কোভিড-১৯, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে ২টি করে মোট ৪টি বুথ স্থাপন


মোঃইবাদুর রহমান জাকির বিশেষ প্রতিনিধিঃ

.কোভিড-১৯ ভাইরাস পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় ২টি করে মোট ৪টি বুথ স্থাপন করে দিলেন কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, দৈনিক শুভ প্রতিদিনের সম্পাদক ও প্রকাশক সরওয়ার হোসেন। রোববার (১৪ জুন) সকাল ১১টায় গোলাপগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত দুটি বুথের অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সরওয়ার হোসেন। নিজস্ব অর্থায়নের এ চারটি বুথ স্থাপন করে দেন তিনি।

নিজে উপস্থিত থেকে এ বুথ স্থাপনের সময় তিনি বলেন, করোনায় সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন। তারা সুস্থ না থাকলে কিভাবে আমাদের জন্য করোনা সংকটে কাজ করবে। এজন্য এই নমুনা সংগ্রহের বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এসময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহীনুর ইসলাম শাহিন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ ওয়াদুদ এমরুল, ব্রাজিল যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু সুফিয়ান উজ্জল, ছাত্রলীগ নেতা রাহাত তপাদার প্রমুখ।

এদিকে, গোলাপগঞ্জে বুথ স্থাপনের পরই দুপুর ২টায় বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত আরও দুটি বুথের উদ্বোধন করেন সরওয়ার হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান চৌধুরী, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. আবু ইসহাক আজাদ. মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল বাশার রুম্মান।

বিয়ানীবাজারে বুথ স্থাপনকালে সরওয়ার হোসেন বলেন, করোনাকালে আমার চেয়ে বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জের সাধারণ মানুষের জন্য ভয় বেশি। তাই তো আমি এ বিপদের সময় নিজের সুরক্ষার কথা চিন্তা না করে মানুষের পাশে আছি। পাশে থাকতে চাই। করোনা মহামারীতে মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হতে চাই। করোনা বিপদ যতই বড় হোকনা কেন, আমি দুই উপজেলার মানুষের পাশে আছি, থাকব ইনশাল্লাহ।

এর আগে সরওয়ার হোসেন গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার করোনা রোগীদের সেবায় নিয়োজিতদের পিপিই ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া কয়েক দফায় এই দুই উপজেলার কর্মহীন সহাস্রাধিক মানুষের মাঝেও খাদ্য সামাগ্রী বিতরন করেছেন তিনি।

বড়লেখা-মৌলভীবাজারসহ সিলেট বিভাগ রেডজোনেপুরোপুরি লকডাউন হচ্ছে

এম.এম আতিকুর রহমান,বড়লেখাঃ সম্প্রতি দেশে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) বিস্তার ঠেকাতে এলাকাভিত্তিক লকডাউনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আক্রান্তের আধিক্যতা বিবেচনায় রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোনে চিহ্নিত করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাস্তবায়ন হবে স্বাস্থ্যবিধিসহ আইনি কঠোর পদক্ষেপ।

সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ কথা জানানোর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেশের তিনটি বিভাগ, ৫০টি জেলা ও ৪০০টি উপজেলাকে পুরোপুরি লকডাউন (রেড জোন বিবেচিত) করা হচ্ছে। আংশিক লকডাউন (ইয়েলো জোন বিবেচিত) দেখানো হচ্ছে পাঁচটি বিভাগ, ১৩টি জেলা ও ১৯টি উপজেলাকে। আর লকডাউন নয় (গ্রিন জোন বিবেচিত) এমন জেলা দেখানো হচ্ছে একটি এবং উপজেলা দেখানো হচ্ছে ৭৫টি।

মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ করা তালিকায় সিলেট বিভাগের সব ক’টি জেলাকেই বলা হচ্ছে পুরোপুরি লকডাউন। বিভাগের জেলাগুলো হলো মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও সিলেট।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, আজ রবিবার (৭ জুন) থেকেই কিছু জায়গায় জোনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে লকডাউন শুরু হচ্ছে। বেশি আক্রান্ত এলাকাকে রেড, অপেক্ষাকৃত কম আক্রান্ত এলাকাকে ইয়োলো ও একেবারে কম আক্রান্ত বা সংক্রমণমুক্ত এলাকাকে গ্রিন জোন হিসেবে চিহ্নিত করে স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন করা হবে। গ্রিন জোনে সতর্কতা এবং ইয়েলো জোনে সংক্রমণ যেন আর না বাড়ে সেজন্য পদক্ষেপ থাকলেও রেড জোনে করোনার বিশেষ গাইডলাইন অনুযায়ী কঠোর হবে পুলিশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুসারে, দেশে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৩ হাজার ২৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন ৮৪৬ জন। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায়ই মারা গেছেন ৪২ জন।
করোনা ভাইরাস উপসর্গের ভয়াবহতা রোধে সরকারের এইসকল পদক্ষেপ যথাযথ বাস্তবায়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।

এভাবে চলতে থাকলে হাসপাতালে জায়গা দিতে পারব না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্কঃ ‘গার্মেন্ট আসলো, ঈদ আসলো, বাজার করল, ঈদে যাওয়া-আসা করল। এক লাফে ৫০ হাজার হয়ে গেল। সব সময় বলছি, সংক্রমণের চেইনটা যদি কাট করতে না পারি তাহলে সেটা কিন্তু বন্ধ হবে না। এভাবে চলতে থাকলে আরও ৬০-৭০ হাজার নতুন অ্যাড হয়ে যাবে। তখন কোনও হাসপাতালে আমরা জায়গা দিতে পারব না। কারণ এত রোগী এসে যাবে তাদের ১০ পারসেন্টেরও যদি হসপিটালাইজেশন লাগে তাহলে পরে আপনারা দেখেন ৭০-৮০ হাজার লোকের আবার নতুন করে জায়গা দিতে হবে। আমাদের সে জায়গা আছে কি? এটা হলো দেখার বিষয়।’

করোনাভাইরাসের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার (৬ জুন) ‘বিয়ন্ড দ্য প্যানডেমিক’ এর পঞ্চম পর্ব ‘করোনা সংকটকালে স্বাস্থ্যসেবা’ শিরোনামে অনলাইন আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

চব্বিশ ঘণ্টা ঘুরেও মেলেনি আইসিইউ, মারা গেলেন দুই ভাই

নিউজ ডেস্কঃ একটি আইসিইউ’র জন্য চব্বিশ ঘণ্টা ধরে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরেছে। টাকা যত লাগে তত দিতেও চেয়েছিল। কিন্তু মেলেনি একটি আইসিইউ। শেষ পর্যন্ত শ্বাসকষ্ট নিয়ে প্রথমে মারা গেল বড় ভাই। তার ৮ ঘণ্টা পর মারা যান ছোট ভাই। হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মারা যান ছোট ভাই মো. শাহজাহান (৩২)। তিনি হাটহাজারী বাজারের এন জহুর মার্কেটের কাপড়ের দোকানের ব্যবসায়ী।

এর আগে দুপুরে মারা যান বড় ভাই মো. শাহ আলম (৩৬)। তিনি মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী। তারা হাটহাজারী পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের পূর্ব দেওয়ান নগর জোহরা বাপের বাড়ির মরহুম গোলাম রসুলের ছেলে। তাদের করুণ মৃত্যুতে হাটহাজারী পৌর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং আইসিইউ না পাওয়ায় একরকম বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ তুলেন তাদের স্বজনরা।

স্বজনরা জানান, করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ৩০শে মে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন দুই ভাই। এরমধ্যে তাদের শ্বাসকষ্ট চরমে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের আইসিইউতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর শুরু হয় আইসিইউর খোঁজ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে একের পর এক চট্টগ্রাম মহানগরীর সরকারি-বেসরকারি সবক’টি হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে একটি আইসিইউ ভিক্ষা চাওয়া হয়। এ জন্য যত টাকা প্রয়োজন তত টাকা দিতেও রাজি ছিল পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু কোথাও আইসিইউ শয্যা খালি নেই বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষগুলো। ফলে আইসিইউর অভাবে শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালেই মারা যান বড় ভাই মো. শাহ আলম।

