বড়লেখায় বোরো ধান কেটে দিলেন স্কুল শিক্ষক ও শিক্ষার্থী

দৈনিক বড়লেখাঃ করোনা পরিস্থিতিতে চলছে ধানা কাটা শ্রমিক সংকট। এ অবস্থায় কৃষকের জমির বোরো ধান কেটে দিলেন বড়লেখা উপজেলার ১নং বর্নি ইউনিয়নের পাকশাইল আইডিয়াল হাইস্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এর ২১ এপ্রিল ২০২০ ইং তারিখের প্রেরিত পত্রের প্রেক্ষিতে (২৮এপ্রিল) মঙ্গলবার সকালে পাকশাইল আইডিয়াল হাইস্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী (পুরুষ) মিলে পাকশাইল গ্রামের দরিদ্র কৃষক মো. নুর উদ্দিন মিয়ার প্রায় ৩০ শতক জমির বোরো ধান কাটায় সহযোগিতা করেন।

প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ধান আহরণ কাজে নিযুক্ত ছিলেন- বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ রেহান উদ্দিন, মো. সোহরাব হোসাইন, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বিদ্যালয়ের দপ্তরি মো. ছইফ উদ্দিন।

বড়লেখার সুজানগর ইউনিয়ন পরিষদে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

নিজস্ব সংবাদঃ বর্তমান সময়ের করোনা মহামারি প্রেক্ষাপটে করণীয় এবং বর্জনীয় কি? এ নিয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ মিটিং করা হয় বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে।

সোমবারে (২৭এপ্রিল) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব নসিব আলী সাহেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারগণ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ,আগর এসোসিয়েশনের ব্যক্তিবর্গ, আজিমগঞ্জ বাজার কমিটি, সিএনজি কমিটি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ সহ অন্যান্যরা।

সভায় প্রাথমিকভাবে কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়:

(১) বাজারে লোকজনের সমাগম কমিয়ে আনা।
(২) একজনের বেশি মোটর সাইকেলে যাতায়াত না করা।
(৩) বিকেল ৫:৩০ এরপর পর বাজারের মধ্যে কোন লোক না থাকা ।
(৪)যেহেতু বর্তমানে রমজান মাস ইফতার নিয়ে আসা যাওয়ার একটা রীতি রেওয়াজ আছে তাই বর্তমান সময়ে বিবেচনা করে আমরা ইফতার দেওয়া এবং নেওয়া থেকে বিরত থাকব কোনো ভাবেই এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
(৫) বিভিন্ন সংযোগ সড়কগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হবে।
(৬) জনসচেতনা মূলক প্রচার চলমান থাকবে।
(৭)সিএনজি ড্রাইভার দের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একজন আরোহী নিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা যাবে অন্যথায় কোন সিএনজি রাস্তায় বের হতে পারবে না।
(৮) এলাকায় কোন বাহিরের লোক আসলে সাথে সাথে ইউনিয়ন পরিষদকে অবগত করা।
ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন,অন্যকে নিরাপদ থাকতে সাহায্য করুন,আসুন সবাই মিলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই একমাত্র আল্লাহই পারেন আমাদের এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে।

বেশ্যা – শ্রীতমা সেনগুপ্ত

বিছানাতেই হড়হড় করে বমি করে ফেলল গনেশ। চোলাই টা আজ বেশী টানা হয়ে গেছে। সাথের ফুলুরি টাও শালা ঠান্ডা ছিল, অম্বল হয়ে গেছে নির্ঘাত।
..শালা ঢ্যামনা, দিলি তো শালা বিছানা ভাসিয়ে? সকাল থেকে গিলে বসে আছিস নাকি বে? চুল্লুখোর শালা। সন্ধে সন্ধে দিল শালা সব একশা করে।ধুপ দিলাম এই সবে, দিল হারামী টা বারোটা বাজিয়ে….
বকবক করেই চলেছে বিজলী। গনেশ জানে এখন কিছু বলতে গেলেই আরও খিস্তি খাবে। তাই কাচুমাচু হয়ে চুপ করে রইল।
..এই শালা,শুয়োরের বাচ্চা, বসে আছিস কি? ওঠ। নাম খাট থেকে। তোর বাপ এসে সব পরিস্কার করে দেবে নাকি রে গান্ডু….
তড়িঘড়ি খাট থেকে নেমে এল গনেশ। বাথরুমে যেতে হবে একবার, বলতে সাহস হলনা।চুপচাপ নিজেই চলে গেল।ভালো করে মুখ হাত ধুতে ধুতে ভাবল, কিছু টাকা এক্সট্রা দিয়ে দেব বিজলী কে। আজ টোটো চালিয়ে নেহাত মন্দ রোজগার হয়নি।

..এই শালা,আর বমি করলে কেলিয়ে বৃন্দাবন দেখিয়ে দেব।
..না না আর হবেনা।
বিজলী এইটুকু সময়ের মধ্যেই সুন্দর করে চাদর পাল্টে,সব ধুয়ে,বেশ কটা ধুপ জ্বালিয়ে দিয়েছে।

আধখন্টা পর….
..নে নে…এবার ফোট। অন্য খদ্দের আসবে।
গনেশ পকেট থেকে পাঁচটা একশ টাকার নোট বের করল।
..এই নে।
..পাঁচটা কেন বে? আজ কি এমন মধু পেলি বাবা যে একশ বেশি?
..ওসব না। তোর ঘর নোংরা করলাম। আর আজ রোজগার ভালোই হয়েছে রে।এক বিয়েবাড়ির ভাড়া ছিল…..
..আজ কিছুই লাগবেনা।ফিরি।
..ফ্রি? কি?
..হ্যাঁ, ফিরি। কানের মাথা খেয়েছিস নাকি?
..কিন্তু কেন?এরকম তো কোনদিন…..
..আজ, কাল দুদিন ফিরি করে দিয়েছি আমরা। এই পুরো মহল্লা। ওই যে, রেপ হয়েছে না কোথায়, তাই।
হাসি চাপতে গিয়েও পারলনা গনেশ।
..তার জন্য তোরা ফ্রি কেন করলি? প্রতিবাদ? তা মোমবাতি নিয়েও নামবি নাকি? ভুখ হড়তাল করবি?
..না। ওসব শালা পতিবাদ টতিবাদ না। এত ক্ষিদে নিয়ে ঘুরছিস তো তোরা…আট বছরের বাচ্ছাটাও বেশ সুড়সুড়ি দিল তোদের..এতই কামড় তোদের। তাই আর কি।এই দুদিন তোদের মতো ব্যাটাছেলেদের জন্য আমরা ফিরি। কত ক্ষিদে তোদের মিটিয়ে যা মাগনায়।বাচ্ছাগুলোকে ছাড়ান দে, এই দুদিন না হয়…..

কথা নেই গনেশের মুখে।ব্যাটাছেলে হয়ে জন্মে,এই প্রথম লজ্জা করছে। নির্বিকার বিজলি…..
..নে নে।অনেক ভড়ং হল।ফোট এবার।পরের মালকে আসতে দে……

বেশ্যাপট্টি থেকে বেড়িয়ে গনেশের মনে হল, এরকম ভাবে সবাই যদি ভাবতে পারত। ওই বেশ্যাগুলোর জন্য একজনও যদি রেহাই পায়….. কপালে দুহাত ঠেকিয়ে প্রণাম করল গনেশ।কার উদ্দেশ্যে?
জানেনা।।

ছবি ও গল্পঃ কাহলীল জিব্রাণ এর ওয়াল থেকে।

বড়লেখায় আরো ১নারী করোনা আক্রান্ত।

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় এবার এক নারীর শরিরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দুই জন।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিঅার ল্যাবে ১৫৬ জনের নমুনা পরিক্ষা করা হয়। পরিক্ষায় বড়লেখার ১ জনের করোনা পজিটিভ আসে।

বড়লেখা উপজেলা সাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রত্নদ্বীপ বিশ্বাস আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন আক্রান্ত নারির বাসা বড়লেখা পৌর এলাকায়। তার বাসা লকডাউন করা হবে।

এর আগে শনিবার বড়লেখায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়।আক্রান্ত অই যুবকের বয়স অনুমান ৩৫ বছর। তিনি বর্তমানে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি রয়েছেন। তার বাড়ি বড়লেখা দক্ষিনভাগ ইউপির উত্তর কাশেম নগর গ্রামে। তিনি সমন ভাগ চা বাগানে চা,ছোলা ও পিয়াজ বিক্রি করতেন।

“মাহতাব আল মামুন”প্রবাসে থেকেও সবার ভালোবাসায় জড়িয়ে আছেন

মাহতাব আল মামুন


ইবাদুর রহমান জাকিরঃমৌলভীবাজারের বড়লেখার উপজেলার ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বিছরাবন্দ গ্রামের কৃতিসন্তান মাহতাব আল মামুন সৌদি আরব প্রবাসী। তিনি স্বদেশে এলাকার মানুষের মমতায় অসহায় দরিদ্রের কল্যাণে বড়লেখা উপজেলার মেধাবী তরুণদের সমন্বয়ে গঠন করেন এক‌টি ভিন্নধর্মী সাহিত্য ভিত্তিক সামাজিক সংগঠন “বড়লেখা পাবলিকেশন্স সোসাইটি”। এই সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল,মাদ্রাসা ও এতিমখানায় সাহায্য সহযোগিতা অব্যাহত।

উপজেলায় এই সংগঠনের মাধ্যমে কয়েকটি টিউবওয়েল সহ বিভিন্ন মাদ্রাসায় হিজাব সৌরবিদ্যুৎ , সিলিং ফ্যান বিতরণ সহ অসংখ্য ছাত্র/ছাত্রীদের পঠ্য পুস্তক বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

এ ছাড়া ও বর্তমান সমাজের তরুণ লেখক লেখিকাদের সমন্বয় সুন্দর সাহিত্য প্রকাশনায় বড়লেখা পাবলিকেশন সোসাইটি হতে প্রকাশনার বদ্ধপরিকর।

বিশ্বের মানুষ যখন করোনা প্রাদূর্ভাবে গৃহবন্দী এক দিকে অর্থনৈতিক মন্দা অপর দিকে চলছে করোনা আক্রান্তের সাড়ি সাড়ি। বৃদ্ধি পাচ্ছে মৃত্যুর মিছিল, সে সময়ে আজ স্বদেশের অসহায় নিম্নবৃত্ত মধ্যবৃত্তের কথা ভূলে যাননি বরং বড়লেখা পাবলিকেশন সোসাইটির প্রতিষ্টাতা চেয়ারম্যান মাহতাব আল মামুন অসংখ্য মানুষের মতো তিনিও সোসাইটির ব্যাবস্থাপনায় প্রবাসী প্রিয়জনদের আর্থিক সহযোগিতায় নিয়ে ইতিমধ্যে উপজেলার বেশ কিছু পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন।

উল্লেখ্য, বড়লেখাবাসীর কল্যাণে নাড়ির ঠাঁনে আরও তিনটি উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি যা একমাত্র তাহাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায়, মানুষের মূখে হাসি ফুঁটানো হবে। বড়লেখা পাবলিকেশন্স সোসাইটির ব্যাবস্থাপনায় আগামী ২৯এপ্রিল উপজেলার শতাধিক পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রীয় বিতরণ করা হবে, তাছাড়া আগামী ১মে তাঁহার নিজ গ্রামে খাদ্য ও ২৫রামাজান ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হবে ।

মাহতাব আল মামুনের বাল্যকাল থেকে সমাজের কিছু করার অভিপ্রায় ছিল তাঁর ধারাবাহিকতার আলোকে মানবসেবা ইবাদাত
মনে করে সর্বদাই মানুষের পাঁশে।
আসুন আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বড়লেখা পাবলিকেশন্স সোসাইটিসহ যে কোন সামাজিক সংগঠন কে সহযোগীতা করি “নিজে ঘরে থাকি অন্যকে ঘরে থাকতে উৎসাহিত করি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি দেশও জাতিকে করোনা প্রাদূর্ভাব মুক্তরাখি” পাশাপাশি সাহায্যের হাত নিয়ে মানুষের পাঁশে দাঁড়াই।

সৈয়দ উদ্দীন খানের মৃত্যুতে সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর শোক প্রকাশ

ফাইল ছবি


ইবাদুর রহমান জাকিরঃসিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা পশ্চিমপারের সৈয়দ উদ্দীন খান (৮৫) রবিবার ভোর রাতে লন্ডনের নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না…রাজিউন)। তিনি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শিল্পপতি সামসুূদ্দীন খান ও এবি মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক শিল্পপতি মোসলেহ উদ্দীন খানের বড়ভাই।

তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভোগছিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী, ৪পুত্র, ২ কন্যা, ৩ ভাই ও ৪ বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

শোকবার্তা : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এক শোক বার্তায় বর্ষিয়ান আওয়ামী লীগ নেতা, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শিল্পপতি সামসুূদ্দীন খান ও এবি মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক শিল্পপতি মোসলেহ উদ্দীন খানের বড়ভাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।তিনি মরহুমের আম্তার প্রতি শান্তি কামনা ও শোকসপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

পৃথক বার্তায় শোক প্রকাশ করেছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল, পৌর মেয়র মোঃ আব্দুস শুকুর।

মাহে রামাদান ইবাদতের বসন্তকালে,বয়ে চলুক জান্নাতি সুবাস-এম.এম আতিকুর রহমান

আহলান সাহলান সু-স্বাগতম পবিত্র মাহে রমজানুল মোবারক। শুরু হওয়া রমজান মাস হলো ইবাদতের বসন্তকাল। এ মাসে প্রতিটি মুমিন হৃদয়ে বয়ে আনে জান্নাতি সুবাস। এ মাসে মহান প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালা প্রতি মুহূর্তে দিনে-রাতে মুমিনদের উপর অবারিত রহমতের বারিধারা বর্ষণ করেন।
ইবাদতপাগল মুমিনদের জন্য মাগফিরাত ও জান্নাতের সকল আয়োজন প্রস্তুত রেখেছেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা।

রমজান শব্দটি আরবি ‘রমজুন’ শব্দ থেকে উৎগত হয়েছে। শাব্দিক অর্থ হচ্ছে, জ্বালিয়ে দেওয়া, ভষ্মীভুত হওয়া ইত্যাদি। যেহেতু রোজা পালনের মাধ্যমে মানুষের মনের ক্রোধ, কু-প্রবৃত্তি, হিংসা-বিদ্বেষ সব কিছু ভষ্মীভুত হয়ে যায়, তাই রোজার এ সিয়াম সাধনার মাসকে রমজান মাস বলা হয়।

হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে রমজান মাসব্যাপী রোজা রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। পরিভাষায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খানাপিনা ও জৈন কামনা বাসনাসহ বৈধ জৈবিক চাহিদাও পূরণ থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম সাধনা বা রোজা। আল্লাহ তায়ালা কোন মাসকে অন্য মাসের উপর, কোন দিবসকে অন্য দিবসের উপর শ্রেষ্টত্ব দান করেছেন। এরকমই পবিত্র রমজানুল মোবারক হলো শ্রেষ্ঠ মাসের অন্যতম একটি মাস। এর প্রতি মুহূর্তে ইবাদত পাগল মুমিনদের উপর বর্ষিত হয় রহমতের বারিধারা। এজন্যই বহুগুন আমলের সওয়াব বেড়ে যায়। হাদিসে প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এরশাদ ফরমান, রমজানে আসমানের বরকতের দরজা খুলে যায়, জান্নাতের সব দুয়ার খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দুয়ার বন্ধ করে দেয়া হয়। মরদুদ শয়তান শৃঙ্খলিত হয়।
আল্লাহর বান্দদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মহান মুক্তি বার্তা নিয়ে ধাবমান হয় রমজান। এতে রয়েছে শবে কদরের রজনী, যা হাজারো মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এসব নানাবিধ মর্যাদা বৈশিষ্ট্যের অপূর্ব সমাহার মাহে রমজান। তাই তো রমজান মাসকে ইবাদতের বসন্তকাল বলা হয়ে থাকে। ইবাদত, তাকওয়া ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উর্বর সময়। এ উর্বর সময়ে বান্দা যথাযথভাবে নিষ্ঠার সাথে কাজে লাগাতে পারলে একটুখানি সাধনা, ক্ষুদ্র পরিশীলন এবং অনুশীলন এ-র মাধ্যমে প্রশান্তির বারিধারায় সিক্ত হয়ে হাসিল করতে পারেন আল্লাহ তায়ালা’র মহাসন্তুষ্টি। তথা দুনিয়ায় কল্যাণ ও আখেরাতে মহামুক্তি।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম একটি স্তম্ভ। রোজার বিধান ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা কুরআন কারিমে ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে করে তোমরা মুত্তাকি হতে পার’।

