সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার ১০নংমুড়িয়া ইউনিয়নের পূর্ব মুড়িয়ার ১০০টি পরিবারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কমিউনিটি নেতা ছাব্বির উদ্দিন ও সাবেক উপজেলরা যুবলীগ নেতাও বর্তমান ইতালি প্রবাসী মাছুম আহমদের যৌথ অর্থায়নে ও পূর্ব মুড়িয়া সোস্যাল অর্গানাইজেশনের ব্যাবস্থপনায় মাহে রমজান উপলক্ষে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।আজ দুপুরে তাজপুর-আভঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সামগ্রী উপলক্ষে চাল, ডাল, পেয়াজ, আলু, খেজুর সাবান বিতরণ করা হয়। উপহার সামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বিয়ানীবাজার পৌর মেয়র মো. আব্দুস শুকুর, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিসেস রোকসানা বেগম লিমা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খাঁন, সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল, সদস্য মোহাম্মদ হোসেন খসরু, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবাদ আহমদ,১০নং মুড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক এখলাছ উদ্দিন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড নেতা নজরুল ইসলামসহ পূর্ব মুড়িয়া সোস্যাল অর্গানাইজেশনের সদস্য বৃন্দ।
নিজস্ব সংবাদঃ মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অতিদরিদ্র, দিনমজুর, কর্মহীন বেকার, এবং করোনা ভাইরাসের সংক্রমণজনিত কারণে বেকার হয়ে যাওয়া অস্বচ্ছল মানুষের মাঝে ত্রাণ ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩এপ্রিল) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব মোঃ শাহাব উদ্দিন এমপি মহোদয়ের উদ্যোগে, হওয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব নেছার আহমদ , সম্মানিত জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব মিছবাউর রহমান,মৌলভীবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব কামাল আহমদ সহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ!
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে স্কুলছাত্রী হত্যার মূল ঘাতককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ছাত্রীর বিচ্ছিন্ন মাথা এবং ধারাল চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। মূলত ত্রিভুজ প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন, মতলব উত্তর থানার ওসি নাসির উদ্দিন মৃধা।
এর আগে গত বুধবার দুপুরে উপজেলার মমরুজকান্দি সপ্তগ্রাম অক্সফোর্ড একাডেমি নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ থেকে ঘটনার শিকার শারমিন আক্তার কাকলীর মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের শিকার শারমিন আক্তার কাকলী এবং সাইফ উদ্দিন মতলব উত্তরের মমরুজকান্দি সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এই হত্যা মামলায় সংশ্লিষ্ট পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ২৮ মার্চ ভোরে মুঠোফোনে শারমিন আক্তার কাকলীকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয় তার সাবেক প্রেমিক সহপাঠী সাইফ উদ্দিন। অক্সফোর্ড একাডেমিতে আগে থেকেই হাজির ছিল কাকলীর নতুন প্রেমিকও। এসময় সাইফ উদ্দিন প্রতারিত হয়েছে এবং নতুন প্রেমিকও প্রতারিত হতে পারে; এমন শঙ্কা থেকেই তারা দুজনে মিলে কাকলীকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে ঘাতকরা কাকলীর বিচ্ছিন্ন মাথা প্রায় এক হাজার গজ দূরের একটি ডোবায় ফেলে দেয়। এই ঘটনার পর নতুন প্রেমিক কৌশলে গা ঢাকা দিলেও সাইফ উদ্দিন পাশের সুজাতপুর গ্রামে নিজের বাড়িতেই থেকে যায়। তবে গত বুধবার কাকলীর লাশ উদ্ধারের পর সে বাড়ি থেকে গা ঢাকা দিয়ে আশ্রয় নেয় নানার বাড়িতে।
সূত্রটি আরো জানায়, শারমিন আক্তার কাকলীর ব্যবহৃত মুঠোফোনের আলাপ ধরেই তার সহপাঠী সাইফ উদ্দিনকে কৌশলে গ্রেপ্তার ও তার দেখিয়ে দেওয়া স্থান থেকে কাকলীর বিচ্ছিন্ন মাথা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারাল চাকু উদ্ধার করে পুলিশ। তবে এই ঘটনায় জড়িত পালিয়ে যাওয়া অপর কিশোরকেও খুঁজছে পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মতলব উত্তরের পূর্ব ইসলামাবাদ গ্রামের প্রবাসী বজলু বেপারীর বড় মেয়ে শারমিন আক্তার কাকলীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল পাশের সুজাতপুর গ্রামের রাসেল আহমেদের ছেলে সাইফ উদ্দিনের। এরই মাঝে গত কয়েক মাস আগে কাকলী সাইফ উদ্দিনকে বাদ দিয়ে নতুন করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজে আসা রাজশাহীর আরেক কিশোরের সঙ্গে। বিষয়টি বুঝতে পেরে সাইফ উদ্দিন খুব ঠাণ্ডা মাথায় ওই কিশোরের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। মূলত ব্যর্থ প্রেমের প্রতিশোধ নিতেই তাদের দুজনের মাঝে এই সখ্যতা তৈরি হয়েছিল। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মতলব উত্তর থানার ওসি নাসির উদ্দিন জানান, জেলা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমানের নির্দেশে-মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আহসান হাবিবের দিক নির্দেশনায় পুলিশের তিনটি টিম চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটন এবং দ্রুততার সঙ্গে হত্যার প্রকৃত রহস্য বের করে নিয়ে আসে। গ্রেপ্তারের পর সাইফ উদ্দিন নামে এই কিশোর কাকলী হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দেয় পুলিশের কাছে। রাজশাহী থেকে আসা রাজমিস্ত্রির কাজের ওই কিশোর গা ঢাকা দিলেও তাকে গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি। সুত্রঃ কালের কন্ঠ
অনলাইন ডেস্কঃভারতে চলছে লকডাউন। এমন পরিস্থিতিতে পাড়ায় বন্ধুদের বাড়ি ঘুরে ঘুরে লুডু খেলছিলেন এক নারী। পরে দেখা গেল তিনি করোনায় আক্রান্ত। আর তিনি লুডু খেলতে গিয়ে ৩১ জনকে করোনা দিয়েছেন। এমন ঘটনা ঘটেছে ভারতের তেলেঙ্গানার সূর্যপেত জেলায়।
ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, দিল্লির তবলিগ জামাতের এক ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলেন এই নারী। তা জানার পর থেকেই তার শরীরে ভাইরাস এসেছে বলে সন্দেহ করা হয়। পরে পরীক্ষ করলে তার শরীরে ধরা পড়ে করোনা। তারপর ওই নারী যে ৩১ জনের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তেমন ৩১ জনের নমুনা সংগ্রহ করার পর দেখা যায়, সকলেরই করোনা পজিটিভ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে এই কথা জানানোর পাশাপাশি উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কি ভয়ানকভাবে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ছে সে কথাও বলা হয়। তেলঙ্গানায় গত ২৪ ঘন্টায় আরো ১৫ জন নতুন রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এই রাজ্যে এখন মোট করোনা পজিটিভ কেসের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪৩। এর মধ্যে ১৯৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। আর মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের।
সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে পালিয়েছেন করোনা আক্রান্ত এক নারী। তিনি সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের রঙ্গীটিলার বাসিন্দা। তার খোঁজে স্বামীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
জানা গেছে, ওসমানী হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে গত বুধবার এক সন্তান জন্ম দেন ওই নারী। এরপর তার শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়। পরে তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তার সদ্যজাত সন্তান মারা যায়। এদিন সন্ধ্যায় তার করোনা পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ আসে। এরপর রাতে কোনো একসময় তিনি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। করোনা রোগী পালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসমানী হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফারুক আহমদ বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক নারী হাসপাতাল থেকে পালিয়েছেন। তাকে খুঁজে বের করতে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। রোগী লাপাত্তা হওয়ার পর হাসপাতালে সংরক্ষিত তার স্বামীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। সুত্রঃ কালের কন্ঠ
‘সাত বছরের প্রাচুর্য্যের পর ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নেমেছিল প্রাচীন মিশরে। একমুঠো অন্নের জন্য ক্ষুধার্ত জনস্রোত ছুটে গিয়েছিল সর্বশক্তিমান ফারাওয়ের প্রাসাদে। তবে সেখান থেকে খালি হাতেই ফিরতে হয়েছিল তাদের। শেষে ত্রাতার ভূমিকা নিয়ে মিশরীয়দের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন ঈশ্বরের দূত জোসেফ।’ বাইবেলের এই কাহিনী প্রায় সবারই জানা। ওল্ড টেস্টামেন্টে ওই দুর্ভিক্ষের বর্ণনা পড়লে আজও গায়ে কাঁটা দেয়। এবার তেমনই বিপদ ডেকে আনতে চলেছে নভেল করোনাভাইরাস। এমনটাই জানিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, করোনা মহামারি শেষ হলেই বিশ্ববাসীর জন্য অপেক্ষা করছে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ৷ এরই মধ্যে বিশ্বের একটা বড় অংশে খাদ্যাভাব শুরু হয়ে গেছে এবং খুব শীঘ্রই তা দুর্ভিক্ষের আকার নেবে৷ আফ্রিকা ও এশিয়ার কিছু অঞ্চলে এরই মধ্যেই দুর্ভিক্ষ শুরু হয়ে গেছে৷ অবিলম্বে পদক্ষেপ না করলে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সাক্ষী থাকবে বিশ্ববাসী৷ বহু মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যাবে৷ জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (এফএও)-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডেভিড বিসলের বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এবারই মানব সভ্যতা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে৷ সিরিয়া, ইয়েমেন-সহ একাধিক দেশে যুদ্ধ, আফ্রিকায় পঙ্গপালের হানা। লেবানন, কঙ্গো, সুদান ও ইথিওপিয়ায় একের পর এক প্রাকৃতি দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক মন্দা, তার সঙ্গে করোনা মহামারি বিশ্বকে দুর্ভিক্ষের মুখে ঠেলে দিচ্ছে৷’
তিনি আরও জানান, বিশ্বে প্রায় ৮৩ কোটি মানুষ রাতে চরম ক্ষুধার জ্বালা নিয়ে ঘুমাতে যায়৷ সাড়ে ১৩ কোটি মানুষ প্রায় খেতেই পাচ্ছে না৷ করোনার জেরে ২০২০ সালের শেষে আরো ১৩ কোটি মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়বে৷ ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম ১০ কোটি মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে৷ ৩ কোটি মানুষ তো এই প্রকল্পের উপরেই বেঁচে আছে৷
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে করোনায় আক্রান্ত হয়ছিলেন ডেভিড বিসলে স্বয়ং। তবে মারণ রোগকে হারিয়ে ফের লড়াইয়ে নেমেছেন তিনি। তাঁর এমন সতর্কবার্তায় রীতিমতো অশনিসংকেত দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনিতেই লকডাউনের জেরে ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে উঠেছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিনমজুর ও পরিযায়ী শ্রমিকরা অথৈ জলে। একধাক্কায় তলানিতে ঠেকেছে বিশ্বের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার। ফলে এখনই পরিস্থিতি সামাল দিতে পদক্ষেপ না নিলে দুর্ভিক্ষ থামনো যাবে না বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। সূত্র- সংবাদ প্রতিদিন।
নিউজ ডেস্কঃ করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন শত শত মানুষ। এমন এক পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে বুধবার গার্মেন্ট শ্রমিক জুলমত হোসেন ময়মনসিংহের ভালুকায় মৃত্যুবরণ করেন। পরে বৃহস্পতিবার সকালে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের কাশিনাথপুর গ্রামে।
মারণ ভাইরাস করোনার উপসর্গ থাকায় গ্রামবাসী তো দূরের কথা, পরিবারের কেউ ছুঁয়েও দেখেনি। তখন লাশ দাফনে এগিয়ে আসলো উপজেলা ছাত্রলীগ। খবর পেয়ে শাহজাদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ রাসেলসহ তার সহযোদ্ধারা এতে অংশ নেন। ওই গার্মেন্ট শ্রমিকের লাশ দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করেন তারা। এর আগে উপজেলা ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতারা করোনার সন্দেহে আরেক রোগীর দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করেন। জুলমতের জানাজার নামাজ পড়ান ইমাম ছাব্বির সরকার। দাফন ও কাফনে অংশ নেন শাহজাদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ রাসেল, রিয়াদ, নিয়ন, আশরাফুল, রাকিব ও সুমন, কাইফ আহমেদ সজিব, মিঠুন, পারভেজ, বিপুল। সুত্রঃ কালের কন্ঠ
দৈনিক বড়লেখা সংবাদঃ করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকি এলাকার কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছেন বড়লেখা উপজেলা ছাত্রলীগ সহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে,বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহ সভাপতি সুমন আহমেদ ও বড়লেখা উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে সভাপতি ইমরান হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমদের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওরের মুর্শিবাদ , এলাকার কৃষকের ধান কেটে তাদের বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন। করোনার কারণে সারা দেশেই শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা। উচ্চ মজুরি দিয়েও তারা শ্রমিক পাচ্ছেন না। এতে তারা বিপাকে পড়েছেন।বড়লেখা উপজেলা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এমন উদ্যোগের কথা শুনা গেলে আজ বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল সরেজমিন গিয়ে ধান কাটার এ চিত্র দেখা যায়। এ বিষয়ে বড়লেখা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসেন জানান করোণা পরিস্থিতিতে দেশের শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটতে পারছেন না হাওর এলাকার কৃষকরা এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বড়লেখা উপজেলা সহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী ধান কাটার উদ্যোগ নিয়েছেন।তিনি আরো বলেন শ্রমিক সংকটে কৃষকের পাশে আমরা সকল দাঁড়ালে খাদ্য সংকট কাটাতে সক্ষম হবো।
দৈনিক বড়লেখা সংবাদঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সর্বপ্রথম রক্তদানকারী সেচ্ছাসেবী সংগঠন “মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন” এর উদ্দ্যোগে বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আটকা পড়া অসহায় পরিবারের মাঝে পবিত্র মাহে রমজানের খাদ্য সামগ্রী উপহার প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ভোরে সংগঠনের একজন সদস্য একজন রক্ত শূন্যতা রোগীকে বিনা মূল্যে রক্তদান করেন,পরে খাদিজা ম্যানশন ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত হয়, এতে সংগঠনের প্রবাসী দাতা সদস্য দেশবাসীর জন্য বিশেষ মুনাজাত করা হয়, পরে মাহে রমজানের খাদ্য উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের হাতে। উক্ত অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব কামাল হোসেন, স্থায়ী পরিষদের সদস্য রিফাত আহমদ,সভাপতি আব্দুর রহমান,সিনিয়র সহ সভাপতি মমিনুর রশিদ মুন্না, সহ সভাপতি শিমুল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সহ সাধারণ সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন মাসুম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ হাসান জুয়েল, প্রচার সম্পাদক আহমেদ এবাদ, সহ প্রচার সম্পাদক ইবাদুর রহমান জাকির, অর্থ সম্পাদক শরিফ আল মামুন, সহ অর্থ সম্পাদক নাসির হোসাইন, সহ অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সদস্য রাসেল আহসান,ময়নুল ইসলাম,শাহরিয়ার সাকিব প্রমূখ।
উল্লেখ্য এই মাহে রমজানের খাদ্য সামগ্রী সুসম বন্টনের মাধ্যমে প্রতি ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাত্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌছে দেওয়া হয়,কাজটি সফল করায় সংগঠনের দাতা সদস্যগণ সংগঠনের সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য: সংগঠনের প্রতিষ্টাতা ও চেয়ারম্যান মোঃগোলজার হোসেন হাসান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম , সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিফজুল হোসাইন , ভাইস চেয়ারম্যান তাপাদার জায়েদ আহমদ প্রবাসে লক ডাউনে থাকা অবস্থায় ভিডিও কলের মাধ্যমে এই সুন্দর অনুষ্টান দেখে সকল সদস্য’কে মোবারকবাদ জানান।
সমছ উদ্দিনঃ পুরো বিশ্ব যখন আতংকিত ভয়ংকর করোনা ভাইরাস নিয়ে।এই ভয়ংকর ভাইরাসে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় আক্রান্ত বাংলাদেশ। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও বন্ধ সব ব্যবসা বাণিজ্য, চাকরি ,এমনকি যানচলাচল সহ সব দোকানপাট । ভাইরাসটির প্রভাবে হত দরিদ্র মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
তাই বড়লেখা উপজেলার ছিগামহল ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্দেগে ৫০ কর্মহীন পরিবারের মধ্যে রামজানের উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন সংঘটনের দায়িত্বশীল ও সদস্যবৃন্দ। যারা দেশ বিদেশি থেকে সাহায্যে সহযোগিতা করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পরিষদের দায়িত্বশীলবৃন্দ।
মুন্সীগঞ্জের আড়িয়ল বিলের বিস্তীর্ণ জমিতে এখন পাকা ধানের সমাহার। তবে করোনার কারণে শ্রমিক সংকটে এসব ধান কেটে বাড়ি নিতে পারছেন না অসহায় কৃষক। এমনই পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
দিনব্যাপী শ্রীনগর উপজেলার হাসাড়া ও গাদিঘাট এলাকায় আড়িয়ল বিলে এ ধান কাটা হয়।
বিকালে ধান কাটার এ কর্মসূচিতে যোগ দেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।
জেলা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ৮০ শতাংশ জমির ধান কাটেন নেতাকর্মীরা। পরে এসব কাটা ধান কৃষকের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় জানান, করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকরা ধান কাটতে পারছেন না। তাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৫০ লাখ নেতাকর্মীদের এই অবস্থায় দেশের প্রত্যেক এলাকায় কৃষদের পাশে থেকে সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের পাশে থাকাটা ছাত্রলীগের জন্য সৌভাগ্যের।
সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য জানান, সবসময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মানুষের পাশে ছিল। আমরা আড়িয়ল বিলে ধান কেটেছি ও নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছি। দুঃস্থ-অসহায় কৃষকদের পাশে প্রতিদিন দেশব্যাপী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ধান কাটায় অংশ নেবে।
এসময় অন্যদের মধ্যে ছিলেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক আপন দাস, মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল মৃধা, সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ পাভেল, টঙ্গীবাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি খালিদ হাসান খান, সাধারণ সম্পাদক দিপু মাঝি, শ্রীনগর সভাপতি তর্ণক লিজু, সাধারণ সম্পাদক আবির রায়হান সৈকত, জেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক সিহাব আহমেদ প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, এর আগেও গতবছর ধান কাটার মৌসমে মুন্সীগঞ্জ জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে দুঃস্থ কৃষকের ক্ষেতের ধান কেটে দিতে দেখা যায়।
হন্যে হয়ে তারা ছুটে বেড়াচ্ছে একটু খাবারের আশায়। কিন্তু হায়! ডাস্টবিনেও যে উচ্ছিষ্ট নেই
করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে দেশজুড়ে চলছে সাধারণ ছুটি। বন্ধ হয়ে গেছে অফিস-আদালত থেকে শুরু করে বেশিরভাগ দোকানপাট। এই সঙ্কটময় মুহূর্তে মানুষ যেমন বিপদগ্রস্ত তেমনি বিপাকে পড়েছে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো প্রাণীরা বিশেষ করে কুকুর-বিড়ালরা। মানুষের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্টে ওদের জীবন বাঁচে।
খাবার দোকান বন্ধ, নগরীতে নেই মানুষের আনাগোনা। কে ওদের খাবার দেবে? গত ২৬ মার্চ থেকে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই সাধারণ ছুটিতে নিরীহ প্রাণীগুলোকে থাকতে হচ্ছে অভুক্ত। হন্যে হয়ে তারা ছুটে বেড়াচ্ছে একটু খাবারের আশায়। কিন্তু হায়! ডাস্টবিনেও যে উচ্ছিষ্ট নেই!
এই প্রাণীগুলো মূলতঃ বেঁচে থাকত হোটেল-রেস্টুরেন্টের ফেলে দেওয়া পচা-বাসি খাবার আর উচ্ছিষ্ট খেয়ে। কিন্তু বর্তমানে সামান্য কিছু প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র হোম ডেলিভারি সার্ভিস দিচ্ছে।
চলমান এই সঙ্কটে তাদের জন্য কোনো পরিকল্পনা নেই সরকারের। তবে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
করোনাভাইরাস মহামারি চলাকালে রাস্তার এসব অভুক্ত প্রাণীর জন্য খাদ্য সরবরাহে সরকারের কোনো বরাদ্দ নেই বলে ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, রাস্তায় থাকা প্রাণীদের খাবার দেওয়ার জন্য নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসতে প্রাণীপ্রেমিদের প্রতি আমরা আহ্বান জানাই।
অবশ্য অনেকগুলো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইতোমধ্যে এসব প্রাণীকে খাবার দিচ্ছেন। তবে দিন দিন বিষয়টি তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পিপল ফর অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ারের (পিএডব্লিউ) চেয়ারম্যান রাকিবুল হক এমিল বলেন, “ছুটির মেয়াদ আরও বাড়লে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর জন্য এই প্রাণীগুলোকে খাওয়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনে প্রায় ৬০ হাজার মালিকবিহীন কুকুরের বসবাস। গত বছর অধিদপ্তরের উদ্যোগে ৪৮ হাজারেরও বেশি কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।
কুকুর-বিড়াল ছাড়াও চলমান এই সঙ্কটে অভুক্ত আছে বানর, ইঁদুর, কাক, দোয়েল ও চড়ুইয়ের মতো প্রাণীরা।
অভুক্ত প্রাণীদের জন্য কিছু মানুষের সংগ্রাম
প্রাণীপ্রেমি ব্যক্তি ও সংগঠনের উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভুক্ত থাকা প্রাণীদের খাবার দেওয়া হচ্ছে।
বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছে- পিএডব্লিউ, ইকো-সেভার্স ফাউন্ডেশন ও রবিন হুড দ্য অ্যানিম্যাল রেসকিউয়্যারের মতো সংগঠনগুলো।
আর ব্যবসায়ী অর্পিতা খান মহুয়ার মতো কিছু মানুষের উদ্যোগে চালু করা হয়েছে “ফুড ফর স্ট্রিট অ্যানিম্যালস” নামে একটি কর্মসূচি।
এর আওতায় প্রতিদিন রাজধানীর বারিধারা, নর্দ্দা, কুড়িল, এয়ারপোর্ট রেলওয়ে স্টেশন, নিকুঞ্জ ও কালাচাঁদপুর এলাকার সাড়ে তিনশ’রও বেশি কুকুরকে খাবার দেওয়া হচ্ছে।
তবে আরেকটি শঙ্কার কথাও জানান পিএডব্লিউ চেয়ারম্যান এমিল। তার মতে, কুকুরগুলোকে আমদানিকৃত শুকনো খাবার দেওয়া হলে সঙ্কট পরবর্তী সময়েও তারা সচরাচর উৎস থেকে পাওয়া খাবারগুলোর প্রতি অনাগ্রহী হয়ে পড়বে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় কুকুর, বিড়াল, কাক, দোয়েল, চড়ুই ও গুইসাপকে খেতে দেন “ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ অর্গানাইজেশন”-এর পাঁচজন স্বেচ্ছাসেবী।
ইকো সেভার্সের চেয়ারম্যান সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম মিঠু জানান, “আমার পদক্ষেপ দেখে তরুণ প্রজন্মও প্রাণীদের কল্যাণে এগিয়ে আসছে।”
প্রাণীদের সম্পর্কে আরও সচেতনতা বাড়াতে সরকারের উচিত বিষয়টিকে পাঠ্য বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা, বলেন তিনি।
রাজধানীতে এসব সংগঠন ও ব্যক্তিরা ছাড়াও আরও অনেক মানুষ রাস্তার প্রাণীদেরকে সাধ্যমতো খাবার দিচ্ছেন নিয়মিত। আর রাজধানীর বাইরে খুলনা ও যশোরের কুকরদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছে পিএডব্লিউ।
তবে এই উদ্যোগ কতদিন চালিয়ে যাওয়া যাবে তা নিয়ে শঙ্কিত তারা সবাই।
প্রাণীদের বেঁচে থাকার বিভিন্ন নিয়ামক
এমন সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে এসব প্রাণী কতদিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে ভেটেরিনারি চিকিৎসক সুশ্যাম বিশ্বাস ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এটা নির্ভর করে প্রাণীটির বয়স এবং শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্যের ওপর।”
“প্রতিদিন অন্তত একবেলা খাবার তাদেরকে এই জরুরি পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকতে সহায়তা করবে।”
অভুক্ত ১৫০টি ঘোড়া
সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকেই রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার ১৫০টি ঘোড়া রয়েছে অভুক্ত। এই প্রাণীগুলো মূলত ওই এলাকার ঐতিহ্যবাহী বাহন “ঘোড়ার গাড়” টানে। কিন্তু তাদের মালিকদের সেই জীবিকার পথ এখন বন্ধ।
ঘোড়ার গাড়ির মালিক নিজাম উদ্দিন বলেন, “আমাদের এখন কোনো রোজগার নেই। তবুও প্রতিদিন ঘোড়াগুলোকে খাওয়াতে হয়।”
তার আস্তাবলে থাকে ৭টি ঘোড়া। প্রত্যেকটির জন্য দিনে অন্তত ৩৫০ টাকার খাবার দিতে হয়।
প্রসঙ্গত, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকলেও সংশ্লিষ্ট আইনগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে দুর্যোগের সময়ে পথপ্রাণীদের খাদ্য সরবরাহে সেখানে কোনো বিধান রাখা হয়নি। সুত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন
ধরুন সুন্দর একটা সন্ধ্যা কাটালেন নিজের পরিবারের সঙ্গে। চারপাশের পৃথিবীটাও ঠিকঠাক দেখেই ঘুমাতে গেলেন। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখলেন কিছুই আর আগের মতো নেই। এক অজানা ভাইরাসের আক্রমণে চারদিকে মৃত্যুর মিছিল। মানুষ পরিণত হচ্ছে ভয়ংকর জম্বিতে। আপনাকেও আক্রমণ করতে আসছে। বাঁচার একটাই রাস্তা। পালাতে হবে। নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে বের করতে হবে। কী করবেন তখন?
ঠিক এমনই কয়েকজন বেঁচে যাওয়া মানুষ আর ভাইরাসে আক্রান্ত জম্বিদের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধের গল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ‘ডন অব দ্য ডেড’ চলচ্চিত্রটির কাহিনী। তবে ২০০৪ সালের ছবিটি মূলত ১৯৭৮ সালে মুক্তি পাওয়া একই নামের ছবির রিমেক। জম্বি ও ভাইরাস নিয়ে অন্য যেসব ছবি হয়েছে, সেগুলোয় একটি শান্তিময় সমাপ্তি দেখা গেলেও ছবিটির ক্ষেত্রে তা হয়নি। বরং এক অজানা আতঙ্ক শেষ অবধি তাড়া করে বেড়াবে।
ছবির কাহিনী শুরু হয় অ্যানা নামের একজন নার্সের পরিবারকে দিয়ে। সারা দিনের ব্যস্ততার কারণে সন্ধ্যায় আর খবর না দেখেই ঘুমিয়ে পড়েন তারা। কিন্তু সকালে উঠে দেখেন, পুরো শহর তছনছ হয়ে গেছে। এমন সময় প্রতিবেশী এক শিশু জম্বির আক্রমণে অ্যানার স্বামীও জম্বিতে পরিণত হয়ে তাকে আক্রমণ করতে আসে। কিন্তু সে কোনোভাবে বেঁচে যায়। এমন অবস্থায় অ্যানা আশ্রয় নেয় শহরের একটি শপিং মলে, যেখানে আরো কয়েকজন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া মানুষের সঙ্গে তার দেখা হয়।
একজন নার্স, একজন পুলিশ, এক নবদম্পতি, এক বিক্রেতা আর কিছু মানুষের সমন্বয়ে এবার একটি দল গঠিত হয়। যারা জম্বিদের হাত থেকে বাঁচার জন্য চেষ্টা চালাতে থাকে। এরপর আরো কিছু সুস্থ মানুষ তাদের সঙ্গে যোগ হয়। কিন্তু যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়। জম্বিদের নজর পড়ে যায় সেখানে। সুস্থ মানুষের ওপর তারা আক্রমণ চালায়। বেশ কয়েকজন জম্বিতে পরিণত হলে তাদের বাধ্য হয়ে হত্যা করতে হয়।
এরই মধ্যে সামনে আশার আলো হয়ে দেখা দেয় বন্দর থেকে ইয়টে করে শহর ছাড়ার একটি চিন্তা। কিন্তু শপিং মল থেকে বন্দর বেশ খানিকটা পথ। সবাই মিলে দুটি বাসে করে রওনা হয়। পথিমধ্যে যুদ্ধ করতে হয় হাজারো জম্বির সঙ্গে। কয়েকজন নিজের জীবন দিয়ে অন্যদের পালানোর পথ করে দেয়। অনেক বাধা অতিক্রম করে ইয়টে পৌঁছার পরও দুর্ভাগ্য যেন তাদের পিছু ছাড়ে না। এক অজানা ভাগ্যের মুখে পতিত হয় বেঁচে যাওয়া সবাই।
১০০ মিনিট দৈর্ঘ্যের অ্যাকশন ও হরর ঘরানার ছবিটি মুক্তি পায় ১৯ মার্চ ২০০৪ সালে। ১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মূল ছবিটি পরিচালনা করেন জর্জ এ রোমেরো। আর জ্যাক স্নাইডার পরিচালিত ২০০৪ সালের ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন সারাহ পলি, ভিং র্যামেস, জেক ওয়েবার, মেখি ফিফার, টাই বারেল, মাইকেল কেলি ও কেভিন জিগারস। ছবিটি দর্শক-সমালোচক উভয়ের কাছ থেকেই ভালো সাড়া পায়। মাত্র ২৬ মিলিয়ন ডলারে নির্মিত চলচ্চিত্রটি বক্স অফিস থেকে ১০২ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করে।
নিউজ ডেস্কঃ আহত আবদুল আজিজ বলেন, হঠাৎ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভারতীয় চ্যাংড়াবান্ধা বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা একজন ভারতীয় নাগরিককে পুশইন করে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী-চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ছোড়া রাবার বুলেটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সদস্যসহ তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে বুড়িমারী-চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্ট সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। রংপুর-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বুড়িমারী কোম্পানি কমান্ডার ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আহতরা হলেন-বুড়িমারী ইউনিয়নের তাঁতীপাড়া এলাকার আবদুল আজিজ পেট্টু (৫০) ও আইনুল হক (৪০)। আহত বিজিবির সদস্যের নাম খোকন হোসেন।
আহতদের মধ্যে বিজিবি সদস্য খোকন ও আইনুল প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও আবদুল আজিজের ডান হাতে অস্ত্রপচার করে রাবার বুলেট অপসারণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আহত আবদুল আজিজ বলেন, “হঠাৎ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভারতীয় চ্যাংড়াবান্ধা বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা একজন ভারতীয় নাগরিককে পুশইন করে। এই খবর মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানায়। আমরাও বিজিবির সঙ্গে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু বিএসএফ কোনো কারণ ছাড়াই এলোপাথাড়ি রাবার বুলেট নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে আমার ডান হাতেসহ শরীরে আঘাত লাগে।”
আহত আইনুল হক বলেন, “এখন এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো মুহুর্তে আরও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।”
জানতে চাইলে বুড়িমারী স্থলবন্দর বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ওমর ফারুক বলেন, “এই ঘটনায় আমরা কড়া প্রতিবাদপত্র পাঠিয়ে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতীয় বিএসএফ ছয় রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেড়েছি। এতে দুই নাগরিকসহ একজন বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন। ” সুত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন
গত বিশ্বকাপে বাজিমাত করেছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বিশেষ করে ব্যাট হাতে তিন নম্বরে নেমে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন তিনি। যেখানে টুর্মামেন্টে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন সাকিব। অপেক্ষাকৃত কম ম্যাচ খেলে ৮ ম্যাচে তিনি করেন ৬০৬ রান। বিশ্বকাপে সাকিবের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন সবাই। এবার নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্বকাপ মাতানো সেই ব্যাট নিলামে তোলেন সাকিব। নিলামে সাকিবের সেই ব্যাট বিক্রি হয়েছে ২০ লাখ টাকায়। ব্যাট বিক্রির এই অর্থ যোগ হবে তার গড়া ‘সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশনে’। যা কিনা পুরোপুরিভাবেই অসহায় মানুষদের সেবার উদ্দেশ্যে খরচ করা হবে।
বুধবার অনলাইন প্লাটফর্মে নিলামে তোলা ব্যাটটি কেনার জন্য সময়সীমা দেয়া হয়ছিল রাত ১১টা পর্যন্ত। যদিও পরে সেই সময় ১৫ মিনিট পর্যন্ত বাড়ানো হয়। নিলামে তোলা ব্যাটটির ভিত্তি মূল্য ছিল ৫ লাখ টাকা। বাংলাদেশীদের বাইরে ভারত, অস্ট্রেলিয়াসহ অনেকে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীও চেয়েছিলেন ব্যাটটি কিনতে। পরে রাজ নামে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক বাঙালি বাকিদের পেছনে ফেলে ব্যাটটি কিনে নেন।
পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাটটি কিনতে পেরে নিজের উচ্ছ্বাসের কথা জানান রাজ। সাকিবও ধন্যবাদ জানান রাজকে।
অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে এগিয়ে আসার পাশাপাশি দলীয়ভাবেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সাকিব। যেখানে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অন্যান্য সতীর্থসহ একসঙ্গে নিজেদের এক মাসের বেতনের অর্ধেক দান করেছেন তারা। অবশ্য সাকিব ছাড়া অন্যরাও নিজ নিজ জায়গা থেকে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। সুত্রঃ বণিক বার্তা
*আক্রান্ত হলে পাবেন ৫-১০ লাখ টাকা *এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে কার্যকর ধরা হবে *যারা ইতিমধ্যে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মারা গেছেন তারাও এর অর্ন্তভুক্ত হবেন
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কোনো সরকারি কর্মকর্তা মৃত্যুবরণ করলে ২৫-৫০ লাখ টাকা পাবেন। আর করোনা আক্রান্ত হলে পাবেন ৫-১০ লাখ টাকা। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ যে কেউ সরকারি নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত বা মৃত্যুবরণ করলে গ্রেড ভেদে এ টাকা পাবেন।
এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে কার্যকর ধরে আজ বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের কেউ দায়িত্ব পালনকালে করোনায় মৃত্যুবরণ করে থাকলে তিনিও একই সুবিধা পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং মৃত্যুবরণের জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্যয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ‘করোনা (কভিড-১৯) সংক্রান্ত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলায় ক্ষতিপূরণ’ সংক্রান্ত বরাদ্দকৃত খাত থেকে দেওয়া হবে। অর্থবিভাগ ক্ষতিপূরণের আবেদন প্রাপ্তির পর ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের সরকারি আদেশ জারি করবে। এ ক্ষতিপূরণ বর্তমান প্রচলিত অন্য যেকোনো প্রজ্ঞাপন/আদেশে বর্ণিত কর্মকালীন মৃত্যুবরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আর্থিক সহায়তা বা অনুদানের অতিরিক্ত হিসেবে দেওয়া হবে।
কোন গ্রেডে কত ক্ষতিপূরণ :
গ্রেডভেদে ক্ষতিপূরণ উল্লেখ করে এতে বলা হয়েছে, ১ম-৯ম গ্রেডের কেউ আক্রান্ত হলে পাবেন ১০ লাখ টাকা। মারা গেলে পাবেন ৫০ লাখ টাকা। ১০-১৪তম গ্রেডের কেউ আক্রান্ত হলে পাবেন সাড়ে ৭ লাখ টাকা। মারা গেলে পাবেন সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা। ১৫-২০তম গ্রেডের কেউ আক্রান্ত হলে পাঁচ লাখ আর মারা গেলে ক্ষতিপূরণ পাবেন ২৫ লাখ টাকা। ২০১৫ এর বেতনস্কেল অনুযায়ী এ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ক্ষতিপূরণ পাওয়ায় কারা যোগ্য :
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নভেল করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদানে সরাসরি কর্মরত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ সরকার ঘোষিত নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এরা দায়িত্ব পালনকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে ক্ষতিপূরণ বাবদ সরাসরি আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধন্ত নেয়া হয়েছে।
ক্ষতিপূরণ পেতে মানতে হবে কয়েকটি ধাপ :
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তবে ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কয়েকটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস পজেটিভের ক্ষেত্রে করোনাভাইরাস পজেটিভের প্রমাণিক বা মেডিক্যাল রিপোর্টসহ স্ব-স্ব নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপরে কাছে নির্দিষ্ট ফরমে ক্ষতিপূরণের দাবিনামা পেশ করবে। আর মৃত্যুবরণ করলে নির্দিষ্ট ফরমে মৃত্যুবরণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্ত্রী/স্বামী/ সন্তান এবং অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে বাবা/মা ক্ষতিপূরণের দাবি সংবলিত আবেদন নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপরে কাছে পেশ করবে।
নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠাবে। সুত্রঃ কালের কন্ঠ
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার আবদার এলাকায় ফ্ল্যাট বাড়ির দ্বিতীয় তলায় মাসহ একই পরিবারের চারজনের গলাকাটা লাশ পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে চারটায় ঘরের ভেতরে লাশ থাকার তথ্য পান স্বজনেরা। পরে বিকেল পাঁচটায় পুলিশ ও স্থানীয় সাংসদ ইকবাল হাসেন সেখানে যান।
ওই চারজন হলেন স্মৃতি আক্তার ফাতেমা (৪০), তাঁর মেয়ে নূরা আক্তার (১৫), শাওরিন আক্তার (১২) ও ছেলে ফাদিল (৫)।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, স্মৃতি আক্তার পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার গোড়াবাড়ি গ্রামের মো. কাজলের স্ত্রী। কাজল প্রায় ২০ বছর ধরে মালয়েশিয়াপ্রবাসী। শ্রীপুর উপজেলার আবদার গ্রামে জমি কিনে বাড়ি করেছিলেন কাজল। তাঁর পরিবারের সদস্যরা সেই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় বসবাস করছিলেন।
স্বজনদের কাছ থেকে আরও জানা যায়, বড় মেয়ে নুরা আক্তার স্থানীয় এইচ এ কে একাডেমিতে দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। শাওরিন পাশের ব্রাইট ক্যাডেট মাদ্রাসায় পড়ত। ফাদিল স্থানীয় আবদুল করিম একাডেমিতে নার্সারির ছাত্র ছিল।
প্রবাসী কাজলের ছোট ভাই মো. আরিফ বলেন, ‘আমরা সব সময় তাঁদের খোঁজখবর রাখি। আজ বিকেল পৌনে চারটার দিকে বাড়িতে এসে এসব লাশ দেখতে পাই।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গাজীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। বিস্তারিত জেনে বলা যাবে।’ সুত্রঃ প্রথম আলো।
বিশ্ববরেণ্য মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছে ইসলামী ও সমমনা ৯টি ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রনেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী একটি অবিসংবাদিত নাম। সুদীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি দেশে বিদেশে কুরআনের তাফসির করেছেন। তিনি দুইবার নিজ এলাকা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়ে দেশ ও জাতির উন্নয়নে ভূমিকা পালন করেছেন। বহু মানুষ তাঁর তাফসির শুনে ইসলামী জীবন-যাপনে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ তাঁকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে। তাঁর মুখে কুরআনের কথা শুনে মানুষ আল্লাহর পথে চলার প্রেরণা পেয়েছে, লাখো তরুণ আলোর দিশা পেয়েছে। এদেশের সাধারণ তরুণ ছাত্রসমাজকে মাদক, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও অনৈতিক সমস্ত কর্মকা- থেকে বিরত থেকে জাতির কাক্সিক্ষত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে আল্লামা সাঈদীর তাফসির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি আজ ১০ বছর যাবত কারাগারে বন্দি রয়েছেন। বর্তমানে তার বয়স ৮১ বছর। তাঁর হার্টে ৫টি রিং বসানো এবং তিনি ডায়াবেটিসসহ বাধ্যর্ক্যজনিত নানান জটিল রোগে আক্রান্ত।
বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণে মানুষের মাঝে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় আল্লামা সাঈদীকে নিয়ে মানুষ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ইতোমধ্যে দেশের হাজার হাজার আলেম, আইনজীবী, ডাক্তার, শিক্ষক, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট্য ব্যক্তিরা আল্লামা সাঈদীর ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁর মুক্তির দাবী জানিয়েছেন। দল-মত নির্বিশেষে সবাই আল্লামা সাঈদীর মুক্তি চায়। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ইতোমধ্যে অনেক দেশ কারাবন্দিদের মুক্তি দিয়েছে। বাংলাদেশেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ধর্মীয়, মানবিক ও বয়সের বিবেচনায় আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। আমরা আশা করি সরকার আপামর জনগণের চাওয়াকে মূল্যায়ন করে যত দ্রুত সম্ভব আল্লামা সাঈদীর মুক্তির ব্যবস্থা করবেন।
বিবৃতি প্রদানকারী ছাত্রনেতৃবৃন্দ হচ্ছেন- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মনসুরুল আলম মনসুর, জাতীয় ছাত্র সমাজের (কাজী জাফর) সভাপতি কাজী ফয়েজ আহমেদ, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি তোফায়েল গাজালি, জাগপা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রুবেল, ছাত্রকল্যাণ পার্টির সভাপতি শেখ তামিম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সৈয়দ মো: মহসিন, বাংলাদেশ ছাত্রমিশনের সভাপতি সৈয়দ মো: মিলন এবং জাতীয় ছাত্র পার্টির সভাপতি সোহেল রানা।
জামিনে মুক্ত হওয়ার পর ধরে নেয়া এবং নির্যাতনের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম। ১৫ মার্চ, রবিবার দুপুরে কারাগার থেকে মুক্ত হন আরিফ। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আরিফ বলেন, ‘শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ১২টার পর খেয়ে শুয়ে পড়ি। তখন একজন বাড়ির দরজায় ধাক্কা দেন। পরিচয় জানতে চাইলে কেউ পরিচয় জানাননি। পরে আমি সদর থানার ওসিকে ফোন দেই। ফোন দেয়ার কথা শুনে বাইরে থাকা আরডিসি (সিনিয়র সহকারী কমিশনার-রাজস্ব) নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন লোকজন দরজা ভেঙে বাসায় ঢোকে। ঘরে ঢুকেই আরডিসি নাজিম উদ্দিন আমার মাথায় কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। মারতে মারতে আমাকে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে চোখ-হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। এরপর আমাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে এনকাউন্টার দিতে চায়। আমাকে বারবার বলে, তুই কলেমা পড়ে ফেল, তোকে এনকাউন্টার দেয়া হবে।’
ভয়াবহ সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘এসময় তাদের আমি অনেক অনুনয় বিনয় করি। আমি আমার প্রাণ ভিক্ষা চাই। বলি, আমার বাবা-মা নেই, আমার দু’টি সন্তান আছে। আমাকে যেন না মেরে ফেলা হয়। তাহলে আমার বাচ্চা দুটি এতিম হয়ে যাবে। পরে তারা আমাকে গাড়িতে করে একটি ভবনে নিয়ে যায়। আমি চোখের কাপড় একটু খুলে বুঝতে পারি এটা ডিসির কার্যালয়। আবার নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে আমাকে একটি কক্ষে নিয়ে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে এবং বলে তোর ভিডিও করে রাখছি। এসময় অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়। এসময় নাজিম উদ্দিন বারবার আরেকজনকে বলছিলেন, ডিসি স্যারকে ফোন দাও, মেসেজ দাও। কী করবো সেটা বলতে বলো?’
