
নিউজ ডেস্কঃ চট্টগ্রামে আইসিইউর খুঁজতে খুঁজেতে ১০ মাসের সুস্থ বাচ্চা পেটে নিয়ে মারা গেলেন প্রসূতি নারী,করোনা সন্দেহে চিকিৎসায় অবহেলা
সাতদিন পর ছিল বাচ্চা ডেলিভারির তারিখ।
এর মধ্যেই উঠল প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট।পেটে অনাগত সেই বাচ্চা নিয়ে মেয়েটি দিনভর ঘুরলেন হাসপাতালে-হাসপাতালে।টানা ১৮ ঘন্টা চেষ্টা
করেও পুরো চট্টগ্রামে মেলেনি একটি আইসি-
ইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র)। শেষে অনেকটা
বিনা চিকিৎসাতেই গভীর রাতে মৃত্যুর কোলে
ঢলে পড়লেন ১০ মাসের গর্ভবতী ওই নারী।
মাত্র এক সপ্তাহ পর, ১৮ জুন বাচ্চা জন্ম
দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারিত ছিল তার।
মৃত্যুকালে ফৌজদারহাটের কবরস্থানে মায়ের
সঙ্গী হল ওই বাচ্চাও— সুস্থ থেকেও পৃথিবীর
মুখটি আর দেখা হল না তার!
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল থেকে ৩০ বছর
বয়সী ওই গর্ভবতী নারীর জন্য তার স্বজনরা
চট্টগ্রামের এমন কোনো হাসপাতাল বাদ রাখে-
ননি, যেখানে তারা একটি আইসিইউ বেডের
খোঁজে যাননি। কোথাও না পেয়ে উপায়হীন
স্বজনরা ফেসবুকে পোস্ট দিয়েও একটি আই-
সিইউর জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন।
নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল আর
ওয়ার্ড থেকে ওয়ার্ডে দৌড়াদৌড়ি করে
মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাত ৪টার দিকে
চট্টগ্রাম মেডিকেলের করোনা ওয়ার্ডে মৃত্যুর
কোলে ঢলে পড়েন মুক্তা (৩০) নামের ওই নারী।
অথচ এর মাত্র আটদিন আগে করোনার সময়ে সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে প্রসূতি
মায়েদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনা পরীক্ষা
সহ অন্যান্য সুচিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে-
ছিলেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের
ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের
সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ
সংশ্নিষ্ট বিবাদীদের এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে
বলা হয়েছিল।
সূত্রঃ চট্টগ্রাম প্রতিদিন
