
দৈনিক বড়লেখাঃ প্রিয় বড়লেখা উপজেলাবাসী ,এই করোনা পরিস্থিতিতে আপনি আপনার প্রতিবেশী হতদরিদ্র অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান ,আল্লাহ আপনার পাশে দাঁড়াবেন ইনশাআল্লাহ।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব সোয়েব আহমেদ উনার নিজের ফেইজবুক আইডি তে এরকম একটি পোস্ট করেছেন যা রিতীমত ভাইরাল হয়েছে। দৈনিক বড়লেখার পাঠকের জন্য হুবহু তা তুলে ধরা হলোঃ-
জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার ১০ বছর হতে চলছে। বড়লেখা সদর ইউনিয়ন ও উপজেলা বাসীর পবিত্র ভোট ও অকৃত্রিম ভালোবাসায় সর্বোপরি আল্লাহতালার অশেষ কৃপায় তিনবার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ আপনারা করে দিয়েছেন। প্রতিদিনই জনগণের সুখ-দুঃখের সমস্যা নিয়ে একজন জনপ্রতিনিধির পথ চলা ,পাশা পাশি গ্রামীণ রাস্তা ঘাট, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়ন, গ্রাম্য সালিশ, বিচার গ্রাম আদালত পরিচালনা করা এবং সরকার প্রদত্ত সকল আদেশ নির্দেশ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় (বয়স্ক, বিধবা,প্রতিবন্ধী,মাতৃত্বকালীন ভাতা, ভিজিডি ভিজিএফ) সহ আরো অন্যান্য কাজ বাস্তবায়ন করা। জনপ্রতিনিধিদের অফিস টাইম বলতে কিছু নেই, সকাল থেকে শুরু করে রাতের ঘুমানোর আগ পর্যন্ত, জনগণের নানা সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকা। বর্তমানে এই করোনা পরিস্থিতির লকডাউন এর মাঝে যে বিষয়টি নিয়ে লিখব বলে মনের মাঝে তাহা হল, আজ দশ বছর যাবত প্রতিদিন ঘুম ভাঙ্গে সকালে জনগণের ডাকে, বা সকাল হলেই আর ঘুম হতো না , শুধু মনে হয় কেউ যেন ডাকছে। প্রতিদিনই সকালে দশ থেকে বিশ জন নানা বয়সী পুরুষ মহিলা ড্রইং রুমে ও বারান্দায় বসে থাকতেন। অনেকের অনেক রকমের আর্জি, কেউবা প্রতিবেশীর সাথে ঝগড়া, কারোর দাম্পত্য কলহ, কারোর নালিশ ও পুলিশি মামলা। এর মধ্যে অর্ধেকেরই আর্থিক সাহায্যের আবদার, মেয়ের বিয়ে, স্কুলের বেতন, হসপিটালে রোগী,ঔষধ কিনা, ঘরের চালা, চোখের ছানি এরকম নানা আবদার সাধ্যমত সবাইকে কম বেশি আর্থিক সাহায্য করতে হতো। মনে হতো অনেকেরই খুবই জরুরী আবার অনেকেরই অভ্যাস গত । কোনদিননিজের পকেটের টাকা না থাকলে ছেলে মেয়েদের জমানো টাকা হতে দিতে হতো। কারণ মনে হয় কেউ রিসস্কা সিএনজি বা পায়ে হেটে একটা আশা নিয়ে এসেছে। ১১টা নাগাদ অফিসে যাওয়ার পর সমান চিএ। সন্ধ্যা পরে ব্যক্তিগত অফিসে তাই। এইভাবে বারটি মাস রুটিনমাফিক চলত। বাজারে কোথায় দোকানে বসলে বা গাড়ি থামালে মানসিক রোগী (পাগল) ও ভিক্ষুকরা কাছে চলে আসতো। সাধ্যমত কিছুটা ওদের হাতে গুজে দিতাম। করোনা ভাইরাসের কারণে আজ ৩৬ দিন লকডাউনে রুটিন মাফিক জীবনের ছন্দপতন। সকালে আর মানুষের ডাকে ঘুম ভাঙ্গে না ,অফিসে নেই অভিযোগ করি ,গাড়ি থামলে নেই মানসিক রোগী, বা ভিক্ষুক। সেই অভাবগ্রস্ত পরিচিত মুখগুলো চোখের পর্দায় ভেসে ওঠে, ওদেরকে মনে মনে খুঁজি, মনে মনে ভাবি ,সকলের আবদার হয়তো পূর্ণ করতে পারিনি। হয়তো অনেক কে নিরাশ করেছি ।আজে এই লকডাউনের মাঝে তারা হয়তো, পুলিশের ভয়ে বা করোনার ভয়ে বা অনেক গ্রামে, অপরিচিত জনের আসা-যাওয়া নিষেধের কারনে তাদেরকে দেখতাছি না। ওরা কেমন আছে? অনেক বয়স্ক বুড়ি মা, বুড়ো বাবার ছল ছলানি দৃষ্টি চোখে ভাসে,সবাই কি সুস্থ আছে? তাহারা কি দুবেলা দুমুঠো ভাত খাচ্ছে?অনেক এজমা রোগী আসতেন শ্বাসের স্পে কিনতে ,তাহার স্পে কি এখনো আছে। জানিনা আবার কবে স্বাভাবিক হবে মানব জীবন ও প্রকৃতি। গরীব-ধনী মিলেমিশে থাকবো আমাদের সমাজে। একে অন্যের সাহায্য নিয়ে চলবে আমাদের জীবন। সবাই আমরা পরনির্ভরশীল। আমরা হয়তো আশা করি ব্যবসায় বেশি লাভ, চাকরিতে বেশি বেতন, প্রবাসী নিকট জনের বেশি অনুদান। দরিদ্র মানুষের আশা করে আমাদের মতো অনেকের কাছে ,তফাৎটা শুধু চাওয়ার কৌশল ,আর সবই তো এক।
যাই হোক অনেক কিছু লিখলাম, প্রিয় বড়লেখা উপজেলা বাসী ,এই করোনা পরিস্থিতিতে আপনি আপনার প্রতিবেশী হতদরিদ্র অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান ,আল্লাহ আপনার পাশে দাঁড়াবেন ইনশাআল্লাহ।
অনুরোধক্রমে,
সোয়েব আহমদ
চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ
বড়লেখা মৌলিবাজার।
