ইসলামী আন্দোলনের পুরোধা,অধ্যাপক ড.আহমদ আবদুল কাদের এক “জীবন্ত কিংবদন্তি”

এম.এম আতিকুর রহমানঃ বাংলাদেশ তথা বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা
অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের এক জীবন্ত কিংবদন্তি।বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, রাজনীতিবিদ, লেখক, গবেষক, সংগঠক, সমাজসেবক অধ্যাপক ড.আহমদ আবদুল কাদের ১৯৫৫ সালে হবিগঞ্জ জিলার অন্তর্গত মাধবপুর উপজেলার আলা-দাউদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বি এস এস (সম্মান) ও এম এস এস এবং ঢাকা সিটি ‘ল’ কলেজ থেকে এল এল বি ডিগ্রী লাভ করেন। অতপর তিনি বিশিষ্ট আলেমদের তত্ত্বাবধানে ইসলামী বিভিন্ন শাস্ত্র বিষয়ক উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। পেশাগতভাবে তিনি ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং চার কন্যা ও এক পুত্রের জনক।

এ মহা মনিষী ছাত্র জীবন থেকেই লেখালেখির সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও জার্নালে
তিনি লিখে থাকেন। এ পর্যন্ত ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন-সংগঠন, অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, মুসলিম উম্মাহ, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সভ্যতা-সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয়ে ৩৫ টির অধিক বই লিখেছেন। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ১.সােনালী পথ ২. দারিদ্র সমস্যা সমাধানে ইসলাম ৩, সভ্যতা সংকট দিগদর্শন ৪. মুক্তি শান্তি প্রগতি ৫. সত্য সুন্দর বিপ্লব তারুণ্য ৬. পতনের বেলাভূমিতে বস্তুবাদী সভ্যতা ৭, খেলাফতঃ মূলনীতি ও বৈশিষ্ট্য ৮, মুসলিম ঐক্য ও সংহতি ৯, সেবা দারিদ্র বিমােচন ইসলাম ১০, মৌলবাদ ১১ মহানবী (সাঃ)-এর জীবনাদর্শ ও আজকের প্রেক্ষিত ১২. জিহাদ কি ও কেন ১৩. ইসলামী আন্দোলন ১৪. ইসলামী আন্দোলন ও জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই ১৫. ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অপরিহার্য কেন? ১৬. ইসলামী বিপ্লব ১৭. ইসলামী বিপ্লব ও পথ ও পদ্ধতি ১৮, ইসলামী বিপ্লবের লক্ষ্যে গণআন্দোলন ১৯. ইসলামী আন্দোলন ও উলামা সমাজ ২০. আদর্শ কর্মী ২১. আদর্শ সংগঠন ২২ ঈমানের পথ রক্তে রাঙা ইত্যাদি।
এছাড়াও তার শতাধিক নিবন্ধ ও দশটির অধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি ছাত্র জীবন থেকেই ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ছাত্র জীবন থেকে এপর্যন্ত বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি কম্বাইন্ড ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি (১৯৮২), এ সময়ে ছাত্র শিবির ভেঙে দুটি হয়। পরবর্তীতে ইসলামী যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি (১৯৮৩-১৯৮৯), ১৯৮৪ সালে হযরত হাফেজ্জী হুজুরের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম উদ্যোক্তা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, ১৯৮৭ সালে বৃহত্তর ইসলামী আন্দোলনের প্রয়াসে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
১৯৮৯ সালের ৮ডিসেম্বর তদানীন্তন খেলাফত আন্দোলন ও যুব শিবির একিভূত হয়ে মুফাছছিরে কুরআন আল্লামা আব্দুল গফফার রহ.কে আমীর ও ভাষা সৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খানকে মহাসচিব এবং শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক (রহ.) কে অভিভাবক পরিষদের চেয়ারম্যান করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস গঠন করেন। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন (১৯৮৯-১৯৯৬)। চার দলীয় জোটের আন্দোলনের লিয়াজো কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। সে সময় তিনি ইসলামী ঐক্যজোটের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেন (২০০১)। তিনি ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর (১৯৯৬-২০০৪) ছিলেন। ২০০৫ থেকে খেলাফত মজলিসের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ও বতর্মানে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সিনিয়র দায়িত্বশীল, সমমনা ইসলামী দলসমূহের মুখ‍্পাত্র ও সমন্বয়কারী এবং ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি ইসলাম, মুসলিম উম্মাহ ও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। লেখালেখি, গবেষণা, আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি তিনি সমাজকল্যাণমূলক কাজের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে জড়িত। তিনি নুসরা নামক একটি জাতীয় ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। উক্ত সংস্থা পল্লী দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, কৃষি ইত্যাদি ক্ষেত্রে তৎপর।

তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও সেমিনারে অংশগ্রহণ এবং সে সব সেমিনার ও সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে নিবন্ধ পেশ করেন। আন্তর্জাতিক সেমিনার ও সম্মেলনে পেশকৃত নিবন্ধগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:

  1. The role of waqf in poverty alleviation,
    2.The rural development in Bangladesh,
  2. The poverty alleviation in Bangladesh, 4.Fundamentalism is the muslim world,
    5.Labor Rights in Islam, 6.The Chirstian missionary activities in Bangladesh, 7.public administration is Nahjul balagha, 8.Secularism in the muslim world,
    9.From nation state to ummah state etc……

তিনি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, ইরান, পাকিস্তান, ভারত, আরব আমিরাত ও নেপালসহ বেশ কয়েকটি দেশ সফর করেছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মেলন সেমিনারে অতিথি হিসেবে বক্তব্য ও প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ইসলামী অঙ্গনে দু’চারজন বিজ্ঞ ও বিরল সম্মানের অধিকারী মনীষীদের অন্যতম। যার প্রতিটি কথা হয় গ্রন্থীত, জীবনের প্রতিটি দিক একেকটি ইতিহাস, প্রতিটি বক্তৃতা প্রেরণার সংকলিত রচিত পুস্তক হয় চিরন্তন সাহিত্য, চিন্তার প্রতিটি ক্ষণ হয়ে ওঠে দিব্যদৃষ্টির বার্তা, উপলব্ধি ও মূল্যয়ণ হয় ইতিহাসের আক্ষরিক পথ নির্দেশক।

অধ্যাপক ডঃ আহমদ আবদুল কাদের মুসলিম উম্মাহ’র সম্পদ। ইসলামী আন্দোলনের জীবন্ত কিংবদন্তি, আমাদের অহংকার।

আমাদের এই প্রিয় রাহবারকে নেক হায়াত ও সুস্থতার সাথে ইসলামী সমাজ বিনির্মানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষমতা দিন কায়মনোবাক্যে এই শুভকামনা মাওলায়ে কারীম এ-র দরবারে।

লেখক ; এম.এম আতিকুর রহমান
সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
০১১৭১৫৭১৮৮৩৩

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.