রায়হান হত্যাঃ বিক্ষুব্ধ জনতা উত্তাল সিলেট প্রতিমধ্যে পুলিশি বাধা।


মোঃইবাদুর রহমান জাকিরঃ

পুলিশি নির্যাতনে’ যুবক আখলিয়ার রায়হান মৃত্যুর ৫ দিনেও উত্তাল ছিল সিলেট। একই দিন রাস্তা থেকে সাধারণ জনতাকে সরিয়ে দিতে গেলে উল্টো পুলিশকে ধাওয়া করে বিক্ষুব্ধ জনতা।

(১৫অক্টোবর) বৃহস্পতিবার বিকালে রায়হানের বাসার কাছে নেহারীপাড়ায় সিলেটে-সুনামগঞ্জ সড়কে জনতা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে।

একই সময়ে সুবিদবাজারে ও দুপুরে আম্বরখানা পয়েন্টে ও শহীদ মিনারে, সন্ধ্যায় কোর্ট পয়েন্টে পৃথক প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তরা অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেফতার ও ফাঁসি দাবি করে বলেন, পুলিশ হেফাজতে কারো মৃত্যু কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

এর আগে দুপুরে নিহত রায়হানের মা সালমা বেগমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট লোকজন রেজিস্ট্রি মাঠ থেকে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক এম, কাজী এমদাদুল ইসলামের নিকট রায়হান হত্যাকারীদের বিচার ও দোষীদের গ্রেফতার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

এদিকে বিকালে পাঠানটুলায় রাস্থা অবরোধ করলে পুলিশ তাদেরকে সরিয়ে দিতে গেলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পুলিশকে ধাওয়া করে।

অভিযোগ উঠেছে সিলেটে বন্দর বাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে মারা যান রায়হান।

নিহতের চাচা মো. হাবিবুল্লাহ জানান, ভোর রাত চারটার দিকে রায়হান একজন পুলিশ সদস্যের ফোন দিয়ে তার মায়ের মোবাইলে কল করে বলে, ‘আমারে বাঁচাও, ১০ হাজার টাকা লইয়া তাড়াতাড়ি ফাঁড়িতে আসেন। ’ এরপর পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন রায়হানকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে আটকে রাখা হয়েছে।

মো. হাবিবুল্লাহর দাবি, কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে পাশের ফাঁড়িতে রায়হানের সন্ধানে গেলে ডিউটিরত কনস্টেবল তাকে জানান- ‘সবাই ঘুমে। সকালে আসেন। এ সময় ১০ হাজার টাকা নিয়ে তাকে ফাঁড়িতে যেতে বলা হয়।

নিহতের চাচা বলেন, পরে ৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে ফাঁড়িতে গেলে পুলিশ বলে রায়হান অসুস্থ। ওসমানী মেডিকেলে যান। এরপর মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে এসে দেখেন রায়হানের লাশ। এই ঘটনায় নগরীতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

হাবিবুল্লাহ বলেন, রায়হানের পায়ের তলা ও হাঁটুর নিচসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার হাতের নখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। ফাঁড়ির ভেতর ‘পুলিশ নির্যাতন’ করে তাকে হত্যা করেছে বলেও অভিযোগ তার।

এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে রায়হানের শরীরে অতিরিক্ত আঘাতের কারণেই মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম। দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

ডা. শামসুল বলেন, রায়হানের শরীরে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। এসব কারণেই তার মৃত্যু হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা যাবে।

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.