হযরত কা’ব ইবনে উজরা (রা.) হতে বর্নিত, তিনি বলেন- একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে বললেন, তোমরা মিম্বরের নিকট সমবেত হও। আমরা সকলেই তথায় উপস্থিত হলাম। যখন তিনি মিম্বরের প্রথম সিড়িঁতে পা রাখলেন,তখন বললেন, আমীন, যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখলেন বললেন, আমীন, যখন তিনি তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখলেন বললেন, আমীন। হযরত কা’ব ইবনে উজরা (রা.) বলেন, যখন তিনি (মিম্বর থেকে) অবতরণ করলেন, আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আজ (মিম্বরে উঠার সময়) আমরা আপনাকে এমন কিছু কথা বলতে শুনেছি, যা ইতিপূর্বে কখনো শুনিনি। উত্তরে তিনি বললেন, জিবরাইল (আ.) আমার নিকট আগমন করেছিলেন, যখন আমি প্রথম সিড়িঁতে পা রাখলাম, তখন তিনি বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে রমজান মাস পেল, তবুও তার গুনাহ মাফ করাতে পারলো না। আমি বললাম, আমীন। যখন দ্বিতীয় সিড়িঁতে পা রাখলাম তখন বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যার নিকট আপনার নাম উচ্চারিত হলো অথচ সে আপনার প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করলো না। আমি বললাম আমীন। যখন তৃতীয় সিড়িঁতে পা রাখলাম, তখন বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে তার পিতা-মাতা উভয়কে অথবা একজনকে পেল আর তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল না। অর্থাৎ তাদের খেদমতের মাধ্যমে নিজেকে জান্নাতী করতে পারলো না। আমি বললাম, আমীন।

হযরত আবু হুরয়রা (রা.) বলেন, রমজান মাস লাভকারী ব্যক্তি যে উত্তমরূপে সিয়াম ও কিয়াম (রোজা, তারাবী ও অন্যান্য আমল) পালন করে, তার প্রথম পুরস্কার এই যে, সে গুনাহ থেকে ঐ দিনের মতো পবিত্র হয় যেদিন মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল।

হযরত সালমান ফারসী (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, মহানবী (সা:) শা’বান মাসের শেষ দিন আমাদেরকে সম্বোধন করে ইরশাদ করেন, ‘হে লোক সকল! তোমরা মনযোগ দিয়ে শোনে রাখ, তোমাদের সামনে এমন একটি মাস সমাগত। যে মাস মহা পবিত্র, রহমত-বরকত ও নাজাতে ভরপুর। এই মাসের রোজাকে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর ফরজ করেছেন। যে লোক এই মাসে আল্লাহর সন্তুষ ও তার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে রোজা রাখবে আল্লাহ তার পূর্ববর্তী সমস্ত গোনাহ মাফ করে দিবেন।

হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা রমজান মাসের প্রত্যেক দিবস ও রাত্রিতে অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। এবং প্রত্যেক মুমিন বান্দার একটি করে দুআ কবুল করেন।

রমজান আমাদেরকে আল্লাহর রহমত লাভের সুবর্ণ সুযোগ করে দিয়েছে। এই দশকে আমরা বেশি বেশি করে ইবাদত-বন্দেগী, কুরআন তেলাওয়াত, দান সদকা, তওবা, ইস্তেগফার ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে পবিত্র এই মাসের যথাযথ হক আদায় করে রোজা, তারাবিহ, তাহাজ্জুদ, তেলাওয়াত সহ অন্যান্য নফল ইবাদতে আত্মনিয়োগ করার তাওফিক দিন।
নেফাকি বদচরিত্র- মিথ্যা, ওয়াদা খেলাপী, আমানতের খিয়ানত, অশ্লীলতা/অশ্লীল কথা বলা ইত্যাদি থেকে বিরত থেকে পরিপূর্ণ মুমিনের গুণাবলী অর্জন করার মাধ্যমে আগামীর সুন্দর একেক ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠনের তৌফিক দিন। কায়মনোবাক্যে মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট করি সেই মিনতি।

লেখক; সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে, অবশেষে বড়লেখায়ও আঘাত হেনেছে “করোনা”-মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

আচ্ছালামুআলাইকুম/আদাব,
প্রিয় সহকর্মি শিক্ষকবৃন্দ,

১.
সামনের দিনগুলো অধিকতর কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কেউ হতাশ হবেন না। ভেঙ্গে পড়বেন না। যথাযথ পথ- পদ্ধতি ও নিয়ম মেনে চলার প্রাণান্তকর চেষ্টা করবো আমরা। একে অন্যের খবর নেবো। পাশে থাকবো…

২.
আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে একটি ঘোষণা দিতে চাই যে, আপনারা লকডাউনে থাকাকালীন ছোট-বড় কোন সমস্যায় নিপতিত হলে দয়া করে একটু “নক” করবেন। যে কোন ধরণের “সার্ভিস” প্রদান করতে আমি/আমরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। ঔষধ, বাজার খরচ, খাদ্য সংকটসহ বিবিধ বিষয়ে অনায়াসে আমাদের সহায়তা নিতে পারেন।
মূল্য /বিনামূল্য/ ফ্রি সবধরণের ব্যবস্থা আমরা করতে যাচ্ছি। সদিচ্ছা থাকলে কোন কিছুই অসম্ভব নয়…

৩.
এসব কাজ বাস্তবায়ন করতে ৩ টি সংস্থা আমাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেছে-
ক.বড়লেখা ফ্রেন্ডস ক্লাব, ইউ. কে,
খ. বড়লেখা ব্লাড ডোনেট ক্লাব, বড়লেখা ও
গ. দূর্বার মুক্ত স্কাউট দল, বড়লেখা।

৪.
মহান সৃষ্টিকর্তা সকলের সহায় হোন। প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের জন্য নিরন্তর ভালোবাসা। শুভ কামনা।

লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, মোহাম্মদনগর স.প্রা.বি, বড়লেখা
মোবাইলঃ০১৭৩৪৪৬১৬৯১, ০১৭৮২৬৮৬৮২৬

করোনায় বদলে গেছে রমজানের ঐতিহ্য

‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙা ভইরা লইয়া যায়’। প্রতি বছর রমজান মাসে পুরান ঢাকার চকবাজারে ঢুকলেই শোনা যায় এমন হাঁকডাক। তবে এবার শোনা যাচ্ছে, রাস্তায় কোনও ইফতারের দোকান বসবে না। তাও আবার হ্যান্ড মাইক দিয়ে এমন মাইকিং করছে পুলিশ। করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে রমজান মাসের চিরচেনা চিত্রগুলো এবার বদলে গেছে। যা ছিল রমজানের ঐতিহ্য তা এখন স্মৃতি।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাংলাদেশে রোজা শুরু হয়েছে। তবে এদিনটি ছিল দেশে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার ৪৯তম দিন। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩০৯ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৪ হাজার ৯৯৮ জন। দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৪০ জন।

এ মহামারির বিস্তার রোধে সরকার ছুটি ঘোষণা ছাড়াও নানা রকম পদক্ষেপ নিয়েছে, মানুষের চলাচলে বিধি নিষেধ আরোপ করেছে। এর প্রভাব পড়ছে রমজানেও। প্রতিবছর চাঁদ দেখার ঘোষণা হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানের মসজিদে থেকে ঘোষণা আসতো, রমজানুল মোবারক, আর ঘোষণা করা হতো তারাবির নামাজের সময়। তবে এবার আজানের পর মুসল্লিদের বাসায় তারাবির নামাজ পড়তে বলেছেন মুয়াজ্জিনরা।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে মসজিদে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ২ জন হাফেজসহ সর্বোচ্চ ১২ জন এশা ও তারাবিহ’র নামাজে অংশ নিতে পারবেন। যদিও নিয়ম ভেঙে অনেকে মসজিদে তারাবির নামাজে শরিক হতে চেষ্টা করেন। তবে সতর্কভাবেই তাদের ফেরত দিয়েছে অধিকাংশ মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

শুধু তারাবির নামাজই নয়, সকল ক্ষেত্রেই পড়ছে করোনার প্রভাব। রোজা শুরু হলেও দুপুর ২টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ এবং যারা কাজের প্রয়োজনে বাইরে যাচ্ছেন তাদেরও সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ঘরে ঢোকা, একইসময়ে সুপার শপগুলো বন্ধ করে দেওয়ার নিয়মেও কোনও পরিবর্তন আসেনি। বরং আরও কঠোরভাবে রোজা উপলক্ষেও ফুটপাতে ইফতারের পসরা নিয়ে বসা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় আগেই এ ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনা দিয়েছিল। এর মূল কারণ, জনসমাগম এড়ানো এবং করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়িয়ে চলা। পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে সেই নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, দেশের কোথাও রাস্তায় বসতে পারবে না ইফতারের দোকান।

সরেজমিন দেখো গেছে, রাজধানীর কোথাও কোথাও ভ্রাম্যমাণ ইফতারের দোকান বসানোর চেষ্টা করেছেন দোকানিরা, তবে প্রথম রোজায় তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। পুরান ঢাকার চকবাজার হচ্ছে দেশের বৃহৎ ইফতারের বাজার। প্রতিবছর এখানে ইফতারের পসরা নিয়ে দোকানদাররা বসলেও এ বছরের চিত্র ছিল পুরোই উল্টা। এবছর কয়েকটি দোকান বসানোর চেষ্ট করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।

বন্ধুরা মিলে প্রতি বছর চকবাজারে ইফতার করতে যেতেন আসাদুজ্জামান। মিরপুরের এ বাসিন্দা বলেন, চকবাজারে যাওয়া দূরে থাক এখন ঘর থেকেই বের হই না জরুরি প্রয়োজন না হলে। এবার হয়তো এভাবেই রমজান মাসটা পার হয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে তা কখনও কল্পনাও করতে পারিনি।

ইফতারের মুহূর্তে অন্য বছরগুলোতে যানজটে কারণে অনেকেই অফিস থেকে বাড়ি ফিরে ইফতারে করতে বেগ পেতেন। এবার রাস্তায় কোনও গাড়ি নেই, নেই কোনও মানুষ। ছুটি থাকায় বেশিরভাগ মানুষ পরিবারের সঙ্গে ইফতার করার সুযোগ পেয়েছেন।

রাজধানীর একটি কলেজের শিক্ষার্থী শান্তা শাফিহ। তিনি বলেন, রোজার মাসে একটা উৎসব উৎসব ভাব থাকে। এখন হয়ত ঘরে সবার সঙ্গে ইফতার করছি, কিন্তু উৎসবের সেই আমেজ নেই। একটা আতঙ্ক। এখন একটাই চাওয়া, এই মহামারি থেকে যেন দ্রুত মুক্তি মিলে।

প্রকৃতই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সারাদেশে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত ২২ মার্চ রাজধানীর মিরপুরের উত্তর টোলারবাগে এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পরদিন সেই এলাকা লকডাউন করে দেওয়া হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত সেই এলাকা লকডাউন রয়েছে।

উত্তর টোলারবাগের প্রথম যে ব্যাক্তি মারা যান তিনি উত্তর টোলারবাগের দারুল আমান নামের একটি ভবনের বসবাস করতেন। সেই ভবনের বাসিন্দা মো. সুজন বলেন, আমরা তো ঘর থেকেই বের হই না। বাজার করা ছিল, সেটা দিয়েই চলছে। তবে আর কিছুদিন পর সেটিও শেষ হয়ে যাবে। এলাকার মসজিদগুলোও বন্ধ। এমন পরিস্থিতি আমার জীবনে প্রথম।

টোলারবাগে অনেক বাসায় সংসদ সদস্য মো. আসলামুল হকের পক্ষ থেকে ইফতার সামগ্রী উপহার হিসেবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান সেই এলাকার বাসিন্দারা। আবার অভিযোগও আছে বাড়ির মালিক নিজেই সব ইফতার সামগ্রী রেখে দিয়েছেন, ভবনের অন্যদের দেননি। টোলারবাগের ১২/৬ বি,১ ভবনের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, তাদের বাড়িতে সংসদ সদস্যর পাঠানো ইফতার উপহার হিসেবে এলেও বাড়িওয়ালা তা নিজেই রেখে দিয়েছেন। কোনও ভাড়াটিয়াকে দেননি।

প্রতিবছর সারা দেশে ইফতারকে কেন্দ্র করে নানা রকম আয়োজন হয়ে থাকে। রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও হয়ে থাকে ইফতার মাহফিল। কয়েক হাজার মানুষের জন্য প্রতি বছর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইফতারে আয়োজন করতো ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। প্রথম রোজার দিন সেই মসজিদ একেবারেই জনশূন্য।

তবে ভিন্ন চিত্রও আছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও অনেকেই দাঁড়িয়েছেন অসহায় মানুষের পাশে। অনেকে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন ইফতার সামগ্রী। গাজীপুর সদর উপজেলার নয়নপুর গ্রামে ইকবাল সিদ্দিকী কলেজ ও কচি কাঁচা একাডেমির গেইটের পাশে বিকেল থেকেই রাখা হয়েছে ১০০ প্যাকেট খিচুড়ি, সিদ্ধ ডিম ও ২টি করে খেজুর। সামাজিক দূরত্ব মেনে এলাকার গরিব মানুষ এখান থেকেই পেয়েছেন ইফতার।

ইকবাল সিদ্দিকী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, এটা আমার একক উদ্যোগ নয়, সম্মিলিত উদ্যোগ। সত্যিই মানুষ অনেক কষ্টে আছে, তাদের পাশে থাকার চেষ্টা আমরা করছি।

দেশজুড়েই আছে এমন ছোট বড় অসংখ্য উদ্যোগ। এসবের মধ্য দিয়ে জন সমাগম এড়িয়ে ও সামাজিক দূরত্ব মেনে দেশবাসী এবার পার করবে রমজান মাস। আর প্রত্যেকের প্রার্থনায় থাকবে এই মহাবিপদ থেকে উদ্ধারে পরম করুণাময়ের কাছে সাহায্য প্রার্থনা। সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

আমি আপনাদের লোক,তাই ক্ষুদ্র অবস্হান থেকে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা-তাজ উদ্দিন

খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছেন তাজ উদ্দিন


নিজস্ব সংবাদঃ
মহামারী করোনাভাইরাসের ফলে গৃহবন্ধি, কর্মহীন, আর্থিক ও খাদ্য সংকটে পড়া মধ্যবিত্ত লোকদের সহযোগিতা করার লক্ষে নিজের দায়বদ্ধতা থেকে পাশে দাড়িয়েছেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন।
তিনি ব্যাক্তিগত উদ্দোগে নিজস্ব তহবিল থেকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষের ঘরে ঘরে গাড়িতে করে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। বড়লেখার মানুষের দোয়ারে দোয়ারে ঘুরে খুজ খবর নিচ্ছেন। সাধ্যমত সবাইকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। সেজন্য সাধারণ জনগণও খুশি।

আজ (২২এপ্রিল) বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য বিতরণ শেষে তাজ উদ্দিন বলেন আমি আপনাদের লোক,তাই ক্ষুদ্র অবস্হান থেকে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টায়। এবং সকল বিত্তবান লোক যেনো সাময়িক অসুবিধাগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাড়ায় সেই আহব্বানও করে আসছেন।

বিভীষিকাময় বর্ণনা : ‘বিছানার কাছেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাশ পড়ে ছিল’

শাহাদাত হোসেন বেসরকারি চ্যানেল যমুনা টেলিভিশনের একজন সিনিয়র রিপোর্টার। গত মাসের একদম শেষের দিকে একটু জ্বর উঠেছিল। খুব সামান্যই তাপমাত্রা ছিল। এরপর একটি প্যারাসিটামল খাওয়ার পর এক রাতেই জ্বর সেরে গিয়েছিল। এরপর তিনি পেশাগত দায়িত্বও পালন করেছেন।

কিন্তু বাড়িতে তার শ্বশুর কয়েকদিনের মধ্যে ব্যাপক জ্বর ও মাথাব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার পর ভাবলেন নিজেও একটু পরীক্ষা করিয়ে নেবেন। দেখা গেল তার কোনো উপসর্গ না থাকলেও তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর তার শ্বশুরসহ পুরো পরিবারের সবাই আক্রান্ত হয়েছেন। শাহাদাত হোসেন বলছেন, হাসপাতালে ভর্তির পর তার মনে হয়েছে জীবনে এতটা অসহায় কোনো দিন বোধ করেননি।

‘ওয়ার্ডে লাশ পরেছিল ২৪ ঘণ্টা’
তিনি বলছেন, করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ এটি জানার পর শুরুতে তিনি খুব আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিলেন। কী করবেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না।

সহকর্মীদের সহায়তায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার ভাষায়, “হাসপাতালে চরম প্রতিকূলতার মধ্যে নয় দিন পার করেছি আমরা। ওখানে মনে হয়েছি রোগীরা একেবারে অভিভাবকহীন। আমি খুবই অসহায় বোধ করেছি।”

“দেখতাম চোখের সামনে রোগীরা মারা যাচ্ছে। লাশ ওয়ার্ডেই পরে থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, তিনি বলেন।

” যেহেতু নির্দিষ্ট ব্যক্তি লাশ দাফন করেন হয়ত তাদের সংখ্যা কম কিন্তু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, সেকারণে হয়তবা। কিন্তু এতে একজন অসুস্থ রোগী যে এমনিতেই ভয়ে আছে তার মনের অবস্থা কী হয়?” তিনি বলেন।

