঘরের সোফা সেট, ফ্রিজ সহ যাবতীয় মালামাল ভস্মীভূত হয়ে আনুমানিক ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক পর্যায়ে জানা গেছে। ভোরে আগুন লেগেই মুহুর্তের মধ্যে পুরো বাড়ীতে ছড়িয়ে নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যায়। খবর পেয়ে বড়লেখা ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আসার পূর্বেই সবকিছু পুড়ে যায়। মর্মান্তিক এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও বাড়ি ঘর আসবাবপত্র সব পুড়ে গিয়ে ব্যাপকভাবে ক্ষয়ক্ষতিতে বাড়ীর মালিক বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

বড়লেখায় হরিণের বিরল চামড়া উদ্ধার

এম. এম আতিকুর রহমান ঃ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, মৌলভীবাজারের কাছে গোপন সূত্রে খবর ছিল বড়লেখা পৌরসভার একটি বাড়িতে হরিণের চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বড়লেখা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শামীম আল ইমরানের নেতৃত্বে আজ ২৩ আগস্ট বিকেলে বন বিভাগ ও বড়লেখা থানা পুলিশের সহায়তায় এক অভিযান চালিয়ে দুইটি মায়া হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সুত্র জানায়, এ ব্যাপারে বন বিভাগ থেকে নিয়মিত মামলা দায়েরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

জুড়ীতে মন্দিরে চুরি পাঁচ আসামি গ্রেফতার

এম. এম আতিকুর রহমান ঃ

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কুচাই চা বাগানের শ্রী দূর্গা মন্দিরে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে জুড়ী থানা পুলিশ গ্রেফতার করে আজ ২৩শে আগষ্ট আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

জুড়ী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ শে আগষ্ট রাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দূর্গামন্দিরের তালা ভেঙে উপাসনালয়ের বেশ কিছু মালামাল চুরি হয়। ঘটনার পরদিন মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি জগজীবন নায়েক একটি অভিযোগ দায়ের করিলে গোপন সংবাদ পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে পাঁচ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃতরা হলো পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের রবাই মিয়ার পুত্র কামরুল ইসলাম (২৭) উত্তর জামকান্দি গ্রামের মৃত ইয়াছিন আলীর পুত্র শিপন আহমদ (২২) একই গ্রামের মৃত আং সাত্তারের পুত্র সোহেল মিয়া (২২) পূর্ব গোয়ালবাড়ী গ্রামের লাল মিয়ার পুত্র আং জলিল (৩০) এবং গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের রুপাছড়া গ্রামের আং হান্নানের পুত্র জসিম উদ্দিন (৩০)।
জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ সন্ঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামীদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আসামী সোহেল আহমদ এর বসতবাড়ি উত্তর জামকান্দি থেকে চোরাইকৃত কাসার কিছু মালামাল এবং তালা কাটার সাঁড়াশি জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীগণ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত মন্দিরের চুরির ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আসামীদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

জুড়ীতে সিএনজিতে ১০০ লিটার মদসহ বড়লেখার যুবক আটক

এম. এম আতিকুর রহমান ঃ

মৌলভীবাজার জুড়ীতে ১০০ লিটার চোলাই মদ ও একটি সিএনজি অটোরিকশাসহ কামরুল ইসলাম (২৬) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় উপজেলার ধামাই চা বাগানের ফাঁড়ি শিলঘাট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃত কামরুল বড়লেখা উপজেলার গঙ্গারজল গ্রামের ফারুক উদ্দিনের পুত্র।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন খবরের ভিত্তিতে জুড়ী থানার এসআই সুপ্রিয় নন্দী ও এসআই কামাল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ওই এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় তাঁরা সন্দেহবশত একটি সিএনজি অটোরিকশা আটক করেন। পরে সিএনজি অটোরিকশা তল্লাশি করে ১০০ লিটার চোলাই মদ পাওয়া যায়। পরে সিএনজি অটোরিকশাসহ কামরুলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জুড়ী থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে মাদক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে।

বড়লেখার আহবাব চৌধুরী ১০০ ইয়াবাসহ ঢাকায় আটক

এম. এম আতিকুর রহমান

মৌলভীবাজারের বড়লেখা ‌পৌর শহরের মহুবন্দ‌ গ্রামের মৃত সরোয়ারুল আলম চৌধুরীর পুত্র আহবাব চৌধুরীকে ঢাকায় ১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করেও পারেনি ভদ্র পরিবারের পরিচিত আহবাব চৌধুরী।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ ইয়াবাসহ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার মামলা নম্বর- ৯৫ তাং ২৩/০৭/২০০০। সে বড়লেখার মৃত সারোয়ার আলমের পুত্র আহারুল আলম হিসেবে তার নাম লিপিবদ্ধ করায় বলে জানা গেছে।

রবিবার যাত্রাবাড়ী থানা থেকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার আহারুল আলম ওরফে আহবাবুল আলম সম্পর্কে জানতে বড়লেখা থানায় অনুসন্ধানপত্র পাঠানো হলে মূল তথ্য বেরিয়ে আসে।

থানা পুলিশ সহ বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, অনেক দিন থেকে মাদকাসক্ত আহবাব চৌধুরী কখনো সাবেক সেনাপ্রধানের আত্মীয়, কখনো র‌্যাবের সোর্স পরিচয় দিয়ে আবার কখনো কথিত সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বড়লেখার জনপ্রতিনিধিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কিংবা নির্বাচনী প্রতিপক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ফেইসবুকে বিভিন্ন মিথ্যা লেখা প্রচার করে আসছিল। কারো কোনো অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন স্থানে লাইভ ভিডিও করে এবং ভিডিওর ভয় দেখিয়ে ট্রাক্টর চালক, অটো রিক্সা চালক এমনকি ফুটপাতে সবজি বিক্রি করতে বসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তার কাজ। প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি করা ইত্যাদি পাপাচারই তার পেশায় পরিনত হয়ে যায়। ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতেন না। সম্প্রতি বড়লেখা থানায় ঐ আহবাব চৌধুরীর বিরুদ্ধে পৌর মেয়র আবুল ইমাম মোঃ কামরান চৌধুরী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলাও দায়ের করেন।

ইয়াবাসহ যাত্রাবাড়ী থানায় আহবাব গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চত করে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক জানান, ঢাকা থেকে ২৬ জুলাই তার সম্পর্কে জানতে অনুসন্ধানপত্র এসেছে। বড়লেখায় সে আহবাব চৌধুরী নামে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা আছে। এ মামলায়ও তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে।

সচেতন মহল মনে করেন, ভালো পরিবারের কিছু ছেলেরাও ভদ্র ভেসে ইদানিং দুষ্কৃতকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছে। অভিভাবকদের কঠোর নজরদারি ও সচেতনতা বৃদ্ধিই তা প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

বড়লেখায় ৬০ পিছ ইয়াবাসহ বাবলুকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ।

এম. এম আতিকুর রহমান ;

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ৬০ পিস ইয়াবাসহ বাবলু মিয়া (৫৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ।
গতরাত ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাতকরাকান্দি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বাবলু মিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেছরিগুল গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে। 

বড়লেখা থানা পুলিশ সূত্রে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ রোববার দুপুরে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৬০ পিস ইয়াবাসহ বাবলুকে আটক করা হয়েছে। রাতেই তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। আজকেই তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইনে হাকালুকি হাওরে মোবাইল কোর্ট ৫জনকে অর্থদণ্ড।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শামীম আল ইমরানের নেতৃত্বে উপজেলা মৎস্য অফিস ও বড়লেখা থানা পুলিশের সহায়তায় আজ হাকালুকি হাওরে মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন,১৯৫০ এ সারাদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসময় সরকার ঘোষিত অভয়াশ্রম "কৈয়ারকোনা বিলে" নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্ট জাল,বেড় জাল এবং মাছ ধরার ছাই দিয়ে মাছ ধরার অপরাধে ০৫ জন কে সর্বমোট ২৫,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং ০৫ জন কে ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজ না করার মুচলেকা আদায় করা হয়। মোবাইল কোর্টের অভিযানে প্রায় তিনলক্ষ টাকা মূল্য এর নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্ট জাল, বেড় জাল ও মাছ ধরার ছাই জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

বড়লেখায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একজন খুন

এম. এম আতিকুর রহমান ঃ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় জমি ক্রয় সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদ (৩৫) মারা গেছেন। গতরাতে (২৩ জুলাই) সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আহাদ বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের সুজাউল (হরিনগর) গ্রামের শফিক উদ্দিনের ছেলে। আর অভিযুক্ত মাতাব উদ্দিন একই এলাকার চন্ডিনগর (হরিনগর) গ্রামের মৃত রজব আলীর ছেলে।  

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল আহাদ ও তার স্বজনরা উপজেলার চন্ডিনগর (হরিনগর) গ্রামের মৃত রজব আলীর পুত্র মাতাব উদ্দিন ও তার সৎ ভাইদের কাছ থেকে সম্প্রতি কিছু জমি ক্রয়ের জন্য বায়নাপত্র করেন। জমি রেজিষ্ট্রির আগে নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেকের বেশি টাকাও মাতাব উদ্দিনদের দেওয়া হয়। রেজিষ্ট্রি করার সময় অবশিষ্ট টাকা দেওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে জমির কাগজপত্র সংক্রান্ত জটিলতা ও করোনাভাইরাসের কারণে জমি রেজিস্ট্রি হয়নি। এ অবস্থায় প্রায় দুই মাস আগে জমিতে চাষ করতে গেলে মাতাব উদ্দিনরা বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠক হলেও তা নিষ্পত্তি হয়নি। জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার চাওয়ায় আহাদের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন মাতাব উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে আব্দুল আহাদ স্থানীয় অফিসবাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এরই মধ্যে মাতাব উদ্দিন আহাদের পথ রোধ করে দাঁড়ান। একপর্যায়ে মাতাব উদ্দিন দা দিয়ে আহাদের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন সেখান থেকে তাঁকে (আহাদ) ‍উদ্ধার করে প্রথমে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টায় তিনি মারা যান। 

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক আজ (২৪ জুলাই) বিকেলে বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়ভাবে জেনেছি। নিহতের পরিবার এখনও মামলা দেননি। অভিযুক্ত ব্যক্তি আমাদের নজরদারিতে আছে। তাঁকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বড়লেখা থানা ডিউটি অফিসারের মোবাইলে আজ রাত ৮ টায় কথা বললে আসামি গ্রেফতার বা মামলার বিষয়ে তিনি এখনো কিছু জানেন না বলে এ প্রতিবেদককে জানান।

বড়লেখায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একজন খুন

এম. এম আতিকুর রহমান ঃ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় জমি ক্রয় সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদ (৩৫) মারা গেছেন। গতরাতে (২৩ জুলাই) সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আহাদ বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের সুজাউল (হরিনগর) গ্রামের শফিক উদ্দিনের ছেলে। আর অভিযুক্ত মাতাব উদ্দিন একই এলাকার চন্ডিনগর (হরিনগর) গ্রামের মৃত রজব আলীর ছেলে।  

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল আহাদ ও তার স্বজনরা উপজেলার চন্ডিনগর (হরিনগর) গ্রামের মৃত রজব আলীর পুত্র মাতাব উদ্দিন ও তার সৎ ভাইদের কাছ থেকে সম্প্রতি কিছু জমি ক্রয়ের জন্য বায়নাপত্র করেন। জমি রেজিষ্ট্রির আগে নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেকের বেশি টাকাও মাতাব উদ্দিনদের দেওয়া হয়। রেজিষ্ট্রি করার সময় অবশিষ্ট টাকা দেওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে জমির কাগজপত্র সংক্রান্ত জটিলতা ও করোনাভাইরাসের কারণে জমি রেজিস্ট্রি হয়নি। এ অবস্থায় প্রায় দুই মাস আগে জমিতে চাষ করতে গেলে মাতাব উদ্দিনরা বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠক হলেও তা নিষ্পত্তি হয়নি। জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার চাওয়ায় আহাদের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন মাতাব উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে আব্দুল আহাদ স্থানীয় অফিসবাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এরই মধ্যে মাতাব উদ্দিন আহাদের পথ রোধ করে দাঁড়ান। একপর্যায়ে মাতাব উদ্দিন দা দিয়ে আহাদের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন সেখান থেকে তাঁকে (আহাদ) ‍উদ্ধার করে প্রথমে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টায় তিনি মারা যান। 

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক আজ (২৪ জুলাই) বিকেলে বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়ভাবে জেনেছি। নিহতের পরিবার এখনও মামলা দেননি। অভিযুক্ত ব্যক্তি আমাদের নজরদারিতে আছে। তাঁকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বড়লেখা থানা ডিউটি অফিসারের মোবাইলে আজ রাত ৮ টায় কথা বললে আসামি গ্রেফতার বা মামলার বিষয়ে তিনি এখনো কিছু জানেন না বলে এ প্রতিবেদককে জানান।

জুড়ীতে ২ মাদক ব্যবসায়ী চোলাই মদ সহ আটক

এম. এম আতিকুর রহমান ;

