বড়লেখায় নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করেই গলাকেটে হত্যা, জড়িত ৫ জন গ্রেফতার

দৈনিক বড়লেখা ঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখার তরুণ মৎস্য খামার মালিক সমছ উদ্দিন (৩৪) হত্যার ২ দিনের মধ্যে পুলিশ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ হত্যাকান্ডে জড়িত ৫ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। উদ্ধার করেছে হত্যায় ব্যবহৃত ৩টি ধারালো দা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয় নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করেই ব্যবসায়ী সমছ উদ্দিনকে খুন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেফতারকৃত আসামীদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- রহমানীয়া চা বাগানের বাসিন্দা শচিন নায়েক জগাই (৩৫), মোহাম্মদনগর গ্রামের হাফিজুর রহমান (২৮), হেলাল উদ্দিন হেলাই (৩৫), মোক্তার আলী (৪৫) ও জসিম উদ্দিন (৪২)।

উপজেলার মোহাম্মদনগর এলাকায় আব্দুর রাজ্জাক এর পরিত্যক্ত ঘর থেকে সোমবার (১৮ মে) রাতে সমছ উদ্দিনের জবাই করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের মধ্যগ্রামতলা গ্রামের আমির উদ্দিনের ছেলে।

এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সমছ উদ্দিন নিখোঁজের পর তার বাবা আমির উদ্দিন থানায় জিডি করেন। এ জিডির ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাউসার দস্তগীরের দিক নির্দেশনায় বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হকের নেতৃত্বে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে নিখোঁজের পরদিন রাতে একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে সমছ উদ্দিনের জবাই করা লাশ উদ্ধার করে। এরপর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ রহমানীয়া চা বাগানের মৃত সত্য নায়েকের ছেলে শচিন নায়েক ও মোহাম্মদনগর গ্রামের আজির উদ্দিনের ছেলে হাফিজুর রহমানকে আটক করে। তাদের দেয়া তথ্যে পুলিশ মৃত জহুর আলীর ছেলে হেলাল উদ্দিন হেলাইকেও আটক করে। হত্যাকান্ডের ব্যাপারে সে পুলিশকে গুরুত্বপুর্ণ তথ্য প্রদান করে। পরে তার দেয়া তথ্যে পুলিশ মোক্তার আলী ও জসীম উদ্দিনকে আটক এবং হত্যকান্ডে ব্যবহৃত ৩টি দা উদ্ধার করে।

থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক সাংবাদিকদের জানান, নিখোঁজের পিতার জিডির ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাউসার দস্তগীর স্যারের দিক নির্দেশায় এক পর্যায়ে সমছ উদ্দিনের জবাই করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ত ৫ জনকেই একে একে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে পুলিশকে জানিয়েছে নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করেই তারা সমছ উদ্দিনকে খুন করেছে। মঙ্গলবার তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এ ব্যাপারে নিহতের পিতা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। থানা অফিসার ইনচার্জ এ-র চৌকস ভুমিকায় দ্রুত আসামি গ্রেফতার করতে পারায় এলাকায় অনেকটা স্বস্তি বিরাজ করছে।

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.