তিনি হাসপাতালে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলছিলেন, ২৪ ঘণ্টায় একজন চিকিৎসক আসতেন। অনেক দূর থেকে কথা বলে চলে যেতেন।

নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে একটি মানুষকেও পাওয়া যায় না। এরকমও হয়েছে যে নার্স আসেনি বলে একবার সকালের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়া হয়নি। চিকিৎসক দিনে একবারও আসেনি সেটিও হয়েছে।

তিনি বলছেন, “কিন্তু একজন চিকিৎসকের কথায় আমার ভরসা পাওয়ার কথা। তার কথায় আমার মনোবল বেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখানে মানসিক সাপোর্ট দেয়ার কেউ ছিল না।”

অন্যান্য সুবিধাদির বর্ণনা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, তিনি যে ওয়ার্ডে ছিলেন সেখানে এক শ’র মতো রোগী ছিল। এতজন রোগীর জন্য মাত্র তিনটি টয়লেট, তিনটি গোসলখানা।

শাহাদাত হোসেন একপর্যায়ে রোগী বাড়তে শুরু করার পর চিকিৎসকদের অনুরোধ করে তার শ্বশুরসহ বাড়ি চলে আসেন।

আর একটি হাসপাতালের চিত্র

দেশে সবচেয়ে প্রথম যে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সাংবাদিক শনাক্ত হয়েছিলেন সেটি ছিল ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের। সেখানে ভিডিওগ্রাফার হিসেবে কর্মরত আশিকুর রহমান রাজু আক্রান্তদের একজন।

তিনি বলছেন, শনাক্ত হওয়ার পর যখন কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে যান শুরুতেই ঘাবড়ে গিয়েছিলেন কারণ সবাই পিপিই পরে অনেক দূরে দাড়িয়ে আছেন।

তিনি তার প্রথম অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, তাকে একজন ওয়ার্ড বয় একটা পলিথিন ব্যাগে বিছানার চাদর, বালিশ, বালিশের কাভার, টয়লেট টিস্যু আর একটা সাবান দেয়।

”এগুলো দিয়ে ওয়ার্ড বয় কেচিগেট তালা মেরে চলে গেল। নিজের বিছানাও নিজে গুছিয়ে নিতে হলো,” তিনি জানান।

তিনি বলছিলেন, প্রথম দিন তার জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে কেউ আসেনি। চিকিৎসকদের ফোন করে তিনি সেটি জানানোর পর সাড়ে চারটার দিকে তার জন্য একটি বক্সে করে খাবার এসেছিল। কোনো প্লেট দেয়া হতো না। সেখানে পানি গরম করা থেকে শুরু করে সবকিছুই নিজেকে করে নিতে হয়েছে।

এমনকি জ্বর হলে যে মাথায় পানি দিতে হয়, ওই সময়ও সহায়তা দেয়ার কেউ ছিল না। একটা বালতি, মগ কিছুই ছিল না, এসব অভিযোগ তিনি করেছেন।

“খাবার রেখে যাওয়া হতো কেঁচি গেটের বাইরে। তারপর হ্যান্ডমাইকে সেটা জানানো হতো,” তিনি বলেন।

”অসুস্থ লোকদের গিয়ে সেই খাবার নিয়ে আসতে হতো। ওয়ার্ডে একজন নতুন বয়স্ক রোগী এসেছিলেন। তিনি এই তথ্যটা জানতেন না। তিনি এক রাত ও পরের সকাল না খেয়ে ছিলেন,” রহমান বলেন।

আশিকুর রহমান বলছিলেন, জ্বর নিয়ে যে কয় দিন বাসায় ছিলেন তার মনোবল চাঙ্গা ছিল। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সাথে সাথেই সেটি হারাতে শুরু করেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি, যারা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছেন তারা ও তাদের পরিবার এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবায় নিয়জিত ব্যক্তিরা সামাজিকভাবে ব্যাপক হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন এমন বেশকিছু অভিযোগ উঠেছে।

একসময় কুষ্ঠ আক্রান্ত রোগীদের যেভাবে সমাজ পরিত্যাগ করতো যেন সেরকম এক ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে তাদের যেতে হচ্ছে। তার একটি বর্ণনা পাওয়া গেল এই দুই সংবাদকর্মীর ভাষায়।

অন্য আরো বেশ কয়েকজন সেরে ওঠা ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা হলেও সামাজিক সমস্যার ভয়ে তারা কথা বলতে রাজি হননি।

আশিকুর রহমান রাজু বলছেন, যেসময় ভয়াবহ শরীর ব্যথা, জ্বর, মাথাব্যথা ও কাশি শুরু হয় সেই সময় তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কিনা এমন সন্দেহ হলে আইইডিসিআরে যোগাযোগ করেন। তার শরীর থেকে যখন স্বাস্থ্যকর্মীরা নমুনা সংগ্রহ করতে আসেন তখন এলাকার লোকজন ও বাড়িওয়ালার চরম ক্ষোভের মুখে পরেন তিনি।

“কেন আমি ওদের ডাকলাম, এইটা তারা বলছে। যেন আমি ওনাদের ডেকে কোন অন্যায় করছি,” তিনি বলেন।

”ওরা কেন আসছে, সেজন্য বাড়িওয়ালা আমার দরজা পিটাইতেছিল। এলাকার লোকজন এসে বাড়িওয়ালাকে ধরেছে।

”আমি তাদের বুঝিয়ে বললাম যে সাবধানতা হিসেবে চেকআপের জন্য আসছে। পরীক্ষা হলে আপনাদের জন্যই ভালো হবে, রহমান বলেন।

এরপর যেদিন করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার খবর পেলেন ওই দিন তিনি অ্যাম্বুলেন্স বাড়ির কাছে আনতে সাহস করেননি। অসুস্থ অবস্থায় হেঁটে গিয়ে দূর থেকে অ্যাম্বুলেন্স উঠেছিলেন।

সেরে ওঠার পর যেদিন গ্রামের বাড়িতে গেছেন চেনা পরিচিত লোকেরাও তার খবর নেননি।

“আমি আসতেছি এটা দেখেই বাড়ির কাছে পুরো রাস্তা খালি হয়ে গেল। আমি যেন ভিন গ্রহের কেউ এরকম মনে হচ্ছিল,” তিনি বলেন।

শাহাদাত হোসেন বলছেন, তার ফ্ল্যাটের লোকজনের কাছ থেকে চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন তিনি ও তার পরিবার। রীতিমতো একঘরে করে ফেলার অবস্থা।

“মনে হয় যেন অসুস্থ হয়ে আমি বড় কোন পাপ করে ফেলেছি,” তিনি বলেন।

”হাসপাতালে আমার সাথে ছিলেন তাদের একজনকে দেখেছি অসহায়ত্বের কারণে কাঁদছেন। করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে জানার পর তার পরিবারকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার হুমকি পেয়েছেন,” বলেন হোসেন।

‘আপনি হাসপাতালের দায়িত্ব নেবেন?’
হাসপাতাল সম্পর্কে যে অভিযোগ করছিলেন সেরে ওঠা এই দু’জন সেনিয়ে কথা বলেছি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদের সাথে।

তিনি বলছেন, “বাইরে থেকে কেউ বুঝবে না যে আমরা কিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।”

চিকিৎসকদের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, দেশে এ পর্যন্ত ১৩০ জন চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। একজন মারাও গেছেন।

“চিকিৎসকেরা কাছে না গেলে তারা আক্রান্ত হলেন কিভাবে?” তিনি প্রশ্ন করেন।

”এখানে সবমিলিয়ে ৬০০ জন স্বাস্থ্যকর্মী। যারা সংসার, ছেলে-মেয়ে রেখে দিনের পর দিন দূরে থাকছেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।

”তাদের আমরা এন-৯৫ মাস্ক দিতে পারিনি। যিনি চিকিৎসা করবেন তিনি যদি আক্রান্ত হন তাহলে আপনি হাসপাতালের দায়িত্ব নেবেন?” ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ বলেন।

‘এটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’
করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষা করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন উপায় হচ্ছে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা। স্বাস্থ্যকর্মীরা সেটাই করছেন বলে তিনি বলছেন।

হাসপাতালে মরদেহ ওয়ার্ড ফেলে রাখা অভিযোগ তিনি ‘অস্বাভাবিক’ বলে বর্ননা করেন।

”দিনে দু’বার অন্তত ডাক্তারদের রাউন্ড হয়। তিনি কি কাউকে তথ্যটা দিয়েছিলেন?” তিনি প্রশ্ন করেন।

” অসুস্থ অবস্থায় মানুষজন অনেক আবেগপ্রবণ থাকে। করোনাভাইরাসকে হয়ত তারা অন্য রোগের সাথে তুলনা করেছেন। কিন্তু বিষয়টাতো তা নয়,” ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ বলেন।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যে অভিজ্ঞতা তাদের হচ্ছে সেটিকে তিনি যুদ্ধের সাথে তুলনা করে বলেন যে, সারা বিশ্ব এটি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।

”যেসব দেশে সক্ষম স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে তারাও ভেঙে পরছে। এটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ,” তিনি বলেন।

কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র : বিবিসি

বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ।

গাজীপুরে লকডাউন ভেঙে রবিবার সকালে বেতনের দাবিতে কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেছে নগরীর সাইনবোর্ড এলাকার ইষ্ট ওয়েষ্ট গ্রুপ ও ভোগড়ার নিউয়ে ফ্যাশনস লিমিটেড এবং টঙ্গীর গাজীপুরার এসআরপি ও মিক সোয়েটার কারখানার শ্রমিকরা। এক পর্যায়ে ইষ্ট ওয়েষ্ট গ্রুপ ও ভোগড়ার নিউয়ে ফ্যাশনস লিমিটেডের শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের শান্ত করে। মালিকপক্ষ ১৬ এপ্রিল বেতন পরিশোধের ঘোষণা দিলে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ তুলে নেয়।
ইষ্ট ওয়েষ্ট গ্রুপ ও ভোগড়ার নিউয়ে ফ্যাশনের শ্রমিকরা জানায়, তাদের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।

নিউওয়ে ফ্যাশন লিমিটেডের নিটিং অপারেটর শাহিনা বেগম জানান, তারা দুই মাস ধরে বেতন ভাতা পাচ্ছেন না। কর্তৃপক্ষ দেই দিচ্ছি করে ঘুরাচ্ছে। ঘরে খাবার নেই। বাড়ি ভাড়া ও দোকান বাকী পড়ে আছে। পাওনাদারদের জন্য বাসা থেকে বের হতে পারছেন না। এর মধ্যে গাজীপুর লকডাউন করা হয়েছে। টাকা না থাকায় এখন তাদের না খেয়ে মরার উপক্রম হয়েছে। বাধ্য হয়ে তারা বেতনের দাবিতে সকাল ৯টার দিকে কারখানার সামনে বিক্ষোভ এবং পরে মহাসড়ক অবরোধ করেন।

একাধিক শ্রমিক জানান, সরকার যে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে তা কেবল যারা স্থানীয়রা ও গাজীপুরের ভোটার তারাই পাচ্ছেন। অন্যরা পাচ্ছেন না। বেতন না পেলে সন্তানদের নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। যানবাহন বন্ধ থাকায় সন্তানদের গ্রামের বাড়িতেও রেখে আসতে পারছেন না তারা।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের সহকারী পরিচালক (সেবা) সুশান্ত সরকার জানান, শিল্প পুলিশ শ্রমিক ও মালিক পক্ষের কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করে। মালিক পক্ষ আগামী ১৬ এপ্রিল বেতন দেয়ার ঘোষণা দিলে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে দুপুর ১২টার দিকে বাসায় ফিরে যায়। সুত্রঃ কালের কন্ঠ

৫৬০ বস্তা সরকারি চাল সহ, ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার।

ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে সরকারি খাদ্য কর্মসূচির ৫৬০ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যানসহ চালের ডিলার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন জর্জকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে ।পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তাজকির-উজ-জামানের নেতৃত্বে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের চকঝগড়ু গ্রামে চেয়ারম্যানের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে এসব চাল উদ্ধার ও তাদের আটক করা হয়।বস্তার গায়ে লেখা আছে, ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ।’ যা সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির জন্য দরিদ্র শ্রেণির মানুষের ১০ টাকা কেজির চাল।নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে ১০ কেজি হারে চাল বিক্রি করার কথা থাকলেও বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের চাল বিক্রির যে তালিকা পাওয়া গেছে সেখানেও রয়েছে বিভিন্ন গড়মিল ও অনিয়ম। এমনকি রাতের অভিযানে বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের নসিপুরে যে গোডাউন রয়েছে সেখানে কোনো চাল পাওয়া যায়নি।৫৬০ বস্তা চালের বস্তা পাওয়া গেলেও প্রায় ১ হাজার ৩০ বস্তা চালের তথ্য লাপাত্তা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি জিয়াউর রহমান জানান, এ ঘটনায় চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল্লাহ-আল-মামুন জর্জের বিরুদ্ধে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ওবাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে বুধবার দুপুরে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এরপর তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সুত্রঃ north bengal24

বড়লেখায়ঃ ২৫শ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দেয়ার প্রস্থতি; সমাজ সেবক সাইদুল ইসলামের

নিজস্ব সংবাদঃ বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা গ্রামের তরুন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আগামী দিনের সম্ভাব্য পৌর মেয়র পদপ্রার্থী জনাব সাইদুল ইসলামে নিজ উদ্যোগে, বড়লেখা পৌরসভা ব্যাপি ২৫০০ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন।

সাইদুল ইসলাম তার ফেইজবুক আইডি থেকে এক স্টেটাসে বলেন, প্রায়২৫০০এর অধিক পরিবারের জন্য ইতিমধ্যে ত্রানসামগ্রী নিয়ে কাজ শুরু করেছি, মালগুলো প্যাকেটিং করে স্বচ্ছ তালিকা মাধ্যমে খুব শীগগীরই আপনাদের দোয়ারে আমি ও আমার স্বেচ্ছাসেবকরা ত্রান নিয়ে আসছি। সম্মানিত পৌরবাসী আপনারা বিচলিত হবেন না,আমি আপনাদের সাথে আছি। শুধু আপনারা আমার সাথে থাকুন।


জনাব সাইদুল ইসলাম সাহেবের ফেইসবুক আইডির পুস্ট টি দৈনিক বড়লেখা এর পাঠকদের জন্য থেকে হুবুহু তুলে ধরা হলো।

আলহামদূলিল্লাহ,
প্রায়২৫০০এর অধিক পরিবারের জন্য ইতিমধ্যে ত্রানসামগ্রী নিয়ে কাজ শুরু করেছি, মালগুলো প্যাকেটিং করে স্বচ্ছ তালিকা করে খুব শীগগীরই আপনাদের দূয়ারে আমি ও আমার স্বেচ্ছাসেবকরা ত্রান নিয়ে আসছি। সম্মানিত পৌরবাসী আপনারা বিচলিত হবেন না,আমি আপনাদের সাথে আছি। শুধু আপনারা আমার সাথে থাকুন।
বিনীত,
আপনাদের সেবক,
সমাজ সেবক
সাইদূল ইসলাম
সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী
বড়লেখা পৌরসভা।

খাবারের অভাবে’ ‘শিশুর আত্মহত্যা ‘


সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর এলাকায় আফরোজা খাতুন (১০) নামে এক শিশু আত্মহত্যা করেছে। ১০এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে গলায় ফাঁস নিয়ে নিজ বাড়িতে সে আত্মহত্যা করে। স্বজনরা দাবি করেছেন, কয়েকদিন ধরে অনাহারে পরিবারটি। খাবারের জন্য কান্নাকাটি করায় পিতা থমক দেন আফরোজাকে। তারপরই ঘটে আত্মহত্যার ঘটনা। খাবারের অভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় প্রতিক্রিয়া তৈরী করেছে।

সূত্র জানায়, আফরোজার পিতা আলম শেখ পেশায় তাঁত শ্রমিক। থাকেন কামারপাড়া ওয়াপদা বাঁধে। দুস্থ এ পরিবারটির সন্তান আফরোজা আত্মহত্যা করেছে মূলত ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে। শুক্রবার বিকেলে সে কয়েক দফা খাবার চেয়েছে বাবার কাছে। কিন্তু খাবারের বদলে ধমক শুনতে হয়েছে শিশুকে।
স্বজনরা দাবি করেছেন, তাঁত শ্রমিক আলম শেখের কারখানা বন্ধ দশদিন। জমা টাকায় ৪/৫দিন সংসার চললেও গত কয়েকদিন কার্যত অনাহারে ছিলেন শিশুসহ পরিবারের সদস্যরা। এ সময়ে আলম পাননি সরকারি অথবা বেসরকারি সহায়তা। কেউই খোঁজ নেননি। আফরোজার মৃত্যুর পর অনেকে এসেছেন বাড়িতে। পৌর মেয়র শনিবার খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। ওয়াপদা বাঁধে প্রায় ৫ ‘শ পরিবারের বাস। জন প্রতিনিধিরা তাদের অনেকের আইডি কার্ড নিয়ে গেলেও ত্রাণ সহায়তা মেলেনি।

