বড়লেখায় জাগরণীর পক্ষ থেকে এসএসসি/দাখিল উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান।

শাহরিয়ার শাকিল
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

স্বপ্ন সাহস নিয়ে আগামীর পথ চলো, জ্ঞানের আলোয় গড়বে জগৎ উচ্চ কন্ঠে বলো। জ্ঞানের আলোয় খুঁজি স্বপ্নের দ্বার, আগামীর দিন শুধু সম্ভাবনার,এই প্রতিপ্রাদ্যকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সুপরিচিত সামাজিক সংগঠন জাগরণী ইসলামী তরুণ সংঘের পক্ষ থেকে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরো এস এস সি / দাখিল উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কে সংর্বধনা প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ১১ ঘটিকার সময় সৈয়দা মোকাম মাদ্রাসার হলরুমে সংগঠনের সভাপতি এম কলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াব রায়হানের পরিচালনায় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ শাহেদ আহমদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাফাত আহমদ, জাগরণী ইসলামী তরুণ সংঘের উপদেষ্টা মাওলানা কবির হোসাইন, আব্দুল হামিদ তাজুল, আব্দুল লতিফ, তাহের আহমেদ, জুনেদ আহমেদ। কিশোরকন্ঠ পাঠক ফোরাম এর বড়লেখা উপজেলা সভাপতি তুফাজ্জল হোসাইন।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জাগরণী ইসলামী তরুণ সংঘের সহ-সভাপতি সাংবাদিক শাহরিয়ার শাকিল, অর্থ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ছাদিকুর রহমান প্রমুখ।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাগরণীর দপ্তর সম্পাদক রাহাত আহমেদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আলী আব্বাস, প্রকাশনা সম্পাদক তায়েফ আহমেদ সহ উপস্থিত ছিলেন জাগরণীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দু।

অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দুগন সংগঠনের ভুয়সী প্রশংসা করে বলেন,শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষাই জাতির অগ্রগতি, তাই সমাজের সকল তরুণদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছিয়ে দিয়ে সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পড়ালেখার পাশাপাশি নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সৃষ্টি করতে হবে। পিতা মাতার প্রতি বেশি যত্নশীল হতে হবে, পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক কাজে এগিয়ে আসতে হবে। কবির ভাষায় একটি কথা বলেন,
থেমে নাকো পথে কভু,
হও মহান মহীয়ান,
মানুষ কে ভালোবেসে হদয়কে করো দান।
পরিশেষে সকল শিক্ষার্থীদের সার্বঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করে অনুষ্ঠানে সমাপ্তি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ত্রাণ দেওয়া নিয়ে সমালোচনার জবাব।

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী জনকল্যানমুলক একটি দ্বীনি সংগঠনের নাম।১৯৪১ সালের জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত একটি ইসলামী সমাজ বিনিমার্ণ তথা কল্যানমুখী রাস্ট্র কায়েমের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।একটি আদর্শিক ও দায়িত্বশীল সংগঠন হওয়ায় দেশের ও দেশের মানুষের যে কোন দুর্যোগ ও সংকটপুর্ণ মুহুর্তে অতীতেও ঐতিহাসিক ভুমিকা পালন করেছে এবং বর্তমান সময়েও করে যাচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ।শুধুমাত্র সংকট বা দুর্যোগকালীন নয় বরং নিয়মিতভাবেই প্রতি মাসে জামায়াত ইসলামি তাদের সাংগঠনিক আয়ের ১০% সমাজকল্যামুলক কাজে ব্যায় করে। আমরা গভীর ভাবে লক্ষ্য করছি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মানুষের মধ্যে যখন ব্যাপক ভীতি সঞ্চার তৈরি হয়েছে,তেমনি শারীরিক ও আর্থিক ভাবেও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুক্ষিন হয়েছে এবং হচ্ছে।চরম আর্থিক সংকটের কারনে অনেক মানুষ যেমন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে, আবার খাদ্যের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে।এমতাবস্থায় অতীতের ন্যায় এবারো এই দুর্যোগ ও সংকটপুর্ণ মুহুর্তে সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামিও তাদের নিজেস্ব সামর্থের সবটুকু ঢেলে দিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থাসহ ক্ষুদার্ত মানুষের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌচ্ছে দেওয়ার কর্মসুচি পালন করে যাচ্ছে।”প্রচারনা নয় আল্লাহর সন্তুষ্ঠিই মুল লক্ষ্য ” শ্লোগানকে সামনে রেখে এই কর্মসুচিগুলো পালন করে যাচ্ছে।কিন্তু কতিপয় সমালোচনাকারী বন্ধু এবং কিছু শুভাকাঙ্খিও জামায়াত ইসলামীর এই কাজগুলোর প্রচারনা না থাকায় বলে বেড়াচ্ছেন জামায়াত ইসলামী ও ছাত্রশিবির দেশের এই দুঃসময়ে ঘরে ঢুকে শুধু নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত আছে।তাই সাংগঠনিক নয় বরং নিজের দায়িত্বেই বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী দেশের এই ক্রান্তিকালে দেশের মানুষের জন্য নিজেদের সামর্থের সবটুকু উজার করে দিয়ে কি কি করছে তার একটা সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরছি।বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সারাদেশে ৮৯ টি সাংগঠনিক মহানগরি ও জেলা শাখায় কাজ করে।তারমধ্যে একটি শাখা
জামায়াত ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিন ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত মানুষের সাহায্যে যাযা করেছে-