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে করোনা ভাইরাসের মহামারীতেও চলছে বিভিন্ন কায়দায় মাদকের রমরমা ব্যবসা। জুড়ী থানার পুলিশ প্রতিনিয়ত অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধারসহ মাদক ব্যবসায়ীদেরকে আটক করছে। পুলিশের কঠোর নজরদারি ও অব্যাহত অভিযানের ফলে জুড়ীর মাদক ব্যবসায়ীরা আতঙ্কের মধ্যে থাকে। পুলিশের তৎপরতার জন্য মাদক ব্যবসাীরা প্রায়ই একের পর এক ধরা পড়ছে চৌকস পুলিশের হাতে।

গত ২০ জুলাই জুড়ী থানা পুলিশ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে দেশীয় ২৫ লিটার চোলাই মদসহ আটক করছে। জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম এর নেতৃত্বে গতসন্ধ্যায় উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন ফুলতলার এলবিনটিলা এলাকায় একদল পুলিশ থানার তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী পূর্ব বটুলি গ্রামের নুর উদ্দিনের পুত্র জসিম উদ্দিন রুমেল (৩৮) এবং এলবিনটিলা গ্রামের মৃত বিদেশি দাসের পুত্র মানিক দাস (৩৫) কে ২৫ লিটার দেশীয় চোলাই মদসহ গ্রেফতার করেন।
তাদের বিরুদ্ধে জুড়ী থানায় মাদক মামলা হয়েছে। মামলা নং-১৬, ধারাঃ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) এর ২৪ (খ)। আজ তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ভারতে গণপিটুনিতে নিহত ২ জন বড়লেখার

এম. এম আতিকুর রহমান ;

ভারতের করিমগঞ্জে গণপিটুতে নিহত হওয়া তিন বাংলাদেশীর দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায়। নিহত দুজন হলেন-উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের মৃত আছদ্দর আলীর ছেলে মো. নুনু মিয়া (২৭) এবং একই গ্রামের আব্দুল মানিকের ছেলে জুয়েল আহমদ (২৬)। তারা সম্পর্কে পরস্পর চাচা-ভাতিজা। দুজনেই পেশায় অটোরিক্সা চালক বলে জানা গেছে। 

বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ কান্তি দাস আজ বিকেলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।  চেয়ারম্যান জানান, নিহত হওয়া তিনজনের মধ্যে দুজনের বাড়ি তালিমপুর ইউপির কাঞ্চনপুর এলাকায়। তিনি তাদের পরিবারের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছেন যে তারা দুজন গত শুক্রবার জুড়ীতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। আজ সকালে জুড়ী থানা পুলিশ তাকে জানায় যে তারা ভারতে খুন হয়েছেন। পরে তিনি নিহতদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হন। 

নিহত জুয়েল মিয়ার বড়ভাই রুবেল জানান, গত শুক্রবার এক ব্যক্তি তাদেরকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। আজ সকালে তারা জানতে পেরেছেন যে তারা ভারতে গিয়ে খুন হয়েছেন। তবে তারা কেন এবং কী জন্য ভারতে যায় সে ব্যাপারে কিছুই জানা যায়নি।  

বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ভারতে নিহত হওয়া দুই বাংলাদেশীর পরিচয় জানা গেছে। তাদের দুজনের বাড়ি বড়লেখায়। আর নিহত হওয়া অপরজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে সেখানকার সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, নিহত বাংলাদেশীরা গত শনিবার রাতে সীমান্ত পেরিয়ে করিমগঞ্জের পাথরকান্দি অঞ্চলে বগরিজান চা বাগান এলাকায় ঢুকে পড়ে। স্থানীয় লোকজন গরুচোর সন্দেহে এসময়ে তাদের ওপর হামলা করে। হামলার এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
ঐ এলাকার পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে নিহত তিন জনের লাশ উদ্ধার করে। লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সিলেটে টাকার বিনিময়ে করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট দিতেন ডা. শাহ আলম

ডাঃ শাহ আলম প্রতি শুক্রবার বড়লেখায় ও রোগী দেখেন।

নিউজ ডেস্কঃ ‌সি‌লে‌টে অর্থের বিনিময়ে করোনা রোগীদের ভুয়া সার্টিফিকেট প্রদান ও নিজে করোনা আক্রান্ত হয়েও রোগী দেখার দায়ে এএইচএম শাহ আলম নামে এক চিকিৎসককে একলাখ টাকা জরিমানা ও চার মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার রা‌তে নগরীর মধু শহীদ এলাকার বেসরকা‌রি মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডের নীচ তলায় ডা. শাহ আলমের চেম্বারে অভিযান চালায় র‌্যাব-৯। অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনন্দা রায়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনন্দা রায় বলেন, ‘ডা. আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তিনি তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাকে ৪ মাসের জেল, ১ লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি অনাদায়ে আরও ১ মাসের জেল দেওয়া হয়। তার সব অনিয়মের প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে।’

র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামিউল আলম জানান, ডা. আলম বিদেশযাত্রীসহ কয়েকজনকে করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট টাকার বিনিময়ে দিয়েছেন বলে র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেন। পরে তাকে নিয়ে তার চেম্বার মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডে অভিযান চালানো হয়।

সামিউল আলম বলেন, ‘তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন। যদিও তিনি কোনো সরকারি হাসপাতালে চাকরি করতেন না। এ ছাড়া তিনি নিজে গত ১৪ জুলাই করোনা আক্রান্ত হন। এই তথ্য গোপন রেখেই তিনি চেম্বারে রোগী দেখে যাচ্ছেন।’

বিদেশ যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন দেশ ও এয়ারলাইন্স করোনা নেগেটিভ সার্টিফেকেট বাধ্যতামূলক করার পর প্রবাসীদের টার্গেট করেন ডা. শাহ আলম। ‘করোনা নেগেটিভ’ সার্টিফিকেট দেওয়ার বিপরী‌তে তিনি চার হাজার টাকা করে আদায় করেন। ফ্লাইটের ৪৮ ঘন্টা আগে তিনি ওই প্রবাসীকে ডেকে নিয়ে হাতে ধরিয়ে দেন প্রত্যয়নপত্র। রোগী বা যাত্রীকে না দেখেই নিজের প্যাডে দেওয়া ওই প্রত্যয়পত্রে ডা. শাহ আলম লিখে দেন, তিনি ওই ব্যক্তিকে তার চেম্বারে দেখেছেন। তার মধ্যে কোভিড-১৯ এর কোন লক্ষণ নেই।

সুত্রঃ সমকাল (অনলাইন)

বড়লেখায় দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে গোয়ালঘর পুড়ে ৩টি গরুর মৃত্যু

এম. এম আতিকুর রহমান ;

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে পুড়ে ৩টি গরু মারা গেছে। গতমধ্যরাতে উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর (কাঠালতলী) ইউনিয়নের পশ্চিম কাঠালতলী গ্রামে উপজেলা তাঁতি লীগের সভাপতি, আ’লীগ নেতা ঠিকাদার মহিউদ্দিন আহমদ গোলজারের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত রাত ১টার দিকে হঠাৎ করে সেমিপাকা গোয়ালঘরে আগুন লাগে। এসময় গোয়ালে থাকা গরু হাঁকডাক ও লাফালাফি করতে থাকে। গরুর হাঁকডাক শুনে মহিউদ্দিন আহমদ গোলজার ঘর থেকে বের হয়ে গোয়ালঘরে আগুন দেখতে পান। ঘটনা বুঝতে পেরে এলাকার লোকজন এসে দীর্ঘ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে আগুনে গোয়ালে থাকা একটি গাভিসহ তিনটি গরু মারা যায়। পাশাপাশি সেখানে রাখা একটি পানির পাম্প ধান ভাঙার মেশিন, গাড়ির টায়ারসহ বিভিন্ন মালামালও পুড়ে যায়।

বাড়ীর মালিক ঠিকাদার মহিউদ্দিন আহমদ গোলজার আজ বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে ধরে কেউ হয়তো তাঁর গোয়ালঘরে আগুন দিয়েছে। তা নাহলে এখানে আগুন লাগার কথা নয়। তিনটি গরুসহ গোয়ালে থাকা পানির পাম্প, ধান ভাঙার মেশিন, গাড়ির টায়ারসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে তাঁর প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বড়লেখা ফায়রাসার্ভিসের ফায়ারম্যান সফিউল আলম রোববার জানান, রাতে আমরা আগুন লাগার খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয়রা ফোনে জানান আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পরে আর সেখানে যাওয়া হয়নি।

বড়লেখা হলিলাইফ স্পেশালাইজড হাসপাতালে মোবাইল কোর্টে ৫০ হাজার জরিমানা

এম. এম আতিকুর রহমান ঃ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শামীম আল ইমরান আজ ১৬ জুলাই দুপুরে পৌরসভার হলিলাইফ স্পেশালাইজড হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এতে ক্লিনিক পরিচালনার লাইসেন্স না থাকা, মেয়াদ উত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ব্যবহার করা এবং প্রদত্ত সেবার নির্ধারিত মূল্য তালিকা না থাকায় মেডিকেল প্র‍্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরী (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৮২ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুসারে ৫০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেন। এসময় লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. রত্নদ্বীপ বিশ্বাস এবং বড়লেখা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রতন দেবনাথ সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করেন।

ঢাকাদক্ষিণে বাড়ির পানির ট্যাংকিতে বিষ, নারী-শিশুসহ ৮ জন আক্রান্ত।

সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জে উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত কানিশাইল গ্রামে বিষাক্ত পানি খেয়ে মর্তুজ আলীর পরিবারের নারীসহ ৮জন আক্রান্ত হয়েছেন৷ আজ বুধবার সকালে এই ঘটনা ঘটেছে৷ এসময় পানির ট্যাংকিতে বিষের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্যগণ, ইউপি সচিব, উদ্যোক্তা ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হন৷
পানি পান করে অচেতন হওয়া সবাইকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়েছে। গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে৷

রিজেন্ট মামলার প্রধান আসামি সাহেদ অস্ত্রসহ গ্রেফতার।

সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটার রামগতি সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্রসহ মো. সাহেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার শাঁখরা কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদী তীর সীমান্ত থেকে আনুমানিক ভোর ৫.০০ থেকে ৫.৩০ এর দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সেখান দিয়ে নদী পেরিয়ে সাহেদ ভারতে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করছিল। এর আগেও একবার একই সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়েছিলেন তিনি। সকাল নয়টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে তাকে ঢাকায় আনা হবে।

বড়লেখায় শিশু ধর্ষন চাচাতো ভাই গ্রেফতার

এম. এম আতিকুর রহমান ;

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ৪ বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গত ২০ জুন রাতে একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

অভিযুক্ত শিশুটির চাচাত ভাই গ্রেফতারকৃত জাবেদ আহমদ (১৬) উপজেলার দক্ষিনভাগ দক্ষিন ইউনিয়নের কাসেমনগর গ্রামের আমীর হোসেনের পুত্র।

এই ধর্ষনের ঘটনাটি বৃহস্পতিবার সন্ধার দিকে উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের কাসেমনগর গ্রামে ঘটে। পরে ধর্ষনের শিকার শিশুটিকে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।

এলাকাবাসী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধর্ষনের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত জাবেদ আহমদ ভিকটিমের চাচাত ভাই হওয়ার সুবাদে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে শিশুটিকে তার বাড়িতে ডেকে নেয়। পরে হঠাৎ কান্নার শব্দ পেয়ে মেয়েটির মা তাদের বাড়ীতে গিয়ে মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় পান। পরে পরিবারের লোকজন মেয়েটিকে নিয়ে প্রথমে আজিজ মেডিকেলে এবং সেখান থেকে বড়লেখা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিকি চিকিৎসার দেয়া হয়। পরে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঘটনায় অভিযুক্ত চাচাতো ভাই জাবেদ আহমদ (১৬) কে আসামী করে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ শনিবার রাতেই জাবেদ আহমদ (১৬) কে গ্রেফতার করেছে।

এ ঘটনায় বড়লেখা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়াছিনুল হক আসামীকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ।

সৌদি আরবে সিম জালিয়াতি চক্রের ১০ জন বাংলাদেশী গ্রেফতার!