বাবা আলম শেখ বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রশাসন কড়াকড়ি করছে। তাই দশদিন ধরে কাজ করতে পারছিনা। ঘরেই শুয়ে বসে দিন কাটাচ্ছি। হাতে নগদ টাকা নাই,তাই চালডাল কিনতে পারিনি। ঘরে খাবার নেই বলে মেয়ে কান্নাকাটি করছিল। আমি তাকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম। এরপর মেয়েটা আত্মহত্যা করেছে।’

বেলকুচি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর-এ-আলম বলেন,’শিশুর পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।’
বেলকুচি পৌরসভার মেয়র আশানূর বিশ্বাস বলেন, ‘কর্মহীন দুস্থ মানুষের জন্য সরকারি সাহায্য অপর্যাপ্ত। সে কারণে সকল মানুষকে একসাথে ত্রাণ দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। খাদ্য সহায়তা আরো বাড়ানো দরকার।’

বেলকুচির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত-ই-জাহান বলেন, ‘প্রথম দফায় পরিবারটিকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। তারপরও কেন এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শনিবার আবারও পরিবারটিকে ১০ কেজি চাল, ডাল, তেল,পেঁয়াজ, লবণ ও আলু দেওয়া হয়েছে।’

আমাদের ফেইজবুক পেইজ লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন। https://www.facebook.com/dailybarlekha/

আমাদের ফেইসবুক গ্রুপ https://www.facebook.com/groups/219604616049621/

সুত্রঃ কালের কন্ঠ

বড়লেখায় দক্ষিণ সুড়িকান্দি আদর্শ ক্লাবের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরন।


নাহিদ আহমদ : বিশ্বব্যাপি করোনা ভাইরাসের কারনে চরম দূর্ভোগে দিন কাটছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যেবিত্ত পরিবারের মানুষের। অসহায় হয়ে পড়েছে দিনমজুর মানুষ। এই দূর্ভোগে অসহায় দরিদ্র পরিবারের পাশে দাড়ালো বড়লেখার সামাজিক ও ক্রিড়া সংগঠন দক্ষিণ সুড়িকান্দি আদর্শ ক্লাব। প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারের মাঝে বিতরন করা হয়েছে খাদ্য সামগ্রী। বিতরন করা খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তৈল, আলু, পেঁয়াজ, লবন। শনিবার সকালে সুড়িকান্দি গ্রাম সহ নেরাকান্দি, খলাকান্দি, শংকরপুর গ্রামের অসহায় পরিবার এর মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়।
এই সময় উপস্তিত ছিলেন দক্ষিণ সুড়িকান্দি আদর্শ ক্লাবের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক চেয়ারম্যান জনাব শফিক উদ্দিন আহমেদ, অত্র ক্লাবের উপদেষ্টা বিশিষ্ট মুরব্বী জনাব হাজী মুছব্বীর আলী সাহেব, বিশিষ্ট মুরব্বী জনাব ফয়জুর রহমান সাহেব, ক্লাবের সাবেক সভাপতি হিফজুর রহমান সুমন, ক্লাবের বর্তমান সভাপতি শফিকুল হক সহ ক্লাবের সদস্য বৃন্দরা উপস্তিত ছিলেন।

‘পোশাক শ্রমিকরা মরবে‌ অনাহারেই’ করোনায় নয়,

করোনা সতর্কতার অংশ হিসেবে বিশ্বের অধিকাংশ কারখানা এখন বন্ধ। এ অবস্থায় শ্রমিকদের পরিণতি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করতে গিয়ে বিজয় মাহতানি মন্তব্য করেন, ‘আমাদের শ্রমিকরা যদি করোনাভাইরাসে না মরে, তারা মরবে অনাহারে, না খেতে পেয়ে।’
করোনাভাইরাসের বিশ্ব মহামারি পোশাক শিল্প খাতে কী প্রভাব ফেলছে সেটি বলতে গিয়েই এ মন্তব্য করেন কারখানাটির চেয়ারম্যান।

‘অ্যামবাটুর ফ্যাশন ইন্ডিয়া’ ভারতের একটি নামি পোশাক কারখানা। মালিকের নাম বিজয় মাহতানি। তাঁর একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য ভাবিয়ে তুলেছে অনেক মানুষকে।

বিজয় মাহতানির সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে আছেন আরো দুজন। এঁরা হলেন অমিত মাহতানি এবং শাওন ইসলাম। তিনটি দেশে ব্যবসা পরিচালনা করেন তাঁরা। সেখানে কাজ করেন প্রায় ১৮ হাজার কর্মী। বাংলাদেশ, ভারত এবং জর্ডানে তাদের কারখানা। কিন্তু করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবসার একটা বিরাট অংশ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। কেবল ঢাকার কারখানাটি অংশত চালু।

শ্রমিকদের তাঁরা যে মজুরি দিতে পারছেন না সেটি কেবল করোনাভাইরাস লকডাউনের কারণে নয়। তাঁদের মূল সমস্যা যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনের বড় বড় ক্রেতাদের অন্যায্য দাবি।
‘অনেক ব্রান্ড সত্যিকারের অংশীদার হিসেবে পাশে দাঁড়াচ্ছে, নীতি-নৈতিকতা মেনে চলছে। তাঁরা চেষ্টা করছেন নগদ অর্থের সরবরাহ যেন অব্যাহত থাকে, যাতে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া যায়’- বলেন অমিত মাহতানি, জর্ডানের টাস্কার অ্যাপারেলের প্রধান নির্বাহী।

অমিত মাহতানি আরো বলেন, ‘কিন্তু আমাদের এমন অভিজ্ঞতাও হয়েছে যেখানে তৈরি হচ্ছে বা হয়ে গেছে এমন জিনিসের অর্ডার বাতিলের জন্য তাঁরা চাপ দিয়েছেন। ট্রানজিটে আছে এমন পণ্য বা বকেয়া পাওনার ওপর ডিসকাউন্ট দাবি করেছেন। অনেকে বকেয়া পরিশোধের সময় আরো ৩০ বা ১২০ দিন পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

একটি ই-মেইল দেখা গেছে, একটি মার্কিন কম্পানি সব ধরনের অর্ডারে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট চেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এরইমধ্যে ডেলিভারি দিয়ে দেওয়া পণ্যও। তাঁরা কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন ‘অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এখন যেতে হচ্ছে’।

‘শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ কীভাবে রক্ষা করা যায় সেটাই কেবল তাঁদের চিন্তা, গার্মেন্টস শ্রমিকদের কথা তারা বিবেচনাতেই রাখছে না। দায়িত্বশীলভাবে পণ্য সংগ্রহের যে কথা তারা বলে, তার তোয়াক্কা না করে তারা এখন ভণ্ডামির আশ্রয় নিচ্ছে’- বলেন বিজয় মাহতানি।

বিজয় আরো বলেন, ‘ব্রান্ডগুলোর মনোযোগ থাকে শেয়ারের দামের দিকে। তাদের হাতে এই দুর্যোগের সময় যথেষ্ট অর্থ নেই। পুরো সাপ্লাই চেইনে তারাই এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে। তারা এখন আমাদের কাছে আবেদন জানাচ্ছে সাহায্যের জন্য। যখন তাদের কীনা দেউলিয়াত্ব থেকে বাঁচতে মার্কিন সরকারের আর্থিক প্রণোদনা পেতে আবেদন করা উচিত।’

এসব ঘটছে এমন এক সময় যখন করোনাভাইরাস লকডাউনের কারণে পোশাক প্রস্তুতকারকরা দুদিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত।

প্রথম সমস্যা দেখা দিয়েছিল গত ফেব্রুয়ারিতে, যখন চীন থেকে কাঁচামাল আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। চীন হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাপড় রপ্তানিকারক। বছরে ১১৮ বিলিয়ন ডলারের কাপড় রপ্তানি করেন তারা।

এরপর সম্প্রতি যখন চীনের টেক্সটাইল কারখানাগুলো খুলতে শুরু করে, গার্মেন্টস কারখানা মালিকরা আশা করছিলেন এবার তারা উৎপাদন আগের অবস্থায় নিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু তারপর এলো দ্বিতীয় ধাক্কা- বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লকডাউনের কারণে বন্ধ হয়ে গেল দোকান-পাট। চাহিদা পড়ে গেল রাতারাতি।

গুরুত্বপূর্ণ শিল্প
চীনকে বলা হয় সারা বিশ্বের কারখানা। কিন্তু তৈরি পোশাকের বেলায় বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ক্যাম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম এবং মিয়ানমার পালন করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

‘গত ১০ বছর ধরে তৈরি পোশাক শিল্প চীন থেকে অন্যান্য দেশে সরে যাচ্ছে। কারণ চীনে এখন খরচ পড়ছে বেশি’, বলছেন পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘লিভার স্টাইলে‌’র স্ট্যানলি সেটো। নামকরা সব ব্রান্ডের পোশাক সরবরাহ করে তার কম্পানি।

এর মানে হচ্ছে এশিয়ার অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য পোশাক শিল্প এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পোশাক রফতানিকারক চারটি দেশের দুটি হচ্ছে বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনাম । বিশ্ব বাজারে মোট রফতানির ৬ দশমিক ৭ শতাংশ যায় বাংলাদেশ থেকে, আর ৫ দশমিক ৭ শতাংশ ভিয়েতনাম থেকে।

বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। গত বছর বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এসেছে এই খাত থেকে। ক্যাম্বোডিয়া এবং শ্রীলংকাও এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। তাদের রফতানির ৬০ শতাংশ হচ্ছে তৈরি পোশাক। বাংলাদেশে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে যত মানুষ কাজ করে, তার প্রায় অর্ধেক এই শিল্পে নিয়োজিত। অন্যদিকে ক্যাম্বোডিয়ায় আরো বেশি, প্রায় ৬০ শতাংশ।

ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের ফ্যাশন অ্যান্ড অ্যাপারেল স্টাডিজের শেং লু বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, ক্যাম্বোডিয়া এবং ভারতের গার্মেন্টস শিল্পে ৪ হতে ৯ শতাংশ পর্যন্ত মানুষ কাজ হারাতে পারে। এ কারণেই বাংলাদেশ সরকার তৈরি পোশাক শিল্পকে সাহায্য করার চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশের স্প্যারো অ্যাপারেলসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাওন ইসলাম বলেন, ‘সরকার খুবই উদার এক আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে যাতে শ্রমিকদের বেতনে ভর্তুকি দেয়া যায়, ব্যাংক ঋণের মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়া যায় এবং সুদের হার যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রাখা যায়। যে ঝড় আসছে তার মোকাবেলায় এটা হয়তো যথেষ্ট নয়, তারপরও এটি আমাদের সাহায্য করবে।’

ক্যাম্বোডিয়ার সরকারও পোশাক খাতের জন্য নানা রকম সহায়তা ঘোষণা করেছে। শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার জন্য ভর্তুকির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

প্রফেসর লু বলেন, এসব দেশকে এরকম পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে কারণ মহামারির কারণে শ্রমিক সংকট থেকে শুরু করে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাওয়া- এরকম নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে কোনো কোনো ব্র্যান্ড সমালোচনার মুখে এখন অঙ্গীকার করছে যে তারা তাদের বতর্মান সব অর্ডারের পুরু দাম শোধ করবে। যেমন এইচ-অ্যান্ড-এম এবং ইনডিটেক্স এমন ঘোষণা দিয়েছে।

‘লেবার বিহাইন্ড লেবেল’ নামে এ কটি শ্রমিক অধিকার সংস্থার ডোমিনিক মুলার বলেন, ‘ব্রান্ডগুলো বহু বছর ধরে কম মজুরির দেশগুলোতে পোশাক বানিয়ে মুনাফা করেছে। এসব দেশে কোনো ধরনের সোশ্যাল সিকিউরিটির ব্যবস্থা নেই। এই বিজনেস মডেলে কোনো কোনো ব্রান্ডের তো বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে শ্রমিকদের যেভাবে শোষণ করা হয়েছে এখন সেই দেনা পরিশোধের পালা।’

কারখানা মালিক অমিত মাহতানি একথার সঙ্গে একমত। তিনি বলেন, ‘বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এই শিল্পকে রক্ষায় ধনী দেশগুলোকে বেইলআউটের ব্যবস্থা করতে হবে।’

এটি ছাড়া, তার মতে, এই শিল্প একেবারেই ধসে পড়বে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

অভিনেতা থেকে চোরের নেতা: ২ জনের দোষ স্বীকার

ঢাকায় সেন্ট্রাল রোডের ফ্ল্যাটে গ্রিল কেটে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং ল্যাপটপ চুরির মামলায় মূলহোতা অভিনয় শিল্পী মো. হাসান (জিসান) ও তার সহযোগী আনোয়ার হোসেন চুরির কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

হাসানের সহযোগী ভ্যানচালক আব্দুল আলীম ও চোরাই স্বর্ণের ক্রেতা লিখন শেখকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারী জবানবন্দি রেকর্ড এবং কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।

এর আগে পুলিশ চার আসামিকে আদালতে হাজির করে। জিসান এবং আনোয়ার হোসেন স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আব্দুল আলীম ও লিখন শেখকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।

কলাবাগান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক সাফায়েত হোসেন সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান।

এর আগে ৯ এপ্রিল ধানমন্ডি, হাজারীবাগ এবং লালবাগ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সুত্রঃ রাইজিং বিডি

ত্রাণ বিতরণে ভয়ংকর চুরি হাহাকারে পরিনত হবে: জেএসডি

করোনা পরিস্থিতিতে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠির ত্রাণে চুরি ও দুর্নীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি। আজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আহবান জানান সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাড.ছানোয়ার হোসেন তালুকদার।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতে হতদরিদ্র কর্মহীনদের মাঝে ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ভয়ংকর চুরি নিরন্ন মানুষের হাহাকারে পরিনত হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে হতদরিদ্রদের খাদ্যসংকট সৃষ্টি হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ত্রাণে সরকারী দলের সম্পৃক্ততায় যে বেহাল অবস্থা তা ইতিমধ্যে দেশবাসী প্রত্যক্ষ করছে। ত্রাণ বিতরনে প্রশাসনের সাথে পেশাজীবিদের নিয়ে সর্বদলীয় কমিটি গঠন করতে হবে এবং করোনাভাইরাস সংক্রমন বিস্তাররোধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

সুত্রঃ মানবজমিন

টাকার লোভে ১১বছরের মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন বাবা।।

সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের সময় আসামিদের সামনে আনা হয়। ইনসেটে মেয়ের ছবি।

প্রতিপক্ষের সঙ্গে ঝামেলা চলছিল। দরকার একটি লাশ। এরই বলি হয় নরসিংদীর বাহের চর এলাকার দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু ইলমা বেগম (১১)। শিশুটির বাবা ৩০ লাখ টাকায় একটি পক্ষের সঙ্গে চুক্তি করেন মেয়েকে হত্যার জন্য। নির্মম ওই ঘটনা জানতেন শিশুটির মা। এজন্য তারা চার লাখ টাকাও পেয়েছিলেন। পুরো হত্যার নেতৃত্ব দেন শিশুটির ফুফাতো ভাই।

২০১৫ সালের মার্চে ওই হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছরের মাথায় সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগ ওই নৃশংসতার রহস্য উদ্ঘাটন করে।

নরসিংদীর মাধবদী থেকে ইলমার বাবা আবদুল মোতালিব, মা মঙ্গলী বেগম, ফুপাত ভাই মাসুম মিয়া, শাহজাহান ভূঁইয়া ও মো. বাতেন নামে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করলে এই রহস্য বেরিয়ে আসে। এরইমধ্যে মাসুম মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সোমবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে ইলমা হত্যা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সিআইডি কর্মকর্তারা। সেখানে সংস্থাটির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ইলমা তার বাবার লোভের বলি হয়েছিল। নরসিংদীর বাহের চরে স্থানীয় শাহজাহান ভূঁইয়া ও সাবেক মেম্বার বাচ্চুর নেতৃত্বে দুটি দলের প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিবাদ চলে আসছিল। শাহজাহান ভূঁইয়ার লোকজন প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে শিশু হত্যার পরিকল্পনা করে। এর বিনিময়ে তিনি ইলমার বাবা আবদুল মোতালেবকে ৩০ লাখ টাকা দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন। টাকার লোভে ইলমার বাবা মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেয়।