এরপর ছোট ভাইকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠে পরিবারের সকলে। কিন্তু একটি আইসিইউ না পাওয়ার কারণে রাত ১০টার দিকে শ্বাসকষ্টে ভুগে মারা যান ছোট ভাই মো. শাহজাহানও।

স্বজনরা আরো জানান, শাহ আলম দুবাইয়ে সবজি ব্যবসা করতেন। গত জানুয়ারি মাসে ছুটিতে এসে লকডাউনে আটকা পড়ে আর দুবাইয়ে ফিরতে পারেননি তিনি। শাহ আলমের ৬ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে তার ছোট ভাই শাহজাহানের রয়েছে হাটহাজারী বাজারে এন জহুর শপিং সেন্টার মার্কেটে একটি কাপড়ের দোকান। স্ত্রী ছাড়াও তার রয়েছে এক ও পাঁচবছর বয়সী দুটি সন্তান।

স্বজনদের অভিযোগ, ৩০শে মে চমেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর দুই ভাইয়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসেনি। ফলে মৃত্যুর আগে তারা করোনা আক্রান্ত কিনা তাও জানতে পারলো না। তাদের করুণ মৃত্যুতে হাটহাজারীতে শোকের মাতম চলছে।

বড়লেখায় মাস্ক না পরায় ২৭জন কে মোবাইল কোর্টে অর্থদণ্ড

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শামীম আল ইমরান আজ (০৭জুন) বড়লেখা পৌরসভার হাজীগঞ্জ বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মাস্ক না পরা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন,২০১৮ আইনে ২৭ টি মামলায় ১০,১০০/= টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেন। এসময় মাস্ক বিহীন জনসাধারণের মধ্যে মাস্কও বিতরণ করা হয়। বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ইয়াছিনুল হকের নেতৃত্ব বড়লেখা থানা পুলিশ মোবাইল কোর্ট কে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করেন।

বড়লেখায় নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করেই গলাকেটে হত্যা, জড়িত ৫ জন গ্রেফতার

দৈনিক বড়লেখা ঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখার তরুণ মৎস্য খামার মালিক সমছ উদ্দিন (৩৪) হত্যার ২ দিনের মধ্যে পুলিশ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ হত্যাকান্ডে জড়িত ৫ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। উদ্ধার করেছে হত্যায় ব্যবহৃত ৩টি ধারালো দা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয় নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করেই ব্যবসায়ী সমছ উদ্দিনকে খুন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেফতারকৃত আসামীদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- রহমানীয়া চা বাগানের বাসিন্দা শচিন নায়েক জগাই (৩৫), মোহাম্মদনগর গ্রামের হাফিজুর রহমান (২৮), হেলাল উদ্দিন হেলাই (৩৫), মোক্তার আলী (৪৫) ও জসিম উদ্দিন (৪২)।

উপজেলার মোহাম্মদনগর এলাকায় আব্দুর রাজ্জাক এর পরিত্যক্ত ঘর থেকে সোমবার (১৮ মে) রাতে সমছ উদ্দিনের জবাই করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের মধ্যগ্রামতলা গ্রামের আমির উদ্দিনের ছেলে।

এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সমছ উদ্দিন নিখোঁজের পর তার বাবা আমির উদ্দিন থানায় জিডি করেন। এ জিডির ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাউসার দস্তগীরের দিক নির্দেশনায় বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হকের নেতৃত্বে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে নিখোঁজের পরদিন রাতে একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে সমছ উদ্দিনের জবাই করা লাশ উদ্ধার করে। এরপর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ রহমানীয়া চা বাগানের মৃত সত্য নায়েকের ছেলে শচিন নায়েক ও মোহাম্মদনগর গ্রামের আজির উদ্দিনের ছেলে হাফিজুর রহমানকে আটক করে। তাদের দেয়া তথ্যে পুলিশ মৃত জহুর আলীর ছেলে হেলাল উদ্দিন হেলাইকেও আটক করে। হত্যাকান্ডের ব্যাপারে সে পুলিশকে গুরুত্বপুর্ণ তথ্য প্রদান করে। পরে তার দেয়া তথ্যে পুলিশ মোক্তার আলী ও জসীম উদ্দিনকে আটক এবং হত্যকান্ডে ব্যবহৃত ৩টি দা উদ্ধার করে।

থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক সাংবাদিকদের জানান, নিখোঁজের পিতার জিডির ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাউসার দস্তগীর স্যারের দিক নির্দেশায় এক পর্যায়ে সমছ উদ্দিনের জবাই করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ত ৫ জনকেই একে একে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে পুলিশকে জানিয়েছে নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করেই তারা সমছ উদ্দিনকে খুন করেছে। মঙ্গলবার তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এ ব্যাপারে নিহতের পিতা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। থানা অফিসার ইনচার্জ এ-র চৌকস ভুমিকায় দ্রুত আসামি গ্রেফতার করতে পারায় এলাকায় অনেকটা স্বস্তি বিরাজ করছে।

কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ছুরিকাহত সোনালী ব্যাংকের ২ কর্মকর্তা

নিউজ ডেস্কঃ বগুড়ায় সোনালী ব্যাংকের নন্দীগ্রাম শাখার দুই কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত করে ভল্টের চাবিসহ ব্যাগ, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শাজাহানপুর থানার জোড়া এলাকায় বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে তারা হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের নন্দীগ্রাম শাখার লেনদেন প্রায় আধা ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়।

হামলার শিকার কর্মকর্তারা হলেন সোনালী ব্যাংকের নন্দীগ্রাম শাখার ম্যানেজার মতিউর রহমান (৫০) ও সিনিয়র অফিসার আতাউর রহমান (৪৫)। তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মতিউর রহমান ও আতাউর রহমান বগুড়া শহরের নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে তাদের কর্মস্থল নন্দীগ্রাম যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে সকাল ১০টার দিকে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে জোড়া নামক স্থানে দুর্বৃত্তরা পথরোধ করে তাদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে ভল্টের চাবি, টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, ছুরিকাহত দুজন ব্যাংক কর্মকর্তার অবস্থা উন্নতির দিকে। ঘটনার পর পরই দুর্বৃত্তদের ধরতে পুলিশি অভিযান শুরু করেছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।

বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মতিউর রহমান জানান, দুর্বৃত্তরা হঠাৎ করেই পথ রোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলা করে এবং আমাদের কাছ থেকে প্রায় ১০ হাজার টাকা, ভল্টের চাবিসহ ব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। সুত্রঃ বণিক বার্তা

জুড়িতে আরো একজন করোনা সনাক্ত

জুড়ি প্রতিনিধিঃমৌলভীবাজারের জুড়ি থেকে করোনাভাইরাসের সংগৃহিত নমুনার ফলাফলে নতুন আরও একজন কোভিড-১৯ আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। সোমবার (৪ মে) রাত এগারোটায় তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) সমরজিৎ সিংহ।

তিনি বলেন, শনাক্ত ব্যক্তির বাড়ী উপজেলার জাংগিরাই এলাকায়। বাড়ী লকডাউনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমরা সেখানে যাচ্ছি প্রশাসন সহ।

বড়লেখায় আরো ১নারী করোনা আক্রান্ত।

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় এবার এক নারীর শরিরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দুই জন।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিঅার ল্যাবে ১৫৬ জনের নমুনা পরিক্ষা করা হয়। পরিক্ষায় বড়লেখার ১ জনের করোনা পজিটিভ আসে।