প্রবাস ডেস্কঃ সৌদি আরবের রিয়াদে ১০ জন বাংলাদেশী নাগরিক ও ১ জন ভারতীয় নাগরিক সহ মোট ১১ জন সিম জালিয়াতি চক্রের সদস্যকে গ্রেফতার করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২০ জুন, শনিবারে এই গ্রেফতারের ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, অনেকদিন ধরেই সিমকার্ড জালিয়াতি করে আসছিলো এই চক্রটি। তারা অন্য মানুষের আইডি দিয়ে সিমকার্ড ভেরিফাই করে তারপর সেগুলো বিভিন্ন অসাধু উপায়ে সাধারন মানুষজনের কাছে বিক্রি করতো। সাধারন মানুষজন নিজের তথ্য ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে সিমকার্ড কেনার পর তাদের এই তথ্য কপি করে আরো অসংখ্য সিম তার নামে ভেরিফাই করা হতো। এসকল সিমকার্ড দিয়ে কোন অসাধু কার্যকলাপ করা হলে সেক্ষেত্রে অপরাধীকে সিম দিয়ে খুজে বের করার উপায় থাকতো না।

পূর্ববর্তী অসংখ্য অভিযোগের পড়ে তদন্ত করে রিয়াদে এই চক্রের কাজের স্থানে অভিযান চালিয়ে চক্রের ১১ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশী নাগরিক, এবং ১ জন ভারতীয় নাগরিক।

অভিযান চালানোর পড়ে অভিযান স্থল থেকে বিপুল পরিমান সৌদি নাগরিকদের আইডি কার্ড ছবি ও কপি, বেশকিছু প্রবাসীদের ইকামার ছবি, এবং নকল প্রায় ১৬ হাজার সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।

১০ মাসের বাচ্চা পেটে নিয়ে মারা গেলেন প্রসূতি নারী,করোনা সন্দেহে চিকিৎসায় অবহেলা

নিউজ ডেস্কঃ চট্টগ্রামে আইসিইউর খুঁজতে খুঁজেতে ১০ মাসের সুস্থ বাচ্চা পেটে নিয়ে মারা গেলেন প্রসূতি নারী,করোনা সন্দেহে চিকিৎসায় অবহেলা

সাতদিন পর ছিল বাচ্চা ডেলিভারির তারিখ।
এর মধ্যেই উঠল প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট।পেটে অনাগত সেই বাচ্চা নিয়ে মেয়েটি দিনভর ঘুরলেন হাসপাতালে-হাসপাতালে।টানা ১৮ ঘন্টা চেষ্টা
করেও পুরো চট্টগ্রামে মেলেনি একটি আইসি-
ইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র)। শেষে অনেকটা
বিনা চিকিৎসাতেই গভীর রাতে মৃত্যুর কোলে
ঢলে পড়লেন ১০ মাসের গর্ভবতী ওই নারী।
মাত্র এক সপ্তাহ পর, ১৮ জুন বাচ্চা জন্ম
দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারিত ছিল তার।
মৃত্যুকালে ফৌজদারহাটের কবরস্থানে মায়ের
সঙ্গী হল ওই বাচ্চাও— সুস্থ থেকেও পৃথিবীর
মুখটি আর দেখা হল না তার!

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল থেকে ৩০ বছর
বয়সী ওই গর্ভবতী নারীর জন্য তার স্বজনরা
চট্টগ্রামের এমন কোনো হাসপাতাল বাদ রাখে-
ননি, যেখানে তারা একটি আইসিইউ বেডের
খোঁজে যাননি। কোথাও না পেয়ে উপায়হীন
স্বজনরা ফেসবুকে পোস্ট দিয়েও একটি আই-
সিইউর জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন।

নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল আর
ওয়ার্ড থেকে ওয়ার্ডে দৌড়াদৌড়ি করে
মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাত ৪টার দিকে
চট্টগ্রাম মেডিকেলের করোনা ওয়ার্ডে মৃত্যুর
কোলে ঢলে পড়েন মুক্তা (৩০) নামের ওই নারী।

অথচ এর মাত্র আটদিন আগে করোনার সময়ে সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে প্রসূতি
মায়েদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনা পরীক্ষা
সহ অন্যান্য সুচিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে-
ছিলেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের
ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের
সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ
সংশ্নিষ্ট বিবাদীদের এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে
বলা হয়েছিল।

সূত্রঃ চট্টগ্রাম প্রতিদিন

বড়লেখায় প্রতারণা মামলায় ফয়সল আহমদ গ্রেফতার


মোঃইবাদুর রহমান জাকির বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রতারণা মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা সেক্রেটারী মোঃ ফয়সল আহমদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাত দেড়টার দিকে থানার এসআই রাকিব মোহাম্মদের নেতৃত্বে পৌরশহরের (বালুচর) পাখিয়ালা বাসা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে সোমবার (৮ জুন) আদালতের মাধ্যমে পুলিশ তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্রিকফিল্ড ব্যবসায়ী মোয়াদ আহমেদ এর পৌনে ২ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে গত ২২ জানুয়ারি হাবিবুর রহমান হাবিবকে ১ নম্বর ও জামায়াত নেতা ফয়সল আহমদকে ২ নম্বর আসামি করে থানায় প্রতারণা মামলা করেন।এ মামলার প্রধান আসামি হাবিবুর রহমান হাবিব গত ১৭ মার্চ জামিন নিতে গেলে বিজ্ঞ আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ মামলার ২নং আসামি উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারী ফয়সল আহমদ দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর গ্রেফতার হোন

বিয়ানীবাজারে আপন চাচীর ঘরের চালের ড্রাম থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিউজ ডেস্কঃ বিয়ানীবাজারে আপন চাচীর ঘরের চালের ড্রাম থেকে ৩ বছর বয়সী এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের উত্তর আকাখাজানা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত শিশু উত্তর আকাখাজানা গ্রামের খছরু মিয়ার ছেলে।

ওই শিশু রোববার সকাল ৬টা থেকে নিখোঁজ ছিল। পরে এদিন বিকালে খছরু মিয়ার ছোটভাই রুনু মিয়ার স্ত্রী সুমা বেগমের ঘরের চালের ড্রাম থেকে ওই শিশুটিকেমৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

এ প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত জানা গেছে, খবর পেয়ে ওসি অবনী শংকর করসহ বিয়ানীবাজার থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন করে থানায় নিয়ে আসছে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- সুমা বেগম (৪২) ও নাহিদ আহমদ (২৩)। তারা দুজনের সম্পর্কে ভাবি-দেবর।

কুমিল্লায় সম্পত্তির জন্য বাবাকে কু’পিয়ে ও পিটিয়ে হ’ত্যা করলো ছেলেরা

নিউজ ডেস্কঃ কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ১নং কালিরবাজার ইউপির কমলাপুর উত্তর পাড়া গ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে ও সম্পত্তি বিরোধ ও আত্মসাৎ’র জেরে প্রথম স্ত্রী ও সন্তান কর্তৃক পিতাকে কু’পিয়ে ও পি’টিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহতের ছোট বোন জাহানারা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী আনারকলি এবং স্থানীয় প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকেই পারিবারিক কলহ চলছিলো।

প্রথম স্ত্রী ও সন্তানরা প্রতিনিয়ত মারধর করতো ও মেরে ফেলার হুমকি দিতো, ফলে দ্বিতীয় স্ত্রী ও কন্যাদের নিয়ে নারায়নসার এলাকায় বসবাস করতেন আলি আকবর বাচ্চু । গত কিছুদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক কলহ বেড়ে যায়। ঈদের আগের দিন নিজ বাড়িতে আসেন তিনি। সম্পত্তি বিরোধের সুত্র ধরে প্রথম স্ত্রী রওশনআরা বেগম ও ছেলে খোকন, রোকন, ছোটন ঈদের দিন সকালে পিতার ওপর চড়াও হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে পিতাকে নির্মমভাবে মারধর করে হাত পা ভেঙে দেয় এবং বটি’দা দিয়ে কুপি,য়ে পায়ের রগ কেটে দেয়।

বাচ্চু মিয়ার শোর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এলেও তাদেরকে বাড়িতে ঢুকতে দেয়া হয় নি। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত বাচ্চু মিয়াকে চিকিৎসা করাতে কিংবা হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেয়া হয়নি। খবর পেয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী এলাকার লোকজন নিয়ে স্বামীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করালে মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়। পেশায় ট্রাক চালক বাচ্চু মিয়া কমলাপুর উত্তর পাড়া এলাকার ইব্রাহিম চৌধুরীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী আনারকলি বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় উল্লেখিত আসামীদের নামে হ’ত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান।

খবর পেয়ে নাজিরা বাজার ফাঁড়ি পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনার পর থেকে নিহতের তিন ছেলে এবং প্রথম স্ত্রী পলাতক রয়েছে। একটি বিশেষ মহলের সহায়তায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সমঝোতার জন্য বাদীকে হুমকি ধমকি, দৌড়ঝাপ ও হত্যাকান্ডের ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে ধামাচাপা দিতে আসামিরা তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

কোতোয়ালি থানাধীন নাজিরা বাজার ফাঁড়ি পুলিশের আইসি ইন্সপেক্টর মাহমুদ হাসান রুবেল জানান, পোস্টমর্টেম শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুনেছি নিহতের সাথে পরিবারিক বিরোধ রয়েছে সন্তানদের। তদন্ত চলছে পোষ্টমর্টেম রিপোর্ট এলে মৃত্যুর বিস্তারিত জানা যাবে।

সুত্রঃ জাগো কুমিল্লা

মেয়েকে ধর্ষণের পর মেয়ের মা কে ধর্ষণের হুমকি।

নিউজ ডেস্কঃ তালা থানায় ধর্ষণের মামলা করে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ধর্ষিতার পরিবার। মামলা তুলে না নিলে আরও বড় ধরনের ক্ষতি করার হুঙ্কার দিচ্ছে তারা। বাড়ি থেকে বের হলেই নানা ভাবে হেনস্তা করছে তারা, দিচ্ছে অশ্রাব্য ভাষায় গালি-গালাজ।

মান সম্মানের ভয়ে তারা বাড়ি হতে বের হতে পারছে না ধর্ষিতার পরিবার। তালা উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সদস্য ও তালা রিপোটার্স ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মীর জাকির হোসেন এলাকা পরিদর্শন ও এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ইউপি সদস্য’সহ সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করেছেন।

সরজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, তালা উপজেলার জেয়ালা নলতা গ্রামের দিনমজুর আব্দুল আজিজের কন্যাকে ২৯মে’ ২০২০ ইং তারিখে সকাল ১১ টার সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে অসুস্থ মেয়েকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে লম্পট সোহাগ।

সে একই গ্রামের লম্পট হায়দার আলী সরদারের পুত্র। এলাকার মানুষের অভিযোগ হায়দার আলীও ঐ এলাকার চিহ্নিত লম্পট। তার অত্যাচারে রাতের বেলায় মহিলারা সম্ভ্রম হানির ভয়ে ঘর হতে বের হতে পারে না। তার লম্পটের সালিশ মীমাংসা অনেকবার করেছে এলাকার মানুষ। গত ৩০ মে ২০২০ ইং ধর্ষিতার পিতা আজিজ সরদার বাদী হয়ে তালা থানায় মামলা দায়ের করেন। যার নং -৮।

তালা থানা পুলিশ ভিকটিমকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করিয়েছেন। ধর্ষক পলাতোক থাকলেও থানায় মামলা করার কারণে বাড়িতে থাকা অন্যান্য আসামীরা নির্যাতিত পরিবারকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিচ্ছে। লম্পট হায়দার আলী প্রকাশ্যে ধর্ষিতার মা আনজুয়ারাকে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে পরিবার। এলাকাবাসী বলেন, ধর্ষণের কথা জানাজানির পরে ধর্ষিতাকে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগত ধর্ষকের বাড়িতে নিয়ে গেলে ধর্ষকের পিতা হায়দার আলী, মাতা আছমা বেগম, ভাই আফজাল সরদার, ফুপু ফরিদা বেগম ধর্ষিতাকে বেদম মারপিট করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তারা আরও বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই জাতপুর ক্যাম্পের এস আই সাইদুর রহমানের ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মীর জাকির হোসেন বলেন, অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের প্রতি যে নিষ্ঠুরতা হয়েছে তা খুবই দুঃখ জনক। যে কোন বিবেকবান মানুষের উচিত হবে এই নিষ্ঠুরতার প্রতিবাদ করা। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন ও তালা থানা অফিসার ইনচার্জ মেহেদী রাসেলের সাথে আমার কথা হয়েছে। আমাকে আশ্বস্ত করা ‘১হয়েছে অপরাধী যেই হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না। এই মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি আমরা।

তালা থানা অফিসার ইনচার্জ মেহেদী রাসেল বলেন, ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি যতদ্রুত সম্ভব প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করার। চৌকস পুলিশ অফিসার কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, আশাকরি অতিশীঘ্রই আসামী গ্রেফতার হবে। জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই প্রীতিষ বলেন, মামলাটি তদন্ত পর্যায়ে আছে। সঠিক তদন্তের স্বার্থে আমরা মূল আসামীকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করছি। মূল আসামী গ্রেফতার হলে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।

বড়লেখায় মাস্ক না পরায় ২৭জন কে মোবাইল কোর্টে অর্থদণ্ড

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শামীম আল ইমরান আজ (০৭জুন) বড়লেখা পৌরসভার হাজীগঞ্জ বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মাস্ক না পরা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন,২০১৮ আইনে ২৭ টি মামলায় ১০,১০০/= টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেন। এসময় মাস্ক বিহীন জনসাধারণের মধ্যে মাস্কও বিতরণ করা হয়। বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ইয়াছিনুল হকের নেতৃত্ব বড়লেখা থানা পুলিশ মোবাইল কোর্ট কে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করেন।