সিআইডি কর্মকর্তারা বলছেন, শিশু ইলমা হত্যায় নেতৃত্ব দেওয়া মাসুম মিয়া জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে। সে জানায়, ইলমাকে হত্যার পরিকল্পনা হয় ২০১৫ সালের ১ মার্চ। ওই রাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১৩ জন উপস্থিত ছিল। সিদ্ধান্ত অনুসারে ইলমার বাবাকে সন্তানের বিনিময়ে ৩০ লাখ টাকার টোপ দেওয়া হয়। তাতেই রাজি হয়ে যান তিনি। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় ইলমার দুলাভাই বাবুল বাড়ির পাশে নূরার দোকান থেকে ইলমাকে জিনিসপত্র কিনতে পাঠান। বাড়ি ফেরার পথে দুলাভাই বাবুল ও ফুপাতো ভাই মাসুমের নেতৃত্বে সাত-আট জন শিশুটিকে তুলে নিয়ে যায়। পরে ইট ও মুগুর দিয়ে মাথা থেঁতলে ও গলাটিপে তাকে হত্যা করা হয়।

মাসুম মিয়া দাবি করেছে, ওই সময়ে ইলমার বাবা পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ইলমার বাবা মোতালিব মূল আসামিদের বাদ দিয়ে বিরোধী পক্ষ বাচ্চু গ্রুপের বিলকিস, খোরশেদ, নাসুসহ অজ্ঞাত চার-পাঁচ জনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের আগে ইলমার বাবাকে চার লাখ টাকা দেওয়া হলেও পরে আর তাকে টাকা দেওয়া হয়নি।

সিআইডির একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ইলমার বাবার সঙ্গে চুক্তি ছিল হত্যার আগে তিনি সব টাকা পাবেন। কিন্তু মেয়েকে হত্যার প্রস্তুতির সময়ে তাকে মাত্র চার লাখ টাকা দেওয়া হয়। ওই সময়ে তিনি মূল খুনি তার ভাগ্নে মাসুম মিয়ার উদ্দেশ্যে বলতে থাকে ‘আগে টাকা দাও পরে কাম সারো’। অবশ্য শেষ পর্যন্ত তিনি আর সব টাকা পাননি। জেলে যাওয়ার ভয়ে পুলিশের কাছেও মুখ খোলেননি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয় একজন আসামির স্বীকারোক্তিতেই শিশুটির বাবা-মায়ের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় কি না? এই প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি ইমতিয়াজ বলেন, ইলমার বাবা-মা মূল আসামির নাম এজাহারে উল্লেখই করেননি। এমনকি তদন্ত করার সময় ইলমার বাবা একেকবার একেকজনের নাম এজাহারভুক্ত করার আবদার নিয়ে এসেছেন। সন্তান হত্যার বিচার না চেয়ে তিনি বারবার আসামির নাম বদলানোর অনুরোধ নিয়ে পুলিশের কাছে আসেন। এ ছাড়া ইলমার সুরতহাল প্রতিবেদনে যেখানে যেখানে আঘাতের কথা বলা হয়েছে, মাসুম ঠিক সে জায়গাগুলোরই উল্লেখ করেছে। এর বাইরেও তারা নানা আলামত বিশ্নেষণ ও তদন্ত অব্যাহত রেখেছেন।

সিআইডির তদন্ত সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, নরসিংদী থানার বাহেরচরে শাহজাহান ভূইয়া ও সাবেক মেম্বার বাচ্চুর নেতৃত্বে দুটি দলের মধ্যে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে মাঝেমধ্যেই ঝামেলা হতো। শাহজাহান গ্রুপের সদস্য ও ইলমার ফুফাতো ভাই মাসুমের সঙ্গে বাচ্চু গ্রুপের সদস্য তোফাজ্জলের মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই মেয়েকে তুলে নিয়ে মাসুম তার ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি রেখেছিল। তোফাজ্জল দলবল নিয়ে মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। ওই ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মাসুম, তার ভাই খসরু ও ভাইয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় অপহরণ মামলা করেন। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছালে বাচ্চু গ্রুপের সদস্যদের ক্ষতি করতে শাহজাহানের অনুসারীরা ইলমাকে খুনের পরিকল্পনা করে।

সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা জানান, খুন ও পরিকল্পনায় জড়িত অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সুত্রঃ সমকাল

করোনাঃচিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স দেবার ঘোষণা দিয়েছে যুবলীগ।

নিউজ ডেস্কঃ
করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রকোপে গোটা বিশ্বজুড়ে অচলাবস্থা। বাংলাদেশেও ভাইরাসটি প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।

এবার রাজধানীতে অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেবার ঘোষণা দিয়েছে যুবলীগ। আজ বৃহস্পতিবার যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল এক যুক্ত বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার কারনে বাংলাদেশের মানুষ আজ সংকটময় সময় পার করছেন। ঢাকা মহানগর এর রোগীদের যাতায়াতের সংকট বিবেচনা করে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ দুটি এ্যাম্বুলেন্স ঢাকা মহানগরে ২৪ ঘন্টা ফ্রী সার্ভিস দেওয়ার সিন্ধান্ত গ্রহন করেছেন। যুবলীগের ফ্রী এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নেয়ার জন্য সার্বক্ষণিক ( ০১৭১২০৪১০০৮ ও ০১৭২০৩৮২৫৩৭) মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা যাচ্ছে।
একই সঙ্গে যুবলীগের নেতাকর্মীদের সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে এবং জনসমাগম পরিহার করে সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মহীন মানুষকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন তারা।

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সারাদেশে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাঁশে শুরু থেকেই দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ যুবলীগ। যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নির্দেশনায় সারাদেশে যুবলীগের নেতাকর্মীরা বিনামূল্যে মাস্ক, হ্যান্ড ওয়াশ, স্যানিটাইজার, হেক্সিসলসহ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন সামগ্রী বিতরণ করছে। ২৬ মার্চ থেকে অঘোষিত লকডাউন শুরুর পর হতে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি সারাদেশে জেলা-উপজেলা ও মহানগর নেতারা প্রতিরোধ সামগ্রীর সঙ্গে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছে।

BREAKING সৌদি আরবে তিনটি বিমানবন্দর বিদেশ থেকে নাগরিক গ্রহণের জন্য প্রস্তুত।

নিজস্ব সংবাদঃ সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান পরিবহনের সাধারণ কর্তৃপক্ষ: রিয়াদ, জেদ্দা এবং দাম্মামের তিনটি বিমানবন্দর বিদেশ থেকে নাগরিক গ্রহণের জন্য প্রস্তুত বলে বার্তা দিয়েছে সৌদি( অনলাইন ) গেজেটে।


সুত্রঃ https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2868123879943110&id=137192489702943

বড়লেখায় সমাজকল্যাণ পরিষদ দক্ষিণ মুছেগুল এর দ্বিতীয় দফায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

ফয়সাল মাহমুদ বড়লেখাঃ করোনা ভাইরাসের কারণে ঘোষিত লকডাউনে গৃহবন্ধি মানুষের এই ক্রান্তিলগ্নে সারাদেশের ন্যায় করোনার প্রাদুর্ভাব রোধে সব কিছু বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন মৌলভীবাজারের বড়লেখার নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকালে বড়লেখার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির সমাজকল্যাণ পরিষদ দক্ষিণ মুছেগুল এর উদ্যোগে মুছেগুল এলাকায় ১০০ দুস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে। এরমধ্যে চাল,সয়াবিন তেল,পেঁয়াজ ও আলু বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, পরিষদের উপদেষ্টা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মাওলানা আলিম উদ্দীন, হাফিজ আবুল হোসেন। সভাপতি জুবায়ের আহমদ শিমুল, সিনিয়র সহ সভাপতি হাফিজ হারুনুর রশিদ, অর্থ সম্পাদক হেলাল,সাইফুর রহমান রুহেল, তাওহিদ আহমদ ফাহিম, সদস্য জাকির হোসেন,মারওয়ান আহমদ, জামিল আহমদ, শিপান আহমদ, খালিদ হাসান ছাঈদ প্রমুখ।

সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি জুবায়ের আহমদ শিমুল জানান, যারা দিন আনে দিন খায় এমন শ্রমজীবী মানুষ করোনার কারণে অসহায় হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় ওইসব দিনমজুর মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সমাজকল্যাণ পরিষদ দক্ষিণ মুছেগুল। এর আগেও সমাজকল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে এবং এ নিয়ে দ্বিতীয় ধাপে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

বড়লেখায় জামাতে ইসলামি ও ছাত্রশিবিরের উদ্দোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ।

নিজস্ব সংবাদঃমৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা জামাতে ইসলামি ও ছাত্রশিবিরের যৌথ উদ্দোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে করোনাভাইরাসের কারনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার কে এ সহযোগিতা প্রদান করা হয়। পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্য উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জনাব ফয়সল আহমদ সংঘটনের সকল পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও জনশক্তির প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।

রাজাপুরে ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী।

প্রতিকি ছবি

নিউজ ডেস্কঃ
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গালুয়া দুর্গাপুরে (২৫) বছর বয়সী মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার নির্মাণ শ্রমিক সুজন (২২) এর বিরুদ্ধে। সুজন ওই এলাকার তার নানা মৃত আইয়েব আলী খানের বাড়ীতে থাকে এবং সে গালুয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড এলাকার রুস্তুম তালুকদারের ছেলে।
ধর্ষণের শিকার নারীর মা’ নাসিমা বেগম জানান, আমার মেয়ে দীর্ঘ ১০-১২ বছর যাবত মানষিক প্রতিবন্ধী ও ভারসাম্যহীন অবস্থায় আছে। তাকে আমরা বিভিন্ন সময় চিকিৎসা করিয়াছি কিন্তু সুস্থ হননি। তাকে ঘরে রাখলে সে মানসিক ভাবে উত্তেজিত হয়ে ঘরের সকল আসবাবপত্র ভাংচুর করে। তার জন্য তাকে আমাদের বারান্দায় রাখি। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার রাতে আমার মেয়েকে সুজন ধর্ষণ করে। তখন মেয়ের চিৎকার শুনে আমি ও আমার অন্য মেয়ে বারান্দায় ছুটে আসলে সুজন পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে সুজনের পরিবারের কাছে বিচার দিলে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে আমি ও আমার কলেজ পড়–য়া অন্য মেয়ের উপর হামলা চালায় এবং এক পর্যায় স্থানীয়রা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তখন সুজন আমার আরেক কলেজ পড়ুয়া মেয়েকেও ধর্ষণের হুমকি দেয়।
সুজন এর আগেও মানুষিক প্রতিবন্ধী মেয়েটির সাথে এমন ঘটনা ঘটিয়ে ধামাচাপা দেয়া হয় বলেও অভিযোগ মায়ের।

রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহিদ হোসেন জানান, মৌখিক ভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

করোনা আপডেটঃআক্রান্ত ৪২৪ জন,আরও ৬ জনের মৃত্যু।

নিউজ ডেস্কঃ
দেশে করোনাভাইরাসে নতুন করে আরও ৯৪ জন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এতে দেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৪ জনে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ছয়জন। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা। নিজের বাসা থেকে যুক্ত হন রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ২৯৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ১ হাজার ১৮৪টি। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭ হাজার ৩৫৯টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় ৯৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ঢাকায় শনাক্ত হয়েছেন ৩৭ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নারায়ণগঞ্জে শনাক্ত হয়েছেন ১৬ জন। নতুন রোগীদের মধ্যে ৬৯ জন পুরুষ, ২৫ জন নারী। করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৪২৪।

আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৬ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭-এ। যারা মারা গেছেন, তাদের ৩ জন রাজধানী ঢাকার, ২ জন নারায়ণগঞ্জের এবং ১ জন পটুয়াখালীর ছিলেন।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে বৈশ্বিক মহামারিতে পরিণত করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত প্রায় সোয়া ১৬ লাখের বেশি। মারা গেছেন প্রায় ৯৬ হাজার মানুষ। তবে সাড়ে ৩ লাখের মতো রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও গত ক’দিনে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। সবশেষ হিসাবে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪২৪। মারা গেছেন ২৭ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩৩ জন।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে; যার মূলে রয়েছে মানুষে মানুষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। মানুষকে ঘরে রাখতে রাজপথের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ।

করোনা আপডেটঃআক্রান্ত ৪২৪ জন,আরও ৬ জনের মৃত্যু।

নিউজ ডেস্কঃ
দেশে করোনাভাইরাসে নতুন করে আরও ৯৪ জন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এতে দেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৪ জনে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ছয়জন। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা। নিজের বাসা থেকে যুক্ত হন রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ২৯৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ১ হাজার ১৮৪টি। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭ হাজার ৩৫৯টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় ৯৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ঢাকায় শনাক্ত হয়েছেন ৩৭ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নারায়ণগঞ্জে শনাক্ত হয়েছেন ১৬ জন। নতুন রোগীদের মধ্যে ৬৯ জন পুরুষ, ২৫ জন নারী। করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৪২৪।

আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৬ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭-এ। যারা মারা গেছেন, তাদের ৩ জন রাজধানী ঢাকার, ২ জন নারায়ণগঞ্জের এবং ১ জন পটুয়াখালীর ছিলেন।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে বৈশ্বিক মহামারিতে পরিণত করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত প্রায় সোয়া ১৬ লাখের বেশি। মারা গেছেন প্রায় ৯৬ হাজার মানুষ। তবে সাড়ে ৩ লাখের মতো রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও গত ক’দিনে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। সবশেষ হিসাবে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪২৪। মারা গেছেন ২৭ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩৩ জন।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে; যার মূলে রয়েছে মানুষে মানুষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। মানুষকে ঘরে রাখতে রাজপথের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ।

করোনা আপডেটঃআক্রান্ত ২২ চিকিৎসক

নিউজ ডেস্কঃ
দিন দিন বাড়ছে ক‌রোনা আক্রা‌ন্তের সংখ্যা। অার এসব রোগী‌দের চি‌কিৎসা কর‌তে গিয়ে আক্রান্ত হ‌চ্ছে চি‌কিৎসকরা। সর্ব‌শেষ পপুলার হাসপাতা‌লের এক ডাক্তার ক‌রোনায় আক্রান্ত হয়েছেন গতকাল। তার সংস্প‌র্শে আসা পাঁচ চি‌কিৎস‌কে কোয়া‌রি‌ন্টি‌নে রাখা হ‌য়ে‌ছে বলা জানা গে‌ছে। চি‌কিৎস‌কদের আক্রা‌ন্তের সংখ্যা দিন দিন বে‌ড়েই চ‌লে‌ছে। দে‌শে এই পর্যন্ত ক‌রোনায় আক্রান্ত হ‌য়ে‌ছেন ২২ জন চি‌কিৎসক ,আই‌সোলশ‌নে আছেন আরো ৮৭ জন। তথ্য‌টি মানবজমিন‌কে নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছে বাংলা‌দেশ ডক্টর ফাউ‌ন্ডেশন।
জানা যায়, ‌চি‌কিৎস‌কদের আই‌সো‌লেশ‌নে থাকার সংখ‌্যা‌টি হুহু ক‌রে বাড়‌ছে।
ফাউ‌ন্ডেশ‌নের ট্রা‌স্টি‌বো‌র্ডের ম্যা‌নে‌জিং ডি‌রেক্টর ডা.কাউসার ব‌লেন, সারা দে‌শে এখন পর্যন্ত ২২জন ডাক্তারের ক‌রোনা ভাইরাস শনাক্ত হ‌য়ে‌ছে। এর ম‌ধ্যে সর্ব‌শেষ পপুলার হাসাপাতা‌লের এক চি‌কিসৎ‌কের ক‌রোনা প‌জে‌টিভ পাওয়া গেছে।

আই‌সো‌লেশ‌নে আছেন আরো ৮৭ জন। এসব ডাক্তার‌দের অ‌নে‌কেই মে‌সে বা আলাদা বাসা নি‌য়ে থা‌কে। তা‌দের‌কে খাবার থে‌কে শুরু ক‌রে প্র‌য়োজনীয় সব কিছু সরবরাহ কর‌ছি আমরা। শুধু তাই নয় তা‌দের চি‌কিৎসা সেবাও দি‌য়ে যা‌চ্ছি। সবসময় তা‌দের ফ‌লো‌আপের ম‌ধ্যে রাখ‌ছি।

করোনা আপডেটঃআক্রান্ত ২২ চিকিৎসক

নিউজ ডেস্কঃ
দিন দিন বাড়ছে ক‌রোনা আক্রা‌ন্তের সংখ্যা। অার এসব রোগী‌দের চি‌কিৎসা কর‌তে গিয়ে আক্রান্ত হ‌চ্ছে চি‌কিৎসকরা। সর্ব‌শেষ পপুলার হাসপাতা‌লের এক ডাক্তার ক‌রোনায় আক্রান্ত হয়েছেন গতকাল। তার সংস্প‌র্শে আসা পাঁচ চি‌কিৎস‌কে কোয়া‌রি‌ন্টি‌নে রাখা হ‌য়ে‌ছে বলা জানা গে‌ছে। চি‌কিৎস‌কদের আক্রা‌ন্তের সংখ্যা দিন দিন বে‌ড়েই চ‌লে‌ছে। দে‌শে এই পর্যন্ত ক‌রোনায় আক্রান্ত হ‌য়ে‌ছেন ২২ জন চি‌কিৎসক ,আই‌সোলশ‌নে আছেন আরো ৮৭ জন। তথ্য‌টি মানবজমিন‌কে নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছে বাংলা‌দেশ ডক্টর ফাউ‌ন্ডেশন।
জানা যায়, ‌চি‌কিৎস‌কদের আই‌সো‌লেশ‌নে থাকার সংখ‌্যা‌টি হুহু ক‌রে বাড়‌ছে।
ফাউ‌ন্ডেশ‌নের ট্রা‌স্টি‌বো‌র্ডের ম্যা‌নে‌জিং ডি‌রেক্টর ডা.কাউসার ব‌লেন, সারা দে‌শে এখন পর্যন্ত ২২জন ডাক্তারের ক‌রোনা ভাইরাস শনাক্ত হ‌য়ে‌ছে। এর ম‌ধ্যে সর্ব‌শেষ পপুলার হাসাপাতা‌লের এক চি‌কিসৎ‌কের ক‌রোনা প‌জে‌টিভ পাওয়া গেছে।