তিনি আরো বলেন, “আমি বারবার জানতে চেয়েছি, আমার অপরাধ কী? তখন নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘তুই আমাদের অনেক জ্বালাছিস। তোকে সাংবাদিকতা শেখাবো।’ এরপর চোখ বাঁধা অবস্থায় চারটি কাগজে সিগনেচার নেয়। রাতেই আমাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। আমাকে কেন কারাগারে পাঠানো হলো এবং কেন ধরে আনা হলো কিছুই বলা হয়নি। এমনকি কারাগারে আমার সঙ্গে এক মাস কেউ যেন সাক্ষাৎ করতে না পারে এবং আমার যেন চিকিৎসা দেয়া না হয়, এজন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হয়।”
আরিফ আরো বলেন, ‘শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ একটি কাগজ দিয়ে বলেন, তোমার পরিবার পাঠিয়েছে ওকালতনামা। সেখানে স্বাক্ষর করতে বলে। আমি স্বাক্ষর করেছি। কিন্তু আমি জানি না কে বা কারা ওকালতনামা পাঠিয়েছে। বাইরে এসে জানতে পারলাম আমার পরিবারের সদস্যরা কেউ জামিন আবেদনের জন্য ওকালতনামা পাঠায়নি।’ আরডিসি নিজাম উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত জেল সুপারের দায়িত্বে আছেন।
আরিফের ওকালতনামা পাঠানো আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হয় পরিবারের কেউ কি আপনাকে নিয়োগ করেছে? এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহসান হাবীব নিলু তার সঙ্গে যোগাযোগ করে দুজনে মিলে ২৫ হাজার টাকা জামানতে জামিন করিয়েছেন।’
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৩ মার্চ) মধ্যরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে মারধর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় আরিফুল ইসলামকে। তার বাসায় আধা বোতল মদ ও দেড়শ’ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ আনা হয়। এরপর গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
ছবিতে যাকে দেখতেছেন তিনি আমার ভাই,আমার অভিভাবক। উনাকে নিয়ে নতুন করে কিছু লেখার বা বলার নাই।কারন উনি কে? উনি কি করেন? এগুলা সবার জানা।তাহলে কেন লিখছি.??কারন কিছু কথা না লিখলে হবেই না,তৃপ্তি পাচ্ছিনা এজন্যই লিখছি…।
করোনা ভাইরাস আসার পর থেকে সবসময় যোগাযোগ হয়।আমার যে কোন কাজে পরামর্শের প্রয়োজন হলে সবার আগে যাকে বলি তিনি নজরুল ভাই।প্রতিদিন আমাদের কমপক্ষে ২,৩ বার কথা হয়।কখনো ব্যস্ততার কারনে দিনে কথা না হলে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কথা হয়(বলতে পারেন এটা আমাদের দৈনন্দিন রোটিন)। ভাবতে পারেন এত কথা কিসের?? যা কথা হয়- সারাদিন আমি কি কাজ করলাম,কোন উদ্দ্যোগ নিলাম,কতটুকু কাজ করতে পারলাম সব নজরুল ইসলাম ভাইকে শেয়ার করি আবার তিনি কি কি করেছেন সব আমাকে শেয়ার করেন।উনার কথাগুলা আর কাজগুলা আমাকে অনুপ্রাণিত করে।কারন এত নিখুঁত এবং সুন্দর কাজগুলা।আলহামদুলিল্লাহ।
উনি কি কি করেছেন সেটা উনার কাছের মানুষগুলো ছাড়া কেউ বলতে পারবে না,অনুমানও করতে পারবেনা।আমিও কিছুটা কাছের,যেহেতু ভাই সেই সুবাদে অনেক কিছুই জানি।প্রতিটি কাজ আমাকে অনেক শিক্ষা দেয়,আমার কাজকে স্পিড-আপ করতে অনেক বেশি সহযোগিতা করে।
আমি আপনাকে গরীবের নিক্সন চৌধুরী বলবো না,অন্যদের মত মানবতার সৈনিক কিংবা ফেরিওয়ালাও বলবো না।তবে আপনি একজন প্রকৃত সমাজসেবক তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই।তাই আমি আপনাকে বলব একজন প্রকৃত সমাজসেবক।
একটা অনুরোধ অভিভাবক হিসাবে এভাবে পাশে থাইকেন।কারন আপনাদের দেখানো পথেই আমরা ছুটছি! এই পথটা বড় পিচ্ছিল তাই মজবুত করে আপনারা না ধরলে এগিয়ে যাওয়া অনেক কঠিন।আপনাকে নিয়ে লিখলে লেখে শেষ হবেনা আরও বহু কিছু লেখার আছে।থাক আজ এই পর্যন্ত।দোয়া আর ভালোবাসা রইলো।
নিজস্ব সংবাদঃ মহামারী করোনাভাইরাসের ফলে গৃহবন্ধি, কর্মহীন, আর্থিক ও খাদ্য সংকটে পড়া মধ্যবিত্ত লোকদের সহযোগিতা করার লক্ষে নিজের দায়বদ্ধতা থেকে পাশে দাড়িয়েছেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন। তিনি ব্যাক্তিগত উদ্দোগে নিজস্ব তহবিল থেকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষের ঘরে ঘরে গাড়িতে করে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। বড়লেখার মানুষের দোয়ারে দোয়ারে ঘুরে খুজ খবর নিচ্ছেন। সাধ্যমত সবাইকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। সেজন্য সাধারণ জনগণও খুশি।
আজ (২২এপ্রিল) বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য বিতরণ শেষে তাজ উদ্দিন বলেন আমি আপনাদের লোক,তাই ক্ষুদ্র অবস্হান থেকে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টায়। এবং সকল বিত্তবান লোক যেনো সাময়িক অসুবিধাগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাড়ায় সেই আহব্বানও করে আসছেন।
নিউজ ডেস্কঃ বুধবার (২২এপ্রিল) রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজেউন)। গত ১০ দিন ধরে আইসিইউতে ছিলেন তিনি।
সা’দত হুসাইনের বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।
তিনি কিডনির জটিলতাসহ নানা সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানান তার ছেলে শাহজেদ সা’দত।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাবা ইউনাইটেড হাসপাতালে আইসিইউতে ছিলেন। কিডলি জটিলতা, ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসকরা রাত ১০ টা ৪৯ মিনিটে তার মৃত্যু ঘোষণা করেন।”
করোনাভাইরাস সঙ্কটের এই সময়ে বৃহস্পতিবার ঢাকায় লাশ দাফনের প্রস্তুতি নিয়েছে তার পরিবার।
শাহজেদ বলেন, “এখন আমি, দুই বোন, মা-খালা পারিবারিকভাবে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।”
মুক্তিযোদ্ধা সা’দত হুসাইন ২০০২-০৫ সালে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্ন্ত তিনি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
সা’দত হুসাইন ১৯৪৬ সালের ২৪ নভেম্বর নোয়াখালীতে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি পড়াশোনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে। ১৯৮৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি নেন।
পাকিস্তান আমলে ১৯৭০ সালে সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তানে (সিএসপি) যোগ দেন সা’দত। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভারতে গিয়ে প্রবাসী সরকারে যেভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তা তিনি লিখে গেছেন ‘মুক্তিযুদ্ধের দিন-দিনান্ত’ বইয়ে।
২০০৫ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার আগে তিনি কর্মজীবনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ নানা দায়িত্ব পালন করেন।
দেশে বর্তমান পরিস্থিতিতে যে ভয়াবহ নামটি সবার পরিচিত সেটি হল করোনা (কোভিড-১৯) ভাইরাস যার থাবায় বাদ পড়েনি বাংলাদেশের মানুষও। ইতিমধ্যে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে ভয়াবহ এ ভাইরাসটি । এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে ইতিমধ্যে বের হয়নি কোন প্রতিশোধকও। তাই বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা , সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা , বাড়ির বাইরে বের না হওয়া এই ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায় হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
তাই সরকার দেশে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু স্থানে পুরো শহর ও এলাকা লকডাউন ঘোষণা করেছে । দিন দিন বেড়েই চলেছে এই ভাইরাসের সংক্রমণ। এরই প্রেক্ষিতে পুরো দেশে চলছে অঘোষিত লকডাউন। যার ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষগুলো । পড়তে হচ্ছে খাদ্যসংকটে । তাই করোনার এমন পরিস্থিতিতে গ্রীণবাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা মিজানুর রহমান শামীমের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিনেতার গ্রাম ও আশে পাশের গ্রামের প্রায় একশত পরিবার কে রাতের অন্ধকারে উপহার হিসেবে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেন। খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কালে সহযোগিতা করেন মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগ এর সাবেক সহ-সভাপতি আহমেদ রাজন, মনওয়ার বস্ক,সাদিক রহমান,স্বাধীন সামাজিক সংগঠনের সভাপতি আব্দুল করিম,আব্দুল কাইয়ুম সুজেল সহ প্রমুখ।
দৈনিক বড়লেখাঃমৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার কয়েকজন তরুণের সমন্বয়ে গঠিত মিশন হিউম্যানিটি পরিবার এর উদ্যোগে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দ্বিতীয়ধাপে মাহে রমযানের উপহার স্বরুপ বড়লেখা পৌর এলাকার ৫০ টি পরিবারে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করে।
খাদ্য সামগ্রী প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন মিশন হিউম্যানিটি পরিবারের উদ্যোগক্তা প্রভাষক তারেক আহমদ, সদস্য নাহিদ আহমেদ, মাহিন আবসার, জালাল আহমদ ও নাসিম আহমদ প্রমূখ।
মিশন হিউম্যানিটি পরিবারের উদ্যোগক্তা প্রভাষক তারেক আহমদ বলেন, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে বৈশ্বিক করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অঘোষিত লকডাউনে কর্মহীন মানুষের কথা চিন্তা করে আমরা হিউম্যানিটি পরিবার স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসেছি। আমাদের লক্ষ্যেই হলো মানবতার তরে এগিয়ে যাওয়া। তিনি আরোও বলেন, আসন্ন মাহে রমযানে চরম ভোগান্তিতে পড়বে খেটে খাওয়া মানুষজন বর্তমান পরিস্থিতিতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর দিকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিতে সকলের সু-দৃষ্টি কামণা করেন।
পুরো বিশ্ব যখন আতংকিত ভয়ংকর করোনা ভাইরাস নিয়ে।এই ভয়ংকর ভাইরাসে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় আক্রান্ত বাংলাদেশ। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও বন্ধ সব ব্যবসা বাণিজ্য, চাকরি ,এমনকি যানচলাচল সহ সব দোকানপাট । ভাইরাসটির প্রভাবে হত দরিদ্র মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।এই অভাব ঠেকাতে সমাজের বিভিন্ন রাজনৈতিক ,সামাজিক, মানবিক সংগঠনের মত পাশে দাঁড়িয়েছে সমাজসেবী সংঘটন তারাদরম ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ। বুধবার ( ২২ এপ্রিল) ৫নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের তারাদরমে ৫৫ কর্মহীন পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন সংঘটনের বর্তমান ও সাবেক দায়িত্বশীল ও সদস্যবৃন্দ।
নিজস্ব সংবাদঃ বড়লেখায় দরগাবাজারে আন নাজাত ইসলামি সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্দোগে ৩য় ধাপে (মধ্যবিত্ত) কর্মহীন ৮০ এর অধিক পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরন সম্পন্ন।
মহামারী করোনাভাইরাসের ফলে গৃহবন্ধি, কর্মহীন,আর্থিক ও খাদ্য সংকটে পড়া মধ্যবিত্ত লোকদের পাশে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আন নাজাত ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের পক্ষ হতে ইতিপূর্বে এলাকার অসহায় ও দরিদ্র কর্মহীন ষাটোর্ধ পরিবার কে ত্রান বিতরণের পর গতকাল ২য় ধাপে অর্ধশত পরিবারকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবাসী একজন ভাইয়ের অর্থায়নে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। আজ (২২এপ্রিল) ৩য় ধাপে মধবিত্ত কর্মহীন ৮০ এর অধিক পরিবারের মাঝে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবাসী একজন ভাইয়ের অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়।এ নিয়ে আন নাজাত ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ পক্ষ হতে ৩ টি ধাপে সর্বমোট ১৯৫ টি পরিবারকে খাদ্য ও অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আগামীর রাষ্ট্র নায়ক জনাব তারেক রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে মৌলভীবাজার ১ সংসদীয় ( বড়লেখা- জুড়ী) এলাকায় করোনা ভাইরাসে অভাবগ্রস্হ ১০ হাজার পরিবারের পাশে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন বিগত নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী মৌলভী বাজার জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আলহাজ্জ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু। আজ (২২এপ্রিল) বিকাল ৩ ঘটিকায় বড়লেখার নিজ বাহাদুর পুর ইউনিয়ন থেকে তাঁর এ ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ইউনিয়নের ৪৫০ জন অসহায়ের মাঝে ত্রাণ বিতরণ উদ্ধোধন করেন সাবেক চেয়ারম্যান ও বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সি. সহ সভাপতি আলাল উদ্দিন, এসময় উপস্হিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খান,ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিসবাউল হক মিনু,সাধারন সম্পাদক নাজিম উদ্দিন,সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আজিজ,উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল খালিক,ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি চেরাগ আলী,৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম,যুবদল নেতা নাজির হুসাইন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক কাওছার আহমদ ও ছাত্রদল নেতা তানভির আহমদ সহ বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মী।,
স্বাস্থ্যবিধি মেনে লোক সমাগম না ঘটিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির দায়িত্বশীলরা প্রতি ওয়ার্ডে গিয়ে ওয়ার্ড বিএনপির তালিকা মোতাবেক পর্যায়ক্রমে এভাবে বড়লেখা-জুড়ী উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন এবং বড়লেখা পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডে পৌঁছে দেয়া হবে এ সহায়তা। এ ত্রাণ কার্যক্রম মনিটরিংও সমন্বয় করছেন;সর্বজনাব আব্দুল হাফিজ- সভাপতি,মুজিবুর রহমান খছরু- সাধারণ সম্পাদক,অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খান-সাংগঠনিক সম্পাদক( বড়লেখা উপজেলা)।আনোয়ারুল ইসলাম- সভাপতি,আতাউর রহমান শহীদ- ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক,কামরুল ইসলাম- সাংগঠনিক সম্পাদক(বড়লেখা পৌরসভা)। দেওয়ান আইনুল হক মিনু- সভাপতি,আসকর আলী- সাধারন সম্পাদক,মতিউর রহমান চুনু – সাংগঠনিক সম্পাদক( জুড়ী উপজেলা)।
বাড়ি বাড়ি নিয়ে উপহার সামগ্রী পৌছে দিচ্ছে তরুণ সংঘের সদস্যবৃন্দ।
উপহার সামগ্রী বিতরণকালে বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো: কামরান চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাসতলা তরুণ সংঘের এরকম মানবিক কার্যক্রম প্রশংসার দাবী রাখে। তিনি আরোও বলেন এলাকার বিভিন্ন সচেতনতা মূলক কার্যক্রম ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো সহ সংঘটনটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এসময় তিনি বাসতলা তরুণ সংঘ’কে সার্বিক সহযোগীতা প্রদান করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়া উপহার সামগ্রী বাড়ি বাড়ি নিয়ে পৌছে দেন গাজিটেকা বাশতলা তরুণ সংঘের সভাপতি অপুজিত দাস, সহ-সভাপতি ওলিউর রহমান বাবুল,আশরাফুল ইসলাম, বিপুল দাস, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সরদার, সহ-সাংগঠিনক জয়দুল তাফাদার, প্রচার সম্পাদক আব্দুল্লাহ রায়হান, সহ-প্রচার সম্পাদক আব্দুল সামাদ, আব্দুর রাহিম, অর্থ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাফি,সহ-অর্থ সম্পাদক পাবেল আহমদ সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মারুফ আহমদ,আব্দুল্লাহ ওমর সহ সদস্য রাহাত হাসান, ফাহিম আহমদ,সজিব আহমদ,রিপন তাপাদার,তানভির আহমদ, রায়হান আহমদ,সিদ্দিক আহমদ,মারজান আহমদ,ওয়াহিদ আলিম সরদার,প্রমথ দাস, লিহান সহ প্রমুখ।
উল্লেখ্য:- গাজিটেকা বাসতলা তরুণ সংঘ এর সভাপতি অপুজিত দাস বিডি সিলেট নিউজ ডট কম’কে বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে তারা ইতিমধ্যে এলাকায় সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, জীবাণুনাশক ঔষধ ছিটানো সহ নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে রাতের গভীর উপহার সামগ্রী বাড়ি বাড়ি নিয়ে পৌছে দিচ্ছেন এছাড়া দ্বিতীয় ধাপে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আবারো খাদ্য সামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ গ্রহন করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং সার্বক্ষণিক যারা তরুণ সংঘ’কে অর্থায়ন করে যাচ্ছেন তাদের প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।
সেনাবাহিনীর এক জন সেনা সদস্য বিভিন্ন জায়গায় করোণা ভাইরাসের সেবা করতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হয়েছেন। তার নিজের মেয়েকে একটু আদরের জন্য আর্তনাদ করেছে !!! আয় মা আয় আমার বুকে আয়!!!! তোকে একটু জড়িয়ে আদর করি, আমি থাকবোনা হয়তো বেঁচে এই পৃথিবীতে করোনা ভাইরাসে ধুকে ধুকে যাবো মরে।
নিজের করোনা ভাইরাস হয়েছে জেনে একমাত্র আদরের মেয়েকে একটু আদর ভালোবাসা দিতে,তাইতো মেয়েকে পলিথিন দিয়ে আটকিয়ে নিয়ে একটু আদর করছেন বাবা। এ ধরনের ঘটনা আসলেই হৃদয় বিদারক। যা দেখলে সহ্য করা যায় না। আল্লাহ সকলকে হেফাজত করুন।
নাহিদ আহমদ : বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে মানুষ এখন চরম সংকটময় মুহর্ত অতিবাহিত করতেছে। সব ধরনের কাজকর্ম বন্ধ থাকায় অসহায় হয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। অতি কষ্টে জীবন অতিবাহিত হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের। টিক এই সংকটময় মুহূর্তে এই সকল মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে গ্রেটার সুড়িকান্দি ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইউ কে প্রবাসীরা। বৃহত্তর সুড়িকান্দি গ্রামের ইউ কে প্রবাসী দের অর্থায়নে প্রায় ২৩৪ পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ বিতরন করা হয়। প্রতিটা পরিবারকে ১০০০ টাকা করে দেওয়া হয়।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, সরকারি ত্রাণ জনগণের টাকায় কেনা। সেই ত্রাণ সাধারণ জনগণ পাচ্ছে না। ত্রাণের চাল-তেল-ডাল পাওয়া যাচ্ছে আওয়ামী লীগের মেম্বার-চেয়ারম্যানের বাড়িতে। মহামারির মধ্যে শুরু হয়েছে চাল-ডাল চোরদের উৎসব। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কাফরুল থানা বিএনপির উদ্যোগে ইব্রাহিমপুর এলাকায় ত্রাণ বিতরণ উদ্বোধনকালে রিজভী এসব কথা বলেন। রিজভী আরো বলেন, বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্ব মহামারির মধ্যে পতিত। এ কারণে প্রতিটি মানুষ আতঙ্কে দিন যাপন করছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে জনগণকে সচেতন করা বা করোনা প্রতিহত করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশে ৮ মার্চ তিন জন রোগী শনাক্ত হয়। সরকার তখনো কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে অন্য কাজে ব্যস্ত ছিল। তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষ যারা দিন আনে দিন খায়, তারা খাবার সংগ্রহ করতে পারছে না। তারা ক্ষুধার জ্বালায় হাহাকার করছে। ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যে পতিত হয়েছে তারা। সুত্রঃ কালের কন্ঠ
নানা উপলক্ষ ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কিছু খাবারদাবার রয়েছে। সিলেট অঞ্চলে ইফতারে খাওয়া হয় এমন দুটি জনপ্রিয় পদ হলো আখনি ও সবজির নরম খিচুড়ি। এ দুটো খাবারের রেসিপি দিয়েছেন সিলেটের গৃহিণী নাহিমা সুমি।
সবজির নরম খিচুড়ি
উপকরণ: পোলাওয়ের চাল অথবা আতপ চাল ১ কাপ, মসুর ডাল ১ কাপ, মুগডাল আধা কাপ (চাইলে পাঁচমিশালি ডাল দেওয়া যেতে পারে), মৌসুমের যেকোনো সবজি দেড় কাপ, সয়াবিন তেল ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজকুচি ১টি (বড়), রসুনকুচি ১টি, কাঁচা মরিচ ৫-৬টি, আদাকুচি ১ চা–চামচ, ঘি ও লবণ পরিমাণমতো, আস্ত গরমমসলা পরিমাণমতো, হলুদগুঁড়া ১ চা–চামচ ও জিরাগুঁড়া আধা চা–চামচ।
প্রণালি: প্রথমে চাল ও ডাল ধুয়ে ১০-১৫ মিনিট একটি পাত্রে ভিজিয়ে রাখুন। ১০ মিনিট পর ঘি আর কাঁচা মরিচ ছাড়া সব উপকরণ একটি হাঁড়িতে রেখে মাখিয়ে নিন। মাখানো হলে ৬-৭ কাপ পানি দিয়ে হাঁড়িটি ঢেকে চুলায় বসিয়ে দিন। চুলার আঁচ প্রথমে ভালো করে দিতে হবে। ৫-১০ মিনিট পর চুলার আঁচ কমিয়ে রাখবেন। তখন ঢাকনা খুলে নাড়তে হবে। চুলার আগুন অল্প রাখতে হবে। সেদ্ধ হওয়ার পর ঘন ঘন নাড়তে হবে। যদি পানি বেশি শুকিয়ে যায়, তাহলে ১ কাপ গরম পানি দেওয়া যাবে। চাল ও ডাল ভালোভাবে গলে গেলে বুঝতে হবে খিচুড়ি হয়ে গেছে। এবার আস্ত কাঁচা মরিচ ও ঘি দিয়ে চুলা থেকে নামিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন।
নরম বা পাতলা খিচুড়ি ইফতারের সময় পেঁয়াজু, ছোলা, বেগুনি ও আলুর চপের সঙ্গে পরিবেশন করা যায়।
আখনি
উপকরণ: চিনিগুঁড়া চাল ১ কেজি, গরুর মাংস ৭০০ গ্রাম, পেঁয়াজকুচি ২ কাপ, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ, জিরাগুঁড়া ১ টেবিল চামচ, টক দই দেড় কাপ, আস্ত গরমমসলা (দারুচিনি ১০-১২ টুকরা, লং ৪-৫টি, তেজপাতা ২টি, এলাচি ৩-৪টি, গোলমরিচ ৩-৪টি), সয়াবিন তেল ২ টেবিল চামচ, বাটার অয়েল ১ কাপ, ঘি ও লবণ পরিমাণমতো, কাঁচা মরিচ ৮-১০টি, আলুবোখারা ৩-৪টি, বিরিয়ানির মসলা ১ প্যাকেট, চিনি ১ টেবিল চামচ এবং বেরেস্তা ১ কাপ।
প্রণালি: প্রথমে গরুর মাংসকে ভালোভাবে পরিষ্কার করে ছোট ছোট টুকরা করে নিতে হবে। এরপর মাংস একটি হাঁড়িতে নিয়ে পেঁয়াজ, আদা, রসুনবাটা, জিরাগুঁড়া, টক দই, বিরিয়ানির মসলা ও দেড় কাপ সয়াবিন তেলের সঙ্গে মাখিয়ে নিতে হবে। মাখানো শেষে হাঁড়িটিকে অল্প আগুনে চুলায় বসিয়ে কষাতে হবে। মাঝেমধ্যে ঢাকনা খুলে নাড়তে হবে। কষাতে কষাতে মাংস যখন সেদ্ধ হবে, তখন চুলা থেকে নামিয়ে নিতে হবে।
এবার চালগুলো ধুয়ে একটি বড় পাত্রে করে চুলায় বসিয়ে সয়াবিন তেল ও বাটার অয়েল দিন। তেল গরম হলে আস্ত গরমমসলা দিন। সুন্দর গন্ধ বের হওয়া পর্যন্ত ভেজে নিন। বাকি পেঁয়াজকুচি দিয়ে হালকা বাদামি রং ধারণ করা পর্যন্ত ভাজতে থাকুন। এভাবে পেঁয়াজকুচির রং বদল হওয়ার পর চালগুলো দিয়ে ভাজতে থাকুন। ভাজা শেষ হলে চালের দেড় গুণ পরিমাণ পানি (১ কাপ চালের জন্য দেড় কাপ পানি) দিয়ে, পরিমাণমতো লবণ ও ১ চা–চামচ চিনি দিন। এবার চুলার আগুন অল্প থেকে একটু বাড়িয়ে দিয়ে পাত্র ঢেকে রাখুন। কিছুক্ষণ পর একবার নেড়ে নিন। পাঁচ মিনিট পর আগে থেকে কষিয়ে রাখা মাংস দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এ সময় চুলার আগুন আরও কম থাকতে হবে। প্রায় আধা ঘণ্টা দমে রেখে চুলা থেকে নামিয়ে দিন।
এবার গরম গরম পরিবেশন করুন। সঙ্গে টমেটোর সালাদ রাখা চাই। সুত্রঃ প্রথম আলো
শাহাদাত হোসেন বেসরকারি চ্যানেল যমুনা টেলিভিশনের একজন সিনিয়র রিপোর্টার। গত মাসের একদম শেষের দিকে একটু জ্বর উঠেছিল। খুব সামান্যই তাপমাত্রা ছিল। এরপর একটি প্যারাসিটামল খাওয়ার পর এক রাতেই জ্বর সেরে গিয়েছিল। এরপর তিনি পেশাগত দায়িত্বও পালন করেছেন।
কিন্তু বাড়িতে তার শ্বশুর কয়েকদিনের মধ্যে ব্যাপক জ্বর ও মাথাব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার পর ভাবলেন নিজেও একটু পরীক্ষা করিয়ে নেবেন। দেখা গেল তার কোনো উপসর্গ না থাকলেও তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর তার শ্বশুরসহ পুরো পরিবারের সবাই আক্রান্ত হয়েছেন। শাহাদাত হোসেন বলছেন, হাসপাতালে ভর্তির পর তার মনে হয়েছে জীবনে এতটা অসহায় কোনো দিন বোধ করেননি।
‘ওয়ার্ডে লাশ পরেছিল ২৪ ঘণ্টা’ তিনি বলছেন, করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ এটি জানার পর শুরুতে তিনি খুব আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিলেন। কী করবেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না।
সহকর্মীদের সহায়তায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার ভাষায়, “হাসপাতালে চরম প্রতিকূলতার মধ্যে নয় দিন পার করেছি আমরা। ওখানে মনে হয়েছি রোগীরা একেবারে অভিভাবকহীন। আমি খুবই অসহায় বোধ করেছি।”
“দেখতাম চোখের সামনে রোগীরা মারা যাচ্ছে। লাশ ওয়ার্ডেই পরে থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, তিনি বলেন।
” যেহেতু নির্দিষ্ট ব্যক্তি লাশ দাফন করেন হয়ত তাদের সংখ্যা কম কিন্তু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, সেকারণে হয়তবা। কিন্তু এতে একজন অসুস্থ রোগী যে এমনিতেই ভয়ে আছে তার মনের অবস্থা কী হয়?” তিনি বলেন।
তিনি হাসপাতালে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলছিলেন, ২৪ ঘণ্টায় একজন চিকিৎসক আসতেন। অনেক দূর থেকে কথা বলে চলে যেতেন।
নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে একটি মানুষকেও পাওয়া যায় না। এরকমও হয়েছে যে নার্স আসেনি বলে একবার সকালের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়া হয়নি। চিকিৎসক দিনে একবারও আসেনি সেটিও হয়েছে।
তিনি বলছেন, “কিন্তু একজন চিকিৎসকের কথায় আমার ভরসা পাওয়ার কথা। তার কথায় আমার মনোবল বেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখানে মানসিক সাপোর্ট দেয়ার কেউ ছিল না।”
অন্যান্য সুবিধাদির বর্ণনা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, তিনি যে ওয়ার্ডে ছিলেন সেখানে এক শ’র মতো রোগী ছিল। এতজন রোগীর জন্য মাত্র তিনটি টয়লেট, তিনটি গোসলখানা।
শাহাদাত হোসেন একপর্যায়ে রোগী বাড়তে শুরু করার পর চিকিৎসকদের অনুরোধ করে তার শ্বশুরসহ বাড়ি চলে আসেন।
আর একটি হাসপাতালের চিত্র
দেশে সবচেয়ে প্রথম যে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সাংবাদিক শনাক্ত হয়েছিলেন সেটি ছিল ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের। সেখানে ভিডিওগ্রাফার হিসেবে কর্মরত আশিকুর রহমান রাজু আক্রান্তদের একজন।
তিনি বলছেন, শনাক্ত হওয়ার পর যখন কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে যান শুরুতেই ঘাবড়ে গিয়েছিলেন কারণ সবাই পিপিই পরে অনেক দূরে দাড়িয়ে আছেন।
তিনি তার প্রথম অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, তাকে একজন ওয়ার্ড বয় একটা পলিথিন ব্যাগে বিছানার চাদর, বালিশ, বালিশের কাভার, টয়লেট টিস্যু আর একটা সাবান দেয়।
”এগুলো দিয়ে ওয়ার্ড বয় কেচিগেট তালা মেরে চলে গেল। নিজের বিছানাও নিজে গুছিয়ে নিতে হলো,” তিনি জানান।
তিনি বলছিলেন, প্রথম দিন তার জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে কেউ আসেনি। চিকিৎসকদের ফোন করে তিনি সেটি জানানোর পর সাড়ে চারটার দিকে তার জন্য একটি বক্সে করে খাবার এসেছিল। কোনো প্লেট দেয়া হতো না। সেখানে পানি গরম করা থেকে শুরু করে সবকিছুই নিজেকে করে নিতে হয়েছে।
এমনকি জ্বর হলে যে মাথায় পানি দিতে হয়, ওই সময়ও সহায়তা দেয়ার কেউ ছিল না। একটা বালতি, মগ কিছুই ছিল না, এসব অভিযোগ তিনি করেছেন।
“খাবার রেখে যাওয়া হতো কেঁচি গেটের বাইরে। তারপর হ্যান্ডমাইকে সেটা জানানো হতো,” তিনি বলেন।
”অসুস্থ লোকদের গিয়ে সেই খাবার নিয়ে আসতে হতো। ওয়ার্ডে একজন নতুন বয়স্ক রোগী এসেছিলেন। তিনি এই তথ্যটা জানতেন না। তিনি এক রাত ও পরের সকাল না খেয়ে ছিলেন,” রহমান বলেন।
আশিকুর রহমান বলছিলেন, জ্বর নিয়ে যে কয় দিন বাসায় ছিলেন তার মনোবল চাঙ্গা ছিল। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সাথে সাথেই সেটি হারাতে শুরু করেন।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি, যারা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছেন তারা ও তাদের পরিবার এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবায় নিয়জিত ব্যক্তিরা সামাজিকভাবে ব্যাপক হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন এমন বেশকিছু অভিযোগ উঠেছে।
একসময় কুষ্ঠ আক্রান্ত রোগীদের যেভাবে সমাজ পরিত্যাগ করতো যেন সেরকম এক ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে তাদের যেতে হচ্ছে। তার একটি বর্ণনা পাওয়া গেল এই দুই সংবাদকর্মীর ভাষায়।
অন্য আরো বেশ কয়েকজন সেরে ওঠা ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা হলেও সামাজিক সমস্যার ভয়ে তারা কথা বলতে রাজি হননি।
আশিকুর রহমান রাজু বলছেন, যেসময় ভয়াবহ শরীর ব্যথা, জ্বর, মাথাব্যথা ও কাশি শুরু হয় সেই সময় তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কিনা এমন সন্দেহ হলে আইইডিসিআরে যোগাযোগ করেন। তার শরীর থেকে যখন স্বাস্থ্যকর্মীরা নমুনা সংগ্রহ করতে আসেন তখন এলাকার লোকজন ও বাড়িওয়ালার চরম ক্ষোভের মুখে পরেন তিনি।
“কেন আমি ওদের ডাকলাম, এইটা তারা বলছে। যেন আমি ওনাদের ডেকে কোন অন্যায় করছি,” তিনি বলেন।
”ওরা কেন আসছে, সেজন্য বাড়িওয়ালা আমার দরজা পিটাইতেছিল। এলাকার লোকজন এসে বাড়িওয়ালাকে ধরেছে।
”আমি তাদের বুঝিয়ে বললাম যে সাবধানতা হিসেবে চেকআপের জন্য আসছে। পরীক্ষা হলে আপনাদের জন্যই ভালো হবে, রহমান বলেন।
এরপর যেদিন করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার খবর পেলেন ওই দিন তিনি অ্যাম্বুলেন্স বাড়ির কাছে আনতে সাহস করেননি। অসুস্থ অবস্থায় হেঁটে গিয়ে দূর থেকে অ্যাম্বুলেন্স উঠেছিলেন।
সেরে ওঠার পর যেদিন গ্রামের বাড়িতে গেছেন চেনা পরিচিত লোকেরাও তার খবর নেননি।
“আমি আসতেছি এটা দেখেই বাড়ির কাছে পুরো রাস্তা খালি হয়ে গেল। আমি যেন ভিন গ্রহের কেউ এরকম মনে হচ্ছিল,” তিনি বলেন।
শাহাদাত হোসেন বলছেন, তার ফ্ল্যাটের লোকজনের কাছ থেকে চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন তিনি ও তার পরিবার। রীতিমতো একঘরে করে ফেলার অবস্থা।
“মনে হয় যেন অসুস্থ হয়ে আমি বড় কোন পাপ করে ফেলেছি,” তিনি বলেন।
”হাসপাতালে আমার সাথে ছিলেন তাদের একজনকে দেখেছি অসহায়ত্বের কারণে কাঁদছেন। করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে জানার পর তার পরিবারকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার হুমকি পেয়েছেন,” বলেন হোসেন।
‘আপনি হাসপাতালের দায়িত্ব নেবেন?’ হাসপাতাল সম্পর্কে যে অভিযোগ করছিলেন সেরে ওঠা এই দু’জন সেনিয়ে কথা বলেছি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদের সাথে।
তিনি বলছেন, “বাইরে থেকে কেউ বুঝবে না যে আমরা কিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।”
চিকিৎসকদের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, দেশে এ পর্যন্ত ১৩০ জন চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। একজন মারাও গেছেন।
“চিকিৎসকেরা কাছে না গেলে তারা আক্রান্ত হলেন কিভাবে?” তিনি প্রশ্ন করেন।
”এখানে সবমিলিয়ে ৬০০ জন স্বাস্থ্যকর্মী। যারা সংসার, ছেলে-মেয়ে রেখে দিনের পর দিন দূরে থাকছেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।
”তাদের আমরা এন-৯৫ মাস্ক দিতে পারিনি। যিনি চিকিৎসা করবেন তিনি যদি আক্রান্ত হন তাহলে আপনি হাসপাতালের দায়িত্ব নেবেন?” ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ বলেন।
‘এটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষা করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন উপায় হচ্ছে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা। স্বাস্থ্যকর্মীরা সেটাই করছেন বলে তিনি বলছেন।
হাসপাতালে মরদেহ ওয়ার্ড ফেলে রাখা অভিযোগ তিনি ‘অস্বাভাবিক’ বলে বর্ননা করেন।
”দিনে দু’বার অন্তত ডাক্তারদের রাউন্ড হয়। তিনি কি কাউকে তথ্যটা দিয়েছিলেন?” তিনি প্রশ্ন করেন।
” অসুস্থ অবস্থায় মানুষজন অনেক আবেগপ্রবণ থাকে। করোনাভাইরাসকে হয়ত তারা অন্য রোগের সাথে তুলনা করেছেন। কিন্তু বিষয়টাতো তা নয়,” ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ বলেন।
করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যে অভিজ্ঞতা তাদের হচ্ছে সেটিকে তিনি যুদ্ধের সাথে তুলনা করে বলেন যে, সারা বিশ্ব এটি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।
”যেসব দেশে সক্ষম স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে তারাও ভেঙে পরছে। এটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ,” তিনি বলেন।
কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সূত্র : বিবিসি
মসজিদে হারামের প্রধান ইমাম শাইখ আবদুর রহমান আল সুদাইস বলেছেন, পবিত্র রমজান মাসে মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীতে তারাবি নামাজ হবে। তবে অন্যান্য বছরের মতো ২০ রাকাত হবে না, বরং ১০ রাকাত পড়া হবে নামাজ। এ সিদ্ধান্ত শুধু মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীর জন্য। গত সোমবার (২০ এপ্রিল) এশার নামাজের পর সংবাদ সম্মেলনে করে তিনি এ কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ বাসা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন। শাইখ সুদাইস সংবাদ সম্মেলনে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সামগ্রিক দিক বিবেচনা করে মক্কা-মদিনাবিষয়ক অধিদফতরের পক্ষ হতে রমজান সংশ্লিষ্ট কিছু নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এগুলো হলো- ১. সীমিত সংখ্যক মুসল্লির অংশগ্রহণে রমজানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, তারাবি ও শেষ ১০ দিন তাহাজ্জুদের (কিয়ামুল লাইল) জামাত চলবে। ২. ইমাম-মুয়াজ্জিন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। ৩. যাবতীয় ইফতার আয়োজন ও পরিবেশনা স্থগিত। তার পরিবর্তে মক্কা-মদিনাজুড়ে প্যাকেটজাত ইফতার বিতরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ৪. ইতেকাফের কোনো ব্যবস্থাপনা থাকছে না। ৫. ২০ রাকাতের স্থলে তারাবি হবে পাঁচ সালামে মোট ১০ রাকাত। ৬. প্রতিদিন দু’জন ইমামের একজন তারাবির প্রথম ছয় রাকাত এবং অপরজন বেতরসহ অবশিষ্ট চার রাকাত নামাজ পড়াবেন। ৭. প্রতি তারাবিতে কুরআনে কারিমের শুরু হতে সুনির্দিষ্ট একটি অংশ তেলাওয়াত করা হবে। ৮. শেষ ১০ দিনের তাহাজ্জুদে তারাবিতে পঠিত তেলাওয়াতের ধারাবাহিকতা বহাল থাকবে এবং ২৯ রোজায় কুরআন খতম করা হবে। ৯. বেতরের নামাজে কুনুতের দোয়া সংক্ষেপ তবে অর্থবহ করে উপস্থাপন করা হবে। ১০. ওমরাহর স্থগিতাদেশ পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
সৌদি আরবে মঙ্গলবার পর্যন্ত করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৪৮৪ জন। এটিতে মারা গেছে ১০৩ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৪৯০ জন। সূত্র : আল আরাবিয়া, আনাদোলু
ইফতার মাহফিল বাতিল, মসজিদে নামাজ বন্ধ৷ কোভিড-১৯ মহামারি যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, আনন্দহীন এক রমজান মাসের প্রস্তুতি নিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ৷ রমজান মাস আত্ম পরিশুদ্ধি ও সামাজিকতার মাস৷ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসীরা পবিত্রতম এ মাসে সকাল-সন্ধ্যা রোজা রাখেন এবং তারপর পরিবার বা সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে একত্রে ইফতার করেন৷ মাসের শেষে রয়েছে ঈদুল ফিতরের উৎসবও৷
কিন্তু এ বছর নভেল করোনা ভাইরাসের দ্রুত সংক্রমণে লাখ লাখ মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে লকডাউনে আটকা পড়েছেন৷ সৌদি আরব থেকে লেবানন, এমনকি লিবিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশেও পড়েছে করোনার প্রভাব৷ পুরো অঞ্চল জুড়ে মসজিদ বন্ধ রয়েছে৷ এমনকি মুসল্লিদের তারাবির নামাজও বাসায় থেকে পড়তে বলা হচ্ছে৷
সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি আব্দুল আজিজ আল শেখসহ আরো বেশ কয়েকটি দেশের ধর্মীয় নেতা রমজান ও ঈদ এবার ঘরে থেকে পালন করার নির্দেশনা দিয়েছেন৷ মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদের মোয়াজ্জিন আলী মুল্লাহ দুঃখপ্রকাশ করে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘‘আমাদের অন্তর কাঁদছে৷” তিনি বলেন, ‘‘আমরা এই পবিত্র মসজিদে দিন রাত সবসময় ধর্মপ্রাণ মানুষের ভিড় দেখে অভ্যস্ত৷ আমরা মনের গভীরে এ ব্যথা অনুভব করছি৷”
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কাবাতেও নেই মুসল্লিদের আনাগোণা৷ অন্য যেকোনো সময় কাবার চারপাশের চত্ত্বর লোকে লোকারণ্য থাকে৷ গত মাসে উমরাহ হজও বন্ধ করে দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ৷
জুলাই মাসের শেষে মূল হজও বাতিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷ এমন হলে এটিই হবে আধুনিক ইতিহাসে হজ বাতিলের প্রথম ঘটনা৷ এরই মধ্যে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের হজে আসার আগাম প্রস্তুতি না নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ৷ সুত্রঃভিডাব্লিউ ৷
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ৩ হাজার কোটি টাকার আরেকটি পুনঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই তহবিল থেকে নিম্ন আয়ের বিভিন্ন পেশাজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা ঋণ নিতে পারবেন। এই তহবিলের সুদহার হবে ৯ শতাংশ। ক্ষুদ্র ঋণদানকারী এনজিওদের মাধ্যমে এই ঋণ বিতরণ করা হবে। এজন্য এ তহবিলের সুদের হারও অন্যান্য তহবিল থেকে বেশি। আজ সোমবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বাধাগ্রস্তহচ্ছে। এর ফলে দেশের নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক/ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীগণ তাদের আয় উৎসারী কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারছেন না। গ্রামীণ অর্থনীতিতে দেশের নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক/ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অবদান অনস্বীকার্য। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রমের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্তপ্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক কর্মকান্ড চলমান রাখা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক একটি আবর্তনশীল পুনঃঅর্থায়ন স্কিমগঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ বছর মেয়াদী এই তহবিল গঠন করেছে। ব্যাংকগুলো ১ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে তা সাড়ে ৩ শতাংশ মাইক্রোক্রেডিট অথরিটি (এমআরএ) অনুমোদিত ক্ষুদ্র ঋণদানকারী এনজিওগুলোকে ঋণ দেবে। আর গ্রাহক পর্যায়ে এনজিওগুলো ৯ শতাংশ পর্যন্ত সুদ আদায় করতে করতে পারবে এনজিওগুলো। এই সুদহার ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে হিসাবায়ন করতে হবে। সর্বোচ্চ ১ বছর মেয়াদে এই তহবিলের ঋণ নিতে পারবেন নি¤œ আয়ের মানুষেরা। তবে আগে খেলাপি হলে কেউঋণ নিতে পারবেন না।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নিম্ন আয়ের পেশাজীবি ও কৃষকরা একক নামে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা এবং গ্রুপভিত্তিক সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা একক নামে ১০ লাখ টাকা এবং গ্রুপভিত্তিক প্রকল্পের নামে ৩০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। এই তহবিলের ঋণের তদারকি করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্ট। এখন পর্যন্ত করোনার প্রকোপ ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অন্তত ৬ ধরনের ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এরমধ্যে নিম্ম আয়ের মানুষের তহবিলের সুদহার সবচেয়ে বেশি ৯ শতাংশ। কৃষকদের জন্য গঠিত ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিলের সুদহার ৪ শতাংশ। বড় শিল্প ও সেবাখাতের প্রতিষ্ঠানের ৩০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের সুদহার সাড়ে ৪ শতাংশ। সমপরিমান সুদ ভর্তকী দেবে সরকার। কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্পের ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের সুদহার ৪ শতাংশ। এর বাইরে ৫ শতাংশ সুদ ভর্তৃকী দেবে সরকার। রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের আকার সাড়ে ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা বাড়িয়ে সুদহার করা হয়েছে ২ শতাংশ। আর রপ্তানিকারকাদের ৫ হাজার কোটি টাকার প্রিশিপমেন্ট তহবিলের সুদহার হার ৬ শতাংশ। আর শ্রমিকদের বেতন দিতে রপ্তানমুখী শিল্প মালিকদের জন্য গঠিত ৫ হাজার কোটি টাকার সুদবিহীন তহবিলের এককালীন সার্ভিস চার্জ ২ শতাংশ। সুত্রঃ ইত্তেফাক।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃমহামারী করোনা ভাইরাসে মানুষজন আজ বিপর্যস্ত অসহায়। সেটা মাথায় নিয়ে বড়লেখা ফ্রেন্ডস ক্লাব ইউ,কে’র উদ্যেগে মানবিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সাময়িক অসুবিধাগ্রস্ত পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীর এবং এতিমখানার শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছে লন্ডস্থ বড়লেখা ফ্রেন্ডস ক্লাব ইউকে। ক্লাবের সদস্যরা এমন সব মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন যাদের অনেকই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর, যারা চরম এ দুর্দিনে না পারছেন কারো কাছে হাত পাততে, না পারছেন ত্রাণের লাইনে দাঁড়াতে।
বক্তব্য রাখছেন উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব সোয়েব আহমেদ
মঙ্গলবার (২১এপ্রিল) সংগঠনের দেশে থাকা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে উপজেলার ২৪০টি পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে লন্ডস্থ বড়লেখা ফ্রেন্ডস ক্লাব।
বক্তব্য রাখছেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাহেনা বেগম হাসনা
জানা গেছে, বড়লেখা ব্লাড ডনেট ক্লাব ও দূর্বারমুক্ত স্কাউট দলের সদস্যদের সহযোগিতায় প্যাকেট করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে রয়েছে চাল, মশুর ডাল, পেঁয়াজ, তেল, সাবান, লবন, চানা ও আলু। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বড়লেখা পৌরশহরের ষাটমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাবের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষের মধ্য খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেটগুলো বুঝিয়ে দেয়া হয়।
ফেন্ডস ক্লাব ইউকে’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি মাষ্টার নাজিম উদ্দিনের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব, সোয়েব আহমদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেহানা বেগম হাসনা, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আহাদ, ষাটমা মডেল সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদর উদ্দিন,মাষ্টার বদরুল ইসলাম, মোঃনুরুল ইসলাম বাবলু, জসিম উদ্দিন জামী, জুবের আহমদ, কামরুল ইসলাম, রেজাউল হক, ইব্রাহীম সাজু, কমল দেব, নজরুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, মামুনুর রশিদ, সাইদুল ইসলাম, প্রমুখ।
খাদ্য সামগ্রী
ক্লাবের সভাপতি নাজিম আহমদ ও সেক্রেটারি আব্দুল মোমিন বেলাল এক বার্তায় বলেন, ‘করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যে আমরাও অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছি। দেশে আমাদের এলাকার অনেক মানুষ করোনা সংকটে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাদের সহায়তার জন্য ক্লাবের পক্ষ থেকে আমরা যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সংগঠনের সদস্যদের আহ্বান করেছিলাম; কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। কম সময়ের মধ্যেই ক্লাবের সকল সদস্যসহ যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বড়লেখার মানুষ এ আহ্বানে আন্তরিকভাবে সাড়া দেন। আমরা প্রথম দফায় ২৪০ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিয়েছি। এবং আমাদের এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
নাহিদ আহমদ (বড়লেখা): বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের কারনে বড়লেখায় কাজকর্ম বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়া গরিব অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বড়লেখা উপজেলা যুবদল। মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির উপদেষ্টা, কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জনাব শরিফুল হক সাজুর অর্থায়নে ও বড়লেখা উপজেলা যুবদলের সার্বিক সহযোগিতায় প্রায় ১৫০০ পরিবারের মাঝে ফ্রিতে সবজি বিতরন করা হয়। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বড়লেখা পৌর শহরের দক্ষিণ বাজারস্হ মোশাহিদ ম্যানশনের সম্মুখে এই ফ্রি সবজি বিতরন শুরু হয়। সকাল ১০ টা থেকে বিতরন চলে দুপুর ১ টা পর্যন্ত। উক্ত ফ্রি সবজি বাজার উদ্বোধন করেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেহানা বেগম হাসনা। এছাড়াও আরো উপস্তিত ছিলেন, মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুল হাফিজ ললন, সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির পলাশ, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সদস্য আনোয়ার হোসেন, সদস্য সাইফুল আলম কাওসার সহ বড়লেখা উপজেলা ও পৌর যুবদলের নেতৃবৃন্দ।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারাদেশে ৫০ লাখ দুস্থের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। অতিদ্রুত তাদের রেশন কার্ড দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসকেরা।
এ সময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, রেশন কার্ড তৈরিতে কোনো গাফিলতি যেন না হয়, তা কঠোরভাবে তদারকি করা হবে। কোনা প্রকার অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ত্রাণ সহায়তা বাড়াতে সাম্প্রতি ৫০ লাখ দুস্থের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরপরই কাজ শুরু করেছে স্থানীয় জনপ্রশাসন। তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে জেলা প্রশাসকদের। জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সমন্বয় করে তাদের এ তালিকা করতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে এ তালিকা করা হচ্ছে। এখানে কেউ দুর্নীতি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই তালিকায় কেউ বাদ পড়লে তা যাচাই-বাছাই করার সুযোগ থাকবে বলেও জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।
করোনা মোকাবিলায় এডিবির কাছে বাড়তি আর্থিক সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সোমবার অর্থমন্ত্রী এডিবির প্রেসিডেন্টের সাথে টেলিফোনে আলোচনার সময় এ অনুরোধ জানান বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
এ সময় করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এডিবির স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি খাতে দুই হাজার কোটি মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ ঘোষণায় এডিবি’র প্রেসিডেন্ট মাসাতাসুগু আসাকাওয়ার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। বাংলাদেশে এ ভাইরাস মোকাবিলায় এডিবি থেকে বর্ধিত প্রকল্প সহায়তা, ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত এবং ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য আরও ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার অনুরোধ জানান অর্থমন্ত্রী।
করোনাভাইরাসের এ দুর্যোগকালীন সময়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘সরকারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকার কথা বলা হলেও তা মোটেই সন্তোষজনক নয়। ডাক্তারদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত চেম্বার না করার কারণে যারা সাধারণ সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন, তারাও স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নারী ও শিশুরা। সরকার সঠিক পদক্ষেপ না নিলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে মহাবিপর্যয় দেখা দেবে।’
রোববার (১৯ এপ্রিল) সংগঠনটির নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যেই গোটা দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারের প্রস্তুতি প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। ডাক্তার, নার্স কারও কোনো নিরাপত্তা নেই। ইতিমধ্যেই একজন জনপ্রিয় ডাক্তার যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।’
মো. তাহের বলেন, ‘বিভিন্ন জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত ১০৬ জন ডাক্তার ও ৫৭ জন নার্স করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সাধারণ স্বাস্থ্যকর্মীর আক্রান্ত হওয়ার সঠিক পরিসংখ্যান আমাদের জানা নেই। সারা পৃথিবীতে ডাক্তারদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সর্বোচ্চ হার বাংলাদেশে। ফলে ডাক্তার ও তাদের পরিবারের মাঝে এক চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সরকারি বেসরকারি ২৪টি হাসপাতালে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৬ জন ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অবিলম্বে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
একটা সময়ে হরতাল-অবরোধে ইঞ্জিনের গাড়ি না চললেও রাজধানীর পথঘাট থাকত রিকশার দখলে। কিন্তু মহামারীর এই কালে পুরো দেশ অবরুদ্ধ হলেও প্রায় সুনসান ঢাকার রাজপথ-অলিগলিতে রিকশার দাপট নেই। ‘যান আর জন’ চলাচলে কড়াকড়ি থাকার পরও শুধু পেটের দায়ে কিছু মানুষ রিকশা নিয়ে ঠিকই বের হন। কিন্তু যাত্রী কই? সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাগড়াও তো আছে। সবমিলিয়ে দিনশেষে যা আয় হয় তার চেয়ে ঢের বেশি হা-হুতাশ নিয়ে ফিরতে হয় তাদের।
সোমবার সকালে ঢাকার মৌচাক মোড়ে দেখা গেল পুলিশ সদস্যরা উল্টিয়ে রেখেছেন বেশকিছু রিকশা। আশপাশেই ছিলেন চালকরা। নিষেধাজ্ঞা না মেনে রাস্তায় বের হওয়ার সাজা। বর্তমান অবরুদ্ধ দশার খুবই পরিচিত দৃশ্য। সেখানে কথা হল আরজ আলী নামের এক চালকের সাথে।
অসহায় এই প্রৌঢ় বলেন, “বাবাজি, পেটের খিদার লাইগা হেই বেয়াইন (সকাল) বেলা রিকশা নিয়া বাইর হইছি। এখন বাজে সাড়ে ১০টা, মাত্র ৫০ টাকা কামাই করছি। এই মৌচাকে একটা খ্যাপ নিয়া আইছি, এমন সময় পুলিশ ধরছে, রিকশাটারে উল্টাইয়া রাখছে।”
সাহেব-সুবো মানুষ বললে পুলিশ রিকশাটা ছেড়ে দেবে, হয়তো এমনটা ভেবেই আরজ আলীর আকুতি, “একটু ছাড়াইয়া দেন না। ত্রাণ পাই না। পেটের জ্বালায় রাস্তায় নাইমাও অশান্তিতে পড়লাম। কেমনে চলমু কন?” টাঙ্গাইলের জব্বার সকালে পান্তা খেয়ে রিকশা নিয়ে বেরিয়েছেন। কিন্তু কামাই-রোজগারের যে অবস্থা দুপুরে কপালে কী জুটবে, তা নিয়ে চিন্তায় আছেন তিনি।
“গ্রামের কাজের অভাব, শহরে আইসাও বিপদে পড়ছি। সকালে পান্তা ভাত খাইছি, দুপুরে কী খামু জানি না। এই পর্যন্ত কামাই হয়েছে মাত্র ৮০ টাকা।”
মালিবাগ রেল গেইটের কাছে বস্তিতে স্ত্রী-দুই মেয়েকে নিয়ে থাকেন রহিম। দুইদিন ধরে ঘরে চাল-ডাল নেই। বাধ্য রাস্তায় নেমেছেন রিকশা নিয়ে।
রহিমের প্রতিদিন আয় হয় ১০০-২০০ টাকা। তবে পরিস্থিতিরে কারণে মালিকের জমা দিতে হয় কম। কিন্তু সোমবার পুলিশের হাতে পড়ে অনেকক্ষণ বসে থাকতে হয় তাকে।
“একটু কইয়া ছাড়াইয়া দেন না স্যার,” আরজ আলীর মতো রহিমও অনুরোধ করেন।
মৌচাকের মোড়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে নগরবাসীকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। এজন্যই তারা রাস্তায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছেন।
মালিবাগ রেল গেইট, দৈনিক বাংলা, ফকিরেরপুল, শান্তিনগর, বিজয়নগর মোড়েও যাত্রীর আশায় দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল একই কষ্টের কথা। প্রায় সবাই জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০০ টাকাও আয় নেই। মালিবাগ রেলগেইট এলাকায় বেলা ১২টার দিকে ১০-১২টি রিকশা আর তিনটি ব্যাটারিচালিত রিকশা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
সেখানে রিকশাচালক কলিমুল্লাহ বলেন, “সকাল ৮টা থেইকা ১২টা পর্যন্ত স্যার তিনটা খ্যাপ মারছি। অর্ধেক দিন বাকী আছে। মালিকরে দিতে হইব ১৩৫ টাকা। কেমন চলমু পোলাপান নিয়া?”
