পরকিয়া প্রেম,অত:পর ছেলে খুন।



মামুন ছেলের স্কুলে দাড়িয়ে আছে ছেলের জন্য। আজকে তার ছেলে মাহবুবের পরিক্ষার ফলাফল জানাবে। ছেলেটার জন্যই এসেছে। অনেক ছেলেমেয়ের বাবা মা এসেছে।আর তাদের সন্তানদের নিয়ে প্রশংসা করছে। এক মহিলা অন্য মহিলাকে বলছে “দেখবেন আমার ছেলেই প্রথম হবে”মামুন এইসব কথা
শুনছে আর দাড়িয়ে আছে।ছেলের জন্য তারও চিন্তা হচ্ছে।কারন শেষের কয়েকটি পরিক্ষার সময়ে ছেলে অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল। কেমন ফলাফল হবে জানে না। কিছুক্ষণ পরে মাহবুব আসলো। মনটা ভারি ভারি। মুখেও তেমন হাসি নেই। মনে হয় ফলাফল ভাল হয় নি। অনেকে ছেলের জন্য টিউশানির ব্যাবস্থা করেছে। কিন্তু মামুন সেটা পারে নি।কাছে আসার পরে মামুন জিজ্ঞেস করলো
-কি হয়েছে বাবা? মন খারাপ কেন?
-বাবা আমি ক্লাসের মধ্যে প্রথম হয়েছি।
-কি!! আরে এতে মন খারাপ করে আছ কেন?
-দেখলাম তুমি কেমন করো।তুমি খুশি হয়েছ?
-হ্যা বাবা।অনেক খুশি হয়েছি। বলো তুমি আজকে কি চাও? আজকে দিবো।
-সত্যি দিবে? তোমার কাছে অত টাকা হবে?
-অবশ্যই হবে।
-তাহলে আমার জন্য আইসক্রিম আনবে।
-শুধু আইসক্রিম?
-আইসক্রিম হলেই হবে।
ছেলেকে স্কুলে রেখে মামুন অফিসে চলে গেল। আজ তার অনেক বেশি খুশি লাগছে। আজ মামুনের ছোট বেলার কথা মনে পরছে। ছোট বেলায় যখন মামুন তার বাবাকে গিয়ে বলেছিল
-বাবা আমি ফার্স্ট হয়েছি।
-সেটা কি বাবা?
-আমি সবার চেয়ে ভাল নাম্বার পেয়েছি।
-বাবারে। তোর এই কাজের জন্য আমার।অনেক খুশি লাগছে। আমি তোকে ডাক্তার বানাবো। মামুনের বাবা সেদিন ছেলেকে ডাক্তার বানানোর সপ্ন দেখেছিল। কিন্তু মাঠে কাজ করে সেই সপ্ন পুরন করতে পারে নি।
মামুনের ইচ্ছা তার ছেলেকে ডাক্তার বানাবে। সে শত চেষ্টা।করে হলেও সপ্ন নামের সোনার হরিনকে ধরার চেষ্টা করবে।যেই হরিনকে মামুন ধরতে পারে নি।


মাহবুব বাড়িতে এসে দেখে কাদের আংকেল এসেছে।মাহবুব কাদের আংকেলকে বলল
-আংকেল। আমি এবারো ফার্স্ট হয়েছি।
-তাই! তাহলে তো তোমাকে একটা গিফট দিতে হবে?
-কি গিফট দিবেন?
-তোমার প্রিয় জিনিস আইসক্রিম। এই নাও ৫০ টাকা। ওই দুরের ওই দোকান থেকে আইসক্রিম কিনে খাবে।
-আচ্ছা।
-কিনে ওখান থেকেই খেয়ে আসবে। কারন বাড়িতে আনতে নষ্ট হয়ে যাবে।. খুশি মনে মাহবুব টাকা
নিয়ে চলে গেল আইসক্রিম কিনতে।
মাহবুব অন্যের কাছ থেকে টাকা অথবা কোন গিফট নেয় না। কিন্তু কাদের আংকেল কিছু দিলে তার মা
নিতে বলেছে। কাদের আংকেল তাদের কাছের মানুষ।
.
দোকানে গিয়ে মাহবুব দেখলো সবগুলো দোকান বন্ধ। এই দুপুরবেলা দোকান বন্ধ থাকে।টাকাটা আংকেল কে ফেরত দেওয়া দরকার। তাই বাড়িতে চলে যাওয়াই ভাল।
.