বড়লেখা উপজেলা সাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রত্নদ্বীপ বিশ্বাস আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন আক্রান্ত নারির বাসা বড়লেখা পৌর এলাকায়। তার বাসা লকডাউন করা হবে।

এর আগে শনিবার বড়লেখায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়।আক্রান্ত অই যুবকের বয়স অনুমান ৩৫ বছর। তিনি বর্তমানে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি রয়েছেন। তার বাড়ি বড়লেখা দক্ষিনভাগ ইউপির উত্তর কাশেম নগর গ্রামে। তিনি সমন ভাগ চা বাগানে চা,ছোলা ও পিয়াজ বিক্রি করতেন।

“মাহতাব আল মামুন”প্রবাসে থেকেও সবার ভালোবাসায় জড়িয়ে আছেন

মাহতাব আল মামুন


ইবাদুর রহমান জাকিরঃমৌলভীবাজারের বড়লেখার উপজেলার ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বিছরাবন্দ গ্রামের কৃতিসন্তান মাহতাব আল মামুন সৌদি আরব প্রবাসী। তিনি স্বদেশে এলাকার মানুষের মমতায় অসহায় দরিদ্রের কল্যাণে বড়লেখা উপজেলার মেধাবী তরুণদের সমন্বয়ে গঠন করেন এক‌টি ভিন্নধর্মী সাহিত্য ভিত্তিক সামাজিক সংগঠন “বড়লেখা পাবলিকেশন্স সোসাইটি”। এই সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল,মাদ্রাসা ও এতিমখানায় সাহায্য সহযোগিতা অব্যাহত।

উপজেলায় এই সংগঠনের মাধ্যমে কয়েকটি টিউবওয়েল সহ বিভিন্ন মাদ্রাসায় হিজাব সৌরবিদ্যুৎ , সিলিং ফ্যান বিতরণ সহ অসংখ্য ছাত্র/ছাত্রীদের পঠ্য পুস্তক বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

এ ছাড়া ও বর্তমান সমাজের তরুণ লেখক লেখিকাদের সমন্বয় সুন্দর সাহিত্য প্রকাশনায় বড়লেখা পাবলিকেশন সোসাইটি হতে প্রকাশনার বদ্ধপরিকর।

বিশ্বের মানুষ যখন করোনা প্রাদূর্ভাবে গৃহবন্দী এক দিকে অর্থনৈতিক মন্দা অপর দিকে চলছে করোনা আক্রান্তের সাড়ি সাড়ি। বৃদ্ধি পাচ্ছে মৃত্যুর মিছিল, সে সময়ে আজ স্বদেশের অসহায় নিম্নবৃত্ত মধ্যবৃত্তের কথা ভূলে যাননি বরং বড়লেখা পাবলিকেশন সোসাইটির প্রতিষ্টাতা চেয়ারম্যান মাহতাব আল মামুন অসংখ্য মানুষের মতো তিনিও সোসাইটির ব্যাবস্থাপনায় প্রবাসী প্রিয়জনদের আর্থিক সহযোগিতায় নিয়ে ইতিমধ্যে উপজেলার বেশ কিছু পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন।

উল্লেখ্য, বড়লেখাবাসীর কল্যাণে নাড়ির ঠাঁনে আরও তিনটি উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি যা একমাত্র তাহাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায়, মানুষের মূখে হাসি ফুঁটানো হবে। বড়লেখা পাবলিকেশন্স সোসাইটির ব্যাবস্থাপনায় আগামী ২৯এপ্রিল উপজেলার শতাধিক পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রীয় বিতরণ করা হবে, তাছাড়া আগামী ১মে তাঁহার নিজ গ্রামে খাদ্য ও ২৫রামাজান ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হবে ।

মাহতাব আল মামুনের বাল্যকাল থেকে সমাজের কিছু করার অভিপ্রায় ছিল তাঁর ধারাবাহিকতার আলোকে মানবসেবা ইবাদাত
মনে করে সর্বদাই মানুষের পাঁশে।
আসুন আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বড়লেখা পাবলিকেশন্স সোসাইটিসহ যে কোন সামাজিক সংগঠন কে সহযোগীতা করি “নিজে ঘরে থাকি অন্যকে ঘরে থাকতে উৎসাহিত করি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি দেশও জাতিকে করোনা প্রাদূর্ভাব মুক্তরাখি” পাশাপাশি সাহায্যের হাত নিয়ে মানুষের পাঁশে দাঁড়াই।

বিভীষিকাময় বর্ণনা : ‘বিছানার কাছেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাশ পড়ে ছিল’

শাহাদাত হোসেন বেসরকারি চ্যানেল যমুনা টেলিভিশনের একজন সিনিয়র রিপোর্টার। গত মাসের একদম শেষের দিকে একটু জ্বর উঠেছিল। খুব সামান্যই তাপমাত্রা ছিল। এরপর একটি প্যারাসিটামল খাওয়ার পর এক রাতেই জ্বর সেরে গিয়েছিল। এরপর তিনি পেশাগত দায়িত্বও পালন করেছেন।

কিন্তু বাড়িতে তার শ্বশুর কয়েকদিনের মধ্যে ব্যাপক জ্বর ও মাথাব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার পর ভাবলেন নিজেও একটু পরীক্ষা করিয়ে নেবেন। দেখা গেল তার কোনো উপসর্গ না থাকলেও তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর তার শ্বশুরসহ পুরো পরিবারের সবাই আক্রান্ত হয়েছেন। শাহাদাত হোসেন বলছেন, হাসপাতালে ভর্তির পর তার মনে হয়েছে জীবনে এতটা অসহায় কোনো দিন বোধ করেননি।

‘ওয়ার্ডে লাশ পরেছিল ২৪ ঘণ্টা’
তিনি বলছেন, করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ এটি জানার পর শুরুতে তিনি খুব আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিলেন। কী করবেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না।

সহকর্মীদের সহায়তায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার ভাষায়, “হাসপাতালে চরম প্রতিকূলতার মধ্যে নয় দিন পার করেছি আমরা। ওখানে মনে হয়েছি রোগীরা একেবারে অভিভাবকহীন। আমি খুবই অসহায় বোধ করেছি।”

“দেখতাম চোখের সামনে রোগীরা মারা যাচ্ছে। লাশ ওয়ার্ডেই পরে থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, তিনি বলেন।

” যেহেতু নির্দিষ্ট ব্যক্তি লাশ দাফন করেন হয়ত তাদের সংখ্যা কম কিন্তু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, সেকারণে হয়তবা। কিন্তু এতে একজন অসুস্থ রোগী যে এমনিতেই ভয়ে আছে তার মনের অবস্থা কী হয়?” তিনি বলেন।

তিনি হাসপাতালে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলছিলেন, ২৪ ঘণ্টায় একজন চিকিৎসক আসতেন। অনেক দূর থেকে কথা বলে চলে যেতেন।

নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে একটি মানুষকেও পাওয়া যায় না। এরকমও হয়েছে যে নার্স আসেনি বলে একবার সকালের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়া হয়নি। চিকিৎসক দিনে একবারও আসেনি সেটিও হয়েছে।

তিনি বলছেন, “কিন্তু একজন চিকিৎসকের কথায় আমার ভরসা পাওয়ার কথা। তার কথায় আমার মনোবল বেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখানে মানসিক সাপোর্ট দেয়ার কেউ ছিল না।”

অন্যান্য সুবিধাদির বর্ণনা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, তিনি যে ওয়ার্ডে ছিলেন সেখানে এক শ’র মতো রোগী ছিল। এতজন রোগীর জন্য মাত্র তিনটি টয়লেট, তিনটি গোসলখানা।

শাহাদাত হোসেন একপর্যায়ে রোগী বাড়তে শুরু করার পর চিকিৎসকদের অনুরোধ করে তার শ্বশুরসহ বাড়ি চলে আসেন।