কলিমুল্লাহ জানান, মাসখানেক আগেও সকাল ৮টা থেকে ১২ পর্যন্ত সময়ে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা রোজগার করা গেছে।
সকাল ১১টায় শান্তিনগর মোড়ে গত কয়েকদিনের তুলনায় রিকশা একটু বেশিই দেখা গেল। তবে অধিকাংশই যাত্রীশূন্য।
রিকশাচালক করিম মিয়া বলেন, “খ্যাপ পাই না। অটো (বাটারিচালিত) রিকশার ডিমান্ড বেশি। দুই-একটা খ্যাপ যাও পাইতাম, তাও আবার অটোরিকশা দেখলে প্যাসেঞ্জার উঠতে চায় না। এই এক যন্ত্রণা।”
করিমের ভাষ্য, শুধুমাত্র পেটের জন্য রিকশা চালাচ্ছে। একদিন উপার্জন না করলে পরিবার নিয়ে অন্ধকারে তাকে থাকতে হয়।
ত্রাণ পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, “দুই সাপ্তাহ আগে প্লাস্টিকের একটা ব্যাগে কিছু চাইল-ডাইল-আলু পাইছি। আর কোনো ত্রাণ-ট্রাণ পাই না। কেউ আমাগো ত্রাণ দেয় না।”
কথা হল ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক হোসেন আলীর সঙ্গে। কামরাঙ্গীরচরে থাকেন। প্রতিদিন নিয়ে বের হন। দ্রুত যাওয়া যায় বলে ‘লম্বা খ্যাপ মারেন’ তিনি। হোসেন বলেন, “সকালে লম্বা খ্যাপে সদরঘাট থেকে নতুন বাজার গেছি। আবার ফিরতি খ্যাপে দৈনিক বাংলা মোড়ে। কামাই মোটামুটি। তয় ভয় লাগে আর্মি-পুলিশ দেইখা। কারণ রাস্তায় অটো বাইর করা নিষেধ। কিন্তু কি করমু, পেটের জন্য নামছি।”
রিকশাচালকদের কষ্টটা খুব অনুভব করেন মতিঝিল ব্যাংক কলোনির বাসিন্দা সাব্বির হোসেন।
বললে, “রিকশাচালকদের দেখলে খুবই খারাপ লাগে। গত কয়েকদিনের তুলনায় আজকে রিকশা চলাচল একটু বেশি। কিন্তু খালি রিকশা। দেখলে মনে হবে, কষ্ট নিয়ে ওরা ঘুরছে যাত্রীর আশায়। যাত্রী তো সব ঘরে বন্দি।
“আপনি একটু চিন্তা করুন, রাস্তা খালি, রিকশাচালকরা যাত্রী খুঁজছে। আসলে আমরা একটা কঠিন সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছি। কী যে হবে জানি না।” সুত্রঃ bdnews24.com
নিউজ ডেস্কঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম খুনি রিসালদার (বরখাস্ত) মোসলেহউদ্দিন আহমেদ ভারতে ধরা পড়ার বিষয়ে দেশটির গণমাধ্যমের খবরের ভিত্তিতে যোগাযোগ শুরু করেছে বাংলাদেশ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, তাকে (মোসলেহউদ্দিন) পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এ নিয়ে বাংলাদেশের কোনো সংস্থার পদস্থ কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারি মহাপদির্শক (এআইজি) ও ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) প্রধান মহিউল ইসলাম সমকালকে বলেন, ’আমরা অফিসিয়ালি মোসলেহউদ্দিনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানি না। ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেটার অফিসিয়াল উত্তর এখনো পাইনি।’
মহিউল ইসলাম জানান, ভারতে লকডাউন চলছে। অনেক কর্মকর্তা কোয়ারেন্টাইনে আছেন। এ জন্য উত্তর পেতে দেরি হচ্ছে।
তবে পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদকে যেভাবে পাওয়া গিয়েছিল, একইভাবে মোসলেহউদ্দিনকে পাওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও জানান, ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মোসলেহউদ্দিন আটক হবার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
এরই মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট মন্ত্রণালয়ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যোগাযোগ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এ বিষয়ে বলেন, ’ভারতীয় গণমাধ্যমে আমরা তাকে (মোসলেহউদ্দিন) গ্রেপ্তারের বিষয়ে জেনেছি। এখনও আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি।’
বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আব্দুল মাজেদকে কিছুদিন আগে আটক করা হয়। এরপর তার ফাঁসিও কার্যকর হয়েছে। তিনিও দুই দশকের বেশি সময় ভারতে পালিয়ে ছিলেন।
সোমবার কলকাতাভিত্তিক আনন্দবাজার পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি রিসালদার (বরখাস্ত) মোসলেহউদ্দিনও ভারতে অবস্থান করছেন। ভারতীয় গোয়েন্দাদের সহযোগিতায় মোসলেহউদ্দিন এরই মধ্যে আটক হয়ে থাকতে পারেন।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে কিংবা আগামী সপ্তাহে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। ভারতে ভারি বর্ষণের কারণে বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার কয়েকটি স্থানে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাত হবে। রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামসহ দেশের মধ্যাঞ্চলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সপ্তাহব্যাপী চলবে এই বৃষ্টি। এই সময় থেকে চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত কোথাও দমকা হাওয়া, বজ্রসহ শিলাবৃষ্টি হবে। সুত্রঃদৈনিক শিক্ষা
“জনপ্রতিনিধিদের কাছে এমন ব্যবহার পাবো জানলে না খেয়ে মরতাম, কিন্তু খাবার চাইতে যেতাম না” আক্ষেপের সুরে কথা গুলো বলছিলেন ৫৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ চা দোকানদার, ত্রান চাইতে গিয়ে ত্রানের পরিবর্তে মার খেয়ে বাড়ীতে ফিরে এ কথা বলেন তিনি।
জানা যায়, রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের চেম্বারে ত্রাণ চাইতে গিয়ে লাঞ্চনার স্বীকার হয়েছেন ওই ওয়ার্ডেরই এক নারী এবং অপর এক বৃদ্ধ।
নির্যাতিত বৃদ্ধের নাম মংলা কুমার পাল (৫৪)। ২৪ নং ওয়ার্ডে সাধুরমোড় এলাকাতেই তিনি বসবাস করেন। মংলা কুমার পেশায় একজন চা দোকানী। করোনার কারণে দীর্ঘদিন চায়ের দোকান বন্ধ থাকায় তিনি খুব কষ্টে দিন যাপন করছেন বলে জানান। অভাবে পড়েই তার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আরমান আলীর কাছে ভোটার আই.ডি কার্ড নিয়ে যান খাবার সামগ্রী পাবার আসায়। কিন্তু খাদ্য সামগ্রীর বদলে তার কপালে জোটে মার।
ঘটনার বিষয়ে মংলা কুমার বলেন, ‘দীর্ঘদিন চায়ের দোকান বন্ধ থাকায় অভাবে পড়ে কাউন্সিলরের কাছে সরকারী খাদ্য সামগ্রী নিতে যাই আমার ভোটার কার্ড নিয়ে। কিন্তু তিনি ত্রাণ চাওয়ার কথা শুনেই আমাকে তার হাতে থাকা মোটা রেজিষ্টার খাতা দিয়ে মেরে অফিস থেকে বের করে দেন। সেই সাথে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজও করেন তিনি।’
এ দিকে ওই একই ওয়ার্ডে সাধুরমোড় এলাকার লাঞ্চনা ও মানসিক নির্যতনের স্বীকার রাণী বেগম (৩২)। তার পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার স্বামী। রাণীর স্বামী পেশায় রাজশাহীর আরডিএ মার্কেটের এক ছোট দোকানের কর্মচারী। প্রায় একমাস লকডাউন চলার কারণে স্বামীর আয় রোজগার বন্ধ। যার কারণে তিনিও যান কাউন্সিলর আরমান আলীর কাছে সরকারী অনুদান নিতে।
লাঞ্চনা ও নির্যাতনের বিষয়ে তিনি সকালের সময়ের প্রতিনিধিকে জানান, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বামীর ইনকামও বন্ধ। ছেলে-মেয়েকে খাবার দেওয়ার মতো ঘরে কোনো খাবার নেই। তাই বাধ্য হয়ে জীবনে প্রথম বার কাউন্সিলরের কাছে যাই সরকারী ত্রাণ নেওয়ার জন্য। কাউন্সিলরকে আমি বলি- ‘চাচা একটু শোনেন। তাতেই তিনি রেগে আমাকে বলেন- আমি কি তোর মায়ের……!! (প্রকাশযোগ্য নয়) যে তুই আমাকে চাচা ডাকছিস ! এছাড়াও আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজসহ নানান কথা শোনায় যা সহ্য করার মতন না। সরকারি খাবার নিতে গিয়ে এমন লাঞ্চনার স্বীকার হতে হবে আমি জানতাম না বলে কাঁদতে কাঁদতে জানান।
সাধুরমোড় এলাকার কয়েকজন স্থানীয় ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, কাউন্সিলর আরমান আলী খুব বদমেজাজী লোক। শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা হওয়ার কারণে তার কাছে ভয়ে কেউ কথা বলতে পারে না। তাছাড়া এলাকায় যে সরকারি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে তা সব তার নিজের পচ্ছন্দমতন লোকেদের দেওয়া হচ্ছে।
তারা আরো জানান, তার লিস্টের বাইরে কোনো কর্মহীন দুস্থ লোক ত্রাণ চাইতে গেলে মারধর, গালি-গালাজ করে তাড়িয়ে দেয়। এসব দেখে অন্যরা যেনো তার কাছে ত্রাণ চাইতে না আসে সে কারণে। মংলা ও রানী দু’জনেই ত্রাণ নিতে গিয়ে লাঞ্চনার স্বীকার হয়। কাউন্সিলর অফিস থেকে তারা কাঁদতে কাঁদতে মোড়ের ওপর বসেছিলো। পরে আমরা তাদের বুঝিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেয়।
অভিযোগের বিষয়ে ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে গেলে সকালের সময়ের প্রতিনিধিকে তিনি বলেন, ‘তাদের অভিযোগ মিথ্যে। আপনাদের কাছে কি কোনো প্রমাণ আছে। এসব আমাকে আমার প্রতিপক্ষ কিছু মানুষ বদনাম করার জন্য এসব অপপ্রচার করছে। কাউন্সিলরের কথার প্রেক্ষিতে তার সামনেই মংলাকে কল করা হলে লাউডে তিনি সেই অভিযোগই করেন যা তার সাথে ঘটেছিলো। তারপর কাউন্সিলর সেটা মিথ্যা কথা বলছে বলে মন্তব্য করেন।’
১২ সপ্তাহ মজুরিসহ ১১ দফা দাবি ‘ভুখা লংমার্চে চা শ্রমিকদের ২৪ ঘন্টার আলটিমেটাম
নিউজ ডেস্কঃ গত ১২ সপ্তাহ যাবত মজুরিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকার প্রতিবাদে রোববার (১৯ এপ্রিল) মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে অবস্থিত কালিটি চা-বাগান থেকে কুলাউড়া অভিমুখে ‘ভুখা লংমার্চ’ করেন চা শ্রমিকরা। ‘ভুখা লংমার্চে চা শ্রমিকরা ২৪ ঘন্টার আলটিমেটাম দেন।
এতে সংহতি প্রকাশ করেন গাজীপুর ও রাঙ্গিছড়া চা বাগানের শ্রমিকগণ ও নেতৃবৃন্দ। এই লংমার্চে শ্রমিকগণ হাতে প্ল্যাকার্ড ও খালি থালা-বাসন নিয়ে কালিটি চা বাগান থেকে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ দুই ঘন্টা পর কুলাউড়া পৌঁছেন।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কালিটি বাগানটি ‘জোবেদা টি কোম্পানি লিমিটেডের’ নামে সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া হয়েছে। বাগানে মোট ১০০০ শ্রমিক আছে তার ভিতর ৫৩৭ জন স্থায়ী শ্রমিক আছেন। প্রত্যেক শ্রমিক দৈনিক ১০২ টাকা করে মজুরি পান।
প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার তা পরিশোধের কথা। কিন্তু ১২ সপ্তাহ ধরে শ্রমিকেরা মজুরি পাচ্ছেন না। বাগানের শ্রমিক সরদার ও স্টাফদেরও ১১ মাসের বেতন আটকা পড়ে আছে।
বাগান শ্রমিক পঞ্চায়েত কমিটির সম্পাদক উত্তম কালোয়ার বলেন, ‘শ্রমিকেরা এমনিতেই সামান্য মজুরি পান। এরপর ১২ সপ্তাহ থেকে কেউ সেই মজুরি পাচ্ছেন না। কাজ করেও মজুরি মিলছে না। ঘরে চাল-ডাল নেই। উপোস করে দিন কাটাতে হচ্ছে। বাগান কর্তৃপক্ষ আজ দিচ্ছি, কাল দিচ্ছি বলে সময়ক্ষেপণ করছে।’
চা শ্রমিক সন্তান মোহন রবিদাশ বলেন, ১১ দফা দাবিগুলোর ভিতর ১২ সপ্তাহের মজুরি (চা শ্রমিকদের) ও ৩ মাসের বেতন (শ্রমিক সর্দার ও স্টাফদের) না পেয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন চা শ্রমিক। এখানে খাবার পানির একমাত্র উৎস কুয়া (কূপ) কিন্তু খরার কারণে কুয়াগুলো শুখিয়ে যাওয়ায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে।
এই বাগানে চিকিৎসার একমাত্র আশ্রয়স্থল যে হাসপাতালটি সেখানেও ৩ মাস ধরে চিকিৎসাসেবা বন্ধ। এই বাগানের চা শ্রমিকদের ২৬ মাসের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করেছে বাগান মালিক।
এই বাগানে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ তো দূরের কথা সামান্য একটা মাস্কও কেউ দেয় নি। তাই ৯৯ ভাগ মানুষ মাস্কহীনভাবে চা বাগানে কাজ করছে।
সম্প্রতি (মাত্র ক’দিন আগে) ঢাকা থেকে যে কয়েকজন যুবক (তারা এই বাগানেরই ছেলে, ঢাকায় কাজ করতো) এই বাগানে প্রবেশ করেছে তাদের ব্যাপারে প্রশাসন কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেয় নি। মানুষ পেটের দায়ে আজ আন্দোলন করছে,ভূখা মিছিল করছে যেখানে “সামাজিক দূরত্ব” নিশ্চিত হচ্ছে না। কিন্তু তারপরেও তাদের প্রতি কেউ-ই দৃষ্টিপাত করছে না।
করোনা ঝুঁকির কারণে তাদের সব ধরনের পার্শ্ব-আয় (পানের পুঞ্জীতে কাজ করা, চা বাগানের বাইরে কাজ করতে যাওয়া) বন্ধ,তাই চরম হাহাকার নেমে এসেছে এখানে। দীর্ঘ ২ বছর যাবত ঘর-বাড়ি (বেশিরভাগ ছনের ঘর) মেরামত না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙ্গা ঘরে বাস করছেন এই বাগানের মানুষ।
ছাত্র-যুবক নেতা দয়াল অলমিক বলেন, বাগানে চিকিৎসক নেই। শ্রমিকেরা বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করালে বাগান কর্তৃপক্ষ বিলের টাকা দেয় না। বাগানে বিরাজমান এসব সমস্যার কথা তুলে ধরে এর প্রতিকার চেয়ে ৫ জানুয়ারি তাঁরা শ্রীমঙ্গলে শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
চা শ্রমিক নেতা বিশ্বজিত দাস বলেন বলেন, একদিকে ১২ সপ্তাহ ধরে মজুরি বঞ্চিত অন্যদিকে করোনা ভাইরাসের সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঝুঁকিতে আছেন এই বাগানের শ্রমিকগণ। অবিলম্বে এই বাগানের সংকট নিরসন করা না গেলে শত শত চা শ্রমিকের জীবন বাঁচানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। ২৪ ঘন্টার ভিতর যদি সমাধান না হয় তাহলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সম্ভু চৌদুরী দাশ বলেন, বাগানে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা। শ্রমিকদের আগের মজুরিরও বেশ কিছু টাকা বকেয়া পড়ে আছে। অনেক শ্রমিক জরাজীর্ণ কাঁচাঘরে বাস করছেন। এসব ঘর মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। অবসরে যাওয়া শ্রমিকেরা তহবিলের টাকা পাচ্ছেন না। অথচ প্রত্যেক শ্রমিকের মজুরি থেকে সাত শতাংশ করে ভবিষ্যৎ তহবিলের টাকা কেটে রাখা হয়। এর সঙ্গে মালিক পক্ষ আরও সাত শতাংশ যোগ করে মোট ১৫ শতাংশ টাকা শ্রম অধিদপ্তরে জমা দেওয়া কথা। বাগান কর্তৃপক্ষ তা-ও করছে না।
মজুরি বন্ধের বিষয়ে কালিটি বাগানের ব্যবস্থাপক প্রণব কান্তি দাশ বলেন, কোম্পানির কাছ থেকে যথাসময়ে টাকা না পাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তিনিসহ বাগানের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১১ মাসের বেতন বন্ধ আছে বলেও জানান তিনি।
কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম শফি আহমেদ সলমান বলেন, মালিকের সাথে কথা বলে ২৪ ঘন্টার ভিতর সমাধান করবো। নয়তো মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজ ডেস্কঃ করোনা পরিস্থিতিতে সারাদেশে ছদ্মবেশী ডাকাত চক্র সক্রিয় হয়েছে। ইতিমধ্যে অভিনব কায়দায় কয়েকটি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্য ঢাকার মোহাম্মদপুর ও খিলগাঁওয়ের দুটি ওষুধের দোকানে ডাকাতির ঘটনা অন্যতম। এই দুটি দোকানে ডাকাতরা মুখে মাস্ক পরে ডাকাতি করেছে। লুট করেছে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন। আর প্রাইভেট গাড়ি ও মাছের গাড়ি আটকিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গোয়েন্দা পুলিশ এ ধরনের ঘটনার তদন্তে নেমে ৫ পেশাদার ডাকাতকে আটক করেছে। এর বাইরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কদিন ধরে পিপিই পরে স্বাস্থ্যকর্মী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ডাকাতির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের আলামত পেয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।
কারণ দেশের কিছু কিছু স্থানে পিপিই পরে ছদ্মবেশে ডাকাতরা ডাকাতি করার চেষ্টা চালিয়েছে বলে পুলিশের কাছে খবর রয়েছে। এরপর থেকে মানুষের মধ্য আতঙ্ক বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসকল অভিযোগ উঠেছে তারমধ্য টাঙ্গাইল, সাভার, গুলশান, ধানমন্ডি ও ঢাকা জেলা পুলিশের আওতাধীন এলাকায় পিপিই পরে ডাকাতরা বিভিন্ন বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করেছে বলে জানা গেছে। গভীর রাতে ডাকাতরা করোনা রোগীর তথ্য ও নমুনা সংগ্রহের অজুহাত দিয়ে ডাকাতির চেষ্টা করেছে। এরকম অভিযোগ উঠার পর গুলশান ও ধানমন্ডি থানা পুলিশ তাদের এলাকায় তদন্ত করে অভিযোগের কোনো সত্যতা খোঁজে পায়নি। তবে পুলিশ এই দুটি এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে। ঢাকা জেলাও পুলিশও মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, রাতের বেলা তাদের টহল টিম বাড়ানো হয়েছে। তারপরেও যদি এরকম কেউ বাসায় প্রবেশ করতে চায় তবে অবশ্যই যেন তারা পুলিশকে জানায়। টাঙ্গাইলের একটি ভবনে রাতের বেলা স্বাস্থ্যকর্মীর পরিচয় দিয়ে ডাকাতি চেষ্টার ঘটনা এখন নেট দুনিয়ায় তোলপাড়। রাত ১টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের একটি ভবনের গেটে এসে গ্লাবস, মাস্ক ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরা তিন-চার ব্যক্তি নিরাপত্তাকর্মীকে ডাকতে থাকেন। দরজার সামনে এসে নিরাপত্তাকর্মী দেখতে পান চারজন দাঁড়িয়ে আছেন। দুজন মাস্ক, গ্লাভস পরা এবং দুজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক পরা। ভেতর থেকে গার্ড তাদের পরিচয় জানতে চান। হাসপাতাল থেকে করোনা আক্রান্ত রোগীর তথ্য নিতে এসেছে বলে তারা জানায়। বিষয়টি নিরাপত্তাকর্মীর সন্দেহ হয়। কারণ তিনি জানেন এই বাসায় কোনো করোনা রোগী নাই।তাই তিনি গেট খুলবেন না বলে তাদেরকে জানান। কিন্তু তারা ভয় দেখিয়ে দ্রুত গেট খোলার জন্য তাগিদ দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু গার্ড আর গেট খুলতে রাজি হননি। গেট খুলে না দেওয়ায় তারা নিরাপত্তাকর্মীকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে সকালে দেখে নিবে বলে শাসিয়ে যায়। কিন্তু সকালে কেউ আর ওই বাড়িতে করোনা রোগী নিতে আসেনি। ধারনা করা হচ্ছে ওই চারজন হাসপাতালের কথা বলে ডাকাতি করতে ভেতরে প্রবেশ করতে চেয়েছিলো। এদিকে পুলিশ সদরদপ্তর অভিনব কায়দায় ডাকাতি রোধে সারাদেশের পুলিশের সকল ইউনিটকে নির্দেশনা দিয়েছে। তারপর থেকে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা তৎপর হয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মী বা অন্য কোনো পরিচয় দিয়ে যাতে কেউ কোনো অপরাধ করতে না পারে সেজন্য পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তৎপর আছেন। এছাড়া পুলিশ সদরদপ্তর থেকে সাধারণ নাগরিককে সচেতন থাকতে কথা বলা হয়েছে। দেয়া হয়েছে বেশ কিছু পরামর্শ। পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, সম্প্রতি করোনা রোগীর তথ্য সংগ্রহ ও জরুরী সেবার নামে কিছু দুষ্কৃতিকারী সাধারণ মানুষের বাড়িতে গিয়ে অপরাধ সংঘটনের সুযোগ নিচ্ছে। তাই আমরা মানুষকে সচেতন করার জন্য করছি। কোনো অবস্থাতেই আগন্তুকদের পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে অথবা তাদের কার্যক্রমের বৈধতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কাউকে বাসায় প্রবেশ করতে দিতে নিষেধ করা হয়েছে। কোনো কারণে সন্দেহ হলে নিকটস্থ থানাকে অবহিত অথবা ৯৯৯ এ ফোন করে নিশ্চিত হতে হবে। তিনি বলেন, পুলিশ সবসময় মানুষের পাশে রয়েছে। একইসাথে, এ ধরনের দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করছে পুলিশ। এর আগে গতকাল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আইজিপি বেনজির আহমেদ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট প্রধানদের বলেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন নতুন অপরাধ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও চুরি ডাকাতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব বন্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার(ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম মানবজমিনকে বলেন, মাস্ক পরে ডাকাতরা ডাকাতি করছে।যাতে তাদেরকে শনাক্ত করা না যায়। কিন্তু উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে আমরা তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনছি। দুটি ওষুধের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় ৫ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে আমাদের গোয়েন্দা টিম। এর পরেও আমরা ঢাকার অন্যান্য অপরাধীদের নজরদারিতে রেখেছি। করোনা পরিস্থিতিতে নিরব ঢাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমাদের গোয়েন্দা টিম কাজ করছে। পহেলা এপ্রিল রাত ১টার দিকে মুখে মাস্ক পরে মোহাম্মদপুরের কলেজগেট এলাকার বিল্লাহ ফার্মেসীতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে । সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পার্শবর্তী এই ফার্মেসীতে মাস্ক পরে কয়েকজন ডাকাত অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও নগদ ১৯ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ফার্মেসীর মালিক বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করেন। এর কয়েকদিন পরে একই কায়দায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন সি ব্লকের ৫৯৬ নম্বরের লাজ ফার্মায় মাস্ক পরে ডাকাতরা হানা দেয়। ফিল্মি কায়দায় মাত্র ২/৩ মিনিটেই লাজ ফার্মার ওই দোকান থেকে দুই লাখ টাকা, মোবাইল ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায় ডাকাতরা। ডাকাতির একটি ভিডিও ফুটেজও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরেরদিন সোমবার এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় একটি মামলা করেন মালিক পক্ষের মোহাম্মদ শরীফ খান। এই দুটি ডাকাতির সঙ্গে জড়িত একই চক্র। ঘটনার পরপরই ভিডিও ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহযোগীতায় পুলিশের পাশাপাশি তদন্ত শুরু করে র্যাব ও মহানগর গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি)।পরে ডিবি পশ্চিমের একটি টিম ৫ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতরা জানিয়েছে, অন্তত ১৫ জনের টিম নিয়ে তারা মুখে মাস্ক পরে বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি করে। করোনা পরিস্থিতিতে নিরব ঢাকায় তারা জরুরি সেবার কথা বলে ট্রাক নিয়ে ডাকাতি করে বেড়াতো। ওষুধের দোকানে ডাকাতির পাশাপাশি তারা প্রাইভেট গাড়ি, মাছ বা অন্য পণ্যর গাড়ি এমনকি পথচারির কাছ থেকে সবকিছু ছিনতাই করে নিয়ে যেত। ঢাকার মোহাম্মদপুর, রামপুরা, কালশী, আদাবর, মিরপুর, বেড়িবাঁধ, যাত্রাবাড়ী, তুরাগ, রুপগঞ্জসহ আরো একাধিক স্থানে তারা ডাকাতি করতো। তবে করোনা পরিস্থিতিতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ডাকাতি করতো বলে গোয়ান্দারের কাছে তারা স্বীকার করেছে। ডাকাতির কাজে তারা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করতো। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধের প্রকৃতিগত কিছু পরিবর্তন এসেছে। মাস্ক পরে বেশ কিছু ওষুধের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে পুলিশ সজাগ রয়েছে। কিছু ঘটনায় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া ওষুধের দোকান কেন্দ্রীক ও অলিগলিতে পুলিশি মুভমেন্ট বাড়ানো হয়েছে। মোবাইল প্রেট্রল টিম কাজ করছে। শহর এলাকার বিভিন্ন স্থানের সিসি ক্যামেরার সাহায্য নেয়া হচ্ছে। দোকানীদেরও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তারা যাতে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবসা করেন। প্রয়োজনে দোকানের সাটারের ভেতরের গ্রীলের ভেতর থেকে যেন কেনাবেচা করে।
নিউজ ডেস্কঃ দুই কারণে দেশে দিন দিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে মহাখালী থেকে নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ার দুটি কারণ উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আশানুরূপ লকডউন কাজ হচ্ছে না, লকডাউন না মানায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বাড়ছে। আর আক্রান্ত এলাকা থেকে লোকজন ভালো এলাকায় যাচ্ছে, এতে নতুন করে অন্য এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, বিগত কয়েকদিনের পরীক্ষায় করোনা রোগীর সংখ্যা তিনশর মধ্যে রয়েছে। আক্রান্তর সংখ্যা এর চেয়ে না বাড়লে আমরা ভাগ্যবান। আর যদি বেড়ে যায় তাহলে আশঙ্কার কথা।
মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে কোভিড-১৯ রোগে মৃতের সংখ্যা ৯১ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া একই সময়ে নতুন করে আরও ৩১২ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে ২ হাজার ১৪৪ জন আক্রান্ত ছিলেন। এ নিয়ে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৪৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন নয়জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৭৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা করা হয় ২ হাজার ৬৩৪ জনের। এ পর্যন্ত মোট পরীক্ষা করা হয়েছে ২৩ হাজার ৮২৫ জনের। সুত্রঃ রাইজিং বিডি
নিউজ ডেস্কঃ ময়মনসিংহে চলতি মৌসুমের আগাম ইরি-বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে ধানের বাম্পার ফলন হলেও করোনা আতঙ্কে ধানকাটা শ্রমিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থায় কৃষকের লোকসান কমাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশে গরিব কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা কৃষকের ধান কেটে জমি থেকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দিনভর সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের কাতলাসেন এলাকায় দুই কৃষকের ১০ কাঠা জমির ধান কেটে, আঁটি বেঁধে বাড়ি পৌঁছে দেন তারা।
জেলা ছাত্রলীগ নেতা তানভীর জুবায়ের ইসলাম তারিনের নেতৃত্বে ৩০ নেতাকর্মী ধান কাটার এ কাজে অংশ নেন। ধান কাটা শেষে নেতাকর্মীরা কাতলাসেন এলাকার চরপাড়া মাঠ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে কৃষক চানু মুন্সী ও আব্দুর রহমানের বাড়িতে পৌঁছে দেন।
কৃষক চানু মুন্সী ও আব্দুর রহমান জানান, শ্রমিক সঙ্কটের কারণে পাকা ধান কাটতে পারছিলেন না। জমিতে নষ্ট হচ্ছিল পাকা ধান। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যেভাবে ধান কাটতে সাহায্য করেছে তা কখনো ভোলার নয়।
ছাত্রলীগ নেতা তানভীর জুবায়ের ইসলাম তারিন বলেন, ‘মানবিক কারণেই আমরা দরিদ্র কৃষকের ধান কেটে সহায়তা করেছি। যেসব দরিদ্র কৃষক জমির ধান কাটতে না পারবে, তাদের জমির ধান কাটাসহ বাড়িতে পৌঁছানোর কাজে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’ সুত্রঃ রাইজিং বিডি
নিউজ ডেস্কঃকরোনাভাইরাসে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ৯১ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩১২ জন। এ নিয়ে মোট ২৪৫৬ জনের শরীরে করোনা ধরা পড়লো।
আজ রবিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদ্প্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য জানান। অনলাইন বুলেটিনে বলা হয়, বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে যাদের ভেন্টিলেটর (কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র) সহায়তা নিতে হয়েছে তাদের প্রায় কাউকেই বাঁচানো যায়নি। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটরে নেয়ার রোগীদের বিষয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। এ পর্যন্ত যে ৯ জনকে ভেন্টিলেটরে নিতে হয়েছে তাদের ৮ জনই মারা গেছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় আইসিইউয়ে ফলাফল ভালো পাওয়া যায়নি। অত্যান্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, এ পর্যন্ত ভেন্টিলেটরে দেয়া ৯ জনের মধ্যে আটজনই মারা গেছেন।
তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞরা অক্সিজেন থেরাপির ওপরে জোর বেশি দিচ্ছেন। এতে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। ইতিমধ্যে আরো সাড়ে ৩ হাজার নতুন অক্সিজেন বোতলের অর্ডার দেয়া হয়েছে। এছাড়াও আমাদের বিভিন্ন হাসপাতালে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার অক্সিজেন বোতল মজুদ রয়েছে। সুত্রঃকালের কন্ঠ
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে এক মাকে ফেলে গেছেন সন্তানেরা; যাকে ‘মায়ের’ স্বীকৃতি দিয়ে সব দায়িত্ব দিয়েছেন ঢাকার সাভারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ।
শনিবার রাতে খবর পেয়ে উপজেলার হেমায়েতপুর জয়নাবাড়ি এলাকা থেকে ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে তিনি সব দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই নারীর কাছে কেউ যাচ্ছিলেন না। বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে জানালে পরে তিনি উপজেলা প্রশাসনকে জানান।
এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেন নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ। স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেওয়ার পর এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মা হিসেবে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
করোনা আক্রান্ত সন্দেহে এই বৃদ্ধাকে ফেলে যাওয়া হয়েছে জানা গেলেও তার সন্তানদের পরিচয় জানা যায়নি। এ নিয়ে এই মা নিজেও কিছু জানাননি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হুদা মিঠু জানান, ম্যাজিস্ট্রেটের মা’ পরিচয়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন তিনি। তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমার যা যা করা দরকার এই মায়ের জন্য সবকিছুই আমি করব।
তিনি বলেন, অসহায় ওই বৃদ্ধা করোনা আক্রান্ত কি না, তা পরীক্ষার জন্য রোববার তার নমুনা সংগ্রহ করে রাজধানীর মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পজিটিভ আসলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পাঠানো হবে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে।আর রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তিনি আমার ব্যবস্থাপনাতেই থাকবেন।সুত্রঃ সমকাল
নিউজ ডেস্কঃ পঞ্চগড়ে বিএসএফের গুলিতে শিপন চন্দ্র (১৭) নামে এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের সিংরোড প্রধানপাড়া এলাকার ঘটনাটি ঘটে।
সে ওই এলাকার পরেশ চন্দ্রের ছেলে। সুমন চাকলাহাট কেবি বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তার বাবা চাকলাহাট কেবি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
সুমনের পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিংরোড প্রধানপাড়া এলাকার ৭৬২ মেইন পিলার এর ২৩ সাব পিলারের সংলগ্ন এলাকায় সুমন ও তার বন্ধুরা মিলে খেলা করছিল। এ সময় বিএসএফ এসে তাদের ধাওয়া করে। তারা দ্রুত পালাতে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের উদ্দেশ্য গুলি করলে সুমন নামে ওই কিশোরের গায়ে লাগে।
এলাকাবাসী লাঠিসোটা নিয়ে এলে বিএসএফ সদস্যরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা সুমনকে আহত অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ মোঃ তোয়ায়েল আহমেদ জানান, আমাদের এখানে সুমন নামে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক রোগী এসেছে। তার ডান দিকের কোমরে গুলি লেগেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আমরা তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রংপুর মেডিক্যালে রেফার্ড করেছি।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ মামুনুল হক জানান, সুমনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আমি জেনেছি। তবে সে কিভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছে এবং ঘটনাটি কি ঘটেছে তা এখনি বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। আমাদের বিজিবির সদস্যরা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে গিয়েছে। তারা পরিস্থিতি দেখছে। আমরা এ ব্যাপারে বিএসএফের সাথে কথা বলছি।
তবে আমরা পরবর্তীতে এ বিষয়ে আপনাদের বিস্তারিত জানাব।
নিউজ ডেস্কঃ করোনা পরিস্থিতিতে জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণে সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সমন্বয় নিশ্চিতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ। এর মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে দ্রুততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হবে বলে আশা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের।
রোববার (১৯ এপ্রিল) ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও আইসিটি বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের এক যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অংশ নেন।
লাইভ ভিডিও কনফারেন্সে আরও উপস্থিত ছিলেন আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিধপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মোহসীন, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থ প্রতিম দেব, এটুআই বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তারা। ksrm
বৈঠকে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সমন্বয় ও দ্রুততর করতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সে বিষয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিস্তারিত আলোচনা করেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে প্রযুক্তিগত কি সহযোগিতা প্রয়োজন সে বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে জানতে চাওয়া হয়। এর উত্তরে বৈঠকে জানানো হয়, ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করতে সরকারি-বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সময়ে মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং এই কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি, জাতীয় তথ্যসেবা হেল্প লাইন ৩৩৩ এর সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সংযোগ স্থাপন করা প্রয়োজন।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটুআই প্রকল্প সারাদেশে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপকারভোগীদের একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরির জন্য একটি সফটওয়্যার তৈরি করবে। উপকারভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং মোবাইল নম্বর ব্যবহারের মাধ্যমে একটি নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরি হবে।
উপকারভোগীদের তথ্যের ভিত্তিতে প্রত্যেক উপকারভোগীর একটি কিউ আর কোড তৈরি করা হবে। মাঠ প্রশাসন নিজ নিজ এলাকার উপকারভোগীদের তালিকা অনুযায়ী কিউ আর কোড প্রিন্ট করে বিতরণ করবে। ত্রাণ বিতরণের সময় বিতরণকারী এই কিউ আর কোড তার মোবাইল ফোনের অ্যাপসের মাধ্যমে স্ক্যান করবেন। ফলে উপকারভোগীর তথ্য কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে হালনাগাদ হয়ে যাবে এবং সব ধরনের দ্বৈততা ও অনিয়ম পরিহার করা সম্ভব হবে।
এছাড়া ডেটাবেজটি তৈরি হলে সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় আরও জোরদার হবে বলে সবাই মত প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী কেউ যেন খাদ্যসংকটে না ভোগে সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সরকারি সেবা সম্পর্কিত হেল্পলাইন ৩৩৩ এর মাধ্যমে ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তার আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং সেই আবেদন তালিকা যথাযথ যাচাই-বাছাই করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের খাদ্য সহায়তা নিষ্চিত করবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই দুর্যোগকালীন মুহূর্তে জনগণের বৃহত্তর কল্যাণার্থে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দেবে।
আগামী সাতদিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার তৈরি ও উপকারভোগীদের ডেটাবেজ তৈরির করার কাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে উভয় মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয়।
বাড়ির মালিকের আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকিতে লক্ষ্মীপুর থেকে কুমিল্লায় পালিয়ে এসেছেন করোন আক্রান্ত এক ব্যক্তি। তিনি কক্সবাজারে একটি ব্যাগের কারখানায় শ্রমিক হিসেবে চাকরি করতেন। আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া গ্রামে।
লকডাউন হওয়ায় ওই ব্যক্তি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় ছিলেন। করোনা পরীক্ষার ফল পজেটিভ আসায় বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দেন বাড়ির মালিক। উপায় না পেয়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে আসেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট রেলওয়ে স্টেশনে। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামের হস্তক্ষেপে তাকে উদ্ধার করে আইসোলেশন সেন্টারে পাঠিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে তাকে নাঙ্গলকোটের জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। জানা যায়, কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন ওই ব্যক্তি। কক্সবাজার জেলা লকডাউন ঘোষণার পর বন্ধ হয়ে যায় কারখানা। ১২ এপ্রিল রামগঞ্জ আঙ্গারপাড়া দাসবাড়িতে ভাড়া বাসায় স্ত্রী-সন্তানদের কাছে চলে আসেন তিনি। এর মধ্যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরদিন স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠায়। ১৬ এপ্রিল তার রিপোর্ট পজেটিভ আসলে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন বাড়িটি লকডাউন করে দেয়। ওই ব্যক্তি জানায়, এরপর বাড়ি ছাড়ার জন্য তাকে চাপ দেয় বাড়ির মালিক। অন্যথায় ঘরে তালা দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। তাই তিনি নিরুপায় হয়ে শনিবার বাড়ি থেকে বের হয়ে একটি চালের ট্রাকে করে কুমিল্লার লাকসামে চলে আসেন। পরে সে লাকসাম রেললাইন হয়ে হেঁটে নাঙ্গলকোট রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর ওই ব্যক্তির মোবাইলে আমি ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করি। তার দ্বারা যেন সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে এজন্য তাকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসককে অবহিত করি এবং নাঙ্গলকোট থানার ওসিকে নির্দেশ দেই।’
নাঙ্গলকোট থানার ওসি বখতিয়ার জানান, পুলিশ সুপারের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লামিয়া সাইফুল ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাসহ আমরা রেলস্টেশনে গিয়ে তাকে উদ্ধার করি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লামিয়া সাইফুল জানান, করোনা আক্রান্ত এ রোগীকে গোহারুয়া ২০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন সেন্টারে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
গত ১৬ এপ্রিল পিপিই স্বল্পতা নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্ট দেন ওই চিকিৎসক
চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীর (পিপিই) স্বল্পতা নিয়ে স্বাস্থ্যসচিবের বক্তব্যের সমালোচনা করায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে নোয়াখালী ২৫০-শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসক ড. আবু তাহেরকে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনদিনের মধ্যেই ওই চিকিৎসককে কারণ দর্শাতে বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পিপিইসহ যাবতীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের নির্দেশনা এবং হাসপাতাল স্টোরে উল্লেখিত সামগ্রী মজুত বিষয়ে সুষ্পষ্ট ধারনা না থাকা সত্ত্বেও আপনি এ বিষয়ে এমন মন্তব্য করেছেন যা সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বা কোন শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তুষ্টি, ভুল বোঝাবুঝি বা বিদ্বেষের সৃষ্টি করতে বা সৃষ্টির জন্য অন্যকে প্ররোচিত করতে পারে যা সরকারি কর্মচারীর আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ এর পরিপন্থী এবং সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮ এর ৩ (খ) বিধি মোতাবেক অসদাচরণ হিসাবে গণ্য ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এমন একটি সময় এ কারণ দর্শানোর বিজ্ঞপ্তিটি দেওয়া হল, যখন এ ভাইরাসটি সংক্রমিত হওয়ার কারণ হিসেবে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেই চলেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। যদিও সরকারি হিসেব মতে, ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৯০,০৩২টি পিপিই’র মধ্যে ১,০৬৯,২৬৪টি পিপিই বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে, বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের পর ড. তাহের এক ফেসবুক পোস্টে সামনে থেকে যুদ্ধে ছিলাম, আছি, থাকবো জানিয়ে বলেন, “সত্য কথা বলার শাস্তি, একটাও মিথ্যা বলেছি প্রমাণ করতে পারলে শাস্তি মেনে নিব।” এসময় তিনি গত ১৬ এপ্রিল দেওয়া ফেসবুক পোস্টটিও তুলে ধরেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ এপ্রিল দেওয়া ফেসবুক পোস্টটিতে তিনি বলেন, “রোগীর সবচেয়ে কাছ থেকে আমি চিকিৎসা দেই। গত একমাসে প্রতিদিন হাসপাতালে গিয়েছি। এখন পর্যন্ত আমিসহ আমার ডিপার্টমেন্ট এর কেউ একটিও এন৯৫, কেএন৯৫, এফএফপি২ মাস্ক পাইনি। তাহলে স্বাস্হ্যসচিব মিথ্যাচার কেন করলেন উনি এন৯৫ ইকোয়িভেলেন্ট (সমমানের) মাস্ক দিচ্ছেন? তাও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কে মিথ্যা বলছে? এই মিথ্যাচারের শাস্তি কি হবে?”
পোস্টটি দেওয়ার পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়। এসময় প্রায় ৪,৫০০টির মতো রিঅ্যাকশন ও ১,১০০টি অ্যাংগার রিঅ্যাকশন (ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া), একহাজারটি স্যাড রিঅ্যাকশন, প্রায় ৬৩৭টি মন্তব্য করা হয় ওই ফেসবুক পোস্টটিতে। ২,৭০০ বারের মতো শেয়ারও করা হয় পোস্টটি।
হাসান আরিফ নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী বলেন, সবার ড. তাহেরের মতো সবার প্রতিবাদী হওয়া উচিত।
পিপিই নিয়ে সরকারের অবস্থান
গত ২৩ মার্চ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, এইমুহূর্তে বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে পিপিই প্রয়োজন নেই। সেসময় তিনি কয়েক লাখ পিপিই মজুদ থাকার কথাও জানান তিনি। তিনি এমন সময়ে এ মন্তব্যটি করেন যখন, চিকিৎসকরা পিপিইর জন্য তাদের চাহিদার কথা জানিয়ে আসছিলেন।
এর দুইদিন পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, কোন মানুষের করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে একজন চিকিৎসকের প্রথমে তাকে চিকিৎসা দিতে হবে, এরপর পরবর্তী চিকিৎসার জন্য পিপিই আছে এমন কোনও চিকিৎসকের কাছে তাকে পাঠাতে হবে। যদিও অতিরিক্ত সমালোচনার মুখে এ এ বক্তব্যের একদিন পরই সিদ্ধান্তটি পাল্টানো হয়।
এরপর ১৮ এপ্রিল, বাংলাদেশ চিকিৎসক ফাউন্ডেশনের চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ডা. নিরুপণ দাস ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “চিকিৎসকদের এ মুহূর্তে বিশেষ গুণগতমানের পিপিই প্রয়োজন, সাধারণগুলো নয়।”
এদিকে, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের একটি জরিপে উঠে এসেছে, করোনাভাইরাসের উপসর্গ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত প্রায় ২৫% চিকিৎসক, নার্স রয়েছেন এবং প্রায় ৬০% কর্মচারী রয়েছেন যারা এখনও পিপিই পাননি।
প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে কমপক্ষে ১০৬ জন চিকিৎসক করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট কোভিড ১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সুত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন
গেল ২৪ ঘণ্টায় আরো নতুন করে ৩১২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে সর্বমোট ২ হাজার ৪৫৬ জনের করোনা শনাক্ত হল। এছাড়াও করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরো ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ৯১ জনের মৃত্যু হলো।
আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৬৩৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ২৩ হাজার ৮২৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
এছাড়াও এ সময়ে আরো ৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ নিয়ে ৭৫ জন সুস্থ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেল।
সংবাদ বুলেটিনে বিস্তারিত বর্ণনা করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, দেশে নভেল করোনাভাইরাসে গেল ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া সাত জনের ৪ জনই নারায়ণগঞ্জের, আর তিনজন ঢাকার। গেল ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া সাত জনের মধ্যে ৫ জন পুরুষ এবং ২ জন নারী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়াও নতুন করে করোনাআক্রান্ত হওয়া ৩১২ জনের বিশ্লেষণে তিনি জানান, নতুন আক্রান্তদের শতকরা ৬৬ ভাগ পুরুষ, নারী ৩৪ ভাগ। এদের মধ্যে ৪৪ ভাগ আক্রান্তই ঢাকার বাসিন্দা। আর এরপরেই সবচেয়ে বেশি নারায়ণগঞ্জের রয়েছেন ৩১ ভাগ। আর ২৫ ভাগ দেশের অন্যান্য জেলার।
নতুন আক্রান্তদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে তিনি বলেন, গেল ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী সবচেয়ে বেশি, ২৩ দশমিক ৪ ভাগ। আর ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী রয়েছেন ২২ দশমিক ৩ ভাগ। আক্রান্ত অন্যান্যরা বিভিন্ন বয়সসীমার। সুত্রঃ বণিক বার্তা
ঢাকা: করোনা ভাইরাস আতঙ্কে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। বাংলাদেশেও ক্রমেই বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর তালিকা। প্রাণঘাতী এই রোগের মোকাবিলায় সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করছেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সদস্যরা।
নানা অব্যবস্থাপনার কারণে এই সম্মুখ যোদ্ধাদের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব যেন বেড়েছে কয়েকগুণ। নিজে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েই নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।
নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, সংক্রমিত এলাকা লকডাউন, ত্রাণ বিতরণ, জরুরি সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখাসহ নানাবিধ দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা। এক কথায় করোনা সংকটের মধ্যে নিজেদের নতুন করে পরিচিত করে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। আর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) পুলিশ সদর দফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে পুলিশের ৬৫ জন সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ জন। এদিকে, সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় প্রায় ৬ শতাধিক পুলিশ সদস্যকে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, মোট আক্রান্তদের মধ্যে শুধুমাত্র ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত সদস্য রয়েছেন ২৯ জন। পূর্বে আক্রান্ত ছিলেন ২৬ জন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৩ জন।
জানা গেছে, বর্তমানে পুলিশের ৬২৬ সদস্য কোয়ারেন্টিনে আছেন। এদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ১৪৩ জন এবং আইসোলেশনে আছেন ৯ জন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানায় পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় দুই থানার সব পুলিশ সদস্যকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ডিএমপি গোয়েন্দা পুলিশের ১ জন আক্রান্ত হওয়ার পর ২২ জনকে পাঠানো হয়েছে কোয়ারেন্টিনে। ডিএমপি গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনারের (ডিসি) কার্যালয়ের একজন কর্মচারী আক্রান্ত হওয়ার পর ছয় কর্মকর্তা কোয়ারেন্টিনে গেছেন।
রাজারবাগ পুলিশ ব্যারাকে ও পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (পিওএম) দুই সদস্য আক্রান্তের পর তাদের সংস্পর্শে থাকা সদস্যদেরও কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইনস ব্যারাকে ১ জন আক্রান্ত হওয়ার পর ব্যারাকে থাকা ২০০ পুলিশ সদস্যকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা থেকে যাওয়া ১ পুলিশ সদস্যের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা রোগীর সবচেয়ে বেশি সরাসরি সংস্পর্শে আসতে হয় চিকিৎসকদের। তারপরই রয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা। পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষার জন্য এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণ সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করা যায়নি। আবার দায়িত্ব পালনের সময় ‘অসাবধানতাবশত’ সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে এসেও অনেক পুলিশ সদস্য সংক্রমিত হয়েছেন। এ অবস্থায় সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, আইইডিসিআরের নিয়ম অনুসরণ করে করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে করোনার স্পেশালাইজড হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হচ্ছে। সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে-এমন পুলিশ সদস্যদের আলাদা করে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হচ্ছে।
পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা বাংলানিউজকে বলেন, প্রথম দিন থেকেই পুলিশ সদস্যদের নানাভাবে ব্রিফ করে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে বলা হচ্ছে। আমরা প্রতিটি ইউনিটে হোম কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা নিয়েছি, যেন প্রয়োজনে যেকোনো সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা যায়।
নাহিদ আহমদ : বিশ্বব্যাপী মরনব্যাধী করোনা ভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের জনসমাগম বন্ধ করার ফলে স্হবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া দিন মজুর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার। পৃথিবীর এই ক্রান্তিকালে নিজ অবস্ত্রান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছে বড়লেখা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্টান আর. কে লাইসিয়াম স্কুলের SSC ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। তাদের উদ্যোগে ৬০ অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়। বিতরন করা খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল, চাল ৬ কেজি, পেঁয়াজ ২ কেজি, আলু ৩ কেজি, লবন ১ কেজি, তৈল ১ লিটার, ডাল ১ কেজি, সাবান ১ টা।
বিশ্বজুড়ে ‘লকডাউন’ সুযোগ সন্ধানীদের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরী করেছে, তাই আপনার সন্তান যৌন হয়রানির শিকার হতে পারে। বিশ্বের মায়েদের এভাবে সতর্ক করলেন ভুক্তভোগী এক মা। যার সন্তানরা যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছিলো। বর্তমানে তিনি যৌন হয়রানি থেকে শিশুদের সুরক্ষায় কাজ করা একটি সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
‘ফ্রিডম ফ্রম অ্যাবিউজ’ এর প্রতিষ্ঠাত ম্যারিলিন হস মায়েদের ও শিশু লালন-পালনকারীদের শিখান কিভাবে তাদের সন্তানকে যৌন হেনস্থা থেকে সুরক্ষা দেবেন। কারণ তার তিন ছেলেও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে। যিনি তার পরিবারের একজন বন্ধুও ছিলেন। ম্যারিলিন বলেন, ‘এই লকডাউনে অনেক শিশুর জন্যই নিজের বাড়ি অনিরাপদ। বর্তমানে শিশু যৌন হয়রানির ৩০ শতাংশই হয় সমবয়সীদের দ্বারা। যদি আপনার শিশু নিজের কক্ষে একা থাকতে চায় এবং অন্য কোন শিশুকে জায়গা দিতে না চায় তবে সেটি মেনে নিন এবং তাকে জিজ্ঞেস করুন কেন? যারা যৌন আচরণে অনেক বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়ে তারা সমবয়সীদের সঙ্গেও একই কাজ করে। শিশুদের একটি খেলা সম্পর্কে আমরা জানি। আর তা হচ্ছে- তোমারটা আমাকে দেখাও, আমারটা তোমাকে দেখাব- সুতরাং তাদের খেলার সীমারেখা কতটুকু হবে তা আপনি নিশ্চিত হোন। তিনি বলেন, ‘শিশু যৌন নির্যাতনের ৬০ শতাংশই তার পরিবারের মধ্যে হয়ে থাকে। সুতরাং এ বাস্তবতা উপক্ষো করবেন না, শিশুতে আসক্ত অনেক নারীও রয়েছে। কারো আচরণ সঠিক মনে না হলে কিংবা বাড়াবাড়ি কিছু দেখলে ভালোভাবে লক্ষ্য করুন। হয়তবা সে হতে পারে আপনার সন্তানের যৌন হেনস্থাকারী। কেউ যদি আপনার সন্তানকে অধিক পছন্দ করে, তার জন্য গিফট নিয়ে আসে, তার সঙ্গে ছবি তুলতে বা ভিডিও করতে চায়। তার সঙ্গে খেলায় বেশি সময় কাটায়, চুমু দিতে চায় কিংবা তাকে একাকী কক্ষে নিয়ে যায়। তবে অবশ্যই তার ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। কিংবা দেখুন আপনার সন্তান কাউকে বেশি অপছন্দ করে কিনা, তাহলে আপনার সন্তানদের তার কাছ থেকে দূরে রাখুন।’
অনলাইন যৌন হেনস্থার বিষয়েও সতর্ক করে ম্যারিলিন বলেন, ‘ইন্টারনেট শিশু-কিশোরদের যোগাযোগের জন্য নয়। আপনার ডিভাইসটি শিশুর নাগালে রাখবেন না, ওয়েবক্যামটি ঢেকে রাখুন।’ এনএসপিসিসি’র অ্যান্ডি বুরোস বলেন, ‘অপরাধীদের জন্য একটি অনুকূল সুযোগ এনে দিয়েছে লকডাউন। তারা শিশুদের যৌন নির্যাতন করতে পারে। সামাজিক মাধ্যম ও গেমিং সাইটগুলোও শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সুতরাং সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলুন, তারা কি করছে নিশ্চিত হোন।’
করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এনিয়ে মোট ৮৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০৬ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২,১৪৪।
আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ২,১১৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ নিয়ে সুস্থ হলেন মোট ৬৬ জন।
দেশে নভেল করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। সুত্রঃ কালের কন্ঠ অনলাইন
নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থাপনায়ও সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফলে প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরবরাহ চেইনের অব্যবস্থাপনা দূর করে ভোগ্যপণ্য আমদানিতে বিশেষ নজর দেয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সরবরাহ ও আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা দূর না হলে দেশব্যাপী খাদ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতার শঙ্কাও প্রকাশ করছেন তারা।
দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ। দেশের প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ ভোগ্যপণ্যের আমদানি ও সরবরাহ হয় এ বাজার থেকে। কিন্তু লকডাউন শুরুর পর থেকে এ বাজারের সঙ্গে সারা দেশের সরবরাহ ব্যবস্থায় ছেদ পড়ে। দেশে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য আমদানি হলেও খালাস, সরবরাহ ও আমদানি প্রক্রিয়ার মধ্যবর্তী সময়ে বন্দর-কাস্টমসে সময়ক্ষেপণ হওয়ায় যথাসময়ে পণ্য পাচ্ছে না বাজারগুলো। এতে প্রায় প্রতিদিনই নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। শবে বরাত শেষ হওয়ায় রোজার সময় ঘনিয়ে আসছে দ্রুত। এ সময়ে পণ্যবাজারকে সবদিক থেকে সহায়তা না দিলে পণ্যের সংকট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, চলমান লকডাউন কর্মসূচিতে নগদে লেনদেন হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু ব্যাংকিং খাতে লেনদেনের সময়সীমা কমে যাওয়া, রেশনিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের শাখা চালু রাখা, আমদানি পণ্যের জাহাজীকরণ, খালাস ও সরবরাহের দীর্ঘসূত্রতা পণ্যবাজারে সংকট বাড়িয়ে তুলছে।
গত দুদিন খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাইয়ের পাইকারি বাজারগুলোতে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল, মসলা, গম, শুকনো খাবার, পচনশীল মসলাসহ সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাজারের আচরণকে অস্বাভাবিক মনে করছেন খোদ ব্যবসায়ীরাও। তাদের দাবি, টাকা দিয়েও অনেকে নিত্যপণ্য সংগ্রহ করতে পারছেন না। এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। এছাড়া সরবরাহ সংকট থাকায় স্থানভেদে পণ্যের দামের ভিন্নতাও দেখা গেছে।
বাজার সূত্রে দেখা গেছে, কয়েক দিনের ব্যবধানে চালের দাম বস্তাপ্রতি বেড়েছে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। সপ্তাহের ব্যবধানে মসুর ডালের দাম কেজিপ্রতি ১৫-২০ টাকা বেড়েছে। ছোলার দাম মণপ্রতি (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) দাম ২৫০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫৫০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। সাধারণ ছুটির আগে বস্তাপ্রতি (৫০) চিঁড়ার দাম ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা। সম্প্রতি চিঁড়ার দাম অস্বাভাবিক বেড়ে ২ হাজার ৭০০ টাকায় উঠে গেছে। বেড়েছে আলুর দামও। কেজিপ্রতি ৫-৭ টাকা বেড়ে ১৮-১৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আলু।
এক সপ্তাহ আগেও পেঁয়াজের কেজিপ্রতি দাম ছিল ৩২ থেকে ৩৫ টাকা। সর্বশেষ শুক্রবার পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৭০ টাকা। এছাড়া প্রায় দ্বিগুণ দামে আদা বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২৮০ টাকায়, রসুনের দাম ২০ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে গমের মণপ্রতি দাম (রাশিয়ান) প্রায় ১০০ টাকা বেড়ে এক হাজার টাকায় লেনদেন হয়েছে। এছাড়া কানাডা থেকে আমদানীকৃত গমের দামও সমপরিমাণ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১৫০ টাকায়। চিনির দাম মণপ্রতি ৫০ টাকা বেড়ে লেনদেন হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। পাশাপাশি ভোজ্যতেলের দাম মণপ্রতি ৩০-৪০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৪০০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। এদিকে শুকনা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায় (মানভেদে), শুকনো আস্ত হলুদের দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকায়, জিরা প্রায় ৫০ টাকা বেড়ে ৪০০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।
ভোগ্যপণ্য আমদানির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, সংঘনিরোধ কেন্দ্র, বিএসটিআই, পরমাণু শক্তি কমিশনসহ সরকারি আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত বন্ধ রয়েছে। তবে বর্তমানে সীমিত পরিসরে খোলা ও আমদানির কাগজপত্র যাচাই অনুমোদনের সুযোগ তৈরি হলেও তা যথেষ্ট নয়। তাছাড়া নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চট্টগ্রাম কাস্টমসের লোকবল অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং লেনদেনের সময়সীমার কারণে পণ্য আমদানির পরও যথাসময়ে খালাস এবং গুদাম ও পাইকারি বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্দরে খালাস না হওয়ায় জাহাজগুলো জরিমানাও গুনতে হচ্ছে। এতে পণ্যের দামেও প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রামের শীর্ষ এক আমদানিকারক বণিক বার্তাকে বলেন, বিশ্বের সিংহভাগ দেশ থেকে ভোগ্যপণ্য আমদানিতে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে নভেল করোনাভাইরাসের কারণে আমদানি প্রক্রিয়া কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে। পাশাপাশি আমাদের দেশেও আমদানির পর খালাস ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার পণ্য আমদানি না করেও বেসরকারি পর্যায় থেকে পণ্য সংগ্রহ করে (চাল ছাড়া) ত্রাণ হিসেবে বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে গম ও ডালজাতীয় পণ্যের ক্রাশিং কমে এসেছে। শ্রমিক সংকটে খালাসে সময় বেশি লাগা এবং পরিবহনের ক্ষেত্রেও কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। দেশে পর্যাপ্ত ভোগ্যপণ্য আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সরকারি সহযোগিতা বাড়ানো না গেলে স্বাভাবিকভাবেই কৃত্রিম সংকট তৈরি হবে। এতে দাম বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয় বলে মনে করছেন তিনি।
শুক্রবার ভোগ্যপণ্য আমদানি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সরকারি সংস্থাগুলো খোলা রেখে ব্যবসায়ীদের সেবা দেয়ার দাবি জানিয়েছে দেশের অন্যতম ব্যবসায়ী সংগঠন দ্য চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (সিসিসিআই)। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে দেয়া ওই চিঠিতে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত সরকারি অফিসগুলোর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক কার্যালয় খোলা রাখার দাবি জানানো হয়।
সিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, সারা দেশে সব ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, জরুরি ওষুধ ও কাঁচামাল ইত্যাদি আমদানি ও সারা দেশে সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। ফলে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রধান আমদানি-রফতানি নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ঢাকা এবং চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় খোলা রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। না হলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকরা প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হবেন। এছাড়া বিআরটিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর, জ্বালানি খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা না হলে আসন্ন রোজায় ভোগ্য ও নিত্যপণ্যের অস্থিরতার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় দীর্ঘ সময় ধরে রেশন ও ত্রাণ দেয়ার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু আমদানি প্রক্রিয়া অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় ধীরগতিতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে ভোগ্যপণ্যের আমদানি, খালাস, বাজারজাত, পরিবহন ও সরবরাহে সহযোগিতা সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
খাতুনগঞ্জের ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেকান্দর বণিক বার্তাকে বলেন, সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ কার্যক্রম ছাড়াও আসন্ন রোজার কারণে পাইকারি বাজারে ক্রেতাদের চাপ অনেক বেশি। বিকাল ৫টায় বিক্রি বন্ধ হয়ে গেলেও সরবরাহ কার্যক্রম চালু থাকায় সর্বশেষ বুধবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাতুনগঞ্জের একাধিক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। তাছাড়া সন্ধ্যার পরও ডাল ক্রাশিং মিল চালু রাখার অপরাধে বেশ কয়েকটি মিলকে জরিমানা করেছে প্রশাসন। ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার ও ক্রাশিং মিলগুলোকে ছাড় না দিলে পণ্যের বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে বাধ্য। এমনিতে মিলগুলো শ্রমিক সংকটে সক্ষমতার অর্ধেক ডাল মিলিং করছে। এর ওপর প্রশাসনের চাপে অনেকেই মিল বন্ধ করে দিতে পারেন, যা বাজারের সাম্প্রতিক সংকট আরো বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম আট মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ভোগ্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টন। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্দর দিয়ে দেশে নিত্য ভোগ্যপণ্য (চাল ছাড়া) আমদানি হয়েছে ৭২ লাখ ৭ হাজার ২৭ টন। উল্লেখযোগ্য নিত্যপণ্যের মধ্যে গম আমদানি হয়েছে ৪৯ লাখ ৪০ হাজার টন, মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার টন, ছোলা ২ লাখ টন এবং পাম অয়েল আমদানি হয়েছে ৯ লাখ ৯১ হাজার টন। এই সময়ে আগের অর্থবছরের তুলনায় গম বেশি আমদানি হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টন, মসুর ডাল বেশি আমদানি হয়েছে ৪১ হাজার টন, ছোলা বেশি আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার টন এবং পাম অয়েল ৪০ হাজার টন বেশি আমদানি হয়েছে। সুত্রঃ বণিক বার্তা
দেশে নতুন করে আরো ২৬৬ জনের দেহে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া মারা গেছেন আরো ১৫ জন। শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ১৯০টি নমুনা পরীক্ষা করে আরো ২৬৬ জনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৮৩৮ হয়েছে। সেই সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৫।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এ সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, আক্রান্তদের মধ্যে গত একদিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরো নয়জন। এ পর্যন্ত মোট ৫৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ হাসপাতালে গিয়ে সেবা নিয়েছেন। বাকিরা হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন। গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে ২৭ জন রোগী অর্থাৎ ১.৮ শতাংশ আক্রান্তকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। এ হার থেকে বলা যায়, ১০ হাজার রোগীকে যদি আইসিইউ সাপোর্ট দিতে হয়, তাহলে ৮০টি ভেন্টিলেটর লাগবে। এ সাপোর্টও একবারে লাগবে না, বিভিন্ন সময়ে এটা লাগবে। সুত্রঃ বণিক বার্তা
স্বপ্নের দেশে ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে স্বামী রতন চৌধুরী ও স্ত্রী সুজাতা চৌধুরী সন্তানসহ এসেছিলেন এই স্বপ্নের দেশ আমেরিকায়। ভালোই চলছিল তাঁদের সংসার।নিজে কাজ করেন, স্বামী কাজ করেন, দুই সন্তান স্কুলে যায়। করোনার বিপদ সংকেত পাবার সাথসাথেই স্বামী ছুটি নিয়ে বাড়ি ঢুকলেন, সন্তানরাও বাড়িতে।
সুজাতা চৌধুরী নিজের অজান্তেই ভাইরাস বাড়ি নিয়ে আসলেন কাজের জায়গা থেকে। নিজে মারাত্মক অসুস্থ হবার আগেই স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লেন। দুই সন্তানও আক্রান্ত হলো ভাইরাসে। হাসপাতালে জায়গা না পাওয়ায় বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল। ডাক্তারের নির্দেশনায় তিন বেডরুমের বাড়িতে স্বামী সন্তানদের আলাদাভাবে রুমগুলো ছেড়ে দিয়ে সুজাতা নিজে জায়গা করে নিলেন ড্রইং রুমে। মধ্যরাতেও রুমে রুমে গিয়ে চেক করেন, কে কেমন আছে।
১১ এপ্রিল শনিবার ভোরে স্বামীর রুমে ওষুধ দেবার জন্য ঢুকে কোন সাড়া পেলেন না স্ত্রী। যা বুঝবার অল্পতেই বুঝে নিলেন তিনি। বাইরে থেকে রুমের দরজা বন্ধ করে দিয়ে সন্তানদের ডেকে উঠালেন। শান্ত স্থিরভাবে বললেন ওদের সবকিছু।সন্তানরাও ততক্ষণে বুঝে গেল করোনা কেড়ে নিয়েছে তাদের বাবাকে।
সুজাতা চৌধুরী নিজেই ৯১১ নাম্বারে কল করলেন। উত্তর পেলেন তাদের আসতে দেরি হবে। সারাদিন তিনটি অসুস্থ মানুষ বসে রইলেন তাদের অতি প্রিয়জনের মৃতদেহ নিয়ে। বিকেল চারটায় তিনজন স্যোসাল ওয়ার্কার আসলো। সাথে আসলো না মর্গের গাড়ি কিংবা কোন সরঞ্জাম। তারা জানালেন তাদের অসহায়ত্বের কথা। সরঞ্জাম সর্টেজ ও মর্গ বা অস্থায়ী ট্রেলারের মর্গে জায়গার অভাবের কথা।
কিছু মৃতদেহ মাটিচাপার পর মর্গ কিছুটা খালি হলে তারা নিয়ে যাবে মৃতদেহ। প্লাস্টিকের ডাবল বডি ব্যাগে স্বামীর দেহ ভরে স্ট্রেচারে বেধে স্প্রে করে রুমেই রেখে বন্ধ দরজায় ‘নো এনট্রি’ হলুদ সাইন ঝুলিয়ে চলে গেলেন তারা। এক রুমে প্রিয় স্বামীর মৃতদেহ আর অন্য রুমে একই রোগের তিনটি মানুষ নিঃশব্দ অপেক্ষা!
