ঢাকাফেরৎ ব্যক্তিকে ‘কোয়ারেন্টিনের’ ভয় দেখিয়ে এসআইয়ের চাঁদা দাবি!

ছবি প্রতিকি

অসুস্থতার কথা বলে ছুটি নিয়ে পাশের থানায় গিয়ে এমন ঘটনা ঘটান তিনি

নিউজ ডেস্কঃ ঢাকাফেরৎ এক ব্যক্তিকে “হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার” ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির অপরাধে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক মিয়াকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, অসুস্থতাজনিত (মেডিকেল) ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ছেড়ে পার্শ্ববর্তী তাড়াশ থানায় গিয়ে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগীর স্ত্রী উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন। ওসি বিষয়টি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান।

অবশেষে বুধবার (২৯ এপ্রিল) “দায়িত্ব অবহেলার” কারণ দেখিয়ে এসআই মানিককে উল্লাপাড়া থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উল্লাপাড়ার ওসি দীপক কুমার।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী আবুজল প্রামাণিক তাড়াশ উপজেলার তালোম শিবপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্বল্প আয়ের এই ব্যক্তি ঢাকায় থাকেন। গত মার্চে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি গ্রামের বাড়িতে এসে আটকা পড়েন। জীবিকার তাগিদে প্রায় এক মাস যাবৎ তিনি স্থানীয়ভাবে মাস্কের ব্যবসা শুরু করেন। গত ২৩ এপ্রিল তাকে “হোম কোয়ারেন্টিনে” রাখা হবে এমন হুমকি টাকা দাবি করেন অভিযুক্ত এসআই মানিক।

ওসি দীপক বলেন, “পুলিশ সুপার কার্যালয়ের এক আদেশ অনুযায়ী বুধবার রাতে মানিককে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। আদেশপত্রে চাঁদা দাবির বিষয়টি না থাকলেও দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।”

চিকিৎসাজনিত ছুটিতে পার্শ্ববর্তী থানায় গিয়ে এসআইয়ের চাঁদা দাবির ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক বলে মন্তব্য করেন ওসি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত এসআই মানিক মিয়ার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কল করে ঢাকা ট্রিবিউন। সাংবাদিক পরিচয় শুনে তাৎক্ষণিক তিনি সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।

প্রসঙ্গত, এর আগেও দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির অপরাধে মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে উল্লাপাড়ায় থানার সিনিয়র সহকর্মীরা দু’টি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বলেন, “বিষয়টি বিব্রতকর। তারপরেও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” সুত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.