জুড়ী সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত ১ আহত ৩

এম.এম আতিকুর রহমানঃ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা সীমান্তে ভারতের করিমগঞ্জ জেলার পাথারকান্দি থানার পুঁথনি চা বাগানের চম্পাবাড়ী এলাকায় ভারতে অনুপ্রবেশ ও গরুচোর সন্দেহে এক বাংলাদেশীকে পিটিয়ে হত্যা ও অপর এক বাংলাদেশীসহ তিনজনকে পিটিয়ে আহত করার খবর পাওয়া গেছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিজিবি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৫২ ব্যাটালিয়ন বিয়ানীবাজার-এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মো. শহীদুল্লাহ বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, বিএসএফ বিষয়টি আমাদের জানিয়েছে। তবে ভূল তথ্যের কারণে নিহত ও আহতের পরিচয় বের করা যায়নি। বর্তমানে পরিচয়ের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাশ দেশে আনা হবে।

নিহতের নাম রনজিৎ রিকমন (৩০) সে জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের ধামাই চা বাগানের শ্রমিক এবং বাজারটিলা এলাকার রশিক লাল রিকমুনের পুত্র। আহত মলেন মুন্ডা (৩২) একই উপজেলার শিলুয়া চা বাগানের ফাঁড়ি কুচাই চা বাগানের মৃত গাজু মুন্ডার পুত্র। অপর দুইজন ভারতীয় নাগরিক বলে জানাগেছে।
ভারতের করিমগঞ্জ হাসপাতালে নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত হয় এবং আহতরা একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৫২ ব্যাটালিয়ন লাঠিটিলা সীমান্ত ফাঁড়ির কোম্পানী কমান্ডার ল্যান্স নায়েক জাকির হোসেন জানান, সোমবার সন্ধ্যায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ আমাদের একটি চিঠি দিয়ে জানায় বাংলাদেশের দুইজন লোক ভারতে অনুপ্রবেশ করে গরু চুরিকালে স্থানীয় জনতা তাদের গণপিঠুনি দেয়। এতে এক জন বাংলাদেশী নিহত ও অপরজন আহত হয়। বিএসএফ নিহতের লাশ আনতে বলে। আমরা তাদের পরিচয় জানতে চাইলে বিএসএফ আমাদের দু’টি ঠিকানা দেয়। আমরা দুই্ দিন তন্ন তন্ন করে খোঁজে ঠিকানার কোন অস্থিত্ব পাওয়া যায়নি। তাদের দেয়া নাম, ঠিকানা সঠিক ছিল না।

এদিকে বুধবার জুড়ীর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের অনুসন্ধানে ভারতীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতায় তাদের ছবি ও পরিচয় পাওয়া যায়। নিহত রনজিৎ পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শ্রীকান্ত দাস নিশ্চিত করেন।
এছাড়া আহত মলেন মুন্ডার পরিচয় নিশ্চিত করে কুচাই এলাকাবাসী জানান, সে উপজেলার পূূর্বজুড়ী ইউনিয়নের জামকান্দি এলাকায় বিয়ে করে সেখানে শ্বশুর বাড়ীতে বসবাস করতো। এ নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।

বড়লেখার আহমেদ রিয়াজের কারাদণ্ডাদেশ, সাগরে ৩৬ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা রফিকুল গ্রেফতার

বিশেষ প্রতিবেদন :: বিদেশে পাঠানোর নামে ৩৬ বাংলাদেশি নাগরিককে ভূমধ্যসাগরে ট্রলার ডুবিতে নিহত মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৯।

সিলেটের বিশ্বনাথ থেকে সোমবার বিকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব-৯ এর মুখপাত্র এএসপি ওবাইন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, আসামি রফিকুল ইসলাম মানবপাচার সংক্রান্ত ৬ মামলার আসামি। আসামিকে র‌্যাবের হেফাজতে রয়েছে। ২০১৯ সালের ১১ মে ট্রলার ভূমধ্যসাগরে ট্রলার ডুবির ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৩৬ বাংলাদেশি।

জানা যায়, দেশের মানবপাচার চক্রের অন্যতম শীর্ষ আসামি রফিকুলের বিরুদ্ধে মামলা করায় বাদীকে অস্ত্র দিয়ে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল মানবপাচারকারী চক্র। এ ব্যাপারে রফিকুলসহ তার ৫ সহযোগীর বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ থানায় ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর মামলা দায়ের করা মামলা নং ২১।

উপজেলার নওধার মাঝপাড়া গ্রামের ইলিয়াস আলীর পুত্র রেজাউল ইসলাম রাজু মামলাটি দায়ের করেছিলেন। এতে মামলার প্রধান আসামী উপজেলার কাঠালীপাড়া গ্রামের মৃত চমক আলীর পুত্র রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী চেরাগী গ্রামের সৈয়দ আলীর পুত্র শাহিন আহমদকে আসামি করা হয়।

এই মামলায় গ্রেফতার করা হয় মানবপাচার চক্রের মূল হোতা রফিকুলের সহযোগী রাজনগর গ্রামের মৃত আতর আলীর পুত্র আবদুল কাদির, রামপাশা গ্রামের মৃত আবদুল মানিকের পুত্র আলী হায়দার মহুরী, বিশ্বনাথ নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা আসু মিয়ার পুত্র আবুল কালামকে।

এদিকে ২০১৯ সালের ১৬ মে মানব পাচার প্রতিরোধ দমন আইনে আরেকটি মামলাও হয় রফিকুলের বিরুদ্ধে মামলা নং ৮।
মানব পাচার ও ইউরোপ নেওয়ার শর্তে অনেককে আশাবাদী করে কোটি টাকার লোপাট হওয়ার ঘটনা নিত্য নতুন নয়। বিশেষত সিলেটের বিয়ানীবাজার, মৌলভীবাজার ও বড়লেখায় মানবপাচার ও বিদেশে পাঠানোর নামে একটি অপশক্তি সিন্ডিকেট কাজ করছে। প্রবাসী বন্ধু খ্যাত বড়লেখার মোসকে আম্বরের আহমেদ রিয়াজ এই অপশক্তির কর্ণধার। সম্প্রতি একটি মামলায় পলাতক আহমেদ রিয়াজকে সিলেট চীফ জুডিশিয়াল আদালত ২ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকার অর্থ দণ্ড প্রদান করেন। মামলা নং সি. আর ৯১০/১৬। এ চক্রের এমন অভিনয় ও আশাজাগানিয়া পন্থা অবলম্বন অনেক তরুণ-যুবাদের পরিবার পরিজনকে করেছে নিঃস্ব, বিপন্ন।

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশীর হত্যার মূল রহস্য

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশী সহ ৩০ জন নিহত হবার লোমহর্ষক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। বিশ্ব যখন করোনা মাহামরীতে হিমশিম খাচ্ছে তার ভিতরেও মানব পাচার ও অপহরণ চক্র তৎপর। তাদেরই নির্মমতার শিকার হলো এই ৩০ জন। তবে, এর মধ্যে বাংলাদেশী ২৫ জন ছিলো জিম্মি ও বাকি ৫ জন অপহরণ চক্রের সদস্য। এর মধ্যে বাগেরহাটের শামীম রেজা নামে এক বাংলাদেশী হচ্ছে অপহরণ চক্রের নেতা। বাকি চার জনের মধ্যে তিন জন অপহরণের সহযোগী লিবিয়ার ভাড়াটে পুলিশ ও একজন আফ্রিকান গার্ড।
ত্রিপোলিতে যোগাযোগ করে জানা গেছে, ৭০ জনের বাংলাদেশী একটি দল লিবিয়ার বেনগাজী থেকে ত্রিপোলির উদ্দেশ্যে রওনা হয় গত ১৯ মে।এই ৭০ জন এয়ারপোর্ট চুক্তিতে ভারত, দুবাই, মিসর ঘুরে বেনগাজীতে করোনা সংকটের আগে জড়ো হয়। তারপর লকডাউন শিথিল হতে শুরু করলে তারা ত্রিপোলির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। কাজের জন্যই তাদের এখানে আসা। তবে, কেউ কেউ জানান, তাদের লক্ষ্য ইতালি পাড়ি দেয়া।বেনগাজী থেকে রওনা হবার পর এই ৭০ জন বেনুয়ালী চেকপোস্ট পুলিশের হাতে আটক হয়। তাদেরকে থানা আনা হয়।
এরপর মানব পাচার ও অপহরণ চক্রের নেতা বাগেরহাটের শামীম রেজা ও কুমিল্লার শরীফ পুলিশের কাছ থেকে তাদেরকে জনপ্রতি দুই হাজার দিনার বা বাংলাদেশী ৩০ হাজার টাকা কিনে নেয়।

তারপর তারা জিম্মি করে হতভাগ্য এই ৭০ জনকে। মুক্তিপণ হিসেবে তাদের কাছে জনপ্রতি ১১ হাজার ডলার দাবি করা হয়। তাদের সবাইকে ত্রিপোলি থেকে তিনশো কিলোমিটার দূরে মিজদা মরুভূমির একটি বাড়িতে আটকেব রাখা হয়। আটকের পর থেকে চলে অমানুষিক নির্যাতন। এই নির্যাতনের জন্য ভাড়া করা হয় চার আফ্রিকানকে।

পরে বাধ্য হয়ে কেউ কেউ টাকা দিতে শুরু করে। তখন তাদেরকে নির্যাতন থেকে রেহাই মিললেও মুক্তি দেয়া হয়নি। বলা হয়, সবার মুক্তিপণ আদায় হলে ছাড়া হবে।

এদিকে, যারা টাকা দিতে পারেনি তাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়ানো হয়।এই অবস্থায় অতিষ্ঠ হয়ে আটক জিম্মিরা বিদ্রোহ করার সিদ্ধান্ত নেয়। বৃহস্পতিবার ( ২৮ মে, ২০২০) সকালে তারা চড়াও হয় শামীম রেজার উপর। শামীম তখন ঘুমিয়ে ছিলো। আটককৃতরা তার কাছে থাকা পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে তাকে গুলি করে। গুলিতে শামীম নিহত হয়।

শামীম নিহত হবার পর বন্দী বাংলাদেশীরা পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। তখন আফ্রিকান গার্ডরা মিলিশিয়া নামক ভাড়াটে পুলিশকে খবর দেয়। তখন তারা এসে গোলাগুলি শুরু করে। বন্দীরাও প্রতিহত করার চেষ্টা করে। এতে তিন লিবিয়ান মিলিশিয়ান পুলিশ ও এক আফ্রিকান গার্ড মারা যায়। অপরদিকে, এই ভাড়াটে পুলিশের হাতে ২৫ জন বন্দী নিহত হয়। তারা আশেপাশে আত্মগোপনে থাকা বন্দীদের খুঁজে খুঁজে হত্যা করে।

গোলাগুলির ঘটনার পর লিবিয়ার সরকারি পুলিশকে ঘটনাস্থলে আসে। তারা আহত গুলিবিদ্ধ ১১ জনকে কাছের জিলিটন শহর হাসপাতাল নিয়ে আসে। এরপর প্রতিশোধ নিতে মিলিশিয়া পুলিশের একটি দল তিন দফা হাসপাতালে হামলা করে। কিন্তু, সরকারি পুলিশ তাদেরকে প্রতিহত করে।
সর্বশেষ অবস্থা হচ্ছে, হাসপাতালটি সরকারি পুলিশ সদস্যরা ঘিরে রেখেছে। ত্রিপোলি থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা হাসপাতালে পৌঁছেছেন। তারা আহতদের সাথে কথা বলছেন।তবে, এখনো পর্যন্ত নিহত বাংলাদেশীদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। দূতাবাসের পক্ষ থেকে সেগুলো জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সুত্র: ভয়েস বাংলা।

কুলাউড়ায় হাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান এর উপর ৮ সদস্যের দুর্নীতির অভিযোগ

হাবিবুর রহমান সাদি কুলাউড়া : কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চুর বিরুদ্ধে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে ১১ টি অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন এই ইউনিয়ন পরিষদেরই ৮ সদস্য। এনিয়ে পুরো উপজেলাজুড়ে তোলপাড় চলছে।

গত ৩ মে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক বরাবরে দেয়া এই অভিযোগপত্রে হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮জন ইউপি সদস্যই স্বাক্ষর করেন।অভিযোগে স্বাক্ষরকারী ইউপি সদস্যরা হলেন- ৫নং ওয়ার্ড সদস্য প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মনিরুজ্জামান হেলাল, ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য মো. রাজা মিয়া, ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য মো. গুলজার আহমদ, ৪নং ওয়ার্ড সদস্য শেখ আব্দুর রউফ, ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য মো. কবির আহমদ, ৭নং ওয়ার্ড সদস্য তাহের আলী, ৪,৫ ও ৬নং ওয়ার্ড সদস্য মাধবী রানী দেব এবং ৭,৮ ও ৯ রাবেয়া বেগম।

জেলা প্রশাসক বরাবরে প্রেরিত অভিযোগপত্রে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চুর বিরুদ্ধে মোট ১১টি অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কুলাউড়া উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের প্রধান ফটকে ইউনয়ন পরিষদ লেখা থাকলেও তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর চেয়ারম্যান কার্যালয় লেখার মাধ্যমে তিনি তার একনায়কতন্ত্র প্রকাশ করেছেন।
জন্ম নিবন্ধন, নাগরিক সনদ ও উত্তরাধিকার ফি এর টাকা জনগনের নিকট থেকে যথারীতি আদায় করে চেয়ারম্যান ভাগ করে নিয়ে যান। এই টাকার কোন হিসাব নেই।
চলতি অর্থবছরের গৃহকর এনজিও’র মাধ্যমে আদায় করে কোন হিসাব ছাড়াই তা আত্মসাৎ করেছেন।
অতিদরিদ্র ও এলজিএসপি সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন মত না করে তিনি ইচ্ছা মাফিক প্রকল্প দাখিল ও সম্পন্ন করেন।
ইউনিয়ন পরিষদের অর্থনৈতিক বিষয় সহ সর্ব বিষয়ে ২৫-৩০% অর্থ ও কিছু ক্ষেত্রে বরাদ্ধ দাবী করেন। এমনকি সকল ধরনের বরাদ্ধ সদস্যদের নিকট আংশিক প্রকাশ করেন, যা সদস্যরা পরবর্তী সময়ে উপজেলা অফিস থেকে জানতে পারেন এবং পরবর্তীতে চেয়ারম্যান এমনটি হবেনা বলে গত ৪ বছর থেকে বার বার উনাদেরক প্রতিশ্রুতি দেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত হাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু বলেন, অভিযোগটি সম্পর্কে আমার জানা নেই।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন এবং কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

দাফনের টাকা নিয়েও নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হল লাশ!