“বউকে কুপিয়ে হত্যার ভিডিও দেখে মাথা কাজ করছে না” পোস্টদাতা বড় ভাইকে লিংক দিতে অনুরোধ করলে তিনি ইনবক্সে লিংক দিলেন; ভিডিওটি দেখে আমার নিজেরও মস্তিষ্ক বেশ কিছুক্ষণ কাজ করেনি! হায়! কি লোমহর্ষক!
দা’য়ের কোপের শব্দগুলো এখনো কানে বাজছে; যারা ভিডিওটি দেখছেন তাদের অবস্থাও একই; ফেনীর টুটুল যা করেছে তা অবশ্যই ঘৃণিত কাজ যা করা তার মোটেও উচিত হয়নি এবং প্রশাসনের নিকট প্রত্যাশা করি ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠু বিচার হোক এবং টুটুল তার উপযুক্ত শাস্তি ভোগ করুক।
তবে সময় টিভির সাংবাদিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টুটুলের ভাই ও এক প্রতিবেশী যা জানালো তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই যে নিহত তাহমিনা নিজেও এত সাধু ছিলেন না।
যদিও তার দোষের জন্য প্রাপ্য শাস্তি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পরকালে দিবেন।
টুটুলের ছোট ভাইয়ের দেওয়া সাক্ষাৎকার অনুযায়ী
[হুবুহু সংযুক্ত করা হলো]
“তারা প্রতিনিয়ত জগড়া করতো, মাসে কমপক্ষে ১৫/১৬ দিন তাদের মধ্যে জগড়া হতো এবং প্রত্যেকবারই ভাবী আমার ভাইকে মারতে চাইতো আজকেও আমার ভাই যখন জিজ্ঞেস করছিলেন ‘তুমি কাকে কল করছো ?
আমি আমার জামাইরে কল দিই, তোর কোন সমস্যা?
আপনি একবার ভাবুন আপনার স্ত্রী যে কিনা আপনার আকদ্ এর নিচে থেকে আপনার সামনে অন্য একজন ছেলেকে কল করেছে এবং ছেলেটিকে স্বামী দাবি করছে!তখন আপনার মানসিক অবস্থা কেমন হবে?
বাচ্চা ৮ মাস থাকা অবস্থায় অন্য ছেলের সাথে চলে যায়! আবার ফিরে এসে যখন আপনার কথার অবাধ্য হয়, আপনার গায়ে হাত তুলে! দরজা বন্ধ করে আপনার অন্ডকোষ চিপে ধরে আপনাকে মেরে ফেলতে চায়; (প্রতিবেশীর ভাষ্য অনুযায়ী) আপনার মনের অবস্থা কেমন হবে?
ভাবতে পারেন; টুটুলের মনের অবস্থাও অভিন্ন ছিল। টুটুলের তাহমিনাকে হত্যা করা কোনভাবেই উচিত হয়নি সে বিচ্ছেদ করে নিতে পারতো তবে এদেশে ছেলের পক্ষে বিচ্ছেদ কি সহজ! [বুকে হাত রেখে বলুন, তো] সেও বিচ্ছেদ করে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিতে পারেনি।
চট্টগ্রামের ডাঃ আকাশ পারেনি, বরগুনার রিফাত পারেনি, কুমিল্লার সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী ছেলেটি পারেনি, ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনে ব্যারাকে নিজের মাথায় নিজে গুলি চালানো পুলিশ সদস্য পারেনি, চট্টগ্রামের ফয়সাল পারেনি।
যারা স্ত্রীর পরকিয়ার খবর জানেন তারা বেশীর ভাগই পারছেন না; এ যন্ত্রণা কত ভয়াবহ তা যারা ভোগ করছেন তারাই একমাত্র আমার লেখার উদ্দেশ্যে বুঝবেন।
টুটুল অনেক যন্ত্রণা থেকে তাহমিনাকে হত্যা করেছে যার প্রমাণ, সে নিজেই ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশকে হত্যার ব্যাপারে জানায়, ফেসবুকে লাইভে আসে এবং গ্রেফতার পরবর্তী তার চেহেরার অবস্থা অনেক কিছুই বলে দেয়; টুটুল অন্য কোন উপায় অবলম্বন না করে হত্যা করছে তাই তার কঠিন ও উপযুক্ত শাস্তির আবেদন করছি।
আচ্ছা কখনো বরগুনার মিন্নি, চট্টগ্রামের মিতু, সাউথ আফ্রিকা প্রবাসীর স্ত্রী, নিহত পুলিশের স্ত্রী, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মেহেরুন্নেসা কেয়ার বিচার কি কখনো হয়েছিল?
মিতু, মিন্নি জামিনে বেরিয়ে বাদী ও সাক্ষীকে হুমকি দিলেন এবং এখন সুন্দর জীবন যাপন করছেন; মেহেরুন্নেসা কেয়া ৪নং স্বামীর ঘর করছেন, প্রবাসীর স্ত্রী নতুন ছেলের সাথে মজা করছেন! আজ যদি টুটুল নিজে মারা যেত এত আলোচনা কখনোই হতো না; আপনারা আমরা কেউ তাহমিনাকে দোষারোপ করতাম না; এসব বহুগামী নারীদের জন্য ছেলেদের জীবন জাহান্নামে পরিনত হয়।
আমরা রিফাত শরীফ ও ডাঃ আকাশ ও নিহত পুলিশ সদস্যের কথা ভুলে গেছি! কুমিল্লার আফ্রিকা প্রবাসী ছেলেটি আর চট্টগ্রামের ফয়সাল জেলে দিন কাটাচ্ছে!
তাদের কোন খবর পাইনি, কখনো পাবও না; এদেশে বিচার পুরুষের দিকে আসে না। আইনের সব ধারা নারীদের পক্ষে;
সবশেষে একটাই প্রত্যাশা থাকবে; ভবিষ্যতে এদেশে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ফের সংঘটিত না হোক, কোন ছেলে হত্যাকারী কিংবা আত্বহত্যাকারী হিসাবে নিজেকে পর্দায় না আনুক, প্রশাসন এই তাহমিনা হত্যাকান্ডের সঠিক বিচার করুক।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় মুক্তিযু্দ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের গানম্যান কিশোর কুমারের বন্দুকের গুলিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. শহিদ (৩০) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আজগানা গ্রামের সবুর উদ্দিনের ছেলে।
কালিয়াকৈর থানার ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ সময় মহিম উদ্দিন (৩২) নামে আরো একজন আহত হয়েছেন।
ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার বলেন, হত্যাকারী ও হতাহতরা বন্ধু। তারা একসঙ্গে আড্ডা দিতেন। বৃহস্পতিবার রাতেও কুতুবদিয়ায় স্থানীয় একটি পতিত জমিতে বসে তারা আড্ডা দেন। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অথবা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কিশোর নিজের কাছে থাকা পিস্তল দিয়ে শহিদ ও মঈনকে গুলি করেন। এতে শহিদের বুকের ডান পাশে গুলি লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। মঈনের পেটের এক পাশে গুলি লাগে।
ওসি আরো জানান, পুলিশ আহত মহিমকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। শহিদের লাশ উদ্ধার করে কালিয়াকৈর থানায় নিয়ে রাখা হয়। গানম্যান কিশোর পলাতক। তাকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে। সুত্রঃইত্তেফাক
অভিযোগ রয়েছে, অনুদানের টাকা উত্তোলনের পর থেকে উপজেলার কোথাও ত্রাণ দিতে দেখা যায়নি ইউএনওকে
করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্রদের সহায়তায় ফান্ড গঠনের কথা বলে উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজুর রহমানের বিরুদ্ধে।
উপজেলার একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান জানান, চলমান সঙ্কটে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া চাল শেষ হয়েছে অনেক আগেই। অন্যদিকে জনসংখ্যার পরিমাণ বেশি হওয়ায় অনেক চেয়ারম্যানই ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে ইউএনও পারভেজুর রহমানের গঠিত “করোনা ফান্ডে” টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন চেয়ারম্যানরা। অভিযোগ রয়েছে, অনুদানের টাকা উত্তোলনের পর থেকে উপজেলার কোথাও ত্রাণ দিতে দেখা যায়নি ইউএনওকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনি মহল্লার একটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। বাড়িটিতে বসবাসকারী ১০ থেকে ১৫টি পরিবারের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকে পাওয়া উপজেলা প্রশাসনের হটলাইন নাম্বারে খাদ্য সহায়তার জন্য তিন দিন ধরে যোগাযোগ করেও ত্রাণ মেলেনি। নম্বরটিতে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিব জানান, উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত ১০০ টন চালের মধ্যে ১২টি ইউনিয়নে তাদের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। বাকি চালের খবর তারা জানেন না।
এছাড়া, চালের পাশাপাশি করোনার দুর্যোগে শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ার জন্য সরকারিভাবে (জি আর এর) ১০০ টন চাল আর শিশু খাদ্যসহ নগদ চার লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেসব বরাদ্দ চেয়ারম্যানদের বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।
উল্লেখ্য, শিল্প এলাকা হওয়ায় সাভারে অসংখ্য মানুষের বসবাস। আর জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি বরাদ্দ খুবই সামান্য বলে মনে করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
বনগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল জানান, তিনি ইউএনওর কথামতো ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। তবে সেই টাকা দিয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা কোথায় বা কাদের সহযোগিতা করবেন তা তিনি জানেন না। ওই টাকার পুরোটাই নগদ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুরুজ বলেন, ‘‘করোনাভাইরাস মহামারিতে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করার কথা বলে ইউএনও প্রত্যেক চেয়ারম্যানকে নগদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য এক মিটিংয়ে নির্দেশ দেন। নির্বাহী কর্মকর্তার চাহিদা মোতাবেক নগদ ৫০ হাজার টাকা তার কাছে দিয়ে এসেছি।’’
তিনি জানান, ধামসোনার চেয়ারম্যান ও আশুলিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাহী কর্মকর্তাকে এক লাখ টাকা করে দিয়েছেন।
একই কথা বলেছেন ভাকুর্তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারও।
আশুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহাবউদ্দিন বলেন, ‘‘কেউ ৫০ হাজার আবার অনেকেই এর বেশিও টাকা দিয়েছেন।’’
পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ান বলেন, ‘‘ত্রাণের চাল পেলেও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী কেনার জন্য কোনো আর্থিক সহযোগিতা বা নগদ টাকা এখনও পাইনি।’’
ইউএনওর ফান্ডে টাকা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছেও টাকা চাওয়া হয়েছিলো কিন্তু আমি দেইনি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও পারভেজুর রহমান বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে এবং হবে। ত্রাণ নিয়ে কোনো লুকোচুরি করা হচ্ছে না।’’
আর ইউএনওর এসব অনিয়মের বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভি করেননি। এমনকি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুত্রঃঢাকা ট্রিবিউন
নিউজ ডেস্কঃবান্দরবানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। এসময় দুই জনকে অপহরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নের ক্যনাইজুপাড়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। মোটরসাইকেলে করে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ওই পাড়া সংলগ্ন দোকানে অতর্কিত হামলা চালিয়ে হত্যা ও অপহরণ করে।
নিহত ব্যক্তির নাম মংসাই মারমা (৩০)। তার বাড়ি থানচি উপজেলার রেমাক্রী এলাকায়। তিনি একসময় মারমা লিবারেশন পার্টির সদস্য ছিলেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। তারা আরও জানান, তিনি সম্প্রতি জনসংহতি সমিতির সংস্কার গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে অপহৃত দুজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। কারা কী উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।
ওই এলাকার মৌজা হেডম্যান ম্যচিং মারমা জানান, ‘সকালে মোটরসাইকেলে করে মুখোশ পরা একদল সশস্ত্র যুবক হঠাৎ পাড়ার পাশের দোকানগুলোতে এসে গুলি চালায়। পরে তারা যাওয়ার সময় দুই জনকে ধরে নিয়ে যায়। এদিকে এ ঘটনার পর ওই এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রোয়াংছড়ির থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদ কবীর জানান, ‘সন্ত্রাসীরা গুলি করে ক্যানাইজু পাড়ায় একজনকে হত্যা করেছে। আরও দুই জনকে ধরে নিয়ে গেছে বলে খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। জড়িতদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে পুলিশ- সেনাবাহিনী।’
উল্লেখ্য, গত ২২ ফেব্রুয়ারি জামছড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা নিহত ও দুই জন আহত হন।
নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণে সমগ্র বাংলাদেশকে সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। আর এ ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সংক্রমিত এলাকাগুলোতে জনসাধারণের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। গতকাল এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত ওই ঘোষণাপত্রটি সন্ধ্যায় প্রকাশ করা হয়। ঘোষণায় বলা হয়, যেহেতু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে বিশ্বব্যাপী নভেল করোনাভাইরাস মহামারী আকারে বিস্তার লাভ করায় লাখ লাখ লোক আক্রান্ত হয়েছে এবং লক্ষাধিক লোক মৃত্যুবরণ করেছে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। হাঁচি, কাশি ও পরস্পর মেলামেশার কারণে এ রোগের বিস্তার ঘটে। এখন পর্যন্ত বিশ্বে এ রোগের কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী এ রোগের একমাত্র প্রতিষেধক হলো পরস্পর থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করা।
জনসাধারণকে একে অন্যের সঙ্গে মেলামেশা নিষিদ্ধ করা ছাড়া সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে ঘোষণায় বলা হয়, যেহেতু বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এ রোগের সংক্রমণ ঘটেছে, সে কারণে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৬১ নং আইন) এর ১১(১) ধারার ক্ষমতাবলে সমগ্র বাংলাদেশকে সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলো।
সংক্রমিত এলাকাগুলোর জনসাধারণের জন্য কিছু কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্দেশনাগুলো হলো করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রশমনে জনগণকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে। অতীব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না। এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হলো। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কেউ ঘরের বাইরে যেতে পারবেন না। এ আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৬১ নং আইন) এর ১১(১) ধারার ক্ষমতাবলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিয়ে আইনের সংশ্লিষ্ট অন্য ধারাগুলো প্রয়োগ করতে পারবে।
ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এরই মধ্যে ৪৮টি জেলা লকডাউন করেছে প্রশাসন। এর বাইরেও কিছু উপজেলা এবং কিছু অঞ্চলে গলকডাউন জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সুত্রঃ বণিক বার্তা
নিজস্ব সংবাদঃ বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের কারো ত্রাণ সামগ্রী বা যেকোনো প্রয়োজন হলে যোগাযোগ করার আহব্বান জানিয়েছেন। আলহাজ্ব বদরুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জনাব আলহাজ্ব বদরুল ইসলাম উনার ফেইজবুক পেইজে দুটি নাম্বার দিয়ে একটি পুস্ট করেছেন।
পেইজে দেয়া পুস্ট
নিম্নে আলহাজ্ব বদরুল ইসলামের ফেইজবুক পেইজে দেয়া পোস্ট পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলোঃ আপনারা এই নাম্বারগুলোতে যোগাযোগ করুন 01756365867 / 01715931256
করোনা ভাইরাসের কারণে সবচেয়ে বেশি অসহায় মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। আলহামদুলিল্লাহ আলহাজ্ব বদরুল ইসলাম ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান। আলহাজ্ব বদরুল ইসলাম সাহেব জানিয়েছেন আমাদের সুজানগর ইউনিয়ন এর মধ্যবিত্ত কোন পরিবার যদি ত্রাণ সামগ্রী ও যেকোনো প্রয়োজনের দরকার হলে। গোপনতার মাধ্যমে আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ। আপনারা শুধু এই দুইটা মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করুন।
ফেনীতে ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় স্বামী ওবায়দুল হক টুটুলকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ।এমন নৃসংশ হত্যাকাণ্ডে হতভম্ব হয়ে পড়েছে শহরের বারাহীপুর এলাকাবাসী। অনেকেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার ভাষাটাও হারিয়ে ফেলেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে এমন কাণ্ড পাশবিকতার ইতিহাসে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
এদিকে, নিহত গৃহবধূর আরওয়া নামের দেড় বছর বয়সী ফুটফুটে এক মেয়ে রয়েছে। মায়ের মৃত্যুর পর বাবাকেও ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। আরওয়া শুধু কাঁদছে, তার কান্না কেউ থামাতে পারছেন না। ফুটফুটে দেড় বছরের মেয়েটি কি জানে? তারা মায়ের খুনি তার বাবাই। যে বয়সে বাবা-মায়ের আদরে হেসে খেলে বড় হওয়ার কথা সে বয়সেই হারাতে হয়েছে মাকে। বাবা থেকেও নেই। আরওয়ার কি দোষ ছিলো? ছোট্ট মেয়েটি কেন বাবা-মায়ের কোল হারালো? মেয়েটির ভবিষ্যৎ পৃথিবী কেমন হবে? সে কি পারবে এ মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে বেড়ে উঠতে? এমন প্রশ্নই যেন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে সবখানে।
এদিকে এমন চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড নিয়ে চিন্তিত নারী সংগঠকরাও। মানবাধিকার নেত্রী ও বেসরকারি সংস্থা নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশি কবির বলেন, ‘সারা পৃথিবী যেখানে অদৃশ্য শত্রুর কবলে জর্জরিত। চলছে বৈশ্বিক মহামারির বিপর্যয়। এমন পরিস্থিতিতে ফেনীতে এ ঘৃণ্যতম ঘটনা ঘটেছে।
একজন নারীকে নির্মমভাবে খুনের ভিডিও ফেসবুকে লাইভে প্রচার- এর চাইতে নৃশংস আর কি হতে পারে? এটি নিঃসন্দেহে অসুস্থ পুরুষতান্ত্রিকতার বহিঃপ্রকাশ। খুনি ব্যক্তি জঘণ্য, অসুস্থ এবং বিকৃত মস্তিষ্কের বলে আমি মনে করি। এ ধরনের ঘটনায় কিছু ধরনের পুরুষের পরিচয় বেরিয়ে আসছে।
তিনি আরও বলেন, ফেনীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফেনীর মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে আদালত থেকে সুবিচার নিশ্চিত করেছে। আশা করবো, এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতেও ফেনীর মানুষ সোচ্চার থাকবে।
বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট ও ফেনী জজকোর্টের আইনজীবী এম. শাহজাহান সাজু বলেন, এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। খুনি যেহেতেু ফেসবুক লাইভে খুনের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও যদি ১৬৪ ধারার জবানবন্ধিতে একই স্বীকারোক্তি দেন, তাহলে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় ঠান্ডা মাথায় খুন করার অপরাধে খুনির ফাঁসি হতে পারে।
শাহজাহান সাজু আরও বলেন, নিহত গৃহবধূর পরিবার চাইলে খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের জন্য এ মামলা সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে লড়তে চান তিনি।
তিনি আরও বলেন, নিহতের একটি দেড় বছরের ছোট মেয়ে আছে, বাবা যেহেতু মায়ের খুনের আসামি, আইন অনুযায়ী মেয়েটি তার দাদি-নানির কাছে বড় হবে। যেহেতু তার বাবা মায়ের খুনি, তাই নিরাপত্তার কারণে মেয়েটিকে তার নানির কাছে লালন-পালন জন্য দেওয়া যেতে পারে।
গৃহবধূর বোন রেহানা আক্তার জানিয়েছেন, পাঁচ বছর আগে কুমিল্লার গুণবতী এলাকার আকদিয়া গ্রামের সাহাবুদ্দিনের মেয়ে তাহমিনা আক্তারের সঙ্গে ওবায়দুল হক টুটুলের প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকে আর্থিক অসচ্ছলতা নিয়ে তাদের পরিবারের মাঝে প্রায় সময় ঝগড়া হয়ে আসছিল। এরইমধ্যে স্বামী টুটুল মেয়ের পরিবারের কাছ থেকে বেশ কিছু টাকাও নেয় কিন্তু আরও টাকা চাইলে তারা অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায় দুপুরে ফেসবুক লাইভে এসে স্বামী টুটুল তার স্ত্রীকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে হত্যাকারী টুটুল নিজেই পুলিশকে মুঠোফোনে খবর দিলে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা ও ফেসবুকে প্রচার চালানো মোবাইল জব্দ করা হয়।
তবে ছেলের পরিবারের দাবি, তাহমিনা আক্তারের সঙ্গে অন্য পুরুষের অবৈধ সম্পর্ক থাকায় টুটুল উত্তেজিত হয়ে তার স্ত্রীকে হত্যা করেন। টুটুলের মা লুৎফর নাহার জানান, ছেলের বউয়ের অন্য যায়গায় পরকীয়া প্রেমেরে সম্পর্ক ছিল। যার জেরে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো।
ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবু বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, রাতেই নিহতের বাবা সাহাবুদ্দিন বাদী হয়ে টুটুলকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
নিহতের মামা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, টুটুল একা তার ভাগ্নিকে খুন করতে পারেন না। এ ঘটনার সঙ্গে তার পরিবারও জড়িত রয়েছেন।
এদিকে ঘটনাস্থল বারাহীপুরে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজনে জানান, সকালে নিহত গৃহবধূকে স্বামীর পরিবারের সবাই মিলে মারধর করে, তখন এলাকাবাসী বাধা দিলে তারা পারিবারিক ব্যাপার বলে এলাকাবাসীকে তাড়িয়ে দেয়। বিকেলেই খুনের ঘটনা ঘটে।
ওবায়দুল হক টুটুল ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন। তাদের ঘরে দেড় বছরের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। তিনি ওই এলাকার গোলাম মাওলা ভূঁইয়ার ছেলে। সুত্রঃবাংলানিউজ
সাভার (ঢাকা): ফায়ার এলার্ম বাজিয়ে বাসায় ঢুকে করোনা রোগী অাখ্যা দিয়ে স্বেচ্ছাসেবী পরিচয় দিয়ে সাভারের পৌর এলাকার আব্দুর রহমান (৩৬) নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে সাভারে বাড্ডা ছায়াবিথী মহল্লায় গেলে এ তথ্য জানান ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম।
এর আগে, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে এ লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসময় দুর্বৃত্তরা ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে নগদ ৮০ হাজার টাকা লুট করাসহ বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান সাভারের পৌর এলাকা বাড্ডা ছায়াবিথী মহল্লার মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল হোসেনের ছেলে। এছাড়াও ২০১৩ সালে সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির সময় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।
ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে স্বেচ্ছাসেবক পরিচয়ে ১৫-২০ জনের একটি দল তার বাড়িতে ফায়ার এলার্ম বাজিয়ে প্রবেশ করে। এসময় তাদের মুখে মুখোশ, হাতে একটি হ্যান্ডমাইক ও লাঠিসোটা ছিলো। পরে তারা ভুক্তভোগীকে করোনা রোগী আখ্যা দিয়ে তার কাছে নগদ ২ লাখ টাকা দাবি করে। এসময় ভুক্তভোগী তাদের টাকা দিতে অস্বীকার করলে দুর্বৃত্তরা তাকে মারধর শুরু করে ও ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে তারা ঘরে থাকা নগদ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে দ্রুত একটি নীল রংয়ের ছোট পিকআপ ভ্যানে করে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বলেন, এত তাড়াতাড়ি ঘটনা ঘটে গেলো যে কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা লুটপাট করে পালিয়ে যায়। কেননা করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই এলাকায় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক দল হাতে লাঠিসোটা নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু দিন-দুপুরে স্বেচ্ছাসেবক সেজে এভাবে বাড়িতে এসে কেউ লুটপাট করতে পারে তা ভাবতেও পারিনি।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বাংলানিউজকে বলেন, আমি এ বিষয়টি আপনাদের থেকেই জেনেছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীকে এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার কথা বলা হয়েছে। সুত্রঃ বাংলা নিউজ
চিরাচরিত বাংলা নববর্ষ চলে গেলো। সম্ভবত আমাদের জীবদ্দশায় মৃত্যুভয় আর আতঙ্ক বুকে নিয়ে এমন ধূসর বর্ণহীন পয়লা বৈশাখ আর দেখিনি। কেউ আমরা ভাবতেও পারিনি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বছরে দগ্ধ চৈত্রের শেষটা আর নতুন বাংলা বছরের শুরুটা এক অজানা ভাইরাসের আতঙ্ক এতটা ভয়ঙ্কর হবে। একটা বছর কারও কারও জন্য সারা বছরের খোরাক। তাদের কথা বলছি যারা এই সময়টার অপেক্ষায় থাকে। রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহর, প্রতিটি জেলা শহর ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত এলাকায়ও মানুষ সাধ্যমতো কেনাকাটা করে। নতুন বছরকে সাদরে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। হালখাতা হয়, ছোট আর মাঝারি কারু ও ফ্যাশন শিল্পের বদৌলতে সাধ্যমতো নতুন জামাকাপড় গায়ে দিয়ে নতুন বছরের ঘর থেকে বের হয় সব শ্রেণির মানুষ দেশজুড়ে। কত যে মেলা, কত যে আনন্দ দেশব্যাপী থাকে। এই নববর্ষের অর্থনীতির যে চাঞ্চল্য, তা এবার নেই। ফলে কত মানুষের এবার আয় হলো না, সে কথা আমরা কেউ জানি না।
আপামর জনসাধারণ ঘরবন্দি। এই বন্দিদশার শেষ কবে জানা নেই কারও। শুধু যারা দিন আনে দিন খায় তারা নয়, সাধারণ আয় রোজগার করা মানুষ রুজি হারিয়ে ভারাক্রান্ত মন নিয়ে ত্রাণের নুন, তেল, আটা আর ডাল সংগ্রহে ব্যস্ত। পেটটা তো চালাতে হবে। এই যখন অবস্থা, তখন আর বৈশাখের কেনাকাটা হয় কীভাবে?
সরকারি চাকরিজীবী আর ধনীলোক ছাড়া করপোরেট খাতের সচ্ছল চাকরিজীবীরাও এখন চিন্তিত। ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করে করে তাদের অন্তরেও ভয়। লিকিউড সোপ আর স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে জীবাণু থেকে মুক্তির উপায় পেলেও তারা ভাবছে কবে না জানি তাদের অফিস যাওয়াটা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। ভাইরাসের উদ্বেগ আর রুজি বন্ধের উদ্বেগ এখন একাকার।
দেশের মানুষকে রক্ষা করার জন্য অর্থনৈতিক ক্ষতিকে উপেক্ষা করে সরকার সব কার্যক্রম বন্ধ করে সাধারণ ছুটি বাড়িয়ে চলেছে। এ অবস্থায় হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে। দিন আনে দিন খায় এমন মানুষ না খেয়ে দিনাতিপাত করছে। ফলে বিত্তবানরাও এগিয়ে আসতে শুরু করেছে। ঠিক এমনি সময়ে প্রধানমন্ত্রী অসহায়দের জন্য বড় ধরনের সাহায্য নিয়ে হাজির হয়েছে। এই দুর্যোগকালে কোনও মানুষ যেন অসহায়ত্বের জীবনযাপন না করে। পৌঁছে গেছে প্রতিটি ইউনিয়নে ত্রাণসামগ্রী। যার যেটুকু সামর্থ্য আছে, সেটুকু নিয়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।
কিন্তু অন্য ছবিও আছে। সভ্যতার সঙ্কট আজ যখন নতুন মোড়কে নতুন চেহারায় আবির্ভূত, তখন দেখা যাচ্ছে কেউ কেউ প্রাচীনই রয়ে গেছে। সরকার যখন তার সীমিত সম্পদ নিয়েও মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে, তখন আমরা দেখছি একটা অংশ কী আচরণ করছে। সারাদেশে যেন এক পাইকারি ভ্রষ্টাচারের দৃশ্য। ত্রাণের চাল চুরি হচ্ছে দেদার, ওএমএসের সামগ্রী মেরে দেওয়া হচ্ছে এবং এসব অভিযোগের বেশিরভাগ আসছে তাদের বিরুদ্ধে যারা ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ে ডিলারশিপের ব্যবসা করে। প্রধানমন্ত্রী যিনি ক্ষমতাসীন দলেরও প্রধান, তার কড়া নির্দেশ দরিদ্র মানুষের ত্রাণ নিয়ে যেন কোনও দুর্নীতি না হয়। নিজ দলের প্রধানের, দেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক নির্দেশ অমান্য করার মতো সাহস যারা দেখায়, তারা কোন যোগ্যতায় শাসক দলের অন্দরমহলে ঢুকে পড়ে?
কেউ কেউ হয়তো বলবেন এত নেতিবাচক হওয়ার কিছু নেই। সরকারি দলের লোকদের ধরছে সরকারই, কাউকে ছাড়া হচ্ছে না, দলীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। সারাবিশ্বেই এমনটা আছে। কী হচ্ছে, তা সবাই দেখছেন; সেটাই সব নয়। সবখানেই বিশৃঙ্খলা, অসাম্য, অসঙ্গতি আছে। এসব চোরকে বাদ দিলে দেশ সামগ্রিকভাবে মনুষ্যত্বের পথেই চলছে এবং তা সম্ভব হয়েছে সম্মিলিতভাবে সবাই যেহেতু সরকার প্রধানের আহ্বানে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। সততা, মনুষ্যত্ব, ন্যায়বিচারের পথে দেশ আছে কিনা, সেটাই বড় কথা। আমরাও বিশ্বাস করতে চাই যে, কিছু অসৎ মানুষের জন্য এই মনুষ্যত্বের পথ অপ্রয়োজনীয় বা মিথ্যে হয়ে যায় না।
খবর আসছে যে, ইতালিতে মাফিয়ারা পর্যন্ত এই দুর্দিনে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের সম্পদ বিলিয়ে দিচ্ছে। কঠিন সময়ে ইতালির গরিব মানুষের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে সেদেশের বিভিন্ন মাফিয়া গোষ্ঠী। খাবারের পাশাপাশি মানুষের কাছে দৈনন্দিন প্রয়োজনের জরুরি সামগ্রীও পৌঁছে দিচ্ছে মাফিয়া দলগুলো। মাফিয়া গোষ্ঠীগুলোর নির্দেশে দক্ষিণ ইতালির রাজধানী নেপলসে সুদের কারবারিরা বিনা সুদে মানুষকে ঋণও দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের এই চাল চোর, ত্রাণ চোররা একদম আলাদা ধাতুতে গড়া। এরা বুঝিয়ে দিচ্ছে এমন ক্রান্তিকালেও কিছু মানুষ কতটা অতলে নামতে পারে। এক কথায় তা অকল্পনীয়। একদিন আমরা হয়তো ভাইরাসকে পরাজিত করবো, কিন্তু এই ভ্রষ্ট রাজনীতিকদের কারণে রাজনীতির অভ্যন্তর হতে নৈতিকতার কণ্ঠস্বর আত্মপ্রকাশ ঘটাতে পারব কিনা জানি না।
উদ্ধার হওয়া প্রত্যেকেই উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবির থেকে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের হলবনিয়াপাড়া ঘাট থেকে চার শতাধিক রোহিঙ্গাকে বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।
উদ্ধার হওয়া প্রত্যেকেই উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবির থেকে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পরে মালয়েশিয়া যেতে না পেরে এই এলাকার জাহাজ ঘাটে ভেড়ে। খবর পেয়ে কোস্টগার্ড তাদের উদ্ধার করে।
টেকনাফ স্টেশন কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা লে.কমান্ডার এম সোহেল রানা বলেন, রোহিঙ্গা ভর্তি একটি বড় জাহাজ টেকনাফ জাহাজপুরা ঘাট দিয়ে ওঠার সময় রাত ৯টার দিকে চার শতাধিকের মত রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা বেশ কিছুদিন আগে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাত্রা করেছিল। কিন্তু সেখানে ভিড়তে না পেরে আবার চলে আসেন। তবে সংখ্যাটা কম-বেশি হতে পারে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসাম বলেন, চার শতাধিক রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা মালয়েশিয়া যেতে না পেরে ফের ফেরত আসেন। তবে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে বেশিরভাগ নারী ও শিশু।
উদ্ধার হওয়া মো. জোবাইর নামে এক রোহিঙ্গা বলেন, “দুইমাস আগে ৪৮২ রোহিঙ্গা নিয়ে একটি ট্রলার সাগরপথে মালয়েশিয়া রওনা করে। সেদেশে কড়াকড়ির কারণে ঢুকতে না পেরে এখানে ফিরে আসি। সাগরে এতদিন ভাসমান ছিলাম। ট্রলারে ২৮জন মারা গেছে। এদের অধিকাংশই টেকনাফ ও উখিয়া রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা। সুত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন
ঢাকায় কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে শুরু থেকেই সেবার সাথে জড়িত রয়েছেন এমন একজন নার্স বলছেন, যে সুরক্ষা পোশাকটি খুব দরকারি সেই পিপিই তাদের পুরোটা দেয়া হচ্ছে না। শুধু গাউন দেয়া হচ্ছে এবং খুব দরকারি এন-৯৫ মাস্কও দেয়া হচ্ছে না।
এই হাসপাতালটিতে প্রথম দেশের করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া শুরু হয় এবং এখনো পর্যন্ত সেখানেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এই নার্সের পরিচয় আমরা গোপন করছি।
তিনি বলছেন, “আমরা একটা রোটেশন ঠিক করে নিয়েছি রোগীর ক্লোজ কন্টাক্টে কোনদিন কে যাবে। যেমন একদিন তিনজন পিপিই পরবে ও রোগীদের কাছে যাবে। আর অন্যরা নার্সিং স্টেশনে ডিউটি করবে। তারা আবার অন্যদিন পিপিই পরবে। সুত্রঃ বিবিসি বাংলা ঢাকা
দেশে মোট করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) শনাক্ত ১২৩১ জনের মধ্যে কেবল রাজধানী ঢাকাতেই ৫১৮ জন রয়েছেন। এছাড়া ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলায় ৪১৬ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) সূত্রে গতকাল বুধবার পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যে এ বিষয়টি জানা গেছে। রাজধানীর যেসব এলাকায় করোনাভাইরাস শনাক্ত পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ওয়ারীতে ২৬, টোলারবাগে ১৯, যাত্রাবাড়ীতে ১৯, লালবাগে ১৮, ধানমন্ডিতে ১৮, উত্তরায় ১৭, তেজগাঁওতে ১৬, মোহাম্মদপুরে ২০, বাসাবোতে ১৪, গেন্ডারিয়ায় ১৩, বাবু বাজারে ১১, মহাখালীতে ১০, মগবাজারে ১০, মিরপুর (১২) ১০, মিরপুর (১১) ১১, গ্রিন রোডে ১০, বনানীতে ৮ ও বাড্ডায় ৬ জন।
ঢাকা শহরে শনাক্ত পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি ছাড়াও বিপজ্জনক স্থানের তালিকায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা। সেখানে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই শত। নারায়ণগঞ্জ জেলায় মোট করোনা শনাক্ত এখন ২১৪ জন।
এছাড়া নরসিংদীতে এখন ২৮ জন শনাক্ত হয়েছেন। গাজীপুরে ৫৩ জন শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া রাজবাড়িতে ৬ জন, টাঙ্গাইলে ৯ জন এবং গোপালগঞ্জে ৯ জন শনাক্ত হয়েছে। ঢাকা শহরের বাইরে ঢাকা জেলায় ২৮ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জে ১৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
দৈনিক বড়লেখা ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চীনের উহানের গবেষণাগার থেকে করোনাভাইরাস এসেছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে চেষ্টা করবে তার সরকার।
আর তারা যা জানেন, তাতে অস্পষ্ট কিছু আছে কিনা; বেইজিংয়ের তা পরিষ্কার করা উচিত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।- খবর রয়টার্সের
বৈশ্বিক মহামারী রূপ নেয়া করোনাভাইরাসের উৎস রহস্য হয়ে থেকে গেছে। মঙ্গলবার মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল মার্ক মিল্লেই বলেন, ভাইরাসটি সম্ভবত প্রাকৃতিকভাবেই এসেছে বলে আভাস দিয়েছেন গোয়েন্দারা। চীনের গবেষণাগার থেকে আসেনি।
কিন্তু এ দুটির কোনো একটি ধারনার বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
ফক্স নিউজের খবরে বুধবার দাবি করা হয়েছে, জৈব অস্ত্র হিসেবে উহানের গবেষণাগার থেকে এই ভাইরাসের উদ্ভব ঘটেনি, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি কিংবা সমান সক্ষমতার ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই ও শনাক্ত করতে চীনের শক্তিমত্তা প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই এমনটা হয়েছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, উহানের যে পরীক্ষাগারে ভাইরাসবিদ্যার গবেষণা করা হয়, সুরক্ষা মানের শিথিলতার দরুন কেউ সেখান থেকে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তা কাছের স্যাঁতসেঁতে মার্কেটে চলে আসে, সেখান থেকে সংক্রমিত হতে শুরু করে।
উহানের ল্যাব থেকে ভাইরাসটি পালিয়ে এসেছেন কিনা; হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তাদের ব্যাপারে তিনি সতর্ক রয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এই যে ভয়াবহ পরিস্থিতি ঘটেছে, তার আনুপুঙ্খিক বিশ্লেষণে যাচ্ছি আমরা।
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলাপে তিনি বিষয়টি তুলবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, গবেষণাগার সম্পর্কে তাকে যা বলেছি, তা আমি আলোচনা করতে চাই না। আমি এ নিয়ে আলোচনা করতে চাই না, এখন সেটার উপযুক্ত সময় না।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগামী বছরগুলোয় কভিড-১৯ ফিরে আসতে পারে। এর মধ্যে কার্যকর ওষুধ ও ভ্যাকসিন তৈরি না হলে শারীরিক দূরত্বের ব্যবস্থাগুলো বিভিন্ন স্থানে ২০২২ সাল পর্যন্ত মাঝেমধ্যে কার্যকর করার প্রয়োজন হতে পারে।
সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা উপসংহারে পৌঁছেছেন যে ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞা ব্যতিরেকে পরিস্থিতি বর্তমানের চেয়ে আরো ভয়াবহ হতে পারে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এপিডেমিওলজির অধ্যাপক ও গবেষণাটির সহলেখক মার্ক লিপসিচ বলেন, দুটি বিষয় সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে কাজ করে, সংক্রমিত মানুষ ও সংবেদনশীল মানুষ। আমাদের শরীরে যতক্ষণ না অধিক পরিমাণে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এটা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন। ভাইরাসটির সংক্রমণের বিস্তার সম্পর্কে আমরা এখন পর্যন্ত যা জানি, তার সঙ্গে হোয়াইট হাউজের দেয়া এ গ্রীষ্মেই মহামারী শেষের পূর্বাভাস সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, নতুন কার্যকর চিকিৎসা, একটি ভ্যাকসিন বা ক্রমবর্ধমান গুরুতর যত্নের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারলে শারীরিক দূরত্বের ব্যবস্থাগুলো কিছুটা শিথিল করা যেতে পারে। তবে এগুলো না পাওয়া গেলে শারীরিক দূরত্ব ও নজরদারি ২০২২ সাল পর্যন্ত বজায় রাখা প্রয়োজন হতে পারে।
সৌদি আরবে আটকা পড়া ওমরাহ যাত্রীসহ ৩৬৬ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। এদের মধ্যে ১৩২ বাংলাদেশি ওমরাহ করতে সৌদি যান এবং ২৩৪ জন সেদেশের বিভিন্ন কারাগারে ছিলেন।
আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় তাদের বহনকারী সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি-৩৮০৬ ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, ফ্লাইট থেকে নামার পর তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা স্ক্রিনিং করা হবে। স্ক্রিনিংয়ে কারও শরীরের তাপমাত্রা বেশি পাওয়া গেলে তাদের সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আশকোনা হজ ক্যাম্পের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হবে। এ ছাড়াও ফ্লাইটের বাকী সবাইকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হবে।
বড়লেখা প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ফুটবল খেলতে নিয়ে গিয়ে এক কলেজ ছাত্রকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ০৩ এপ্রিল উপজেলার তালিমপুর ইউপির খুটাউরা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহত সাদিদুর রহমান (২০) এখনও সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি উপজেলার তালিমপুর ইউপির খুটাউরা গ্রামে খকাই মিয়ার ছেলে এবং সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এই ঘটনায় গত ০৬ এপ্রিল আহত ওই কলেজ ছাত্রের ভাই ছফির উদ্দিন ইউপি সদস্য বেলাল মিয়ার ছেলে হামলাকারী উজ্জল মিয়াকে (২০) প্রধান আসামি করে চারজনের নামোল্লেখ করে থানায় মামলা করেছেন। কিন্তু মামলার সাতদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখন কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এতে হতাশ ওই কলেজ ছাত্রের পরিবার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেলে সাদিদুর রহমান খুটাউরা বাজারে যায়। এসময় তাঁর সহাপাঠি উজ্জল মিয়া সাদিদুরকে রাস্তায় পেয়ে জোরপূর্বক ফুটবল খেলতে নিয়ে যায়। করোনা পরিস্থিতির কারণে তখন সাদিদুর খেলতে রাজি হননি। এনিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা দুজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এসময় সেখানে থাকা লোকজন তাদের সরিয়ে দেন। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর উজ্জল মিয়াসহ আরও কয়েকজন যুবক দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে এসে উজ্জলের ওপর আবার হামলা চালায়। এসময় তারা সাদিদুর রহমাকে ব্যাপক মারধর করেন। পরে স্থানীয়ার হামলাকারীদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় সাদিদুরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এই ঘটনায় গত ০৬ এপ্রিল আহত ওই কলেজ ছাত্রের ভাই ছফির উদ্দিন থানায় একটি মামলা করেছেন। এদিকে মামলার সাতদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ মামলার কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
সাদিদুরের বড়ভাই নাজিম উদ্দিন বুধবার রাতে জানান, আমার ভাইয়ের কোনো দোষ ছিল না। তাকে খেলতে নিয়ে গিয়ে কৌশলে মেম্বারের (বেলাল মিয়ার) ছেলে উজ্জল মারধর করেছে। তার এক হাতে দায়ের কুপে ক্ষত হয়ে গেছে। সে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। ব্যাথায় কাতরাচ্ছে। আমরা থানায় মামলা করেছি। পুলিশ এখনও কোনো আসামিকে ধরেনি। আসামিরা প্রভাবশালী। তারা উল্টো আমাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছি। আমরা এই ঘট
কী এক অসুখ (কোভিড-১৯)! যে কিনা শুশ্রূষার জন্য স্বজনকে কাছে আসতে দেবে না! চোখের পানি ফেলতে দেবে না! আক্রান্ত হবার পর প্রিয়জনের করস্পর্শের বদলে আড়াল খুঁজতে বাধ্য করবে (পড়ুন আলাদা থাকতে বাধ্য করবে)। অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অনবদ্য সৃষ্টি ‘দেবদাসে’র শেষ পরিচ্ছেদের সেই কথাগুলো বারবার মনে পড়তে পারে আপনার! এ উপন্যাসের একেবারে শেষ অংশে দেবদাসের মৃত্যুর পর শরৎবাবু অনেকটা স্বগতোক্তির মতো লেখেন- ‘প্রার্থনা করিও, আর যাহাই হোক, যেন তাহার (দেবদাস) মত এমন করিয়া কাহারও মৃত্যু না ঘটে। মরণে ক্ষতি নাই, কিন্তু সে সময়ে যেন একটি স্নেহকরস্পর্শ তাহার ললাটে পৌঁছে- যেন একটিও করুণার্দ্র স্নেহময় মুখ দেখিতে দেখিতে এ জীবনের অন্ত হয়। মরিবার সময় যেন কাহারও একফোঁটা চোখের জল দেখিয়া সে মরিতে পারে।’
খুব কঠিন ও ভয়াবহ বাস্তবতা হচ্ছে- করোনা আক্রান্তের পর থেকে মৃত্যু অবধি পুরো প্রক্রিয়াটা শরৎবাবুর দেবদাসের শেষ পরিণতির চেয়েও করুণ! পার্বতী ছুটে বেরিয়ে পড়েছিল তার প্রিয় দেবদা’র মৃত্যুর খবর শোনার পর! প্রিয় মানুষটিকে এক পলক দেখার জন্য! আমরা সেটিও করতে পারছি না; উল্টো আলাদা থাকতে হচ্ছে; মৃত্যু হলে সাদা প্লাস্টিক ব্যাগে মোড়ানো মরদেহ নিয়ে যাচ্ছে পিপিইতে মোড়ানো দু’চারজন মানুষ! চিরায়ত শেষ বিদায়ের সেই সজল-করুণ চোখে স্বজনের স্পর্শ মিলছে না। কারণ সংক্রমণের ভয়! সংস্পর্শের ভয়! শুধু নিজের নয়, অন্যের মাঝে দ্রুত করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা! পরিবার, সমাজ কিংবা রাষ্ট্র নয়; পুরো বিশ্বে এই সংক্রমণ-সংস্পর্শের ভয়! একজনের ক্ষণিকের আবেগের করমর্দন; একজনের সামান্য ‘ভুল-ছোঁয়া’র মাশুল কত শত-সহস্র-লাখ মানুষকে দিতে হচ্ছে এবং হবে তা এখন আর অনুমেয় নয়! এরপরও আমরা প্রত্যেকে কত অবহেলায় সামাজিক দূরত্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছি- পথে-ঘাটে; বাজার-হাটে; কর্মক্ষেত্রে! দুই.
সাদা চোখে প্রতিদিন আমরা কিছু চিত্র দেখছি- ক. রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে গাড়ি-ঘোড়া নেই, মাঝে মধ্যে শা শা করে ছুটে যাচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স, সংবাদপত্র কিংবা টেলিভিশন চ্যানেলের গাড়ি। তবে কিছুটা দূরে দূরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নিম্নআয়ের নারী-পুরুষ জবুথবু বসে আছেন। আপনি চলতি পথে এমন দুচারটি জটলা পেরুনোর পর হয়ত দেখবেন ফাঁকা সড়কে বামপাশে হঠাৎ থেমে গেছে একটি মাইক্রো কিংবা প্রাইভেটকার। ওখান থেকে বিতরণ করা হচ্ছে খাবারসামগ্রী! নিম্নআয়ের মানুষজন আশপাশের গলি থেকে ছুটে আসছেন ওই গাড়িকে লক্ষ্য করে। এমন কি সামনে পেছনের মূল সড়ক ধরেও দৌড়ে আসছেন কেউ! ভিড় বাড়ছেই! ত্রাণ বিতরণকারী সহৃদয়বান ব্যক্তির মহৎ উদ্দেশ্য একটু পরেই কাড়াকাড়ি-মারামারিতে পরিণত হল! কিংবা ঘটনার মোড় দ্রুত অন্যদিকে ঘুরছে আঁচ করতে পেরে গাড়িটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করল!
রাজধানীর ফার্মগেট থেকে মহাখালী, বনানী, কুড়িল বিশ্ব রোড, প্রগতি সরণি হয়ে বাড্ডা, খিলগাঁও, মতিঝিলসহ বিভিন্ন সড়কে দিনমান এমন ঘটনা বেশকিছু চোখে পড়বে আপনার। আপনি হয়ত কোনো বিশেষ ব্যক্তির বাড়ির সামনের সড়কে বিকেল বেলা দেখলেন নির্দিষ্ট দূরত্বে গোল গোল বৃত্ত আঁকা হচ্ছে! ভাবনায় পড়লেন- এখানে আবার সামাজিক দূরত্বের এ বৃত্ত কেন! পরদিন সকালে উত্তরটা পেলেন- ওই বৃত্তগুলো সব ভরে গেছে মানুষে! এমনকি একটু পরে উপচে পড়ল ওই বৃত্ত! ত্রাণের আশায় আসা মানুষের ভিড়ে সামাজিক দূরত্ব মাটিতে মিশল! ত্রাণ দাতা হিমশিম খাচ্ছেন পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে, এরই মধ্যে ঘটনাস্থলের অদূরে চোখ গেল আপনার- দেখলেন নিম্নআয়ের কর্তা; তার স্ত্রী এমনকি ছেলেও আলু-চাল-ডাল-তেলের আলাদা আলাদা প্যাকেট (ত্রাণ) নিয়ে এক রিকশায় উঠে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন। ততক্ষণে ঘটনাস্থল লোকে লোকারণ্য। ত্রাণ বিতরণ বন্ধ! তাই এখন এ কথা বলার সময় এসেছে- ত্রাণ বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় আমাদের কোনো সমন্বয় নেই।
নিম্নআয়ের মানুষের বাড়িতে সুষমভাবে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার মতো ব্যবস্থাপনা এখনো তৈরি হয়নি। বেসরকারি/ব্যক্তি উদ্যোগে যারা ত্রাণ বিতরণ করছেন তাদেরও সতর্ক হবার সময় এসেছে, ত্রাণ বিতরণের মতো মহৎ একটি উদ্যোগে বিশৃঙ্খলা বা সামাজিক দূরত্ব বিসর্জন দেওয়ার অধিকার আপনাদের নেই। স্থানীয় প্রশাসন থেকে জনপ্রতিনিধি; স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষের উচিত নিম্ন, নিম্নমধ্যবিত্ত ৬-৭ কোটি নাগরিকের দিনে অন্তত দু’বেলা খাবারের নিশ্চয়তা বিধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া। একইসঙ্গে আমাদের নাগরিকদেরও সচেতনতা জরুরি- প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেব না; পেটে পাথরবেঁধে হলেও ঘরে থাকতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। খ. করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাবার পর সারা বিশ্বের অন্য কোনো দেশে আমরা যে ঘটনা দেখিনি, তেমন কিছু ঘটনা এ দেশে ঘটেছে! করোনা চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নির্মাণে বাধা এবং বিভিন্ন এলাকায় আক্রান্ত সন্দেহে মৃতের দাফনে বাধা, এমনকি করোনা আক্রান্ত সন্দেহে বাড়ি থেকে স্বজনকে বের করে দেয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। আবার সাধারণ ঠাণ্ডা-কাশি বা জ্বরের রোগীর চিকিৎসা না পাবার মতো কিছু ঘটনাও সামনে এসেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে কেউ যদি বলেন, ভাই আপনি আজ হাসপাতাল নির্মাণে বাধা দিচ্ছেন, কাল যে আপনি কিংবা আপনার কোনো স্বজনের চিকিৎসার প্রয়োজন হবে না এই গ্যারান্টি কোথায় পেলেন! যাকে বা যাদের সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে একটি শুভ উদ্যোগকে বানচালের চেষ্টা করছেন, সামাজিক দূরত্ব মানছেন না, সেই তাদের কেউ যদি করোনার বাহক হন, তবে আপনি কতটা নিরাপদ! আবার শুধু আক্রান্ত সন্দেহে কারো সঙ্গে অমানবিক আচরণ কেন করছেন! দাফন-কাফনে বাধা দিচ্ছেন, এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি ক’দিন পরে আপনি পড়বেন না সেটাই বা কে বলতে পারে! সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেও অনেক সুন্দরভাবে-মানবিকভাবে যে কোনো রোগীর সঙ্গে সংবেদনশীল আচরণ করতে পারি আমরা। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও আমাদের চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্য সেবাকর্মীরা অনেক বড় দায়িত্ব পালন করছেন। আপনাদেরকে স্যালুট। কিন্তু একইসঙ্গে একথাও বলতে হয়, দু’চারজনের অসদাচরণ, রোগীর চিকিৎসায় অনীহা/ভীতি পুরো বিভাগের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ডাক্তার, নার্স, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিকসহ সেবা সংস্থার কর্মীদের অন্য আর দশটা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মতো হলে চলে না। সেবার মানসিকতা নিয়েই তারা এসব পেশায় আসেন, তাদের কাছে দেশ ও জাতি অনেক বেশি প্রত্যাশা করে। তারা সেভাবেই তাদের সেবা দিচ্ছেন, দায়িত্ব পালন করছেন; আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। একইসঙ্গে বিনয়ের সঙ্গে এ কথাটাও বলা প্রয়োজন- বিচ্ছিন্নভাবে দু’চারজন যদি অন্য আচরণ করেন, তাদের স্বেচ্ছায় পেশা ত্যাগ করা উচিত। আর তা না হলে প্রশাসনের উচিত তাদের চিহ্নিত করে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে প্রতিদিনই বলা হচ্ছে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না। এ ব্রিফিংয়ে রাজধানী, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর নাম বলে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর মিরপুরের টোলারবাগ ও বাসাবো এলাকাও রয়েছে। আর সর্বশেষ শনিবার সকালেও সহকর্মীকে তার মিরপুরের রূপনগরের বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে অফিসে আসার পথে প্রধান সড়ক ছাড়া অলি-গলিতে মানুষের ভিড়, রিকশার অবাধ যাতায়াত, দোকানপাটে গা-ঘেঁষে কেনাকাটা এমনকি টিসিবির ট্রাকের সামনে ঠেলা-ঠেলি-গাদাগাদি দাঁড়ানো অগুনতি নারী-পুরুষের দেখা মিলল! দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ, গণমাধ্যম, পুলিশ প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সামাজিক দূরত্ব রক্ষার যে প্রচারণা চালাচ্ছে। তাতে আমরা যদি সবাই সাড়া না দেয়, সবার অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত চেষ্টা ছাড়া এখন পর্যন্ত এ মহামারি থেকে উত্তরণের বিকল্প কিছু বের হয়নি। করোনাভাইরাস আমাদের প্রয়োজন-অপ্রয়োজন; পক্ষ-বিপক্ষ দেখছে না! ছোঁয়া পেলে, সংস্পর্শ পেলে সংক্রমিত হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দ্রুত নষ্ট করে এবং কীভাবে দ্রুত ছড়ায় তা বাংলাদেশে ৩০ জনের মৃত্যু ও ৪৮২ জন আক্রান্ত হবার খবরটি জানলেই আমরা বুঝতে পারি! আমরা আরও বুঝতে পারি- বিশ্বে লাফিয়ে লাফিয়ে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধির হার দেখলেই! করোনাভাইরাসে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে। মাত্র ১০০ দিনের তাণ্ডবে পুরো বিশ্বকে তছনছ করে দিয়েছে করোনা। অথচ আমাদের; এই বাংলাদেশের মানুষের বোধোদয় হচ্ছে না! নানা অযুহাতে স্বাস্থ্যবিধিকে থোড়াই কেয়ার করছি আমরা!
তিন.
সামাজিক দূরত্বের এই কালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও করোনার হাল-হকিকত নানাভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে। সারাদিনে আমরা হয়ত ফেসবুকে এক-দু’বার ঢুঁ মেরে অন্যদের স্টাট্যাস দেখি; দুঃখ-কষ্ট বোঝার চেষ্টা করি। কখনও নিজের মতামত-অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। দুঃখের সময়, কষ্টের সময় কবিতা অনেকটা প্রশান্তি এনে দেয়! ফেসবুকে সাংবাদিক পরিচালক-নাট্যকার পলাশ রসুলের এমন একটি কবিতাতে নিশ্চয় অনেকের চোখ আটকেছে! করোনাক্লিষ্ট সময়কে তার শব্দের মায়াজালে বন্দি করেছেন এভাবে-
‘তোমাকে চুমু খাওয়া কবে আর সম্ভবপর হবে? তোমার হাতে রাখতে চাওয়া হাত!