*খাদ্যসামগ্রী বিতরন করেছে-১১,৮৩৯ টি পরিবারে

*এককালিন সহযোগিতা করেছে- ৬০৯ টি পরিবারে

*চিকিৎসা সহায়তা করেছে-কয়েক হাজার জনকে

*মাস্ক বিতরন করেছে-৩৫,৮৬৭ জনের মাঝে

*সাবান ও হ্যান্ড ওয়াস বিতরন-২০,৯০৯ জনের মাঝে

*হ্যান্ড সেনিটাইজার বিতরন-৩৪১ টি পরিবারে

*ব্লিচিং পাউডার বিতরন-১৩ হাজার পরিবারে

*স্প্রে মেশিন বিতরন-১৩৪৩ টি পরিবারে

*পিপিই পোশাক বিতরন-১৫০ জনের মাঝে

*হ্যান্ড গ্লাবস বিতরন-২৯ হাজার পিচ

*হাত ধোয়ার জন্য পানির ব্যবস্থা করেছে-৫৬ টি স্পটে

*মসজিদ জীবানুমুক্তকরন কর্মসুচি-১৮৫ টি

*স্বাস্থ্য সচেতনতায় লিফলেট বিলি-২ লক্ষ

*সংগঠনের ডাক্তারদের মাধ্যমে ফোনে চিকিৎসা দিয়েছে লক্ষাধিক মানুষকে।

★ এসব কাজগুলো এখনো চলমান।

★ এসব কার্যক্রমের জন্য ইতিমধ্যেই খরচ করেছে-৬৫,০১০৩২(পয়ষট্রি লক্ষ এক হাজার বত্রিশ) টাকা।যার পুরটাই নিজেদের জনশক্তি ও শুভাকাঙ্খিদের দেওয়া টাকা।

★ একটা সাংগঠনিক শাখার কাজ যদি এটা হয়। তাহলে সারাদেশের ৮৯ টি সাংগঠনিক শাখার কাজ মোট কত হতে পারে একটু ভাবুন তো!

★ এছাড়াও মহিলা জামায়াত,বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও ইসলামী ছাত্রীসংস্থাও আলাদা ভাবে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরনের কাজ করছে।

অন্যান্য সামাজিক ও রাস্ট্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ন্যায় প্রচারনা না থাকায় জামায়াত ইসলামীর কাজগুলো অনেকের চোখে পড়েনা। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের এই কাজগুলো শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্ঠির জন্য কবুল করুন এবং এই মহামারী থেকে দেশ,জাতি ও মুসলিম উম্মাহকে হেফাজত করুন ও মুক্ত করুন।

-লেখক: মুহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন,
সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও সহকারী সেক্রেটারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিন।