
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় তেলিগাতী নদীর শাখা নদী গেঙ্গরাইলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে কৃষিজমি ও মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রবল জোয়ারের চাপে উপজেলার চুকনগরে কুলবাড়িয়ার স্লুইস গেটের সামনে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি ভেঙে যায়। এতে প্রায় ৫০ হেক্টর বোরো ধানের ক্ষেত ও অসংখ্য মাছের ঘের প্লাবিত হয়।
এদিকে আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ও ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট প্রতাপ কুমার রায়ের তত্ত্বাবধানে গত কয়েক দিনে কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বোরো ধানের জমিতে নোনা পানি প্রবেশ করায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। জমি থেকে ধান কাটার আগ মুহূর্তে নোনা পানি প্রবেশ করায় তা পচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
কৃষক আমজাদ মোড়ল জানান, জোয়ারের পানির প্রচণ্ড চাপে গত বৃহস্পতিবার বিকালে কাঁঠালতলা মাগুরখালী সড়কের কুলবাড়িয়া স্লুইচ গেটের সামনে থেকে হঠাৎ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায়। এতে আশপাশের অন্তত ৫০ হেক্টর বোরো ধানের জমি তলিয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট প্রতাপ কুমার রায় বলেন, গত বৃহস্পতিবার বাঁধটি ভেঙে ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রাথমিক পর্যায়ে বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা করি। কিন্তু জোয়ারের প্রচণ্ড চাপে আবারো তা ভেঙে যায়। দু-তিন ধরে স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি রক্ষা করা গেলেও এরই মধ্যে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে, যা পুরোটাই ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে। কিন্তু জোয়ারের পানির যে চাপ, তাতে এ বাঁধ কতক্ষণ স্থায়ী হবে তা ভাবার বিষয়।
তিনি বলেন, হঠাৎ বাঁধটি ভেঙে গিয়ে ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ করায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর কয়েক দিন পরই ধান কাটা শুরু করতেন কৃষকরা। কিন্তু এ সময় নোনা পানি জমিতে প্রবেশ করায় অনেক ক্ষতি হয়ে গেল।
বাংলাদেশ পানি কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম বলেন, কিছু অতিলোভী মানুষের কারণে বাঁধটি ভেঙে বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাছাড়া অনেক মত্স্যঘেরও তলিয়ে গেছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, জোয়ারের চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। শুনেছি সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি মেরামত করেছে। কিন্তু ৫০ হেক্টর বোরো ধানের জমিতে পানি আটকে আছে। এ পানিতে কিছু ধানের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তা নিশ্চিত হতে আরো কিছুদিন লাগবে। সুত্রঃ বণিক বার্তা