তোমাকে উপলক্ষ করে- আমিও জন্মেছিলাম কোনো তামাটে সূর্যাস্তে কৃষি বিপ্লবের আগে। …দ্যাখো আমার শরীর ধোয়া স্যানিটাইজারে।
গাঢ় গভীর নলকূপ বিদ্যুতগর্ভে গেথে যে তুমি টেনে টেনে তুলেছ সভ্যতা অহেতুক কৌতুহলে, লোভে
কিন্তু মানো, পৃথিবীতে আবারও ঝড় বৃষ্টি হবে… বিষ তবু থাকবে তোমার বাজারের ব্যাগে ফুলকপি ও শিমে?
তোমাকে চুমু খাওয়া তবু আর কি সম্ভবপর হবে? স্পর্শঅযোগ্য এমনকি তোমার ঠোঁট!
এ্যাতো এ্যাতো মাস্কবন্ধী মুখ, দুহাতভরা বিষে আর তোমারই অনিশ্চিত চোখে ঘৃণার বর্ণনা দেখে শিউরে ওঠা সারসার শোককাতর শব!
ভাবছো দুরত্বে মীমাংসা হবে? সব?’
চার.
বেদনার সাত রঙ বলে একটা কথা আমরা প্রায়ই বলে থাকি। বলি এ জন্য যে- বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল (বেনীআসহকলা) কোনো না কোনোভাবে বেদনাকে ধারণ করে! আমাদের বেগুনি (বে) রঙের বেগুন আছে, বেগুনের কোনো গুণ না থাকার কষ্ট (বেদনা) আছে। নীল (নী) রঙের আকাশ আছে, আমরা বেশি কষ্ট পেলে নীল হই! দিগন্তবিস্তৃত আসমানি (আ) রঙ আছে; আসমানকে ছুঁতে না-পারার কষ্ট আছে! আছে সবুজ (স) মাঠ; আছে সবুজ বনভূমি কমে যাবার খেদ! প্রকৃতি উষ্ণ হবার যৌক্তিক কারণ! হিমুর হলুদ (হ)-রাঙা পাঞ্জাবি; বোহেমিয়ান জীবনের যন্ত্রণার প্রতিচ্ছবি হিমু! আর অনেকের শরীরের রঙ কমলার (ক) মতো না হবার মনোবেদনাও আছে! আর আছে ১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদের রক্তে রাঙা লাল (লা) পতাকা। এই বেনীআসহকলা নিয়ে আছি আমরা! বিশ্বে মহামারী করোনাভাইরাসের থাবার তলে এখন আমরাও। ক্রমশ এ থাবা বিস্তৃত হচ্ছে। বেদনার সাত রঙে নীল হচ্ছি আমরা, সামনেটা দেখতে পাচ্ছি না; অন্ধকার সিঁড়ির অপরপ্রান্তে নিশ্চয় আলোর দেখা মিলবে।! জাতি হিসেবে আমাদের যুদ্ধজয়ী মনোভাবটা জারি রাখতে হবে; প্রতিকুলতাকে দু’হাতে ঢেলে অনুকুলে আনার যে অদম্য প্রবৃত্তি আছে আমাদের, তাকে আরও সক্রিয় করতে হবে। এতো কিছু করতে পারি আমরা; ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৭১-এ দৃশ্যমান পাক হানাদারদের হটিয়ে স্বাধীনতার স্বাদ, ৯০-এ স্বৈরশাসনকে উৎখাতে জীবনবাজি রেখে গণতন্ত্রকে পুনর্জীবন দান করেছি আমরাই! আসুন সেই আমরা অদৃশ্য এক করোনাভাইরাসকে রুখতে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করি, বারবার হাত ধোয়, খুবই বেশি প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে বের না হই। হাঁচি-কাশি শিষ্টাচার মেনে চলি। নিজে ভালো থাকি, অন্যকে ভালো রাখি, পরিবার-সমাজ-দেশ-বিশ্বকে ভালোবাসি ও ভালো রাখি।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সিলেটের সেই চিকিৎসক ডা: মইন উদ্দিন আর নেই।
১৫ এপ্রিল ভোর ৪ টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।
মৃত্যুর বিষয়টি সিলেট প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ডা. মইন উদ্দিনের বন্ধু ডা. নুর উদ্দিন তালুকদার।
উল্লেখ্য,ঐ চিকিৎসকের করোনা উপসর্গ ধরা পড়ে প্রায় ১৩ দিন আগে। এরপর তিনি নিজেই উদ্যোগী হয়ে সিলেটে নমুনা টেস্ট প্রদান করেন। ৫ এপ্রিল রিপোর্ট আসে পজেটিভ। অর্থাৎ তিনি করোনা আক্রান্ত। এরপর আক্রান্তের ৩য় দিন ৭ এপ্রিল তিনি নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হন।সেখান থেকে পরিবারের ইচ্ছায় চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়া হয়।সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মৃত্যুবরণ করেন। সুত্রঃ সিলেট প্রতিদিন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন স্থগিত করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে প্রতিক্রিয়ায় তাদের ‘প্রাথমিক দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
চীনে ভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর জাতিসংঘের এই সংস্থাটির অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করার পাশাপাশি তারা সত্য ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ তোলেন মি. ট্রাম্প।
এর আগে তিনি বলেছিলেন যে সংস্থাটি প্রতি চীনের পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন যে, এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অর্থায়ন কমানোর সঠিক সময় নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার নিজের দেশের করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব সামলানোর বিষয়টি নিয়ে সমালোচিত হলেও হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।”
এককভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তহবিলে সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থায়ন করে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর এই তহবিলে যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে ৪০ কোটি ডলার – যা ছিল সংস্থাটির বার্ষিক বাজেটের প্রায় ১৫%।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ সালে সেখানে চীনের অবদান ছিল ৭.৬ কোটি ডলার এবং স্বপ্রনোদিত অনুদান ১ কোটি ডলার।
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব মোকাবেলার লক্ষ্যে মার্চ মাসে সাড়ে ৬৭ কোটি ডলারের আবেদন করেছে তারা এবং আরো ১০০ কোটি ডলারের আবেদন করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
চীনের উহানে যখন করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরু হলো, তখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর গুরুত্ব সঠিকভাবে অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
“ডব্লিউএইচও (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) যদি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে চীনের পরিস্থিতি যাচাই করতো এবং চীনের অস্বচ্ছতা প্রকাশ করে দিতো, তাহলে প্রাদুর্ভাব উৎসতেই নিয়ন্ত্রণ করা যেতো, মৃত্যুও অনেক কম হতো।”
“তা না করে ডব্লিউএইচও চীনের সরকারের কার্যক্রমকে সমর্থন দিয়েছে।”
এসময় সাংবাদিকরা মি. ট্রাম্পকে মনে করিয়েদেন যে, তিনি নিজেই কিছুদিন আগে ভাইরাস সংক্রমণ রোধে চীনের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র লকডাউন থাকবে কতদিন? হোয়াইট হাউজে সংবাদ সম্মেলনের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান যে যুক্তরাষ্ট্রে লকডাউন তুলে নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ঘোষণা করার পরিকল্পনা ‘প্রায় চূড়ান্ত’ হয়েছে।
সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মন্তব্য করেন যে অঙ্গরাজ্যগুলোর গভর্নররা না চাইলেও তিনি লকডাউন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তখন তা নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রশাসনের দায়িত্ব রাজ্যের গভর্নরদের। সুত্রঃ বিবিসি বাংলা
পরীক্ষার পরিধি বাড়ানোর পর প্রথম শনাক্ত থেকে ৩৭তম দিনে দেশে প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার নতুন করে ২০৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হওয়ায় দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো এক হাজার ১২ জন।
বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। এরপর মঙ্গলবার ৩৭তম দিন যায়। আক্রান্তের সংখ্যা প্রথম ১০০ জনে পৌঁছাতে সময় লাগে ২৮ দিন। কিন্তু গত কয়েক দিনে এই চিত্রে পরিবর্তন আসে। রোববার ১৩৯, সোমবার ১৮২ এবং মঙ্গলবার ২০৯ জনের দেহে করোনার উপস্থিতি পাওয়ার তথ্য জানায় জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।
দেশে মঙ্গলবার পর্যন্ত টেস্ট করা হয় ১৩ হাজার ১২৮ জনকে। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয় ১০১২ জনের। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৪৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯০৫ জনের পরীক্ষা হয়। করোনায় বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত একদিনে মৃত্যু ও শনাক্তে মঙ্গলবারই সর্বোচ্চ। এই দিন মারা যান ৭ জন।
করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সার্বক্ষণিক হালনাগাদ তথ্য দিচ্ছে ওয়ার্ল্ডওমিটার্স ডট ইনফো নামে একটি ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তের হার ভাইরাসটিতে লণ্ডভণ্ড অনেক দেশের চেয়ে বেশি। যদিও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ওইসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে অনেক কম।
ওয়ার্ল্ডওমিটার্স ডট ইনফোর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত ইরাকে ৩৭ হাজার ৭৯১ টেস্টে আক্রান্ত ১৩৭৮, ইস্তোনিয়ায় ৩২ হাজার ২৬৩ টেস্টে আক্রান্ত ১৩৭৩, নিউজিল্যান্ডে ৬৪ হাজার ৩৯৯ টেস্টে আক্রান্ত ১৩৬৪, স্লোভেনিয়ায় ৩৫ হাজার ৯৪৬ টেস্টে আক্রান্ত ১২২০, কাজাখস্তানে ৭৬ হাজার ৯০৪ টেস্টে আক্রান্ত ১২০২, আজারভাইজানে ৬৬ হাজার ৬৭৭ টেস্টে আক্রান্ত ১১৪৮, উজবেকিস্তানে ৭০ হাজার টেস্ট আক্রান্ত ১১১৩, লিথুনিয়ায় ৪২ হাজার ৬৯০ টেস্টে আক্রান্ত ১০৭০ এবং হংকংয়ে ৯৬ হাজার ৭৯০ টেস্টে আক্রান্ত পাওয়া গেছে ১০১৩ জন। বাংলাদেশের মতো অবস্থায় আছে বসনিয়া ও আর্মেনিয়া। বসনিয়ায় ১১ হাজার ৬১২ টেস্টে আক্রান্ত ১০৮৩ এবং আর্মেনিয়ায় ৮ হাজার ৩১৬ টেস্টে আক্রান্ত পাওয়া গেছে ১০৬৭ জন।
ওয়েবসাইটটি বলছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৮৬ জনের করোনা পরীক্ষা হয়েছে, যাতে পজিটিভ আসে ৫ লাখ ৮৯ হাজার ১৫ জনের। বিশ্বে সব থেকে বেশি করোনা আক্রান্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রেই। সব চেয়ে বেশি করোনা পরীক্ষাও হয় ওই দেশে। পরীক্ষার দিক থেকে এরপর এগিয়ে জার্মানি, ইতালি ও রাশিয়া। এই তিন দেশে যথাক্রমে ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৭, ১০ লাখ ৭৩ হাজার ও ১৪ লাখ মানুষের করোনা পরীক্ষা হয়। পরীক্ষায় জার্মানিতে ১ লাখ ৩১ হাজার, ইতালিতে ১ লাখ ৬২ হাজার ও রাশিয়ায় মাত্র ২১ হাজার মানুষের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়।
স্পেন, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যে করোনা পরীক্ষার হার অনেক উপরে। এসব দেশের সব ক’টিতে কমপক্ষে সাড়ে তিন লাখ মানুষের করোনা পরীক্ষা হয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এ পর্যন্ত ২ লাখ ৬ হাজার টেস্ট সম্পন্ন করে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
বাংলাদেশের দুই গুণের বেশি আয়তন ভিয়েতনামের। তাদের জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৫৯ জন, বাংলাদেশের ১১০৬ জন। ভিয়েতনামে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত করোনাভাইরাসে কেউ মারা যায়নি। তবে শনাক্ত হয়েছে ২১৬ জন। এর মধ্যে ১৬৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। দেশটিতে মঙ্গলবার পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৮২১ জনের।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে গত দু’দিনে পরীক্ষার পরিধি বাড়ার পর আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। এই পরিধি আরও বাড়লে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়তে পারে। পরীক্ষার মাধ্যমে যত বেশি আক্রান্ত শনাক্ত করা যাবে, তত বেশি পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তারা।
ওয়ার্ল্ডওমিটার্স ডট ইনফো’র তথ্য বলছে, বাংলাদেশে পরীক্ষার হার কম। এ কারণে সংক্রমণের হারও কম। কিন্তু মৃত্যুহার বেশি। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও শুরুতে দু-একজনের মধ্যে করোনা সংক্রমণ শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে। অর্থাৎ প্রথমে দু-একজনের মাধ্যমে সংক্রমণ শুরু হয়ে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী হয়ে সর্বত্রই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে।
চীনের পর যেসব দেশে ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে সেসব দেশে প্রথম সংক্রমণের পর ৩৮ থেকে ৭৬ দিনের মাথায় সর্বোচ্চ সংক্রমণ শনাক্ত হতে দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ৭৬ দিনের মাথায় একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত পাওয়া যায় ৩২ হাজার ১০৫ জন। এছাড়া যুক্তরাজ্যে ৬৭তম দিনে, ফ্রান্সে ৬৬তম, জার্মানি ও স্পেনে ৬১তম, ইতালিতে ৫৩তম, ইরানে ৪২তম এবং নেদারল্যান্ডসে ৩৮তম দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ধরা পড়ে।
এসব তথ্যের আলোকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এপ্রিলের শেষ কিংবা মে মাসের প্রথম দিকে আক্রান্ত বাড়তে পারে।
চারটি সংখ্যা। তিনটি আশঙ্কার, একটি সামান্য হলেও আশার আলো দেখায়। বিশ্বজুড়ে করোনার প্রকোপে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গেল ২০ লাখের আশপাশে। শুধু নিউ ইয়র্কেই মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেল ১০ হাজার। গোটা বিশ্বে মৃত্যু হয়েছে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার জনের। আর আশার কথা, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন সাড়ে চার লাখ।
আশার কথা শুনিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। কীভাবে বিভিন্ন দেশ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনযাপনের দিকে এগোবে মঙ্গলবার তার গাইড লাইন স্থির করে দেওয়ার কথা তাদের। তবে জার্মানি আগামী ১৯ এপ্রিলের পরে ধীরে ধীরে নিষেধাজ্ঞা তোলার পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে।
ইউরোপ যখন করোনা সংকটক্রমশ কাটিয়ে উঠে স্বাভাবিক জীবনযাপনের পরিকল্পনা শুরু করেছে, আমেরিকার অবস্থা তখনও ভয়াবহ। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে মৃত্যু হয়েছে দেড় হাজারেরও বেশি লোকের। শুধু নিউ ইয়র্কেই মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিদিনের মতো সোমবারেও সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এবং প্রতিদিনের মতোই বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। গত কয়েক দিন ধরে ট্রাম্প বার বার প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন, ঠিক সময়েই করোনা সংকটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন তিনি। যদিও দেশের গণমাধ্যম এবং বিশেষজ্ঞদের একাংশের অভিযোগ, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার পরে কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। তার আগে করোনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না তিনি।
সোমবার কার্যত নির্বাচনী প্রচারের কায়দায় ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে ট্রাম্প প্রমাণ করার চেষ্টা করেন, কত দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছিলেন তিনি। রবিবার দেশের স্বাস্থ্য উপদেষ্টাও অভিযোগ করেছিলেন, ট্রাম্প ব্যবস্থা নিতে দেরি করেছেন। যার জেরে স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে বলেও স্বভাবসুলভ হুমকি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট। সোমবার অবশ্য প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়, স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে সরানোর প্রশ্ন উঠছে না।
এ দিকে জার্মান প্রশাসন মনে করছে তারা করোনা সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পেরেছে। জার্মানির বিশেষজ্ঞরা প্রশাসনকে জানিয়েছেন, সব ঠিক থাকলে আগামী ১৯ এপ্রিলের পরে ধীরে ধীরে নিষেধাজ্ঞা তোলা যেতে পারে। খোলা যেতে পারে স্কুল, কলেজ, অফিস, রেস্তোরাঁ। তবে সবটাই ধীরে সুস্থে করা হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকছে কি না, সে দিকেও নজর রাখা হবে।
মঙ্গলবারই নতুন অ্যাডভাইসারি জারি করতে পারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। লকডাউনে থাকা দেশগুলো কীভাবে একে একে নিষেধাজ্ঞা তুলবে, কোন কোন দিকে নজর রাখতে হবে, সে বিষয়েই বিশদে জানানোর কথা তাদের।
সোমবার বিকালের সাংবাদিক বৈঠকে সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, বিশ্ব জুড়ে করোনার প্রকোপ এখন আয়ত্তের মধ্যে। করোনার সঙ্গে লড়াইয়ের একটি কাঠামো তৈরি হয়ে গিয়েছে। টেস্ট হচ্ছে। রোগীদের আইসোলেশনে রেখে সুস্থ করাও সম্ভব হচ্ছে। আরও একটি জরুরি কথা বলা হয়েছে। পৃথিবীর মানুষ করোনার সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য নতুন জীবনযাপনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পেরেছে।
এদিকে এরই মধ্যে চীন জানিয়েছে, চলতি মাসেই করোনার ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলকভাবে মানুষের শরীরে প্রয়োগ করতে পারে তারা। এ বিষয়ে দেশের সরকারের কাছ থেকে সবুজ সংকেত মিলেছে। বেজিংয়ের একটি সংস্থা ভ্যাকসিন তৈরি করেছে। পরীক্ষা সফল হলে এটাই হবে প্রথম করোনা ভ্যাকসিন। -ডয়চে ভেলে
মালয়েশিয়ার একটি কোম্পানিতে চুক্তিভিত্তিক কাজ করতেন বরগুনার দেলোয়ার হোসেন। দুই মাসের ছুটি নিয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়া থেকে দেশে আসেন তিনি। মালয়েশিয়া ফেরত যাওয়ার জন্য গত ১০ এপ্রিলের টিকিটও করা ছিল তার। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতে তা আর সম্ভব হয়নি। চুক্তিভিত্তিক হওয়ায় ছুটি চলাকালে কোনো বেতনও পাবেন না তিনি। পরিবারে তিনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও তিনি মালয়েশিয়ার ওই কোম্পানিতে আবার কাজ নিয়ে যেতে পারবেন কিনা, সে বিষয়টিও নিশ্চিত নয়।
একই পরিস্থিতিতে আছেন দীর্ঘ আড়াই বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়ে গত জানুয়ারি মাসে দেশে ফেরা দিনাজপুর নিবাসী মো. শাহ আলমও। এক মাসের ছুটিতে দেশে এলেও নভেল করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে ফেরেননি তিনি। কবে যেতে পারবেন, সে নিশ্চয়তাও নেই। আবার দেশেও এখন নতুন করে কোনো চাকরিতে ঢোকার পরিস্থিতি নেই।
এভাবে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ছুটি নিয়ে দেশে ফেরা প্রবাসীদের বড় একটি অংশই এখন চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। আবার প্রবাসীদের নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক থাকায় দেশে ফিরে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে থাকতে হচ্ছে তাদের।
পুলিশের বিশেষ শাখার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৩৭৭ জন প্রবাসী বাংলাদেশী বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন। এর মধ্যে শ্রমিক আছেন প্রায় ৫ লাখ। এদের মধ্যে মার্চের প্রথম ২০ দিনেই এসেছেন ২ লাখ ৯৩ হাজার।
১৫ বছর সিঙ্গাপুরে কাজ করার পর সম্প্রতি দেশে এসেছেন স্বপন মিয়া। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘এক মাসের ছুটি নিয়ে দেশে এসেছিলাম। কিন্তু এখন যেতে পারছি না। কোম্পানি থেকে বলা হয়েছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যেতে পারব। কিন্তু কবে সব ঠিক হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। সিঙ্গাপুরে অন্য যারা আছেন, তারা বাসায় থেকেই বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু আমার মতো যারা দেশে এসেছেন, তাদের কী হবে?’
তিনি বলেন, এখানে অনেকের অবস্থা আমার মতোই। বিরাট সমস্যায় পড়ে গেছি আমরা। সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা না পেলে আমরা আর টিকতে পারব না।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সরকার সেসব দেশে বাংলাদেশী শ্রমিকদের ফিরিয়ে নেয়ার ও ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির নিশ্চয়তা দিয়েছে। তার পরও স্বস্তিতে নেই প্রবাসীরা। তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে একসঙ্গে অনেক শ্রমিক কর্মস্থলে ফিরে যেতে উড়োজাহাজের টিকিটের খোঁজ করবেন। ফলে চাহিদা বেড়ে সে সময় দাম বাড়তে পারে টিকিটের।
সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশেই কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। ধস নেমেছে দেশগুলোর পর্যটন ও এয়ারলাইনস ব্যবসায়। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও। ফলে সামনের দিনগুলোয় কাজ হারানোরও আশঙ্কা রয়েছে প্রবাসীদের মধ্যে। এছাড়া পুঁজি হারানোর ভয় করছেন বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশীরা। এসব প্রতিষ্ঠানে ছোটখাটো কাজ করা বাংলাদেশী শ্রমিক যারা দেশে এসেছেন, তারা কবে যেতে পারবেন; তার নিশ্চয়তা নেই।
প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) পরিচালক ড. সিআর আবরার এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে সবসময়ই বড় অবদান রেখে আসছে। এখন নভেল করোনাভাইরাসের কারণে কাজ না থাকায় অনেকেই দেশে টাকা পাঠাতে পারছেন না। আবার যারা ছুটি নিয়ে দেশে এসেছেন, তারাও পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। সরকারের এখনই উচিত তাদের জীবন ধারণের মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানোর ব্যবস্থা করা।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় অর্থনৈতিক মন্দা হলে অনেক প্রতিষ্ঠান কম জনবল নিয়ে কাজ চালাতে চাইবে। ফলে প্রবাসীদের চাকরির ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে। এ বিষয়টিও সরকারকে বিবেচনা করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সদ্য শেষ হওয়া মার্চ মাসে ১২৮ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত বছরের মার্চ মাসের চেয়ে ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। আর আগের মাস ফেব্রুয়ারির চেয়ে কম ১২ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে গত ডিসেম্বরে প্রবাসী আয় এসেছে ১৬৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার। জানুয়ারিতে এসেছে ১৬৩ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। ফেব্রুয়ারিতে দেশে রেমিট্যান্স আয়ের পরিমাণ ছিল ১৪৫ কোটি ২০ লাখ ডলার।
নিজস্ব সংবাদঃকরোনা ভাইরাস (COVID-19) এর বিস্তার প্রতিরোধে ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার সুবিধার্থে পৌর শহরের কাঁচা বাজার পি.সি সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং উত্তর চৌমুহনী কাঁচা বাজার চৌমুহনী মসজিদ সংলগ্ন রেললাইনে অস্থায়ীভাবে স্থানান্তর করা হয়।
সৌদি আরবে দীর্ঘ হচ্ছে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর মিছিল। কেউ মরছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে, কেউবা হৃদরোগ আবার কেউবা মারা যাচ্ছেন সড়ক দুর্ঘটনায়। হজ্ব, উমরা এবং করোনায় মৃত্যুবরণকারীদেরকে স্থানীয়ভাবে (সৌদি আরবের যেখানে মারা যান সেখানে) দাফনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ব্যক্তিক্রম ওয়ার্ক ভিসায় এসে মৃত্যুবরণকারীদের ক্ষেত্রে। কাজের ভিসায় সৌদি এসে কেউ মারা গেলে তার পরিবারের সম্মতি ছাড়া মৃতদেহ দেশে প্রেরণ বা স্থানীয়ভাবে দাফনের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ মিশন।
গত ১ সপ্তাহে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার রিয়াদ, মক্কা এবং জিজান এলাকায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪ বাংলাদেশি।
তারা হলেন, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের আশেকের পাড়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান এর ছেলে আবুল হাসেম (৩৫)-(মক্কা), কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার উল্টাখালী ফকির বাবার কবর এলাকার শাহ আলমের ছেলে বেলাল উদ্দিন (৩২)-(মক্কা), কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার বাড়িকোটা গজারিয়া গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪২)-(রিয়াদ) এবং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার ঈদমনি গ্রামের বাসিন্দা শওকত ওসমান (৪২)। এছাড়াও গত ৫ এপ্রিল মক্কায় চট্টগ্রামের মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন (৫০) এবং জেদ্দায় সিলেটের আবুল কালাম নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ফ্লাইট চালু হওয়া অনিশ্চিত। কবে নাগাদ বর্তমান এই পরিস্থিতি শেষ হবে সেটা অনুমান করতে পারছেন না কেউ। তাই নিহতদেরকে স্থানীয়ভাবে দাফনের অনুমতি দিতে মৃতের পরিবারের প্রতি পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের আওতাধীন বিভিন্ন হাসপাতালের মর্গে আছে ৪০ এর বেশি বাংলাদেশি কর্মীর মরদেহ। চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে সবধরনের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়ছে লাশের স্তুত। পরিবারের সম্মতি না পাওয়ায় স্থানীয়ভাবে দাফনও করা যাচ্ছে না এসব মরদেহ।
দূতাবাসের একটি সূত্র জানায়, করোনা পরিস্থিতি চলাকালীন সময়ে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণকারী প্রবাসীদের লাশ স্থানীয়ভাবে দাফনের জন্য তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদের শ্রম কল্যাণ কাউন্সিলর মো. মেহেদী হাসান বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে মৃত প্রবাসীদের তথ্য সংগ্রহ করা খুব কঠিন। যেসব মৃত প্রবাসীর স্বজনরা যোগাযোগ করছেন তাদেরকে দ্রুতম সময়ের মধ্যে দূতাবাস থেকে এনওসি (অনাপত্তি পত্র) দিয়ে দেয়া হচ্ছে। যেহেতু সবখানেই জটিল পরিস্থিতি বিরাজ করছে সেজন্য অনাপত্তি পত্রের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়টিও কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আমরা ফোনে কথা বলেও কনফার্ম করে নিচ্ছি।
তিনি বলেন, দূতাবাসে ২৪ ঘণ্টা হটলাইন সেবা দেয়া হচ্ছে। দূতাবাসের ৭ জন কর্মী সার্বক্ষণিক দূতাবাস ভবনে অবস্থান করে প্রবাসী বাংলাদেশিদেরকে টেলিফোনে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, জেদ্দা কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, লকডাউন ঘোষণার পূর্বে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মৃত সকল প্রবাসী বাংলাদেশির লাশ স্থানীয়ভাবে দাফন করা হচ্ছে।
জেদ্দা কনস্যুলেটের শ্রম কল্যাণ কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম বলেন, বৈধভাবে কাজের ভিসায় সৌদি আরব এসে যারাই মারা যাবেন তাদের প্রত্যেকের পরিবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ড থেকে অনুদান হিসেবে ৩ লাখ করে টাকা পাবেন। মৃত প্রবাসীর দাফন স্থানীয়ভাবে হোক বা দেশে হোক অনুদানের ৩ লাখ টাকা পেতে আইনি কোনো বাধা নেই। এছাড়াও যাদের মৃত দেশে দাফনের জন্য পাঠানো হয় তাদের পরিবারকে বিমানবন্দর থেকেই দাফন-কাফন বাবদ ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
টাঙ্গাইলের সখীপুরে বনে ফেলে যাওয়া বৃদ্ধাকে গতকাল সোমবার রাতে উদ্ধারের পর অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়। ছবি: সংগৃহীত
‘মা, তুমি এই বনে এক রাত থাকো। কাল এসে তোমাকে নিয়ে যাব’—এ কথা বলে ৫০ বছর বয়সী মাকে শাল-গজারির বনে ফেলে যান তাঁর সন্তানেরা। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে সন্তানেরা এমনটা করেন। পরে দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলা প্রশাসন তাঁকে বন থেকে উদ্ধার করে ঢাকায় পাঠায়।
উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘গতকাল সোমবার রাত আটটার দিকে বনের ভেতর থেকে এক নারীর কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয়রা আমাকে খবর দেয়। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ এলাকার লোকজন ওই নারীর কাছে যান। ওই নারী তাঁর ছেলেমেয়েরা কীভাবে তাঁকে জঙ্গলে ফেলে গেছেন, সেই কাহিনি বলেন। পরে রাত ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) খবর দেওয়া হয়। রাত দেড়টার দিকে ওই নারীকে উদ্ধারের পর অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাতপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই নারীকে ভর্তি না করলে আজ মঙ্গলবার সকাল সাতটায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়।’
সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শাহীনুর আলম আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ওই নারীর জ্বর, গলাব্যথা, সর্দি ও কাশি আছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ থাকায় ওই নারীকে রাতেই কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ভর্তির সুযোগ না পাওয়ায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেলের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। আজ ওই নারীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে।
Lifebuoy Soap ইউএনও আসমাউল হুসনা লিজা এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ থাকায় ওই নারীর এক ছেলে, দুই মেয়ে ও জামাতারা মিলে তাঁকে বনে রেখে গ্রামে চলে যান। কীভাবে সন্তানেরা মায়ের সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ করলেন? গ্রামবাসী খোঁজ না পেলে রাতের বেলা হয়তো ওই অসুস্থ নারীকে শিয়াল–কুকুরে খেয়ে ফেলত।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ওই নারীর বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায়। গাজীপুরের সালনায় একটি পোশাক কারখানায় ওই নারীর এক ছেলে, দুই মেয়ে ও জামাতারা চাকরি করেন। সবাই মিলে সালনায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। ওই নারী সবাইকে রান্না করে খাওয়াতেন। কয়েক দিন ধরে ওই নারীর জ্বর, সর্দি, কাশি শুরু হলে আশপাশের বাসার লোকজন তাঁদের তাড়িয়ে দেন। একটি পিকআপভ্যান ভাড়া করে শেরপুরের নালিতাবাড়ী যাওয়ার পথে সখীপুরের জঙ্গলে সন্তানেরা মাকে ফেলে যান।
নোয়াখালী জেলার মাইজদী সদর উপজেলা ৯নং কালাদরাপ মিজান চেয়ারম্যান এর ইউনিয়নের ১নং ওয়াডের রববাজারের দক্ষিণ পাশে ৫ রাস্তা ডিবি রোডের উপরে সকাল ৬ টার সময় এই বদ্র লোকটা কে শাস কষ্ট অবস্থায় দেখতে পাই। এলাকার লোকজন ও জামাল মেম্বার থানায় কল দেয়,পরে তাকে মাইজদী সদর হসপিটালে পুলিশ এ নিয়ে ভর্তি করে,
এখন তিনি সদর হসপিটালে আছেন যদি কেউ লোক টা কে চিনেন তার পরিবার কে খবরটা দেন। লোকটার অবস্থা খুব খারাপ তাকে জরুরি চিকিৎসা করা দরকার। আরো বিস্তারিত জানতে এই নামবারে কল করোন 01821765648 সুত্রঃ আলোকিত নোয়াখালি
মহামারি করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত বিশ্ব। বৈশ্বিক এমন ক্রান্তিলগ্নে সুস্বাদু ‘করোনা মিষ্টি’ বানিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন জার্মানির এক বেকারি মালিক। ছবি রয়টার্স
২২৯ বস্তা চালসহ পাবনার ঢালারচর আওয়ামী লীগ নেতা ও চেয়ারম্যান কোরবান আলী সরদারকে আটক করেছে র্যাব। সোমবার রাত ১০টার দিকে বেড়া উপজেলার বাধেরহাট বাজার থেকে র্যাব চালসহ তাকে আটক করে। র্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্পের কমান্ডার আমিনুল কবীর তরফদার এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। কোরবান ঢালারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
র্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্পের কমান্ডার আমিনুল কবীর তরফদার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল জানতে পারে বেড়া উপজেলার ঢালারচর ইউপি চেয়ারম্যান কোরবান আলী সরদার বিক্রির উদ্দেশ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে ত্রাণ না রেখে ওই উপজেলার রূপপুর ইউনিয়নের বাধেরহাট বাজারে নিজস্ব ব্যবসায়িক গুদাম ঘরে রেখেছিল। সোমবার রাত ১০টার দিকে কালোবাজারে বিক্রির সময় র্যাব হাতেনাতে এই চাল উদ্ধার এবং চেয়ারম্যানকে আটক করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাধেরহাট এলাকার কয়েকজন জানান, করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হলে সারাদেশের ন্যায় পাবনায়ও ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়।
ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হলে কোরবান চেয়ারম্যান চরাঞ্চল অধ্যুষিত ঢালারচর ইউনিয়ন পরিষদে না নিয়ে নিজ গুদাম ঘরে নিয়ে বস্তা পরিবর্তন করে কালোবাজারে বিক্রি করছিল। এরই জের ধরে সোমবার রাতে হাতেনাতে ধরে ফেলে র্যাব সদস্যরা। বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, র্যাব এই অভিযান পরিচালনা করেছেন। এর চেয়ে বেশি তথ্য তার কাছে নেই। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুত্রঃবিডি প্রতিদিন
অফিসের সহকর্মী মনির ভাইয়ের সঙ্গে কথা হচ্ছিল নতুন কোথায় যাওয়া যায় ঘুরতে তা নিয়ে। তিনি জানতে চাইলেন, ঢাকার অদূরে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের গোলাপ গ্রামে গিয়েছেন নাকি। আমি বললাম, নাম শুনেছি কিন্তু যাওয়া হয়নি। মনির ভাই বললেন, আমার বাড়ি থেকে গন্তব্যে যেতে খুব বেশি হলে ২৫ মিনিট লাগবে। ভ্রমণের দিন সূর্যের প্রখরতা বাড়ার আগেই বেরিয়ে পড়লাম আমরা। আমরা মানে আমি আর আমার অর্ধাঙ্গী সানন্দা। তিন চাকার মানবগাড়িতে করে আমরা পৌঁছলাম গুলিস্তানে। মানবগাড়ি থেকে নামতেই একজন বললেন, এই বাস একটু পরই গন্তব্যে যাত্রা করবে, তাই বাসে উঠে পড়তে। আমি ভাবলাম, আগে আগে পৌঁছতে পারলেই ভালো হয়, তাহলে ভালোভাবে ঘুরে দেখে আসতে পারব। সেখান থেকে উঠে পড়লাম বাসে। বেশকিছু সময় পেরিয়ে গেল, গাড়ি তো ছাড়ার নাম নেই। এদিকে একটু পর পর মানুষ ডেকে ডেকে ওঠাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আমাদের বাস ছাড়ল প্রায় ১ ঘণ্টা বিলম্বে। এদিকে মনির ভাইয়ের ফোন—কোথায় ভাই আপনারা। আমি বললাম, বাস ছেড়েছে মাত্র, আসছি। আমরা চলছি মহাসড়ক ধরে। মাঝে মধ্যে রাস্তায় জ্যাম যাত্রাপথকে দীর্ঘায়িত করছে। প্রায় পৌনে ১ ঘণ্টার মধ্যে আমরা এসে পৌঁছলাম সাভার বাসস্ট্যান্ডে। সেখানে আগের থেকেই অপেক্ষা করছিলেন মনির ভাই। দেখা হতেই মনির ভাই বললেন, আগে চলেন আমার বাসার দিকে যাই, সেখানে কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে গন্তব্যে বেরিয়ে পড়ব। আমি বললাম, না আগে ঘুরে আসি, পরে আপনার বাসায় যাব। তাই কালবিলম্ব না করে আমরা উঠে পড়লাম তিন চাকার ইঞ্জিন গাড়িতে। ছুটে চলছে আমাদের তিন চাকার যান্ত্রিক বাহন। ভাঙা সড়কে দোল খেতে খেতে কিছুটা পথ এগোতেই নৈসর্গিক সব দৃশ্যে চোখ আটকাল। সত্যিই অসাধারণ, ঢাকার পাশেই এমন মায়াবী প্রাকৃতিক দৃশ্য চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হবে না। সোঁদা মাটির গন্ধ নাকে পেতে পেতেই চোখে ধরা পড়ল লাল গোলাপের বিশাল বাগান। সানন্দা দেখে তো বেজায় খুশি। মনির ভাই বললেন, আরেকটু সামনে গিয়ে নামি, তখন শেষ মাথা থেকে ঘুরে ঘুরে দেখে আসতে পারব। গ্রামের ভেতর দিয়ে চলে গেছে আঁকাবাঁকা সরু পথ। পথের ধারঘেঁষে অসংখ্য গোলাপের বাগান। যত দূর চোখ যায়, শুধু লাল গোলাপের সমারোহ। মাঝে মধ্যে কিছু সাদা গোলাপ, গ্লাডিওলাস, জারবেরার বাগানও চোখে পড়ে। সূর্যদেবের রক্তিম আভার সঙ্গে লাল টকটকে গোলাপ মাথা উঁচিয়ে থাকে। দুপুরের পর থেকেই চাষীরা বাগানে নেমে যান গোলাপ তুলতে। গাছের সারির একপাশ থেকে ফুল তোলা শুরু করে শেষ পর্যন্ত মুঠো ভরে ফুল তোলেন। চাষীদের ফুল তোলার দৃশ্যও বেশ উপভোগ্য। মনির ভাই বললেন, বাণিজ্যিকভাবে এখানে প্রথম গোলাপ চাষ শুরু হয় ১৯৯০ সালে। কয়েকজন যুবক এ গোলাপ চাষ শুরু করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ভালো ফলন ও ভালো মুনাফা হওয়ায় এখন সাদুল্লাহপুর, শ্যামপুর, মোস্তাপাড়া গ্রামের মানুষ গোলাপ চাষ করে অনেকেই স্বনির্ভর। বর্তমানে গোলাপ পুরো ইউনিয়নেই চাষাবাদ হচ্ছে। সাদুল্লাহপুর গ্রামের মানুষ স্বল্প সময়ে বেশি মুনাফার আশায় মূল পেশা পরিবর্তন করেছে। তারা কৃষিকাজ ছেড়ে এখন সবাই গোলাপ চাষে ব্যস্ত। সাদুল্লাহপুর গ্রামসংলগ্ন শ্যামপুর, মোস্তাপাড়া রানীপাড়া গ্রামের চিত্র একই। আমরা পদব্রজে এগিয়ে চলছি, গোলাপ বাগানের ভেতরে ছবিও তুললাম। এবার গেলাম গোলাপের হাটে বছরের বারো মাসই গোলাপ চাষ হয়। ভর সন্ধ্যায় ফুল বিক্রির বাজার বসে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা আসেন গোলাপ কিনতে। এখন সন্ধ্যা হতে মেলা বাকি, তার পরও হাটে আসতে শুরু করেছে ফুল। আমি এক আঁটি ফুল কিনি সানন্দার জন্য, ফুল পেয়ে সানন্দা মহাখুশি। এবার গেলাম মনির ভাইয়ের বাসায়, সেখানে পেট পূজা শেষ করে ফিরে চললাম শহর পানে।
কীভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে উত্তরা থার্ড ফেস, মিরপুর বেড়িবাঁধ ও গাবতলী হয়ে সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর শ্যামপুর গ্রামে সরাসরি নিজস্ব বা ভাড়া গাড়ি নিয়ে যাওয়া যাবে। এছাড়া সাভার বাজারস্ট্যান্ড থেকে বাসে বা লেগুনায় যাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে কয়েকবার যানবাহন বদল করতে হবে। আর উত্তরা বা বেড়িবাঁধ দিয়েও নিজস্ব গাড়ি ছাড়া যেতে চাইলে কয়েক দফা গাড়ি বদল করে বিরুলিয়া ব্রিজ দিয়ে চলে যেতে পারেন।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন— ‘ঝরা পাতা গো, আমি তোমারি দলে/ অনেক হাসি অনেক অশ্রুজলে/ ফাগুন দিল বিদায়মন্ত্র আমার হিয়াতলে\’
ঠিক তাই মনে হলো সিলেটে টিলাগড় ইকোপার্কে ঘুরতে এসে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যপিপাসু পর্যটকদের জন্যই অপেক্ষা করে আছে টিলাগড় ইকোপার্ক। পার্কে ঢুকেই পেলাম সুনসান নীরবতা, দূরে কোথাও অপরিচিত পাখির ডাক, গহীন বনে দীর্ঘ শালগাছের মগডালে দুষ্টু কাঠঠোকরা পাখিটি তার লম্বা চঞ্চু দিয়ে গাছের ডালে অবিরাম আঘাত করে চলছে। হঠাৎ আগমন টের পেয়ে পাখিটি পালকের ঝাপটায় নীরবতা ভেঙে দিয়ে হারিয়ে গেল টিলাগড় ইকোপার্কের গহীনে। আর ঝরা পাতাগুলো রাস্তাকে সাজিয়ে রেখেছে তার বেদনায়। বনবিড়াল আর ঘুঘু সতর্ক পা ফেলে নিরাপদ দূরত্বে এদিক-সেদিক করছিল। মাতাল করা বাতাসের হিল্লোলে বৃক্ষরাজির সবুজ পাতা আনন্দে যখন-তখন নেচে ওঠে। একই অবস্থা এখানকার নানা প্রজাতির জীবজন্তু ও সরীসৃপ প্রাণীগুলোরও। দেখা মিলল টিলাতে উঠার জন্য সিঁড়ির, গুনে গুনে প্রায় শতাধিক ধাপের সিঁড়ি। পথিমধ্যে বনফুল আপনাকে স্বাগত জানাবে। কথা হচ্ছিল জাকির ভাইয়ের সঙ্গে, তিনি জানালেন ইকোপার্কে ঢুকলে প্রথমেই যে প্রাণীটির দেখা মিলবে, সেটি হচ্ছে বিরল প্রজাতির বানর। সবচেয়ে বেশি বানরের দেখা মেলে দুপুর ১২টার দিকে। মাঝে মধ্যেই দেখা মিলতে পারে চিতা বাঘ, গন্ধগোকুল, বনমোরগসহ বিরল প্রজাতির অনেক প্রাণীর। বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এখানে প্রায় ১৫০ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। ঢোঁড়া, বোড়া, আলোদ, অজগরসহ প্রায় ৩০ প্রজাতির সাপ রয়েছে। সেগুন, শাল, গর্জন, চাপালিশ, একাশিয়াসহ প্রায় ২০-২৫ প্রজাতির বৃক্ষ রয়েছে। বনের অর্ধেক অংশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বেত গাছ। তবে পার্কটি বৃক্ষপ্রেমিক আর দর্শনার্থীদের প্রিয় স্থান। শত ব্যস্ততার মধ্যে দুই দণ্ড শান্তির জন্য নির্জন প্রকৃতির কোলে কিছু সময়ের জন্য হারিয়ে যেতে পারলে মন্দ হয় না। যারা সিলেটে আসেন, তাদের জন্য খুব কাছের দূরত্ব। সিলেটে এমসি কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পাড়ি দিয়ে বন, পাহাড়, টিলাঘেরা স্থানে টিলাগড় ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। নগরীর উত্তর-পূর্ব কোণে শহর থেকে মাত্র আট কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। ১১২ একর বন নিয়ে টিলাগড় এলাকায় দেশের তৃতীয় ইকোপার্কটি স্থাপিত হলে এর নামকরণ করা হয় ‘টিলাগড় ইকোপার্ক’। বৃক্ষপ্রেমীদের জন্য পার্কটি আকর্ষণীয়। টিলাগড় ইকোপার্কটি কয়েকটি ছোট ছোট টিলা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। এটি সিলেট বন বিভাগ, বন অধিদপ্তর, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ইকোপার্ক প্রকল্প। এখানে রয়েছে একটি শিশুপার্ক, দর্শনার্থীদের জন্য বেশ কয়েকটি বসার স্থান।
পথের ঠিকানা—ঢাকা থেকে ট্রেন/বাসযোগে সিলেট ভাড়া ৪০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। স্টেশন থেকে সরাসরি যেতে পারবেন অথবা সিলেট শহরের বন্দর বাজার থেকে টিলাগড় ইকোপার্কে যেতে সময় লাগবে ৩০ মিনিটের মতো। সিএনজিচালিত অটোরিকশা অথবা মাইক্রোবাস ভাড়া করলে নেবে ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। চাইলে রিকশা করেও যেতে পারবেন কিন্তু সময় লাগবে বেশি। তবে প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকন করতে হলে রিকশা করে গেলে মন্দ হয় না।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট প্রতাপ কুমার রায় বলেন, গত বৃহস্পতিবার বাঁধটি ভেঙে ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রাথমিক পর্যায়ে বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা করি। কিন্তু জোয়ারের প্রচণ্ড চাপে আবারো তা ভেঙে যায়। দু-তিন ধরে স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি রক্ষা করা গেলেও এরই মধ্যে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে, যা পুরোটাই ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে। কিন্তু জোয়ারের পানির যে চাপ, তাতে এ বাঁধ কতক্ষণ স্থায়ী হবে তা ভাবার বিষয়।
তিনি বলেন, হঠাৎ বাঁধটি ভেঙে গিয়ে ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ করায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর কয়েক দিন পরই ধান কাটা শুরু করতেন কৃষকরা। কিন্তু এ সময় নোনা পানি জমিতে প্রবেশ করায় অনেক ক্ষতি হয়ে গেল।
বাংলাদেশ পানি কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম বলেন, কিছু অতিলোভী মানুষের কারণে বাঁধটি ভেঙে বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাছাড়া অনেক মত্স্যঘেরও তলিয়ে গেছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, জোয়ারের চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। শুনেছি সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি মেরামত করেছে। কিন্তু ৫০ হেক্টর বোরো ধানের জমিতে পানি আটকে আছে। এ পানিতে কিছু ধানের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তা নিশ্চিত হতে আরো কিছুদিন লাগবে। সুত্রঃ বণিক বার্তা
সিলেটে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নারীর সংস্পর্শে আসায় এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৯ চিকিৎসকসহ ৪৪ স্বাস্থ্যকর্মীকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ জন চিকিৎসক ছাড়াও ১৪ জন নার্স ও ১১ জন হাসাপাতালের কর্মচারী রয়েছেন।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের ওই নারীর শরীরে গতকাল নভেল করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর ওই নারীর অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ৪৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কোয়ারেন্টিনে যাওয়া সবাই ওসমানী হাসপাতালের গাইনি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।
এ তথ্য নিশ্চিত করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, কোয়ারেন্টিনে যাওয়া চিকিৎসকসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী এখন পর্যন্ত সুস্থ আছেন। তবে তাদেরও পরীক্ষা করানো হবে। তারা সবাই চিকিৎসার প্রয়োজনে আক্রান্ত নারীর সংস্পর্শে এসেছিলেন।
ডা. হিমাংশু বলেন, ১৯ চিকিৎসকসহ ৪৪ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হলেও হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডের সেবায় এর তেমন প্রভাব পড়বে না। এ ওয়ার্ডে সেবা অব্যাহত থাকবে। গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অন্য নারীদের আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা নেই বলেও জানান তিনি।
এই নারীর সংস্পর্শে আসায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসক এবং তিন সেবিকাকেও হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তাদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ওই নারী গর্ভবতী অবস্থায় প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চারদিন আগে তিনি সন্তান প্রসব করেন। এরপর শরীরে নভেল করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে রোববার তার করোনা পরীক্ষা করা হয়। গতকাল তার রিপোর্টে করোনাভাইরাস পজেটিভ আসে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, নভেল করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর সোমবার সকালেই ওই নারীকে ওসমানী হাসপাতাল থেকে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। নারীর সঙ্গে তার নবজাতককেও এখানে আনা হয়েছে। তবে সে এখনো সুস্থ আছে। তিনদিন পর তার পরীক্ষা করানো হবে।
আক্রান্ত নারীর স্বামী কিছুদিন আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে বাড়ি ফিরেছেন জানিয়ে আনিসুর রহমান বলেন, ওই নারীর বাড়ির লোকজনকেও হোম কোয়ারেন্টিন করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের কৃষক আযাহার আলী মুন্সী। চলতি মৌসুমে চরের তিন বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন তিনি। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু বোরো আবাদের শেষ সময়ে এসে জমিতে সেচ দেয়ার তেল কিনতে পারছেন না তিনি। কারণ নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বন্ধ রয়েছে স্থানীয় সব হাটবাজার। তাই নিজের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করতে পারছেন না তিনি। আবার নগদ টাকাও হাতে নেই, যা দিয়ে বোরো আবাদের খরচ মেটাতে পারেন। এ অবস্থায় এ কৃষিপণ্য বিক্রি করে বোরো সেচের ডিজেল, সার ও কীটনাশক কিনতে না পারায় চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি।
শুধু আযাহার আল মুন্সীই নন, করোনার কারণে হাটবাজার বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় ঝুনকার চরের অসংখ্য বোরোচাষী।
স্থানীয় সূত্রে গেছে, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার, ফুলকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীর অববাহিকায় জেলার চার শতাধিক চরাঞ্চল রয়েছে। এর বেশির ভাগ চরের প্রত্যেক কৃষক এক থেকে পাঁচ বিঘা পর্যন্ত জমিতে বোরোর আবাদ করেছেন। চরাঞ্চলের বোরো ক্ষেতে প্রতিদিন সেচ দিতে হয়। কৃষকের মধ্যে যাদের হাতে সঞ্চিত টাকা আছে, তারা কোনোভাবে বাজার থেকে তেল, সার ও কীটনাশক জোগাড় করে বোরো ক্ষেত টিকিয়ে রেখেছেন। আর যাদের হাতে গচ্ছিত টাকা নেই, তারা উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পারায় ঠিকমতো জমিতে সেচ দিতে পারছেন না।
কৃষক আযাহার আলী মুন্সী বলেন, দেশব্যাপী নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকারি নিষেধাজ্ঞায় হাটবাজার বন্ধ রয়েছে। এজন্য গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, ধান, চাল, কাউন, চীনাবাদাম, তিল, তিসিসহ সব ধরনের কৃষিপণ্য বেচাকেনা বন্ধ রয়েছে। এ কারণে চরে উৎপাদিত ফসল হাটবাজারে বিক্রি করতে পারছি না। তাই টাকার অভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী জমিতে সেচ দেয়ার ডিজেলও কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকার আমাদের এ ঝুনকার চরে কমপক্ষে ৫০টি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত সেচ মেশিন আছে। এসব শ্যালো মেশিনে প্রায় ৩৫০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। চরের প্রত্যেক পরিবারই কম-বেশি বোরো আবাদ করেছে। আমাদের চরের সব কৃষক নৌকা নিয়ে সপ্তাহে দুই দিন (শনিবার আর মঙ্গলবার) যাত্রাপুর হাটে গিয়ে নিজেদের পোষা গবাদিপশু বা উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে ডিজেল, সার, কীটনাশকসহ বাড়ির প্রয়োজনীয় খরচ করি। এখন সেই হাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা চরের মানুষরা অনেক সমস্যায় পড়েছি। খাবার-তরিতরকারির ব্যবস্থা কোনো রকমে করতে পারলেও জমিতে সেচ দেয়ার ডিজেল, সার ও কীটনাশক কিনতে পারছি না। হাতে টাকা থাকলে কোনো উপায় করে কেনা যেত কিন্তু কোনো কিছু বিক্রি না করলে তো টাকা আসে না। এখন এ অবস্থা কতদিন চলবে বুঝতে পারছি না। সেচ দিতে না পারলে চরের আবাদ পুড়ে যাবে।
পার্শ্ববর্তী চর বড়ুয়া রলাকাটার কৃষক মঈনুদ্দিন জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে প্রতিদিন সেচ দিতে এক লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। পরপর দুই দিন পানি দিতে না পারলেই বালি জমি ফেটে যায়। হাটবাজার বন্ধ থাকায় উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না চরাঞ্চলের বেশির ভাগ কৃষক। এ অবস্থায় তিনি ধারদেনা করে ডিজেল, সার ও কীটনাশক কিনে বোরো ক্ষেত টিকিয়ে রেখেছেন।
একই কথা জানান ঝুনকার চর ও রলাকাটার চরের বোরোচাষী কৃষক কেরামত আলী, আছির উদ্দিন সরকার ও হাবিবুর রহমান।
কৃড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার নদ-নদীর অববাহিকায় ২৩০টি চরে ২৯ হাজার ৮২৪ হেক্টর জমি রয়েছে। এর মধ্যে ২২২টি চরের ২২ হাজার ৫৪৯ হেক্টর জমি আবাদযোগ্য। কৃষকরা সেখানে ধান, ভুট্টা, চীনাবাদাম, মরিচ, গম, কাউন, তিল, কলাসহ বিভিন্ন রকম ফসল চাষ করেন।
চলতি বোরো মৌসুমে চরাগুলোয় কী পরিমাণ জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজার রহমান তার কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তবে তিনি বলেন, জেলার নয়টি উপজেলায়ই কম-বেশি চর রয়েছে। চরে বোরো আবাদের হিসাব উপজেলা কৃষি অফিসগুলোয় আছে।
চরাঞ্চলের বোরোচাষীদের ডিজেল, সার ও কীটনাশক নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে হঠাৎ করেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ডিজেল, সার ও কীটনাশকের দোকানগুলো কৃষকদের সুবিধার জন্য খোলা আছে।
করোনা পরিস্থিতিতে জেলার হাটবাজারগুলো বন্ধ থাকায় চরাঞ্চলের বেশির ভাগ কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে বোরো আবাদের খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এ ব্যাপারে সরকারি কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে আমি অবগত হলাম। কৃষকদের সহযোগিতা করার জন্য দ্রুতই কৃষি বিভাগের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলব। সুত্রঃ বণিক বার্তা
নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) বিস্তার ঠেকাতে দেশে দেশে চলছে লকডাউন। এতে অসহনীয় দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। যাদের সহায়তায় এগিয়ে আসছে সরকার ও সমাজের উচ্চবিত্তরা। তবে এসব খাদ্য বিতরণের ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা যেমন কঠিন হয়ে পড়েছে, তেমনি সঠিক বণ্টনের ক্ষেত্রেও অনেক সময় তৈরি হচ্ছে বৈষম্য। নিজের দেশের এমন সমস্যা থেকে উত্তরণ পেতে এটিএম (অটোমেটিক টেলার মেশিন) আবিষ্কার করেছেন ভিয়েতনামের এক যুবক। স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা ওঠানোর মতো যে মেশিন থেকে অসহায় মানুষ বিনা মূল্যে চাল সংগ্রহ করতে পারবেন। আর এ মেশিনের নাম দেয়া হয়েছে রাইস এটিএম। এরই মধ্যে এ উদ্যোগ বেশ সাড়াও ফেলেছে দেশটিতে। খবর রয়টার্স ও ভিয়েতনাম টাইমস।
সপ্তাহে সাতদিন ও দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এ বুথ থেকে চাল সংগ্রহ করতে পারবেন হতদরিদ্ররা। প্রতিটি ব্যক্তি দিনে মাত্র দেড় কেজি চাল সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং মেশিন থেকে চাল সংগ্রহের আগে হাত স্যানিটাইজেশন করতে হবে।
কভিড-১৯-এর বিস্তার ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ভিয়েতনামজুড়ে ১৫ দিনের কর্মসূচি নিয়েছে দেশটির সরকার। এর ফলে খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছে বিপদে। এসব হতদরিদ্রকে সহায়তার জন্যই রাজধানী হ্যানয়, হো চি মিন সিটি, হুয়ে, ডানাং শহরে এ রাইচ এটিএম বসানো হয়েছে, যেখান থেকে এখন চাল সংগ্রহ করতে পারছে তারা।
নাগুয়েন থাই লি ও তার স্বামী সরকার ঘোষিত এ কর্মসূচির ফলে বেকার হয়ে পড়েছেন। তিন সন্তান নিয়ে রীতিমতো কষ্টে দিন কাটছিল তার। এরই মধ্যে ইন্টারনেটে রাইস এটিএমের কথা জানতে পারেন। পরে তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে দেড় কেজি চাল সংগ্রহ করেছেন। ৩৪ বছর বয়সী এ নারী বলেন, রাইস এটিএমটি খুবই উপকারী। এখান থেকে পাওয়া এক ব্যাগ চাল দিয়ে একদিন চলে যাবে। এখন আমার অন্যান্য খাবার সংগ্রহ করতে হবে।
মহৎ এ উদ্যোগটি যিনি নিয়েছেন, তার নাম তুয়ান আন। একটি ইলেকট্রনিক কোম্পানির পরিচালক পদে কর্মরত ৩৫ বছরের এ যুবক জানান, অফিসের গুদামে থাকা যন্ত্রপাতি দিয়েই এটিএমটি তৈরি করা হয়েছে। যেখানে ৫০০ কেজি পর্যন্ত চাল রাখা যায়। আর ক্যামেরা, চাল সংগ্রহের জন্য বাটন ও প্লাস্টিকের পাইপ থাকবে। সামনে থেকে যে কেউ বাটনে চাপ দিলে দেড় কেজি চাল বের হয়ে আসবে। তবে কোনো ব্যক্তি দুবার নেয়ার সুযোগ পাবে না। কারণ মোবাইল অ্যাপ ও ক্যামেরা দিয়ে বিষয়টি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হয়। আর এটিএমে চাল ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই এটি সিগন্যাল দিয়ে জানিয়ে দেয়। প্রথমদিকে নিজের কোম্পানি থেকে বিনা মূল্যে চাল দেয়া শুরু হলেও এখন অনেকেই এ মহৎ উদ্যোগে তুয়ান আনের সঙ্গে এগিয়ে এসেছেন। সুত্রঃ বনিক বার্তা
স্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের বিভিন্ন জেলায় ধান কাটার মৌসুমে কৃষি শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছিল গত বছর। নভেল করোনাভাইরাসের কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এবার এ সংকট আরো তীব্র হবে। শ্রমিক সংকটে সময়মতো বোরো ধান কাটতে না পারলে প্রায় ১৯ লাখ ৪৫ হাজার টন চাল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) কৃষি অর্থনীতি বিভাগ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তির জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে ধান কর্তন মৌসুমে শ্রমিক সংকটের সম্ভাব্য এ হিসাব দিয়েছে ব্রি। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এবার দেশের ২৬ জেলায় বিভিন্ন মাত্রায় শ্রমিক সংকট রয়েছে। তবে যথেষ্ট উদ্বৃত্ত শ্রমিক আছে ১৬ জেলায়। আর উচ্চমাত্রার উদ্বৃত্ত শ্রমিক আছে ১৩ জেলায় এবং কিছুটা উদ্বৃত্ত আছে আট জেলায়।
চলতি বোরো মৌসুমে ২ কোটি ৪ লাখ ৩ হাজার টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এরই মধ্যে হাওড় অঞ্চলে স্বল্প পরিসরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহে পুরোদমে কাটা শুরু হবে। প্রতি বছর এ সময়ে উদ্বৃত্ত শ্রমিকের জেলাগুলো থেকে সংকটে থাকা জেলাগুলোতে গিয়ে ধান কাটার কাজে যোগ দেন মৌসুমি কৃষি শ্রমিকরা। কিন্তু চলমান লকডাউনের কারণে চলতি বোরো মৌসুমে নিজ জেলা থেকে বের হতে পারছেন না এসব শ্রমিক। এ অবস্থায় হাওড় অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে।
ব্রি বলছে, হাওড় অঞ্চলের ৪ লাখ ৪৫ হাজার হেক্টর জমির ধান কর্তনের জন্য প্রায় ৮৪ লাখ শ্রমিক প্রয়োজন। তবে অঞ্চলটিতে কৃষি শ্রমিকের ১৮ শতাংশ বা প্রায় ১৫ লাখ ১২ হাজার শ্রমিক ঘাটতি রয়েছে। এ এলাকায় ধান কাটতে ২৫ দিনের মতো সময় প্রয়োজন হবে। তাই শ্রমিক ঘাটতি পূরণে দৈনিক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ শ্রমিক এ অঞ্চলে যাওয়া প্রয়োজন। আবার দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বোরো ধান কর্তন মে মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়ে জুন অবধি চলবে। লকডাউন অবস্থা এবং সব গণপরিবহন বন্ধ থাকলে শ্রমিক উদ্বৃত্তের অঞ্চল থেকে কৃষি শ্রমিকদের হাওড় অঞ্চলসহ অন্যান্য শ্রমিক সংকট অঞ্চলে যাতায়াত সম্ভব হবে না।
জানা গেছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নরসিংদী, ঝালকাঠি—
এ ছয়টি জেলায় কৃষি শ্রমিকের তীব্র সংকট রয়েছে। এসব জেলায় ২০ শতাংশের কম শ্রমশক্তি কৃষিতে নিয়োজিত। শ্রমিক সংকটের অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি রয়েছে কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার। এসব জেলায় শ্রমশক্তির ২১-২৫ শতাংশ কৃষিতে নিয়োজিত। এছাড়া ফেনী, মুন্সীগঞ্জ, পটুয়াখালী, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, বরিশাল, বরগুনা, পিরোজপুর, খুলনা, বান্দরবান, কুমিল্লা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কৃষি শ্রমিকের সংকট আছে।
অন্যদিকে শ্রমশক্তি ৩১-৩৫ শতাংশ কৃষি শ্রমিক ভোলা, বগুড়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, পাবনা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, মাগুরা, কুষ্টিয়া, নড়াইল, সিরাজগঞ্জ, পঞ্চগড়, খাগড়াছড়ি ও চাঁদপুর জেলায়। ফলে এসব জেলায় কৃষিকাজের জন্য যথেষ্ট উদ্বৃত্ত শ্রমিক পাওয়া যাবে। শ্রমশক্তি ৩৬-৪০ শতাংশ কৃষি শ্রমিক রয়েছে রাজশাহী, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, জয়পুরহাট, শরীয়তপুর, ময়মনসিংহ, রংপুর ও নীলফামারী জেলায়। ফলে এসব জেলায় কৃষিকাজে উদ্বৃত্ত শ্রমিক পাওয়া যাবে। ৪১ শতাংশের বেশি শ্রমশক্তি কৃষিকাজে নিয়োজিত রয়েছে ঠাকুরগাঁও, যশোর, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর, দিনাজপুর, নওগাঁ, নাটোর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, মেহেরপুর, কুড়িগ্রাম ও সাতক্ষীরা জেলায়। ফলে এসব জেলায় এখন উচ্চমাত্রার উদ্বৃত্ত শ্রমিক পাওয়া যাবে। যদিও গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এসব এলাকা থেকে সংকটে থাকা জেলাগুলোয় শ্রমিক যেতে পারছেন না এবার।
শ্রমিক সংকট মেটাতে কৃষিযন্ত্র কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন এসিআই মোটরসের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, একটি ইয়ানমার হারভেস্টার দিয়ে এক হেক্টর ধান কাটতে ১৮ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। কিন্তু এ পরিমাণ ধান কাটতে প্রথাগতভাবে ৬১ জন শ্রমিক লাগবে। একদিনে ইয়ানমার হারভেস্টারের সাহায্যে তিন হেক্টর জমির ধান সর্বোচ্চ ৫৪ জন শ্রমিক দিয়েই কাটানো সম্ভব। কিন্তু প্রথাগতভাবে সেই পরিমাণ জমির ধান কাটতে ন্যূনতম ১৮৩ জন শ্রমিকের প্রয়োজন। পরিস্থিতি অনুসারে আরো বেশি প্রয়োজন হয়। ফলে কম্বাইন হারভেস্টারে ১২৯ জন শ্রমিকের সাশ্রয় করবে। আবার মেনি দিয়ে এখন কাদামাটি ও পড়ে ধাকা ধানও কাটা সম্ভব।
ব্রির তথ্যমতে, এবার হাওড় এলাকায় আবাদ হয়েছে ৯ লাখ ৩৬ হাজার হেক্টর জমি। এ অঞ্চলে আগাম বোরো কর্তনের চাপ, কৃষি শ্রমিক সংকট, কর্তনযন্ত্রের ব্যবহার সমস্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ধান কাটা ব্যাহত হতে পারে। অন্যদিকে বাকি এলাকাগুলোয়ও শ্রমিক সংকটসহ নানা কারণে ২ শতাংশ চাল নষ্ট হতে পারে। এক্ষেত্রে হেক্টরপ্রতি ৪ দশমিক ৩ টন হিসেবে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে শ্রমিক সংকটে ১৯ লাখ ৪২ হাজার টন চাল নষ্টের আশঙ্কা করছে ব্রি।
এ বিষয়ে সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, এবার ভালো আবাদ হয়েছে। ফলনও খুব ভালো হবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। কিন্তু শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে না পারলে সব উদ্যোগই ব্যর্থ হবে। এজন্য কত দ্রুত সংকটপূর্ণ এলাকায় উদ্বৃত্ত অঞ্চল থেকে শ্রমিক নিয়ে যেতে পারছি, তার ওপর নির্ভর করছে সফলতা। পাশাপাশি দ্রুততার ভিত্তিতে সারা দেশে কৃষিযন্ত্র বিশেষ করে কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার মেশিন সরবরাহ করতে হবে। তাছাড়া শ্রমিক চলাচল নিশ্চিত করতে তাদের স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করতে হবে।
যন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে বোরো ধান কাটার শ্রমিকের অভাব থাকা জেলাগুলোতে ধান কাটার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার সরবরাহে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান। তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিচালন বাজেটের আওতায় ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে ১০০ কোটি টাকার কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহের কার্যক্রম চলছে। ৬৪টি জেলায় কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টার সরবরাহ করা হবে। এছাড়া শ্রমিক চলাচল বাড়াতে বেশকিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে উদ্বৃত্ত এলাকায় তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। সুত্রঃ বনিক বার্তা
করোনাভাইরাসের কারণে দেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার পাঁচটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রণোদনা প্যাকেজে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ কমেছে। প্যাকেজ নিয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া না জানালেও এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর শীর্ষ নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা করা প্যাকেজ তাদের মন ভালো করে দিয়েছে। তাদের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, তা দূর হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এক কথায় এই প্যাকেজ যতটা সুন্দর হওয়া দরকার ছিল, ঠিক ততটাই সুন্দর হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত এই প্যাকেজ আমাদের মধ্যকার হতাশা দূর করেছে। এটা অত্যন্ত সময়পোযোগী প্যাকেজ। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসায়ীরা যে আতঙ্কে ছিলেন, সেটা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। কারণ, একেবারে ছোট, মাঝারি, বড় সব ব্যবসায়ী বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষজনও এই প্যাকেজ থেকে সুবিধা পাবেন।
তিনি বলেন, ‘ব্যবসা টিকে থাকার জন্য এই প্যাকেজ বড় ভূমিকা রাখবে। তবে, এই প্যাকেজ বাস্তবায়নে যাতে কোনও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোট ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। যা জিডিপির ২.৫২ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সংকট উত্তরণে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বাড়ানোসহ চারটি কার্যক্রম নিয়ে কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্যাকেজে আমাদের সবারই মন ভালো। এই প্যাকেজে ব্যবসায়ীদের মনে শুধু আশার সঞ্চার হয়েছে এমন নয়, ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়ানোরও সাহস যুগিয়েছে। ক্ষুদ্র, মাঝারি, রফতানিমুখী শিল্প ও বড় শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যকার দুশ্চিন্তা দূর করতে সহায়ক হবে এই প্যাকেজ।’
বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই প্যাকেজ এক কথায় যথার্থ উদ্যোগ। এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।
‘তবে যাদের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তারা যাতে সুফল পায় সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ কারণে বলবো প্যাকেজগুলোর বাস্তবায়নটাই আসল। বিগত বিভিন্ন উদ্যোগের মতো আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় যেন এই প্যাকেজগুলো বাধাগ্রস্ত না হয়’, যোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্যাকেজ ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও বিজিএমইএর পরিচালক আসিফ ইব্রাহিম বলেন, বড় উদ্যোক্তাদের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য প্যাকেজে রয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। এখানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও লাভবান হবে। কারণ, এই খারাপ সময়ও ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে পারবে। তিনি বলেন, ‘সামাজিক সুরক্ষার আওতায় তৃণমূলে টাকা পৌঁছানো এবং হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত একটি ভালো উদ্যোগ। প্যাকেজে মুদ্রা সরবরাহের বিষয়ে যেটা বলা আছে, তাতে মানুষের হাতে টাকা থাকবে। তবে এই প্যাকেজ বাস্তবায়নটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই মুহূর্তে ঋণগুলো দেওয়া প্রয়োজন। ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং বৃহৎ শিল্পের ক্ষেত্রে তাদের কর্মচারীদের বেতন প্রদান এবং চলতি মূলধনের জন্য এই ঋণ দ্রুত গতিতে তাদের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন।’ এই উদ্দেশ্যে সরকারি ও বেসরকারি সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান বলেন, এ মুহূর্তে দেশের দু’টি পুঁজিবাজারই বন্ধ আছে, প্রণোদনা প্যাকেজটি বাস্তবায়ন হলে পুঁজিবাজার খোলার পর বাজারে এই প্যাকেজের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে প্যাকেজ সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে পোশাক শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের মতো আশাবাদী নন অন্য শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা। বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্যাকেজে অবশ্যই ব্যবসায়ীরা খুশি। তবে আমরা ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা এখান থেকে সুবিধা পাবো কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
তিনি বলেন, ‘আমি ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলেছি, কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনও তথ্য দিতে পারেনি। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনও গাইডলাইন এখনও হয়নি। তবে যেটা বলা হচ্ছে, প্যাকেজ থেকে ব্যাংক তার পছন্দের গ্রাহকদেরকেই সুবিধা দেবে, ফলে ব্যাংকের সঙ্গে ভালো খাতির না থাকলে ক্ষতিগ্রস্তরাও হয়তো সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।’
বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) চেয়ারম্যান এসকে সৈয়দ আলী বলেন, সময়োপযোগী ও চমৎকার প্যাকেজ ঘোষণা করায় আমরা বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্রমাগতভাবে বাজার হারাচ্ছে দেশের পাট শিল্প। যেটুকু বাকি ছিল, এই করোনার কারণে একেবারে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, কাঁচা পাট রফতানিকারকদের বর্তমান বিপন্ন অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের প্যাকেজ থেকে আমরাও সুবিধা পাবো বলে আশা রাখি।
তিনি বলেন, আমরা কাঁচা পাট রফতানি করি। একশ’ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের এই ব্যবসা। নানা কারণে পাঁচ বারেরও বেশি পাট রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আমরা ভয়াবহ ক্ষতির মধ্যে পড়ি।
চা-বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশি চা সংসদের সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্যাকেজ খুবই ভালো এবং যুগোপোযোগী। বিশেষ করে শ্রমিকদের মজুরির বিষয়টি প্যাকেজকে উচ্চ মাত্রায় নিয়ে গেছে। প্যাকেজকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা ঋণের বিপরীতে সুদের ক্ষেত্রে সরকারের কাছ থেকে একটা সুবিধা পাবো। এছাড়া প্যাকেজ থেকে চা শিল্পের জন্য আমরা আরও সুবিধা কীভাবে নিতে পারবো, তা নিয়ে কাজ করছি।
তিনি উল্লেখ করেন, এমনিতেই চা শিল্পের পরিস্থিতি ভালো না। এই বছর চায়ের উৎপাদন কমে গেছে। গত বছরের চেয়ে ৭৫ শতাংশ কম উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া নিলাম বন্ধ রয়েছে। চা বিক্রিও হচ্ছে না। মালিকরা চা বিক্রি করতে না পারায় টাকাও পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, তবে কৃষি ব্যাংক আমাদেরকে ঋণ দিচ্ছে। আমরা আবেদন করবো, যাতে সব বাগান মালিককে তারা ঋণ দেয়। কারণ, আমরা বিশেষ পরিস্থিতিতে পড়ে গেছি।
চামড়া শিল্পের উদ্যোক্তারা কীভাবে ঋণ পাবে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্যাকেজ খুবই চমৎকার। তবে আমরা চামড়া শিল্পের উদ্যোক্তারা কীভাবে ঋণ পাবো, তা এখনও বুঝতে পারছি না। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্যাকেজের সুবিধা কারা পাবেন, কাদের দেওয়া হবে, বিষয়টি আমাদের কাছে এখনও পরিষ্কার না।
তিনি আরও বলেন, চামড়া খাতে বৃহৎ শিল্প আছে, চারশ’ কোটি টাকারও বেশি অনেকের বিনিয়োগ আছে। আবার ছোট, মাঝারি উদ্যোগও আছে। তবে মনে হচ্ছে, ব্যাংকের সঙ্গে যাদের সম্পর্ক ভালো, কেবল তারাই সুবিধা পাবেন। বাকিদের হয়তো খুব বেশি উপকার হবে না। কারণ, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই জামানত দিতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ৯ শতাংশ সুদে ৩০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা আছে। এর মধ্যে শিল্প প্রতিষ্ঠান মালিক ৪.৫ শতাংশ ভর্তুকি এবং সরকার ৪.৫ শতাংশ ভতুর্কি দেবে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পসহ মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা প্রণয়ন করা হবে। ঋণের হার ৯ শতাংশ। প্রদত্ত ঋণের ৫ শতাংশ সুদ সরকার দেবে।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (ইডিএফ) বর্তমান আকার ৩.৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এর সুদের হার কমিয়ে ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বাইরে প্রি শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিম নামে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন ঋণ সুবিধা চালু করবে। এই ঋণের সুদের হার হবে ৭ শতাংশ।
এছাড়া রবিবার ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষিদের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার আরেকটি প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মহল্লা তাঁকে কখনও উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখেনি, হিংসা-বিবাদ তো দূর! লোকটা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন নিয়ম করে। সেই ‘মাস্টারমশাই’ নামে পরিচিত ব্যক্তি নাকি বঙ্গবন্ধুর খুনি! এখনও ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না লকডাউনের পার্ক স্ট্রিট। এই পার্ক স্ট্রিটের বেডফোর্ড লেনের ভাড়া বাড়িতে থাকতেন বঙ্গবন্ধুর ঘাতক আব্দুল মাজেদ। কলকাতার দৈনিক বর্তমান পত্রিকার প্রিন্ট সংস্করণে রবিবার এভাবে প্রকাশ করা হয় প্রতিবেদনটি।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশের মিরপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি আব্দুল মাজেদ গ্রেপ্তারের পর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে রীতিমতো অবাক পার্ক স্ট্রিটের বেডফোর্ড লেনের বাসিন্দারা!
কিন্তু আব্দুল মাজেদ নয়। পার্ক স্ট্রিট তাঁকে চেনে আলি আহমেদ ওরফে ইংরেজির মাস্টারমশাই হিসেবে। এলাকার লোকে জানত, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে থেকে পাশ করেছেন মাস্টারমশাই। টিউশন পড়িয়ে সংসার চালাতেন তিনি। প্রথমে তালতলার ভাড়া বাড়িতে একাই থাকতেন মাজেদ। পরে পার্ক স্ট্রিটে চলে আসেন।
২০১১ সালে তাঁর থেকে ৩২ বছরের ছোট উলুবেড়িয়ার সেলিনা বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের ছ’বছরের এক মেয়ে রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই বছর বাহাত্তরের মাজেদের শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পিজি হাসপাতালে একপ্রস্ত পরীক্ষা নিরীক্ষাও হয়।
দিনটা ছিল গত ২২ ফেব্রুয়ারি। পিজি হাসপাতাল থেকে সেই রিপোর্ট আনতে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। সেটাই শেষ। আর বাড়ি ফেরা হয়নি মাজেদের। স্বভাবতই উদ্বিগ্ন স্ত্রী রাতে পার্ক স্ট্রিট থানায় মিসিং ডায়েরি করেন। তদন্তে শুরু করে পার্ক স্ট্রিট থানা। পিজি হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ তন্নতন্ন করে ঘাঁটলেও হদিস মেলে না মাজেদের। এরপর পুলিশ মাজেদের ভাড়া বাড়ি থেকে একটি ব্যাগ পায়। সেই ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে সিম কার্ড, আধার কার্ড, ভোটার আইডি, ভারতীয় পাসপোর্ট এবং এক মহিলা সহ তিনজন শিশুর ছবি পাওয়া যায়।
স্ত্রী সেলিনা পুলিশকে জানায়, ব্যাগের মতো তাঁর অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসে কাউকে হাত দিতে দিতেন না মাজেদ। মহল্লায় খুব একটা মেলামেশা করতেন না তিনি। টিউশনির পাশাপাশি বড়জোর এলাকার এক চায়ের দোকান, রেশন দোকান এবং এক বিল্ডার্সের দোকানে আড্ডা দিতেন মাজেদ। বাড়ির সদর দরজায় সব সময় তালা লাগানো থাকত। বাইরের কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হতো না। এক আধ বছর নয়, এভাবেই আঠারো-উনিশ বছর ডেরা বেঁধে কলকাতায় আত্মগোপন করেছিলেন আব্দুল মাজেদ। ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বেডফোর্ড লেনের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আব্দুল মাজেদের যাত্রাপথের একাংশের সিসিটিভি ফুটেজ হাতে এসেছে পুলিশের। কি আছে সেই ফুটেজে? সুত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক
ব্রিটেনের বাংলাদেশী কমিউনিটির অত্যন্ত পরিচিত মুখ, অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক ইউরোবাংলার সম্পাদক, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সদস্য, কবি ও কাউন্সিল অব মস্ক টাওয়ার হ্যামলেটসের ট্রেজারার আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল করোনা-আক্রান্ত সন্দেহে গত ২৩ মার্চ থেকে হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন।
গত মঙ্গলবার লন্ডন সময় ১২টার পর তিনি একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন, ‘করোনাভাইরাসের ছোবল থেকে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা’ শিরোনামের লেখাটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। এর মাধ্যমে অনেকেই উপকৃত হতে পারেন। ‘সালাম ও শুভেচ্ছা প্রিয় বন্ধুবান্ধব এবং পরিজন, সর্বশক্তিমান আল্লাহর অনুগ্রহে এখন আমি ভাল আছি, তাই আল্লাহ সোবাহানওয়া তায়ালার শুকরিয়া আদায় করছি । COVID-19 এ আমার কি কি অভিজ্ঞতা হয়ে ছিল এবং কী কী করেছি তা নিম্নরূপ :
২১ মার্চ শনিবার থেকে আমার যে লক্ষণগুলো ছিল তার মধ্যে অন্যতম, প্রথম দিন উচ্চ তাপমাত্রা, কাশি, বুকে ও গলায় প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করলাম, দ্বিতীয় দিন আমার মনে হচ্ছে, আমার গলায় চাকু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, শুকনো কাশি শুরু হল, প্রচন্ড জ্বর আসলো, গায়ে ব্যাথা ও কিছু পেট অসুখ এবং একটু শ্বাসকষ্ট শুরু হলো, তৃতীয় দিন আমি স্বাদ এবং গন্ধ হারিয়েছিলাম, আমি খেতে পারিনি, খাবারে কোনও গন্ধ নেই, স্বাদ নেই, জ্বর আসছে এবং যাচ্ছে, আমার মারাত্মক কাশি লাগছে। কিছু সময় মনে হয় আমি শ্বাস নিতে পারি না, ২/৩ দিন দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম, আমিও শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক আক্রান্ত হয়েছিলাম। দিন রাত চোখে ঘুম নেই, শুধু কষ্ট আর কষ্ট, তাই বাধ্য হয়ে আবার দ্বিতীয়বার হসপিটালে যোগাযোগ করি। ৩০ মার্চ সোমবার সকালে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে একজন নার্স এসে আমার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। নার্স জানিয়েছেন, ব্লাড প্রেসার, শ্বাস-প্রশ্বাস, ব্লাড সুগার স্বাভাবিক আছে। তবে টেম্পারেচার একটু বেশি। প্রায় ৩৮.৯ ডিগ্রি। কাশির কারণেই শ্বাসকষ্ট বেশি হচ্ছে। আমাকে এবং পরিবারের বাকি সবাইকে সেলফ আইসোলেশনে থাকতে হবে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬/৮ গ্লাস গরম পানি খেতে হবে। সময় সময় প্যারাসিটামল খেতে হবে। কোনো ধরনের এন্টিবায়োটিক খাওয়া যাবেনা, কারণ এসব ভাইরাল ইনফেকশনে এন্টিবায়োটিক কোনো কাজ করে না। অ্যাম্বুলেন্স আসার আগেই বাসার সবাইকে বলে রেখেছিলাম, আমি হসপিটালে যাব না, আলহামদুলিল্লাহ প্যারামেডিকও আমাকে হসপিটালে নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি, যেহেতু গত রাত থেকে আমার শারীরিক অবস্থা একটু উন্নতি হচ্ছে।
আমি এই মুহুর্তে কী করলাম সেলফ আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় ছেলে মেয়ের সাথে একটু দূরত্ব রাখার চেষ্টা করলাম। প্রথম ৩/৪ দিন সবাইকে নিয়ে একসাথে জামাতে নামাজ আদায় করলেও ঐদিন থেকে তাদের আলাদা করে নিজে একা একা নামাজ পড়া শুরু করি। স্ত্রী বেচারি নাছোড়বান্দা, নিজের দিকে লক্ষ্য না করেই আমার সেবা যত্ন নিয়ে ব্যস্ত। যদিও চেষ্টা করেছি দূরত্ব বজায় রাখতে। আলহামদুলিল্লাহ। এখনো আমার পরিবারের সবাই সুস্থ আছেন l
কী কী করলাম
১. তাওবা ইস্তেফগার করে মহান প্রভু আল্লাহর শরণাপন্ন হই। দুআ, জিকির, তেলাওয়াত করে শুধু আল্লাহর সাহায্য নিয়েছি। একমাত্র আল্লাহকে ডেকেছি এছাড়া আর অন্য কিছু আমার মনে আসেনি।
২. প্রতি দুই তিন ঘণ্টা পরে গরম পানি এবং লবণ দিয়ে গার্গল করলাম অনবরত।
৩. নিয়মিত লেবু, আদা, রসুন, লং, কালো গোলমরিচ ও মধু দিয়ে রং চা পান করতে লাগলাম । দিনে ৪-৫ বার আদা/মধু মিশ্রিত রং চা পান করেছি।
৪. সব সময় গরম পানি পান করেছি। এখনও আমার সাথে ফ্লাস্ক ভর্তি গরম পানি আছে। কোনোপ্রকার আইসক্রিম ও ঠান্ডা পানীয় পান করিনি। সম্ভব হলে দিনে ৪ বার অবশ্যই গরম পানি পান করি।
৫. দিনে ৩/৪ বার ভিস্ক ও গরম পানির ভাপ নিচ্ছি। এর ফলাফল খুব দ্রুত কাজে এসেছে।
৬. দিনে ২/৩ বার গরম দুধ পান। সকালে পরিস/সাগু/জাউ খাবার চেষ্টা করেছি, যেহেতু অন্য কিছু খাবারের মুঠেই রুচি নেই, এইগুলো ও খুব কষ্ট করে খেতে হচ্ছে।
৭. কালো জিরা ( মধুর সাথে, চিবিয়ে,অথবা পানিতে ভিজিয়ে ২/৩ বার পান/খেয়েছি, কালোজিরার তেল ও নিয়মিত পান করেছি, সেটাই ও খুব কাজ হয়েছে।
৮. ইচ্ছে করে শক্ত মনোবল ও এই অসুখ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য খুবই জোর করে সুস্বাদু খাবার গ্রহণ করার চেষ্টা করেছি।
৯. নিয়মিত ভিটামিন সি ও মাল্টি ভিটামিন খেয়েছি।
১০. হাত মুখ সব সময় পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখার চেষ্টা করেছি।
১১. নিয়মিত পবিত্র জম জম পানি পান করেছি।
নিজেকে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে উৎসাহিত করেছি এবং কখনোই অপ্রয়োজনে ঘরের বাহিরে বের হতে দেইনি। সবধরনের সামাজিক মেলামেশা থেকে বিরত থাকছি।
আমার ভাই বোন, মেয়ে, মেয়ের জামাই, ভগ্নপতি, চাচাতো ভাই, ফুফাতো ভাই, আত্নীয়স্বজন ও বন্ধু বান্ধব অনেকেই দুরত্ব বজায় রেখে ঘরের বাইরে থেকে আমাদের দেখে এবং প্রয়োজনীয় খাবার, শপিং ও ঔষধ পত্র দরজার বাইরে রেখে চলে গেছেন।
আলহামদুল্লাহ এখন সুস্থ হয়ে উঠছি এবং অনেক ভালো বোধ করছি। এই অবসর সময়ে পবিত্র রমজান মাসের এতেকাফের মতো নিয়মিত কুরআন, ইসলামী সাহিত্য, রাসূলের সিরা অধ্যয়ন করছি, এই মহামারীর দুঃসময়ে বেশি বেশি করে আল্লাহকে স্মরণ করে সকল ভালো এবাদত করার তাওফিক চাই। আল্লাহ আমাদের সকলকে এই কঠিন সময়ে একে অন্যকে সাহায্য সহযোগিতা করার তৌফিক দান করুক, সবার সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করি।
ঘরেথাকুনজীবন_বাঁচান আবারো ধন্যবাদ। জুয়েল রাজ, লন্ডন থেকে
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা নববর্ষকে আবাহন করে বলেছিলেন ‘জাগো ফুলে ফলে নব তৃণদলে/তাপস, লোচন মেলো হে। /জাগো মানবের আশায় ভাষায়, /নাচের চরণ ফেলো হে। /জাগো ধনে ধানে, জাগো গানে গানে,/জাগো সংগ্রামে, জাগো সন্ধানে, /আশ্বাসহারা উদাস পরানে /জাগাও উদার নৃত্য।’ রবিঠাকুরের পঙ্ক্তির ভাষার মতো বাংলার মানুষ জাগবে, এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে দৃঢ়সংকল্প ব্যক্ত করবে।
আজ যে পহেলা বৈশাখ। বাঙালির জীবনে আজ নতুন বছরের প্রথম দিন, নতুন বারতা। আজকের সূর্যোদয়ের মধ্য দিয়ে সূচনা হল বাংলা ১৪২৭ সালের। তবে আজকের এই বৈশাখ বাঙালির জীবনের যেকোনো বৈশাখের চেয়ে আলাদা। করোনা মহামারীর কারণে বৈশ্বিক এই দুর্যোগের সময় আমাদের জীবন অবরুদ্ধ। ঘরে বসেই দেশের মানুষ মোকাবেলা করছে এই মহামারীর। আজ পহেলা বৈশাখের বাংলা ঢোলের বাজনা বাজবে বাঙালির মনে মনে। প্রাণে প্রাণ মিলবে রাস্তা বা খোলা ময়দানে নয়, যার যার বাসায় কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ম্যাসেঞ্জারে। আজ পহেলা বৈশাখের উৎসব হবে বাংলার ঘরে ঘরে, নিজের মতো করে।
১৪২৬-এর আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্নার হিসাব চুকিয়ে শুরু হবে নতুন এক পথচলা। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সার্বজনীন উৎসবে ঘরে ঘরে মেতে ওঠা বাঙালি গাইবে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’। বাংলার গ্রাম, শহর, বন্দর, সব জায়গায় আজ দোলা দেবে পহেলা বৈশাখ তবে সেটা একটু অন্যভাবে। পান্তা-ইলিশ খাওয়া, মুড়ি-মুড়কি, মন্ডা-মিঠাই সবই হবে, তবে তা যার যার ঘরে।
পহেলা বৈশাখ তথা ডিজিটালি বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে ডাকে সাড়া দিয়ে সীমিত আকারে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। ‘উৎসব নয়, সময় এখন দুর্যোগ প্রতিরোধের’- এ প্রতিপাদ্যে সীমিত আকারে বর্ষবরণের আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে দুই দিন আগে ছায়ানট সভাপতি সনজীদা খাতুন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতি দেয়া হয়। এতে জানানো হয়, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নবসজ্জার অনুষ্ঠান প্রচারিত হবে আজ পহেলা বৈশাখ ভোর ৭টা থেকে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের কাছ থেকে সকল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এ অনুষ্ঠানের ফ্রেশ ফিড পাবে।
এই অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে সাম্প্রতিক নানা বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের নির্বাচিত গান এবং বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপটে ছায়ানট সভাপতি সনজীদা খাতুনের সমাপনী কথন দিয়ে, যা বিটিভি ছাড়াও ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেলেও সম্প্রচারিত হবে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আরেকটি ধারণকৃত অনুষ্ঠান বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার করা হবে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধারণকৃত একটি বক্তব্য ছাড়াও বৈশাখের গান, নৃত্য, আবৃত্তি আয়োজন থাকবে। ফেসবুকে ডিজিটালি বর্ষবরণের আয়োজন করেছে উদীচী। অন্যদিকে জনসমাগম না করে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আপনা-মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়’ প্রতিপাদ্য করে এবারে বর্ষবরণের আয়োজন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এবারের পহেলা বৈশাখের রংটাই পাল্টে দিয়েছে। ভাইরাসটি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত করেছে। জনসমাগম এড়িয়ে চলাই এই ভাইরাস প্রতিরোধের সর্বোত্তম পন্থা। তাই সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এ ছুটি বলবৎ থাকবে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত। ছুটি বলা হলেও কার্যত লকডাউন অবস্থার মধ্য দিয়েই যাচ্ছে দেশ। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় এমনিতেও অনেক জেলা, শহর, এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। সীমিত করা হয়েছে মানুষের চলাচল। একেবারেই প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘরের বাইরে যেতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। সে কারণে অন্যান্য সময় পহেলা বৈশাখের আগে যে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকে তা এবার অনুপস্থিত। দোকানপাট বন্ধ বলে পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্য হালখাতার আয়োজন নেই, নেই বৈশাখী কেনাকাটা। নেই পান্তা-ইলিশ আয়োজনের তোড়জোড়।
এই মহাদুর্যোগের মধ্যেই বৈশাখ আসায় সরকারি আদেশেই এদিন খোলামাঠে সকল আয়োজন বন্ধ। পহেলা বৈশাখের অন্যতম আয়োজন রমনা বটমূলে প্রভাতী আয়োজন, মঙ্গল শোভাযাত্রা, শিশু পার্কের সামনে ঋষিজের অনুষ্ঠানসহ সব বন্ধ করা হয়েছে। বাঙালি আজ ঘরে বসেই তার সাধ্যমতো খাবার আয়োজন করবে। পড়বে নতুন পোশাক। মোবাইল মেসেজ বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময় করে নতুন বাংলা বছরকে বরণ করে নেবে। ঘরে বসে থাকলেও তাদের মনে সত্যি সত্যি খেলে যাবে বৈশাখের রং।
আজকের অন্যরকম পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশবাসীকে নতুন বাংলা বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানরা। নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের। আরও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন। সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলগুলো এ উপলক্ষে প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে ক্রোড়পত্র ও বিশেষ নিবন্ধ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে সব কারাগার, হাসপাতাল ও শিশু পরিবারে (এতিমখানা) উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। সুত্রঃ যুগান্তর
দৈনিক বড়লেখাঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বা এমন সন্দেহ নিয়ে কেউ মারা গেলে তাকে দাফন-কাফনের জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে অনেকেই মারা গেছেন। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফন কাজে যেতে রাজি হচ্ছেন না। ফলে ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন-কাফন করা হচ্ছে না। এসব কথা চিন্তা করে বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন-কাফনের জন্য ১৩ সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করেছেন।
উপজেলার বিভিন্ন কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে এই দল গঠন করা হয়েছে। এই দলের সদস্যরাই মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করবেন। এক্ষেত্রে তাদের কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া লাগবে না।
স্বেচ্ছাসেবী দলের সমন্বয়ক মাওলানা আবিদুর রহমান বলেন, দেশে অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এই অবস্থায় মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন-কাফন কাজে অনেকেই যেতে চাইছেন না। মৃতের স্বজনরাও কাছে যাচ্ছেন না। বিষয়টি দেখে আমাদের খারাপ লেগেছে। তাই আমরা বিভিন্ন কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছায় একটি দল গঠন করেছি। যদি বড়লেখার কোথাও কেউ করোনা আক্রান্ত কিংবা করোনা সন্দেহে মারা যান, তবে তার লাশ আমরা ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ী দাফন-কাফন করবো। এক্ষেত্রে আমরা কোনো পারিশ্রমিক দিতে হবে না। তবে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন-কাফনের সময় আমাদের সুরক্ষা সামগ্রী দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যে আমরা ইউএনও স্যারকে জানিয়েছি। তিনি আমাদের উনার সাথে যোগাযোগ করতে বলেছেন।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কমর্কতা মো. শামীম আল ইমরান রোববার বিকেলে বলেন, ইতিমধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন-কাফনের জন্য ১০ জনের একটি দল প্রস্তুত করেছি। এছাড়া হিন্দু ব্যক্তির সৎকারের জন্য আলাদাও একটি দল গঠন করা হয়েছে। তারপরও আমার তাদেরকে (স্বেচ্ছাসেবী দল) যোগাযোগ করতে বলেছি। যদি প্রয়োজন পড়ে তবে আমরা তাদের সাহায্যে চাইবো।
গত দুই সপ্তাহে সারাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য সরকারের বরাদ্দের ২ হাজার ১৭৪ বস্তা চুরি হওয়া চাল উদ্ধার করেছে আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনী। তবে এখনও হদিস মেলেনি ৫৫০ বস্তা চালের।
সবচেয়ে বেশি ৬৯৫ বস্তা চুরি হওয়া চাল উদ্ধার হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে এবং সবচেয়ে কম ৩৮ বস্তা উদ্ধার হয়েছে সিলেট বিভাগ থেকে।
এসব ঘটনায় সারা দেশ থেকে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাসহ ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ মানুষের ত্রাণ সহায়তা দিতে আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। তবে পুলিশ বলছে, পুলিশের সব ইউনিট এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে। ত্রাণে কোনও অনিয়ম হতে দেওয়া হবে না। জনস্বার্থে পুলিশ যেকোনও সিদ্ধান্ত নেবে।
কোন বিভাগ থেকে কত চাল উদ্ধার হলো:
বরিশাল বিভাগের যেসব জেলায় চাল জব্দ হয়েছে
বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে চার জেলায় হতদরিদ্র ও ত্রাণের চাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত দুই সপ্তাহে চারটি জেলা থেকে ৬৩৮ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় আটক করা হয়েছে তিন জনকে।
বরগুনা: জেলার পাথরঘাটা থানার কাকচিরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাউন্দিন পল্টু তার গুদামে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল রেখেছিলেন। তবে প্রশাসনের পরিদর্শনে সেখানে ৫৫০ বস্তা (৫০ কেজি বস্তা) চালের হদিস মিলেনি। এ কারণে ওই চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঝালকাঠি: ঝালকাঠি সদর উপজেলার ৮নং বাসন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনিরের হেফাজত থেকে ৫০ বস্তা (৫০ কেজি করে বস্তা) চাল উদ্ধার করা হয়।
পটুয়াখালী: জেলার কমলাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির মৃধাকে তার দুই সহযোগীসহ ওএমএসের চাল বিক্রির অপরাধে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ১০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। তারা এখন কারাগারে।
ভোলা: ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার জুয়েলের ঘরের খাটের নিচে মাটি খুঁড়ে লুকিয়ে রাখা ৭ বস্তা, ওয়ার্ডের চৌকিদার শাহ আলমের ঘর থেকে ৬ বস্তা, ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার ওমরের এলাকা থেকে ১৫ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফরিদুল হক তালুকদার, তার ভাতিজা ওয়ার্ড মেম্বার ওমরসহ ৪ জনকে আসামি করে মামলা হয়। ওমর মেম্বারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
খুলনা বিভাগে হতদরিদ্র মানুষের খাদ্য নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম
খুলনা বিভাগের দুটি জেলা থেকে ওএমএস’র বিক্রির জন্য সরকারি বরাদ্দের ৬৩৩ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় চার জনকে আটক করা হয়েছে।
যশোর: দারিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ সহায়তা নিয়ে যশোর জেলায় অনিয়ম হয়েছে। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। পৃথক ঘটনায় গত ৪ এপ্রিল ৬২৯ বস্তা (প্রায় ২০ মে. টন) চাল উদ্ধার করা হয়েছে। তিন জনকে আটক করা হয়। তারা হলো চাতাল মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাকিব হাসান শাওন (৩২) ও হাসিবুল হাসান (৩৫)। তারা ওই এলাকার বাসিন্দা।
বাগেরহাট: ১২ এপ্রিল সকালে বাগেরহাটের হাকিমপুর এলাকা থেকে ইস্রাফিল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে চার বস্তা ওএমএস’র চাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
এছাড়াও সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় সলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে সরকার বরাদ্দ দেওয়া গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষদের ত্রাণের চাল আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। তবে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেনের হস্তক্ষেপে চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান শুক্রবার ভোর রাতে ইউপি মেম্বারদের কাছে চালগুলো হস্তান্তরে বাধ্য হন।
ময়মনসিংহ বিভাগে ত্রাণ ও দশ টাকা দরের চাল বিক্রিতে অনিয়ম
ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় সরকারি চাল বিক্রি ও চুরি করে গুদামজাত করার ঘটনা ঘটেছে। পৃথক ঘটনায় তিনটি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬৯৫ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাসহ পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ: জেলার ত্রিশালে গত ২ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযান চালিয়ে ১৬ বস্তা ওএমএস চাল উদ্ধার করে।
জামালপুর: জামালপুর সদরের নরুন্দি বাজারে তুলশীরচর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেনের গুদাম থেকে ৩২৬ বস্তা এবং বকশীগঞ্জ পৌর শহরের পাখিমারায় নূর কালামের গুদাম থেকে ২০০ বস্তা (২৫ কেজি) সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের দুজনকেই আটক করা হয়েছে। এছাড়াও ১০ এপ্রিল শাহবাজপুর এলাকা থেকে ৩০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে।
শেরপুর: শেরপুরের চরপক্ষীমারি এলাকা থেকে গত ৯ এপ্রিল ব্যবসায়ী মানিকের কাছ থেকে ৩৩ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।
নেত্রকোনা: জেলার কেন্দুয়া উপজেলায় ১০ টাকা কেজির ৯০ বস্তা চাল চুরির অভিযোগে ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় আমিনুর রহমান শাকিল (৪৫) ও সাইফুল মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি রোয়াইলবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে।
ত্রাণের চাল চুরির অভিযোগে বগুড়ায় গ্রেফতার হন স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই নেতা। তাদের দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগে ত্রাণ বিতরণে যত অনিয়ম
রাজশাহীর তিনটি জেলায় ত্রাণের চাল নিয়ে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। দুই জেলার বিভিন্ন উপজেলার রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ীদের বাড়ি থেকে ৫০৯ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়। এ সময় আটক করা হয়েছে পাঁচ জনকে।
বগুড়া: জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমানকে ১৬৮ বস্তা সরকারি চালসহ এবং শিবগঞ্জের সৈয়দপুর ইউনিয়নের গণকপাড়া এলাকা থেকে ১০২ বস্তা চালসহ মোস্তাফিজুর রহমানকে (৩৫) গ্রেফতার করে র্যাব ও থানা পুলিশ। এছাড়াও সোনাতলা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নে মিঠু মিয়া নামে এক চাল ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ৪০ বস্তা ভিজিডির চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগ অভিযুক্ত চার নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি দিয়ে কেন্দ্রের কাছে তাদের বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে।
নওগাঁ: গত ২ এপ্রিল নওগাঁর রাণীনগরে আয়াত আলী (৬০) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি থেকে ১৩৮ বস্তা সরকারি ত্রাণের চাল এবং ২০০ পিস খালি বস্তা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আয়াত আলী পলাতক রয়েছে।
নাটোর: নাটোরের সিংড়া উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নে পর পর দুই দিন ১০ টাকা কেজি দরের ওএমএসের ৬১ বস্তা চাল উদ্ধার হয় আওয়ামী লীগের দুই নেতার বাড়ি থেকে। এ ঘটনায় দুজনকেই গ্রেফতার করা হয়। তারা হলো স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগের সদস্য শাহিন শাহ এবং একই ইউনিয়ন কমিটির বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আওয়াল হোসেন স্বপন।
রংপুর বিভাগে যে অনিয়ম হয়েছে
রংপুর বিভাগের রংপুর ও জয়পুরহাট এলাকা জেলা থেকে ১১২ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় আটক করা হয় চার জনকে।
রংপুর: গত ৮ এপ্রিল রংপুরের পীরগঞ্জে ৯০ বস্তা সরকারি চালসহ তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো ঈসমাইল হোসেন, রিয়াদ ও জাহাঙ্গীর আলম। তারা সবাই ওই এলাকার বাসিন্দা।
জয়পুরহাট: ক্ষেতলালে সুহলী বাজারের একটি গুদাম থেকে ১০ টাকা কেজির রেশনের ২২ বস্তাসহ দুই ভ্যানচালক এবং জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর থেকে একইদিন অবৈধভাবে মজুত রাখা ৭৩৮ বস্তা (২৫ টন) সরকারি চালসহ গোপীনাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মো. আল ইসরাইল ওরফে জুবেলকে হাতেনাতে আটক করেছে র্যাব।
সিলেট বিভাগেও হয়েছে অনিয়ম
সিলেটের দুটি জেলা থেকে ৩৮ বস্তা ওএমএস চাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
মৌলভীবাজার: জেলার বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউপির ভাটাউচি গ্রামের শুক্কুর আলীর বাড়ি থেকে শুক্রবার রাতে ৮ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং এলাকার নিয়ামতপুরে একটি দোকান থেকে ৩০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঢাকা বিভাগেও গরিবের চাল নয়-ছয়
ঢাকা বিভাগের দুই জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে ৫৮ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় একজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলে গরিবদের জন্য বরাদ্দ চাল খোলা বাজারে বিক্রি ও মজুত করার অপরাধে গত ৯ ও ৮ এপ্রিল দুজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩৩ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। এদের মধ্যে একজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কিশোরগঞ্জ: গত ১০ এপ্রিল জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নে সরকারি ত্রাণের ২৫ বস্তা চাল ফেলে রাখা হয়েছিল খড়কুটার ভেতরে। পরে খবর পেয়ে তা উদ্ধার করেছে করিমগঞ্জ থানা পুলিশ। তবে কে বা কারা চালের বস্তাগুলো এনে ওই জায়গায় রেখেছিল তা জানা যায়নি।
নরসিংদী: নরসিংদীর রায়পুরায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরের চাল কালোবাজারে বিক্রির দায়ে দুই জন আটক হয়েছে। আটককৃতরা হলো ডিলার মো. রফিকুল ইসলাম ও চালের ক্রেতা হালিম মিয়া। আটক ডিলার রফিকুল ইসলাম উত্তর বাখরনগর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার উত্তর বাখরনগর বাজার থেকে তাদের আটক করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগেও হতদরিদ্রদের চাল চুরি
চট্টগ্রাম বিভাগের তিন জেলা থেকে ওএমএস’র ৪১ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। এ সময় আটক করা হয় চার জনকে।
ফেনী: ১১ এপ্রিল সন্ধ্যায় জেলার ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের পেনা পুষ্করণী গ্রামে জাকির হোসেন মজুমদার নামে এক প্রবাসীর বাড়ি থেকে হতদরিদ্রের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ করা ১০ টাকা কেজি দরে খোলা বাজারে বিক্রির (ওএমএস) ৬ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই প্রবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি: ১২ এপ্রিল সকালে জেলার মাটিরাঙ্গা এলাকায় ১০ টাকা দরের চাল কালোবাজারে বিক্রি সময় ২৮ বস্তা (৮৪০ কেজি) চাল জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় ডিলার মোমিন ও ক্রেতা হাশেমকে আটক করা হয়।
লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরে হতদরিদ্রদের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ডিলার আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ পেয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৭ বস্তা চাল জব্দ করে একটি গোয়েন্দা সংস্থা।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
দুর্যোগের এই সময়ে যারা ত্রাণ চুরি কিংবা আত্মসাতে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডসহ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আগের ধারাবাহিকতায় রবিবারও (১২ এপ্রিল) গণভবন থেকে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১৬ জেলায় ভিডিও কনফারেন্স করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য
এসব ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এ ধরনের জাতীয় সংকটে সবার মানবিক, সহযোগী ও সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। কিন্তু তা দেখছি না। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে অসাধু ব্যক্তিরা দরিদ্র মানুষের খাবার মেরে দিচ্ছে, যা মোটেই প্রত্যাশিত নয়।’
ত্রাণ বিতরণের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার, চুরি এবং অন্যান্য অনৈতিক ঘটনা ঘটছে। জড়িত জনপ্রতিনিধি এবং ওএমএস ব্যবসায়ী বা সে যেই হোক তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত বলেও তিনি মনে করেন। তিনি নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
র্যাবের বক্তব্য
র্যাব সদর দফতর জানিয়েছে, ত্রাণের চাল চুরির অভিযোগে সারা দেশে এখন পর্যন্ত তারা সাত জনকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় ৩৪ হাজার ২৪০ কেজি চাল ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করেছে। এছাড়াও টিসিবির পণ্য অবৈধভাবে বিক্রির জন্য দু’জনকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে সব ইউনিটকে ত্রাণের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি। এসব অসাধু ব্যক্তিকে শক্ত হাতে দমন করা হবে। জনগণের স্বার্থে বাংলাদেশ পুলিশ যেকোনও সিদ্ধান্ত নেবে এবং কাজ করবে। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
মহামারি নোভেল করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষার জন্য চিকিত্সকেরা বারবার হাত ধোঁয়ার কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে কাজটি অত্যন্ত সহজ। কিন্তু একবার চিন্তা করুন, যেখানে একটু পরিষ্কার পানির জন্য দুই মাইল হাঁটতে হয়; নাইজেরিয়া কিংবা ভারতের কথাই ভাবুন; এসব দেশে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ স্বচ্ছ পানি কিংবা স্যানিটেশনের অভাবে আছে। সিরিয়াসহ অন্যান্য দেশ যেখানে লাখ লাখ মানুষ শরণার্থী হিসেবে বেঁচে আছে। আবার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কথাই ধরা যাক।
এসব স্থানে কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সেটা যে জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাবে সেটা সহজেই অনুমেয়। বিশেষ করে বস্তিতে তো এক ঘরে ১০ থেকে ২০ জনও বাস করে। সেখানে কোয়ারেন্টাইনই বা হবে কীভাবে? এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানিয়েছে টাইম ম্যাগাজিন। তাই তো বিশ্বের বড়ো বড়ো নেতা, ব্যবসায়ী, জাতিসংঘ ফাউন্ডেশন, সুশীল সমাজ ও শিক্ষাবিদেরা জি-৭ ও জি-২০ভুক্ত নেতাদের কাছে চিঠি দিয়ে সীমান্ত খুলে দিয়ে পরিবহনব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।
ক্ষুধার জন্য রাস্তায় : ফিলিপাইনে করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধ করতে সরকার লকডাউন ঘোষণা করেছে। কিন্তু যতটা সহজে লকডাউন ঘোষণা করা যায়, ততটা সহজে গরিব মানুষের মুখে খাবার দেওয়াটা সহজ হয় না। তাই তো রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে। আর দেশটির প্রেসিডেন্ট রুদ্রিগো দুতের্তে লকডাউন ভাঙার অপরাধে তাদের গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন। কলম্বিয়ায় লকডাউন ঘোষণার পর মানুষ প্রতিবাদ জানিয়েছে।
তারা বলছে, ‘আমরা ক্ষুধার্ত, খাবার চাই।’ আবার বিশ্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় গরিব শিশুরা দুপুরের খাবারটুকুও পাচ্ছে না। বিশ্বে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৮৫ কোটি। এসব গরিব মানুষের দুটি বিপদ আছে। প্রথমত, তাদের করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়। দ্বিতীয় ক্ষুধার বিরুদ্ধে। কারণ অপুষ্টির শরীরে করোনার আঘাতটাও বেশি হতে পারে। ভারতে ১৩০ কোটি মানুষের বাস। এই দেশে লকডাউনে ৪ কোটি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। শ্রমজীবীরাও বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের ক্ষুধার দাবিতে চলা প্রতিবাদে জীবাণুনাশক স্প্রে করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদির সরকার ৮ কোটি মানুষকে খাবার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। কিন্তু সেই খাবার কতদিন দেওয়া যাবে, সেটা নিয়েই সংশয়। প্রথমে লকডাউনকে স্বাগত জানানো হলেও ভারত সরকারকেও এখন চিন্তা করতে হচ্ছে কতদিন ধরে লকডাউন চালানো যাবে। যদিও ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। শনিবার প্রধানমন্ত্রী মোদি মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় তাই বলেছেন, ‘আমি প্রথম ভাষণে বলেছিলাম, আগে জীবন, পরে অর্থনীতি।’ কিন্তু শনিবার বলেছেন, জীবন ও জীবিক দুটোর দিকেই খেয়াল রাখতে হবে।
লকডাউন ইস্যুতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, ‘আমরা যদি চীনের মতো হতাম, তাহলে গোটা দেশ তালাবদ্ধ করে দিতাম। আমাদের দেশে ২৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ এই সীমার ওপরে। এই পরিস্থিতিতে পুরোপুরি লকডাউন করে দিলে প্রায় ৮ কোটি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়বে। তাই লকডাউন কোনো সমাধান নয়।’
খাদ্যের সংকট ও ক্ষুধার্ত মানুষ : খাদ্যের ঘাটতি কীভাবে সৃষ্টি হতে পারে, তা তুলে ধরা হয়েছে সম্প্রতি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রধানদের যৌথ বিবৃতিতে। তারা বলেছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকট সঠিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হলে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের সম্ভাব্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বিশ্ব জুড়ে অনেক সরকার ভাইরাসের বিস্তার রোধে তাদের জনগণকে লকডাউনে ফেলেছে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও খাদ্য সরবরাহের চেইনে মারাত্মক ধীরগতি দেখা দিয়ছে। ইতিমধ্যে বিচ্ছিন্ন হওয়া মানুষগুলো আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এ কারণে অনেক দেশে সুপারমার্কেটের তাকগুলো খালি হয়ে গেছে। এটা সরবরাহ চেইনের ভঙ্গুরতা নির্দেশ করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, খাদ্যের প্রাপ্যতা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তা রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ডেকে আনতে পারে এবং এতে বিশ্ববাজারে খাদ্যের ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে। আর এটা ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান বলছে, বর্তমানের চেয়ে তা দ্বিগুণ করতে পারে।
২০০৭ সালে বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকটে ধান উত্পাদনকারী দেশ ভারত ও ভিয়েতনাম প্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধিকে রুদ্ধ করতে তাদের রপ্তানি সীমিত করেছিল। এ কারণে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশে খাদ্যদাঙ্গা দেখা দিয়েছিল। খাদ্যের বিপর্যয় নিয়ে ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা।
দেশে করোনাভাইরাসের রোগী যত শনাক্ত হচ্ছে তার চেয়েও বেশি ত্রাণের চাল চোর ধরা পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রোববার এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
করোনার চেয়েও শক্তিশালী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, করোনার চেয়েও তারা নাকি বেশি শক্তিশালী। সেটিই প্রমাণিত হলো— করোনা রোগী যত শনাক্ত হচ্ছে বা ধরা পড়ছে, তার চেয়েও বেশি ত্রাণের চাল চোর ধরা পড়ছে।
চাল চু্রির সমালোচনা করে রিজভী আরও বলেন, করোনায় মরার ওপর খাড়ার ঘা হিসেবে যোগ হয়েছে চাল চুরির মহোৎসব। মিডিয়ায় প্রতিদিন যে পরিমাণ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রকাশিত হচ্ছে, তার চেয়েও চাল চোরের সংখ্যা বেশি ধরা পড়ছে। যেখানে কে বাঁচবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই, যেখানে জীবন এখন অনেক বেশি অনিশ্চিত, সেখানে কী করে আওয়ামী লীগের লোকজন ত্রাণের মালামাল চুরি করে খায় ? এদের লোভ-লালসা, লজ্জা-শরম, বিবেকবোধ সবকিছু অন্ধ করে দিয়েছে।
আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধিরা চালু চুরির সঙ্গে জড়িত দাবি করে রিজভী বলেন, চাল চুরির ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধিরাই বেশি জড়িত। সারাদেশে গত ৯ দিনে অন্তত ২ হাজার ২৬৪ বস্তা সরকারি ত্রাণের চাল চুরির খবর পাওয়া গেছে।
সিরাজগঞ্জে এক শিশুর আত্মহত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর এলাকায় একটি হৃদয়বিদারক মর্মস্পর্শী ঘটনায় সবাই নির্বাক হয়ে গেছে। সেখানে আফরোজা নামে এক শিশু ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে।
দেশের মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, সরকারি হিসাবে দেশের খাদ্য গুদামগুলোতে ১৭দশমিক ৫১ লাখ টন চাল মজুত আছে। এই পরিমাণ চাল দিয়ে ৩/৪ কোটি মানুষকে ছয় মাস অনায়াসে খাওয়ানো সম্ভব। অথচ মানুষ অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। সুত্রঃ যুগান্তর অনলাইন
করোনা আতঙ্কে সারা দেশের মানুষ লকডাউনে। এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন পুলিশ, ডাক্তার, স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছেন তারা।
তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। পুলিশ-ডাক্তারদের আত্মত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করেছেন তিনি। তাদের টুপিখোলা ধন্যবাদও জানিয়েছেন ক্রিকেটার কাম এ রাজনীতিবিদ।
রোববার সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে মাশরাফি লিখেছেন– করোনাভাইরাস দেশে আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গে তাদের কাজ যেন বেড়ে গেছে অনেকগুণ। কোনো প্রকার অভিযোগ ছাড়াই দিন-রাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। হ্যাঁ, আমাদের পুলিশ ভাইদের কথা বলছি। তারা সত্যিই অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন, শুধু আমাদের করোনা নামক মহামারী থেকে সুরক্ষিত রাখতে।
পুলিশের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন– সারাটা দিন আমাদের পেছনে ছুটতে ছুটতে শরীরটা যখন আর সায় দেয় না, তখন মশার কামড়, গরম সব কিছুর কাছে হয়তো হার মেনে যান। বসার কিছু একটা পেলে শরীরটা ১৫-৩০ মিনিটের জন্য ছেড়ে দেন। কারণ এর পর যে আবার যেতে হবে টহলে। সবাইকে সতর্ক করতে গিয়ে তারা ভুলেই যান, তাদেরও একটা বাসা আছে– পরিবার আছে।
পরিপ্রেক্ষিতে দেশবাসীর কাছে ম্যাশের আর্জি, আমরা কি পারি না এ পুলিশ ও ডাক্তারদের দিকে তাকিয়ে হলেও নিজেদের একটু নিয়ন্ত্রণে রাখতে? আমরা যদি শুধু আমাদের কথা চিন্তা করেও বাসায় থাকতাম, তা হলে হয়তো এ মানুষগুলোর এতটা কষ্ট হতো না। মহান আল্লাহতায়ালার কাছে দোয়া করি, যেন তারা ভালো থাকেন। সবাই ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং অন্যকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করুন।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক শ্রমিককে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট রিংভং নতুন মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম মো. লোকমান (৩০)। তিনি কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের কালারমারপাড়া গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে।
লোকমান চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামার কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এলাকার মানুষ মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় একটি গুলির শব্দ শোনেন। এ সময় মুসল্লিরা মহাসড়কের দিকে তাকালে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসকে মহাসড়ক হয়ে উত্তর দিকে চলে যেতে দেখেন। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ সড়কের ধারে জঙ্গলের পাশে পড়ে থাকতে দেখেন।
জানা গেছে, লোকমান চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারার মালুমঘাটে তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
নিহতের স্ত্রী রিফা আকতার যুগান্তরকে জানান, তার স্বামী লোকমান চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিকের কাজ করতেন। বেতনের টাকা তুলতে ভোর ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হয়। পরে সাড়ে ৪টার দিকে দুর্বৃত্তের গুলিতে মারা গেছেন বলে শুনতে পাই।
তবে কী কারণে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান যুগান্তরকে জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনার তদন্ত চলছে। মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি। সুত্রঃ যুগান্তর
ভোলার লালমোহন বদরপুর ইউনিয়নে ইউপি মেম্বারের বসতঘরে মাটি খুঁড়ে সরকারি চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার সকালে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে লালমোহন থানা পুলিশ বদরপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার জুয়েলের ঘরের খাটের নিচে মাটি খুঁড়ে লুকিয়ে রাখা ৭ বস্তা চাল উদ্ধার করে।
এ সব চাল সরকারি খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির। ইউপি মেম্বার জুয়েল আত্মগোপন করলে তার বাবা সাবেক মেম্বার নান্নুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে।
লালমোহন থানার ওসি মীর খায়রুল কবীর বলেন, রোববার সকাল ৬টার দিকে ট্রিপল নাইনে ফোন পাই বদরপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার জুয়েলের ঘরে মাটির নিচে চাল লুকিয়ে রাখা হয়েছে। পরে আমরা ওই বাড়িতে অভিযান চালাই। এ সময় জুয়েল মেম্বারের ঘরের খাটের নিচ থেকে মাটি খুঁড়ে ৫ বস্তা চাল ও ঘরের পেছন থেকে আরও ২ বস্তা চাল উদ্ধার করি।
জুয়েলকে না পাওয়ায় তার বাবা নান্নুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, সরকারি খাদ্য অধিদফতরের নাম লেখা ৭টি খালি বস্তা ও ৭টি খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির কার্ড পাওয়া যায় ওই ঘর থেকে।
জানা গেছে, একদিন আগে একই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার ওমরের এলাকা থেকে বিভিন্ন বাড়িতে ও সমিলের কাঠের গুঁড়ার মধ্যে লুকিয়ে রাখা আরও ১৫ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফরিদুল হক তালুকদার, তার ভাতিজা ওয়ার্ড মেম্বার ওমরসহ ৪ জনকে আসামি করে মামলা হয়। ওমর মেম্বারকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়। সুত্রঃ যুগান্তর
নাটোরের বড়াইগ্রামে বুঞ্জনী বেওয়া (৮০) নামে এক বৃদ্ধাকে বাড়ি থেকে বরে করে দিয়েছে তার ৬ ছেলে।
ওই বৃদ্ধা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গড়মাটি গ্রামের মৃত হাজির উদ্দিন প্রামাণিকের স্ত্রী। নিজের নামে ১২ বিঘা ও স্বামীর ৩২ বিঘা জমি আর ৭ ছেলেমেয়ে নিয়ে সোনার সংসার ছিল তার।
কিন্তু বর্তমানে ছেলেমেয়েদের কেউ তাকে ভাত-কাপড় দেয় না। উল্টো জমি লিখে নেয়ার পাশাপাশি একমাত্র শোবার ঘরটিও দখলে নিয়ে তারা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন এই অসহায় বৃদ্ধাকে। বৃহস্পতিবার বিকালে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
গড়মাটি গ্রামের মাতব্বর বাবুল হোসেন বলেন, হাজির উদ্দিন স্বচ্ছল মানুষ ছিলেন। প্রায় আট বছর আগে হাজির উদ্দিন মারা যান। বিধবা স্ত্রী স্বামীর রেখে যাওয়া একটি ঘরে বসবাস করতেন। জায়গাজমি বর্গা দিয়ে যা আসত, তা দিয়ে ভালোই চলত। বাবার মৃত্যুর বছর না ঘুরতেই ছয় ছেলে বাবার জমি ভাগাভাগি করে আলাদা হয়ে যান। মেয়ের বিয়ে হওয়ায় শ্বশুরবাড়িতে চলে যায়। তবু বুঞ্জনী বেওয়ার সময়টা ভালোই কাটছিল। তবে কয়েক বছরের মধ্যে ছেলেমেয়েরা নানা প্রলোভনে তার সব জমি নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন।
থাকার একমাত্র ঘরটিও পঞ্চম ছেলে শহিদুল দখল করে নেন। এতে তিনি পুরোপুরি ছেলেদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ভাত কাপড়ে টান পড়ে তার। বয়সের ভারে চলতে পারেন না। এক ছেলের বাড়িতে সপ্তাহ না যেতেই তাকে অন্য ছেলের বাড়িতে ঠেলে দেয়া হয়।
সবশেষে বৃহস্পতিবার চতুর্থ ছেলে লুৎফর রহমান তার মাকে সাফ জানিয়ে দেন, তাকে খাওয়ানোর মতো খাবার তার ঘরে নেই। তিনি একটা ভ্যান ডেকে ব্যবহারের কিছু জিনিসপত্রসহ তার মাকে গ্রামের দফাদার ইয়াসিন আলীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
ইয়াসিন আলী বলেন, বুঞ্জনী বেওয়ার সব ছেলেমেয়ে মোটামুটি শিক্ষিত ও সচ্ছল। বড় ছেলে মতিউর রহমান গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। অন্যরা ব্যবসা ও কৃষিকাজ করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। অথচ বৃদ্ধার মুখে তিন বেলা খাবার জোটে না। পরনের কাপড়, ওষুধ কেনার টাকা চাইতে হয় অন্যের কাছে।
বুঞ্জনী বেওয়া বলেন, আমি সব জমি ফিরে চাই। জমি না থাকায় ওরা আমাকে ভাত দেয় না। মরে গেলে তো ওই জমি তোরাই পাবি।
বড় ছেলে মতিউর রহমান বলেন, মায়ের সম্পত্তি শেষ হওয়ার পর ভাই ও তাদের বউরা ভাতকাপড় দেয়া নিয়ে পরস্পরের মধ্যে ঠেলাঠেলি শুরু করেছেন। এ কারণে মা বিচারের আশায় বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। পালা করে ভরণপোষণের দায়িত্ব দিলে তিনি তা পালন করবেন। অন্য ভাইয়েরা তা মানবেন কি না, তা নিয়ে তিনি পারিবারিক সভা করবেন বলে জানান।
উপজেলা চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, গড়মাটি গ্রামে গিয়ে ওই বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি। ইউএনওকে বলেছি, এ ব্যাপারে আইনগত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।
ইউএনও আনোয়ার পারভেজ বলেন, ঘটনাটি মেনে নেয়ার মতো না। শেষ পর্যন্ত করোনার ভয় দেখিয়ে শুক্রবার বড় ছেলের কাছে মাকে রেখে আসা হয়েছে। ১১ এপ্রিল ছয় ছেলে ও তাদের বউদের সবাইকে আমার কার্যালয়ে ডেকেছি। সমাধান না হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
করোনাভাইরাস মোকাবেলায় লকডাউনে থাকা জামালপুর পৌরসভার কর্মহীন দরিদ্র মানুষেরা ত্রাণের ট্রাক থামিয়ে যে যার মতো করে চাল-আলুর ব্যাগ ছিনতাই করেছে। ট্রাকটিতে ৬ টন চাল ও ১৮ শ কেজি আলু ছিল। আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জামালপুর শহরের মুকুন্দবাড়ি এলাকায় একজন আওয়ামী লীগ নেতার বাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে বেশ তোলপাড় চলছে।
সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য জামালপুর পৌরসভা থেকে ৬টি ওয়ার্ডের প্রতিটি কাউন্সিলরের নামে ২০০ জন কর্মহীন মানুষের জন্য ২০০ ব্যাগ চাল ও ২০০ ব্যাগ আলু বরাদ্দ দেওয়া হয়। পৃথক ব্যাগের প্রতিটিতে ১০ কেজি করে চাল ও তিন কেজি করে আলু রয়েছে। শহরের মুকুন্দবাড়ি এলাকায় আজ রবিবার সকালে যে ট্রাকটি থেকে চাল-আলুর ব্যাগ কর্মহীন মানুষেরা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে সেই ট্রাকে পৌরসভার ২, ৪ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের বরাদ্দের মোট ৬০০ ব্যাগ চাল ও ৬০০ ব্যাগ আলু ছিল। সেই হিসেবে ট্রাকটিতে ৬ টন চাল ও ১৮ শ কেজি আলু ছিল। ট্রাকটি প্রথমে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জামাল পাশার নামে বরাদ্দের চাল ও আলুর ব্যাগ বানিয়াবাজারে নামিয়ে পরে অন্য দুটি ওয়ার্ডে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পথে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুকুন্দবাড়ি এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সৈয়দ আতিকুর রহমান ছানার বাসার সামনের রাস্তায় ট্রাকটি ঘেরাও করে শত শত কর্মহীন মানুষ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুকুন্দবাড়ি ছাড়াও এ ওয়ার্ডের কয়েকটি পাড়ামহল্লার শত শত কর্মহীন দরিদ্র মানুষ ত্রাণবাহী ট্রাকটি থামিয়ে ঘিরে ধরে। তারা ট্রাকে উঠে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পৃথক ব্যাগে থাকা চাল ও আলুর ব্যাগ নিয়ে দ্রুত কেটে পড়ে। পরে আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আতিকুর রহমান ছানা ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মহীন মানুষদের থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কর্মহীন মানুষেরা সেখান থেকে চলে যায়। ততক্ষণে ট্রাকের ত্রাণের শতকরা ৮৫ ভাগই খালি হয়ে যায়। এ সময় সেখানে উৎসুক জনতারও ভিড় জমে যায়।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জামাল পাশা কালের কণ্ঠকে বলেন, ট্রাক থেকে মুহূর্তের মধ্যে চাল-আলুর ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার পর দেড় শ ব্যাগ অবশিষ্ট ছিল। আমরা তিনজন কাউন্সিলর ভাগ করে নিয়েছি। পরে মেয়র মহোদয় এসে জানিয়ে গেছেন যা হবার হয়েছে। আমরা ঘটনাটা দেখছি। এই তিনটি ওয়ার্ডের জন্য পুনরায় চাল-আলু বরাদ্দ দেওয়ার কথাও বলে গেছেন মেয়র।
ত্রাণ খোয়া যাওয়া অন্য দুটি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহরিয়ার আলম ইদু কালের কণ্ঠকে বলেন, ট্রাকের চাল-আলুর প্রায় সব ব্যাগই ছিনতাই করে নিয়ে গেছে স্থানীয়রা। চাহিদার তুলনায় একদিকে বরাদ্দ খুবই কম। অন্যদিকে ত্রাণ বিতরণে কোনোরূপ নিরাপত্তা না দেওয়ায় হয়তো আজকে এই ঘটনা ঘটেছে। মেয়র মহোদয় আমাদের পুনরায় ত্রাণ বরাদ্দ দিতে চেয়েছেন। জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সৈয়দ আতিকুর রহমান ছানা কালের কণ্ঠকে বলেন, সিংহজানি খাদ্যগুদাম থেকে ত্রাণের চাল নিয়ে যখন উপজেলা পরিষদ থেকে আলুর ব্যাগ ট্রাকে ওঠায় তখনই হয়তো কর্মহীন মানুষেরা ট্রাকটি ফলো করেছে। লকডাউনের কারণে আসলে কর্মহীন মানুষেরা খাদ্য সংকটে পড়ায় অধৈর্য হয়েই হয়তো ট্রাকটি ঘেরাও করে চাল ও আলুর ব্যাগগুলো যে যার মতো নিয়ে গেছে। পুনরায় তিনটি ওয়ার্ডেই ত্রাণ বরাদ্দ দিয়ে শৃঙ্খলার সাথে ত্রাণ বিতরণের ব্যবস্থা করার জন্য আমাদের মেয়রকে বলেছি।
এদিকে ঘটনার কিছুক্ষণ পর জামালপুর পৌরসভার মেয়র মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি, জেলা প্রসাশনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ কবীর উদ্দিন ও সদরের ইউএনও ফরিদা ইয়াছমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ত্রাণ ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুর পৌরসভার মেয়র মির্জা সাখাওয়াতুল মণি কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘটনা শুনেই তো এখানে এসেছি। সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের সাথে কথা বলেছি। তাদের জন্য পুনরায় ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে। সুত্রঃ কালের কন্ঠ
গাজীপুরে লকডাউন ভেঙে রবিবার সকালে বেতনের দাবিতে কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেছে নগরীর সাইনবোর্ড এলাকার ইষ্ট ওয়েষ্ট গ্রুপ ও ভোগড়ার নিউয়ে ফ্যাশনস লিমিটেড এবং টঙ্গীর গাজীপুরার এসআরপি ও মিক সোয়েটার কারখানার শ্রমিকরা। এক পর্যায়ে ইষ্ট ওয়েষ্ট গ্রুপ ও ভোগড়ার নিউয়ে ফ্যাশনস লিমিটেডের শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের শান্ত করে। মালিকপক্ষ ১৬ এপ্রিল বেতন পরিশোধের ঘোষণা দিলে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ তুলে নেয়। ইষ্ট ওয়েষ্ট গ্রুপ ও ভোগড়ার নিউয়ে ফ্যাশনের শ্রমিকরা জানায়, তাদের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।
নিউওয়ে ফ্যাশন লিমিটেডের নিটিং অপারেটর শাহিনা বেগম জানান, তারা দুই মাস ধরে বেতন ভাতা পাচ্ছেন না। কর্তৃপক্ষ দেই দিচ্ছি করে ঘুরাচ্ছে। ঘরে খাবার নেই। বাড়ি ভাড়া ও দোকান বাকী পড়ে আছে। পাওনাদারদের জন্য বাসা থেকে বের হতে পারছেন না। এর মধ্যে গাজীপুর লকডাউন করা হয়েছে। টাকা না থাকায় এখন তাদের না খেয়ে মরার উপক্রম হয়েছে। বাধ্য হয়ে তারা বেতনের দাবিতে সকাল ৯টার দিকে কারখানার সামনে বিক্ষোভ এবং পরে মহাসড়ক অবরোধ করেন।
একাধিক শ্রমিক জানান, সরকার যে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে তা কেবল যারা স্থানীয়রা ও গাজীপুরের ভোটার তারাই পাচ্ছেন। অন্যরা পাচ্ছেন না। বেতন না পেলে সন্তানদের নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। যানবাহন বন্ধ থাকায় সন্তানদের গ্রামের বাড়িতেও রেখে আসতে পারছেন না তারা। গাজীপুর শিল্প পুলিশের সহকারী পরিচালক (সেবা) সুশান্ত সরকার জানান, শিল্প পুলিশ শ্রমিক ও মালিক পক্ষের কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করে। মালিক পক্ষ আগামী ১৬ এপ্রিল বেতন দেয়ার ঘোষণা দিলে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে দুপুর ১২টার দিকে বাসায় ফিরে যায়। সুত্রঃ কালের কন্ঠ
ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে সরকারি খাদ্য কর্মসূচির ৫৬০ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যানসহ চালের ডিলার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন জর্জকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে ।পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তাজকির-উজ-জামানের নেতৃত্বে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের চকঝগড়ু গ্রামে চেয়ারম্যানের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে এসব চাল উদ্ধার ও তাদের আটক করা হয়।বস্তার গায়ে লেখা আছে, ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ।’ যা সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির জন্য দরিদ্র শ্রেণির মানুষের ১০ টাকা কেজির চাল।নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে ১০ কেজি হারে চাল বিক্রি করার কথা থাকলেও বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের চাল বিক্রির যে তালিকা পাওয়া গেছে সেখানেও রয়েছে বিভিন্ন গড়মিল ও অনিয়ম। এমনকি রাতের অভিযানে বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের নসিপুরে যে গোডাউন রয়েছে সেখানে কোনো চাল পাওয়া যায়নি।৫৬০ বস্তা চালের বস্তা পাওয়া গেলেও প্রায় ১ হাজার ৩০ বস্তা চালের তথ্য লাপাত্তা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি জিয়াউর রহমান জানান, এ ঘটনায় চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল্লাহ-আল-মামুন জর্জের বিরুদ্ধে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ওবাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে বুধবার দুপুরে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এরপর তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নিজস্ব সংবাদঃ বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা গ্রামের তরুন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আগামী দিনের সম্ভাব্য পৌর মেয়র পদপ্রার্থী জনাব সাইদুল ইসলামে নিজ উদ্যোগে, বড়লেখা পৌরসভা ব্যাপি ২৫০০ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন।
সাইদুল ইসলাম তার ফেইজবুক আইডি থেকে এক স্টেটাসে বলেন, প্রায়২৫০০এর অধিক পরিবারের জন্য ইতিমধ্যে ত্রানসামগ্রী নিয়ে কাজ শুরু করেছি, মালগুলো প্যাকেটিং করে স্বচ্ছ তালিকা মাধ্যমে খুব শীগগীরই আপনাদের দোয়ারে আমি ও আমার স্বেচ্ছাসেবকরা ত্রান নিয়ে আসছি। সম্মানিত পৌরবাসী আপনারা বিচলিত হবেন না,আমি আপনাদের সাথে আছি। শুধু আপনারা আমার সাথে থাকুন।
জনাব সাইদুল ইসলাম সাহেবের ফেইসবুক আইডির পুস্ট টি দৈনিক বড়লেখা এর পাঠকদের জন্য থেকে হুবুহু তুলে ধরা হলো।
আলহামদূলিল্লাহ, প্রায়২৫০০এর অধিক পরিবারের জন্য ইতিমধ্যে ত্রানসামগ্রী নিয়ে কাজ শুরু করেছি, মালগুলো প্যাকেটিং করে স্বচ্ছ তালিকা করে খুব শীগগীরই আপনাদের দূয়ারে আমি ও আমার স্বেচ্ছাসেবকরা ত্রান নিয়ে আসছি। সম্মানিত পৌরবাসী আপনারা বিচলিত হবেন না,আমি আপনাদের সাথে আছি। শুধু আপনারা আমার সাথে থাকুন। বিনীত, আপনাদের সেবক, সমাজ সেবক সাইদূল ইসলাম সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী বড়লেখা পৌরসভা।
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর এলাকায় আফরোজা খাতুন (১০) নামে এক শিশু আত্মহত্যা করেছে। ১০এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে গলায় ফাঁস নিয়ে নিজ বাড়িতে সে আত্মহত্যা করে। স্বজনরা দাবি করেছেন, কয়েকদিন ধরে অনাহারে পরিবারটি। খাবারের জন্য কান্নাকাটি করায় পিতা থমক দেন আফরোজাকে। তারপরই ঘটে আত্মহত্যার ঘটনা। খাবারের অভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় প্রতিক্রিয়া তৈরী করেছে।
সূত্র জানায়, আফরোজার পিতা আলম শেখ পেশায় তাঁত শ্রমিক। থাকেন কামারপাড়া ওয়াপদা বাঁধে। দুস্থ এ পরিবারটির সন্তান আফরোজা আত্মহত্যা করেছে মূলত ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে। শুক্রবার বিকেলে সে কয়েক দফা খাবার চেয়েছে বাবার কাছে। কিন্তু খাবারের বদলে ধমক শুনতে হয়েছে শিশুকে। স্বজনরা দাবি করেছেন, তাঁত শ্রমিক আলম শেখের কারখানা বন্ধ দশদিন। জমা টাকায় ৪/৫দিন সংসার চললেও গত কয়েকদিন কার্যত অনাহারে ছিলেন শিশুসহ পরিবারের সদস্যরা। এ সময়ে আলম পাননি সরকারি অথবা বেসরকারি সহায়তা। কেউই খোঁজ নেননি। আফরোজার মৃত্যুর পর অনেকে এসেছেন বাড়িতে। পৌর মেয়র শনিবার খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। ওয়াপদা বাঁধে প্রায় ৫ ‘শ পরিবারের বাস। জন প্রতিনিধিরা তাদের অনেকের আইডি কার্ড নিয়ে গেলেও ত্রাণ সহায়তা মেলেনি।
বাবা আলম শেখ বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রশাসন কড়াকড়ি করছে। তাই দশদিন ধরে কাজ করতে পারছিনা। ঘরেই শুয়ে বসে দিন কাটাচ্ছি। হাতে নগদ টাকা নাই,তাই চালডাল কিনতে পারিনি। ঘরে খাবার নেই বলে মেয়ে কান্নাকাটি করছিল। আমি তাকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম। এরপর মেয়েটা আত্মহত্যা করেছে।’
বেলকুচি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর-এ-আলম বলেন,’শিশুর পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।’ বেলকুচি পৌরসভার মেয়র আশানূর বিশ্বাস বলেন, ‘কর্মহীন দুস্থ মানুষের জন্য সরকারি সাহায্য অপর্যাপ্ত। সে কারণে সকল মানুষকে একসাথে ত্রাণ দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। খাদ্য সহায়তা আরো বাড়ানো দরকার।’
বেলকুচির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত-ই-জাহান বলেন, ‘প্রথম দফায় পরিবারটিকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। তারপরও কেন এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শনিবার আবারও পরিবারটিকে ১০ কেজি চাল, ডাল, তেল,পেঁয়াজ, লবণ ও আলু দেওয়া হয়েছে।’
নাহিদ আহমদ : বিশ্বব্যাপি করোনা ভাইরাসের কারনে চরম দূর্ভোগে দিন কাটছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যেবিত্ত পরিবারের মানুষের। অসহায় হয়ে পড়েছে দিনমজুর মানুষ। এই দূর্ভোগে অসহায় দরিদ্র পরিবারের পাশে দাড়ালো বড়লেখার সামাজিক ও ক্রিড়া সংগঠন দক্ষিণ সুড়িকান্দি আদর্শ ক্লাব। প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারের মাঝে বিতরন করা হয়েছে খাদ্য সামগ্রী। বিতরন করা খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তৈল, আলু, পেঁয়াজ, লবন। শনিবার সকালে সুড়িকান্দি গ্রাম সহ নেরাকান্দি, খলাকান্দি, শংকরপুর গ্রামের অসহায় পরিবার এর মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়। এই সময় উপস্তিত ছিলেন দক্ষিণ সুড়িকান্দি আদর্শ ক্লাবের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক চেয়ারম্যান জনাব শফিক উদ্দিন আহমেদ, অত্র ক্লাবের উপদেষ্টা বিশিষ্ট মুরব্বী জনাব হাজী মুছব্বীর আলী সাহেব, বিশিষ্ট মুরব্বী জনাব ফয়জুর রহমান সাহেব, ক্লাবের সাবেক সভাপতি হিফজুর রহমান সুমন, ক্লাবের বর্তমান সভাপতি শফিকুল হক সহ ক্লাবের সদস্য বৃন্দরা উপস্তিত ছিলেন।
করোনা সতর্কতার অংশ হিসেবে বিশ্বের অধিকাংশ কারখানা এখন বন্ধ। এ অবস্থায় শ্রমিকদের পরিণতি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করতে গিয়ে বিজয় মাহতানি মন্তব্য করেন, ‘আমাদের শ্রমিকরা যদি করোনাভাইরাসে না মরে, তারা মরবে অনাহারে, না খেতে পেয়ে।’ করোনাভাইরাসের বিশ্ব মহামারি পোশাক শিল্প খাতে কী প্রভাব ফেলছে সেটি বলতে গিয়েই এ মন্তব্য করেন কারখানাটির চেয়ারম্যান।
‘অ্যামবাটুর ফ্যাশন ইন্ডিয়া’ ভারতের একটি নামি পোশাক কারখানা। মালিকের নাম বিজয় মাহতানি। তাঁর একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য ভাবিয়ে তুলেছে অনেক মানুষকে।
বিজয় মাহতানির সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে আছেন আরো দুজন। এঁরা হলেন অমিত মাহতানি এবং শাওন ইসলাম। তিনটি দেশে ব্যবসা পরিচালনা করেন তাঁরা। সেখানে কাজ করেন প্রায় ১৮ হাজার কর্মী। বাংলাদেশ, ভারত এবং জর্ডানে তাদের কারখানা। কিন্তু করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবসার একটা বিরাট অংশ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। কেবল ঢাকার কারখানাটি অংশত চালু।
শ্রমিকদের তাঁরা যে মজুরি দিতে পারছেন না সেটি কেবল করোনাভাইরাস লকডাউনের কারণে নয়। তাঁদের মূল সমস্যা যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনের বড় বড় ক্রেতাদের অন্যায্য দাবি। ‘অনেক ব্রান্ড সত্যিকারের অংশীদার হিসেবে পাশে দাঁড়াচ্ছে, নীতি-নৈতিকতা মেনে চলছে। তাঁরা চেষ্টা করছেন নগদ অর্থের সরবরাহ যেন অব্যাহত থাকে, যাতে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া যায়’- বলেন অমিত মাহতানি, জর্ডানের টাস্কার অ্যাপারেলের প্রধান নির্বাহী।
অমিত মাহতানি আরো বলেন, ‘কিন্তু আমাদের এমন অভিজ্ঞতাও হয়েছে যেখানে তৈরি হচ্ছে বা হয়ে গেছে এমন জিনিসের অর্ডার বাতিলের জন্য তাঁরা চাপ দিয়েছেন। ট্রানজিটে আছে এমন পণ্য বা বকেয়া পাওনার ওপর ডিসকাউন্ট দাবি করেছেন। অনেকে বকেয়া পরিশোধের সময় আরো ৩০ বা ১২০ দিন পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
একটি ই-মেইল দেখা গেছে, একটি মার্কিন কম্পানি সব ধরনের অর্ডারে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট চেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এরইমধ্যে ডেলিভারি দিয়ে দেওয়া পণ্যও। তাঁরা কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন ‘অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এখন যেতে হচ্ছে’।
‘শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ কীভাবে রক্ষা করা যায় সেটাই কেবল তাঁদের চিন্তা, গার্মেন্টস শ্রমিকদের কথা তারা বিবেচনাতেই রাখছে না। দায়িত্বশীলভাবে পণ্য সংগ্রহের যে কথা তারা বলে, তার তোয়াক্কা না করে তারা এখন ভণ্ডামির আশ্রয় নিচ্ছে’- বলেন বিজয় মাহতানি।
বিজয় আরো বলেন, ‘ব্রান্ডগুলোর মনোযোগ থাকে শেয়ারের দামের দিকে। তাদের হাতে এই দুর্যোগের সময় যথেষ্ট অর্থ নেই। পুরো সাপ্লাই চেইনে তারাই এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে। তারা এখন আমাদের কাছে আবেদন জানাচ্ছে সাহায্যের জন্য। যখন তাদের কীনা দেউলিয়াত্ব থেকে বাঁচতে মার্কিন সরকারের আর্থিক প্রণোদনা পেতে আবেদন করা উচিত।’
এসব ঘটছে এমন এক সময় যখন করোনাভাইরাস লকডাউনের কারণে পোশাক প্রস্তুতকারকরা দুদিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত।
প্রথম সমস্যা দেখা দিয়েছিল গত ফেব্রুয়ারিতে, যখন চীন থেকে কাঁচামাল আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। চীন হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাপড় রপ্তানিকারক। বছরে ১১৮ বিলিয়ন ডলারের কাপড় রপ্তানি করেন তারা।
এরপর সম্প্রতি যখন চীনের টেক্সটাইল কারখানাগুলো খুলতে শুরু করে, গার্মেন্টস কারখানা মালিকরা আশা করছিলেন এবার তারা উৎপাদন আগের অবস্থায় নিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু তারপর এলো দ্বিতীয় ধাক্কা- বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লকডাউনের কারণে বন্ধ হয়ে গেল দোকান-পাট। চাহিদা পড়ে গেল রাতারাতি।
গুরুত্বপূর্ণ শিল্প চীনকে বলা হয় সারা বিশ্বের কারখানা। কিন্তু তৈরি পোশাকের বেলায় বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ক্যাম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম এবং মিয়ানমার পালন করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
‘গত ১০ বছর ধরে তৈরি পোশাক শিল্প চীন থেকে অন্যান্য দেশে সরে যাচ্ছে। কারণ চীনে এখন খরচ পড়ছে বেশি’, বলছেন পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘লিভার স্টাইলে’র স্ট্যানলি সেটো। নামকরা সব ব্রান্ডের পোশাক সরবরাহ করে তার কম্পানি।
এর মানে হচ্ছে এশিয়ার অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য পোশাক শিল্প এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পোশাক রফতানিকারক চারটি দেশের দুটি হচ্ছে বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনাম । বিশ্ব বাজারে মোট রফতানির ৬ দশমিক ৭ শতাংশ যায় বাংলাদেশ থেকে, আর ৫ দশমিক ৭ শতাংশ ভিয়েতনাম থেকে।
বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। গত বছর বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এসেছে এই খাত থেকে। ক্যাম্বোডিয়া এবং শ্রীলংকাও এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। তাদের রফতানির ৬০ শতাংশ হচ্ছে তৈরি পোশাক। বাংলাদেশে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে যত মানুষ কাজ করে, তার প্রায় অর্ধেক এই শিল্পে নিয়োজিত। অন্যদিকে ক্যাম্বোডিয়ায় আরো বেশি, প্রায় ৬০ শতাংশ।
ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের ফ্যাশন অ্যান্ড অ্যাপারেল স্টাডিজের শেং লু বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, ক্যাম্বোডিয়া এবং ভারতের গার্মেন্টস শিল্পে ৪ হতে ৯ শতাংশ পর্যন্ত মানুষ কাজ হারাতে পারে। এ কারণেই বাংলাদেশ সরকার তৈরি পোশাক শিল্পকে সাহায্য করার চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশের স্প্যারো অ্যাপারেলসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাওন ইসলাম বলেন, ‘সরকার খুবই উদার এক আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে যাতে শ্রমিকদের বেতনে ভর্তুকি দেয়া যায়, ব্যাংক ঋণের মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়া যায় এবং সুদের হার যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রাখা যায়। যে ঝড় আসছে তার মোকাবেলায় এটা হয়তো যথেষ্ট নয়, তারপরও এটি আমাদের সাহায্য করবে।’
ক্যাম্বোডিয়ার সরকারও পোশাক খাতের জন্য নানা রকম সহায়তা ঘোষণা করেছে। শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার জন্য ভর্তুকির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
প্রফেসর লু বলেন, এসব দেশকে এরকম পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে কারণ মহামারির কারণে শ্রমিক সংকট থেকে শুরু করে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাওয়া- এরকম নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে কোনো কোনো ব্র্যান্ড সমালোচনার মুখে এখন অঙ্গীকার করছে যে তারা তাদের বতর্মান সব অর্ডারের পুরু দাম শোধ করবে। যেমন এইচ-অ্যান্ড-এম এবং ইনডিটেক্স এমন ঘোষণা দিয়েছে।
‘লেবার বিহাইন্ড লেবেল’ নামে এ কটি শ্রমিক অধিকার সংস্থার ডোমিনিক মুলার বলেন, ‘ব্রান্ডগুলো বহু বছর ধরে কম মজুরির দেশগুলোতে পোশাক বানিয়ে মুনাফা করেছে। এসব দেশে কোনো ধরনের সোশ্যাল সিকিউরিটির ব্যবস্থা নেই। এই বিজনেস মডেলে কোনো কোনো ব্রান্ডের তো বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে শ্রমিকদের যেভাবে শোষণ করা হয়েছে এখন সেই দেনা পরিশোধের পালা।’
কারখানা মালিক অমিত মাহতানি একথার সঙ্গে একমত। তিনি বলেন, ‘বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এই শিল্পকে রক্ষায় ধনী দেশগুলোকে বেইলআউটের ব্যবস্থা করতে হবে।’
শুক্রবার ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারী জবানবন্দি রেকর্ড এবং কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।
এর আগে পুলিশ চার আসামিকে আদালতে হাজির করে। জিসান এবং আনোয়ার হোসেন স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আব্দুল আলীম ও লিখন শেখকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।
করোনা পরিস্থিতিতে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠির ত্রাণে চুরি ও দুর্নীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি। আজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আহবান জানান সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাড.ছানোয়ার হোসেন তালুকদার। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতে হতদরিদ্র কর্মহীনদের মাঝে ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ভয়ংকর চুরি নিরন্ন মানুষের হাহাকারে পরিনত হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে হতদরিদ্রদের খাদ্যসংকট সৃষ্টি হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, ত্রাণে সরকারী দলের সম্পৃক্ততায় যে বেহাল অবস্থা তা ইতিমধ্যে দেশবাসী প্রত্যক্ষ করছে। ত্রাণ বিতরনে প্রশাসনের সাথে পেশাজীবিদের নিয়ে সর্বদলীয় কমিটি গঠন করতে হবে এবং করোনাভাইরাস সংক্রমন বিস্তাররোধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
প্রতিপক্ষের সঙ্গে ঝামেলা চলছিল। দরকার একটি লাশ। এরই বলি হয় নরসিংদীর বাহের চর এলাকার দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু ইলমা বেগম (১১)। শিশুটির বাবা ৩০ লাখ টাকায় একটি পক্ষের সঙ্গে চুক্তি করেন মেয়েকে হত্যার জন্য। নির্মম ওই ঘটনা জানতেন শিশুটির মা। এজন্য তারা চার লাখ টাকাও পেয়েছিলেন। পুরো হত্যার নেতৃত্ব দেন শিশুটির ফুফাতো ভাই।
২০১৫ সালের মার্চে ওই হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছরের মাথায় সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগ ওই নৃশংসতার রহস্য উদ্ঘাটন করে।
নরসিংদীর মাধবদী থেকে ইলমার বাবা আবদুল মোতালিব, মা মঙ্গলী বেগম, ফুপাত ভাই মাসুম মিয়া, শাহজাহান ভূঁইয়া ও মো. বাতেন নামে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করলে এই রহস্য বেরিয়ে আসে। এরইমধ্যে মাসুম মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সোমবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে ইলমা হত্যা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সিআইডি কর্মকর্তারা। সেখানে সংস্থাটির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ইলমা তার বাবার লোভের বলি হয়েছিল। নরসিংদীর বাহের চরে স্থানীয় শাহজাহান ভূঁইয়া ও সাবেক মেম্বার বাচ্চুর নেতৃত্বে দুটি দলের প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিবাদ চলে আসছিল। শাহজাহান ভূঁইয়ার লোকজন প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে শিশু হত্যার পরিকল্পনা করে। এর বিনিময়ে তিনি ইলমার বাবা আবদুল মোতালেবকে ৩০ লাখ টাকা দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন। টাকার লোভে ইলমার বাবা মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেয়।
সিআইডি কর্মকর্তারা বলছেন, শিশু ইলমা হত্যায় নেতৃত্ব দেওয়া মাসুম মিয়া জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে। সে জানায়, ইলমাকে হত্যার পরিকল্পনা হয় ২০১৫ সালের ১ মার্চ। ওই রাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১৩ জন উপস্থিত ছিল। সিদ্ধান্ত অনুসারে ইলমার বাবাকে সন্তানের বিনিময়ে ৩০ লাখ টাকার টোপ দেওয়া হয়। তাতেই রাজি হয়ে যান তিনি। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় ইলমার দুলাভাই বাবুল বাড়ির পাশে নূরার দোকান থেকে ইলমাকে জিনিসপত্র কিনতে পাঠান। বাড়ি ফেরার পথে দুলাভাই বাবুল ও ফুপাতো ভাই মাসুমের নেতৃত্বে সাত-আট জন শিশুটিকে তুলে নিয়ে যায়। পরে ইট ও মুগুর দিয়ে মাথা থেঁতলে ও গলাটিপে তাকে হত্যা করা হয়।
মাসুম মিয়া দাবি করেছে, ওই সময়ে ইলমার বাবা পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ইলমার বাবা মোতালিব মূল আসামিদের বাদ দিয়ে বিরোধী পক্ষ বাচ্চু গ্রুপের বিলকিস, খোরশেদ, নাসুসহ অজ্ঞাত চার-পাঁচ জনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের আগে ইলমার বাবাকে চার লাখ টাকা দেওয়া হলেও পরে আর তাকে টাকা দেওয়া হয়নি।
সিআইডির একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ইলমার বাবার সঙ্গে চুক্তি ছিল হত্যার আগে তিনি সব টাকা পাবেন। কিন্তু মেয়েকে হত্যার প্রস্তুতির সময়ে তাকে মাত্র চার লাখ টাকা দেওয়া হয়। ওই সময়ে তিনি মূল খুনি তার ভাগ্নে মাসুম মিয়ার উদ্দেশ্যে বলতে থাকে ‘আগে টাকা দাও পরে কাম সারো’। অবশ্য শেষ পর্যন্ত তিনি আর সব টাকা পাননি। জেলে যাওয়ার ভয়ে পুলিশের কাছেও মুখ খোলেননি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয় একজন আসামির স্বীকারোক্তিতেই শিশুটির বাবা-মায়ের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় কি না? এই প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি ইমতিয়াজ বলেন, ইলমার বাবা-মা মূল আসামির নাম এজাহারে উল্লেখই করেননি। এমনকি তদন্ত করার সময় ইলমার বাবা একেকবার একেকজনের নাম এজাহারভুক্ত করার আবদার নিয়ে এসেছেন। সন্তান হত্যার বিচার না চেয়ে তিনি বারবার আসামির নাম বদলানোর অনুরোধ নিয়ে পুলিশের কাছে আসেন। এ ছাড়া ইলমার সুরতহাল প্রতিবেদনে যেখানে যেখানে আঘাতের কথা বলা হয়েছে, মাসুম ঠিক সে জায়গাগুলোরই উল্লেখ করেছে। এর বাইরেও তারা নানা আলামত বিশ্নেষণ ও তদন্ত অব্যাহত রেখেছেন।
সিআইডির তদন্ত সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, নরসিংদী থানার বাহেরচরে শাহজাহান ভূইয়া ও সাবেক মেম্বার বাচ্চুর নেতৃত্বে দুটি দলের মধ্যে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে মাঝেমধ্যেই ঝামেলা হতো। শাহজাহান গ্রুপের সদস্য ও ইলমার ফুফাতো ভাই মাসুমের সঙ্গে বাচ্চু গ্রুপের সদস্য তোফাজ্জলের মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই মেয়েকে তুলে নিয়ে মাসুম তার ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি রেখেছিল। তোফাজ্জল দলবল নিয়ে মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। ওই ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মাসুম, তার ভাই খসরু ও ভাইয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় অপহরণ মামলা করেন। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছালে বাচ্চু গ্রুপের সদস্যদের ক্ষতি করতে শাহজাহানের অনুসারীরা ইলমাকে খুনের পরিকল্পনা করে।
সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা জানান, খুন ও পরিকল্পনায় জড়িত অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এবার রাজধানীতে অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেবার ঘোষণা দিয়েছে যুবলীগ। আজ বৃহস্পতিবার যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল এক যুক্ত বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার কারনে বাংলাদেশের মানুষ আজ সংকটময় সময় পার করছেন। ঢাকা মহানগর এর রোগীদের যাতায়াতের সংকট বিবেচনা করে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ দুটি এ্যাম্বুলেন্স ঢাকা মহানগরে ২৪ ঘন্টা ফ্রী সার্ভিস দেওয়ার সিন্ধান্ত গ্রহন করেছেন। যুবলীগের ফ্রী এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নেয়ার জন্য সার্বক্ষণিক ( ০১৭১২০৪১০০৮ ও ০১৭২০৩৮২৫৩৭) মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে যুবলীগের নেতাকর্মীদের সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে এবং জনসমাগম পরিহার করে সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মহীন মানুষকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন তারা।
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সারাদেশে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাঁশে শুরু থেকেই দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ যুবলীগ। যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নির্দেশনায় সারাদেশে যুবলীগের নেতাকর্মীরা বিনামূল্যে মাস্ক, হ্যান্ড ওয়াশ, স্যানিটাইজার, হেক্সিসলসহ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন সামগ্রী বিতরণ করছে। ২৬ মার্চ থেকে অঘোষিত লকডাউন শুরুর পর হতে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি সারাদেশে জেলা-উপজেলা ও মহানগর নেতারা প্রতিরোধ সামগ্রীর সঙ্গে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছে।
নিজস্ব সংবাদঃ সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান পরিবহনের সাধারণ কর্তৃপক্ষ: রিয়াদ, জেদ্দা এবং দাম্মামের তিনটি বিমানবন্দর বিদেশ থেকে নাগরিক গ্রহণের জন্য প্রস্তুত বলে বার্তা দিয়েছে সৌদি( অনলাইন ) গেজেটে।
ফয়সাল মাহমুদ বড়লেখাঃ করোনা ভাইরাসের কারণে ঘোষিত লকডাউনে গৃহবন্ধি মানুষের এই ক্রান্তিলগ্নে সারাদেশের ন্যায় করোনার প্রাদুর্ভাব রোধে সব কিছু বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন মৌলভীবাজারের বড়লেখার নিম্ন আয়ের মানুষেরা।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকালে বড়লেখার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির সমাজকল্যাণ পরিষদ দক্ষিণ মুছেগুল এর উদ্যোগে মুছেগুল এলাকায় ১০০ দুস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে। এরমধ্যে চাল,সয়াবিন তেল,পেঁয়াজ ও আলু বিতরণ করা হয়।
ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, পরিষদের উপদেষ্টা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মাওলানা আলিম উদ্দীন, হাফিজ আবুল হোসেন। সভাপতি জুবায়ের আহমদ শিমুল, সিনিয়র সহ সভাপতি হাফিজ হারুনুর রশিদ, অর্থ সম্পাদক হেলাল,সাইফুর রহমান রুহেল, তাওহিদ আহমদ ফাহিম, সদস্য জাকির হোসেন,মারওয়ান আহমদ, জামিল আহমদ, শিপান আহমদ, খালিদ হাসান ছাঈদ প্রমুখ।
সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি জুবায়ের আহমদ শিমুল জানান, যারা দিন আনে দিন খায় এমন শ্রমজীবী মানুষ করোনার কারণে অসহায় হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় ওইসব দিনমজুর মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সমাজকল্যাণ পরিষদ দক্ষিণ মুছেগুল। এর আগেও সমাজকল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে এবং এ নিয়ে দ্বিতীয় ধাপে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।
নিজস্ব সংবাদঃমৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা জামাতে ইসলামি ও ছাত্রশিবিরের যৌথ উদ্দোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে করোনাভাইরাসের কারনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার কে এ সহযোগিতা প্রদান করা হয়। পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্য উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জনাব ফয়সল আহমদ সংঘটনের সকল পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও জনশক্তির প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।
নিউজ ডেস্কঃ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গালুয়া দুর্গাপুরে (২৫) বছর বয়সী মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার নির্মাণ শ্রমিক সুজন (২২) এর বিরুদ্ধে। সুজন ওই এলাকার তার নানা মৃত আইয়েব আলী খানের বাড়ীতে থাকে এবং সে গালুয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড এলাকার রুস্তুম তালুকদারের ছেলে। ধর্ষণের শিকার নারীর মা’ নাসিমা বেগম জানান, আমার মেয়ে দীর্ঘ ১০-১২ বছর যাবত মানষিক প্রতিবন্ধী ও ভারসাম্যহীন অবস্থায় আছে। তাকে আমরা বিভিন্ন সময় চিকিৎসা করিয়াছি কিন্তু সুস্থ হননি। তাকে ঘরে রাখলে সে মানসিক ভাবে উত্তেজিত হয়ে ঘরের সকল আসবাবপত্র ভাংচুর করে। তার জন্য তাকে আমাদের বারান্দায় রাখি। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার রাতে আমার মেয়েকে সুজন ধর্ষণ করে। তখন মেয়ের চিৎকার শুনে আমি ও আমার অন্য মেয়ে বারান্দায় ছুটে আসলে সুজন পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে সুজনের পরিবারের কাছে বিচার দিলে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে আমি ও আমার কলেজ পড়–য়া অন্য মেয়ের উপর হামলা চালায় এবং এক পর্যায় স্থানীয়রা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তখন সুজন আমার আরেক কলেজ পড়ুয়া মেয়েকেও ধর্ষণের হুমকি দেয়। সুজন এর আগেও মানুষিক প্রতিবন্ধী মেয়েটির সাথে এমন ঘটনা ঘটিয়ে ধামাচাপা দেয়া হয় বলেও অভিযোগ মায়ের।
রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহিদ হোসেন জানান, মৌখিক ভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে ।
নিউজ ডেস্কঃ দেশে করোনাভাইরাসে নতুন করে আরও ৯৪ জন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এতে দেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৪ জনে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ছয়জন। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা। নিজের বাসা থেকে যুক্ত হন রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।
বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ২৯৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ১ হাজার ১৮৪টি। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭ হাজার ৩৫৯টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় ৯৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ঢাকায় শনাক্ত হয়েছেন ৩৭ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নারায়ণগঞ্জে শনাক্ত হয়েছেন ১৬ জন। নতুন রোগীদের মধ্যে ৬৯ জন পুরুষ, ২৫ জন নারী। করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৪২৪।
আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৬ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭-এ। যারা মারা গেছেন, তাদের ৩ জন রাজধানী ঢাকার, ২ জন নারায়ণগঞ্জের এবং ১ জন পটুয়াখালীর ছিলেন।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে বৈশ্বিক মহামারিতে পরিণত করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত প্রায় সোয়া ১৬ লাখের বেশি। মারা গেছেন প্রায় ৯৬ হাজার মানুষ। তবে সাড়ে ৩ লাখের মতো রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।
গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও গত ক’দিনে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। সবশেষ হিসাবে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪২৪। মারা গেছেন ২৭ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩৩ জন।
প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে; যার মূলে রয়েছে মানুষে মানুষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। মানুষকে ঘরে রাখতে রাজপথের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী, র্যাব ও পুলিশ।
নিউজ ডেস্কঃ দেশে করোনাভাইরাসে নতুন করে আরও ৯৪ জন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এতে দেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৪ জনে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ছয়জন। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা। নিজের বাসা থেকে যুক্ত হন রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।
বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ২৯৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ১ হাজার ১৮৪টি। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭ হাজার ৩৫৯টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় ৯৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ঢাকায় শনাক্ত হয়েছেন ৩৭ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নারায়ণগঞ্জে শনাক্ত হয়েছেন ১৬ জন। নতুন রোগীদের মধ্যে ৬৯ জন পুরুষ, ২৫ জন নারী। করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৪২৪।
আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৬ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭-এ। যারা মারা গেছেন, তাদের ৩ জন রাজধানী ঢাকার, ২ জন নারায়ণগঞ্জের এবং ১ জন পটুয়াখালীর ছিলেন।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে বৈশ্বিক মহামারিতে পরিণত করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত প্রায় সোয়া ১৬ লাখের বেশি। মারা গেছেন প্রায় ৯৬ হাজার মানুষ। তবে সাড়ে ৩ লাখের মতো রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।
গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও গত ক’দিনে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। সবশেষ হিসাবে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪২৪। মারা গেছেন ২৭ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩৩ জন।
প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে; যার মূলে রয়েছে মানুষে মানুষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। মানুষকে ঘরে রাখতে রাজপথের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী, র্যাব ও পুলিশ।
নিউজ ডেস্কঃ দিন দিন বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। অার এসব রোগীদের চিকিৎসা করতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছে চিকিৎসকরা। সর্বশেষ পপুলার হাসপাতালের এক ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন গতকাল। তার সংস্পর্শে আসা পাঁচ চিকিৎসকে কোয়ারিন্টিনে রাখা হয়েছে বলা জানা গেছে। চিকিৎসকদের আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। দেশে এই পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২২ জন চিকিৎসক ,আইসোলশনে আছেন আরো ৮৭ জন। তথ্যটি মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ডক্টর ফাউন্ডেশন। জানা যায়, চিকিৎসকদের আইসোলেশনে থাকার সংখ্যাটি হুহু করে বাড়ছে। ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টিবোর্ডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডা.কাউসার বলেন, সারা দেশে এখন পর্যন্ত ২২জন ডাক্তারের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ পপুলার হাসাপাতালের এক চিকিসৎকের করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে।
আইসোলেশনে আছেন আরো ৮৭ জন। এসব ডাক্তারদের অনেকেই মেসে বা আলাদা বাসা নিয়ে থাকে। তাদেরকে খাবার থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব কিছু সরবরাহ করছি আমরা। শুধু তাই নয় তাদের চিকিৎসা সেবাও দিয়ে যাচ্ছি। সবসময় তাদের ফলোআপের মধ্যে রাখছি।