ছবিঃ প্রতিকি

নিউজ ডেস্কঃ গ্রামের বাড়িতে মেয়ের লাশ দাফন হবে না, এজন্য এক অ্যাম্বুলেন্সে ড্রাইভারের সাথে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে চুক্তি করেছিলেন মেয়ের মৃতদেহ দাফনের। সে জন্য চুক্তির টাকাও পরিশোধ করেছিলেন সেই হতভাগ্য পিতা। কিন্তু সেই মৃতদেহ ওই অ্যাম্বুলেন্সের চালক দাফন না করেই ফেলে দেয় তিস্তায়। দুই দিন পর সেই মৃতদেহ তিস্তার পানিতে ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা।

আদিতমারী থানা পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিচয় শনাক্ত হবার পর সেই হতভাগ্য পিতার কাছে পুনরায় লাশ দাফনের দায়িত্ব এসে কাঁধে চাপে। কিন্তু ঘটনা জানতে পেরে এবার পুলিশেই দায়িত্ব তুলে নেয় লাশ দাফনের।

এমনিই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে মৃত পোশাক শ্রমিক মৌসুমী আক্তারের হতভাগ্য বাবা গোলাম মোস্তফার কপালে!
এমনই এক হৃদয় বিদারক ঘটনায় আদিতমারী থানা পুলিশ পোশাক শ্রমিক মৌসুমী আক্তারের(২২) মরদেহ রবিবার সন্ধ্যায় তিস্তা নদী থেকে উদ্ধার করে। আজ সোমবার ঈদের দিন বিকেলে মরদেহের জানাজা শেষে মৃতের নিজ গ্রামে দাফন করে যৌথভাবে আদিতমারী ও পাটগ্রাম থানা পুলিশ। মৃত পোশাক শ্রমিক মৌসুমী আক্তার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের গোলাম মোস্তফার মেয়ে। তিনি একই উপজেলার বাউড়া ইউনিয়নের সরকারের হাট এলাকার স্বামী নিগৃহীতা মিজানুর রহমানের স্ত্রী।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানান, বাউড়া ইউনিয়নের সরকারের হাট এলাকার আবুল কালামের ছেলে মিজানুর রহমানের সাথে ৬ মাস আগে বিয়ে হয় পোশাক শ্রমিক মৌসুমী আক্তারের।

বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে একাই গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন মৌসুমী। গত বৃহস্পতিবার অসুস্থতা অনুভব করলে একটি ট্রাক যোগে পাটগ্রামে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।
পথিমধ্যে রংপুরের তাজহাট এলাকায় পৌঁছলে ট্রাকচালক তাকে মৃত দেখে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান। অজ্ঞাত মরদেহ হিসেবে তাজহাট থানা পুলিশ মৌসুমীর মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠান। পরদিন শুক্রবার খবর পেয়ে মৃতের বাবা গোলাম মোস্তফা তাজহাট থানায় গিয়ে মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। মেয়ের মরদেহ বুঝে নিয়ে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাতকে মোবাইলে বিষয়টি অবগত করে নিজ এলাকায় মরদেহ দাফনের অনুমতি চান। কিন্তু চেয়ারম্যান ওই মরদেহ করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে তার পরিবার ও মরদেহবাহী গাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার হুমকী দেন বলে অভিযোগ করেন মৃতের বাবা গোলাম মোস্তফা।

নিরুপায় হয়ে হতভাগ্য গরিব বাবা মেয়ের মরদেহ দাফন করতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার একজন লাশবাহী গাড়ি চালকের সাথে ৫ হাজার টাকা চুক্তি করেন। চালক মরদেহ দাফনের আশ্বাস দিয়ে গোলাম মোস্তফাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে মরদেহটি তিস্তা নদীতে ফেলে দেন। দুই দিন পরে স্থানীয়দের খবরে রবিবার (২৪মে) রাতে উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্দ্ধন গ্রামে তিস্তা নদী থেকে সরকারি ব্যাগে মোড়ানো অজ্ঞাত মরদেহটি উদ্ধার করে আদিতমারী থানা পুলিশ।

সোমবার (২৫ মে) ঈদের নামাজ শেষে আদিতমারী থানা পুলিশ মরদেহটির জানাজা শেষে আদিতমারী কেন্দ্রীয় কবর স্থানে দাফনের প্রস্তুতি নিতেই খবর পেয়ে পরিচয় শনাক্ত করেন মৃতের বাবা গোলাম মোস্তফা। অবশেষে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আদিতমারী থানা পুলিশ পাটগ্রাম থানা পুলিশের সহায়তায় পাটগ্রামের নিজ গ্রামে বিকেলে মৌসুমীকে দাফন করেন।

মৌসুমীর বাবা গোলাম মোস্তফা এর সাথে আদিতমারী থানা চত্বরে কথা হলে তিনি বলেন, হাতে পায়ে ধরতে চেয়েও লাশ গ্রামে নিতে দেয়নি আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত চেয়ারম্যান। বাধ্য হয়ে একজন ড্রাইভারকে ৫ হাজার টাকা দিয়েছি লাশ দাফন করতে। তারাও দাফন না করে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। অবশেষে আবারো মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করতে হলো আদিতমারী থানায়। মেয়ের মরদেহ নিয়ে যারা ব্যবসা করেছে তাদের বিচার দাবি করেন তিনি।

বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাতের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয় বিদারক ও দুঃখজনক। সরকারি ব্যাগে মোড়ানো মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে। মৃতের পরিচয় নিশ্চিত হবার পর তার বাবার আকুতি জেনে পুলিশ সুপারের নির্দেশে দুই থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে মরদেহ তার গ্রামে দাফন করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সুত্রঃ বিডি-প্রতিদিন/

বড়লেখায় পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে কিশোর খুন


মোঃইবাদুর রহমান জাকির বিশেষ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সিগারেটসহ বাকিতে মাল বিক্রির ৮৫ টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে এক যুবকের ছুরিকাঘাতে এসএসসি পরীক্ষার ফলপ্রার্থী জাকারিয়া হোসেন (১৮) নির্মমভাবে খুন হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ৮টায় উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউপির আরেঙ্গাবাদ গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

ছুরিকাঘাতের পরই ঘাতক যুবক আজিম উদ্দিন (৩৫) পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

এলাকাবাসী ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউপির আরেঙ্গাবাদ গ্রামের সালাহ উদ্দিন বাড়ির পাশে টং দোকানে পান, সিগারেট ও কাঁচামালের ব্যবসা করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তার ছেলে এসএসসি পরীক্ষার ফলপ্রার্থী জাকারিয়া হোসেন (১৮) দোকানদারী করছিল। প্রতিবেশী তোতা মিয়া বাড়ি থেকে টাকা এনে দিচ্ছেন বলে ডার্রবি সিগারেটসহ ৮৫ টাকার মালামাল ক্রয় করেন। বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তোতা মিয়া পাওনা টাকা পরিশোধ করেননি। রাত ৮টার দিকে জাকারিয়া হোসেন দোকানের পাওনা টাকা চাইতে তোতা মিয়ার বাড়িতে যায়। তিনি টাকা নেই বলে তাকে বিদায় করার চেষ্টা করেন। কিন্ত জাকারিয়া হোসেন টাকা না দিলে তার বাবা তাকে বকাঝকা করবেন জানিয়ে বারবার অনুনয় বিনয় করে। এ সময় তোতা মিয়ার ছেলে প্রবাস ফেরত আজিম উদ্দিন (৩৫) তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে সে জাকারিয়া হোসেনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরই ঘাতক আজিম উদ্দিন গা ঢাকা দিয়েছে।

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছে। অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তারের জন্য থানা পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

বড়লেখায় নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করেই গলাকেটে হত্যা, জড়িত ৫ জন গ্রেফতার

দৈনিক বড়লেখা ঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখার তরুণ মৎস্য খামার মালিক সমছ উদ্দিন (৩৪) হত্যার ২ দিনের মধ্যে পুলিশ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ হত্যাকান্ডে জড়িত ৫ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। উদ্ধার করেছে হত্যায় ব্যবহৃত ৩টি ধারালো দা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয় নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করেই ব্যবসায়ী সমছ উদ্দিনকে খুন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেফতারকৃত আসামীদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- রহমানীয়া চা বাগানের বাসিন্দা শচিন নায়েক জগাই (৩৫), মোহাম্মদনগর গ্রামের হাফিজুর রহমান (২৮), হেলাল উদ্দিন হেলাই (৩৫), মোক্তার আলী (৪৫) ও জসিম উদ্দিন (৪২)।

উপজেলার মোহাম্মদনগর এলাকায় আব্দুর রাজ্জাক এর পরিত্যক্ত ঘর থেকে সোমবার (১৮ মে) রাতে সমছ উদ্দিনের জবাই করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের মধ্যগ্রামতলা গ্রামের আমির উদ্দিনের ছেলে।

এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সমছ উদ্দিন নিখোঁজের পর তার বাবা আমির উদ্দিন থানায় জিডি করেন। এ জিডির ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাউসার দস্তগীরের দিক নির্দেশনায় বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হকের নেতৃত্বে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে নিখোঁজের পরদিন রাতে একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে সমছ উদ্দিনের জবাই করা লাশ উদ্ধার করে। এরপর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ রহমানীয়া চা বাগানের মৃত সত্য নায়েকের ছেলে শচিন নায়েক ও মোহাম্মদনগর গ্রামের আজির উদ্দিনের ছেলে হাফিজুর রহমানকে আটক করে। তাদের দেয়া তথ্যে পুলিশ মৃত জহুর আলীর ছেলে হেলাল উদ্দিন হেলাইকেও আটক করে। হত্যাকান্ডের ব্যাপারে সে পুলিশকে গুরুত্বপুর্ণ তথ্য প্রদান করে। পরে তার দেয়া তথ্যে পুলিশ মোক্তার আলী ও জসীম উদ্দিনকে আটক এবং হত্যকান্ডে ব্যবহৃত ৩টি দা উদ্ধার করে।

থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক সাংবাদিকদের জানান, নিখোঁজের পিতার জিডির ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাউসার দস্তগীর স্যারের দিক নির্দেশায় এক পর্যায়ে সমছ উদ্দিনের জবাই করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ত ৫ জনকেই একে একে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে পুলিশকে জানিয়েছে নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করেই তারা সমছ উদ্দিনকে খুন করেছে। মঙ্গলবার তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এ ব্যাপারে নিহতের পিতা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। থানা অফিসার ইনচার্জ এ-র চৌকস ভুমিকায় দ্রুত আসামি গ্রেফতার করতে পারায় এলাকায় অনেকটা স্বস্তি বিরাজ করছে।