আর একটি হাসপাতালের চিত্র

দেশে সবচেয়ে প্রথম যে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সাংবাদিক শনাক্ত হয়েছিলেন সেটি ছিল ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের। সেখানে ভিডিওগ্রাফার হিসেবে কর্মরত আশিকুর রহমান রাজু আক্রান্তদের একজন।

তিনি বলছেন, শনাক্ত হওয়ার পর যখন কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে যান শুরুতেই ঘাবড়ে গিয়েছিলেন কারণ সবাই পিপিই পরে অনেক দূরে দাড়িয়ে আছেন।

তিনি তার প্রথম অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, তাকে একজন ওয়ার্ড বয় একটা পলিথিন ব্যাগে বিছানার চাদর, বালিশ, বালিশের কাভার, টয়লেট টিস্যু আর একটা সাবান দেয়।

”এগুলো দিয়ে ওয়ার্ড বয় কেচিগেট তালা মেরে চলে গেল। নিজের বিছানাও নিজে গুছিয়ে নিতে হলো,” তিনি জানান।

তিনি বলছিলেন, প্রথম দিন তার জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে কেউ আসেনি। চিকিৎসকদের ফোন করে তিনি সেটি জানানোর পর সাড়ে চারটার দিকে তার জন্য একটি বক্সে করে খাবার এসেছিল। কোনো প্লেট দেয়া হতো না। সেখানে পানি গরম করা থেকে শুরু করে সবকিছুই নিজেকে করে নিতে হয়েছে।

এমনকি জ্বর হলে যে মাথায় পানি দিতে হয়, ওই সময়ও সহায়তা দেয়ার কেউ ছিল না। একটা বালতি, মগ কিছুই ছিল না, এসব অভিযোগ তিনি করেছেন।

“খাবার রেখে যাওয়া হতো কেঁচি গেটের বাইরে। তারপর হ্যান্ডমাইকে সেটা জানানো হতো,” তিনি বলেন।

”অসুস্থ লোকদের গিয়ে সেই খাবার নিয়ে আসতে হতো। ওয়ার্ডে একজন নতুন বয়স্ক রোগী এসেছিলেন। তিনি এই তথ্যটা জানতেন না। তিনি এক রাত ও পরের সকাল না খেয়ে ছিলেন,” রহমান বলেন।

আশিকুর রহমান বলছিলেন, জ্বর নিয়ে যে কয় দিন বাসায় ছিলেন তার মনোবল চাঙ্গা ছিল। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সাথে সাথেই সেটি হারাতে শুরু করেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি, যারা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছেন তারা ও তাদের পরিবার এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবায় নিয়জিত ব্যক্তিরা সামাজিকভাবে ব্যাপক হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন এমন বেশকিছু অভিযোগ উঠেছে।

একসময় কুষ্ঠ আক্রান্ত রোগীদের যেভাবে সমাজ পরিত্যাগ করতো যেন সেরকম এক ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে তাদের যেতে হচ্ছে। তার একটি বর্ণনা পাওয়া গেল এই দুই সংবাদকর্মীর ভাষায়।

অন্য আরো বেশ কয়েকজন সেরে ওঠা ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা হলেও সামাজিক সমস্যার ভয়ে তারা কথা বলতে রাজি হননি।

আশিকুর রহমান রাজু বলছেন, যেসময় ভয়াবহ শরীর ব্যথা, জ্বর, মাথাব্যথা ও কাশি শুরু হয় সেই সময় তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কিনা এমন সন্দেহ হলে আইইডিসিআরে যোগাযোগ করেন। তার শরীর থেকে যখন স্বাস্থ্যকর্মীরা নমুনা সংগ্রহ করতে আসেন তখন এলাকার লোকজন ও বাড়িওয়ালার চরম ক্ষোভের মুখে পরেন তিনি।

“কেন আমি ওদের ডাকলাম, এইটা তারা বলছে। যেন আমি ওনাদের ডেকে কোন অন্যায় করছি,” তিনি বলেন।

”ওরা কেন আসছে, সেজন্য বাড়িওয়ালা আমার দরজা পিটাইতেছিল। এলাকার লোকজন এসে বাড়িওয়ালাকে ধরেছে।