মামুন সাহেব অনেক বলার পরে আজকের দিনে ছুটি নিতে পেরেছে। আজকে তার ছেলেকে নিয়ে ঘুরবে।
দুপুরবেলা গাড়ি না পাওয়ায় হেটেই বাজারে চলে যাচ্ছে মামুন। যত তারাতারি সম্ভব বাসায় যেতে হবে। যখন ছেলেকে আইসক্রিম দিবে আর তার প্রিয় মাছ নিয়ে যাবে। তখন তার ছেলে অনেক খুশি হবে। যেই খুশিটা
দেখার জন্য মামুনের মনটা মানছে না।বাজারে গিয়ে মাহবুবের প্রিয় মাছ আরো তার প্রিয় খাবারগুলো
কিনলো।ব্যাগ হাতে রিক্সায় চড়ে বাড়ির দিকে রওনা হল।সে জানে ছেলে তার জন্য অপেক্ষা করছে।
.

মাহবুব বাড়িতে এসে আংকেল কে খুজে পেল না। মনে হয় চলে গেছে। টাকাটা জানালা দিয়ে ভেতরে রেখে দিয়ে তার মত খেলতে চলে যাবে। মাহবুব দরজা বন্ধ
পেয়ে জানালা দিয়ে টাকা রাখার জন্য হাত বাড়ালো।
জানালায় তাকাতে মাহবুব দেখলো তার মা শুয়ে আছে। কিন্তু এভাবে শুয়ে আছে কেন? আর কাদের
আংকেল পাশে শুয়ে আছে কেন?আর তাদের এইরকম হয়ে থাকার কারন কি? জিজ্ঞেস করা দরকার। তাই মাহবুব আংকেলকে ডাক দিলো।
.

মামুন পথে আসার সময়ে অনেক কিছুই ভেবেছে। ছেলের কথা ভেবেছে।বাড়িতে এসে মাহবুব কে ডেকে না পাওয়ার পরে ঘরে ঢুকলো। ঘরে ঢুকে মাহবুব
ছেলেকে দেখলো। কিন্তু ছেলের মুখের হাসি দেখলো না। ছেলেটা ঘুমিয়ে আছে।মামুনের ফার্স্ট হওয়া ছেলে আজ ঘুমিয়ে আছে।মামুনের সপ্নটা সপ্নই থেকে গেল।সপ্ন নামের সোনার হরিনের দেখা মামুন পেল না। শুধু কাঁদতে কাঁদতে বলল “কি অন্যায় করেছিলাম আমি? যে আজকে আমার সপ্ন দেখা ছেলেকে লাশ দেখতে হল”
.
মামুনের স্ত্রি রান্না।ঘর থেকে মাছ কাটার বটি নিয়ে এসেছে। কিছু একটা কাটার জন্য। আজকেও মামুনের স্ত্রি বটি দিয়ে কাটলো। তবে মাছ না কেটে আজকে ছেলের গলা কাটলো। মাছের চেয়ে বেশি রক্ত বেড়িয়ে মেঝেতে ছড়িয়ে গেল। অনেক বোঝানোর পরেও যখন ছেলে শুনলো না। বলল “আমি বাবাকে বলবো সব”।
তাই কাদেরের বুদ্ধিতে ছেলের গলায় বটি চালাতে হল। পরে ছেলেকে হত্যা করার অপরাধ বুঝলো। কিন্তু পরকিয়া প্রেমের কারনে পরে বুঝেও কোন লাভ হলো
না।
কালেক্টেড

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.