পুরুষ নির্যাতনের হয়তো কোন এক করুন কাহিনী।

“বউকে কুপিয়ে হত্যার ভিডিও দেখে মাথা কাজ করছে না” পোস্টদাতা বড় ভাইকে লিংক দিতে অনুরোধ করলে তিনি ইনবক্সে লিংক দিলেন; ভিডিওটি দেখে আমার নিজেরও মস্তিষ্ক বেশ কিছুক্ষণ কাজ করেনি! হায়! কি লোমহর্ষক!

দা’য়ের কোপের শব্দগুলো এখনো কানে বাজছে; যারা ভিডিওটি দেখছেন তাদের অবস্থাও একই; ফেনীর টুটুল যা করেছে তা অবশ্যই ঘৃণিত কাজ যা করা তার মোটেও উচিত হয়নি এবং প্রশাসনের নিকট প্রত্যাশা করি ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠু বিচার হোক এবং টুটুল তার উপযুক্ত শাস্তি ভোগ করুক।

তবে সময় টিভির সাংবাদিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টুটুলের ভাই ও এক প্রতিবেশী যা জানালো তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই যে নিহত তাহমিনা নিজেও এত সাধু ছিলেন না।

যদিও তার দোষের জন্য প্রাপ্য শাস্তি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পরকালে দিবেন।

টুটুলের ছোট ভাইয়ের দেওয়া সাক্ষাৎকার অনুযায়ী

[হুবুহু সংযুক্ত করা হলো]

“তারা প্রতিনিয়ত জগড়া করতো, মাসে কমপক্ষে ১৫/১৬ দিন তাদের মধ্যে জগড়া হতো এবং প্রত্যেকবারই ভাবী আমার ভাইকে মারতে চাইতো আজকেও আমার ভাই যখন জিজ্ঞেস করছিলেন ‘তুমি কাকে কল করছো ?

আমি আমার জামাইরে কল দিই, তোর কোন সমস্যা?

আপনি একবার ভাবুন আপনার স্ত্রী যে কিনা আপনার আকদ্ এর নিচে থেকে আপনার সামনে অন্য একজন ছেলেকে কল করেছে এবং ছেলেটিকে স্বামী দাবি করছে!তখন আপনার মানসিক অবস্থা কেমন হবে?

বাচ্চা ৮ মাস থাকা অবস্থায় অন্য ছেলের সাথে চলে যায়! আবার ফিরে এসে যখন আপনার কথার অবাধ্য হয়, আপনার গায়ে হাত তুলে! দরজা বন্ধ করে আপনার অন্ডকোষ চিপে ধরে আপনাকে মেরে ফেলতে চায়; (প্রতিবেশীর ভাষ্য অনুযায়ী) আপনার মনের অবস্থা কেমন হবে?

ভাবতে পারেন; টুটুলের মনের অবস্থাও অভিন্ন ছিল। টুটুলের তাহমিনাকে হত্যা করা কোনভাবেই উচিত হয়নি সে বিচ্ছেদ করে নিতে পারতো তবে এদেশে ছেলের পক্ষে বিচ্ছেদ কি সহজ! [বুকে হাত রেখে বলুন, তো] সেও বিচ্ছেদ করে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিতে পারেনি।

চট্টগ্রামের ডাঃ আকাশ পারেনি, বরগুনার রিফাত পারেনি, কুমিল্লার সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী ছেলেটি পারেনি, ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনে ব্যারাকে নিজের মাথায় নিজে গুলি চালানো পুলিশ সদস্য পারেনি, চট্টগ্রামের ফয়সাল পারেনি।

যারা স্ত্রীর পরকিয়ার খবর জানেন তারা বেশীর ভাগই পারছেন না; এ যন্ত্রণা কত ভয়াবহ তা যারা ভোগ করছেন তারাই একমাত্র আমার লেখার উদ্দেশ্যে বুঝবেন।

টুটুল অনেক যন্ত্রণা থেকে তাহমিনাকে হত্যা করেছে যার প্রমাণ, সে নিজেই ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশকে হত্যার ব্যাপারে জানায়, ফেসবুকে লাইভে আসে এবং গ্রেফতার পরবর্তী তার চেহেরার অবস্থা অনেক কিছুই বলে দেয়; টুটুল অন্য কোন উপায় অবলম্বন না করে হত্যা করছে তাই তার কঠিন ও উপযুক্ত শাস্তির আবেদন করছি।

আচ্ছা কখনো বরগুনার মিন্নি, চট্টগ্রামের মিতু, সাউথ আফ্রিকা প্রবাসীর স্ত্রী, নিহত পুলিশের স্ত্রী, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মেহেরুন্নেসা কেয়ার বিচার কি কখনো হয়েছিল?

মিতু, মিন্নি জামিনে বেরিয়ে বাদী ও সাক্ষীকে হুমকি দিলেন এবং এখন সুন্দর জীবন যাপন করছেন; মেহেরুন্নেসা কেয়া ৪নং স্বামীর ঘর করছেন, প্রবাসীর স্ত্রী নতুন ছেলের সাথে মজা করছেন! আজ যদি টুটুল নিজে মারা যেত এত আলোচনা কখনোই হতো না; আপনারা আমরা কেউ তাহমিনাকে দোষারোপ করতাম না; এসব বহুগামী নারীদের জন্য ছেলেদের জীবন জাহান্নামে পরিনত হয়।

আমরা রিফাত শরীফ ও ডাঃ আকাশ ও নিহত পুলিশ সদস্যের কথা ভুলে গেছি! কুমিল্লার আফ্রিকা প্রবাসী ছেলেটি আর চট্টগ্রামের ফয়সাল জেলে দিন কাটাচ্ছে!

তাদের কোন খবর পাইনি, কখনো পাবও না; এদেশে বিচার পুরুষের দিকে আসে না। আইনের সব ধারা নারীদের পক্ষে;

সবশেষে একটাই প্রত্যাশা থাকবে; ভবিষ্যতে এদেশে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ফের সংঘটিত না হোক, কোন ছেলে হত্যাকারী কিংবা আত্বহত্যাকারী হিসাবে নিজেকে পর্দায় না আনুক, প্রশাসন এই তাহমিনা হত্যাকান্ডের সঠিক বিচার করুক।

নতুন ভোরের প্রত্যাশায়, ভালো থাকবেন।

  • জুনাইদ ফয়সাল
    সাংবাদিক ও লেখক

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.