আই‌সো‌লেশ‌নে আছেন আরো ৮৭ জন। এসব ডাক্তার‌দের অ‌নে‌কেই মে‌সে বা আলাদা বাসা নি‌য়ে থা‌কে। তা‌দের‌কে খাবার থে‌কে শুরু ক‌রে প্র‌য়োজনীয় সব কিছু সরবরাহ কর‌ছি আমরা। শুধু তাই নয় তা‌দের চি‌কিৎসা সেবাও দি‌য়ে যা‌চ্ছি। সবসময় তা‌দের ফ‌লো‌আপের ম‌ধ্যে রাখ‌ছি।

প্রবাসী যুবককে কুপিয়ে হত্যা

প্রতিকি ছবি

নিউজ ডেস্কঃ
সিলেট শহরতলীর হায়দরপুরে রাতের আধারে প্রবাসীকে কুপিয়ে খুন করেছে অজ্ঞাত ঘাতকরা। নিহত ওই প্রবাসীর নাম ফাহিম আহমদ। তিনি টুকেরবাজারের হায়দরপুর গ্রামের আব্দুল মানিকের ছেলে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- ফাহিম আহমদ কাতার প্রবাসী। তিনি ছুটি কাটাতে প্রায় ৩ মাস আগে দেশে ফিরেন। করোনাভাইরাসের কাছে কর্মস্থলে ফিরতে তার বিলম্ব হচ্ছিলো।

তারা জানান- বৃহস্পতিবার শবে বরাতের রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ফাহিমের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। পরে তারা স্থানীয় জালালাবাদ থানার পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা জানিয়েছেন- জালালাবাদ থানা পুলিশ রাতে কাতার প্রবাসী এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে- পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ওই প্রবাসীকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ খুনের ঘটনাটি তদন্ত করছে বলে জানান তিনি।

আটকা পড়া ছেলেকে উদ্ধারে স্কুটি নিয়ে ১৪শ কিঃমি পাড়ি দিলেন মা।

ছবি এনডিটিভি

নিউজ ডেস্কঃ অন্ধ্রপ্রদেশের নেলোরে লকডাউনে আটকাপড়া ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসতে স্কুটারে করে এক হাজার ৪০০ কিলোমিটার পাড়ি দিলেন তেলেঙ্গানার এক মা।

রাজিয়া বেগম নামের ওই নারী একটানা তিন দিন স্কুটার চালিয়ে ছেলেকে ফেরত দিয়ে আসেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে জানা যায়, স্থানীয় পুলিশের অনুমতি নিয়ে সোমবার সকালে এই দুঃসাধ্য যাত্রায় বের হন তিনি। এরপর একাই তিনি নেলোরে পৌঁছান। এরপর বুধবার তার সন্তানকে নিয়ে ফিরে আসেন।

বৃহস্পতিবার পিটিআইকে রাজিয়া বলেন, একজন নারীর জন্য এটা ছিল এক কঠিন যাত্রা। কিন্তু ছেলেকে ঘরে নিয়ে আসার অনড় সিদ্ধান্ত সেই ভয়কে জয় করেছে। সঙ্গে রুটি নিয়েছিলাম, পথে সেগুলো খেয়েই বেঁচেছিলাম।

‘রাতে যখন স্কুটার চালিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন রাস্তায় কোনো লোকজন ছিল না। চারদিকে কেবলই নীরবতা।’

নিজামাবাদের একটি সরকারি স্কুলের প্রধানশিক্ষিকা রাজিয়া বেগম। ১৫ বছর আগে তার স্বামীর মৃত্যুর পর দুই ছেলেকে নিয়ে বেঁচে আছেন তিনি।

এক ছেলে প্রকৌশলবিদ্যায় স্নাতক করেছেন। নিজামুদ্দিন নামের ১৯ বছর বয়সী আরেক ছেলে মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার কোচিং করছেন।

বন্ধুকে পৌঁছে দিতে গত ১২ মার্চ নিজামুদ্দিন নেলোরের রহমতাবাদ যান। কিন্তু লকডাউনের কারণে সেখানে আটকা পড়েন। ছেলের বাড়িতে ফেরার আকুতি শুনে রাজিয়া বেগম ঘরে বসে থাকতে পারেননি। তিনি নিজেই স্কুটার নিয়ে বেরিয়ে পড়েন।

মৃত্যুর পর স্বজন ও গ্রামবাসী কেউ দেখতে আসেননি,লাশের পাশে মায়ের আহাজারি।

ছেলের লাশ আইসোলেশন ওয়ার্ডে।অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করার জন্য কেউ আসছিলেন না। ভবনের প্রবেশ পথে দাঁড়িয়ে আহাজারি করছিলেন মা। সদর হাসপাতাল, শরীয়তপুর, ৯ এপ্রিল। ছবি: সংগৃহীত


নিউজ ডেস্কঃশরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়নের কলারগাঁও গ্রামের সুশান্ত কর্মকার (৩৪)। পা ফোলা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে ভর্তি হন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকির আশঙ্কায় তাঁকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে বুধবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর পর স্বজন ও গ্রামবাসী কেউ লাশ দেখতে আসেননি। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করার জন্যও এগিয়ে আসেননি কেউ। ছেলের লাশের পাশে মা গঙ্গা রানী কর্মকার আহাজারি আর আর্তনাদ করে যাচ্ছিলেন। ফোনে স্বজন, অন্য সন্তান আর গ্রামবাসীকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করছিলেন। কিন্তু কেউ তাঁর আর্তনাদে সাড়া দেননি। এমনকি সুশান্তর বড় ভাই, চার বোন ও বোনের পরিবারের সদস্যরাও ফিরে তাকাননি।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করা নিয়ে বিপাকে পড়েন সুশান্তের মা রানী কর্মকার ও স্থানীয় প্রশাসন। তখন শরীয়তপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজন পাল উদ্যোগ নেন। তিনি ওই গ্রামবাসী ও ডিঙ্গামানিক শ্রীশ্রী সত্য নারায়ণের সেবা মন্দিরের কমিটির সদস্যদের নিয়ে সভা করেন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মন্দিরের শ্মশানে ওই যুবককে দাহ করা হবে। কিন্তু দাহ করার কাজে যুক্ত হতে কেউ রাজি হচ্ছিলেন না। তখন রাজন পালের সঙ্গে যোগ দেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি ত্রিনাথ ঘোষ, যুগ্ম সাধারণ সস্পাদক মিহির চক্রবর্তী, সদস্য দিলীপ ঘোষ, নড়িয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি চন্দন ব্যানার্জি। তাঁরা গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ওই গ্রামবাসী ও যুবকের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু লাশের কাছে কেউ আসতে রাজি হচ্ছিলেন না। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন পড়ে বিপাকে। তখন লাশ দাহ না করে বিকল্প ভাবতে থাকে প্রশাসন।
পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার দুই যুবক ও নড়িয়া উপজেলার তিন যুবক দাহকাজ করতে রাজি হন। পরে তাঁদের সহযোগিতায় ছেলে মারা যাওয়ার ২১ ঘণ্টা পর বেলা পৌনে একটার দিকে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ নিয়ে ডিঙ্গামানিকে শ্রীশ্রী সত্য নারায়ণের সেবা মন্দিরে রওনা হন বৃদ্ধ গঙ্গা রানী কর্মকার। যাওয়ার সময় হাসপাতাল চত্বরে আহাজারি করে তিনি বলেন, ‘জীবনের শেষ বয়সে ছেলের লাশের ভার আমাকে এভাবে বইতে হবে, তা ভাবতে পারিনি। এভাবে মানুষের মানবতা হারিয়ে গেল? কী হবে এ পৃথিবীতে বেঁচে থেকে? কিসের জন্য বেঁচে থাকা? মানুষের কল্যাণের জন্যই যদি কাজ না করতে পারি। কেউ আমার আর্তনাদ শুনল না। সন্তান, স্বজন, গ্রামবাসী কেউ না। আমার মতো এমন পরিণতি কাউকে যেন দেখতে না হয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়ন্তী রুপা রায় বলেন, ‘করোনায় মৃত অথবা করোনা সন্দেহ আছে, এমন মৃতদেহ বিশেষ সুরক্ষা মেনে সৎকার করতে হয়। আমরা সে অনুযায়ী পিপিই সরবরাহ করেছি। কিন্তু কাউকেই রাজি করাতে পারছিলাম না। যাকেই রাজি করাই, তিনিই পালিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে অন্য উপজেলার ও নড়িয়ার অন্য ইউনিয়নের যুবকেরা এগিয়ে আসেন।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সত্য নারায়ণের সেবা মন্দিরে ওই যুবকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কাজ শেষ করা হয়। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কাজ সম্পন্ন করেছেন ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর গ্রামের পরিমল বাড়ৈ, রণজিৎ মণ্ডল, নড়িয়ার বাড়ৈপারা গ্রামের উত্তম পাল, ঘড়িসার গ্রামের অনুকূল ঘোষ ও চাকধ গ্রামের সঞ্জয় বণিক।

এদিকে সুশান্তকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করার পর মঙ্গলবার দুপুরেই করোনা পরীক্ষার জন্য তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়। পরে প্রতিবেদনে দেখা যায় ওই যুবকের করোনা শনাক্ত হয়নি। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের চিকিৎসক আবদুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মঙ্গলবার ওই যুবকের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। বুধবার করোনা প্রতিবেদনে তাঁর নেগেটিভ ফল আসে।’

মারা যাওয়া সুশান্ত কর্মকার স্থানীয় ঘড়িসার বাজারের একটি স্বর্ণের গয়না প্রস্তুত কারখানায় কাজ করতেন। তাঁর আরেক ভাই ও চার বোন আছে। বেশ কয়েক বছর আগে বাবা মারা গেছেন। বড় ভাই তাঁর স্ত্রী–সন্তান নিয়ে আলাদা থাকেন। চার বোনই বিয়ের পর তাঁদের স্বামীদের সঙ্গে থাকেন। মা গঙ্গা রানীকে নিয়ে সুশান্ত কলারগাঁও গ্রামে পৈতৃক ভিটায় থাকতেন। বেশ কিছু দিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিল পা ফুলে যাওয়ার সমস্যা। এমন পরিস্থিতির মধ্যে গত মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর মা নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে পাঠানো হয় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে। শ্বাসকষ্ট থাকায় করোনা সন্দেহে সুশান্তকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল।

ডিঙ্গামানিক সত্য নারায়ণের সেবা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক মুকুল চন্দ্র রায় বলেন, ‘ওই যুবকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কাজে কেউ রাজি হচ্ছিল না। কোনো শ্মশানেও নিতে চাচ্ছিল না। তখন আমরা রাজি হই। এভাবে অবহেলা করা ঠিক হয়নি।’

শরীয়তপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানিক ব্যানার্জি বলেন, ‘যখন শুনতে পাই হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির মরদেহ হাসপাতালে পড়ে আছে, কেউ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় সহায়তা করছে না, তখন মনটা খারাপ হয়ে যায়। ঢাকায় অবস্থান করার কারণে আমি যেতে পারিনি। কিন্তু আমাদের স্থানীয় নেতাদের মাঠে নামিয়ে দিই। যেকোনো উপায়ে যথাযথ ধর্মীয় নিয়মে ওই যুবকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মারা যাওয়ার ২১ ঘণ্টা পর তাঁর লাশ হাসপাতাল থেকে এনে দাহ কাজ শুরু করা হয়। এ কাজটি না করতে পারলে সমাজে মুখ দেখাতে পারতাম না।’

জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, ‘করোনা সন্দেহ করে কেউ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কাজে এগিয়ে আসতে চাচ্ছিল না। বিষয়টি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগের মধ্যে ছিলাম। পরবর্তী সময়ে পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতাদের উদ্যোগে তা সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার কমিটি গঠন করা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুত্রঃপ্রথম আলো অনলাইন

নিজেকে রক্ষা করতে ধর্ষকের জিব কামড়ে ছিঁড়ে ফেলেন গৃহবধূ

প্রতিকি ছবি

নিউজ ডেস্কঃ
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন স্থানীয় সাগর মণ্ডল (৪৪) নামের এক ব্যক্তি। এ সময় নিজেকে রক্ষা করতে ওই গৃহবধূ ধর্ষকের জিব কামড়ে ছিঁড়ে ফেলেন।

গত সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে উপজেলার একটি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। সাগরের এক ইঞ্চি জিব বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে তাঁকে রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই দিন ঘটনাস্থলে একটি বিয়ের আয়োজন চলছিল। সেখানে সাউন্ড বক্সে জোরে গান বাজছিল। রাত একটার দিকে ওই নারী নিজের ঘরে যাচ্ছিলেন। এ সময় সাগর মণ্ডলও তাঁর ঘরে ঢুকে যান। তিনি নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। নারীটি চিৎকার দিলেও গানের শব্দের কারণে তাৎক্ষণিক কেউ বুঝতে পারেনি। এ সময় ওই নারী নিজেকে রক্ষা করতে সাগরের জিব কামড় দিয়ে এক ইঞ্চি কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ওই নারী বলেন, তাঁর স্বামী বিদেশে থাকেন। সাগর এক বছর ধরে বিভিন্নভাবে তাঁকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও জানানো হয়। সোমবার রাতে তাঁকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন সাগর। নিজেকে রক্ষা করতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেন তিনি। একপর্যায়ে সাগরের জিব কামড় দিয়ে কেটে ফেলেন তিনি।

উপজেলার ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ওই নারীর সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়েছে। সাগরকে ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, তারা মিটফোর্ড হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন সেখানে সাগর নেই। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে একটি মামলা হচ্ছে।

বড়লেখায় অপ্রয়োজনে বাইরে ঘুরাঘুরি ও দোকান খোলা রাখায় ১৭,৮০০টাকা জরিমানা

নিজস্ব সংবাদঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অপ্রয়োজনে বাইরে ঘুরাঘুরি এবং দোকান খোলা রাখার কারণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

বৃহস্পতিবারে (০৯এপ্রিল) ১৩টি মামলায় মোট ১৭,৮০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শামীম আল ইমরান এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। তিনি বড়লেখাবাসীকে আবারও অপ্রয়োজনে বাইরে ঘুরাঘুরি না করার জন্য অনুরোধ করেন।অন্যথায় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

বড়লেখায় চাল বিতরণে অনিয়ম দেখা দিলে জনতার আদালতে কঠিন শাস্তি হবে-সোয়েব আহমদ

সমছ উদ্দিন,বড়লেখাঃ বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসে মহামারি দেখা দেয়ায় পৃথিবী প্রায় স্তব্দ হয়ে আছে। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে দেশের মানুষের জন্য চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্ধ করেছে। কিন্তু কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে যারা এসব পাবার কথা ছিলো তারা তা পাচ্ছে না। অন্যদিকে বিভিন্ন জেলা উপজেলা এমনকি ওয়ার্ডের মেম্বারদের মাঝে পর্যন্ত চাল চুরি হিড়িক পড়েছে বলে দেখা যাচ্ছে।

সকল দিক বিবেচনা করে বড়লেখায় এমন ঘটনা যেনো না ঘটে এবং সবাই যাতে তাদের ন্যায্য অধিকার বুঝে পায় সেজন্য দুঃস্কৃতকারিদের হুশিয়ারি করে নিজ ফেইসবুক আইডি থেকে একটি পুস্ট করেছেন বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব সোয়েব আহমেদ। দৈনিক বড়লেখার পাঠকদের জন্য নিম্নে তা হুবুহু তুলে ধরা হলো।

সদয় অবগতির জন্যঃ
করোনা ভাইরাসের কারনে, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনা অনুযায়ী আজ পর্যন্ত বড়লেখা উপজেলায় ৫০.৫০০ মেট্র: টন চাল (মূল্য বিশ লক্ষ বিশ হাজার)। ইউ,পি চেয়ারম্যান ও মেম্বার এর মাধ্যমে ১০ কেজি করে ৫ হাজার ৫ শত পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া নিম্ন বৃত্তদের জন্য ১৯২.০০ মেট্রিকটন চাল(সরকারের ভর্তুকি ৫৭ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা) ৬ হাজার ৪শত পরিবারকে ১০ টাকা কেজি মূল্যে ৩০ কেজি করে ইউ পি ডিলারদের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। এবং আরো ৪৬.৫৬০ মেট্র: চাল ( ১৮ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা) দু:স্হ মহিলা ১৫শত ৫২জন কে (ভি,জি,ডি) প্রদান করা হচ্ছে।


মোট উপকার ভোগির সংখ্যা ১৩ হাজার ৪ শত ৬৪ পরিবার। (total 96 lac 6o thousand tk).পৌর শহরে ও,এম,এস কার্যকম চালু আছে।
এান সংশ্লিষ্টদের জানানো যাইতেছে কোথাও অনিয়ম দেখা দিলে প্রশাসনের পাসাপাশি জনতার আদালতে কঠিন শাস্তি প্রদান করা হবে।
সোয়েব আহমদ
চেয়ারম্যান বড়লেখা উপজেলা পরিষদ।

সুয়েব আহমদ ঃফাইল ছবি

“করোনা” বড়লেখায় ৩ জনের নমুনা সংগ্রহ: এলাকায় আতঙ্ক

দৈনিক বড়লেখা ডেস্কঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ সন্দেহে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত এক ব্যক্তি ও তার সংস্পর্শ আসা আরও দুইজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে । গত বুধবার নমুনা সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস ।

জানা যায়, উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের বোয়ালী গ্রামের এক যুবক গত ৮ দিন ধরে জ্বর ও সর্দি-কাশিতে ভুগছিলেন। এ নিয়ে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ সন্দেহে এলাকায় গুঞ্জন শুরু হয় । মানুষের মধ্যে দেখা দেয় চরম আতঙ্ক। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুরো গ্রামকে স্বেচ্ছায় লকডাউন করে দেয় গ্রামবাসী। এরপর আশপাশের গ্রামগুলোতেও স্বেচ্ছায় লকডাউনের হিড়িক পড়ে যায়। খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা, রত্নদীপ বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি মেডিককেল টিম ওই রোগীর বাড়িতে যান। এসময় জ্বর সর্দি কাশি আক্রান্ত ওই ব্যক্তিসহ তার সংস্পর্শে আসা পরিবারের আরো দু সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা, রত্নদীপ বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য আজকেই পাঠানো হবে।সন্দেহভাজনদের হোম কোয়ারেন্টেইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুত্রঃ বড়লেখার ডাক (অনলাইন)

এই সেই ক্যাপ্টেন মাজেদ যার কাছে শেখ রাসেল পানি খেতে চেয়েছিল!

