
নিউজ ডেস্কঃ এ যেন সিনেমার দৃশ্য। প্রেমিকার জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের উঁচু টাওয়ারে উঠে পড়লেন প্রেমিক ! তারপর থেকে উচ্চস্বরে বলতে থাকেন– প্রেমিকার সঙ্গে তার বিয়ে না হলে আত্মহত্যা করবেন। এক কান দুই কান করে মধ্যরাতে জড়ো হতে থাকেন এলাকাবাসী।
খবর যায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের কানেও। অবশেষে টান টান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে তার প্রেমিকার সঙ্গে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নানা কৌশলে আদমজী বিহারি ক্যাম্পের বিপ্লব নামের ওই প্রেমিককে আড়াই ঘন্টা পর নামানো হয় ওই টাওয়ার থেকে।
জানা যায়, প্রেমিকার সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করতে বিদ্যুতের উঁচু টাওয়ারের ৬৫ থেকে ৭০ ফুট ওপরে উঠে ওই প্রেমিক। পরে প্রেমিকার সঙ্গে বিয়ে দেয়ার শর্তে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিপ্লব নামে ওই যুবককে অক্ষত অবস্থায় নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।
এ সময় উপস্থিত জনতার চোখেমুখে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের সুমিলপাড়া এলাকায় শনিবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানাযায়, ১৭০ ফুট উঁচু এবং ১ লাখ ৩২ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের কেবল পরিবাহী ওই টাওয়ারের অনেক উঁচুতে উঠে অবস্থান নেন নারায়ণগঞ্জ সিটির ৬নং ওয়ার্ডস্থ আদমজী বিহারী ক্যাম্পের বাসিন্দা বিপ্লব নামে এক যুবক।
পাশেই দড়ি বেঁধে ফাঁসি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা, পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের অনেক অনুরোধেও নিচে নামতে রাজি হচ্ছিলেন না বিপ্লব।
অনেক চেষ্টার পর শর্ত মানায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিহারী ক্যাম্পের গুলু মেম্বারের কথায় কিছুটা নিচে নেমে এলে আশেপাশের লোকজনের চিৎকার শুরু করে। তাকে নিচে নামিয়ে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের এগিয়ে যেতে দেখে বিপ্লব ফের ওপরের দিকে উঠতে থাকে।
এর কিছুক্ষণ পর তার ভাইয়ের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসের হ্যান্ড মাইকে কথা বলতে পুনরায় কিছুটা নিচে নেমে এলে অপর প্রান্ত দিয়ে স্থানীয় দুজন ওপরে উঠে তাকে ধরে ফেলে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তার ওপরে উঠে তাকে অক্ষত নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়।
বিপ্লবের বাবা বলেন, ‘ছেলে মাদকাসক্ত। প্রায়ই মাদকের টাকার জন্য ঘরে হুমকি-ধমকি দেয়।
