
গতরাতেও তিনি নিজের ইমামতিতে নিজ গ্রাম ভূগায় তারাবিহ এর সালাত আদায় করেছিলেন।বাড়িতে এসে ঘুমিয়ে পড়েন।সেহরির সময় শারীরিকভাবে অসুস্থতা অনুভব করেন।রোজা রাখার উদ্দেশ্য সেহরি খেয়ে ফযরের নামাজ আদায় করলেন।
মুহুর্তেই শরীর খারাপ লাগছিলো।ছোট ভাই মাওলানা ইমদাদুর রহমানকে ডাকলেন।রুমের মধ্যে টাকা রাখা আছে সেগুলো থেকে উনার কাফনের কাপড় কেনার জন্য।এবং উনার বাবা এবং বড় স্ত্রীর কাছে দাফন করার জন্য বললেন।
এবং বড় ছেলে হাফিজ আরিফুর রহমানকে ডেকে পাশে বসালেন।কিভাবে জানাজার নামাজে ইমামতি করতে হবে, কি দোয়া পড়তে হবে শিখিয়ে দিলেন।মাদ্রাসার গচ্ছিত হিসাব-নিকাশ নোট করে বড় ছেলে আরিফ কে বুঝিয়ে দিলেন।পরে মাদ্রাসা গভর্নিং বডির জনৈক সদস্যকে ফোন দিলেন উনি রিসিব করেননি!
প্রিয় শিক্ষক হয়তো বুঝতেই পেরেছিলেন তাঁর হাতে সময় আর বেশি নেই।তাই আরিফকে বললেন হিসাবটা বুঝিয়ে দিও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিকে।তারপর আরিফকে বললেন তুমি বাবার কাছে বসে সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করো।
বার বার বলছিলেন আমাকে ডাক্তারে নিতে হবেনা।মাটিতে শুয়াতে বললেন।অতঃপর কিছুক্ষণ কালেমা পড়লেন।তারপর দুই ঠোঁট নড়তেছিলো যেনো কোরআন তেলাওয়াত করতে করতেই মা’বুদের ডাকে সাড়া দিলেন।চোখ বন্দ করে ফেললেন।
কে জানে এই চোখ আর কখনো খুলবেনা! ছোট ভাই মাইক্রোতে করে চলে গেলেন ইবনে সিনা হাসপাতালে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করলেন!
হ্যাঁ, বলছিলাম পরগনাহী দৌলতপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হাফিজ লুৎফর রহমান হুজুরের কথা।এই ক্ষণজন্মা মানুষের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া! যেনো ধর্মীয় জ্ঞানের আলোয় আলোকিত শাহবাজপুরে অন্ধকার নেমে এসেছে!
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি পরগনাহী দৌলতপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং তারাদরম জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়ীত্ব পালন করেন।সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় ওয়াজ করেছেন তিনি বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে।
মৃত্যুর সময় তিনি দুই ছেলে, এক মেয়ে এবং হাজারও ছাত্রছাত্রী রেখে মৃত্যুবরণ করেন।মহান আল্লাহ যেনো তাঁর বান্দাহকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন।

তিনি ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক ব্যক্তি
LikeLike