বড়লেখায় ব্যবসায়ীর জবাই করা লাশ উদ্ধার।

মৌলভীবাজার বড়লেখায় সমছ উদ্দিন (৩৪) নামে এক ব্যবসায়ীর জবাই করা লাশ উদ্ধার করেছে বড়লেখা থানার পুলিশ।
রোববার (১৭) মে রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের পূর্ব মোহাম্মদনগর (বাজারিটিলা) এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।সমছ উদ্দিনের বাড়ি ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যগ্রামতলা এলাকায়। তিনি গ্রামের আমির উদ্দিনের ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সমছ উদ্দিন গত প্রায় ৮ মাস আগে দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের পূর্ব মোহাম্মদনগর (বাজারিটিলা) এলাকায় রহমানীয় চা বাগান সংলগ্ন বেশ কিছু জায়গা ক্রয় করেন। এই জায়গার কিছু অংশে দুটি মৎস্য খামার গড়ে তোলেন। দিনের পাশাপাশি তিনি প্রায়ই রাতে খামারে যাওয়া আসা করতেন। শনিবার (১৬ মে) রাতে বাড়ি থেকে খামারের উদ্দেশ্যে বের হন। রাতে আর ফেরেননি। রোববার (১৭ মে) সকালে পরিবারের লোকজন তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। বেশ কয়েকবার রিং হলেও রিসিভ হয়নি। এরপর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। দুপুরে পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে গিয়ে একটি বাড়ির সামনে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল দেখতে পান। কিন্তু তার কোনো সন্ধান পাননি। স্বজনরা তার খোঁজাখুঁজি অব্যাহত রাখেন। এক পর্যায়ে রাত সোয়া ১২টার দিকে মোহাম্মদনগর (বাজারিটিলা) এলাকায় খামারের অদূরে একটি পরিত্যক্ত ঘরে তার (সমছ উদ্দিনের) রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখতে পান। এরপর তারা বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত আড়াইটার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নিহত সমছ উদ্দিনের ২ মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে।সোমবার (১৮ মে) ভোরে এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যায়নি।খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাউসার দস্তগীর।বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক সোমবার (১৮ মে) ভোর রাতে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
সুত্রঃ বড়লেখা এক্সপ্রেস

বিশ্বনাথে সাংবাদিক নির্যাতন – বিএমএসএফের প্রতিবাদ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি ঃ সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার এক মাদকসেবীর হামলায় গুরুত্বর আহত হয়েছেন দৈনিক কালের কন্ঠের বিশ্বনাথ প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাব কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী শিপন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার জুম্মার নামাযের পর নিজ বাড়ী থেকে পার্শ্ববর্তী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাবার পথে হামলার শিকার হন তিনি। এসময় তার সাথে থাকা নগদ টাকা, মোবাইলসেট লুটে নেয় হামলাকারী দিলোয়ার হোসেন দিলা, উপজেলার কারিকোনা গ্রামের মৃত জবান আলীর ছেলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় থানা পুলিশ। এর আগেই পালিয়ে যায় হামলাকারী দিলা।
হামলা ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রূত গ্রেফতারের দাবি করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃমোছন আলী, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান,সাংগঠনিক সম্পাদক কবি এস পি সেবু,সহ সাধারন সম্পাদক,আজিজুর রহমান,আব্দুল বাছিত,সহ সভাপতি মকসুদ খান,আলতাব হুসেন,প্রমুখ।
হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তার সুস্থ্যতার জন্য বিএমএসএফ’র পক্ষ থেকে দোয়া চেয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ কামনা করেন।

শ্রমিক ইউনিয়নের টাকার হিসাব চাইতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন ট্রাকচালক

নিউজ ডেস্কঃ শ্রমিক ইউনিয়নের টাকার হিসাব চাইতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন ট্রাকচালক
চালক-শ্রমিকদের সাথে রাজশাহীর জেলা ট্রাক, ট্যাংক লরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের হিসাব চাইতে গিয়েছিলেন সোহরাব আলী (৩৫)।

শ্রমিকদের কল্যাণে রাস্তা থেকে তোলা টাকার হিসেব পেলেন না এই ট্রাকচালক। করোনার দুর্যোগকালে পেলেন না নূন্যতম সহায়তাও। শ্রমিকদের মারামারির ভেতরে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শুক্রবার বিকেলে নগরীর ঘোড়ামারা এলাকায় জেলা ট্রাক, ট্যাংক লরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে এ-ই ঘটনা ঘটে। সকাল থেকেই সেখানে বিক্ষোভ করছিলেন চালকরা। মৃত ট্রাকচালক সোহরাব আলী নগরীর খোজাপুরের বাসিন্দা।

শ্রমিকদের ভাষ্য, তাদের সংগঠনের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৬০০ জন। সম্প্রতি তাদের ইউনিয়নের সভাপতি ফরিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আক্কাস আলী কিছু শ্রমিককে ডেকে ৮ কেজি করে চাল ও ২ কেজি করে আলু দিচ্ছিলেন। শ্রমিকদের কেউ কেউ বেকায়দায় পড়ে নিয়েছেন। কিন্তু বেশিরভাগই সেই চাল-আলু প্রত্যাখান করে তাদের টাকার হিসাব চেয়েছেন। সেদিন ১১ মে হিসাব দেয়া হবে বলে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক জানান। কথামতো তারা সেদিন ইউনিয়ন কার্যালয়ে যান। কিন্তু হিসাব না দিয়ে আবারও ১৫ মে দিন দেয়া হয়। কথামতো তারা এ দিনও এসেছেন। কিন্তু তাদের জানানো হয়েছে হিসাব প্রস্তুত করা হয়নি। তাই তারা অবস্থান নিয়েছেন।


সাজ্জাদ আলী নামের এক শ্রমিক বলেন, বর্তমান কমিটির মেয়াদ তিন বছর। গত ১৭ এপ্রিল কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাই কমিটির কাছে হিসাব প্রস্তুত থাকার কথা। কিন্তু টাকা নয়ছয় হয়েছে বলে হিসাব প্রস্তুত নেই বলে মনে করেন তিনি।

সাজ্জাদ ধারণা করেন, তিন বছরে এই কমিটির কাছে অন্তত ১৫ কোটি টাকা গেছে শ্রমিকদের উন্নয়নের নামে। কিন্তু এখন তাদের দিন চলছে না। তারা টাকার হিসাব চাওয়ায় বর্তমান কমিটির কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

সাজ্জাদ বলেন, হাতাহাতির মধ্যে পড়েছিলেন ট্রাকচালক সোহরাব আলী। তিনি রোজাও রেখেছিলেন। এ রকম পরিস্থিতিতে তার রক্তচাপ বেড়ে যায়। অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মাথায় পানি দেয়া হয়। এরপর তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। তখন চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর শ্রমিকরা একটি পিকআপে করে তার লাশ ইউনিয়নের কার্যালয়ের সামনে আনা হয়।

বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর বোয়ালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, টাকার হিসাব চাইতে এসে এক শ্রমিক মারা গেছেন। তার লাশ ইউনিয়নের কার্যালয়ের সামনে আছে। শ্রমিকরা উত্তেজিত। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে। মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। সুত্রঃ জাগো নিউজ

পরকিয়া প্রেম,অত:পর ছেলে খুন।



মামুন ছেলের স্কুলে দাড়িয়ে আছে ছেলের জন্য। আজকে তার ছেলে মাহবুবের পরিক্ষার ফলাফল জানাবে। ছেলেটার জন্যই এসেছে। অনেক ছেলেমেয়ের বাবা মা এসেছে।আর তাদের সন্তানদের নিয়ে প্রশংসা করছে। এক মহিলা অন্য মহিলাকে বলছে “দেখবেন আমার ছেলেই প্রথম হবে”মামুন এইসব কথা
শুনছে আর দাড়িয়ে আছে।ছেলের জন্য তারও চিন্তা হচ্ছে।কারন শেষের কয়েকটি পরিক্ষার সময়ে ছেলে অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল। কেমন ফলাফল হবে জানে না। কিছুক্ষণ পরে মাহবুব আসলো। মনটা ভারি ভারি। মুখেও তেমন হাসি নেই। মনে হয় ফলাফল ভাল হয় নি। অনেকে ছেলের জন্য টিউশানির ব্যাবস্থা করেছে। কিন্তু মামুন সেটা পারে নি।কাছে আসার পরে মামুন জিজ্ঞেস করলো
-কি হয়েছে বাবা? মন খারাপ কেন?
-বাবা আমি ক্লাসের মধ্যে প্রথম হয়েছি।
-কি!! আরে এতে মন খারাপ করে আছ কেন?
-দেখলাম তুমি কেমন করো।তুমি খুশি হয়েছ?
-হ্যা বাবা।অনেক খুশি হয়েছি। বলো তুমি আজকে কি চাও? আজকে দিবো।
-সত্যি দিবে? তোমার কাছে অত টাকা হবে?
-অবশ্যই হবে।
-তাহলে আমার জন্য আইসক্রিম আনবে।
-শুধু আইসক্রিম?
-আইসক্রিম হলেই হবে।
ছেলেকে স্কুলে রেখে মামুন অফিসে চলে গেল। আজ তার অনেক বেশি খুশি লাগছে। আজ মামুনের ছোট বেলার কথা মনে পরছে। ছোট বেলায় যখন মামুন তার বাবাকে গিয়ে বলেছিল
-বাবা আমি ফার্স্ট হয়েছি।
-সেটা কি বাবা?
-আমি সবার চেয়ে ভাল নাম্বার পেয়েছি।
-বাবারে। তোর এই কাজের জন্য আমার।অনেক খুশি লাগছে। আমি তোকে ডাক্তার বানাবো। মামুনের বাবা সেদিন ছেলেকে ডাক্তার বানানোর সপ্ন দেখেছিল। কিন্তু মাঠে কাজ করে সেই সপ্ন পুরন করতে পারে নি।
মামুনের ইচ্ছা তার ছেলেকে ডাক্তার বানাবে। সে শত চেষ্টা।করে হলেও সপ্ন নামের সোনার হরিনকে ধরার চেষ্টা করবে।যেই হরিনকে মামুন ধরতে পারে নি।


মাহবুব বাড়িতে এসে দেখে কাদের আংকেল এসেছে।মাহবুব কাদের আংকেলকে বলল
-আংকেল। আমি এবারো ফার্স্ট হয়েছি।
-তাই! তাহলে তো তোমাকে একটা গিফট দিতে হবে?
-কি গিফট দিবেন?
-তোমার প্রিয় জিনিস আইসক্রিম। এই নাও ৫০ টাকা। ওই দুরের ওই দোকান থেকে আইসক্রিম কিনে খাবে।
-আচ্ছা।
-কিনে ওখান থেকেই খেয়ে আসবে। কারন বাড়িতে আনতে নষ্ট হয়ে যাবে।. খুশি মনে মাহবুব টাকা
নিয়ে চলে গেল আইসক্রিম কিনতে।
মাহবুব অন্যের কাছ থেকে টাকা অথবা কোন গিফট নেয় না। কিন্তু কাদের আংকেল কিছু দিলে তার মা
নিতে বলেছে। কাদের আংকেল তাদের কাছের মানুষ।
.
দোকানে গিয়ে মাহবুব দেখলো সবগুলো দোকান বন্ধ। এই দুপুরবেলা দোকান বন্ধ থাকে।টাকাটা আংকেল কে ফেরত দেওয়া দরকার। তাই বাড়িতে চলে যাওয়াই ভাল।
.

মামুন সাহেব অনেক বলার পরে আজকের দিনে ছুটি নিতে পেরেছে। আজকে তার ছেলেকে নিয়ে ঘুরবে।
দুপুরবেলা গাড়ি না পাওয়ায় হেটেই বাজারে চলে যাচ্ছে মামুন। যত তারাতারি সম্ভব বাসায় যেতে হবে। যখন ছেলেকে আইসক্রিম দিবে আর তার প্রিয় মাছ নিয়ে যাবে। তখন তার ছেলে অনেক খুশি হবে। যেই খুশিটা
দেখার জন্য মামুনের মনটা মানছে না।বাজারে গিয়ে মাহবুবের প্রিয় মাছ আরো তার প্রিয় খাবারগুলো
কিনলো।ব্যাগ হাতে রিক্সায় চড়ে বাড়ির দিকে রওনা হল।সে জানে ছেলে তার জন্য অপেক্ষা করছে।
.

মাহবুব বাড়িতে এসে আংকেল কে খুজে পেল না। মনে হয় চলে গেছে। টাকাটা জানালা দিয়ে ভেতরে রেখে দিয়ে তার মত খেলতে চলে যাবে। মাহবুব দরজা বন্ধ
পেয়ে জানালা দিয়ে টাকা রাখার জন্য হাত বাড়ালো।
জানালায় তাকাতে মাহবুব দেখলো তার মা শুয়ে আছে। কিন্তু এভাবে শুয়ে আছে কেন? আর কাদের
আংকেল পাশে শুয়ে আছে কেন?আর তাদের এইরকম হয়ে থাকার কারন কি? জিজ্ঞেস করা দরকার। তাই মাহবুব আংকেলকে ডাক দিলো।
.