নিউজ ডেস্কঃ দিন দিন বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। অার এসব রোগীদের চিকিৎসা করতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছে চিকিৎসকরা। সর্বশেষ পপুলার হাসপাতালের এক ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন গতকাল। তার সংস্পর্শে আসা পাঁচ চিকিৎসকে কোয়ারিন্টিনে রাখা হয়েছে বলা জানা গেছে। চিকিৎসকদের আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। দেশে এই পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২২ জন চিকিৎসক ,আইসোলশনে আছেন আরো ৮৭ জন। তথ্যটি মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ডক্টর ফাউন্ডেশন। জানা যায়, চিকিৎসকদের আইসোলেশনে থাকার সংখ্যাটি হুহু করে বাড়ছে। ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টিবোর্ডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডা.কাউসার বলেন, সারা দেশে এখন পর্যন্ত ২২জন ডাক্তারের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ পপুলার হাসাপাতালের এক চিকিসৎকের করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে।
আইসোলেশনে আছেন আরো ৮৭ জন। এসব ডাক্তারদের অনেকেই মেসে বা আলাদা বাসা নিয়ে থাকে। তাদেরকে খাবার থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব কিছু সরবরাহ করছি আমরা। শুধু তাই নয় তাদের চিকিৎসা সেবাও দিয়ে যাচ্ছি। সবসময় তাদের ফলোআপের মধ্যে রাখছি।
নিউজ ডেস্কঃ সিলেট শহরতলীর হায়দরপুরে রাতের আধারে প্রবাসীকে কুপিয়ে খুন করেছে অজ্ঞাত ঘাতকরা। নিহত ওই প্রবাসীর নাম ফাহিম আহমদ। তিনি টুকেরবাজারের হায়দরপুর গ্রামের আব্দুল মানিকের ছেলে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- ফাহিম আহমদ কাতার প্রবাসী। তিনি ছুটি কাটাতে প্রায় ৩ মাস আগে দেশে ফিরেন। করোনাভাইরাসের কাছে কর্মস্থলে ফিরতে তার বিলম্ব হচ্ছিলো।
তারা জানান- বৃহস্পতিবার শবে বরাতের রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ফাহিমের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। পরে তারা স্থানীয় জালালাবাদ থানার পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা জানিয়েছেন- জালালাবাদ থানা পুলিশ রাতে কাতার প্রবাসী এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে- পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ওই প্রবাসীকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ খুনের ঘটনাটি তদন্ত করছে বলে জানান তিনি।
নিউজ ডেস্কঃ অন্ধ্রপ্রদেশের নেলোরে লকডাউনে আটকাপড়া ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসতে স্কুটারে করে এক হাজার ৪০০ কিলোমিটার পাড়ি দিলেন তেলেঙ্গানার এক মা।
রাজিয়া বেগম নামের ওই নারী একটানা তিন দিন স্কুটার চালিয়ে ছেলেকে ফেরত দিয়ে আসেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে জানা যায়, স্থানীয় পুলিশের অনুমতি নিয়ে সোমবার সকালে এই দুঃসাধ্য যাত্রায় বের হন তিনি। এরপর একাই তিনি নেলোরে পৌঁছান। এরপর বুধবার তার সন্তানকে নিয়ে ফিরে আসেন।
বৃহস্পতিবার পিটিআইকে রাজিয়া বলেন, একজন নারীর জন্য এটা ছিল এক কঠিন যাত্রা। কিন্তু ছেলেকে ঘরে নিয়ে আসার অনড় সিদ্ধান্ত সেই ভয়কে জয় করেছে। সঙ্গে রুটি নিয়েছিলাম, পথে সেগুলো খেয়েই বেঁচেছিলাম।
‘রাতে যখন স্কুটার চালিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন রাস্তায় কোনো লোকজন ছিল না। চারদিকে কেবলই নীরবতা।’
নিজামাবাদের একটি সরকারি স্কুলের প্রধানশিক্ষিকা রাজিয়া বেগম। ১৫ বছর আগে তার স্বামীর মৃত্যুর পর দুই ছেলেকে নিয়ে বেঁচে আছেন তিনি।
এক ছেলে প্রকৌশলবিদ্যায় স্নাতক করেছেন। নিজামুদ্দিন নামের ১৯ বছর বয়সী আরেক ছেলে মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার কোচিং করছেন।
বন্ধুকে পৌঁছে দিতে গত ১২ মার্চ নিজামুদ্দিন নেলোরের রহমতাবাদ যান। কিন্তু লকডাউনের কারণে সেখানে আটকা পড়েন। ছেলের বাড়িতে ফেরার আকুতি শুনে রাজিয়া বেগম ঘরে বসে থাকতে পারেননি। তিনি নিজেই স্কুটার নিয়ে বেরিয়ে পড়েন।
ছেলের লাশ আইসোলেশন ওয়ার্ডে।অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করার জন্য কেউ আসছিলেন না। ভবনের প্রবেশ পথে দাঁড়িয়ে আহাজারি করছিলেন মা। সদর হাসপাতাল, শরীয়তপুর, ৯ এপ্রিল। ছবি: সংগৃহীত
নিউজ ডেস্কঃশরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়নের কলারগাঁও গ্রামের সুশান্ত কর্মকার (৩৪)। পা ফোলা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে ভর্তি হন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকির আশঙ্কায় তাঁকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে বুধবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর স্বজন ও গ্রামবাসী কেউ লাশ দেখতে আসেননি। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করার জন্যও এগিয়ে আসেননি কেউ। ছেলের লাশের পাশে মা গঙ্গা রানী কর্মকার আহাজারি আর আর্তনাদ করে যাচ্ছিলেন। ফোনে স্বজন, অন্য সন্তান আর গ্রামবাসীকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করছিলেন। কিন্তু কেউ তাঁর আর্তনাদে সাড়া দেননি। এমনকি সুশান্তর বড় ভাই, চার বোন ও বোনের পরিবারের সদস্যরাও ফিরে তাকাননি।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করা নিয়ে বিপাকে পড়েন সুশান্তের মা রানী কর্মকার ও স্থানীয় প্রশাসন। তখন শরীয়তপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজন পাল উদ্যোগ নেন। তিনি ওই গ্রামবাসী ও ডিঙ্গামানিক শ্রীশ্রী সত্য নারায়ণের সেবা মন্দিরের কমিটির সদস্যদের নিয়ে সভা করেন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মন্দিরের শ্মশানে ওই যুবককে দাহ করা হবে। কিন্তু দাহ করার কাজে যুক্ত হতে কেউ রাজি হচ্ছিলেন না। তখন রাজন পালের সঙ্গে যোগ দেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি ত্রিনাথ ঘোষ, যুগ্ম সাধারণ সস্পাদক মিহির চক্রবর্তী, সদস্য দিলীপ ঘোষ, নড়িয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি চন্দন ব্যানার্জি। তাঁরা গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ওই গ্রামবাসী ও যুবকের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু লাশের কাছে কেউ আসতে রাজি হচ্ছিলেন না। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন পড়ে বিপাকে। তখন লাশ দাহ না করে বিকল্প ভাবতে থাকে প্রশাসন। পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার দুই যুবক ও নড়িয়া উপজেলার তিন যুবক দাহকাজ করতে রাজি হন। পরে তাঁদের সহযোগিতায় ছেলে মারা যাওয়ার ২১ ঘণ্টা পর বেলা পৌনে একটার দিকে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ নিয়ে ডিঙ্গামানিকে শ্রীশ্রী সত্য নারায়ণের সেবা মন্দিরে রওনা হন বৃদ্ধ গঙ্গা রানী কর্মকার। যাওয়ার সময় হাসপাতাল চত্বরে আহাজারি করে তিনি বলেন, ‘জীবনের শেষ বয়সে ছেলের লাশের ভার আমাকে এভাবে বইতে হবে, তা ভাবতে পারিনি। এভাবে মানুষের মানবতা হারিয়ে গেল? কী হবে এ পৃথিবীতে বেঁচে থেকে? কিসের জন্য বেঁচে থাকা? মানুষের কল্যাণের জন্যই যদি কাজ না করতে পারি। কেউ আমার আর্তনাদ শুনল না। সন্তান, স্বজন, গ্রামবাসী কেউ না। আমার মতো এমন পরিণতি কাউকে যেন দেখতে না হয়।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়ন্তী রুপা রায় বলেন, ‘করোনায় মৃত অথবা করোনা সন্দেহ আছে, এমন মৃতদেহ বিশেষ সুরক্ষা মেনে সৎকার করতে হয়। আমরা সে অনুযায়ী পিপিই সরবরাহ করেছি। কিন্তু কাউকেই রাজি করাতে পারছিলাম না। যাকেই রাজি করাই, তিনিই পালিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে অন্য উপজেলার ও নড়িয়ার অন্য ইউনিয়নের যুবকেরা এগিয়ে আসেন।’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সত্য নারায়ণের সেবা মন্দিরে ওই যুবকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কাজ শেষ করা হয়। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কাজ সম্পন্ন করেছেন ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর গ্রামের পরিমল বাড়ৈ, রণজিৎ মণ্ডল, নড়িয়ার বাড়ৈপারা গ্রামের উত্তম পাল, ঘড়িসার গ্রামের অনুকূল ঘোষ ও চাকধ গ্রামের সঞ্জয় বণিক।
এদিকে সুশান্তকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করার পর মঙ্গলবার দুপুরেই করোনা পরীক্ষার জন্য তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়। পরে প্রতিবেদনে দেখা যায় ওই যুবকের করোনা শনাক্ত হয়নি। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের চিকিৎসক আবদুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মঙ্গলবার ওই যুবকের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। বুধবার করোনা প্রতিবেদনে তাঁর নেগেটিভ ফল আসে।’
মারা যাওয়া সুশান্ত কর্মকার স্থানীয় ঘড়িসার বাজারের একটি স্বর্ণের গয়না প্রস্তুত কারখানায় কাজ করতেন। তাঁর আরেক ভাই ও চার বোন আছে। বেশ কয়েক বছর আগে বাবা মারা গেছেন। বড় ভাই তাঁর স্ত্রী–সন্তান নিয়ে আলাদা থাকেন। চার বোনই বিয়ের পর তাঁদের স্বামীদের সঙ্গে থাকেন। মা গঙ্গা রানীকে নিয়ে সুশান্ত কলারগাঁও গ্রামে পৈতৃক ভিটায় থাকতেন। বেশ কিছু দিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিল পা ফুলে যাওয়ার সমস্যা। এমন পরিস্থিতির মধ্যে গত মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর মা নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে পাঠানো হয় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে। শ্বাসকষ্ট থাকায় করোনা সন্দেহে সুশান্তকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল।
ডিঙ্গামানিক সত্য নারায়ণের সেবা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক মুকুল চন্দ্র রায় বলেন, ‘ওই যুবকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কাজে কেউ রাজি হচ্ছিল না। কোনো শ্মশানেও নিতে চাচ্ছিল না। তখন আমরা রাজি হই। এভাবে অবহেলা করা ঠিক হয়নি।’
শরীয়তপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানিক ব্যানার্জি বলেন, ‘যখন শুনতে পাই হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির মরদেহ হাসপাতালে পড়ে আছে, কেউ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় সহায়তা করছে না, তখন মনটা খারাপ হয়ে যায়। ঢাকায় অবস্থান করার কারণে আমি যেতে পারিনি। কিন্তু আমাদের স্থানীয় নেতাদের মাঠে নামিয়ে দিই। যেকোনো উপায়ে যথাযথ ধর্মীয় নিয়মে ওই যুবকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মারা যাওয়ার ২১ ঘণ্টা পর তাঁর লাশ হাসপাতাল থেকে এনে দাহ কাজ শুরু করা হয়। এ কাজটি না করতে পারলে সমাজে মুখ দেখাতে পারতাম না।’
জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, ‘করোনা সন্দেহ করে কেউ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কাজে এগিয়ে আসতে চাচ্ছিল না। বিষয়টি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগের মধ্যে ছিলাম। পরবর্তী সময়ে পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতাদের উদ্যোগে তা সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার কমিটি গঠন করা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিউজ ডেস্কঃ মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন স্থানীয় সাগর মণ্ডল (৪৪) নামের এক ব্যক্তি। এ সময় নিজেকে রক্ষা করতে ওই গৃহবধূ ধর্ষকের জিব কামড়ে ছিঁড়ে ফেলেন।
গত সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে উপজেলার একটি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। সাগরের এক ইঞ্চি জিব বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে তাঁকে রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই দিন ঘটনাস্থলে একটি বিয়ের আয়োজন চলছিল। সেখানে সাউন্ড বক্সে জোরে গান বাজছিল। রাত একটার দিকে ওই নারী নিজের ঘরে যাচ্ছিলেন। এ সময় সাগর মণ্ডলও তাঁর ঘরে ঢুকে যান। তিনি নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। নারীটি চিৎকার দিলেও গানের শব্দের কারণে তাৎক্ষণিক কেউ বুঝতে পারেনি। এ সময় ওই নারী নিজেকে রক্ষা করতে সাগরের জিব কামড় দিয়ে এক ইঞ্চি কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ওই নারী বলেন, তাঁর স্বামী বিদেশে থাকেন। সাগর এক বছর ধরে বিভিন্নভাবে তাঁকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও জানানো হয়। সোমবার রাতে তাঁকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন সাগর। নিজেকে রক্ষা করতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেন তিনি। একপর্যায়ে সাগরের জিব কামড় দিয়ে কেটে ফেলেন তিনি।
উপজেলার ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ওই নারীর সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়েছে। সাগরকে ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, তারা মিটফোর্ড হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন সেখানে সাগর নেই। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে একটি মামলা হচ্ছে।
নিজস্ব সংবাদঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অপ্রয়োজনে বাইরে ঘুরাঘুরি এবং দোকান খোলা রাখার কারণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
বৃহস্পতিবারে (০৯এপ্রিল) ১৩টি মামলায় মোট ১৭,৮০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শামীম আল ইমরান এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। তিনি বড়লেখাবাসীকে আবারও অপ্রয়োজনে বাইরে ঘুরাঘুরি না করার জন্য অনুরোধ করেন।অন্যথায় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।
সমছ উদ্দিন,বড়লেখাঃ বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসে মহামারি দেখা দেয়ায় পৃথিবী প্রায় স্তব্দ হয়ে আছে। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে দেশের মানুষের জন্য চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্ধ করেছে। কিন্তু কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে যারা এসব পাবার কথা ছিলো তারা তা পাচ্ছে না। অন্যদিকে বিভিন্ন জেলা উপজেলা এমনকি ওয়ার্ডের মেম্বারদের মাঝে পর্যন্ত চাল চুরি হিড়িক পড়েছে বলে দেখা যাচ্ছে।
সকল দিক বিবেচনা করে বড়লেখায় এমন ঘটনা যেনো না ঘটে এবং সবাই যাতে তাদের ন্যায্য অধিকার বুঝে পায় সেজন্য দুঃস্কৃতকারিদের হুশিয়ারি করে নিজ ফেইসবুক আইডি থেকে একটি পুস্ট করেছেন বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব সোয়েব আহমেদ। দৈনিক বড়লেখার পাঠকদের জন্য নিম্নে তা হুবুহু তুলে ধরা হলো।
সদয় অবগতির জন্যঃ করোনা ভাইরাসের কারনে, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনা অনুযায়ী আজ পর্যন্ত বড়লেখা উপজেলায় ৫০.৫০০ মেট্র: টন চাল (মূল্য বিশ লক্ষ বিশ হাজার)। ইউ,পি চেয়ারম্যান ও মেম্বার এর মাধ্যমে ১০ কেজি করে ৫ হাজার ৫ শত পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া নিম্ন বৃত্তদের জন্য ১৯২.০০ মেট্রিকটন চাল(সরকারের ভর্তুকি ৫৭ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা) ৬ হাজার ৪শত পরিবারকে ১০ টাকা কেজি মূল্যে ৩০ কেজি করে ইউ পি ডিলারদের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। এবং আরো ৪৬.৫৬০ মেট্র: চাল ( ১৮ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা) দু:স্হ মহিলা ১৫শত ৫২জন কে (ভি,জি,ডি) প্রদান করা হচ্ছে।
মোট উপকার ভোগির সংখ্যা ১৩ হাজার ৪ শত ৬৪ পরিবার। (total 96 lac 6o thousand tk).পৌর শহরে ও,এম,এস কার্যকম চালু আছে। এান সংশ্লিষ্টদের জানানো যাইতেছে কোথাও অনিয়ম দেখা দিলে প্রশাসনের পাসাপাশি জনতার আদালতে কঠিন শাস্তি প্রদান করা হবে। সোয়েব আহমদ চেয়ারম্যান বড়লেখা উপজেলা পরিষদ।
দৈনিক বড়লেখা ডেস্কঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ সন্দেহে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত এক ব্যক্তি ও তার সংস্পর্শ আসা আরও দুইজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে । গত বুধবার নমুনা সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস ।
জানা যায়, উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের বোয়ালী গ্রামের এক যুবক গত ৮ দিন ধরে জ্বর ও সর্দি-কাশিতে ভুগছিলেন। এ নিয়ে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ সন্দেহে এলাকায় গুঞ্জন শুরু হয় । মানুষের মধ্যে দেখা দেয় চরম আতঙ্ক। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুরো গ্রামকে স্বেচ্ছায় লকডাউন করে দেয় গ্রামবাসী। এরপর আশপাশের গ্রামগুলোতেও স্বেচ্ছায় লকডাউনের হিড়িক পড়ে যায়। খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা, রত্নদীপ বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি মেডিককেল টিম ওই রোগীর বাড়িতে যান। এসময় জ্বর সর্দি কাশি আক্রান্ত ওই ব্যক্তিসহ তার সংস্পর্শে আসা পরিবারের আরো দু সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা, রত্নদীপ বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য আজকেই পাঠানো হবে।সন্দেহভাজনদের হোম কোয়ারেন্টেইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব সংবাদঃ১৯৭৫ সালের ১৫ অাগষ্ট ভোরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে চতুর্দিকে রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত মা,বাবা, ভাইকে দেখে ভয়ে ভয়ে বঙ্গবন্ধুর দুগ্ধ শিশু শেখ রাসেল ক্যাপ্টেন মাজেদের হাত ধরে বলেছিল অাংকেল অামি মায়ের কাছে যাবো, অামি পানি খাবো “” ক্যাপ্টেন মাজেদ বিলম্ব না করে শেখ রাসেলকে নির্মমভাবে হত্যা করে। পানির বদলে রক্তবন্যা ঝরিয়ে দেয় শিশু শেখ রাসেলের বুকের সব রক্ত দিয়ে।
অবশেষে প্রশাসনের হাতে গ্রেফতার হয়েছে সেই খুনি মাজেদ।
সমছ উদ্দিন, বড়লেখাঃ করোনা ভয়াবহতার কথা চিন্তা করে বিশ্বের সর্বত্র প্রায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন রোধে চিকিৎসকদের চেম্বার বন্ধ রেখে শুধু জরুরী বিভাগ চালু রাখাতে জোর দেওয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় টেলিমেডিসিন তথা মোবাইল ফোনে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। তাই বড়লেখার মানুষের কল্যাণে বড়লেখায় জন্ম নেয়া এবং দেশের বিভিন্ন মেডিকেল থেকে এম.বি.বি.এস সম্পন্ন করা কয়েকজন ডাক্তার মিলে টেলিফোনে বড়লেখার মানুষকে কে চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছে। এতে বড়লেখার মানুষ টেলিফোনের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের চিকিৎসা বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ করতে পারছেন। এবিষয়ে এই টেলিমেডিসিন এর উদ্যোক্তা ডাঃমাহমুদুল হাসান মিলাদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের বড়লেখার মানুষের কষ্ট লাগবের জন্য আমাদের এই প্রয়াস।
বড়লেখা বাসীর চিকিৎসা সহজীকরণে আমরা নিম্নোক্ত চিকিৎসকের মুঠোফোনের মাধ্যমে আপ্নাদের সেবা দিতে প্রস্থত।
নিচে দেয়া সময়সূচি দেখে কল করবেন দয়া করে,কেননা আমরা সবাই বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়মিত সেবা দিয়ে যাচ্ছি।।
নিজ্বস্ব প্রতিবেদকঃ-বড়লেখা থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাতে রোজিনা বেগম (২৫) নামে এক সন্তানের জননীর লাশ উদ্ধার করেছে। তিনি উপজেলার পূর্বগৌড়নগর গ্রামের জহির উদ্দিনের স্ত্রী এবং কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের রজনপুর গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার মেয়ে।
স্বামীর বাড়ির লোকজন বিষপানে আত্মহত্যার দাবী করলেও পিতৃপক্ষের অভিযোগ হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। বুধবার পুলিশ নিহত গৃহবধুর ময়না তদন্ত শেষে বিকেলে স্বামীর বাড়ির লোকজনের নিকট লাশ হস্তান্তর করেছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে গৃহবধু রোজিনা বেগম স্বামীর বাড়িতে বিষপান করেন। তার ৩ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে বুধবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। স্বামীর বাড়ির লোকজন বিষপানে আত্মহত্যার দাবী করলেও নিহত গৃহবধু রোজিনা বেগমের মামা কবির আহমদ অভিযোগ করেন শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
হত্যার দায় এড়াতেই তারা মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। রোজিনার স্বামী জহির উদ্দিন শ্বশুড় বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য প্রায়ই তাকে নির্যাতন করতো। এ নিয়ে অনেকবার বিচার সালিশ হয়েছে।
নিউজ ডেস্কঃতিনি মার্টিন শেকরেলি, আমেরিকায়ফার্মা ব্রো হিসেবে সবার কাছে সমাধিক পরিচিত। শুরুতে কুখ্যাতি অর্জন করেন এইচআইভির ওষুধের দাম ৫ হাজার গুণ বাড়িয়ে। প্রতিটি ট্যাবলেটের দাম ১৩.৫০ ডলার থেকে বাড়িয়ে করেছিলেন ৭৫০ ডলার। ৩৭ বছরের এ কর্মকর্তা হেজ ফান্ড নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে ২০১৮ সালে সাতবছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেল খাটছেন। এ সপ্তাহে তার আইনজীবী বেন ব্রাফম্যান বলেন, শেকরেলি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন তাকে তিনমাসের জন্য মুক্তি দিতে, যাতে তিনি করোনার ওষুধ তৈরীতে ল্যাবে কাজ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের কড়া নজরদারি থাকতে পারে। ব্রাফম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, আমি আগে থেকেই বলে আসছি যদি তাকে ল্যাবে কাজ করার সুযোগ দেয়া হয় তবে ক্যান্সারের ওষুধও আবিষ্কার করতে পারেন তিনি। করোনাভাইরাসের ওষুধ উদ্ভাবনেওতিনি বিজ্ঞানীদের অনেক ভালো সহযোগিতা দিতে পারেন। মার্টিন শেকরেলি দাবি করেছেন, করোনা মহামারি প্রতিরোধে ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানিগুলো যে প্রচেষ্টা করছে তা যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, কভিড-১৯ এর ওষুধ আবিষ্কার হওয়া পর্যন্ত কম্পানিগুলোকে অবশ্যই ল্যাবে পড়ে থাকতে হবে। তিনি বলেন, বহু ওষুধ কম্পানির সঙ্গে আমি কাজ করেছি, অনেক নতুন নতুন ওষুধ উদ্ভাবন করেছি। এমনকি আমি গুটিকয় নির্বাহীর অন্যতম, ওষুধ উদ্ভাবনের সব ধরনের দিক নিয়ে যার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে মহামারি ঠেকাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারি আমি সূত্র: এনবিসি নিউজ।
আমি যুথি। আমার বয়স ১৪। আমার একটা ছোট ভাই আছে ওর নাম তমাল বয়স ১২। আমাদের জন্ম নিউইয়র্কে। আমার আব্বু আম্মু দুজনেই চাকরি করেন। এখানে আমাদের চারজনের সংসার।অনেক পরিচিত জনও আছেন এখানে। আব্বু আম্মু দুজনেই বাংলাদেশী।আত্মীয় স্বজন দাদা দাদী নানা নানি সবাই দেশেই থাকেন। আমরা এখানে একটা স্কুলে পড়াশোনা করি।আমাদের খুব সুখের একটা সংসার। তবে কিছুদিন হলো আমরা স্কুলে যাচ্ছি না।কারণ চারিদিকে করোনার আতঙ্ক আর শহরটা লকডাউন। লক ডাউন কী আমি আসলে এত কিছু বুঝি না। তবে আমরা সবাই এখন বাসায় থাকি এখন এটা আমাদের জন্য খুব আনন্দদায়ক।এভাবে হেসে খেলে ১৫ দিন চলে গেল। পড়াশোনার চাপ নেই। সারদিন খেলা আর আম্মুর কাছে যা খেতে চাই তাই ই আম্মু বানিয়ে দিচ্ছে। খুব আনন্দে কাটছে দিনগুলো। মাঝে মাঝে আম্মু সতর্কতার সাথে থাকার জন্য সবাইকে বার বার হাত ধুতে বলছে আর আমরা ধুয়ে নিচ্ছি। আব্বু বাইরে গেলে মাস্ক গ্লাভস পড়ে যাচ্ছে আবার আসার পর গোসল করে নিচ্ছে। এভাবে নানা সাবধানতার মধ্যে একটু ভয়ে তবে সুখেই কাটছে দিনগুলো।
গত দুদিন ধরে আম্মুর একটু ঠান্ডা লেগেছে। হাঁচি-কাশি সাথে একটু জ্বর ও আছে। এই নিয়েই আম্মু সব কাজকর্ম করে যাচ্ছে। আব্বু বলছে ভয়ের কিছু নেই এত সাবধানে থাকছি আমরা তোমার মনেহয় সাধারণ ফ্লু।প্যারসিটামল খাও ঠিক হয়ে যাবে। আম্মু প্যারাসিটামল খেল।একটু ভালো বোধ করছিল সে।কিন্তু পরের দিন তার জ্বর আরও বেড়ে গেল। আব্বু ফোনে একজন ডাক্তারের সাথে কথা বললো। ডাক্তার শুনে হসপিটালে নিয়ে যেতে বললো। সেখানে নাকি টেস্ট করবে।
আব্বু আম্মুকে নিয়ে এলমহাস্ট হসপিটালে গেল।আমরা দুই ভাই বোন বাসায়। যাওয়ার সময় আব্বু বললো, সাবধানে থেক, কোনরকম দুষ্টুমি করবে না।আর কিচেনের কাছে যাবে না। খাবার টেবিলে রাখা আছে। আমাদের আসতে দেরি হলে তোমরা খেয়ে নিও।এই বলে আব্বু বের আম্মুকে নিয়ে বের হলো দুপুর বারোটার দিকে। এরপর বিকেল হয়ে যায় তারা আসে না। দুটার দিকে আব্বু ফোন দিয়ছিল।বললো, তোমরা খেয়েছো? আমি বললাম হ্যা। আচ্ছা তোমরা দুষ্টুমি কোর না, টিভি দেখ।তোমার আম্মুকে হসপিটালে ভর্তি করেছি তার টেস্টের রিপোর্ট এখনো আসেনি।আগামীকাল দিবে। আজ আমাকে এখানে তোমাদের আম্মুর কাছে থাকতে হবে। তোমরা খাবার প্লেট ধুয়ে গুছিয়ে রাখ।আর রাতে নিজেরা খেয়ে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আমাকে কল দিও। আমি বললাম, আব্বু আমরা একা একা থাকব? আমাদের খুব ভয় লাগবে তো। আব্বু বললো,ভয়ের কিছু নেই মামুনি।এখন বড় হয়েছ না।তমালকে নিয়ে একটু খেলা কোরো।ওকেও বুঝিয়ে রেখো।বুঝতে পারছো না তোমাদের আম্মু অসুস্থ। এখন একটু শক্ত হতে হবে মা।ভয় পেলে চলবে? ঠিক আছে আব্বু, আমরা থাকতে পারব। তুমি আম্মুকে ট্রিটমেন্ট দিয়ে সুস্থ করে নিয়ে আসো।
এই প্রথম মনে হলো আমি আসলেই অনেক বড়ো হয়ে গেছি।আমারও অনেক দায়িত্ব কর্তব্য আছে। আমার দায়িত্ব হলো আমার ছোট ভাইকে সামলে রাখা। সে যেন কষ্ট না পায় সেদিকে খেয়াল রাখা। এছাড়া বাসাটা গুছিয়ে রাখতে বলেছে আব্বু। আমরা ভাই বোন মিলে গুছিয়ে ফেললাম। ভাই কে বললাম আজ আমরা দুজন এক বিছানায় ঘুমাবো মজা হবে না? ভাই বললো,আম্মু আব্বুকে ছাড়া কিভাবে থাকব আপু?যদি ভুত আসে। আমি আছি না।ভুত আসবে না। বুঝতে পারছো না আম্মু অসুস্থ। সুস্থ হলেই চলে আসবে।
রাতে বাবাকে ভিডিও কল দিলাম। আব্বু বললো, এইতো গুড, ঘুমিয়ে গেলেই দেখবে সকাল হয়ে গেছে। আগামীকাল রিপোর্ট পেলেই আমরা পেলেই আমরা চলে আসবো। তবে তোমার আম্মুর জ্বর একটু বেড়েছে। আচ্ছা আব্বু গুড নাইট।
পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কৌটাতে বিস্কুট ছিল দুই ভাই বোন তাই খেলাম।কিছুক্ষণ পরে ম্যাকডোনাল্ড থেকে আমাদের নাস্তা আার লাঞ্চ দিয়ে গেল। আব্বু নাকি অর্ডার করেছে।আমরা খুব মজা করে খেলাম।
দুপুরে আব্বু বললো, মা যুথি তুমি তো এখন বড় হয়েছ। বুঝতে পার।তোমাকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে মা।তোমার ভাইকে আরও কিছু দিন দেখে রাখতে হবে।তোমার আম্মু আমি দুজনেই করোনায় আক্রান্ত। তোমার আম্মুর জ্বর বেড়েছে একটু শ্বাস কষ্ট ও হচ্ছে। তোমাদের কয়েক দিন একা একা থাকতে হবে পারবে না মা। আমি খুব ভয় পেয়ে গেলাম। চোখ থেকে পানি পড়তে লাগলো। বললাম, পারবো আব্বু তুমি কোন চিন্তা করো না।
নিউইয়র্কে আমাদের কোন আত্মীয় নেই। পরিচিত যারা আছে তারাও কেউ আসছে না। আমরা একারাই এভাবে থাকতে লাগলাম। পরের দিন আব্বু ফোনে বললো যুথি বেশি করে নামাজ পড়ো আল্লাহর কাছে দোয়া কর তোমাদের আম্মুকে ICUতে রাখা হয়েছে। এই বলে আব্বু কেঁদে ফেললেন। আমি ও চোখের পানি আর রাখতে পারিনি সাথে তমালও কান্না করতে লাগলো। আমি বললাম তুমি কেমন আছ আব্বু। আমি ভালো আছি মা।তোমার আম্মুর জন্য বেশি বেশি দোয়া কর। এরপর আমরা প্রতিদিন নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকি।
দুদিন পরে একজন নার্স এসে আমাদের কাছে একঘন্টা থেকে গেল। আমাদের অনেক ভালো ভালো কথা বলে অনেক কিছু বুঝিয়ে গেছে। আমরা ছোট বলে হসপিটাল থেকে দেখতে এসেছে। নার্স বলেছে আম্মু সাত তলায় আর আব্বু আটতলায় আছে। কারো সাথে দেখা হচ্ছে না।
এভাবে আটদিন চলে গেল। আমরা একাএকা থাকছি।উবার ইটস অথবা ম্যাকডোনাল্ডের খাবার খাচ্ছি। এখন আর এসব খাবার খেতে ভালো লাগছে না। তবুও খাচ্ছি। দুই তিন দিন পর পর নার্স এসে দেখে যাচ্ছে। আটতম দিনে সোস্যাল মিডিয়া থেকে আমাদের নিতে এসেছিল আমরা যাইনি।আব্বু ফোনে তাদের বুঝিয়ে বললে তারা চলে যায়।
আজ নবম দিন। আব্বু বলেছে সে এখন ভালো আছে আজ বাসায় আসবে। রাতে আব্বু বাসায় আসে।তমাল দৌড়ে আব্বুকে ধরতে গেলে আব্বু দূরে সরে গেল। বললো সে এখন কয়েক দিন আলাদা থাকবে আমরা তাকে ধরতে পারব না।
আব্বুকে ধরতে না পারলেও আমরা খুব খুশি। কারণ আব্বু আমাদের কাছে আছে। আব্বুকে আম্মুর কথা জিজ্ঞেস করলাম।আব্বু আশার কথা শুনালো।
বললো,মা,তোমার আম্মু ও হয়তো ফিরে আসবেন। তার অবস্থা ও আগের থেকে ভালো। সাতদিন পর গতকাল তার অক্সিজেন খুলেছে। আমার সাথে একবার একমিনিট কথা হয়েছে। হয়তো দুই তিন দিন পর সেও ফিরে আসবে। আল্লাহ তোমাদের দোয়া কবুল করেছে মামনী। আমরা সবাই আবার আগের মতই ভালো থাকবো। 🇧🇩🇺🇸
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী জনকল্যানমুলক একটি দ্বীনি সংগঠনের নাম।১৯৪১ সালের জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত একটি ইসলামী সমাজ বিনিমার্ণ তথা কল্যানমুখী রাস্ট্র কায়েমের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।একটি আদর্শিক ও দায়িত্বশীল সংগঠন হওয়ায় দেশের ও দেশের মানুষের যে কোন দুর্যোগ ও সংকটপুর্ণ মুহুর্তে অতীতেও ঐতিহাসিক ভুমিকা পালন করেছে এবং বর্তমান সময়েও করে যাচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ।শুধুমাত্র সংকট বা দুর্যোগকালীন নয় বরং নিয়মিতভাবেই প্রতি মাসে জামায়াত ইসলামি তাদের সাংগঠনিক আয়ের ১০% সমাজকল্যামুলক কাজে ব্যায় করে। আমরা গভীর ভাবে লক্ষ্য করছি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মানুষের মধ্যে যখন ব্যাপক ভীতি সঞ্চার তৈরি হয়েছে,তেমনি শারীরিক ও আর্থিক ভাবেও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুক্ষিন হয়েছে এবং হচ্ছে।চরম আর্থিক সংকটের কারনে অনেক মানুষ যেমন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে, আবার খাদ্যের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে।এমতাবস্থায় অতীতের ন্যায় এবারো এই দুর্যোগ ও সংকটপুর্ণ মুহুর্তে সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামিও তাদের নিজেস্ব সামর্থের সবটুকু ঢেলে দিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থাসহ ক্ষুদার্ত মানুষের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌচ্ছে দেওয়ার কর্মসুচি পালন করে যাচ্ছে।”প্রচারনা নয় আল্লাহর সন্তুষ্ঠিই মুল লক্ষ্য ” শ্লোগানকে সামনে রেখে এই কর্মসুচিগুলো পালন করে যাচ্ছে।কিন্তু কতিপয় সমালোচনাকারী বন্ধু এবং কিছু শুভাকাঙ্খিও জামায়াত ইসলামীর এই কাজগুলোর প্রচারনা না থাকায় বলে বেড়াচ্ছেন জামায়াত ইসলামী ও ছাত্রশিবির দেশের এই দুঃসময়ে ঘরে ঢুকে শুধু নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত আছে।তাই সাংগঠনিক নয় বরং নিজের দায়িত্বেই বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী দেশের এই ক্রান্তিকালে দেশের মানুষের জন্য নিজেদের সামর্থের সবটুকু উজার করে দিয়ে কি কি করছে তার একটা সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরছি।বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সারাদেশে ৮৯ টি সাংগঠনিক মহানগরি ও জেলা শাখায় কাজ করে।তারমধ্যে একটি শাখা জামায়াত ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিন ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত মানুষের সাহায্যে যাযা করেছে-
*খাদ্যসামগ্রী বিতরন করেছে-১১,৮৩৯ টি পরিবারে
*এককালিন সহযোগিতা করেছে- ৬০৯ টি পরিবারে
*চিকিৎসা সহায়তা করেছে-কয়েক হাজার জনকে
*মাস্ক বিতরন করেছে-৩৫,৮৬৭ জনের মাঝে
*সাবান ও হ্যান্ড ওয়াস বিতরন-২০,৯০৯ জনের মাঝে
*হ্যান্ড সেনিটাইজার বিতরন-৩৪১ টি পরিবারে
*ব্লিচিং পাউডার বিতরন-১৩ হাজার পরিবারে
*স্প্রে মেশিন বিতরন-১৩৪৩ টি পরিবারে
*পিপিই পোশাক বিতরন-১৫০ জনের মাঝে
*হ্যান্ড গ্লাবস বিতরন-২৯ হাজার পিচ
*হাত ধোয়ার জন্য পানির ব্যবস্থা করেছে-৫৬ টি স্পটে
*মসজিদ জীবানুমুক্তকরন কর্মসুচি-১৮৫ টি
*স্বাস্থ্য সচেতনতায় লিফলেট বিলি-২ লক্ষ
*সংগঠনের ডাক্তারদের মাধ্যমে ফোনে চিকিৎসা দিয়েছে লক্ষাধিক মানুষকে।
★ এসব কাজগুলো এখনো চলমান।
★ এসব কার্যক্রমের জন্য ইতিমধ্যেই খরচ করেছে-৬৫,০১০৩২(পয়ষট্রি লক্ষ এক হাজার বত্রিশ) টাকা।যার পুরটাই নিজেদের জনশক্তি ও শুভাকাঙ্খিদের দেওয়া টাকা।
★ একটা সাংগঠনিক শাখার কাজ যদি এটা হয়। তাহলে সারাদেশের ৮৯ টি সাংগঠনিক শাখার কাজ মোট কত হতে পারে একটু ভাবুন তো!
★ এছাড়াও মহিলা জামায়াত,বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও ইসলামী ছাত্রীসংস্থাও আলাদা ভাবে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরনের কাজ করছে।
অন্যান্য সামাজিক ও রাস্ট্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ন্যায় প্রচারনা না থাকায় জামায়াত ইসলামীর কাজগুলো অনেকের চোখে পড়েনা। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের এই কাজগুলো শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্ঠির জন্য কবুল করুন এবং এই মহামারী থেকে দেশ,জাতি ও মুসলিম উম্মাহকে হেফাজত করুন ও মুক্ত করুন।
-লেখক: মুহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও সহকারী সেক্রেটারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিন।
দৈনিক বড়লেখা ডেস্কঃ ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিব উল্যাহ পলাশ বিশ্বাস বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের নাতি। মুজিব উল্যাহ ওরফে পলাশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। এরপর এ কমিটি স্থগিত করা হলে প্রভাবশালীদের চাপে তা পুনরায় বহাল রাখা হয়। একই পরিবারের এক নারীও সরকারি চাকরিজীবী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) মাজেদ গ্রেফতার হয়েছেন গতকাল রাতে। কিন্তু তার আগে থেকেই ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খুনি মাজেদের নাতি মুজিব উল্যাহ পলাশ মিয়া।
এলাকায় খবর নিয়ে জানা যায়, যে কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুজিব উল্যাহ পলাশ মিয়া, সেই কমিটি একবার স্থগিত করা করা হয়েছিল। পরে একটি প্রভাবশালী মহলের চাপে সেই কমিটি আবার বহাল করা হয়। খুনি মাজেদ গ্রেফতারের খবরে বোরহানউদ্দিনের চায়ের কাপে ফের ঝড়, এবার সেই প্রভাবশালী মহলের স্বরূপ উন্মোচন করা হোক, যারা দীর্ঘদিন বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের পরিবারকে ভয়ঙ্কর রকমের পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছেন।
এলাকায় এখন এটাও বলাবলি হচ্ছে, খুনি মাজেদের পরিবারের এক নারী সদস্যকে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের চাকরিও পাইয়ে দেয়া হয়েছিল। পরে এলাকার মানুষের আপত্তির মুখে ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিব উল্যাহ পলাশ বিশ্বাস খুনি মাজেদের নাতি কিনা জানতে চাইলে ভোলা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াজ মাহমুদ প্রথমে জানেন না বলে দাবি করেন। তারপর বলেন, ‘এ কমিটি আমরা দেইনি। আমরা কিছু করতে পারি না’।
দ্বিতীয়বার তাকে কল দিলে তিনি বলেন, ‘মুজিব উল্যাহ পলাশ খুনি মাজেদের নাতি না। কোটা লাগাইন্না নাতি হতে পারে’। এরপর তিনি প্রতিবেদককে ধমক দিয়ে বলেন, ‘আমরা কমিটি দিছি আমরা জানি না। আপনি কী জানেন?’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা দুপুরে এ তথ্য পেয়েছি। এটি খুবই দুঃখজনক। আমাদের সময় কমিটির আগে সে নেতা হওয়ায় আমরা বিস্তারিত জানি না। এখন খবর নেয়া হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে কে কে জড়িত তা আমরা খুঁজে বের করব। তাদের শাস্তির আওতায় আনব’।
যেহেতু করোনাভাইরাসের এখনও কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। তাই সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশের চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা সংক্রমণ এড়াতে এবং শরীরকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুত রাখার জন্য দিয়েছেন বিশেষ পরামর্শ:
নিউজটি শেয়ার করুন।
অপেক্ষাকৃত কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তির শরীরে যে কোনো ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। কিন্তু কিছু বিষয় মেনে চললে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রস্তুত রাখা সম্ভব।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সঙ্কটকালে সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশের চিকিৎসকরাও পরামর্শ দিচ্ছেন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরের ভেতর অ্যান্টিবডি তৈরি করার। এতে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ড. মুজিবুর রহমান বলেন, যেহেতু করোনাভাইরাসের এখনও কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি, তাই সচেতন থাকার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাসসহ যে কোনো ভাইরাস প্রতিরোধে সেসব খাবারই বেশি খাওয়া উচিৎ যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের পুষ্টিবিদ ড. তাসনুভা মিম বলেন, শরীরের প্রতি যত্নশীল এবং স্বাস্থ্যবান ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও দ্রুত সেরে উঠতে পারবেন।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অনুসরণ করতে পারেন এসব পরামর্শ-
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্সের শিক্ষক ড. মো. আমিনুল হক ভুইয়া বলেন, “ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার ওপর আমাদের জোর দিতে হবে। প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি, ফল, শস্যদানা, শিম জাতীয় সবজি, বাদাম, বীজ, মরিচ, অলিভ অয়েলের পাশাপাশি তেলযুক্ত মাছ, পনির ও পূর্ণ ননীযুক্ত দই খাওয়া যেতে পারে। ”
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ভিটামিন ‘সি’
ভিটামিন ‘সি’ শরীরে কোলাজেন তৈরি ও ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষ, টিস্যু ও জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।
তাই প্রতিদিনই কমলালেবু, আঙুর, স্ট্রবেরি, সবুজ মরিচ, ব্রকোলি জাতীয় ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল বা সবজি খাওয়া প্রয়োজন।
আর দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার অনেক খাবারেই ভিটামিন ‘সি’ থাকায় আলাদা করে এটি গ্রহণের প্রয়োজন হয় না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
শরীরকে জীবাণুর বিরুদ্ধে শক্তিশালী করে তোলে যেসব খাবার
আমাদের পেটের ভেতরে থাকে লক্ষ-কোটি ব্যাক্টেরিয়া, ফাঞ্জাইসহ বিভিন্ন জীবাণু যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অর্গানিক বা সরাসরি উদ্ভিদ থেকে পাওয়া খাবার এদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে শরীরকে সহায়তা করে।
শতমূলী, রসুন, পেঁয়াজ এমনই কিছু খাদ্যদ্রব্যের নাম। এছাড়া, ফার্মেন্টেড ফুড যেমন- দই বা এ জাতীয় খাবারও এক্ষেত্রে শরীরকে সহায়তা করে।
ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া
ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার শরীরে থাকা ছোট ছোট জীবাণু, অণুজীবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য শরীরকে প্রস্তুত রাখে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব নিউট্রিশ অ্যান্ড ফুড সায়েন্সের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম বলেন, “ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার শরীরে অ্যান্টিবডির ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি, ভিটামিন সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার পারে যে কোনো রোগকে প্রতিরোধের জন্য শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে।”
ব্রিটিশ নিউট্রিশন ফাউন্ডেশনের মতে, এমন কিছু খাবার হলো- ওট, মশুর, মটরশুঁটি, ব্রকোলি, গাজর, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার।
প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা
রোগ প্রতিরোধে পানির একটি বড় ভূমিকা হলো এটি শরীরে “লিম্ফ” উৎপন্ন হতে সহায়তা করে, যা শ্বেত রক্তকণিকাসহ রোগ প্রতিরোধী অন্যান্য কোষগুলোকে ধারণ করে।
তাই প্রচুর পরিমাণে পানি পান করলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তবে আমাদের উচিৎ কফিজাতীয় পানীয় পরিহার করে চলা, কারণ এটি কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি করতে পারে।
এছাড়াও, আমাদের উচিৎ প্রচুর পরিমাণে পানিসমৃদ্ধ ফলমূল যেমন- শসা, তরমুজ খাওয়া উচিৎ।
বয়স্কদের জন্য পরামর্শ
বয়স্ক মানুষরা করোনাভাইরাস সংক্রমণে অনেক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বিশেষজ্ঞরা তাদেরকে বেশি করে ভিটামিন জাতীয় খাবারের পাশাপাশি সম্পূরক খাবার (সাপলিমেন্ট) গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রিয় বড়লেখাবাসী,আসসালামু আলাইকুম। করোনার ভয়াবহতার কথা নতুন করে কিছু বলার নেই।ইউরোপ আমেরিকা সহ পৃথিবীর সর্বত্র কমিউনিটি ট্রান্সমিশন রোধে চিকিৎসকদের চেম্বার বন্ধ রেখে শুধু জরুরী বিভাগ চালু রাখতে জোর দেয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় টেলিমেডিসিন তথা মোবাইল ফোনে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। তাই আপনাদের কল্যাণে আমরা বড়লেখায় জন্ম নেয়া এবং দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ থেকে “এমবিবিএস” সম্পন্ন করা কয়েকজন ডাক্তার মিলে টেলিমেডিসিন সেবার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।আমাদের মাধ্যমে আমার এলাকার একজন মানুষও যদি উপক্রিত হয় তবে আমরা সার্থক।
বড়লেখা বাসীর চিকিৎসা সহজীকরণে আমরা একটি উদ্দোগ নিয়েছি। নিম্নোক্ত চিকিৎসকের মুঠোফোনের মাধ্যমে আপ্নাদের সেবা দিতে প্রস্থত।
নিচে দেয়া সময়সূচি দেখে কল করবেন দয়া করে,কেননা আমরা সবাই বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়মিত সেবা দিয়ে যাচ্ছি।।
বড়লেখা ডেস্কঃ ত্রাণ দেওয়ার ছবি তোলার পর ২৬টি পরিবারের কাছ থেকে তা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন অসহায় পরিবারগুলো। গতকাল দুপুরে হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার পরিবারগুলো এ ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আবছারকে।
অভিযুক্ত নুরুল আবছার হাটহাজারী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন জানান, মির্জাপুরের চেয়ারম্যান ত্রাণের কথা বলে লোকজনকে পরিষদে নিয়ে যান।
তাদের ত্রাণ দেওয়ার পর তা আবার কেড়ে নেন। অসহায় ২৬টি পরিবারের লোকজন উপজেলা পরিষদে এসে কান্নাকাটি করতে থাকেন। পরে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ত্রাণ দেওয়া হয়। মারধরের শিকার কয়েকজন জানান, গতকাল সকালে ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে শতাধিক ব্যক্তিকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান চেয়ারম্যান। এ সময় চেয়ারম্যান নুরুল আবছার ও তার লোকজন ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে ছবি তোলেন।
ছবি তোলার পর চেয়ারম্যানের ছোট ভাই মিজানুর রহমান টিপু ও তার লোকজন প্রদান করা ত্রাণগুলো কেড়ে নেয়। এর প্রতিবাদ তারা সবার ওপর হামলা করে। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২৬টি পরিবারকে ত্রাণ দেন।
বড়লেখা ডেস্কঃ করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে হটলাইন সেবা চালু করেছেন বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ইউপি) আহমদ জুবায়ের লিটন। সেই হটলাইন নম্বরে ফোন করলেই বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে নিত্য চাল, ডাল, আলু থেকে শুরু করে লবণ, পেয়াজ তেল ও সাবানসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
সোমবার(৬ এপ্রিল) থেকে বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের অসহায় দরিদ্র পরিবারের জন্য এ হটলাইন সেবা চালু করা হয়। ইউপি চেয়ারম্যান আহমদ জুবায়ের লিটনের নিজস্ব অর্থায়ণে ও প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে এ কার্যক্রমের সমন্বয় করছেন সেচ্ছাসেবী মতিউর রহমান জাকের। দরিদ্র অসহায় মানুষের বাড়িতে বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই এলাকার তরুনদের একটি স্বেচ্ছাসেবক দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মতিউর রহমান জাকের জানান, এই দূর্যোগময় সময়ে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা।তাদের কথা বিবেচনা করে আমাদের চেয়ারম্যান অাহমদ জুবায়ের লিটন মহোদয়ের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইউনিয়নবাসীদের জন্য এই হটলাইন সেবা চালু করা হয়েছে । ইউনিয়নের অসহায় দরীদ্ররা ০১৮১৫২৯০৮৫০ অথবা ০১৭৫০৪৯৫৫৪০ নাম্বারে ফোন করে জানালে আমরা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তাদের বাড়িতে পৌছে দেয়া হয়েছে।প্রথম দিনে দশটি পরিবারকে চাল, ডাল, তেল ,আলু বাড়িতে পৌছে দেওয়া হয়েছে। এই সঙ্কট না কাটা পর্যন্ত আমাদের এই সেবা প্রতিদিন অব্যাহত থাকবে।
এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আহমদ জুবায়ের লিটন বলেন, করোনা সংকটে এলাকার অনেক শ্রমজীবী মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় কোনও নাগরিককে যাতে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে না হয় সেজন্য দরীদ্র পরিবারের কাছে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। এই দূর্যোগময় সময়ে হতদরীদ্রদের সহায়তায় সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আশার পাশাপাশি অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বড়লেখা ডেস্কঃ ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার খেজুরবাগ এলাকায় ত্রাণ নিতে গিয়ে ১০ বছরের এক শি’শু ধ’র্ষণের শি’কার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অ’ভিযুক্ত ধ’র্ষক মীর খলিলকে (৪৫) আ’টক করেছে পুলিশ। এলাকাবাসী ও পরিবারের অভিযোগ, ত্রাণ দেয়ার নাম করে ওই শি’শুকে বাড়িতে নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা আ’টকে রেখে ধ’র্ষণ করা হয়।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মো. শাহ জামান বলেন, রোববার বিকেল ৩টায় শি’শুটি নি’খোঁজ হলে পরিবারের সদস্যরা এলাকায় মাইকিং করে। পরে রাত ৮টায় শি’শুটিকে তার বাড়ি সামনে রেখে ধ’র্ষক পা’লিয়ে যায়।
তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করলে থানায় নারী ও শি’শু নি’র্যাতন দ’মন আইনে মা’মলা গ্রহণ করা হয়। এরপর ওই শি’শুসহ ধ’র্ষণের অভিযোগে আ’টক খলিলকে আ’দালতে সোপর্দ করা হয়। আ’দালতে ওই শি’শুর জবানব’ন্দি গ্রহণ করেন এবং খলিলকে জে’ল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বড়লেখা ডেস্ক :: সিলেট নগরের হাউজিং এস্টেটের এক বাসিন্দা গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যায় সিলেটে প্রথবারের মতো করোনা আক্রান্ত রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। তাই আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে ওই এলাকাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
নিউজটি শেয়ার করবেন।
সিলেটে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যে রোগী পাওয়া গেছে, তিনি ওই এলাকায় বসবাস করেন। ফলে তার মাধ্যমে অন্যদের মাঝে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে কিনা, এমন শঙ্কা আছে। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই হাউজিং এস্টেটকে লকডাউন করেছে জেলা প্রশাসন। লকডাউন প্রসঙ্গে সিলেট বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাদাত হোসেন বলেন, কেবল ওই চিকিৎসকের বাড়ি নয়, আমরা হাউজিং এস্টেটের মূল ফটক বন্ধ করে দিয়েছি। আপাতত এই এলাকায় কাউকে প্রবেশ করতে এবং এই এলাকা থেকে কাউকে বাইরে বেরুতে দিচ্ছি না। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেটের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান কে বলেন, আজ সকাল থেকেই পুরো হাউজিং এস্টেট এলাকা লকডাউন করা হচ্ছে। উনাকে বাসায় রেখেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এর আগে, হাউজিং এস্টেটের ওই বাসিন্দা রবিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক।
বড়লেখা ডেস্কঃকরোনা দুর্যোগের সময় ইন্টার্নশিপকে ‘না’ বলা মেডিকেল ছাত্রদের জন্য সকল দরজা বন্ধ করে দিলেন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাছির উদ্দীন আহমেদ।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমবিবিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ (এম-৫২ ব্যাচের) ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দেশের ও দেশের বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ প্রশিক্ষণের সুযোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট এই দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে ইন্টার্নশিপে যোগ না দেয়ায় তাদের ব্যাপারে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাছির উদ্দীন আহমেদ।
এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। চিঠিতে তিনি ‘অতীব জরুরি’ সিল দিয়ে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের) দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
চিঠিতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাছির উদ্দীন উল্লেখ করেছেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হতে ২০১৯ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য পেশাগত ফাইনাল এমবিবিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইন্টার্ন চিকিৎসকদের (এম-৫২ ব্যাচ) ২০২০ সালের ১৪ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ তারিখের মধ্যে যোগদান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তবে ২ এপ্রিল পর্যন্ত এই ব্যাচের কেউ যোগদানপত্র দাখিল করেনি বা যোগদান করেননি। এত সংখ্যক ইন্টার্ন চিকিৎসক একসঙ্গে যোগদান না করার ফলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় মারাত্মকভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, মানবসেবাই একজন চিকিৎসকের ধর্ম। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় ডাক্তার হয়ে এমন মহৎ পেশায় নিয়োজিত থেকে বর্তমান দেশের ক্রান্তিলগ্নে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের ভয়ে এই ব্যাচের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালে যোগদান করেননি। তাদের এই আচরণ মানবতাবিরোধী এবং ডাক্তারি পেশার সাথে সাংঘর্ষিক, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তাই উপরোক্ত বক্তব্যের আলোকে এম-৫২ ব্যাচের যেকোনো শিক্ষার্থীরা দেশে ও দেশের বাইরে যেন কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার সুযোগ না পান, এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি।
চিঠিটি স্বাস্থ্যমন্ত্রী, মন্ত্রীর একান্ত সচিব, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন), রেজিস্ট্রার, প্রশাসন বিভাগের পরিচালক, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, ইন্টার্নশিপ কো-অর্ডিনেটর, ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশ ও র্যাব-১৪ সহ বিভিন্ন দফতরে পাঠানো হয়েছে।
স্যালুট স্যার আপনার মতন যদি অন্যান্য কয়েকটি মেডিক্যালের পরিচালক ও ডাক্তাররা আপনার মানসিকতার হত তবে দেশের চিকিৎসার মান পাল্টে যেত। উল্লেখ্য দীর্ঘ ৪ বছর ধরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক হিসাবে আছেন উক্ত সময়ে হাসপাতালটিকে দেশ সেরা ও জনসেবামূলক খাতে পরিণত করেছেন তিনি।
করোনা নামক ভাইরাসটি বাংলাদেশে ও মহামারী আকারে রুপ ধারণ করায় বড়লেখা পৌর শহরস্থ উত্তর চৌমুহনী পয়েন্ট সম্মুখে রিক্সা চালক ও ভ্যান চালক সহ গরিব অসহায় মানুষের গাড়ি ধার করিয়ে খাবার তুলে দিচ্ছেন, বড়লেখা উপজেলার নির্বাহী অফিসার জনাব, শামীম আল ইমরান,ও বড়লেখা থানার অফিসার ইন-চার্জ মানবতার ফেরিওয়ালা জনাব ইয়াছিনুল হক সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
উনারা মানুষ কে সচেতন রাখতে উনারা দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, কিন্তু আমাদের সমাজে কিছু মানুষ রয়েছেন, উনারা পুলিশ আসলে লুকিয়ে থাকে, আর পুলিশ চলে গেলে আবার যেই-সেই,
প্লিজ ভাইয়েরা এমন না করে আমাদের সবার ভালোর জন্য, দেশ ও সমাজের ভালোর জন্য আসুন আমরা সবা আর মাত্র কয়েকটা দিন নিজ ঘরে অবস্থান করি,
বিশেষ কিছু প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হবেন না, ঘরে থাকুন,সুস্থ থাকুন।