মৃতরা জেগে উঠেছে জীবিতরা সাবধান!

মহামারী চলচ্চিত্রঃডন অব দ্যা ড্যাড

ধরুন সুন্দর একটা সন্ধ্যা কাটালেন নিজের পরিবারের সঙ্গে। চারপাশের পৃথিবীটাও ঠিকঠাক দেখেই ঘুমাতে গেলেন। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখলেন কিছুই আর আগের মতো নেই। এক অজানা ভাইরাসের আক্রমণে চারদিকে মৃত্যুর মিছিল। মানুষ পরিণত হচ্ছে ভয়ংকর জম্বিতে। আপনাকেও আক্রমণ করতে আসছে। বাঁচার একটাই রাস্তা। পালাতে হবে। নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে বের করতে হবে। কী করবেন তখন?

ঠিক এমনই কয়েকজন বেঁচে যাওয়া মানুষ আর ভাইরাসে আক্রান্ত জম্বিদের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধের গল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ‘ডন অব দ্য ডেড’ চলচ্চিত্রটির কাহিনী। তবে ২০০৪ সালের ছবিটি মূলত ১৯৭৮ সালে মুক্তি পাওয়া একই নামের ছবির রিমেক। জম্বি ও ভাইরাস নিয়ে অন্য যেসব ছবি হয়েছে, সেগুলোয় একটি শান্তিময় সমাপ্তি দেখা গেলেও ছবিটির ক্ষেত্রে তা হয়নি। বরং এক অজানা আতঙ্ক শেষ অবধি তাড়া করে বেড়াবে।

ছবির কাহিনী শুরু হয় অ্যানা নামের একজন নার্সের পরিবারকে দিয়ে। সারা দিনের ব্যস্ততার কারণে সন্ধ্যায় আর খবর না দেখেই ঘুমিয়ে পড়েন তারা। কিন্তু সকালে উঠে দেখেন, পুরো শহর তছনছ হয়ে গেছে। এমন সময় প্রতিবেশী এক শিশু জম্বির আক্রমণে অ্যানার স্বামীও জম্বিতে পরিণত হয়ে তাকে আক্রমণ করতে আসে। কিন্তু সে কোনোভাবে বেঁচে যায়। এমন অবস্থায় অ্যানা আশ্রয় নেয় শহরের একটি শপিং মলে, যেখানে আরো কয়েকজন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া মানুষের সঙ্গে তার দেখা হয়।

একজন নার্স, একজন পুলিশ, এক নবদম্পতি, এক বিক্রেতা আর কিছু মানুষের সমন্বয়ে এবার একটি দল গঠিত হয়। যারা জম্বিদের হাত থেকে বাঁচার জন্য চেষ্টা চালাতে থাকে। এরপর আরো কিছু সুস্থ মানুষ তাদের সঙ্গে যোগ হয়। কিন্তু যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়। জম্বিদের নজর পড়ে যায় সেখানে। সুস্থ মানুষের ওপর তারা আক্রমণ চালায়। বেশ কয়েকজন জম্বিতে পরিণত হলে তাদের বাধ্য হয়ে হত্যা করতে হয়।

এরই মধ্যে সামনে আশার আলো হয়ে দেখা দেয় বন্দর থেকে ইয়টে করে শহর ছাড়ার একটি চিন্তা। কিন্তু শপিং মল থেকে বন্দর বেশ খানিকটা পথ। সবাই মিলে দুটি বাসে করে রওনা হয়। পথিমধ্যে যুদ্ধ করতে হয় হাজারো জম্বির সঙ্গে। কয়েকজন নিজের জীবন দিয়ে অন্যদের পালানোর পথ করে দেয়। অনেক বাধা অতিক্রম করে ইয়টে পৌঁছার পরও দুর্ভাগ্য যেন তাদের পিছু ছাড়ে না। এক অজানা ভাগ্যের মুখে পতিত হয় বেঁচে যাওয়া সবাই।

১০০ মিনিট দৈর্ঘ্যের অ্যাকশন ও হরর ঘরানার ছবিটি মুক্তি পায় ১৯ মার্চ ২০০৪ সালে। ১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মূল ছবিটি পরিচালনা করেন জর্জ এ রোমেরো। আর জ্যাক স্নাইডার পরিচালিত ২০০৪ সালের ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন সারাহ পলি, ভিং র্যামেস, জেক ওয়েবার, মেখি ফিফার, টাই বারেল, মাইকেল কেলি ও কেভিন জিগারস। ছবিটি দর্শক-সমালোচক উভয়ের কাছ থেকেই ভালো সাড়া পায়। মাত্র ২৬ মিলিয়ন ডলারে নির্মিত চলচ্চিত্রটি বক্স অফিস থেকে ১০২ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করে।

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.