এমন ব্যবহার পাবো জানলে না খেয়ে মরতাম

“জনপ্রতিনিধিদের কাছে এমন ব্যবহার পাবো জানলে না খেয়ে মরতাম, কিন্তু খাবার চাইতে যেতাম না” আক্ষেপের সুরে কথা গুলো বলছিলেন ৫৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ চা দোকানদার, ত্রান চাইতে গিয়ে ত্রানের পরিবর্তে মার খেয়ে বাড়ীতে ফিরে এ কথা বলেন তিনি।

জানা যায়, রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের চেম্বারে ত্রাণ চাইতে গিয়ে লাঞ্চনার স্বীকার হয়েছেন ওই ওয়ার্ডেরই এক নারী এবং অপর এক বৃদ্ধ।

নির্যাতিত বৃদ্ধের নাম মংলা কুমার পাল (৫৪)। ২৪ নং ওয়ার্ডে সাধুরমোড় এলাকাতেই তিনি বসবাস করেন। মংলা কুমার পেশায় একজন চা দোকানী। করোনার কারণে দীর্ঘদিন চায়ের দোকান বন্ধ থাকায় তিনি খুব কষ্টে দিন যাপন করছেন বলে জানান। অভাবে পড়েই তার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আরমান আলীর কাছে ভোটার আই.ডি কার্ড নিয়ে যান খাবার সামগ্রী পাবার আসায়। কিন্তু খাদ্য সামগ্রীর বদলে তার কপালে জোটে মার।

ঘটনার বিষয়ে মংলা কুমার বলেন, ‘দীর্ঘদিন চায়ের দোকান বন্ধ থাকায় অভাবে পড়ে কাউন্সিলরের কাছে সরকারী খাদ্য সামগ্রী নিতে যাই আমার ভোটার কার্ড নিয়ে। কিন্তু তিনি ত্রাণ চাওয়ার কথা শুনেই আমাকে তার হাতে থাকা মোটা রেজিষ্টার খাতা দিয়ে মেরে অফিস থেকে বের করে দেন। সেই সাথে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজও করেন তিনি।’

এ দিকে ওই একই ওয়ার্ডে সাধুরমোড় এলাকার লাঞ্চনা ও মানসিক নির্যতনের স্বীকার রাণী বেগম (৩২)। তার পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার স্বামী। রাণীর স্বামী পেশায় রাজশাহীর আরডিএ মার্কেটের এক ছোট দোকানের কর্মচারী। প্রায় একমাস লকডাউন চলার কারণে স্বামীর আয় রোজগার বন্ধ। যার কারণে তিনিও যান কাউন্সিলর আরমান আলীর কাছে সরকারী অনুদান নিতে।

লাঞ্চনা ও নির্যাতনের বিষয়ে তিনি সকালের সময়ের প্রতিনিধিকে জানান, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বামীর ইনকামও বন্ধ। ছেলে-মেয়েকে খাবার দেওয়ার মতো ঘরে কোনো খাবার নেই। তাই বাধ্য হয়ে জীবনে প্রথম বার কাউন্সিলরের কাছে যাই সরকারী ত্রাণ নেওয়ার জন্য। কাউন্সিলরকে আমি বলি- ‘চাচা একটু শোনেন। তাতেই তিনি রেগে আমাকে বলেন- আমি কি তোর মায়ের……!! (প্রকাশযোগ্য নয়) যে তুই আমাকে চাচা ডাকছিস ! এছাড়াও আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজসহ নানান কথা শোনায় যা সহ্য করার মতন না। সরকারি খাবার নিতে গিয়ে এমন লাঞ্চনার স্বীকার হতে হবে আমি জানতাম না বলে কাঁদতে কাঁদতে জানান।

সাধুরমোড় এলাকার কয়েকজন স্থানীয় ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, কাউন্সিলর আরমান আলী খুব বদমেজাজী লোক। শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা হওয়ার কারণে তার কাছে ভয়ে কেউ কথা বলতে পারে না। তাছাড়া এলাকায় যে সরকারি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে তা সব তার নিজের পচ্ছন্দমতন লোকেদের দেওয়া হচ্ছে।

তারা আরো জানান, তার লিস্টের বাইরে কোনো কর্মহীন দুস্থ লোক ত্রাণ চাইতে গেলে মারধর, গালি-গালাজ করে তাড়িয়ে দেয়। এসব দেখে অন্যরা যেনো তার কাছে ত্রাণ চাইতে না আসে সে কারণে। মংলা ও রানী দু’জনেই ত্রাণ নিতে গিয়ে লাঞ্চনার স্বীকার হয়। কাউন্সিলর অফিস থেকে তারা কাঁদতে কাঁদতে মোড়ের ওপর বসেছিলো। পরে আমরা তাদের বুঝিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেয়।

অভিযোগের বিষয়ে ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে গেলে সকালের সময়ের প্রতিনিধিকে তিনি বলেন, ‘তাদের অভিযোগ মিথ্যে। আপনাদের কাছে কি কোনো প্রমাণ আছে। এসব আমাকে আমার প্রতিপক্ষ কিছু মানুষ বদনাম করার জন্য এসব অপপ্রচার করছে। কাউন্সিলরের কথার প্রেক্ষিতে তার সামনেই মংলাকে কল করা হলে লাউডে তিনি সেই অভিযোগই করেন যা তার সাথে ঘটেছিলো। তারপর কাউন্সিলর সেটা মিথ্যা কথা বলছে বলে মন্তব্য করেন।’

সুত্রঃ দৈনিক সকালের সময়

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.