মামুন পথে আসার সময়ে অনেক কিছুই ভেবেছে। ছেলের কথা ভেবেছে।বাড়িতে এসে মাহবুব কে ডেকে না পাওয়ার পরে ঘরে ঢুকলো। ঘরে ঢুকে মাহবুব
ছেলেকে দেখলো। কিন্তু ছেলের মুখের হাসি দেখলো না। ছেলেটা ঘুমিয়ে আছে।মামুনের ফার্স্ট হওয়া ছেলে আজ ঘুমিয়ে আছে।মামুনের সপ্নটা সপ্নই থেকে গেল।সপ্ন নামের সোনার হরিনের দেখা মামুন পেল না। শুধু কাঁদতে কাঁদতে বলল “কি অন্যায় করেছিলাম আমি? যে আজকে আমার সপ্ন দেখা ছেলেকে লাশ দেখতে হল”
.
মামুনের স্ত্রি রান্না।ঘর থেকে মাছ কাটার বটি নিয়ে এসেছে। কিছু একটা কাটার জন্য। আজকেও মামুনের স্ত্রি বটি দিয়ে কাটলো। তবে মাছ না কেটে আজকে ছেলের গলা কাটলো। মাছের চেয়ে বেশি রক্ত বেড়িয়ে মেঝেতে ছড়িয়ে গেল। অনেক বোঝানোর পরেও যখন ছেলে শুনলো না। বলল “আমি বাবাকে বলবো সব”।
তাই কাদেরের বুদ্ধিতে ছেলের গলায় বটি চালাতে হল। পরে ছেলেকে হত্যা করার অপরাধ বুঝলো। কিন্তু পরকিয়া প্রেমের কারনে পরে বুঝেও কোন লাভ হলো
না।
কালেক্টেড

মধ্যরা‌তে ক‌রোনা রোগীকে বাসা থেকে বের করে দিলেন বাড়িওয়ালা ও প্রতিবেশীরা

নিউজ ডেস্কঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় এক করোনা রোগীকে বাসা থেকে মারধর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাড়ির মালিকসহ এলাকার কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বুধবার (৬ মে) রাত সাড়ে এগারটার দিকে উপজেলার রূপসী বাগবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী তরুণ রূপসী বাগবাড়ি এলাকার নূর হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তিনি সিটি গ্রুপে চাকরি করেন।
ভুক্তভোগীর মামা সিরাজুল ইসলাম জানান, জ্বর, সর্দি দেখা দিলে তার ভাগ্নে গত ৩ মে উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগে নমুনা দিয়ে আসে। বুধবার রিপোর্টে তার করোনা পজিটিভ আসে। চিকিৎসকের পরামর্শে সে বাসাতেই ছিল। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বাড়ির মালিকসহ এলাকার কিছু লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে এসে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বিষয়টি সে চিকিৎসককে জানায়। পরে ওই ডাক্তার বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে ওই বাড়িতে রেখে আসে। বাড়িওয়ালাকে সতর্ক করে দেয়।
রূপগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগম জানান, মারধরের বিষয় ঘটেনি তবে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আমি বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাস্থলে ডাক্তার এবং পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমি নিজেও ওই ছেলের সঙ্গে কথা বলেছি। এটা কেউ করতে পারে না। যারা এই কাজটি করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সে আমাদের পরামর্শে বাসায় ছিল। এত রাতে একজন মানুষকে এভাবে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়াটা অমানবিক। ওই ছেলে ওই বাড়িতেই থাকবে। তাকে যদি সেখান থেকে হাসপাতাল বা অন্য কোথাও নিতে হয় সেটি আমরা নেবো। তাছাড়া এভাবে একজন করোনা রোগীকে বের করে দেওয়া মানে অন্যকে সংক্রমিত করা।
রূপগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, রোগীকে ওই বাসা‌তেই রেখে এসেছি। সকালে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই রোগীর সঙ্গে আর কোনও ঝামেলা করা হলে বাড়িওয়ালাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ত্রাণ নিতে গিয়ে ধর্ষিত হচ্ছে শিশুরা, জরিপের তথ্য

নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে চলমান অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও থেমে নেই নারী ও শিশু নির্যাতন। এমনকি মহামারীর এই সময়ে ত্রাণ নিতে যাওয়া শিশুদের ধর্ষণ করার মতো গুরুতর ঘটনার তথ্যও উঠেছে এসেছে একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপে।

মোবাইল ফোনে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ এর করা একটি জরিপে এসেছে, গেল এপ্রিল মাসে দেশের ২৭ জেলায় চার হাজার ২৪৯ জন নারী ও ৪৫৬ জন শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছে।

বুধবার এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে জরিপের তথ্য উপস্থাপন করে জানানো হয়, এদের মধ্যে এক হাজার ৬৭২ জন নারী এবং ৪২৪ জন শিশু প্রথমবারের মতো নির্যাতনের শিকার হয়েছে। শিশুদের মধ্যে ৯২ ভাগই তাদের বাবা-মা ও আত্মীয়দের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে।

সংস্থার দুইটি প্রকল্পের কর্মএলাকার ২৪টি সহযোগী সংগঠন ২৭টি জেলার ৫৮ উপজেলার ৬০২টি গ্রাম ও চারটি সিটি কর্পোরেশনের ১৭ হাজার ২০৩ জন নারী ও শিশুদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ করে।

ব্রিফিংয়ে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, “জরিপের তথ্য অনুযায়ী স্বামীর দ্বারা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮৪৮ জন নারী, মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দুই হাজার আটজন, যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮৫ জন এবং অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক হাজার ৩০৮ জন নারী। এর বাইরে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন চারজন নারী, হত্যা করা হয়েছে একজনকে এবং যৌন হয়রানি করা হয়েছে ২০ জন নারীকে।

“উত্তরদাতা চার হাজার ২৫৯ শিশুর মধ্যে ৪২৪ জন শিশু পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছে। এর বাইরে বাল্যবিয়ে হয়েছে ৩৩টি এবং অন্যান্য সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪২টি। চারজন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ১৬ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়, অপহৃত হয়েছে দুইজন, যৌন হয়রানির শিকার ১০ জন এবং রিলিফ নেয়ার সময় ১০ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়।”

করোনাভাইরাসের এই সঙ্কটের মধ্যে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে পারিবারিক এবং অন্যান্য সহিংসতা প্রতিরোধ, সহায়তা দিতেই জরিপটি চালানো হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

জরিপের বিষয়ে শাহীন আনাম বলেন, “লকডাউনের কারণে ইনডেপথ জরিপ করা সম্ভব হয়নি। সেজন্য আমরা টেলিফোনে করেছি। আমরা লকডাউনে পারিবারিক নির্যাতনের অবস্থা ও কি ধরণের নির্যাতন হচ্ছে তা জানতে চেয়েছি। তাদের কি ধরণের সাপোর্ট দেওয়া যায় সেটিও জানতে চেয়েছি।”

সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুরা যেন ফোন করে দ্রুত সহযোগিতা পায় সেজন্য সরকারি হেল্প লাইনগুলো আরও কার্যকর রাখার সুপারিশ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সহিংসতার কারণে ঘর ছাড়তে বাধ্য হওয়া নারীদের সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় পাওয়ার ব্যবস্থা করা ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

এছাড়া মহামারী পরিস্থিতিতেও নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চালু রাখতে ‘ভার্চুয়াল কোর্ট অর্ডিন্যান্স’ দ্রুত রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়।

ব্রিফিং সঞ্চালনা করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সিনিয়র মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর শাহানা হুদা। সুত্রঃ বিডিনিউজ

লুডুখেলা নিয়ে বিরোধ, বন্ধুর ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

ছবি প্রতিকি

নিউজ ডেস্কঃ বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে মানিক (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার পৌর-বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মানিক উপজেলার পৌর-এলাকার পশ্চিমপাড়ার চা বিক্রেতা আবেদ আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরেই গাবতলীর বিভিন্ন স্থানে বাজি (জুয়া) ধরে লুডু খেলা চলছিল। বুধবার সন্ধ্যায় পৌর-এলাকার পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা নাহিদের সঙ্গে বাজিতে লুডু খেলছিলেন নিহত মানিক। খেলার খেলতেই বাজির টাকা নিয়ে দু’জনের মধ্য কোন্দল শুরু হয়। এরই একপর্যায়ে মানিককে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান নাহিদ।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত মানিককে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে গাবতলী সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বাংলানিউজকে জানান, বুধবার ইফতারের পূর্ব-মুহুর্তে লুডু খেলায় বাজির টাকা নিয়ে বিবাদের জেরে ছুরিকাঘাতে মানিক খুন হন। এ ঘটনায় নিহত মানিকের বন্ধু নাহিদকে আটকের চেষ্টা চলছে। সুত্রঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ছুরিকাহত সোনালী ব্যাংকের ২ কর্মকর্তা

নিউজ ডেস্কঃ বগুড়ায় সোনালী ব্যাংকের নন্দীগ্রাম শাখার দুই কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত করে ভল্টের চাবিসহ ব্যাগ, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শাজাহানপুর থানার জোড়া এলাকায় বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে তারা হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের নন্দীগ্রাম শাখার লেনদেন প্রায় আধা ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়।

হামলার শিকার কর্মকর্তারা হলেন সোনালী ব্যাংকের নন্দীগ্রাম শাখার ম্যানেজার মতিউর রহমান (৫০) ও সিনিয়র অফিসার আতাউর রহমান (৪৫)। তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মতিউর রহমান ও আতাউর রহমান বগুড়া শহরের নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে তাদের কর্মস্থল নন্দীগ্রাম যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে সকাল ১০টার দিকে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে জোড়া নামক স্থানে দুর্বৃত্তরা পথরোধ করে তাদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে ভল্টের চাবি, টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, ছুরিকাহত দুজন ব্যাংক কর্মকর্তার অবস্থা উন্নতির দিকে। ঘটনার পর পরই দুর্বৃত্তদের ধরতে পুলিশি অভিযান শুরু করেছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।

বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মতিউর রহমান জানান, দুর্বৃত্তরা হঠাৎ করেই পথ রোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলা করে এবং আমাদের কাছ থেকে প্রায় ১০ হাজার টাকা, ভল্টের চাবিসহ ব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। সুত্রঃ বণিক বার্তা

সাঈদীর মুক্তি চেয়ে ফেসবুক পোস্ট দেওয়ায় শিক্ষক গ্রেফতার

গ্রেফতারের প্রতীকী ছবি

নিউজ ডেস্কঃ মানবতাবিরোধী অপরাধেয়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তি চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তেরশ্রী কালী নারায়ণ (কে এন) ইনস্টিটিউশনের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সোলায়মান ইসলাম (৪০) ফেসবুক পোস্ট দিলে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।

ঘিওর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আশরাফুল আলম বলেন, গ্রেফতারকৃত শিক্ষক ঘিওর উপজেলার তেরশ্রী কে. এন ইনস্টিটিউশনের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবেক কর্মরত রয়েছে। তার বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের আবুডাঙ্গা গ্রামে।

শনিবার (২ মে) রাতে তিনি তার ফেসবুকে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তি চেয়ে স্ট্যাটাস দেন। রবিবার রাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। ওসি আশরাফুল আলম বলেন তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

থাপ্পড়ের বদলা নিতে বাড়িওয়ালার শিশুপুত্রকে হত্যা

গাজীপুর থাপ্পড়ের প্রতিশোধ নিতে বাড়ির মালিকের শিশুপুত্রকে অপহরণ করে হত্যা করেছে ভাড়াটিয়া। ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য অপহরণকারী পরিচয়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণও দাবি করা হয়েছিল। শনিবার রাতে টাকা দেয়ার ফাঁদ পেতে মূলহোতা সাগর হোসেনকে আটক করে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহানগরীর কোনাবাড়ী থানার পারিজাত আমতলা এলাকার একটি গেঞ্জির ঝুট গোডাউন থেকে শিশুটির লাশ মরদেহ উদ্ধার করে র‌্যাব ১।

নিহত শিশু আলিফ হোসেন (৫) কোনাবাড়ি থানার পারিজাত এলাকার বাসিন্দা ফরহাদ হোসেনের ছেলে। আটক সাগর হোসেন (১৯) নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার পদিপাড়া গ্রামের রফিক উল্লাহর ছেলে।
র‌্যাব ১ এর গাজীপুর ক্যাম্পের কমান্ডার (লে. কমান্ডার) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, শিশু আলিফ হোসেন গত ২৯ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিখোঁজ হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে শিশুর দাদা রাহামুদ্দিনের মোবাইলে ফোন করে আলিফ হোসেনকে অপহরণ করে অজ্ঞান অবস্থায় করে রাখা হয়েছে জানিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করে অপহরণবারীরা। মুক্তিপণের টাকা না দিলে শিশুটিকে হত্যার হুমকি দেয়। এরপর অপহরণকারীরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়।

শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে অন্য একটি মোবাইল নম্বর থেকে আবারও ফোন দিয়ে আলিফের পরিবারের কাছে মুক্তিপণের টাকা দাবি করেন অপহরণকারীরা। শিশুটির বাবা টাকা নিয়ে অপহরণকারীদের কধামত বিভিন্ন জায়গায় যান। কিন্তু সামনাসামনি না হয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। একপর্যায়েয় আলিফ হোসেনের বাবা ঘটনাটি র‌্যাবকে জানায়। পরে র‌্যাব ১ সদস্যরা শনিবার রাতে টাকা দেওয়ার জন্য ফাঁদ পেতে সাগরকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ফরহাদ হোসেনের বাড়ির তিনতলার একটি গোডাউন থেকে শনিবার রাতে আলিফ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের কাছে সাগর স্বীকার করছে, তিন বন্ধু মিলে তারা ফরহাদ হোসেনের বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্লাটে ভাড়া থেকে গার্মেন্টে চাকরি করত। বাড়ির ছাদে উঠে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা এবং উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করায় এক সপ্তাহ আগে বাসার মালিক শিশুটির বাবা সাগরের রুমমেট জুয়েল আহমেদ ওরফে সবুজকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দেয়। ওই থাপ্পড়ের প্রতিশোধ এবং দ্রুত অনেক টাকার মালিক হওয়ার স্বপ্নে বাড়ির মালিকের প্রতি ক্ষোভ থেকে প্রতিশোধ নিতে সাগর ও সবুজ মিলে শিশু আলিফকে হত্যা এবং অপহরণের নাটক সাজিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন আলিফকে ডেকে ঘরে নিয়ে আসে এবং খেলার ছলে বাসার ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে সবুজ গলা টিপে ধরে এবং সাগর মুখ চেপে ধরে শ্বাস রোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে লাশ একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর করে বাসার পাশের রুমে ঝুটের গুদামের ভেতর রেখে দেয়। ওই রাতে বানায় থেকে পরদিন সকালে স্বাভাবিকভাবে বাসা থেকে বের হয়ে ঢাকায় চলে যায় এবং আসামিরা বিভিন্ন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ভিকটিমের বাবার মোবাইল ফোনে কল করে অপহরণের কথা জানায় এবং মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। সবুজ পলাতক রয়েছে। সুত্রঃ কালের কন্ঠ

ঢাকাফেরৎ ব্যক্তিকে ‘কোয়ারেন্টিনের’ ভয় দেখিয়ে এসআইয়ের চাঁদা দাবি!