ফাইল ছবি

নিজস্ব সংবাদঃ১৯৭৫ সালের ১৫ অাগষ্ট ভোরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে চতুর্দিকে রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত মা,বাবা, ভাইকে দেখে ভয়ে ভয়ে বঙ্গবন্ধুর দুগ্ধ শিশু শেখ রাসেল ক্যাপ্টেন মাজেদের হাত ধরে বলেছিল অাংকেল অামি মায়ের কাছে যাবো, অামি পানি খাবো “” ক্যাপ্টেন মাজেদ বিলম্ব না করে শেখ রাসেলকে নির্মমভাবে হত্যা করে। পানির বদলে রক্তবন্যা ঝরিয়ে দেয় শিশু শেখ রাসেলের বুকের সব রক্ত দিয়ে।

অবশেষে প্রশাসনের হাতে গ্রেফতার হয়েছে সেই খুনি মাজেদ।

বড়লেখা বাসিকে ফ্রী টেলিমেডিসিন সেবা দিতে কাজ করছে বড়লেখার একঝাঁক তরুণ চিকিৎসক।

ডাক্তারগণের ফাইল ছবি

সমছ উদ্দিন, বড়লেখাঃ করোনা ভয়াবহতার কথা চিন্তা করে বিশ্বের সর্বত্র প্রায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন রোধে চিকিৎসকদের চেম্বার বন্ধ রেখে শুধু জরুরী বিভাগ চালু রাখাতে জোর দেওয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় টেলিমেডিসিন তথা মোবাইল ফোনে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। তাই বড়লেখার মানুষের কল্যাণে বড়লেখায় জন্ম নেয়া এবং দেশের বিভিন্ন মেডিকেল থেকে এম.বি.বি.এস সম্পন্ন করা কয়েকজন ডাক্তার মিলে টেলিফোনে বড়লেখার মানুষকে কে চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছে। এতে বড়লেখার মানুষ টেলিফোনের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের চিকিৎসা বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ করতে পারছেন। এবিষয়ে এই টেলিমেডিসিন এর উদ্যোক্তা ডাঃমাহমুদুল হাসান মিলাদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের বড়লেখার মানুষের কষ্ট লাগবের জন্য আমাদের এই প্রয়াস।

বড়লেখা বাসীর চিকিৎসা সহজীকরণে আমরা নিম্নোক্ত চিকিৎসকের মুঠোফোনের মাধ্যমে আপ্নাদের সেবা দিতে প্রস্থত।

নিচে দেয়া সময়সূচি দেখে কল করবেন দয়া করে,কেননা আমরা সবাই বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়মিত সেবা দিয়ে যাচ্ছি।।

শনি ও সোমবার

ডাঃমাহমুদুল হাসান মিলাদ ০১৮১২-৮৫৯১৫৮ ডাঃজান্নাতুল আদনীন ০১৯২২-৫৩৫১৫৬ সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

ডাঃমোস্তফা মাহমুদ ইমরান ০১৮৪২-২০৮২০৬ ডাঃ তুফায়েল আহমদ ০১৭৩১-৩৩৪৪৯৭ বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।

রবিবার

ডাঃইমরান হোসেন ০১৭১০-২৬৩৫২৬
ডাঃ মাহমুদল হাসান মিলাদ ০১৮১২-৮৫৯১৫৮ সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

ডাঃমোস্তফা মাহমুদ ইমরান ০১৮৪২-২০৮২০৬
ডাঃ নিশাত তামান্না ০১৭৬৬-০৬১০৯৯ বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।

মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার

ডাঃ সাব্বির আহমেদ ০১৭৩৫-৪৬৬৯২৩
ডাঃহাজেরা রিমি ০১৭৫৫৯৩৬১০৩ সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

ডাঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ দাস ০১৭৭৮-২৪৩২৭২
ডাঃআলীম আল রাজী খান ০১৩১০-৮৯৭৩৯৭ বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।

বুধবার ও শুক্রবার

ডাঃ আয়েশা সিদ্দিকা০১৭০৬-৮৯২৯২০
ডাঃনুরানী তারেক নওশী০১৭২৫-৩১৫৮০৪ সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

ডাঃমার্জানা খানম০১৫৩৫-২২০৮৬৬
ডাঃতপন দেবনাথ ০১৭৪৯-৭৭৯৯৪৭ বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।

আপ্নারা বাসায় বসে মুঠোফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা নিতে যোগাযোগ করুন।

IEDCR

০১৯৩৭-০০০০১১
০১৩২৭-৭১১৭৮৪
০১৯২৭-৭১১৭৮৫

অথবা স্বাস্থ্য বাস্থবায়নে

১৬২৬৩

অথবা
৩৩৩ নাম্বারে

আমরা আছি আপনাদের পাশে,আপনারাও সকল নিয়ম মেনে চলুন।

বড়লেখায় গৃহবধূর আত্বহত্যা, নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ পিতৃপক্ষের।

প্রতিকি ছবি


নিজ্বস্ব প্রতিবেদকঃ-বড়লেখা থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাতে রোজিনা বেগম (২৫) নামে এক সন্তানের জননীর লাশ উদ্ধার করেছে। তিনি উপজেলার পূর্বগৌড়নগর গ্রামের জহির উদ্দিনের স্ত্রী এবং কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের রজনপুর গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার মেয়ে।

স্বামীর বাড়ির লোকজন বিষপানে আত্মহত্যার দাবী করলেও পিতৃপক্ষের অভিযোগ হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। বুধবার পুলিশ নিহত গৃহবধুর ময়না তদন্ত শেষে বিকেলে স্বামীর বাড়ির লোকজনের নিকট লাশ হস্তান্তর করেছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে গৃহবধু রোজিনা বেগম স্বামীর বাড়িতে বিষপান করেন। তার ৩ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে বুধবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। স্বামীর বাড়ির লোকজন বিষপানে আত্মহত্যার দাবী করলেও নিহত গৃহবধু রোজিনা বেগমের মামা কবির আহমদ অভিযোগ করেন শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

হত্যার দায় এড়াতেই তারা মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। রোজিনার স্বামী জহির উদ্দিন শ্বশুড় বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য প্রায়ই তাকে নির্যাতন করতো। এ নিয়ে অনেকবার বিচার সালিশ হয়েছে।

বড়লেখা থানার এসআই শরীফ উদ্দিন জানান, লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। নিহতের ময়না তদন্ত শেষে বুধবার বিকেলে স্বামীর বাড়িতে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকান্ড।

করোনার ওষুধ বানাবেন সাজাপ্রাপ্ত আসামি, ল্যাবে কাজ করার সুযোগ চেয়ে আবেদন

মার্টিন শেকরেলি, ফাইল ছবি।

নিউজ ডেস্কঃতিনি মার্টিন শেকরেলি, আমেরিকায়ফার্মা ব্রো হিসেবে সবার কাছে সমাধিক পরিচিত। শুরুতে কুখ্যাতি অর্জন করেন এইচআইভির ওষুধের দাম ৫ হাজার গুণ বাড়িয়ে। প্রতিটি ট্যাবলেটের দাম ১৩.৫০ ডলার থেকে বাড়িয়ে করেছিলেন ৭৫০ ডলার। ৩৭ বছরের এ কর্মকর্তা হেজ ফান্ড নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে ২০১৮ সালে সাতবছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেল খাটছেন।
এ সপ্তাহে তার আইনজীবী বেন ব্রাফম্যান বলেন, শেকরেলি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন তাকে তিনমাসের জন্য মুক্তি দিতে, যাতে তিনি করোনার ওষুধ তৈরীতে ল্যাবে কাজ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের কড়া নজরদারি থাকতে পারে। ব্রাফম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, আমি আগে থেকেই বলে আসছি যদি তাকে ল্যাবে কাজ করার সুযোগ দেয়া হয় তবে ক্যান্সারের ওষুধও আবিষ্কার করতে পারেন তিনি। করোনাভাইরাসের ওষুধ উদ্ভাবনেওতিনি বিজ্ঞানীদের অনেক ভালো সহযোগিতা দিতে পারেন।
মার্টিন শেকরেলি দাবি করেছেন, করোনা মহামারি প্রতিরোধে ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানিগুলো যে প্রচেষ্টা করছে তা যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, কভিড-১৯ এর ওষুধ আবিষ্কার হওয়া পর্যন্ত কম্পানিগুলোকে অবশ্যই ল্যাবে পড়ে থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বহু ওষুধ কম্পানির সঙ্গে আমি কাজ করেছি, অনেক নতুন নতুন ওষুধ উদ্ভাবন করেছি। এমনকি আমি গুটিকয় নির্বাহীর অন্যতম, ওষুধ উদ্ভাবনের সব ধরনের দিক নিয়ে যার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে মহামারি ঠেকাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারি আমি
সূত্র: এনবিসি নিউজ।

নিউইয়র্কে’র ১৪বছরের এক বাংলাদেশী কিশোরীর হৃদয়বিদারক আকুতি।

আমি যুথি। আমার বয়স ১৪। আমার একটা ছোট ভাই আছে ওর নাম তমাল বয়স ১২। আমাদের জন্ম নিউইয়র্কে। আমার আব্বু আম্মু দুজনেই চাকরি করেন। এখানে আমাদের চারজনের সংসার।অনেক পরিচিত জনও আছেন এখানে। আব্বু আম্মু দুজনেই বাংলাদেশী।আত্মীয় স্বজন দাদা দাদী নানা নানি সবাই দেশেই থাকেন। আমরা এখানে একটা স্কুলে পড়াশোনা করি।আমাদের খুব সুখের একটা সংসার। তবে কিছুদিন হলো আমরা স্কুলে যাচ্ছি না।কারণ চারিদিকে করোনার আতঙ্ক আর শহরটা লকডাউন। লক ডাউন কী আমি আসলে এত কিছু বুঝি না। তবে আমরা সবাই এখন বাসায় থাকি এখন এটা আমাদের জন্য খুব আনন্দদায়ক।এভাবে হেসে খেলে ১৫ দিন চলে গেল। পড়াশোনার চাপ নেই। সারদিন খেলা আর আম্মুর কাছে যা খেতে চাই তাই ই আম্মু বানিয়ে দিচ্ছে। খুব আনন্দে কাটছে দিনগুলো। মাঝে মাঝে আম্মু সতর্কতার সাথে থাকার জন্য সবাইকে বার বার হাত ধুতে বলছে আর আমরা ধুয়ে নিচ্ছি। আব্বু বাইরে গেলে মাস্ক গ্লাভস পড়ে যাচ্ছে আবার আসার পর গোসল করে নিচ্ছে। এভাবে নানা সাবধানতার মধ্যে একটু ভয়ে তবে সুখেই কাটছে দিনগুলো।

গত দুদিন ধরে আম্মুর একটু ঠান্ডা লেগেছে। হাঁচি-কাশি সাথে একটু জ্বর ও আছে। এই নিয়েই আম্মু সব কাজকর্ম করে যাচ্ছে। আব্বু বলছে ভয়ের কিছু নেই এত সাবধানে থাকছি আমরা তোমার মনেহয় সাধারণ ফ্লু।প্যারসিটামল খাও ঠিক হয়ে যাবে। আম্মু প্যারাসিটামল খেল।একটু ভালো বোধ করছিল সে।কিন্তু পরের দিন তার জ্বর আরও বেড়ে গেল। আব্বু ফোনে একজন ডাক্তারের সাথে কথা বললো। ডাক্তার শুনে হসপিটালে নিয়ে যেতে বললো। সেখানে নাকি টেস্ট করবে।

আব্বু আম্মুকে নিয়ে এলমহাস্ট হসপিটালে গেল।আমরা দুই ভাই বোন বাসায়। যাওয়ার সময় আব্বু বললো, সাবধানে থেক, কোনরকম দুষ্টুমি করবে না।আর কিচেনের কাছে যাবে না। খাবার টেবিলে রাখা আছে। আমাদের আসতে দেরি হলে তোমরা খেয়ে নিও।এই বলে আব্বু বের আম্মুকে নিয়ে বের হলো দুপুর বারোটার দিকে। এরপর বিকেল হয়ে যায় তারা আসে না। দুটার দিকে আব্বু ফোন দিয়ছিল।বললো, তোমরা খেয়েছো?
আমি বললাম হ্যা।
আচ্ছা তোমরা দুষ্টুমি কোর না, টিভি দেখ।তোমার আম্মুকে হসপিটালে ভর্তি করেছি তার টেস্টের রিপোর্ট এখনো আসেনি।আগামীকাল দিবে। আজ আমাকে এখানে তোমাদের আম্মুর কাছে থাকতে হবে। তোমরা খাবার প্লেট ধুয়ে গুছিয়ে রাখ।আর রাতে নিজেরা খেয়ে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আমাকে কল দিও।
আমি বললাম, আব্বু আমরা একা একা থাকব?
আমাদের খুব ভয় লাগবে তো।
আব্বু বললো,ভয়ের কিছু নেই মামুনি।এখন বড় হয়েছ না।তমালকে নিয়ে একটু খেলা কোরো।ওকেও বুঝিয়ে রেখো।বুঝতে পারছো না তোমাদের আম্মু অসুস্থ। এখন একটু শক্ত হতে হবে মা।ভয় পেলে চলবে?
ঠিক আছে আব্বু, আমরা থাকতে পারব। তুমি আম্মুকে ট্রিটমেন্ট দিয়ে সুস্থ করে নিয়ে আসো।

এই প্রথম মনে হলো আমি আসলেই অনেক বড়ো হয়ে গেছি।আমারও অনেক দায়িত্ব কর্তব্য আছে। আমার দায়িত্ব হলো আমার ছোট ভাইকে সামলে রাখা। সে যেন কষ্ট না পায় সেদিকে খেয়াল রাখা। এছাড়া বাসাটা গুছিয়ে রাখতে বলেছে আব্বু। আমরা ভাই বোন মিলে গুছিয়ে ফেললাম। ভাই কে বললাম আজ আমরা দুজন এক বিছানায় ঘুমাবো মজা হবে না?
ভাই বললো,আম্মু আব্বুকে ছাড়া কিভাবে থাকব আপু?যদি ভুত আসে।
আমি আছি না।ভুত আসবে না। বুঝতে পারছো না আম্মু অসুস্থ। সুস্থ হলেই চলে আসবে।

রাতে বাবাকে ভিডিও কল দিলাম।
আব্বু বললো, এইতো গুড, ঘুমিয়ে গেলেই দেখবে সকাল হয়ে গেছে। আগামীকাল রিপোর্ট পেলেই আমরা পেলেই আমরা চলে আসবো। তবে তোমার আম্মুর জ্বর একটু বেড়েছে।
আচ্ছা আব্বু গুড নাইট।

পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কৌটাতে বিস্কুট ছিল দুই ভাই বোন তাই খেলাম।কিছুক্ষণ পরে ম্যাকডোনাল্ড থেকে আমাদের নাস্তা আার লাঞ্চ দিয়ে গেল। আব্বু নাকি অর্ডার করেছে।আমরা খুব মজা করে খেলাম।

দুপুরে আব্বু বললো, মা যুথি তুমি তো এখন বড় হয়েছ। বুঝতে পার।তোমাকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে মা।তোমার ভাইকে আরও কিছু দিন দেখে রাখতে হবে।তোমার আম্মু আমি দুজনেই করোনায় আক্রান্ত। তোমার আম্মুর জ্বর বেড়েছে একটু শ্বাস কষ্ট ও হচ্ছে। তোমাদের কয়েক দিন একা একা থাকতে হবে পারবে না মা।
আমি খুব ভয় পেয়ে গেলাম। চোখ থেকে পানি পড়তে লাগলো। বললাম, পারবো আব্বু তুমি কোন চিন্তা করো না।

নিউইয়র্কে আমাদের কোন আত্মীয় নেই। পরিচিত যারা আছে তারাও কেউ আসছে না। আমরা একারাই এভাবে থাকতে লাগলাম। পরের দিন আব্বু ফোনে বললো যুথি বেশি করে নামাজ পড়ো আল্লাহর কাছে দোয়া কর তোমাদের আম্মুকে ICUতে রাখা হয়েছে। এই বলে আব্বু কেঁদে ফেললেন। আমি ও চোখের পানি আর রাখতে পারিনি সাথে তমালও কান্না করতে লাগলো।
আমি বললাম তুমি কেমন আছ আব্বু।
আমি ভালো আছি মা।তোমার আম্মুর জন্য বেশি বেশি দোয়া কর।
এরপর আমরা প্রতিদিন নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকি।

দুদিন পরে একজন নার্স এসে আমাদের কাছে একঘন্টা থেকে গেল। আমাদের অনেক ভালো ভালো কথা বলে অনেক কিছু বুঝিয়ে গেছে। আমরা ছোট বলে হসপিটাল থেকে দেখতে এসেছে। নার্স বলেছে আম্মু সাত তলায় আর আব্বু আটতলায় আছে। কারো সাথে দেখা হচ্ছে না।

এভাবে আটদিন চলে গেল। আমরা একাএকা থাকছি।উবার ইটস অথবা ম্যাকডোনাল্ডের খাবার খাচ্ছি। এখন আর এসব খাবার খেতে ভালো লাগছে না। তবুও খাচ্ছি। দুই তিন দিন পর পর নার্স এসে দেখে যাচ্ছে। আটতম দিনে সোস্যাল মিডিয়া থেকে আমাদের নিতে এসেছিল আমরা যাইনি।আব্বু ফোনে তাদের বুঝিয়ে বললে তারা চলে যায়।

আজ নবম দিন। আব্বু বলেছে সে এখন ভালো আছে আজ বাসায় আসবে। রাতে আব্বু বাসায় আসে।তমাল দৌড়ে আব্বুকে ধরতে গেলে আব্বু দূরে সরে গেল। বললো সে এখন কয়েক দিন আলাদা থাকবে আমরা তাকে ধরতে পারব না।

আব্বুকে ধরতে না পারলেও আমরা খুব খুশি। কারণ আব্বু আমাদের কাছে আছে। আব্বুকে আম্মুর কথা জিজ্ঞেস করলাম।আব্বু আশার কথা শুনালো।

বললো,মা,তোমার আম্মু ও হয়তো ফিরে আসবেন। তার অবস্থা ও আগের থেকে ভালো। সাতদিন পর গতকাল তার অক্সিজেন খুলেছে। আমার সাথে একবার একমিনিট কথা হয়েছে। হয়তো দুই তিন দিন পর সেও ফিরে আসবে। আল্লাহ তোমাদের দোয়া কবুল করেছে মামনী। আমরা সবাই আবার আগের মতই ভালো থাকবো।
🇧🇩🇺🇸

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ত্রাণ দেওয়া নিয়ে সমালোচনার জবাব।

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী জনকল্যানমুলক একটি দ্বীনি সংগঠনের নাম।১৯৪১ সালের জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত একটি ইসলামী সমাজ বিনিমার্ণ তথা কল্যানমুখী রাস্ট্র কায়েমের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।একটি আদর্শিক ও দায়িত্বশীল সংগঠন হওয়ায় দেশের ও দেশের মানুষের যে কোন দুর্যোগ ও সংকটপুর্ণ মুহুর্তে অতীতেও ঐতিহাসিক ভুমিকা পালন করেছে এবং বর্তমান সময়েও করে যাচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ।শুধুমাত্র সংকট বা দুর্যোগকালীন নয় বরং নিয়মিতভাবেই প্রতি মাসে জামায়াত ইসলামি তাদের সাংগঠনিক আয়ের ১০% সমাজকল্যামুলক কাজে ব্যায় করে। আমরা গভীর ভাবে লক্ষ্য করছি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মানুষের মধ্যে যখন ব্যাপক ভীতি সঞ্চার তৈরি হয়েছে,তেমনি শারীরিক ও আর্থিক ভাবেও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুক্ষিন হয়েছে এবং হচ্ছে।চরম আর্থিক সংকটের কারনে অনেক মানুষ যেমন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে, আবার খাদ্যের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে।এমতাবস্থায় অতীতের ন্যায় এবারো এই দুর্যোগ ও সংকটপুর্ণ মুহুর্তে সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামিও তাদের নিজেস্ব সামর্থের সবটুকু ঢেলে দিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থাসহ ক্ষুদার্ত মানুষের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌচ্ছে দেওয়ার কর্মসুচি পালন করে যাচ্ছে।”প্রচারনা নয় আল্লাহর সন্তুষ্ঠিই মুল লক্ষ্য ” শ্লোগানকে সামনে রেখে এই কর্মসুচিগুলো পালন করে যাচ্ছে।কিন্তু কতিপয় সমালোচনাকারী বন্ধু এবং কিছু শুভাকাঙ্খিও জামায়াত ইসলামীর এই কাজগুলোর প্রচারনা না থাকায় বলে বেড়াচ্ছেন জামায়াত ইসলামী ও ছাত্রশিবির দেশের এই দুঃসময়ে ঘরে ঢুকে শুধু নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত আছে।তাই সাংগঠনিক নয় বরং নিজের দায়িত্বেই বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী দেশের এই ক্রান্তিকালে দেশের মানুষের জন্য নিজেদের সামর্থের সবটুকু উজার করে দিয়ে কি কি করছে তার একটা সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরছি।বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সারাদেশে ৮৯ টি সাংগঠনিক মহানগরি ও জেলা শাখায় কাজ করে।তারমধ্যে একটি শাখা
জামায়াত ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিন ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত মানুষের সাহায্যে যাযা করেছে-

*খাদ্যসামগ্রী বিতরন করেছে-১১,৮৩৯ টি পরিবারে

*এককালিন সহযোগিতা করেছে- ৬০৯ টি পরিবারে

*চিকিৎসা সহায়তা করেছে-কয়েক হাজার জনকে

*মাস্ক বিতরন করেছে-৩৫,৮৬৭ জনের মাঝে

*সাবান ও হ্যান্ড ওয়াস বিতরন-২০,৯০৯ জনের মাঝে

*হ্যান্ড সেনিটাইজার বিতরন-৩৪১ টি পরিবারে

*ব্লিচিং পাউডার বিতরন-১৩ হাজার পরিবারে

*স্প্রে মেশিন বিতরন-১৩৪৩ টি পরিবারে

*পিপিই পোশাক বিতরন-১৫০ জনের মাঝে

*হ্যান্ড গ্লাবস বিতরন-২৯ হাজার পিচ

*হাত ধোয়ার জন্য পানির ব্যবস্থা করেছে-৫৬ টি স্পটে

*মসজিদ জীবানুমুক্তকরন কর্মসুচি-১৮৫ টি

*স্বাস্থ্য সচেতনতায় লিফলেট বিলি-২ লক্ষ

*সংগঠনের ডাক্তারদের মাধ্যমে ফোনে চিকিৎসা দিয়েছে লক্ষাধিক মানুষকে।

★ এসব কাজগুলো এখনো চলমান।

★ এসব কার্যক্রমের জন্য ইতিমধ্যেই খরচ করেছে-৬৫,০১০৩২(পয়ষট্রি লক্ষ এক হাজার বত্রিশ) টাকা।যার পুরটাই নিজেদের জনশক্তি ও শুভাকাঙ্খিদের দেওয়া টাকা।

★ একটা সাংগঠনিক শাখার কাজ যদি এটা হয়। তাহলে সারাদেশের ৮৯ টি সাংগঠনিক শাখার কাজ মোট কত হতে পারে একটু ভাবুন তো!

★ এছাড়াও মহিলা জামায়াত,বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও ইসলামী ছাত্রীসংস্থাও আলাদা ভাবে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরনের কাজ করছে।

অন্যান্য সামাজিক ও রাস্ট্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ন্যায় প্রচারনা না থাকায় জামায়াত ইসলামীর কাজগুলো অনেকের চোখে পড়েনা। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের এই কাজগুলো শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্ঠির জন্য কবুল করুন এবং এই মহামারী থেকে দেশ,জাতি ও মুসলিম উম্মাহকে হেফাজত করুন ও মুক্ত করুন।

-লেখক: মুহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন,
সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও সহকারী সেক্রেটারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিন।

বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের নাতি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক

দৈনিক বড়লেখা ডেস্কঃ
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিব উল্যাহ পলাশ বিশ্বাস বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের নাতি। মুজিব উল্যাহ ওরফে পলাশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। এরপর এ কমিটি স্থগিত করা হলে প্রভাবশালীদের চাপে তা পুনরায় বহাল রাখা হয়। একই পরিবারের এক নারীও সরকারি চাকরিজীবী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) মাজেদ গ্রেফতার হয়েছেন গতকাল রাতে। কিন্তু তার আগে থেকেই ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খুনি মাজেদের নাতি মুজিব উল্যাহ পলাশ মিয়া।

এলাকায় খবর নিয়ে জানা যায়, যে কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুজিব উল্যাহ পলাশ মিয়া, সেই কমিটি একবার স্থগিত করা করা হয়েছিল। পরে একটি প্রভাবশালী মহলের চাপে সেই কমিটি আবার বহাল করা হয়। খুনি মাজেদ গ্রেফতারের খবরে বোরহানউদ্দিনের চায়ের কাপে ফের ঝড়, এবার সেই প্রভাবশালী মহলের স্বরূপ উন্মোচন করা হোক, যারা দীর্ঘদিন বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের পরিবারকে ভয়ঙ্কর রকমের পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছেন।

এলাকায় এখন এটাও বলাবলি হচ্ছে, খুনি মাজেদের পরিবারের এক নারী সদস্যকে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের চাকরিও পাইয়ে দেয়া হয়েছিল। পরে এলাকার মানুষের আপত্তির মুখে ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিব উল্যাহ পলাশ বিশ্বাস খুনি মাজেদের নাতি কিনা জানতে চাইলে ভোলা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াজ মাহমুদ প্রথমে জানেন না বলে দাবি করেন। তারপর বলেন, ‘এ কমিটি আমরা দেইনি। আমরা কিছু করতে পারি না’।


দ্বিতীয়বার তাকে কল দিলে তিনি বলেন, ‘মুজিব উল্যাহ পলাশ খুনি মাজেদের নাতি না। কোটা লাগাইন্না নাতি হতে পারে’। এরপর তিনি প্রতিবেদককে ধমক দিয়ে বলেন, ‘আমরা কমিটি দিছি আমরা জানি না। আপনি কী জানেন?’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা দুপুরে এ তথ্য পেয়েছি। এটি খুবই দুঃখজনক। আমাদের সময় কমিটির আগে সে নেতা হওয়ায় আমরা বিস্তারিত জানি না। এখন খবর নেয়া হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে কে কে জড়িত তা আমরা খুঁজে বের করব। তাদের শাস্তির আওতায় আনব’।

সুত্রঃজাগো নিউজ

যেভাবে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবেন

যেহেতু করোনাভাইরাসের এখনও কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। তাই সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশের চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা সংক্রমণ এড়াতে এবং শরীরকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুত রাখার জন্য দিয়েছেন বিশেষ পরামর্শ:

নিউজটি শেয়ার করুন।

অপেক্ষাকৃত কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তির শরীরে যে কোনো ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। কিন্তু কিছু বিষয় মেনে চললে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রস্তুত রাখা সম্ভব।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সঙ্কটকালে সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশের চিকিৎসকরাও পরামর্শ দিচ্ছেন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরের ভেতর অ্যান্টিবডি তৈরি করার। এতে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ড. মুজিবুর রহমান বলেন, যেহেতু করোনাভাইরাসের এখনও কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি, তাই সচেতন থাকার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাসসহ যে কোনো ভাইরাস প্রতিরোধে সেসব খাবারই বেশি খাওয়া উচিৎ যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের পুষ্টিবিদ ড. তাসনুভা মিম বলেন, শরীরের প্রতি যত্নশীল এবং স্বাস্থ্যবান ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও দ্রুত সেরে উঠতে পারবেন।

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অনুসরণ করতে পারেন এসব পরামর্শ-

তাজা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া

সংক্রমণ এড়াতে পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিকর, সুষম ও তাজা খাবার খাওয়ার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্সের শিক্ষক ড. মো. আমিনুল হক ভুইয়া বলেন, “ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার ওপর আমাদের জোর দিতে হবে। প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি, ফল, শস্যদানা, শিম জাতীয় সবজি, বাদাম, বীজ, মরিচ, অলিভ অয়েলের পাশাপাশি তেলযুক্ত মাছ, পনির ও পূর্ণ ননীযুক্ত দই খাওয়া যেতে পারে। ”

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ভিটামিন ‘সি’

ভিটামিন ‘সি’ শরীরে কোলাজেন তৈরি ও ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষ, টিস্যু ও জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

তাই প্রতিদিনই কমলালেবু, আঙুর, স্ট্রবেরি, সবুজ মরিচ, ব্রকোলি জাতীয় ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল বা সবজি খাওয়া প্রয়োজন।

আর দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার অনেক খাবারেই ভিটামিন ‘সি’ থাকায় আলাদা করে এটি গ্রহণের প্রয়োজন হয় না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

শরীরকে জীবাণুর বিরুদ্ধে শক্তিশালী করে তোলে যেসব খাবার

আমাদের পেটের ভেতরে থাকে লক্ষ-কোটি ব্যাক্টেরিয়া, ফাঞ্জাইসহ বিভিন্ন জীবাণু যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অর্গানিক বা সরাসরি উদ্ভিদ থেকে পাওয়া খাবার এদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে শরীরকে সহায়তা করে।

শতমূলী, রসুন, পেঁয়াজ এমনই কিছু খাদ্যদ্রব্যের নাম। এছাড়া, ফার্মেন্টেড ফুড যেমন- দই বা এ জাতীয় খাবারও এক্ষেত্রে শরীরকে সহায়তা করে।

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার শরীরে থাকা ছোট ছোট জীবাণু, অণুজীবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য শরীরকে প্রস্তুত রাখে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব নিউট্রিশ অ্যান্ড ফুড সায়েন্সের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম বলেন, “ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার শরীরে অ্যান্টিবডির ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি, ভিটামিন সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার পারে যে কোনো রোগকে প্রতিরোধের জন্য শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে।”

ব্রিটিশ নিউট্রিশন ফাউন্ডেশনের মতে, এমন কিছু খাবার হলো- ওট, মশুর, মটরশুঁটি, ব্রকোলি, গাজর, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার।

প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা

রোগ প্রতিরোধে পানির একটি বড় ভূমিকা হলো এটি শরীরে “লিম্ফ” উৎপন্ন হতে সহায়তা করে, যা শ্বেত রক্তকণিকাসহ রোগ প্রতিরোধী অন্যান্য কোষগুলোকে ধারণ করে।

তাই প্রচুর পরিমাণে পানি পান করলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তবে আমাদের উচিৎ কফিজাতীয় পানীয় পরিহার করে চলা, কারণ এটি কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি করতে পারে।

এছাড়াও, আমাদের উচিৎ প্রচুর পরিমাণে পানিসমৃদ্ধ ফলমূল যেমন- শসা, তরমুজ খাওয়া উচিৎ।

বয়স্কদের জন্য পরামর্শ

বয়স্ক মানুষরা করোনাভাইরাস সংক্রমণে অনেক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বিশেষজ্ঞরা তাদেরকে বেশি করে ভিটামিন জাতীয় খাবারের পাশাপাশি সম্পূরক খাবার (সাপলিমেন্ট) গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।

এক্ষেত্রে, রঙিন ফল ও শাক-সবজি খাওয়া যেতে পারে।