”আমি তাদের বুঝিয়ে বললাম যে সাবধানতা হিসেবে চেকআপের জন্য আসছে। পরীক্ষা হলে আপনাদের জন্যই ভালো হবে, রহমান বলেন।

এরপর যেদিন করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার খবর পেলেন ওই দিন তিনি অ্যাম্বুলেন্স বাড়ির কাছে আনতে সাহস করেননি। অসুস্থ অবস্থায় হেঁটে গিয়ে দূর থেকে অ্যাম্বুলেন্স উঠেছিলেন।

সেরে ওঠার পর যেদিন গ্রামের বাড়িতে গেছেন চেনা পরিচিত লোকেরাও তার খবর নেননি।

“আমি আসতেছি এটা দেখেই বাড়ির কাছে পুরো রাস্তা খালি হয়ে গেল। আমি যেন ভিন গ্রহের কেউ এরকম মনে হচ্ছিল,” তিনি বলেন।

শাহাদাত হোসেন বলছেন, তার ফ্ল্যাটের লোকজনের কাছ থেকে চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন তিনি ও তার পরিবার। রীতিমতো একঘরে করে ফেলার অবস্থা।

“মনে হয় যেন অসুস্থ হয়ে আমি বড় কোন পাপ করে ফেলেছি,” তিনি বলেন।

”হাসপাতালে আমার সাথে ছিলেন তাদের একজনকে দেখেছি অসহায়ত্বের কারণে কাঁদছেন। করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে জানার পর তার পরিবারকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার হুমকি পেয়েছেন,” বলেন হোসেন।

‘আপনি হাসপাতালের দায়িত্ব নেবেন?’
হাসপাতাল সম্পর্কে যে অভিযোগ করছিলেন সেরে ওঠা এই দু’জন সেনিয়ে কথা বলেছি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদের সাথে।

তিনি বলছেন, “বাইরে থেকে কেউ বুঝবে না যে আমরা কিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।”

চিকিৎসকদের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, দেশে এ পর্যন্ত ১৩০ জন চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। একজন মারাও গেছেন।

“চিকিৎসকেরা কাছে না গেলে তারা আক্রান্ত হলেন কিভাবে?” তিনি প্রশ্ন করেন।

”এখানে সবমিলিয়ে ৬০০ জন স্বাস্থ্যকর্মী। যারা সংসার, ছেলে-মেয়ে রেখে দিনের পর দিন দূরে থাকছেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।

”তাদের আমরা এন-৯৫ মাস্ক দিতে পারিনি। যিনি চিকিৎসা করবেন তিনি যদি আক্রান্ত হন তাহলে আপনি হাসপাতালের দায়িত্ব নেবেন?” ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ বলেন।

‘এটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’
করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষা করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন উপায় হচ্ছে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা। স্বাস্থ্যকর্মীরা সেটাই করছেন বলে তিনি বলছেন।

হাসপাতালে মরদেহ ওয়ার্ড ফেলে রাখা অভিযোগ তিনি ‘অস্বাভাবিক’ বলে বর্ননা করেন।

”দিনে দু’বার অন্তত ডাক্তারদের রাউন্ড হয়। তিনি কি কাউকে তথ্যটা দিয়েছিলেন?” তিনি প্রশ্ন করেন।

” অসুস্থ অবস্থায় মানুষজন অনেক আবেগপ্রবণ থাকে। করোনাভাইরাসকে হয়ত তারা অন্য রোগের সাথে তুলনা করেছেন। কিন্তু বিষয়টাতো তা নয়,” ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ বলেন।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যে অভিজ্ঞতা তাদের হচ্ছে সেটিকে তিনি যুদ্ধের সাথে তুলনা করে বলেন যে, সারা বিশ্ব এটি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।

”যেসব দেশে সক্ষম স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে তারাও ভেঙে পরছে। এটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ,” তিনি বলেন।

কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র : বিবিসি