ছবি প্রতিকি

অসুস্থতার কথা বলে ছুটি নিয়ে পাশের থানায় গিয়ে এমন ঘটনা ঘটান তিনি

নিউজ ডেস্কঃ ঢাকাফেরৎ এক ব্যক্তিকে “হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার” ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির অপরাধে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক মিয়াকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, অসুস্থতাজনিত (মেডিকেল) ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ছেড়ে পার্শ্ববর্তী তাড়াশ থানায় গিয়ে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগীর স্ত্রী উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন। ওসি বিষয়টি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান।

অবশেষে বুধবার (২৯ এপ্রিল) “দায়িত্ব অবহেলার” কারণ দেখিয়ে এসআই মানিককে উল্লাপাড়া থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উল্লাপাড়ার ওসি দীপক কুমার।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী আবুজল প্রামাণিক তাড়াশ উপজেলার তালোম শিবপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্বল্প আয়ের এই ব্যক্তি ঢাকায় থাকেন। গত মার্চে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি গ্রামের বাড়িতে এসে আটকা পড়েন। জীবিকার তাগিদে প্রায় এক মাস যাবৎ তিনি স্থানীয়ভাবে মাস্কের ব্যবসা শুরু করেন। গত ২৩ এপ্রিল তাকে “হোম কোয়ারেন্টিনে” রাখা হবে এমন হুমকি টাকা দাবি করেন অভিযুক্ত এসআই মানিক।

ওসি দীপক বলেন, “পুলিশ সুপার কার্যালয়ের এক আদেশ অনুযায়ী বুধবার রাতে মানিককে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। আদেশপত্রে চাঁদা দাবির বিষয়টি না থাকলেও দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।”

চিকিৎসাজনিত ছুটিতে পার্শ্ববর্তী থানায় গিয়ে এসআইয়ের চাঁদা দাবির ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক বলে মন্তব্য করেন ওসি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত এসআই মানিক মিয়ার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কল করে ঢাকা ট্রিবিউন। সাংবাদিক পরিচয় শুনে তাৎক্ষণিক তিনি সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।

প্রসঙ্গত, এর আগেও দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির অপরাধে মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে উল্লাপাড়ায় থানার সিনিয়র সহকর্মীরা দু’টি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বলেন, “বিষয়টি বিব্রতকর। তারপরেও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” সুত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন

সাভারে গণপরিবহন চালুসহ তিন দফা দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্কঃ
শ্রমিকদের কল্যাণের নামে বিভিন্ন শ্রমিক-মালিক সমিতির ব্যানারে চাঁদা আদায় বন্ধ, অবিলম্বে গণপরিবহন চালু ও ত্রাণ সহায়তার দাবিতে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের থানা রোড এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন গণপরিহন শ্রমিকরা।এ সময় শ্রমিকরা সড়কে বসে তিন দফা দাবি আদায়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে পুলিশ ও পরিবহন মালিকপক্ষের আশ্বাসে প্রায় এক ঘণ্টা সড়কে অবস্থানের পর সরে যান পরিবহন শ্রমিকরা।পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যে সবচেয়ে অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। প্রায় এক মাস কর্মহীন অবস্থায় থাকলেও তাদের কোনো ত্রাণ কিংবা সহায়তা প্রদান করেনি কেউ। এতে পরিবার নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা ও হতাশা নিয়ে দিন পার করছেন। তারা শ্রমিকদের কল্যাণের নামে বিভিন্ন শ্রমিক-মালিক সমিতির ব্যানারে চাঁদা আদায় বন্ধ, অবিলম্বে গণপরিবহন চালু ও ত্রাণ সহায়তার দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।সাভার পরিবহনের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, গণপরিবহন চালুসহ তিন দফা দাবিতে সড়কে অবস্থানরত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার পর তারা সড়ক ছেড়ে দেয়।সাভার মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাদের মোল্লা জানান, করোনা সংকটের মাঝে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকরা কোনো সাহায্য না পেয়ে সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের থানা স্ট্যান্ড এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে শ্রমিকদের সহযোগিতার জন্য পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা সড়ক থেকে চলে যান। সুত্রঃ জাগো নিউজ

রাতে দুই সন্তান নিয়ে ঘুমালেন মা, সকালে ধানক্ষেতে মিলল লাশ

নিউজ ডেস্কঃ রাতে দুই সন্তান নিয়ে ঘুমালেন মা, সকালে ধানক্ষেতে মিলল লাশ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় সালমা বেগম (৩০) নামে দুই সন্তানের জননীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধানক্ষেতে নগ্ন অবস্থায় পড়ে ছিল তার লাশ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর সাড় ১২টার দিকে বগুড়া-নাটোর সড়কের উপজেলার জোড়া বটতলা কানাইপুকুর ব্রিজের পূর্বপাশে আশেকপুর মধ্যপাড়ার ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সালমা বেগম উপজেলার আশেকপুর মধ্যপাড়ার রাজমিস্ত্রি ছাইদুজ্জামানের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানায়, সালমা বেগমকে ‘গণধর্ষণের’ পর শ্বাসরাধে হত্যা করে ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

সালমা বেগমের মা ছাহেরা বেগম জানান, সালমাকে গাবতলী উপজেলার তন্বী গ্রামের সোহেল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেন। তাদের সংসারে জান্নাতি (৯) ও আল আমিন (৬) নামে দুটি সন্তান রয়েছে। সংসারে ঝগড়া হওয়ায় ছয় মাস পরে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয় সালমার। বিয়ের পর থেকেই সালমা বাবার বাড়িতে থাকতেন। সালমা স্থানীয় ব্যাগ তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। মাঝেমধ্যে জামাই সোহেল রাস্তায় সালমাকে বিরক্ত করতেন। এমনি ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে হত্যার হুমকি দিতেন।


সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন সালমা। ভোররাতে সাহরি খেতে মা ছাহেরা ওঠে দেখেন সালমা ঘরে নেই। তখন থেকেই সালমাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সকালে বাড়ির অদূরে ধানক্ষেতে সালমার লাশ পড়ে আছে বলে শুনতে পান মা ছাহেরা।

সালমার শিশুকন্যা জান্নাতি জানায়, গভীর রাতে ঘরের বেড়ায় কারা যেন ধাক্কাধাক্কি করেছিল। শব্দ শুনে বের হন মা। এরপর আর ঘরে আসেননি মা।

শাজাহানপুর থানা পুলিশের ওসি আজিম উদ্দীন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার আগে কিছু বলা যাবে না।

এদিকে, এ ঘটনার খবর পেয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার ও গোয়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দুর্নীতি’র সংবাদ প্রচার করায় জামিল হোসেনের উপর হামলা,বড়লেখা প্রেসক্লাবের নিন্দা

জাকির আহমদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
হাকালুকি হাওরের দখল বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশের জেরে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘মৌলভীবাজার প্রতিদিন’র বড়লেখা উপজেলা প্রতিনিধি ও বড়লেখা প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক জামিল আহমদের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাতে উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক জামিল একই ইউনিয়নের পাকশাইল গ্রামের মোঃছফির উদ্দিনের ছেলে। সে মৌলভীবাজার প্রতিদিন ছাড়াও মৌলভীবাজার সমাচার নামক পত্রিকাতেও বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে।

জানা যায়,গত ১৩ মার্চ হাকালুকি হাওরে সংখ্যালঘু ও নিরীহ লোকদের জমি দখল নিয়ে মৌলভীবাজার প্রতিদিনে ‘হাকালুকি হাওরে ক্ষনতাসীনদের দখল বাণিজ্য’ শিরোনামে অনুসন্ধানী একটি প্রতিবেদন লিখেছিলেন জামিল। এ সংবাদ প্রকাশের পর পরই সরকারী দলের নেতাকর্মীরা মোবাইল ফোনে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। তিনি হুমকির প্রতিকারে ১৩ মার্চ সন্ধায় বড়লেখা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) দায়ের করেন। বড়লেখা থানায় সাংবাদিক জামিলের দায়ের করা সে জিডি’র নাম্বার ২৯১। জিডি দায়েরের ২ দিন না পেরুতেই তার উপর ন্যাক্ষারজনক হামলা ঘটনা ঘটলো।

জানা যায়,১৫ মার্চ রাত ১০ টার দিকে সাংবাদিক জামিল আহমদ স্থানীয় ফকির বাজার থেকে তার গ্রামের বাড়ি পাকশাইল ফিরছিলেন। এসময় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন মুখোশধারী সন্ত্রাসী জামিলের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তার চিৎকার শুনে পথচারী ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় সাংবাদিক জামিলকে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

এদিকে প্রেসক্লাবের তরুণ সদস্য,সাংবাদিক জামিল আহমদের উপর ন্যাক্ষারজনক হামলার নিন্দা জানিয়েছে বড়লেখা উপজেলা প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাবের সভাপতি অসিত রঞ্জন দাস এবং সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র দাস হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন,’সত্য ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ লিখে সমাজকে আলোকিত করাই সাংবাদিকদের কাজ। অন্যায়-অপকর্ম তুলে ধরার কারণে সাংবাদিক জামিল আহমদকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তার উপর হামলাকারীদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখী করতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের গ্রেফতার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান এই দুই সাংবাদিক নেতা।

দুর্নীতি’র সংবাদ প্রচার করায় জামিল হোসেনের উপর হামলা,বড়লেখা প্রেসক্লাবের নিন্দা

জাকির আহমদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
হাকালুকি হাওরের দখল বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশের জেরে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘মৌলভীবাজার প্রতিদিন’র বড়লেখা উপজেলা প্রতিনিধি ও বড়লেখা প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক জামিল আহমদের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাতে উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক জামিল একই ইউনিয়নের পাকশাইল গ্রামের মোঃছফির উদ্দিনের ছেলে। সে মৌলভীবাজার প্রতিদিন ছাড়াও মৌলভীবাজার সমাচার নামক পত্রিকাতেও বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে।

জানা যায়,গত ১৩ মার্চ হাকালুকি হাওরে সংখ্যালঘু ও নিরীহ লোকদের জমি দখল নিয়ে মৌলভীবাজার প্রতিদিনে ‘হাকালুকি হাওরে ক্ষনতাসীনদের দখল বাণিজ্য’ শিরোনামে অনুসন্ধানী একটি প্রতিবেদন লিখেছিলেন জামিল। এ সংবাদ প্রকাশের পর পরই সরকারী দলের নেতাকর্মীরা মোবাইল ফোনে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। তিনি হুমকির প্রতিকারে ১৩ মার্চ সন্ধায় বড়লেখা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) দায়ের করেন। বড়লেখা থানায় সাংবাদিক জামিলের দায়ের করা সে জিডি’র নাম্বার ২৯১। জিডি দায়েরের ২ দিন না পেরুতেই তার উপর ন্যাক্ষারজনক হামলা ঘটনা ঘটলো।

জানা যায়,১৫ মার্চ রাত ১০ টার দিকে সাংবাদিক জামিল আহমদ স্থানীয় ফকির বাজার থেকে তার গ্রামের বাড়ি পাকশাইল ফিরছিলেন। এসময় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন মুখোশধারী সন্ত্রাসী জামিলের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তার চিৎকার শুনে পথচারী ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় সাংবাদিক জামিলকে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

এদিকে প্রেসক্লাবের তরুণ সদস্য,সাংবাদিক জামিল আহমদের উপর ন্যাক্ষারজনক হামলার নিন্দা জানিয়েছে বড়লেখা উপজেলা প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাবের সভাপতি অসিত রঞ্জন দাস এবং সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র দাস হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন,’সত্য ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ লিখে সমাজকে আলোকিত করাই সাংবাদিকদের কাজ। অন্যায়-অপকর্ম তুলে ধরার কারণে সাংবাদিক জামিল আহমদকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তার উপর হামলাকারীদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখী করতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের গ্রেফতার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান এই দুই সাংবাদিক নেতা।